আল-ফিরদাউস আর্কাইভআল-ফিরদাউস মিডিয়া ফাউন্ডেশনইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানতানজীমনির্বাচিতনির্বাচিত প্রকাশনামিডিয়া

১৪৪৪ হিজরীর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ’র ‘ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তা’

مؤسسة الفردوس
আল ফিরদাউস
Al Firdaws

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled

رسالة تهنئة من سماحة أمير المؤمنين شيخ القرآن والحديث المولوي هبة الله آخند زاده -حفظه الله- بمناسبة حلول عيد الفطر المبارك

১৪৪৪ হিজরীর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে

আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ’র

‘ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তা’

Congratulatory Message of Sheikh Al-Quran and Hadith Mawlawi Hibatullah Akhundzada,
the Supreme Leader of the Islamic Emirate on the Arrival of the Auspicious Eid-ul Fiter

 

 

 

 

للقرائة المباشرة والتحميل
সরাসরি পড়ুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Reading and Downloading

লিংক-১ : https://justpaste.it/1444_-_Amirul_Muminin
লিংক-২ : https://mediagram.me/0b81f0e43730b90f
লিংক-৩ : https://noteshare.id/GWmelLY
লিংক-৪ : https://web.archive.org/web/20230425170629/https://justpaste.it/1444_-_Amirul_Muminin
লিংক-৫ : https://web.archive.org/web/20230425171619/https://mediagram.me/0b81f0e43730b90f
লিংক-৬ : https://web.archive.org/web/20230425171833/https://noteshare.id/GWmelLY

 

روابط بي دي اب
PDF (498 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৪৯৮ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://ia601204.us.archive.org/23/items/eid-ul-fitr-barta-1444-amirul-muminin-f_202312/Eid%20Ul%20Fitr%20Barta%20-%201444%20-%20Amirul%20Muminin%20F.pdf
লিংক-২ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d14ld68d78b3239c14bf99dd6d69ae20f4162
লিংক-৩ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=j5u5d9r1l1
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/d5caaf46-06c2-4d16-841f-c81bb4b0faac/bd69a8b3a75906086da940b8d4f9ed3c1cda2908c93edcd375d397464e4084ec
লিংক-৫ : https://f005.backblazeb2.com/file/EidUlFitrBarta1444AmirulMuminin/Eid+Ul+Fitr+Barta+-+1444+-+Amirul+Muminin+F.pdf
লিংক-৬ : https://www.mediafire.com/file/kbe7swbkolg787v/Eid_Ul_Fitr_Barta_-_1444_-_Amirul_Muminin_F.pdf/file
লিংক-৭ : https://www.file-upload.org/0t5pijunwmna
লিংক-৮ : https://jmp.sh/QltzUMll

روابط ورد
Word (1.1 MB)
ওয়ার্ড [১.১ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.org/download/eid-ul-fitr-barta-1444-amirul-muminin-f_20231218/Eid%20Ul%20Fitr%20Barta%20-%201444%20-%20Amirul%20Muminin%20F.docx
লিংক-২ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d14lded5f20b655184b54bc58eb03e80c085b
লিংক-৩ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=p2s3t3k2r1
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/c4d50224-fe34-4495-90d6-3f8e196b5ae8/70fdb64f9b50a32490d44aaebfa577ef212a58a3356cdd6be36183a3ffe4b701
লিংক-৫ : https://f005.backblazeb2.com/file/EidUlFitrBarta1444AmirulMuminin/Eid+Ul+Fitr+Barta+-+1444+-+Amirul+Muminin+F.docx
লিংক-৬ : https://www.mediafire.com/file/fp4rt98o7lao66s/Eid_Ul_Fitr_Barta_-_1444_-_Amirul_Muminin_F.docx/file
লিংক-৭ : https://www.file-upload.org/jd9mi0o7ye0q
লিংক-৮ : https://jmp.sh/oWscO5pj

 

روابط الغلاف- ١
book Banner [1.6 MB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৬ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.org/download/al-emarah-barta/al-emarah-barta.jpg
লিংক-২ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d14lde8c67b4f5b1f4488a5673cf78ed424e3
লিংক-৩ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=v8v2s5j0r3
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/d719151b-4cf1-49e3-912f-3d6aa865654d/0da0f9850fb57e7a15c168a8ee88b08ea0fe5e7c149587054efe47b17c8ed2d6
লিংক-৫ : https://f005.backblazeb2.com/file/EidUlFitrBarta1444AmirulMuminin/al-emarah-barta.jpg
লিংক-৬ : https://www.mediafire.com/view/gi5pbh1n3g42gb8/al-emarah-barta.jpg/file
লিংক-৭ : https://www.file-upload.org/esj42wvfvlbk
লিংক-৮ : https://jmp.sh/YsoSe1fI

 

=================== 

 

১৪৪৪ হিজরীর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে

 

আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ’র

 

‘ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তা’

 

 

بسم الله الرحمن الرحیم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضللہ فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أما بعد:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য! আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করছি। তাঁর কাছেই সাহায্য কামনা, ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাওবা করছি!!

আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে এবং আমাদের অসৎকর্ম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি! আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না; আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি অদ্বিতীয়; তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

হামদ ও সালাতের পর….

আল্লাহ সুবাহানাহুওয়া তাআলা এরশাদ করেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

অর্থঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা ২:১৮৩)

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমান: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে (অর্থাৎ শরীয়তকে সত্য-সঠিক মনে করে এবং রমযানের ফরযিয়াতের আকীদা পোষণ করে) এবং সাওয়াব লাভের আশায় (অর্থাৎ লোক দেখানোর জন্য নয়; বরং শুধু আল্লাহ তাআলার জন্য) রোযা রাখবে, তবে তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” [মুত্তাফাকুন আলাইহি অর্থাৎ ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয়জন হাদীসটি বর্ণনা করেছেন]

عن ابن عباس رضی اللّٰه تعالیٰ عنه قال: في آخر رمضان أخرجوا صدقة صومکم فرض رسول اللّٰه ﷺ هذہ الصدقة صاعاً من تمر او شعیر او نصف صاع من قمح علی کل حرٍ او مملوکٍ ذکرٍ او أنثی، صغیرٍ او کبیرٍ. [رواه ابوداؤد]

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রমযানের শেষ দিনগুলোতে লোকদেরকে বলেন: তোমরা নিজেদের রোযার যাকাত আদায় করো (অর্থাৎ সদকায়ে ফিতর আদায় কর)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সদকা স্বাধীন-পরাধীন, দাস-দাসী, পুরুষ মহিলা, সাবালক-নাবালক নির্বিশেষে সকল মুসলমানের উপর খেজুর অথবা জবের মধ্যে এক সা এবং গমের মধ্যে আধা সা ফরয (অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হিসেবে স্থির) করেছেন।” (ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)

و عنه قال: فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر طُهرةً للصائم من اللغو والرفث، وطعمةً للمساكين. [رواه ابوداؤد]

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্থায় বলা অযথা কথাবার্তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য এবং গরীব লোকদের জন্য লোকমা হিসেবে সদকাতুল ফিতরকে আবশ্যক করেছেন”। [ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি সংকলন করেছেন]

আল্লাহ সুবাহানাল্লাহুওয়া তাআলা কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন:

وَاذْكُرُوا إِذْ أَنتُمْ قَلِيلٌ مُّسْتَضْعَفُونَ فِي الْأَرْضِ تَخَافُونَ أَن يَتَخَطَّفَكُمُ النَّاسُ فَآوَاكُمْ وَأَيَّدَكُم بِنَصْرِهِ وَرَزَقَكُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

অর্থ: “(হে মুমিনগণ!) তোমরা সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে (এবং) পৃথিবীতে তোমরা দুর্বল ছিলে (এবং) তোমরা ভীত ছিলে যে, লোকেরা তোমাদেরকে ছিনিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে আশ্রয় গ্রহণের ঠিকানা দান করলেন এবং আপন সাহায্যে তোমাদেরকে সহায়তা করলেন (শক্তি দান করলেন) এবং তোমাদেরকে পবিত্র দ্রব্য থেকে রিযিক দান করলেন (তোমাদের জন্য গনীমতের সম্পদকে হালাল করে দিলেন) যাতে তোমরা (উপর্যুক্ত নেয়ামতের) কৃতজ্ঞতা আদায় কর (এবং শরীয়ত মান্য করে চলার ব্যাপারে উদাসীনতা ও অবহেলা না কর)।” (সূরা আনফাল ৮:২৬)

০১- আফগানিস্তানের মুজাহিদ ও মুমিন জনসাধারণ এবং সারা বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!

ঈদুল ফিতরের এই সময়ে আপনাদের সকলকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের রোযা, তারাবী, সদকাতুল ফিতর, জিহাদী খেদমত, সকল ইবাদত ও দোয়াকে নিজের মহান দরবারে কবুল করে নিন!

প্রিয় ভাইয়েরা!

আল্লাহর কাছে আমাদের সকলের শুকরিয়া আদায় করা উচিত এজন্য যে, অনেক কষ্টের পর শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহকারে ইসলামী শরীয়াহ ব্যবস্থার সঙ্গে আমরা যুক্ত হতে পেরেছি। রোযার মতো মহান ইবাদত পালনের পর আমরা এমন অবস্থায় ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছি, যখন গোটা দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ!

যারা সচ্ছলতা ও সামর্থ্যের অধিকারী আছেন, আপনারা সকলেই নিজেদের গরীব দেশবাসী, ইয়াতীম, বিধবা এবং শহীদদের পরিবারে সব ধরনের সাহায্য সহায়তা প্রদান করুন এবং তাদের পাশে দাঁড়ান। নিজেদের ফরয ও নফল সদকা, দান-খয়রাত এই মোবারক দিনগুলোতে উপযুক্ত ব্যক্তিদেরকে দান করুন, যেন তারা নিজেদের সকল প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দ খুব ভালোভাবে উপভোগ করতে পারে। এই সমস্ত দান সদকার দ্বারা সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের রোযার ক্ষতিপূরণ আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

০২- ইমারতে ইসলামিয়ার জিম্মাদার, দায়িত্বশীল এবং মুজাহিদদের কর্তব্য হলো – দেশের জনসাধারণের খেদমতের জন্য আরও অধিক ইখলাস, নিষ্ঠা এবং হিম্মত সহকারে কাজ করা। কারণ মানব সেবা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এই ইবাদত যেন সঠিকভাবে পালন করা হয়। জনসাধারণের শরীয়াহ প্রদত্ত হক বা অধিকারের বিষয়ে এবং তাদের খুশি আনন্দের ব্যাপারে যেন সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়।

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান নিজেকে জনসাধারণের কল্যাণ সাধন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্বশীল মনে করে। এ সমস্ত কাজকে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম ও শরীয়াহ প্রদত্ত দায়িত্ব বলে জ্ঞান করে। এ কারণে সকলেই নিশ্চিন্ত ও আশ্বস্ত থাকবেন যে, সকলের শরীয়ত প্রদত্ত পাওনা খুব সুচারুভাবে ও নৈপুণ্যের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্র, প্রদেশগুলো এবং জেলায় জেলায় ইমারতে ইসলামিয়ার আদালতগুলো এজন্য প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যেন, মজলুমদের সহায়তা হয়। সকল প্রকার জুলুমের পথ যেন বন্ধ হয়ে যায় এবং ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারণে সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান – আপনারা আদালতগুলোর সঙ্গে ইনসাফ ও সহযোগিতামূলক আচরণ করবেন। অন্যায় সুপারিশ, জাল ও বানোয়াট দাবি-দাওয়া থেকে নিজেরা কঠোরভাবে বেঁচে থাকবেন।

০৩- আমাদের জিহাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে – আল্লাহ প্রদত্ত কালেমায়ে তাইয়্যেবা সমুন্নত করা। ইসলামী শরীয়ত বাস্তবায়ন করা এবং জনসাধারণের সচ্ছলতা সহ সামাজিক পরিমণ্ডলে ধর্মীয় ও নৈতিক সংস্কার সাধন করা। আলহামদুলিল্লাহ এই ক্ষেত্রগুলোতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয বিধান যা ছিলো, সেই ‘আমর বিল মারূফ নাহী আনিল মুনকার’ তথা সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বারণের আবশ্যকীয় দায়িত্ব কার্যতভাবে পালন করা হচ্ছে। সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ হোক অথবা সাধারণ নাগরিক – সকলেই আমর বিল মারূফ ও নাহী আনিল মুনকারের মহান দায়িত্ব, অভিযোগকারীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার এবং অন্যায় অনাচার বন্ধে পুরোপুরি ভাবে সহযোগিতা করবেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভদ্রতা, শিষ্টাচার, সামাজিকতা, মিডিয়া এবং অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংশোধন ও শুদ্ধিমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে ২০ বছর ধরে চলে আসা আগ্রাসী শত্রুদের আমদানি করা ভুল ধ্যান-ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব নিঃশেষ হতে চলেছে। আমাদের ঈমানদার জনসাধারণ এই শুদ্ধি কার্যক্রম ও সংশোধন প্রচেষ্টাকে অনেক বড় সাফল্য বলে মনে করবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ সঠিক ধর্মীয় মূলনীতি এবং শরীয়তের আলোকে জীবন যাপন করা – আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। একইভাবে নীতি নৈতিকতার এই পরিশুদ্ধি সামাজিক পরিমণ্ডলে স্থায়ী সাফল্য, সচ্ছলতা, স্বচ্ছতা ও মুক্তির একমাত্র পথ।

উলামায়ে কেরামের জিম্মাদারী হল: এই অঙ্গনে নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়া। পুরো দেশে লোকদেরকে দীনদারীর ব্যাপারে সচেতন করে তোলা, তাদেরকে ইসলাম বোঝানো। লোকদের আমল-আখলাকের পরিশুদ্ধি ও সংশোধনের জন্য আমর বিল মারূফ ও নাহী আনিল মুনকার করা। শিক্ষার বিস্তার ঘটানো। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা।

কোন জাতি, রাষ্ট্র বা দেশ একমাত্র তখনই ইজ্জত, সম্মান, প্রকৃত শান্তি শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সচ্ছলতার স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে, যখন সে জাতি বা রাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মধ্যে আল্লাহ তাআলার প্রতি বিদ্রোহ ও উদ্ধত মনোভাব থাকবে না। এ কারণে জনসাধারণের সংশোধন, আত্মশুদ্ধি এবং তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়নের দায়িত্ব ওলামায়ে কেরামকে দেয়া হয়েছে। অতএব এই অঙ্গনে তাদেরকে দেয়া দায়িত্ব সবচেয়ে উত্তম পন্থায় যেন তারা পালন করেন এবং জনসাধারণের জন্য কল্যাণ ও হেদায়েতের মাধ্যম হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণিত করেন। এমনিভাবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্বটাও তাদের। তারা নিজেরা পারস্পরিক মতবিরোধ থেকে বিরত থাকবেন এবং জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবেন।

০৪- আমাদের দেশ সম্প্রতি যুদ্ধবিগ্রহ এবং বিপদ আপদ থেকে বের হয়ে এসেছে। এখানে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির অনেক বেশি প্রয়োজন। এজন্য শাসকবর্গ, দায়িত্বশীল, জনসাধারণসহ সকল আফগানির দায়িত্ব হলো – নিজেদের দেশকে সচ্ছল বানিয়ে আত্মনির্ভর জাতি হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন আফগান জাতির নিজেদের দায়িত্ব। এ কাজে অন্যদের কাছে আশা করে বসে থাকা যাবে না। তাদের উচিত হবে – নিজেদের হিম্মত, উচ্চ মনোবল, অদম্য চেষ্টা প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এই দেশের পুনর্গঠন ও আবাদি নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রাকে উন্নত ও সহজ করা।

এক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে যারা ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বিত্তবান শ্রেণির লোকজন রয়েছেন, তাদের দায়িত্ব অন্যদের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। ইমারতে ইসলামিয়া তাদেরকে পুরোপুরি ভাবে সহায়তা করবে এবং সমর্থন দিবে। তাদের জন্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে সহজ করে দেয়া হবে। তাদের জন্য উন্নত ও মৌলিক খেদমতের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

০৫- শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত। আসুন আমরা নিজেদের দেশের সুশাসন ও হেফাযতের জন্য আরও দৃঢ়তার সাথে ইমারতে ইসলামিয়ার পাশে দাঁড়াই। আমাদের জাতীয় ক্ষতি এবং নাগরিক লোকসান আর বৃদ্ধি না করি। নিজেদের অসতর্কতার কারণে কোন বিঘ্ন অথবা অযাচিত ঘটনার মুখোমুখি যেন না হই। যদিও শত্রুপক্ষের কেউ কেউ এবং কিছু কিছু কুচক্রীমহল আমাদের দেশকে অস্থিশীল করে তোলার জন্য এবং ইমারতের ইসলামিয়ার সিকিউরিটি এজেন্সিগুলোকে দুর্বল প্রমাণিত করার জন্য নিজেদের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের এই দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, যদি আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর সাহায্য ও সহায়তা এবং দেশবাসীর সমর্থন আমাদের সঙ্গে থাকে, তাহলে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কেউ বিঘ্নিত করতে পারবে না। বরং আমাদের জনসাধারণ আরো বেশি নিশ্চিন্তে, স্বস্তির সাথে শ্বাস নিতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

০৬- পার্শ্ববর্তী সকল দেশ, ইসলামী দেশগুলো এবং গোটা বিশ্বের সঙ্গে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ‘ইসলামী মূলনীতি’ অনুসারে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক ও সদ্ভাব বজায় রাখতে ইচ্ছুক। আফগানিস্তান কোন দেশের অভ্যন্তরীণ কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তেমনিভাবে আমাদের দাবি হলো: অন্য কোন দেশও যেন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চেষ্টা না করে। এতে আন্তর্জাতিক মহল এবং আমাদের উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হবে।

০৭- ইমারতে ইসলামিয়া নিজেদের ইসলামিক ও শরীয়াহ প্রদত্ত দায়িত্ব মনে করে দেশে আফিম চাষের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। দেশবাসীর পক্ষ থেকে ইমারতে ইসলামিয়ার এই নিষেধাজ্ঞার প্রতি সর্বোত্তম পন্থায় সাড়া দিয়ে আমল করা অনেক বড় সাফল্যের বিষয়। ইমারতে ইসলামিয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং ঘোষণার সাথে সাথে এত বড় কাজ হয়ে যাওয়াটা জনসাধারণের পক্ষ থেকে ইমারতে ইসলামিয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের উত্তম বহিঃপ্রকাশ। এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, আফগানিস্তান এখন আফিম থেকে পবিত্র হয়ে যাবে।

কাবুলসহ অন্যান্য জেলায় মাদকাসক্তদেরকে জড়ো করা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা, সুস্থতা ও পুনর্বাসনের জন্য সঠিকভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা করার পর পরিবারের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করার শরীয়াহ প্রদত্ত জিম্মাদারী, ইমারতে ইসলামিয়া পালন করে যাচ্ছে। এটা জনসাধারণের একটা বড় অংশের সমস্যা ও চিন্তার বিষয় ছিলো। আর সমাধানের পথে অগ্রগতি এসেছে ইমারতে ইসলামিয়ার হাত ধরেই। অথচ বিগত ২০ বছরে সমাধানের পথে কোন অগ্রগতির দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।

০৮- রাষ্ট্রের কেন্দ্র ও জেলাগুলোতে ভিক্ষুক ও মিসকীনদের সমাবেশ ঘটানো, তাদের প্রয়োজন মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ ইমারতে ইসলামিয়া দেশপ্রেমের আরও একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটা জনগণের প্রতি তাদের ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। এক্ষেত্রেও পুরোপুরি ভাবে সকল দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পেশাদার ভিক্ষুক এবং সত্যিকার অভাবী ব্যক্তিদেরকে আলাদা করা হয়েছে। সত্যিকার অভাবী লোকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি বাজেট থেকে তাদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পেশাদারদেরকে বুঝিয়ে উপদেশমূলক কথা শুনিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো আফগানিস্তানের ইতিহাসে অনেক বড় কীর্তি এবং জনসাধারণের প্রতি ইমারতে ইসলামিয়ার অশেষ ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ।

০৯- সমাজের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সামাজিক বন্ধন টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ইমারতে ইসলামিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিজেদের সকল চেষ্টা ব্যয় করছে। এখন পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার মহান অনুগ্রহে বিভিন্ন সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের সামাজিক অবস্থা খুব নৈপুণ্যের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

গত বছরের বাজেট জাতীয় আয়ের উপর নির্ভর করে করা হয়েছিলো। সঠিকভাবে সেই বাজেট সমন্বয় করা ও খরচ করা আল্লাহ তাআলার অনেক বড় পুরস্কার। একইভাবে চলতি অর্থবছরের বাজেটের ব্যাপারে সর্বোত্তম পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমাদের উচিত আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া ও সাহায্য কামনা করা।

১০- শিক্ষাঙ্গনে সঠিক শিক্ষা-দীক্ষার ধারা পুরো দেশে ছড়িয়ে দেয়া এবং শিশুদের সঠিক শিক্ষা দীক্ষার ব্যবস্থা করা ইমারতে ইসলামিয়ার জিম্মাদারী। এই অঙ্গনের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

১১- গুরুত্বপূর্ণ ও দেশের অগ্রগতির জন্য জরুরি পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত বেশকিছু প্রকল্প ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য কিছু প্রকল্প হলো – প্রাদেশিক শাসকদের কাজকর্ম ও দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা, ধর্মীয় বিষয়াদিতে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে রায় কিংবা পরামর্শ দেয়া, ইমারতের ইসলামিয়ার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি নজর দেয়া এবং তাদের ত্রুটিগুলো উত্তম পন্থায় তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া। ইমারতে ইসলামিয়ার শাসক ও জনগণের মাঝে সহযোগিতা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও সুসম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য গোটা দেশে উলামায়ে কেরাম ও জনপ্রতিনিধিদের যৌথ প্রাদেশিক একাধিক কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এসমস্ত কাউন্সিলের জন্য উত্তম কর্ম পরিকল্পনা এবং ফ্রেম ওয়ার্ক তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আমাদের আশা, সরকারের অনেক চ্যালেঞ্জ এই পন্থায় উত্তমভাবে, বিশ্বস্ততা ও সূক্ষ্মদর্শিতা সহকারে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এসবের ফলে সরকারের নিজের দায়িত্ব পালনেও সহযোগিতা মিলবে ইনশাআল্লাহ!

১২- ইমারতে ইসলামিয়ার আদালতগুলো অন্যান্য সকল শাখার উপর বিশেষ মর্যাদা রাখে। ইসলামী ব্যবস্থা ও শাসনতন্ত্রের পরিমণ্ডলে এই সেক্টরটা অন্য সকল সেক্টরের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইসলামী শাসন ব্যবস্থার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো – আল্লাহ তাআলার বান্দাদের জান, মাল, সুস্থ মস্তিষ্ক, মান-সম্মান এবং আল্লাহ প্রদত্ত সকল অধিকারের হেফাযত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ কারণে আদালতের সকল কাজী সাহেব, বিচারক পরিষদ ও কর্মকর্তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা যেন জনসাধারণের পূর্ণাঙ্গ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া এবং দ্বন্দ্ব-বিবাদ নিরসনের জন্য আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে। সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে সবল দুর্বলের মাঝে কখনোই যেন কোন ধরনের পার্থক্য করা না হয়। সকলের সঙ্গেই যেন ইনসাফ ও সমতার আচরণ করা হয়। আল্লাহর নির্ধারিত হুদুদ ও শাস্তি বাস্তবায়নে অভিযুক্ত ও আসামির ব্যক্তি-মর্যাদার দিকে যেন তাকানো না হয়। অপরাধীকে নয় বরং অপরাধ দেখে যেন বিচার করা হয়। মাজলুমের পক্ষে যেন দাঁড়ানো হয় এবং জালেমের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বিলম্ব, দীর্ঘসূত্রতা ও বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই যেন জনসাধারণের সকল সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা হয়।

১৩- চিকিৎসা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে – তারা যেন চিকিৎসা ও মেডিকেল সেক্টরে দেশবাসী স্বজাতি ও জনসাধারণের খেদমতের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে যেন মজবুতভাবে গড়ে তুলেন এবং কার্যক্রম সচল রাখেন। রোগ ব্যাধি এবং দুর্ঘটনার কবলে পরা স্বজাতির সমস্যা সমাধানে যেন সদা তৎপর থাকেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিজ দেশকে স্বনির্ভর বানাবার জন্য চেষ্টা করেন এবং এই উদ্দেশ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে অগ্রগতি নিশ্চিত করেন।

১৪- ইমারতে ইসলামিয়ার সকল সিকিউরিটি ফোর্স ও প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলো গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলবেন:

– সকল কাজে নিয়ত একমাত্র আল্লাহ তাআলার প্রতি নিবদ্ধ রাখবেন।

– বড় ছোট সকলেই নিজেকে তাকওয়ার অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করবেন।

– আল্লাহ জাল্লা জালালুহ’র প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করবেন। মনে রাখবেন, পবিত্র জিহাদের বরকতে আল্লাহ তাআলার সাহায্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিজয় আমরা লাভ করেছি।

– ইনসাফ (ন্যায় নিষ্ঠা), ইহসান (অনুগ্রহ), তাওয়াজু (বিনয় ও নম্রতা) সহকারে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। গর্ব, অহঙ্কার, স্বেচ্ছাচারিতা, জুলুম, অত্যাচার, বিশ্বাসঘাতকতা, অপচয় ও অপব্যয় থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখবেন।

– জাতিগত বা ভাষাগত অহংবোধ, দলান্ধতা, অন্ধ অনুকরণ এবং স্বজন প্রীতি থেকে নিজেদের সংযত রাখবেন।

– ইমারতে ইসলামিয়াতে মান সম্মান এবং গুরুত্ব লাভের মাপকাঠি হল শুধু তাকওয়া এবং বিশ্বস্ততা।

– ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্বজন প্রীতি এবং আত্মীয়তার ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ দান করবেন না। পদায়ন ও দায়িত্বে শুধু যোগ্যতা তথা তাকওয়া, বিশ্বস্থতা ও সংশ্লিষ্ট কাজের উপযুক্ততার ভিত্তিতেই যেন নিয়োগ দেয়া হয়।

– পরস্পরে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বমূলক পরিবেশ বজায় রাখবেন। হিংসা বিদ্বেষ, পরনিন্দা এবং এজাতীয় দোষ ত্রুটি থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, যেন পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, অভক্তি ও অসহযোগী মনোভাব তৈরি না হয়।

– সকল মুজাহিদ পরস্পরে আমর বিল মারূফ ও নাহী আনিল মুনকারের ফরয দায়িত্ব বিনা অবহেলায় পালন করবেন। নিজেদের অফিস, দপ্তর, কর্মক্ষেত্র এবং ক্যাম্পগুলোতে তালিম আদান প্রদান করবেন। বিশেষ করে নামাযের এহতেমাম করবেন এবং জামাতের সাথে নামায আদায় করবেন।

– শহীদদের পরিবারগুলোর বিশেষভাবে যত্ন নিবেন। যে সমস্ত মুজাহিদ গত ২০ বছর যাবৎ জিহাদ করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বহু কিছু বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের সকলকে মূল্যায়ন করবেন। তাদের কাজের কদর করবেন। তাদেরকে ইমারতে ইসলামিয়ার সামরিক কাঠামোর বাইরে বলে গণ্য করবেন না।

– সামরিক বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সময় তদন্ত কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন। এই বাহিনীকে যেন অযোগ্য এবং বিশৃঙ্খলাকারী ব্যক্তিদের থেকে মুক্ত রাখা যায় সেজন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

– সকলেই আমীরদের আনুগত্য করবেন। ইমারতে ইসলামিয়ার ফরমানগুলোকে যত্নের সঙ্গে আমলে নেবেন এবং ইমারতের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবেন।

– যদি কেউ নিজের চেয়ে উচ্চপদস্থ কাউকে নসীহত করতে চান, তবে গোপনীয়ভাবে করবেন। কারণ গোপন নসীহাই বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। কোন অবস্থাতেই প্রকাশ্যে নসীহত করা যাবে না। কারণ প্রকাশ্যে সতর্ক ও সংশোধন করে দেবার চেষ্টা ইতিবাচক প্রভাবের পরিবর্তে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে।

– নিজেদের খরচের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদেরকে আর্থিক বিষয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত করতেন এবং যাদের হাতে বাইতুল মাল জমা হতো, তাদের কাছ থেকে পাই টু পাই হিসাব বুঝে নিতেন। হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হিসাব বুঝে নিতেন। এ কারণে আর্থনীতিক বিষয়ে জবাবদিহিতা খুবই জরুরি বিষয়। আপনারা চেষ্টা করবেন নিজেদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আরও যারা হিসাব চাইবে, সমস্ত দায়িত্বশীলকে সঠিক হিসাব প্রদান করার।

– নিজেদের দীন ও স্বদেশকে শত্রু বাহিনী, নিরাপত্তা বিরোধী কুচক্রী মহল, চোর বাটপার এবং পেশাদার অপরাধীদের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাযত করতে সদা প্রস্তুত থাকবেন। জনসাধারণের সাথে নম্রতা, সতর্কতা ও দয়ামূলক আচরণ করবেন। ভুল অভিযোগ এবং ভুল ইনফরমেশনের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করবেন না। কারও মর্যাদা ও সম্মানকে পদদলিত করবেন না। অন্যায়ভাবে কারও জান ও মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবেন না।

এ জাতির দয়া ও ভালোবাসার অনেক বেশি প্রয়োজন। আমরা তাদের খাদেম ও সেবক। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের ধর্মীয় ও রাজনীতিক দায়িত্ব। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে শান্তি-শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিতের নামে নিজেদের লোকদের অবমূল্যায়ন যেন আমাদের দ্বারা না হয়ে যায়। কেউই যেন আমাদের কাজকর্মের ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ না করে।

সবশেষে আরও একবার ঈদের মোবারক এই সময়ে শহীদদের পরিবার, ইয়াতীম, বিধবা এবং শহীদদের আত্মীয়-স্বজনের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। অসহায় লোকদেরকে সাহায্য করা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজন পূরণে যেন কোন রূপ ত্রুটি না থাকে।

ওয়াস সালাম।

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রধান

আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ

2৭/০৯/১৪৪৪ হিজরী চন্দ্র-বর্ষ

২9/০১/১৪০২ হিজরী সৌর-বর্ষ

১৮/০4/২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

 

 

********************

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الفردوس للإنتاج الإعلامي
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল ফিরদাউস মিডিয়া ফাউন্ডেশন
In your dua remember your brothers of
Al Firdaws Media Foundation

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + thirteen =

Back to top button