নির্বাচিতবই ও রিসালাহ [আল হিকমাহ]

জিহাদি মিডিয়া – শায়খ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবী রহিমাহুল্লাহ

مؤسسة الحكمة
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al-Hikmah Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled

الإعلام الجهادي

জিহাদি মিডিয়া

Jihadist media

للشيخ عطية الله الليبي رحمه الله
শায়খ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবী রহিমাহুল্লাহ
By Sheikh Atiyatullah Al-Libi Rahimahullah

 

 

للقرائة المباشرة والتحميل
সরাসরি পড়ুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Reading and Downloading

লিংক-১: https://justpaste.it/jihadi_midia
লিংক-২: https://noteshare.id/YdGsWNK
লিংক-৩: https://web.archive.org/web/20230509133316/https://justpaste.it/jihadi_midia
লিংক-৪: https://web.archive.org/web/20230509135121/https://noteshare.id/YdGsWNK

روابط بي دي اب
PDF (490 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৪৯০ কিলোবাইট]

লিংক-১: https://archive.gnews.to/index.php/s/MRjs8i4KpPCSyEq
লিংক-২: https://archive.org/download/media-jihad/JihadiMedia%20-%20SaikhAtiyaRahimahullah.pdf
লিংক-৩: https://jihadimedia1.files.wordpress.com/2023/05/jihadimedia-saikhatiyarahimahullah.pdf
লিংক-৪: https://workdrive.zohopublic.eu/file/835qy375af3adcb4245c1b7dbdd929f753fa7
লিংক-৫: https://www.mediafire.com/file/1ok9evin0v3b2nk/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah.pdf/file
লিংক-৬: https://drive.internxt.com/sh/file/c0242df0-c05f-4047-9467-0f70cf9b513a/8e0a3dd6a068b30b9a0285fe3738bb40eb2710a3f831771fc3e7a08096893063
লিংক-৭: https://f005.backblazeb2.com/file/JihadiMedia/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah.pdf
লিংক-৮: https://jmp.sh/AE6fE0AZ

 

روابط ورد
Word (554 KB)
ওয়ার্ড [৫৫৪ কিলোবাইট]

লিংক-১: https://archive.gnews.to/index.php/s/yEgByKftpxfnEHB
লিংক-২: https://archive.org/download/media-jihad/JihadiMedia%20-%20SaikhAtiyaRahimahullah.docx
লিংক-৩: https://jihadimedia1.files.wordpress.com/2023/05/jihadimedia-saikhatiyarahimahullah.docx
লিংক-৪: https://workdrive.zohopublic.eu/file/835qy61d07c0759da4df4afc6ba3dd82c61c3
লিংক-৫: https://www.mediafire.com/file/79359n1s5mhpdqg/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah.docx/file
লিংক-৬: https://drive.internxt.com/sh/file/b2123e2e-93bd-4549-8b53-5ca9611505b9/1ea6ce90b8c2ce8569217c0984eef00deac9cc2c4401b6ea169605f2afa50ae6
লিংক-৭: https://f005.backblazeb2.com/file/JihadiMedia/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah.docx
লিংক-৮: https://jmp.sh/yXUgUclb

روابط الغلاف- ١
book Banner [1.5 MB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৫ মেগাবাইট]

লিংক-১: https://archive.gnews.to/index.php/s/84DHNrDZE65XQxD
লিংক-২: https://archive.org/download/media-jihad/JihadiMedia%20-%20SaikhAtiyaRahimahullah%20Cover.jpg
লিংক-৩: https://jihadimedia1.files.wordpress.com/2023/05/jihadimedia-saikhatiyarahimahullah-cover.jpg
লিংক-৪: https://workdrive.zohopublic.eu/file/835qy0e776f06a6e948379d4728f6de968639
লিংক-৫: https://www.mediafire.com/file/20u7s3u5hmanfwx/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah+Cover.jpg/file
লিংক-৬: https://drive.internxt.com/sh/file/13f36fe7-e372-4a81-96b5-129c08bb8b8d/1be32a24b5864460837fea1713c1ce3642021f2ca9faa3b6a955f3396833b3eb
লিংক-৭: https://f005.backblazeb2.com/file/JihadiMedia/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah+Cover.jpg
লিংক-৮: https://jmp.sh/SkxRsH25

روابط الغلاف- ٢
Banner [2 MB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [২ মেগাবাইট]

লিংক-১: https://archive.gnews.to/index.php/s/QbP4fowetmPM6qg
লিংক-২: https://archive.org/download/media-jihad/JihadiMedia%20-%20SaikhAtiyaRahimahullah%20Banner-HQ.jpg
লিংক-৩: https://jihadimedia1.files.wordpress.com/2023/05/jihadimedia-saikhatiyarahimahullah-banner-hq.jpg
লিংক-৪: https://workdrive.zohopublic.eu/file/835qye34f6e40c6f6463fa23a56f90c6365fd
লিংক-৫: https://www.mediafire.com/file/bizpn9o2bzovgtz/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah+Banner-HQ.jpg/file
লিংক-৬: https://drive.internxt.com/sh/file/614afe72-7887-4f4b-a3a4-a685b2ef40a2/a4e1e07d9dddf67cc1f828b95350a74fdfe78ff670ef7b23a1809f889ef7467a
লিংক-৭: https://f005.backblazeb2.com/file/JihadiMedia/JihadiMedia+-+SaikhAtiyaRahimahullah+Banner-HQ.jpg
লিংক-৮: https://jmp.sh/R9rAphHS

*****

 

জিহাদি মিডিয়া
মুল
শায়খ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবী রহিমাহুল্লাহ

অনুবাদ
আল হিকমাহ অনুবাদ টিম

⦁ প্রথম প্রকাশ
শাওয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
মে, ২০২৩ ইংরেজি

⦁ স্বত্ব
সকল মুসলিমের জন্য সংরক্ষিত

 

ভূমিকা
সম্মানিত তাওহীদবাদী ভাই ও বোনেরা! বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি শায়খ আতিয়াতুল্লাহর উন্মুক্ত সাক্ষাৎকার গ্রন্থ (اللقاء المفتوح مع الشيخ عطية الله في شبكة الحسبة الإسلامية) থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি সর্বপ্রথম শাবাকা আল হিসবা আল ইসলামিয়া জিহাদী ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে। বইটি জুমাদাল উলা—শাবান, ১৪২৮ হিজরী সালে প্রকাশ করেছিল গ্লোবাল ইসলামিক মিডিয়া ফ্রন্ট ( الجبهة الإعلامية الإسلامية العالميهة )। গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাৎকারে তিনি জিহাদি মিডিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে এবং সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। নিঃসন্দেহে এই সাক্ষাৎকারে আমরা আমাদের করণীয় সম্পর্কেও দিক-নির্দেশনা পাব ইনশাআল্লাহ।
অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাৎকারের মূল বাংলা অনুবাদ আপনাদের সামনে পেশ করছি। আলহামদুলিল্লাহ, ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।
আম-খাস সকল মুসলিম ভাই ও বোনের জন্য এই সাক্ষাৎকার ইনশাআল্লাহ উপকারী হবে। সম্মানিত পাঠকদের কাছে নিবেদন হল- এই সাক্ষাৎকার গভীরভাবে বারবার পড়বেন, এবং নিজের করণীয় সম্পর্কে সচেতন হবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ এই সাক্ষাৎকারকে কবুল ও মাকবুল করুন! এর ফায়দা ব্যাপক করুন! আমীন।

সম্পাদক
আবু যুবাইদা
১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
8ই মে, ২০২৩ ইংরেজি

 

জিহাদি মিডিয়া
শায়খ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবী রহিমাহুল্লাহ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেন:

وَلَا يَنَالُوْنَ مِنْ عَدُوٍّ نَّيْلًا اِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهٖ عَمَلٌ صَالِحٌ ۗ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُضِيْعُ اَجْرَ الْمُحْسِنِيْنَ

“অর্থঃ আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয় নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।” [সূরা তাওবাহ ৯:১২০] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم

অর্থ: তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, প্রাণ ও জবান দিয়ে লড়াই করো। (হাদিসটি ইমাম আহমদ আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ সহ আরও কতক মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন)
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত হাসসান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুকে বলেছেন:

اهجهم—أو هاجهم— [يعني المشركين] وجبريل معك

অর্থ: তুমি তাদের কুৎসা রটনা কর, অথবা বলেছেন: তাদেরকে লাঞ্ছিত কর অর্থাৎ মুশরিকদেরকে—জিবরাইল তোমার সঙ্গে রয়েছেন। (হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহিমাহুমুল্লাহ বর্ণনা করেছেন)

প্রথম প্রশ্নঃ
মিডিয়া অঙ্গনে মুজাহিদদের অবস্থানকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
আপনি কি মনে করেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পন্থা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে মুজাহিদদের মিডিয়া কার্যক্রমের আধুনিকায়ন জরুরী, যেন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও গণমাধ্যমগুলোকে আমাদের থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে বাধ্য করা যায়?
ওইসব যুবকের প্রতি আপনার নসিহা কি হবে, যারা সশরীরে উপস্থিতিমূলক ক্লাস ও মিটিং এর আয়োজন করে থাকে, কিন্তু ইন্টারনেটে ইলেকট্রনিক জিহাদে অ্যাকটিভ হতে চায় না? দুটোর মধ্যে কোনটা উত্তম?
একটা হল শুধুমাত্র সরেজমিনে জিহাদি কনটেন্ট ও প্রকাশনা ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে মিডিয়া কার্যক্রমে ক্ষান্ত দেয়া; অপরটি হল ইন্টারনেটে ইলেকট্রনিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা। ইন্টারনেটে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আমরা স্পষ্ট দেখেছি, এ ধরনের কার্যক্রম শত্রুকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলে। আপনি কি মনে করেন, এই উভয় ধরনের কার্যক্রম একইসঙ্গে জরুরী?
الجبهة الاعلامية الإسلامية العالميهة – এর প্রতি আপনার নসিহা কি? উক্ত মিডিয়া সংস্থার অধীনে অন্য সকল গণমাধ্যম সংস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া আপনি সমীচীন মনে করেন; নাকি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্রভাবে কাজ করা আপনার দৃষ্টিতে অধিক উপযুক্ত?
মিডিয়া জিহাদ, এর গুরুত্ব, শত্রুর ওপর এর প্রভাব এবং যারা জিহাদি কাফেলার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি তাদের উপর এই মিডিয়া জিহাদের ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিহাদের কোন একজন বড় নেতা কথা বলা উচিত বলে আপনি মনে করেন? নাকি এটাকে আপনি তাদের সময় নষ্ট বলে মনে করেন? নাকি গণমাধ্যমের বিষয়টা এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, তারা এ নিয়ে কথা বলবেন?!
[প্রশ্নকারী: সাইফুল্লাহ উসামা]

জবাব:
الحمد لله رب العالمين
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তিনি বিশ্বজাহানের পালনকর্তা। প্রিয় ভাই সাইফুল্লাহ উসামাকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন!! আপনাদেরকে আল্লাহ বরকত দানে ধন্য করুন!!
মুজাহিদদের জন্য মিডিয়া অঙ্গনে চেষ্টা-প্রচেষ্টা আল্লাহর রহমতে খুবই কল্যাণকর বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঙ্গনে তাদের বিরাট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরাকের বরকতময় যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এই অগ্রযাত্রা আরও গতি পেয়েছে। আরও বিশেষায়িত করে বললে বলতে হবে – বৈশ্বিক তথ্য সরবরাহ ও সংগ্রহশালা যার প্রচলিত নাম হল ইন্টারনেট, এ প্লাটফর্মে ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুজাহিদদের মিডিয়া কার্যক্রম বেশ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
এমনকি শত্রুপক্ষ পর্যন্ত মুজাহিদদের মিডিয়ায় অগ্রগতির কথা এবং তাদের সাফল্যের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। এ কারণে শত্রু ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। এ বিষয়টা দিবালোকের মত স্পষ্ট এবং সকলের কাছেই দৃশ্যমান আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে আরও অধিক বরকতের আশা রাখি!!
মিডিয়ার গুরুত্ব বিবেচনায় একটা বৃহৎ প্রকল্পের কতটুকু অংশে মিডিয়ার ব্যবহার হবে? মিডিয়া ব্যবহারের পরিমাণ কি হবে? সেই পরিমাণ কিসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে?— এসকল প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বলতে হয় – কোন একটা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মিডিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিন্তু আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যা মিডিয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যের দিক থেকে মিডিয়াকে ছাড়িয়ে যাবার মতো। তবে মিডিয়ার অত্যধিক তাৎপর্য বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের বিরাট অংশ জুড়ে মিডিয়ার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর মিডিয়ার অভ্যন্তরীণ পলিসি নিয়ে যদি কথা বলতে চাই, তখন যে প্রশ্ন প্রথমে উঠে আসে—বৃহৎ প্রকল্পে মিডিয়ার ভূমিকাকে আরও অধিক গতিশীল, কার্যকরী ও ফলপ্রসূ করার জন্য মিডিয়া ব্যবহারের কর্মপন্থা ও গণমাধ্যম চর্চার নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ কি কি বিষয় সন্নিবেশিত হতে পারে?
সেগুলো হলো: একক বিষয়ের পুনরাবৃত্তি, উপায় ও মাধ্যমের বৈচিত্র্য, উপস্থাপনা ও পরিবেশনার নানা আঙ্গিক ও ধরন ইত্যাদি – এই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই অডিয়েন্সের উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী বিষয়। এই সবগুলো বিষয়ের উদ্দেশ্য হলো অভীষ্ট চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্তরে দৃঢ়মূল করে দেয়া এবং এমন একটা পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চিন্তা ধারাকে সুস্পষ্ট করা, যা কোন কোন ক্ষেত্রে অডিয়েন্সের সামনে ‘সর্বজনস্বীকৃত বিষয়’ বলে মনে হবে। স্বাভাবিকভাবে শত্রুপক্ষ এই বিষয়গুলোতে খুবই শৈল্পিকতা ও বৈচিত্র্য ধরে রাখতে চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা কখনো কখনো এগুলোর এতটা প্রয়োজন বোধ করি না। কারণ আমাদের কাছে এমন গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো আল্লাহর রহমতে আরও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ এবং অধিক প্রভাবশালী।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা আমাদের রয়েছে কিন্তু শত্রু পক্ষের কাছে নেই— তা হল: সততা ও বিশ্বস্ততা। বিশ্বস্ততার এই উপাদানের কারণে গোটা উম্মাহ আমাদের বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে থাকে।
এ কারণেই দেখা যায়, মুজাহিদরা কখনো একবার কোনো একটি কথা খুবই অনাড়ম্বরভাবে বলেছেন; কখনো কখনো খুবই দায়সারাভাবে প্রাক আধুনিক কোন পন্থায় কোন বিষয় উল্লেখ করেছেন, সেটাই গোটা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গিয়েছে। এর কারণ হলো: অধিকাংশ মানুষ তাদের বক্তব্য গ্রহণীয় ও নির্ভরযোগ্য মনে করেই প্রচার করে থাকে।
কথার একটি ‘আত্মা’ রয়েছে। কথা ও বক্তব্য তার বক্তার কাছ থেকেই সেই আত্মিক শক্তি গ্রহণ করে থাকে। এই শক্তির মাঝে রয়েছে সত্যনিষ্ঠ পথ ও পন্থার শক্তি এবং জনসাধারণের পক্ষ থেকে বক্তার প্রতি যে ভালোবাসা, গ্রহণযোগ্যতা, নির্ভরতা ও বিশ্বস্ততা রয়েছে, তার শক্তি। সেইসঙ্গে সরেজমিনে সশস্ত্র অঙ্গনে বক্তা যে সাফল্য ও শৈল্পিকতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন, তার শক্তি।

***

আর নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পন্থা আবিষ্কার সর্বদাই কাম্য। কারণ মানুষের স্বভাবের মাঝে রয়েছে ‘বিরক্তিবোধ’। একই পন্থা ব্যবহার ও পুরনো নিয়মে কাজ পরিচালনার দ্বারা কখনো উপস্থাপিত বার্তার প্রভাব কমে যায় এবং সেই বার্তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই মিডিয়া ক্ষেত্রে সর্বদাই নতুন নতুন পন্থা আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্বভাবতই মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য এই প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি কাম্য। কারণ আমাদের সবকিছুই আমাদের পবিত্র শরীয়তের কাছে দায়বদ্ধ এবং আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যা নাযিল করেছেন সেই বিধি-বিধানের সীমানায় আবদ্ধ।
আমাদের লক্ষ্য হলো, আমাদের বক্তব্য যেন মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—যতটা বিস্তৃত ও ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আমাদের বক্তব্যের মাঝে আমাদের শরীয়তের দলিল প্রমাণ থাকবে, আমাদের অবস্থানের পক্ষে বুদ্ধিজাত যুক্তি প্রমাণ এবং শিষ্টাচার ভিত্তিক আচার প্রথা থাকবে।
আমাদের বক্তব্য আমাদের মহান দাওয়াহ বহন করবে। আমাদের বক্তব্য হবে আমাদের নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আদর্শের সুষম উপস্থাপনা। মানব মস্তিষ্ক ও হৃদয়কে সম্বোধন করে আমরা কথা বলবো। প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আমরা বার্তা প্রদান করবো। আমাদের বিবৃতিগুলোতে সমস্ত কিছুর ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ আমরা মানুষের সামনে তুলে ধরবো।
জনসাধারণের কাছে সংবাদ সরবরাহ ও তথ্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সফল মিডিয়া কার্যক্রমই তাদেরকে ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী। মিডিয়ার ক্ষেত্রে এটাই মূল কথা। এ কারণে মিডিয়া সৈনিকদের জন্য তাদের সরবরাহকৃত তথ্য তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করার জন্য, অন্যান্য মিডিয়াগুলোর উপর চাপ তৈরির কোন পন্থা অবলম্বন করতে হবে। অন্যান্য গণমাধ্যমগুলো যেন আমাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, এ লক্ষ্যে সেগুলোকে যথাসম্ভব বাধ্য করাটা অবশ্যই কাম্য, এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা অবশ্যই একটি বিশুদ্ধ চিন্তা।
তবে এই কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা আমার দৃষ্টিতে এই যে, বিস্তৃত পরিসরে অবিরত আমাদের সংবাদ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা ও সততা বজায় রাখা এবং কোনরূপ তথ্য বিভ্রাট বা বিচ্যুতি থেকে আমাদের কার্যক্রমকে বাঁচিয়ে রাখা। আমরা যদি এ বিষয়টা নিশ্চিত করতে পারি এবং ধারাবাহিকভাবে অবিরত আমাদের বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিয়ে আসতে পারি, তাহলে কালের আবর্তনে একসময় আন্তর্জাতিক মিডিয়া সবকিছুতেই আমাদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে; সত্য সংবাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত উৎস হিসেবে আমাদেরকে মেনে নেবে।
তবে এর জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট সহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে আমাদের যত মিডিয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যত মিডিয়া সৈনিক ভাইয়েরা রয়েছেন, সকলের মাঝে পারস্পরিক সহায়তা এবং তাদের সঙ্গে ময়দানের মুজাহিদ ভাইদের অটুট সম্পর্ক, সহযোগিতা ও অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ।
উদাহরণস্বরূপ আমরা লক্ষ্য করেছি আস-সাহাব ফাউন্ডেশন এখন পর্যন্ত তার তথ্যসমৃদ্ধ অধিকাংশ রিলিজ— যেমন জিহাদের নেতৃস্থানীয় শায়খদের বক্তব্য: যেমন শায়খ উসামা বিন লাদেন, শায়খ আইমান আল জাওয়াহিরি প্রমুখের বার্তা— আল জাজিরা চ্যানেলে প্রেরণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এর কারণ সুস্পষ্ট এবং বোধগম্য। আল জাজিরা মিডিয়া অঙ্গনে অন্যান্য মিডিয়া চ্যানেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান ও অনন্যতা লাভের জন্য এই সমস্ত রিলিজ প্রকাশ করতে বাধ্য হবে। এভাবেই শায়খদের বার্তাবাহী এই সমস্ত রিলিজের বিষয়বস্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে খুব অল্প সময়ে পৌঁছে যাবে।
পক্ষান্তরে যদি এই বার্তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে মুজাহিদদের কোন ওয়েবসাইট অথবা সহযোগী কোন মিডিয়াতে প্রকাশ করা হতো, তাহলে এতটা দ্রুত এত অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছার সম্ভাবনা ছিল না। তবে এ কথা ঠিক, আল জাজিরা অধিকাংশ সময়—বরং সর্বাবস্থায় এমনটা হওয়ায় স্বাভাবিক— ওই ভিডিও ক্লিপগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করবে না। আস সাহাব মিডিয়ার ভাইয়েরাও এ বিষয়টা ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা নিজেদের রিলিজগুলো আল-জাজিরা সহ এমনই অন্যান্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর কাছে পাঠানোর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তার পেছনে উদ্দেশ্য সেটাই যা উপরে বলা হলো। তো আমাদের ধারণা, এই অবস্থাটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ!!
সাধারণভাবে আমি মনে করি, এতে কোন অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ! তবে ইন্টারনেট সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুজাহিদদের মিডিয়া কার্যক্রম সমান্তরালেই চলবে। এরও অনেক উপকারিতা ও কল্যাণ রয়েছে। বিস্তৃত পরিসরে এ মিডিয়াগুলোর কাজের ক্ষেত্র রয়েছে।
উপরে যেই ক্রমান্বয়ের কথা আমরা উল্লেখ করলাম, তা অনুসরণের জন্য বিষয়টা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। আস সাহাব মিডিয়া সহ এই ধরনেরই মুজাহিদদের অন্যান্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যা করে যাচ্ছে, তা এ বিষয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এমনিভাবে ময়দানের মুজাহিদ দলগুলোও উভয় পন্থা সমান্তরাল ভাবে অবলম্বন করে যাচ্ছে। কখনো তারা কোন ভিডিও অথবা অডিও ক্লিপ স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর কাছে প্রেরণ করছে; আবার কখনো ইন্টারনেটে কোনো আনসার ও মুজাহিদদের সহযোগী ওয়েবসাইটগুলোতে প্রেরণ করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ওয়েবসাইটগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা অর্জিত হবে।
সেই সঙ্গে তাদের অবলম্বিত আরেকটি পন্থা হলো, তারা নিজেদের বিভিন্ন কনটেন্টকে সংক্ষিপ্ত করে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর কাছে এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করছে, যেন তারা প্রেরকদের উদ্দিষ্ট অংশ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়; স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর পছন্দমত কাটছাঁট করা অংশ নয়। একই সময়ে তারা ইলেকট্রনিক আনসার ওয়েবসাইটগুলোতে পুরো কনটেন্ট প্রেরণ করছে। এর দ্বারা উভয় লক্ষ্যই একই সঙ্গে অর্জিত হবার পথ তৈরি হচ্ছে। মিডিয়া সৈনিকরা কখনো স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর কাছে কিছু সময় আগে—উদাহরণস্বরূপ একদিন আগেই—তাদের কনটেন্ট প্রেরণ করছে, যেন ওই মিডিয়া স্টেশন তথ্য সরবরাহে প্রথম স্থান অধিকারের আকাঙ্ক্ষায় তা প্রকাশ করে।
মোট কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে আমাদের তথ্য গ্রহণের জন্য বাধ্য করতে চেষ্টা করা অবশ্যই কাম্য। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা হচ্ছে, আমাদের সততা ও বিশ্বস্ততা নিশ্চিতকরণ। সেই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা তাদের কাছে তথ্য সরবরাহ করব, যেন এক সময় তারা আমাদের উৎসগুলোর প্রয়োজন অনুভব করে।
কিন্তু তার আগে বাস্তব ক্ষেত্রে মুসলিম হিসেবে আমাদের এমন সামর্থ্যবান হতে হবে, যেন আমাদের কাজের শৈল্পিকতা, আমাদের সাফল্য এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে আমরা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। যেন আমরা নিজেদের অনুকূলে পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারি। এটা সর্বপ্রথম ময়দানের যোদ্ধাদের দায়িত্ব, অতঃপর ঐ সকল মুসলমানের দায়িত্ব যারা পেছন থেকে তাদেরকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সমর্থন ও সহায়তা দিবেন।
তবে এই সবকিছুই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার তাওফিক ও সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। একমাত্র তিনি সুযোগ দানকারী, সহজতা প্রদানকারী, সর্বজ্ঞ। আমরা আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও দয়া কামনা করি।
***
আপনাদের বিশেষ একটি প্রশ্ন ছিল,
ওই সমস্ত যুবকদের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন, যারা সশরীরে উপস্থিতিমূলক মিটিং ও ক্লাসের আয়োজনের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে। কিন্তু ইন্টারনেটে ইলেকট্রনিক জিহাদে অ্যাকটিভ হওয়ার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করে না।
আরও প্রশ্ন ছিল যে,
নিম্নোক্ত দুটো বিষয়ের মাঝে কোনটি উত্তম: একটি হলো জিহাদ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে বিশেষ কিছু কনটেন্ট প্রচার করার জন্য শুধুমাত্র সরেজমিনে কার্যক্রম পরিচালনা করেই দায়িত্ব এড়ানো। আর অপরটি হলো, ইন্টারনেটে ইলেকট্রনিক জিহাদে অংশগ্রহণ করা, যা শত্রুর জন্য ভয়ের কারণ হিসেবে আজ আমাদের কাছে স্পষ্ট। এই দুটো বিষয়ের মাঝে কোনটি উত্তম?
আরও একটা দিক হলো, এই উভয় কার্যক্রম সমানতালে চালিয়ে যাওয়া জরুরী কিনা?
এর জবাবে আমরা বলব, এই উভয় বিষয়কে সমানতালে চালিয়ে যাওয়া কাম্য বলে আমি মনে করি। প্রত্যেকেই নিজের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী, সুযোগ সুবিধা মত উপকারী ও কল্যাণকর অবদান রাখবে মিডিয়া ক্ষেত্রে। জিহাদের জন্য সব কিছুরই প্রয়োজন রয়েছে।
ইন্টারনেটে কার্যক্রম পরিচালনার চেয়ে সরেজমিনে আধুনিকতাবিহীন ম্যানুয়াল সিস্টেম ও পুরনো নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনা করার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা বেশি না হলেও, কমও নয়।
দাওয়াতের ভূমিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তার মাঝে রয়েছে জবানের মাধ্যমে মৌখিক দাওয়াত প্রদান। এখন এই দাওয়াত পরিবার পরিজনের মাঝেই হোক, আত্মীয়-স্বজনের মাঝে হোক, পাড়া-প্রতিবেশীর মাঝেই হোক, পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে হোক, এমনিভাবে বিভিন্ন উপলক্ষ ও জনসমাগমের মধ্যেই হোক, আচার অনুষ্ঠান ও মাহফিলগুলোতে হোক। যখনই যেখানে সুযোগ আছে বলে মনে হবে, তখনই সেখানে কারো কাছে দাওয়াত পেশ করতে হবে।
এই পন্থার মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুজাহিদদের বিভিন্ন প্রকাশনা যেগুলো সিডি ও ডিভিডি আকারে রয়েছে, সেগুলো উপস্থিত লোকদের মাঝে প্রচার করা। সেসব সিডিতে জিহাদ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকারী বিভিন্ন বিষয়বস্তু থাকে। অনেক সময় জিহাদের ফিকহ সংক্রান্ত বই পুস্তকের আলোচনা থাকে, এই বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়, এর উদ্দেশ্য ও বিধিবিধান নিয়ে পর্যালোচনা থাকে। এমনিভাবে এ মহান আমল এবং এই আমল পালনকারীদের সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান থাকে এই সিডিগুলোতে। গুরুত্বের দিক থেকে এগুলো কখনোই খাটো করে দেখার মত নয়।
কিন্তু বর্তমান যুগ হল ইন্টারনেটের। এ সময় কাজের সুযোগ ও ক্ষেত্র ব্যাপক হয়েছে। আমাদের কন্টেন্ট ও প্রকাশনাগুলো এমন অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ হয়েছে, যাদের কাছে পুরানো পদ্ধতিতে সরাসরি পৌঁছানো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই মানুষগুলোর দেশে, তাদের অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে তাদের কাছে এই বার্তা দেয়া আমাদের পক্ষে ভারী দুষ্কর ছিল। কারণ এই মানুষগুলো ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের ক্ষমতা বলয়ের মাঝে বসবাস করেন। তাদের মাঝে অনেকেই পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে বসবাস করেন। তাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই মানুষগুলোকে আমরা আমাদের অডিয়েন্স বানাতে পারি। এই বন্ধু মহলের পাশাপাশি শত্রুপক্ষকেও আমরা সম্বোধন করতে পারি। তাই প্রিয়ভাজন হোক কিংবা শত্রু মনোভাবাপন্ন হোক—সকলেই আমাদের বার্তা নিজেদের কাছে পেয়ে যায়।
***
আপনাদের আরও একটি জিজ্ঞাসা ছিল , الجبهة الاعلامية الإسلامية العالميهة – এর প্রতি আপনার নসিহা কি? অন্য সকল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান উপরোক্ত মিডিয়া সংস্থার অধীনে চলে আসাটা কি উপযুক্ত না সবাই স্বতন্ত্রভাবে আলাদা নামে কাজ করা অধিক উপযুক্ত?
এ প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই আমি বলতে চাই, الجبهة الاعلامية الإسلامية العالميهة – সম্পর্কে আমি খুব বিস্তারিতভাবে জানিনা। এই প্রতিষ্ঠান যারা পরিচালনা করছেন, তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, যেন আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করেন, তাদেরকে অটল অবিচল রাখেন এবং সকল অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করেন!! যেহেতু তাদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আমার জানা নেই, তাই আমি যদি তাদেরকে নসিহা করতে চাই, সেটা হবে আম ও ব্যাপক অর্থবোধক। তাই আল্লাহ তায়ালার ভয় ও তাকওয়া অবলম্বন, সবর, অবিরত কাজ করে যাওয়া, অটলতা, অবিচলতা, সততা, আল্লাহ তায়ালার জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করার মনোভাব তৈরি, গোপনে প্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ নিজেদের মাঝে জাগরূক রাখার ওসিয়ত ও উপদেশ দানের পর আমি বলতে চাই, উক্ত মিডিয়া সংস্থার ভাইয়েরা যেন অবশ্যই এটা মনে করেন যে, তারা সত্যিকার জিহাদে রয়েছেন। এ কারণেই আবশ্যকীয়ভাবে ইখলাস, একনিষ্ঠতা এবং নিজেদের সকল চেষ্টা প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীয়তের কাছে দায়বদ্ধতার বিষয়টি যেন তারা সর্বদাই সামনে রাখেন।
এই ওসিয়ত বাণী ও উপদেশের পরে আমি তাদেরকে এমন একটি বিষয়ের ব্যাপারে বলতে চাই, যা আমি তাদের অঙ্গনে প্রচেষ্টাকারী প্রত্যেকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। সদা সর্বদা প্রয়োজনীয় সেই বিষয়টা হলো – আমি নিরবচ্ছিন্নভাবে আমার কার্যক্রম চালিয়ে যাব যদিও তা স্বল্পই হোক না কেন। এই নীতি ও আদর্শের উপর কাজ করবো। কারণ বরকতপূর্ণ অল্প কাজ যদি সততাপূর্ণ, ন্যায়নিষ্ঠ ও কল্যাণ বহনকারী হয়; সেই সঙ্গে যদি তা ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন হয়, তবে তা খুবই কল্যাণকর। এই কল্যাণ এতটাই ব্যাপক যে, অল্প সময়ে ব্যাপক প্রচার প্রসার এবং বিস্তৃত পরিসরে কাজের সুযোগ লাভ করার চেয়েও এই কল্যাণ অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
তাই অল্প সময়ের ভেতর খুব বেশি ছড়িয়ে পড়া এবং ব্যাপক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটানো, সেই পথ ধরে সাময়িক আনন্দ উপভোগ করা, তাৎক্ষণিকভাবে খুশি থাকা, কখনো কখনো ক্ষণিকের জন্য গর্ববোধ করা এবং আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলা; অতঃপর আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া, আমরা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, আমাদের পরিকল্পনাগুলো ব্যর্থ হওয়া এবং সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া—আল্লাহ না করুক —এমনটা কখনোই কাম্য নয়। তাই উপরোক্ত নসিহা ও উপদেশ সর্বদাই আমার পক্ষ থেকে আমার ভাইয়ের প্রতি থাকবে। এর অর্থ হচ্ছে, তাদের যতটুকু সাধ্য সামর্থ্য রয়েছে, কাজের পরিসরকে তারা এর চেয়ে বেশি বিস্তৃত যেন না করে। এমনিভাবে যারাই তাদের সঙ্গে কাজ করবে এবং তাদের কাফেলার সঙ্গে যুক্ত হবে, প্রত্যেকের জন্য এই উপদেশ যে, নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা নিশ্চিতকরণে তারা যেন কিছুতেই অবহেলা না করে। সে সঙ্গে আরও নসিহা হল, কোয়ালিটি-সম্পন্ন কাজের ব্যাপারে তারা যেন সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হয়।
অতঃপর তাদের প্রতি আমার আরও নসিহা হল, তাদের কাজের যেন এমন একটি গঠনতন্ত্র ও চুক্তিপত্র থাকে, যা শরীয়তের নির্দেশনার আলোকে লিখিত আকারে বিদ্যমান থাকবে। লিখিত সেই চুক্তিপত্রের বৈশিষ্ট্য সমূহের মধ্যে থাকবে – আমাদের কাজের মূলভিত্তি হবে – আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা এবং তার দ্বীনের প্রতি দায়বদ্ধতা। আমরা সকল প্রকার নিন্দনীয় দলপ্রীতি ও দলান্ধতা বর্জন করবো। কোন এক বা একাধিক ব্যক্তি অথবা আল্লাহ তায়ালা যে সমস্ত নামের সঙ্গে যুক্ত হবার নির্দেশ দিয়েছেন—যেমন ইসলাম, ঈমান, তাকওয়া ইত্যাদি নাম সমূহ ছাড়া অন্য কোন নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলাদলি করা থেকে আমরা বিরত থাকবো। এমনিভাবে ন্যায়-নিষ্ঠা, ইনসাফ, রহমত ও দয়া, এহসান ও অনুগ্রহ, বিনয়, নম্রতা, উত্তম চরিত্র, সদাচরণ এবং শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলী জাগ্রত করা কাজের মূললক্ষ্য হবে।
উক্ত চুক্তিপত্র কাজের সাধারণ নীতিমালা হিসেবে বিদ্যমান থাকবে, যেন কাজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই উক্ত নীতিমালা আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে দায়বদ্ধ থাকে। এই নীতিমালা এমন শিষ্টাচার সমষ্টি বলেও গণ্য হবে, প্রতিটি সদস্য যা পালন করবে যত্ন সহকারে। বিশেষ করে ঐ সমস্ত ভাই, যারা ভার্চুয়াল জগতে সক্রিয় থাকেন, দূর থেকে সমন্বয় সাধন করেন। এই ভাইদের অধিকাংশ এমন, যারা সাধারণত একে অপরকে চেনেন না।
এমনিভাবে ক্রমাগতভাবে যত প্রজন্ম আসবে, তারা লিখিত সেই নীতিমালা মেনে চলবে। নিজেদের কাজকে সেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালনা করবে এবং সেসবের সঙ্গে আরও হিকমত, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা সম্ভার সংযুক্ত করে উক্ত নীতিমালাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। কখনো যদি নীতিমালার মাঝে কোন ত্রুটি থাকে, যা বিচ্যুতির পথ খুলে দেয়ার মত হয়, পরবর্তী প্রজন্ম সেই ত্রুটি সংশোধন করে নিবে। এর ফলে কাজ যেন সর্বদাই সঠিক পন্থায় পরিচালিত হয়; শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলীর নিরাপত্তায় কাজ যেন সুরক্ষিত থাকে।
কোন সন্দেহ নেই, যা কিছু বলা হলো, সবই শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক হওয়া চাই। উক্ত নীতিমালা তৈরিতে শরীয়ত থেকে এক আঙ্গুল পরিমাণও যেন বিচ্যুতি না ঘটে। একই সঙ্গে নীতিমালার মাঝে যেন কোন বড় ফাঁকফোকর না থাকে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালাই উত্তম তাওফিক দাতা!!
মিডিয়া অঙ্গনে কাজের নীতিমালা ও শিষ্টাচার সমাহারে শাখাগত গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়া খুবই জরুরী:
• পূর্ণ আদব, শিষ্টাচার, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন এবং আত্মগরিমা ও আত্মতৃপ্তি থেকে দূরে থাকা।
• পাশাপাশি সত্য প্রকাশে নির্ভীক হওয়া এবং কাজের পন্থা স্পষ্ট হওয়া।
• ব্যতিক্রম ছাড়া সর্বাবস্থায় সকল অর্থে সততা নিশ্চিত করা। কোথাও ব্যতিক্রম হলে প্রয়োজন অনুপাতে ব্যতিক্রমী অবস্থা বলে বিবেচনা করা হবে। ব্যতিক্রমী অবস্থা দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধের ক্ষেত্রে কখনো কখনো মিথ্যা বৈধ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবং বেশিরভাগ অবস্থায় সততাই যেন মূল বিষয় হয়।
সকল অর্থে সততা নিশ্চিতকরণ এ কথার দুটো অর্থ রয়েছে। একটা হল বাস্তবে যা ঘটেছে সেই সংবাদ সরবরাহ করা, যার নাম হলো সততা। এটাই শরীয়ত নির্দেশিত এবং জনসমাজে সততার প্রসিদ্ধ অর্থ। এরই বিপরীত হলো মিথ্যে।
আরেক রকম সততা হলো অলংকার শাস্ত্র ব্যবহারে সততা। অলংকার শাস্ত্র এমন বিষয়, যার দ্বারা সাহিত্যপূর্ণ বক্তব্য গদ্যে এবং পদ্যে বিশেষায়িত হয়। এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দীর্ঘ। তবে সেই আলোচনার সারমর্ম হল: বালাগাত ও অলংকার শাস্ত্রের সীমারেখা ও নীতিমালা বজায় রাখা। অলংকার শাস্ত্রের সর্বজন স্বীকৃত নীতিমালা হল, প্রত্যেক পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট ধরনের বক্তব্য রয়েছে। আমাদের আলোচ্য প্রেক্ষাপটে কোন ধরনের বক্তব্য শৈলী নির্বাচন করা উচিত?
এর উত্তর হল: অতিশয়তা তথা তথ্য ও ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রকম রঙ চড়ানোর পন্থা পরিহার এবং ভীতিসঞ্চার মূলক বাক্যশৈলী বর্জন। এগুলোর দ্বারা সংবাদ পরিবেশনকারীর সততা এবং ঘটনার সত্যতা মানুষদের দৃষ্টিতে কমে আসে। এগুলোর দ্বারা স্বাভাবিকভাবেই রুচির ক্ষেত্রে অপরিপক্কতার কথা বোঝা যায়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যদি এমন অতিশয়তার দাবি থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। যেমন কোথাও সকলের কাছে ঘৃণিত কোন বিষয়ে ঘৃণাভাব ছড়াবার জন্য অথবা সকলের দৃষ্টিতে হুমকি স্বরূপ কোন বিষয়ে ভীতিসঞ্চারের জন্য ব্যবহৃত কোন বাক্য। কিন্তু এই অতিশয়তা ও ভীতিসঞ্চার মূলক বাক্যশৈলী যেন সত্য প্রকাশের একমাত্র পন্থা না হয়। কোথাও সত্য প্রকাশিত হয়ে গেলে এবং সকলের কাছে সেই সত্য প্রমাণিত ও স্বীকৃত হয়ে গেলে উক্ত শৈলী ব্যবহার করা যেতে পারে।
• এর সঙ্গে আরও যুক্ত হল সম্বোধনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ঠিক রাখা। অর্থাৎ শ্রোতার মস্তিষ্ককে শরীয়তের দলিল এবং বুদ্ধিজাত যুক্তি প্রমাণ দ্বারা সম্বোধন করার পাশাপাশি শ্রোতার হৃদয়কে আবেগপূর্ণ কথা এবং প্রভাব সৃষ্টিকারী সাহিত্যপূর্ণ বাক্যের দ্বারা সম্বোধন করার মধ্যে ভারসাম্য ঠিক রাখা। এ বিষয়টা ভালোভাবে জানা থাকা চাই, কখন শ্রোতার বা পাঠকের যুক্তিবোধ ও মস্তিষ্ককে সম্বোধন করতে হবে, আর কখন তার হৃদয়কে টার্গেট করে কথা বলতে হবে!
• শব্দকে যতটা শালীন রাখার চেষ্টা করা হবে তার চেয়ে বেশি অর্থ ও মর্মের শালীনতা রক্ষা করার চেষ্টা করা। মিডিয়াঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক ও দাওয়াতি বার্তার মাঝে এই পয়েন্টটি খুবই মৌলিক গুরুত্ব পাবার দাবি রাখে। কারণ বাস্তবিক পক্ষে আমাদের দৃষ্টিতে মিডিয়া কার্যক্রম আল্লাহর পথে দাওয়াতের সমার্থক। আল্লাহ তায়ালা সর্বোত্তম তাওফিক দানকারী!!
***
আরও একটি প্রশ্ন ছিল যে,
সারা বিশ্বে যত জিহাদি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সবগুলোই আল জাবহা’র পতাকা তলে সমবেত হয়ে একই নামে কাজ করা কল্যাণকর হবে নাকি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্রভাবে নিজস্ব নামে কাজ করা অধিক উপযুক্ত হবে?!
এ বিষয়ে আমার রায় হলো, এই পর্যায়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা স্বতন্ত্রভাবে মিডিয়া কার্যক্রম পরিচালনা করাই অধিক উপযুক্ত হবে, যতদিন না আল্লাহ তায়ালা অবস্থার পরিবর্তন করে দেন এবং তার পক্ষ থেকে বিজয় আসে। নিশ্চয়ই তিনি বিজয় দানকারী সর্বজ্ঞ। অর্থাৎ আমাদের বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলাদাভাবে কাজ করার বিষয়টি অধিক উপকারী হবে ইনশা আল্লাহ।
তাই আমি মনে করি, একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে সবাই একীভূত না হওয়াই ভাল হবে। কারণ সে সময় শত্রুপক্ষ সবচেয়ে বড় হামলার জন্য ওই একক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। আল্লাহ তায়ালা সকল অনিষ্ট সাধনকারীর অনিষ্ট থেকে আমাদেরকে হেফাজতের জন্য যথেষ্ট!!
সকল প্রতিষ্ঠান যদি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে, তাহলে শত্রুপক্ষ কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানালেও একইসঙ্গে সবকটাকে আক্রমণের মুখে ফেলতে পারবে না। কারণ তখন সর্বদাই শূন্যস্থান পূরণ করে নেয়ার জন্য এবং আমাদের কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য কোন না কোন প্রতিষ্ঠান থেকেই যাবে।
এ পর্যায়ে জিহাদি সকল মিডিয়ার কাছে জোরালোভাবে এটাই আকাঙ্ক্ষার বিষয় ও দাবি যে – তারা পারস্পরিক সহযোগিতা, সহায়তা, একে অপরের শূন্যস্থান পূরণ করা, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত-অভিজ্ঞতা ও উপদেশ বিনিময়ে পারস্পরিক সমন্বয় সাধন ইত্যাদি ভালো গুণগুলোর দ্বার যেন সর্বদা উন্মুক্ত রাখেন। কারণ আমরা পরস্পরে ভাই ভাই। আমাদের মাঝে রয়েছে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি। আমরা একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য একই পতাকা তলে সমবেত হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটাই; আর তা হলো—আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা, তার পতাকা সমুন্নত করা, তার শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, তার বিধি-বিধানের ছায়াতলে বসবাস করা।
আমরা তো ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াবাসীর মতো নই। ধ্বংসশীল বস্তু নিয়ে কাড়াকাড়ি করা, প্রথম স্থান অর্জনের লিপ্সা, অনন্য হিসেবে সকলের কাছে প্রতিষ্ঠিত হবার বাসনা, খ্যাতির লালসা, সৃষ্টি জীবের সামনে গর্ব করা এবং তুচ্ছ বস্তু নিয়ে প্রতিযোগিতা করার মতো বিষয়গুলো আমাদের মাঝে থাকতে পারে না। আমরা তো আখেরাতের জন্য। আমরা তো আল্লাহর দ্বীনের জন্য। আমাদের সম্পদ হলো এখলাস এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা। আমাদের প্রতিযোগিতার বস্তু হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্জনীয় পুরস্কার। এগুলো তো দুনিয়াদারদের প্রতিযোগিতার বস্তু হতে সম্পূর্ণ ভিন্নতর।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বোত্তম তাওফিক দানকারী! তার সাহায্য ছাড়া নেক কাজের তাওফিক পাওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়!!
***
আর একটা প্রশ্ন ছিল:
আপনি কি মনে করেন, যুদ্ধের কোন একজন বড় নেতা মিডিয়া যুদ্ধ, এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য, শত্রুর ওপর এর প্রভাব এবং যারা জিহাদি কাফেলার সঙ্গে যুক্ত হয়নি তাদের উপর এ কাজের ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে কথা বলা জরুরী? ব্যাপারটা কি এমন নাকি এটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বিধায় এ বিষয়ে কথা বললে তাদের মূল্যবান সময় বিনষ্ট হবে বলে আপনি মনে করেন?
এর জবাবে বলবো: হে প্রিয় ভাই! কখনোই এমনটা নয়। কেমন করে তাদের সময় নষ্ট হবে বলে আমি ভাবতে পারি? এটা তো তাদের দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোরই অংশ। তাই অবশ্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, জিহাদের নেতৃবৃন্দ এ সম্পর্কে আলোচনা করবেন। নসিহা, দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা দিয়ে এ কাজকে সমর্থন করবেন। কিন্তু এ কাজের খুঁটিনাটি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শৈল্পিক দিক নিয়ে আলাপ আলোচনা করা তাদের জন্য সমীচীন নয়। জনসাধারণের সামনে এ বিষয় নিয়ে কথা বলা তাদের জন্য শোভনীয় নয়। তবে অনুপ্রেরণা দান, উদ্বুদ্ধকরণ—সেটা অবশ্যই কাম্য। আমি মনে করি, এ দায়িত্ব পালনে তারা সচেতন ও সক্রিয় রয়েছেন। এখন কামনার বস্তু হচ্ছে, আগামীতেও যেন তারা এ ধারা বজায় রাখেন।
উদাহরণস্বরূপ ডক্টর আইমান বিগত প্রায় ছয় মাস আগে আস সাহাব ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারে জিহাদি মিডিয়া এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দান করেছেন, প্রশংসার সাথে এই কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
একইভাবে শায়খ আবু মুসআব আয যারকাবী ইতিপূর্বে কথা বলেছেন এবং আল ইখলাস মিডিয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি উক্ত মিডিয়াকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন, তাদের প্রশংসা করেছেন এবং এক বয়ানে তাদের জন্য তিনি দোয়া করেছেন। এসব কিছুই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দানেরই অন্তর্ভুক্ত। সর্বদাই তাদের থেকে এমনটাই কাম্য।
আর আস সাহাব ফাউন্ডেশন হলো মুজাহিদদের অফিসিয়াল মিডিয়া ফাউন্ডেশন। এই প্রতিষ্ঠানটি ‘الحسبة’ এবং الجبهة الاعلامية العالمية – প্রতিষ্ঠান দুটোর সঙ্গে প্রকাশ্য সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তার মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এটাই কিন্তু অনেক বড় অনুপ্রেরণার বস্তু এবং বিরাট সমর্থন। বিবৃতি দিয়ে সমর্থন করার চেয়েও এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমাদের কোন সন্দেহ নেই যে, জিহাদের নেতৃবৃন্দ জিহাদি মিডিয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন রয়েছেন। এ দায়িত্বের ব্যাপ্তি, এর প্রয়োজনীয়তা এবং এটি পরিত্যাগের ভয়াবহতা সম্পর্কে তারা সতর্ক আছেন। বাস্তবতাই সবচেয়ে উত্তম ও বিশ্বস্ত সাক্ষী! সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য!!
আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দুয়া করি, যেন তিনি তাদেরকে বিজয়ী করেন। সঠিক পথে তাদেরকে অবিচল রাখেন। পৃথিবীর সর্বত্র মুজাহিদদেরকে সাহায্য ও নুসরাহ দান করেন!
আমরা আল্লাহর কাছে দুয়া করি, তিনি যেন আমাদের মিডিয়ার ভাইদের কাজকে কবুল করে নেন এবং তাদের কাজে বরকত দান করেন। আমিন!!
দ্বিতীয় প্রশ্নঃ
জিহাদি মিডিয়ার প্রতি আপনাদের মূল্যায়ন কী? বিশেষ করে ইন্টারনেটের মতো প্লাটফর্মে অ্যাকটিভিটিকে আপনারা কিভাবে দেখেন? আমাদের কিছু ভাই জিহাদি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্লগে মুসলিমদের সংবাদ ও খবরাখবর পাঠ করার কাজগুলোতে ব্যস্ত থাকেন। এগুলোকে নিজেদের দ্বীনদারীর জন্য, মনোবল বৃদ্ধির জন্য এবং প্রকৃত জিহাদে অংশগ্রহণের আত্মিক প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য করেন —এ সম্পর্কে আপনাদের মতামত কি?
[প্রশ্নকারী: আসাদ্দুস সুগুর ২] জবাব:
হে প্রিয় ভাই আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন! আল্লাহ তায়ালার কাছে দুয়া করি, তিনি যেন আপনার পাপ মার্জনা করে দেন। আপনার হৃদয়কে হেদায়েতের আলোয় উদ্ভাসিত করেন। তার পথে জিহাদের জন্য আপনাকে আনুকূল্য দান করেন এবং দীর্ঘজীবন ও সৎ কর্মের পর তার পথে আপনাকে শাহাদাত নসিব করেন!!
জিহাদি মিডিয়া বিশেষত ইন্টারনেটের মত প্ল্যাটফর্মকে আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এর বিকাশ ও অগ্রগতি কাম্য বলে মনে করি। জিহাদ ও মুজাহিদদের বিজয়ে এটি খুবই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দুয়া করি, তিনি যেন এই প্রয়াসকে বৃদ্ধি করে দেন। এতে বরকত দান করেন এবং সাহায্যের পথ খুলে দেন।
জিহাদি মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এবং এই সংশ্লিষ্ট যত ইলেকট্রনিক ওয়েবসাইট আছে, সেগুলোতে মুসলিমদের সংবাদ যখন আমাদের ভাইয়েরা পাঠ করেন তখন সেটা তাদের জন্য খুবই কল্যাণ বয়ে আনে এবং উপকারী বলে প্রমাণিত হয়। ইনশাআল্লাহ এটি অবশ্যই সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। কোন ধরনের নেতিবাচক দিক ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া যদি না থাকে, তাহলে অবশ্যই এটি নেকির কাজ বলে গণ্য।
এ কারণে প্রতিটি ভাই যেন এই নিয়ত করেন যে, ওয়াজ নসিহত, দিকনির্দেশনা, হেকমতের কথা, ইসলামি আইন শাস্ত্র এবং জিহাদ ও কল্যাণের ব্যাপারে অনুপ্রেরণাদায়ক আলোচনা শুনে নিজের দ্বীনদারীর ব্যাপারে সে যত্নবান হবেন। এমনিভাবে শিল্প-শাস্ত্র ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারায় যোগ্যতা অর্জন এবং একজন মুসলিম মুজাহিদের জন্য যে সমস্ত বিষয় শিক্ষা করা জরুরী, সেগুলো শিখে নেবার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সাধারণ জ্ঞান, আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা করবেন। সর্বদা মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন ও সেগুলোর সংবাদ সংগ্রহ করবেন। দোয়ার মাধ্যমে, সহানুভূতি প্রকাশ করে, ভ্রাতৃত্বের দাবি পালন করে এবং কষ্টের দিনে আরও যত ধরনের মানসিক সাপোর্টের প্রয়োজন হয় সবকিছু দিয়ে মুসলিমদের পাশে দাঁড়াবেন। এমনই আরও বহুবিধ কল্যাণকর উদ্দেশ্য রয়েছে।
এ সমস্ত উদ্দেশ্য সামনে রেখেই কল্যাণকর ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্মগুলোতে পদার্পণ এবং বিভিন্ন পড়াশোনা ও অধ্যয়ন। কোন সন্দেহ নেই এগুলো কল্যাণকর বিষয়; সেইসঙ্গে প্রকৃত জিহাদে অংশগ্রহণের আগে একজন মুমিন মুসলিমের জন্য এই বিষয়গুলো প্রস্তুতি ও পাথেয় সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। সে হিসেবে আপনি প্রশ্নে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তা সঠিক। তবে এটি প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে ওই ব্যক্তির জন্য, যিনি এই সমস্ত কাজ করার পর পরবর্তীতে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হওয়ার সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা দুয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে তার পক্ষ থেকে আনুকূল্য দান করেন।
মুসলিম ভাইদের জন্য জরুরী হলো: এই কাজের যত নেতিবাচক দিক রয়েছে, সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ সহ এ জাতীয় কাজগুলোর যত খারাপ দিক ও ক্ষতিকর বিষয় রয়েছে, সেগুলো পরিহার করা। সেই খারাপ দিক এমন হতে পারে যে, কেউ শুধু এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং ময়দানে নিজের কর্তব্যের ব্যাপারে অবহেলা করে। তাই এই বিষয়গুলো যদি কারো বিনোদনের ও সময় পার করার মত বিষয়ে পরিণত হয় এবং নিজের পরিমণ্ডলে কর্তব্য থেকে তাকে সরিয়ে নেয়, তাহলে অবশ্যই এগুলো খারাপ দিক বলে বিবেচিত হবে।
এমনিভাবে তর্ক-বিতর্ক এবং বাতিল বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা খারাপ দিকের অন্তর্ভুক্ত। অসদাচরণ, মন্দ স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং এই সমস্ত প্ল্যাটফর্মে আরও যারা সক্রিয় রয়েছেন তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ইত্যাদি কাজগুলোও অনেকের দ্বারা হয়ে যায়—যা কোন ভাবেই সদাচরণ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত নয়। অনেক সময় প্ল্যাটফর্মগুলোতে যারা নতুন এসেছেন কিংবা কিছুটা অশিক্ষিত দুর্বল স্বভাবের, তারাই প্রধানত অন্যদের সঙ্গে তর্কে জড়াতে চায়। এমন নতুন মানুষদের কাছ থেকে পুরনো সদস্যরা অনেক সময় বেয়াদবি ও মন্দ আচরণের মুখোমুখি হয়ে থাকেন।
অনুরূপভাবে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকা। এমন বিভিন্ন ক্ষতিকর অধ্যায়ের মাসআলা মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করা যেগুলো মানুষ সাধারণত অতটা ভালোভাবে আত্মস্থ করে না এবং সেগুলো নিয়ে এতটা সময় দেওয়াও উচিত নয়। তাই কিছু বিষয় শিখতে হয় সান্নিধ্যের মাধ্যমে এবং মানুষকে দেখে দেখে। দেখা যায়, অজ্ঞ লোক মানুষের কাছ থেকেই শিখে পরে মানুষকে অনুসরণ করে আর মনে মনে ভাবে: আমিও তাদের থেকে কম নই, ইত্যাদি।
সারকথা এই সমস্ত প্লাটফর্মে এবং ভার্চুয়াল জগতের মিলনস্থলে অনেক কল্যাণ রয়েছে। একই সঙ্গে এগুলোর অনেক খারাপ দিকও রয়েছে।
আসলে ভালো কাজের তাওফিক ওই ব্যক্তির পক্ষেই থাকে, যাকে আল্লাহ তা’আলা দান করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক ও হেদায়েত লাভ হয় যে সমস্ত কারণে সেগুলো হলো: আদব শিষ্টাচার, সদাচরণ, লজ্জা, বিনয়, নম্রতা এবং মানুষকে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করা। একইভাবে প্রতিটা বিষয়কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা, আল্লাহ তায়ালার ভীতি, সততা, ইখলাস, একনিষ্ঠতা, আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ ও মুখাপেক্ষিতা, অধিক পরিমাণে দোয়া, আল্লাহর উপর ভরসা ও আস্থা পোষণ।
এ কারণে এই সমস্ত ওয়েবসাইটে যারা অ্যাক্টিভ থাকবেন; প্ল্যাটফর্মগুলোতে যারা সক্রিয় থেকে অন্যান্যদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করবেন; বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন, তাদের জন্য জরুরী হলো উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি পুরোপুরিভাবে খেয়াল রাখা আর বিশেষভাবে নিম্নোক্ত নসিহাগুলো মেনে চলা:
• যিনি নতুন সদস্য, তিনি অবশ্যই লাজ লজ্জা বজায় রেখে কাজ করবেন। পুরোপুরি আদব শিষ্টাচার রক্ষা করবেন। শুরু থেকেই নিজের মনের মধ্যে এই অনুভূতি জাগ্রত রাখবেন যে, আমি একজন অতিথি। এ কারণে যারা তার অগ্রজ, তাদেরকে শ্রদ্ধা করা এবং তাদের সম্মান বজায় রাখা তার কর্তব্য। একইভাবে ওই প্লাটফর্মের কর্তৃপক্ষের সম্মানও বজায় রাখতে হবে। সেখানে যারা আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তি রয়েছেন, কল্যাণের পথে যারা অগ্রগামী এবং শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধা সম্মানে কোন রূপ ত্রুটিই করা যাবে না।
প্রথম দিন থেকেই নতুন সদস্য যেন ওই লাল কুকুরের মত আচরণ না করে, বাছুরের সঙ্গে যার ঘটনা ঘটেছিল। কারণ সে যদি এরকম আচরণ করে, তাহলে তার অ্যাকটিভিটি এবং উক্ত ওয়েবসাইটে তার অংশগ্রহণের মাঝে কোন বরকত থাকবে না; কেউ তার কথা ও বার্তা কবুল করবে না। বরং হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন অনেক মানুষই তাকে অপছন্দ করতে শুরু করবে। আর শুরুর দিন থেকেই তার অসদাচরণ অনেক সময় মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সম্মানে আঘাত করার জন্য তাকে প্ররোচিত করবে, যা তার নিজের জন্যই ক্ষতিকর।
তাই একজন মানুষের এটা মনে রাখতে হবে যে, এ সমস্ত ওয়েবসাইটে সে অজ্ঞাত জগতের একজন পথচারী। আপনি নিজেই এখানকার অধিকাংশ মানুষকে চেনেন না। যদি এই মানুষগুলোর প্রকৃত পরিচয় আপনি জানতেন, তাহলে হয়তো দেখা যেত, এখানে অনেকেই রয়েছেন আপনার বাবার বয়সী। অনেকেই রয়েছেন যোগ্যতা সম্পন্ন আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তি— যিনি নিজের পরিচয় গোপন করে রেখেছেন। একইভাবে অনেকেই রয়েছেন এমন তালেব ইলম, যিনি শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র। কেউ কেউ রয়েছেন এমন জ্ঞানী ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি যিনি ময়দানের জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। এরকমই বিভিন্ন অঙ্গনের এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান সাহিত্য সংস্কৃতি ও শিল্পশাস্ত্রের নানামুখী যোগ্যতার অধিকারী শ্রেষ্ঠ লোকগুলোর সঙ্গেই তার পথ চলা। আবার একইসঙ্গে এর বিপরীতও রয়েছে। অর্থাৎ তার চেয়ে অনেক স্বল্প যোগ্যতার লোকও তার পাশ দিয়েই হাঁটাচলা করবে। তার সঙ্গে এমন মানুষের পথ চলা হবে, যিনি কথা বলার আগে বুদ্ধি ও বিবেক খাটিয়ে নেন। আবার এমন লোকও থাকবে, যারা বুদ্ধি না খাটিয়েই আবোল তাবোল বলে ফেলবে।
এ কারণে খুব সতর্কতা ও সচেতনতা কাম্য। প্রত্যেকের উচিত হবে নিজের সম্মান ও দ্বীনদারীকে হেফাজতের ফিকির করা। অশোভনীয় কথা বলে কখনোই কোন মানুষের উপর আক্রমণ করা যাবে না। তড়িঘড়ি করে কারো ব্যাপারে কোন একটি স্পর্শকাতর বিধান প্রয়োগ করে দেয়া যাবে না। কাউকে গালাগাল দেয়া যাবে না এবং নির্বোধ আখ্যা দেয়া যাবে না। কারো সঙ্গে শক্ত ভাষায় কথা বলা যাবে না। সর্বদাই অজ্ঞাত-পরিচয়-মানুষগুলোর সঙ্গে আদব শিষ্টাচার রক্ষা করে চলতে হবে। তবে নিজের বক্তব্য হতে হবে দলিল প্রমাণের দ্বারা শক্তিশালী ও মজবুত। যাদের সঙ্গে কথাবার্তা ও আলাপচারিতা হবে, তাদের মাঝে অধিকাংশকে ধরে নিতে হবে— তিনি আমার থেকে উত্তম, বড় ব্যক্তি এবং অধিক জ্ঞানের অধিকারী হতে পারেন। এ সমস্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে কেউ যদি চলে, তাহলে তার ব্যাপারে আমরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সৎকর্মের তাওফিক, বারাকাহ্, সঠিক পথের দিশা, সাহায্য, নুসরত এবং সহায়তার ব্যাপারে আশাবাদী। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এরশাদ করেন

وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ الْعَزِيْزِ الْحَكِيْمِ

“অর্থ: বস্তুতঃ এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে সান্ত্বনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে”। (সূরা আল ইমরান ৩:১২৬)
• আর সিনিয়র সদস্যদের কাজ হল, তারা কখনো নতুনদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। নিজেরা সিনিয়র ও অগ্রজ হবার কারণে এ নিয়ে গর্ব করবেন না; খ্যাতির বড়াই করবেন না। এমন সমস্ত বিষয় অবশ্যই পরিহার করে চলতে হবে। পুরানো সদস্যরা যখন অন্যান্যদের সাথে কথা বলবে, তখন সকলের ক্ষেত্রেই উপরোক্ত বিষয়গুলো ধরে নেবেন যে, তিনিও কোন বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি জেনে থাকতে পারেন এবং তিনি আমার চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হতে পারেন। এ কারণেই সতর্কতার সাথে কথা বলতে হবে এবং তড়িঘড়ি কোন মানুষের ব্যাপারে অবিবেচনাপ্রসূত কিছু বলে দেয়া যাবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় যাবত তাকে যাচাই-বাছাই না করা হবে। কারণ মানুষজন নিজেদের ব্যাপারে যতই গোপনীয়তা অবলম্বন করুন না কেন, দীর্ঘ সময় পার হলে মর্যাদাবান ব্যক্তির মর্যাদা এবং অজ্ঞ লোকের অজ্ঞতার কথা প্রকাশিত হয়েই যায়। এ কারণেই মানুষকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আর সে অভিজ্ঞতার জন্য সময়ের প্রয়োজন।
• সকলের ব্যাপারে কথা হলো: সকলেই নিজেদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দা’ঈ, আল্লাহর পথের দিশা দানকারী মনে করবেন। সকলেই নিজেদেরকে আল্লাহর পথে এবং কল্যাণ অভিমুখে দাওয়াত প্রদানকারী বলে ভাববেন। তাদের প্রথম চিন্তা যেন এটাই হয় যে, কেমন করে নিজের দ্বীনদারীর উন্নয়নকল্পে সে উত্তম উপদেশ, ইলমের বিভিন্ন বিষয়, ফিকহ, উপকারী জ্ঞান এবং প্রশংসনীয় ও কাজে লাগার মত বিষয়গুলো অর্জন করবে অতঃপর যথাসাধ্য অন্যকে উপকৃত করার চেষ্টা করবে। অন্যকে উপকার করার বিষয়টা কথার দ্বারা হতে পারে, কোন রায় ও খেয়াল পেশ করে হতে পারে বা উপকারী পরামর্শ দিয়ে হতে পারে। এসব কিছুই মুজাহিদদের সাহায্য সহায়তা হিসেবে করবে এবং দ্বীনদার লোকদের সাহায্যের জন্য এ কাজগুলোর ব্যাপারে যত্নবান থাকবে। অবশ্যই ইলম ও কল্যাণ বিস্তারের চিন্তা তাদের মাঝে জাগ্রত রাখবে।
আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের নিজেদের জন্য এবং আপনাদের জন্য সঠিক পথের দিশা, ক্ষমা ও মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ তায়ালাই তাওফিক দানকারী, শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। তিনি আমাদের মাওলা এবং সাহায্যকারী!! অভিভাবক ও সাহায্যকারী হিসেবে তিনি কতই না উত্তম!! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য! শাস্তির ফায়সালা শুধুমাত্র জালিমদের ব্যাপারে!!
আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ করুন। তার পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কেয়ামত পর্যন্ত তাদের অনুসারী সকলের উপর সেই রহমত ও বরকতের ধারা জারি রাখুন!
আমিন!.

***

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الحكمة للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

Related Articles

২ Comments

  1. সশস্ত্র যুদ্ধে কুফফাররা আমাদেরকে পরাজিত করতে না পারলেও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে আমাদেরকে ওরা পিছনে ফেলে রেখেছে,অথচ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মনস্তাত্ত্বিক এ যুদ্ধে আমরা অংশগ্রহণ করতে নারাজ,
    কিভাবে উম্মাহর বিজয়ের আশা করি আমরা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − eleven =

Back to top button