আন-নাসর মিডিয়াইতিহাস- ঐতিহ্যউস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহপাকিস্তানফিলিস্তিন এক্সক্লুসিভবই ও রিসালাহবই ও রিসালাহ [আন নাসর]মিডিয়াহযরত উলামা ও উমারায়ে কেরাম

আল কুদসের প্রহরী -উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

আল কুদসের প্রহরী

   -উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

আল কুদসের প্রহরী    -উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

ডাউনলোড করুন

পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৮০২ কেবি]
https://banglafiles.net/index.php/s/QG3TAWZsMFGebF2
https://www.file-upload.org/2yupe2z2e54n
https://archive.org/download/AlQudsPaharadar_201905/al%20quds%20paharadar.pdf
http://www.mediafire.com/file/1e41da5f8rratbo/al_quds_paharadar.pdf/file
https://jmp.sh/dV228sgw

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন [৫৪৮ কেবি]
https://banglafiles.net/index.php/s/QrQNDK6Z6CDwZJK
https://www.file-upload.org/7szijp0ryw9z
https://archive.org/download/AlQudsPaharadar_201905/al%20quds%20paharadar.docx
http://www.mediafire.com/file/y2gcz5fnsspyub7/al_quds_paharadar.docx/file
https://jmp.sh/yjskgLiz

====================================
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية (بنغلاديش)
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ বাংলাদেশ শাখা
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent [Bangladesh]

——-

بسم اللہ الرحمان الرحیم،الحمد للہ رب العالمین والصلاۃ والسلام علی رسولہ الکریم،رب الشرح لي صدری ویسر لي أمری واحلل عقدۃ من لسانی یفقہوا قولي!

ভারতীয় উপমহাদেশ ও পুরো দুনিয়ার প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা আমার!

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ :

বাইতুল মুকাদ্দাস আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের পূণ্যভূমি। যেখানে মুসলমানদের প্রথম কিবলা অবস্থিত। যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিরাজ ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর পরে সবচেয়ে পবিত্রতম মসজিদ হলো এই মসজিদে আকসা। আজ এই বাইতুল মাকদিসকেই আমেরিকা ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছে। এটা বড়ই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বড়ই বেদনাদায়ক ঘটনা। কিন্তু প্রিয় ভাইয়েরা আমার! এই ঘটনা ও দূর্যোগ হঠাৎ করেই আমাদের উপর আসেনি, বরং এর পূর্বে এ রকম ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, যার উপর উম্মত হিসাবে আমাদের অনুভূতিশূন্যতা ও নিশ্চুপতা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। যার কারণে আজ আমাদেরকে এই ঘটনা অবলোকন করতে হচ্ছে! আসলে প্রত্যেক ঘটনাই আমাদেরকে ভাল-মন্দ বুঝাতে, বন্ধু-শত্রু চিনতে, স্বপ্নের ঘোর থেকে জাগাতে ও উঠাতে যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আফসোস আমরা জাগিনি… আমরা উঠিনি…।

খেলাফতে উসমানিয়ার পতন বিশ্বব্যাপী এক বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল। তারপর মুসলিম বিশ্বের হৃদপিন্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র কায়েম করা, বানর ও শুকরের বংশধর ইয়াহুদীরা মসজিদের আকসার জবর দখল করা এবং লাখো মুসলমানদেরকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া এক তোলপাড় করা ঘটনা ছিল। অত:পর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এক নিকৃষ্ট বন্দিখানায় পরিবর্তিত হয়ে গেল, মান-সম্মান ধূলোয় মিশে গেল আর মুসলমানদের রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল… বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরায় ঘটতেই লাগল। যার দ্বারা হক-বাতিল ও লাভ-ক্ষতির পরিচয় চিনতে-জানতে কোন সমস্যাই ছিল না। কিন্তু আফসোস! উম্মত হিসাবে আমাদের এর পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

প্রিয় ভাইয়েরা আমার!

ইয়াহুদীদের অপরাধের জিম্মাদার কখনো একা ইসরাইল ছিল না এবং থাকবেও না। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের হৃদপিন্ডে এই ইয়াহুদীদের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপীয় খ্রিস্টানরাই এর ভিত্তি তৈরি করে। আর এ ইসরাইল তো সে ক্রুসেড যুদ্ধসমূহের ফলাফল, যা বৃটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া উপনিবেশবাদের নামে আমাদের বিরুদ্ধে লড়েছিল। অত:পর যখন আধুনিক বিশ্বে যুলুমের আইন প্রণীত হল এবং কুফরী রাষ্ট্রের মাতবরী আমেরিকার কাছে চলে গেল, তখনই আমেরিকা খ্রিস্টান দুনিয়ার এই জারজ সন্তানদেরকে কোলে তুলে নিল। তারপর সেই দিন আর আজকের দিন! ইসরাইলের স্থায়ীত্ব, তার শত্রুদের প্রতিহত করা এবং তাকে শক্তিশালী করাসহ সকল জিম্মাদারী এই জালিম আমেরিকা আঞ্জাম দিয়ে আসছে। ইসরাইলের সকল জুলুমকে আমেরিকা ন্যায়পরায়ণতা বলেছে, তার প্রত্যেক বাড়াবাড়িকে বৈধতা দান ও অবশ্য প্রয়োজনীয় কাজ বলে নাম দিয়েছে এবং প্রত্যেক ফোরামে, ময়দানে আমেরিকা ইসরাইলের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে… আজও করে যাচ্ছে…।

অন্যদিকে আমাদের মাথার উপর যে গোত্রগুলিকে এখানকার শাসক বানিয়েছে, তাদের প্রধান কাজই হল তার বৈশ্বিক প্রভুদের গোলামী করা। যখনই ফিলিস্তিনে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তখনই তার থেকে উম্মাতের মুজাহিদদেরকে দূরে রাখার জন্য এবং এই আন্দোলনের বুকে ছুরি চালানোর কাজটা আরব বিশ্বের বিশ্বাসঘাতক শাসকেরা খুব ভাল ভাবেই আঞ্জাম দিয়েছে। এই জালিম শাসকেরা আল্লাহর বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে আরব জাতীয়তাবাদের পূজা করেছে। তারা নিজেদেরকে হিরো দেখানোর জন্য এক দুইবার ইসরাইলকে চোখ রাঙ্গিয়েছে, কিন্তু আল্লাহদ্রোহী, নফস ও শয়তানের গোলাম উম্মতের এই গাদ্দারেরা কখনো কুফরী বিশ্বের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের মুখের ক্ষমতা এমনভাবে হারিয়ে ফেলেছে যে, তারা ইহুদীদের পায়ের তলা চাটার মধ্যেও নিজেদের সুরক্ষা ও সুবিধা দেখতে পায়। অত:পর উপসাগরীয় যুদ্ধের বাহানায় যখন আমেরিকা মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র হারামাইন শরীফাইনের পাশে নিজের ত্রুসেডার বাহিনী অবতরণ করিয়েছে, যার মাধ্যমে আরেকবার এই বাস্তবতা আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়েছে যে, আমেরিকা, ইসরাইল এবং মুসলিম বিশ্বে আধিপত্য স্থাপনকারী স্থানীয় তাগুত শাসকেরা সবাই এক জোট এবং তারা একে অপরের সুযোগ-সুবিধার সাথে জড়িত। ঠিক এ সময়ের মধ্যেই আল্লাহর রহমতে আবির্ভাব হয় জিহাদের পুনর্জীবন দানকারী শায়েখ উসামা বিন  লাদেন রহ. …। তিনি উম্মতের সামনে তাদের প্রথম দুশমন আমেরিকার পরিচয় তুলে ধরেন…। তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেন। আমেরিকাকে জুলুমের শাসন ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষক ও সাপের মাথা বলে আখ্যায়িত করেন। স্বীয় মাজলুম উম্মতকে বুঝিয়েছেন যে, ইসরাইলের বাইতুল মুকাদ্দাস জবর দখল করা ও মুসলিম বিশ্বে গাদ্দার শাসকদের আধিপত্য বিস্তার করা, এ সব কিছুরই মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষক হলো এই আমেরিকা। সুতরাং আমেরিকার দাপট চূর্ণ করা ব্যতীত ইসলাম ও মুসলমানদের স্বাধীনতার স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়িত হতে পারে না।

শাইখ উসামা রহ. এক মুবারক কসম খেয়ে বলেছিলেন-

أقسم بالله العظيم ألذي رفع السماء بلا عمد لن تحلم أمريكا و لا من يعيش في أمريكا بالأمن قبل أن نعيشه واقعا في فلسطين و قبل أن نخرج جميع الجيوش الكافرة من أرض محمد صلى الله عليه و سلم .

অনুবাদ : “মহান আল্লাহ তায়ালার নামে কসম করে বলছি, যিনি আসমানকে খুঁটিবিহীন দাঁড় করিয়েছেন। আমেরিকা ও আমেরিকাতে বসবাসরত লোকেরা কখনো শান্তির স্বপ্নও দেখতে পারবে না, যতক্ষণ না আমরা ফিলিস্তিনে বাস্তবে শান্তিতে বসবাস করতে পারব এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জমিন থেকে সকল কাফির সৈন্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে”।

প্রিয় ভাইয়েরা আমার!

মুজাহিদদের টার্গেট আমেরিকা ছিল। শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ. ইহুদী ও ত্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের আহবান করেছিলেন। মুজাহিদরা রিয়াদের ক্ষমতার পতন ঘটানোর আহবান করেননি। তারা ইসলামাবাদের দিকেও নিজেদের হাতিয়ার তাক করেননি। তারা শুধু আমেরিকাকে মেরেছেন এবং আমেরিকাকেই মারার প্রতি উম্মাতকে আহবান করেছেন!

মুজাহিদদের ১১ই সেপ্টেম্বরের মুবারক হামলা তো আমেরিকানদের উপরই হয়েছে, তা ইসলামাবাদ বা রিয়াদ বা কায়রোর উপর হইনি। কিন্তু ১১ই সেপ্টেম্বরের মুবারক হামলার পর ইসলাবাদ, কায়রো ও রিয়াদের প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান মুজাহিদদের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল। তারা আল্লাহর বাহিনী ও শয়তানের বাহিনীর মাঝে চলমান যুদ্ধে সর্বদা যুগের শয়তানদেরই আনুগত্য, সহায়তা ও নিরাপত্তার রাস্তা বেঁচে নিয়েছে। তারা তাদের আকাশসীমা, সমুদ্র বন্দর ও ভূমি আমেরিকান সৈন্যদের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। আমেরিকার যুদ্ধকে নিজেদের যুদ্ধ বলেছে। আমেরিকার প্রতিরক্ষার জন্য তারা তাদের জাতির নিরাপত্তাকে ভূলুন্ঠিত করেছে। যে সমস্ত মুজাহিদীন আল কুদসকে মুক্ত করার জন্য লড়াইয়েরর পণ করেছেন এবং ইয়াহুদীদের ও ত্রুসেডারদেরকে মেরে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কসম খেয়েছেন, এ সমস্ত শাসক ও সেনাপ্রধানরা মুজাহিদদেরকে খুঁজে খুঁজে শহীদ করতে লাগল, তাঁদেরকে ধরে ধরে আমেরিকানদের কাছে বিক্রি করে দিতে লাগল, তাদের জেলখানা ও বন্দিখানাগুলো মুজাহিদদের দিয়ে ভরে ফেলল এবং যারাই জিহাদের সহযোগিতা করেছে, তাঁদের গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে দিতে লাগল…!

আফসোসের কথা হল. এ সমস্ত গাদ্দার শাসকেরা এত কিছুর পরেও এ সত্য স্বীকার করেনি যে, তারা বাইতুল মুকাদ্দাসকে বেচা-কেনার পণ্য বানিয়েছে। তাদের নিজেদের বিলাসিতা ও শাসন ক্ষমতা খুব প্রিয় হওয়ার কারণে সব ধরনের কাফের ও জালিমদের সাথে উঠা-বসাকে ন্যায়ানুনাগ ও ইনসাফ ভেবেছে! ফিলিস্তিনকে তারা বিক্রি করে দিয়েছে, কিন্তু ফিলিস্তিনের আলোচনা এখনো ঐ সমস্ত গাদ্দারেরা ছাড়েনি। আসলে তারা কার্যতভাবে আমেরিকা ও ইসরাইলের স্থলাভিসিক্ত। কিন্তু ফিলিস্তিনের নামের আলোচনা বিভিন্ন কন্ফারেন্সে ও চুক্তিতে অভিনয় করে উল্লেখ করা থেকে এখনো বিরত থাকছে না।

ফিলিস্তিনের অর্ধেকের চেয়ে বেশী ভূমি ইয়াহুদীদের, এ কথা তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। ১৯৬৭ সালের সীমানাকে আসল সীমানা বলা হচ্ছে, অথচ ১৯৬৭ সালের আগে ইসরাইলের ভূমিও ফিলিস্তিনেরই ছিল। এই সেই ইসলামী ভূখন্ড যাকে স্বাধীন করার জন্য পুরো উম্মতের উপর জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়। এখন তারা ফিলিস্তিনের দুই তৃতীয়াংশ ভূমি দিয়ে শুধু এক তৃতীয়াংশের জন্য যাচনা করছে। কিন্তু আমেরিকা তো আমেরিকাই! নিজেরা ইসলামের দুশমন এ বিষয়টি লুকানো তো এই সমস্ত গাদ্দার শাসক ও সেনাপ্রধানদের দরকার, আমেরিকার তো কোন দরকার নেই। আর তাই আজ আমেরিকা চূড়ান্ত গোয়ার্তুমির সাথে পুরো বাইতুল মুকাদ্দাসকে ইয়াহুদীদের অধিকার বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

ভাইয়েরা আমার!

আজ যে ফিলিস্তিন আমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরুপ, সেই একই ফিলিস্তিন দ্বারা বনী ইসরাইলকেও পরীক্ষা করা হয়েছিল। হযরত মূসা (আ:) এর সময়ে এই ফিলিস্তিনের উপর মুশরিকদের আধিপত্য ছিল। আর আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা (আ:) এর যবানের মাধ্যমে এই ভূমিকে কাফিরদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার আদেশ বনী ইসরাইলকে দিয়েছিলেন, হযরত মূসা (আ:) বললেন-

يَاقَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ

অনুবাদ: “হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করেছেন তাতে তোমরা প্রবেশ কর এবং পশ্চাদপসরণ কর না, করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে”। (সূরা মায়েদা : ২১)

উত্তরে তাঁর সম্প্রদায় বলল-

قَالُوا يَامُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ.

অনুবাদঃ “তারা বলল, হে মূসা! সেখানে এক দুর্দান্ত সম্প্রদায় রয়েছে এবং তারা সেই স্থান হতে বাহির হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই সেখানে কিছুতেই প্রবেশ করব না; তারা সেই স্থান হতে বাহির হয়ে গেলেই আমরা প্রবেশ করব”।’ (সূরা মায়েদা : ২২)

এমনিভাবে মূসা (আ:) কে আরো বলা হয়েছে –

فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ

অনুবাদ: “সুতরাং তুমি আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর, আমরা এখানেই বসে থাকব”। (সূরা মায়েদা : ২৪)

এটা তাদের জিহাদ ও কিতাল থেকে অস্বীকার ছিল। তাই তাদের উপর আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি নাযিল হয়-

فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِين

অনুবাদ: “তবে তা চল্লিশ বছর তাদের জন্য নিষিদ্ধ রইল, তারা পৃথিবীতে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে, সুতরাং তুমি সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করো না”। (সূরা মায়েদা : ২৬)

আল্লামা ইবনে কাসির রহ. বলেন: ‘বনী ইসরাইল যখনই আল্লাহ তায়ালার হুকুমের বিরোধিতা করল, তখনই আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তীহ প্রান্তরে ঠেলে দিলেন। তাদের থেকে গন্তব্যে পৌঁছার সক্ষমতা কেড়ে নিলেন, ফলে চল্লিশ বছর পর্যন্ত হোঁচট খেতে লাগল”।

তাফসীরে সা’দীতে বলা হয়েছে-

لا يهتدون إلى طريق و لا يبقون مطمئنين

অর্থাৎ “তারা কোন রাস্তা খুজেঁ পেত না এবং প্রশান্তিতেও থাকতে পারত না”।

মুসলমান ভাইয়েরা আমার!

আজও আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করাকে আত্মহত্যা বলা হয়। আরো বলা হয়; তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বোকামী। শান্তি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই একমাত্র সমাধান। অত:পর রাষ্ট্র ব্যতীত জিহাদ তো জায়েজ-ই না। জিহাদ তো শুধু রাষ্ট্র ও রাষ্টের সৈন্যদের দায়িত্ব! এই বুদ্ধিজীবীরা কোন রাষ্ট্র ও শাসকদের ব্যাপারে বলেন যে এ দায়িত্ব তাদের? ইস্তাম্বুলে একত্রিত হওয়া সে লোকগুলোর? যারা যুগের ভাষায় এ ঘোষণা করেছে যে, আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আরো আশ্চর্যের বিষয় হল, এখন প্রশ্ন হলো কুদসের পুরো ভূমি থেকে ইয়াহুদীদেরকে বের করে দেওয়া, নাকি পূর্ব-পশ্চিমের পুরো বাইতুল মুকাদ্দাস এবং পুরো ফিলিস্তিনকে তাদের নাপাকী থেকে পাক করার প্রশ্ন আজ? কিন্তু এখানে…. তাদের এই বাস্তবে দখল করে নেয়া ও নির্লজ্জ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাইতুল মুকাদ্দাসে শুধু নামকাওয়াস্তে তাদের দুতাবাস খোলার ঘোষনা দিয়েছে। কেহ-ই আমেরিকার সাথে নিজেদের সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। তারা নিজেদের দেশের মাঝে বিদ্যমান আমেরিকার চৌকি এবং সৈন্যদেরকে বের করে দেওয়ার সুসংবাদ দিতে পারেনি। এ সমস্ত শাসক ও সেনাপ্রধানরা আমেরিকার সাথে জোটবদ্ধ। কেউ ন্যাটোর সাথে জোটবদ্ধ বা ন্যাটো ছাড়া অন্য কারো সাথে জোটবদ্ধ… কেউ সহযোগিতার নামে এই ক্রুসেডার বাহিনীরই অংশ। আবার কেউ সিরিয়া ও ইরাকে আহলুস সুন্নাহ অনুসারীদের হত্যা করার ক্ষেত্রে আমেরিকা ও রাশিয়ার সাথে অংশিদার। তাদেরকে অনেক তিরস্কার করা হয়েছে, আবার আশা-ভরসাও দেয়া হয়েছে। তথাপিও তারা কেউ-ই আমেরিকার সৈন্যদের সঙ্গ ছাড়তে এবং তাদের গোলামী থেকে বের হয়ে আসার ঘোষনা দিতে প্রস্তুত হয়নি। কিন্তু কেন!? তা এ জন্য যে,  إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ !! সেই বনী ইসরাইলের হুবহু জবাব। আমেরিকা শক্তিশালী রাষ্ট্র। বিষয়টা যেন এমন, নাউজুবিল্লাহ আল্লাহ অসন্তুষ্ট হলে হোক কিন্তু আমেরিকাকে অসন্তুষ্ট করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অত:পর আজ স্বয়ং আমেরিকা যখন তাদের অভিনয়ের কোন প্রকার ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়, তাই এখন তাদেরকে নতুন কোন সাহায্যকারী তালাশের কথা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে রাশিয়ার সাহায্য নাও। এখন আমেরিকার বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাথে সখ্যতা গড়ে তোল। বিষয়টা যেন এমন আফগানিস্তানে বিশ লাখ মুসলমানদের হত্যাকারী, সিরিয়াতে লাখো মুসলমানের রক্ত প্রবাহিতকারী, শীশানের মুসলমানদেরকে জবাহকারী এই রাশিয়া আজ আমাদের বাইতুল মুকাদ্দাস আমাদেরকে ফিরিয়ে দিবে! মুসলমানদের তুর্কিস্তান জবর দখলকারী এই কাফিররা আমাদের বাইতুল মুকাদ্দাস আমাদেরকে সোপর্দ করে দিবে! আর যে চীন, তুর্কিস্তানের মুসলমানদের কুরআন, নিকাব ও দাঁড়ির মুশমন এবং বার্মার মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া জুলুমের প্রত্যেকটিতে সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করছে, সেই চীন আজ আমাদেরকে ইয়াহুদীদের জুলুম থেকে মুক্তি দিবে!?

ঐ সমস্ত শয়তানদের প্রচেষ্টা হল: উম্মতকে মিথ্যা আশা দিয়ে রাখা। তারা এমন আশা দেয় যে, তাতে উম্মাত গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে উদ্ভান্তের মত ঘোরবে, বিপথগামী হবে, কাপুরুষ হবে কিন্তু তারা এমন রাস্তায় চলবে না, যে রাস্তায় চলে তারা গোলমীর জিঞ্জির ভেঙ্গে ফেলতে পারে!

কবিতা:

؏بتوں سے تجھ کو امیدیں، خدا سے نومیدی

مجھے بتا تو سہی اور کافری کیا ہے؟

“তুমি প্রতীমার কাছে আশাবাদী, প্রভুর তরে নয়

তুমি বল এর চাইতে বড় কুফরী কি আর হয়?”

মুসলিম ভাইয়েরা আমার !

এখন সময় আমাদের পরীক্ষার। মহান আল্লাহ পাকের বিধানাবলী আজ আমাদেরকে আহবান করছে, আমরা প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবো। আমেরিকার দাপট, ইসলাইলের দখলদারিত্ব, নাস্তিক-কাফিরদের বিশ্বশক্তি এবং আমাদের অসহায় অবস্থা। এ সকল অবস্থার প্রেক্ষিতে পরীক্ষা অন্য কারো নয়, বরং আমাদের মুসলিমদেরই! শুধু বাইতুল মুকাদ্দাসই নয়, বরং পুরো ফিলিস্তিন মুক্ত করা, সকল মাজলুম মুসলমানদের সাহায্য করা এবং আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করা হচ্ছে একটি দ্বীনী ও শরয়ী জিম্মাদারী। এর জন্য জিহাদ-কিতাল করা প্রত্যেক ঐ ব্যক্তির উপর ফরজ, যে কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়েছে। আমাদের এটাও মনে রাখা জরুরী যে, অধিকাংশ লোকদের পথ না দেখে, আল্লাহর বিধানাবলী ও শরীয়তের চাহিদা দেখা জরূরী। অধিকাংশ লোকদের দেখে নিজের পথ নির্ধারণ করা ও নিজের মতামত স্থির করা বোকামী ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার লোক অল্প সংখ্যক-ই হোক না কেন! তাহলে তুমি আল্লাহর নিকট সফলকামীদের মাঝে একজন বলে গণ্য হবে।

ইমাম বাগাভী রহ. বলেন, “বনী ইসরাইলের কাছ থেকে যখন বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশের কথা বলা হল, তখন তাদের সংখ্যা ছয় লাখ ছিল। তাদের ছয় লাখের মধ্য থেকে মাত্র দুইজন যেন আল্লাহর হুকুমের ডাকে সাড়া দিল এবং জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিল। ছয় লাখ মানুষের মাঝে মাত্র দুইজন!…”

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন –

قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ

“তিনি বলেন- যারা ভয় করতেছিল তাদের মধ্যে দুইজন”।

أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا

“যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন”।

এখানে তাঁদের গুণ কি বর্ণনা করা হয়েছে? ‘আল্লাহর ভয়’ তাদের গুণ বর্ণনা করা হয়ে হয়েছে। তাঁরা আল্লাহর ভয়ের উপর অন্য কোন ভয়কে প্রাধান্য না দেয়াটা এমন গুণ ছিল, যার ভিত্তিতে আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে আনুগত্যের তাওফিক দিলেন। যার মাধ্যমে আল্লাহ পাক তাঁদেরকে পুরস্কৃত করলেন। এ জন্য তাঁরা বলল-

ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ.

অনুবাদ: “তোমরা তাদের মুকাবিলা করে দ্বারে প্রবেশ কর, প্রবেশ করলেই তোমরা জয়ী হবে এবং তোমরা মু’মিন হলে আল্লাহর উপরই নির্ভর কর”। আজো এই উম্মতের জন্য এমন তায়াক্কুল করা আবশ্যক।

মুসলিম ভাইয়েরা আমার !

আজও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। সেই ফিলিস্তিন, যেখানে কাফিররা ঐ ভাবেই দখল করে আছে। পূর্বের ন্যায় দখলদার কাফিররাও জালিম ও ক্ষমতাধর। এখন আমাদের জন্যও সেই জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর হুকুম-ই বলবৎ রয়েছে…।

যেমনিভাবে বনী ইসরাইলের অধিকাংশ লোক জিহাদ থেকে বিমুখতা দেখিয়েছিল, এমনিভাবে আজও একটি শ্রেণী জিহাদ ও আত্মত্যাগের ভূমিকা থেকে অস্বীকার করছে। ইলম ও জ্ঞানের নামে মনগড়া ব্যাখ্যা পেশ করা হচ্ছে। এই শ্রেণীর লোকেরা হককে বাতিল ও বাতিলকে হকরুপে দেখানোর জন্য অনমনীয়। তারা মুজাহিদীনকে জঙ্গী, স্বার্থবাদী ও কাফির বলার ক্ষেত্রে একগুঁয়েমীর শিকার। অত:পর এ সমস্ত লোকেরা জিহাদ ও কিতালকে বাদ দিয়ে অনৈসলামী শরিয়াহ দ্বারা উম্মাতে মুসলিমার ক্ষতগুলিকে সুস্থ করার পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের দর্শন আবারও ঠুনকো প্রমাণিত হল।

আল্লাহর কসম! তাদের চেয়ে বেশী দলীলহীন কথা-বার্তা এবং সত্য বলা থেকে মাহরুম আর কেহ নেই। তাদের দৃষ্টান্তও তীহ প্রান্তরে উদ্ভান্তের ন্যায় ঘুরা বনী ইসরাইলদের মতই। তারা রাস্তা চিনে না এবং তাদের গন্তেব্যে পৌছাঁর বিশ্বাসও নেই। হায়! যদি তাদের জবানগুলো বন্ধ হয়ে যেতো… যদি আজ তারা অন্তত তাদের গোমরাহী ও ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি দিত!

মুসলিম ভাইয়েরা আমার!

মহান আল্লাহ তায়ালা নিকট আমার ও আপনার জবাবদিহি করতে হবে…। আমি ও আপনি এ সমস্ত মাসআলায় ও মুসিবতে কি ভুমিকা রেখেছি? আমরা তার কারণগুলি থেকে কোন কারণ হয়েছি নাকি তার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছি? আমরা উম্মাতের এ দূর্যোগে তাদের ক্ষতগুলো আরো বাড়িয়ে দিয়েছি নাকি তা উপশমে আমরা আমাদের নাম লিখিয়েছি…? যদি আমরা এ সমস্ত গাদ্দার শাসক ও আমেরিকার গোলাম সেনাপ্রধানদেরকে শরয়ী উলুল আমর বলি ও হাতে হাত রেখে জিহাদকে মুলতবি ঘোষনা করি, তাহলে আমাদের ভাল করে বুঝা উচিত- আমরাও এই অপমান-অপদস্ততার একটি কারণ বলে বিবেচিত হবো। আমরা আমাদের দুনিয়াদারী ও স্বীয় স্বার্থ রক্ষাকে নিজেদের দ্বীন বানিয়ে ফেলেছি। জিহাদ ও কুরবানীকে উগ্রবাদিতা ও নির্বুদ্ধিতা নাম দিয়েছি। তাই আমরা স্বীকার করি, উম্মতের এ সমস্ত সমস্যার একটি কারণ আমরাও। কুফরের তল্পিবাহক গণতন্ত্রকে যদি আমরা সঠিক বলি, আর দাওয়াত ও জিহাদের খালিস নববী তরীকাকে যদি উগ্রবাদিতা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ বলে নামকরণ করি, তাহলে উম্মতের এ সমস্ত ক্ষতগুলির একটি কারণ আমরাও… কিন্তু যদি আমরা শরীয়তের অনুসরণ করি, আল্লাহর হুকুমের সামনে মাথা অবনত করি, দাওয়াত ও জিহাদের সমর্থন করি, জান ও মাল দিয়ে জিহাদ ও মুজাহিদকে সাহায্য করি, জবান ও কলম দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারী এ সমস্ত মুমিনদের পক্ষে প্রচারণা চালাই- তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা আল্লাহর নিকট সফলকাম ও সার্থক বলে বিবেচিত হবো।

এখানে আমরা সারা দুনিয়ার মুজাহিদদেরকে লক্ষ্য করে বলতে চাই- বাইতুল মুকাদ্দাসকে স্বাধীন করতে হোক বা  দুনিয়ার মাজলুম মুমিনদেরকে সাহায়্য করতে হোক অথবা জমিনে আল্লাহর মহান দ্বীনকে বিজয়ী করতে হোক, এ সব কিছু করা কেবল একমাত্র জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ দ্বারা-ই সম্ভব। কিন্তু এখানে ঐ সমস্ত মুজাহিদীন-ই শুধু উম্মাতের প্রতিশেধক/উপকারী হিসাবে বিবেচিত হবে, যাদের জিহাদের উদ্দেশ্য হবে শরীয়াহ ব্যবস্থার রাষ্ট্র কায়েম করা। তথাপি তারও আগে এই শরীয়াহ অন্যের উপর প্রয়োগ করার আগে নিজের উপর প্রয়োগ করা এবং যারা আল্লাহর শত্রু কাফিরদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিজ মুসলিম ভাইদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, তারাই সফললকাম মুজাহিদ বলে গণ্য হবে। এই মাজলুম উম্মতের সাহায্য ঐ সমস্ত মুজাহিদীন দ্বারাই হবে, যারা দাওয়াত ও জিহাদের মাঝে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতীক হবে। জিহাদের দুর্নামকারী হবে না, বরং নিজ প্রতিভার দ্বারা জিহাদের ভালবাসা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট হবে।

সুতরাং আসুন! আমরা আমাদের কাজ দ্বারা তা প্রমাণিত করি যে, মুজাহিদীন এই উম্মতের সংরক্ষণকারী এবং প্রকৃত হিতাকাঙ্খী… আমরা স্বীয় জাতির উপর জুলুম চাপিয়ে দেই না বরং প্রত্যেক জুলুমকে প্রতিহত করি। আমরা মুসলমানের শাসনকর্তা হওয়ার জন্য বের হইনি বরং তাদেরকে তাদের হক বুঝিয়ে দিতে বের হয়েছি। অত:পর …. কেউ যেন আমেরিকানদের হত্যার ব্যাপারে কোন ধরণের শলা-পরামর্শ না করে।

শাইখ উসামা রহ. এর এই নসীহত মনে রাখি, ‘তোমরা আমেরিকানদের মারার ব্যাপারে কাউকে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করবে না।’ সাপের মাথা আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেয়া আমাদের জিহাদের টার্গেট। তাই আসুন! আমাদের জিহাদী আন্দোলনের মাধ্যমে আমেরিকাকে তার প্রাপ্য শাস্তি বুঝিয়ে দিই এবং এই ঘোষনা করে দিই যে, শুধু খোরাসান, উপমহাদেশ, ইয়েমেন, মালি, সোমালিয়া ও শামে নয় বরং পুরো দুনিয়ায় আমরা যে যুদ্ধ করছি, তার গন্তব্যস্থল হলো: বাইতুল মুকাদ্দাস। সাথে সাথে এ ঘোষনাও আমরা করে দিব যে, বাইতুল মুকাদ্দাসের সংরক্ষক এই গাদ্দার শাসকেরা নয়, টাকা-পয়সার গোলাম সেনাপ্রধানরা নয়, উম্মাতে মুসলিমাহর গাদ্দার ও আহলে সুন্নাতকে হত্যাকারী রাফেজীরাও নয়… বরং আমরা মুজাহিদরা-ই তাঁর প্রহরী এবং আমরা জিহাদীরা-ই তাঁর সংরক্ষক ও ওয়ারিশ। আমরা বাইতুল মুকাদ্দাসের জন্যই বাচঁবো, তাঁর জন্যই মরবো এবং তার দিকেই আমাদের জিহাদী সফর বাকী রাখবো। ইনশাআল্লাহ

আল্লাহর কসম করে বলছি, অচিরেই সেই দিন আসছে, যখন উম্মতের এই জিহাদী বাহিনী বিজয়ী বেশে বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করবে। মসজিদুল আকসার উপর কালিমা খচিত পতাকা উড়াবে এবং সেই দিন শুধুমাত্র আল্লাহর দিন বিজয়ী থাকবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেই মুবারক জামাতে শরীক হওয়ার তাওফিক দান করুন… আমাদেরকে এই সময়ে স্বীয় যোগ্যতা ও রক্ত দিয়ে এই জামাতে শরীক হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার ও শক্তি যোগানোর তাওফিক দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

পরিশেষে ফিলিস্তিনের সাধারণ মুসলমান ও মুজাহিদীন ভাইদের কাছে আরজ পেশ করছি, এই মুবারক রণাঙ্গনে আপনাদের অবস্থান, বিভিন্ন মসীবতে জর্জরিত হওয়া এবং মাথানত না করার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা এক মহান ইবাদতই বটে। এই মুবারক জিহাদ ও আন্দোলনকে অব্যাহত রাখা, বাতিলের সামনে মাথানত করা ও শরয়ী অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার রাজনৈতিক পরিণতি আমরা দেখেছি। তাই এখন এ রণাঙ্গনে শুধু আল্লাহর সামনে মাথা নত করা ফলপ্রসু হবে। এখন জিহাদের ঝান্ডা আগের তুলনায় শক্তহাতে ধারণ করতে হবে, যার মাধ্যমে পূর্বপশ্চিমের সকল মুজাহিদীন আপনাদেরকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে সাহায্য ও তাওফিক দান  করুন…! আমিন।

آمین یا رب العالمین، وصلی اللہ تعالی علی خیرخلقہ محمد وآلہ وسلم، والسلام علیکم و رحمۃ اللہ و برکاتہ

Related Articles

Back to top button