Bengali Translation || সবার আগে আমেরিকা!

اداره النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media
پیش کرتے ہیں
পরিবেশিত
Presents
بنگالی ترجمہ
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation
عنوان:
শিরোনাম:
Titled
سب سے پہلے امریکہ
সবার আগে আমেরিকা!
America first!
الشیخ الشہید احسن عزیز رحمه الله
শায়খ শহীদ আহসান আজিজ রহিমাহুল্লাহ
Shayokh Shahid Ahsan Ajij Rahimahullah
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوكل عليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلله فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله. ربّ اشرح لي صدري ويسّر لي أمري واحلل عقدة من لساني يفقهوا قولي، أما بعد!
“পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
যাবতীয় প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল করি। আমরা আমাদের নফসের যাবতীয় অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের সব ধরনের মন্দ পরিণতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হেদায়াত দেওয়ারও কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।”
হামদ ও সালাতের পর!
খুব বেশি দূরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ইতিহাসের পাতা উল্টে খুব গভীর ও দীর্ঘ পর্যালোচনারও দরকার আমাদের নেই। বরং এই তো কিছুদিন আগে গাজায় শুরু হওয়া নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকেই আমরা ইতিহাস দেখা শুরু করি। একটু ভেবে দেখুন তো, কত শত মানুষকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে! কত মানুষ আহত হয়েছে! কত মানুষের ওপর কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিয়ে তাদের তিলে তিলে মারা হয়েছে! এমনকি কত অনাগত শিশুকে এই পৃথিবীতে চোখ মেলার আগেই মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় স্নাইপারের নিশানা বানিয়ে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে!
গোটা মানবজাতি আজ এই মর্মান্তিক বাস্তবতার বিষয়ে খুব ভালো করেই অবগত। সৃষ্টির ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও অভিশপ্ত জাতি ইহুদীদের হাতেই এই পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে। এই ইহুদীরা আজ নবীদের পুণ্যভূমি, সেই পবিত্র ভূখণ্ডের ওপর ‘ইসরাঈল’ নামক একটি ইহুদী রাষ্ট্রের আবরণে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। কিংবা বলা যায়, আজ থেকে এক শতাব্দী আগেই তাদের সেখানে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসরাঈল মূলত ব্রিটেনের এক অবৈধ সন্তান। এটি ব্রিটেনের সেই জারজ সন্তান, যাকে ব্রিটিশদেরই বর্বরতার গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ‘আমেরিকা’ দত্তক নিয়েছে। তারা তাকে পরম যত্নে লালন-পালন করেছে এবং এই অবৈধ ও আদুরে সন্তানের সব আবদার মিটিয়ে তাকে বড় করে তুলেছে। এই বখে যাওয়া অবৈধ সন্তানকে দুনিয়ার যাবতীয় ভোগ-বিলাসিতা ও অর্থকড়ি থেকে শুরু করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সর্বোপরি সামরিক সহায়তার মাধ্যমে এক ভয়ংকর ও বেপরোয়া দানবে পরিণত করেছে।
আমেরিকার সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো এই ইসরাঈলের পৃষ্ঠপোষণ করা। তবে এটাই আমেরিকার একমাত্র অপরাধ নয়, বরং তাদের অপরাধের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ।
আসুন, এই লেখায় আমরা দুটি মৌলিক বিষয় বোঝার চেষ্টা করি। প্রথমত, শুধু মুসলিম উম্মাহ নয়, শুধু মানবজাতি নয়, বরং এই গোটা পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রতিবেশের সবচেয়ে বড় শত্রু আজ কে? আর দ্বিতীয়ত, এই শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের করণীয় কী?
এই চরম শত্রুর নাম হলো ‘আমেরিকা’। আমরা বলি যে, ‘সবার আগে আমেরিকা!’ অর্থাৎ, আমাদের প্রতিটি সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, দাওয়াতি এবং প্রচারণামূলক আঘাতের প্রথম লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত আমেরিকা। আমরা যখন এই কথাটি বলি, তখন এর পেছনে বেশ কিছু অকাট্য যুক্তি ও দলীল রয়েছে।
আমেরিকা হলো ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ তথা আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার মূল হোতা। তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য গোটা বিশ্বের ভৌগোলিক সীমানাকে সামরিকভাবে ছয়টি কমান্ড বা অঞ্চলে ভাগ করে রেখেছে:
- ১. AFRICOM: আফ্রিকান কমান্ড (আফ্রিকা মহাদেশের জন্য)।
- ২. CENTCOM: সেন্ট্রাল কমান্ড (মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলের জন্য)।
- ৩. EUCOM: ইউরোপিয়ান কমান্ড।
- ৪. INDOPACOM: ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড (ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য)।
- ৫. NORTHCOM: নর্দান কমান্ড (উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ও খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য)।
- ৬. SOUTHCOM: সাউদার্ন কমান্ড (মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের জন্য)।
শুধু তা-ই নয়, মহাকাশ অর্থাৎ স্পেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যও আমেরিকার একটি স্বতন্ত্র কমান্ড রয়েছে। যার নাম:
- ৭. SPACECOM: স্পেস কমান্ড বা মহাকাশ কমান্ড। মনে রাখবেন, এটি একটি রীতিমতো সশস্ত্র সামরিক কমান্ড। কেউ যেন একে নিছক কোনো সাধারণ মহাকাশ গবেষণা মিশন মনে করার ভুল না করে!
এই সাতটি কমান্ডের বাইরেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও চারটি বিশেষ কমান্ড রয়েছে:
- ৮. CYBERCOM: সাইবার কমান্ড (তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার জগতের জন্য)।
- ৯. SOCOM: স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য)।
- ১০. TRANSCOM: ট্রান্সকম বা সামরিক পরিবহন ও লজিস্টিক কমান্ড।
- ১১. STRATCOM: স্ট্র্যাটকম বা কৌশলগত, পারমাণবিক শক্তি এবং বিশ্বব্যাপী হামলা পরিচালনার কমান্ড।
মূলত এই কমান্ডগুলোর মাধ্যমেই আমেরিকা গোটা বিশ্বকে নিজেদের ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখে। আর মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ভূখণ্ডকে তারা তাদের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এবং আফ্রিকান কমান্ডের (AFRICOM) মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। কিংবা বলা যায়, এই কমান্ডগুলোর মাধ্যমেই তারা মুসলিম দেশগুলোতে তাদের বর্বরতা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে।
বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে খ্রিস্টান ও ইহুদীদের সম্মিলিত যে আন্তর্জাতিক ক্রুসেডার-জায়নিস্ট যুদ্ধ চলছে, আমেরিকা হলো সেই যুদ্ধের মূল হোতা বা নেতৃত্বদানকারী। তারা সবসময়ই প্রকাশ্যে ও গোপনে জায়নিস্ট রাষ্ট্র ইসরাঈলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। আজ থেকে আড়াই দশক আগে এই আমেরিকারই প্রেসিডেন্ট মুসলিম বিশ্বের ওপর ‘ক্রুসেড’ বা ধর্মযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ঘোষণার মাধ্যমে ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নামের যে আগ্রাসন সে শুরু করেছিল, তা এই লেখাটি প্রস্তুত করার সময় পর্যন্ত তো চলছেই, বরং সময়ের সাথে সাথে এর তীব্রতা আরও বহুগুণ বেড়েছে।
‘গ্রেটার ইসরাঈল’ বা বৃহত্তর ইসরাঈল প্রতিষ্ঠার যে জায়নিস্ট ব্লু-প্রিন্ট রয়েছে, কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো বা গোপনে তারও সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ও মদদদাতা হলো এই আমেরিকা। এই বৃহত্তর ইসরাঈল এমন এক ভয়ংকর পরিকল্পনা, যার মানচিত্র অনুযায়ী আল-কুদস বা জেরুজালেম, মক্কা-মদীনা এবং তুর পাহাড়ের মতো পবিত্র স্থানগুলোও ইসরাঈল রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত!
আমেরিকার সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হলো, তারা গোটা মুসলিম বিশ্বে সুপরিকল্পিতভাবে ‘তাহরিকে ইরতিদাদ’ অর্থাৎ ধর্মান্তরকরণের এক বিশ্বব্যাপী আন্দোলন উসকে দিয়েছে। আজ পুরো মুসলিম বিশ্বেই এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি, গণমাধ্যম, সমাজ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আইন প্রণয়ন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা থাবা বসিয়েছে। এককথায় বলতে গেলে, মুসলিম বিশ্বের এমন কোনো খাত বাকি নেই, যেখানে ফাসাদ বা বিপর্যয় এবং ইলহাদ বা নাস্তিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিষাক্ত ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রাখেনি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় খ্রিস্টবাদের প্রসার ঘটানো এবং সেখান থেকে একটি অংশ কেটে নিয়ে ‘পূর্ব তিমুর’ নামে একটি ক্রুসেডার রাষ্ট্র কায়েম করার পুরো কৃতিত্বও এই আমেরিকা ও তার ক্রুসেডার দোসরদের। একইভাবে মুসলিম ভূখণ্ড সুদানকে দ্বিখণ্ডিত করে ‘দক্ষিণ সুদান’ নামে আরেকটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনেও কলকাঠি নেড়েছে এই আমেরিকা এবং তাদের মিত্ররা।
গোটা দুনিয়াকে সুদি অর্থনীতির মরণ ফাঁদে আটকে ফেলা, পুঁজিবাদী সভ্যতার প্রসার ঘটানো এবং মুসলিম সমাজগুলোকে লোভ-লালসা ও ভোগবাদের উন্মুক্ত বাজারে পরিণত করা আমেরিকার একটি স্থায়ী লক্ষ্য। আর তাদের এই বহুমুখী লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকান ওয়ার্ল্ড অর্ডারের অধীনে সবচেয়ে কার্যকর ‘সংগঠন’ হিসেবে কাজ করছে জাতিসংঘ নামের প্রতিষ্ঠানটি। মূলত এটিই হলো ভবিষ্যতের ‘গ্লোবাল দাজ্জালি হুকুমত’ বা বিশ্বব্যাপী দাজ্জালের রাজত্বের অগ্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানটি এমনভাবে তার থাবা বিস্তার করে রেখেছে যে, আপনার ফসলের মাঠে বোনা গমের হাইব্রিড বীজ থেকে শুরু করে আপনার সন্তানের ওষুধপত্র, শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি অনুষঙ্গ আজ তাদের কবজায় বন্দী। এই জাতিসংঘ এমন এক আখড়া, যেখানে আমেরিকার পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনের প্রকাশ্য দাদাগিরি প্রতিষ্ঠিত। এই জাতিসংঘের চার্টার বা সনদ অনুযায়ী, ইসলামী শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জিহাদের বিধান কায়েম করা এক আন্তর্জাতিক অপরাধ!
দুনিয়ার সমস্ত ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির কাছে অস্ত্র বিক্রি করা অথবা তাদের অন্যান্য সেবার বিনিময়ে অস্ত্র সরবরাহ করার পুরো ঠিকাদারি আমেরিকা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। আর এই অস্ত্র ব্যবসাই হলো মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
এই আমেরিকাই আজ বিশ্বের অধিকাংশ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দখলদারিত্ব কায়েম করে রেখেছে। কখনো সরাসরি, আবার কখনো তাদের হাতের পুতুল শাসকদের মাধ্যমে তারা এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। খনিজ তেল থেকে শুরু করে মহাসাগরের জলরাশি এবং সুবিশাল বরফখণ্ড পর্যন্ত সবকিছুই আজ আমেরিকা বা তাদের দোসরদের কুক্ষিগত। এমনকি, যেমনটা আমরা আগেই আলোচনা করেছি, আমেরিকা মহাকাশেও তাদের এই মোড়লগিরি ও আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে!
এই আমেরিকাই মুসলিম দেশগুলো থেকে বাছাই করা সামরিক কর্মকর্তাদের নিজেদের দেশে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়। তাদের দৃষ্টিতে যারা ‘যোগ্য’ অফিসার, তাদের তারা নানাভাবে পুরস্কৃত করে। বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কর্মরত আন্তর্জাতিক গোপন ইহুদী সংগঠন ‘ফ্রিম্যাসন’ কিংবা অন্যান্য গোপন সংগঠনের সদস্য হিসেবে কাউকে কাউকে তারা অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। আবার কাউকে সরাসরি নিজেদের অনুগত করে পুনরায় মুসলিম বিশ্বের সেনাবাহিনীগুলোতে ফেরত পাঠায়। এরপর ঘুষ, প্রলোভন ও কামনার এক জঘন্য মনোপলি অর্থাৎ একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়ে এসব মগজধোলাই হওয়া অফিসারদের সেনাপ্রধানের মতো সর্বোচ্চ পদগুলোতে বসিয়ে দেয়।
ঠিক একই ধরনের প্রশিক্ষণ আমেরিকা মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, আইনজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকদেরও দিয়ে থাকে। জিহাদ, শরীয়ত বাস্তবায়ন, ইকামতে দ্বীন, ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ‘খাইরু উম্মাহ’ তথা শ্রেষ্ঠ উম্মতের মতো মহান চেতনাগুলো তারা সুকৌশলে এসব মানুষের মগজ থেকে মুছে ফেলে। আর এর বদলে তাদের মগজে ঢুকিয়ে দেয় আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতন্ত্র, সুদভিত্তিক পুঁজিবাদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মতো পশ্চিমা ধ্যানধারণা।
এই বৈশ্বিক আমেরিকান ব্যবস্থাই আমাদের মেয়েদের আধুনিক জাহেলি মতবাদ ‘ফেমিনিজম’ বা নারীবাদের সবক দিয়ে ‘মালালা’ ও ‘বার্বি’ বানানোর পাঁয়তারা করছে। আর আমাদের সুদৃঢ় পারিবারিক ব্যবস্থাকে ‘পিতৃতন্ত্র’ বা প্যাট্রিয়ার্কি আখ্যা দিয়ে তা ভেঙে চুরমার করার জন্য তারা দিন-রাত এক করে ফেলছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু নারীকে ঘর থেকে বের করা নয়; বরং নারীকে তার প্রকৃত কর্মক্ষেত্র থেকে বের করে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। একজন নারীকে তার মাহরাম আত্মীয়দের স্নেহময় অভিভাবকত্ব থেকে বঞ্চিত করে তারা তাকে বাজারের পণ্য ও আসরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত করছে। আর এভাবেই গোটা মানবীয় জীবন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার কাজে এই আমেরিকা সার্বক্ষণিক লিপ্ত রয়েছে।
এই আমেরিকাই তো আমাদের শিশুদের ‘সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী’! তাদের এই ‘শুভাকাঙ্ক্ষার’ নমুনা হলো, একদিকে তারা আজ গাজায় নিজেদের দেওয়া বোমা ও মিসাইল দিয়ে ইসরাঈলের মাধ্যমে হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুকে জবাই করছে। বিগতকাল এই আমেরিকাই ইরাকের ওপর অবরোধ আরোপ করে সেখানকার শিশুদের জ্বর ও কাশির সামান্য ওষুধটুকু থেকেও বঞ্চিত করেছিল। এর ফলে দশ লাখেরও বেশি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। আফগানিস্তানের শিশুদের ওপর তারা ‘ডেইজি কাটার’ বোমা নিক্ষেপ করেছিল। এটি এমন এক ধরনের বিধ্বংসী বোমা, যা ব্যাপক এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। আর এই বোমা মেরেই তারা আফগান শিশুদের চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছিল।
এই সেই আমেরিকা, যাদের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা পারমাণবিক বোমার বিষাক্ত প্রভাবে আজও সেখানে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে। হ্যাঁ, এই আমেরিকাই আমাদের শিশুদের এত বড় ‘দরদী’ যে, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অধিকার রক্ষার ধুয়া তুলে তারা বিশ্বব্যাপী বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা খুলে বসেছে! (কী নিদারুণ পরিহাস!)
আমেরিকার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এনজিওগুলো আজ বিশ্ব জুড়ে অশ্লীলতা, নগ্নতা ও বেহায়াপনার প্রসার ঘটাচ্ছে। খুব বেশি দূরের কথা নয়, এমনকি এটি কোনো ভ্যালেন্টাইনস ডের ঘটনাও নয়। গত বছর আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে যখন ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানল, তখন এই তথাকথিত ‘ত্রাণ ও দাতব্য’ সংস্থাগুলোকে দেখা গেছে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে পাইকারি হারে জন্মনিরোধক সামগ্রী বিতরণ করতে!
বিশ্ব জুড়ে পর্নোগ্রাফি তথা অশ্লীল চলচ্চিত্রের যে বিশাল ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে, তার সবচেয়ে বড় ‘দালাল’ বা রূপকার হলো এই আমেরিকা। আর দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত পর্ন কোম্পানিগুলোর মালিক হলো আমেরিকান ইহুদীরা।
বিশ্বের সবচেয়ে সুসংগঠিত মাদক সরবরাহকারীও এই আমেরিকা। হেরোইন থেকে শুরু করে মারিজুয়ানা, কোকেন এবং আইসের মতো ভয়ংকর সব মাদক তারা তরুণ সমাজের হাতে তুলে দিচ্ছে। এসব মরণ নেশাকে ‘ফ্যাশন’ হিসেবে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় করার পেছনে আর কারও নয়, খোদ আমেরিকারই হাত রয়েছে।
আজ হারামাইন শরীফাইন তথা মক্কা ও মদীনাকে সামরিকভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে। হারামের পবিত্র সীমানার আশেপাশে নর্তকী-গায়িকাদের এনে বসানো থেকে শুরু করে মসজিদে আকসা দখল করা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে আমেরিকার নগ্ন আধিপত্য চলছে। দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন কোনো মানুষ কি আজ তা অস্বীকার করতে পারবে? সৌদি শাসকরা আজ ইসরাঈলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ বা ‘নরমালাইজেশন’-এর যে নির্লজ্জ খেলায় মেতে উঠেছে এবং আমিরাতের যেসব শাসক ইতোমধ্যে ইসরাঈলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেছে, এই সবকিছুর পেছনে মূলত আমেরিকারই ইশারা কাজ করছে।
সুদানসহ আফ্রিকার অন্য দেশগুলোতে আজ খনিজ সম্পদ লুটের যে মহোৎসব সংযুক্ত আরব আমিরাত চালিয়ে যাচ্ছে, তার পেছনেও তারা সরাসরি আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা ও আশীর্বাদ লাভ করছে।
এই আমেরিকাই বিশ্ব জুড়ে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে মহান আল্লাহ তাআলার পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান সত্তা, আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র ও নিষ্কলুষ সত্তার শানে অবমাননা ও ধৃষ্টতা প্রদর্শনের রীতি চালু করেছে। এই গালমন্দকারী ও অবমাননাকারীদের তারা নিজেদের দেশে বা মিত্র দেশগুলোতে আশ্রয় দিয়েছে। আর ‘বাকস্বাধীনতার’ দোহাই দিয়ে এই কুলাঙ্গারদের নিরাপত্তা বিধান করাকে তারা নিজেদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করে।
গুয়ানতানামো বে-এর মতো ভয়ংকর খাঁচাগুলো এই আমেরিকাই আলেম-উলামা, দ্বীনের দাঈ এবং মুজাহিদদের দিয়ে ভর্তি করেছে। ড. আফিয়া সিদ্দীকী আজ এই আমেরিকারই টেক্সাসের কারাগারে চরম জুলুমের শিকার হয়ে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। বাগরাম থেকে শুরু করে আবু গারিব পর্যন্ত কুখ্যাত সব কারাগার এই আমেরিকাই ‘সাজিয়েছিল’। আজ থেকে আড়াই দশক আগে আফগানিস্তানে হাজার হাজার আরব, আফগান ও পাকিস্তানি মুজাহিদকে কন্টেইনারের ভেতর আটকে শ্বাসরোধ করে শহীদ করা হয়েছিল। আর বাকিদের ‘দাশতে লাইলির’ মরুভূমিতে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, দাশতে লাইলি হলো উত্তর আফগানিস্তানের একটি প্রান্তর, যেখানে বন্দী মুজাহিদদের গণকবর দেওয়া হয়েছিল। এই পুরো পৈশাচিক প্রক্রিয়ার পৃষ্ঠপোষক ছিল খোদ আমেরিকা। এই আমেরিকারই ইশারা ও মদদে পাকিস্তানের শাহিওয়াল থেকে আদিয়ালা এবং সৌদি আরবের ‘সিজনুল হাইর’-এর মতো ভয়ংকর সব নির্যাতন কেন্দ্র বা টর্চার সেল গড়ে উঠেছে।
এই আমেরিকাই অতীতে আফগানিস্তানের ইসলামী ইমারতের পতন ঘটিয়েছিল। সোমালিয়ায় তারা নিজেদের লেজুড় বৃত্তিকারী পুতুল শাসকদের সরকার কায়েম করেছে। সিরিয়ার পবিত্র ভূমিতে দ্বীন ও জিহাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে সেখানে একটি আমেরিকাপন্থী সরকার বসিয়েছে। আর এখন সাহেল অঞ্চলের দেশ মালিতে মুজাহিদদের একের পর এক বিজয়ের দিকে তারা ‘গভীর নজর’ রাখছে।
এরপর এই আমেরিকাই আজ আবারও মুসলিম বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র ‘ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান’-এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন এক আঙ্গিকে যুদ্ধ শুরু করেছে। আমীরুল মুমিনীন শায়খ হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা (হাফিযাহুল্লাহ)-এর মতো একজন ন্যায়পরায়ণ শাসককে, যাঁকে অন্তত আমরা এমনই মনে করি, তারা কেবল শরীয়ত বাস্তবায়নের ‘অপরাধে’ ‘আন্তর্জাতিক অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। শুধু তা-ই নয়, খোদ আমেরিকার পক্ষ থেকেই আজ আফগানিস্তানের আকাশসীমা মার্কিন ড্রোন দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে।
আফগানিস্তানের মাটিতে অতীতের ‘নর্দার্ন অ্যালায়েন্স’ বা উত্তরাঞ্চলীয় জোটের অবশিষ্টাংশ এবং বর্তমানের ‘জাবহাতুশ শার ওয়াল ফাসাদ’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষকও এই আমেরিকা। উল্লেখ্য, এই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদেরকেই তারা ‘জাবহায়ে আযাদি ও মুকাওয়ামাত’ বা জাতীয় প্রতিরোধ ফ্রন্ট বলে দাবি করে থাকে। তারা বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরায় দখল করার পাশাপাশি ইমারতে ইসলামিয়াকে অস্থিতিশীল করার দুঃস্বপ্ন দেখছে। আর নিজেদের এই হীন লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা সব ধরনের অর্থনৈতিক, গোয়েন্দা, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
এই হলো সেই আমেরিকা, যাদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে গোটা বিশ্বের সমস্ত বাতিল ব্যবস্থা টিকে আছে। এই আমেরিকাই হলো সেই কাঁটাযুক্ত ও তেতো ফলদায়ক বৃক্ষের মূল শেকড় এবং কাণ্ড। শায়খ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভাষায় একে ‘শাজারাতুন খাবিছাহ’ তথা অপবিত্র বৃক্ষের শেকড় ও কাণ্ড বলা যায়। আর এই খবিশ বৃক্ষের ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা হলো সেই সব তাগুতি ব্যবস্থা, যা কোথাও তিউনিসিয়া ও তুরস্কের মতো ‘গণতন্ত্র’ হিসেবে, কোথাও পাকিস্তানের মতো ‘সামরিক-বেসামরিক হাইব্রিড ব্যবস্থা’ হিসেবে, মিসরে ‘স্বৈরতন্ত্র’ হিসেবে এবং বাকি আরব বিশ্বে ‘রাজতন্ত্র’ হিসেবে আমাদের সামনে দৃশ্যমান।
যদি এই খবিশ বৃক্ষের শেকড়েই সরাসরি আঘাত করা যায়, তবে এর ডালপালাগুলোকে খুব অল্প পরিশ্রমে দ্রুত ধ্বংস করা সম্ভব হবে। হ্যাঁ, তবে যেসব ডালপালা এই শেকড়ে আঘাত হানার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ জায়গাতেই লড়াই করাটাও অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা ও শরীয়ত বাস্তবায়নের জন্য অপরিহার্য।
আজকের দিনের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো ফরযে আইন জিহাদের এই ডাকে লাব্বাইক বলে সাড়া দেওয়া। আন্দালুস অর্থাৎ স্পেন পতনের পর থেকেই এই জিহাদ আমাদের ওপর ফরযে আইন হয়ে আছে। আর এখন এর সমস্ত শর্তাবলি পূরণ হওয়ার পাশাপাশি, বিশেষ করে গাজায় চলমান নির্মম হত্যাযজ্ঞের কারণে গোটা বিশ্বের মুসলমানের ওপর এটি আরও জোরালোভাবে অবধারিত হয়ে পড়েছে। যেহেতু জিহাদ একটি সামষ্টিক ফরয বিধান, তাই নিজের জায়গায় বসে বসে একাকী এই ফরয আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সুতরাং, কালক্ষেপণ না করে জিহাদের ময়দানগুলোর দিকে ছুটে যেতে হবে। আর যারা সরাসরি জিহাদের ময়দানে পৌঁছাতে সক্ষম নয়, তারা যেন মুজাহিদদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। তারা যেন মুজাহিদদের বর্তমান কাফেলাগুলোর অংশ হয়ে সেই ইহুদী বৃক্ষ, সেই গারকাদ গাছ তথা সেই খবিশ বৃক্ষের ওপর আঘাত হানে, যার শেকড় হলো আমেরিকা আর প্রাণভোমরা হলো ইসরাঈল। কারণ, আমেরিকা ছাড়া ইসরাঈল একটি অচল অঙ্গ বৈ আর কিছুই নয়। গাজায় চলমান এই হত্যাযজ্ঞ থামানোর আসল, প্রকৃত ও কার্যকর উপায় এবং সত্যি বলতে আখিরাতে আল্লাহর পাকড়াও থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ!
অমর বাণী ও বার্তার অধিকারী, ইসলামের মহান শহীদ এবং কুদসের মুজাহিদদের সিপাহসালার আবু খালিদ মুহাম্মাদ আদ-দাইফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সেই অবিস্মরণীয় কথাগুলো আমরা এখানে উদ্ধৃত করার সৌভাগ্য অর্জন করছি:
“হে জর্ডান, লেবানন, মিসর, আলজেরিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সমগ্র আরব ও মুসলিম বিশ্বে বসবাসকারী আমাদের ভাইয়েরা!
আজই বেরিয়ে পড়ুন এবং ফিলিস্তিনের দিকে যাত্রা শুরু করুন। আগামীকাল নয়, বরং আজ এবং এখনই! আজই রওনা হয়ে যান! এই কৃত্রিম সীমান্ত, এই তাগুতি সরকারগুলো এবং তাদের চাপিয়ে দেওয়া কোনো নিষেধাজ্ঞাই যেন আপনাদেরকে জিহাদে অংশগ্রহণের এবং মসজিদে আকসা পুনরুদ্ধারের মহান মর্যাদা অর্জন থেকে বঞ্চিত করতে না পারে!
اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّثِقَالًا وَّجَاهِدُوْا بِاَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
‘তোমরা বেরিয়ে পড়ো, হালকা অবস্থায় হোক বা ভারী অবস্থায়, এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারো।’ (সূরা তাওবা, ০৯:৪১)
জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়ার সেই দিনটি হলো আজই। সুতরাং, যার কাছে বন্দুক আছে, সে তা নিয়েই বেরিয়ে পড়ুক; কারণ এটাই তার উপযুক্ত সময়। আর যার কাছে কোনো বন্দুক নেই, সে তার খঞ্জর, চাকু, হাতুড়ি আর কুড়াল নিয়েই বেরিয়ে পড়ুক। অথবা নিজের হাতে বানানো দেশি বোমা, নিজের ট্রাক, বুলডোজার বা গাড়ি নিয়েই বেরিয়ে পড়ুক… কারণ জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়ার সেই দিনটি হলো আজই!
ইতিহাস আজ তার সবচেয়ে উজ্জ্বল, অনন্য এবং সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ পাতাগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কে আছে এমন, যে আলো ও সৌভাগ্যের এই পাতাগুলোতে নিজের, নিজের পরিবারের এবং নিজের অঞ্চলের নাম লিখিয়ে নেবে?
হে আমাদের উম্মাহর সন্তানেরা! হে গোটা বিশ্বের স্বাধীন মুক্ত মানুষেরা! …যেসব সরকার দখলদার ইসরাঈলের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখে ইসরাঈলের অপরাধগুলো ধামাচাপা দিয়েছে এবং নিজেরাই সেই অপরাধের অংশীদার হয়েছে, আপনারা তাদের পথ রুখে দাঁড়ান!
আজকের দিনটি হলো এক মহান বিপ্লবের দিন। এই পৃথিবীতে টিকে থাকা সর্বশেষ দখলদারিত্ব এবং বর্ণবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সর্বশেষ ব্যবস্থাকে সমূলে উৎপাটিত করার জন্য গর্জে ওঠার দিন হলো আজই!”[1]
কাজেই, ইসরাঈল ও আমেরিকার মাঝে এমন কোনো পার্থক্য বা বিভাজন রেখা টানা আমাদের জন্য চরম বোকামি হবে, যে পার্থক্যের কথা খোদ আমেরিকা বা ইসরাঈল কেউই বিশ্বাস করে না! তাই আমাদের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো জান, মাল, কথা ও কাজের মাধ্যমে সেই মহান জিহাদের অংশ হওয়া। এই জিহাদের দুনিয়াবি ফলাফল হলো মুসলমানদের বিজয় এবং আখিরাতের প্রতিদান হলো জান্নাত। আর সেই জান্নাতে আল্লাহ তাআলা কেবল মুজাহিদদের জন্যই একশটি বিশেষ মর্যাদা ও স্তর প্রস্তুত করে রেখেছেন!
বিশ্ব জুড়ে ইসলামের বিজয়ের পথে প্রধান বাধা হলো এই ইসলাম বিদ্বেষী আমেরিকা। যতদিন পর্যন্ত তাদের দম্ভ ও শক্তিকে চূর্ণ না করা হচ্ছে এবং যতদিন পর্যন্ত এই কুফরী সভ্যতার ইমামদের ও তাদের পলিসি বাস্তবায়নকারী শীর্ষ অপরাধীদের পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় কোণায় লক্ষ্যবস্তু না বানানো হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো একটি ভূখণ্ড বা দেশেও ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিজয় ও তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়!
কুফরী সভ্যতার বিশ্বব্যাপী পরাজয় ছাড়া ইসলামের বিশ্বব্যাপী বিজয় একেবারেই অসম্ভব। ইসলামের এই বিজয় এবং কুফরের পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব জুড়ে আমেরিকা ও ইসরাঈলের বিভিন্ন স্থাপনা ও তাদের বাছাইকৃত প্রতিনিধিদের নিশানা বানানোর যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে এক বিশাল ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্রুসেডার ও জায়নিস্টের ক্ষেত্রেও এই পরিকল্পনা প্রযোজ্য। নাইন-ইলেভেন (৯/১১) থেকে শুরু করে তুফানুল আকসা তথা ৭ই অক্টোবরের অভিযান পর্যন্ত পরিচালিত সমস্ত অভিযান মূলত এই বৈশ্বিক জিহাদি আন্দোলনেরই একেকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সোমালিয়া, ইয়েমেন, আলজেরিয়া, মালি, চেচনিয়া, পাকিস্তান, কাশ্মীর, বাংলাদেশ, হিন্দুস্তান এবং সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে চলমান জিহাদও এই বিশ্বব্যাপী অভিযানেরই অংশ।
আমাদের এই কথাটি খুব ভালোভাবে মনে রাখতে হবে যে, যতদিন পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি অলিগলি এবং প্রতিটি প্রণালিতে এই ক্রুসেডার-জায়নিস্ট দখলদারদের শ্বাসরোধ না করা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত কোনো মুসলিম ভূখণ্ডই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে না। আর কোনো মুসলিম ভূখণ্ডে ইসলামের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। এখানে পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন বলতে এমন এক ইসলামী ব্যবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে আল্লাহর হুদুদ তথা দণ্ডবিধি কার্যকর থাকবে, নামায ও যাকাতভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ফরয বিধান আদায় করা হবে। পাশাপাশি এর অর্থনীতি হবে সম্পূর্ণ ইসলামী এবং সেখানে শুরাভিত্তিক আমীর নির্বাচনের ইসলামী পদ্ধতি চালু থাকবে। সেই ব্যবস্থায় কোনো গণতন্ত্র কিংবা সুদভিত্তিক ডলার-অর্থনীতির অস্তিত্ব থাকবে না এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নারীবাদের কোনো দুর্গন্ধও থাকবে না। যতদিন পর্যন্ত ক্রুসেডারদের প্রধান হোতা আমেরিকাকে তার নিজের ‘হোমল্যান্ড’ বা নিজ ভূখণ্ডের ভেতরে বন্দী করে না ফেলা হচ্ছে, ততদিন শুধু মুসলিম বিশ্বই নয়, বরং গোটা মানবজাতিই দুঃখ-দুর্দশায় জর্জরিত থাকবে।
মুসলিম বিশ্বের যেকোনো ভূখণ্ডের কোনো মুসলমান যদি এই অলীক কল্পনায় ভুগে থাকেন যে, আমেরিকা এবং তার দোসররা কোনো ধরনের জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়াই তাদের জান ও ঈমানকে এমনিতেই ফুলে-ফেঁপে উঠতে দেবে, তবে তার উচিত নিজের মগজ থেকে এই ভ্রান্ত ধারণা চিরতরে মুছে ফেলা:
اِنَّهُمْ اِنْ يَّظْهَرُوْا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوْكُمْ اَوْ يُعِيْدُوْكُمْ فِيْ مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوْۤا اِذًا اَبَدًا (سورۃ الکھف: ۲۰)
অর্থ: “তারা যদি তোমাদের ওপর আধিপত্য পেয়ে যায়, তবে তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। আর তখন তোমরা কখনোই সফলকাম হতে পারবে না।” (সূরা কাহাফ, ১৮:২০)
سب سے بڑا جو دشمن اُس سے سب سے پہلے جنگ
پوری ملتِ ایماں جس کے کرتوتوں سے تنگ
غزّہ تا کابل جب ایک ہے پانی خون کا رنگ
طاغوتِ اکبر سے لڑنے میں ہوں ہم آہنگ
سارے جھگڑے چھوڑ کے پہلے یہ نمٹائیں ہم
امریکہ کے ایوانوں میں آگ لگائیں ہم
اسرائیل کا آج تلک ہے کون بھلا رکھوالا
انگریزوں کی اس اولاد کو امریکہ نے پالا
ان کی صف میں جو ہے وہ دوزخ میں جانے والا
مِلّت کے غداروں کا ہے، تن، من، دھن سب کالا
تفریقِ حق و باطل سب کو سمجھائیں ہم
امریکہ کے ایوانوں میں آگ لگائیں ہم
جاگیں خود اور کُل امت کو ساتھ ملائیں ہم
کچلیں ان کی توپیں، ان کے ٹینک اڑائیں ہم
گستاخوں کی لاشیں ان کے گھر پہنچائیں ہم
ہر مسلم خطے سے اُن کو مار بھگائیں ہم
عالَم میں اسلام کا پرچم پھر لہرائیں ہم
امریکہ کے ایوانوں میں آگ لگائیں ہم
“যে সবচেয়ে বড় শত্রু, তার সাথেই হোক প্রথম লড়াই,
যার অপকর্মে আজ গোটা ঈমানি উম্মাহ অতিষ্ঠ ও দিশেহারা।
গাজা থেকে কাবুল পর্যন্ত যখন রক্ত আর পানির রং এক হয়ে গেছে,
তখন সেই সবচেয়ে বড় তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা যেন একতাবদ্ধ হই।
সব ভেদাভেদ ভুলে আগে এই ফয়সালা করি আমরা,
চলো, আমেরিকার প্রাসাদগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দিই।
আজ পর্যন্ত ইসরাঈলের রক্ষক কে ছিল?
ইংরেজদের এই জারজ সন্তানকে তো আমেরিকাই লালন-পালন করেছে।
যারা তাদের কাতারে দাঁড়াবে, তারা নিশ্চিত জাহান্নামি,
উম্মাহর গাদ্দারদের শরীর, মন ও সম্পদ সবই কলঙ্কিত।
হক ও বাতিলের এই পার্থক্য সবাইকে বুঝিয়ে দিই আমরা,
চলো, আমেরিকার প্রাসাদগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দিই।
নিজে জাগি এবং গোটা উম্মাহকে সাথে মেলাই আমরা,
তাদের কামানগুলো পিষে ফেলি, তাদের ট্যাংকগুলো উড়িয়ে দিই।
রাসূলের অবমাননাকারীদের লাশ তাদের ঘরে পৌঁছে দিই আমরা,
প্রতিটি মুসলিম ভূখণ্ড থেকে তাদের তাড়িয়ে দিই।
বিশ্ব জুড়ে ইসলামের পতাকা আবারও উড্ডীন করি আমরা,
চলো, আমেরিকার প্রাসাদগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দিই।”
আজকের এই ক্রুসেড যুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালা করার জন্য বিশ্ব জুড়ে দখলদার আমেরিকান ক্রুসেডার এবং তাদের দোসরদের ঘেরাও করা, ধরা ও হত্যা করা যেমন অপরিহার্য, ঠিক তেমনি আরও একটি বিষয় সমপরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো, এই লক্ষ্যে পরিচালিত যেকোনো অভিযান এবং তার সীমারেখা সম্পর্কে জিহাদের আলেমদের কাছ থেকে ফতোয়া গ্রহণ করা। পাশাপাশি মুজাহিদদের ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ তথা শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও শুরা পরিষদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নেওয়া এবং জিহাদের কল্যাণ-অকল্যাণ তথা মাসালিহ ও মাফাসিদ সামনে রাখা প্রতিটি মুজাহিদ এবং প্রতিটি জিহাদি দল ও জামাতের ওপর শরীয়তসম্মত এক অবশ্য কর্তব্য!
اللهم اهدنا فيمن هديت وعافنا فيمن عافيت وتولنا فيمن توليت وبارك لنا فيما أعطيت وقنا شر ما قضيت إنك تقضي ولا يقضى عليك وإنه لا يذل من واليت ولا يعز من عاديت تباركت ربنا وتعاليت!
اللهم وفقنا لما تحب وترضى وخذ من دمائنا حتى ترضى. اللهم اهدنا لما اختلف فيه من الحق بإذنك. اللهم زدنا ولا تنقصنا وأكرمنا ولا تهنّا وأعطنا ولا تحرمنا وآثرنا ولا تؤثر علينا وارضنا وارض عنا. اللهم إنّا نسئلك الثّبات في الأمر ونسئلك عزيمة الرشد ونسئلك شكر نعمتك وحسن عبادتك. اللهم انصر من نصر دين محمد صلى الله عليه وسلم واجعلنا منهم واخذل من خذل دين محمد صلى الله عليه وسلم ولا تجعلنا منهم، آمين يا ربّ العالمين!
“হে আল্লাহ! আপনি যাদের হেদায়াত দিয়েছেন, তাদের সাথে আমাদেরও হেদায়াত দিন। আপনি যাদের নিরাপত্তা দিয়েছেন, তাদের সাথে আমাদেরও নিরাপত্তা দিন। আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের সাথে আমাদেরও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন। আপনি আমাদের যা দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন এবং আপনি যা ফয়সালা করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে আমাদের রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনিই ফয়সালা করেন, আপনার ওপর ফয়সালা করার কেউ নেই। আপনি যার বন্ধু হন, সে কখনো অপমানিত হয় না; আর আপনি যার শত্রু হন, সে কখনো সম্মানিত হয় না। হে আমাদের রব! আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ!
হে আল্লাহ! আপনি যা ভালোবাসেন এবং যাতে সন্তুষ্ট হন, আমাদের তা করার তাওফীক দিন। আর আমাদের রক্ত আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করুন, যতক্ষণ না আপনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হন। হে আল্লাহ! যে সত্যের বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে আমাদের সেই সত্যের পথ দেখান। হে আল্লাহ! আমাদের বাড়িয়ে দিন, কমাবেন না; আমাদের সম্মানিত করুন, লাঞ্ছিত করবেন না; আমাদের দান করুন, বঞ্চিত করবেন না; আমাদের অগ্রাধিকার দিন, আমাদের ওপর অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দেবেন না; আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং আমাদেরও সন্তুষ্ট করে দিন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে দ্বীনের ওপর অবিচলতা চাই, সঠিক পথের দৃঢ় সংকল্প চাই, আপনার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তাওফীক চাই এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার তাওফীক চাই। হে আল্লাহ! যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনকে সাহায্য করেছে, আপনি তাদের সাহায্য করুন এবং আমাদেরও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনকে লাঞ্ছিত করেছে, আপনি তাদের লাঞ্ছিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামিন!”
“যিনি কোনো খুঁটি ছাড়াই আকাশমণ্ডলকে সমুন্নত করেছেন, আমি সেই মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি যে, যতক্ষণ না আমরা বাস্তবে ফিলিস্তিনে শান্তি ও নিরাপত্তা দেখতে পাই এবং যতক্ষণ না মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্বদেশ জাযীরাতুল আরব থেকে কাফের বাহিনী সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা এবং সেখানে বসবাসকারীরা স্বপ্নেও শান্তি ও নিরাপত্তার দেখা পাবে না!”
— শায়খ শহীদ উসামা বিন মুহাম্মাদ বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ)
[1] মুহাম্মাদ আদ-দাইফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘তুফানুল আকসার’ ঘোষণা সংবলিত অডিও বার্তা থেকে গৃহীত। প্রকাশনায়: আল-ইলাম আল-আসকারি।
**************
پی ڈی ایف
PDF (792 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৭৯২ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/eYTLqFFmX2iPccK
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/3zX939zQBiDQ4Yb
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/f3Zl0SST#BX4RX9V_4fc_jO7ZebR1t5-oysVdUMuuPwPJoB_voIo
ورڈ
WORD (693 KB)
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন [৬৯৩ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/j7oGbPXftJr42W2
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/XE653o7q6MqzyzM
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/muwExDqT#xuo2GtZ1bxVuGeu_ffKdBeQQBZVOwblMHD69VMkIt1s
غلاف
cover (1.3 MB)
বুক কভার ডাউনলোড করুন [১.৩ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/KN2ETF988ArMqsq
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/7NBCRKKRnt8HXDA
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/r65HjIKI#tqZbnVPb9BLER_naXyMq1zVp91s5Uef_bg0Y3JW7VUg
بينر
banner [1.7 MB]
ব্যানার [১.৭ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/WZjK8nRNPkGi7c9
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/zmNswS3SoBZWaAB
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/O2Zw2BRA#_IFLqZTed-nWyPKpXJL_7KqJX26Ax2uUPDYCZ3kiA68
মূল পোস্ট
PDF – [2.3 MB]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/iAznyRgXHYdfg75
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/2r3yNcJL2Ad5sPn
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/nnZi2Iza#fk64iyDtNPp-RPhWrGVNU0GByhWw81w_g8imlypy2v0
***********
اپنی دعاؤں میں ہمیں یاد رکھيں
اداره النصر براۓ نشر و اشاعت
القاعدہ برِّ صغیر
আপনাদের দোয়ায়
আন নাসর মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent



