Bengali Translation || কেন্দ্রীয় আল-কায়েদার পক্ষ থেকে নাইন-ইলেভেন (৯/১১) -এর অপারেশনের ৮ মাস পর প্রকাশিত ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক অভিযানের শরঈ বৈধতা

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents
الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation
بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:
بيان من قاعدة الجهاد حول وصايا الأبطال ومشروعية عمليات واشنطن ونيويورك
কেন্দ্রীয় আল-কায়েদার পক্ষ থেকে
নাইন-ইলেভেন (৯/১১) -এর অপারেশনের ৮ মাস পর প্রকাশিত
ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক অভিযানের শরঈ বৈধতা
Qaidtul-Jihad – Central Leadership
Shariah legitimacy of the Washington and New York raids
![]()
روابط بي دي اب
PDF [648 KB]
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬৪৮ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/eXMNMeMdTmBNb7x
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/BcQKaSZLdYgeed9
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/ni4xQYyC#_d4Q5NVIPx6KkIxaa6MW6YIqH1OlVmF2bWwLT-yBL9k
روابط ورد
Word (566 KB)
ওয়ার্ড [৫৬৬ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/yKdWDsRzKpzXxm6
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/NT8qpE7oaT86xWn
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/z6ZwXDqZ#tTwLV8thV-gQYwQy5VhtTG_9XBZvzbW0AX2BkMCrKAo
روابط الغلاف- ١
book Banner (1.3 MB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৩ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/5iKoMQQkybopksg
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/skMp7TCaKAwmsZS
লিংক-৩: https://mega.nz/file/T2RwxSDZ#gTLHjFW13ZbnJG4qgXBISROQvqJEBsRKGpx1P5laImg
روابط الغلاف- ٢
Banner [1.1 MB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.১ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/FRiyL6tmDKwZkkp
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/issgQjf7yk3WNdN
লিংক-৩: https://mega.nz/file/72o2UChT#7AtCi-nGzCE_i94XBdlqkMDwRgsbNFM3zhqbhNn5JJY
**********
কেন্দ্রীয় আল-কায়েদার পক্ষ থেকে
নাইন-ইলেভেন (৯/১১) -এর অপারেশনের ৮ মাস পর প্রকাশিত
ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক অভিযানের শরঈ বৈধতা
ভূমিকা
সম্মানিত পাঠক! আমাদের সমাজে নাইন-ইলেভেন (৯/১১)-এর অপারেশন ঘিরে প্রচুর ধূম্রজাল ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আছে। অনেকেই এই হামলার পেছনের শরঈ দৃষ্টিকোণ এবং এর ‘শরঈ বৈধতা’ ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন না। নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ও খণ্ডিত তথ্যের ভিড়ে সেদিনের সেই ঘটনার পেছনে উলামায়ে কেরাম ও মুজাহিদদের আসল শরঈ যুক্তি এবং কুরআন-সুন্নাহর দলীলগুলো কী ছিল, তা সাধারণ মানুষের অজানা থেকে যায়। তাই কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই মূল দলীলের আলোকে পুরো বিষয়টি জনগণের কাছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরার জন্যই এই বিবৃতিটি অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, পাঠক যেন এটি অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেরাই শরঈ দলীলগুলো অনুধাবন করতে পারেন এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই ধূম্রজাল থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
এখানে পাঠকদের সুবিধার্থে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মূল আরবী বিবৃতিতে কোনো শিরোনাম কিংবা উপশিরোনাম ছিল না। দীর্ঘ তাত্ত্বিক আলোচনাকে পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করার জন্য এবং পড়ার সময় আলোচনার ধারাবাহিকতা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা নিজ থেকে বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে প্রাসঙ্গিক কিছু শিরোনাম ও উপশিরোনাম যুক্ত করেছি। এটি মূলত আপনাদের জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ হিসেবে কাজ করবে, যাতে পুরো লেখাটি এক নিশ্বাসে পড়ে মূল ভাবটি সহজে হৃদয়ঙ্গম করা যায়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বিষয়টি বোঝার এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন। – সম্পাদনা বিভাগ।
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد رب العالمين القائل في كتابه ( قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر ، ولا يحرمون ما حرم الله ورسوله ، ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب ، حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون )
والصلاة والسلام على إمام المجاهدين ، وقائد الغر المحجلين ، محمد بن عبد الله القائل لمن كفر ( لقد جئتكم بالذبح) رواه أحمد ، فعليه أفضل الصلاة وأتم التسليم ، وعلى آله وصحبه أجمعين .
“পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাবে ইরশাদ করেছেন: “তোমরা যুদ্ধ করো আহলে কিতাবদের সেই সব লোকের সাথে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান আনে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন গ্রহণ করে না; যতক্ষণ না তারা নতজানু হয়ে নিজ হাতে জিযিয়া প্রদান করে।” (সূরা তাওবা, ০৯:২৯)
দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুজাহিদদের ইমাম এবং জ্যোতির্ময় চেহারার অধিকারীদের সেনাপতি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, যিনি কাফেরদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আমি তোমাদের জন্য জবেহ বা হত্যা নিয়ে এসেছি” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৭০৩৬)। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।
আল্লাহ তাআলা তাঁর একান্ত অনুগ্রহ, দয়া ও তাওফীকে মুসলিম উম্মাহর একদল যুবককে এমন এক মহান কাজের জন্য কবুল করেছেন, যার বদৌলতে তারা এই উম্মাহর হারানো অধিকারের অন্তত কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ক্রুসেডার শত্রুরা দশকের পর দশক ধরে আমাদেরকে যে বিষাক্ত পেয়ালা থেকে পান করিয়ে আসছিল, এই যুবকরা আজ তাদেরকেই সেই পেয়ালার স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। যে বীরেরা শত্রুর দুর্গকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো দুনিয়াবি স্বার্থ, ক্ষণস্থায়ী পদমর্যাদা কিংবা সস্তা প্রবৃত্তির তাড়নায় এই আত্মত্যাগ করেননি। বরং পৃথিবীর আনাচে-কানাচে যেসব মজলুম মুসলিমের ওপর আমেরিকার হাতগুলো নানা ধরনের আযাব, আধিপত্য ও নিপীড়নের স্টিমরোলার চালিয়ে আসছিল, মূলত তাদের প্রতিরক্ষা এবং মহান আল্লাহর দ্বীনের জন্যই তাঁরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।
বীরদের অসিয়তসমূহ প্রকাশ
এই উম্মাহর মাঝে জিহাদ, আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের ধারাকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে আমরা ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক অভিযানের বীরদের অসিয়তগুলোর প্রথম পর্ব প্রকাশ করছি। শত্রুর ভূখণ্ডে পাড়ি জমানোর আগেই তারা এই অসিয়তগুলো রেকর্ড করে গিয়েছিলেন, আর তাই বীর মুজাহিদ আহমাদ আল-গামদি রহিমাহুল্লাহ-এর অসিয়ত দিয়েই আমরা এই ধারাবাহিকতার সূচনা করছি।[1]
এই ধারাবাহিক অসিয়তগুলো উম্মাহর সামনে তুলে ধরার পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সবাইকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে, এই যুবকদের একমাত্র প্রেরণা ছিল আল্লাহর দ্বীন এবং নিজেদের ইজ্জত-আব্রু ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তারা কোনো মানুষের দাসত্ব করতে কিংবা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কোনো মতবাদের অন্ধ অনুকরণ করতে এই পথে আসেননি। বরং কোনো ধরনের জবরদস্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় কেবল ইসলামের খেদমত এবং মুসলিমদের প্রতিরক্ষার জন্যই তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন।
পাশাপাশি, উম্মাহর সমস্ত শত্রুর কাছে আমরা একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, শত্রুরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন এবং বাহ্যিকভাবে আমরা যত দুর্বলই হই না কেন, আমরা আমাদের শত্রুদের মাথায় লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেই যাব। বিশেষ করে বর্তমান এই সময়ে, যখন উম্মাহ পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে চরম দুর্দশার প্রহর গুনছে, তখন এই অসিয়তগুলো প্রকাশের মাধ্যমে আমরা উম্মাহকে এই নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, এই লাঞ্ছনা থেকে মুক্তির একটাই পথ এবং তা হলো তরবারি। কেননা, আমাদের শত্রুরা তরবারির ভাষা ছাড়া আর অন্য কোনো ভাষাই বোঝে না।
ক্রুসেডারদের আগ্রাসন কোন প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়
আমরা আমাদের কিছু দরদী ভাইয়ের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে খুব ভালো করেই অবগত আছি। তারা হয়তো বলবেন যে, এই অসিয়তগুলো প্রকাশ করা মানেই মুজাহিদদের বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে দেওয়া। তাদের ধারণা, মুজাহিদরা যদি এগুলো গোপন রাখতেন এবং শত্রুদের হাতে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ তুলে না দিতেন, তবে সম্ভবত সেটাই তাদের জন্য ভালো হতো।
এর জবাবে আমরা বিনীতভাবে আরজ করছি যে, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই জালিম শত্রুদের কোনো প্রমাণ কিংবা অজুহাতের প্রয়োজন নেই। বরং আপনাদের কাছেই আমার প্রশ্ন, ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে এমন কী প্রমাণ ছিল, যার কারণে গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আজ পর্যন্ত ইহুদী ও ক্রুসেডারদের হাতে সেখানে প্রতিনিয়ত গণহত্যা চালানো হচ্ছে? কিংবা ইরাকের জনগণের বিরুদ্ধেই বা কী প্রমাণ ছিল, যার কারণে তাদের ওপর এমন অমানবিক অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হলো এবং এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, যার নজির ইতিহাসে সত্যি বিরল?
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন কী প্রমাণ ছিল, যার কারণে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা ক্রুসেডাররা জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় তাদের মিত্র সার্বদের লেলিয়ে দিয়েছিল, যেন তারা ওই অঞ্চলের মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা ও বিতাড়ন করতে পারে? কাশ্মীরের জনগণের অপরাধ কী ছিল এবং ওই গরুপূজারিদের কাছেই বা তাদের বিরুদ্ধে কী প্রমাণ ছিল, যার কারণে গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের রক্ত হালাল করে নেওয়া হয়েছে?
চেচনিয়া, আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্রগুলোর মুসলিমরা এমন কী অপরাধ করেছিল, যার কারণে প্রথমে ক্রুসেডার এবং পরে কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের জালিম সামরিক বাহিনী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? তারা কোটি কোটি মুসলিমকে হত্যা করেছে, নিশ্চিহ্ন করেছে এবং দেশছাড়া করেছে। আমেরিকা যখন আফগানিস্তানকে ধ্বংস করল এবং সেখানকার মুসলিমদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করল, তখন তাদের কাছে কী প্রমাণ ছিল? অথচ এর আগেই তারা জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় আফগানদের ওপর এক জালিম অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছিল।
সেই একই জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় তারা ইন্দোনেশিয়াকে টুকরো টুকরো করেছে, তিমুর থেকে মুসলিমদের তাড়িয়েছে এবং মালুকু ও পোসো দ্বীপে তাদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। এই জাতিসংঘের নাম ভাঙিয়েই তারা সোমালিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং সেখানকার ইসলামী ভূখণ্ডে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে মানুষের রক্ত হালাল করেছে। এমনকি ফিলিপাইনে আমাদের মুসলিম ভাইদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য সেখানকার ক্রুসেডার শাসককে সবচেয়ে বড় সমর্থন তো এই আমেরিকাই দিয়ে যাচ্ছে; আর এমন আরও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে, যা আসলে গুনে শেষ করা যাবে না।
এককথায় আমরা বলতে পারি, বিশ্বব্যাপী ক্রুসেডার ও জায়নবাদী জোট যেসব মুসলিম জাতিকে নির্বিচারে হত্যা করছে, তাদের একমাত্র অপরাধ হলো তারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’। মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে কিংবা তা চালিয়ে যেতে এই ক্রুসেডার-জায়নবাদী জোটের কোনো প্রমাণ বা দলীলের প্রয়োজন নেই। তারা কখনোই হাত গুটিয়ে বসে থেকে মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য কোনো অজুহাতের অপেক্ষায় থাকে না। সুতরাং, উম্মাহর জন্য এর চেয়ে বড় বোকামি আর কী হতে পারে যে, তারা মনে করবে কেবল মুসলিমদের পক্ষ থেকে কোনো কারণ ঘটলেই এই জোট তাদের হত্যা, ধর্ষণ ও বিতাড়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে!
কোনো মুসলিমের জন্য এটা ভাবা যেমন চরম বোকামি যে, ক্রুসেডার শত্রুরা মুসলিমদের ওপর হামলা, বিতাড়ন ও তাদের দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কোনো অজুহাতের অপেক্ষায় বসে ছিল; ঠিক তেমনি এটা ভাবাও চরম নির্বুদ্ধিতা যে, পশ্চিমা সরকারগুলোকে সমর্থনকারী ক্রুসেডার ও জায়নবাদী জনমত মুসলিমদের পক্ষ থেকে এমন কোনো উস্কানির অপেক্ষায় ছিল, যা তাদের ইসলাম বিরোধী ক্রুসেডে ইন্ধন জোগাবে এবং তাদের মনে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি শত্রুতার আগুন উসকে দেবে।
বাস্তবতা হলো, মুসলিম বিশ্বকে উপনিবেশ বানানোর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ক্রুসেডার ও জায়নবাদী জনমত তাদের সরকারগুলোর ইসলাম বিরোধী যুদ্ধ বাস্তবায়নে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক আসা ক্রুসেডার ও জায়নবাদী সরকারগুলো যদি তাদের জনগণের সমর্থন না পেত, তবে তারা কখনোই ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও নির্লজ্জভাবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারত না। কেননা, এই সরকারগুলোর বৈধতাই তো টিকে থাকে জনগণের ভোটের ওপর। সুতরাং, বাস্তবতার সাথে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই এমন কাল্পনিক ধারণা পোষণ করা আমাদের জন্য চরম বোকামি ও নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মূলত আমেরিকাকে নতুন করে আরেকটি চপেটাঘাত করার জন্যই আমরা এই অসিয়তনামাটি প্রকাশ করেছি। আমরা বিশ্ববাসীকে আমেরিকার সেই মিথ্যা প্রচারণার আসল রূপ দেখাতে চাই, যেখানে তারা দাবি করেছিল যে, মুজাহিদদের এই অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য তাদের হাতে চব্বিশ হাজার সূত্র রয়েছে! অথচ তারা যেসব প্রমাণ হাজির করেছে, তা মাকড়সার জালের চেয়েও ঠুনকো। বিশ্ববাসীকে বোঝানো তো দূরের কথা, আমেরিকার বিচার ব্যবস্থা কখনোই এসব প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সন্দেহভাজনদের দোষী সাব্যস্ত করতে পারবে না।
এই অসিয়তনামা প্রকাশের মাধ্যমে আমরা আমেরিকাকে জানিয়ে দিতে চাই যে, অভিযান পরিচালনাকারীদের চিহ্ন মুছে ফেলা নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত ছিলাম না। বরং আমাদের কিছু বীর মুজাহিদ তো ইচ্ছে করেই এই অভিযানের গায়ে ইসলামী ছাপ রেখে যেতে চেয়েছিলেন। এটি মূলত আমেরিকার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গালে আরেকটি নতুন থাপ্পর, যারা নিজেদের দেশে অত্যন্ত বীরত্ব ও আত্মমর্যাদার সাথে প্রবেশকারী এই বীরদের সামান্যতম চিহ্ন খোঁজার জন্য দিকভ্রান্তের মতো পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাগলের মতো ছুটে বেড়িয়েছে।
এই অসিয়তনামাটির মাধ্যমে আমরা আমেরিকা এবং তাদের পেছনে থাকা গোটা বিশ্বকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি যে, আমেরিকা যা-ই করুক না কেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আসছি। মুসলিমদের ক্রোধের আগুন থেকে তারা কখনোই রেহাই পাবে না। যেহেতু যুদ্ধটা তারাই শুরু করেছিল, তাই ইনশাআল্লাহ এই যুদ্ধে পরাজয়ের স্বাদও তাদেরকেই আস্বাদন করতে হবে।
সেপ্টেম্বরের অভিযান সম্পর্কে উম্মাহর ভেতরের সমালোচনা ও তার জবাব
ইতিহাস বদলে দেওয়া এই বিশাল ঘটনা এবং এর ব্যাপকতার পরও অত্যন্ত আফসোসের বিষয় হলো, উম্মাহর ভেতরেই এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে যারা জুমাদাল উখরা তথা সেপ্টেম্বরের এই অভিযান পরিচালনাকারীদের অপরাধী সাব্যস্ত করছে। অথচ এই নিন্দুকেরা কোনো শরঈ দলীল অথবা গ্রহণযোগ্য যুক্তির ভিত্তিতে কথা বলেনি, বরং তারা নিজেদের প্রভুদের ভাষায় এবং উম্মাহর শত্রুদের শেখানো বুলিতে কথা বলেছে।
সবারই জেনে রাখা উচিত যে, যারা এই অভিযান পরিচালনা করেছেন তারা কেবল মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তা করেছেন। পাশাপাশি সবার এটাও জেনে রাখা উচিত যে, এই অভিযানের কারণে অনেক প্রাণ ঝরেছে এবং এর শুরুতেই ছিল আমাদের বীর মুজাহিদদের নিজেদের প্রাণ। তাই প্রাণহানির বিষয়টিকে, বিশেষ করে মুসলিমদের প্রাণহানির মতো ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগই আমাদের ছিল না।
আর ঠিক এ কারণেই আমরা পুরো বিষয়টিকে শরঈ দলীলের আলোকে সব দিক থেকে যাচাই করতে বাধ্য হয়েছি। কোনো একটি দিককে অন্যটির ওপর প্রাধান্য না দিয়ে এবং কোনো একটি বিষয়ের কারণে অন্যটিকে এড়িয়ে না গিয়ে আমরা গভীরভাবে অনুসন্ধান ও পরামর্শ করেছি। পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, এ ধরনের অভিযানই কেবল উম্মাহর হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে পারে এবং জালিম শত্রুকে মুসলিম উম্মাহর অধিকার মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে।
শরঈ দলীলের আলোকে অভিযানের বৈধতা
আমরা এখন খুব সংক্ষেপে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই এ ধরনের অভিযানের বৈধতার শরঈ দলীলগুলো তুলে ধরব। এটি মূলত তাদের প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা যারা নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে শরঈ ফতোয়ার লেবাস পরিয়ে উপস্থাপন করেছেন। পাশাপাশি এটি সেই সব বিরোধিতাকারীদের প্রতিও একটি উদাত্ত আহ্বান যারা এই অভিযানকে অপরাধ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যেন তারা আল্লাহকে ভয় করেন, তাঁর দিকে ফিরে আসেন এবং শরঈ দলীলের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তারা যদি মুজাহিদদের সাহায্য করার সাহস না-ই পান, তবে অন্তত চুপ তো থাকতে পারেন! আল্লাহ আমাদের, তাদের এবং সমস্ত মুসলিমকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।
আমরা দলীলগুলোকে সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:
প্রথমত, আমেরিকা ও ইহুদীদের অভিন্ন হুকুম
মুসলিমদের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক ঠিক ইহুদীদের মতোই, কেননা এরা উভয়েই ‘আহলে হারব’ বা যাদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধাবস্থা চলমান। সুতরাং, ফিলিস্তিনের মাটি দখলকারী শত্রুদের বিরুদ্ধে যা কিছু করা বৈধ, ঠিক তাদের মতো একই বৈশিষ্ট্য ধারণকারী এবং তাদের সাহায্য ও সমর্থনকারী শক্তির বিরুদ্ধেও তা করা সম্পূর্ণ বৈধ।
আপনি যদি অবাক হতে চান, তবে তাদের ফতোয়া দেখে অবাক হতে পারেন যারা ফিলিস্তিনে সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার ‘ইশতিশহাদি’ তথা ফিদায়ি অভিযানগুলোকে জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর বলে ফতোয়া দেন, অথচ আমেরিকায় সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার অজুহাতে সেখানকার ইশতিশহাদি অভিযানগুলোকে হারাম বলে ফতোয়া দেন! কী অদ্ভুত এই স্ববিরোধিতা! শাখা-প্রশাখাকে হত্যা করা বৈধ হবে অথচ মূল শেকড় ও প্রধান মদদদাতাকে হত্যা করা বৈধ হবে না, এটি কীভাবে সম্ভব? সুতরাং, যারা ইহুদীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে ইশতিশহাদি অভিযানকে বৈধ মনে করেন, তাদের জন্য আমেরিকাতেও তা বৈধ বলা অপরিহার্য। অন্যথায়, ফতোয়া নিয়ে একধরনের ছিনিমিনি খেলা ছাড়া এই স্ববিরোধিতার আর কোনো অর্থই হয় না।
আমেরিকা কখনোই ‘বিলাদুল আহদ’ তথা চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র নয় এবং তারা কোনো দিন চুক্তিবদ্ধ ছিলও না। তর্কের খাতিরে আমরা যদি বিরোধীদের কথা মেনেও নিই যে, তারা চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র ছিল, তবুও আমরা বলব যে, তারা এখন ‘বিলাদুল হারব’ তথা যুদ্ধরত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় আগে ফিলিস্তিন দখল, সেখানকার অধিবাসীদের বিতাড়ন ও হত্যার ক্ষেত্রে ইহুদীদের সাহায্য করেছে। মূলত তারা সেই দিনই চুক্তি ভঙ্গকারী যুদ্ধরত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেদিন তারা ইরাকে হামলা করেছে ও অবরোধ দিয়েছে, সুদানে হামলা করেছে ও অবরোধ দিয়েছে এবং আফগানিস্তানে হামলা করে অবরোধ দিয়েছে। বস্তুত, তারা গত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে মুসলিমদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুদের প্রকাশ্যে মদদ দিয়েছে।
সাধারণ নাগরিক (নারী, শিশু ও বৃদ্ধ) নিহতের শরঈ বিধান
শরঈ দলীলের মর্মার্থ বোঝেন না এমন কিছু মানুষ আপত্তি তুলে বলেছেন যে, আমেরিকায় পরিচালিত এই অভিযানে নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরাও নিহত হয়েছে; অথচ ইসলাম শরঈ দলীলের ভিত্তিতে এদের রক্তপাত হারাম করেছে। তাহলে এই অভিযান কীভাবে শরীয়তসম্মত হতে পারে?
এর জবাবে আমরা বলছি যে, কাফেরদের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের রক্তের এই পবিত্রতা বা হুরমত শর্তহীন কিংবা নিরঙ্কুশ নয়। বরং তারা যদি ‘আহলে হারব’ তথা যুদ্ধরত শত্রু হয়, তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের হত্যা করা বৈধ যা নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়। আমরা স্বীকার করছি যে, আমেরিকায় পরিচালিত সেপ্টেম্বরের এই অভিযানে বেশ কিছু ‘মাসুম’ অর্থাৎ সাধারণ অবস্থায় হত্যার অযোগ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু তাদের এই প্রাণহানি কোনোভাবেই সেই বিশেষ পরিস্থিতিগুলোর বাইরে নয় যেখানে তাদের হত্যা করা বৈধ বলে বিবেচিত হয়।
আমরা সংক্ষেপে সেই পরিস্থিতিগুলো উল্লেখ করছি। বিরোধিতাকারীদের জন্য এর মধ্য থেকে কেবল একটি পরিস্থিতি মিলে যাওয়ার স্বীকৃতি দেওয়াই যথেষ্ট হবে, যার ফলে তাদের এই অভিযানের বৈধতা মেনে নিতে হবে। কারণ এই সবগুলো পরিস্থিতি একসাথে পাওয়া যাওয়া শর্ত নয়, বরং যেকোনো একটি পরিস্থিতি পাওয়া গেলেই তা যথেষ্ট। পরিস্থিতিগুলো হলো:
প্রথম পরিস্থিতি (কিসাস বা সমতুল্য বদলা):
‘মুআমালাহ বিল-মিসল’ বা সমতুল্য আচরণের ভিত্তিতে মুসলিমদের জন্য কাফেরদের মাসুমদের হত্যা করা বৈধ। অর্থাৎ, কাফেররা যদি মুসলিমদের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তবে মুসলিমদের জন্যও তাদের সাথে সমতুল্য আচরণ করা এবং তারা যেমন হত্যা করেছে ঠিক তেমনিভাবে হত্যা করা বৈধ। এর দলীল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:
فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ
অর্থ: “সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর ঠিক ততটুকুই আক্রমণ করবে যতটুকু সে তোমাদের ওপর করেছে।” (সূরা বাকারা, ০২:১৯৪)
এ ছাড়াও আরও অনেক দলীল রয়েছে। আজ আমেরিকার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে, বরং তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও সরাসরি হস্তক্ষেপে মুসলিম জাতিগুলোর বিরুদ্ধে পুরোদমে গণহত্যা চলছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ফিলিস্তিনের জেনিন, নাবলুস, রামাল্লাসহ অন্যান্য স্থানে গোটা বিশ্বের চোখের সামনে যা ঘটছে। সবাই প্রতিদিন দেখছে যে, কীভাবে আমেরিকার মদদে সেখানে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের লক্ষ করে পৈশাচিক গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তাহলে কি মুসলিমদের জন্য তাদের সাথে সমতুল্য আচরণ করা এবং তারা যত মুসলিমকে হত্যা করেছে ঠিক তত কাফেরকে হত্যা করা বৈধ নয়? আল্লাহর কসম! হ্যাঁ, এটি মুসলিমদের একটি সম্পূর্ণ ন্যায্য অধিকার।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি (রাত্রিকালীন হামলা বা অনিচ্ছাকৃত হত্যা):
শত্রুদের ওপর এমনভাবে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে কাফেরদের মাসুমদের হত্যা করা বৈধ, যেখানে মাসুমদেরকে যোদ্ধা অথবা দুর্গ থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নয়, বরং আনুষঙ্গিকভাবে বা যোদ্ধাদের সাথে তাদের হত্যা করা বৈধ। এর দলীল হলো, সহীহ বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মুশরিকদের পরিবার-পরিজন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, রাতের বেলা অতর্কিত হামলার সময় তাদের নারী ও শিশুরাও তো আঘাতপ্রাপ্ত হয়; তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন:
هم منهم
অর্থ: “তারা তাদেরই [অর্থাৎ মুশরিকদেরই] অন্তর্ভুক্ত।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৩০১২)
এটি প্রমাণ করে যে, নারী ও শিশুদের যদি আলাদা করা সম্ভব না হয়, তবে তাদের পিতাদের অথবা যোদ্ধাদের সাথে আনুষঙ্গিকভাবে তাদের হত্যা করা বৈধ। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন:
هم من آبائهم
“তারা তাদের পিতাদেরই অংশ।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৭৪৫)
তৃতীয় পরিস্থিতি (যুদ্ধে সহায়তা করা):
কাফেরদের মাসুমরা যদি কাজ, কথা, পরামর্শ কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে যুদ্ধে সহায়তা করে, তবে তাদের হত্যা করা বৈধ। এর দলীল হিসেবে আবু দাউদ ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে এসেছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুরাইদ ইবনে সিম্মাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে হাওয়াযিন গোত্রের সাথে যুদ্ধে বের হয়েছিল এবং তখন তার বয়স ছিল একশো বিশ বছর। সে কেবল তাদের পরামর্শ দেওয়ার জন্যই সাথে বের হয়েছিল, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে ঠিক একজন যোদ্ধার মতোই আচরণ করেছিলেন। মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরামর্শ দেওয়ার কারণেই সে তার ‘মাসুম’ বা সুরক্ষিত অবস্থা থেকে বের হয়ে ‘মুবাহুদ দাম’ তথা রক্তপাত বৈধ এমন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিল।
তাহলে একবার ভেবে দেখুন, যে হারবী কাফের প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে এমন এক জালিম ও অপরাধী সরকারকে সমর্থন জোগায় যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত, সে কি হত্যার উপযুক্ত নয়? তাকে হত্যা করা কি বৈধ হবে না, যাতে সে এমন সরকারকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে? আর শরঈ বিধান সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠের ওপর ভিত্তি করেই আরোপিত হয়।
চতুর্থ পরিস্থিতি (শত্রুর দুর্গ বা অর্থনীতি ধ্বংস করা):
শত্রুর শক্তি দুর্বল করে তাদের দুর্গ জয় করা বা রাষ্ট্রপতনের উদ্দেশ্যে যদি তাদের দুর্গ বা ফসলের মাঠ এবং আধুনিক যুগে অর্থনৈতিক কেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সেখানে কাফেরদের মাসুমদের হত্যা করা বৈধ; এমনকি যদি এর ফলে মাসুমরা প্রাণও হারায়। ঠিক যেমনটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাজির গোত্রের ক্ষেত্রে করেছিলেন।
পঞ্চম পরিস্থিতি (ভারী অস্ত্রের ব্যবহার):
শত্রুদের ওপর এমন ভারী অস্ত্র নিক্ষেপ করার প্রয়োজন হলে যা যোদ্ধা ও মাসুমের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না, তখন কাফেরদের মাসুমদের হত্যা করা বৈধ। যেমনটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ অবরোধের সময় করেছিলেন, যখন তিনি সেখানকার অধিবাসীদের ওপর মিনজানিক তথা পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র দিয়ে গোলাবর্ষণ করেছিলেন যা আধুনিক যুগের ভারী কামানের সমতুল্য।
ষষ্ঠ পরিস্থিতি (মানবঢাল বা তাতাররুস):
শত্রুরা যদি তাদের নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং এই ঢাল ভেদ করে যোদ্ধাদের হত্যা করা ও মুসলিম ভূখণ্ড থেকে তাদের অনিষ্ট দূর করা সম্ভব না হয়, তবে সর্বসম্মতভাবে বা ইজমা অনুযায়ী সেই মানবঢালকে হত্যা করা মুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণ বৈধ।
সপ্তম পরিস্থিতি (চুক্তি ভঙ্গকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি):
চুক্তিবদ্ধ কোনো জাতি যদি তাদের চুক্তি ভঙ্গ করে এবং মুসলিম রাষ্ট্রের ইমাম বা নেতার যদি তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য তাদের মাসুমদের হত্যা করার প্রয়োজন হয়, তবে তা বৈধ। ঠিক যেমনটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইজা গোত্রের ক্ষেত্রে করেছিলেন।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহত মুসলিমদের বিধান
হয়তো কেউ এই প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যেসব মুসলিম ছিলেন, (যদি সত্যিই সেখানে তাদের কোনো উপস্থিতি থেকে থাকে,) তবে তাদের হত্যার বৈধতার দলীলটি আসলে কী? আমরা না হয় মেনেই নিলাম যে, কাফেরদের মাসুমরা, অর্থাৎ সাধারণ অবস্থায় যাদের হত্যা করা নিষিদ্ধ, তারা উপরের যেকোনো একটি পরিস্থিতির আওতায় পড়ে। কিন্তু যেসব মুসলিম সেখানে কাজ করতেন এবং এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আমরা কোন ক্যাটাগরিতে ফেলব?
আমরা বলব, এই প্রশ্নের উত্তর ছয়টি দৃষ্টিকোণ থেকে দেওয়া যায়। বিরোধিতাকারীদের জন্য এর যেকোনো একটি মেনে নেওয়াই যথেষ্ট হবে, আর এর ফলে তাদের এই অভিযানের বৈধতা স্বীকার করে নিতে হবে।
প্রথম দৃষ্টিকোণ:
কাজটির সম্পাদনকারী যদি মুসলিম হন, তবে তার পেছনের যুক্তি বা কারণগুলো কী ছিল, তা জানা জরুরি। যদি তার সেই কারণগুলো ‘ইজতিরার’ বা চরম বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়ে, তবে তার জন্য এই কাজটি করা বৈধ। আর যদি তার কারণগুলোর মাঝে চরম বাধ্যবাধকতা না থাকে, তবে আমরা পরবর্তী পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে তার উত্তর দিচ্ছি।
দ্বিতীয় দৃষ্টিকোণ:
প্রবল ধারণা কিংবা ‘গালাবাতুজ জন’ ঠিক এটাই ছিল যে, যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সেখানে কাফের ছাড়া আর কেউ নেই। আর শরঈ বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমল করাই একজন মুকাল্লাফ তথা শরীয়তের আদিষ্ট ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য।
তৃতীয় দৃষ্টিকোণ:
ইমাম শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ এবং হানাফি মাযহাবের ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ-এর মতে, হারবিদের তথা যুদ্ধরত শত্রুদের দেশ পুড়িয়ে দেওয়া, ডুবিয়ে দেওয়া অথবা ধ্বংস করে দেওয়া বৈধ; এমনকি যদি সেখানে এমন কোনো মুসলিমও থাকেন, যারা এ ধরনের হামলায় মারা যেতে পারেন। এর কারণ হলো, কেবল মুসলিমদের উপস্থিতির অজুহাতে দারুল হারব কিংবা শত্রুরাষ্ট্রের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকলে তা জিহাদকে অকার্যকর করে দেওয়ার দিকেই নিয়ে যাবে। ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ (وَلَوْلَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُونَ) আয়াতটির জবাবে বলেছেন যে, এটি মুসলিমদের উপস্থিতিতে হামলা হারাম হওয়ার কোনো প্রমাণ বহন করে না। সুতরাং বিষয়টি যখন এমনই, তখন এই অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্য এই কাজটি করা সম্পূর্ণ বৈধ।
চতুর্থ দৃষ্টিকোণ:
একটু আগে উল্লেখিত আয়াতটিকে যদি ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর বিধানকে সর্বজনীন করা হয়, তবে তা সমস্ত যুদ্ধরত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদের বিধানকেই অকার্যকর করে দেবে। কারণ, বর্তমানে এমন কোনো রাষ্ট্র নেই যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসলিমের উপস্থিতি নেই; আর আধুনিক যুগের যুদ্ধগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকে। তাই এই আয়াতের বিধানকে ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য; কেননা এটি জিহাদের মতো মহান একটি বিধানকে বাতিল করে দেয় অথবা কোনো ধরনের দলীল ছাড়াই তাকে সংকুচিত করে ফেলে।
পঞ্চম দৃষ্টিকোণ:
যুদ্ধরত শত্রুদের সাথে মিশে থাকা কোনো মুসলিমকে ভুলবশত হত্যা করার সর্বোচ্চ প্রায়শ্চিত্ত হলো হত্যাকারীকে নিহতের অর্ধেক দিয়াত তথা রক্তপণ পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য, এই নিহত মুসলিমের অবস্থাও আমাদের আলোচ্য ঘটনার মতোই অস্পষ্ট ছিল। ঠিক যেমনটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাসআম গোত্রের সেই সব মুসলিমকে হত্যার ক্ষেত্রে ফতোয়া দিয়েছিলেন, যারা নিজেদের গোত্রের যুদ্ধরত শত্রুদের মাঝেই বসবাস করত। সেসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মাল তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাদের অর্ধেক রক্তপণ পরিশোধ করেছিলেন। তিনি হত্যাকারীদের কাফের বলেননি, তাদের ভর্ৎসনা করেননি, তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেননি, এমনকি তাদের কাজ থেকে নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণাও করেননি। বরং যারা শত্রুদের মাঝে বসবাস করত, তিনি তাদের থেকেই নিজেকে দায় মুক্ত ঘোষণা করেছিলেন।
ষষ্ঠ দৃষ্টিকোণ:
যে মুসলিম কাফেরদের সাহায্য করে এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে, দুনিয়াবি বিধানের ক্ষেত্রে তার সাথে কাফেরদের মতোই আচরণ করা বৈধ। আর আখিরাতে তার বিচারের ফয়সালা হবে সম্পূর্ণ তার নিয়তের ওপর ভিত্তি করে। যেমনটি সেই বাহিনীর ক্ষেত্রে ঘটবে, যারা কাবা শরীফ ধ্বংস করতে আসবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন; অথচ তাদের মাঝে এমন অনেকেই থাকবে, যারা মূলত তাদের দলভুক্ত নয়।
‘মাসলাহাত ও মাফাসিদ’ (কল্যাণ ও অকল্যাণ)-এর যুক্তির খণ্ডন
শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে এই অভিযানগুলোর বৈধতার ওপর যে কোনো ধরনের ধুলোবালি বা সন্দেহ নেই, তা জানার পর যারা ‘মাসলাহাত ও মাফাসিদ’ (কল্যাণ ও অকল্যাণ) কিংবা ‘আল-মাসালিহ আল-মুরসালাহ’-এর যুক্তিতে এই অভিযানগুলোকে হারাম বলেছেন, তাদের জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের একটু সেদিকে আলোকপাত করা প্রয়োজন।
“এই কাজটি করলে যে ক্ষতি হবে, তা না করার ক্ষতির চেয়ে বেশি” অথবা “কাজটি না করার মাঝে যে কল্যাণ রয়েছে, তা করার কল্যাণের চেয়ে বেশি”, এ ধরনের কথা বলার অধিকার সবার নেই। যে জানে এবং যে জানে না, সবাই মিলে এ ধরনের কথা বলে বেড়াবে, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। বরং ‘আল-মাসালিহ আল-মুরসালাহ’ হলো এমন একটি শাস্ত্র যার সুনির্দিষ্ট মূলনীতি রয়েছে। আর এই মূলনীতিগুলো না জানা পর্যন্ত কারও জন্যই এ বিষয়ে কথা বলা জায়েজ নেই।
‘আল-মাসালিহ আল-মুরসালাহ’ মূলত কিয়াসেরই বা শরঈ যুক্তির একটি প্রকার। কারণ, কিয়াসের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ হলো ‘ইল্লত’ বা কারণ। আর ইল্লতের জন্য ‘মুনাসাবাত’ তথা প্রাসঙ্গিকতা বা সামঞ্জস্য থাকা অপরিহার্য। এই মুনাসাবাত আবার চার ভাগে বিভক্ত, যার একটি প্রকার হলো ‘আল-মুনাসিব আল-মুরসাল’। এটি এমন একটি ইল্লত, যার ভেতরে কোনো শরঈ, দ্বীনি বা দুনিয়াবি প্রজ্ঞা ও কল্যাণ নিহিত থাকে; অথচ শরীয়ত প্রণেতা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এটিকে বাতিল বা গ্রহণ করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ দেননি। এই প্রকারটিকেই ‘আল-মাসালিহ আল-মুরসালাহ’ বলা হয়। এর পাঁচটি শর্ত বা মাপকাঠি উল্লেখ করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে:
- প্রথমত, এটি ‘জরুরিয়্যাহ’ বা অপরিহার্য হতে হবে; অর্থাৎ এটি শরীয়তের পাঁচটি মৌলিক সুরক্ষার (দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশ ও সম্পদের সুরক্ষা) ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
- দ্বিতীয়ত, এটি ‘কুল্লিয়্যাহ’ তথা সর্বজনীন হতে হবে; অর্থাৎ এর কল্যাণ সমস্ত মুসলিমের জন্য হতে হবে।
- তৃতীয়ত, এটি ‘কাতইয়্যাহ’ তথা অকাট্য হতে হবে; অর্থাৎ এটি অন্য কোনো শরঈ দলীল বা মূলনীতিকে বাতিল করবে না।
- চতুর্থত, এটি গ্রহণ করার ফলে এর চেয়ে বড় বা এর সমতুল্য কোনো ‘মাফাসিদ’ বা অকল্যাণ তৈরি হওয়া যাবে না।
- পঞ্চমত, এটি গ্রহণ করার ফলে এর চেয়ে বড় অথবা এর সমতুল্য কোনো ‘মাসলাহাত’ কিংবা কল্যাণ হাতছাড়া হওয়া যাবে না।
এই শর্তগুলো জানার পর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে কথা বলতে চান, তার জন্য এর ওপর আমল করার দুটি রুকনের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুকন বাস্তবায়ন করা বাকি থাকে। আর তা হলো, যে পরিস্থিতির জন্য কল্যাণ ও অকল্যাণ নির্ধারণ করা হবে, সেই পরিস্থিতির ‘ফিকহুল ওয়াকি’ তথা বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা; যাতে করে ফতোয়া আরোপ করার আগেই ফতোয়ার প্রয়োগক্ষেত্রের ‘তাহকিকুল মানাত’ তথা বাস্তব প্রেক্ষাপটের সাথে শরঈ বিধানের নিখুঁত সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।
বিভ্রান্ত আলেমদের প্রতি সতর্কবার্তা
বিষয়টি এত স্পষ্ট এবং এর দলীলগুলো এত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরও অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় হলো, অনেক দাঈ বা ইসলামী স্কলার আমেরিকার শোকে মাতম করতে গিয়ে, তাদের জন্য আক্ষেপ করতে গিয়ে, তাদের সাহায্য করার ফতোয়া দিতে গিয়ে এবং তাদের ‘নিরীহ’ নাগরিকদের জন্য রক্তদান করতে গিয়ে নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছেন! তারা এই অভিযান পরিচালনাকারীদের অপরাধী সাব্যস্ত করে এবং তাদের ইসলাম থেকে বের করে দিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন। তারা মুসলিমদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ক্রুসেডারদেরকে কথার অর্ধেকেরও বেশি অংশ দিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অথচ ফতোয়া প্রদানকারী প্রত্যেকেই খুব ভালো করে জানেন যে, আমেরিকার মূল লক্ষ হলো আফগান জনগণ এবং শায়খ উসামা বিন লাদেন (হাফিযাহুল্লাহ)।
তাই আমরা ওইসব আলেমের মুরতাদ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করছি। কারণ, তারা তাদের কথার মাধ্যমে ক্রুসেডারদের সাহায্য করেছেন অথবা আরব সরকারগুলোকে এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন যে, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে সহযোগিতা করা শরীয়তসম্মত, যার দ্বারা তারা মূলত মুজাহিদদের বুঝিয়ে থাকেন। আর এটি হলো এক লাগামহীন রিদ্দাহ বা ধর্মত্যাগ।
নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে আঘাত হানার এই ইশতিশহাদি অভিযানগুলোর বৈধতার সপক্ষে ওপরে যেসব উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, তা মূলত ‘হাকিকাতুল হারব আস-সালিবিয়্যাহ আল-জাদিদাহ’ (নতুন ক্রুসেড যুদ্ধের স্বরূপ) নামক বই থেকে নেওয়া হয়েছে। তাই কেউ যদি দলীলগুলো আরও বিস্তারিত জানতে চান এবং বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা পড়তে চান, তবে তিনি যেন এই পূর্ণাঙ্গ বইটি অধ্যয়ন করেন। আর আল্লাহই সরল-সঠিক পথের দিশারি।
وصل اللهم وسلم على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين
“হে আল্লাহ! আপনি আপনার রাসূল, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।”
১২/০২/১৪২৩ হিজরী
২৪/০৪/২০০২ ঈসায়ী
[1] আমরা ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক অভিযানের বীরদের অসিয়তগুলোর অনুবাদ স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করবো ইনশা আল্লাহ। – সম্পদনা বিভাগ
***************
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

![AQ || কাশ্মীরকে ভুলে যেও না! – শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ || [বাংলা ডাবিং ও সাবটাইটেল] AQ || কাশ্মীরকে ভুলে যেও না! – শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ || [বাংলা ডাবিং ও সাবটাইটেল]](https://i.imgur.com/qgG6dZy.jpg)

