আল-হিকমাহ মিডিয়ানির্বাচিতপিডিএফ ও ওয়ার্ডবই ও রিসালাহ [আল হিকমাহ]

Bengali Translation || ইয়েমেনে আমেরিকার বোমা হামলা প্রসঙ্গে কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ

مؤسسة الحكمة
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al Hikmah Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:

وقفات حول القصف الأمريكي على اليمن

ইয়েমেনে আমেরিকার বোমা হামলা প্রসঙ্গে
কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ

In the context of the U.S. bombing of Yemen
Some pertinent thoughts and observations

 

للشيخ أبو الحسن الهاشيمي حفظه الله
শায়খ আবুল হাসান আল-হাশিমি হাফিযাহুল্লাহ
By Shaykh Abul-Hasan Al-Hashimi Hafizahullah

 

 

روابط بي دي اف
PDF (609 KB)
পিডিএফ [৬০৯ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/pePrfbT5QdXBX42
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/5Fg3niFKMr3YasY
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/roZghJQB#fpPTSaQ0apSRvcNhJ5t_Ll_aYTc55HC8aJ68qO31iAs

روابط وورد
Word (379 KB)
ওয়ার্ড [৩৭৯ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/Z2KymzeQAFRRDQw
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/bAjMgDn9XCrFEBr
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/ekAWTKxQ#FYJsNW7fs1Zm_Sl7XbZxYiO2ckFqjY5GzpjgCOlKRbw

روابط الغلاف- ١
book Banner (698 KB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৬৯৮ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/zAbw4pHdNeMer8r
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/TxTLGijxPBEGWCy
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/v1RWiTbb#LRAxP-PxsX0aXpkuw_X9J0UBZ0deHhGCJ_QSDs7HGKs

روابط الغلاف- ٢
Banner [187 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [১৮৭ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/Fmt3D2G6i7And4Q
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/cJ2cAgQ6HaMGDkt
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/Ooo21KgI#zNpjGHNpPKqFFPF4e1z805sZ9b8paiCfGGzcAjFcJaQ

*************

ইয়েমেনে আমেরিকার বোমা হামলা প্রসঙ্গে

কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ

 

যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি বলেছেন:

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ. إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهُ ۚ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ ۗ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ

“আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমাদেরকে কোনো আঘাত স্পর্শ করে থাকে, তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও (শত্রুদের) স্পর্শ করেছে। আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মাঝে আবর্তিত করি, যাতে আল্লাহ মুমিনদেরকে জেনে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদেরকে ভালোবাসেন না।” (সূরা আলে-ইমরান- ০৩:১৩৯-১৪০)

আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর, যিনি বলেছেন:

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ

“মুমিনের বিষয়টি কতই না বিস্ময়কর! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর, আর মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য এমনটি হয় না। যদি তাকে কোনো আনন্দদায়ক বিষয় স্পর্শ করে, তবে সে শুকরিয়া আদায় করে; ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তাকে কোনো ক্ষতিকর বিষয় বা দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তবে সে ধৈর্য ধারণ করে; ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।” (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)

এবং (আরও দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের সকলের ওপর।

হামদ ও সালাতের পর,

ইসলামের শত্রুদের অপরাধযজ্ঞ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আমাদের জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত রয়েছে। আমরা এখনও ঈর্ষণীয় আত্মমর্যাদাবোধ এবং পূর্ব তুর্কিস্তানে আমাদের মুসলিম ভাইদের প্রতি সমর্থনের বুক ভরা আবেগ নিয়ে লক্ষ করছি যে, নাস্তিক ও কাফের চীনা সরকার তাদের ওপর কী নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখানে গণহত্যা, হত্যা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে; এমনকি তাদেরকে তাদের ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রমযান মাসে জোরপূর্বক রোযা ভাঙতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তাদের আলেম ও দাঈদের হত্যা করা হচ্ছে। আর আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমরা এখনও যুদ্ধের ময়দান এবং রণাঙ্গনের জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, যাতে আমরা ইজ্জতের অধিকারী গাজায় আমাদের নিপীড়িত মুসলিম ভাইদের সাহায্য করতে পারি, যাদের বিরুদ্ধে মার্কিন-সমর্থিত জায়নবাদীদের (ইহুদীবাদীদের) অপরাধযজ্ঞ এখনও চলমান।

আমরা কখনোই গাফেল হবো না। আমরা ইসলামের আসন্ন ভোরের প্রতীক্ষায় রয়েছি এবং পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আমাদের ক্ষত-বিক্ষত উম্মাহর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, যারা দিনরাত তাদের শত্রুদের চক্রান্তের শিকার হচ্ছে:

وَإِن كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ

“যদিও তাদের চক্রান্ত এমন ছিল যে, তাতে পাহাড় টলে যাবে।” (সূরা ইবরাহীম- ১৪:৪৬)

আর ঈমান ও প্রজ্ঞার দেশ (ইয়েমেন)-ও ইসলামের শত্রুদের অপরাধযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। বছরের পর বছর ধরে ক্রুসেডার আমেরিকার যুদ্ধ বিমানগুলো তাদের আকাশ সীমার পবিত্রতা লঙ্ঘন করে চলেছে। তারা আমাদের গোপনীয়তা উন্মোচিত করছে এবং এই পবিত্র ও বরকতময় ভূমিতে আমাদের মুসলিম সন্তানদের ওপর সময় সময় বোমা বর্ষণ করছে।

এই ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের কিছু ভাবনা ও অবস্থান রয়েছে:

প্রথমত, আমাদের মুজাহিদ ভাইদের প্রতি  

আমাদের ভাই ও সন্তানদের মধ্য থেকে এমন একটি দলের শাহাদাতের সুসংবাদে আমরা অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের সাথে আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি, যাদেরকে আল্লাহ এই পথে অবিচল থাকার তাওফীক দিয়েছেন। তীব্র কষ্ট ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করেছে, যাতে দ্বীন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য নিবেদিত হয়ে যায়। অবশেষে আল্লাহ তাদের জীবনকে তাঁর পথে শাহাদাতের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। আমরা তাদেরকে এমনই মনে করি, আর আল্লাহই তাদের চূড়ান্ত হিসাব গ্রহণকারী। তারা সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল, পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেনি।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁদের সকলকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ যেন শেষ বিচারের দিনে তাঁদেরকে আমাদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেন। যে দিনে সম্পদ কিংবা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে, যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।

আর আমাদের রব যা পছন্দ করেন, তা ছাড়া আমরা আর কিছুই বলি না। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্যই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া আমাদের কোনো শক্তি অথবা সামর্থ্য নেই।

হে বীর মুজাহিদগণ! এটি হলো আল্লাহর পথে হিজরত এবং জিহাদের পথ; পৃথিবীতে আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার, তাঁর আইন দ্বারা শাসন করার এবং আমাদের মুসলিম উম্মাহর ওপর থেকে নিপীড়ন দূর করার পথ। আর এই পথে আল্লাহ আমাদের ভাগ্যলিপিতে যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো বিপদ আমাদের স্পর্শ করবে না:

قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

“বলুন, ‘আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া কিছুই আমাদের বিপদে ফেলবে না; তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করা’।” (সূরা আত-তাওবাহ- ৯:৫১)

সুতরাং আল্লাহ আমাদের রক্ষাকারী, আর কাফের ও তাদের মুরতাদ সাহায্যকারীদের কোনো রক্ষাকারী নেই। আল্লাহ আমাদের তাদের অনিষ্ট এবং চক্রান্ত থেকে রক্ষা করুন:

وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ ۖ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ

“তারা চক্রান্ত করে, আর আল্লাহও কৌশল করেন; এবং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী।” (সূরা আল-আনফাল- ৮:৩০)

আর মনে রাখবেন হে প্রিয় ভাইয়েরা, আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেন, তা কল্যাণকরই হয়। আর তা হলো দুটি উত্তম পরিণতির যেকোনো একটি: হয় বিজয়, নয়তো তাঁর পথে শাহাদাত:

قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ ۖ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَن يُصِيبَكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِندِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا ۖ فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُم مُّتَرَبِّصُونَ

“বলুন, ‘তোমরা তো আমাদের জন্য দুটি কল্যাণের যেকোনো একটির প্রতীক্ষা করছ। আর আমরা তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় রইলাম’।” (সূরা আত-তাওবাহ- ৯:৫২)

আমাদের সন্তান ও ভাইদের হত্যা আমাদেরকে কখনোই আল্লাহর পথে হিজরত ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয় যে, আমাদের সন্তানরা যুদ্ধের ময়দানে সত্যের ওপর অবিচল থেকে নিহত হয়েছে, তারা নিজেদের আদর্শ পরিবর্তন কিংবা বিকৃত করেনি। ঠিক যেমন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধক্ষেত্র ও রণাঙ্গনগুলোতে আমাদের ভাইয়েরা নিহত হচ্ছেন। ঠিক যেমন অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের সম্মানিত গাজায় আমাদের ভাইয়েরা, পবিত্র আল-আকসার জবর দখলকারী ইহুদীদের হাতে নিহত হচ্ছেন। আমরা তাদের সকলকে আল্লাহর কাছে শহীদ হিসেবেই গণ্য করি, আর আল্লাহর ওপরে আমরা কারো পবিত্রতা ঘোষণা করি না।

আমরা যদি একেবারে নিশ্চিহ্নও হয়ে যাই, তাতেও আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, শেষ বিচারের দিন হাশরের ময়দানে যখন আমরা আমাদের রবের (যিনি পুণ্যময় ও মহিমান্বিত) সাথে মিলিত হবো, তখন তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করবেন—যদিও তিনি সর্বজ্ঞ— “তোমরা রাসূলদের কী জবাব দিয়েছিলে? তোমরা তোমাদের ভাইদের সাহায্যে কী অগ্রসর করেছিলে?”

আমরা সেই মুহূর্তে তাঁকে উত্তর দেব: “আমরা আপনার আদেশে সাড়া দিয়েছিলাম হে আমাদের রব! আমাদের যা সামর্থ্য ছিল, আমরা তা প্রস্তুত করেছিলাম এবং আপনার পথে লড়াই করেছিলাম, যতক্ষণ না আমরা নিহত হয়েছি।”

আল্লাহর পথে জিহাদ হলো এক লাভজনক ব্যবসা; যে এতে প্রবেশ করে সে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ করে এবং চিরস্থায়ী নেয়ামত অর্জন করে। আর সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যাকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে গ্রহণ করেন:

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ. فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ. يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ

“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে মৃত ভেবো না। বরং তারা জীবিত; তাদের রবের কাছে তারা রিযিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত। আর যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি, যারা তাদের পেছনে রয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে তারা এই সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হয় যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহের সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হয়, এবং এ কারণেও যে, আল্লাহ মুমিনদের পুরস্কার বিনষ্ট করেন না।” (সূরা আলে-ইমরান- ০৩:১৬৯-১৭১)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ. وَلَا تَقُولُوا لِمَن يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ. وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ. الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ. أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে ‘মৃত’ বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না। আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করব; আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা নিজেদের ওপর কোনো বিপদ এলে বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্যই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ এরাই তারা, যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর এরাই হলো হেদায়াতপ্রাপ্ত।” (সূরা আল-বাকারাহ- ২:১৫৩-১৫৭)

সুতরাং, হে সম্মানিত মুজাহিদগণ! এই যে আপনাদের সাহসী ও বীর ভাইয়েরা পৃথিবী এবং ইতিহাসের কাছে প্রমাণ করে দিয়ে বিদায় নিয়েছেন যে, এই উম্মাহর মধ্যে এমন পুরুষও রয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়:

مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ ۖ فَمِنْهُم مَّن قَضَىٰ نَحْبَهُ

“মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু পুরুষ রয়েছে, যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের লক্ষ পূরণ করেছে (শাহাদাত বরণ করেছে)…” (সূরা আল-আহযাব- ৩৩:২৩)

অতএব, আপনারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হোন, যাদের কথা সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী রব পবিত্র আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন:

وَمِنْهُم مَّن يَنتَظِرُ ۖ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا

“…আর কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। আর তারা নিজেদের অঙ্গীকারে সামান্য পরিমাণও পরিবর্তন করেনি।” (সূরা আল-আহযাব- ৩৩:২৩)

আমার সত্তা ও আমার ডান হাত যা কিছু ধারণ করে, তার সবকিছু কুরবান হোক সেই অশ্বারোহী বীরদের জন্য, যাদের সম্পর্কে আমার ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। সেই বীরযোদ্ধারা, যারা মৃত্যুকে (লড়াইকে) কখনও বিরক্তিকর মনে করে না, এমনকি যখন সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধের ধুলাবালি উড়তে থাকে তখনও।

 

দ্বিতীয়ত, উম্মাহর তরুণদের প্রতি

এই দ্বীন ও তাদের ভাইদের সাহায্য করার জন্য যে তরুণরা ব্যাকুল হয়ে আছে, আমরা তাদের বলছি: নিজেদের প্রস্তুত করুন এবং এমন কিছু শিখুন যা দ্বারা আপনারা আপনাদের উম্মাহর উপকার করতে পারেন, আর এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রতিদানের আশা রাখুন।

وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ

“আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখো, যাতে তোমরা এর মাধ্যমে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের এবং তাদের ছাড়া অন্যদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করতে পারো, যাদেরকে তোমরা জানো না, কিন্তু আল্লাহ তাদের জানেন।” (সূরা আল-আনফাল- ৮:৬০)

আজকের জিহাদে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার তীব্র প্রয়োজন। তাই আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার দ্বীনের খেদমতে যা কিছু কাজে লাগাতে পারেন তা শিখে নিন, যাতে আপনি আপনার মজলুম ভাইদের সাহায্য করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারেন। চলমান ঘটনাগুলো পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশাল বিজয়ের সুসংবাদ বহন করছে। সুতরাং আগামী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হোন, কেননা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণ ধেয়ে আসছে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে কাফেরদের পতনের লক্ষণগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধগুলো প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাদের জঘন্য, কুৎসিত এবং লজ্জাজনক কাজগুলো উন্মোচিত হয়ে গেছে, যা মানুষের সুস্থ বিবেক (ফিতরাত) প্রত্যাখ্যান করে; যে কাজগুলো দেখে মানুষের আগেই শয়তানরা চমকে ওঠে এবং বিতৃষ্ণাবোধ করে। আমেরিকার ‘জুলুম বিভাগ’—যাকে তারা ‘বিচার বিভাগ’ বলে দাবি করে—ইহুদী জেফরি এপস্টেইনের যে নথিগুলো প্রকাশ করেছে, তা এই অহংকারী দেশগুলোর রাজনীতিবিদ ও নেতাদের আসল চেহারা উন্মোচিত করেছে। এটি এই ভুয়া সভ্যতার পতনের সূচনা মাত্র; যে সভ্যতা একটি মরীচিকার মতো, যাকে তৃষ্ণার্ত মানুষ ভুল করে মরুদ্যান বলে মনে করেছিল।

তৃতীয়ত, এই উম্মাহর সম্মানিত ও সৎ আলেমদের প্রতি

যাদের কাছ থেকে আল্লাহ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তারা মানুষের কাছে সত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন এবং তা কখনও গোপন করবেন না। সূরা আল-বাকারাহ ও আলে-ইমরানের ধারক-বাহক এবং সূরা আত-তাওবাহ ও আল-আনফালের হাফেজদের প্রতি:

রণাঙ্গনে আপনাদের মুজাহিদ সন্তানদের শাহাদাতের খবর কি আপনাদের কাছে পৌঁছায়নি? যারা প্রখর রোদ ও উত্তাপের মাঝে এমন ভূমিতে পা ফেলে, যা কাফেরদের ক্রুদ্ধ করে। আপনারা কি জানেন না যে, ক্রুসেডাররা পবিত্রতা লঙ্ঘন করছে, রক্তপাত হালাল মনে করছে, মানুষের গোপনীয়তা নষ্ট করছে, বাড়ি-ঘরে বোমা বর্ষণ করছে এবং নারী ও শিশুদের আতঙ্কিত করছে? উম্মাহ তাদের ভাইদের সাহায্যে জেগে উঠছে না দেখেই তারা এখনও তাদের এই অপরাধযজ্ঞে অটল রয়েছে।

নাকি আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে দ্বীন একটি অপরিচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে? যে সম্পর্কে মুস্তফা (মুহাম্মাদ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন: “ইসলামের শুরু হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায়, আর তা পুনরায় আগের মতোই অপরিচিত হয়ে যাবে। সুতরাং সুসংবাদ সেই অপরিচিতদের (গুরাবা) জন্য।”

তাই আজ আপনাদের দিন, আপনাদের মুসলিম উম্মাহর সামনে সত্যকে স্পষ্ট করার দিন। তাওহীদের সীমানা, পবিত্র স্থানসমূহ এবং সম্মান রক্ষার জন্য যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ আপনাদের সন্তানদের সাহায্য করার আহ্বান জানানোর দিন আজই। আমরা অবগত আছি যে, আবিয়ানের আল-মাজালাহ এলাকায় মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর বোমা হামলার পর আপনাদের অনেকেই জিহাদকে ফরয ঘোষণা করে ফতোয়া দিয়েছিলেন, যার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। কিন্তু এটুকু মোটেও যথেষ্ট নয়। কারণ আক্রমণকারী শত্রুর আগ্রাসন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

উম্মাহর তরুণদের উদ্দীপ্ত করা এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদার পথ অর্থাৎ আল্লাহর পথে হিজরত ও জিহাদের পথ, যা নবী ও রাসূলগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) পথ, সেদিকে তাদের পরিচালিত করা আপনাদের জন্য ফরয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنْ أَغْزُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلَ، ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ، ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ

“সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমি আল্লাহর পথে লড়াই করি এবং শহীদ হই, আবার লড়াই করি এবং শহীদ হই, আবার লড়াই করি এবং শহীদ হই।” (সহীহ মুসলিম: ১৮৭৬)

আমরা আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, এই বছরের রমযান ও তার পরবর্তী সময়ের ইবাদতগুলোর সাথে যেন আপনারা কথা বলার জিহাদ এবং সত্যকে উচ্চস্বরে ঘোষণা করার ইবাদতকেও যুক্ত করেন। কারণ, যিনি আমাদের ওপর রোযা এবং সালাত ফরয করেছেন, তিনিই আল্লাহর পথে জিহাদকেও ফরয করেছেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমনটি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া (পরহেজগারি) অর্জন করতে পারো।” (সূরা আল-বাকারাহ- ২:১৮৩)

كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

“তোমাদের ওপর লড়াই ফরয করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করো, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করো, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই ভালো জানেন, আর তোমরা জানো না।” (সূরা আল-বাকারাহ- ২:২১৬)

فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ ۚ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ عَسَى اللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنكِيلًا

“সুতরাং আপনি আল্লাহর পথে লড়াই করুন; আপনি শুধু নিজের জন্যই দায়ী। আর আপনি মুমিনদেরকে উদ্বুদ্ধ করুন; আশা করা যায় আল্লাহ কাফেরদের শক্তি খর্ব করবেন। আর আল্লাহ শক্তিতে প্রবলতর এবং শাস্তিদানেও কঠোরতর।” (সূরা আন-নিসা ০৪:৮৪)

আমরা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, এই মহান দ্বীনকে সাহায্য করা একটি বিরল সম্মান, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে দান করেন। তাই এই সম্মান যেন আপনাদের হাতছাড়া না হয়। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনাদের এবং আমাদেরকে দ্বীনের সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

পরিশেষে: ইয়েমেনের গোত্রগুলোর প্রতি

আমার এই বার্তা ইয়েমেনের সেই সব গোত্রের প্রতি, যারা মূলত সমর্থন, সহযোগিতা ও প্রতিরোধের এক জীবন্ত প্রতীক। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে তাঁর পথে হিজরতকারী ভাইদের আশ্রয় ও সাহায্য করার মতো এক বিরল মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। নিজেদের দ্বীন রক্ষার্থে এবং মজলুম উম্মাহর সাহায্যে এগিয়ে আসতে গিয়ে এই মুহাজির ভাইয়েরা নিজেদের ভিটে মাটি ও সহায়-সম্পদ ছেড়ে নির্বাসিত হয়েছেন। কিন্তু এখানে এসে তাঁরা তাঁদের আনসার ভাইদের মাঝে খুঁজে পেয়েছেন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ, এক নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রতিরক্ষার এক সুদৃঢ় অবলম্বন।

অতএব, হে মহান গোত্রসমূহ! আপনাদের এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের জন্য মোবারকবাদ। রবের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই সুমহান তাওফীক ও সক্ষমতার জন্য অভিনন্দন। আর আপনাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক—এর দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির সুসংবাদ আপনারা সগৌরবে গ্রহণ করুন, যেখানে তিনি বলেছেন:

مَا مِنِ امْرِئٍ يَخْذُلُ امْرَأً مُسْلِمًا فِي مَوْضِعٍ تُنْتَهَكُ فِيهِ حُرْمَتُهُ، وَيُنْتَقَصُ فِيهِ مِنْ عِرْضِهِ، إِلَّا خَذَلَهُ اللَّهُ فِي مَوْطِنٍ يُحِبُّ فِيهِ نُصْرَتَهُ. وَمَا مِنِ امْرِئٍ يَنْصُرُ مُسْلِمًا فِي مَوْضِعٍ يُنْتَقَصُ فِيهِ مِنْ عِرْضِهِ، وَيُنْتَهَكُ فِيهِ مِنْ حُرْمَتِهِ، إِلَّا نَصَرَهُ اللَّهُ فِي مَوْطِنٍ يُحِبُّ نُصْرَتَهُ

“কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো মুসলিমকে সাহায্য না করে (তাকে পরিত্যাগ করে) এমন স্থানে যেখানে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং পবিত্রতা লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তবে আল্লাহ তাকে এমন এক পরিস্থিতিতে সাহায্য থেকে বঞ্চিত করবেন, যেখানে সে আল্লাহর সাহায্য কামনা করবে। পক্ষান্তরে, কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো মুসলিমকে সাহায্য করে এমন স্থানে যেখানে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং পবিত্রতা লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তবে আল্লাহ তাকে এমন এক পরিস্থিতিতে সাহায্য করবেন, যেখানে সে আল্লাহর সাহায্য কামনা করবে।” (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৮৪)

আমরা মহামহিম ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করেন, আপনাদের মর্যাদা উন্নত করেন এবং তাঁর দ্বীন ও তাঁর মুজাহিদ বান্দাদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে আপনাদের শক্তিকে সুদৃঢ় করেন।

হে আল্লাহ! ইসলামকে সম্মানিত করুন এবং মুসলিমদের সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! গাজা ও ফিলিস্তিন, বার্মা, পূর্ব তুর্কিস্তান, ইসলামী মাগরিব, চেচনিয়া, দাগেস্তান, কাশ্মীর, ভারত, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন এবং বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আমাদের নিপীড়িত ভাইদের সহায় হোন। হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমাদের এবং মুসলিমদের কোনো ক্ষতি করতে চায়, তাকে তার নিজের কাজেই ব্যস্ত করে দিন এবং তার চক্রান্তকে তারই বিরুদ্ধে উল্টে দিন। হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে ইচ্ছা এবং যা দিয়ে ইচ্ছা, তাদের মোকাবিলায় আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাদেরকে আমাদের থেকে প্রতিহত করুন।

হে আল্লাহ! আপনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং আপনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া আমাদের কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

আর আমাদের শেষ কথা হলো: যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্যই।

**********

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الحكمة للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =

Back to top button