আশ শুহাদা মিডিয়ানির্বাচিতপিডিএফ ও ওয়ার্ড

Bengali Translation || আফগানিস্তানের বিচারিক নীতিমালা প্রসঙ্গে বিবিসির সাথে ইসলামি ইমারতের মুখপাত্র মৌলভি জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ -এর সাক্ষাৎকার

مؤسسة الشهداء
আশ শুহাদা মিডিয়া
Ash Shuhada Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:

الحوار الصحفي للمتحدث باسم إمارة أفغانستان الإسلامية مع قناة بي بي سي

আফগানিস্তানের বিচারিক নীতিমালা প্রসঙ্গে বিবিসির সাথে ইসলামি ইমারতের মুখপাত্র
মৌলভি জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ -এর সাক্ষাৎকার

An interview with the BBC by Maulvi Zabihullah Mujahid Hafizahullah, spokesman for the Islamic Emirate on Afghanistan’s judicial policy

روابط بي دي اب
PDF (675 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬৭৫ কিলোবাইট]

লিংক- ১ : https://archive.gnews.to/s/2K384fYzmzbi3Ln
লিংক- ২ : https://banglafiles.net/index.php/s/WdX65mSodTibNbF
লিংক- ৩ : https://mega.nz/file/c3JWQKpI#5OPjJ67CJPnhBGy0mN9Krsx8-YjXF6QL5IW12ASiQMg

روابط ورد
Word (572 KB)
ওয়ার্ড [৫৭২ কিলোবাইট]

লিংক- ১ : https://archive.gnews.to/s/NNKPogR294NyNoR
লিংক- ২ : https://banglafiles.net/index.php/s/d86ttwEo3MTPLCH
লিংক- ৩ : https://mega.nz/file/s6AkSRoa#K5DelzoCTfeeogtQ0JJVzZP00UMSU2maQNSzDgIySXU

روابط الغلاف- ١
book Banner [1.3 MB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৩ মেগাবাইট]

লিংক- ১ : https://archive.gnews.to/s/CApPib4kg23Jtr9
লিংক- ২ : https://banglafiles.net/index.php/s/z3FbCQDGX3BfCiY
লিংক- ৩ : https://mega.nz/file/NiJVTBbJ#D9Gq_dYRdGp6sO89sMzL-KR8mjo3lJrIFhJ2eMScD5k

روابط الغلاف- ٢
Banner [2.1 MB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [২.১ মেগাবাইট]

লিংক- ১ : https://archive.gnews.to/s/2QmRTfSyDi4e6w5
লিংক- ২ : https://banglafiles.net/index.php/s/oQWgEdZzDfyTZoB
লিংক- ৩ : https://mega.nz/file/YvoTASbI#Kg0vuif3MdPoNwE1bjMA0rkOQhvptAAVkTPLD1MDbbc

*********

২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসলামি ইমারত আফগানিস্তানের মুখপাত্র মৌলভি জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে ‘বিবিসি পশতু’। ইসলামি ইমারতের বিচারিক নীতিমালার বিবিধ দিক নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘আস-সুমুদ’ পত্রিকা সেই সাক্ষাৎকারের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও প্রতিলিপি পাঠকদের সুবিধার্থে হুবহু উপস্থাপন করছে:

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। শুরুতেই আপনাকে এবং আপনাদের অগণিত শ্রোতা ও দর্শককে জানাই আন্তরিক অভিবাদন; আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

‘বিচারিক নীতিমালা’ প্রসঙ্গে একটি বিষয় স্মরণ করা প্রয়োজন। ইসলামি ইমারতের সংগ্রাম চলাকালেও আমাদের আদালতগুলোর অস্তিত্ব ছিল। আদালতের জন্য তখনো একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রন্থিত ছিল এবং ইসলামি শরিয়াহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই বিচারকার্য ও রায় প্রদান করা হতো। মূলত সেই পুরনো নীতিমালাটিকেই এখন পুনর্মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, অতীতের আর বর্তমানের পরিস্থিতি এক নয়। সে সময় যুদ্ধের পরিবেশ বিরাজ করছিল; আমাদের কর্মপরিধিও ছিল সীমিত। কিন্তু আজ সমগ্র আফগানিস্তান একটি ছাতার নিচে সমবেত হয়েছে। বিচারিক বিষয়াবলি ও আদালতগুলোর আওতা এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। ফলে এই নীতিমালার আধুনিকীকরণ ও যুগোপযোগী করার প্রয়োজন ছিল। শরিয়াহ ও হানাফি ফিকহের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি অনুযায়ী এটি নতুনভাবে সংকলন করা হয়েছে।

বিবিসি উপস্থাপক: এই নতুন নীতিমালা জনমনে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথম প্রশ্নটি হলো, আফগানিস্তানের অতীত সরকারগুলোর সুনির্দিষ্ট সংবিধান ছিল, যার অধীনে সব নাগরিকের অধিকার সমান বলে গণ্য হতো। কিন্তু নতুন এই আইনে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর কারণ কী?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: এখানে একটি বড় ধরনের ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। যারা এই নীতিমালার সমালোচনা ও বিরোধিতা করছেন, মনে হচ্ছে তাদের তথ্যে ঘাটতি রয়েছে। এটি কি আদালত পরিচালনার জন্য তৈরি কোনো কার্যবিধি, নাকি দেশের মূল সংবিধান—তাঁরা এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না। বিষয়টি মোটেও তাঁদের ধারণার মতো নয়। সংবিধান সম্পূর্ণ আলাদা একটি দলিল, যেখানে রাষ্ট্রের কাঠামো ও সরকারের গঠনপ্রণালি নিয়ে আলোচনা থাকে। অন্যদিকে এই নীতিমালাটি কেবল আদালতের অধিকার ও ক্ষমতার পরিধি নিয়ে কাজ করে। ইসলামি শরিয়াহতে অধিকার ও শাস্তি সংক্রান্ত আইনগুলোকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

প্রথমত, হুদুদুল্লাহ (আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধি)। এগুলো সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় দণ্ড। এ ক্ষেত্রে আইনের চোখে সব মানুষ পুরোপুরি সমান। যখনই শর্তাবলি পূরণ হবে এবং প্রমাণ সাব্যস্ত হবে, তখনই সবার ওপর সমভাবে এই শাস্তি কার্যকর করা হবে। যে কেউই এমন কোনো অপরাধ করবে—আল্লাহ রক্ষা করুন—যার ফলে হদ্দ বা নির্ধারিত শাস্তি ওয়াজিব হয়ে যায়, তার ওপর বিনা বৈষম্যে সেই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

দ্বিতীয়ত, হুকুকুল ইবাদ (বান্দার অধিকার)। অর্থাৎ, এমন পরিস্থিতি যেখানে এক ব্যক্তির ওপর অন্য ব্যক্তির অধিকার থাকে। এ ক্ষেত্রেও কারও কোনো অগ্রাধিকার নেই। এমনকি মুসলমানদের আমিরের (রাষ্ট্রপ্রধানের) বিরুদ্ধেও যদি কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং সে মামলা দায়ের করে, তবে আদালত নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী রায় প্রদান করবে। এটি ইসলামের একটি শাশ্বত মূলনীতি এবং এর সুস্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে।

তৃতীয়ত, তাযীর বা তাযিরাত (শর্তসাপেক্ষ বা বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি)। বিচারিক ও শরিয়াহ বিষয়ে যাঁদের ন্যূনতম জ্ঞান আছে, তাঁরা জানেন যে তাযীর একটি অর্পিত বিষয়। অর্থাৎ, এর পরিমাণ নির্ধারণের এখতিয়ার মুসলমানদের আমিরের ওপর ন্যস্ত। আমির চাইলে এই এখতিয়ার বিচারকের কাছে হস্তান্তর করতে পারেন, যাতে তিনি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী উপযুক্ত তাযীর বা শাস্তি নির্ধারণ করতে পারেন। সুতরাং, তাযীর সমকালীন আমিরের ওপর ছেড়ে দেওয়া একটি বিষয়। তাছাড়া, তাযীরের মূল উদ্দেশ্য কেবল নিছক শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সংশোধন ও ভীতি প্রদর্শন। অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এর আসল লক্ষ্য।

বিবিসি উপস্থাপক: এখানেই একটি প্রশ্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে চলে আসে। এই নীতিমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ের নবম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, অপরাধীর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে তাযীর বা শাস্তির স্তর ভিন্ন হবে:

  • ১. আলেম ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের তাযীর;
  • ২. অভিজাত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের তাযীর;
  • ৩. সমাজের মধ্যবিত্ত বা সাধারণ শ্রেণির তাযীর;
  • ৪. সমাজের নিম্নস্তরের মানুষের তাযীর।

এই বৈষম্য কেন তৈরি করা হলো? এটি কি সমাজকে শ্রেণিবিভক্ত করার শামিল নয়?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: আপনি যদি আইনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে এর নিচে কিছু টীকা ও প্রান্তটীকা দেখতে পাবেন। সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভুলভাবে শরিয়াহর মূল উৎসগুলোর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘রদ্দুল মুহতার’ এবং ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’ (ফতোয়ায়ে আলমগীরি)-সহ হানাফি ফিকহের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; আলেমদের কাছে এই বইগুলো অত্যন্ত সুপরিচিত এবং সর্বজনস্বীকৃত। এসব উৎসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাযীরের রূপ ভিন্ন হয়। আমরা আগেই বলেছি, অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্যই তাযীরের বিধান দেওয়া হয়েছে। সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধের কারণে সামান্য সতর্ক করলেই অপরাধ থেকে ফিরে আসেন। কিন্তু পেশাদার ও অভ্যস্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়, তাদের জন্য আরও কঠোর শাস্তি প্রয়োজন। কখনো কখনো একজন মানুষকে কেবল ডেকে এনে উপদেশ দিলেই সে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত হয়। আবার কাউকে কারাবাস বা শারীরিক শাস্তি না দিলে সে কিছুতেই থামে না। সমাজের মানুষের প্রকৃতি ও মানসিকতা যখন ভিন্ন, তখন তাযীর বা সংশোধনের পদ্ধতিও স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন হবে। আরও একটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন: এই আইনগুলো আমাদের কল্পনাপ্রসূত কোনো উদ্ভাবন নয়। এগুলো হানাফি ফিকহ থেকে হুবহু উদ্ধৃত। আমি যেসব উৎসের নাম উল্লেখ করেছি, সেখানে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সমাজের বিভাজন ও তার ওপর ভিত্তি করে তাযীরের রূপ কেমন হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিবিসি উপস্থাপক: হ্যাঁ, নীতিমালাটি আমার হাতেই আছে এবং আরবি ভাষায় বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাও সেখানে রয়েছে। আপনার কথাও সঠিক। তবে প্রশ্ন হলো, ব্যক্তিভেদে মানুষের পরিস্থিতি তো ভিন্ন হতেই পারে। এমনও তো হতে পারে, যাকে আপনারা ‘নিম্নস্তর’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছেন, সে অন্যদের চেয়ে কথা দ্রুত বোঝে এবং আরও সূক্ষ্মভাবে আইন মেনে চলে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে ‘নিম্নস্তর’-এর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হবে না; বরং সে মধ্যবিত্ত বা সাধারণ শ্রেণিতে যুক্ত হয়ে যাবে। মূলত ‘নিম্নস্তরের ব্যক্তি’ বলতে এখানে বারবার অপরাধকারী পেশাদারদের বোঝানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি চুরির দায়ে বারবার ধরা পড়েছে, কিংবা বারবার জঘন্য ও নিন্দনীয় অপরাধ করেছে এবং সতর্ক করার পরও তার সংশোধন হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে—ব্যক্তির অবস্থা এবং সমাজে তার সৃষ্ট বিপর্যয়ের মাত্রা বিবেচনা করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠাতে বাধ্য হন। অন্যদিকে, সামাজিকভাবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির ভেতরে যদি আত্মসম্মানবোধ ও প্রজ্ঞা থাকে—যেমন ধরুন কোনো গোত্রের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা—তবে তাকে কেবল তিরস্কার করলেই তিনি সংশোধিত হয়ে যেতে পারেন। তাঁর জন্য এই তিরস্কারটিই আরেকজনের কারাবাসের সমতুল্য ভীতি তৈরি করে। আমরা আগেই বলেছি, সমাজের সার্বিক কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখে শাস্তির ধরন নির্ধারণের এই এখতিয়ার সমকালীন আমির ও বিচারকের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি: এক বাবার দুই ছেলে আছে। একজন বেশ শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান। সে কোনো ভুল করলে বাবার একটি উপদেশই তার সংশোধনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আরেক ছেলে চরম অবাধ্য; বারবার মাদক সেবন করে এবং খারাপ বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করে। তখন বাবা বাধ্য হয়েই তার সাথে কঠোর আচরণ করেন, যা প্রহার করা বা ঘরে আটকে রাখা পর্যন্ত গড়াতে পারে। দুজনই তার সন্তান, কিন্তু দুজনের পরিস্থিতি ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করেই বাবা সংশোধনের আলাদা আলাদা পদ্ধতি বেছে নেন।

বিবিসি উপস্থাপক: চমৎকার! আপনি কি জনগণকে এই বলে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, আপনাদের সরকারের কোনো সদস্যের দ্বারা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তাকেও শাস্তি দেওয়া হবে? অনেকেই অভিযোগ করেন, সরকারি লোকজনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: না, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। এই নীতিমালা আমাদের কোনো ব্যক্তিগত আবিষ্কার নয়; বরং এগুলো হলো সেসব ফিকহি মূলনীতি, যা মাযহাবের ইমামগণ প্রণয়ন করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। ফিকহ সম্পর্কে যাঁর ন্যূনতম ধারণাও আছে, তিনি এই কথাটি খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। আমরা কেবল আরবি ইবারত বা বাক্যগুলোকে পশতু ভাষায় অনুবাদ করেছি।

এখানে ‘আশরাফ’ (অভিজাত বা সম্মানিত) বলতে কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের বোঝানো হয়নি; বরং এর মধ্যে সাইয়্যেদ (নবীজির বংশধর), গোত্রপ্রধান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। শহরের সাধারণ বাসিন্দারা বেশিরভাগ সময়ই মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে পড়েন। তবে এমন এক শ্রেণির মানুষ আছে—আল্লাহ রক্ষা করুন—যারা অভ্যস্ত অপরাধী, মাদকাসক্ত, কিংবা যারা কিছুতেই অপরাধ থেকে বিরত হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই তাযীর বা শাস্তির মাত্রা বাড়াতে হয়, এবং এটি বিচারকের সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত এখতিয়ার।

বিবিসি উপস্থাপক: আরেকটি প্রশ্ন; এই আইনের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের অষ্টম ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বা বিশ্বাসের বিরোধিতা করবে, তাকে বিদআতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এমন ব্যক্তিকে কেন বিদআতি বলা হবে?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: এটি শরিয়াহর বিধান। যে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের গণ্ডির ভেতরে থাকার পরও দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো বিষয় (বিদআত) প্রবেশ করায় এবং এমন কিছু আবিষ্কার করে যার কোনো অস্তিত্ব দ্বীনে নেই, শরিয়াহর পরিভাষায় তাকেই বিদআতি বলা হয়। এ বিষয়ে নবীজির একাধিক হাদিস প্রমাণ হিসেবে রয়েছে। সমাজে বিভেদ রোধ করা এবং ইসলামি আকিদার ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে এমন ব্যক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া অপরিহার্য।

বিবিসি উপস্থাপক: জনাব মুজাহিদ! ‘শিয়া’ সম্প্রদায়ের বিষয়ে আমাদের আরও একটু স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন। আফগানিস্তানে বসবাসরত শিয়া নাগরিকদের বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? উদাহরণস্বরূপ, শিয়াদের নিজস্ব ‘জাফরি ফিকহ’ রয়েছে; এই বিধানটি কি তাদের ওপরও কার্যকর হবে, নাকি হবে না?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: সমস্যাটি আবারো সেই আইনকে ভুল বোঝার জায়গাতেই ফিরে যাচ্ছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, মানুষ এটি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না। আপনারা যেভাবে ভাবছেন, পরিস্থিতি আসলে তেমন নয়। এখানে ওই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে আগে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে নিজের জন্য ভিন্ন কোনো পথ বেছে নিয়েছে। এমন ব্যক্তিকেই বিদআতি হিসেবে গণ্য করা হবে। অন্যদিকে আমাদের শিয়া ভাইয়েরা তো শুরু থেকেই নিজ নিজ মাযহাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং রাষ্ট্র তাঁদেরকে সেভাবেই মেনে নিয়েছে। একইভাবে, এই দেশে হিন্দু ধর্মের অনুসারী এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষও বসবাস করেন, যাঁরা আদৌ মুসলিম নন। আমরা তো তাঁদের ধর্মবিশ্বাসে কোনো হস্তক্ষেপ করছি না। এছাড়া ইসলামের আরও যেসব সঠিক মাযহাব রয়েছে—হতে পারে আফগানিস্তানে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে রয়েছে; যেমন শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাব—এগুলো অত্যন্ত সম্মানজনক মাযহাব এবং এই ধারাটি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে না। এই বিধানটি কেবল সেই ব্যক্তির ওপর বর্তাবে, যে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদায় বিশ্বাসী ছিল, কিন্তু পরে তা ত্যাগ করে কোনো ভুল পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে। তাকেই বিদআতি বলা হবে এবং তার জন্যই শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হবে।

বিবিসি উপস্থাপক: আমরা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি; নারীদের বিষয়ে একটি বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি খুবই স্বাভাবিক যে, এই নীতিমালা মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, এখানে মানবাধিকারকে সম্মান জানানো হয়নি। খোদ নারীদের মাঝেও আইনটি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো নারী যদি তার বাবার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করে, তবে নতুন আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি পেতে হবে। অথচ অতীতে এমন কোনো বিষয়কে অপরাধ বলে গণ্য করা হতো না। এই উদ্বেগের জবাবে আপনি কী বলবেন?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: এই বিষয়টিও মূলত তাযীর বা শাস্তিমূলক বিধানের সাথে সম্পর্কিত। যে নারীর স্বামী আছেন, তাঁদের এখনো তালাক হয়নি বা আদালতের রায়ে আলাদা হয়ে যাননি, অথচ ওই নারী স্বামীর অধিকারগুলো আদায় করছেন না; এটি প্রকৃতপক্ষে অপরের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল এবং এর জন্য অবশ্যই তাঁকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তা না হলে তো পরিবারগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে! কারণ, একজন নারী যদি কোনো শরিয়াহসম্মত কারণ ছাড়াই স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করেন, তবে সেটি এমন একটি অপরাধমূলক কাজ যা পারিবারিক জীবনের শৃঙ্খলাকে ধ্বংস করে দেয়। আপনারা ভালো করেই জানেন, পরিবার সমাজের সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তি। কোনো নারী যদি খামখেয়ালিবশত নিজের সংসার ছেড়ে চলে যান এবং দায়িত্বগুলো এড়িয়ে যান, তবে তো পুরো পারিবারিক কাঠামোই ধসে পড়বে। বৈবাহিক জীবন চালিয়ে নেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়লে শরিয়াহ নির্দেশিত নিজস্ব কিছু পদ্ধতি তাঁকে অনুসরণ করতে হবে; হয় তিনি আপস-মীমাংসা করবেন, নতুবা তালাক নেবেন এবং এরপর জীবনের নতুন পথ বেছে নেবেন। কিন্তু এর কোনো পথই অনুসরণ না করে তিনি যদি দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করেন, তবে তাঁকে আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতেই হবে।

বিবিসি উপস্থাপক: আমরা যদি ধরেও নিই যে এ বিষয়ে সমালোচনা আরও বৃদ্ধি পেল, অথবা নীতিমালাটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হলো, তবে কি আপনারা এতে কোনো পরিবর্তন আনবেন?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: এই নীতিমালাটি মূলত শরিয়াহরই নীতিমালা। আমরা অত্যন্ত সম্মানের সাথে জনগণকে অনুরোধ করছি, যদি তাঁদের কোনো আপত্তি থাকে, তবে তাঁরা যেন প্রথমে শরিয়াহ অধ্যয়ন করেন। অন্তত একবারের জন্য হলেও তাঁরা যেন শরিয়াহর নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোতে এই বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখেন। আজ ভার্চুয়াল বিশ্ব সবার হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটে যেকোনো ভাষায় এই আলোচনাগুলো খুব সহজেই পাওয়া যায়। অথবা, যাঁর মনে এ বিষয়ে সংশয় রয়েছে, তিনি অন্তত মসজিদে গিয়ে সেখানকার আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন।

বিবিসি উপস্থাপক: কিন্তু বিচার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বলেছে, এসকল বিষয়ে সমালোচনা করার অধিকার কারও নেই এবং যারা সমালোচনা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অবস্থায় মানুষ কীভাবে কথা বলার সাহস পাবে?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: আমার কথার উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি মানুষ যেন তার নিজস্ব সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য এই পথগুলো ব্যবহার করে। কিন্তু প্রকাশ্যে জনসমক্ষে শরিয়াহর ওপর আপত্তি তোলা কোনোভাবেই উচিত নয়। যে ব্যক্তি ইসলামি আকিদা, হানাফি মাযহাব, ফিকহ এবং শরিয়াহর ওপর বিশ্বাস রাখেন, তিনি যদি এর মৌলিক নীতিগুলোর ওপর আপত্তি তোলেন, তবে তো তিনি আসলে নিজের ইসলামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে বসলেন। একজন মানুষ মুসলিম হয়ে কীভাবে নিজের বিশ্বাসের ওপর সমালোচনা করতে পারে? এ ধরনের সমালোচনা মূলত আকিদা, মাযহাবের ইমাম এবং অতীতের মুজতাহিদ (ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ) আলেমদের সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে নিজেই আরেকটি অপরাধে পরিণত হয়। সুতরাং, তাঁরা যেন আপত্তি না তুলে বরং নিজেদের শিক্ষিত করে তোলেন। জ্ঞান অন্বেষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি তো কোনো অপরাধ নয়। তাঁরা মসজিদে গিয়ে আলেমদের প্রশ্ন করুন এবং অনলাইনে নির্ভরযোগ্য উৎস ও বইপত্র অধ্যয়ন করুন। এখানে যেসব বইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো খুঁজে যাচাই করে দেখুন যে শরিয়াহর বিষয়গুলো সেখানে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে কি না। ইসলামি ইমারত এই আইনে নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন কিছুই সংযোজন করেনি; এখানে যা কিছু আনা হয়েছে, তার সবই হানাফি ফিকহ থেকে গৃহীত। শত শত বছর ধরে এসব নীতির ওপর ভিত্তি করেই ইসলামি শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে এসেছে। ‘শারহু মাজাল্লাতিল আহকাম’ নামক গ্রন্থটি ইসলামি সরকার ও আইন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একইভাবে ইমাম আবু ইউসুফের বিধান ও আইনসমূহ—যিনি খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন—সেগুলো বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও ধারায় লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং তার সবটুকুই মাযহাবের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে।

বিবিসি উপস্থাপক: জনাব মুজাহিদ! কেউ কেউ এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, আপনারা অন্যের কথা মেনে নেন না এবং কেবল নিজেদের মতামতকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন দেশ থেকে আলেমরা আপনাদের কাছে আসেন, কিন্তু তাঁদের কথায় কান দেওয়া হয় না বা তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। আপনারা কি এ বিষয়ে ধর্মীয় আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি, এমনকি তাঁদের আপত্তিগুলো শুনতে প্রস্তুত আছেন?

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: যদি কারও কোনো যৌক্তিক সমালোচনা থাকে এবং তিনি মুখোমুখি বসে একটি গঠনমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক সংলাপে অংশ নিতে চান, তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি। যদি কারও মনে কোনো সংশয় থাকে, আমরা তার যথাযথ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ দিতেও সর্বদা প্রস্তুত। কিন্তু আমরা অন্যদের সমালোচনা বা কথা মেনে নিই না বলে যে অভিযোগ তোলা হয়, তার মূল কারণ হলো—আমরা অন্যদের মুখ থেকে আমাদের দ্বীন শিখতে চাই না। আমাদের নিজস্ব দ্বীন, নিজস্ব আকিদা এবং নিজস্ব আলেম রয়েছেন। এই দ্বীনের জন্যই আমরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছি এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এর ওপর অটল রয়েছি। অন্যরা কেন আমাদেরকে দ্বীন শেখাতে আসবে? বরং আমরাই মানুষকে দ্বীন শেখাব। তা সত্ত্বেও, কারও মনে কোনো উদ্বেগ থাকলে এবং তিনি আমাদের নীতিমালা ও আইনি ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা অবশ্যই তাঁকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারি। আর এই মুহূর্তে আপনার সাথে আমি যে সংলাপটি করছি, সেটিও কিন্তু এই ব্যাখ্যা প্রদান ও মানুষকে সচেতন করার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।

বিবিসি উপস্থাপক: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

********
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الشهداء للإنتاج الإعلامي
আপনাদের দোয়ায়
আশ শুহাদা মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
In your dua remember your brothers of
Ash Shuhada Media

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 1 =

Back to top button