Bengali Translation || “আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেন।” ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন—এর আমির শায়খ আবু উবায়দা আহমাদ উমর হাফিযাহুল্লাহ -এর বার্তা

مؤسسة الحكمة
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al-Hikmah Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents
الترجمة البنغالية
বাংলা সাবটাইটেল
Bengali subtitle
بعنوان:
শিরোনাম:
Titled
﴾ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ ﴿
كلمة للشيخ أبي عبيدة – أحمد عمر «حفظه الله»
بمناسبة حلول عيد الفطر المبارك 1447هـ
“আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেন।”
১৪৪৭ হিজরির পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন—এর
আমির শায়খ আবু উবায়দা আহমাদ উমর হাফিযাহুল্লাহ -এর বার্তা
“And Allah supports with His victory whom He wills.”
A message from Shaykh Abu Ubaydah – Ahmad Umar (may Allah preserve him), Amir of Harakat al-Shabab al-Mujahideen, on the occasion of Eid al-Fitr 1447 AH.

![]()
روابط بي دي اب
PDF (763 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৭৬৩ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/foBJ3ZddW46LH5y
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/HzY4wWM3FfqYKkX
লিংক-৩ : https://www.mediafire.com/file/ord33xrcxqry16e/ShaikhAhmadumarBarta+F1.pdf/file
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/bwJy0KTT#xw5FoRyBmNYQgc2mUGyMsIQG00i5PZ5genJ9e3Dzx18
লিংক-৫ : https://shaikhahmadumarbarta.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhahmadumarbarta-f1.pdf
روابط ورد
Word (480 KB)
ওয়ার্ড [৪৮০ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/RwMm4oQ9sDbK4Gj
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/5TEc79qZNycBnSi
লিংক-৩ : https://www.mediafire.com/file/n0urvioy8w4qa8u/ShaikhAhmadumarBarta_F1.docx/file
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/bhoECawa#PnwnMsTVcgkHCNtb3y4Ec7GDYA3FIxiUZ34wn49NL6o
লিংক-৫ : https://shaikhahmadumarbarta.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhahmadumarbarta-f1.docx
روابط الغلاف- ١
book Banner [1.1 MB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.১ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/jCTNNBtSR6ZxTWb
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/GQiCtMBPaoeCfSP
লিংক-৩ : https://www.mediafire.com/view/pvr3a1xv57f46ij/ShaikhAhmadumarBarta_F1cover-HD.jpg/file
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/D1B0iD7S#wR1xb9B1ZEms9lsVDZN9i4MyH1LYmoyghzmYx91jZjg
লিংক-৫ : https://shaikhahmadumarbarta.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhahmadumarbarta-f1cover-hd.jpg
روابط الغلاف- ٢
Banner [281 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [২৮১ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/BEEwW9BDnGoa6m4
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/spNAxXgEJ6qrT3i
লিংক-৩ : https://www.mediafire.com/file/6i9u9dx5zdh0iem/ShaikhAhmadumarBarta+F1.jpg/file
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/b450STRQ#M0k37DylSDOq8wc5uxyXVDPZbB8DQZUkTPCqLICD0eg
লিংক-৫ : https://shaikhahmadumarbarta.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhahmadumarbarta-f1.pdf
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الحكمة للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent
****************
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له . وأشهد أن لا إله الا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله.
﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾.
﴿ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ﴾
أمَّا بعد؛
“নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর দরবারেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের যাবতীয় অনিষ্টতা এবং আমাদের কৃতকর্মের পাপ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট করেন, তাকে সঠিক পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কোনো মাবুদ নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল।
﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবেই ভয় করো, যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। আর পূর্ণাঙ্গ মুসলিম না হয়ে কোনো অবস্থাতেই তোমরা মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আলে-ইমরান: ১০২)
﴿ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ﴾
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটিমাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর সেই সত্তা থেকেই তাঁর সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাঁদের উভয়ের মাধ্যমেই পৃথিবীতে অসংখ্য নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে নিজেদের অধিকার দাবি করে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা সম্পর্কেও সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা আন-নিসা: ১)”
হামদ ও সালাতের পর,
সব কথার সেরা কথা হলো মহান আল্লাহর বাণী। আর সব পথের সেরা পথ হলো মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ। দীনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নতুন কিছু আবিষ্কার করা। কারণ, দীনের নামে নবাবিষ্কৃত প্রতিটি বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার গন্তব্য হলো জাহান্নাম।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। ওয়া লিল্লাহিল হামদ। আল্লাহ সবচেয়ে মহান, সবচেয়ে বড়। তাঁর জন্যই সমস্ত প্রশংসা। সকাল-সন্ধ্যায় আমরা মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
﴿ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
“যেন তোমরা রোযার নির্দিষ্ট সংখ্যা পূরণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে সুপথ দেখিয়েছেন, সেজন্য তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করতে পারো। এর মাধ্যমে হয়তো তোমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারবে।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)
শুরুতেই আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি পরম দয়া করে আমাদেরকে অত্যন্ত সুন্দর ও প্রশান্তির সাথে পবিত্র রমাদান মাস পূর্ণ করার তাওফিক দিয়েছেন। এই মাসে যারা সিয়াম সাধনার ফরজ দায়িত্বটি পালন করেছেন, ঈদুল ফিতরের এই দিনে তারা অনাবিল আনন্দ অনুভব করছেন। ইনশাআল্লাহ, কিয়ামতের দিন যখন তারা মহান রবের সাথে মিলিত হবেন, তখন এই রোযার প্রতিদানে তারা আরও বেশি আনন্দিত হবেন।
রোজাদারের জন্য দুটি বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। প্রথমত, যখন সে ইফতার করে, তখন তার হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে। দ্বিতীয়ত, যখন সে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে, তখন নিজের রোযার প্রতিদান দেখে সে আনন্দে উদ্বেলিত হবে।
এই আনন্দঘন মুহূর্তে, ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের সকল মুসলিমের প্রতি আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শুভেচ্ছা ও আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে সেই বীর মুজাহিদদের প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম, যারা পৃথিবীর নানা প্রান্তের রণাঙ্গনে অবিচল থেকে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের সকলের নেক আমলগুলো কবুল করে নিন।
যে রমাদান মাসটিকে আমরা সবেমাত্র বিদায় জানালাম, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সেই মাসে আমাদের রোযা, কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজ), কুরআন তিলাওয়াত, জিহাদ এবং অন্যান্য যাবতীয় ইবাদত কবুল করে নেন। তিনি যেন আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমাদেরকে যেন তাদের দলভুক্ত করেন, যাদের আমলগুলো গৃহীত হয়েছে এবং যাদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আল্লাহ যেন আমাদের তাঁর অসীম রহমত, ক্ষমা এবং জান্নাত লাভের সৌভাগ্য দান করেন।
﴿ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴾
“তারা আল্লাহর কাছে তওবাকারী, তাঁর ইবাদতকারী, তাঁর প্রশংসাকারী, রোজাদার, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের নির্দেশদাতা, অসৎকাজ থেকে বারণকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী। আর এমন মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।” (সূরা আত-তাওবাহ: ১১২)
আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আগামী ঈদগুলোতে আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ বিজয়, অবিচল সম্মান এবং পৃথিবীতে শক্ত অবস্থান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনিই এর একমাত্র অভিভাবক এবং তিনিই এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
ঈদের এই আনন্দের দিনে মুসলিমদের একান্ত দায়িত্ব হলো—দীনের নিদর্শনগুলোকে ব্যাপকভাবে ফুটিয়ে তোলা, পারস্পরিক সামাজিক বন্ধন ও সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করা এবং সমাজের দুর্বল ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে বর্তমানের এই তীব্র দাবদাহের সময়ে এই দায়িত্ব আরও বেশি জরুরি। কারণ এখন এক ভয়াবহ খরা চলছে, যার বিরূপ প্রভাবে মানুষ এবং প্রাণী উভয়ই চরমভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
﴿ وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا ﴾
“তারা আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মিসকিন, এতিম ও বন্দিদেরকে খাবার দান করে।” (সূরা আল-ইনসান: ৮)
এই ঈদ এমন এক সংকটময় সময়ে উপস্থিত হয়েছে, যখন পৃথিবীর প্রতিটি কোণে নানামুখী সংঘাতের দাবানল জ্বলছে। আপনারা সবাই খুব ভালোভাবে জানেন যে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে’ এখন কী ঘটছে। এই সংঘাত সম্পূর্ণভাবে উন্মোচন করে দিয়েছে ক্রুসেডার আমেরিকার সরকারের চরম ভঙ্গুরতাকে। এটি ন্যাটোর (NATO) অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে, এটি প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওইসব দালাল শাসকদের চরম লাঞ্ছনা ও অবমাননা, যাদের একমাত্র দক্ষতা হলো মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং আলেমদের গুপ্তহত্যা করা। এই শাসকরা নিরপরাধ মানুষের রক্তে নিজেদের তৃষ্ণা মিটিয়েছে। আজ তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে ঐশী শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে যে প্রতারণার জাল বিস্তার করে এই শাসকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল, তা আজ সকলের সামনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরপরও কি তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে? চলমান এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে—আমেরিকা কতটা ভঙ্গুর, কতটা দুর্বল এবং তাদের ভিত্তি কত বড় মিথ্যা দিয়ে তৈরি।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আমেরিকা কখনোই একা কোনো যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়নি; বরং জোট গঠন করেই তারা যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু যখনই তারা কোনো যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে, কেবল তখনই তাদের মোহভঙ্গ ঘটেছে। বহু আগে থেকেই আমেরিকা পরাজয় ও চরম হতাশার এক মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তারা নাস্তানাবুদ হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে চরম অপমান ও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে পালিয়েছে, আর মোগাদিসুর রাস্তায় তাদের সৈন্যদের মৃতদেহগুলোকে মাটিতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, যেসব সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে তারা দুর্বল ঈমানের অধিকারী মানুষদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করত, সেই ঘাঁটিগুলো ফেলেই তারা এখন লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছে। কারণ, গায়ের জোরে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অক্ষমতা ও চূড়ান্ত ব্যর্থতা আজ পুরো বিশ্বের কাছে নগ্ন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, এই পবিত্র ঈদ এমন এক পরিস্থিতিতে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে, যখন ক্রুসেডার আমেরিকান সরকার আমেরিকা ও সোমালিয়ায় বসবাসরত সোমালি জনগণের ওপর সরাসরি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা সোমালিদের সমস্ত অধিকার নির্লজ্জভাবে পদদলিত করছে। আমেরিকা তাদের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। আজ তারা চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে, যা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কেননা এটি এমন একটি কাফির সরকার, যারা গোটা বিশ্বে জুলুম ও দুর্নীতির জন্য কুখ্যাত। তবে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যের বিষয় হলো, ধর্মত্যাগী মুরতাদ শাসকরা সোমালি জনগণের ওপর আমেরিকার এই নিষ্ঠুর অত্যাচারে আমেরিকারই পক্ষাবলম্বন করেছে। বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ না করে তারা প্রকাশ্য জনসভায় নির্লজ্জের মতো ঘোষণা করে বেড়াচ্ছে যে—আমেরিকা তাদের মিত্র। একইসাথে, আমাদের জাতির এক বড় অংশকে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তখন তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে এবং বাকিদের গায়ে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা সেঁটে দিচ্ছে।
এই মুরতাদ শাসকদের চরম অজ্ঞতা ও নিরেট মূর্খতা তাদেরকে এমন পর্যায়ে নামিয়েছে যে, তারা এমন এক অপশক্তিকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছে, যারা প্রতিটি ফোরামে ও জনসভায় আমাদের সম্মানিত জাতির পিঠে ছুরি মারে এবং তাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। তারা আমাদের জাতিকে ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছিষ্ট’ বলে কটাক্ষ করে। অথচ এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে যথাযথভাবে রুখে দাঁড়ানোর বা প্রতিবাদ করার মতো কেউ ছিল না। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এই বিদেশি প্রভুরা জনসমক্ষে সেই মুরতাদ সরকারকেই ক্রমাগত অপমান করে চলেছে। তারা সবার সামনে বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করছে যে, সোমালিয়াতে আদৌ কোনো সরকার নেই এবং ভবিষ্যতেও কখনও তা গড়ে উঠবে না।
ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, আমাদের মাতৃভূমি সোমালিয়া বর্তমানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর দিক থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিপজ্জনক এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যদিও শুরু থেকেই এই দেশ বিশ্বব্যাপী কাফির শক্তিগুলোর আধিপত্যের নিগড়ে বন্দি ছিল। এই কাফির শক্তিগুলোর লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট:
- সোমালি সমাজকে তাদের পবিত্র দীন (ধর্ম) থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের নিজস্ব সত্তা ও পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলা।
- দেশের সমস্ত ধনসম্পদ লুটপাট করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদগুলো নির্দয়ভাবে শোষণ করা।
- সোমালি জনগণকে মহান আল্লাহর শরিয়ত মেনে চলা এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করা থেকে যেকোনো মূল্যে বিরত রাখা।
সত্যি কথা হলো, সোমালিয়ার আপামর জনগণ এখন খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছে যে—গত কয়েক দশক ধরে মোগাদিসু, হারগেইসা, বোসাসো, কিসমায়ো, বাইদোয়া এবং ধুসামারিব-এ প্রতিষ্ঠিত মুরতাদ প্রশাসনগুলো একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে ইথিওপিয়ান সরকারের পদলেহন করে আসছে। প্রতিটি প্রশাসন ইথিওপিয়ানদের পায়ে পড়ে অনুনয়-বিনয় করেছে, যেন তারা অপর প্রশাসনের হাত থেকে তাদের ক্ষমতা ও গদি রক্ষা করে। আর এর বিনিময়ে এই দালাল শাসকরা মুসলিম উম্মাহর মুজাহিদদের বিরুদ্ধে ইথিওপিয়ান বাহিনীকে সব ধরনের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে গেছে। উদ্দেশ্য একটাই—ইথিওপিয়া যেন গায়ের জোরে দখল করে রাখা সোমালিয়ার মাটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং মুসলিমদের সহায়-সম্পদ ইচ্ছেমতো লুটপাট করতে পারে। এই চলমান সংঘাতে মুরতাদ দালালদের ভূমিকা ঠিক এটাই ছিল—সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বকে শত্রুদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সব রকম ঘৃণ্য পথ সুগম করে দেওয়া।
আজ সেই দুর্নীতি ও ধ্বংসলীলা তার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। এই মেরুদণ্ডহীন দালাল শাসকরা আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর নোংরা ক্ষমতার লড়াইয়ের মাঝে খড়কুটোর মতো হারিয়ে গেছে। আর এই সুযোগে ওই পরাশক্তিগুলো সোমালি জনগণের সহায়-সম্পদ লুটপাট ও দখলের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৪ সালের শুরু থেকেই এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত যখন তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে, তখন যেসব দেশ সোমালিয়ার ধনসম্পদের দিকে লোলুপ দৃষ্টি রেখেছিল, তারা সবাই সোমালিয়ার দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়েই এই মুরতাদ প্রশাসনগুলোর হাল ধরে থাকা দালাল নেতাদের আসল চরিত্র, চরম নীচতা ও বিকৃত মানসিকতা পুরোপুরি নগ্ন হয়ে যায়। জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাদের স্বপ্নের দৌড় ওই গদিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যেখানে তারা বসে আছে। নিজেদের ক্ষমতা ও চেয়ারটুকু টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে তারা তাদের ধর্ম, মাতৃভূমি, নিজেদের জনগণ, জাতীয় সম্পদ এবং গোটা জাতির সম্মান বিকিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা করেনি।
দীর্ঘ প্রায় ত্রিশটি বছর ধরে সোমালিল্যান্ড অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক মরীচিকার পেছনে ছুটছে। আর এই অসুস্থ দৌড়ঝাঁপের কারণে উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম সমাজে তীব্র অস্থিরতা ও বিভেদ তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলে একের পর এক এমন সব বিবেকহীন মুরতাদ কর্মকর্তা ক্ষমতার মসনদে বসেছে, যাদের প্রত্যেকেই মুসলিম সমাজের জন্য রেখে গেছে এক কলঙ্কিত ও অন্ধকার ইতিহাস। এই দালালদের দুর্নীতির বিষাক্ত ফল আজ মুসলিম সমাজকে ভোগ করতে হচ্ছে। আল্লাহ তাদের ঠিক সেই শাস্তিই দিন, তারা যার উপযুক্ত।
মুরতাদ নেতারা অধঃপতনের ঠিক কতটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তার সবচেয়ে তরতাজা উদাহরণ হলো হারগেইসা শহরের সাম্প্রতিক ঘটনা। সেখানে তারা সেই অভিশপ্ত ইহুদিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে, যাদের ওপর স্বয়ং মহান আল্লাহ লানত (অভিশাপ) বর্ষণ করেছেন। তারা ফিলিস্তিনের পবিত্র মাটিতে দখলদার ইহুদিদের একটি ‘বৈধ প্রশাসন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছে। এই অঞ্চলের বিগত দুর্বল ও লাজুক প্রশাসনগুলো একের পর এক এমন সব নির্লজ্জ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা তাদের চরম বিচ্যুতি ও অবক্ষয়কেই প্রমাণ করে। আজ তাদের সেই নোংরা রূপ জনসমক্ষে একেবারে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঞ্চলে বসবাস করেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ—জ্ঞানী আলেম, প্রজ্ঞাবান বুদ্ধিজীবী, অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, সম্মানিত শিক্ষক এবং পবিত্র কুরআনের হাফেজগণ। আপনাদের প্রতি আমার প্রশ্ন—দীনকে রক্ষা করা, দেশের স্বাধীনতা অটুট রাখা এবং উত্তরের এই মুসলিম সমাজের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা কি আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব ছিল না? আপনারা কি শায়খ মুখতার আবু জুবায়েরের গর্বিত উত্তরসূরি নন?
এর চেয়ে বড় লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে যে, এই সমাজের যে সন্তানেরা মানুষের কাছে তাদের মহান চরিত্র ও সুনামের জন্য পরিচিত, কেবল চরম সত্যটা উচ্চারণ করার অপরাধে তাদেরকে কারাগারে বন্দি করা হচ্ছে! অথচ অন্যদিকে, মুরতাদ ‘ইরো’ (সোমালিল্যান্ডের শাসক) সেই নিকৃষ্ট ইহুদিদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছে, যাদের চরম নোংরা মানসিকতা, কপটতা এবং মুমিনদের প্রতি তাদের ভয়ংকর শত্রুতার কথা মহান আল্লাহ স্বয়ং তাঁর পবিত্র কিতাবে উল্লেখ করেছেন। আপনাদের খুব ভালোভাবে জেনে রাখা উচিত—যে শান্তির ছায়ায় আপনারা দীর্ঘকাল কাটিয়েছেন, তা আর বেশি দিন টিকবে না। কারণ আপনারা চুক্তির বরখেলাপ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীবদের আপনাদের ঘরে ডেকে এনেছেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত না এমন কোনো সাহসী বীরের আবির্ভাব হচ্ছে, যারা উত্তর সোমালিয়ায় ঘটতে যাওয়া এই আসন্ন ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি পূর্ব আফ্রিকার ‘দ্বিতীয় ফিলিস্তিন’ হয়েই ধুঁকতে থাকবে।
মহান আল্লাহ এই উম্মাহকে এমন কিছু নিচ ও হীন মানসিকতার মানুষের মাধ্যমে পরীক্ষা করছেন, যারা যেকোনো হীন কাজের পেছনে কুকুরের মতো দৌড়াতে পারে। হারগেইসায় বর্তমানে আসীন প্রশাসনের বাইরের চাকচিক্য বা প্রকাশ্য আচরণ দেখে মানুষের মোটেও ধোঁকা খাওয়া উচিত নয়। কারণ তারা প্রকাশ্যে যা দেখাচ্ছে, গোপনে তার চেয়ে হাজার গুণ ভয়ংকর কিছু লুকিয়ে রেখেছে, যা প্রকাশের সময় এখনও আসেনি।
আমরা মুসলিমদের অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করতে চাই যে, এই অঞ্চলে সুসংগঠিত অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অত্যন্ত নিবিড় সমন্বয়ে এই ঘাঁটিগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। আর বর্তমানে অন্যান্য ঘাঁটিগুলোর সম্প্রসারণের কাজ পুরোদমে চলছে। একটা সময় আসবে যখন মানুষ তাদের এই নির্বুদ্ধিতার জন্য চরম অনুশোচনা করবে, কিন্তু তখন এই অতীত নিয়ে আফসোস করা বা চোখের জল ফেলায় কোনোই লাভ হবে না।
সমাজের সর্বস্তরের যে মানুষদের বুকে এখনও কিছুটা হলেও মানবতাবোধ বেঁচে আছে, তাদের প্রধান ও প্রথম দায়িত্ব হলো মুরতাদ ‘ইরো’-এর বিরুদ্ধে পাহাড়ের মতো রুখে দাঁড়ানো। এখনই এর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ইয়াসির আরাফাতের মতো বিশ্বাসঘাতকতার পুনরাবৃত্তি ঘটার আগেই এবং সময় পুরোপুরি ফুরিয়ে গিয়ে হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই আপনাদের জাগতে হবে।
এই মাতৃভূমি আপনাদের। শান্তি এবং যুদ্ধ—উভয়ের পরিণতি সম্পর্কে আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন। বর্তমান সময়ের আলেম সমাজের দায়িত্ব শুধু মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বয়ান করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের কাঁধে আরও বিশাল দায়িত্ব ন্যাস্ত। বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সমাজপতিদের উচিত শুধু মজলিসে বসে গল্পগুজব না করে সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আর যে তরুণ প্রজন্ম আজ গর্জে উঠছে, তাদের সামনে এখন দুটির মধ্যে একটি পথ বেছে নেওয়ার সময় এসেছে: হয় তারা এমন এক চিরস্থায়ী দুর্বলতাকে বরণ করে নেবে যা কখনোই মুছবে না, অথবা তারা এমন সম্মান ও মর্যাদার পথ বেছে নেবে যার জন্য রক্ত ঝরাতে হলেও সেই সম্মান অনন্তকাল টিকে থাকবে। কারণ ইনশাআল্লাহ, এই অর্জিত সম্মানই তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাবে।
অন্য দিকে, আপনারা মোগাদিসুতে বসে থাকা মুরতাদ চক্রের নেতাদের নির্লজ্জতা খুব ভালো করেই দেখেছেন। বিশেষ করে হাসান গুরগুরতে (সোমালিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ-এর অবমাননাকর নাম), যে নিজেকে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর পায়ের কাছে সঁপে দিয়েছে। সে তাদের কাছে গিয়ে নির্লজ্জভাবে বলেছে যে তার দেশে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে এবং সে এগুলো সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে তাদের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত। বিনিময়ে সে কেবল একটি জিনিস চেয়েছে—ইহুদিদেরকে বারবারা বন্দরে এনে দেশের সমস্ত সম্পদ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার এই মহা-আয়োজনে তাকে যেন দালালের ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।
যখন এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো চলমান সংঘাত থেকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সূক্ষ্ম কৌশল ও পরিকল্পনা খুঁজছে এবং চারপাশের বিপদের হাত থেকে বাঁচার রাস্তা খুঁজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের এই সোমালি বিশ্বাসঘাতক নেতাদের জীবনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান একটি বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে: “আমাকে শুধু বলুন কোথায় স্বাক্ষর করতে হবে? বিনিময়ে আমাকে শুধু প্রেসিডেন্ট বানিয়ে রাখুন।”
ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে ইরো-এর (সোমালিল্যান্ডের প্রশাসন) স্বীকৃতি দেওয়া, ইহুদিদের হাতে বারবারা বন্দর তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, জেইলা বন্দর ইথিওপিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আবি আহমেদ ও মুসা বিহি-এর মধ্যকার গোপন আঁতাত, তুরস্ককে সোমালিয়ার আকাশ, সমুদ্র ও স্থলভাগের যাবতীয় সম্পদ শোষণের আইনি বৈধতা প্রদান—এসবের পাশাপাশি দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন অসংখ্য চুক্তি আজ সোমালি জাতির সামনে বিশ্বাসঘাতক প্রশাসনগুলোর আসল কুৎসিত চেহারা উন্মোচন করার এক জীবন্ত দলিল। এসব পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে তাদের স্বপ্নের দৌড় ঠিক কতটুকু, এবং তারা এই দেশ ও জাতির ওপর কেমন এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ যখন গোটা দেশ এক ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি এবং নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যার মূল কারণ হলো ঋণ মওকুফের এক কাল্পনিক ধোঁকা দিয়ে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক অবরোধ, প্রকাশ্যে লুটপাট এবং হাসান গুরগুরতে ও তার দোসরদের কর্তৃক জনগণের সম্পদ নিলামে তোলার মহোৎসব—ঠিক তখনই দেশের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত চারটি বৃহৎ বন্দরকে লোভী বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর হাতে জিম্মি করে দেওয়া হয়েছে। মোগাদিসু, হারগেইসা, বোসাসো এবং কিসমায়োর বন্দরগুলো আজ পুরোপুরি ওই পরাশক্তিগুলোর কবজায় চলে গেছে। এর মধ্যে কিছু বন্দরে তারা নিজেদের সামরিক ঘাঁটিও গেঁড়ে বসেছে। এই পুরো চিত্রটি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে যে, জোরজুলুম করে আজ আমাদের দেশের গোটা অর্থনীতিকেই জিম্মি করা হয়েছে।
আর ঠিক এই কারণেই, আমরা আমাদের সোমালি মুসলিম উম্মাহকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি—গভীর ঘুম থেকে এবার জেগে উঠুন। কাফির আগ্রাসীদের এই সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র এবং নীল নকশাগুলো যদি আপনারা এখনই রুখে না দাঁড়ান, তবে সামনে যে ভয়াবহ বিপদ ওত পেতে আছে, তা গভীরভাবে অনুধাবন করুন।
আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে মুজাহিদরা তুরস্কের সেই গোপন ফাঁদ সম্পর্কে আমাদের জাতিকে সতর্ক করেছিলেন। ২০১১ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ভান করে তারা এদেশে পা রেখেছিল। সেই সময় তুরস্কের সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি। তখন যদিও তাদেরকে দাতব্য কাজের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মনে হয়েছিল, আজ তারাই সেই মুরতাদ ও বিশ্বাসঘাতক চক্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। গতকাল পর্যন্তও যারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের কাছে সামরিক সহায়তা ভিক্ষা করত, আজ তারাই বিশ্বাসঘাতকদের সামরিক বাহিনী পরিচালনা করছে। আজ তারাই সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনের নাড়িনক্ষত্র নিয়ন্ত্রণ করছে।
একসময় যুদ্ধময়দান এমন অনেক তরুণকে দেখেছে, যারা তুরস্কের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে। গতকাল তুরস্ক তাদের বীরত্বের প্রশস্তি গাইত, আর আজ সেই তুরস্কই দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। রাজধানীর সমস্ত অর্থনৈতিক অবকাঠামো তারা গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে। একসময় তারা ত্রাণ বিতরণের নামে দেশে খাদ্য ও ওষুধ পাঠাতো। আর আজ, গত কয়েক মাস ধরে, চলমান তীব্র দুর্ভিক্ষের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে তারা দেশে নানা ধরনের মারণাস্ত্র আমদানি করছে। তাদের সমস্ত ধ্যানজ্ঞান এখন শুধু দেশের ক্ষমতা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার দিকে। তুরস্ক যেসব সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তাদের মনে সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) তুর্কি রাষ্ট্রের আদর্শের বিষবাষ্প ঢুকিয়ে দিয়ে এখন তাদেরকেই বিভিন্ন সেনা ব্যাটালিয়নের মূল নেতৃত্বে বসিয়ে দিয়েছে।
তারা লিবিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় যে নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছে, ঠিক সেই একই ছকে তারা সোমালিয়াকেও গ্রাস করতে চাইছে। তারা এখানে তুরস্কের ভাড়াটে মিলিশিয়া বাহিনী ছড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল এবং লুটপাটের মিশনকে নিরাপদ করার জন্য তারা লোয়ার শাবেল এবং মিডল শাবেল অঞ্চলে নতুন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। আজ যে মূল সংঘাত আপনারা দেখছেন, গত চার বছর ধরে ওই দুটি অঞ্চলে মূলত তারই পূর্বপ্রস্তুতিমূলক যুদ্ধ মহড়া চলছিল।
অথচ একই সময়ে তারা গাজার মজলুম ভাই-বোনদেরকে মৃত্যুর মুখে একা ফেলে রেখে এসেছে। সোমালিয়াতে তারা যে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে, তাতে যদি বিন্দুমাত্রও মানবতার ছোঁয়া থাকত, তবে তা ফিলিস্তিনের ক্ষত-বিক্ষত ও মজলুম মানুষদের সাহায্যার্থে ব্যবহার করা যেত।
এই ষড়যন্ত্রের আরেক কুশীলব হলো মিসরের সিসি, যে কিনা নিজ দেশে তার নিজের জাতির জন্য সামান্যতম কল্যাণ বয়ে আনতেও চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর ঘাড়ে চেপে বসা এই বিশ্বাসঘাতক শাসকরা কেবল দুর্বল ও নিরীহ মুসলিমদের ওপরই বীরত্ব দেখায়। এই শাসকদের সীমাহীন স্বৈরাচারের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যেসব দরিদ্র মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে, তারা তাদের মুখের শেষ গ্রাসটুকুও কেড়ে নিয়েছে।
সমাজের যারা আলেম, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সমাজপতি—সবার আগে তাদেরই ঘুম ভাঙতে হবে এবং সমাজকে জাগিয়ে তুলতে হবে। গোটা দেশ যখন একটা অন্ধ গহ্বরের দিকে দ্রুত ধেয়ে যাচ্ছে, তখন সমাজের নেতাদের এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকা কোনোভাবেই উচি হচ্ছে না। এখন সময় এসেছে, প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে রুখে দাঁড়াতে হবে। দীন, দেশ, জাতি এবং উম্মাহর পবিত্র সম্পদ রক্ষার এই মহান জিহাদে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ, ক্রুসেডার এবং সেক্যুলারদের কোনো লোভই আমরা বাস্তব রূপ নিতে দেবো না। আল্লাহর অশেষ রহমতে বীর মুজাহিদরা পাথরের মতো অবিচল থেকে তাদের এই আগ্রাসন প্রতিহত করবে।
﴿ فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنْكِيلًا ﴾
“অতএব তুমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। তোমাকে কেবল তোমার নিজের জন্যই দায়ী করা হবে। আর তুমি মুমিনদেরকেও যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করো। আশা করা যায়, আল্লাহ কাফিরদের শক্তি খর্ব করে দেবেন। আল্লাহ শক্তিতে সবচেয়ে প্রবল এবং শাস্তি দানেও সবচেয়ে কঠোর।” (সূরা আলে-ইমরান: ১০৪)
মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে, আজ আমাদের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখান থেকেই আমাদের মুজাহিদ ভাইরা মুসলিম উম্মাহর কাঙ্ক্ষিত বিজয় এবং অগ্রগতির পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। জেনে রাখুন, আপনারা আজ এমন সব ইসলামী প্রদেশ বা উইলাইয়াতের গর্বিত অধিকারী, যেগুলোর ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর:
- তাওহিদের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের অন্তরে ঈমানের বীজকে গভীরভাবে প্রোথিত করা।
- সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং যাবতীয় অন্যায় ও অসৎকাজ থেকে মানুষকে বারণ করা।
- জীবনযাত্রার মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানকে আরও উন্নত করা।
আপনাদের পাশে রয়েছে মুজাহিদদের এমন এক সুসংগঠিত সেনাবাহিনী, যারা সর্বদা প্রস্তুত থাকে:
- আপনাদের দীন, এই উম্মাহর পবিত্র মর্যাদা এবং এর অমূল্য সম্পদ রক্ষার জন্য।
- আমাদের বিরুদ্ধে বোনা প্রতিটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র এবং নীল নকশা ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য।
- এবং কাফির আগ্রাসীদের হাতে বেদখল হয়ে যাওয়া আমাদের পবিত্র ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি মাটি ছিনিয়ে আনার জন্য।
AUSSOM (আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশন)-এর চরম ব্যর্থতা
দখলদার আগ্রাসী শক্তি এবং তাদের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা যে সত্য ও ন্যায়ের জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছি, তা মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় আজ ক্রুসেডার আগ্রাসীদের শিবিরে চরম পরাজয় ও হতাশার কালো মেঘ নামিয়ে এনেছে। এই আগ্রাসীরা গত প্রায় বিশটি বছর ধরে সোমালি জাতিকে দাসত্বের শেকলে বাঁধার এবং পশ্চিমা কুফরি মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে একটি গণতান্ত্রিক প্রশাসন চাপিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
এই অশুভ জোটের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল সোমালি জাতিকে খণ্ড-বিখণ্ড করা, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমূলে ধ্বংস করা এবং গায়ের জোরে তাদেরকে ধর্মত্যাগে বাধ্য করে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা। এই ক্রুসেডার জোটের ৮১ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ নেতা ইয়োওয়েরি মুসেভেনি ঠিক এমন স্বপ্নই দেখেছিলেন। পশ্চিমা পরাশক্তি, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট আজ নিজেদের চরম ব্যর্থতার জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমালিয়ার মাটিতে নিজেদের মূল্যবান সময়, অঢেল রক্ত এবং বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সম্পদ ছাইয়ের গাদায় ফেলার পরও তারা তাদের একটি লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেনি।
গত বিশটি বছরে:
- তারা ইসলামী শরিয়াহর ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনগুলোকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে সেখানে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি দাঁড় করাতে তারা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
- দখল করে নেওয়া অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা একটি শক্তিশালী মুরতাদ সেনাবাহিনী গঠন করতে পারেনি।
- তারা মুজাহিদদের ইস্পাতদৃঢ় শক্তিকে ভাঙতে পারেনি এবং এই দেশের পবিত্র মাটিতে প্রবহমান জিহাদের জোয়ারকেও বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি।
AUSSOM-এর এই জোট আজ এমন এক নজিরবিহীন ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, যার কোনো তুলনাই ইতিহাসে মেলে না। দখলদাররা মাটিতে থাকা যে সৈন্যদের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল, তাদের শূন্যস্থান পূরণের জন্য দেশের বাইরে প্রস্তুত রাখা নতুন সৈন্যদের পাঠাতেও এই জোট আজ চরমভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে।
এটা সবারই খুব ভালোভাবে জানা আছে যে—আমরা এমন এক জাতি, যারা কেবল নিজেদের দীন, মাতৃভূমি এবং নিজ দেশের মানুষদের রক্ষার জন্য লড়াই করি। আমরা কোনো তাড়াহুড়ো করি না, কোনো অস্থিরতা আমাদের ছুঁতে পারে না এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা কখনও ক্লান্তও হই না। ইনশাআল্লাহ, আমাদের মাটিতে আপনারা আপনাদের শেষ রক্তবিন্দুটি হারাবেন এবং যে অর্থকড়ি ঢালছেন, তার কানাকড়িও কোনো কাজে আসবে না।
আপনারা ইতিমধ্যে খুব ভালোভাবে টের পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও নিশ্চিতভাবে বুঝবেন যে—মুজাহিদদের নেতৃত্ব ও তাদের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে, নিরপরাধ মুসলিম জনতাকে কষ্ট দিয়ে অথবা তাদের পুণ্যভূমি দখল করে আপনারা কখনোই একচুলও সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। অটুট ধৈর্য, ইস্পাতকঠিন ঈমান এবং চূড়ান্ত একিনের (দৃঢ় বিশ্বাস) ঢাল দিয়ে আমরা এসব বিপদের মোকাবেলা করব।
﴿ قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ (51) قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَنْ يُصِيبَكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِنْ عِنْدِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُمْ مُتَرَبِّصُونَ ﴾
“বলে দাও, আল্লাহ আমাদের জন্য (তাকদীরে) যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া অন্য কোন কষ্ট আমাদেরকে কিছুতেই স্পর্শ করবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহরই উপর মুমিনদের ভরসা করা উচিত। * বলে দাও, তোমরা আমাদের জন্য কি দু’টি মঙ্গলের যে-কোন একটির অপেক্ষাই করছ, (যা আমরা লাভ করব?) ৪৪ আর আমরা তোমাদের ব্যাপারে এই অপেক্ষায় আছি যে, আল্লাহ নিজের পক্ষ হতে অথবা আমাদের হাতে তোমাদেরকে শাস্তি দান করবেন। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় আছি।” (সূরা আত-তাওবাহ: ৫১-৫২)
আমরা বীর মুজাহিদদের উদ্দেশে বলছি: ক্রুসেডারদের কাছ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) নেওয়ার এবং তারা আমাদের জাতির বুকে যে ক্ষত এঁকে দিয়েছে, তার উচিত শাস্তি দেওয়ার সময় এখনই। আপনাদের উচিত সেই সব ঐতিহাসিক মহাযুদ্ধগুলোর স্মৃতি নিজেদের সামনে জীবন্ত করে তোলা, যে যুদ্ধগুলোতে আপনারা শত্রুদের একেবারে পঙ্গু করে দিয়েছিলেন এবং ইতিহাস যা রক্তাক্ষরে চিরকাল মনে রাখবে।
﴿ قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا ۖ فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَىٰ كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ ۚ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ ﴾
“ওই দুটি দলের মুখোমুখি সংঘর্ষের মধ্যে তোমাদের জন্য নিশ্চিত একটি বড় নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল, আর অন্য দলটি ছিল কাফির। কাফিররা মুমিনদেরকে নিজেদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ মনে করছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে দৃষ্টিমানদের জন্য গভীর শিক্ষা রয়েছে।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৩)
মুরতাদ রাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক প্রশাসনগুলোর বর্তমান চিত্র
আফ্রিকান দেশগুলোর জোট নিয়ে আমরা যে চরম বাস্তবতার কথা এতক্ষণ তুলে ধরলাম, মোগাদিসুতে বসে থাকা মুরতাদ সরকারের বর্তমান অবস্থাও তার চেয়ে মোটেও আলাদা কিছু নয়। এটি এমন এক কাপুরুষ সরকার, যারা গত বিশটি বছর ধরে আফ্রিকার হাজার হাজার বিদেশি সেনার পাহারায় এবং ইউরোপ, আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ভিক্ষা পাওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ওপর ভর করে বেঁচে আছে।
সোমালিয়ার মাটিতে আফ্রিকার সৈন্যদের অঢেল রক্ত ঝরানো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালার পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই ছিল—ইসলামী প্রবেশগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে সেখানে এমন একটি পুতুল প্রশাসন বসানো, যারা তাদের কুফরি মতাদর্শের ছকে কাজ করবে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের সেই নীল নকশা কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেননি।
তাদের সেই দিবা স্বপ্ন আজ সম্পূর্ণ অসম্ভব এক মরীচিকাতে পরিণত হয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে তারা যে দুঃসাহস দেখিয়েছিল, তার খেসারত দিতে গিয়ে আজ তারা ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট হতাশার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। আফ্রিকান কাফিরদের জোট এবং তাদের পশ্চিমা প্রভুরা আজ এদেশের রাজনৈতিক কাঠামোর কাছে গণহারে আত্মসমর্পণ করেছে। মুরতাদদের জন্য একটি শক্তিশালী, অখণ্ড রাষ্ট্র কাঠামোর জন্ম দিতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার রাজনীতি ও সামরিক বাহিনী চলবে একক কর্তৃত্বে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ লোভী নেতাদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতেও তারা নিদারুণভাবে অক্ষম হয়েছে। আর সময়ের সাথে সাথে এই নেতাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব কেবল বেড়েই চলেছে।
﴿ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ ۗ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ﴾
“নিশ্চয়ই কাফিররা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করার জন্য তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে। তারা তা ব্যয় করতেই থাকবে। এরপর একসময় তা তাদের জন্য চরম অনুতাপের কারণ হবে। পরিশেষে তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে।” (সূরা আল-আনফাল: ৩৬)
আজকের দিনে মোগাদিসু সরকার এমন কোনো কেন্দ্রীভূত প্রশাসন নয়, যেখানে ক্ষমতা ও শক্তি একক কোনো বিন্দুতে জমা হয়ে আছে, যার মাধ্যমে তারা ভিলা সোমালিয়ার (প্রেসিডেন্টের বাসভবন) প্রাসাদ থেকে দেওয়া নির্দেশগুলো সারা দেশে কার্যকর করতে পারে। আবার এটিকে এমন কোনো ফেডারেল সরকারও বলা যায় না, যেখানে আঞ্চলিক প্রশাসনগুলোর সাথে তারা সুষমভাবে ক্ষমতা বণ্টন করতে পারে।
আর ঠিক এ কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই দালালদের অভ্যন্তরীণ কামড়াকামড়িতে চরম বিরক্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে, তখন তারা বাধ্য হয়ে প্রতিটি প্রশাসনের সাথে আলাদা আলাদাভাবে রফা করতে শুরু করেছে। এখন মোগাদিসু, হারগেইসা, বোসাসো এবং কিসমায়োর প্রত্যেকটি প্রশাসনের সাথে আমেরিকার ভিন্ন ভিন্ন চুক্তি ও লেনদেন চলছে।
একইভাবে, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো কেবল সেই প্রশাসনের কাঁধেই হাত রাখছে, যাদের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব আখের গোছানো সম্ভব। এভাবেই এই মুরতাদ প্রশাসনগুলোর প্রতিটিই মাতৃভূমির প্রতি বিশ্বস্ততা থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে। আর এই সুযোগে বিদেশি আগ্রাসীরা সোমালিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছে এবং মুসলিম সমাজের স্বার্থকে পায়ে মাড়িয়ে তারা সেই অঞ্চলগুলোকে নিজেদের লোভের শিকারে পরিণত করেছে।
আজ মোগাদিসুসহ আমাদের উল্লিখিত শহরগুলোতে বসে থাকা বড় বড় মুরতাদ নেতা এবং তাদের প্রশাসন রাজনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। যে সেনাবাহিনীর পেছনে তারা বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পানি করেছে, সেটি আজ নেহাতই কিছু গোত্রভিত্তিক মিলিশিয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক নেতা তার বিরোধী প্রশাসনের ওপর পেশিশক্তি দেখাতে এই মিলিশিয়াদের লেলিয়ে দিচ্ছে। মোগাদিসু, বাইদোয়া, বালাদহাওয়া, কামবোনি, লাস আনোদ এবং বারি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই এর জলজ্যান্ত প্রমাণ। মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গ্রন্থে ইহুদিদের যে নোংরা বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বর্ণনা করেছেন, আজ অবিকল সেই বৈশিষ্ট্যগুলোই এদের মাঝে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
﴿ وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ﴾
“আর আমি তাদের মাঝে কিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঢেলে দিয়েছি। যখনই তারা যুদ্ধের কোনো আগুন জ্বালায়, তখনই আল্লাহ তা নিভিয়ে দেন। আর তারা পৃথিবীতে কেবল অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। আর আল্লাহ কখনোই ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-মায়েদাহ: ৬৪)
তথাকথিত নির্বাচন নামক প্রহসন
বিশ্বব্যাপী কাফির প্রভুরা যখন তাদের দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা এবং মুরতাদ সরকারের ভিত্তি নড়বড়ে হওয়ার তীব্র সমালোচনা শুরু করে, তখন সেই দিক থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং তাদের ভিক্ষার তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকির হাত থেকে বাঁচতে মুরতাদরা এক নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে। পশ্চিমা দেশগুলোকে তারা এই মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, তারা অন্তত কিছুটা হলেও তাদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে এবং দেশটি এখন একটি ‘সার্বজনীন নির্বাচনের’ দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।
এটি একটি পবিত্র ইসলামী ভূখণ্ড। এই মাটিতে মুসলিমদের শরিয়াহ ছাড়া অন্য কোনো মানবসৃষ্ট আইনে দেশ চলবে না। এখানে কুফরের কোনো চিহ্ন বা রীতি-নীতি কখনোই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তাই আমরা সোমালি জনগণকে এই তথাকথিত নির্বাচনের ধোঁকায় পা দেওয়া থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করছি। কারণ আপনি যে ভোটটি দেবেন, তা আপনার দীন, আপনার জীবনের নিরাপত্তা এবং আপনার সম্পদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
মূলত আপনারা ভোট দেওয়ার মাধ্যমে ইসলাম এবং কুফরের মধ্যে একটিকে বেছে নিচ্ছেন। আপনারা এমন কিছু জালিমকে সুযোগ করে দিচ্ছেন, যারা গোটা দেশকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে ঠেলে দেবে এবং দুর্বলদের রক্ত চুষে খাবে। এই প্রহসনের নির্বাচনের একমাত্র লক্ষ্য হলো দয়াময় আল্লাহর শরিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক একটি কুফরি ব্যবস্থা আপনাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। তাই সেই জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, যাদেরকে নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের মরীচিকার ব্যাপারে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা শোনেনি। এই তথাকথিত গণতন্ত্র তাদের পার্থিব জীবনেও কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি, আর পরকালেও মহান আল্লাহ তাদের এই অপকর্মের চুলচেরা হিসাব নেবেন।
মুজাহিদিন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি
আমি মহান আল্লাহর রাহে লড়াইরত বীর মুজাহিদদের প্রতি আমার অন্তরের গভীরতম শ্রদ্ধা এবং সশ্রদ্ধ সালাম পেশ করছি। সেই সত্যনিষ্ঠ আল্লাহর ওলিদের প্রতি আমার বিনম্র অভিবাদন, যারা নিজেদের ধর্ম, মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষার পবিত্র ঝান্ডা উড্ডীন রেখেছেন। মহান আল্লাহ যাঁদের হাতের মাধ্যমে গত বিশ বছরে এই দেশ এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বোনা শত্রুদের অসংখ্য সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র ও নীল নকশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।
হে আমার ভাইয়েরা! আজ মহান আল্লাহ আপনাদেরকে এমন এক মহান ইবাদতের জন্য মনোনীত করেছেন, যা একজন বান্দাকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী করে দেয়। আর তা হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। মহান আল্লাহ বলেছেন:
﴿ يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وابتغوا إليه الوسيلة وجاهدوا في سبيله لعلكم تفلحون ﴾
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (সূরা আল-মায়েদাহ: ৩৫)
দখলদার কাফিরদের বিরুদ্ধে আজ আপনারা যে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, ঠিক তার বদৌলতেই আজ ইসলামী প্রদেশগুলো:
- গণতন্ত্রের বিষাক্ত ছোবল থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এক পবিত্র ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এখানে ইসলামী শরিয়াহর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে চোখ রাঙানো বা হুমকি দেওয়া শত্রুদের কোনো পরোয়া করা হয় না।
- আপনাদের এই পবিত্র জিহাদই ইসলামী প্রদেশগুলোকে বিদেশি হস্তক্ষেপের সামনে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। দেশের সম্পদ যারা লুটপাট করতে এসেছিল, তাদের কালো হাত আপনারা ভেঙে দিয়েছেন।
- এটিই ইসলামী প্রদেশগুলোকে সেসব অসহায় মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছে, যারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া জুলুম, দুর্নীতি ও অরাজকতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়।
- এটিই সেই পবিত্র ভূমি, যেখানে কাফিরদের দ্বারা নির্যাতিতা পুণ্যবতী নারীরা পরম নিশ্চিন্তে আশ্রয় নেন। যারা তাদের পর্দা, সম্ভ্রম এবং ধর্ম রক্ষার জন্য হিজরত করে এখানে ছুটে আসেন।
- এটিই সেই স্বপ্নরাজ্য, যেখানে এমন প্রতিটি মানুষ বাস করে, যারা আজীবন মহান আল্লাহর শরিয়াহর ছায়াতলে বাঁচার স্বপ্ন দেখে এসেছে। তারা এখানে সেই প্রকৃত স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার স্বাদ উপভোগ করে, যা তারা নিজেদের জন্মভূমি বা বেড়ে ওঠার জায়গায় কখনোই পায়নি।
হে ভাইয়েরা! আপনারা অপরিসীম ধৈর্য ধারণ করেছেন। অনেক পাহাড়সম পরীক্ষা ও কঠিন বিপদ হাসিমুখে সহ্য করেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা যে প্রকৃত বিজয়ের সন্ধানে নেমেছি, তার অর্থ শুধু কোনো শহর জয় করা বা শত্রুর কোনো সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া নয়। বরং প্রকৃত বিজয় হলো—আপনারা আপনাদের দীনের ওপর শক্তভাবে অটল থাকবেন, দ্বীনের পথে অবিচল থাকবেন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে এই পবিত্র জিহাদ চালিয়ে যাবেন।
﴿ فَإِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَإِنَّا مِنْهُمْ مُنْتَقِمُونَ (41) أَوْ نُرِيَنَّكَ الَّذِي وَعَدْنَاهُمْ فَإِنَّا عَلَيْهِمْ مُقْتَدِرُونَ (42) فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (43) وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ (44) ﴾
“আমি যদি তোমাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়েও নিই, তবুও আমি অবশ্যই তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব। অথবা আমি তাদের যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা যদি তোমার জীবদ্দশাতেই তোমাকে দেখিয়ে দিই, তবে জেনে রাখো, আমি তাদের ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। অতএব তোমার প্রতি যে ওহি নাজিল করা হয়েছে, তুমি তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখো। নিশ্চয়ই তুমি সরল ও সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এই কুরআন তোমার এবং তোমার সম্প্রদায়ের জন্য এক বিরাট সম্মান। আর খুব শিগগিরই তোমাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সূরা আয-যুখরুফ: ৪১-৪৪)
আজ আমাদের কাঁধে আগের চেয়ে বহুগুণ ভারী এবং কঠিন এক দায়িত্ব এসে পড়েছে। আপনাদের খুব ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার যে, এখন আপনারা শুধু কিছু অবশিষ্ট মুরতাদ মিলিশিয়ার সাথে লড়ছেন না; বরং আপনারা এমন এক অপশক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন, যারা নিজেদের কাঁধে ক্রুসেডার এবং সেক্যুলারদের নোংরা পতাকা তুলে নিয়েছে। এরা কেবল নামেই সোমালিয়ার সন্তান। কিন্তু বাস্তবে এরা বৈশ্বিক ক্রুসেডার, আফ্রিকান আগ্রাসী এবং সেক্যুলারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রাখার শপথ নিয়েছে।
পরিস্থিতি আজ এমন এক নোংরা রূপ নিয়েছে যে, তাদেরকে চেনা যায় তাদের পোশাকে লাগানো ব্যাজ দেখে। যেখানে তাদের সোমালি পরিচয়ের পাশাপাশি তারা মূলত যে প্রভুর দালালি করছে—হোক তা আমেরিকা, তুরস্ক বা আরব আমিরাত—তাদের জাতীয় পতাকাও যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমেই একজন দালালের আসল চরিত্র এবং সে আসলে কার উচ্ছিষ্ট খেয়ে কার পক্ষে লড়ছে, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়।
আর এটি সর্বদা মনে রাখবেন, এই গৌরবময় বিজয়গুলো কখনোই অনুনয়-বিনয়, টেবিলের আলোচনা বা আপসকামিতার মাধ্যমে অর্জিত হয়নি। আর ভবিষ্যতেও ক্রুসেডার ও সেক্যুলারদের এই অশুভ জোটকে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া কখনোই হঠানো যাবে না। সুতরাং, আপনাদের সামরিক অভিযানগুলোকে আরও জোরদার করুন। আল্লাহর শত্রুদের চোখে চোখ রেখে দেখিয়ে দিন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে আপনারা কখনোই ক্লান্ত হন না। নিজেদের মাটি ও ঘাঁটিতে পাথরের মতো অবিচল থাকুন। সেক্যুলার ক্রুসেডারদের এই আগ্রাসনের পতাকা বহনকারী হানাদারদের বিরুদ্ধে আঘাত হানতে আপনাদের সমস্ত শক্তি এক বিন্দুতে জড়ো করুন।
এ কথাও ভুলে যাবেন না যে, যুদ্ধের কেবল শুরুমাত্র। আপনাদের শত্রুরা কখনোই তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বোনা থামাবে না। তারা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল বদলাবে এবং নতুন নতুন ধোঁকাবাজির আশ্রয় নেবে।
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كَذَبُوا، الْآنَ جَاءَ الْقِتَالُ، وَإِنَّهُ لَا تَزَالُ مِنْ أُمَّتِي أَمَةٌ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ، يَزِيغُ اللهُ قُلُوبَ قَوْمٍ يَرْزُقُهُمْ مِنْهُمْ يُقَاتِلُونَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، وَلَا تَضَعُ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا حَتَّى يَخْرُجَ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ.
“রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তারা মিথ্যা বলেছে। মূল যুদ্ধ তো এখনই শুরু হলো। আমার উম্মতের একটি দল সর্বদাই আল্লাহর পথে লড়াই চালিয়ে যাবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ কিছু সম্প্রদায়ের অন্তরকে বক্র করে দেবেন, আর ওই দলটি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের কাছ থেকেই নিজেদের রিজিক লাভ করবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ কখনোই তার অস্ত্র নামিয়ে রাখবে না।” (সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস নম্বর: ৩৫৬১)
আমি আমার বীর সেনাদের অসীম ধৈর্য, অটল স্থিরতা, জিহাদের প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শাহাদাতের তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রশংসা না করে পারছি না। আল্লাহর কালিমাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য তারা এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে বেঁচে থাকার চেয়ে নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দেওয়াকেই বেশি ভালোবাসে। সাবাশ আপনাদের! আর আপনাদের প্রকৃত প্রতিদান তো মহান আল্লাহর কাছেই সংরক্ষিত।
জেনে রাখুন, আপনারাই এই যুগের শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী বীর। আপনারাই দয়াময় আল্লাহর শরিয়াহর প্রকৃত রক্ষক। আপনারা আল্লাহর সেই অপরাজেয় সেনাবাহিনী, যাদের হাতের মাধ্যমে তিনি তাঁর শত্রুদের চরম শাস্তি দেন। আপনারা মজলুম মুসলিমদের নিরাপদ আশ্রয় এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে চাওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ। আপনারাই অসহায় দুর্বলদের চোখের শীতলতা।
আমি আপনাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জনের নসিহত করছি। যাবতীয় পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন এবং অন্তরে আল্লাহর ভয়কে আরও বৃদ্ধি করুন। প্রতিনিয়ত কুরআন তিলাওয়াত করুন, সকাল-সন্ধ্যার জিকিরগুলো শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং নিজেদের ঈমানকে সতেজ করুন। একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করুন এবং সেই সম্পর্কের হক আদায় করুন। যাদের মাঝে আপনারা বসবাস করেন, তাদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করুন; কারণ তারা আপনাদেরই পিতা ও ভাই। অহংকার এবং আত্মগরিমা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখুন।
সম্মানিত ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন গোত্রসমূহ
ইসলামী প্রদেশগুলোতে আক্রমণকারী শত্রুদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে যে গোত্রগুলো অসামান্য অবদান রেখেছে, আমি তাদের সবাইকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনাদের ঘরবাড়ি ও পরিবার-পরিজনে বরকত দান করেন। আল্লাহর দীনের সুরক্ষায় আপনারা যে অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, মহান আল্লাহর দরবারে আপনারা তার কানাকড়িও কমতি না হয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান পাবেন।
ইসলামী প্রদেশগুলোতে বসবাসকারী প্রতিটি গোত্রের উচিত মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা। কারণ আল্লাহ আপনাদেরকে অনেক বড় নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন। এর মধ্যে গোত্রগত সংঘাত ও রক্তপাত প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসা, গবাদিপশুর বৃদ্ধি, নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং সম্পদের প্রাচুর্য উল্লেখযোগ্য। আর এ সবই অর্জিত হয়েছে একমাত্র আল্লাহর শরিয়াহ বাস্তবায়নের বরকতে। একবার চোখ তুলে অন্য অঞ্চলগুলোর দিকে তাকান, যারা তথাকথিত গণতন্ত্রের ধোঁকায় পরিচালিত হচ্ছে। তাদের সাথে নিজেদের তুলনা করলেই দেখতে পাবেন যে, আপনাদের অঞ্চলে রহমতের বৃষ্টি বেশি হচ্ছে, আপনাদের জানমালের নিরাপত্তা অনেক বেশি সুদৃঢ় এবং আপনারা অনেক বেশি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করছেন।
কিন্তু যখন আমরা আল্লাহর এই নেয়ামতগুলোর অকৃতজ্ঞতা করেছি, এগুলো ভুলে গেছি এবং সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের রক্ত ঝরিয়েছি, তখন আল্লাহ আমাদের সতর্ক করার জন্য তাঁর সামান্যতম পরীক্ষার স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন। এর ফলেই গত কয়েকটি মৌসুমে আমরা তীব্র তাপদাহ এবং অনাবৃষ্টির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।
তাই আসুন, আমরা আবারও আমাদের মহান রবের দিকে ফিরে যাই। আমরা পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন সুদৃঢ় করি এবং প্রতিবেশীর হক যথাযথভাবে আদায় করি। আমাদের যে মুজাহিদ সন্তানেরা আপনাদের নিরাপত্তার জন্য দিনরাত জেগে পাহারা দিচ্ছে, আসুন আমরা তাদের ছায়া ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হই। আমরা তাদের পেছনের শক্ত খুঁটি এবং মজবুত ঢাল হয়ে দাঁড়াই।
আমি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ওপর বরকতময় ও উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আমাদের রিজিক ও সম্পদে যেন বরকত দান করেন এবং আমরা যে পরম নিরাপত্তার ছায়ায় বসবাস করছি, সেজন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করেন।
জেনে রাখুন, ইসলামের জন্য আজ আপনারা যে ত্যাগ স্বীকার করছেন, তার বিন্দুমাত্রও বৃথা যাবে হৈ না। মুজাহিদদের সাহায্যার্থে যারা নিজেদের জান ও মাল অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন, তারা আর ওইসব কাপুরুষ যারা পিছটান দিয়েছে এবং মুজাহিদদের একা ফেলে পালিয়েছে—কখনোই সমান হতে পারে না।
আমি সেই রাজনৈতিক প্রশাসনগুলোকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যারা আপনাদের মধ্যকার গোত্রগত সংঘাতগুলো নিভিয়ে ফেলতে এবং পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সর্বদা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
গোত্রগুলোর সম্মানিত নেতৃবৃন্দ এবং সমাজপতিদের উদ্দেশে আমি বলছি: শত্রুরা এই উম্মাহকে আবারও সেই ধ্বংসাত্মক অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আগুনে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অতীতে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই ধ্বংস করেছিল। তাদের এই চক্রান্ত সম্পর্কে চরম সতর্ক থাকুন। আপনাদের দৃষ্টি সর্বদা সজাগ রাখুন। যেকোনো ফিতনা বা সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই তার মূল উৎপাটন করুন। সমাজের ওইসব নির্বোধ ও জ্ঞানহীন মানুষের হাত শক্ত করে চেপে ধরুন, যাদেরকে ব্যবহার করে শত্রুরা তাদের নোংরা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়।
আপনারা চাইলেই অত্যন্ত গভীর ভ্রাতৃত্ব ও অকৃত্রিম ভালোবাসার সাথে বসবাস করতে পারেন। কিন্তু সংঘাতের আগুনে একবার ঝাঁপ দিলে আপনারা সেই শান্তির সুবাতাস কখনোই পাবেন না।
ভাইয়ে ভাইয়ে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মতবিরোধের পরও তারা একে অপরকে সাহায্য করে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে। আর যদি তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, তবে তারা নিজেরাই নিজেদের শক্তি ক্ষয় করে ফেলে এবং নিজেদের বিপদ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
আমি প্রতিটি প্রশাসন এবং সকল গোত্রকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা নিজেদের পায়ের ওপর দাঁড়ান, নিজেদের কৃষিজমি ও গবাদিপশুর যত্ন নিন। বিশ্বব্যাপী ধেয়ে আসা মুদ্রাস্ফীতির এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়কে সাহসের সাথে মোকাবিলা করুন। কৃষিকাজে নিজেদের হাত লাগান এবং মাতৃভূমির অমূল্য সম্পদগুলোকে রক্ষা করুন—এটুকুই আপনাদের জন্য যথেষ্ট। মহান আল্লাহ পরম দয়া করে আমাদের যে উর্বর ভূমি দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য পুরোপুরি যথেষ্ট। আজ সারা বিশ্বে ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে সংঘাত উসকে দেওয়ার যে খেলা চলছে, তা মূলত খাদ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই। অথচ আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মাটি আমাদের অঢেল প্রাচুর্য দান করে এবং এটি আমাদের জন্য সম্পূর্ণ যথেষ্ট।
এই সুযোগে আমি ইসলামী প্রদেশসমূহের প্রশাসনগুলো এবং তাদের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের প্রতি সালাম ও প্রশংসা জানাচ্ছি। সাধারণ মানুষের সেবায় তাদের নিরলস পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ‘খরা ত্রাণ কমিটি’ এবং দুর্ভিক্ষের শিকার অসহায় মানুষদের জন্য তারা যে ব্যাপক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে, তা আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
ইসলামী প্রদেশগুলোতে বসবাসরত সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আমি অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই, যারা খরায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন। হোক তিনি কোনো আলেম, গোত্রপ্রধান, মুজাহিদ, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, নারী কিংবা সমাজের অন্য যেকোনো স্তরের সাধারণ মানুষ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আপনারা যা কিছু দান করেছেন, তার বিনিময়ে তিনি আপনাদের সর্বোত্তম পুরস্কার দান করুন। আর আপনারা যা খরচ করেছেন, তার শূন্যস্থানটি তিনি আরও উত্তম কিছু দিয়ে পূরণ করে দিন।
﴿ وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ﴾
“সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে তোমরা একে অপরের সহযোগিতা করো। আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে কখনোই একে অপরের সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল-মায়েদাহ: ২)
عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: “ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يُسْلِمُهُ، مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ”.
“সালিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর কোনো অবিচার করবে না এবং তাকে শত্রুর হাতে তুলেও দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোনো প্রয়োজন পূরণ করে, মহান আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি বিপদ দূর করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিপদগুলোর মধ্য থেকে একটি বড় বিপদ দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২৪৪২, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২৫৮০)
ইসলামী প্রদেশসমূহের প্রশাসনগুলো, সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এবং মুসলিমদের ব্যাপারে যাদের ওপর সামান্যতম দায়িত্বও অর্পিত হয়েছে, আমি তাদের সবাইকে নসিহত করছি: আপনারা ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করুন। দরিদ্র, মিসকিন, অভাবী এবং সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষদের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে মহান আল্লাহকে ভয় করুন এবং এ কথা সর্বদা স্মরণ রাখবেন যে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ আপনাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেবেন।
﴿ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا﴾
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন যে, আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করবে, তখন ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের সাথে তা করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন, তা কতই না চমৎকার! নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন ও সব দেখেন।” (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
হে আল্লাহ! আপনি এই উম্মাহর জন্য এমন এক সঠিক ও কল্যাণকর ফয়সালা নির্ধারণ করে দিন, যার মাধ্যমে আপনার অনুগত বান্দারা সম্মানিত হবে এবং আপনার অবাধ্যরা লাঞ্ছিত হবে। যেখানে সৎকাজের আদেশ দেওয়া হবে এবং যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে শক্ত হাতে বারণ করা হবে।
আমাদের সর্বশেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা একমাত্র সৃষ্টিকুলের রব মহান আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর অজস্র রহমত ও অগণিত শান্তি বর্ষণ করুন।



