আশ শুহাদা মিডিয়ানির্বাচিতপিডিএফ ও ওয়ার্ডবার্তা ও বিবৃতিমিডিয়া

Bengali Translation || ১৪৪৭ হিজরির ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহামান্য আমিরুল মুমিনিন শায়খুল কুরআন ওয়াল হাদিস মৌলভি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিযাহুল্লাহ-এর বার্তা!

مؤسسة الشهداء
আশ শুহাদা মিডিয়া
Ash Shuhada Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:

رسالة تهنئة من سماحة أمير المؤمنين شيخ القرآن والحديث المولوي هبة الله أخند زاده -حفظه الله- بمناسبة عيد الفطر المبارك

১৪৪৭ হিজরির ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহামান্য আমিরুল মুমিনিন শায়খুল কুরআন ওয়াল হাদিস মৌলভি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিযাহুল্লাহ-এর বার্তা!

A message of congratulations from His Eminence, the Commander of the Faithful, Shaykh of the Qur’an and Hadith, Mawlawi Hibatullah Akhundzada (may Allah preserve him), on the occasion of Eid al-Fitr 1447 AH

Bengali Translation || ১৪৪৭ হিজরির ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহামান্য আমিরুল মুমিনিন শায়খুল কুরআন ওয়াল হাদিস মৌলভি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিযাহুল্লাহ-এর বার্তা!

 

 

روابط بي دي اب
PDF (627 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬২৭ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/mqF348mS7F7MGBZ
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/2wqi4Rn9PY5opx4
লিংক-৩ : https://archive.org/download/ShaikhHibatullahBarta/ShaikhHibatullahBarta.pdf
লিংক-৪ : https://eidbarta1447.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhhibatullahbarta.pdf
লিংক-৫ : https://www.mediafire.com/file/emjfm8sr909wzeg/ShaikhHibatullahBarta.pdf/file
লিংক-৬ : https://mega.nz/file/MEMWQAYA#nIR3fCcydFHbs8E6LUbHHbezAzuV0DhHr1OCFsU_2DQ

 

روابط ورد
Word (478 KB)
ওয়ার্ড [৪৭৮ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/sB7Dajq69MJEZb8
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/pf5S4SbpwddafwN
লিংক-৩ : https://archive.org/download/ShaikhHibatullahBarta/ShaikhHibatullahBarta.docx
লিংক-৪ : https://eidbarta1447.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhhibatullahbarta.docx
লিংক-৫ : https://www.mediafire.com/file/lpywduev7ufnagu/ShaikhHibatullahBarta.docx/file
লিংক-৬ : https://mega.nz/file/VN8SyJQa#Hz8x4oWpIZjimDyvPwRLiidQxoPtzU50t_aSXp6c08M

 

روابط الغلاف- ١
book Banner [1.4 MB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৪ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/JkcxET7RLxB62Wr
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/srr6ynL6myLdRzJ
লিংক-৩ : https://archive.org/download/ShaikhHibatullahBarta/ShaikhHibatullahBarta%20Cover.jpg
লিংক-৪ : https://eidbarta1447.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhhibatullahbarta-cover.jpg
লিংক-৫ : https://www.mediafire.com/file/oz2knpvl2zdpoai/ShaikhHibatullahBarta+Cover.jpg/file
লিংক-৬ : https://mega.nz/file/oFM2gJbC#8OGqjA2Y11jAetrFGuNSo9u5ee1O_8DigDE3dYW15io

 

روابط الغلاف
Banner [718 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [৭১৮ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/4CK7jjxn6e7MkfP
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/cgPDzAKY2y4Dd5E
লিংক-৩ : https://archive.org/download/ShaikhHibatullahBarta/ShaikhHibatullahBarta%20Baner.jpg
লিংক-৪ : https://eidbarta1447.wordpress.com/wp-content/uploads/2026/03/shaikhhibatullahbarta-baner.jpg
লিংক-৫ : https://www.mediafire.com/file/wnhzaugkvyt9oka/ShaikhHibatullahBarta+Baner.jpg/file
লিংক-৬ : https://mega.nz/file/0U1UFC4I#PTUTk9I3rjqK_Fs6hnaBvHN-35Z12xU2xr9kc0JTiJ4

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الشهداء للإنتاج الإعلامي
আপনাদের দোয়ায়
আশ শুহাদা মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
In your dua remember your brothers of
Ash Shuhada Media

 

بسم ﷲ الرحمن الرحیم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده ﷲ فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا ﷲ وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد:

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:

 قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى ، وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى

“নিশ্চয়ই সে সাফল্য লাভ করেছে, যে পবিত্রতা অর্জন করেছে (ঈমানের মাধ্যমে পাপ থেকে), এবং স্বীয় রবের নাম স্মরণ করেছে (তাকবিরের সাথে), অতঃপর সালাত আদায় করেছে (যা ইসলামের নিদর্শন)।” (সূরা আল-আলা: ১৪-১৫, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

و عن ابي هریرة رضی الله تعالی عنه قال، قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف قال الله تعالى : إلا الصوم فإنه لي وأنا أجزي به يدع شهوته وطعامه من أجلي للصائم فرحتان : فرحة عند فطره وفرحة عند لقاء ربه ولخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك والصيام جنة وإذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث ولا يصخب، فإن سابه أحد أو قاتله فليقل إني امرء الصائم)).

“হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকির সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশো গুণ পর্যন্ত দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন: তবে রোজার বিষয়টি ভিন্ন। রোজা একান্তই আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। রোজাদার একমাত্র আমার সন্তুষ্টির জন্যই তার পানাহার ও কাম-প্রবৃত্তি বর্জন করে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ ইফতারের সময়, আর অন্যটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশকের সুগন্ধির চেয়েও বেশি প্রিয়। রোজা হলো ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং হৈচৈ না করে। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে বা তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তবে সে যেন বলে দেয়: আমি রোজাদার।” (সহিহ মুসলিম: ১১৫১, সহিহ বুখারি: ১৯০৪, মিশকাতুল মাসাবিহ: ১৯৬৩)

আফগানিস্তানের ঈমানদার ও মুজাহিদ জনতা! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

ঈদুল ফিতরের এই মোবারক ও আনন্দঘন মুহূর্তে আমি আফগানিস্তানের মুজাহিদ ও দ্বীনদার মানুষের পাশাপাশি সারাবিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ। মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা, রমজানের এই বরকতময় মাসে আমাদের ও আপনাদের সিয়াম, তারাবিহ এবং অন্যান্য ইবাদত ও দ্বীনি খেদমতগুলো যেন তিনি নিজ কৃপায় কবুল ও মঞ্জুর করে নেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাকওয়া, ইখলাস ও ইস্তিকামাতের (দৃঢ়তা) পথে অবিচল রাখুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে কল্যাণ ও সফলতা দান করুন।

সম্মানিত ভাইয়েরা! আল্লাহ তায়ালা পবিত্র রমজান মাসকে ধৈর্য, তাকওয়া এবং সামাজিক সহমর্মিতার মাস হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের (অতীত উম্মত ও নবীগণের) ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো এবং নিজেদের (পাপ থেকে) রক্ষা করতে পারো (কেননা রোজা নফসানি বা পাশবিক চাহিদাকে অবদমিত করে)।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

وعن سلمان رضی الله تعالی عنه قال : خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في آخر يوم من شعبان فقال : ” يا أيها الناس قد أظلكم شهر عظيم شهر مبارك شهر فيه ليلة خير من ألف شهر جعل الله تعالى صيامه فريضة وقيام ليله تطوعا من تقرب فيه بخصلة من الخير كان كمن أدى فريضة فيما سواه ومن أدى فريضة فيه كان كمن أدى سبعين فريضة فيما سواه وهو شهر الصبر والصبر ثوابه الجنة وشهر المواساة وشهر يزداد فيه رزق المؤمن من فطر فيه صائما كان له مغفرة لذنوبه وعتق رقبته من النار وكان له مثل أجره من غير أن ينقص من أجره شيء ” قلنا : يا رسول الله ليس كلنا يجد ما نفطر به الصائم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” يعطي الله هذا الثواب من فطر صائما على مذقة لبن أو تمرة أو شربة من ماء ومن أشبع صائما سقاه الله من حوضي شربة لا يظمأ حتى يدخل الجنة وهو شهر أوله رحمة وأوسطه مغفرة وآخره عتق من النار ومن خفف عن مملوكه فيه غفر الله له وأعتقه من النار “

“হজরত সালমান ফারসি রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, শাবান মাসের শেষ দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করে বললেন: “হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের ওপর এক মহান ও অত্যন্ত বরকতময় মাসের ছায়া নেমে এসেছে। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ তায়ালা এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং এর রাতের কিয়ামকে (ইবাদত) নফল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবে, সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করবে, সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে।

এটি ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটি পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সমবেদনা প্রকাশের মাস। এটি এমন এক মাস, যাতে মুমিনের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার গুনাহ মাফ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। তাকে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।”

আমরা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সবার তো আর রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো সামর্থ্য নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহ তায়ালা এই সওয়াব ওই ব্যক্তিকেও দান করবেন, যে কোনো রোজাদারকে এক চুমুক দুধ, একটি খেজুর অথবা এক ঢোঁক পানি দিয়ে ইফতার করাবে।

আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পেটপুরে খাওয়াবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউজ (হাউজে কাউসার) থেকে এমন পানি পান করাবেন যে, জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত তার আর কখনো তৃষ্ণা পাবে না।

এটি এমন এক মাস, যার শুরুটা রহমতের, মাঝের অংশটি মাগফিরাতের এবং শেষ অংশটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির।

আর যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধীনস্ত গোলামের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে এবং তার প্রতি সদয় আচরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।” (মিশকাতুল মাসাবিহ: ১৯৬৪, শুয়াবুল ঈমান (ইমাম বায়হাকি): ৩৩৩৬)

পবিত্র রমজান মাসের শেষে আজ সেই আনন্দের দিন, যেদিন মুসলমানরা সদাকাতুল ফিতর এবং ঈদের নামাজ আদায় করে। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

 قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى، وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى

“নিশ্চয়ই সে সাফল্য লাভ করেছে, যে পবিত্রতা অর্জন করেছে (অর্থাৎ ঈমানের মাধ্যমে পাপমুক্ত হয়েছে), এবং স্বীয় রবের নাম স্মরণ করেছে (তাকবির ধ্বনির মাধ্যমে), অতঃপর সে সালাত আদায় করেছে (যা ইসলামের নিদর্শন)।” (সূরা আল-আলা: ১৪-১৫, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

এখানে ‘তাজকিয়া’ বা পবিত্রতা বলতে সদাকাতুল ফিতরকে, ‘জিকির’ বলতে ঈদের তাকবিরগুলোকে এবং ‘সালাত’ বলতে ঈদের নামাজকে বোঝানো হয়েছে। (অর্থাৎ, ঈদের দিন প্রথমে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, তারপর তাকবির পাঠ করতে হবে এবং সবশেষে ঈদের নামাজ পড়তে হবে)।

এর পাশাপাশি মুসলমানরা এই দিনে তাদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। সুতরাং আপনারাও সদাকাতুল ফিতর আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। সামর্থ্যবান মুসলমানদের উচিত, ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের তাগিদে নফল সদকা ও অন্যান্য আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিধবা, এতিম এবং অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর, বিশেষ করে নিজ নিজ অভাবী প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সহায় হোন, যেন তারাও ঈদের এই বরকতময় রাত ও দিনটি হাসিখুশিতে কাটাতে পারে।

عن أنس قال : قدم النبي صلى ﷲ عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال : ” ما هذان اليومان ؟ ” قالوا : كنا نلعب فيهما في الجاهلية فقال رسول ﷲ صلى ﷲ عليه وسلم : ” قد أبدلكم ﷲ بهما خيرا منهما : يوم الأضحى ويوم الفطر ” .

“হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীদের দুটি নির্দিষ্ট দিন ছিল, যেদিনগুলোতে তারা খেলাধুলা ও আনন্দ-উৎসব করত (এগুলো ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াতের উৎসব, যা নওরোজ ও মেহেরজান নামে পরিচিত ছিল)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: “এই দুই দিন কীসের?”

তারা বলল: জাহেলিয়াতের যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধুলা করতাম।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য এই দিন দুটির পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন: ঈদুল আজহা (কুরবানির দিন) এবং ঈদুল ফিতর (রোজা ভঙ্গের দিন)।” (সুনানে আবু দাউদ: ১১৩৪)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে:

 عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: فرض رسول ﷲ صلى ﷲ عليه وسلم زكاة الفطر طهر الصيام من اللغو والرفث وطعمة للمساكين .

“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকাতুল ফিতরকে এই কারণে অপরিহার্য করেছেন, যেন রোজাকে অনর্থক ও অশালীন কথা-কাজ থেকে পবিত্র করা যায় এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা হয়।” (সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৯)

সম্মানিত মুসলিম ভাইয়েরা! আজ আমরা এমন এক দিনে উপনীত হয়েছি, যেদিন মহান আল্লাহ মানুষের পাপসমূহ মোচন করেন এবং তাদের দোয়াসমূহ কবুল করেন। তাই আপনাদের সকলের উচিত নিজের মুসলিম ভাইদের জন্য, বিশেষ করে আমিরুল মুমিনিন, মুজাহিদীন এবং দায়িত্বশীলদের নিরাপত্তা, দৃঢ়তা এবং ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থায়িত্বের জন্য প্রাণভরে দোয়া করা।

ঈদের এই বরকতময় রাত ও দিনের পবিত্রতার প্রতি সম্মান জানিয়ে একে অপরের প্রতি কুধারণা, হৃদয়ের ক্ষোভ, হিংসা ও বিদ্বেষ মন থেকে মুছে ফেলুন। পরস্পরকে ক্ষমা করে দিন এবং আন্তরিকতার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করুন।

যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ.

“যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল (সর্বাবস্থায়) আল্লাহর পথে ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে (ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও) এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল (যদিও তাদের ওপর জুলুম বা সীমালঙ্ঘন করা হয়ে থাকে)। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

দ্বীনদার দেশবাসী ভাইয়েরা! আফগানিস্তানে ইসলামী ইমারতের ছত্রছায়ায় ‘আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার এবং অভিযোগ শ্রবণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ সব ধরনের অনাচার ও ফাসাদ রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِﷲ ۗ….‎

“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করো, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।” (সূরা আলে ইমরান: ১১০, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সমাজের মানুষের সংশোধনের কাজে লিপ্ত রয়েছেন। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা ও পাপাচারের মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা সব ধরনের ফাসাদ বা অনাচার মূলোৎপাটন করাই ইসলামী ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

যখন সমাজ থেকে ফাসাদ দূর হয়ে যাবে, তখন আপনাদের জীবনে নেমে আসবে অনাবিল সুখ ও শান্তি। আপনাদের মানসম্মান সুরক্ষিত থাকবে, মর্যাদাবোধ অক্ষুণ্ণ থাকবে। মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে এর নিয়ামতসমূহ ভোগ করবে এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের অধিকারী হবে।

ইসলামী ইমারতের সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণেরও উচিত ‘আমর বিল মারুফ, নাহি আনিল মুনকার এবং অভিযোগ শ্রবণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদান করা। এতে করে আমাদের সমাজ দুর্নীতি ও ফেতনামুক্ত হবে এবং আগামী প্রজন্ম ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুপ্রথা ও অনৈতিকতার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে।

এই অন্যায় ও পাপাচারগুলো প্রতিরোধে সকল ওলামায়ে কেরামেরও একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তা হলো, যুবসমাজের আকিদা-বিশ্বাস পরিশুদ্ধকরণ এবং অপরাধ দমনে পূর্ণ সহযোগিতা করা। তারা যেন তাদের উপর অর্পিত এই শরয়ি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, যাতে ইসলামী ইমারতের সকল নির্দেশনা, আইনকানুন, বিশেষ করে সৎকাজের আদেশের বিধানটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং তা বাস্তব রূপ লাভ করে।

মুসলিম ভাইয়েরা! আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহর অশেষ সাহায্য এবং ইসলামী ইমারতের মুজাহিদদের সীমাহীন আত্মত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের বদৌলতে, আজ আফগানিস্তানের মানুষ যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশে জীবন যাপন করছে। মনে রাখবেন, শান্তি ও নিরাপত্তা মহান আল্লাহর এক অমূল্য নিয়ামত। এই নিয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ আমাদের সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত।

যেমনটি মহান আল্লাহর পবিত্র বাণীতে এসেছে:

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ … ‎

“আর স্মরণ করো (হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) সেই সময়ের কথা, যখন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) দোয়া করেছিলেন: ‘হে আমার রব! এ শহরকে (যেখানে আমি পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করেছি) আপনি নিরাপদ করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে, তাদের বিভিন্ন প্রকার ফলমূলের রিজিক দান করুন’।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১২৬, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

হজরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কা মুকাররমার জন্য সর্বপ্রথম নিরাপত্তার দোয়া করেছিলেন, এবং এরপরেই তিনি শহরটির আবাদ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। এতে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয় যে, শান্তি ও নিরাপত্তা হলো অন্যান্য সমস্ত নিয়ামতের পূর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক ঐশী নিয়ামত।

একইভাবে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ও মুজাহিদদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, এই মুজাহিদ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দিনরাতের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আজ শত্রুদের সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গেছে। মানুষ এখন দিনরাত দেশের যেকোনো প্রান্তে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারছে। এই বিষয়গুলো আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিত এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।

সম্মানিত মুমিন ও মুজাহিদ ভাইয়েরা! প্রায় চার দশকের ভয়াবহ যুদ্ধ এবং বিশেষ করে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট নানাবিধ দুঃখ-কষ্ট ও অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর, আজ আমরা এক নতুন ঠিকানায় পৌঁছেছি। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপা ও সাহায্য, আফগান জনগণের একনিষ্ঠ জিহাদ, দীর্ঘ আত্মত্যাগ, সীমাহীন ধৈর্য এবং অটল অবিচলতার ফলেই এই চূড়ান্ত বিজয়, সার্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের এবং আপনাদেরকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ইসলামবিরোধী ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সুন্দর ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং উন্নততর শান্তিময় পরিবেশ উপহার দিয়েছেন। তাই আমাদের এই মহান নিয়ামতের জন্য তাঁর দরবারে হৃদয় নিংড়ানো শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

আপনারা সকলে সচেষ্ট হোন, যেভাবে আপনারা একটি শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবেই এই ইসলামী শরিয়াহ ব্যবস্থার সুরক্ষায় আত্মনিয়োগ করুন। দায়িত্বশীলদের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন করুন। ইসলামী ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও সুদৃঢ়করণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যান এবং নিজেদের মধ্যে সব ধরনের বিভেদ ও মতানৈক্য থেকে দূরে থাকুন।

যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ

“আর স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন তোমাদের রব ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো (আমার দেওয়া নিয়ামত ও অনুগ্রহের), তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও (আমার নিয়ামত ও অনুগ্রহের অবমূল্যায়ন করো), তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।” (সূরা ইবরাহিম: ৭, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

অন্য একটি আয়াতে কারিমায় ইরশাদ হয়েছে:

 وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا

“আর তোমরা সকলে মিলে (হে মুমিনগণ!) আল্লাহর রজ্জুকে (যা হলো আল-কুরআন) শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (ইসলাম গ্রহণের পর)।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)

অনুরূপভাবে অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

 وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ

“আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না (বিশেষ করে জিহাদ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে), অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি, বিজয় ও প্রভাব বিনষ্ট হয়ে যাবে।” (সূরা আল-আনফাল: ৪৬)

আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ও মুজাহিদ জনতা! মুসলমানদের সম্মান, চূড়ান্ত সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে তাদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সংহতির মাঝেই। আজ, যখন আমরা ঈদের এই বরকতময় দিনে সমবেত হয়েছি, তখন আপনাদের সকলের উচিত নিজেদের এই ঐক্য ও সংহতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। সব ধরনের আঞ্চলিক, ভাষাগত এবং জাতিগত সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার থেকে নিজেকে সযত্নে দূরে রাখা।

আলহামদুলিল্লাহ! ইসলামী ইমারত প্রতিষ্ঠার পর, মহান আল্লাহ আফগান জাতিকে দীর্ঘ বছরের সংঘাত ও যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এক অতুলনীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির সুযোগ দান করেছেন। আসুন, আমরা এই সুবর্ণ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করি। আমাদের ঐক্য ও সংহতিকে—যা আমাদের সম্মান ও বিজয়ের একমাত্র চাবিকাঠি—আরও মজবুত ও শক্তিশালী করে তুলি। শত্রুদের হীন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সদা সজাগ থাকি। প্রতিটি ময়দানে আমাদের ইসলামী ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থা এবং তার সার্বভৌমত্বকে পরম সাহসিকতার সাথে রক্ষা করি। এবং এই ব্যবস্থার সুশীতল ছায়াতলেই যেন আমরা আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার সাথে জীবনযাপন করতে পারি।

ঈদ ও অন্যান্য নামাজে মুসলমানদের এই বিশাল জমায়েত ও একত্রিত হওয়া আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করে। এটি আমাদের শেখায় যে, অন্যান্য মুসলিম ভাইদের আনন্দেই আমাদের আনন্দিত হতে হবে, আর তাদের দুঃখেই হতে হবে ব্যথিত। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো মুসলিম যদি কষ্ট, যাতনা বা বিপদের সম্মুখীন হন, তবে তাদের সেই দুঃখ-কষ্টকে নিজের মনে করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। কারণ, গোটা মুসলিম উম্মাহ একটিমাত্র দেহের মতো। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى

“পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনদের দৃষ্টান্ত হলো একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথায় আক্রান্ত হয়, তখন পুরো শরীরই তার সাথে বিনিদ্র রজনী ও জ্বরে ভোগে।” (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৬)

সম্মানিত মুসলিম ভাইয়েরা! আপনারা যেভাবে ইতঃপূর্বে আনুগত্য প্রদর্শন করে এসেছেন, ভবিষ্যতেও আপনাদের আমিরুল মুমিনিন বা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি সেই আনুগত্য অব্যাহত রাখুন। কারণ, ‘উলিল আমর’ বা দায়িত্বশীলদের যাবতীয় দিকনির্দেশনা, আইনকানুন এবং আদেশ-নিষেধের আনুগত্য ও অনুসরণ করা পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াতের আলোকে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। আল্লাহ জাল্লা জালালুহু ইরশাদ করেছেন:

 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্যে যারা ক্ষমতাশীল (অর্থাৎ মুসলিম শাসক ও নেতৃত্ববৃন্দ) তাদেরও আনুগত্য করো।” (সূরা আন-নিসা: ৫৯)

মুসলিম ভাইয়েরা! দ্বীনি বা ধর্মীয় উন্নয়নের পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মাটিকে আবাদ করাও ইসলামী ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং আপামর জনসাধারণ—সকলেরই উচিত দ্বীনি খেদমতের পাশাপাশি গঠনমূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকেও সমান নজর দেওয়া।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

 هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا

“তিনিই (আল্লাহ) তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন (অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালাম-কে মাটি থেকে এবং মানুষকে শুক্রাণু থেকে) এবং তোমাদেরকে এই পৃথিবীতে আবাদ করেছেন ও দীর্ঘায়ু দান করেছেন।” (সূরা হুদ: ৬১, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

মুজাহিদের গুণাবলি সম্পন্ন দ্বীনদার জনতা! শিক্ষা ও দীক্ষার ময়দানে আপনাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন। তরুণ সমাজ, সাধারণ জনগণ এবং মুজাহিদদের সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং তাদের দ্বীনি তৃষ্ণা মেটানোর প্রতি গভীর মনোযোগ দিন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের উচিত, তাদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ চক্র ও আত্মশুদ্ধিমূলক মজলিসের আয়োজন করা।

যেসব অঞ্চলে এখনও মসজিদ নির্মিত হয়নি, সেখানে দ্রুত মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। ওলামায়ে কেরাম যেন মসজিদে সর্বস্তরের মানুষ, যুবক এবং শিশুদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করেন।

একইভাবে, আমাদের যেসব মুহাজির ভাই অন্যান্য দেশ থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করছেন, সমগ্র আফগান জাতির উচিত তাদের সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করা।

সম্মানিত মুসলিম সমাজ! ইসলামী ইমারত চায়, ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গোটা মুসলিম বিশ্বের সাথে একটি অত্যন্ত মজবুত ও চমৎকার সম্পর্ক স্থাপন করতে। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ…

“নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই (দ্বীনের সম্পর্কের ভিত্তিতে)।” (সূরা হুজুরাত: ১০, আয়াতের অনুবাদ তাফসিরে কাবুলি অবলম্বনে করা হয়েছে।)

অনুরূপভাবে, ইসলামী ইমারত এটাও গভীরভাবে প্রত্যাশা করে যে, ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথেও যেন একটি সুসম্পর্ক ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা সকল পক্ষের কাছে এই বিনীত অনুরোধ জানাই যে, আপনারা আফগানিস্তানের আপামর জনসাধারণের বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং আকাইদের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করুন এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকুন।

ইসলামী ইমারত বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমানদের ওপর হওয়া যেকোনো ধরনের অন্যায় আচরণ এবং তাদের ন্যায্য অধিকারের ওপর হওয়া নগ্ন আগ্রাসনকে স্পষ্ট জুলুম বলে আখ্যায়িত করে এবং তীব্র ভাষায় এর নিন্দা জ্ঞাপন করে।

পরিশেষে, ঈদুল ফিতরের এই মোবারক রাত ও দিনের শুভলগ্নে আমি আবারও আপনাদের, সকল সম্মানিত আফগান নাগরিক এবং বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সকল মুসলমানকে আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে জানাই গভীর মোবারকবাদ।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের বালা-মুসিবত, দুঃখ-কষ্ট এবং বিপদ-আপদ থেকে নিজ হেফাজতে রাখুন। আমাদের শহীদদের জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন, আহত ও অসুস্থদের দ্রুত পরিপূর্ণ আরোগ্য দান করুন এবং সমস্ত মুসলমানকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান, দৃঢ় ঐক্য এবং চূড়ান্ত সফলতা নসিব করুন।

আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন। ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আমিরুল মুমিনিন শাইখুল কুরআন ওয়াল হাদিস

মৌলভি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিযাহুল্লাহু

 

২৭ রমাদান ১৪৪৭ হিজরি

২৫/১২/১৪০৪ ফারসি (শামসি)

১৬/০৩/২০২৬ ইংরেজি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =

Back to top button