নির্বাচিতনির্বাচিত প্রকাশনাপিডিএফ ও ওয়ার্ডবার্তা ও বিবৃতিবার্তা ও বিবৃতি [আন নাসর]মিডিয়া

Bengali Translation || আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন ও উম্মাহর করণীয় [বিবৃতি প্রকাশের তারিখ : ১৩ই অক্টোবর ২০০১ খ্রিস্টাব্দ]

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:

بيان تنظيم القاعدة حول العدوان الأمريكي على أفغانستان

আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন ও উম্মাহর করণীয়
[বিবৃতি প্রকাশের তারিখ : ১৩ই অক্টোবর ২০০১ খ্রিস্টাব্দ]

U.S. Invasion of Afghanistan and What the Ummah Should Do

 

للشيخ سليمان أبو غيث فَكَّاللهُ أَسْرَهُ
শায়খ সুলাইমান আবু গাইস ফাক্কাল্লাহু আসরাহ
By Shaykh Sulaiman Abu Gais Fakkallahu Asrah

 

 

ভূমিকা

সম্মানিত পাঠক! ইতিহাস কেবল ফেলে আসা অতীত নয়। এটি মূলত বর্তমানকে বোঝার এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে বড় আয়না। ৯/১১-এর এক মাস পর এবং আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন শুরুর মাত্র কয়েকদিন পর, ২০০১ সালের ১৩ই অক্টোবর আল-কায়েদার তৎকালীন মুখপাত্র শায়খ সুলাইমান আবু গাইস ফাক্কাল্লাহু আসরাহ এই ঐতিহাসিক বিবৃতিটি দিয়েছিলেন। আজ প্রায় পঁচিশ বছর পরও এটি প্রাসঙ্গিক। এটি কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কিংবা সামরিক ঘোষণাপত্র ছিল না। বরং তৎকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি, পশ্চিমা পরাশক্তির আসল চেহারা এবং মুসলিম উম্মাহর করণীয় সম্পর্কে এটি ছিল একটি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও দূরদর্শী বিশ্লেষণ।

আজকের এই পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও বিবৃতিটি আমাদের জন্য ঠিক কেন এত বেশি প্রাসঙ্গিক, নিচে তার কয়েকটি শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরা হলো:

১. বিবৃতিটির একেবারে শেষ দিকে শায়খ সুলাইমান আবু গাইস ফাক্কাল্লাহু আসরাহ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন যে, ‘যতক্ষণ না তোমরা আফগানিস্তানে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাবে… ততক্ষণ পর্যন্ত এই ঝড় চলতেই থাকবে।’ ২০০১ সালে আমেরিকার মতো সুপারপাওয়ার যখন তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আফগানিস্তানের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করছিল, তখন অনেকেই এই কথাটিকে ‘পাগলের প্রলাপ’ কিংবা নিছক ‘আবেগ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাস আজ সাক্ষী। ঠিক বিশ বছর পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমেরিকা সত্যিই আফগানিস্তান থেকে চরম লাঞ্ছনা ও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা শিখতে পারি যে, ঈমানি দূরদর্শিতা এবং মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল থাকলে বাতিলের বাহ্যিক চাকচিক্য ও শক্তি কখনোই একজন মুমিনকে হতাশ করতে পারে না।

২. জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগান আগ্রাসনের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন এন্ডিওরিং ফ্রিডম’ (Operation Enduring Freedom) বা ‘স্থায়ী স্বাধীনতা’। কিন্তু বাস্তবে এই স্বাধীনতার আসল রূপ ঠিক কী ছিল? বিবৃতিটিতে খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কান্দাহার ও জালালাবাদের সাধারণ গ্রামগুলোকে রাতের আঁধারে তিন-তিনবার বোমাবর্ষণ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ দীর্ঘ বিশ বছরের আফগান যুদ্ধের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে আমরা দেখতে পাই যে, লাখ লাখ নিরপরাধ বেসামরিক নারী, শিশু ও বৃদ্ধ এই তথাকথিত ‘স্বাধীনতা’ ও ‘মানবাধিকার’-এর বেদিতে নির্মমভাবে বলি হয়েছেন। পশ্চিমা মিডিয়া যে চরম সত্যটি টানা দুই দশক ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, এই বিবৃতিটি যুদ্ধের ঠিক প্রথম সপ্তাহেই সেই সত্য মুসলিম উম্মাহর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছিল।

৩. পশ্চিমা মিডিয়া এবং আমাদের সমাজের অনেকেই প্রচার করতে চান যে, আল-কায়েদা মূলত আফগানিস্তানে একটি সমান্তরাল শক্তি হিসেবে কাজ করত অথবা তারা নিজেদের স্বার্থে তালেবানকে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু এই বিবৃতিতে আল-কায়েদা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, তারা আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর রহিমাহুল্লাহ-এর নেতৃত্বের অধীনে থেকে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ইমারতে ইসলামিয়ার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাদের এই সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। বরং এটি ছিল মদীনার আনসার ও মুহাজিরদের মতো নিখাদ ইসলামী ভ্রাতৃত্ব এবং আনুগত্যের এক মজবুত বন্ধন।

৪.  বিবৃতিটিতে ফিলিস্তিনের শহীদ শিশু ‘মুহাম্মাদ আদ-দুররা’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ওআইসি-ভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্কিন আগ্রাসনকে যে সমর্থন দিয়েছিল, তারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। আজ পঁচিশ বছর পর গাজার দিকে তাকালে আমরা ঠিক কী দেখতে পাই? আজও ফিলিস্তিনের হাজারো শিশু প্রতিনিয়ত শহীদ হচ্ছে, আর মুসলিম বিশ্বের শাসকরা আগের মতোই নির্লজ্জ নীরবতা পালন করছে অথবা জালিমদের সাথে হাত মেলাচ্ছে। এই বিবৃতিটি মূলত আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, উম্মাহর প্রকৃত মুক্তি কখনোই এই পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত শাসকগোষ্ঠীর হাত ধরে আসবে না। বরং নিজেদের অধিকার আদায়ে খোদ সাধারণ মুসলিম জনতাকেই সোচ্চার হতে হবে।

৫. বিবৃতিটিতে শায়খ হামুদ বিন উকলা আশ-শুয়াইবি রহিমাহুল্লাহ-এর মতো রব্বানি আলেমদের ফতোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার অনেক বড় বড় আলেম ও মুফতী যখন আমেরিকার ভয়ে নিশ্চুপ ছিলেন অথবা ওই আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখন এই হক্কানি আলেমরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চরম সত্য কথাটি উম্মাহর সামনে তুলে ধরেছিলেন। এটি আমাদের শেখায় যে, হক ও বাতিলের এই দীর্ঘ লড়াইয়ে রব্বানি আলেমদের দিকনির্দেশনাই হলো উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

সম্মানিত পাঠক! এই বিবৃতিটি বাতিল শক্তির মনস্তত্ত্ব বোঝার এবং উম্মাহর আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করার একটি জীবন্ত পাঠ। আমরা জানি যে, ইতিহাস বারবার ফিরে আসে। আজ হয়তো প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন, কিন্তু কুফরের মূল চরিত্র এবং মুমিনের পরীক্ষার ধরন ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এই অমূল্য পাঠগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমরা অনুবাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসটুকু করেছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সবাইকে ইতিহাস থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ঈমান ও আমলকে মজবুত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

– সম্পাদনা বিভাগ  

 

باسم الله الرحمن الرحيم، والصلاة والسلام على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وبارك عليه وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد:

“পরম দয়ালু ও অসীম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।”

হামদ ও সালতের পর-

গত পাঁচ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমাদের কাছে আসা বিভিন্ন প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, বুশ ও ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন এই ক্রুসেডার আগ্রাসন ইসলামী ভূখণ্ড আফগানিস্তান এবং সেখানকার মজলুম জনগণের ওপর এখনো অব্যাহত রয়েছে। আফগান জনগণ দিনের পর দিন নিজেদের দ্বীন ও আকীদার সুরক্ষায় যে ত্যাগ, অবিচলতা ও দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। আমরা মহান রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে ফরিয়াদ জানাই, তিনি যেন তাঁদের কদমকে অবিচল রাখেন। তিনি যেন তাঁদের অন্তরগুলোকে মজবুত করে দেন এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে তাঁদেরকে চূড়ান্ত বিজয় দান করেন।

আমরা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি যে, আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন এবং সুস্পষ্ট বিজয় দান করুন)-এর সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত ইমারতে ইসলামিয়া এবং আফগানিস্তানের সকল মুসলিম জনতার পাশে আমরা পূর্ণ শক্তিতে দণ্ডায়মান। আমাদের যাবতীয় বস্তুগত ও আত্মিক শক্তি নিয়ে এই বর্বরোচিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা তাঁদের সাথে রয়েছি। এই যুদ্ধ যত দীর্ঘই হোক না কেন, এটি এখন আর কেবল নির্দিষ্ট একটি ভূখণ্ডের লড়াই নয়। বস্তুত এটি এখন গোটা মুসলিম উম্মাহর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এই উম্মাহ আমেরিকার দাম্ভিকতা এবং ইহুদীদের জুলুম-নিপীড়নের নিচে মাথা নত করে লাঞ্ছনার জীবন মেনে নিতে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আল-কায়েদা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছে যে, সিনিয়র বুশ, জুনিয়র বুশ এবং তাদের মাঝখানের ক্লিনটন, ব্লেয়ার ও শ্যারন, এরা প্রত্যেকেই হলো শীর্ষস্থানীয় অপরাধী। এই ইহুদীবাদী ও ক্রুসেডার চক্রটি মুসলিম উম্মাহর ওপর ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যা, নির্যাতন ও উচ্ছেদের মতো লোমহর্ষক অপরাধ সংঘটিত করেছে। এদেরই কারণে লাখ লাখ নিরপরাধ মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশু বিনা অপরাধে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এই মজলুমদের রক্ত কখনোই বৃথা যাবে না। আমরা এই অপরাধীদের কাছ থেকে প্রতিটি ফোঁটা রক্তের কিসাস (প্রতিশোধ) আদায় করেই ছাড়ব।

বুশ তার দাম্ভিকতার মোহে এবং মিডিয়া প্রোপাগান্ডার ডামাডোলে প্রতিনিয়ত যে ‘স্থায়ী স্বাধীনতার’ বুলি আওড়াচ্ছে, তার আড়ালে সে যেন ফিলিস্তিন ও ইরাকের শিশু মুহাম্মাদ আদ-দুররা এবং তার মতো হাজারো মুসলিম শিশুর সেই হৃদয় বিদারক দৃশ্যটি ভুলে না যায়। সে যদি ভুলেও যায়, ইনশাআল্লাহ আমরা যতদিন বেঁচে থাকব, সেই দৃশ্য কখনোই ভুলব না। তার জানা উচিত যে, তার এই তথাকথিত ‘স্থায়ী স্বাধীনতা’ আফগানিস্তানের জালালাবাদের কাছে কান্দাহারের পুরো গ্রামগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। গ্রামগুলোকে তারা আক্ষরিক অর্থেই সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি কোনোভাবেই ভুল নিশানার হামলা ছিল না, বরং এটি ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, একই ভুল তো আর তিনবার হতে পারে না! ওই গ্রামটিতে রাতের শুরুতে একবার, মধ্যরাতে একবার এবং ফজরের ঠিক আগে আরেকবারসহ মোট তিনবার বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। যারা এই ক্রুসেডার আগ্রাসনকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে, তাদের উচিত এখন অন্তত সত্যটি অনুধাবন করা। কারণ বিষয়টি এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এটি মূলত ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য ক্রুসেড।

যারা এই অপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়েছে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসের জবাব কী দেবে? হাদীসটিতে বলা হয়েছে:

لَزَوَالُ الْأَرْضِ أَهْوَنُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ قَتْلِ مُؤْمِنٍ بِغَيْرِ حَقٍّ

অর্থ: “মহান আল্লাহর কাছে একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চেয়ে গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনেক বেশি সহজ।” (জামে আত-তিরমিযী, হাদিস নম্বর: ১৩৯৫, সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস নম্বর: ৩৯৮৭)

কাল কিয়ামতের দিন যখন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সামনে আমলনামাগুলো তুলে ধরা হবে, তখন তারা কী জবাব দেবে? যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাশিশুকে জিজ্ঞেস করা হবে, তখন তারা ঠিক কী উত্তর দেবে?

এই প্রসঙ্গে আমরা সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামের দেওয়া ফতোয়াগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি। বিশেষ করে ফযীলাতুশ শায়খ হামুদ বিন উকলা আশ-শুয়াইবির ফতোয়াটি এখানে উল্লেখ্য, যেখানে তিনি স্পষ্ট ফতোয়া দিয়েছেন যে, ইহুদী ও নাসারাদের সাথে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। যে ব্যক্তি কথা, কাজ অথবা পরামর্শ দিয়ে তাদের সাহায্য করবে, সে মূলত ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে চরম মুরতাদ হয়ে যাবে। পাশাপাশি, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুফরী করার দায়ে তার ঈমান ভঙ্গ হয়ে যাবে।

আল-কায়েদা জাযীরাতুল আরবে (আরব উপদ্বীপে) অবস্থানরত আমেরিকান ও ব্রিটিশসহ সকল মুশরিকের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে। আমরা তাদেরকে অবিলম্বে আরব উপদ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এই সৈন্যদের মায়েদের যদি নিজেদের সন্তানদের জীবিত ফিরে পাওয়ার সামান্যতম আকাঙ্ক্ষাও থাকে, তবে তাদের উচিত সন্তানদের অবিলম্বে আরব উপদ্বীপ ছেড়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া। অন্যথায়, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই তাদের পায়ের নিচের মাটি আগুনে পরিণত হবে।

আমরা সেই সব সাহসী মুজাহিদ যুবকের মোবারকবাদ জানাই, যারা নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব অনুধাবন করে এই জালিমদের আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন এবং তাদের হত্যা করেছেন। পাশাপাশি, পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে থাকা সেই সব অগণিত মুসলিম জনতাকে আমরা সালাম জানাই, যারা এই বর্বরোচিত আগ্রাসন, জুলুম ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। আমরা তাঁদেরকে বলব, আপনারা এই চাপ অব্যাহত রাখুন। বিশেষ করে ওআইসি-ভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন এই জালিম আগ্রাসনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে, তখন আপনাদের এই প্রতিবাদ আরও বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এই মন্ত্রীরা কোনোভাবেই মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করে না। উম্মাহর ভাগ্য নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনো বৈধতা বা অধিকার তাদের নেই।

বুশ ও তার মার্কিন প্রশাসন বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার মাধ্যম ও সংবাদ সংস্থাগুলোর ওপর প্রতিনিয়ত যে বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করছে, যাতে আমাদের কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে না পারে, তা মূলত তাদের চরম ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। তারা ভয় পাচ্ছে যে, মঙ্গলবারের (৯/১১) ঘটনাগুলোর পেছনের আসল সত্যটি না আবার মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়ে যায়! সেই সত্যটি হলো, বুশ মূলত ইসরাঈলের একজন আজ্ঞাবহ দালাল। সে ইহুদীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে নিজের দেশের জনগণ এবং অর্থনীতিকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। সে মুসলিমদের ভূখণ্ড দখল করতে এবং তাদের সন্তানদের হত্যা করতে ইহুদীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

পরিশেষে আমি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর (কলিন পাওয়েল) উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। সে আমাদের আগের বিবৃতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। এমনকি আমাদের এই কথাটিকে সে তাচ্ছিল্য করেছিল যে, “হাজার হাজার মুসলিম যুবক মৃত্যুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং বিমান হামলার এই ঝড় কখনোই থামবে না।” পাওয়েল এবং মার্কিন প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের খুব ভালো করেই জানা উচিত যে, আল-কায়েদা যখন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় কিংবা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে, তখন ইনশাআল্লাহ তারা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। তাই আমরা তাকে বলতে চাই, আগামীকালের সকাল তো খুব কাছেই! যা শুনছ তা নয়, বরং যা নিজের চোখে দেখবে সেটাই হবে আসল খবর। এই ঝড় কখনোই থামবে না, বিশেষ করে বিমানের এই ঝড় তো নয়ই। যতক্ষণ না তোমরা আফগানিস্তানে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাবে, ফিলিস্তিনে ইহুদীদের প্রতি তোমাদের সমর্থন বন্ধ করবে, ইরাকের জনগণের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে, আরব উপদ্বীপ থেকে তোমাদের পাততাড়ি গোটাবে এবং কাশ্মীরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করবে, ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত এই ঝড় চলতেই থাকবে।

সবশেষে আমরা আমেরিকা ও ব্রিটেনে বসবাসরত মুসলিমদের এবং মার্কিন প্রশাসনের এই জালিম নীতির বিরোধিতাকারী সাধারণ নাগরিকদের প্রতি একটি সতর্কতামূলক নসীহত করছি। আমরা তাদের পরামর্শ দিচ্ছি, আপনারা বিমানে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং সুউচ্চ ভবন বা টাওয়ারগুলোতে বসবাস করা এড়িয়ে চলুন।

وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ

অর্থ: “অথচ যাবতীয় সম্মান তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের জন্যই, কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।” [সূরা মুনাফিকুন, ৬৩:০৮]

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

***********

روابط بي دي اب
PDF [579 KB]
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৫৭৯ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/DJ2tomRtr5QkN4S
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/XtZWy3xJirXJYkE
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/avhw1Ara#Znbj66OQLsl8kkYlpYSl5rAJCXABELG0zO_9RnP7ky8

 

روابط ورد
Word (510 KB)
ওয়ার্ড [৫১০ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/kf6sRGxPWeM7Lig
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/XmT9W3d2iXF5rcL
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/Gn4xTbzT#9Azlkf1nryuu7pYy2ThsV7q9NYyhMMDGhTL2rFA2hPM

 

روابط الغلاف- ١
book Banner (1.1 MB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.১ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/MK34YPMWZanAxdC
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/4zkgPMfgmbBZyi3
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/vqwFxSwK#saHmnP-iCfSHl4qUcFLNOK8T8QMrOEsndP4GAvWwEI4

 

روابط الغلاف- ٢
Banner [2.7 MB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [২.৭ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/B6s4pf3aZRXNCaK
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/7xfb5tq4W7KKTBn
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/7nByELYL#sdFrhQS1vBiE2d40ArZIcHdh_RyCX2bHh0u_YPdkDZg

*****************
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button