Bengali Translation || জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এবং মুসলিম উম্মাহর চতুর্পাশে ঘনীভূত বিপদ প্রসঙ্গে বার্তা

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents
الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation
بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:
كلمة عن الجهاد والمخاطر التي تحيط بالأمة الإسلامية
জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এবং মুসলিম উম্মাহর চতুর্পাশে ঘনীভূত বিপদ প্রসঙ্গে বার্তা
Message on Jihad fi Sabillillah and the dangers surrounding the Muslim Ummah
للشيخ أسامة بن لادن – رحمه الله
শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ
By Sheikh Usamah Bin Laden Rahimahullah
![]()
روابط بي دي اب
PDF [1 MB]
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [১ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/HYS36SdMosz3Tq9
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/Db62EJQPeniCPXN
লিংক-৩ : https://archive.org/download/jihad-and-mukhatir-f-1-c/JihadAndMukhatirF1.pdf
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/jVUACQYI#rgwhSsSUehbCWWuD5if1xbfvG7Sj4TZ945leVYGgoYs
روابط ورد
Word (629 KB)
ওয়ার্ড [৬২৯ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/HLEMasxB2LRHBSQ
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/D2FGb3FLqm2Wp49
লিংক-৩ : https://archive.org/download/jihad-and-mukhatir-f-1-c/JihadAndMukhatirF1.docx
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/fBERURTJ#aI_diyi8XHq7f52u7BMktLScSL6WSrzJmle3p4Mp8nY
روابط الغلاف- ١
book Banner (1.4 MB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৪ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/XpiJYHT2gWqSzSi
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/TTXDioR7rgGS9ps
লিংক-৩ : https://archive.org/download/jihad-and-mukhatir-f-1-c/JihadAndMukhatirF1-C.jpg
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/PEVBxQAR#hfCIa4goCubvXrYKTu82LUP1jrt-k8RzWsH1mBvYeXE
روابط الغلاف- ٢
Banner [476 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [৪৭৬ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/XdfmcLbiCemAJaA
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/mSSj8SLt95yHPwY
লিংক-৩ : https://archive.org/download/jihad-and-mukhatir-f-1-c/JihadAndMukhatirF1-B-HQ.jpg
লিংক-৪ : https://mega.nz/file/ecEWVQga#cSNLtVkboszKngMM7a-hdfXB6bqmzoI3HhiQ5du5MLU
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent
ভূমিকা
ইসলামী ইমারতের পতনের পর, ২০০২ সালের প্রারম্ভে সিএনএন (CNN) কান্দাহারে শায়খ উসামা বিন লাদেনের আবাসিক চত্বর থেকে একগুচ্ছ অডিও ক্যাসেট তথা ফিতার সন্ধান পায়। কিছুকাল নিজেদের কাছে রাখার পর সিএনএন কর্তৃপক্ষ অনুভব করলেন যে, এই অডিও রেকর্ডগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা একাডেমিক সংস্থার কাছে গচ্ছিত রাখা প্রয়োজন, যাতে গবেষকগণ এ নিয়ে কাজ করতে পারেন। বছরখানেক পর তারা ক্যাসেটগুলো উইলিয়ামস কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। তবে শেষাবধি ২০০৬ সালে এগুলো আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটির (Yale University) হস্তগত হয়। সেখানে এগুলোকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এই সংগ্রহের মোট ক্যাসেট সংখ্যা প্রায় ১৫০০। এটি একটি বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ, যেখানে বিভিন্ন মাশায়েখ ও আলেমদের—যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি ঘরানার আবার কেউ বা ভিন্ন ধারার—নানা ইসলামী বিষয়ের ওপর আলোচনা, ইলমি দরস, খুতবা, কবিতা, কথোপকথন ও কুরআন তিলাওয়াত সংরক্ষিত রয়েছে[1]।
এই বিশাল ভাণ্ডারের মধ্যে ৩৩ নম্বর ক্যাসেটটি হলো সৌদি আরবে রেকর্ডকৃত শায়খ উসামা বিন লাদেনের একটি বিশেষ বয়ান। প্রতীয়মান হয় যে, এটি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে রেকর্ড করা হয়েছিল। অর্থাৎ আফগানিস্তানের জালালাবাদের যুদ্ধ (মার্চ, ১৯৮৯) এবং ইরাক কর্তৃক কুয়েত আগ্রাসনের (আগস্ট, ১৯৯০) মধ্যবর্তী সময়ে। কুয়েত আগ্রাসনের ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন সেটিই শায়খ উসামার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং তাঁর পরবর্তী বক্তব্যগুলো সেই দিকেই মোড় নিয়েছিল[2]।
বয়ানের অভ্যন্তরে এমন কিছু নিদর্শন ও ইঙ্গিত রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা এই আলোচনার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করতে পারি:
১) শহীদ শফিক বিন ইবরাহীম মাদানির প্রসঙ্গ: শায়খ উসামা বয়ানের এক পর্যায়ে বলেন: “শফিক বিন ইবরাহীম মাদানি (রহিমাহুল্লাহ) এই তো কদিন আগে জিলহজ মাসে, জিলহজের শ্রেষ্ঠ দশ দিনের কোনো এক দিনে শাহাদাতবরণ করেছেন।” তাঁর এই ‘কদিন আগে’ কিংবা ‘শেষ দিনগুলোতে’ (الأيام الأخيرة) শব্দচয়ন প্রমাণ করে যে, ঘটনাটি খুব নিকটবর্তী সময়ের। আর শফিক বিন ইবরাহীম মাদানি ১৪০৯ হিজরী সনের ৩রা জিলহজ মোতাবেক ৫ জুলাই ১৯৮৯ ঈসায়ীতে জালালাবাদের যুদ্ধে শহীদ হন[3]।
২) শায়খের সৌদি আরবে অবস্থান: শায়খ উসামা বিন লাদেন ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাসে আফগানের রণাঙ্গন ছেড়ে সৌদি আরবে ফিরে আসেন এবং ১৯৯১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন[4]। সুতরাং, এই বয়ানটি অবশ্যই ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরের পরবর্তী সময়ের।
৩) মুজাহিদদের রসদ ফুরিয়ে যাওয়া: তিনি বয়ানে উল্লেখ করেছেন, “মুজাহিদদের কাছে গোলাবারুদ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ছয় মাসেরও অধিক সময় ধরে।” মোস্তফা হামিদের মতে, জালালাবাদের যুদ্ধের আগেই রসদ ও গোলাবারুদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল[5]। আর জালালাবাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে (সোভিয়েত প্রত্যাহারের ঠিক এক মাস পর)। যদি ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রসদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে থাকে, তবে ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার অর্থ হলো, এই বয়ানটির সময়কাল অবশ্যই ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরের পরে।
তবে এটি ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি অতিক্রম করেনি। কারণ, যদি তা হতো, তবে তিনি বলতেন— ‘সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে’ কিংবা ‘প্রায় এক বছর ধরে’। (অর্থাৎ এখন পর্যন্ত আমরা সময়কালটি ১৯৮৯ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারছি)।
৪) মিসরে গণগ্রেফতারের ঘটনা: তারিখ নির্ধারণের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী প্রমাণ হলো মিসরের ইসলামী আন্দোলনের ওপর ধরপাকড়ের প্রসঙ্গটি। তিনি বলেন: “গত সপ্তাহের সর্বশেষ সংবাদ হলো, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিসরে (কিনানাহর ভূমিতে) সেখানকার স্বৈরাচারী শাসকেরা—যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা বাদ দিয়ে ইংরেজ ও ফরাসিদের মনগড়া আইনে বিচারকার্য পরিচালনা করে—তারা সতেরো হাজারেরও অধিক মুসলিম যুবককে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে।” ১৯৮৯ সালে মিসরে আল-জামাআ আল-ইসলামিয়ার সদস্যদের ওপর দুটি বড় ধরনের গ্রেফতারি অভিযান চলেছিল। প্রথমটি ১৯৮৯ সালের আগস্টে, যা সম্ভবত এখানে উদ্দেশ্য নয়, কারণ তখন শায়খ উসামা আফগানিস্তানে ছিলেন। দ্বিতীয়টি ঘটেছিল একই বছরের ডিসেম্বরে[6]। ১২ই ডিসেম্বর আসিউত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৪৫০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়[7]। সুতরাং, প্রবল সম্ভাবনা হলো—এই বয়ানটি ১৯৮৯ সালের ২০শে ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে প্রদান করা হয়েছে।
আমি ‘মুআসসাসাতুল মাহবারাহ’-এর ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা এই বয়ানগুলোর অনুলিখন (Transcript) প্রকাশ এবং প্রাসঙ্গিক স্থানে প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজনের সুযোগ করে দিয়েছেন।
— আহমাদ বিন আব্দুল আজীজ আল-হাজরি
জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ
এবং মুসলিম উম্মাহর চতুর্পাশে ঘনীভূত বিপদ
প্রসঙ্গে বার্তা
শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ যদি আমাদের হেদায়াত না দিতেন, তবে আমরা কখনোই পথ খুঁজে পেতাম না। এই সুমহান দৌলত—ঈমানের নেয়ামতের জন্য—তাঁরই দরবারে সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার, যিনি এই উম্মাহকে ‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’-এর মতো মহান নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন। জিহাদ হলো এই দ্বীনের ‘জুরওয়াতু সানাম’ তথা সর্বোচ্চ শিখর, যার মাধ্যমে আমরা এই দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে সমুন্নত রাখি। আর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর ক্ষেত্রে আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছিল সর্বোচ্চ মর্যাদা ও অংশ।
আজ আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো—মুসলিম উম্মাহ এবং অবশিষ্ট মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর চতুর্পাশে ঘিরে থাকা ভয়াল বিপদসমূহ। আজ আমরা এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলব, যা ইসলামের সর্বশেষ দুর্গ—পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের (মক্কা ও মদীনার ভূমি) অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে এমন এক মহাফিতনা ও ধর্মত্যাগের (রিদ্দাহ) সয়লাব দেখা দিয়েছে, যার নজির মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
কাফের ও ক্রুসেডাররা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে—কিভাবে এই দ্বীনের মহান আলো নিভিয়ে দেওয়া যায় এবং মিটিয়ে দেওয়া যায় এর অস্তিত্ব। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেবেন। তাদের পরিকল্পনা হলো, মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে আল্লাহ-প্রদত্ত বিধানের পরিবর্তে ‘কুফরে বাওয়াহ’ তথা সুস্পষ্ট কুফরী মতবাদ দ্বারা শাসন করা। কয়েক দশক আগে তাদের কিছু গোপন নথি ফাঁস হয়েছিল, যাতে উল্লেখ ছিল যে, তাদের সর্বশেষ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হবে ‘বিলাদুল হারামাইন’ তথা সৌদি আরব। আমরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, তিনি যেন এই পবিত্র ভূমিকে তাদের থাবা থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, তারা যা চেয়েছিল, তা অনেকটাই বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। আজ মুসলিম বিশ্বের খুব সামান্য অংশই তাদের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত রয়েছে।
আপনারা আপনাদের চারপাশের পরিস্থিতির দিকে গভীর দৃষ্টি দিন, পুনরায় তাকান। আপনারা দেখতে পাবেন, কুফর আজ এই দেশটিকে এমনভাবে ঘিরে ধরেছে, যেভাবে কঙ্কন কিংবা চুড়ি হাতের কবজিকে বেষ্টন করে রাখে। আরব ও অনারব নির্বিশেষে প্রায় সকলেই—আল্লাহ যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ছাড়া—যেন আজ ধর্মত্যাগের মিছিলে শামিল হয়েছে। রাষ্ট্র ব্যবস্থাগুলো মুসলিমদের ওপর ‘কুফরে বাওয়াহ’ তথা প্রকাশ্য কুফর চাপিয়ে দিচ্ছে, ধ্বংসাত্মক ও বিভ্রান্তিকর সব নীতি বাস্তবায়ন করছে। তারা নির্দ্বিধায় তাদের কুফরী মতবাদ ঘোষণা করছে এবং স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছে যে, তারা এই পবিত্র ভূমিতেও সেই সুস্পষ্ট কুফরী শাসন কায়েম করতে চায়। আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন।
আপনাদের পূর্ব সীমান্তের দিকে তাকান। আমি সেখানকার রাষ্ট্র ও শাসন ব্যবস্থার কথা বলছি। সেখানেও সুস্পষ্ট কুফর। রাফেজি মতবাদ (শিয়াবাদ) এক প্রকাশ্য কুফরী নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। তারা ইসলামের কিছু অংশের সাথে তাদের পূর্বপুরুষ অগ্নিপূজকদের (মাজুস) উত্তরাধিকারকে মিশ্রিত করেছে এবং তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, তারা এই রাফেজি মতবাদকে হারামাইন শরিফাইনের পবিত্র ভূমিতেও প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিগত দিনগুলোতে হারাম মাসে (পবিত্র জিলহজ মাসে), হারাম ভূখণ্ডে (মক্কায়) মুসলিমদের পবিত্র রক্ত ঝরিয়ে তারা যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তা এই অঞ্চলের মুসলিমদের প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষের সুস্পষ্ট প্রমাণ[8]। তারা বিশ্বাস করে যে, আমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের চেয়েও বড় কাফের!
যদিও তারা প্রথম সামরিক অভিযানে পরাজিত হয়েছে, কিন্তু তারা থেমে নেই। তারা ফিলিপাইন থেকে শুরু করে নাইজেরিয়া পর্যন্ত, এমনকি সারা বিশ্বের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে তাদের সেই ভ্রান্ত আকীদা ও বিষাক্ত চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আফসোসের বিষয় হলো—লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ—বিশেষ করে অনারব মুসলিমদের অনেকেই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং তাদের বিদ্বেষী ভ্রান্ত দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না। ফলে তারা দলে দলে সেই বিদ্রোহী ও পথভ্রষ্ট গোষ্ঠীর মতাদর্শ গ্রহণ করছে।
একইভাবে, আমাদের এই উপদ্বীপের উত্তর সীমান্তে যারা আমাদের প্রতিবেশী, সেখানেও চলছে সুস্পষ্ট কুফরী শাসন। ইহুদীবাদ (জায়নবাদ) থেকে উদ্ভূত এবং এর শাখা-প্রশাখা হিসেবে জন্ম নেওয়া কমিউনিজম, সোশ্যালিজম, বাথিজম, সেক্যুলারিজম ও মেসনিক আন্দোলনের মতো ধ্বংসাত্মক ও বিভ্রান্তিকর মতবাদগুলো আমাদের ঘিরে রেখেছে। আপনারা যদি গভীরভাবে লক্ষ করেন, দেখবেন এরা আমাদের এমনভাবে পরিবেষ্টন করে আছে, যেন হাতের চুড়ি। তারা আল্লাহ তাআলার মহান কিতাব আল-কুরআন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহের পরিবর্তে তাদের বিচারালয় ও দপ্তরগুলোতে কার্ল মার্কস ও লেনিনের অনুসারী লাল বানরদের (কমিউনিস্টদের) পুস্তিকা দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করছে। আল্লাহ এদের সবাইকে লাঞ্ছিত করুন। আমি বিস্তারিত বলতে চাই না, পরিস্থিতি আমার বর্ণনার চেয়েও ভয়াবহ। আপনারা যদি অনুসন্ধান করেন তবে জানবেন, এখন কেবল আপনারাই বাকি আছেন। আপনারা ঘুমিয়ে থাকলেও শত্রু কিন্তু আপনাদের ব্যাপারে ঘুমিয়ে নেই। আপনারা যদি রেডিও কিংবা সংবাদ মাধ্যমগুলো খোলেন, তবে জানতে পারবেন কী ভয়াবহ বিপদ আপনাদের ঘিরে আছে। তারা তাদের কুফরী প্রচারে অত্যন্ত সাহসী ও নির্লজ্জ। তাদের সেই কুফরী স্লোগানগুলোর সারমর্ম হলো—তারা সমস্ত আরব ভূখণ্ডকে মিথ্যে স্বাধীনতার নামে এবং কুফরী সমাজতন্ত্রের পতাকাতলে একত্রিত করতে চায়।
আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, তিনি যেন আমাদের ইসলামের এই শেষ দুর্গ—বিশেষ করে হারামাইন শরীফাইনকে—রক্ষা করার তাওফীক দেন। আমাদের চোখের সামনেই আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসরা ও মেরাজের স্মৃতিবিজড়িত ভূমি হাতছাড়া হয়ে গেছে। অথচ আমাদের অনেকেই যখন জ্ঞানবুদ্ধি ও যৌবনে পদার্পণ করেছে, তখনই এই মসজিদ বেদখল হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সঠিক পথের দিশা দেন, যাতে আমরা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া মুসলিম ভূখণ্ডগুলো, বিশেষ করে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্মৃতিবিজড়িত ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার করতে পারি।
যখন উম্মাহ জিহাদ পরিত্যাগ করল, তখন এই লাঞ্ছনা, এই উদভ্রান্তি এবং ধ্বংস তাকে গ্রাস করল। আল্লাহর কসম! এর চেয়ে বড় লাঞ্ছনা আর কী হতে পারে যে, যাদের ওপর আল্লাহ লাঞ্ছনা ও অপমানের সিলমোহর মেরে দিয়েছেন—সেই নাপাক ও অভিশপ্ত ইহুদীরা আজ আমাদের নবী-(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র ইসরার স্থান দখল করে আছে? প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনে আমাদের কোনো না কোনো ভাই নিহত হচ্ছেন, পবিত্র রাজপথে আমাদের মা-বোনদের চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, মুসলিম শিশুদের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে—অথচ আমরা নিশ্চল! আমরা যেন এই অপমান ও লাঞ্ছনাকেই জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছি। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। কবি যেমন বলেছেন:
ومن يهن يسهل الهوان عليه ما لجرح بميت إيلام.
“যে নিজেকে অপমানে সয়ে নেয়, অপমান তার জন্য সহজ হয়ে যায়; মৃতদেহে আঘাত করলে তো আর ব্যথা অনুভূত হয় না।”
সৎ-অসৎ, আলেম-জাহেল—আল্লাহ যাদের দয়া করেছেন তাঁরা ছাড়া—পুরো উম্মাহ আজ যে বহুমুখী লাঞ্ছনা ও উদভ্রান্তিতে নিমজ্জিত, তা থেকে বের হওয়ার পথ কী?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়কে একটি মাত্র অপরাধের কারণে চল্লিশ বছর পর্যন্ত মরুভূমিতে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরার শাস্তি দিয়েছিলেন। তাদের অপরাধ ছিল—তারা দ্বীনের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি, তারা জিহাদ থেকে বসে গিয়েছিল। তারা কেবল বসেই থাকেনি কিংবা অন্যদের নিরুৎসাহিত করেনি, বরং তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল:
﴿فَاذْهَبْ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ﴾
“সুতরাং তুমি আর তোমার রব যাও এবং যুদ্ধ করো, আমরা তো এখানেই বসে রইলাম।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২৪]
তাদের এই অপরাধের শাস্তি এক কিংবা দুই বছর নয়, বরং দীর্ঘ চল্লিশ বছর ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ﴾
“তবে চল্লিশ বছর তা (পবিত্র ভূমি) তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো। তারা জমিনে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরবে। কাজেই তুমি ফাসিক কওমের জন্য দুঃখ করো না।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২৬]
হাফেজ ইবনু কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা সারা রাত পথ চলত, কিন্তু ভোরবেলায় দেখত তারা ঠিক সেখানেই আছে যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি[9]। আজ আমাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরাও বনি ইসরাঈলের সেই জাতির মতো এক বিমূঢ়তা ও পথভ্রষ্টতার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা গড়িমসি করে এবং যাদের অন্তরে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের ভালোবাসা সেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায় না—যা আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন—আল্লাহ তাদের হেদায়াত দেন না। তিনি এমন আটটি বস্তুর কথা উল্লেখ করেছেন যা মানুষকে দ্বীনের সাহায্য থেকে বিরত রাখে—যেমন পিতা, পুত্র ইত্যাদি। এরপর তিনি সতর্ক করেছেন যে, যারা এই প্রতিবন্ধকতাগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না, আল্লাহ তাদের সঠিক পথ দেখান না, যেমন বনি ইসরাঈলকে তিনি পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত করেছিলেন। মুসলিমরা যখন জিহাদ ফরযে আইন হওয়ার পরও বসে থাকে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত দেন না। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ﴾
“বলো, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় করো এবং তোমাদের বাসস্থান যাকে তোমরা পছন্দ করো—আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ (শাস্তি) আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।” [সূরা আত-তওবা: ২৪]
সুতরাং আমাদের বর্তমান এই উদভ্রান্তি, লাঞ্ছনা এবং হেদায়াত থেকে বঞ্চনার মূল কারণ হলো—জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ পরিত্যাগ করা। সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إذا ضن الناس بالدينار والدرهم، وتبايعوا بالعينة، واتبعوا أذناب البقر، وتركوا الجهاد، سلط الله عليهم ذلاً
“মানুষ যখন দিনার ও দিরহাম নিয়ে কার্পণ্য করবে, ‘ঈনা’ পদ্ধতিতে (সুদের কৌশলে) বেচাকেনা করবে, গরুর লেজ ধরে পড়ে থাকবে (দুনিয়াবি কৃষিকাজে মগ্ন হবে) এবং জিহাদ ছেড়ে দেবে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন।”[10]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সতর্ক বাণী আজ আমাদের ওপর আপতিত হয়েছে। আমরা লাঞ্ছিত হচ্ছি, যেমনটি আপনারা দেখছেন। প্রতিদিন মুসলিমদের রক্ত ঝরছে, তাদের সম্মান লুণ্ঠিত হচ্ছে, তাদেরকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে—অথচ আমরা নতজানু হয়ে নীরব দর্শক হয়ে আছি। কেবল আল্লাহ যাদের দয়া করেছেন তাঁরা ছাড়া।
হে ইসলামের ভাইয়েরা! মুক্তির পথ কী? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য এই দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে বিভ্রান্ত ও দিশেহারা অবস্থায় ছেড়ে দেননি যে, একেকজন একেক মতের অনুসরণ করে পথ হারাবে। বরং তিনি পথকে সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল করে দিয়েছেন। আর সেই পথ হলো—জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ।
আমি আপনাদের সামনে আল্লাহর কিতাবের সুস্পষ্ট আয়াত, আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতি এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের আমল তুলে ধরব—কীভাবে কাফেরদের প্রতাপ চূর্ণ করতে হয়, কীভাবে মুরতাদদের পুনরায় ইসলামের গণ্ডিতে ফিরিয়ে আনতে হয় এবং কীভাবে মুসলিম ভূখণ্ডে ঘাপটি মেরে থাকা মুনাফিকদের অপদস্থ করতে হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বদরের সাহাবীদের—যাঁরা ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান—উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন। এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মানুষ তো তাঁরাই যাঁরা মুজাহিদ। বদর ছিল জিহাদের ময়দান। তাঁরা ছিলেন শরীয়তের প্রতিটি ইলমের ইমাম। সাহাবায়ে কেরামের কারো গুণের কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই যা বলা হয় তা হলো— ‘তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সবকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন’, ‘তিনি বদরি’, ‘তিনি হুদাইবিয়ায় উপস্থিত ছিলেন’।
বদরের সেই সাহাবীরা (রাযিআল্লাহু আনহুম) যখন বের হয়েছিলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা। কিন্তু আল্লাহ চাইলেন বাণিজ্য কাফেলা হাতছাড়া হয়ে যাক এবং কুরাইশ বাহিনী যুদ্ধের জন্য এগিয়ে আসুক। তাঁদের মধ্যে একদল সাহাবী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ অপছন্দ করছিলেন। যেমনটি ইবনু কাসির (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন:
﴿وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللَّهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ﴾
“আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ দুটি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন যে, তা তোমাদের হবে; আর তোমরা কামনা করছিলে যে, অস্ত্রহীন দলটি (বাণিজ্য কাফেলা) তোমাদের হোক।” [সূরা আল-আনফাল: ০৭]
এখানে ‘জাতুশ শাওকাহ’ অর্থ সশস্ত্র দল (যুদ্ধ) এবং ‘গাইরু জাতুশ শাওকাহ’ অর্থ বাণিজ্য কাফেলা। কুরআনের ভাষ্য মতে, তাঁদের কেউ কেউ বাণিজ্য কাফেলাই চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাঁদের সেই ইচ্ছার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করলেন না। তিনি চাইলেন সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।
হে সত্যের অন্বেষণকারী ভাইয়েরা! জেনে রাখুন, সত্য কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ যখন চাইলেন সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, তখন তিনি তাঁদেরকে জিহাদের দিকে, বদরের রণাঙ্গনের দিকে ধাবিত করলেন। আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের মাধ্যমেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَيُرِيدُ اللَّهُ أَن يُحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَيَقْطَعَ دَابِرَ الْكَافِرِينَ﴾
“অথচ আল্লাহ চান তাঁর কালেমা দ্বারা সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কাফেরদের মূলোৎপাটন করতে।” [সূরা আল-আনফাল: ০৭]
এখানে ‘কালিমাত’ তথা বাণী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জিহাদের নির্দেশ। এর পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ﴾
“যাতে তিনি সত্যকে সত্য এবং বাতিলকে বাতিল প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে।” [সূরা আল-আনফাল: ০৮]
সুতরাং আমরা জানলাম, জিহাদের মাধ্যমেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, কাফেরদের মূলোৎপাটন হয় এবং বাতিল নিশ্চিহ্ন হয়। আর এই মহান কাজই আজ আমরা ছেড়ে দিয়েছি—লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
একইভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিখিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে কাফেরদের প্রতাপ থামিয়ে দিতে হয়। আয়াতগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট, কিন্তু আফসোস! স্পষ্ট বিষয় বোঝানোই আজ সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা কীভাবে এই মহান বিধান থেকে গাফেল হতে পারি, যেখানে উম্মাহ আজ চরম লাঞ্ছনার শিকার? আল্লাহ তাআলা দুটি সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন: আল্লাহর রাস্তায় কিতাল (যুদ্ধ) এবং মুমিনদের যুদ্ধের জন্য উৎসাহ প্রদান। এর ফলেই আল্লাহ তাআলা কাফেরদের শক্তি চূর্ণ করে দেবেন। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ ۚ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ عَسَى اللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنكِيلًا﴾
“কাজেই আপনি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুন, আপনাকে শুধু আপনার নিজের জন্য দায়ী করা হবে। আর মুমিনদেরকে উৎসাহিত করুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি ও শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।” [সূরা আন-নিসা: ৮৪]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এই আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। যখনই কাফেরদের আস্ফালন দেখা যেত, তিনি মানুষকে জিহাদের আদেশ দিতেন, নিজে যুদ্ধ করতেন এবং অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতেন। ফলে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের প্রতাপ দমিয়ে দিতেন। আহযাবের যুদ্ধ থেকে শুরু করে তাবুক পর্যন্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি এভাবেই অগ্রসর হয়েছেন। তাবুকের যুদ্ধে তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করলেন এবং রোমানরা যখন সৈন্য সমাবেশ করছিল, তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের মোকাবেলা করতে বের হলেন।
আপনারা সালাফদের মানহাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের সীরাতের দিকে ফিরে যান। বর্ণিত আছে যে, তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ত্রিশ হাজার সাহাবী বের হয়েছিলেন। মাত্র তিনজন সত্যবাদী সাহাবী (যথাযথ ওজর ছাড়া) পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু আজ অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ত্রিশ হাজারের মধ্য থেকে হয়তো তিনজন কিংবা তার চেয়েও কম মানুষ বের হয়! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। এটিই প্রমাণ করে যে, আমরা সাহাবাদের সেই পরিপূর্ণ মানহাজ থেকে কতটা দূরে সরে গেছি।
ত্রিশ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র তিনজন পিছিয়ে ছিলেন, সংখ্যায় এটি নগণ্য। কিন্তু জিহাদ যখন ‘ফরযে আইন’ (সবার ওপর আবশ্যক) হয়ে যায়, তখন তাওহীদের কালেমা সমুন্নত রাখার ডাক উপেক্ষা করে বসে থাকার অপরাধ এতটাই জঘন্য যে, আল্লাহ সাত আসমানের ওপর থেকে তাঁদের শাস্তির ঘোষণা নাযিল করলেন। তাঁদের বয়কট করা হলো, এমনকি তাঁদের স্ত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হলো তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে।
অথচ আজ দেখুন, মানদণ্ড কীভাবে উল্টে গেছে! আজ যারা তাওহীদের পতাকা সমুন্নত করার জন্য জিহাদে বের হয়, তাঁদেরকেই সমাজ বয়কট করে। মানুষ তাঁদের দিকে এমনভাবে তাকায় যেন তাঁরা কোনো পাপ কিংবা অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়েছে! অলস ও উপবিষ্টরা তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমাদের বুদ্ধি-বিবেক কোথায় গেল? আমি যা বলছি তা আমার নিজের সাথেই ঘটেছে। আমরা যখন জিহাদের পথে পা বাড়ালাম, অনেক ভাই আমাদের বয়কট করলেন। তারা আমাদের মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন—কীভাবে তোমরা সেখানে যাচ্ছ? সুবহানাল্লাহ! সেখানে কি মুসলিমদের রক্ত ঝরছে না? সেখানে কি তাওহীদের পতাকা উড্ডীন করার সংগ্রাম চলছে না? যেখানে কুফরী কমিউনিজম আর নাস্তিকতা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে, সেখানে আমরা আমাদের ভাইদের কীভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি? মানুষ জিহাদ থেকে দূরে সরে গিয়ে বহু বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে। আমি আমার ভাইদের নসীহত ও অনুযোগের সুরে বলছি—এই উদভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা থেকে বের হওয়ার পথটি আপনারা চিনুন।
আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাঁরা তাঁর পথে জিহাদ করে, তিনি তাঁদের হেদায়াত দান করেন। যারা জিহাদ থেকে বসে থাকে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত দেন না—এর বিপরীতে যারা জিহাদ করে, তাঁদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ﴾
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তিনি কখনোই তাঁদের আমলসমূহ বিনষ্ট করবেন না।” [সূরা মুহাম্মাদ: ০৪]
তাঁদের জন্য সুসংবাদ! মুফাসসীরগণ বলেন, এখানে ‘নিহত’ শব্দটি প্রাধান্য বিস্তারকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এর মধ্যে যাঁরা শহীদ হয়েছে এবং যাঁরা গাজী (জীবিত মুজাহিদ) উভয়ই শামিল। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
﴿سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ * وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ﴾
“তিনি শীঘ্রই তাঁদেরকে হেদায়াত বা সঠিক পথ দেখাবেন এবং তাঁদের অবস্থা সংশোধন করে দেবেন। আর তাঁদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পরিচয় তিনি তাঁদেরকে দিয়েছেন।” [সূরা মুহাম্মাদ: ০৫-০৬]
মুফাসসীরগণ বলেন, ‘سَيَهْدِيهِمْ’ (তিনি তাঁদের হেদায়াত দেবেন) এর অর্থ হলো, তিনি তাঁদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে নাজাতের পথের সন্ধান দেবেন।
আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, আজ যে ‘রিদ্দাহ’ তথা ধর্মত্যাগের জোয়ার দেখা যাচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক কুফরী শক্তি। আপনারা পত্রিকা কিংবা রেডিওতে আরব ঐক্যের নামে যে সন্দেহজনক জোটগুলোর কথা শোনেন, সেগুলো মূলত এই পবিত্র ভূমি—হারামাইন শরীফাইনের ওপর তাদের লোলুপ দৃষ্টিরই বহিঃপ্রকাশ। তারা চায় আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা বাদ দিয়ে অন্য আইনে এখানে শাসন চালাতে। তারা চায় আমরাও তাদের মতো কাফের হয়ে যাই। তারা এই উপদ্বীপের বিশাল তেলের ভাণ্ডারের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক কুফরী শক্তি ও তাদের নেতৃত্ব দানকারী ক্রুসেডার আমেরিকা মুসলিম বিশ্বের এই ইসলামী জাগরণকে খুব গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো—এমনকি আমাদের স্বজাতির কিছু গাদ্দারদের ব্যবহার করে—এই জাগরণের ওপর নজরদারি করছে। যখনই মুসলিম বিশ্বের কোথাও ইসলামের জাগরণ শক্তিশালী হয়, তারা স্বৈরাচারী ও নাস্তিক শাসকদের নির্দেশ দেয় তা কঠোর হস্তে দমন করতে। আপনারা দেখেছেন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যখনই ইসলামী জাগরণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, কাফেররা কীভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। হত্যা, বন্দীত্ব এবং আলেমদের অপদস্থ করার মাধ্যমে তারা এই জাগরণ স্তব্ধ করতে চেয়েছে। এই তো গত সপ্তাহের সংবাদ—মিসরে সতেরো হাজারেরও বেশি মুসলিম যুবককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এটা শাসকদের নিজস্ব ইচ্ছায় নয়, বরং বিশ্ব কুফরী শক্তির নির্দেশে। মুনাফিকরাও চায় এই পবিত্র ভূমিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে। তারা বাইরে থেকে কাফেরদের সাহায্য এবং ভেতর থেকে নিজেদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই পবিত্র মুখাবয়বগুলোকে (দাড়িওয়ালা দ্বীনদারদের) ধ্বংস করতে চায়।
হে ইসলামের ভাইয়েরা! বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আপনাদের ভাইদের কী পরিণতি হয়েছে তা থেকে শিক্ষা নিন। আপনাদের চারপাশের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। প্রতিদিন মানুষকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। আপনারা এখনো যেটুকু ভালো অবস্থায় আছেন তার জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করুন, কিন্তু এই ঈমানকে রক্ষা করতে এবং তাওহীদের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে জিহাদের প্রস্তুতির জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করুন।
মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আমি কথা দীর্ঘ করব না। হে ইসলামের ভাইয়েরা! এখন কেবল আপনারাই বাকি আছেন। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই জেগে উঠুন। এই উদভ্রান্তি ও লাঞ্ছনা থেকে বের হওয়ার জন্য আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করুন। ফিরে আসুন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবাদের পূর্ণাঙ্গ মানহাজের দিকে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
﴿وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ﴾
“আর তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্য মতো শক্তি অর্জন করো।” [সূরা আল-আনফাল: ৬০]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ‘শক্তির’ ব্যাখ্যায় বলেছেন:
ألا إن القوة الرمي
“জেনে রেখো! শক্তি হলো নিক্ষেপ করা।”
আমরা ইসলামের শেষ দুর্গ রক্ষার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছি? ওহীর অবতরণ স্থল এই পবিত্র ভূমিকে রক্ষার জন্য আমাদের কী আয়োজন? আল্লাহ তাআলা কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন:
﴿وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ﴾
“আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয়।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৩]
যদি আজ আমাদের ওপর হামলা হয়, আমাদের কী প্রস্তুতি আছে? আমাদের চারপাশে কাফেরদের যে বিশাল শক্তি রয়েছে, তার তুলনায় আমাদের প্রস্তুতি নগণ্য। শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন (আল্লাহ তাঁর হায়াতে বরকত দিন) ফতোয়া দিয়েছেন যে, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো আল্লাহর দ্বীন, নিজের জান ও ইজ্জত রক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।
শায়খ আব্দুর রহমান আদ-দোসারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবে﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ﴾ আয়াতের তাফসীরে (পৃষ্ঠা ২৬৮) বলেন[11]: “সাধ্য মতো প্রস্তুতি গ্রহণ করা দ্বীনের অন্যতম ওয়াজিব তথা আবশ্যকীয় বিধান। আল্লাহর প্রকৃত ইবাদতকারী কখনো প্রস্তুতি গ্রহণে গড়িমসি কিংবা দীর্ঘসূত্রতা করে না।”
অর্থাৎ সে বলে না—কাল শিখব, পরশু শিখব, আগামী মাসে কিংবা আগামী বছর… না! প্রকৃত ইবাদতকারী কখনো এমন অবহেলা কিংবা অলসতা করে না।
সুতরাং আমাদের এই দ্বীনকে রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং তা হতে হবে ধারাবাহিক। হারামাইন শরীফাইনকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। আল্লাহর মেহেরবানিতে এখন পথ সহজ। আফগান ভূমিতে আল্লাহ মুজাহিদদের ওপর দয়া করেছেন। দশ বছর ধরে তারা তথাকথিত পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আল্লাহ তাআলার সাহায্যে রাশিয়ানদের নাকে খত দিয়ে বের করে দিয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণের দুয়ার উন্মুক্ত। একজন পুরুষের জন্য ন্যূনতম পূর্ণতা হলো অন্তত ৪৫ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়া এবং অস্ত্র চালনা শেখা—কালাশনিকভ থেকে শুরু করে আরপিজি, বিরাশি মিলিমিটার কামান এবং ট্যাংক-বিধ্বংসী মাইন স্থাপন পর্যন্ত। যদি আমরা এটুকু করি, তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে প্রস্তুত হিসেবে গণ্য হবো।
আপনারা যদি আপনাদের বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে গাফেল হয়ে থাকেন, তবে সীমান্তের প্রহরীদের (মুরাবিতিন) জিজ্ঞেস করুন। দক্ষিণের সীমান্তে জিজ্ঞেস করুন। এমন কোনো সপ্তাহ কিংবা দুই সপ্তাহ যায় না যখন জাযীরাতুল আরবের দক্ষিণে কমিউনিস্ট কাফেরদের পক্ষ থেকে হামলা হয় না। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুশয্যায়, অন্তিম মুহূর্তে যে অসিয়তগুলো করেছিলেন তার মধ্যে প্রধান একটি ছিল এই জাযীরাতুল আরব নিয়ে। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত ইবনু আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসে এসেছে, বৃহস্পতিবারের সেই দিনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করেছিল। তিনি তিনটি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার প্রথমটি হলো:
أخرجوا المشركين من جزيرة العرب
“তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দিও।”[12]
অথচ আজ তারা ব্যক্তি হিসেবে নয়, দলবদ্ধভাবে, এমনকি নাস্তিকতার শিরোমণিরা রাষ্ট্র হিসেবে জাযীরাতুল আরবে অবস্থান করছে এবং কুফরী আইন দ্বারা শাসন করছে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। তাই এই অঞ্চলের মুসলিমদের ওপর এবং যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ওপর ‘ফরযে আইন’ হলো এই নাস্তিক কাফেরদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
আমরা যুদ্ধ করি যাতে কাফেরদের কালেমা নিচু হয় এবং আল্লাহর কালেমা সমুন্নত হয়। আমরা যুদ্ধ করি যাতে পুরো দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। আর তারা তাদের স্কুল, অফিস-আদালত এবং পাহাড়ের গায়ে বড় বড় করে লিখে রেখেছে: “পার্টির কথার ওপর কোনো কথা নেই।” এটা সুস্পষ্ট কুফর। অর্থাৎ তাদের দলের নির্দেশই সর্বোচ্চ। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চাই যেন আমরা তাদের কালেমাকে নিচু করতে পারি। যতক্ষণ আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত আছে কিংবা চোখের পাতা নড়ে, আমরা যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ অনুযায়ী মুশরিকদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের না করি, তবে আমাদের মুক্তি নেই। আর আল্লাহ তাআলার জন্য এটি কঠিন কিছু নয়।
হে ইসলামের ভাইয়েরা! আপনারা যদি মনে করেন আপনারা নিরাপদে আছেন, তবে তা এক মহাবিভ্রম। দক্ষিণের এবং উত্তরের সীমান্তের প্রহরীদের জিজ্ঞেস করুন। কিছুদিন আগে খোদ এই দেশের পত্রপত্রিকাগুলোতেও এ ধরনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করুন এবং জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তাঁর ডাকে সাড়া দিন। যেমনটি আমি বলেছি, আল্লাহর ফজল ও করমে বিষয়টি এখন সহজ। যার পক্ষে দেড় মাস সময় দেওয়া সম্ভব নয়, সে যেন অন্তত তার বাৎসরিক এক মাসের ছুটিটা জিহাদ শেখার কাজে ব্যয় করে। এক রাত আল্লাহর রাস্তায় প্রহরা দেওয়া, একটি তীর নিক্ষেপ করা—কেন আমরা এই বিশাল সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবো? হাদীসে এসেছে:
لأن أرابط ليلة في سبيل الله أحب إليَّ من أن أوافق ليلة القدر عند الحجر الأسود
“আল্লাহর রাস্তায় এক রাত প্রহরা দেওয়া আমার কাছে হাজরে আসওয়াদের পাশে কদরের রাত পাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।”[13]
আমি বলছি, আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত যে, চতুর্পাশ থেকে কুফরের করাল গ্রাস সত্ত্বেও এই জাযীরাতুল আরবে এমন কিছু মানুষের জন্ম হয়েছে যাঁরা আমাদের সেই মহান সালাফ ও সাহাবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়। মানুষ ভেবেছিল, বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে এই উপদ্বীপের মানুষ বুঝি আর কখনো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর পতাকার জন্য জীবন দিতে পারবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া, এই উপদ্বীপ থেকে সাত হাজারেরও বেশি যুবক বের হয়েছে। তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়, আল্লাহর ওয়াদার ওপর বিশ্বাস রেখে সেই সুদূর পাহাড়ি উপত্যকায় ছুটে গেছে। সেখানে তাঁদের কোনো জমি নেই, আত্মীয় নেই, ব্যবসা নেই। কেবল ঈমানের টানে তাঁরা পাহাড়, পর্বত, সাগর ও নদী পাড়ি দিয়েছে—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর পতাকাকে সমুন্নত করতে। তাঁরা তাঁদের জাগতিক ভবিষ্যৎ কুরবানী দিয়েছে কারণ তাঁরা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলার কাছে যা আছে তা-ই উত্তম ও স্থায়ী।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ﴾
“যারা ঈমান এনেছে তাঁরা আল্লাহর পথে লড়াই করে।” [সূরা আন-নিসা: ৭৬]
অর্থাৎ তাঁরা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, নিহত হলে আল্লাহ তাঁদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
আমি বলি, মানুষ যেন এমন ধারণা না করে যে, আমরা এই কঠিন সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করতে পারব না কিংবা কাফের ও মুরতাদদের পরাস্ত করতে পারব না। আল্লাহর কসম! এটা সম্ভব এবং আল্লাহ তাআলার সাহায্য থাকলে এটা খুবই সহজ—যদি আমরা জিহাদের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিই।
আমি আবু বকর সিদ্দিক (রাযিআল্লাহু আনহু) এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ উল্লেখ করব—কীভাবে তাঁরা ধর্মত্যাগীদের (মুরতাদ) পুনরায় ইসলামের দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আরবদের অনেকে মুরতাদ হয়ে গেল এবং মদীনায় মুনাফিকি মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।” তখন আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) কী করলেন? তিনি সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করলেন। উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) দেখলেন আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু যুদ্ধের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
উমর রাযিআল্লাহু আনহু বললেন: “হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! তাদের প্রতি একটু নমনীয় হোন। এরা তো জাহেলিয়াত থেকে সদ্য উঠে আসা জাতি। আমরা ধৈর্য ধরি, যতক্ষণ না তাদের ঈমান মজবুত হয় অথবা আমরা তাদের সাথে যুদ্ধের শক্তি অর্জন করি।”
অধিকাংশ সাহাবীও একই মত দিলেন। কিন্তু আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) কারো কথায় টললেন না। তিনি তাঁদের বোঝাতে থাকলেন যতক্ষণ না সবাই তাঁর রায়ের ওপর একমত হলেন।
হে ভাইয়েরা! বিষয়টি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলা। এই যুগে অনেক মুসলিম ভাই সত্য প্রচারের জন্য নানামুখী পদ্ধতি অবলম্বন করেন—আল্লাহ তাঁদের এই কাজের উত্তম প্রতিদান দিন—কিন্তু ‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’-এর ক্ষেত্রে কার্যত তাঁদের কোনো হিস্যা তথা অংশ নেই (আল্লাহ যাঁদের দয়া করেছেন তাঁরা ছাড়া)।
সেদিন আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে সম্ভব ছিল তাদের কাছে দাঈদের (প্রচারক) পাঠানো—আর সাহাবাদের মধ্যে তো সবচেয়ে বাগ্মী ও ফকিহ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি চাইলে তাঁদের পাঠিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে সুন্দরভাবে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারতেন। তিনি চাইলে এমন লোক পাঠাতে পারতেন যাঁরা তাদের জন্য মসজিদ বানিয়ে দেবে। তিনি চাইলে এমন লোক পাঠাতে পারতেন যাঁরা তাদের জন্য স্কুল-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করবে কিংবা কূপ খনন করে দেবে, যাতে তারা বুঝতে পারে যে—এই দ্বীন হলো সামাজিক সংহতি ও কল্যাণের দ্বীন। এই সবগুলোই নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। কিন্তু মুরতাদদের দ্বীনে ফিরিয়ে আনার ‘আসল’ পথ তথা মৌলিক পদ্ধতি সেটাই—যা তিনি (রাযিআল্লাহু আনহু) করেছিলেন। আর তা হলো জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ, যেমনটি সামনে আসছে।
আজ অনেক মুসলিম আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। কেউ এসে বলে: ‘অমুক দেশে কয়েক মিলিয়ন মুসলিম খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে (সাহায্যপ্রার্থী)’, তাই সে দ্রুত সেখানে স্কুল বানাতে কিংবা কূপ খনন করতে ছুটে যায়। অথচ সেই দেশের শাসক—যে কি না আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা বাদ দিয়ে অন্য আইনে শাসন করে—সে-ই হলো এই রোগের মূল। সে-ই বিমানবন্দরগুলো খুলে দেয় এবং রাষ্ট্রের সম্পদ ও সক্ষমতা মিশনারিদের (যাদের আজ সুসংবাদদাতা কিংবা ধর্মপ্রচারক বলা হয়) জন্য সহজ করে দেয়, যাতে তারা গিয়ে মুসলিম সন্তানদের খ্রিস্টান বানাতে পারে।
কয়েক মাস আগের খবরে প্রকাশ, ভারতে হিন্দুরা (আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন) জোরপূর্বক মুসলিমদের কয়েকটি মসজিদ দখল করে নিয়েছে এবং মেহরাবে তাদের মূর্তি স্থাপন করে সেগুলোকে হিন্দু মন্দিরে রূপান্তর করেছে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ[14]।
রাশিয়ায় অধিকৃত মুসলিম প্রজাতন্ত্রগুলোতে আজও মসজিদগুলো গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
তাই একমাত্র পথ হলো জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ। অথচ আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) সেদিন মুসলিমদের দুর্বলতা জানতেন এবং তিনি উসামা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর বাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন—যে বাহিনী তিনি মুতার দিকে পাঠিয়েছিলেন। আর মদীনায় মুনাফিকরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল এবং শক্তিশালী হয়েছিল। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, কারণ আমরা যদি আমাদের ভাইদের বলি: ‘জিহাদে চলো’, তারা বলে: ‘আমরা কীভাবে যাব? এখানে তো অনেক ফাটল (সমস্যা) আছে। আমরা চলে গেলে নিফাক বাড়বে এবং ফাসাদ (বিপর্যয়) বাড়বে!’ কিন্তু তিনি (রাযিআল্লাহু আনহু) এমন করেননি। আমাকে বলুন, আজকের ফাসাদ কেমন? আর দশ-পনেরো বছর আগে কেমন ছিল? ফাসাদ কি বাড়েনি? নিফাক কি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি? এই দেশে মুনাফিকরা কি শক্তিশালী হয়নি এবং প্রকাশ্যে কুফর ও কুফরের ভূমিকা প্রচার করছে না? এমনকি তারা আমাদের সংবাদপত্রে লেখার সাহস পাচ্ছে, কুরআনের ভাষা ও আরবী ভাষাকে ব্যঙ্গ করছে, আধুনিকতা ও আধুনিকতাবাদীদের নামে নিজেদের আড়াল করছে। এটা নিফাকের মাথাচাড়া দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়—এবং এর ওপর ভিত্তি করে আরও অনেক কিছু চিন্তা করুন। আমরা এর জন্য কী করেছি? কেবল হাতেগোনা কয়েকজন ভাই—আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করুন—যেমন আমাদের ভাই ড. আইয়াজ আল-কারনি[15] এবং ভাই সাঈদ আল-গামিদি[16] ছাড়া—আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করুন। আর বিষয়টি বেড়েই চলেছে, চলছেই।
তাই আমি বলছি, সেদিন মদীনায় সাধারণ দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও—এমনকি সাহাবারা উম্মাহাতুল মুমিনীনদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন—তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম!—মনোযোগ দিন, এই হাদীসটি সহীহ মুসলিমে আছে—আল্লাহর কসম! তারা যদি আমাকে উটের একটি রশি (ইকাল) দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দিত, তবে আমি তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।”
এখানে দলীল হলো, যখন ইসলামের বাহিনী বেরিয়ে পড়ল, মদীনার মুনাফিকরা চুপসে গেল। আজও যদি আপনারা জিহাদ ও প্রশিক্ষণের জন্য বেরিয়ে পড়েন, আল্লাহর কসম! এই দেশে আধুনিকতা ও আধুনিকতাবাদীদের নামধারী এবং বৈজ্ঞানিক কিংবা পশ্চিমা বুলির আড়ালে থাকা মুনাফিকরা চুপসে যাবে। আল্লাহর কসম! তারা চুপসে যাবে, নাক ঘষে হলেও। কিন্তু আজ আপনাদের উদাহরণ দেওয়া হয় ‘দরবেশ’ হিসেবে। ‘মুতাওয়ি’ (দ্বীনদার) কে? যে কেবল হাতে কলম আর বই নিয়ে মসজিদে যায় আর আসে। যদি একটি বোমা ফাটে কিংবা বিস্ফোরিত হয়, আমরা জানি না কী করতে হবে। আজ যদি আপনাদের হাতে আরপিজি দেওয়া হয়, কেউ তা ব্যবহার করতে জানে না। এই বিশাল জনসংখ্যা দিয়ে আল্লাহর দ্বীন রক্ষার কোনো ফায়দা নেই।
তাই আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হন। ইসলামের সর্বশেষ দুর্গ রক্ষার জন্য বের হন এবং প্রশিক্ষণ নিন। প্রতি দুজন পুরুষের একজন যেন বের হয়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন। আর অলসতা ও দীর্ঘসূত্রতা—আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদের তা থেকে রক্ষা করুন—মানুষ বলে: ‘আমরা সবাই চলে গেলে দেশে কে থাকবে?’ হে ভাই! কে বলেছে সবাইকে যেতে হবে? বনু লিহিয়ান বিন হুজাইলের হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ সনদে এসেছে: “প্রতি দুজন পুরুষের একজন যেন বের হয়, আর সাওয়াব উভয়ের মধ্যেই (ভাগ হবে)”[17]।
এই উম্মাহ জিহাদের উম্মাহ। কিন্তু আজ আমরা তরবারির ঝনঝনানি আর গুলির শব্দ ভুলে গেছি।
আহযাবের যুদ্ধের প্রায় এক মাস পর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক স্ত্রী আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর ঘরে গোসল করছিলেন। এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নাড়ল—যাতে আপনারা জানেন যে এই উম্মাহ জিহাদের উম্মাহ, আর জিহাদ সব কিছু দিয়ে হয়, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো বর্শা ও অস্ত্র দিয়ে জিহাদ। কড়া নাড়লেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)। তিনি বললেন: “হে মুহাম্মদ! আপনারা কি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? ফেরেশতারা তো এখনো অস্ত্র নামিয়ে রাখেনি”[18]।
জিহাদের উম্মাহ! তিনি বললেন: “কোথায়?” জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ইশারা করলেন বনু কুরাইজার দিকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হলো: “যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসর নামায না পড়ে”[19]।
বনু কুরাইজা মুসলিমদের কোনো ক্ষতি করেনি, কেবল ক্ষতি করার চিন্তা ও চুক্তি করেছিল। তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হলেন। আর আজ আমাদের কী অবস্থা, যখন অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ড সুস্পষ্ট কুফরের দখলে চলে গেছে?
এটিই আমি নিজেকে এবং আপনাদের নসীহত করতে চেয়েছি। হে ইসলামের ভাইয়েরা! দ্বীন হলো নসীহত (কল্যাণকামিতা)। উম্মাহর ওপর যা আপতিত হয়েছে এরপর আর তোষামোদ কিংবা লৌকিকতার কোনো সুযোগ নেই। আজ আমাদের অবস্থা জাহাজের যাত্রীদের মতো। সবাই চুপ থাকলে আমরা ডুবে মরব। আর নসীহত করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব আদায় করলাম। আমি নিজেকে এবং আপনাদের নসীহত করছি যে, আপনারা উম্মাহকে ইসলামের সর্বশেষ দুর্গ রক্ষার প্রস্তুতির জন্য উদ্বুদ্ধ করুন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও আপনাদের সীমান্ত প্রহরী মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
পরিশেষে আমি আপনাদের সন্তান ও ভাইদের কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি—এই দেশের অধিবাসীদের মধ্য থেকে যাঁরা এই দ্বীন রক্ষার জন্য বের হয়েছিল। এমন সব যুবক, আল্লাহর কসম! যাঁদের প্রতি কেউ ভ্রূক্ষেপও করত না। কেউ হাইস্কুলের ছাত্র, কেউ কারিগরি ইনস্টিটিউটের, কেউ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকের ছাত্র। (অডিওতে শব্দ বিচ্ছিন্ন)… এবং তাঁদের মাধ্যমে রুশ বাহিনীর শক্তিশালী সেনাদের চূর্ণ করা হয়েছে ও পরাজিত করা হয়েছে। এই কিংবদন্তি (রাশিয়া)-কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই যুবকদের হাতে চূর্ণ ও পরাজিত করেছেন। আমি তাঁদের মধ্যে স্মরণ করছি আমাদের ভাই শফি (শফিক) বিন ইবরাহীম মাদানিকে (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি এই তো কদিন আগে জিলহজ মাসে, জিলহজের শ্রেষ্ঠ দশ দিনের মধ্যে নিহত হয়েছেন। আমাদের অনেক ভাই যারা নিহত হয়েছেন তাঁদের সংখ্যা শত শত। আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি তিনি তাঁদের সবাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করবেন। আমি তাঁদের মধ্যে আরও স্মরণ করছি—যারা জালালাবাদের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন—আমাদের ভাই তালিব আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জার আল-হামাউই আল-মাদানি, আমাদের ভাই আবু আব্দুল্লাহ আল-মারিবী আল-উবাইদি (মারিব থেকে), আমাদের ভাই আবু আব্দুর রহমান বিন সারি আল-হাদরামী এবং তাঁদের মতো আরও অনেকে। আবু আম্মার আশ-শাম্মারি, আবুল ওয়ালিদ আল-উতাইবি, আহমাদ আজ-জাহরানি, আব্দুল ওয়াহহাব আল-গামিদি এবং এই উপদ্বীপের আরও অনেক যুবক। তাঁদের মধ্যে আমাদের ভাই—আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন ও রহম করুন—মুহাম্মদ আস-সাখরি (তায়েফের অধিবাসী), আমাদের ভাই সাদ আল-খালিদি (রহিমাহুল্লাহ, পূর্বাঞ্চল তথা শারকিয়ার অধিবাসী), আমাদের ভাই নাবিল আবু আজ-জাহাব আস-সুদানি এবং আবু সাহল ও আবু দুজানা আল-মিসরি। আরও অনেকে, যাঁদের নাম উল্লেখ করতে গেলে স্থান সংকুলান হবে না। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে আশা রাখি তিনি তাঁদের শহীদ হিসেবে কবুল করবেন।
তাঁদের কেউ কেউ এমন মহান অবস্থায় নিহত হয়েছেন যে, আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশা রাখি তাঁরা শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেমনটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এসেছে: “শ্রেষ্ঠ শহীদ তাঁরা, যাঁরা কাতারে মিলিত হলে আর চেহারা ফেরায় না (পিছু হটে না) যতক্ষণ না নিহত হয়। তাঁরা জান্নাতের সুউচ্চ কামরায় বিচরণ করবে এবং তোমার রব তাঁদের প্রতি হাসবেন। আর দুনিয়াতে তোমার রব যদি কোনো বান্দার প্রতি হাসেন, তবে তাঁর আর কোনো হিসাব নেই”[20]। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশা রাখি তিনি তাঁদের কবুল করবেন এবং তাঁরা শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
এই শফিক—এমন এক যুবক, যে দুনিয়ার তথাকথিত ডিগ্রি কিংবা সনদ—যার পেছনে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে—তা ছেড়ে দিয়েছিল এক মহান শাহাদাহ (সনদ) অর্জনের জন্য, তাওহীদের সাক্ষ্য ‘আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’-কে সাহায্য করার জন্য। তাঁর সমবয়সীরা যখন কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, সে এসব প্রত্যাখ্যান করল। অথচ সে পড়াশোনায় ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো ছাত্র (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন)। সে আমাদের কাছে এসেছিল মাত্র আঠারো বছর বয়সে। আমাদের সাথে সে পাঁচ বছর অবস্থান করেছিল। আল্লাহর কসম করে বলছি—আর আমি আরব সেনাবাহিনীর অফিসারদের সাথে মেলামেশা করেছি—আমি এমন কাউকে দেখিনি যে সামরিক অভিজ্ঞতা, যুদ্ধকৌশল এবং তাকওয়ায় তাঁর সমকক্ষ হতে পারে (আমরা অবশ্য আল্লাহর ওপর কারো পবিত্রতা ঘোষণা করছি না)।
সে এমন এক পুরুষ, যে জিলহজ মাসের শুরুর দিকে একা একটি আর্মারড ব্যাটালিয়নকে (সাঁজোয়া বাহিনী) ৭৫ মিলিমিটার ট্যাংক-বিধ্বংসী কামান দিয়ে প্রতিহত করেছিল। সে একাই তাদের মোকাবেলা করছিল এবং তাদের ওপর গোলাবর্ষণ করছিল—সে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল, পিছু হটছিল না—যতক্ষণ না সে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিল। তারা দুটি ব্যাটালিয়ন নিয়ে এসেছিল। একটি ব্যাটালিয়ন আরবদের ক্যাম্পটি পাশ থেকে ঘিরে ফেলতে চেয়েছিল—ঠিক যখন আপনাদের আরব সন্তান ও ভাইয়েরা সেখানে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, সে কাফেরদের এতটাই ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত করেছিল যে, তারা আমাদের ওপর বিমান হামলা চালাত আপনাদের ভাইদের অবস্থানগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। শেষমেশ তারা বাধ্য হয়ে আরব ভাইদের অবস্থানের ওপর স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি বর্ষণ করেছিল। আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন, সে তাদের ব্যস্ত রেখেছিল এবং যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁকে অনুগ্রহ করলেন (শাহাদাত দান করলেন)।
আমরা আশা রাখি আল্লাহ তাআলা তাঁকে শহীদ হিসেবে কবুল করবেন। সে ঠিক যেভাবে চেয়েছিল এবং দোয়া করেছিল, ঠিক সেভাবেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। সে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করত যেন সে বিশেষ একটি অবস্থায় নিহত হয়। বিশ্বাস করুন, সে ঠিক যেভাবে দোয়া করেছিল এবং চেয়েছিল, অবিকল সেভাবেই আঘাত পেয়েছিল।
এটি আমাদের সেই সাহাবীর কথা মনে করিয়ে দেয় যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন (গনীমতের মাল বণ্টনের পর): “আমি এই (গনীমতের) জন্য আপনার অনুসরণ করিনি, আমি তো আপনার অনুসরণ করেছি যেন আমার এখানে (গলায়) তীর বিদ্ধ হয় এবং এদিক দিয়ে বের হয়ে যায়”, এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পার হলো, সেই সাহাবীকে আনা হলো—তাঁর ঠিক ওখান দিয়ে তীর বিদ্ধ হয়ে ওদিক দিয়ে বের হয়েছিল।
এমন যুবকের সংখ্যা অনেক। এদের উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সম্মানিত করুন—এই মাটিতে এখনো খাঁটি উপাদান (খনিজ) রয়েছে। এটি সেই আসলি উপাদান, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবাদের উপাদান। আমি চাই আপনাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস দৃঢ় হোক। আপনাদের পূর্বপুরুষরা (রাযিআল্লাহু আনহুম) যখন ঈমান ও জিহাদ ধারণ করেছিলেন, তখন কোনো পরাশক্তি—হোক তা বড় কিংবা ছোট—তাঁদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। না পারস্য, না রোম, না তুর্কি, না বার্বার, না তাতার, না অন্য কেউ। তাঁরা সবাই সঠিক ঈমান এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সামনে ভেঙে পড়েছিল। তাই এই দুটির সমন্বয় ঘটাতে হবে। এজন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বাণীতে মুমিনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন: সঠিক ঈমান যাতে কোনো সন্দেহ কিংবা সংশয় নেই এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। আল্লাহ তাআলা বলেন—মনোযোগ দিন এবং অনুসরণ করুন:
﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ﴾
“মুমিন তো তারা, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অন্তর দিয়ে স্বীকার করেছে, তারপর কোনও সন্দেহে পড়েনি এবং তাদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই তো সত্যবাদী।” (সূরা হুজুরাত: ১৫)
পরিশেষে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস উল্লেখ করব, যাতে আমাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত নাজাতপ্রাপ্ত দলের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। তিনি একটি মহান বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন যা হলো কিতাল (যুদ্ধ)—যুদ্ধ ছাড়া এর কোনো তাবিল কিংবা ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর নির্দেশের ওপর (অটল থেকে) যুদ্ধ করতে থাকবে, শত্রুদের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাঁদের বিরোধিতা করবে তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত উপস্থিত হয় এবং তাঁরা এ অবস্থার ওপরই থাকবে”[21]। দেখুন আপনি আল্লাহ তাআলার নির্দেশের ওপর যুদ্ধকারীদের অন্তর্ভুক্ত কি না। যদি হন তবে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করুন। আর যদি না হন তবে চেষ্টা করুন আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে এবং আল্লাহর রাস্তায় পা ধূলিমলিন করতে। কারণ সহীহ হাদীসে এসেছে: “যার দুই পা আল্লাহর রাস্তায় ধূলিমলিন হয়েছে, জাহান্নামের আগুন তাঁকে স্পর্শ করবে না”[22]।
হে আল্লাহ! হে রহমান, হে রহিম! আমরা আপনার কাছে চাই, আপনি আমাদের সেই সত্যবাদী মুজাহিদ মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাঁরা আপনার মহান দ্বীনের সাহায্যে নিজেদের জান ও মাল সস্তায় বিলিয়ে দেয়। হে আল্লাহ! সব জায়গায় মুসলিমদের সাহায্য করুন, মুজাহিদদের সাহায্য করুন এবং আমাদের আপনার রাস্তায় শাহাদাত নসীব করুন হে জগতসমূহের প্রতিপালক। আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাঁরা এই দ্বীনের সাহায্যে নিজেদের উৎসর্গ করে। আর দরূদ ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের সরদার মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
এখন আমরা প্রশ্নোত্তরের জন্য সুযোগ দিচ্ছি।
প্রশ্নোত্তর পর্ব
প্রশ্নকারী: প্রথম প্রশ্ন; আফগানিস্তানের সর্বশেষ খবর কী?
শায়খ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ): ভাই বলছেন আফগানিস্তানের খবর কী? আমি বলি, হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক)। যখন আমরা নিজেরা জিহাদে বের হইনি এবং আমাদের ভাইদের ব্যাপারে নিশ্চিত হইনি, তখন কুফর তাদের একা পেয়ে গেছে, কাফেররা তাদের একা পেয়ে গেছে। আজ পূর্ব ও পশ্চিমের কুফরী শক্তিগুলো জোটবদ্ধ হয়ে মুজাহিদদের অবরোধ করার মহাষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মুজাহিদদের কাছে গোলাবারুদ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ছয় মাসেরও অধিক সময় ধরে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। তাই আমাদের সাধ্য মতো তাঁদের সাহায্য করা আবশ্যক। এতদসত্ত্বেও আল্লাহর মেহেরবানিতে খবর ভালো, বিশেষ করে কাবুল, কান্দাহার ও খোস্ত এলাকায়। সেখানে আল্লাহর ফজল ও করমে শত্রুদের ওপর মুজাহিদ ভাইদের সফল ও ভালো আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি তিনি তাঁদের সাহায্য করবেন এবং বিজয় দান করবেন।
প্রশ্নকারী: দ্বিতীয় প্রশ্ন; আমরা আপনার কাছে পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে কিছু নসীহত আশা করছি যাতে তারা তাদের সন্তানদের আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে উৎসাহ দেন এবং এর ফযীলত সম্পর্কে… ইত্যাদি।
শায়খ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ): তিনি বলছেন, আমরা যেন পিতা-মাতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলি যাতে তারা তাদের সন্তানদের জিহাদে যাওয়ার অনুমতি দেন। আমি বলি; আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ হলো এই দ্বীনের সর্বোচ্চ শিখর। আমি আমার ভাইদের সতর্ক করতে চাই—এমনকি যারা আমাদের কিছু সম্মানিত আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করুন ও রক্ষা করুন) মত গ্রহণ করেন যে আফগানিস্তানে জিহাদ ফরযে আইন; আবার অন্য কিছু সম্মানিত আলেম যেমন শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (আল্লাহ তাঁর বরকত দিন) তিনিও বলেন জিহাদ ফরযে আইন। তাই আমি বলি, যারা মনে করেন যে, এই সময়ে জিহাদ ফরযে কেফায়া—যদিও আমরা শায়খ আলবানি (আল্লাহ তাঁর বরকত দিন)-এর ফতোয়ার ওপর আস্থাশীল—তবুও আমি বলি, সর্বনিম্ন স্তর হলো ফরযে কেফায়ার জন্য বসে থাকা। যে জিহাদে গেল সে সর্বোচ্চ স্তরে আর যে বসে থাকল সে সর্বনিম্ন স্তরে থাকল, এতে তার কোনো দোষ নেই (যদি ফরযে কেফায়া ধরা হয়)। কিন্তু এই স্তর থেকে নিচে নেমে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া—আর তা হলো জিহাদ থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করা—এ ব্যাপারে আমি নিজেকে এবং আমার ভাইদের নসীহত করছি যেন তারা সতর্ক হন। জিহাদ থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করা কবীরা গুনাহ। আপনি যদি এই ফতোয়ার (ফরযে কেফায়া) ওপর বসে থাকেন, আপনার সমস্যা নেই। কিন্তু সাবধান! আবারও সাবধান! আপনার ভাইদের প্রতি হিংসা করবেন না এবং চাইবেন না যে তারাও আপনার মতো বসে থাকুক। তখন শয়তান আপনাকে কুমন্ত্রণা দেবে এবং আপনি তাঁদের জিহাদ থেকে বিরত রাখবেন।
আর বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বলি; লাঞ্ছনা ও অপমানে আমাদের যথেষ্ট হয়েছে। হে ভাইয়েরা! আমাদের অনেক লাঞ্ছনা ও অপমান হয়েছে। তাই আপনাদের সন্তানদের পাঠিয়ে দিন। আপনারা যদি লাঞ্ছনায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং বের হতে না পারেন, তবে হয়তো আল্লাহ আপনাদের সন্তানদের দ্বারা উপকার করবেন এবং তাঁরা এই দ্বীনের জন্য সম্পদ হবে। তাঁরা যদি নিহত হয় তবে তাঁরা তাঁদের রবের কাছে জীবিত, রিযিকপ্রাপ্ত। তাঁরা যদি নিহত হয় তবে আপনার জন্য এবং তাঁদের পরিবারের সত্তর জনের জন্য সুপারিশ করবে। আর যদি তাঁরা বেঁচে থাকে তবে তাঁরা এই দ্বীন রক্ষার এবং হে সম্মানিত ভাই, আপনার রক্ষার হাতিয়ার হবে।
প্রশ্নকারী: আফগানিস্তানে কি মুজাহিদদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় হয়েছে? ফিলিস্তিনের পাথর বিপ্লব (ইন্তিফাদা) কি ইসলামী জিহাদ আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত? এবং পিএলও (PLO)-এর কি আজকের অধিকৃত ভূমির ঘটনায় সরাসরি কোনো প্রভাব আছে?
শায়খ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ): দীর্ঘ প্রশ্ন। তবে তিনি বলছেন; আফগানিস্তানে কি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় হয়েছে? আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে পারছি না বিশেষ করে সেখানে মুসলিমদের প্রতি আমাদের সাহায্যের অপ্রতুলতা এবং ভাইদের ওপর কাফেরদের সম্মিলিত আক্রমণের কারণে। পরের প্রশ্নটি…
প্রশ্নকারী: ফিলিস্তিনের পাথর বিপ্লব ইসলামী জিহাদ আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত…
শায়খ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ): আমরা অন্য বিষয় নিয়ে থাকি। তবে আমাদের প্রবল ধারণা, বরং আমাদের বিশ্বাস হলো আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে ফিলিস্তিনে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে—আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি তিনি সেখানকার ভাইদের সাহায্য করবেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি তাওফীক দেন তবে অন্য কোনো সময়ে ফিলিস্তিনে আমাদের ভাইদের প্রতি আমাদের কর্তব্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এটি সহজ বিষয় ইনশাআল্লাহ—কীভাবে বিভিন্ন উপায়ে তাদের সাহায্য করা যায়। তবে আমি বলি, ফিলিস্তিনে যে কাজটি হয়েছে তা আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে আফগান জিহাদের পর মুসলিম বিশ্বে জিহাদি চেতনা বৃদ্ধির ফল।
(শায়খ উসামা বিন লাদেন -রহিমাহুল্লাহ- প্রশ্ন পড়ছেন এবং উত্তর দিচ্ছেন)
– ভাই বলছেন তিনি জিহাদে যেতে চান, কিন্তু তাঁর ওপর ঋণ আছে।
আমি বলি, শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন)-এর ফতোয়া অনুযায়ী পাওনাদারের অনুমতি ছাড়াই আপনি বের হতে পারেন। আল্লাহ ভালো জানেন[23]।
– ভাই বলছেন—এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হে ভাইয়েরা—প্রতিদিন আমরা ইমাম, দাঈ, সংবাদপত্র এবং রেডিওতে শুনি কিংবা পড়ি, তাঁরা মানুষকে জিহাদের দিকে ডাকে কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি, বিশেষ করে অধিকৃত ফিলিস্তিনে। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি তিনি যেন এই দখলদারিত্ব থেকে কিংবা দরিদ্র মুসলিম দেশগুলোকে মুক্ত করেন।
হে ভাইয়েরা! এই কথা সত্য। মানুষ শুধু কথা, বই পড়া এবং ক্যাসেট শোনাতে ক্লান্ত হয়ে গেছে আমল ছাড়া। অনেক মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবেই মানুষকে জিহাদ থেকে নিরুৎসাহিত করে এবং বলে যে জিহাদের আগে অন্য অগ্রাধিকার আছে। কিন্তু হে ভাই! আন্দালুসের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিন। আন্দালুসের ওপর দিয়ে পাঁচ শতাব্দী চলে গেছে, ডজন ডজন প্রজন্ম জন্মেছে এবং মারা গেছে, আর প্রতিটি প্রজন্ম গড়িমসি করেছে যে জিহাদের আগে অন্য অগ্রাধিকার আছে। এটি বিভ্রান্তি। তাই আমি ভাইকে এবং ভাইদের বলছি, আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে আফগানিস্তানে কাজের সুযোগ দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে উন্মুক্ত। তাই প্রশিক্ষণ নিতে দেরি করবেন না। আপনারা যদি প্রথম পদক্ষেপটি—অর্থাৎ প্রশিক্ষণ—শুরু করেন, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনাদের মহান কল্যাণের দিকে পথ দেখাবেন এবং তখন ইনশাআল্লাহ আমরা বুঝতে পারব কীভাবে ফিলিস্তিন এবং বাকি মুসলিম ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার সম্ভব।
– তিনি বলছেন, আমরা আমাদের পরিবার ও আত্মীয়দের বলতে শুনেছি যে, জিহাদ হলো গৃহযুদ্ধ (Civil War), এর কোনো গুরুত্ব নেই এবং তারা ভয় পায় আমরা মারা যাব, তাই তারা বলে তোমরা যেও না।
গৃহযুদ্ধ… এর প্রমাণ কী যে এটি গৃহযুদ্ধ? সুস্পষ্ট কুফর। মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য কি বংশ দিয়ে হয় নাকি ঈমান দিয়ে? ঈমান দিয়ে, হে ইসলামের ভাইয়েরা। যারা বলে এটি গৃহযুদ্ধ, এটি সেই তীব্র ক্রুসেডার প্রচারণার অংশ যারা মুজাহিদদের থেকে মুসলিমদের দূরে রাখতে চায় এবং বলে এটি গৃহযুদ্ধ। তাদের এই মাপকাঠি অনুযায়ী বদরের মহাযুদ্ধও গৃহযুদ্ধ হয়ে যাবে! কারণ কুরাইশরা যখন যুদ্ধের জন্য এল, আনসাররা বের হলেন। তারা বলল: “তোমরা কারা?”
তাঁরা বলল: “আমরা খাজরাজ গোত্রের…” অর্থাৎ আনসার।
তারা বলল: “তোমরা সম্মানিত ও সমকক্ষ, কিন্তু আমাদের সামনে আমাদের চাচাতো ভাইদের (কুরাইশদের) বের করে দাও”।
তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “ওঠো হে হামজা, ওঠো হে আলী, ওঠো হে উবাইদা বিন হারিস”[24]।
এরা তো চাচাতো ভাই ছিল। আমরা কি বলব সেটি গৃহযুদ্ধ ছিল? বরং আমাদের ও তাদের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো ঈমান ও কুফর। আজ যারা যুদ্ধ করছে তাঁরা মুমিন আফগান, তাঁরা যুদ্ধ করছে কাফের আফগানদের বিরুদ্ধে—যারা বড় কুফর, সুস্পষ্ট কুফরে লিপ্ত এবং যাদের সাহায্য করছে আন্তর্জাতিক রুশ কুফরী শক্তি (আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন)। তাই হে ভাই! অন্তত প্রশিক্ষণের জন্য যান। তথ্যের জন্য বলছি, যুদ্ধ ক্ষেত্রের বাইরে আমাদের ক্যাম্প আছে। এমনকি যদি ফরযে কেফায়াও ধরা হয়, আপনি যুদ্ধ এলাকার বাইরে গিয়ে কেবল প্রশিক্ষণ নিতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
– ভাই বলছেন; আমরা শুনেছি পেশোয়ারে আরব মুজাহিদদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে যাতে তাঁদের পাকিস্তান থেকে বের করে দেওয়া যায় এবং তাঁদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া যায়, আপনাদের বক্তব্য কী?
ইসলামী দলগুলো এবং ইসলামী জাগরণের ওপর ষড়যন্ত্র অনেক। কিন্তু এই ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় যখন ইসলামী দলগুলো—ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী—অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং জিহাদের ডাক দেয়। তাই এখন সেখানকার ভাইদের ওপর বিশাল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে—যেমনটি আমি কিছু আলোচনায় বলেছি—আমাদের আফগানদের থেকে দূরে রাখার জন্য আমাদের ব্যাপারে যা রটানো হয় যে: “এরা ওহায়াবী”, আর সেখানে এই শব্দটির অর্থ ভালো নয় যেমনটি মূলে রয়েছে। তাই আমি ভাইদের বলি; কাদের বদনাম করা বেশি জরুরি? সেখানে কয়েক হাজার লোক নাকি জাযীরাতুল আরবের কয়েক মিলিয়ন লোক? কিন্তু আপনাদের নামে বদনাম করা হয় না কারণ আপনারা অস্ত্র হাতে নেননি। কিন্তু তাঁরা যাঁরা জিহাদ শুরু করেছে এবং আপনারা তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হতে শুরু করেছেন, তাদের বের করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রশ্নে ভাই যা বলেছেন তা সত্য। কিন্তু হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল। ষড়যন্ত্র পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণ নিতে দ্রুত চলে আসুন, ওয়াল্লাহুল মুস্তাআন (আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল)।
– ভাই বলছেন; এটা কি সত্য যে আফগানিস্তানে বিভক্তি আছে?
আমি বলি; হে ভাই! মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ ঘটা স্বাভাবিক বিষয়, বিশেষ করে উম্মাহর কোনো সাধারণ ইমাম (খলীফা) না থাকার কারণে। কিন্তু অনেক নিরুৎসাহিতকারী—আল্লাহ আমাদের ও তাদের হেদায়াত দিন—এই বিষয়গুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে জিহাদ থেকে বিরত রাখে। অথচ মূলকথা হলো দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ জিহাদের দায়িত্বের সাথে যদি মতভেদ দেখা দেয় তবে আরেকটি দায়িত্ব ওয়াজিব হয়—তা হলো ইসলাহ কিংবা মীমাংসা করা। আল্লাহ তাআলার বাণী:
﴿وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا﴾
“মুমিনদের দুটি দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তাঁদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।” (সূরা আল-হুজুরাত: ৯)
আপনি যা বলেছেন তা সত্য কিন্তু এটি বসে থাকার দলীল হতে পারে না। আর নিরুৎসাহিত করা—যেমনটি আমি বলেছি—মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। যেমন তাবুকের দিন তাদের কথা:
﴿لَا تَنفِرُوا فِي الْحَرِّ﴾
“গরমের মধ্যে বের হয়ো না”। (সূরা আত-তাওবা: ৮১)
এবং তাবুকের দিন মুনাফিকদের সর্দারের কথা:
“মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা কি মনে করে বনু আসফার কিংবা রোমানদের সাথে যুদ্ধ করা খেলা? তোমরা আগামীকাল তাদের রশিতে বাঁধা অবস্থায় দেখবে”।
এটি নিরুৎসাহিতকরণ। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি আমাদের ও আপনাদের এটি থেকে রক্ষা করেন।
– এই ভাই একটি প্রশ্ন করেছেন যা আমি তাঁকে শায়খ আব্দুল আজীজকে জিজ্ঞেস করার পরামর্শ দিচ্ছি—শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন)
– এই প্রশ্নটির উত্তরও আমরা দিয়েছি।
– বিষয়বস্তুর বাইরের কিছু প্রশ্ন।
– ভাই বলছেন ইরিত্রিয়ার মুজাহিদদের খবর কী?
আল্লাহ তাআলার মেহেরবানি যে ইরিত্রিয়ার মুসলিমরা শুরু করেছেন এবং তাঁদের জন্য শুরা কাউন্সিল গঠন করেছেন। তারা কাফের সংগঠনগুলোর—যেমন পপুলার ফ্রন্ট ইত্যাদি—অধীনস্থ ইরিত্রিয়দের বিরুদ্ধে এবং ইথিওপিয়া সরকারের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছেন।
– তিনি বলছেন পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদ?
আমি বলি আমাদের এখানকার বড় বড় মাশায়েখদের (আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করুন) ফতোয়া হলো—অনুমতি নেওয়া আবশ্যক কারণ তারা বলেন এটি ফরযে কেফায়া। আর শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানির ফতোয়া অনুযায়ী তিনি বলেন এটি ফরযে আইন, তাই অনুমতি নেওয়া লাগবে না—তবে যদি এমন হয় যে, আপনি ছাড়া আপনার মা-বাবার দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই এবং তারা কষ্টে পড়বেন, সে ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন[25]।
– তিনি বলছেন আমি কীভাবে আফগানিস্তানে যাব?
বিষয়টি সহজ হে ভাই। এখানে রিয়াদে কিংবা জেদ্দায় ৬৭১০৮৩৭ (সাতষট্টি দশ আটশো সাইত্রিশ) নম্বরে ফোন করলে রিলিফ কমিটির মাধ্যমে সৌদি এয়ারলাইন্সে ৭৫% ছাড়ে টিকিটের ব্যবস্থা হতে পারে। আপনি ইসলামাবাদ যাবেন এবং সেখানে ইনশাআল্লাহ এয়ারপোর্টে ভাইদের পাবেন যারা আপনার অপেক্ষায় থাকবেন এবং আপনাকে ট্রেনিং ক্যাম্পে নিয়ে যাবেন। আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।
– ভাই বলছেন, আমাদের কি অতীতের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া ইসলামী ভূখণ্ডগুলো যেমন আন্দালুস, বুলগেরিয়া, গ্রিস, ফিলিপাইন ইত্যাদি পুনরুদ্ধার করা আবশ্যক?
আমার জানা মতে এবং শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানির ফতোয়া অনুযায়ী—এটি আমাদের ওপর ওয়াজিব এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আদেশ ওয়াজিবের জন্য:
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ﴾
“হে মুমিনগণ! কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ করো।” (সূরা আত-তাওবা: ১২৩)
আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। হে ভাই! এই কাজের ব্যাপারে বসে থাকা লোকের আধিক্য যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে। আমরা এমন এক জামানায় আছি যেখানে জিহাদ ‘গারিব’ (অপরিচিত) হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসে আছে:
“ইসলাম শুরু হয়েছে (গারিব হিসেবে, এবং শীঘ্রই তা আবার গারিব হিসেবে ফিরে আসবে, তাই সুসংবাদ গারিবদের জন্য)।”[26] শব্দ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে…
[1] ফ্ল্যাগ মিলার, দ্য অডাসিয়াস অসেটিক: হোয়াট দ্য বিন লাদেন টেপস রিভিল এবাউট আল-কায়েদা (নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১৫), ১০২।
[2] জেসন সাসুন: ইন্নাহু বিন লাদেন: কুল্লু শাই’আন ‘আনহু বিলিসানি জাওজাতিহি ওয়া ইবনিহি, শারীকাতুল মাতবুয়াত লিন-নাশর ওয়াত তাওজি, ২য় সংস্করণ: ২০১১, (পৃষ্ঠা: ১২৮)।
[3] মাজাল্লাতুল জিহাদ, ৫৯তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ১৯৮৯, পৃষ্ঠা: ৩৭।
[4] টমাস হেগহামার, জিহাদ ইন সৌদি অ্যারাবিয়া: দ্য স্টোরি অফ আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা, আরব নেটওয়ার্ক ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিশিং, ১ম সংস্করণ: ২০১৩, (পৃষ্ঠা: ১৫২-১৫৩)।
[5] মোস্তফা হামিদ, ছারছারা ফাওকা ছাকফিল আলাম ৪: আল-হামাকাতুল কুবরা আউ হারবুল মায়িজ, (পৃষ্ঠা: ১৯৬)।
[6] অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট ১৯৮৯ (লন্ডন: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন্স, ১৯৮৯), ২৫২-২৫৩।
[7] পত্রিকা আশ-শা’ব (মিসর), মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৯, পঞ্চদশ বর্ষ, (পৃষ্ঠা: ৩)।
[8] ১৯৮৭ সালে মক্কায় ইরানি “হাজি” এবং সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
[9] আমি এটি ইবনু কাসিরে পাইনি, বরং ইবনু আতিয়্যার (মৃত: ৫১৮ হিজরী) তাফসিরে পেয়েছি এবং তিনি এটি মুজাহিদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
“বর্ণিত আছে যে, বনি ইসরাইল রাতে ভ্রমণ করত এবং সারারাত ঘুরপাক খেত ও পথ চলতে পারত না, সকাল হলে দেখত তারা রাতের শুরুতে যেখানে ছিল সেখানেই আছে। মুজাহিদ ও অন্যরা বলেন, তারা কখনো দিনে এবং কখনো রাতে চলত, কিন্তু যেখানে সকাল করত সেখানেই সন্ধ্যা করত এবং যেখানে সন্ধ্যা করত সেখানেই সকাল করত।”
[10] মুসনাদে আহমাদে ইবনু ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:
إذا يعني ضن الناس بالدينار والدرهم وتبايعوا بالعين واتبعوا أذناب البقر وتركوا الجهاد في سبيل الله أنزل الله بهم بلاء فلم يرفعه عنهم حتى يراجعوا دينهم
“মানুষ যখন দিনার ও দিরহাম নিয়ে কার্পণ্য করবে, ‘ঈনা’ পদ্ধতিতে বেচাকেনা করবে, গরুর লেজ ধরে পড়ে থাকবে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাদের ওপর বালা-মুসিবত নাযিল করবেন এবং তা তুলে নেবেন না যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনে ফিরে আসে।” [হাদিস: ৪৮১০]
[11] তাঁর কিতাব দেখুন: সাফওয়াতুল আছার ওয়াল মাফাহিম মিন তাফসিরিল কুরআনিল আজিম।
[12] সহিহ বুখারি: ৪৪৩১
[13] আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিস:
موقفُ ساعةٍ في سبيلِ اللهِ خيرٌ من قيامِ ليلةِ القدرِ عندَ الحَجرِ الأسوَدِ
“আল্লাহর রাস্তায় কিছুক্ষণ অবস্থান করা হাজরে আসওয়াদের পাশে কদরের রাতে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।” [আলবানি সহিহুত তারগিবে এটিকে সহিহ বলেছেন: ১২২৩]।
[14] সম্ভবত তিনি ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বাবরি মসজিদের সীমানার মধ্যে ‘রাম মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ভারতীয় সরকার কর্তৃক একটি উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনকে অনুমতি দেওয়ার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে মাত্র তিন বছর পর ১৯৯২ সালে মসজিদটি ধ্বংস করে মন্দির নির্মাণ করা হয়।
দেখুন: সার্বেপল্লী গোপাল (সম্পাদিত), অ্যানাটমি অব অ্যা কনফ্রন্টেশন: আইয়োধ্যা অ্যান্ড দ্য রাইজ অব কমিউনাল পলিটিক্স ইন ইন্ডিয়া (লন্ডন: জেড বুকস, ১৯৯৩), পৃষ্ঠা ৮৪।
[15] এবং এই বিষয়ে তাঁর একটি বই আছে যার নাম ‘আল-হাদাছা ফি মিজানিল ইসলাম’।
[16] এবং এই বিষয়ে তাঁর একটি বই আছে যার নাম ‘আল-ইনহিরাফ আল-আকিদি ফি আদাবিল হাদাছা ওয়া ফিকরিহা: দিরাসা নকদিয়্যা শরইয়্যা’। এটি মূলত পিএইচডি থিসিস।
[17] আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিস: “প্রতি দু’জন পুরুষের একজন যেন বের হয়। তারপর বসে থাকা ব্যক্তিকে বললেন: তোমাদের মধ্যে যে বের হওয়া ব্যক্তির পরিবার ও মালের দেখাশোনা করবে উত্তমরূপে, তার জন্য বের হওয়া ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব।” [আলবানি সহিহ আবু দাউদে এটিকে সহিহ বলেছেন: ২৫১০]।
[18] আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস, সহিহ বুখারি: ৪১১৭।
[19] হাদিসটির মূল সহিহ মুসলিমে আছে, তবে আমি হাদিসের এই শুরুর অংশটুকু পাইনি। ভিন্ন শব্দে আব্দুল্লাহ বিন ওমর থেকে বর্ণিত হয়েছে:
مَن كانَ سامعًا مُطيعًا فلا يُصلِينَّ العصرَ إلَّا ببني قُرَيظَةَ
“যে শুনবে ও মানবে সে যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসর নামাজ না পড়ে”, কিন্তু আলবানি সিলসিলাতুল আহাদিসিদ দায়িফাতে এটিকে দুর্বল বলেছেন: ১৯৮১।
[20] নুয়াইম বিন হাম্মার আল-গাতফানি থেকে বর্ণিত হাদিস। আলবানি সহিহুত তারগিবে এটিকে সহিহ বলেছেন: ১৩৭১।
[21] উকবা বিন আমের থেকে বর্ণিত হাদিস, সহিহ মুসলিম: ১৯২৪।
[22] আবু আবস আব্দুর রহমান বিন জাবর থেকে বর্ণিত হাদিস, সহিহ বুখারি: ২৮১১।
[23] আলবানির আল-আশরিতাতুল মুতাফাররিকা, ক্যাসেট নং: ২০১; যেখানে তিনি বলেন: “আমার কাছে যা মনে হয়, আল্লাহ ভালো জানেন, ঋণগ্রহীতার মহাজনের সাথে দুটি অবস্থা হতে পারে-
প্রথমত, মহাজন ঋণগ্রহীতাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বা হজে যাওয়ার অনুমতি দিল, এমতাবস্থায় সে জিহাদ ও হজ করবে নিঃসন্দেহে।
আর যদি মহাজন অনুমতি না দেয় এবং ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেয়, তবে এখানে আগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে—ফরজে আইন জিহাদের জন্য অনুমতি লাগে না।”
[24] আলী বিন আবি তালিব (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, সুনানে আবু দাউদ: ২৬৬৫।
[25] দেখুন: আলবানির ফাতাওয়া জেদ্দা, ক্যাসেট: ১০; যেখানে তিনি বলেন: “শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও যুদ্ধ দুই প্রকার; ফরজে আইন ও ফরজে কেফায়া।
যদি ফরজে কেফায়া হয় তবে পিতা-মাতার অনুমতি আবশ্যক এই হাদিসের আলোকে; পিতা-মাতার এক সন্তান থাকুক বা একাধিক। যদি জিহাদ ফরজে কেফায়া হয় তবে সন্তানদের জন্য পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদ করা জায়েজ নয়।
কিন্তু যদি জিহাদ ফরজে আইন হয়, যেমনটি এই সময়ে বিশেষ করে আফগানিস্তানে—আমাদের বিশ্বাস মতে—তখন পিতা-মাতার অনুমতি লাগবে না কেবল একটি অবস্থা ছাড়া; যখন তাদের দেখাশোনা ও খেদমত করার মতো ওই সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই এবং তাদের তার খেদমতের প্রয়োজন আছে। এমতাবস্থায় অনুমতি নিতে হবে, যদি অনুমতি না দেয় তবে তাদের খেদমত আবশ্যক।”
[26] আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, সহিহ মুসলিম: ১৪৫।




