সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / Bengali Translation || শতাব্দীর চুক্তি নাকি বহু শতাব্দীর ক্রুসেড?- পর্ব – ৫ || শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ

Bengali Translation || শতাব্দীর চুক্তি নাকি বহু শতাব্দীর ক্রুসেড?- পর্ব – ৫ || শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media

 

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

 

الترجمة البنغالية
বাংলা ডাবিং
Bengali Translation

 

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled

صفقة القرن أم حملات القرون (الحلقة الخامسة)

শতাব্দীর চুক্তি নাকি বহু শতাব্দীর ক্রুসেড?- পর্ব – ৫

Deal of the Century or the Crusade of the Century (Episode 5)

للشيخ أيمن الظواهري – حفظه الله
শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ
By Sheikh Ayman al-Zawahiri (May Allah Protect Him)

 

 

 

 

 

 

للمشاهدة المباشرة والتحميل
সরাসরি দেখুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Viewing and Downloading

লিংক-১ : https://justpaste.it/sotabdir_cukti-5
লিংক-২ : https://mediagram.me/b841806faf460035
লিংক-৩ : https://noteshare.id/oWggKRB
লিংক-৪ : https://web.archive.org/web/20221230144936/https://justpaste.it/sotabdir_cukti-5
লিংক-৫ : https://web.archive.org/web/20221230145035/https://mediagram.me/b841806faf460035
লিংক-৬ : https://web.archive.org/web/20221230145214/https://noteshare.id/oWggKRB

روابط الجودة الاصلية
FULL HD 1080 (578.2 MB)
মূল রেজুলেশন [৫৭৮.২ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/nzCFN3N7YDzEQdn
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/sotabdir%20cukti%205.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pag1878e7739e2d403db142cc719d7623af
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=d2y2w4m0b0
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/b03aba74-1d36-4236-ac55-48740b18427b/b64085b8ce3d6fd0fcdf7a680d3707fcc6c89087a6dc55563bf6bf9dfc7217d1

روابط الجودة العالية
HQ 1080 (206.3 MB)
১০৮০ রেজুলেশন [২০৬.৩ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/DCoS8ALX3JQZe3m
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/sotabdir%20cukti%205%20-%201080.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pagc2faf94860984c5d84927155aa88ea2c
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=q0l6o7h9t9
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/c41c6646-f183-452f-8655-06c2134d4f07/845315ca58b3687f3ef12026d61e1750cf5c1daea237a1b454dee10bfd3b4e21

روابط الجودة المتوسطة
MQ 720 (115.7 MB)
৭২০ রেজুলেশন [১১৫.৭ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/WogbXmAm2c8sqCZ
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/sotabdir%20cukti%205%20-%201080.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pagbdb9ee6ab1f04cf0a38d37d28d927bb7
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=u8c3g1b8g0

روابط الجودة المنخفضة
LQ 360 (50.7 MB)
৩৬০ রেজুলেশন [৫০.৭ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/Xw962RGWQCCckY3
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/sotabdir%20cukti%205%20-%20360.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pag2b5dfc2e64e741f88741384e0b522a8c
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=g6g2j3a4j9
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/2a0cd1ba-104a-4a4c-a2cb-412b8b339967/06c2ef4f7cd0b041f1ed143cec0be3ceb186223ed9ed1809662e31bba0155199

روابط جودة الجوال
Mobile Qoality (50 MB)
3GP রেজুলেশন [৫০ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/fcqnMyjmsS6LYg5
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/sotabdir%20cukti%205.3gp
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pagfa7118d205054e9e92204964a74805ff
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=z1l5a0e4e1
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/53ed9b02-f33b-47d1-a9bd-2c29913ac1ff/d1e4a521ea34df8ffb56c7b0abfb75c24e23e309891a2b73f4a02704a9eeaab9

روابط بي دي اب
PDF (712 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৭১২ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/pay6qCLLgwjRcEJ
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/Sotabdir%20Chukti%20-%205%20.pdf
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pagc8597b7426ac4d70bea79361116fb9eb
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=z1e9e7q6i6
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/2bd8555b-ac83-42c8-a077-25be30c87001/7cc0ff679769daafd4248b968f6ed3687a6d63d29932454452111e3ca504fc1b

روابط ورد
Word [555 KB]
ওয়ার্ড [৫৫৫ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/ZrYJNwqxKdcEdGb
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/Sotabdir%20Chukti%20-%205%20.docx
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pageb0273212da7410d8d269fa996d11b34
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=v3y5p8a4u0
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/76d17619-6149-4888-8e6e-bfdd0ddc50f0/ac0551e4b36bbca0f76936923e5ef6f4b9c4dfe3d98778021efd7db5747ff941

روابط الغلاف- ١
Book cover [407 KB]
বুক কভার ডাউনলোড করুন [৪০৭ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/TeWGNKDB52Gc7qQ
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/Sotabdir%20Chukti%20-%205%20Cover.jpg
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pag5a7d3a328dd94ecaa0711ecd65b00dc1
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=y5s8d8q9i2
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/ab86ad51-43bd-4364-ab5b-b22ca39bb1de/4b4b2077fdd892aa2cadfea3930d80687cb338af72f08738fdd27db0dab2fd03

 

روابط الغلاف-٢
Banner [173 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [১৭৩ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/357Gyz7ectR6xYr
লিংক-২ : https://archive.org/download/sotabdir-cukti-5/Sotabdir%20Chukti%20-%205%20Banner.jpg
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/d2pag7dd6f2bb6a4440afb7ace01c6dcb7259
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=n5h1j7f2z3
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/814067df-151b-4cb0-9049-bd71a8e7db5f/11e582163d6b17b22bffc2ee0fbd7fc862182673e757186b65743e9d83b65206

 

 

*******

শতাব্দীর চুক্তি

নাকি

বহু শতাব্দীর ক্রুসেড?

পর্ব০৫

শাইখ আইমান আযযাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ

 

بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه

সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার পরিবার, সাহাবায়ে কেরাম এবং তার সকল ‍অনুসারীদের উপর।

সমগ্র পৃথিবীর মুসলিম ভাই ও বোনেরা!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

এটি “শতাব্দীর চুক্তি নাকি বহু শতাব্দীর ক্রুসেড” সিরিজের পঞ্চম পর্ব। পূর্ববর্তী চারটি পর্বে আমি সংক্ষিপ্তভাবে ইসলাম ও ক্রুসেডের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কতিপয় প্রধান দিক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমি ক্রুসেডারদের মোকাবেলা করার সম্ভাব্য কিছু পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি আরও উল্লেখ করেছিলাম যে, বুঝার সুবিধার্থে এই আলোচনাকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হবে।

প্রথমত: দাওয়াত ও সচেতনতার জিহাদ।

দ্বিতীয়ত: প্রতিরোধ জিহাদ এবং শত্রুকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জিহাদ।

আমি ‘দাওয়াত ও সচেতনতার জিহাদ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি আরও উল্লেখ করেছিলাম, যেহেতু এই আলোচনাটি বেশ বড় তাই বিষয়টিকে সংক্ষিপ্ত ও সহজ করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি পয়েন্টের ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে। আমরা ধারাবাহিক ভাবে নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোর উপর আলোকপাত করব ইনশা আল্লাহ।

-সচেতনতা তৈরির জিহাদ

-উম্মাহর তরবিয়ত ঠিক করার জিহাদ

-দাওয়াতের লড়াই

-রাজনৈতিক জিহাদ

-(উম্মাহর) ঐক্যের গুরুত্ব

আমি ‘সচেতনতা তৈরির জিহাদ’ – এই পয়েন্টটি নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকে উম্মাহর তরবিয়ত ঠিক করার জিহাদ নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

উম্মাহর তরবিয়ত ঠিক করার জিহাদের মূল উদ্দেশ্য হল – চেষ্টা-সাধনা করে অল্পে তুষ্ট, আল্লাহ ওয়ালা ও বিনয়ী মুসলিমের একটি জামাত তৈরি করা। এরা নিজেদের সবকিছু এবং দুনিয়ার সকল সম্পর্ককে উৎসর্গ করে, আপন প্রতিপালকের সন্তুষ্টি তালাশ করবে। এই প্রকারের মুসলিমের ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে এবং তাদের মত অন্যান্যদেরকে শতাব্দীর ক্রুসেড এবং ইসলামের সকল শত্রুদের আক্রমণের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবেন।

ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ এর বর্ণনায় এসেছে:

فالأول‏:‏ عن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ “‏إن الله تعالى قال‏:‏ من عادى لي وليا فقد آذنته بالحرب‏.‏ وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضت عليه، وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها، وإن سألني أعطيته؛ ولئن استعاذني لأعيذنه‏”‏ ‏(‏‏‏رواه البخاري‏‏‏)‏‏.‏

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার কোন বন্ধুর সাথে শত্রুতা করবে, তার বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধের ঘোষণা রইল। আমার বান্দা যে সমস্ত জিনিস দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে আমার নিকট প্রিয়তম জিনিস হল তা – যা আমি তার উপর ফরয করেছি। (অর্থাৎ ফরয ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করা আমার নিকটে বেশী পছন্দনীয়।)

আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, পরিশেষে আমি তাকে ভালবাসতে শুরু করি। অতঃপর যখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার ঐ কান হয়ে যাই, যার দ্বারা সে শোনে, তার ঐ চোখ হয়ে যাই, যার দ্বারা সে দেখে, তার ঐ হাত হয়ে যাই, যার দ্বারা সে ধরে এবং তার ঐ পা হয়ে যাই, যার দ্বারা সে চলে! আর সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তাহলে আমি তাকে দেই এবং সে যদি আমার আশ্রয় চায় তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই।’’(সহীহুল বুখারী ৬৫০২)

অথচ পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই প্রকারের জিহাদ থেকে আমরা বিভিন্ন কারণে বিমুখ হয়ে আছি। এই জিহাদের কথা আমরা ভুলেই গেছি। আমি এই আলোচনায় এ বিষয়টির ভয়াবহতার বিষয়ে কিছু আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।

শুরুতেই বলতে চাই – আমি কোন নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো না। বরং সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আমি নিজেও নসিহত ও দিকনির্দেশনার মুখাপেক্ষী। যারা এই বক্তব্য দেখছেন কিংবা শুনছেন তাদেরকে, এই সমস্যা কেন হচ্ছে; তার সুস্পষ্ট উত্তর শোনার জন্য নিজেদের মনকে প্রশস্ত করতে হবে।

যদিও আমি সকল মুসলিমকে সম্বোধন করছি; তবুও আমি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই, মুসলিম উম্মাহর সেই সচেতন জামাতের প্রতি, যারা জাতির মন্দ অবস্থাকে পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখেন। এসব মন্দ ও খারাপ পরিস্থিতির কারণে আমাদের সকলের দম বন্ধ হয়ে আসছে।

প্রথমত বিশেষভাবে উম্মাহর অবস্থা নিয়ে চিন্তিত, সচেতন জামাতকে উদ্দেশ্য করে আমার এই আলোচনা। এরপর অন্যান্য সকল মুসলিমকে উদ্দেশ্য করে।

শুরুতে নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ উল্লেখ করা জরুরী মনে করছি যে, গত শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে থেকে আজ পর্যন্ত জিহাদ ইসলামী বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই উন্নতি অগ্রগতি সত্ত্বেও জিহাদের পথে এবং ইসলামী জাগরণের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি জীবিত বস্তুর যেমনি উন্নতি অগ্রগতি ঘটে তেমনি তার চলার পথে প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হয় এবং ভালো-মন্দ সবই ঘটে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা হল, তারবিয়্যাহর প্রতি আমাদের গুরুত্বহীনতা; যা ভয়ংকর সব সমস্যার জন্ম দেয়। আর আমি যদি বলি – চারিত্রিক সমস্যাই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা – তাহলে একটুও বাড়াবাড়ি হবে না। এটাই আমার ব্যক্তিগত মত ও বিশ্বাস ।

আমরা কল্যাণ-প্রয়োজন-জরুরত এবং দলীল দ্বারা প্রমাণিত – এজাতীয় বহু যুক্তি দিয়ে এসব অন্যায় করে যাই। আমরা আমাদের সেই সমস্যাগুলোর মাঝে এবং প্রবৃত্তির মাঝে এতটাই ডুবে থাকি যে, দুনিয়ার ভালোবাসার বিষয়ে কোরআনের সতর্কবাণী ভুলে যাই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন –

قال سبحانه وتعالى: وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٥٢﴾‏

“অর্থঃ আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিলে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।” (সুরা আল ইমরান ৩:152)

শুধু তাই না, দুনিয়ার মোহ মানুষকে কুফরের দিকে নিয়ে যায়। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন :

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿١٠٧﴾‏ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿١٠٨﴾‏

“অর্থঃ এটা এ জন্যে যে, তারা পার্থিব জীবনকে পরকালের চাইতে প্রিয় মনে করেছে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। (107) এরাই তারা, আল্লাহ তা’য়ালা এদেরই অন্তর, কর্ণ ও চক্ষুর উপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই কাণ্ড জ্ঞানহীন।” (সুরা আন নাহল ১৬:১০৭-১০৮)

আমাদের সমস্যা ও চারিত্রিক অধঃপতন সংক্রান্ত সেসব হাদিস আমরা ভুলে গেছি, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার ভালোবাসার শেষ পরিণতি সম্পর্কে এবং মনের লোভ-লালসার শেষ পরিণতি সম্পর্কে আমাদেরকে সতর্ক করেছেন এবং উত্তম চরিত্রের ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সূত্রে ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন,

وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عَرْعَرَةَ السَّامِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، – وَتَقَارَبَا فِي سِيَاقِ الْحَدِيثِ وَاللَّفْظُ لاِبْنِ حَاتِمٍ – قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا بَلَغَ أَبَا ذَرٍّ مَبْعَثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ قَالَ لأَخِيهِ ارْكَبْ إِلَى هَذَا الْوَادِي فَاعْلَمْ لِي عِلْمَ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ يَأْتِيهِ الْخَبَرُ مِنَ السَّمَاءِ فَاسْمَعْ مِنْ قَوْلِهِ ثُمَّ ائْتِنِي ‏.‏ فَانْطَلَقَ الآخَرُ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ وَسَمِعَ مِنْ قَوْلِهِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَبِي ذَرٍّ فَقَالَ رَأَيْتُهُ يَأْمُرُ بِمَكَارِمِ الأَخْلاَقِ وَكَلاَمًا مَا هُوَ بِالشِّعْرِ ‏.‏ فَقَالَ مَا شَفَيْتَنِي فِيمَا أَرَدْتُ ‏.‏ فَتَزَوَّدَ وَحَمَلَ شَنَّةً لَهُ فِيهَا مَاءٌ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فَأَتَى الْمَسْجِدَ فَالْتَمَسَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يَعْرِفُهُ وَكَرِهَ أَنْ يَسْأَلَ عَنْهُ حَتَّى أَدْرَكَهُ – يَعْنِي اللَّيْلَ – فَاضْطَجَعَ فَرَآهُ عَلِيٌّ فَعَرَفَ أَنَّهُ غَرِيبٌ فَلَمَّا رَآهُ تَبِعَهُ فَلَمْ يَسْأَلْ وَاحِدٌ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ عَنْ شَىْءٍ حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ احْتَمَلَ قُرَيْبَتَهُ وَزَادَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَظَلَّ ذَلِكَ الْيَوْمَ وَلاَ يَرَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَمْسَى فَعَادَ إِلَى مَضْجَعِهِ فَمَرَّ بِهِ عَلِيٌّ فَقَالَ مَا أَنَى لِلرَّجُلِ أَنْ يَعْلَمَ مَنْزِلَهُ فَأَقَامَهُ فَذَهَبَ بِهِ مَعَهُ وَلاَ يَسْأَلُ وَاحِدٌ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ عَنْ شَىْءٍ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ الثَّالِثِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ فَأَقَامَهُ عَلِيٌّ مَعَهُ ثُمَّ قَالَ لَهُ أَلاَ تُحَدِّثُنِي مَا الَّذِي أَقْدَمَكَ هَذَا الْبَلَدَ قَالَ إِنْ أَعْطَيْتَنِي عَهْدًا وَمِيثَاقًا لَتُرْشِدَنِّي فَعَلْتُ ‏.‏ فَفَعَلَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ فَإِنَّهُ حَقٌّ وَهُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَصْبَحْتَ فَاتَّبِعْنِي فَإِنِّي إِنْ رَأَيْتُ شَيْئًا أَخَافُ عَلَيْكَ قُمْتُ كَأَنِّي أُرِيقُ الْمَاءَ فَإِنْ مَضَيْتُ فَاتَّبِعْنِي حَتَّى تَدْخُلَ مَدْخَلِي ‏.‏ فَفَعَلَ فَانْطَلَقَ يَقْفُوهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَدَخَلَ مَعَهُ فَسَمِعَ مِنْ قَوْلِهِ وَأَسْلَمَ مَكَانَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ ارْجِعْ إِلَى قَوْمِكَ فَأَخْبِرْهُمْ حَتَّى يَأْتِيَكَ أَمْرِي ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَصْرُخَنَّ بِهَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ ‏.‏ فَخَرَجَ حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ وَثَارَ الْقَوْمُ فَضَرَبُوهُ حَتَّى أَضْجَعُوهُ فَأَتَى الْعَبَّاسُ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ فَقَالَ وَيْلَكُمْ أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ مِنْ غِفَارٍ وَأَنَّ طَرِيقَ تُجَّارِكُمْ إِلَى الشَّامِ عَلَيْهِمْ ‏.‏ فَأَنْقَذَهُ مِنْهُمْ ثُمَّ عَادَ مِنَ الْغَدِ بِمِثْلِهَا وَثَارُوا إِلَيْهِ فَضَرَبُوهُ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ الْعَبَّاسُ فَأَنْقَذَهُ ‏.‏

ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আর’আরা সামী ও মুহাম্মদ ইবনু হাতিম রহিমাহুল্লাহ … ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছে খবর পৌছল যে, মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে আরোহণ করে সেই (মক্কা) উপত্যকায় যাও এবং সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমাকে জানাও, যিনি দাবি করেন যে, আসমান থেকে তাঁর কাছে ওহী আসে। তাঁর কথা ভাল করে শুনবে এবং তারপর তুমি আমার কাছে আসবে। তখন অপর ব্যক্তি (তার ভাই) রওনা হয়ে মক্কা এলো এবং তার কথা শুনল।

তারপর সে আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে ফিরে এলো এবং সে বলল, আমি তাঁকে লক্ষ্য করেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের নির্দেশ দেন এবং এমন বাণী শোনান, যা কবিতা নয়। (মুসলিম – ৬১৩৮)

তেমনি মাসরুকের সূত্রে ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন,

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو يُحَدِّثُنَا إِذْ قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا وَلاَ مُتَفَحِّشًا، وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلاَقًا ‏”‏‏.‏

উমর ইবনু হাফস রহিমাহুল্লাহ … মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমরা আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট বসাছিলাম। তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বভাবত অশালীন ছিলেন না এবং তিনি ইচ্ছা করেও কাউকে অশালীন কথা বলতেন না। তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে যার স্বভাব-চরিত্র ভাল সেই তোমাদের মধ্যে সব চাইতে উত্তম। (বুখারি ৫৬০৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন,

وَعَنِ ابنِ مَسعُود رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتالُهُ كُفْرٌ». متفق عَلَيْهِ

ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী (আল্লাহর অবাধ্যাচরণ) এবং তার সাথে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি”। (সহীহুল বুখারী ৬০৪৫, ৭০৭৬, মুসলিম ৬৪, তিরমিযী ১৯৮৩)

তেমনি বুখারী রহিমাহুল্লাহ আবু যার গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন,

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْمُرَ، أَنَّ أَبَا الْأَسْوَدِ الدِّيلِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلًا بِالْفُسُوقِ، وَلَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ، إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ»

আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে যেন পাপাচারী বা কাফের বলে অভিহিত না করে। বাস্তবে সেই ব্যক্তি তদ্রুপ না হলে উক্ত অপবাদ অপবাদ দানকারীর উপর পতিত হয় (আদাবুল মুফরাদ – ২০২)

وَعَنْ أَبِي عَبَّاسٍ سَهلِ بنِ سَعدٍ السَّاعِدِيِّ رضي الله عنه، قَالَ : مَرَّ رَجُلٌ عَلَى النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لِرَجُلٍ عِنْدَهُ جَالِسٌ: «مَا رَأيُكَ في هَذَا ؟»، فَقَالَ : رَجُلٌ مِنْ أشْرَافِ النَّاسِ، هَذَا واللهِ حَرِيٌّ إنْ خَطَبَ أنْ يُنْكَحَ، وَإنْ شَفَعَ أنْ يُشَفَّعَ . فَسَكَتَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ مَرَّ رَجُلٌ آخَرُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «مَا رَأيُكَ في هَذَا ؟»فَقَالَ : يَا رَسُولَ الله، هَذَا رَجُلٌ مِنْ فُقَراءِ المُسْلِمِينَ، هَذَا حَرِيٌّ إنْ خَطَبَ أنْ لا يُنْكَحَ، وَإنْ شَفَعَ أنْ لاَ يُشَفَّعَ، وَإنْ قَالَ أنْ لاَ يُسْمَعَ لِقَولِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «هَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلءِ الأرْضِ مِثْلَ هَذَا». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আবূ আব্বাস সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ সায়েদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পাশ দিয়ে পার হয়ে গেল, তখন তিনি তাঁর নিকট উপবিষ্ট একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার মন্তব্য কী?’’ সে বলল, ‘এ ব্যক্তি তো এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক। আল্লাহর কসম! সে কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এবং কারও জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যে আর এক ব্যক্তি পার হয়ে গেল। তিনি ঐ (উপবিষ্ট) লোকটিকে বললেন, ‘‘এ লোকটির ব্যাপারে তোমার অভিমত কী?’’ সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ তো একজন দরিদ্র মুসলিম। সে এমন ব্যক্তি যে, সে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, কারও জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে না এবং সে কোনো কথা বললে, তার কথা শ্রবণযোগ্য হবে না।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘এ ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ লোকদের চাইতে বহু উত্তম।’’ (সহীহুল বুখারী ৫০৯১, ৬৪৪৭ ইবনু মাজাহ ৪১২০)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,

وَزَادَنَا عَمْرٌو قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَعِسَ عَبْدُ الدِّيْنَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْخَمِيْصَةِ إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ تَعِسَ وَانْتَكَسَ وَإِذَا شِيكَ فَلَا انْتَقَشَ طُوْبَى لِعَبْدٍ آخِذٍ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ أَشْعَثَ رَأْسُهُ مُغْبَرَّةٍ قَدَمَاهُ إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ وَإِنْ كَانَ فِي السَّاقَةِ كَانَ فِي السَّاقَةِ إِنْ اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يُشَفَّعْ

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লাঞ্ছিত হোক দীনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম এবং শালের গোলাম। তাকে দেয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। এরা লাঞ্ছিত হোক, অপমানিত হোক। (তাদের পায়ে) কাঁটা বিদ্ধ হলে তা কেউ তুলে দিবে না। ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে ঘোড়ার লাগাম ধরে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যার চুল উস্কো খুস্কু এবং পা ধূলি মলিন। তাকে পাহারায় নিয়োজিত করলে পাহারায় থাকে আর (দলের) পেছনে পেছনে রাখলে পেছনেই থাকে। সে কারও সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় না এবং কোন বিষয়ে সুপারিশ করলে তার সুপারিশ কবুল করা হয় না। (সহীহুল বুখারী ২৮৮৭)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

وَعَن كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلاَ فِي غَنَمٍ بِأفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ المَرْءِ عَلَى المَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينهِ». رواه الترمذي، وقال:حديث حسن صحيح»

কা‘ব ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘ছাগলের পালে দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছেড়ে দিলে ছাগলের যতটা ক্ষতি করে, তার চেয়ে মানুষের সম্পদ ও সম্মানের প্রতি লোভ-লালসা তার দ্বীনের জন্য বেশী ক্ষতিকারক”। (তিরমিযী ২৩৭৬, আহমাদ ১৫৩৫৭, ১৫৩৬৭, দারেমী ২৭৩০)

আবু বকর আব্দুল্লাহ আল মুযানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু অধিক পরিমাণে নামাজ আদায় করার কারণে ও অধিক পরিমাণে রোজা রাখার কারণে কাউকে প্রাধান্য দিতেন না। বরং তিনি কলবের অবস্থার ভিত্তিতে মানুষকে প্রাধান্য দিতেন। আহমদ শাওকী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা করতে গিয়ে মুসলিমদের অবস্থা তুলে ধরেন,

بنيت لهم من الأخلاق ركنا * فخانوا الركن فانهدم اضطرابا

فلولاها لساوى الليث ذئبا * وساوى الصارم الماضي قرابا

فإن قرنت مكارمها بعلم * تذللت العلا بهما صعابا

অর্থ:

আপনি তাদের জন্য উত্তম মর্যাদার একটি খুঁটি স্থাপন করে গেছেন; কিন্তু তারা সেই খুঁটির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ফলে সেই খুঁটিটি ধ্বসে গেছে।

মর্যাদার এই খুঁটিটি না থাকলে সিংহ আর নেকড়ে সমান হয়ে যেতো; এবং এক হয়ে যেতো প্রচণ্ড ধারালো অস্ত্র আর মশক।

আর এই মর্যাদার খুঁটির সাথে যদি তুমি জ্ঞানকেও যুক্ত করতে পারো, তাহলে তো দুইয়ের মিলনে কণ্টকাকীর্ণ দুর্গম পথও সহজ হয়ে যাবে।

বাস্তবেই আখলাক না থাকলে সিংহ নেকড়েতে পরিণত হয়। তাইতো আমরা নেতা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের চাদরে আবৃত আমাদের মাঝে অনেক নেকড়ে দেখতে পাই। যারা ভালো-মন্দের মাঝে মিশ্রণ ঘটায়। তারচেয়েও ভয়ংকর হচ্ছে, তারা তাদের অনুসারীদেরকে হারামে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করছে এবং তাদেরকে হারামে অভ্যস্ত করে তুলছে। এভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের পতনের কারণ হয়। উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রাজা-বাদশাদের কথা বলা যায়। এরাই আন্দালুসের ভয়াবহ দুর্যোগের অগ্রদূত ও মহানায়ক ছিলেন।

এরসাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের উচিৎ, তাদের মুরুব্বীদের থেকে নির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করা। না হলে আমাদের মাঝে যোগ্য আদর্শবান ব্যক্তির সংকট দেখা দিবে। আমিও আমাকে পুত পবিত্র দাবি করছি না। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।

এই ভয়ংকর বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করার জন্য আমি চারিত্রিক অধঃপতনের কিছু নমুনা তুলে ধরছি, যা আমাদের মাঝে ইসলামী শিরোনামে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইলে হয়তো এই উদাহরণগুলোই সামনে উঠে আসবে :

– চারিত্রিক অধঃপতনের একটি উদাহরণ হচ্ছে, গণিমত মনে করে ধোঁকায় পড়ে শরীয়তের হাকেমিয়্যাত এর বিধান তরক করা (ভোটাভুটির মাধ্যমে সংসদে যোগ দেয়া) এবং এই বিষয়টি অন্যদের কাছেও সুন্দর করে উপস্থাপন করা। এর ফলে, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের ভিত্তিতে ইসলামী দলগুলোর গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার মতো হাস্যকর ঘটনা ঘটে। আমার তো মনে হচ্ছে, তারা সুযোগ পেলেই হাস্যকর এই ঘটনা বারবার ঘটাতে থাকবে, যদিওবা এই আদর্শ হাজারো দুর্যোগ-বিপর্যয় ডেকে আনে। এখানে কম বোঝাটা কিংবা দলীলের প্রতি আস্থা তৈরি না হওয়া মূলত কোন সমস্যা না। বরং সমস্যা হচ্ছে – প্রত্যেকের নিজের কমতি ও আদর্শগত দুর্বলতা।

– চারিত্রিক অধঃপতনের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, জাহিলি জাতীয়তা (ফেরআউনিয়্যাত) নিয়ে গর্ব করা। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, অনেকেই ইসলামের নাম ব্যবহার করে এই আচরণকে ইসলামী আচরণ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত গর্ব করে যে: তারা একটি দেশের নাগরিক এবং তাদের মাঝে এবং দেশের অন্যান্য নাগরিকের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। চাই সে যেকোনো ধর্মের হোক না কেন, তার আদর্শ যেমনিই হোক না কেন। শুধু তাই নয় তাদের কেউ কেউ তো গাইতে থাকে:

أنا مصري بناني من بنى * هرم الدهر الذي أعيا الفنا

অর্থ: আমি মিশরীয়, মিশরের মাটি আমাকে জন্ম দিয়েছে, যেমন জন্ম দিয়েছে যুগের শিল্প-শ্রেষ্ঠ পিরামিডগুলোকে।

এমন নিকৃষ্ট ব্যর্থতা থেকে আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। কুফরের, শিরকের যায়গাকে, মানুষের কাছে মানুষের মাথা নত করাকে, একে অন্যের দাসত্ব করাকে, একে অন্যকে বশীভূত করাকে এবং অপদস্থ করাকে তারা গর্বের বিষয় বানিয়ে নিয়েছে এবং উন্নতি-অগ্রগতির পথ বানিয়ে নিয়েছে !।

যে পিরামিড বানিয়েছে সে আমাকে সৃষ্টি করেনি বরং আল্লাহর অনুগ্রহে আমি মুসলিম! আলহামদুলিল্লাহ! আমি ইসলামের সম্মান নিয়ে, দ্বীনের সম্মান নিয়ে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে আমার হেদায়েতের সম্মান নিয়ে গর্ববোধ করি। মানুষের সম্মান খর্বকারী, মানবজাতির অবমাননাকারী, কুফুরি-শিরকী-তাগুতী-ফেরআউনী সভ্যতা নিয়ে কখনো গর্ব করি না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

طسم ﴿١﴾‏ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ ﴿٢﴾‏ نَتْلُو عَلَيْكَ مِن نَّبَإِ مُوسَىٰ وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٣﴾‏ إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِّنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَاءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ ۚ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ ﴿٤﴾‏ وَنُرِيدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ ﴿٥﴾‏ وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُم مَّا كَانُوا يَحْذَرُونَ ﴿٦﴾‏

“অর্থ: ত্বা-সীন-মীম। (1) এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। (2) আমি আপনার কাছে মূসা ও ফেরাউনের বৃত্তান্ত সত্য সহকারে বর্ণনা করছি ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে। (3) ফেরাউন তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দুর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল অনর্থ সৃষ্টিকারী। (4) দেশে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল, আমার ইচ্ছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে দেশের উত্তরাধিকারী করার। (5) এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য-বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দুর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত”। (সুরা কাসাস ২৮: 1-6)

আলহামদুলিল্লাহ ইসলাম আমাকে শিখিয়েছে, যেন আমি শিরক ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে এবং অহংকার ও অহংকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করি। সেইসাথে তাওহীদ ও তাওহীদপন্থীদের সাথে ইনসাফ ও মাজলুমদেরকে সাহায্য করি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ۗ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم ۚ مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ

“অর্থ: তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী”। (সুরা আল ইমরান ৩:110)

– চারিত্রিক অধঃপতনের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে : দ্বীনকে গনিমত মনে করা। এর সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ হচ্ছে। লম্ব লম্বা দাড়ি ও জুব্বা দ্বারা, বিভিন্ন আকিকা ও ওলিমার দ্বারা, বিভিন্ন উপার্জন ও গনিমতের দ্বারা, পাসপোর্ট-ভিসা ও গ্রিন কার্ডের দ্বারা এবং আকিদাগত কিছু মাসআলার মাধ্যমে করা সালাফিয়্যাতের ব্যবসা। এরা আলোচনার শীর্ষে থাকে। আর এরা গোয়েন্দাদের পালিত গোলাম।

– এই অধঃপতনের আরেকটি নমুনা হচ্ছে, তাকফিরের মাসআলাকে অবজ্ঞা করা, অন্যায়ভাবে রক্তপাত করা, শুধুমাত্র বিরোধিতার অভিযোগে বিরোধীকে কারাবন্দী করা এবং একচেটিয়া ক্ষমতার হুমকি দেয়া। বিরোধিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বা এজাতীয় অন্যান্য নিরর্থক অভিযোগ তুলে – এসব ভয়ংকর কাজ তারা করে থাকে। এভাবে আইন-প্রণেতাগণ নতুন নতুন অনেক অভিযোগ আবিষ্কার করতে থাকেন।

আরও একটি চারিত্রিক অধঃপতন হচ্ছে: মুসলিমদের সম্মানে আঘাত হানা, তাদেরকে কাফের বলা, তাদের রক্ত নিয়ে খেলা করা, তাদেরকে বন্দী করা, তাদের প্রতি জুলুম-নির্যাতন করা এবং মারাত্মকভাবে সর্বনাশ করা। উলামায়ে কেরাম তো বলেছেন: নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী কাফের রাষ্ট্রকে সাহায্য করেন কিন্তু জালেম মুসলিম রাষ্ট্রকে কখনো সাহায্য করেন না1। কেননা ইনসাফ হচ্ছে পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকে থাকা ও সভ্যতা অগ্রসর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। অপরদিকে জুলুম হচ্ছে, পৃথিবী টিকে থাকার পথে বড় হুমকি। আর বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতাই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

– চারিত্রিক অধঃপতনের একটি উদাহরণ হচ্ছে, কিছু সত্য বলা, আর অধিকাংশ সত্যকে গোপন করে রাখা। ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী সংগঠনের অধীনে কাজ করা। মানুষকে জবান ও হাত দ্বারা জিহাদ করতে বাধা দেয়া।

তারা যুদ্ধের ময়দানে হিজরত করতে বাধা দেয় এই অজুহাত দেখিয়ে যে, তারা তাদেরকে তাকফিরের জোয়ার থেকে রক্ষা করছে। অথচ তাদের দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেই নাস্তিকতা ঢুকে পড়েছে সেই নাস্তিকতার জোয়ার ঠেকাতে তাদের বাস্তবসম্মত কর্মকাণ্ড কোথায়?

কিছু নাস্তিকতার জন্য তাদের পাপিষ্ঠ শাসকেরাই উদ্বুদ্ধ করছে। আর কিছু নাস্তিকতার জন্য নির্বোধ শাসকদের বিশৃঙ্খল শাসনই দায়ী। মুনাফিক দাঈরা শাসকদের এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। তাদের ধারণা, এইসব নির্বোধদের আনুগত্য করা মৌলিক আকীদা-বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। হলুদ মিডিয়ার প্রচারণায়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার ফলে নাস্তিকতার জোয়ার বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের উপর বলপ্রয়োগ করা, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন সহ ধর্মের নামে তাদের সম্মান ও অধিকারের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা, এইসব অন্যায়ের প্রতিবাদে তারা এখন কোথায়?

চারিত্রিক অধঃপতনের একটি উদাহরণ: বাইআত ও বাইআতের পর শরিয়ত সমর্থিত সকল কাজের ক্ষেত্রে আমীরের কথা শুনা ও মান্য করাকে – জরুরি মনে না করা। আপনি দেখবেন, কেউ কেউ আমীরকে বলে, এই এই শর্তে আমি আপনার কথা শুনবো, আপনি অন্যকে আমীর বানালে আপনার কথা শুনবো না। আপনি যদি আমাকে এমন এমন দেন তাহলে আমি আপনার কথা শুনবো। না হয় কখনো আপনার কথা শুনবো না।

আমরা যদি আমীরের কথা না শুনি, তার আনুগত্য না করি, তাহলে কিভাবে আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের প্রত্যাশা করি! অথচ সাহায্যের অন্যতম শর্ত হচ্ছে – আমীরের কথা শুনা ও আনুগত্য করা। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٤٥﴾‏ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿٤٦﴾‏

“অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার। (45) আর আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা রয়েছেন ধৈর্যশীলদের সাথে”। (সুরা আনফাল ৮:৪৫-৪৬)

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: عَلَى المَرْءِ الْمُسْلِمِ السَّمْعُ والطَّاعَةُ فِيمَا أحَبَّ وكَرِهَ، إِلاَّ أنْ يُؤْمَرَ بِمَعْصِيةٍ، فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ . متفقٌ عَلَيْهِ

ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘মুসলিমের জন্য (তার শাসকদের) কথা শোনা ও মানা ফরয, সে কথা পছন্দ লাগুক অথবা অপছন্দ লাগুক; যতক্ষণ না তাকে পাপকাজের নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর যখন তাকে পাপকাজের আদেশ দেওয়া হবে তখন তার কথা শোনা ও মানা ফরয নয়।’’ (সহীহুল বুখারী ২৯৫৫, ৭১৪৪, মুসলিম ১৮৩৯, ২৭৩৫, তিরমিযী ১৭০৭)

কীভাবে আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করি, অথচ আমীরের হাতে বাইয়াতকে এবং চুক্তিকে আমরা গুরুত্বহীন মনে করি। একারণে অনেক সময় চুক্তি ও বাইয়াত একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়। ফলে অনেকেই দুঃসাহস দেখিয়ে প্রকাশ্যে বলে, ‘অনেক আগেই বাইয়াত শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি জনসম্মুখে বলবো যে, আমি অনেক আগেই চুক্তি ভঙ্গ করেছি এবং বাইয়াত প্রত্যাখ্যান করেছি।

এরপর সে আমীরকে লক্ষ্য করে বলে, ‘তুমি তো কাফের হয়ে গেছ, কেননা তুমি তাগুতকে অস্বীকার করছো না। আর তোমার এবং তোমার সাথীদের অবস্থা হচ্ছে বেশ্যা নারীর মত, যে নাকি পুত পবিত্রতার দাবি করে।

তুমি একটা নির্বোধ। বাইয়াত দিয়েছিলাম নির্দিষ্ট স্থান-কাল-পরিস্থিতির কারণে; আর এখন এর চেয়ে লাভজনক দুনিয়ার দ্বার আমার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। আগে আমি প্রকাশ্যে বাইয়াত করেছি; এখন তা প্রত্যাখ্যান করছি। আর তাছাড়া বাইয়াতটি ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটের কারণে। আর এখন আমি এই বাইয়াত থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছি’।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٥٢﴾‏

“অর্থ: আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল”। (সুরা আল ইমরান ৩:১৫২)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَنفَالِ ۖ قُلِ الْأَنفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ ۖ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١﴾‏

“অর্থ: আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনিমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক”। (সুরা আনফাল ৮:1)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:

وَلَا تَتَّخِذُوا أَيْمَانَكُمْ دَخَلًا بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُوا السُّوءَ بِمَا صَدَدتُّمْ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۖ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٩٤﴾‏ وَلَا تَشْتَرُوا بِعَهْدِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۚ إِنَّمَا عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٩٥﴾‏

“অর্থ: তোমরা স্বীয় কসমসমূহকে পারস্পরিক কলহ দ্বন্দ্বের বাহানা করো না। তা হলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা ফসকে যাবে এবং তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে এ কারণে যে, তোমরা আমার পথে বাধা দান করেছ এবং তোমাদের কঠোর শাস্তি হবে। (94) তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে যা আছে, তা উত্তম তোমাদের জন্যে, যদি তোমরা জ্ঞানী হও।” (সুরা নাহল 16:৯৪-৯৫)

عن أبي نجيح العرباض بن سارية رضي الله عنه قال‏:‏ ‏”‏وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة بليغة وجلت منها القلوب وذرفت منها العيون، فقلنا‏:‏ يا رسول الله كأنها موعظة مودع فأوصنا‏.‏ قال‏:‏ ‏”‏أوصيكم بتقوى الله ، والسمع والطاعة وإن تأمر عليكم عبد حبشي، وإنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً‏.‏ فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل بدعة ضلالة‏”‏ ‏(‏‏‏رواه أبو داود، والترمذي وقال ‏:‏ حديث حسن صحيح‏‏‏)‏‏.‏

আবূ নাজীহ আল-ইরবাদ ইবনু সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এমন মর্মস্পর্শী বক্তৃতা শুনালেন যে, তাতে অন্তর ভীত হল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে গেল। সুতরাং আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ যেন বিদায়ী ভাষণ মনে হচ্ছে। তাই আপনি আমাদেরকে অন্তিম উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, ‘‘আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (রাষ্ট্রনেতার) কথা শোনার ও তার আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি; যদিও তোমাদের উপর কোন নিগ্রো (আফ্রিকার কৃষ্ণকায় অধিবাসী) রাষ্ট্রনেতা হয়। (স্মরণ রাখ) তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবুত করে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদ‘আত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা।’’ (আবূ দাউদ ৪৬০৭, দারেমী ৯৫)

وعَنِ ابنِ مَسعودٍ، وَابنِ عُمَرَ، وَأَنَسٍ – رَضِيَ الله عَنهُم – قَالُوا : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «لِكُلِّ غادِرٍ لِواءٌ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ : هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنٍ» . متفق عَلَيْهِ

ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তাঁরা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে (বিশেষ) পতাকা নির্দিষ্ট হবে। বলা হবে যে, এটা অমুক ব্যক্তির (বিশ্বাসঘাতকতার) প্রতীক।’’ (সহীহুল বুখারী ৩১৮৬, মুসলিম ১৭৩৬)

وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيّ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يومَ القِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدَرِ غَدْرِهِ، أَلاَ وَلاَ غَادِرَ أَعْظَمُ غَدْراً مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ» . رواه مسلم

আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের পাছায় একটা পতাকা থাকবে, যাকে তার বিশ্বাসঘাতকতা অনুপাতে উঁচু করা হবে। জেনে রেখো! রাষ্ট্রনায়কের (বিশ্বাসঘাতক হলে তার) চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর অন্য কেউ হতে পারে না।’’ (মুসলিম ১৭৩৮, তিরমিযী ২১৯১)

এটা পরম বাস্তবতা যে, আমরা একতাবদ্ধ হলে, আমীরের কথাকে (যতক্ষণ শরিয়তের খেলাফ না হয় ততক্ষণ) মনে প্রাণে গ্রহণ করে নিলে; অবশ্যই আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করবেন। শত্রুদেরকে পরাজয় দিবেন। আর আমরা যদি মনের লোভ লালসা, প্রবৃত্তির চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে চলতে থাকি এবং আনুগত্যের ওয়াদা ভঙ্গ করি তাহলে আমরা সব জায়গায় পরাজয় বরণ করবো। শত্রুরা আমাদের উপর কর্তৃত্ব লাভ করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿٤٦﴾‏

“অর্থঃ আর আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা রয়েছেন ধৈর্যশীলদের সাথে”। (সুরা আনফাল 8:৪৬)

আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক বিচ্যুতির একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত হল: ফাসেক ফুজ্জাররা ক্ষমতার আসনে সমাসীন হওয়া, অথচ তারা চরম নিকৃষ্ট ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত। এমন জাতি কিভাবে বিজয় লাভ করবে যাদের নেতৃত্বে রয়েছে নিকৃষ্ট ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা? ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ উম্মুল মুমিনীন যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন: তিনি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন; আমরা কি ধ্বংস হবো যদি আমাদের মাঝে কোন সৎ ব্যক্তি থাকে? তিনি বললেন; হ্যাঁ, যখন অসৎ ব্যক্তির সংখ্যা সৎ ব্যক্তির চেয়ে অধিক হবে2

এমন জাতি কিভাবে বিজয় লাভ করবে যাদের মধ্যে ক্ষমতার লালসা ঢুকে পড়েছে? তাই শত্রুরা এটাকে পুঁজি করে ধীরে ধীরে আমাদেরকে তাদের অধীন করে নিচ্ছে; ষড়যন্ত্রের জালে শিকার করে নিচ্ছে। কখনো কখনো বিভিন্ন বাতিল ও চক্রান্তকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের বাহ্যিক অভিনয় করা হয়, যেকোনো ছোট্ট ছেলেও সেটি অনুধাবন করতে পারবে। কিন্তু আমরা তাতে আটকে যাই। যেমন, কোন সাথীর কাছে সংবাদ আসলো যে, অমুক প্রসিদ্ধ ব্যক্তি বা অমুক প্রসিদ্ধ সংগঠন আপনার সাথে বিশেষ সম্পর্ক করতে চায়, আপনাকে বিশ্বাস করে, আপনার কাছে দূত পাঠাতে চায়। তখন সে আত্মগর্বে নিমজ্জিত হয়, আর নিজ ভাই ও আমীরকে না জানিয়ে সম্পদ ও স্বাধীনতার লোভে গোপনে তাদের সাথে সাক্ষাত করে। তখন তারা এই গাদ্দারের জন্য সম্পদের পরিবর্তে মিসাইল পাঠায়।

আমরা আমীরের আনুগত্য করি না। চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি না। নিজেকে প্রাধান্য দেই। অন্যকে প্রাধান্য দেই না। নিজের উপর অন্যকে প্রাধান্য দানের কয়েকটি সুন্দর দৃষ্টান্ত পেশ করা হল।

১. এই ঘটনাটি আমার স্বচক্ষে দেখা। একদা ওমর আব্দুর রহমান সহ আরও কয়েকজন মর্দে মুজাহিদ ভাই মিশরের কোন একটি কারাগারে বন্দি হন। সরকার তাদের ব্যাপারে ফাঁসির নির্দেশ দিলেন। মর্দে মুজাহিদ ওমর আব্দুর রহমান জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে তার সাথীদের জীবন রক্ষার্থে বিচারকের সামনে মিশরের কুফুরি বিচারব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরার ইচ্ছা করেন।

তখন আমি তাকে বললাম, ‘আপনি এটা করবেন না। এই ক্ষেত্রে আপনারা আইনগত বাধার সম্মুখীন হবেন’। আর তার উকিলরাও এই ক্ষেত্রে তাকে বার বার নিষেধ করেছিল। তিনি বললেন, ‘আমার সাথীদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে রক্ষা করতে আমার এই অবদান তো অনেক হীন মনে করি’। অতঃপর তিনি শরীয়তের আলোকে মিশরের কুফুরি শাসনব্যবস্থা প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন। তিনি তাদেরকে বলে দিলেন; আপনারা মুসলমান, শরীয়তের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করুন। অন্যথায় আপনারা কাফের, জালেম, ফাসেক হয়ে যাবেন। মুসলিমের বিরুদ্ধে এই জালেম শাসককে সাহায্য করলে কী পরিণতি হবে সেবিষয়েও তাদেরকে সতর্ক করলেন।

শাইখ ওমর আব্দুর রহমান রহিমাহুল্লাহ এর বক্তব্যে তারা অনুতপ্ত হয়ে তাদের সবাইকে কারাগার হতে মুক্তি দিল। তাদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়নি। এমনকি তাকেও মুক্তি দেয়া হয়েছিলো। আর আমি মনে করি এটি তার ইখলাসের ফল। আর তিনি ছিলেন দ্বীনের ক্ষেত্রে পাহাড়ের মতো অনড় ও অবিচল। তবে অত্যন্ত আফসোসের বিষয় হল, একদল ভাই শাইখ ওমরকে কারারুদ্ধ অবস্থায় সাহস যুগিয়েছিল যে, আপনি তাদের সামনে শরীয়তের বিধান স্পষ্ট করুন। হয়তো তারা আপনাকে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু আপনি তো শহীদ। তাদের অনেকেই পরবর্তীতে জিহাদ বিমুখ হয়ে এটাকে উগ্রতা বলতে থাকে, (তাদের মতে) যা শুধু উম্মাহর ক্ষতি সাধন করেছে।

আবার কেউ কেউ মন মানসিকতা পরিবর্তন করে ইসলামের সরল পথ থেকে সরে ধর্মনিরপেক্ষতায় যোগ দেন। বরং তাদের কেউ কেউ তো আমীরের আনুগত্য থেকে বের হয়ে বিভ্রান্ত মানুষের কথা শুনে নতুন আমীর নিযুক্ত করে। পরিশেষে এর ফলাফল মন্দ ছিল।।

এদের এত বড় বড় ইলমী ব্যক্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও চিন্তার পরিবর্তন ও হীনমন্যতার কারণে ইসলামের সরল পথ থেকে, শাইখ ওমরের বাতলানো পথ থেকে সরে গিয়েছিল। অথচ তারা তাদেরকে শাইখের শিষ্য বলে দাবি করতো।

তবে শাইখ ওমর, শাইখ রিফাই, ত্বহা সহ তাদের আরও তিনজন সাথীকে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের উপর অবিচলতা দান করেছেন। এরা পরিশেষে আমেরিকার হাতে শহিদ হন।

শাইখ ওমর আব্দুর রহমানের কীর্তি ও স্মৃতি:

তিনি জীবনে মরণে অন্যদের জন্য ছিলেন একটি আদর্শ। তার মৃত্যুতে সাথীবর্গের মন ভেঙ্গে পড়ে, শোকাহত হয়েছিলো সবাই। যেসকল কাফের জুলুমের বিপক্ষে ছিলো তারাও তার মৃত্যুতে শোকাহত ছিলো। এমনকি তার পক্ষ নেয়ায় একজন অমুসলিমকে সাত বছর ধরে জেল খাটতে হয়েছে। তার নাম ‘লেন স্টুয়ার্ড3’। সে শাইখের বিষয়গুলো আদালতে স্পষ্ট করতে চেয়েছিল।

এখানে শাইখের মৃত্যুতে শোকাহত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করার মাকসাদ হল: শুধু বলার জন্য বলা নয়; বরং তাঁর শাহাদাতের পরে কেউ কেউ সংবাদ মাধ্যমে আমেরিকার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেছে এবং তার অনেক শিষ্য এই বলে প্রচার করেছিল যে, আমেরিকা যাকে অপছন্দ করে তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তার এই মুসিবতে তারা একজন মুমিন হয়েও তার প্রতি নূন্যতম দয়া ও শোক প্রকাশ করেনি। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ

“অর্থঃ আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক”। (সুরা তাওবা ৯:৭১)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴿١٢٨﴾‏

“অর্থঃ তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়”। (সুরা তাওবা ৯:১২৮)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:

مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ ۚ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ ۖ

“অর্থঃ মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল”। (সুরা ফাতহ ৪৮:২৯)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا ‏”‏‏.‏ وَشَبَّكَ أَصَابِعَهُ‏.‏

আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিন আরেকজন মু’মিনের জন্যে ইমারত স্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে থাকে। এ ব’লে তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন। (সহীহুল বুখারী – ৪৮১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:

وَعَنِ النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ : قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «مَثَلُ المُؤْمِنينَ في تَوَادِّهِمْ وتَرَاحُمِهمْ وَتَعَاطُفِهمْ، مَثَلُ الجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الجَسَدِ بِالسَّهَرِ والحُمَّى». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

নু’মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘মু’মিনদের একে অপরের প্রতি সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার উদাহরণ (একটি) দেহের মত। যখন দেহের কোন অঙ্গ পীড়িত হয়, তখন তার জন্য সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’’ (সহীহুল বুখারী ৬০১১, মুসলিম ২৫৮৬)

মুসলিমদের প্রতি মুসলিমের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা না থাকার এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বের কুফুরি শক্তির সামনে মুসলিমদেরকে হীন ও তুচ্ছ করে তুলবে। যা কোরআনের নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ কুরআন মাজিদের বর্ণনা অনুযায়ী মুজাহিদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হল, তারা মুমিনদের প্রতি হবে সহানুভূতিশীল কাফেরদের প্রতি হবে কঠোর।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٥٤﴾‏

“অর্থঃ হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।”। (সুরা মায়েদা ৫:৫৪)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন:

وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَٰكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ

“অর্থ: শক্তি তো আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদেরই কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না”। (সুরা মুনাফিকুন ৬৩:8)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে আদেশ করেছেন:

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٣٩﴾‏

“অর্থ: আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে।”। (সুরা আল ইমরান ৩:১৩৯)

যেখানে কাফেরদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা ও মুমিনদের প্রতি সদয় হওয়া দরকার ছিলো সেখানে আমরা যদি বড়ো বড়ো কাফেরদের ভয়ে অনুভূতি পর্যন্তও প্রকাশ করতে না পারি, তাহলে কিভাবে এই মর্মের বীজ আমরা মুসলিমদের মাঝে ও মুজাহিদদের মাঝে বপন করতে পারবো? সেই দ্বীনি গাইরত ও সম্মানবোধ কোথায় যা আমরা মুসলিম ও মুজাহিদ দের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছি?

প্রিয় শ্রোতা! আমি আপনাদের সামনে দুটি দৃশ্য তুলে ধরবো। যা পড়ে আপনি নিজেই তুলনা করতে পারবেন। শাইখ উমর ইবনে আব্দুর রহমানের বিষয়ে এইসব দরবারী আলেমদের অবস্থান ও শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ এর অবস্থান তুলে ধরবো। শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় উমর ইবনে আব্দুর রহমানের উপর চলে আসা জুলুমের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি এন বি সি (NBC) কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে -যা আমেরিকার জনগোষ্ঠীকে লক্ষ করে বলা হয়েছে- এই শাইখের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।

শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ বলেন:

মুসলিমদের প্রতি যেই জুলুম নির্যাতন করা হয়, তার দায়ভার আমেরিকাকে নিতে হবে। ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনকে সহায়তা করার দায়ভারও আমেরিকাকে নিতে হবে। ইসলামের বিভিন্ন প্রতীকের সাথে সীমালঙ্ঘন করার দায়ভারও আমেরিকাকে নিতে হবে। আমেরিকা নবীর ওয়ারিশদের প্রতি জুলুম নির্যাতন করে যাচ্ছে; যাদের একজন হলেন: শাইখ ওমর আব্দুর রহমান। তিনি বিজ্ঞ আলেমদের মধ্য হতে একজন, যারা প্রকাশ্যে বলিষ্ঠ কণ্ঠে সত্যের কথা বলে। দ্বীনের বিষয়ে কখনো শিথিলতা প্রদর্শন করেন না।

শুনেছি তিনি এখন অসুস্থ। তার বয়স ষাটেরও বেশি। তিনি অন্ধ হয়ে গেছেন। আমেরিকা তার সাথে দুর্ব্যবহার করে ইসলাম ধর্মের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করেছে এবং মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। শাইখ উমর ইবনে আব্দুর রহমানের মতো অন্যান্য আলেমকে বন্দী করার পিছনে আমেরিকার সরাসরি হাত রয়েছে।

শাইখ আইমান আল যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ বলেন:

শাইখ ওসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ মুসলিম উম্মাহর মাঝে সম্মান ও আত্মমর্যাদার বীজ বপন করেছেন। নিজের উপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়ার ক্ষেত্রে এবং আত্মমর্যাদার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য আদর্শ ও নমুনা। তাই তো তিনি তার সকল জান মাল খরচ করেছেন ইসলাম ও মুসলিমের স্বার্থে।

শাইখ ওসামা রহিমাহুল্লাহ ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে এমন আত্মমর্যাদাপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি সাথীবর্গের প্রতি ছিলেন কোমল, বিনয়ী। আমি একাধিক বার শাইখ রহিমাহুল্লাহ কে বলতে শুনেছি যে, যখন তার কোন সাথী তাকে কোন কারণে ভৎসর্ণা করতো তখন তিনি বলতেন; ভাই আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে ক্ষমা করুণ। শাইখ ওমর আব্দুর রহমানের বিষয়ে যেহেতু আমরা আলোচনা করলাম, সেহেতু তার কয়েকজন শিষ্যের কথাও উল্লেখ করবো, যারা আমেরিকার কারাগারে বন্দী আছেন। যেমন আহমদ আব্দুস সাত্তার, রমজী ইউসূফ, সৈয়দ নাছির, গোয়েন্তানামো কারাগারে বন্দী শাইখ খালেদ ও শাইখ সুলায়মান বুগীছ। আমরা তাদেরকে ভুলবো না। আল্লাহ তায়ালা এমন একটি দলকে প্রস্তুত করুন যারা এসব বন্দীদেরকে মুক্ত করবেন।

অন্য মুসলিমকে প্রাধান্য দেয়ার আরেকটি উপমা:

আমার সাথে শাইখ ইসাম আল কামারীর একটি ঘটনা। তখন তিনি পলাতক ও আত্মগোপনে ছিলেন। আমি দূরবর্তী রাস্তায় তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম। তাও ছিল অনেক কষ্টসাধ্য। এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও তিনি আমাকে বারংবার তাগিদ দিচ্ছিলেন; যেকোনো মূল্যেই আমাদের ভাইদের মুক্তির বন্দোবস্ত করতে হবে। যার একটি মুখ্যম সময় হল, যখন বন্দীদেরকে গোয়েন্দা অফিস থেকে আদালতে নেওয়া হবে। তাই এইজন্যে আমাদেরকে গাড়ি ও অস্ত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু যখন আমি বললাম যে, আমার কাছে শুধু বাবার গাড়িটি আছে; এছাড়া আমার কাছে অন্য কোন গাড়ি নেই। তাই আমার পক্ষে এই কাজ আঞ্জাম দেয়া সম্ভব না। তখন আমি তাকে কিছু অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলাম; এছাড়া তার দাবি পূরণে আমার কাছে অন্য কোন ব্যবস্থা ছিলো না। তখন তিনি কঠোর ভাষায় বললেন: যেই ভাবেই হোক তাদেরকে আমাদের মুক্ত করতে হবে; আমাদের পরনের পোশাক বিক্রি করে হলেও।

আমি ভাইদের জন্য তার এখলাছ এবং নিজের নিরাপত্তার উপর অন্য ভাইয়ের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়ার এই চিত্র দেখে অবাক হয়েছি। কারণ তখন তিনি নিজেও তো পলাতক ছিলেন; তার জন্য আমরা আশ্রয়স্থানের ব্যবস্থা করেছি। অথচ তিনি তার ভাইদের মুক্তির জন্য বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তখন আমাদের অবস্থা ছিলো অত্যন্ত দুর্বল এবং আমাদের কাছে কোন ভালো ব্যবস্থাপনাও ছিলোনা।

পরোপকারের আরেকটি শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো – শহীদ ইয়াহইয়া হাশেম রহিমাহুল্লাহ। তিনি একটি চিঠির মাধ্যমে সামরিক মামলায় নিরপরাধ বন্দীদেরকে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত করার সময় তাদেরকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি কারাগারের সহকারী দায়িত্বশীল হিসেবে নিজের সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন। বন্দিদেরকেও তিনি একটি চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে অবগত করার চেষ্টা করেন, যখন তাদেরকে বিচারের জন্য আদালতে উঠানো হয়। কিন্তু তার চিঠিটি ফাঁস হয়ে যায়। আর এই কারণেই ইয়াহইয়া হাশেম -আল্লাহ তার উপর অনুগ্রহ করুন- মিনিয়া মরুভূমির পাহাড়ে পলায়ন করতে বাধ্য হন এবং সেখান থেকে গেরিলা যুদ্ধের সূচনা করেন।

আরেকটি উপমা:

এক মুজাহিদ ভাইয়ের শুধুমাত্র একটিই বাড়ি ছিলো। তিনি তার একটি প্রয়োজনে বাড়িটি বিক্রি করে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার প্রয়োজন পূরণ না করেই অপর এক মুজাহিদের জন্য সব টাকা খরচ করে ফেলেন।

আরেকটি উপমা:

এক মুসলিম ভাইকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী খোঁজ করছিলেন। এরপর যখন কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তখন তিনি হিজরতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন দুজন মুসলিম ভাই তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসলেন, যাদের মাঝে সাংগঠনিক কোন সম্পর্ক ছিলো না। কিন্তু তাদের মাঝে একটিই সম্পর্কই ছিলো; তা হল: আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব। তারা এই ভাইয়ের জন্য বড়ো অংকের অর্থ নিয়ে আসেন। একজন নগদ অর্থকড়ি নিয়ে আসেন। অপরজন নিজের স্ত্রীর দামী দামী অলংকার নিয়ে আসেন। এই পলাতক ভাইকে অর্থ দিয়ে বলেন আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে খরচ করুন। আল্লাহ তায়ালা এমন সত্যবাদী এবং নিজের উপর অন্যকে প্রাধান্য দানকারীদের (আমাদের ধারণা অনুযায়ী) উপর রহম করুন।

ব্যাপকভাবে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া চারিত্রিক অধঃপতনের এগুলো কয়েকটিমাত্র উদাহরণ। যেগুলো থেকে বাঁচার চেষ্টা করা আমাদের জন্য একান্ত জরুরী। আর আমি নিজেই সর্ব প্রথম এর মুখাপেক্ষী।

وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي ۚ إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي ۚ إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿٥٣﴾‏

“অর্থ: আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু”। (সুরা ইউসুফ ১২:53)

আমি এই কয়েকটি উদাহরণ পেশ করেছি। কেননা আমাদের চারিত্রিক অবক্ষয়ের অনেক দিক রয়েছে।

যদি আমরা হাজার বছর ধরে চলে আসা একের পর এক ইহুদীবাদী ক্রুসেড আক্রমণের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে চাই, তাহলে অবশ্যই প্রথমে আমাদেরকে এই সকল সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর আমার দৃষ্টিতে এই সমস্যাগুলো সমাধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দুটি :

১. সঠিক ও উত্তম আদর্শ সবার মাঝে প্রচার করা, যা চারিত্রিক সংশোধনের সর্বোত্তম মাধ্যম। আমি চাই আমাদের মাঝে তৈরি হবে এমন এক জামাত, যারা হবে পরহেজগার ও তাকওয়াবান। এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও হারাম থেকে সর্বাবস্থায় নিজেদেরকে হেফাজতকারী। আমরা হবো এমন এক জামাত যারা যখনই দোয়া করে আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করে নেন। আমরা তাদের দলভুক্ত হতে চাই, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন;

إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ﴿٩﴾‏

“অর্থ: তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরি দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবাহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে”। (সুরা আনফাল ৮:৯)

আমরা চাই আমাদের মাঝে এমন একটি জাতি তৈরি হোক যাদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَن رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، قَالَ «رُبَّ أشْعَثَ أغبَرَ مَدْفُوعٍ بِالأبْوابِ لَوْ أقْسَمَ عَلَى اللهِ لأَبَرَّهُ». رواه مسلم

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘বহু এমন লোকও আছে যার মাথা উষ্কখুষ্ক ধুলোভরা, যাদেরকে দরজা থেকে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। (কিন্তু সে আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে) সে যদি আল্লাহর উপর কসম খায়, তাহলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন।’’ (মুসলিম – ২৬২২, ২৮৫৪)

তিনি আরও বলেন;

عَن حَارِثَةَ بنِ وهْبٍ رضي الله عنه قَالَ : سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «ألاَ أُخْبِرُكُمْ بِأهْلِ الجَنَّةِ ؟ كُلُّ ضَعِيف مُتَضَعَّف، لَوْ أقْسَمَ عَلَى اللهِ لأَبَرَّهُ، أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأهْلِ النَّارِ ؟ كُلُّ عُتُلٍّ جَوّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

হারেসাহ ইবনু ওয়াহ্হাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘আমি তোমাদেরকে জান্নাতিদের সম্পর্কে অবহিত করব না কি? (তারা হল) প্রত্যেক দুর্বল ব্যক্তি এবং এমন ব্যক্তি যাকে দুর্বল মনে করা হয়। সে যদি আল্লাহর নামে কসম খায়, তাহলে তা তিনি নিশ্চয়ই পুরা করে দেন। আমি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করব না কি? (তারা হল) প্রত্যেক রূঢ় স্বভাব, কঠিন হৃদয় দাম্ভিক ব্যক্তি।’’ (সহীহুল বুখারী ৪৯১৮, মুসলিম ২৮৫৩)

কাইস ইব্‌নু আবূ হাযিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ بَيَانٍ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِيْ حَازِمٍ قَالَ دَخَلَ أَبُوْ بَكْرٍ عَلَى امْرَأَةٍ مِنْ أَحْمَسَ يُقَالُ لَهَا زَيْنَبُ فَرَآهَا لَا تَكَلَّمُ فَقَالَ مَا لَهَا لَا تَكَلَّمُ قَالُوْا حَجَّتْ مُصْمِتَةً قَالَ لَهَا تَكَلَّمِيْ فَإِنَّ هَذَا لَا يَحِلُّ هَذَا مِنْ عَمَلِ الْجَاهِلِيَّةِ فَتَكَلَّمَتْ فَقَالَتْ مَنْ أَنْتَ قَالَ امْرُؤٌ مِنْ الْمُهَاجِرِيْنَ قَالَتْ أَيُّ الْمُهَاجِرِيْنَ قَالَ مِنْ قُرَيْشٍ قَالَتْ مِنْ أَيِّ قُرَيْشٍ أَنْتَ قَالَ إِنَّكِ لَسَئُوْلٌ أَنَا أَبُوْ بَكْرٍ قَالَتْ مَا بَقَاؤُنَا عَلَى هَذَا الأَمْرِ الصَّالِحِ الَّذِيْ جَاءَ اللهُ بِهِ بَعْدَ الْجَاهِلِيَّةِ قَالَ بَقَاؤُكُمْ عَلَيْهِ مَا اسْتَقَامَتْ بِكُمْ أَئِمَّتُكُمْ قَالَتْ وَمَا الأَئِمَّةُ قَالَ أَمَا كَانَ لِقَوْمِكِ رُءُوْسٌ وَأَشْرَافٌ يَأْمُرُوْنَهُمْ فَيُطِيْعُوْنَهُمْ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَهُمْ أُوْلَئِكِ عَلَى النَّاسِ

তিনি বলেন, একদিন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আহমাস গোত্রের যায়নাব নামের এক নারীর নিকট গেলেন। তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, নারীটি কথাবার্তা বলছে না। তিনি (লোকজনকে) জিজ্ঞেস করলেন, নারীটির এ অবস্থা কেন, কথাবার্তা বলছে না কেন? তারা তাঁকে জানালেন, এ নারী নীরব থেকে থেকে হাজ্জ পালন করে আসছেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, কথা বল, কেননা এটা হালাল নয়। এটা জাহিলীয়্যাত যুগের কাজ। তখন নারীটি কথাবার্তা বলল। জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তরে বললেন, আমি একজন মুহাজির লোক। মহিলাটি জিজ্ঞেস করল, আপনি কোন গোত্রের মুহাজির? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, কুরাইশ গোত্রের। মহিলাটি জিজ্ঞেস করলেন, কোন কুরাইশের কোন শাখার আপনি? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি তো অত্যধিক উত্তম প্রশ্নকারিণী। আমি আবূ বকর। তখন মহিলাটি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, জাহিলীয়্যা যুগের পর যে উত্তম দ্বীন ও কল্যাণময় জীবন বিধান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন সে দ্বীনের উপর আমরা কতদিন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারব? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যতদিন তোমাদের ইমামগণ তোমাদেরকে নিয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকবেন। মহিলা জিজ্ঞেস করল, ইমামগণ কারা? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমাদের গোত্রে ও সমাজে এমন সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় লোক কি দেখনি যারা নির্দেশ দিলে সকলেই তা মেনে চলে? নারীটি উত্তর দিল, হাঁ। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এরাই হলেন জনগণের ইমাম। (সহীহুল বুখারী 3834)

وَعَن أُسَيْرِ بنِ عَمرٍو، وَيُقَالُ : ابنِ جَابِرٍ، قَالَ : كَانَ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ رضي الله عنه إِذَا أتَى عَلَيهِ أمْدَادُ أهْلِ اليَمَنِ سَألَهُمْ : أفِيكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ ؟ حَتَّى أتَى عَلَى أُوَيْسٍ رضي الله عنه، فَقَالَ لَهُ : أنْتَ أُوَيْسُ ابْنُ عَامِر ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ : مِنْ مُرَادٍ ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ ؟ قَالَ : نَعَمْ . قَالَ : فَكَانَ بِكَ بَرَصٌ، فَبَرَأْتَ مِنْهُ إلاَّ مَوْضِعَ دِرْهَمٍ ؟ قَالَ : نَعَمْ . قَالَ : لَكَ وَالِدةٌ ؟ قَالَ : نَعَمْ . قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «يَأتِي عَلَيْكُمْ أُويْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أمْدَادِ أهْلِ اليَمَنِ مِنْ مُرَادٍ، ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ كَانَ بِهِ بَرَصٌ، فَبَرَأَ مِنْهُ إلاَّ موْضِعَ دِرْهَمٍ، لَهُ وَالدةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ لَوْ أقْسَمَ عَلَى الله لأَبَرَّهُ، فإنِ اسْتَطَعْتَ أنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَل»فَاسْتَغْفِرْ لي فَاسْتَغْفَرَ لَهُ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ : أيْنَ تُريدُ ؟ قَالَ : الكُوفَةَ، قَالَ : ألاَ أكْتُبُ لَكَ إِلَى عَامِلِهَا؟ قَالَ : أكُونُ في غَبْرَاءِ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيَّ، فَلَمَّا كَانَ مِنَ العَامِ المُقْبِلِ حَجَّ رَجُلٌ مِنْ أشْرَافِهِمْ، فَوافَقَ عُمَرَ، فَسَألَهُ عَنْ أُوَيْسٍ، فَقَالَ : تَرَكْتُهُ رَثَّ البَيْتِ قَليلَ المَتَاعِ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «يَأتِي عَلَيْكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أمْدَادٍ مِنْ أهْلِ اليَمَنِ مِنْ مُرَادٍ، ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ، كَانَ بِهِ بَرَصٌ فَبَرَأَ مِنْهُ إلاَّ مَوضِعَ دِرْهَمٍ، لَهُ وَالِدَةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ لَوْ أقْسَمَ عَلَى اللهِ لأَبَرَّهُ، فَإنِ اسْتَطْعتَ أنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ، فَافْعَلْ»فَأتَى أُوَيْساً، فَقَالَ : اسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ : أنْتَ أحْدَثُ عَهْداً بسَفَرٍ صَالِحٍ، فَاسْتَغْفِرْ لي . قَالَ : لَقِيتَ عُمَرَ ؟ قَالَ : نَعَمْ، فاسْتَغْفَرَ لَهُ، فَفَطِنَ لَهُ النَّاسُ، فَانْطَلَقَ عَلَى وَجْهِهِ . رواه مسلم

وَفي رِوَايَةٍ لِمُسلِمٍ أَيضاً عَن أُسَيْر بنِ جَابِرٍ رضي الله عنه : أنَّ أهْلَ الكُوفَةِ وَفَدُوا عَلَى عُمَرَ رضي الله عنه، وَفِيهمْ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ يَسْخَرُ بِأُوَيْسٍ، فَقَالَ عُمَرُ : هَلْ هاهُنَا أَحَدٌ مِنَ القَرَنِيِّينَ ؟ فَجَاءَ ذلِكَ الرَّجُلُ، فَقَالَ عمرُ : إنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ: إنَّ رَجُلاً يَأتِيكُمْ مِنَ اليَمَنِ يُقَالُ لَهُ : أُوَيْسٌ، لاَ يَدَعُ باليَمَنِ غَيْرَ أُمٍّ لَهُ، قَدْ كَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا الله تَعَالَى، فَأذْهَبَهُ إلاَّ مَوضِعَ الدِّينَارِ أَو الدِّرْهَمِ، فَمَنْ لَقِيَهُ مِنْكُمْ، فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ

وفي رِوَايَةٍ لَهُ : عَن عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ : إنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: إنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ : أُوَيْسٌ، وَلَهُ وَالِدَةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاضٌ، فَمُرُوهُ، فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ

উসাইর ইবনু ‘আমর মতান্তরে ইবনু জাবের থেকে বর্ণিতঃ

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট যখনই ইয়ামান থেকে সহযোগী যোদ্ধারা আসতেন, তখনই তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করতেন, ‘তোমাদের মধ্যে কি উয়াইস ইবনু ‘আমের আছে?’ শেষ পর্যন্ত (এক দলের সঙ্গে) উয়াইস (ক্বারনী) রাদিয়াল্লাহু আনহু (মদিনা) এলেন। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি উয়াইস ইবনু আমের?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন্ (গোত্রের)?’ উয়াইস বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি (পুনরায়) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার শরীরে শ্বেত রোগ ছিল, তা এক দিরহাম সম জায়গা ব্যতীত (সবই) দূর হয়ে গেছে?’ উয়াইস বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা আছে?’ উয়াইস বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন্ (গোত্রের) উয়াইস ইবনু আমের ইয়ামানের সহযোগী ফৌজের সঙ্গে তোমাদের কাছে আসবে। তার দেহে ধবল দাগ আছে, যা এক দিরহাম সম স্থান ছাড়া সবই ভাল হয়ে গেছে।

সে তার মায়ের সাথে সদাচারী হবে। সে যদি আল্লাহর প্রতি কসম খায়, তবে আল্লাহ তা পূরণ করে দেবেন। সুতরাং (হে উমার!) তুমি যদি নিজের জন্য তাকে দিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার দো‘আ করাতে পার, তাহলে অবশ্যই করবে।’’ সুতরাং তুমি আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা কর।’

শোনামাত্র উয়াইস উমারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। অতঃপর উমার তাঁকে বললেন, ‘তুমি কোথায় যাবে?’ উয়াইস বললেন, ‘কূফা।’ তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমার জন্য সেখানকার গভর্নরকে পত্র লিখে দেব না?’ উয়াইস বললেন, ‘আমি সাধারণ গরীব-মিসকিনদের সাথে থাকতে ভালবাসি।’

অতঃপর যখন আগামী বছর এলো তখন কূফার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হজ্জে এলো। সে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাকে উয়াইস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, ‘আমি তাঁকে এই অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে, তিনি একটি ভগ্ন কুটির ও স্বল্প সামগ্রীর মালিক ছিলেন।’ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন্ (গোত্রের) উয়াইস ইবনু আমের ইয়ামানের সহযোগী ফৌজের সঙ্গে তোমাদের নিকট আসবে। তার দেহে ধবল রোগ আছে, যা এক দিরহামসম স্থান ছাড়া সবই ভালো হয়ে গেছে। সে তার মায়ের সাথে সদাচারী (মা-ভক্ত) হবে। সে যদি আল্লাহর উপর কসম খায়, তাহলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেবেন। যদি তুমি তোমার জন্য তার দ্বারা ক্ষমাপ্রার্থনার দো‘আ করাতে পার, তাহলে অবশ্যই করবে।’’

অতঃপর সে (কূফার লোকটি হজ্জ সম্পাদনের পর) উয়াইস (ক্বারনীর) নিকট এলো এবং বলল, ‘আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ উয়াইস বললেন, ‘তুমি এক শুভযাত্রা থেকে নব আগমন করেছ। অতএব তুমি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘তুমি উমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছ?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ সুতরাং উয়াইস তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। (এসব শুনে) লোকেরা (উয়াইসের) মর্যাদা জেনে নিল। সুতরাং তিনি তার সামনের দিকে (অন্যত্র) চলে গেলেন। (মুসলিম)

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় উসাইর ইবনু জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেই বর্ণিত, কুফার কিছু লোক উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এলো। তাদের মধ্যে একটি লোক ছিল, সে উয়াইসের সাথে উপহাস করত। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে ক্বার্ন গোত্রের কেউ আছে কি?’

অতঃপর ঐ ব্যক্তি এলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের নিকট ইয়ামান থেকে উয়াইস নামক একটি লোক আসবে। সে ইয়ামানে কেবলমাত্র তার মা-কে রেখে আসবে। তার দেহে ধবল রোগ ছিল। সে আল্লাহর কাছে দো‘আ করলে আল্লাহ তা এক দ্বীনার অথবা এক দিরহাম সম স্থান ব্যতীত সবই দূর করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের কারও যদি তার সাথে সাক্ষাৎ হয়, তাহলে সে যেন তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ তাবেঈন হল এক ব্যক্তি, যাকে উয়াইস বলা হয়। তার মা আছে। তার ধবল রোগ ছিল। তোমরা তাকে আদেশ করো, সে যেন তোমাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমাপ্রার্থনা করে।’’ (মুসলিম ২৫৪২, আহমাদ ২৬৮)

ইমাম আবু শামা আল মাক্বদিসী ইমাম ইজ্জুদ্দিন ইবনে আসীর থেকে বর্ণনা করেন: সুলতান নুরুদ্দীন ইবনে জঙ্গি রহিমাহুল্লাহ রাতের অধিকাংশ সময় ধরে দোয়া, নামাজ, ইস্তিগফার ও তিলাওয়াত করতেন। মৃত্যু পর্যন্ত এটাই ছিল তার দৈনন্দিনের অভ্যাস। ফিকহে হানাফী সম্পর্কে তিনি ছিলেন সম্মুখ অবগত। তার মাঝে ছিল না মাজহাব গত কোন বাড়াবাড়ি। বরং প্রতিটি বিষয়ে ইনসাফ ও ন্যায়নিষ্ঠাই ছিল তার উত্তম চরিত্র। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি মুহাদ্দিসদের হাদিসের দরসে উপস্থিত হতেন এবং অন্যকে হাদিসের দরস দিতেন। প্রকৃত পক্ষে রাজা বাদশাহদের জন্য সুন্নাহ অনুসরণে তিনি ছিলেন একজন সংস্কারক। হারাম পরিহার করে চলতেন তিনি। হারাম পোশাক ও খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন রাজা বাদশাহদের উত্তম আদর্শ। কারণ তার পূর্বের রাজা বাদশাহরা ছিলো মূর্খ। তারা সর্বদা অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে নিজের পেট ভর্তি করতো এবং জেনা ব্যভিচারে লিপ্ত থাকতো। তারা না করতো সৎকাজ, না বিরত থাকতো অন্যায় কাজ থেকে।

যুদ্ধের সময় তিনি দুটি ধনুক ও দুটি তুনির নিয়ে স্বশরীরে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতেন। তিনি বলতেন: শাহাদাত লাভের জন্য কতবার আমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি; কিন্তু হায়! এখনো আমি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করতে পারিনি।

শাফী মাজহাবের প্রখ্যাত ফকীহ কুতুবউদ্দিন নিশাপুরী রহিমাহুল্লাহ একদিন তাকে এই কথা বলতে শুনেন। তখন তিনি বললেন: দয়া করে হে মহান সুলতান! ইসলাম ও মুসলিমদের কথা ভেবে নিজের জন্য কখনো এমন চিন্তা করবেন না। কারণ আপনিই তাদের ভরসা ও আশ্রয়। আল্লাহ না করুন। যদি আপনি কোন যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন তাহলে তো মুসলিম উম্মাহ ও দেশের হাল ধরার কেউই বাকী থাকবে না। তখন সুলতান বলেন: শাইখ কুতুবউদ্দিন! এ প্রশংসার অধিকারী লোকটি কে? যার ব্যাপারে আপনি একথাগুলো বলছেন? আমার পূর্বে ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বকে কে হেফাজত করেছে? যে আল্লাহ ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বকে হেফাজত করেছেন ভবিষ্যতেও তিনিই হেফাজত করবেন।

ইমাম আবু শামী মাকদীসী রহিমাহুল্লাহ কামালুদ্দিন ইবনে আবী জারাদার সূত্রে সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গি রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গির রাজদরবারে ছিলো না কোন পাপাচার ও অনাচার। কেউ সেখানে কারও গালি গালাজ করতো না এবং গীবত করতো না। জনগণকেও কখনো দোষারোপ করা হতো না। যেমনটি হতো অন্য সকল রাজা বাদশাহদের দরবারে। তাঁর দাববারে জনগণের মাল গ্রাসের কোন লোভ করা হতো না এবং অন্যায় ভাবে বায়তুল মালের সম্পদ আত্মসাৎ করার কথাও কেউ ভাবতো না। কেননা তিনি এসব ক্ষেত্রে খুব চৌকান্ন ছিলেন।

(তিনি বলেন) আমার কাছে নির্ভরযোগ্য এক জামাতের কাছ থেকে মুতাওয়াতীর সূত্রে বর্ণনা এসেছে যে, তিনি অধিক পরিমাণে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন এবং রবের দরবারে দুহাত তুলে রোনাজারিতে লিপ্ত থাকতেন। তিনি খুব যত্নের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মত আদায় করতেন। নামাজের শর্তগুলো, রোকনগুলো ও রুকু সেজদা যথাযথভাবে আদায় করতেন।

(তিনি আরও বলেন:) বাইতুল মাকদিস জিয়ারত করতে আসা একদল নির্ভরযোগ্য দরবেশের কাছ থেকে শুনেছি, তারা কাফেরদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সেই অঞ্চলের কাফেররা সুলতানের সম্পর্কে বলেছে: আল্লাহর সাথে সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গির আছে এক গোপন সম্পর্ক। তিনি কখনো আমাদের উপর তার বিশাল সৈন্য সামন্ত নিয়ে বিজয় লাভ করেননি। প্রতিবার তিনি তাঁর কিয়ামুল লাইল ও দোয়ার অস্ত্র দিয়েই আমাদের উপর জয়লাভ করেন। যুদ্ধের সময় তিনি প্রতি রাতেই নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং নামাজ শেষে ভিখারির ন্যায় মহান রবের দরবারে দু-হাত তুলে চাইতে থাকতেন। আর আল্লাহও তাকে তার সব চাওয়া পাওয়া দান করতেন। ব্যর্থ ও খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। ফলে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতেন।

আবু শামী আল মাক্বদিসী রহিমাহুল্লাহ হারেম শহরের বিজয় নিয়ে লিখতে গিয়ে সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গি রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে বলেন: আমি শুনেছি যে, যুদ্ধের সময় যখন উভয় বাহিনী মুখোমুখি হল তখন তিনি হারেমের একটি টিলার নিচে নির্জনে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। তাঁর চেহারা দুলো বালিতে মলিন হয়ে গেলো। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আল্লাহর কাছে বলতে লাগলেন: ইয়া রাব! এরাতো আপনারই বান্দা আপনারই বন্ধু। আর ওরাতো আপনার গোলাম হয়েও আপনার শত্রু। সুতরাং আপনি আপনার প্রিয় বান্দাদেরকে আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করুন। মানুষের মাঝে মাহমুদের (সুলতানের নাম) কিসের সম্মান। তিনি এই কথা বলে বুঝিয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনি যদি আজ মুসলিমদের সাহায্য করেন, তাহলে তো আপনি আপনার দ্বীনকেই সাহায্য করলেন। সুতরাং আপনার এই গুনাহগার বান্দা যদি আপনার সাহায্য প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য না হয় তাহলে তার কারণে আপনি মুসলিমদের সাহায্যের পথ বন্ধ করবেন না।

আরেক সূত্রে আমি জানতে পেরেছি যে, সুলতান বলেন: হে আল্লাহ! আপনি আপনার দ্বীনকে সাহায্য করুন। মাহমুদকে (সুলতানের আরেক নাম) সাহায্য করবেন না। কোন সেই নিকৃষ্ট মাহমুদ যাকে সাহায্য করা হবে?।

এতক্ষণ আলোচনা হল আমাদের এই সকল সমস্যা সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্টের প্রথমটি নিয়ে। এবার আলোচনা করবো দ্বিতীয় পয়েন্ট নিয়ে। আর তা হল:

মুসলিম ও মুজাহিদদের মাঝে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ফরজ কাজটি পুনর্জীবিত করা।

কারণ যদি আমরা জালেমদের জুলুম করতে দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করি তাহলে দিন দিন জুলুম ও স্বেচ্ছাচার বেড়েই চলবে। এক পর্যায়ে এই উম্মাহর সমস্ত শ্রেষ্ঠত্বই তাদের জুলুমের নিচে চাপা পড়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

অর্থ: তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। (সুরা আল ইমরান ৩:১১০)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

عَن حُذَيفَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسي بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنْ المُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَاباً مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلا يُسْتَجَابُ لَكُمْ». رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن

হুযাইফাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! তোমরা অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, তা না হলে শীঘ্রই আল্লাহ তায়ালা তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দো‘আ করবে; কিন্তু তা কবুল করা হবে না।’’ (তিরমিযী ২১৬৯)

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لاَ يَقْبَلُ إِلاَّ طَيِّباً، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ المُؤمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ المُرْسَلِينَ» . فَقَالَ تَعَالَى : ﴿‏يا أيها الرسل كلوا من الطيباب واعلموا صالحاً﴾ [المؤمنون: ٥١] ، وَقَالَ تَعَالَى : ﴿‏ آمنوا كلوا من طيبات ما رزقناكم﴾ [البقرة: ١٧٢] . ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ : يَا رَبِّ يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، ومَلبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ ؟ رواه مسلم

আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মু’মিনদেরকে সেই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, যার নির্দেশ পয়গম্বরদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর এবং সৎকর্ম কর।’ (সূরা মু’মিনূন ৫১ আয়াত) তিনি আরও বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; যদি তোমরা শুধু তাঁরই উপাসনা করে থাক।’’ (সূরা বাক্বারাহ ১৭২ আয়াত)

অতঃপর তিনি সেই লোকের কথা উল্লেখ করে বললেন, যে এলোমেলো চুলে, ধূলামলিন পায়ে সুদীর্ঘ সফরে থেকে আকাশ পানে দু’ হাত তুলে ‘ইয়া রব্ব্! ‘ইয়া রব্ব্!’ বলে দো‘আ করে। অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং হারাম বস্তু দিয়েই তার শরীর পুষ্ট হয়েছে। তবে তার দো‘আ কিভাবে কবুল করা হবে?’’ (মুসলিম ১০১৫, তিরমিযী ২৯৮৯, ৮১৪৮, ২৭১৭)

প্রিয় ভায়েরা আমার! এই কথাটি আমাদের মনে একেবারে গেঁথে রাখা আবশ্যক যে, বিজয় ও সাহায্য আল্লাহরই পক্ষ থেকে। যেমন আল্লাহ তা”য়ালা বলেন:

وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿١٠﴾‏

অর্থ : আর সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতে পারে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাশক্তির অধিকারী হেকমত ওয়ালা। (সুরা আনফাল ৮:10)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ ﴿٧﴾‏

অর্থ: হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন। (সুরা মোহাম্মাদ ৪৭:7)

সুতরাং আমরা কিভাবে বিজয়ের ও সাহায্যের প্রত্যাশা করি অথচ আমরা আল্লাহকেই সাহায্য করি না ?

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَٰذَا ۖ قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٦٥﴾‏

অর্থ : যখন তোমাদের উপর একটি মুসীবত এসে পৌছাল, অথচ তোমরা তার পূর্বেই দ্বিগুণ কষ্টে পৌছে গিয়েছ, তখন কি তোমরা বলবে, এটা কোথা থেকে এলো? তাহলে বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের উপর পৌঁছেছে তোমারই পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল। (সুরা আল ইমরান ৩:165)

সুতরাং আমাদের উচিৎ খাঁটি মনে আল্লাহর কাছে তাওবা করা, সমস্ত অন্যায়, অনাচার, গুনাহ ও নাফরমানি থেকে ইস্তিগফার করে আল্লাহর পথে ফিরে আসা।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَكَأَيِّن مِّن نَّبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ ﴿١٤٦﴾‏ وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَن قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿١٤٧﴾‏ فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٤٨﴾‏

“অর্থ: আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। (146) তারা আর কিছুই বলেনি-শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর। (147) অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার সওয়াব দান করেছেন এবং যথার্থ আখেরাতের সওয়াব। আর যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। (সুরা আলে ইমরান 3:146–148)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي، قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمْ ‏”‏ أَنَّ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالإِيمَانَ بِاللَّهِ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تُكَفَّرُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ نَعَمْ إِنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ كَيْفَ قُلْتَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَتُكَفَّرُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ نَعَمْ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلاَّ الدَّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ لِي ذَلِكَ ‏”‏ ‏.‏

কুতায়বা ইবনু সাঈদ রহিমাহুল্লাহ … আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদা) তাদের মধ্যে দাঁড়ালেন এবং তাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, আল্লাহর রাহে জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান হচ্ছে সর্বোত্তম আমল। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, আপনি কি মনে করেন যে, আমি যদি আল্লাহর রাহে নিহত হই তা হলে আমার সকল পাপ মোচন হয়ে যাবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ হ্যাঁ, যদি তুমি ধৈর্যশীল, সাওয়াবের আশায় আশান্বিত হয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে শত্রুর মুখোমুখী অবস্থায় নিহত হও।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বললে হে! তখন সে ব্যক্তি (আবার) বললোঃ আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আল্লাহর রাহে নিহত হই তা হলে আমার সকল গোনাহের কাফফারা হয়ে যাবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ তুমি যদি ধৈর্যধারণকারী, সাওয়াবের আশায় আশান্বিত হয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায় নিহত হও, অবশ্য ঋণের কথা আলাদা। কেননা, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমাকে একথা বলেছেন। (মুসলিম – ৪৭২৭)

ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন: “তবে ঋণ ছাড়া” এই শব্দ দ্বারা বান্দার সমস্ত হক্ব ও অধিকার বুঝানো হয়েছে। আর জিহাদ, শাহাদাত ও অন্যান্য সৎ কাজের কারণে আল্লাহর হক্বই কেবল ক্ষমা করে দেয়া হয়, বান্দার হক্ব নয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আল্লাহর নিকট তিন ধরনের আমলনামা থাকবে।

১. এমন আমলনামা যার জন্য আল্লাহ কাউকে শাস্তি দেন না। ২. এমন আমলনামা যার একটুও আল্লাহ ছাড়বেন না। ৩. এমন আমলনামা যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস 26031)

যেই আমলনামা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না, তা হলো – আল্লাহর সাথে শিরক করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿٧٢﴾‏

অর্থ: নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সুরা মায়েদা ৫:৭২)

আর যেই আমলনামার প্রতি আল্লাহ তায়ালা এতটা ভ্রুক্ষেপ করেন না , তাহলো কেউ যদি আল্লাহ হক্ব আদায় না করে নিজের উপর অবিচার করে যেমন কোন রোজা বা নামাজ কাজা করে তাহলে আল্লাহ চাইলে তার এসব গোনাহ মাফ করে দিতে পারেন। আর যেই আমলনামা থেকে এক চুল পরিমাণও ছাড় দিবেন না। তা হচ্ছে একে অন্যের প্রতি জুলুম অত্যাচার ও অবিচার করা, যার কারণে তিনি অপরাধীর পাওনা বুঝিয়ে দিবেন। আজ আমি আমার আলোচনা এখানেই শেষ করছি। আগামী অধিবেশনে ইনশাআল্লাহ দাওয়ার যুদ্ধ নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হবো।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم. والسلام عليكم ورحمة الله وبراكاته.

*****

  1. ১ ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেছেন-‘আল্লাহ ন্যায়-নীতিপূর্ণ রাষ্ট্রকে সাহায্য করেন। যদিও সেটি অমুসলিম রাষ্ট্র হয়। আর মুসলিম রাষ্ট্র হ’লেও অত্যাচারী রাষ্ট্রকে তিনি সাহায্য করেন না’। (আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম, পৃঃ ৪)
  2. الله ينصر الدولة العادلة وإن كانت كافرة ولا ينصر الدولة الظالمة ولو كانة مؤمنة.
  3. حديث زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَزِعًا يَقُولُ: لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأجُوجَ وَمأجُوجَ مِثْلُ هذِهِ وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا قَالَتْ زَيْنَبُ ابْنةُ جَحْشٍ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ: نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ
  4. একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য বা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথার বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে। (বুখারী – ৩৩৪৬; মুসলিম – ২৮৮০)
  5. যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ
  6. ৩ লেন স্টুয়ার্ড (Lynne Irene Stewart) একজন আমেরিকান আইনজীবী। জন্ম – ১৯৩৯ সালে, মৃত্যু – ২০১৭ সালে। শাইখ উমর আব্দুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। শাইখের থেকে ‘জামায়া আল ইসলামিয়া’র কাছে তথ্য পাঠানোর অভিযোগে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল।

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eighteen + 9 =

x

Check Also

Bengali Translation || মুজাহিদ নেতা শায়খ আবু মুহাম্মাদ সালেহ আল-আরুরী রহিমাহুল্লাহ’র শাহাদাত প্রসঙ্গে শোকবার্তা

اداره النصر আন নাসর মিডিয়া An Nasr Media پیش کرتے ہیں পরিবেশিত Presents بنگالی ترجمہ ...