Bengali Translation || উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ’র বিশেষ সাক্ষাৎকার উপমহাদেশ ভিত্তিক জিহাদি আন্দোলন – প্রকৃত বাস্তবতা!(চতুর্থ পর্ব) || পাকিস্তানে জিহাদের প্রেক্ষাপট, ফিকরি কাতারবন্দি, প্রস্তুতি এবং অগ্রগতি

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents
الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation
بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:
تحریک جہاد برصغیر…حقیقت و حقانیت! – الحوار الخاص مع استاد اسامه محمود حفظه الله-٤
উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ’র বিশেষ সাক্ষাৎকার
উপমহাদেশ ভিত্তিক জিহাদি আন্দোলন – প্রকৃত বাস্তবতা!(চতুর্থ পর্ব)
পাকিস্তানে জিহাদের প্রেক্ষাপট, ফিকরি কাতারবন্দি, প্রস্তুতি এবং অগ্রগতি
Exclusive Interview with Ustad Usama Mahmud Hafizahullah (Part-4)
“Background of Jihad in Pakistan, Fiqri Queue, Preparation and Progress”
আস-সাহাব-উপমহাদেশ: গত পর্বে আমরা পাকিস্তানে জিহাদের অবস্থা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছি। আপনার কথা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, পাকিস্তান ভিত্তিক জিহাদি-আন্দোলন বেশ সমস্যার মধ্য দিয়ে পথ চলছে। আমি জানতে চাচ্ছি, এ সমস্যাগুলো জিহাদি আন্দোলনের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ:
بسم الله الرحمن الرحيم: الحمد لله رب العالمين. والصلاة والسلام على رسوله الكريم. رب اشرح لي صدري ويسر لي أمري واحلل عقدة من لساني يفقهوا قولي.
বিগত পর্বে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে যে, প্রত্যেক যুগেই অসৎ উপাদান অন্যায় বিষয় থাকে, এগুলোর মাধ্যমেই উম্মাহর পরীক্ষা হয়। সমস্যাগুলো এখানেও আছে, তবে পরিমাণে কম। যার ফলে আমাদের মধ্যে ভালো মুজাহিদদের পরিমাণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও অসৎদের কারণে বদনাম হয়। তদ্রূপ এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে যে, অল্প কিছু মানুষের খারাবি থেকে আন্দোলনকে রক্ষা করার জন্য ‘মাহসুদ’ থেকে ‘সোয়াত’ ও ‘বাজুড়’ পর্যন্ত অবস্থানকারী জিহাদের কল্যাণকামীরা, এমনকি আল-কায়েদার বিজ্ঞ আলেমগণও প্রথম দিন থেকে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আজও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এখানে বর্ণনা করবো যে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের যখন পরীক্ষা করেন এবং বান্দাও যখন সর্বাবস্থায় আল্লাহর দীনকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে থাকে, তখন আল্লাহ-ও নিজ বান্দাদের অবশ্যই সাহায্য করেন। সালেহীন ও মুসলিহিন (সৎ ব্যক্তি ও সংশোধনকারীগণ) যদি সাহস না হারিয়ে নিজ দায়িত্ব পালন করতে থাকেন তবে আল্লাহর সাহায্য সহযোগিতা অবশ্যই পৌঁছবে। জুলুম ও কুফরের বিরুদ্ধে জিহাদ-কিতাল যেমন ফরয, তদ্রূপ মুজাহিদ সাথিদের মধ্যে আমর বিল মারূফ ও নাহী আনিল মুনকারও ফরয।
এ দুটি বিষয় আলাদা ফরয। এ দুটি ফরযের উপর মুজাহিদরা যদি মজবুত থাকেন, এ দুটির কোনোটির মাঝে যদি ত্রুটি না করেন, তাহলে আল্লাহ বান্দাকে সাহায্য করবেন। বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই সাহায্য আসে।
সাহায্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো- বাছাই করা । ২০১৩ সালের পর থেকে এই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ অবধি তার ধারাবাহিকতা বাকি আছে। আল্লাহ আমাদের পরিশুদ্ধ এবং সংশোধনকারী হওয়ার তাওফীক দান করুন।
ইতিমধ্যে দুইভাবে বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম বাছাইয়ের কাজ IS এর ফিতনার (যারা জিহাদের দুর্নামের কারণ ছিল) সুরতে সামনে এসেছে। যাদের কারণে জিহাদের বদনাম হচ্ছিলো, এই ফিতনা তাদের জন্য চুম্বকের ভূমিকা পালন করেছে। যখনি ‘শাম’ এবং ‘ইরাকে’ এই ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখনি পুরো পৃথিবী থেকে জিহাদের শিরোনামে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি বাইয়াত আসা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তান, খোরাসান, নাইজেরিয়া, বোকো হারাম- যেখান থেকে যাদের পক্ষ থেকেই বাইয়াতের ঘোষণা আসতো, আমরা দেখতে পেতাম যে, এরা তো সেই ব্যক্তি যাদের কারণে জিহাদের বদনাম হচ্ছিলো। যারা মুসলিমদের রক্তপাতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতো না, যারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে ইনসাফের আচরণ করত না। খোরাসান পাকিস্তান থেকেও এমন অনেকে IS এ যোগ দিয়েছে, যাদের কারণে অধিকাংশ সময় জিহাদের বদনাম হতো।
আলহামদুলিল্লাহ, জিহাদি কাফেলাগুলো এখন একটা স্তর পর্যন্ত পরিশোধিত হয়ে গেছে। বাছাইয়ের দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটা এখনো আমাদের জন্য একটা পরীক্ষা হিসাবে রয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অবিচলতা দান করুক। এই পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, যাদের কারণে জিহাদের বদনাম হয়, এদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ জিহাদি কাফেলা থেকে বের হয়ে শত্রু বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়েছে।
দেখুন! শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, শত্রু বাহিনীর সাথে ঐ লোকেরাই হাত মিলিয়েছে, যারা জিহাদের ময়দানে নিরীহ লোকদের উপর জুলুম করে জিহাদকে সমালোচনার পাত্র বানাতো। যেন এই লোকেরাই জিহাদের ময়দানে থেকে শত্রু বাহিনীকে সহযোগিতা করতো। বাস্তবতা তো এটাই, যারা সাধারণ মুসলমানদের প্রতি সদয় হতে পারে না, মুসলমানদের হক আদায় করতে পারে না, তারা কাফেরদের প্রতিও কঠোর হতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সংশোধন করুন।
তৃতীয় যে বিষয়টি তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও লক্ষণীয়। তা হলো, এখন জিহাদের ময়দানে ইসলাহের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে এমন কিছু মুসলিহ ব্যক্তিকে আমরা পেয়েছি, যারা অভ্যন্তরীণভাবে দলগুলোর সংশোধনে কোমর বেঁধে নেমেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, পাকিস্তানের জিহাদি আন্দোলনে আগেও সালেহ-মুসলিহিনদের বেশ আনাগোনা ছিল। কিন্তু শুরুতে বিভিন্ন অন্তর্নিহিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অস্পষ্টতা ছিল, তা বিভিন্ন পরীক্ষা এসে আরও স্বচ্ছ করে দিয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ, আমর বিল মারূফ নাহী আনিল মুনকারের উপর আমলের বরকতে পুরো জিহাদি আন্দোলন আজ নিজেদের ভুল ত্রুটি শুধরে নিচ্ছে। আজ আমার কাছে খুবই কল্যাণকর একটি বিষয় দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তা হলো— মুজাহিদরা অভিন্ন চিন্তা-চেতনা ও কর্ম-পন্থায় ঐক্যবদ্ধ।
যেহেতু এই কাফেলার শুরুতেও একনিষ্ঠতা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অবিচলতার কমতি ছিল না, এখন সেই সাথে আলহামদুলিল্লাহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অতীত ঘটনাও যুক্ত হয়েছে। ফলাফল এটাই যে, এই কাফেলা শুধু পাকিস্তান নয় বরং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের জন্যও বিরাট এক নেয়ামত এবং অশেষ কল্যাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর ইচ্ছায় এটাই উপলব্ধি হয় যে, যেহেতু এই কাফেলাকে পাকিস্তানের বিভিন্ন গোত্র থেকে নিয়ে শ্রীনগর ও দিল্লি পর্যন্ত জুলুম-নির্যাতন ও কুফরের ঘোর অমানিশা নিঃশেষ করতে হবে , এটা যেহেতু খুবই চূড়ান্ত পর্যায়ের এক গুরুদায়িত্ব, এই কারণেই এ-কাফেলাকে পরিশোধন করা ও সঠিক রাহনুমায়ীতে পরিচালনা করা একান্ত প্রয়োজন ছিল। একারণে এ কাফেলার মাধ্যমে ঘোর অমানিশা কেটে প্রভাতের সূর্য হাসবেই। আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, এ জিহাদি আন্দোলন গাযওয়াতুল হিন্দের মোবারক ময়দানে কার্যকর পদক্ষেপ রেখে সামনে এগিয়ে যাবে।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: শত্রুপক্ষ মুজাহিদদেরকে ঘায়েল করার জন্য বলে যে, মুজাহিদদের কোনো কোনো দলের সাথে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পর্কের বিষয়ে আল-কায়েদার অবস্থান কি?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: সরকারি সংস্থার বিষয়ে প্রথমেই কিছু মৌলিক কথা বলে রাখি। আল-কায়েদার দাওয়াতি বিষয়বস্তুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই জিহাদি আন্দোলনকে তাগুতের প্রভাব থেকে পরিপূর্ণরূপে মুক্ত করা। এক্ষেত্রে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, জিহাদি আন্দোলন যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারি সংস্থার কারো তাঁবেদারি কিংবা দাসত্ব করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা শরয়ী উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হবে না।
ইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানের ব্যাপারে কেউ কেউ এ কুৎসা রটায় যে, ইমারতে ইসলামী বিভিন্ন সংস্থার হয়ে কাজ করছে। এটা রীতিমত একটা জঘন্য অপবাদ। যদি ইমারতে ইসলামী সরকারি সংস্থাগুলোর দাসত্ব মেনেই নিতো তাহলে আমেরিকা কিংবা ন্যাটো-জোট মরার জন্য নিজেদের দলবল নিয়ে আসতো না। তাছাড়া যে গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে, তাদের ডিপার্টমেন্ট হেডকে এটম বোম সহকারে শুধু এক রিমোটের টিপে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। পারভেজ মোশাররফের ‘In the line of fire’ বইটিও এবিষয়ে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।
তিনি নিজেই বলেছেন যে, তালেবানরা আমাদের ‘ডিজিআই’, ‘আইএসআই.’ এর বড় থেকে বড় কোনো অফিসারের সাথে কোনো ধরনের খাতির করতেন না। একদা উলামাদের একটি দলের সাথে জেনারেল মাহমুদ গিয়েছিলেন। তখন মোল্লা উমর (রহিমাহুল্লাহ) উলামায়ে কেরামকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। বিপরীতে জেনারেল মাহমুদকে সাক্ষাৎ দিতে মোটেও রাজি ছিলেন না। যার ফলে তাকে ফটকেই আটকে দেয়া হলো।
মূলকথা হলো, এটাই আমাদের জামাআতের অবস্থান, দাওয়াত ও আমলের পথ-পন্থা। কারণ গোয়েন্দা সংস্থার তাঁবেদারি করে কখনো জিহাদের উদ্দেশ্য সাধন হতে পারে না।
শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহ এর এই কাফেলা গত তেইশ বছর ধরে আমেরিকা ও বিশ্ব কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। বিপরীতে বিশ্বের সকল তাগুতী রাষ্ট্র, তাদের গোয়েন্দা বিভাগ পরস্পরের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইত্যবসরে আল-কায়েদার কিছু নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের কিছু উমারাও গ্রেফতার হয় এবং শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহর ঘর এবোটাবাদ থেকে আল-কায়েদার অনেকগুলো তথ্য-উপাত্ত তাদের হস্তগত হয়। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আজ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের কোনো এক ব্যক্তি কিংবা কোনো গোয়েন্দা সংস্থা আল-কায়েদার ব্যাপারে এই আপত্তি তুলতে পারেনি যে, আল-কায়েদা কোন এজেন্সির হয়ে কাজ করছে। আমরা এজন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনিই আমাদেরকে এ মানহাজের উপর দৃঢ়পদ রেখেছেন।
আর পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর বিষয়ে আমাদের দাবি হলো: এরা উভয়ে ইসলাম এবং জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর শত্রু। উভয় দলের প্রতি অন্তরে ঘৃণা লালন করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা আবশ্যক মনে করি। যদিও হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের সাধারণ মুসলমানদের কাছে তারা উভয়ে সমান নয়। আইএসআই এর গাদ্দারীগুলো উম্মতের জানা জরুরি। কুফরের প্রতিরক্ষায় কাফেরদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই করার ঘটনা একটা দুইটা নয় বরং বেশুমার।
হ্যাঁ… বিপরীতে ‘র’ এর প্রতি ঘৃণা আম-খাস সবার অন্তরে যেমন আছে, তেমনি মুজাহিদদেরও রক্তের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ‘র’-র প্রতি দুশমনি ছড়িয়ে আছে। এই কারণে আমীরে হিন্দ মাওলানা আসেম উমর হাফিযাহুল্লাহ একবার মুজাহিদ ভাইদেরকে এজেন্সিগুলোর পরস্পরের মাঝে বিরোধের বিষয়টি বুঝাতে গিয়ে বলেছিলেন যে, “বাতিল শক্তিগুলোর পরস্পরের মধ্যে লড়াই হয় এবং মিত্রতাও হয়।” তিনি আরও বলেছেন যে, “এখন তো আইএসআই ও পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ অবস্থায় যদি ভারতের ‘র’ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতির সুযোগ নিতে গিয়ে আমাদেরকে দূর পাল্লার মিসাইল দিয়ে সহযোগিতা করতে চায়, তাহলে কি আমাদের জন্য তাদের সহযোগিতা নেয়া ঠিক হবে?”
আমীরে মুহতারাম বললেন, “আমাদের সকল সাথি শহীদ হয়ে যাক এতে আমাদের কোনোই ক্ষতি নেই! ইনশাআল্লাহ, জিহাদি-আন্দোলন বরং এর দ্বারা উপকৃত হবে এবং নতুন কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে। তবে ‘র’ এর সাথে সহযোগিতার শিরোনামে কোনো সম্পর্ক যদি আমরা রাখি তাহলে পুরো জিহাদি আন্দোলনেরই মৃত্যু হবে।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: যারা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে এবং বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনকে দোষারোপ করে, ঐ সমস্ত লোকের সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: প্রথমে এটাই বলবো যে, এদের মতো লোকদের কোনো কথাই বিবেচনার যোগ্য নয়। কারণ এদের মধ্যে হয়তো কিছু সংখ্যক কয়েদি, আর কয়েদি মানেই তো সে বাধ্য। অথবা সে দীনের অনেক কিছু বিসর্জন দিয়ে নিজেকে তাদের কাছে বিক্রি করেছে। আর তাদের কাছে অর্পণের অর্থই হলো সে বহুত কিছু ছেড়ে নিজেকে তাদের কাছে অর্পণ করেছে। তাহলে এমন অবস্থায় এধরনের দালাল লোকদের কথায় কান দেয়ার কোনো মানেই হয় না, তাদের কথার দু-পয়সার দামও নেই, না শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে না যৌক্তিকতার দিক থেকে।
শরীয়তের দুশমন ‘আইএসআই’ এর কোলে বসে মুজাহিদদের সাথে ইসলামের দুশমন ‘র’ এর সাথে সম্পর্ক আছে দাবি করা তাদের মুখে মানায় না। যদি সত্যিকার অর্থে কাফেলাগুলো সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হয় তাহলে এধরনের বিবেচনাবোধহীন লোকদের মাধ্যমে না জানা, বরং কাফেলাগুলোর নীতিমালা-আচরণবিধিই যথেষ্ট। এর মাধ্যমেই জানা উচিত।
দ্বিতীয় কথা হলো, এ ব্যক্তিদের পূর্বে সোয়াত এর মুসলিম খান, বাজোড়ের মৌলভী উমর এবং মৌলভী ফকীর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলকে হকের উপর দৃঢ়তা দান করুন। দুশমনদের সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাযত করুন। মাহসূদের সম্মানিত মুফতী ওলী রহমান এবং আযম তারেক শহীদ (রহিমাহুল্লাহ) এর ভাই কারারুদ্ধ অবস্থায় আছেন। এছাড়াও জিহাদি সংগঠনের বিরাট একটি অংশ জেলখানায় বন্দী হয়ে আছেন। তাদের উপর জুলুম-অত্যাচারের স্টিম রোলার চলছে। কারো তো এমন হয়েছে যে, জেলখানায় তাদের মৃত্যু ঘটেছে। আর করো কারো ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ জেলখানা থেকে বের হয়েছে। এত জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও তাদের কোথাও কেউ এধরনের কথা স্বীকার করেনি। এ থেকে বুঝা যায় যে, মূল সমস্যা পুরো জিহাদি আন্দোলনের নয়। আর এ লোকগুলোর কিছু কথা যদি সঠিক হওয়া মেনেও নিই, তাহলে সমস্যা তাদের এবং তাদের মতো কিছু লোকের; অবশ্যই পুরো আন্দোলনের নয়।
তৃতীয় কথা হলো, যদি সমালোচনাকারীগণ মুখলিস হয় এবং মুজাহিদদের মাঝে এমন কিছুলোক তাদের দৃষ্টিতে আসে যাদের কারণে জিহাদের বদনাম হয়- তাহলে প্রশ্ন হলো, এ স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদদের বিপরীতে সালেহীনদের যে বিশাল কাফেলা আছে তাদের থেকে তারা দৃষ্টি এড়িয়ে যায় কেন? সালেহীনদের এত বড় কাফেলার কুরবানীগুলো কি তাদের চোখে পড়ে না? এখানে অগণিত মুজাহিদদের কাফেলা, যারা সকল এজেন্সির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়ে যাচ্ছে। এগুলো তাদের দৃষ্টি-গোচর হয় না। অল্প কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মুজাহিদ ভাইদের পরিবর্তে সৎ লোকদের এত বড় কাফেলাকে কেন তারা সমর্থন যোগাতে পারলো না?
আচ্ছা মানলাম এরা খারাপ হওয়ার কারণে এদের থেকে হাত ধুয়ে নিলেন। তো ভালো কারা? এ জালেম এবং টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া এজেন্সিগুলো?
এরপর দেখুন, গত দুই বছর আগে ‘আযম তারেক শহীদ মেহসুদ’ (রহিমাহুল্লাহ) এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তার ঘরে যাই। ঘর কেমন ছিল? ছোট ছোট কিছু তাঁবু। তখন ছিল প্রচণ্ড শীতের মওসুম। আমরা তাঁবুতে এক রাত থাকি। আমাদের শীতে কষ্ট হয় । অথচ আযম তারেক শহীদ (রহিমাহুল্লাহ) দীর্ঘ আট মাস ধরে সপরিবারে এখানে থাকছেন। এই কনকনে শীতে পার হচ্ছিলো তাদের জীবন। আর এই তাঁবুগুলোর আশেপাশে তিনি তার যুবক সন্তানদেরসহ শহীদ হন। এখন প্রশ্ন হলো, ‘র’ এর জীবন মান বুঝি এমন হয়? ‘র’ এবং আইএসআই এর সদস্যরা সন্তান-সন্ততি এবং ঘর-বাড়িকে বুঝি এভাবে কুরবান করে? তারা কি এমন ত্যাগ স্বীকার করে? বরং এরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সামান্য পয়সা-কড়ির জন্য অন্যের ঘর-বাড়ি বিরান করে। তারা কখনো তাদের পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততিকে কুরবানী দিবে না।
অতঃপর দুঃখের বিষয় হলো, এ লোকগুলো (যারা আজ সমালোচনা করছে) যখন জিহাদের ময়দানে ছিল তখন তাদের কর্মকাণ্ডে জিহাদেরই বদনাম হয়েছিল। জিহাদের দাওয়াতকে সম্পূর্ণরূপে দাফন করতে এবং মুজাহিদ ভাইদের প্রতি জন-সাধারণের মনে ঘৃণা বিদ্বেষ তৈরি করতে তারা ছিল সদা তৎপর।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: জন-সাধারণের উপর যে হামলাগুলো হয় সে হামলাগুলোর ব্যাপারে আপনার মতামত কি?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: আমি বার বার এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কী তা স্পষ্ট করেছি এবং আপনাদের সামনে একটি মৌলিক কথাও বর্ণনা করেছি। কথাটা হলো, ভারতীয় সৈন্য হোক কিংবা পাকিস্তানি সৈন্য এরা সবাই মুসলমানের শত্রু, শরীয়তের দুশমন, অত্যাচারী। এদের প্রতি আমাদের শতভাগ শত্রুতা থাকার পরও সাধারণ মুসলমানদের হেফাযত এবং তাদের প্রতি কল্যাণ কামনা উভয়টিকে ওয়াজিব মনে করি। এটাই জিহাদের মূলনীতি। এ মূলনীতির আলোকে যারা চলে তারা মুজাহিদ। আর যারা এ মূলনীতির উপর চলে না তারা মুজাহিদ নয়। যে সাধারণ মুসলমানদের হত্যা করে সে অন্যায় হত্যাকারী, জালেম। সে মুজাহিদ নয়। অতঃপর এটা বলবো যে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড খুবই ন্যাক্কারজনক। এর দ্বারা শুধু পাকিস্তানই নয়, আফগানিস্তান ও ভারতসহ পুরো ভূখণ্ডেই জিহাদের বদনাম হয়।
মুখলিস মুজাহিদদের বদনাম করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া শুধু কোনো সৈন্যবাহিনী কিংবা কোনো এজেন্সির নয়, বরং ‘র’, ‘সিআইএ’, ‘আইএসআইসহ’ সকলেরই অভিন্ন উদ্দেশ্য। এ কারণেই এধরনের লোকদের থেকে সব শয়তান গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ হাসিল করে। বিপরীতে কোনো সমস্যা হলে তা কেবল জিহাদ, মুজাহিদদের এবং সাধারণ মুসলমানদেরই হয়ে থাকে।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: মুজাহিদদের ব্যাপারে ব্যাপকভাবে এই অপবাদ দেয়া হয় যে, তারা নাকি সরকারি গোয়েন্দা-সংস্থার হয়ে কাজ করছে। এহেন পরিস্থিতিতে ভালো-মন্দের পার্থক্য কীভাবে করা যাবে?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট বলে রাখা জরুরি মনে করছি,
১. মিথ্যা অপবাদ দেয়া বাতিলপন্থীদের পুরনো অস্ত্র। এই অস্ত্র এতটাই পুরনো, যেমন পুরনো হক-বাতিলের মাঝে চিরন্তন লড়াই। এখানে এ ভূখণ্ডেই সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (রহিমাহুল্লাহ) এর মতো মহান ব্যক্তির জিহাদি আন্দোলনও অতিবাহিত হয়েছে। তার ব্যাপারেও অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, তিনি নাকি ইংরেজদের এজেন্ট। মূলকথা হচ্ছে, এটা এ পথের এক অবশ্যম্ভাবী বিষয়। এর মাঝে মুজাহিদদের এমনকি সাধারণ মুসলমানদের জন্যেও রয়েছে বিরাট পরীক্ষা।
২. দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, বহু আগ থেকেই মিথ্যা, ধোঁকা ও প্রতারণার জয়জয়কার ছিল। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেশি পরিমাণে হচ্ছে। নিত্য-নতুন বিভিন্ন কৌশল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্যের সাথে একাকার করে ফেলা হচ্ছে। হাদীস শরীফে এ জমানাকে ধোঁকা এবং প্রবঞ্চনার যুগ বলা হয়েছে। তার বিবরণ এভাবে দেয়া হয়েছে যে, তখন সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী, খেয়ানতকারীকে বিশ্বস্ত এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে খেয়ানতকারী হিসেবে সাব্যস্ত করা হবে। এগুলো তো এ জমানার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মুকাল্লাফ বানিয়েছেন যে, মিথ্যা, ধোঁকা, প্রবঞ্চনা ইত্যাদির জয়জয়কার অবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে অবশ্যই হককে চিনতে হবে, বাতিল শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে এবং দীনে হকের বিজয়ের জন্য সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় রুখে দাঁড়াতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে আমরা জিজ্ঞাসিত হবো।
৩. তৃতীয় কথা হচ্ছে, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা হাজারো চাল চালুক কিংবা হাজারো দুরভিসন্ধি তৈরি করুক, আহলে ঈমানদের মোকাবেলাই তাদের এসমস্ত প্ল্যান-কূটচাল খরস্রোতা নদে ভাসমান খড়কুটার ন্যায়। আজ হোক কাল হোক ইনশাআল্লাহ এমনটা হবেই হবে।
বাস্তবতা তো এটাই যে, গুপ্ত সংস্থাগুলো তাদের দাজ্জালি কর্মকাণ্ড, ধোঁকাবাজি এবং মিডিয়ার কল্যাণে নিজেদেরকে যতই পবিত্র হিসাবে জাহির করুক, কিন্তু তারা যেহেতু আল্লাহর দীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহর বিরুদ্ধেই যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে, তাই তাদের চেয়ে বড় বেকুব আর আহাম্মক কেউ হতে পারে না। এরা একারণেও এতটা নিকৃষ্ট এবং নিম্ন শ্রেণির যে, হক-বাতিলের এই লড়াইয়ে সাধারণ মুসলমানদের তুলনায় তারা হককে বেশি জানার সুযোগ পায়। মুজাহিদদেরকে তারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে থাকে। বিশেষত জেলখানা কিংবা কয়েদখানাগুলোতে তারা মুজাহিদদের পরহেযগারিতা এবং আল্লাহ ভীরুতা দেখে থাকে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের বিষয়ে হুজ্জত কায়েম করে থাকেন। এতসব কিছুর পরও তারা যখন পেটের ধান্দায় আল্লাহর বন্ধুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের বিবেক বুদ্ধিকে লোপ করে দেন। সব ধরনের অপচেষ্টা, কূটকৌশল সর্বশেষ তাদের উপর আযাব রূপে বর্ষণ করেন। দুনিয়াতে তাদেরকে পদে পদে লাঞ্ছিত, অপদস্থ করেন। আপন-পর সকলের কাছে তাদের এই লাঞ্ছনা-অপদস্থতা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।
এতো হলো দুনিয়ার অবস্থা, আর আখিরাতে? আমাদের সবাইকে তো কবরে যেতে হবে। এজন্য সবাইকে দুনিয়ায় থাকতেই ফয়সালা করতে হবে যে, হাশরের ময়দানে কে কার সাথে উঠবে; কে বুশ, ওবামা এবং ট্রাম্পের মতো নিকৃষ্টতম জালেমদের সাথে হাশরের ময়দানে উঠবে, আর কে আল্লাহর প্রিয়বান্দা মুহাজিরিন মুজাহিদদের সাথে উঠবে?
যার ফলে আমাদের সাধারণ মুসলমানদের এই বাস্তবতা সর্বদা উপলব্ধি করতে হবে যে, শরীয়ত ও জিহাদের দুশমন এই গুপ্ত সংস্থাগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বোধ ও কমজোর। এই নির্বোধদের যদিও কোথাও কোনো বিজয় এসে যায়, তবুও এর বাস্তবতা হচ্ছে আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন, এটাই আল্লাহর হিকমত। এর মাধ্যমেই তাদের ধ্বংস ত্বরান্বিত করেন। এটা তাদের কোনো নেক আমলের প্রতিদান নয়।
এখন আমি আপনাদের প্রশ্নের মূল পয়েন্টের দিকে আসছি। দেখুন, জিহাদের ময়দানে সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে শরীয়তের অনুসরণ না করা। গোয়েন্দা সংস্থার সমস্যাটি গুরুত্বপূর্ণ বটে, বাকি এটা মৌলিক কোনো সমস্যা নয়। মূল সমস্যা তো হচ্ছে শরীয়ত থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। যদি কোনো জামাত শরীয়ত থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখে, তখন কী জায়েয, কী নাজায়েয, কার খুন বৈধ, কার খুন বৈধ নয় সবই সমান। এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সে যদি শরীয়তের অনুসরণ না করে, তো সে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার তাবেদার হোক বা না হোক, যেহেতু তার পথ ও পন্থা সমস্যাপূর্ণ, সে কারণে তা কেবল নিত্য নতুন সব বিশৃঙ্খলতার উদ্ভব করতে থাকবে। জিহাদ ও মুসলিম উম্মাহর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করবে। পরবর্তীতে এ ধরনের কোনো জামাত কোনো সংস্থার এজেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকে না। কারণ সে তো আগে থেকেই নিজের জন্য জায়েয, না জায়েয সব ধরনের পথ খোলা রেখেছে। এমনিভাবে বাস্তবেও এবিষয়টি পরিলক্ষিত হয় যে, যে জামাতই যখন কোনো সংস্থার তাঁবেদারি করে তখন সে যথাসাধ্য শরীয়তের অনুসরণ করতে পারে না।
সংস্থাগুলো হয়তো মুজাহিদদেরকে তাদের লক্ষ থেকে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে শরীয়তের বাস্তবায়ন, শরীয়তের বিধানের স্থানে স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে দেয়। যদি এটা সম্ভব না হয় তখন তারা মুজাহিদদের মাধ্যমে অন্যায় রক্তপাত, অন্যান্য শরীয়ত বিরোধী কাজ ঘটিয়ে জিহাদের বদনাম করায়। এখন কথা হচ্ছে- এই সবকিছুর পিছনের মূল কারণ কী?
এই ভুলগুলোর মূল কারণ হচ্ছে- শরীয়তের অনুসরণ না করা, গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হওয়া এবং শরয়ী বিধিবিধান থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। তাই আমাদের শরীয়তের অনুসরণই মূল উদ্দেশ্য। শরীয়তের উপর যদি শতভাগ আমল করা যায়, তো গুপ্ত-সংস্থার এজেন্ট হওয়ার বিষয়ে তো কোনো প্রশ্নই আসে না, আর এই শরীয়তের অনুসরণই আমাদেরকে পরখ করার কষ্টিপাথর। অন্যের সাথে মধ্যস্থতাকারী দলের গোপন বিষয় কিংবা তাদের ভেদ-রহস্য নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। আমরা তাদের বাহ্যিক কথা-কাজ ইত্যাদি দেখবো, একটা দল নিজেদের কী পরিচিতি পেশ করছে, কী কী কাজের জিম্মাদারি তারা গ্রহণ করছে, এসব কিছু যদি শরীয়ত অনুযায়ী হয় তখন লোকে হাজার বার গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট বলুক না কেন, এগুলো সব মিথ্যা অপবাদ বৈ কিছু নয়।
আর এই অপবাদগুলোর অধিকাংশই বিভিন্ন সংস্থার চামচারা রটিয়ে থাকে। একারণেই কোনো দলের বাহ্যিক আমল যদি শরীয়তের অনুকূলে হয়, তাহলে তাদের সমর্থন করা আবশ্যক। বিপরীতে কোনো কাফেলা যদি শরীয়ত বিরোধী কাজ করতে থাকে তখন সকল মুজাহিদের সাধ্যানুযায়ী একাকী কিংবা দলবদ্ধভাবে তাদেরকে সংশোধন করা ফরয।
দেখুন ভাই! নাহী আনিল মুনকার ফরয এবং এই ফরয আদায়ে কোনো ধরনের উদাসীনতা মারাত্মক পর্যায়ের গুনাহ, কেননা এর ফলে আল্লাহর নুসরত উঠে যায় এবং মুজাহিদদের উপর আল্লাহর গযবও অবতীর্ণ হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে সহীহ সালামতে রাখুন, আমীন।
একারণেই কোথাও যদি কোনো দল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিবর্গ থেকে জিহাদের নামে গায়রে শরয়ী কোনো কিছু প্রকাশ পায়, তাহলে উক্ত কাজ থেকে খালেক ও মাখলুক উভয়ের সামনে বারাআত ঘোষণা করা আবশ্যক। এ কারণেই কোনো এক যুদ্ধে খালেদ বিন ওয়ালিদ (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর দ্বারা ভুলবশত একটি হত্যাকাণ্ড ঘটলে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কাজে থেকে নিজের বারাআত প্রকাশ করে বলেছেন, হে আল্লাহ! খালেদ বিন ওয়ালীদের কর্ম থেকে আমি আপনার কাছে বারাআতের ঘোষণা দিচ্ছি।
আর এ বারাআত প্রথমে কর্ম থেকে হবে, ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে নয়। কারণ, আশা করা যায়, তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হবে। কিন্তু যদি বারাআতের ঘোষণা না দেয়া হয়, অর্থাৎ সব মুজাহিদই যদি এক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তাহলে সাধারণ মুসলমানেরা ঐ শরীয়ত বিরোধী কাজকে কিংবা তাদের মন্দ কর্মকেই জিহাদ মনে করে বসবে। কিংবা তারা এই অপকর্মকে মুজাহিদদের দিকে সম্বন্ধিত করবে। এই লোকেরা বরকতপূর্ণ জিহাদ বিষয়ে বিতৃষ্ণ হবে। ফলে পুরো জিহাদই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আবার এই নীরবতার কারণে আল্লাহর আযাব নেমে আসতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের শরীয়ত বিরোধী কর্ম থেকে বারাআত ঘোষণা করা আবশ্যক। বার বার সতর্ক করার পরও যদি ঠিক না হয়, তখন অন্য কোনো ভালো দলের সাথে মিলে জিহাদি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া, ঐ দল থেকে দূরে থাকা এবং সাধ্যানুযায়ী জনসাধারণকে দূরে রাখাকে উলামায়ে কেরাম আবশ্যক করে দিয়েছেন। কেননা উলামায়ে কেরাম আমর বিল মারূফ, নাহী আনিল মুনকার এবং অন্য দীনি কাজের ফারায়েয, ওয়াজিবাত এবং শর্তসমূহ তাদের কিতাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। আমাদেরকে সে আলোকেই চলতে হবে।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: দাওলার দাবি হচ্ছে তারা শরীয়তের কথাই বলে থাকে। তারা যাদেরকে হত্যা করে থাকে, তাদেরেকে মুসলমান মনে করে হত্যা করে না। তো এটা কীভাবে জানা যাবে যে, কে শরীয়তের অনুসরণ করছে আর কে করছে না?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: এখানে কিছু কথা না বললেই নয়।
প্রথম কথা হচ্ছে, বাড়াবাড়ি এবং শরীয়ত বিরোধী কাজগুলো কেবল IS ই করে থাকে তা বলবো না। তবে আমাদের ঘৃণা তো ঐ সমস্ত চিন্তা-চেতনা, কর্মপদ্ধতি ও নীতির প্রতি যেগুলোর কারণে তারা উম্মাহর জন্য ফিতনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমরা যদি নিজেদেরকে অন্য কোনো নামে ভূষিত করি কিন্তু আমাদের চিন্তা-চেতনা, কর্মপদ্ধতি, রীতিনীতি দাওলার বিপরীত না হয়, তো আমরাও আল-কায়েদার শিরোনামে জিহাদ ও উম্মাহর মূলোৎপাটন করার নামান্তর ।
একটু লক্ষ্য করুন:- দলান্ধতা, নিজেদেরকেই কেবল হক মনে করা এবং অন্যায়ভাবে তাকফীর করা, নামে মাত্র অজুহাতে মুসলমানদের রক্তকে বৈধ মনে করা ইত্যাদি সমস্যা এমন, যার ফলে এ জামাত জিহাদ ও উম্মাহর বহু ক্ষতি করে ফেলেছে। এ কারণেই আমার কাছে মনে হয় দায়েশের ফিতনা ইতিহাসে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু আমরা চাই মুজাহিদরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও সফলতার নিমিত্তে দায়েশদের এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কখনই ভুলে না যাক। সাথি ভাইদের তরবিয়তের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিকৃত চিন্তা-চেতনা ও মন্দ আখলাকের চুলচেরা বিশ্লেষণ করুক। কেননা এগুলোর কারণেই তো এই উগ্রপন্থীরা জিহাদি কর্মকাণ্ডের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “কল্যাণকর বিষয়ে আমল করার জন্য মন্দ বিষয়গুলো জেনে রাখা আবশ্যক। তা না হলে মন্দকে ভালো মনে করে মন্দের উপর আমল হতে পারে।”
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আপনাদের কথা সত্য। হ্যাঁ..এই ধোঁকাবাজরা যখনই কোনো মুসলমানকে হত্যা করে, তখন তাকে বিদ্রোহী কিংবা অধিকাংশ সময়ই কাফের মনে করে হত্যা করে। বিপরীতে তারা এ দাবিরও ফেরি করে বেড়ায়, তারাই সবচেয়ে বেশি মুসলিমদের নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোনো মুসলমানকে তাকফীর করা কিংবা কারো রক্ত বৈধ করার ক্ষেত্রে তাদের যে মূলনীতি রয়েছে, তারা কি তা অতীত কিংবা বর্তমান উলামায়ে হক্কানি রব্বানী থেকে গ্রহণ করেছে না তাদের নব্য আবিষ্কৃত? যদি কতল, কিতাল, তাকফীর এবং ফাসেক বলে অভিহিত করার এই মূলনীতি উলামায়ে হক্কানির অনুসারী আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত থেকে গ্রহণ না করে, অতীত কিংবা বর্তমান মুজাহিদ আলেমদের শরণাপন্ন না হয়, বরং কৃত্রিম কিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও মূলনীতি ব্যবহার করে থাকে, তাহলে হক্কানি উলামায়ে কেরাম এতটুকুকেই তাদের গোমরাহীর কারণ বলে থাকেন।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: আমাদেরকে এই সূক্ষ্ম বিষয়টি একটু স্পষ্ট করুন যে, সকল উগ্রপন্থী নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অংশ মনে করে। তারা এটাও বলে, আমরা তাদের মূলনীতি অনুযায়ী আমল করি?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: দেখুন, এক্ষেত্রে আমি বলবো:- আহলে-সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিগুলো এমন অস্পষ্ট নয় যা ব্যবহার করে প্রত্যেকে নিজের মন মতো স্বার্থ হাসিল করবে। আলহামদুলিল্লাহ, নিকট অতীত ও দূর অতীত—প্রত্যেক যুগেই এমন কিছু উলামায়ে কেরাম ও ফকীহ ছিলেন, যারা এই মূলনীতিগুলোকে সামনে রেখে জিহাদি মাসআলাগুলোতে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন। সাথে এটাও বলে রাখি, মুরতাদ শাসক কিংবা কুফরী সংবিধানের বিরুদ্ধে দিফায়ী (তথা প্রতিরোধমূলক) জিহাদের আমরাই সূচনাকারী বিষয়টি এমন নয়, বরং এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিহাদ পূর্বেও হয়েছে।
পুরো বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডে যেখানেই নিকট অতীতে জিহাদের দামামা বেজে উঠেছিল, সেখানেই মুজাহিদ ভাইদের এ সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে হয়েছে। জাযীরাতুল আরব, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিশর, শিশান, আফগানিস্তান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জিহাদি আন্দোলন ও মুজাহিদ উলামায়ে কেরামকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছোটখাটো সমস্যার জন্য পাহাড়সম বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ এ ধরনের সব অভিজ্ঞতাই ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত আছে। এর আলোকেই তৎকালীন এবং পরবর্তী সময়ের মুজাহিদ উলামায়ে কেরাম ফাতওয়া দিয়েছেন, নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। সেগুলো আলহামদুলিল্লাহ বর্তমান বিশ্বের জিহাদি হালাকাগুলোতে বেশ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। মোটকথা জিহাদের এ দীর্ঘ ইতিহাস থেকে দুইটি বিষয়ই শিখেছি, যা আমাদেরকে গোমরাহি কিংবা পদস্খলন থেকে রক্ষা করতে পারে। তা হচ্ছে,
প্রথমত, অতীত ও বর্তমান সময়ের উলামায়ে হক্কানির অনুসরণ করা।
দ্বিতীয়ত, জিহাদি আন্দোলনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে ফায়দা অর্জন করা।
মুজাহিদগণ যদি এই দুটি বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেয়, ইনশাআল্লাহ জিহাদ ও উম্মাহর বিরাট উপকার সাধন হবে। আমরাও ভ্রষ্টতা ও পদস্খলন থেকে বেঁচে যাবো।
উদাহরণস্বরূপ, ইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানের দৃষ্টান্ত তো আপনাদের সামনেই আছে। এখনো পুরো আফগানিস্তানে তারা লড়ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রধান টার্গেট থাকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী। প্রাসঙ্গিক লড়াই থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। পাশাপাশি সাধারণ মুসলমানদের নিরাপত্তা দান করে। তাদের এই কর্মপদ্ধতি ইসলামী ও জিহাদি আন্দোলনকে সুদৃঢ় করার নামান্তর। এ কারণে এখানের জনসাধারণ ইমারতে ইসলামীকে নিজেদের মুক্তির দূত মনে করে।
বর্তমানে সোমালিয়া, ইয়েমেন, জাযায়ের, মালির মতো দূর দূরান্তে জিহাদি আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এক দেশ অন্যদেশ থেকে আলাদা, ভাষাও ভিন্ন। কোনো কোনো অঞ্চলে মাযহাবও ভিন্ন। এই ভূখণ্ডগুলোতে আলহামদুলিল্লাহ ইমারতে ইসলামীর কর্মপন্থাই পরিলক্ষিত হয়। এর ফলে পূর্ণ লাভটাই তারা ঘরে তুলতে পারছে। এ বিষয়টি এ কথারই প্রমাণ বহন করে, ভাষা-ভূখণ্ড এবং মাযহাব বিভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও ঐ ভূখণ্ডগুলোর মুজাহিদরা সেখানে ইমারতে ইসলামী ও অন্যান্য ভূখণ্ডের জিহাদি আন্দোলন-কর্মকাণ্ড থেকে অনেক কিছুই শিখছেন, সেখানকার মুজাহিদরা তাঁদের উলামায়ে কেরামকেও অনুসরণ করছেন।
বিপরীতে দাওলার সকল বাড়াবাড়ির মূল কারণ হলো- তারা নিজেদের দল, সংগঠন ছাড়া কিছুই বুঝে না। অন্য কারো অভিজ্ঞতা দ্বারা উপকৃত হওয়াকে তারা অপ্রয়োজনীয় মনে করে। ফলে নিজেদের খাহেশাত ও সুবিধা-মতো নিত্য-নতুন মূলনীতি তৈরির ফলে পুরো জাতিকে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: এই পর্বের পরিসমাপ্তিতে আপনি কি মুজাহিদীন এবং পাকিস্তানের সাধারণ মুসলমানদেরকে কোনো বার্তা দিতে চাচ্ছেন?
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: আমার একান্ত অন্তরঙ্গ পাকিস্তানি ভাইদের উদ্দেশ্যে বলবো, আজ এই ভূখণ্ডে হক-বাতিলের লড়াই চলছে। আর এ যুদ্ধ জুলুমের বিরুদ্ধে ইসলামের লড়াই। ইসলাম ও কুফরের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে আমাদের মুসলমানদের গা ছাড়া ভাব কিংবা আনন্দ ফুর্তির অবকাশ নেই। এই লড়াইয়ে প্রত্যেক মুসলমানের উপর সাধ্যানুযায়ী অংশগ্রহণ করা ফরয। এই মহান ফরয বিষয়টিকে আপনাদের কাছে ধুম্রজাল কিংবা ধোঁয়াশায় পরিণত করা, হক বাতিলের পরিচয়কে কঠিন করে তোলার জন্য এখানে অগণিত বাঁধার পাহাড় তৈরি করে রাখা হয়েছে। শত্রু-মিত্র ও ভালো-মন্দের পার্থক্য কঠিন করে দেওয়া হয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে হককে জানা এবং তাকে সহোযোগিতা করা দীনি ফরয। পূর্বের তুলনায় আজ জিহাদ ও মুজাহিদদের একটু বেশি পরিমাণ সময় দেয়া প্রয়োজন। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখা উচিত, এই লড়াই আপনাদের স্বাধীনতা, সফলতা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। এই লড়াইয়ে হকের পাশে দাঁড়ানো আপনাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সমানভাবে সফলতার মাধ্যম হবে, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ তাআলা আপনাদের জন্য হকের সাহায্য ও সমর্থনকে সহজ বানিয়ে দিন।
এমনভাবে, ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষ করে পাকিস্তানের সকল মুজাহিদ ভাইয়ের প্রতি আমার নিবেদন- আমরা যদি দুটি বিষয়ের উপর আমল করতে পারি, তাহলে মিথ্যুক-দাগাবাজদের অপবাদ ও কূটকৈাশল কিংবা তাদের সৈন্য-সামন্ত, অন্যায়-অবিচার ও সীমালঙ্ঘন আমাদের কোনোই ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। মহাপ্রতাপশালী মহাপরাক্রমশালী সত্তা ইরশাদ করেন:
إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا ۖ وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا ۗ إِنَّ اللَّـهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ
অর্থঃ “তোমাদের যদি কোনো মঙ্গল হয়, তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে আনন্দিত হয়। আর তাতে যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনোই ক্ষতি হবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে সে সমস্তই আল্লাহর আয়ত্তে রয়েছে।” (সূরা আলে-ইমরান ০৩:১২০)
শরীয়তের অনুসরণে ধৈর্য ধরা, তাকওয়া অবলম্বন করা এই লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার। আর এই অস্ত্রে যদি আমরা নিজেদেরকে সুসজ্জিত করতে পারি, তাহলে তাদের এসব অপচেষ্টা, কূটকৌশল তাদের উপরই বর্তাবে ইনশাআল্লাহ।
তাদের এসমস্ত কূটচাল, প্রভাব-প্রতিপত্তি অচিরেই তাদের ধ্বংসের কারণ হবে। গাযওয়ায়ে হিন্দের এই মোবারক জিহাদের জন্য আল্লাহ আপনাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ আপনাদের হাতে শুধু পাকিস্তান নয় বরং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের দুনিয়া ও আখিরাতকে আলোকজ্জ্বল করবেন। জালেম ও দাম্ভিকদেরকে আপনাদের মাধ্যমেই ইসলামের সামনে মাথা নোয়াবেন। আপনাদের এই বরকতপূর্ণ কাজ ও মোবারকময় জিহাদের মাধ্যমে নির্যাতিতরা তাদের ন্যায্য হক ফিরে পাবে।
সুতরাং এগিয়ে যান এবং এই বরকতময় জিহাদি কাফেলায় সারিবদ্ধ হোন। যেখানেই কোনো চোর কিংবা ছিনতাইকারী এই বরকতময় জিহাদের সাজানো বাগানকে ছিন্ন-ভিন্ন করে দিতে চায়, সেখানেই আমরা জবরদস্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবো। একদিকে যেমন আপনারা জনসাধারণের সাথে দয়াদ্রতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিবেন ঠিক অপরদিকে আপনারাই আল্লাহর পক্ষ হতে কুফরের চেলা-চামুণ্ডাদের উপর যমদূত হয়ে আবির্ভূত হবেন। আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথের দিশা দানকারী এবং বাতিলের বিরুদ্ধে বিজয় দানকারী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর দয়ার চাদরে আবৃত করুন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: প্রিয় পাঠকবৃন্দ! এর সাথে সাথে আমরা এ পর্বের সাক্ষাৎকার শেষ করতে যাচ্ছি।
শ্রদ্ধেয় উস্তাদ! আস-সাহাব ভারতীয় উপমহাদেশের পক্ষ থেকে আমরা এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের জন্য আপনাকে একান্ত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
উস্তাদ উসামা মাহমুদ: আমিও আপনাদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কারণ আপনারা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন। সর্বশেষ আল্লাহর কাছে এ ফরিয়াদই রইল যে, তিনি যেন দাওয়াহ ইলাল্লাহকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সব ধরনের টুটাফুটা মেহনত ও পরিশ্রমকে কবুল করেন। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।
আস-সাহাব উপমহাদেশ: প্রিয় পাঠক! আমরা এখানেই এ সাক্ষাৎকার শেষ করতে যাচ্ছি। সর্বশেষ এটাই বলবো যে, আমাদেরকে এবং সকল মুজাহিদ ভাইকে আপনাদের দোয়ায় ভুলবেন না। আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
*******
روابط بي دي اب
PDF [554 KB]
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৫৫৪ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/NKLzsNGLtpeNB3b
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/Qkq7eWWM42wt8jR
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/3mxWhIBL#fItKftwnxMuvpBxb75y5uyD7XaxipHdrQyedfIaDsac
روابط ورد
Word (305 KB)
ওয়ার্ড [৩০৫ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/Yzt9AicG4JeqE9f
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/sg47iHNkr6ytTbw
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/fuIgyYbJ#l2SyJ4o1mhZT1ZC-M9sQJ4VucXZfslc-D4kyR9ebf1M
روابط الغلاف- ١
book Banner (658 KB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৬৫৮ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/t3NitD3wftti9cN
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/7BKwkkHBJYQKYmi
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/r6whFQzB#MI8IC3gPg1jNX1e2Z-qzaBH7dY5FgjLigUVQFkhIYug
روابط الغلاف- ٢
Banner [78 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [৭৮ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/apJEDnYNANWGwNi
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/Dpk2CQxggD2Amcw
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/yqoQGbqB#-AOvw4zOH836Th0IzoIv2qicl9Oi_Waego0GsLS5lCw
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent



