আশ শুহাদা মিডিয়ানির্বাচিতনির্বাচিত প্রকাশনাপিডিএফ ও ওয়ার্ডবার্তা ও বিবৃতিমিডিয়া

Bengali Translation || ২০০১ সালে আমেরিকার আফগানিস্তান আক্রমণের প্রেক্ষিতে আল-জাজিরাকে প্রদত্ত শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি রহিমাহুল্লাহ’র বিশেষ সাক্ষাৎকার

مؤسسة الشهداء
আশ শুহাদা মিডিয়া
Ash Shuhada Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:

جلال الدين حقاني .. الضربات الأميركية لطالبان

২০০১ সালে আমেরিকার আফগানিস্তান আক্রমণের প্রেক্ষিতে আল-জাজিরাকে প্রদত্ত
শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি রহিমাহুল্লাহ’র বিশেষ সাক্ষাৎকার

A special interview given to Al Jazeera by Sheikh Jalaluddin Haqqani (may Allah have mercy on him)
in the wake of the US invasion of Afghanistan in 2001.

 

 

ভূমিকা

সম্মানিত পাঠক! ২০০১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলো আজ কেবলই ইতিহাসের অংশ। এই দীর্ঘ আড়াই দশকে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই সাক্ষাৎকারের অতিথি শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি রহিমাহুল্লাহ, তৎকালীন আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর রহিমাহুল্লাহ, শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ এবং তাঁদের অসংখ্য সাথি ও মুজাহিদ ভাই ইতোমধ্যে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেছেন।

অন্যদিকে, দীর্ঘ বিশ বছরের রক্তক্ষয়ী মেহনত ও ত্যাগের পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ইমারতে ইসলামিয়া (তালেবান) পুনরায় আফগানিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানির সুযোগ্য সন্তান খলীফা সিরাজুদ্দীন হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ বর্তমানে সেই স্বাধীন আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।

তাহলে এত দীর্ঘ সময় পর এই পুরনো সাক্ষাৎকারটি আমাদের জন্য কেন প্রাসঙ্গিক হতে পারে? এর পেছনে মূলত কয়েকটি অত্যন্ত গভীর ও শিক্ষণীয় কারণ রয়েছে:

১. সাক্ষাৎকারটি যখন নেওয়া হচ্ছিল, তখন আমেরিকার মতো পরাশক্তি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো বোমা ফেলছে। ইসলামী ইমারতের পতন তখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই পুরো দুনিয়া মনে করছিল। ঠিক সেই চরম হতাশা ও আতঙ্কের মুহূর্তে শায়খ হাক্কানি পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে বলেছিলেন যে, ইনশাআল্লাহ এই আফগানিস্তান আমেরিকান বাহিনীর গোরস্থানে পরিণত হবে। আজ পঁচিশ বছর পর আমরা যখন ইতিহাসের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই তাঁর সেই ঈমানি ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এটি আমাদের শেখায় যে, পরিস্থিতি যত ভয়ংকরই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত।

২. শায়খ হাক্কানি এই সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত সাবলীলভাবেই বলে দিয়েছিলেন যে, যদি আমেরিকা বড় শহরগুলো দখল করেও নেয়, তবে তাঁরা পাহাড়ে চলে যাবেন এবং দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধ শুরু করবেন। বাস্তবে ঠিক তা-ই ঘটেছিল। তাঁরা শহর ছেড়ে পাহাড়ে গিয়েছিলেন এবং টানা বিশ বছর ধরে এমন এক গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন, যা আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানকেও হতবাক করে দিয়েছে। এই সাক্ষাৎকারটি মূলত সেই মহাবিজয়ের একটি আগাম নিখুঁত রূপরেখা, যা আজ ইতিহাসের এক জীবন্ত পাঠ।

৩. পুরো দুনিয়া যখন আমেরিকার ভয়ে কাঁপছে, তখন কেবল একজন মুহাজির ভাইকে কাফেরদের হাতে তুলে না দেওয়ার জন্য তাঁরা নিজেদের পুরো রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও জীবন বাজি রেখেছিলেন। আধুনিক রাজনীতির ‘প্রাগমেটিজম’ বা স্বার্থপর কূটনীতির এই যুগে এটি ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ ও দ্বীনি গায়রতের এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত। মদীনার আনসার ও মুহাজিরদের সেই সোনালি ইতিহাসকেই তাঁরা এ যুগে নতুন করে জিন্দা করেছিলেন।

৪. বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেকেই একটি অদ্ভুত বিভাজন তৈরি করতে চান। তাঁরা ইমারতে ইসলামিয়া কিংবা তালেবানকে ‘ভালো’ বলেন, কিন্তু তাঁদেরই আশ্রয়প্রাপ্ত আল-কায়েদাকে ‘খারাপ’ অথবা চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে থাকেন। অথচ এই সাক্ষাৎকারটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, তালেবানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহ এবং তাঁর সাথিদের সম্পর্কে ঠিক কী ধারণা রাখতেন এবং তাঁদের কতটা সম্মান করতেন। তাঁদের চোখে শায়খ উসামা কোনো ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘বোঝা’ ছিলেন না। তিনি বরং ছিলেন দ্বীনের খাতিরে ঘর-বাড়ি ও দুনিয়াবি আরাম-আয়েশ ত্যাগ করা একজন অত্যন্ত সম্মানিত ‘মুহাজির’ ভাই। তাঁকে কাফেরদের হাতে তুলে দেওয়াকে তাঁরা নিজেদের ঈমান হারানোর সমতুল্য বলেই মনে করতেন। আড়াই দশক পর আজও ইমারতে ইসলামিয়া সেই নীতিতেই অটল রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা দুনিয়াবি স্বার্থের লোভে তাঁরা কখনোই তাঁদের সেই পুরনো সাথিদের সাথে বেইমানি করেননি কিংবা তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করেননি। বরং ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সেই মজবুত রশি আজও তাঁরা শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরে আছেন।

৫. ব্যক্তি মারা যায়, কিন্তু আদর্শ বেঁচে থাকে। শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি আজ দুনিয়াতে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ঈমানি তরবিয়ত ও জিহাদি মেহনতের ফসল আজ তাঁর সন্তান সিরাজুদ্দীন হাক্কানি এবং নতুন প্রজন্মের মুজাহিদদের মাঝে পূর্ণরূপে দৃশ্যমান। বাতিল শক্তির শত প্রলোভন ও চাপ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা যে নিজেদের আদর্শ থেকে একচুলও সরে আসেননি, এই সাক্ষাৎকারটি মূলত সেই শেকড়েরই সন্ধান দেয়।

সম্মানিত পাঠকদের এখানে জানিয়ে রাখতে চাই যে, মূল আরবী টেক্সটে মূলত কোনো ধরনের শিরোনাম বা পরিচ্ছেদ ছিল না। কিন্তু পাঠকদের পড়ার স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার কথাটি আমাদের বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়েছে। একটি দীর্ঘ, টানা আলোচনা পড়তে গিয়ে অনেক সময়ই মূল বিষয়বস্তু থেকে খেই হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। সেই দিকটি মাথায় রেখেই, অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ‘সম্পাদনাগত শিরোনাম’ এবং ছোট ছোট উপশিরোনাম যুক্ত করেছি।

এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, এই দীর্ঘ পুস্তিকাটিকে পাঠকের কাছে একদম পানির মতো সহজবোধ্য করে তোলা, যাতে পাঠক খুব সহজেই বুঝতে পারেন আলোচনার গতিপ্রকৃতি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে।

পরিশেষে এটিই বলতে চাই যে, এই সাক্ষাৎকারটি কেবল একটি পুরনো রাজনৈতিক দলীল নয়; বরং এটি আধুনিক যুগের মুসলিমদের জন্য তাওয়াক্কুল, আত্মমর্যাদা, কৌশল এবং ঈমানি অবিচলতার একটি জীবন্ত পাঠ্যবই। যখনই মুসলিম উম্মাহ কোনো চরম সংকটে পড়বে, তখন এই ধরনের ইতিহাস তাদেরকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে। মূলত এই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সাধারণ শিক্ষিত ও ধার্মিক শ্রেণির কাছে সজীব করে তোলার জন্যই আমাদের এই অনুবাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের এই মেহনতকে কবুল করুন। আমীন।

– সম্পাদনা বিভাগ

 

সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়বস্তু:

  • মার্কিন স্থল হামলার বিষয়ে তালেবানের অবস্থান
  • আফগানিস্তানে কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়ে তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গি
  • আমেরিকা ও তালেবানের মাঝে পাকিস্তানের দ্বিমুখী অবস্থান
  • আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধ-প্রস্তুতি

আহমাদ যাইদান: সুপ্রিয় দর্শক, আল-জাজিরার ‘লিকায়ুল ইয়াওম’ (আজকের সাক্ষাৎকার)  অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আমাদের অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন প্রখ্যাত জিহাদি কমান্ডার এবং তালেবান সরকারের সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী, কমান্ডার জালালুদ্দীন হাক্কানি। জনাব হাক্কানি, আল-জাজিরার এই বিশেষ আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম। শুরুতেই আপনার কাছে জানতে চাইব, তালেবান সরকারের একজন দায়িত্বশীল হিসেবে আপনি কি মনে করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: দেখুন, তাদের মনে একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, কেবল বিমান হামলা চালিয়েই তারা নিজেদের তিনটি প্রধান লক্ষ্য অর্জন করে ফেলবে। তারা ভেবেছিল, আকাশ থেকে নির্বিঘ্নে বোমা ফেললেই তাদের সমস্ত উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে, ইল্লা মাশাআল্লাহ!

  • তাদের প্রথম লক্ষ ছিল তালেবান সরকারকে পুরোপুরি ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। তাদের ধারণা ছিল, এই ব্যাপক হামলার মুখে আমাদের সরকারের অনেকেই দলত্যাগ করে তাদের পক্ষে যোগ দেবে। ফলে আমাদের ভেতরের মতবিরোধগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, আল্লাহ না করুন এমনটি ঘটুক।
  • তাদের দ্বিতীয় লক্ষ ছিল আল-কায়েদা, শায়খ উসামা এবং তাঁর সাথিদের সম্পূর্ণ খতম করে দেওয়া। তারা ভেবেছিল যে, বিমান থেকে নিখুঁত নিশানায় বোমা ফেলে মুহাজির মুজাহিদদের সমস্ত কেন্দ্র তারা গুঁড়িয়ে দেবে।
  • তাদের তৃতীয় লক্ষ্যটি ছিল তালেবান সরকারকে উৎখাত করে সেখানে একটি ‘ব্রড-বেসড’ তথা বিস্তৃত ভিত্তির সরকার গঠন করা। তারা চেয়েছিল একটি তথাকথিত গণতান্ত্রিক ও কোয়ালিশন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে। এমন একটি সরকার যেখানে কাফের ও মুসলিম নির্বিশেষে সবাই থাকবে এবং যার কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় থাকবে না, অর্থাৎ একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। তারা চেয়েছিল তালেবানের জায়গায় ঠিক এই পুতুল সরকারটিকে বসিয়ে দিতে।

মূলত এই তিনটিই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।

কিন্তু আপনারা নিজেরাই এখন দেখতে পাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষও খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে যে, তাদের এই হামলার পনেরো দিন ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। অথচ এই পনেরো দিনে তারা নিজেদের সেই তিনটি লক্ষ্যের এক শতাংশও অর্জন করতে পারেনি। বরং তাদের এই আগ্রাসনের ফলে তালেবান সরকারের ভেতরের ঐক্য ও সংহতি আগের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া হামলার আগে মানুষের মনে যে কিছুটা আতঙ্ক বা ভয় কাজ করছিল, সেটিও এখন পুরোপুরি কেটে গেছে।

তারা দাবি করেছিল যে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা ও কেন্দ্রগুলোতেই নিখুঁতভাবে হামলা চালাবে। অথচ বাস্তবে তারা অসংখ্য সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে বোমা ফেলেছে। তাদের এই বর্বর হামলার কারণে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তাদের প্রতি এক তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গোটা বিশ্বের মুসলিমরা আজ নতুন করে জেগে উঠেছে এবং প্রকাশ্যে তালেবান সরকারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করেছে।

সুতরাং শায়খ উসামা অথবা তাঁর সাথিদের টিকিটিও তারা ছুঁতে পারেনি। অন্যদিকে তাদের সেই তৃতীয় লক্ষ্যটিও ধোপে টেকেনি। তারা চেয়েছিল অস্ত্রের জোরে জহির শাহের মতো লোকদের নিয়ে একটি বিস্তৃত ভিত্তির গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে। কিন্তু এটি তো তখনই সম্ভব হতো, যখন তালেবান সরকারের পতন ঘটত। অথচ তালেবান সরকার এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষ এবং মিত্ররা তালেবানের পাশে এসে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে। গোটা মুসলিম বিশ্বের মানুষ আজ আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা বিক্ষোভ মিছিল করছে ও অনুদান সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ থেকে জিহাদি কাফেলাগুলো প্রতিনিয়ত আফগানিস্তানের ভেতরে প্রবেশ করছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে আমার জায়গায় অন্য কাউকে বসিয়ে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আর আপনি যে স্থল হামলার কথা জিজ্ঞেস করলেন, হ্যাঁ, গত ১৪ তারিখ রাতে তারা বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল হামলাও শুরু করেছে। তবে এই স্থল হামলা এমন নয় যে, বাইরে থেকে তাদের বিশাল কোনো সেনাবাহিনী কিংবা পদাতিক বাহিনী আফগানিস্তানের মাটিতে ঢুকে পড়েছে। বরং তারা বিমান থেকে কান্দাহারের আশেপাশের কিছু নির্দিষ্ট ও বিশেষ কেন্দ্রে নিজেদের কিছু কমান্ডো বাহিনী নামিয়েছে মাত্র।

জোট সরকার গঠন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

আহমাদ যাইদান: সাধারণত দেখা যায়, কোনো আন্দোলন অথবা রাষ্ট্র যখন আন্তর্জাতিক কিংবা অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়ে, তখন তারা নিজেদের সরকারের পরিধি বিস্তৃত করে। কিন্তু আপনারা তালেবানরা কেন সেই সব মুজাহিদ কমান্ডারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন না, যারা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, তারা আপনাদের পাশে থেকে যুদ্ধ করতে এবং আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত? আপনারা এখনো কেন এই জেদ ধরে আছেন যে, সরকার কেবল তালেবানদেরই হতে হবে? যারা আপনাদের সমর্থন করছে এবং আমেরিকানদের বিরুদ্ধে আপনাদের অবস্থানের সাথে পুরোপুরি একমত, তাদের কেন সরকারে যুক্ত করছেন না?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: না, বিষয়টা মোটেও এমন নয় যে, আমরা তাদের যুক্ত হতে নিষেধ করেছি। তারা যে ঘোষণা দিয়েছেন, তালেবানের পক্ষ থেকে তা সাদরে গৃহীত হয়েছে। তারা যদি আমাদের সাথে যুক্ত হতে চান, তবে তালেবানের পক্ষ থেকে এতে কোনো ধরনের বাধাই নেই।

আহমাদ যাইদান: শোনা যাচ্ছে যে, গুলবুদ্দীন হেকমতিয়ারের ‘হিযবে ইসলামী’-এর সাথে আপনাদের যোগাযোগ চলছে। এই কথাটি কি সত্য?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: হ্যাঁ, তাদের সাথে আমাদের চমৎকার যোগাযোগ রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই হয়তো আপনারা এর একটি ইতিবাচক পরিণতি দেখতে পাবেন।

আহমাদ যাইদান: হিযবে ইসলামীর সাথে আলোচনা করে আজ পর্যন্ত আপনারা ঠিক কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: এই মুহূর্তে আমার পক্ষ থেকে অথবা তালেবানের পক্ষ থেকে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। বাস্তবিক অর্থেই কোনো শর্ত নেই। তারা যদি আসতে চায়, তবে বর্তমান ইমারতে ইসলামিয়ার অধীনেই তাদের আসতে হবে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কৌশলগত প্রস্তুতি

আহমাদ যাইদান: শায়খ, গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তানের ওপর আমেরিকার এই যে টানা বোমাবর্ষণ চলছে, এতে আপনাদের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: সম্মানিত ভাই, আমেরিকানদের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সে তুলনায় আমাদের বলতে গেলে কোনো ক্ষতিই হয়নি। আমি তো আগেই আপনার সামনে তুলে ধরেছি যে, তাদের প্রথম লক্ষ ছিল আল-কায়েদা ও উসামার জামাতকে নিশ্চিহ্ন করা। কিন্তু এই ১৪-১৫ দিনের টানা বোমাবর্ষণে তারা তাদের একজন লোককেও বন্দী করতে কিংবা হত্যা করতে পারেনি।

আমাদের মজলিসে শুরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আমরা আফগানিস্তানে আমেরিকানদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। তারা আমাদের বড় বড় শহর দখল করার আগেই যদি আমরা তাদের পরাজিত করে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত করতে পারি, তবে তো আলহামদুলিল্লাহ! আর আল্লাহ না করুন, যদি তারা নর্দান অ্যালায়েন্স তথা উত্তরাঞ্চলীয় জোট, মার্কিন সৈন্য এবং আমেরিকান ডলারের জোরে জহির শাহের লোকদের নিয়ে কোনোভাবে আমাদের কিছু বড় শহর দখল করেও নেয়, তবুও আমরা প্রস্তুত।

আপনারা একটু স্মরণ করে দেখুন, এর আগে যখন কমিউনিস্ট সরকার ছিল এবং রুশ বাহিনী আগ্রাসন চালিয়েছিল, তখন আমাদের হাতে কোনো বড় শহর ছিল না। আমাদের কোনো সরকার ছিল না, বিমানবন্দর ছিল না, হাসপাতাল কিংবা ব্যাংক ছিল না। বস্তুত সরকারের কোনো কিছুই তখন আমাদের হাতে ছিল না। আমরা তখন পাহাড়ের চূড়ায় এবং একেবারে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছিলাম। সেখান থেকেই আমরা আমাদের গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেছিলাম। এরপর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অশেষ মেহেরবানিতে আমরা বড় বড় কেন্দ্র ও শহর জয় করেছিলাম। ফলে কমিউনিস্ট সরকারের পতন ঘটেছিল, রুশ বাহিনী পালাতে বাধ্য হয়েছিল এবং আফগানিস্তান পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করেছিল।

সুতরাং সেই অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের ভাণ্ডারে রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা বলছি যে, যদি বড় শহরগুলো এবং পুরো সরকার আমাদের হাতে থাকে, তবে আমরা এই বাতিল মার্কিন বাহিনী এবং তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করব। তালেবান সরকারের পতন হওয়ার আগে, অর্থাৎ বড় শহরগুলো হাতছাড়া হওয়ার আগেই যদি আমরা বিজয় লাভ করি, তবে তো তা খুবই ভালো। আর যদি কিছু বড় শহর তাদের হাতে চলেও যায়, তবে আমরা দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধ শুরু করব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ফজল ও করমে আমরা এই যুদ্ধ ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না মার্কিন বাহিনীকে আমরা এই মাটি থেকে বের করে দিই। ইনশাআল্লাহ, এই আফগানিস্তান আমেরিকান বাহিনীর গোরস্থানে পরিণত হবে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আফগানিস্তানের ওপর বাতিল শক্তির এই আগ্রাসনই যেন তাদের জীবনের শেষ আগ্রাসন হয়।

মধ্যপন্থী বনাম কট্টরপন্থী নামক পশ্চিমা বিভাজনের জবাব

আহমাদ যাইদান: অনেক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, তালেবানদের ভেতরে নাকি দুটি ভাগ রয়েছে। বলা হচ্ছে যে একদল হলো মধ্যপন্থী তথা মডারেট এবং আরেকদল হলো কট্টরপন্থী কিংবা হার্ডলাইনার। সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, আপনারা ইসলামাবাদে এসেছেন মূলত একটি বিস্তৃত সরকার অথবা ভবিষ্যতের কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে। তাদের মতে, আপনি এবং ওয়াকিল আহমাদ মুতাওয়াক্কিল হলেন ‘মধ্যপন্থী’। এই কথার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: সুবহানাল্লাহ! আমি তো জানতাম না যে, ইসলামের আবার দুটি স্তর আছে। আমি জানতাম না যে, এর একটি মধ্যপন্থী আর অপরটি কট্টরপন্থী! আল্লাহর কসম, আমি এমন কিছুই জানি না। ইসলাম তো কেবল একটাই। ইসলাম হলো ভারসাম্যপূর্ণ ও কল্যাণের দ্বীন। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে এই দ্বীন পাঠিয়েছেন। এটি মূলত কুরআনের দ্বীন। কুরআন তো আর দুটি কিতাব নয়, তেমনি হাদীসও দুই প্রকারের নয়। দ্বীন পালনেরও এমন দুটি ভিন্ন তরিকা নেই যে, তার কারণে একজন কট্টরপন্থী হবে আর আরেকজন মধ্যপন্থী হবে।

তালেবানের মধ্যে অমুক মধ্যপন্থী আর তমুক কট্টরপন্থী, এমন কোনো বিভাজন আমার অন্তত জানা নেই। আসলে মানুষ নিজেদের মনমানসিকতা দিয়েই আমাদের বিচার করে। কারণ তাদের নিজেদের ভেতরেই এমন দুটি ধারা রয়েছে। ইসলামের যে বিধানটি তাদের নফস তথা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যায়, তারা সেটিকে নাম দেয় ‘কট্টরপন্থা’। আর যে বিধানটি তাদের প্রবৃত্তির সাথে মিলে যায়, তারা সেটিকে বলে ‘মধ্যপন্থী দ্বীন’।

আহমাদ যাইদান: আপনার এই সফরে পাকিস্তান কি আপনাদের কাছে এমন কোনো অনুরোধ করেছে যে, আপনারা তালেবানদের একটি অংশ নিয়ে কোনো বিস্তৃত অথবা কোয়ালিশন সরকারে যোগ দিন?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: জিহাদের প্রথম দিন থেকেই পাকিস্তান সরকার আমার অবস্থান খুব ভালো করেই জানে। তারা আমার নীতি ও আদর্শ সম্পর্কে চমৎকারভাবে অবগত। তাই আমাকে নতুন করে এমন কিছু জিজ্ঞেস করার কোনো প্রয়োজনই তাদের নেই। তারা যখন আমার সাথে বসতে আসে, তখন তারা বরং নিজেদের নানা কর্মকাণ্ডের জন্যই উল্টো আমার সামনে দুঃখপ্রকাশ করে।

তারা আমাকে কখনোই এমন কথা জিজ্ঞেস করার সাহস করবে না যে, আপনি ইসলাম ছেড়ে কুফরের দিকে আসুন, জিহাদ ছেড়ে পশ্চাৎপদতার দিকে ফিরে যান, ময়দান ছেড়ে ঘরে বসে থাকুন, কিংবা ইমারতে ইসলামিয়া অথবা ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ছেড়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ দিন। তারা তো আর পাগল হয়ে যায়নি! তাদের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের পরিচয় থাকার কারণে তারা আমাদের সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে।

আমেরিকা ও তালেবানের মাঝে পাকিস্তানের দ্বিমুখী অবস্থান

আহমাদ যাইদান: আমি বিষয়টি ঠিক কীভাবে মেলাব যে, পাকিস্তান একই সাথে তালেবানের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের সহযোগিতা করছে, আবার আপনারা ঠিক সেই পাকিস্তানেই সফর করছেন! প্রতিদিন পাকিস্তান থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়ে গিয়ে আফগানিস্তানে বোমাবর্ষণ করছে এবং তারা নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করছে। অথচ পাকিস্তানের সাথে আপনাদের সম্পর্ক তো অত্যন্ত মজবুত ছিল। আর সেই পাকিস্তানই কিনা এখন আপনাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামের তথ্য আমেরিকানদের হাতে তুলে দিচ্ছে, তাই নয় কি?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: সম্মানিত ভাই, আপনি তো জানেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সিংহভাগ সদস্যই ইসলামী চেতনায় গভীরভাবে বিশ্বাসী এবং তাদের আকীদাও ইসলামী। আমরা যে আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, তারাও মূলত সেই একই আদর্শের অনুসারী। আমরা যদি বলি যে, তারা অন্তর থেকে আমাদের এই অবস্থানের বিরোধী এবং আমেরিকার প্রতি পূর্ণ অনুগত, তবে আমি সত্যই বলব যে, এমন মানুষের সংখ্যা সেখানে একেবারেই নগণ্য। তারা বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। তারা যদি প্রজ্ঞা ও হিকমতের সাথে এই সংকট থেকে নিজেদের বের করে আনতে পারে, তবে তা তাদের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্যই কল্যাণকর হবে।

দীর্ঘদিন ধরে, বিশেষ করে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদের সময় তারা আল্লাহর রাস্তায় আমাদের প্রচুর সাহায্য করেছে। মুহাজির, মুজাহিদ এবং আহতদের চিকিৎসায় তারা সবসময় আমাদের পাশে ছিল। এখন আমেরিকার এই আগ্রাসনের সময়েও আমরা মহান আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি যেন বিশ্বের সাধারণ মুসলিমদের এবং বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী পাকিস্তানিদের সাহায্য থেকে আমাদের বঞ্চিত না করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু শর্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার চাপে তাদের প্রকাশ্য অবস্থানে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু তাই বলে আমরা তাদেরকে আমাদের শত্রু মনে করি না, বরং আমরা এখনো তাদেরকে আমাদের বন্ধু ও ভাই হিসেবেই গণ্য করি। আমরা তাদের সাথে নিয়মিত কথা বলি এবং একসঙ্গে বসি। ভবিষ্যতে আমরা দেখব, তারা কীভাবে প্রজ্ঞা ও হিকমতের সাথে এই ফাঁদ থেকে নিজেদের বের করে আনে এবং ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও খোদ পাকিস্তানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কারণ, আমেরিকানদের সাথে তাদের এই নৈকট্য কিংবা দূরত্বের প্রভাব সর্বপ্রথম খোদ পাকিস্তানের ওপরেই পড়বে।

আহমাদ যাইদান: শায়খ হাক্কানি, আফগানিস্তানের ওপর যখন মার্কিন বোমাবর্ষণ চলছে, ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে আপনার এই পাকিস্তান সফরের মূল উদ্দেশ্য কী? আর পাকিস্তানিরা ঠিক কী চেয়েছে আপনাদের কাছে?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: পাকিস্তানিরা আমাদের কাছে যা-ই চেয়ে থাকুক না কেন, ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আহমাদ যাইদান: কিন্তু এটা তো নিশ্চিত যে, আফগানিস্তানে একটি ‘বিস্তৃত সরকার’ তথা ব্রড-বেসড গভর্নমেন্ট গঠনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: না, আল্লাহর কসম! এখন তো নয়ই, বরং আমি কখনোই এমন কিছু মেনে নেব না। এমন সরকারে যোগ দেওয়া মানে তো পুনরায় কুফরের দিকে ফিরে যাওয়া, যা আমি চরমভাবে ঘৃণা করি। এই তথাকথিত ‘বিস্তৃত সরকার’ তো কোনো ইসলামী সরকার নয়। এটি হলো কাফের ও মুসলিমদের একটি জগাখিচুড়ি কুফরী সরকার, যার বেশিরভাগ সদস্যই হবে কাফের। আর এই সরকারটি মূলত চাপিয়ে দিচ্ছে আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত এবং অন্য বাতিল শক্তিগুলো। আপনারা তো জানেনই যে, ব্রিটিশরা হলো মুসলিম ও আফগানদের চরম শত্রু এবং আফগানদের সাথে তাদের শত্রুতার দীর্ঘ ইতিহাস সবারই জানা। অন্যদিকে পুতিনের নেতৃত্বাধীন রুশ বাহিনীও আফগান জাতি ও ইসলামের ঘোর শত্রু।

আহমাদ যাইদান: আচ্ছা, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে আপনার যে আলোচনা হয়েছে, তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: হ্যাঁ, আমার আলোচনা নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট।

শায়খ উসামা ইস্যু এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ প্রসঙ্গ

আহমাদ যাইদান: এবার আমরা শায়খ উসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। কেবল একজন ব্যক্তির জন্য একটি দেশের সকল জনগণকে বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করা এবং পুরো দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া কি কোনো ন্যায়বিচার হতে পারে? আপনারা কেবল একজন ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়ে নিজেদের পুরো দেশটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। আপনাদের এই অবস্থানের পক্ষে আপনারা ঠিক কী যুক্তি দেবেন?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: উসামা ও তাঁর সাথিদের সাথে কাশ্মীর, চেচনিয়া, উজবেকিস্তান অথবা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে আসা মুহাজিরদের পার্থক্য কোথায়? তারা তো মহান আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে হিজরত করে আফগানিস্তানের মাটিতে বসবাস করছেন। আমরা হলাম আনসার তথা আশ্রয়দাতা আর তারা হলেন মুহাজির। ইসলামী ভূখণ্ড তো আনসার ও মুহাজির উভয়ের জন্যই সমান অধিকারের একটি জায়গা। আমরা সবাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে এক কাতারে দাঁড়িয়েছি। তাহলে উসামা আর অন্য যেকোনো সাধারণ মুসলিমের মাঝে পার্থক্যটা কোথায়?

মদীনা মুনাওয়ারার একটি ঘটনা একটু স্মরণ করুন। একবার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই নামের এক মুনাফিক দম্ভ করে বলেছিল:

لَئِن رَّجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ

অর্থ: “আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে সম্মানিতরা অবশ্যই লাঞ্ছিতদের বের করে দেবে।” [সূরা মুনাফিকুন, ৬৩:০৮]

এর জবাবে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঘোষণা করলেন:

وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: “অথচ যাবতীয় সম্মান তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের জন্যই।” [সূরা মুনাফিকুন, ৬৩:০৮]

সেই লোকটি ছিল মুনাফিকদের সর্দার। তার নিজের ছেলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নিজের পিতাকে হত্যা করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার অনুমতি দেননি। তিনি বলেছিলেন যে মানুষ তখন বলাবলি করবে যে, মুহাম্মদ তাঁর নিজের সঙ্গীদেরকেই হত্যা করছে। যদিও লোকটি হত্যার উপযুক্ত ছিল, তবুও কেবল এই অপবাদের পথ বন্ধ করার জন্যই তাকে তখন হত্যা করা হয়নি।

এখান থেকে আমরা শিখতে পারি যে, দারুল ইসলাম তথা ইসলামী ভূখণ্ড আনসার ও মুহাজির উভয়ের জন্যই সমান। যদি কোনো মুহাজিরকে কেবল ইসলাম পালনের অপরাধে আক্রমণ করা হয় কিংবা তাকে শত্রুর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করা হয়, তবে স্থানীয় মুসলিমদের ওপর ফরয হয়ে যায় তাকে রক্ষা করা। ঠিক যেভাবে তারা নিজেদের সন্তান, নিজেদের ইজ্জত-আব্রু এবং নিজেদের জীবন রক্ষা করে, ঠিক সেভাবেই ওই মুহাজির ভাইকে রক্ষা করা তাদের ওপর ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়। শত্রুর মোকাবিলায় সবাইকে তখন এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হবে।

আজ আফগানিস্তানে মুসলিমদের যে কাতার তৈরি হয়েছে, সেখানে উসামা, হাক্কানি অথবা অন্য কারো মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। এখানে কেবল দুটি কাতার রয়েছে যার একটি হলো মুসলিমদের কাতার এবং অপরটি কাফেরদের কাতার। এর বাইরে তৃতীয় কোনো পক্ষ এখানে নেই।

আহমাদ যাইদান: শায়খ উসামা বিন লাদেনের সাথে আপনার শেষ কবে দেখা হয়েছে?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: এই যে আমি এখন আপনার সামনে বসে আছি, ঠিক এই মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। গত ১৫ তারিখ থেকে আফগানিস্তানের ওপর আমেরিকার যে বিমান ও স্থল হামলা চলছে, তাতে তাঁর গায়ে কোনো আঁচড়ও লাগেনি। তিনি কোনো আঘাত পাননি এবং অসুস্থও হননি। এমনকি তাঁর ধারে কাছেও কোনো বিপদের ছায়া পড়েনি।

আহমাদ যাইদান: আরব মুজাহিদদের মধ্যে কি কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে? শোনা যাচ্ছে যে, বোমাবর্ষণে তিন-চারজন আরব মুজাহিদ শহীদ হয়েছেন। কথাটি কি সত্য?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: না, আল্লাহর কসম! আমি কেবল একজন মিসরীয় ভাইয়ের কথা শুনেছি, যিনি নিজের হাতের গ্রেনেড ভুলবশত বিস্ফোরিত হওয়ায় আহত হয়েছেন। এর বাইরে এই বোমাবর্ষণে কোনো আরব ভাইয়ের সামান্যতম ক্ষতি হওয়ার খবরও আমার কাছে আসেনি। বস্তুত আমি সবসময়ই তাদের খোঁজখবর রাখি।

ইমারতে ইসলামিয়া এবং আমিরুল মুমিনিন প্রসঙ্গ

আহমাদ যাইদান: আপনারা যখন ‘ইমারতে ইসলামিয়া’ এবং ‘আমীরুল মুমিনীন’ শব্দগুলো ব্যবহার করেন, তখন এর দ্বারা কি বোঝান যে, তিনি কেবল আফগানদের আমীর? নাকি তিনি গোটা বিশ্বের সকল মুসলিমের আমীর? এই ইমারত কি নতুন কোনো ইসলামী খিলাফত?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: দেখুন, তিনি কি কেবল আফগানদের আমীর নাকি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের আমীর, সেই প্রশ্ন তোলা বা এর জবাব দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। মূল কথা হলো, আফগানিস্তানে একটি স্বাধীন ইমারতে ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে তাঁর নির্দেশনায় পরিপূর্ণ শরঈ বিধান বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আপনারা তো নিজেদের চোখেই দেখছেন যে, আমেরিকার এই জুলুমের বিরুদ্ধে তালেবান সরকারকে সমর্থন জানিয়ে আজ আরব ও অনারব নির্বিশেষে গোটা মুসলিম বিশ্বে কীভাবে তীব্র বিক্ষোভ হচ্ছে। সাধারণ মুসলিমরাই তো আপনাদের সামনে প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহরই আমীরুল মুমিনীন।

আজ যদি পৃথিবীর অন্য কোথাও তিন-চারটি অথবা পাঁচটি প্রদেশ নিয়ে স্বাধীন কোনো ইমারতে ইসলামিয়া থাকত, যারা প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দিত এবং আমেরিকাকে নিজেদের প্রভু হিসেবে মেনে না নিত, তবে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তো এমন কোনো ইমারত বা রাষ্ট্র কোথাও নেই। তাই আপনারা যে বলেন আমরা তাঁকে ‘আমীরুল মুমিনীন’ দাবি করি, এর পেছনের বাস্তবতা হলো বর্তমানে এই গুণাবলি সম্পন্ন দ্বিতীয় কোনো আমীর আমাদের সামনে উপস্থিত নেই।

 

মুজাহিদদের যুদ্ধ-প্রস্তুতি প্রসঙ্গ

আহমাদ যাইদান: মার্কিন বাহিনী কিংবা আন্তর্জাতিক জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তালেবানদের ঠিক কতজন যোদ্ধা প্রস্তুত রয়েছে? আর আরব মুজাহিদদের সংখ্যাই বা কত?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: আরব কতজন, আফগান কতজন অথবা তালেবান কতজন, যুদ্ধ তো আর নিছক এই সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। আপনারা তো জানেনই যে, বদরের প্রান্তরে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। কিন্তু মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে এবং কাফেরদের চোখে মুজাহিদদের বিশাল বাহিনী হিসেবে দেখিয়ে তাদের সেই সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আজও আমরা প্রতিদিন দেখছি যে, শত শত ও হাজার হাজার মানুষ নিজেদের টাকা, নিজেদের অস্ত্র এবং নিজেদের পোশাক নিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করছে। তারা তালেবান সরকারের কাছে কোনো টাকা, পোশাক, অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ কিছুই চায় না, বরং তারা কেবল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে চায়।

আহমাদ যাইদান: পাকিস্তান থেকে কি স্বেচ্ছাসেবক মুজাহিদরা আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছে?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: হ্যাঁ, প্রচুর। প্রতিদিন দলে দলে মুজাহিদরা এসে আমাদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।

আহমাদ যাইদান: শায়খ, শোনা যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ অথবা তুরস্কের সেনাবাহিনী প্রবেশ করতে পারে। এই বিষয়টিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: সম্মানিত ভাই, আমি মুজাহিদদের মুখে প্রায়ই একটি কথা শুনি। তারা বলে যে, বিমান হামলার সময় আমরা কেবল নিজেদের এবং আমাদের অস্ত্রশস্ত্রের হেফাযত করি। আমরা তখন তাদের সাথে সংঘাতে জড়াই না। কারণ তারা অনেক উঁচু থেকে বোমা ফেলে, যেখানে আমাদের অস্ত্র পৌঁছায় না। বস্তুত আমরা মূলত স্থলবাহিনীর অপেক্ষায় আছি।

ইতিহাস সাক্ষী, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন কোনো কাফের শক্তি বা তাদের দোসরদের ধ্বংস করতে চান, তখন তিনি তাদেরকে আফগানিস্তানে পাঠিয়ে দেন, যাতে আফগানদের হাতে তারা চরম মার খায়। অথচ অর্থনীতি, অস্ত্রশস্ত্র কিংবা সামরিক দিক থেকে আফগানরা বিশ্বের বুকে অত্যন্ত দুর্বল। অন্যান্য দেশের মতো তাদের কোনো সুসংগঠিত বিশাল সেনাবাহিনী অথবা বিপুল অর্থবিত্ত নেই। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:

بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ

 অর্থ: “বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।” [সূরা আম্বিয়া, ২১:১৮]

মহান আল্লাহ মূলত এই দুর্বল মুসলিমদেরকেই ‘সত্য’ হিসেবে দাঁড় করান এবং তাদের মাধ্যমেই কাফেরদের মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন।

আর আপনি যে তুর্কি বাহিনীর কথা বললেন, তারা তো খোদ তুরস্কেই ইসলামকে পরিত্যাগ করেছে এবং মুসলিমদের ওপর চরম জুলুম চালাচ্ছে। আমরা শুনেছি যে, তারা সেখানে নারীদের হিজাব পরতে দেয় না এবং আলেমদের জুব্বা বা পাগড়ি পরতেও বাধা দেয়। এমনকি ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের ওপরও তারা নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করে। সুতরাং মহান আল্লাহ যদি এমন কোনো পাপাচারী বাহিনীকে ধ্বংস করতে চান, তবে হয়তো তিনি তাদেরকে আমেরিকানদের সাথেই এখানে পাঠাবেন। আর ইনশাআল্লাহ, তারা এখানে এসে নিজেদের কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করবে।

আহমাদ যাইদান: সবার মনেই একটি প্রশ্ন জাগছে যে, তালেবানরা কেন মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর বিরুদ্ধে ‘স্টিংগার’ (Stinger) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে না?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কাছে সেগুলো পর্যাপ্ত মজুদ আছে। ইনশাআল্লাহ, একেবারে মোক্ষম সময়েই সেগুলো ব্যবহার করা হবে। এখন তো তাদের বিমানগুলো অনেক উঁচুতে উড়ছে। আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন যে, বিগতকাল যখন তারা কমান্ডো নামিয়ে স্থল হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, তখন তাদের একটি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মানে হলো, যখন তারা স্থল হামলা চালাবে অথবা নিচ দিয়ে উড়ে এসে বোমা ফেলার চেষ্টা করবে, ঠিক তখনই বিমান ভূপাতিত করার আসল সুযোগটি তৈরি হবে। ইনশাআল্লাহ, সময় এলেই আপনারা তা নিজের চোখে দেখতে পাবেন।

মুসলিম উম্মাহর সমর্থন ও ভবিষ্যৎ কৌশল

আহমাদ যাইদান: আপনাদের এই সংকটে সাধারণ মুসলিম জনতা এবং মুসলিম দেশগুলোর যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, সেটিকে আপনারা কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সাধারণ মুসলিম জনতা আমাদের প্রতি ভালোবাসায় কোনো কমতি রাখেনি। আপনারা নিজেরাও দেখছেন ও শুনছেন এবং আমরাও দেখছি। আরব বিশ্বসহ এমন অনেক দেশ রয়েছে যাদের ইতিহাসে কখনো সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বিক্ষোভ হয়নি, অথচ আজ তারাও আমেরিকানদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে এবং তালেবান সরকারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছে। অনেকেই প্রকাশ্যে ইমারতে ইসলামিয়ার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলছে, “আমরা যদি কোনো পথ পাই, তবে অবশ্যই জিহাদের ময়দানে ছুটে আসব এবং নিজেদের জান-মাল দিয়ে আপনাদের সাহায্য করব।”

আহমাদ যাইদান: আপনার নামের শেষে ‘হাক্কানি’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী? এর সাথে কি বিখ্যাত ‘দারুল উলুম হাক্কানিয়া’ মাদরাসার কোনো সম্পর্ক আছে?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: জি, হ্যাঁ। মূলত হাক্কানিয়া মাদরাসার দিকে নিসবত করেই আমার এই নামটি রাখা। আমি স্বয়ং ওই জামিয়ারই একজন ছাত্র। আমাদের অনেক মুজাহিদ কমান্ডার এবং বর্তমান তালেবান সরকারের অনেক মন্ত্রীই হাক্কানিয়া মাদরাসার ছাত্র। বিশেষ করে পাক্তিয়া প্রদেশে জিহাদের সময় আমার এমন অনেক সাথি এবং কমান্ডার ছিলেন, যারা ওই মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে জিহাদের ময়দানে শাহাদাত বরণ করেছেন।

আহমাদ যাইদান: আপনারা কি এখন শায়খ উসামা বিন লাদেনকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবেন? আফগানিস্তানের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার পর আপনারা কি এখন তাঁকে আমেরিকানদের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার অনুমতি দেবেন?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: আমি তো আগেই বলেছি যে, আজ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। উসামা হোন অথবা তাঁর সাথিরা হোন, আমেরিকার বিরুদ্ধে সব মুসলিম এখন এক কাতারে শামিল। আমরা যখন এক কাতারে দাঁড়িয়ে গেছি, তখন যেকোনো উপায়েই আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমেরিকার বিরুদ্ধে যদি তাঁকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন হয়, তবে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই তাঁকে কাজে লাগানো হবে। কারণ, আল-হারবু খুদআহ তথা যুদ্ধ মানেই হলো কৌশল।

আহমাদ যাইদান: নর্দান অ্যালায়েন্স নামক বিরোধী জোটের সাথে কি আপনাদের কোনো যোগাযোগ চলছে? তাদের প্রতি আপনাদের কোনো বার্তা আছে কি অথবা আপনারা তাদের কী বলতে চান?

শায়খ জালালুদ্দীন হাক্কানি: আমীরুল মুমিনীন তো আগেই তাদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন যে, আসুন, আমরা নিজেদের ভেতরের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। এটিই তো প্রকৃত স্বাধীনচেতা ও ঈমানদার আফগানদের চিরচরিত প্রথা। যখনই কোনো বিদেশি শক্তি আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তখন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই বিদেশি শক্তিকে বিতাড়িত করি। এরপর নিজেদের মধ্যে যদি কোনো মতবিরোধ থাকেও, তবে তা আমরা নিজেরাই বসে সমাধান করে নিই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, তাদের মধ্যে সেই স্বাধীনচেতা মানসিকতা এবং প্রকৃত ঈমানের তেজ আর অবশিষ্ট নেই। ঠিক এই কারণেই তারা আমীরুল মুমিনীনের সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

আহমাদ যাইদান: সুপ্রিয় দর্শক, আমাদের আজকের এই আয়োজনের একেবারে শেষ পর্যায়ে আমরা চলে এসেছি। আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও শুকরিয়া জানাচ্ছি আমাদের আজকের অতিথি, প্রখ্যাত কমান্ডার এবং আফগান তালেবান সরকারের সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব জালালুদ্দীন হাক্কানিকে।

***********
روابط بي دي اف
PDF (859 KB)
পিডিএফ [৮৫৯ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/q2SNNf5pGkCfK6T
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/dMfSbJzfB5bHNig
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/6xIXALoK#E0rR8b__FhmwwRVSNI0sYHOjy_xejeBWOmnq7m10W9M

روابط وورد
Word (22.6 MB)
ওয়ার্ড [২২.৬ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/iqGjEWbZzL37Giy
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/YqMFmexm2NfRHdL
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/OkpQVarI#cDXwuyJ93NQGxmiLUFiEH_pYqG6VuE1RVvh41gQmwls

روابط الغلاف
Book Cover (1 MB)
কভার [১ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/2T39PEgE3yTQL83
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/L2GstW8KxriCd3Q
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/u8JFGQjT#mxvYgQFPy5tfCY6rT2f9pwgkfEuzMMjDPpn0NI-SGHw

روابط البانر
Banner (785 KB)
ব্যানার [৭৮৫ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/BQSBkNrEinSPg2P
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/WdiJmbL36ZBxwsG
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/m4BV3ZqB#oubsZQoe0otd1Pue7jZrWFsAWqNpsaB6CK_VlXJgbx4

**********

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الشهداء للإنتاج الإعلامي
আপনাদের দোয়ায়
আশ শুহাদা মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
In your dua remember your brothers of
Ash Shuhada Media

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button