Bengali Translation || ইসতিশহাদীর অসিয়ত- ১ || এগারো সেপ্টেম্বরের বরকতময় অভিযানসমূহের অন্যতম রূপকার শহীদ আবুল আব্বাস আল-জুনুবি রহিমাহুল্লাহ’র অসিয়তনামা

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents
الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation
بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:
وصية الاستشهادي – ١
وصية الشهيد عبد العزيز العمري الزهراني (أبي العباس الجنوبي) رحمه الله، أحد أبرز المخططين لعمليات الحادي عشر من سبتمبر.
ইসতিশহাদীর অসিয়ত- ১
এগারো সেপ্টেম্বরের বরকতময় অভিযানসমূহের অন্যতম রূপকার শহীদ আব্দুল আজিজ আল-উমারি আয-যাহরানি (আবুল আব্বাস আল-জুনুবি) রহিমাহুল্লাহ’র
অসিয়তনামা
The Istishhadi’s Testament – 1
The Testament of Martyr Abdul Aziz al-Umari al-Zahrani (Abu al-Abbas al-Janubi), may Allah have mercy on him, one of the principal architects of the September 11 operations.
ভূমিকা
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম।
প্রিয় পাঠক, আপনার সামনে থাকা এই অসিয়তটি ইতিহাসের এমন এক মোড় ঘোরানো ঘটনার অন্যতম রূপকারের অন্তিম অসিয়ত, যা পুরো পৃথিবীর রাজনৈতিক ও সামরিক গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল। এটি হলো এগারো সেপ্টেম্বরের বরকতময় অভিযানসমূহের অন্যতম রূপকার শহীদ আব্দুল আজিজ আল-উমারি আয-যাহরানি (আবুল আব্বাস আল-জুনুবি) রহিমাহুল্লাহ’র শাহাদাত-পূর্ববর্তী অসিয়তনামা।
এই পুস্তিকাটি অনুবাদ করার পর এর প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা এবং সম্পাদনার ধরন নিয়ে কিছু কথা পরিষ্কার করাকে আমি জরুরি বলে মনে করছি-
ইতিহাসকে তার নিজস্ব আয়নায় দেখতে হলে প্রাথমিক উৎসের কাছে ফিরে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ৯/১১ হামলা নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা হাজারো বই লিখেছেন এবং নিজেদের মতো করে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু যাঁরা নিজেদের জীবনকে হাসি মুখে বিলিয়ে দিয়ে এই বিশাল ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন, তাঁদের মনের ভাষা আসলে কী ছিল?
কোন তীব্র দহন, কোন আকীদা এবং কোন মানহাজ তাঁদেরকে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তা জানতে হলে তাঁদের নিজেদের বয়ান পড়াটা অপরিহার্য। এই অসিয়তনামাটি পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, এটি কোনো অন্ধ ক্ষোভ বা নিছক হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া কোনো কাজ ছিল না। বরং এর পেছনে ছিল ফিলিস্তিনের মজলুম শিশুদের রক্ত, জাযীরাতুল আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি এবং মুসলিম উম্মাহর ওপর বিশ্বব্যাপী চলা সীমাহীন আগ্রাসনের এক গভীর ক্ষত। একজন মুজাহিদের চিন্তার গভীরতা, উম্মাহর প্রতি তাঁর দরদ এবং আলেম সমাজের প্রতি তাঁর আক্ষেপের জায়গাগুলো বুঝতে হলে প্রতিটি সচেতন মুসলমানের এই পুস্তিকাটি পড়া প্রয়োজন।
৯/১১ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং কন্সপিরেসি থিওরির এক জলজ্যান্ত জবাব
৯/১১-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত একশ্রেণির মানুষের মাঝে একটি অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায়। তারা এই হামলাকে ‘ইনসাইড জব’, ‘ইহুদীদের ষড়যন্ত্র’ কিংবা ‘আমেরিকার নিজেদের সাজানো নাটক’ আখ্যা দিয়ে নানা ধরনের কন্সপিরেসি থিওরি ছড়িয়ে থাকে। ঠিক যেমন কোনো বড় ঘটনার পর মানুষ নিজেদের মনগড়া গল্প বানিয়ে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চায়।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, পশ্চিমা মিডিয়ার পাশাপাশি আমাদের মুসলিম সমাজেরই একটি বড় অংশ এই বিভ্রান্তিগুলো বেশি ছড়িয়ে থাকেন। বিশেষ করে যারা হীনম্মন্যতায় ভোগেন এবং তথাকথিত ‘মডারেট’ বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক চিন্তাধারার অনুসারী, এই কাজে তারাই অগ্রগামী। তাদের অবচেতন মন কিছুতেই এই সত্যটি হজম করতে পারে না যে, গুটি কয়েক মুসলিম যুবক নিজেদের ঈমানি শক্তি ও সামান্য প্রস্তুতি নিয়ে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তির অহংকারের চূড়াগুলোকে এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। যেমন টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগন, যা ছিল তাদের অর্থনীতি ও সামরিক দম্ভের প্রতীক। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে এবং পরাশক্তির কাছে নিজেদেরকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ করতেই তারা এই কন্সপিরেসি থিওরিগুলোর আশ্রয় নেন।
যারা ৯/১১ নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব খোঁজেন, তাদের জন্য শহীদ আব্দুল আজিজ আল-উমারির এই অসিয়তনামাটি একটি জলজ্যান্ত চপেটাঘাত। এখানে হামলাকারী মুজাহিদ নিজেই অত্যন্ত সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং কুরআন-হাদীসের অকাট্য দলীল দিয়ে নিজের কাজের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় আমেরিকার অহংকার চূর্ণ করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ’র নাম উল্লেখ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এই দলীলটি প্রমাণ করে যে, এটি কোনো ইহুদী অথবা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাজানো নাটক ছিল না। বরং এটি ছিল একদল আত্মোৎসর্গকারী মুজাহিদের সুপরিকল্পিত একটি অপারেশন। সুতরাং, এই অসিয়তনামাটি পড়ার পর ৯/১১ নিয়ে কোনো ধরনের কন্সপিরেসি থিওরি বিশ্বাস করার আর কোনো অবকাশই অবশিষ্ট থাকে না।
পাঠকদের এখানে জানিয়ে রাখতে চাই যে, মূল আরবী পুস্তিকাতে কোনো শিরোনাম ছিল না। বক্তা তাঁর হৃদয়ের আবেগ ও বক্তব্যগুলোকে একটি দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহে তুলে ধরেছেন। কিন্তু আধুনিক যুগের পাঠকদের পড়ার সুবিধার কথা মাথায় রেখে, আমরা অনুবাদের ক্ষেত্রে কিছু ‘শিরোনাম’ এবং উপশিরোনাম যুক্ত করেছি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ আলোচনাকে পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করা।
এই পুস্তিকাটি কেবল একটি অসিয়ত নয়; এটি ঘুমন্ত উম্মাহর প্রতি এক তীব্র ঝাঁকুনি। আলেম সমাজ, তালিবে ইলম, ব্যবসায়ী, সাধারণ মুসলিম এবং মুজাহিদের পরিবারের প্রতি লেখক যে দরদী ও তীক্ষ্ণ বার্তাগুলো দিয়ে গেছেন, তা আজও আমাদের বাস্তবতার সাথে হুবহু মিলে যায়। আল্লাহ তাআলা শহীদদের আত্মত্যাগকে কবুল করুন এবং আমাদেরকে উম্মাহর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।
— সম্পাদনা বিভাগ
অন্তরের গহিন থেকে কিছু কথা
আমি এই অসিয়তনামাটি লিখতে বসেছি বটে, কিন্তু ঠিক কোথা থেকে যে শুরু করব, তা বুঝে উঠতে পারছি না। মনের ভেতর এখন হাজারো চিন্তার ভিড়; কোন কথাটি দিয়ে সূচনা করি! শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম, কলম চালানোর আগে আমার হৃদয় যা বলছে, তাকেই চিঠির অক্ষরে রূপ দেবো। আমি পূর্ণ সজ্ঞানে এবং নিজের প্রতিটি কথার অর্থ পুরোপুরি অনুধাবন করেই এই কথাগুলো লিখছি। জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্তগুলোতে বসে আমি এই পঙ্ক্তিগুলো সাজাচ্ছি। আর এই সমাপ্তিটি যেন ঠিক এক নতুন সূচনার মতোই; এটি এক অনাবিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর প্রশান্ত হৃদয়েরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
মনের গহিনে শব্দেরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছে, আর অনুভূতির স্পন্দনও কেবল বেড়েই চলেছে…
لا تعدل المشتاق في أشواقه حتى يكون حشاك في أحشائه
অর্থ: “প্রেমে ব্যাকুল কোনো আশেককে তার ব্যাকুলতার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত তিরস্কার করো না, যতক্ষণ না তোমার নিজের হৃদয়টি তার হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করে তার ব্যথা অনুভব করতে শেখে।”
প্রতিটি চিঠিরই তো একটি খাম থাকে, যা সেই চিঠিটিকে সযতনে ধারণ করে রাখে। আমার এই চিঠিগুলোর খাম হলো সেই কারণগুলোকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা, যেসব কারণে আমি কোনো ধরনের দ্বিধা অথবা ভয় ছাড়াই এমন একটি বিশাল কাজে কদম বাড়িয়েছি।
কেন আমি এই পথ বেছে নিলাম?
আমি আপনাদের সামনে আরজ করছি:
আমি যখন এই কাজের দিকে পা বাড়িয়েছি, তখন নিজের চলার পথের সত্যতা ও এর শুভ পরিণামের ব্যাপারে আমার মনে এক সুদৃঢ় বিশ্বাস ছিল। আমি নিশ্চিতভাবেই জানি, এই পথে চলা আমার ওপর অর্পিত এক অবশ্যম্ভাবী দায়িত্ব। আমার এই পদক্ষেপটি মূলত আল্লাহর দরবারে নিজেকে দায়মুক্ত করার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস। সেই সঙ্গে এটি মুসলিম উম্মাহর মাঝে জিহাদের মতো হারিয়ে যাওয়া একটি ফরয বিধানকে পুনরুজ্জীবিত করারও একটি আন্তরিক চেষ্টা।
আমি এই পথে চলাকে নিজের জন্য অপরিহার্য মনে করেছি। এর কারণ হলো, আল্লাহর কিতাবে তাঁর পথে জিহাদ করাকে ফরয করা হয়েছে। আর এই বিধান দেওয়া হয়েছে যেন মুসলমানদের এই চরম লাঞ্ছনা থেকে উদ্ধার করা যায় এবং ছিনতাই হয়ে যাওয়া ইসলামী ভূখণ্ডগুলোকে পুনরায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আমি কেবল আল্লাহর সেই ডাকেই সাড়া দিয়েছি, যেখানে তিনি বলেছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ فَانْفِرُوا ثُبَاتٍ أَوِ انْفِرُوا جَمِيعاً
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করো, অতঃপর হয় দলে দলে বিভক্ত হয়ে অগ্রসর হও, অথবা সকলে একসাথে বেরিয়ে পড়ো।” [সূরা আন-নিসা, ০৪:৭১]
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন:
انْفِرُوا خِفَافاً وَثِقَالاً وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
অর্থ: “তোমরা হালকা বা ভারী যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, বেরিয়ে পড়ো এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করো।” [সূরা আত-তাওবা, ০৯:৪১]
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন:
فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ وَمَنْ يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْراً عَظِيماً
অর্থ: “সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে দেয়, তাদের উচিত আল্লাহর পথে লড়াই করা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে লড়াই করে নিহত হয় কিংবা বিজয়ী হয়, আমি তাকে অচিরেই এক মহা পুরস্কার দান করব।” [সূরা আন-নিসা, ০৪:৭৪]
দুনিয়ার মোহ নয়, বরং দ্বীনের দায়বদ্ধতা
আমি যখন আল্লাহর পথে নিজের এই অমূল্য জীবনকে হাসিমুখে বিলিয়ে দিলাম, তখন কিন্তু অভাব বা দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে বাঁচতে এমনটি করিনি। অথচ পথভ্রষ্ট লোকেরা এমন ধারণাই পোষণ করে থাকে। বিষয়টি এমনও নয় যে, সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে, আমি সেভাবে বাঁচতে পারছিলাম না। আল্লাহর কসম! বাস্তবতা মোটেও তা নয়।
ঘর থেকে যখন আমি বেরিয়েছি, তখন আমি নিজের যৌবনের সবচেয়ে সুন্দর ও সতেজ সময়টি পার করছিলাম। আমি কেবল আল্লাহর নাম নিয়েই বের হয়েছিলাম। সে সময় আমি সবচেয়ে উন্নত খাবার খেতাম, সবচেয়ে সুপেয় পানীয় পান করতাম। আমি এক বিলাস বহুল প্রাসাদে বসবাস করতাম এবং দামি ও সুন্দর গাড়ি হাঁকাতাম। আমার চোখের সামনে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার ও চাকরির চমৎকার সুযোগও উপস্থিত ছিল। কিন্তু আমি নিজের মনকে একটি প্রশ্ন করলাম যে, তারপর কী?
আমাদের কাঁধে যে বিশাল জিম্মাদারি আর ঘাড়ে যে দায়িত্বের বোঝা চেপে আছে, তার পরিণতি কী হবে? অথচ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তো স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন:
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لا يُبْخَسُونَ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلاَّ النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি কেবল দুনিয়ার জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করে, আমি দুনিয়াতেই তাদের কর্মের পূর্ণ ফল দিয়ে দিই এবং সেখানে তাদের কোনো কমতি করা হয় না। এরাই হলো সেই সব লোক, আখিরাতে যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। দুনিয়াতে তারা যা কিছু করেছে, সব বরবাদ হয়ে গেছে এবং তাদের যাবতীয় আমল একেবারেই বাতিল।” [সূরা হুদ, ১১:১৫-১৬]
উম্মাহর আর্তনাদ ও আমার জেগে ওঠা
আমি ঠিক তখনই এই পথে পা বাড়িয়েছি, যখন স্বচক্ষে দেখেছি যে, বানর ও শূকরের বংশধর ইহুদী ও খ্রিস্টানরা মুসলিম নারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করছে এবং তাঁদের আত্মমর্যাদাকে নির্দয়ভাবে পদদলিত করছে। আপনি যদি নিজের চোখে দেখতেন যে, ফিলিস্তিনের মতো পবিত্র ভূমিতে এক নাপাক ও নিকৃষ্ট ইহুদী কীভাবে একজন মুসলিম নারীকে প্রহার করছে, তবে সেই নির্মম দৃশ্য দেখে আপনার হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে যেত। এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির পর আর ঘরে বসে থাকার মতো কোনো অজুহাতই কারও থাকতে পারে না।
সেই সব নারী ও কিশোরীর জন্য আমার বুকটা ফেটে যায়, যাদেরকে আজ এমন এক জাতি লাথি মারছে, যাদের নিজেদের ওপরই সর্বত্র লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই অসহায় নারীরা আর্তনাদ করে সাহায্য চাইছে, কিন্তু তাদের সেই হাহাকারে সাড়া দেওয়ার মতো কেউ নেই। আজ বহু মানুষের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে। এর কারণ হলো, তাদের অন্তর থেকে ঈমানের স্ফুলিঙ্গ নিভে গেছে এবং দ্বীন ও সম্ভ্রমের প্রতি যে আত্মমর্যাদাবোধ তথা গায়রত থাকা প্রয়োজন, তা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। শুধু গায়রতই নয়, বরং সেই পৌরুষত্ব ও বীরত্বও আজ বিলীন হয়ে গেছে, যা একজন প্রকৃত পুরুষের বৈশিষ্ট্য। কোনো নামসর্বস্ব পুরুষের মাঝে এই বৈশিষ্ট্য থাকে না।
رب وامعتصماه انطلقت ملء أفواه الصبايا اليتم
لامست أسماعهم لكنها لم تلامس نخوة المعتصم
অর্থ: “অনাথ কিশোরীদের মুখ থেকে কত শতবার ‘হায় মুতাসিম!’ বলে আর্তনাদ বেরিয়ে এসেছে। সেই আর্তনাদ মানুষের কানে তো পৌঁছেছে ঠিকই, কিন্তু তা আব্বাসীয় খলীফা মুতাসিম বিল্লাহর মতো কোনো বীরের পৌরুষত্বকে একটুও নাড়া দিতে পারেনি।”
হে মানুষেরা! আপনাদের ঈমান আজ কোথায় হারিয়ে গেল? কোথায় গেল আপনাদের সেই সুতীব্র আত্মমর্যাদাবোধ? এই হৃদয় বিদারক দৃশ্যগুলো সম্পর্কে আপনাদের মতামত কী? বাস্তবতার প্রতি আপনাদের যে চরম গাফিলতি তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে আপনাদেরকে ঘর থেকে বের করে আনার জন্য এই দৃশ্যগুলো কি যথেষ্ট নয়?
এত কিছুর পরও আপনি লক্ষ করবেন, বহু মানুষ নানাভাবে জিহাদের এই মোবারক কাফেলার পিঠে প্রতিনিয়ত ছুরি মারছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি, ধ্বংস হোক এই ধরনের চিন্তাধারা! ধ্বংস হোক এই চিন্তার ধারকেরা! নিপাত যাক তারা, নিপাত যাক!
বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের রক্তপাত ও তাগুতদের আস্ফালন
আমি ঠিক তখনই এই পথে পা বাড়িয়েছি, যখন দেখেছি যে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ ও অনুমোদনে কাপুরুষ ইহুদীরা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে। আমেরিকা মূলত ইহুদীদেরই আরেকটি রূপমাত্র। তারা মুসলমানদেরকে তাদের নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করছে এবং তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাচ্ছে। আপনারা হয়তো নিজের চোখেই ফিলিস্তিনি শিশু মুহাম্মাদ আদ-দুররাহকে দেখেছেন, যাকে ইহুদীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সে ছিল নিতান্তই এক নিষ্পাপ শিশু; তার কোনো অপরাধই ছিল না। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড ছিল তাদের সেই চরম বিদ্বেষেরই এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আর এই জঘন্য অপরাধটি কোথায় ঘটছে? এটি ঘটছে মসজিদে আকসার পবিত্র প্রাঙ্গণে! আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেরাজের স্মৃতিবিজড়িত সেই পবিত্র মসজিদে আকসার আঙিনায়!
ولكن يموت المسلمون ولا نبالي … ونهتف بالفضائل والخلال
ونحيا العمر أوتارًا وقصفًا … ونحيا العمر في قيل وقال
অর্থ: “অথচ মুসলমানরা মারা যাচ্ছে, আর আমাদের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই… আমরা কেবল বড় বড় আদর্শ আর গুণাবলির স্লোগান দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বাদ্যযন্ত্র আর আমোদ-প্রমোদে নিজেদের পুরো জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি… আর আমাদের জীবন কাটছে কেবলই অর্থহীন তর্ক-বিতর্কে।”
আমি তখনই এই পথে পা বাড়িয়েছি, যখন আমি স্পষ্ট দেখেছি যে, ইহুদী ও খ্রিস্টান কাফেররা প্রকাশ্যে আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফিলিস্তিন, চেচনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, সুদানসহ পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তেই তারা সকাল-সন্ধ্যা মুসলমানদের রক্ত ঝরাচ্ছে।
আমি তখনই এই পথে পা বাড়িয়েছি, যখন দেখেছি যে, ইহুদী ও খ্রিস্টানরা ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর শাসকগোষ্ঠী তথা সেই আল্লাহদ্রোহী স্বৈরশাসক তাগুতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তারা এই তাগুতদেরকে মুসলিম দেশগুলোতে সবচেয়ে সুরক্ষিত অবস্থানে বসিয়েছে এবং সাধারণ জনগণের চেয়ে তাদের প্রতিই বেশি যত্নবান হয়েছে। তারা এই শাসকদেরকে সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত করেছে। এর ফলে এই শাসকেরা সংখ্যা ও শক্তির দিক থেকে ওই দেশগুলোর সাধারণ শক্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আলেমদের রক্তের বদলা ও জাযীরাতুল আরবকে পবিত্র করার শপথ
আমি এই পথে পা বাড়িয়েছি সেই সব সম্মানিত আলেম ও মাশায়েখের রক্তের বদলা নিতে, যাদের কাউকে নির্যাতন করা হয়েছে, কাউকে প্রহার করা হয়েছে, কাউকে বন্দী করা হয়েছে, আবার কাউকে-বা হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের সবার পক্ষ থেকে বদলা নিতে চাই, যাতে পৃথিবীতে আর কোনো ফিতনা অবশিষ্ট না থাকে এবং পুরো দ্বীন কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
আমি ঠিক তখনই এই পথে পা বাড়িয়েছি, যখন দেখেছি যে, মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই অমোঘ হাদীসটিকে ছুড়ে ফেলেছে, যেখানে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন:
أخرجوا المشركين من جزيرة العرب
অর্থ: “তোমরা জাযীরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও।”
মানুষ এই নির্দেশটিকে যেন দেয়ালের ওপাশে ছুড়ে ফেলেছে এবং নিজেদের পেছনে ফেলে রেখেছে। তাদের আচরণ দেখলে মনে হয়, যেন তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না!
আমি এই পথে পা বাড়িয়েছি, কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি যে, আমেরিকার নেতৃত্বে থাকা এই কাফেররা কতটা কাপুরুষ। আমাদের কিতাব এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ আমাদেরকে এ কথাই জানিয়েছে। তারা আজ যে অবস্থানে এসে পৌঁছেছে, তা কেবল তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার বিশাল প্রচারণার কারণেই সম্ভব হয়েছে। আর এর পেছনে আরেকটি কারণ হলো, বহু মানুষ আজ জিহাদের এই ফরয বিধান থেকে পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু তাতে আমাদের কোনো পরোয়া নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ
অর্থ: “আল্লাহর হুকুমে কত ক্ষুদ্র দল কত বিশাল বাহিনীর ওপর বিজয় লাভ করেছে! আর আল্লাহ তো ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন।” [সূরা আল-বাকারাহ, ০২:২৪৯]
আমি আশা করি, আমার এই কথাগুলোর মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই কারণটিও স্পষ্ট হয়েছে, যার জন্য আমরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে উঠে দাঁড়িয়েছি এবং জীবনের ওপর মৃত্যুকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমি এই কাজে অত্যন্ত সুস্পষ্ট পদক্ষেপ এবং একটি সুনির্দিষ্ট মানহাজ বা পথনির্দেশিকা নিয়ে অগ্রসর হয়েছি, যা আমি আল্লাহর দ্বীন হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এটি নিছক কোনো আবেগ বা অন্ধ অনুকরণের বিষয় নয়। বরং আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য ঠিক সেভাবেই আবেগাপ্লুত হই, যেভাবে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। আর আমরা হকপন্থীদের কথা তখনই অনুসরণ করি, যখন তা প্রকৃত সত্যের সাথে মিলে যায় এবং সঠিক পথের কাছাকাছি থাকে। আল্লাহই প্রকৃত সত্য জানেন এবং তিনিই আমাদের সরল পথের দিশা দেন।
এরপর আমি আমার সেই চিঠিগুলো পেশ করছি, যা আমি এই উম্মাহর প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আমি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে এগুলো লিখছি না; বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কাছেই আমি এই বার্তাগুলো পাঠাচ্ছি-
প্রথম বার্তা: হে হতভাগ্য মানুষ!
আপনার জীবনে যদি কোনো দ্বীন বা ধর্মই না থাকে, তবে এই পৃথিবীতে আপনার ভূমিকা কী? আর আপনার রব যদি হয় কোনো পাথর, গ্রহ-নক্ষত্র বা গাছপালা, তবে সেই ধর্মেরই বা কী ফায়দা? আপনি পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখুন এবং সমস্ত ধর্মের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আপনি দেখতে পাবেন যে, আপনার ইলাহ বা উপাস্য কেবল একজনই, যিনি ছাড়া আর কেউই ইবাদতের যোগ্য নন। আর সেই সত্য দ্বীন হলো ইসলাম, যাকে অকাট্য প্রমাণ ও মুজিযা দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে; যা নিয়ে এসেছেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার কাছ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আলে ইমরান, ০৩:৮৫]
দ্বিতীয় বার্তা: হে মুসলিম ভাই!
আপনি ইসলামকে নিজের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং জেনেছেন যে আল্লাহ আপনার রব আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার নবী। সুতরাং, আপনি আপনার দ্বীনকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন, যাতে যেদিন মানুষের পা পিছলে যাবে, সেদিন যেন আপনার পা পিছলে না যায়। আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে নিজের জীবনের পাথেয় বানান। মনে রাখবেন, কাজের প্রমাণ ছাড়া কেবল ভালোবাসার দাবি আপনাকে মুক্তি দিতে পারবে না। কবি কত সুন্দরই না বলেছেন:
فكل يدعي وصل بليلى وليلى لا تقر لهم بذاك
অর্থ: “সবাই তো লাইলির সাথে প্রেমের দাবি করে, কিন্তু লাইলি তো তাদের সেই দাবি স্বীকার করে না।”
তৃতীয় বার্তা: হে দ্বীনদার ভাই!
হে আল্লাহর দ্বীনের অনুসারী! আপনার এই দ্বীনদারির প্রমাণ কী? নিজের দিকে তাকান এবং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন। এরপর আপনার চারপাশের অবস্থার দিকে নজর দিন। চারপাশের পরিস্থিতি যদি আপনার কাছে অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হয়, তবে সেই সত্তার কাছে আশ্রয় নিন, যিনি সমস্ত বিপদ ও অন্ধকার দূর করেন। তাঁর কাছে কাকুতি-মিনতি করুন, যেন তিনি আপনাকে উম্মাহর প্রকৃত অবস্থা দেখার দৃষ্টি দান করেন। জেনে রাখবেন, আপনার এই দুনিয়া আপনার কোনো কাজেই আসবে না, যদি না এর মাধ্যমে আপনি আপনার রবের কাছে কোনো হিস্যা তৈরি করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ مَتَاعُ الْغُرُورِ
অর্থ: “আর দুনিয়ার জীবন তো ধোঁকার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।” [সূরা আলে ইমরান, ০৩:১৮৫]
কেবল ঈমানের দাবি করা আর নিজের বাহ্যিক লেবাস-পোশাক সুন্দর করাই আপনার কোনো উপকারে আসবে না। বরং উপকারে আসবে তা-ই, যা আপনার অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে আছে এবং আপনার আমল বা কাজ যাকে সত্য বলে প্রমাণ করেছে।
إذا الإيمان ضاع فلا أمانا ولا دنيا لمن لم يحي دينا
ومن رضي الحياة بغير دين فقد جعل الفناء له قرينا
অর্থ: “ঈমান যদি হারিয়ে যায়, তবে কোনো নিরাপত্তাই থাকে না; আর যে ব্যক্তি দ্বীনকে ধারণ করে না, তার জন্য দুনিয়াতেও কিছু নেই। যে ব্যক্তি দ্বীন ছাড়া জীবন যাপনে সন্তুষ্ট হলো, সে যেন ধ্বংসকেই নিজের চিরসাথি বানিয়ে নিল।”
চতুর্থ বার্তা: হে তালিবে ইলম!
হে জ্ঞানের অন্বেষণকারী! হে সেই ব্যক্তি, যিনি কিতাবের ওপর ঝুঁকে থাকেন এবং আলেম ও মাশায়েখদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ইলম অর্জন করেন! আহ! আমার অন্তরে আপনার জন্য কতই না সম্মান! আমার অন্তরে আপনার জন্য কতই না ভালোবাসা! আপনার সাথে আমার এক দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে। আপনার মতো এমন বহু উত্তম চরিত্রের অধিকারীর সাথে আমি ওঠাবসা করেছি। আপনি সকাল-সন্ধ্যা জান্নাতের পথেই চলেন। এটি এমন এক বিশাল নেয়ামত, যার জন্য অনেকেই ঈর্ষা করে। কিন্তু যখনই জিহাদের কথা ওঠে, তখনই আপনি বলে ওঠেন যে, না, হাজার বার না! অথচ ঘরে বসে থাকা আর যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার মাঝে আকাশ-পাতাল তফাত।
হে তালিবে ইলম! আপনি যে জীবন যাপন করছেন, তা নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে। আল্লাহর পথে অন্তত একবার বেরিয়ে পড়ুন এবং এই পথের তিক্ততা ও মিষ্টতার স্বাদ গ্রহণ করুন। ইতিহাসের দিকে তাকান, জিহাদের ময়দানগুলোর দিকে নজর দিন। আপনি যদি সত্যিই একজন দাঈ হতে চান, তবে জিহাদের ময়দানগুলোর আজ আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন। আর জেনে রাখবেন, আপনি যদি পিছিয়েও থাকেন, তবুও জিহাদ চলবে। আল্লাহর নিয়ম ঠিক এভাবেই চলতে থাকবে, কারণ তিনি তো সৃষ্টিকুলের কোনো মুখাপেক্ষী নন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْماً غَيْرَكُمْ ثُمَّ لا يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ
অর্থ: “আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের বদলে অন্য কোনো জাতিকে নিয়ে আসবেন; এরপর তারা তোমাদের মতো হবে না।” [সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭:৩৮]
ত্যাগ স্বীকার তো করতেই হবে। ঈমান তো আমলের সাথেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। আর এটাই হলো সমাজ সংস্কারের মূল্য; জান্নাতের দাম তো অনেক চড়া। মানুষ তো নিজের অবস্থা সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে।
إذا كنت ذا رأي فكن ذا عزيمة فإن فساد الرأي أن تترددا
অর্থ: “আপনি যদি কোনো মতের অধিকারী হন, তবে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হোন; কারণ মতামতের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া।”
পঞ্চম বার্তা: হে বিজ্ঞ আলেম সমাজ!
যাঁদেরকে আল্লাহ জ্ঞান ও মেধা দান করেছেন এবং যাঁদের ইলম, আমল ও কথার মাধ্যমে তিনি মানুষকে উপকৃত করেছেন, এই বার্তা তাঁদের জন্য। বিশেষ করে আমার পরিচিত মাশায়েখদের প্রতি এবং সেই সব আলেমের প্রতি যাঁদের আমি আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসি, যদিও আমাদের মাঝে কোনো পরিচয় নেই।
আমি আপনাদের সমীপে আরজ করছি: আমি যা করেছি, তা নিয়ে হয়তো আপনারা দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু পুরো মুসলিম বিশ্বের ওপর আজ যে মুসিবত নেমে এসেছে, সে বিষয়ে আপনারা নিশ্চয়ই দ্বিমত করবেন না। আজ যে প্রশ্নটি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সামনে আসে তা হলো, আমরা এ পর্যন্ত কী করেছি? এখন কী করছি? আর ভবিষ্যতেই বা কী করব?
হে উলামায়ে কেরাম, আমাকে ক্ষমা করবেন! আমি এই কথাগুলো লিখছি ঠিকই, কিন্তু নিজেকে এই নসীহত করার যোগ্য বলে মনে করি না। এ জন্য আমি ভীষণ লজ্জাবোধ করছি। তবুও কিছু কথা আমাকে বলতেই হচ্ছে। কেউ বুঝুক কিংবা না বুঝুক, আমি মনে করি এটি আমার ওপর একটি দায়িত্ব। আল্লাহর কসম! আপনাদের সাথে আমার অনেক স্মৃতি এবং আলোচনা ও যুক্তিতর্কের বহু মুহূর্ত জড়িয়ে আছে। আমাকে যাঁরা চেনেন, তাঁরা আমার এই কথাগুলো শুনলে বিষয়টি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারবেন।
আমি সত্যিই জানি না যে, আপনাদের চোখের সামনে ময়দানে আজ যা কিছু ঘটছে, আপনারা কি সেগুলোকে সমর্থন করছেন, নাকি কেবল নীরব দর্শক হয়ে দেখছেন? উত্তর যা-ই হোক না কেন, তা আমার অজানা। আপনারা যদি জেনেই থাকেন, তবে আমি কেন তা জানি না? আপনাদের সাথে যে বছরগুলো আমি কাটিয়েছি এবং আপনাদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে যে ইলম শিখেছি, তখন আপনারা আমাকে কী শিখিয়েছিলেন?
আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত আবেগ নিংড়ে একটি কথাই বলছি যে, হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক)।
হে উলামায়ে কেরাম! আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে এবং সমগ্র ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আপনারাই আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন। আমি জানি, আপনারা অনেক কিছুই জানেন এবং সত্যকে উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু হায়! কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, যেদিন আপনারা সত্য কথাটি সাহসের সাথে উচ্চারণ করবেন? নিজেদের ব্যাপারে সেই পরিণতিকে ভয় করুন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ
অর্থ: “অতঃপর তারা তা নিজেদের পেছনে ছুড়ে ফেলল এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য খরিদ করল। সুতরাং তারা যা খরিদ করে, তা কতই না নিকৃষ্ট!” [সূরা আলে ইমরান, ০৩:১৮৭]
হে হক্কানি উলামায়ে কেরাম, আমি আপনাদের প্রতি কোনো অভিযোগ করছি না। কারণ, আমরা তো সেই দরবারি আলেমদের (উলামায়ে সু) অবস্থাও দেখেছি, যারা দ্বীনকে ধ্বংস করেছে এবং বিশ্ববাসীকে পথভ্রষ্ট করেছে।
আমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই সেই দরবারি আলেমদের উদ্দেশে বলছি: হে দরবারি আলেমগণ! আল্লাহকে ভয় করুন, আল্লাহকে ভয় করুন! আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে সামান্য দুনিয়াবি স্বার্থ কিনে নেবেন না। আপনারা যদি মুমিন হয়ে থাকেন, তবে ভেবে দেখুন আপনাদের ঈমান আপনাদেরকে কতই না নিকৃষ্ট কাজের নির্দেশ দিচ্ছে!
আজ যে নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হচ্ছে, যে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে এবং যে পুরুষদের প্রতিনিয়ত অপমান ও শোষণ করা হচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আপনারা কী জবাব দেবেন? পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, ক্রুশবিদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হচ্ছে অথবা দেশান্তর করা হচ্ছে। এসব নিয়ে আপনাদের কী বলার আছে? আল্লাহকে ভয় করুন! ভয় করুন, পাছে কিয়ামতের দিন আপনাদের দিয়েই যেন জাহান্নামের আগুন প্রথম প্রজ্বলিত করা না হয়!
হে ইলমের বাহক উলামায়ে কেরাম! আপনারা এই ইলমকে যতটুকু হেফাযত করবেন এবং এর আমানত যতটুকু রক্ষা করবেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এই ইলমও আপনাদের ঠিক ততটুকুই হেফাযত করবে। কবি কতই না সত্য বলেছেন:
ولو أن أهل العلم صانوه صانهم ولو عظموه في النفوس لُعظِّمَ
ولكن أهانوه فهانوا ودنسوا … محياهم بالأطماع حتى تجهَّمَ
অর্থ: “যদি আলেমগণ ইলমকে হেফাযত করতেন, তবে ইলমও তাদের হেফাযত করত। যদি তারা অন্তরে ইলমকে সম্মান করতেন, তবে তাদেরও সম্মান করা হতো। কিন্তু তারা ইলমকে অপমানিত করেছেন, ফলে নিজেরাও লাঞ্ছিত হয়েছেন; আর লোভ-লালসা দিয়ে নিজেদের চেহারাকে কলুষিত করেছেন, ফলে তা শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।”
কিছু আলেমের কী হলো যে, তারা নানা অপব্যাখ্যা দিয়ে জিহাদের ফরয বিধানকে স্থগিত করে রেখেছেন? তারা বলেন যে, আমরা এখন দুর্বল এবং এই মুহূর্তে আমরা যুদ্ধ করতে সক্ষম নই। অথচ আমরা তো দিন দিন আরও দুর্বল হচ্ছি, আর শত্রুরা দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে! আমরা আমাদের বিষয়গুলো আমাদেরই স্বজাতির সেই তাগুতদের দোসরদের হাতে তুলে দিয়েছি, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং দ্বীনকে ধ্বংস করেছে। আমরা না বড় তাগুতদের প্রতিরোধ করলাম, আর না তাদের দোসরদের রুখলাম! এভাবে আর কতদিন চলবে? এই পিছুটান আর কতদিন থাকবে?
আল্লাহ মঙ্গল করুন সেই হক্কানি আলেমদের, যাঁরা সত্যের ওপর অটল রয়েছেন; যাঁরা ইসলামের সীমানা এবং তাওহীদের পবিত্র আঙিনাকে রক্ষা করে চলেছেন। তাঁরা সত্য কথাটি বুক ফুলিয়ে বলেন এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করেন না। ময়দান আপনাদের কাছ থেকে আরও বেশি অবদান ও ত্যাগের অপেক্ষায় আছে। কারণ, আমাদের এখনও এই বাস্তবতাটি কষ্ট দেয় যে, আপনাদের মতো হক্কানি আলেমদের সংখ্যা আজ বড্ড কম। হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ষষ্ঠ বার্তা: হে ব্যবসায়ী ও সম্পদের মালিক!
নিজের সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। আপনাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে যে, কোথা থেকে আপনি এই সম্পদ উপার্জন করেছেন এবং কোথায় তা ব্যয় করেছেন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য কি আপনার সম্পদে কোনো হিস্যা আছে? উত্তরটি যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং এই পথে অবিচল থাকুন। আল্লাহ আপনাকে অটল রাখুন এবং আপনার সম্পদে বরকত দিন। আর উত্তরটি যদি ‘না’ হয়, তবে আল্লাহকে ভয় করুন। জেনে রাখুন, আপনি এক চরম বঞ্চিত মানুষ, সত্যিই আপনি বঞ্চিত!
আল্লাহর পথে অকাতরে সম্পদ ব্যয় করুন এবং দুহাত খুলে দান করুন। কে জানে, হয়তো আগামীকাল অথবা পরশুই আপনার মৃত্যু হবে! তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেটুকু ব্যয় করেছেন, তা ছাড়া আপনার সম্পদের আর কিছুই আপনার কাজে আসবে না। এবার সেই ব্যবসার কথা শুনুন, যা আপনার দুনিয়াবি ব্যবসার চেয়ে বহুগুণ উত্তম। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ * تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ * يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: “হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেবো, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তা হলো, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা তা বোঝো। তিনি তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত। আর চিরস্থায়ী জান্নাতে তোমাদের জন্য থাকবে পবিত্র বাসস্থান। এটাই হলো মহাসাফল্য। আর তিনি তোমাদেরকে আরও একটি জিনিস দেবেন, যা তোমরা ভালোবাসো; আর তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়। সুতরাং মুমিনদেরকে এই সুসংবাদ জানিয়ে দাও।” [সূরা আস-সফ, ৬১:১০-১৩]
এই আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন এবং দুই ব্যবসার মাঝে তুলনা করে দেখুন।
সপ্তম বার্তা: হে আল্লাহর পথের মুজাহিদ!
হে সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর পথে বেরিয়ে পড়েছেন! আপনি আপনার পরিবার, সন্তান-সন্ততি, সম্পদ ও মাতৃভূমিসহ সবকিছু ছেড়ে এসেছেন কেবল জিহাদের আশায়। সুতরাং, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য দিয়ে এই পবিত্র কাজটিকে নষ্ট করবেন না। নিজের নফসের ওপর কড়া নজর রাখুন এবং আপনার আমলকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই একনিষ্ঠ করুন।
হে আলেম, হে তালিবে ইলম এবং হে মুজাহিদ! জেনে রাখবেন, আপনারা যে জ্ঞানই অর্জন করুন না কেন, তা আপনাদের কাঁধের ওপর একটি দলীল এবং পিঠের ওপর একটি ভারী বোঝা। সুতরাং, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এই পথে আমল করা আপনাদের জন্য অপরিহার্য। আপনারা সেই গাধার মতো হবেন না, যে কেবল কিতাবের বোঝা বয়। অথবা আপনারা মরুভূমির সেই উটের মতোও হবেন না, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে:
كالعيس في البيداء يقتلها الظمأ والماء فوق ظهورها محمولٌ
অর্থ: “মরুভূমির সেই উটের মতো হবেন না, তৃষ্ণায় যার প্রাণ যায় যায়, অথচ তার পিঠের ওপরই পানি বোঝাই করা আছে।”
অষ্টম বার্তা: হে মুজাহিদের পিতা-মাতা!
আপনাদের জন্য রইল অভিনন্দন, কারণ আপনারা আল্লাহর পথের একজন মুজাহিদকে জন্ম দিয়েছেন। আপনারা তাকে সযতনে লালন-পালন করেছেন, চমৎকার তরবিয়ত দিয়েছেন এবং উত্তম নসীহতে সিক্ত করেছেন। আপনারা নিজেদের কলিজার টুকরাকে আল্লাহর পথে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। আর এর একমাত্র কারণ হলো, আপনারা কেবল নিজেদের মাওলার সন্তুষ্টিই কামনা করেন।
একজন মুজাহিদের হৃদয়ের আকুতি হলো, ‘হে আমার প্রিয় বাবা, হে আমার আদরের মা! আমি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় জিহাদ করছি।’ আপনারা হয়তো কষ্ট পাচ্ছেন এবং আমিও আপনাদের সেই ব্যথা অনুভব করছি। কিন্তু আমি ধৈর্য ধারণ করে নিজের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, যাতে আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আপনারা আনন্দিত হতে পারেন। আপনারা ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা রাখুন। জেনে রাখবেন, আল্লাহ যদি আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন এবং আমাকে সুপারিশ করার অনুমতি দেন, তবে আমি যাঁদের জন্য সুপারিশ করব, আপনারা অবশ্যই তাঁদের অন্যতম হবেন। এরপর আল্লাহ যদি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে আমাকে জান্নাতে পাঠান, তবে ইনশাআল্লাহ সেখানেই আমাদের দেখা হবে। আর তাঁর প্রতি আমার এমনই সুধারণা রয়েছে। আমাদের সেই সাক্ষাৎ হবে এক জান্নাত ও ঝরনাধারার মাঝে, এক চিরস্থায়ী নেয়ামতের আবহে এবং সর্বশক্তিমান অধিপতির কাছে সত্যের আসনে।
হে পিতা! নিজের সন্তানের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা রাখুন। আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামকে নিজের আদর্শ বানান, যখন তিনি বলেছিলেন:
لأطوفن الليلة على تسعين امرأة كل واحدة منهن تلد غلاما يقاتل في سبيل الله
অর্থ: “আজ রাতে আমি অবশ্যই আমার নব্বইজন স্ত্রীর কাছে যাব, তাঁদের প্রত্যেকেই এমন এক পুত্রসন্তান জন্ম দেবেন, যে আল্লাহর পথে লড়াই করবে।”
আর হে মাতা! আপনি সেই মহীয়সী নারী খানসার মতো হোন, যিনি তাঁর চার সন্তানকেই জিহাদের ময়দানে পেশ করেছিলেন। এরপর যখন তারা শহীদ হলো, তখন তিনি তাদের জন্য ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলেন। আপনিও এই যুগের খানসা হয়ে উঠুন। তিনি তো কোনো কল্পকাহিনি বা রূপকথার চরিত্র ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন এমন এক মুমিন নারী, যিনি আল্লাহর প্রতি সত্যিকারের ঈমান এনেছিলেন।
وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ
অর্থ: “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথের দিশা দেন।” [সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:১১]
নবম বার্তা: হে মুজাহিদের স্ত্রী!
আপনি সেই নারী, যিনি দীর্ঘকাল ধরে স্বামীর সাথে ভালোবাসা ও মমতার অনুভূতি ভাগাভাগি করেছেন। আপনার পাশে সে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করেছে। কিন্তু যখন আহ্বানকারী ডাক দিয়ে বলল, ‘হায়্যা আলাল জিহাদ’ অর্থাৎ জিহাদের দিকে এসো এবং বলা হলো, ‘হে আল্লাহর অশ্বারোহী বাহিনী, সওয়ার হও!’, ঠিক তখনই আপনার স্বামী যেন হানজালা রাদিআল্লাহু আনহু-এর রূপ ধারণ করল। আল্লাহর দ্বীনের সামনে দুনিয়ার সবকিছুই তুচ্ছ হয়ে যায় এবং কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটিকেও বিলিয়ে দেওয়া যায়।
আপনার হৃদয়ের ভাষা তখন এমন হওয়া উচিত যে, “যাও আমার প্রিয়তম! তোমার অবর্তমানে আমি তোমার সন্তান ও সম্পদের হেফাযত করব। তুমি যদি নিরাপদে ফিরে আসো, তবে তুমি আমার সম্মান, যত্ন ও সেবায় সিক্ত হবে। আর যদি তুমি শহীদ হয়ে যাও, তবে আমি ধৈর্য ধারণ করব। তোমার সন্তান আমার আশ্রয়ে থাকবে এবং তোমার গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকবে। আমার একমাত্র লক্ষ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং এই দ্বীনের বিজয়। সুতরাং, যা তোমার দায়িত্ব, তা আমারও দায়িত্ব।”
দশম বার্তা: হে মুজাহিদের সন্তান!
হে মুজাহিদের সন্তান, যে তার বাবার স্নেহ হারিয়েছে এবং হয়তো এমন কারও আশ্রয়ে বড় হচ্ছে, যাকে সে পছন্দ করে না!
হে আমার আদরের ছেলে ও মেয়ে! এটাই আল্লাহর নিয়ম এবং এটাই হলো আমাদের পথ। একজন মুজাহিদ যখন ঘর থেকে বেরিয়ে যায়, তখন অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে তোমার রবই তোমার সবচেয়ে বড় অভিভাবক হয়ে যান। আমি তোমার কাছে আশা করি যে, তুমি আল্লাহর শরীয়ত মেনে চলবে এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাঝেই বেড়ে উঠবে। বাবার অনুপস্থিতিতে তুমি তার সম্মান রক্ষা করবে এবং কোনোভাবেই তার সুনাম নষ্ট করবে না। আর জান, মাল ও সন্তান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করার যে মানহাজ সে বেছে নিয়েছে, তুমিও সেই পথটিই অনুসরণ করবে।
জেনে রেখো, তোমার বাবা যখন তোমাকে ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল, তখন সে তোমার প্রতি কোনো অনীহা থেকে বের হয়নি; কখনোই নয়। বরং সে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই বের হয়েছিল। যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অন্য কারও সন্তুষ্টির সংঘাত তৈরি হয়, তখন মহান রবের সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায় এবং সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
একাদশ বার্তা: হে আমার গোত্র ও বংশের মানুষেরা!
হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বংশধরেরা!
أودعكم والشوق يثني أعنتي ولي بحماكم مربع ومخيم
অর্থ: “আমি তোমাদের থেকে বিদায় নিচ্ছি, অথচ গভীর টান আমার ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরছে; তোমাদের আঙিনায় তো আমারও একটি আবাস ও তাঁবু ছিল।”
হে আমার কওম! এই দুনিয়া বড়ই তুচ্ছ ও অভিশপ্ত। দুনিয়ার সবকিছুই অভিশপ্ত, কেবল আল্লাহর যিকির, তাঁর সাথে সম্পর্কিত বিষয়াবলি এবং আলেম ও তালিবে ইলম ছাড়া। হে আমার কওম! তোমরা পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াও। এরপর সতর্ক হও, কারণ সতর্কতার মাধ্যমেই প্রকৃত নিরাপত্তা লাভ করা যায়। তোমরা আক্রান্ত হওয়ার আগেই আক্রমণ করো।
হে আমার কওম! নিজেদের দ্বীনের দিকে ফিরে এসো। তোমাদের চারপাশের শত্রুদের দিকে তাকাও। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য স্থানে শত্রুরা তোমাদের ভাইদের সাথে যা করেছে, অথবা যা অনুমোদন করেছে কিংবা যাতে মদদ জুগিয়েছে, তোমরা সেদিকে গভীরভাবে নজর দাও। তোমরা এই ভেবে নিশ্চিন্ত থেকো না যে, আগামীকাল তোমাদের এবং আমাদের সবার মাথার ওপর একই বিপদ নেমে আসবে না। তারা তোমাদের ব্যাপারে কোনো আত্মীয়তা কিংবা চুক্তির তোয়াক্কা করে না। তারা তো মূলত কাফের, আর কুফর হলো একটি একক মিল্লাত বা জাতি; যদিও তাদের নিজেদের মাঝে নানা বিভক্তি রয়েছে।
إِنْ يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا لَكُمْ أَعْدَاءً وَيَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُمْ بِالسُّوءِ وَوَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ
অর্থ: “তারা যদি তোমাদের বাগে পায়, তবে তারা তোমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং হাত ও জবান দিয়ে তোমাদের চরম ক্ষতি সাধন করবে। আর তারা তো এটাই চায় যে, তোমরাও কাফের হয়ে যাও।” [সূরা আল-মুমতাহিনা, ৬০:০২]
হে আমার কওম! তোমরা এমন এক বীর জাতি, যারা আল্লাহর দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারো এবং আল্লাহর শত্রুদের লাঞ্ছিত করতে পারো। সুতরাং, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, তবেই তোমরা সফল হবে।
হে আমার কওম! এটি আমার পক্ষ থেকে একটি নসীহত মাত্র।
فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّه
অর্থ: “আমি তোমাদের যা বলছি, অচিরেই তোমরা তা স্মরণ করবে। আর আমি আমার বিষয়টি আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করছি।” [সূরা গাফির ৪০:৪৪]
দ্বাদশ বার্তা: হে জাযীরাতুল আরবের অধিবাসীরা!
হে জাযীরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপের অধিবাসীরা! এই পবিত্র ভূমিকে আল্লাহর শত্রু ইহুদী ও খ্রিস্টানরা আজ অপবিত্র করেছে। তারা এই ভূমিতে এমন সব নামে ও শিরোনামে সামরিক ঘাঁটি গেড়েছে, যা কোনো সুস্থ বিবেক বা দ্বীন কখনোই মেনে নিতে পারে না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أخرجوا المشركين من جزيرة العرب
অর্থ: “তোমরা জাযীরাতুল আরব থেকে মুশরিকদের বের করে দাও।”
এখন আপনারা যদি সন্দেহ করেন যে, তারা মুশরিক কি না, তবে তা হবে আপনাদের নিজেদের গলা থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলার নামান্তর। আর যদি আপনারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন যে তারা মুশরিক ও কাফের, তবে কেন আপনারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নির্দেশ মেনে চলছেন না? কেন আপনারা তা বাস্তবায়ন করছেন না?
আমেরিকা আমাদের সম্পদ চুরি করেছে, আমাদের আত্মমর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে, আমাদের দ্বীন নিয়ে উপহাস করেছে এবং আমাদের ইজ্জত-আব্রু কলঙ্কিত করেছে। কিন্তু আমরা তো কেবল আল্লাহর কাছেই মুখাপেক্ষী। আমরা আল্লাহর শক্তিতেই পরাক্রমশালী, তাঁর অনুগ্রহেই আমরা সম্মানিত ও অভিজাত এবং আল্লাহর পবিত্রতাতেই আমরা পবিত্র। আমরা আল্লাহর সাথেই আছি এবং কেবল তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল করি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ আমাদের সাথেই আছেন এবং তিনি কখনোই আমাদেরকে হতাশ করবেন না।
চূড়ান্ত ঘোষণা
আমি আমার সর্বোচ্চ কণ্ঠে এই ঘোষণা দিচ্ছি:
আমাদেরকে অবশ্যই আমেরিকা ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তাদের অহংকারকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে তাদের অসহায়ত্ব প্রমাণ করতে হবে। মুসলমানদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ, সময় যত কম বা বেশিই লাগুক না কেন, তাদেরকে জাযীরাতুল আরব থেকে বিতাড়িত করতে হবে। এখন আর চুপ থাকা বা কেবল কথা বলার কোনো ফায়দা নেই। এখন কেবল আল্লাহর পথে জিহাদ এবং বাস্তব কাজেরই ভীষণ প্রয়োজন।
হে মুসলিম! তুমি তোমার জান, মাল ও সন্তান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করো। যদি তা না পারো, তবে মানুষকে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করো এবং এর দিকে আহ্বান করো। আর যদি তা-ও না পারো, তবে তাদের অগোচরে অন্তত তাদের জন্য দোয়া করো।
আর যদি তুমি এগুলো করতে অস্বীকার করো, তবে অন্তত চুপ থাকো এবং মানুষকে তোমার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখো। আল্লাহর আনুগত্য থেকে তাদের নিবৃত্ত কোরো না। কারণ, এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তোমার বের হওয়াকে অপছন্দ করেছেন এবং তোমাকে অলস করে দিয়েছেন।
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন:
وَلَوْ أَرَادُوا الْخُرُوجَ لأَعَدُّوا لَهُ عُدَّةً وَلَكِنْ كَرِهَ اللَّهُ انْبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ اقْعُدُوا مَعَ الْقَاعِدِينَ
অর্থ: “আর যদি তারা বের হওয়ার ইচ্ছা করত, তবে অবশ্যই এর জন্য কিছু প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আল্লাহ তাদের বের হওয়াকে অপছন্দ করেছেন, তাই তিনি তাদেরকে অলস করে দিয়েছেন এবং বলা হয়েছে যে, তোমরা বসে থাকা লোকদের সাথেই বসে থাকো।” [সূরা আত-তাওবা, ০৯:৪৬]
আল্লাহ সেই সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন, যাঁরা আমাকে এই পথের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং এই মহান কাজের পেছনে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি মুজাহিদ কমান্ডার শায়খ উসামা বিন মুহাম্মাদ বিন লাদেনের কথা। আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র, হিংসুকদের হিংসা ও বিদ্বেষীদের আক্রোশ থেকে তাঁকে রক্ষা করুন। আল্লাহ যেন তাঁর এই কাজগুলোকে তাঁর নেকির পাল্লায় যুক্ত করেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দেন।
من يفعل الخير لا يعدم جوازيه لا يذهب العرف بين الله والناس
অর্থ: “যে ব্যক্তি ভালো কাজ করে, সে তার প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হয় না; আল্লাহ ও মানুষের মাঝে কোনো ভালো কাজই হারিয়ে যায় না।”
হে আল্লাহ! আপনি ইসলাম ও মুসলমানদের সাহায্য করুন। দ্বীনের সীমানাকে সুরক্ষিত রাখুন। হে রাব্বুল আলামিন, আপনার শত্রু তথা দ্বীনের শত্রুদের ধ্বংস করে দিন।
আর একেবারে শেষ বেলায় সায়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন তথা নবী ও রাসূলদের সর্দার এবং তাঁর পরিবার ও সমস্ত সাহাবীর ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্যই।
বক্তা:
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আল-উমারি আয-যাহরানি (আল্লাহ আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন। আমীন)
উপনাম: আবুল আব্বাস আল-জুনুবি
স্থান: কান্দাহার, আফগানিস্তান
***********
روابط بي دي اب
PDF [612 KB]
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬১২ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/eHjXe4gNA8cnEc5
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/pTYBtBp8yiYQDDz
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/L7R13R4Z#Xn6fUBjgsJKvKLvFFxzhzplOwEXnayiQ_fX1s7ckg0c
روابط ورد
Word (488 KB)
ওয়ার্ড [৪৮৮ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/RAz4PXoBcHkWjWe
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/9KXAYE2JJBdsqts
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/6jgVnLxS#AxuEe8R_LO1pRFRCqeGKTaCqSC3h2WulYs_NUCktTJw
روابط الغلاف- ١
book Banner (406 KB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৪০৬ কিলোবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/iwDdSLg8JPGDfry
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/WxdojnLmqfwHoCy
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/P7ZH3R6D#9mcSdo4C6885mFhkwxqLQKw9yLsN31S-Kr9SbXN7gjo
روابط الغلاف- ٢
Banner [1.5 MB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৫ মেগাবাইট]
লিংক-১ : https://archive.gnews.to/s/oHr6AHHzcXAaQsY
লিংক-২ : https://banglafiles.net/index.php/s/6GZWWJWDSo2A5W4
লিংক-৩ : https://mega.nz/file/2ugD3LBR#4nCvr1XT0P_7lbCis7Q1Tmjx0eVPFPYacwkuOr8E6_k
**************
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent




