সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / এ ধুলা কখনই মিটবে না / লোন উলফ ম্যাগাজিন| Lone Wolf Magazine ┇রজব ১৪৪০ | মার্চ ২০১৯┇Balakot Media
লোন উলফ ম্যাগাজিন| Lone Wolf Magazine ┇রজব ১৪৪০ | মার্চ ২০১৯┇Balakot Media

লোন উলফ ম্যাগাজিন| Lone Wolf Magazine ┇রজব ১৪৪০ | মার্চ ২০১৯┇Balakot Media

লোন উলফ ম্যাগাজিন| Lone Wolf Magazine ┇রজব ১৪৪০ | মার্চ ২০১৯┇Balakot Media
গ্লোবাল জিহাদের কাজকে সামনে অগ্রসর করতে…
সকল ভয় ঝেড়ে ফেলে করব লোন উলফ অ্যাটাক।
সব অ্যাটাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাগবে পুরো ব্যারাক।

প্রথম সারির লোন উলফ মুজাহিদিনগণ পাবেন পরবর্তীদের কাজের বদলা। এ এক বিশাল সাদকায়ে জারিয়া। আবাদান আবাদা।
তাই মৃত্যু ও বন্দিত্বের ভয় ঝেড়ে ফেলে চলুন ঝাঁপিয়ে পড়ি ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে। তছনছ করে দেই দ্বীনের শত্রুদের বড় বড় মাথাগুলোকে।
এর মাধ্যমেই বড় বড় গাজওয়াহ এর রাস্তা খুলে যাবে ইনশা আল্লাহ। আর সাদকায়ে জারিয়া চলতে থাকবে আবাদান আবাদা।

আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় অতি নিকটে।

 

     আর্কাইভ পেজ থেকে ডাউনলোড করুন!

মিডিয়াম কোয়ালিটি(10.6 MB)

অনলাইনে দেখুন ও ডাউনলোড করুন
https://www.pdf-archive.com/2019/03/…akot-media-mq/
https://archive.org/details/LoneWolfBalakotMediaMQ
https://archive.org/download/LoneWol…t-Media-MQ.pdf

হাই কোয়ালিটি(31.4 MB)

অনলাইনে দেখুন ও ডাউনলোড করুন

https://www.pdf-archive.com/2019/03/…akot-media-hq/
https://archive.org/details/LoneWolfBalakotMediaHQ
https://archive.org/download/LoneWol…t-Media-HQ.pdf

আরো আরো লিংক পেতে এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দিতে নিচের লিংক ব্যবহার করুন

 
https://telegra.ph/Lone-Wolf-Balakot-Media-03-27
https://telegra.ph/Lone-Wolf-Balakot-Media-03-27-2
https://telegra.ph/Lone-Wolf-Balakot-Media-03-27-3
https://telegra.ph/Lone-Wolf-Balakot-Media-03-27-4

——————————-  

গ্লোবাল জিহাদের কাজকে সামনে অগ্রসর করতে . . .

Lone wolf

লোন  উলফ

রজব ১৪৪০ | মার্চ ২০১৯

 

 

ভূমিকা

আলহামদুলিল্লাহ।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর জমিনে দ্বীন হিসেবে ইসলামকেই মনোনীত করেছেন। আমাদেরকে তাঁর দ্বীন ইসলামের দ্বারা সম্মানিত করেছেন। আর আল্লাহর জমিনে জিহাদ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন, যতক্ষণ না দ্বীন শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক সায়্যিদুল মুরসালিন মুহাম্মাদ (), তাঁর পরিবার এবং সকল সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি। এই লেখাটির শুরুতে কিছু কথা বলে নেয়া জরুরী মনে করছি। মূল লেখার সাথেই যে বিষয়গুলোর সম্পর্ক রয়েছে।

আল্লাহ রাব্বুল ইযযাহ কালামে পাকে বলেন –

وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ

আর তাদেরকে (কাফিরদের) মুকাবিলা করার জন্য সাধ্যমত শক্তি ও অশ্ববাহিনী সদা প্রস্তুত রাখবে, যা দ্বারা তোমরা ভয় দেখাতে থাকবে আল্লাহর শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদের, আর তাদের ছাড়াও অন্যদেরকে যাদের ব্যাপারে তোমরা জানোনা, কিন্তু আল্লাহ জানেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু খরচ কর তার পুরাপুরি প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে, আর তোমাদের সাথে কোন জুলুম করা হবেনা।

– আল আনফাল : ৬০ –

আল্লাহ আরো বলেন,

أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ

তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর? (অথচ) তোমরা যাকে ভয় করবে তার সবচেয়ে বেশি হকদার হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, তোমাদের হাত দিয়েই আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন, তাদেরকে অপমানিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন, আর মুমিনদের অন্তর প্রশান্ত করবেন।

– আত তাওবা : ১৩-১৪ –

১। বর্তমানে উম্মতে মুহাম্মাদী এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এতটাই কঠিন যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। শাম, ইরাক, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, কাশ্মীর, আরাকান, চেচনিয়া, চীন – দুনিয়ার সমস্ত প্রান্তে আজ মুসলিম উম্মাহ’র দুর্দশা যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক অনেক বেশি করুণ! উম্মতে মুহাম্মাদীর এই কঠিন অবস্থার কথা রাসুল (ﷺ) অনেক আগেই বলে গেছেন। আর সেটার কারণও বলে গেছেন।

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ السَّلاَمِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏”‏ بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ ‏”‏ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ ‏”‏ ‏.‏

صحيح (الألباني)

সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত – তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেনঃ খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতীয়রা (কাফেররা) তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে কি এরূপ হবে? তিনি বললেনঃ তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে; কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে ‘আল ওয়াহহান’ ঢেলে দিবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আল-ওয়াহহান’ কী? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। (সহিহ- আলবানী)

কিন্তু এর পরেও উম্মতের গাফেলতি, অবহেলা, উদাসীনতা, দ্বীনের ব্যাপারে শিক্ষার অভাব, আল্লাহর দ্বীনের উপরে অন্য দ্বীনের মুহাব্বাত, দুনিয়ার মুহাব্বাত ও মৃত্যুকে অপছন্দ করা, ইত্যাদি কারনে উম্মতের জিল্লতি তার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে। কিন্তু এ কথার দ্বারা যেমন উম্মতের জিল্লতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়না একইভাবে কোন মুসলিমই এ দায়ভার থেকে নিজেকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখতে পারেনা, যতক্ষণ না আল্লাহ অন্য কিছু চান।

নিশ্চয়ই এই উম্মত জিহাদ ছেড়ে দেয়ার জন্য লাঞ্ছিত হয়েছে যেমনটি রাসুল () এর হাদিসে এসেছে

عن ابن عمر، قال سمعت رسول الله () يقول ‏ «‏إذا تبايعتم بالعينة وأخذتم أذناب البقر ورضيتم بالزرع وتركتم الجهاد سلط الله عليكم ذلا لا ينزعه حتى ترجعوا إلى دينكم‏»‏-قال أبو داود الإخبار لجعفر وهذا لفظه

ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ () -কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমরা ঈনা[1] পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিবেন। তোমরা তোমাদের দ্বীনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান থেকে মুক্তি দিবেন না।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৪৬২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

মেকি ভ্রান্ত মায়াজালে পথভ্রষ্ট, মোহাবিষ্ট মুসলিম উম্মাহ’র মধ্যে যে শব্দটি মারাত্মক ভ্রান্তিমূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হচ্ছে জিহাদ। জিহাদ শব্দটি শুনলে কাফিরদের যেমন অন্তরাত্মা কেপে উঠে বড় আফসোসের বিষয় একই ভাবে মুসলিম ঘরের সন্তানেরাও আজ  জিহাদ শুনলে ভয় পায়! বাবা-মার মুখ শুকিয়ে যায়, মনে হয় যেন সন্তানকে সাপে কামড় দিয়েছে কিংবা তার চেয়েও ভয়ংকর কিছু। সন্তান যিনা করেছে এই সংবাদ আমাদের বাবা-মা দের ভাবায় না, চিন্তিত করেনা, লজ্জিত করেনা, কিন্তু সন্তান জিহাদ করে এই কথা তাদের ভীত করে তুলে, শঙ্কিত করে তুলে, তারা এমন সন্তানের ব্যাপারে লজ্জিত হয়! এটা যেমন আফসোসের তেমন লজ্জার! এর অন্যতম কারণ ৩ টি।

দ্বীন বিমুখিতা

দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং

দ্বীনি জ্ঞানের অভাব।

 ইসলামের আগমনের সাথে সাথেই জিহাদের সূচনা হয়েছে। ইসলাম, জিহাদ এগুলো কোন আলাদা বিষয় না। জিহাদ ব্যাতীত ইসলাম কায়েম হবে এমন ভাবা অবাস্তব। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অনেক জায়গায় জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’র কথা উল্লেখ করেছেন। জিহাদ নিয়ে, এর হুকুম আহকাম নিয়ে সুরা নাজিল করেছেন। আজ আমরা জিহাদকে ভয় পাই, লজ্জা পাই! অথচ এই জিহাদের মধ্যেই মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তা এবং সম্মান নিহিত। এটা কাফেররা জানে যে এই উম্মত যদি জিহাদ না ছাড়ে তবে তাদের পরাজয় ছাড়া আর কোন রাস্তা নাই, তাই তাদের অনেক বড় একটা প্রচেষ্টা এই যে, উম্মাহকে জিহাদ থেকে সরিয়ে রাখা, জিহাদ বিমুখ করা এবং জিহাদের ব্যাপারে ভ্রান্তি তৈরি করা। এই উম্মাহ যদি নিজের সম্মান এবং নিরাপত্তা অর্জন করতে চায় তবে তাকে তা জিহাদের মাধ্যমেই অর্জন করতে হবে, মনে রাখা দরকার – জিহাদ হচ্ছে এই উম্মাহর বর্ম!

আপনি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন, যখন উম্মতের মধ্যে জিহাদ চালু ছিলো তখন সারা দুনিয়ায় কতজন মুসলিম মা বোনকে আর নিষ্পাপ শিশুদেরকে হত্যা করা হয়েছে? আর তাকিয়ে দেখুন আজ যখন উম্মত জিহাদ ছেড়ে দিল তখন কী অবস্থা!

আমি আপনাদেরকে আরো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর কালাম। তিনি বলেন –

قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

বল, যদি তোমাদের পিতারা, আর তোমাদের সন্তানেরা, আর তোমাদের ভাইয়েরা, আর তোমাদের স্ত্রীরা, আর তোমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা আর ধন সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর তোমাদের ব্যবসা যার মন্দার ভয় তোমরা কর, আর বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাসো, (এসব) যদি তোমাদের নিকট প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং তাঁর পথে জিহাদ করা হতে, তাহলে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর চূড়ান্ত ফায়সালা তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।

(সুরা আত তাওবা – ২৪)

আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করেছেন সাহাবাদেরকে উল্লেখ করে (যদিও এই আয়াত শুধু মাত্র সাহাবাদের জন্যই খাস না), যাদের জিন্দেগীই ছিলো জিহাদের মধ্যে। তাঁদের জন্য যদি এই সতর্কবাণী হয়ে থাকে তবে জিহাদ ছেড়ে দেয়া এই উম্মতের জন্য এই আয়াত এখনো কালামে পাকে সাক্ষী হয়ে আছে! শুধু মাত্র এই বিষয়ের উপরেই আলিমগণ অসংখ্য কিতাব লিখেছেন তাই এই ব্যাপারে গভীর আলোচনা এই লেখার মাকসাদ না। শুধু এতটুকুই আমাদের জেনে রাখা দরকার উম্মতের জন্য জিহাদ হচ্ছে সম্মান। জিহাদকে ছেড়ে দিয়ে এই উম্মত কখনো নিরাপত্তা লাভ করতে পারেনা, পারবেনা। আরো একটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয় সেটি হচ্ছে সারা দুনিয়া এখন দু’টি মেরুতে বিভক্ত। এক হিজব আশ শাইতান এবং হিজব আর রাহমান। শয়তানের দল এবং আর রাহমানের দল। এই দুই এর মাঝে কিছু থাকতে পারেনা, কারণ কাফেররা তা থাকতে দিবেনা। এখন আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন দলের সাথে?

৩।

 সব শেষে যে বিষয়টি উল্লেখ করব – আপনি এবং আমি যুদ্ধের ময়দানেই আছি। যে যত দ্রুত তা উপলব্ধি করতে পারবে সেটা ততই তার জন্য মঙ্গলজনক।

আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ ۚ

হে নবী, আপনি মুমিনদের কিতালের জন্য উদ্বুদ্ধ করুন।

আল-আনফালঃ ৬৫

আল্লাহ আরো বলেন,

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ

তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায় এবং দ্বীন পুরাপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।

আল-আনফালঃ ৩৯

আর এই গাইডের উদ্দেশ্যও তাই – মুমিনদের মধ্যে থেকে কিতালের জন্য উদ্বুদ্ধ করা।

প্রথম আয়াতে স্পষ্ট করে, সন্দেহাতীত ভাবে আল্লাহ মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলছেন, হে নবী আপনি মুমিনদের কিতালের জন্য উদ্বুদ্ধ করুন। আর পরের আয়াতে আল্লাহ বলছেন তাদের সাথে (কাফের, মুশরিক এবং ফেতনাকারী) যুদ্ধ চালিয়ে যাও যতক্ষণ না দুনিয়ার বুকে শুধু আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হয়।

মুফাসসিরগণ এই আয়াতের তাফসিরে যা বলেছেন তার সারমর্ম হচ্ছে – যতক্ষণ শিরক এবং কুফর অবশিষ্ট থাকবে (কেননা তা হচ্ছে সবচেয়ে বড় ফিতনা) এবং ইসলাম দুনিয়ার বুকে বিজয়ী না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ জিহাদ চালিয়ে যেতে বলেছেন। আর এই অবস্থা কিয়ামত এর আগে হবেনা তাই কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জিহাদ চালু থাকবে। আর এই একই ব্যাখ্যা আমরা একটি সহিহ হাদিস থেকে পাই রাসুল (ﷺ) বলেন,

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتّى يَشْهَدُوا أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ اِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. اِلَّا أَنَّ مُسْلِمًا لَمْ يَذْكُرْ : اِلَّا بِحَقِّ الإِسْلَام

ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর পক্ষ হতে আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা এ কথা স্বীকার করে সাক্ষ্য না দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই, আর মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর প্রেরিত রসূল এবং সালাত আদায় করবে ও যাকাত আদায় করবে– ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। যখন তারা এরূপ কাজ করবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মাল নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী কেউ যদি কোন দণ্ড পাওয়ার উপযোগী কোন অপরাধ করে, তবে সে দণ্ড তার উপর কার্যকর হবে। তারপর তার অদৃশ্য বিষয়ের (অন্তর সম্পর্কে) হিসাব ও বিচার আল্লাহর উপর ন্যস্ত।[2]

তবে সহীহ মুসলিমে “কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী” বাক্যটি উল্লেখ করেননি।

তাহলে অন্তত এই ব্যাপারে আর সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই যে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জিহাদের হুকুম আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন এবং শুধু তাই না বরং জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাঁর রাসুল (ﷺ) কে আদেশ দিয়েছেন। এটা তো সাফ হয়েই গেলো। তবে হ্যাঁ এখনও আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর দল বিশ্রাম নিবেনা। আর কাফিররাও না।

সুতরাং এটা দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে যাওয়া উচিত যে – জিহাদের হুকুম আল্লাহর পক্ষ থেকে। এবং এটা ইসলামের একটি ফরজ বিধান, এই ব্যাপারে কারো বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখার অবকাশ নাই। আল্লাহ বলেন – কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম – তোমাদের উপরে রোজার বিধান দেয়া হল, আল্লাহ বলেন, – কুতিবা আলাইকুমুল কিতাল – তোমাদের উপরে কিতাল এর বিধান দেয়া হল।

 আমাদের মূল লক্ষ্য জিহাদের কাজে শরিক হওয়া যেহেতু এখন আমাদের সবার উপরে জিহাদ ফরযে আইন, বাধ্যতামূলক। আর জিহাদের এই কাজ জামাতবদ্ধ হয়ে করা জরুরী। শুধু জিহাদ না বরং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে জামাতবদ্ধ থাকা। আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এক হয়ে থাকতে এবং নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না হতে। এই জামাতবদ্ধ হওয়া হক্কপন্থী, বৈশ্বিক জিহাদি আন্দোলনের (গ্লোবাল জিহাদ)[3] কোন তানজিমের সাথেই হওয়া উচিত। এগুলোর প্রত্যেকটির উপরে আলাদা ব্যাখ্যা আছে যা এখানে উপস্থাপন করলে এই গাইডলাইনের কলেবর বেড়ে যাবে। তাই এমন কারও যদি সুযোগ থাকে কোন তানজিম বা জামাতের সাথে যুক্ত হবার, তবে তার জন্য সেটাই উত্তম। আর যদি এমন হয় যে, এমন সুযোগ কারো হচ্ছেনা কিন্তু একই সাথে তিনি অপারেশন/কিতাল করার ব্যাপারেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তবে এই গাইডলাইন তার জন্য। এটা এজন্য যে আপনার কাজ পরিশ্রম যেন গ্লোবাল জিহাদি আন্দোলনের কাজের সহায়ক হয়। অর্থাৎ আপনার এই কাজ যেন বাংলাদেশে গ্লোবাল জিহাদের কাজকে আরো একটু সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনার এই অপারেশন যেন এমন না হয়ে যায় যে, এই অপারেশন কৌশলগত বা অন্য যে কোন কারণে গ্লোবাল জিহাদের সামগ্রিক প্ল্যানকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। কারণ, যদিও আপনি একাই কাজ করবেন বা স্লিপার সেল নিয়ে করবেন কিন্তু আপনার কাজ গ্লোবাল জিহাদি আন্দোলনের নীতিমালার বাইরে নয় ইনশাআল্লাহ। এই বিষয়ে সামনে আরো কিছু আলোচনা হবে মূলনীতি অধ্যায়ে।

লোন উলফ কী?

 লোন উলফ (Lone Wolf) – একাকী শিকারী। এটি বর্তমানে যুদ্ধ কৌশলের একটি অন্যতম নাম। বিশেষ করে আরবান গেরিলা ওয়ারফেয়ারের (শহুরে গেরিলা যুদ্ধ) জন্য। ৯/১১ এর পরে এই পদ্ধতিটি মুজাহিদদের মধ্যে যথেষ্ট সমাদৃত হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে শাইখ উসামা (رحمة الله) সেই আহবান এর কথা যেখানে তিনি সারা দুনিয়ার সকল প্রান্তের মুসলিমদের আহবান করেছেন নিজ অবস্থান থেকে কুফর এর মাথা অ্যামেরিকার উপরে আক্রমণ করতে। বর্তমানে দুনিয়াব্যাপী কাফির মুরতাদ বাহিনীর জন্য অন্যতম একটি আতঙ্কের নাম “লোন উলফ”। সহজ ভাষায় যদি বলা হয় – লোন উলফ হচ্ছেন একজন একাকী মুজাহিদ, বা অল্প সংখ্যক মুজাহিদ স্লিপার সেল বা আরো সঠিক ভাবে বললে “উলফ প্যাক”। “লোন উলফ” এর শর্তকে আরো ভালো ভাবে বুঝা যায় –

“Who choose to think globally and act locally in a leaderless resistance operational model.”

একজন “লোন উলফ মুজাহিদ” চিন্তাধারা বা ভাবগত দিক থেকে বৈশ্বিক জিহাদি আন্দোলনের (গ্লোবাল জিহাদ) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে কিন্তু কাজ করে নিজের এলাকায়/দেশে/ভূমিতে, এবং এই কাজের জন্য তিনি কোন লিডারের অধীনে থাকেন না। বা তার এই কাজ কোন জিহাদি তানজিম/জামাতের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকা অবস্থায় হয়না। সহজ ভাবে একজন “লোন উলফ” গ্লোবাল জিহাদের ভাবধারা অনুযায়ী নিজ দেশ/ভূমি/স্থানে অবস্থান করে, কোন জিহাদি তানজিম/জামাতের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকা ব্যাতীরেকে অপারেশন পরিচালনা করবেন। তবে নিজের দেশ,বা স্থানের বাইরে গিয়ে অপারেশন করার সামর্থ্য থাকলে তাও করা যাবে ইনশা আল্লাহ।

এটি লোন উলফ এর জন্য ট্যাক্টিকাল অ্যাডভান্টেজ যে (কৌশলগত সুবিধা) – একজন লোন উলফ মুজাহিদ কোন জিহাদি তানজিম/জামাতের সাথে সরাসরি যুক্ত না থেকেও কাজ করতে পারেন। তবে অবশ্যই তা শরিয়াহসম্মত  হতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনের বাইরে নয়। কারণ শরিয়াহর নির্দিষ্ট গাইডলাইনের বাইরে হলে আমরা সেটাকে জিহাদ বলবোনা বরং সেটাকে সন্ত্রাসী কাজ বলব। কারণ শুধুমাত্র “আল্লাহ এবং তাঁর দ্বীনের জন্য” ব্যাতিত অন্য সকল রাহাজানিই হচ্ছে ফাসাদ এবং সন্ত্রাস। একজন সন্ত্রাসী এবং একজন মুজাহিদের মধ্যে এতটুকু পার্থক্যই যথেষ্ট যে, যে কেউ আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করা ব্যাতিত এবং শরিয়াহ অনুমোদনের বাইরে নিজের স্বার্থ কিংবা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যকে হাসিল করার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ধারণ করে থাকে, তা সন্ত্রাসমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত।

প্রসিদ্ধ কিছু লোন উলফ হামলা

‘লোন উলফ’, পরিভাষাটি নতুন হলেও এর পেছনের ধারণাটি নতুন নয় যুগে যুগে আল্লাহ তাঁর রাসূল () এর আশিকরা বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একাকী মুজাহিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আগ্রাসী কাফিরের উপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের হত্যা করেছেন এবং তাদের অন্তরে  ত্রাস সৃষ্টি করার মাধ্যমে মুসলিমদের চোখ হৃদয়গুলোকে প্রশান্ত করেছেন

গত শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন অবিভক্ত ভারতে রাসূলুল্লাহ () এর শানে চরম অবমাননামূলক বিভিন্ন বই প্রকাশ করতে শুরু করে উগ্র হিন্দুদের একটি সিন্ডিকেট, যার প্রধান ছিল রাজপাল নামে এক মালাউন প্রকাশক। ক্রুসেডার ব্রিটিশরা রাজপালের মালিকানাধীন প্রকাশনীর মুনশি রাম নামের এক কর্মচারীকে নানাভাবে এ কাজে সাহায্য ও সহযোগিতা করে। এমন অবস্থায় একাকী মুজাহিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মালাউন মুনশি রামকে হত্যা করেন কাজি আব্দুর রশিদ নামের এক বীর মুসলিম। এ ঘটনার পর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল () এর সম্মান রক্ষায় রাজপালের উপর হামলা চালান আরেক লোন উলফ গাজী খোদাবখস। গাজী খোদাবখসের হামলায় গুরুতর আহত হলেও রাজপাল জানে বাঁচতে সক্ষম হয়। গাজী খোদাবখসকে গ্রেফতার করা হলে তিনি আদালতে দৃপ্ত কণ্ঠে তার দুঃসাহসিক অপারেশনের স্বীকারোক্তি দেন।

তার কিছুদিন পর মালাউন রাজপালকে হত্যার নিয়তে আফগানিস্তান থেকে লাহোরে আসেন আরেক একাকী মুজাহিদ, গাজী আব্দুল আজিজ। রাজপালের লাইব্রেরিতে বসা সত্যানন্দ নামের আরেক ইসলামবিদ্বেষী মালাউনকে রাজপাল মনে করে হত্যা করেন তিনি। তারপর খোলা তলোয়ার হাতে সগর্বে ঘোষণা করেন, “আমি রাসূল () এর অবমাননাকারীকে হত্যা করেছি”।

শেষ পর্যন্ত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল () এর শত্রু মালাউন রাজপালকে হত্যা করেন আরেক মহান লোন উলফ, গাজী ইলমুদ্দিন। রাজপালকে হত্যার নিয়তে বাজার থেকে এক রুপি দিয়ে একটি ছুরি কিনেন তিনি। তারপর সোজা রাজপালের অফিসে গিয়ে দুজন কর্মচারীর সামনেই তাকে হত্যা করেন। তাগুতী আদালতের রায়ে গাজী ইলমুদ্দিনের ফাঁসির রায় হয়। মাত্র এক রুপি দিয়ে জান্নাত কিনে নেন গাজী ইলমুদ্দিন।

সাম্প্রতিক সময়ে এ ভূখন্ডের মাটিতে লোন উলফ হামলার উদাহরণ হল কৌশলে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসলামবিদ্বেষ প্রচার করা জাফর ইকবালের উপর হামলা। হামলাকারী ভাই কোন জামাতের সাথে সংযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও একাকী মুজাহিদ হিসেবে দ্বীন ইসলামের প্রতি ভালোবাসার কারনে এ হামলা চালান।

অবশেষে বাধ্য হয়ে ইংরেজ সরকার শাহাদাতের ১৪ দিন পর মুসলমানদের কাছে শহিদের লাশ অর্পণ করে। শহিদের লাশ কবর থেকে উঠিয়ে ট্রেনে লাহোরে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুসারে গাজি ইলমুদ্দিনের জানাযায় ছয় লক্ষ মুসলমান অংশগ্রহণ করে। লাহোরের ভাটিচক থেকে শুরু করে সুমনাবাদ পর্যন্ত পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জানাযা শেষে আল্লামা ইকবাল এবং সায়্যিদ দিদার আলী শাহ নিজ হাতে শহিদের লাশ কবরে রাখেন। যখন তার লাশ কবরে রাখা হচ্ছিলো, তখন মাওলানা যাফর আলী খান চিৎকার করে বলে ওঠেন, “হায়! আজ এই মর্যাদা যদি আমার নসিবে জুটতো!” ঠিক সেই মুহূর্তেই আল্লামা ইকবালের যবান থেকে উচ্চারিত হয়—

اسى گلاں اى کر دے رہ گئے تے تر خاناں دامنڈابازى لے گىا

আমরা পরিকল্পনাই বানাতে থাকি

আর এক কাঠমিস্ত্রির ছেলে এসে মর্যাদা লুফে নিয়ে যায়।

লোন উলফ অপারেশনের কিছু মূলনীতি

লোন উলফ

 মুজাহিদের জন্য কিছু মূলনীতি আমরা উল্লেখ করবো ইনশা আল্লাহ। এটা এজন্য নয় যে আমরা এই পবিত্র বরকতময় কাজে বেড়ি পরিয়ে দিতে চাই, বরং তা যেন এই কাজকে সুরক্ষিত এবং সংরক্ষিত রাখে শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।

ক। লোন উলফ মুজাহিদকে তার অপারেশনের লক্ষ্য/উদ্দেশ্য শুধু মাত্র আল্লাহর দ্বীনের খেদমত, উম্মাহর প্রতি হামদর্দী, কাফির মুরতাদদের উপরে শাস্তি বাস্তবায়ন এবং মুসলিমদের অন্তর প্রশান্তকারী এমন হতে হবে। ব্যক্তিগত কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই কাজ করলে তা দ্বীনের খাতিরে হবে না বরং তা নিজের নফসের চাহিদার প্রতিফলন হবে। এবং তা সন্ত্রাসমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত হবে।

খ। লোন উলফ এর জন্য এটা শর্ত নয় যে তাকে কোন জিহাদি জামাতের সাথে অবশ্যই যুক্ত হবে। তবে তাকে গ্লোবাল জিহাদের মূলনীতি  এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আদর্শ মেনে চলে সেই অনুযায়ী কিতালের কাজ করতে হবে।

গ। টার্গেট সিলেকশনের জন্য তাকে অবশ্যই মুজাহিদিন উমারাদের দেখিয়ে দেয়া গাইডলাইন ফলো করতে হবে। এই ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মুজাহিদিন উলামা এবং উমারাদের গাইডলাইন আছে সেগুলো অনুসরণ করতে হবে।

ঘ। Cast fear not fatality – লোন উলফ অ্যাটাক এই ধারণার সবচেয়ে বড় থ্রেট এবং শাস্তি হচ্ছে, ভয়। অনিশ্চয়তার ভয়। এখানে কতজনকে হত্যা করা হল এটি খুব মুখ্য নয় বরং এটি কিভাবে করা হল, কাজটির ধরন কতটুকু আনপ্রেডিক্টেবল (অপ্রতিরোধ্য, অচিন্তনীয়) এবং ধরন অনুযায়ী কাজটি এমন কিনা যে এটিকে ঠেকানোর আপাত কোন উপায় কাফিরদের জানা নাই, এমন বিষয়গুলোই তাদেরকে বেশি ভীত করে তুলে। তাই এই কাজের আরেকটি মূলনীতি হচ্ছে – ভীতি সৃষ্টি করা এবং তা হচ্ছে অনিশ্চয়তার ভীতি। একটি উদাহরণ জরুরী – যেমন ক্রুসেডার কাফেরদের কোন দেশে ট্রাক নিয়ে হত্যা করা। হতে পারে এমন কাজে কাফেররা নিহত হবে খুবই কম, হয়ত আহত হবে বেশি। কিন্তু এই কাজটির ধরন এমন যে – কখন তাদের উপরে আবার গাড়ি তুলে দেয়া হবে তা কেউ জানেনা। এই অজানার ভয়ে তারা আতঙ্কে থাকবে।

ঙ। পুনরাবৃত্তিঃ কাজের ধরনটি এমন হতে হবে যে তা যেন বারবার করা যায়। অর্থাৎ একবার করার পরে এর উপকারীতা এবং উপযোগিতা যেন শেষ না হয়ে যায়। একই সাথে কাজের ধরণ যেন এমন হয় যে তা বিভিন্ন জায়গায় বারবার করার সুযোগ থাকবে। কাফিরদের অন্যতম হতাশা এবং ভীতির কারণ এই যে, তারা জানে এমন অপারেশন আবার হবে, কিন্তু তারা যেটা জানেনা তা হচ্ছে – সেই অপারেশন কখন হবে, কোথায় হবে এবং কিভাবে হবে? উপরের উদাহরণ দ্রষ্টব্য।

চ। নিজেকে ক্যামোফ্লাজড/আড়াল রাখতে হবে। নিজেকে লুকিয়ে রাখুন। আপনার কাজ বা আপনার প্ল্যান বা যা কিছু আপনার মনের মধ্যে আছে তা কোনভাবেই প্রকাশ হতে দেয়া যাবে না।

নিজেকে প্রস্তুত করুন

ই পর্যায়ে আমরা একটি লোন উলফ অপারেশন এর জন্য কোন একজন একক মুজাহিদের নিজেকে প্রস্তুত করার ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ। একজন মুজাহিদের প্রস্তুতি ২ ধরনের।

শারীরিক এবং বস্তুগত প্রস্তুতি

মানসিক প্রস্তুতি

ক। শারীরিক এবং বস্তুগত প্রস্তুতি

আপনি নিজেকে প্রস্তুত করুন, কারণ আপনি খুব শীঘ্রই আল্লাহর দুশমনদের উপরে আঘাত করতে যাচ্ছেন ইনশা আল্লাহ। এমন অবস্থায় আপনি যদি ধরে নেন আপনার শত্রু দুর্বল তবে আপনি ভুল করবেন। হতে পারে আপনি কোন সফট টার্গেটে কাজ করবেন কিন্তু এর মানে এই না যে আপনার কাজ সহজ হয়ে গেলো। শারীরিক প্রস্তুতি এবং মানসিক প্রস্তুতি একটি আরেকটির সাথে যুক্ত। আপনার মন কখনোই প্রস্তুত হবে না যতক্ষণ না আপনার শরীর প্রস্তুত হবে। আবার আপনার শরীর কখনই সেভাবে সাড়া দিবেনা যতক্ষণ না আপনার মন অ্যাকটিভ/ফোকাসড হবে। আপনার শারীরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে আপনার ব্রেইন মেসেজ পাবে যে তাকে কোন দিকে ফোকাস করতে হবে।

যেমন মনে করুন, প্রতিদিন সকালে ৫ কিলোমিটার দৌড়ানো। এটা থেকে ব্রেইন মেসেজ পাবে আপনি নিজেকে কিছু একটার জন্য রেডি করছেন। ব্রেইন এটা জানে যে আপনি কিছু একটা প্ল্যান করছেন, কারণ ব্রেইন নিজেই সেটা করছে। কিন্তু সে তখনো এটার সত্যতা পায়নি। অর্থাৎ এই প্ল্যানকে যে বাস্তবে পরিণত করা হবে এমন কোন প্রমাণ ব্রেইন এখনো পায়নি। কারণ আপনি আপনার জীবনে এর আগেও অনেক প্ল্যান করেছেন, কিন্তু হয়ত সেগুলোর জন্য আপনি কোন পরিশ্রম করেননি। তাই ব্রেইন এটাকেও একটা আইডল থট/অলস চিন্তা হিসেবে দেখবে যতক্ষণ না আপনি এটার পিছনে আপনার শরীরকে কাজে লাগাবেন। এটা একটা সাইকোলজিক্যাল বাস্তবতা এবং এটা আপনাকে উপলব্ধি করতে হবে। আপনার এক্সারসাইজ আপনার ব্রেইনকে ফোকাসড করবে সুনির্দিষ্ট কাজের প্ল্যানের ব্যাপারে। আপনি যখন পুশআপ দিবেন ব্রেইন তখন এটা নোটে নিবে। পুশআপ দিলে হাতের শক্তি বাড়বে, আপনি পুশআপ দিবেন আর হাতের শক্তি বাড়লে সেটা খাটানোর শ্রেষ্ঠ জায়গা হচ্ছে কোপ দেয়া, সঠিক সময়ে ব্রেইন আপনার হাতে এক্সট্রা পাওয়ার ডেলিভারি করার সিগন্যাল দিবে যেটা আপনি কন্ট্রোল করতে পারবেন না। এটাই হচ্ছে ব্রেইন এবং বডির হারমোনি।

আমরা এখানে বিশদ ফিটনেস এর ব্যাপারে যাবনা বরং বেসিক ফিটনেস নিয়েই বলব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে – দৌড় যা স্ট্যামিনা বাড়ায়, পুশআপ যা হাতের শক্তি বাড়ায়, এবং অন্যান্য ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ যা আপনি সহজে করতে পারবেন। এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনার এই প্রস্তুতি যেন হঠাৎ এবং এমন বিশাল কলেবরে না হয় যে, তা অন্যের মনে সন্দেহ তৈরি করে। বা আপনি কোন নজরদারিতে পড়ে যান। যেমন লোন উলফ অ্যাটাকের উপরে কাফেরদের অ্যানালিস্টরা মন্তব্য করেছে যে, –

একজন লোন উলফ এর কাজ কি হবে সেটা আপনি নজরদারির আওতায় আনতে পারবেন না, তবে যা আপনি পারবেন তা হচ্ছে তার হ্যাবিট/অভ্যাস এর উপরে নজরদারি কারণ এটা তার অভ্যাস কোন একটি অপারেশন এর জন্য অবশ্যই তাকে তার অভ্যাসের বাইরে কিছু করতে হবে আর আপনি চাইলে তা মার্ক করতে পারেন

সুতরাং আপনার শারীরিক প্রস্তুতি এত বিশাল আয়োজনে করা যাবে না যে তা আপনার ব্যাপারে অন্যের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করে। নিজেকে গোপন রাখুন । যা আমাদের একটি মূলনীতি।

এর পরে আসে বস্তুগত প্রস্তুতি। এটি নিয়ে সামনে আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

খ। মানসিক প্রস্তুতি

নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেন। এর মধ্যে হতে পারে কাজটা কিভাবে করবেন সেটার প্ল্যান, এই কাজটির উপযোগিতা, উপকারীতা, কেন আপনি কাজটি করবেন ইত্যাদি। এগুলো আপনাকে দুর্বলতা এবং দুশ্চিন্তা থেকে হেফাজত রাখবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, অর্থসহ কুরআন পড়া, সিরাত এবং মুজাহিদিনদের ঈমানদীপ্ত ঘটনাবলী পড়তে পারেন যা আপনার ঈমানকে মজবুত করবে ইনশাআল্লাহ। মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আপনি নিজে ইস্তেখারা করতে পারেন কাজটির কল্যাণ বা অকল্যাণের ব্যাপারে। ইনশাআল্লাহ তা আপনার মনে আরো বেশি সাকিনা এবং ইতমিনান যোগাবে। আপনি যদি সিদ্ধান্ত নেন যে সত্যিই কাজটি করবেন তবে আপনার প্রতিদিনের শিডিউল থেকে কিছু আলাদা সময় এটার জন্য ব্যয় করেন, হোক শুধু তা চিন্তা বা প্ল্যানিং এর জন্য। অনলাইনে কোন স্টাডি করার দরকার হলে তাও করে নেন। এমন কাজে টর ব্রাউজার ব্যাবহার করবেন।

টার্গেট সিলেকশন

বার আমরা দেখবো কাদেরকে আমরা টার্গেট করবো। টার্গেট সিলেকশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শুধুমাত্র এই বিষয়ের উপরে প্রসিদ্ধ শায়েখগণ বিস্তর আলোকপাত করেছেন। একথা স্পষ্ট হয়ে যাওয়া দরকার যে একজন লোন উলফ মুজাহিদকে অবশ্যই শরীয়াহ অনুমোদিত টার্গেটে আক্রমণ করতে হবে। কিন্তু এটিও আমাদের বাস্তবতা যে প্রত্যেকটি টার্গেটের ব্যাপারে গভীর শরয়ী জ্ঞান আমাদের না থাকাই স্বাভাবিক। একই সাথে কোন একটি অপারেশনের গুরুত্ব এবং সেটির প্রভাব, সেটির উপকারীতা সম্পর্কে মুজাহিদ শায়েখ/কমান্ডারগণই সবচেয়ে বেশি ধারণা রাখবেন। তাই আমাদেরকে অবশ্যই মুজাহিদ শায়েখ/কমান্ডারদের দেখিয়ে দেয়া গাইডলাইন অনুযায়ী অপারেশন পরিচালনা করতে হবে। এমন কিছু অপারেশন আছে যা অপারেশন হিসেবে খুবই উন্নত কিন্তু যথাযথ গাইডলাইন অনুসরণ না করার কারণে তা জিহাদের জন্য উপকারী অপারেশন হিসেবে পরিচিত হতে পারেনি। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার অপারেশনটির একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য আছে। তা যদি সাধারণ মানুষের সামনে পরিষ্কার না হয় তবে অপারেশন যত নিখুঁতই হোক না কেন এবং তা শত্রুপক্ষের যত ক্ষয়ক্ষতিই করুক না কেন অপারেশনের গুণগত মানের দিক থেকে তা উত্তীর্ণ না।

টার্গেট সিলেকশনের ক্ষেত্রে আরো একটি প্রভাবক হচ্ছে – “প্রতিশোধের নীতি”। এর অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার যে সমস্ত প্রান্তে যে কোন ভাবেই “মুসলিম উম্মাহ” এর উপরে নির্যাতন নিপীড়ন হত্যাযজ্ঞ চলছে তা আমাদের নজরের বাইরে নেই, বরং প্রতিটি জুলুমকে স্মরণ করে রাখা হচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। আমরা বিশ্বাস করি “রক্তের বদলা রক্ত”। এবং “মুসলিম উম্মাহ” এর উপরে নির্যাতনকারীদের ব্যাপারে আমরা উদাসীন নই।

আমাদের টার্গেট: (এখানে মনে রাখতে হবে যে এটি গ্লোবাল জিহাদের সামরিক কৌশল অনুযায়ী)

ক)

 অ্যামেরিকা, ইজরায়েল, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ন্যাটো জোটভুক্ত (তুরস্ক বাদে) যে কোন দেশের যে কোন অমুসলিম (হারবি কাফের) বিশেষ করে উঁচু পদের কেউ। এসব দেশের যেসব ব্যবসায়িক কোম্পানি কাজ করে তাদের যে কোন কর্মকর্তা। যেমন শেভরন, ইউনিলিভার, নেসলে ইত্যাদি। তবে আপাতত কাফির মহিলাদেরকে টার্গেট না করাই উত্তম যেহেতু এদেশের অনেকের কাছেই এর শরয়ী দিক এখনো পরিষ্কার না।

অ্যামেরিকান কালচারাল সেন্টার এবং তাদের স্টাফ, ইউএস পরিচালিত বিভিন্ন স্কুল/কলেজ (তবে ছাত্রদের কোন ক্ষতি করা যাবে না। বাঙ্গালী কোন টিচার/ছাত্র এরকম কারো ক্ষতি করা যাবেনা) এবং তাদের স্টাফ (ইউএস ন্যাশনালিটি/নাগরিক) টার্গেট হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (AIS), পূর্বাচল হাইওয়ে, এখানে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, পদস্থ কর্মকর্তা টার্গেট হতে পারে। সাম্প্রতিক কালে নিউজিল্যান্ড শুটিং এর হত্যাকারী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। শুধু তাই নয় অস্ট্রেলিয়ান অনেক সিনেটরসহ অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতি ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষের জন্য সুপরিচিত! ন্যাটো জোট এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ন্যাটো অপারেশনে সৈন্য প্রেরণ করে। এছাড়াও  গুলশান বনানীতে বিভিন্ন অভিজাত হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে সাদা হারবিদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়।

খ)

 ভারতের যে কোন দালাল, পদস্থ কর্মকর্তা- সামরিক বা বেসামরিক (বিএসএফ), বা সাধারণ নাগরিক, তবে ভারতের নাগরিক যদি মুসলিম হয় তবে তাকে টার্গেট করা যাবেনা। ভারত এ দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে এবং এই দেশের মুসলমানদের তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। ব্রাহ্মণ্যবাদী মতাদর্শ অনুযায়ী সারা উপমহাদেশে জুড়ে “অখন্ড ভারত” নামে রাম রাজত্ব কায়েমের পাঁয়তারা তারা করে যাচ্ছে। বস্তুত এ উপমহাদেশে তারাই কুফর ও শিরকি শক্তির মূল কেন্দ্র।  শুধু এজন্যই নয় বরং ভারত তাদের দেশের মুসলিম নাগরিক এবং কাশ্মীরি মুসলিমদের উপরে যে নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তার জন্যও ভারতকে শাস্তি পেতে হবে। এদেশে কাজ করে এমন সকল ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির যে কোন উচু পদের মালাউন আমাদের টার্গেট।

(তবে আপাতত আমরা তাদের পরিবারকে আক্রমণ করবনা যেমন স্ত্রী, সন্তান)

দেশের মুসলিম এবং তাদের ঈমান আকিদাহকে কিনে নেয়ার চক্রান্ত হিসেবে হিন্দুত্ববাদী ভারত তাদের দেশের ভিসা সহজ করে দিয়েছে। এখন খুব সহজেই ইন্ডিয়ান ভিসা পাওয়া যায়। তাদের চক্রান্ত তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিয়ে ইন্ডিয়ান ভিসা নিয়ে গাজওয়া হিন্দের ভূমিতে “লোন অ্যাটাক” করা যায়। লোন অ্যাটাকের জন্য ভারত খুবই আদর্শ একটি জায়গা। ভারতে লোন অ্যাটাকের জন্য টার্গেট হতে পারে –

১।

 যে কোন হারবি নাগরিক। যেমন অ্যামেরিকান, ইজরায়েলি, অস্ট্রেলিয়ান, ব্রিটিশ ইত্যাদি। অর্থাৎ মুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত, বিশেষ করে ন্যাটো জোটভুক্ত যেকোন দেশের নাগরিক টার্গেট। বিভিন্ন টুরিস্ট স্পট, বার, হোটেল, নাইটক্লাব, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল এসব জায়গায় প্রচুর হারবি কাফেরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

২।

 ভারতের সিকিউরিটি ফোর্সের যে কোন সদস্য, যেমন পুলিশ, সিআরপিএফ, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ এর কোন সদস্য।

৩।

 ভারতীয় আর্মির যে কোন সদস্য। বিশেষ করে কাশ্মীরে – মুসলিমদের উপরে দমন নিপীড়ন এবং হত্যাযজ্ঞ চালানো রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এর সদস্য।

৪।

 ভারতের উগ্র হিন্দু নেতা যারা মুসলিম নিধনে নেতৃত্ব দেয়। যেমন আরএসএস, হিন্দু যুবা বাহিনী, দুর্গা বাহিনী (মহিলা), এমন যে কেউ টার্গেট হতে পারে। এজন্য সুনির্দিষ্ট কেউ হতে হবে এমন না, বরং এদের যে কেউই শরয়ী ভাবে হত্যার উপযুক্ত টার্গেট।

৫।

 ভারতীয় বিএসএফ এদেশের অগণিত নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। এ পর্যন্ত তাদের গুলিতে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশীর সঠিক হিসাব পাওয়াই কঠিন! ভারতীয় বিএসএফ লোন অ্যাটাকের আদর্শ টার্গেট হতে পারে।

৬।

 ভারতের কোন শাতিম, প্রকাশ্য নাস্তিক কিংবা প্রকাশক যাদের ইসলাম বিদ্বেষ প্রকাশিত এবং রাসুল () এর অবমাননাকারী, কিংবা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া রাসুল () এর অবমাননকারীরাও হতে পারে লোন অ্যাটাকের উৎকৃষ্ট টার্গেট।

গ)

  এ দেশের ট্রানজিট সুবিধা ভোগকারী ভারতীয় মালবাহী ট্রাক/রেলগাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া, স্যাবোটাজ করা ইত্যাদিও টার্গেট হতে পারে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে এই কাজে যেন এদেশের কোন নাগরিক বিশেষ ভাবে মুসলিম কারো কোন ক্ষতি না হয়।

ঘ)

 এদেশের বন্দরে নোঙ্গর করে রাখা অ্যামেরিকা, ইজরায়েল, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ন্যাটো জোটভুক্ত (তুরস্ক বাদে) যে কোন দেশ এবং তার বাইরে চীন এবং ভারতের পণ্যবাহী, কার্গো ক্যারিয়ার, তেলবাহী জাহাজে স্যাবোটাজ করা। (যাদের জন্য সম্ভব – নেভি অফিসার, মেরিন অফিসার, নাবিক, ক্যাপ্টেন, বন্দর কর্মী, খালাসি, এ সকল বিভাগের পরিবারের সদস্য এমন যে কেউ যার জন্য সুযোগ আছে)

ঙ)

 এদেশের সামরিক ফ্যাসিলিটিতে ট্রেনিং নিতে আসা কিংবা ট্রেনিং দিতে আসা অ্যামেরিকা, ইজরায়েল, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি ন্যাটো জোটভুক্ত (তুরস্ক বাদে) যে কোন দেশ এবং ভারতের যে কোন অমুসলিম সামরিক ব্যক্তি নারী বা পুরুষ উভয়েই সমান, আমাদের টার্গেট। ঢাকায় মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত ডিফেন্স সার্ভিসেস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে হারবি (মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত কাফির) দেশের আর্মি অফিসাররা ট্রেনিং এর জন্য আসে। যেমন ইন্ডিয়া, ইউএসএ, মায়ানমার (টার্গেট তালিকাভুক্ত)। এছাড়া বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের সাথে কোপসাউথ জয়েন্ট এক্সারসাইজ কিংবা সিলেট ক্যান্টনমেন্টের স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস (SI&T) এ তাদের অনেক ট্রুপস এবং অফিসার বিভিন্ন কোর্স বা প্রশিক্ষণ মহড়ার জন্য আসে। ইউএস ছাড়াও বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সামরিক মহড়া হয়ে থাকে।

চ)

 জাতিসংঘ, UNHCR, Action AID, Christian AID, Jago Foundation – এমন যে কোন প্রতিষ্ঠান যারা গোপনে এই দেশের মুসলিমদের খৃস্টান বানাচ্ছে এবং এই দেশে সমকামীতা, ফাহেশাসহ বিভিন্ন অশ্লীলতার পৃষ্ঠপোষক। এই টার্গেটের অধীনে অবশ্যই এমন কোন হারবিকে হত্যা করা যাবে যে এসব কাজের সাথে জড়িত। তবে এইকাজের সাথে জড়িত এদেশের নাগরিকদের আপাতত টার্গেট করা যাবেনা।

ছ)

 চীন এবং রাশিয়া। মুসলিম উম্মাহর উপরে অকথ্য নির্যাতনের দিক থেকে চীন অত্যন্ত অগ্রগামী যদিও সাধারণ মুসলমান তাদের এই পাশবিক চেহারা সম্পর্কে খুব কমই জানে। উইঘুর মুসলিমদের উপর তাদের নির্যাতন দুনিয়ার আর অন্য যে কোন প্রান্তে উম্মাহর উপরে চলমান নির্যাতনের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তাই চীনের যে কেউই আমাদের জন্য টার্গেট (মহিলা বাদে)। তবে বড় কোন পোস্টে কাজ করে এমন কেউ হলে ভালো। এ দেশে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি, কন্সট্রাকশন, টেলিকমিউনিকেশন এবং মিলিটারি – এই সেক্টরগুলোতে চীনের পদচারণা বেশি। এছাড়া বর্তমানে মুসলিমদের উপরে রাশিয়ার জুলুম সারা দুনিয়ার নিউজ হেডলাইন। সিরিয়াতে রাশিয়ার জুলুম ক্ষমার অযোগ্য! এজন্য তাদের শাস্তি পেতেই হবে। তারা যদি আমাদের নিরাপত্তা নষ্ট করতে ভীত না হয় তবে আমরাও তাদের নিরাপত্তা নষ্ট করতে ভীত নই।  চীন এবং রাশিয়ার যে  কেউ ই আমাদের টার্গেট তবে তারা পদস্থ কেউ হলে ভালো।

জ)

 দেশে সমকামীতা, নাস্তিকতা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের অশ্লীলতার প্রসার ঘটায় এমন মিডিয়া আউটলেট যেমন – “dw.com/bn ডয়েচে ভেলে” । dw.com/bn ডয়েচে ভেলে’র বাংলা বিভাগের প্রধান ভারতীয় নাগরিক দেবারতি গুহকে টার্গেট করা যায়।

ঝ)

 শাতিম আর-রাসুল (ﷺ) (রাসুল ﷺ এর অবমাননাকারী)। এমন নাস্তিক যে তার নিজের পাপকে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, এবং সমাজকে নোংরা চিন্তা দ্বারা কলুষিত করে। এমন নাস্তিক যার নাস্তিকতা প্রকাশ্য এবং সে এটার প্রচারক।

ঞ)

 ইসলামবিদ্বেষী এমন কোন জিন্দিক/মুরতাদ যার ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ সর্বসাধারণের সামনে প্রকাশ্য এবং এই কারণে তার কোন অনুশোচনা নাই। যার কাজই হচ্ছে ইসলামকে আক্রমণ করা। যেমন শাহ্‌রিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন, সুলতানা কামাল।

ট)

 মায়ানমারের যে কোন বৌদ্ধ কর্মকর্তা/কর্মচারী/ ব্যবসায়ী, তাদের যে কোন কূটনীতিবিদ ইত্যাদি।

ঠ)

 উগ্রবাদী হিন্দু, যারা মুসলিমদের সাথে বিবাদে লিপ্ত থাকে, মসজিদের জায়গা দখল করে নেয়, মসজিদ অপবিত্র করে দেয়, হোক সে কোন রাজনৈতিক নেতা কিংবা সাধারণ কেউ। যেমন “ইসকন” এবং এর নেতারা টার্গেট হতে পারে।

ড)

 সকল প্রকার অশ্লীল ব্যানার, বিলবোর্ড, সিনেমা হলের ব্যানার – এগুলো আগুন/পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া।

ঢ)

  সিনেমা/নোংরা সিডি ভিসিডির ব্যবসা হয় এমন দোকান জ্বালিয়ে দেয়া।

ণ)

  ডিশের ব্যবসা করে এমন ব্যবসায়ীদের ডিশের দোকান জ্বালিয়ে দেয়া, ডিশ পুড়িয়ে দেয়া, নষ্ট করে ফেলা যেন ঈমানদারদের মধ্যে ফাহেশা এবং অশ্লীল কাজ ছড়ানোর আগে তারা চিন্তা করতে বাধ্য হয়।

ত)

  শীশা লাউঞ্জ, বার, ড্যান্স বার, মদের বার এগুলোকে টার্গেট করা।

মনে রাখতে হবে, থেকে নং টার্গেটে কোন ব্যক্তি টার্গেট নয় এই ক্যাটাগরির টার্গেটের বস্তুগত ক্ষতি সাধন করতে হবে, তাদের দোকান, উপকরণ, সামগ্রী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে, নষ্ট করে দিতে হবে, ভীতি সঞ্চার করতে হবে কাউকে হত্যা করা যাবে না বা কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কোন কিছু করা যাবে না ব্যক্তির কোন ক্ষতি হতে পারে এমন সম্ভাবনা থাকলে অপারেশন করা যাবেনা

  টার্গেট প্রোফাইলিং

প্রথমে সম্ভব হলে অনলাইনে অথবা অন্য কোন মাধ্যমে টার্গেটের একটি প্রোফাইল তৈরি করে ফেলতে হবে। একটি টার্গেট প্রোফাইলের নমুনা নিচে দেয়া হলঃ

অপরাধীর নাম / সংগঠন –  ডয়েচে ভেলে dw.com/bn

প্রকার বা ধরনঃ মিডিয়া আউটলেট (টার্গেট বাংলা বিভাগের প্রধান – দেবারতি গুহ)
অপরাধের ধরনঃ সমকামীতা, নাস্তিকতাসহ কুরুচিপূর্ণ ফাহেশা এবং অশ্লীলতার প্রচারক।
অপরাধের প্রমানঃ অপরাধ সমূহের লিঙ্ক/ছবি/অডিও/ভিডিও খুঁজে বের করা, এবং সেগুলো প্রোফাইলে যুক্ত করা।

অপরাধীর অফিসঃ নেটে পাওয়া গেছে/ফিল্ড রেকির মাধ্যমে কনফার্ম করতে হবে।
অপরাধীর বাসাঃ নেটে পাওয়া গেছে/ফিল্ড রেকির মাধ্যমে কনফার্ম করতে হবে।
ডেইলি মুভমেন্ট শিডিউলঃ (সফট টার্গেট/ ব্যক্তি টার্গেট এর জন্য) অফিসে যায় সকাল ৯ টায় এবং ফিরে আসে রাত ৮ টায়।
ফিল্ড রেকির ফলাফলঃ রেকি থেকে কী কী নতুন বিষয় পাওয়া গেছে তা এখানে উল্লেখ করে রাখতে হবে। রেকি শেষ হলে প্রোফাইল কমপ্লিট হবে।
মন্তব্যঃ টার্গেটের ব্যাপারে কোন কমেন্টস থাকলে তা এখানে উল্লেখ থাকতে হবে।

 

১০ রেকিঃ

যে

কোন অপারেশনের পূর্বে ফিল্ড রেকি অত্যন্ত জরুরি। রেকি ছাড়া কোন অপারেশন করা উচিত না। রেকি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে টার্গেটের ব্যাপারে এবং অপারেশনের এলাকার ব্যাপারে যথাসম্ভব বিশদ ধারণা নেয়া। রেকিতে মূলত ২ টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়।

১) টার্গেট সম্পর্কে

ক। বাসা/মেস – (লোকেশন)

খ। অফিস/স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি – (লোকেশন)

গ। পেশা

ঘ। চলাচলের শিডিউল

ঙ। বিশেষ কোন দুর্বলতা/বদঅভ্যাস/অভ্যাস (যেমন – সন্ধ্যার সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, সপ্তাহের অমুক দিনে ক্লাবে/বারে যায়)

চ। টার্গেটের ছেলে মেয়ে কোন স্কুল/কলেজে পড়ে (অনেক সময়ে তারা নিজেদের ছেলে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসতে যায় বা নিয়ে আসতে যায়, সেখান থেকে টার্গেটকে ফলো করা লাগতে পারে)

ছ। টার্গেটের শারীরিক গড়ন, চলাচলের অভ্যাস (যেমন – প্রাইভেট ট্রান্সপোর্টেশনে চলাচল করে নাকি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যাবহার করে)

২) এরিয়া সম্পর্কে

ক। এরিয়ার বিস্তারিত ম্যাপ, বিভিন্ন রাস্তা অলিগলি সহ। এই ম্যাপটি নিজ হাতে আঁকা ভালো। নিজে রেকি করে এবং গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়ে একটি আপডেটেড ম্যাপ আঁকতে হবে, যেখানে অপারেশনের জন্য দরকারী সব স্পট এবং রুটগুলো মার্ক করা থাকবে। মনে রাখতে হবে গুগল ম্যাপে সব স্পট, সব রুট আপডেটেড থাকবে না তাই দরকার হলে রেকি করে গুগল ম্যাপ এবং ম্যাপ স্কেচ মিলিয়ে একটি আপডেটেড ম্যাপ তৈরি করে নেয়া ভালো।

খ। ইন এবং আউট রাস্তা

গ। সম্ভাব্য অপ্স স্পট

ঘ। অপ্স এরিয়াতে বিভিন্ন পয়েন্টের সিসি ক্যামেরা

ঙ। সিসি ক্যামেরাকে এড়িয়ে বিকল্প রাস্তা

চ। অপ্স এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা

ছ। অপ্স এলাকার সিকিউরিটি, পুলিশ টহল গাড়ি, থানা, পুলিশফাড়ি, চেকপোস্ট, কোন সরকারী অফিস, স্থাপনা ইত্যাদি।

জ। অপ্স এলাকার লোকজনের সাধারণ বর্ণনা, (যেমন – যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত, দোকানপাট বেশি, নাকি আবাসিক এলাকা যেখানে তেমন কেউ রাস্তায় থাকেনা)

১১) সিকিউরিটি

আমাদের কাজের জন্য নিরাপত্তা/সিকিউরিটি অত্যন্ত জরুরী। সিকিউরিটির জন্য আমাদের সাধ্যমত সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এরপরে আমরা আল্লাহর উপরে ভরসা করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শত্রুকে আঘাত করে বা কাজ শেষ করে দ্রুত এবং নিরাপদে স্থান ত্যাগ করা। শত্রুর দৃষ্টিতে একজন মুজাহিদ দুই সময়ে সবচেয়ে বেশি রিস্কে থাকে। যখন সে চলাচল (মুভ) করে এবং যখন সে যোগাযোগ (কমিউনিকেট) করে। আমাদের মূল সিকিউরিটি স্টেপসগুলোতে যাবার আগে আমরা তাগুতের দিক থেকে আমাদের জন্য মেইন কয়েকটা রিস্ক ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করব।

আল্লাহর ইচ্ছায় একজন লোন উলফ মুজাহিদের জন্য নিজেকে লুকিয়ে রাখা খুব সহজ যদি সে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখে। কোন মুজাহিদকে ধরার জন্য বা সার্ভেইল্যান্স করার জন্য তাগুতের ৩ টি শক্তিশালী উপকরণ হচ্ছে

মোবাইল নেটওয়ার্ক/কমিউনিকেশনস

সিসি ক্যামেরা

লোকাল সোর্স বা ইনফর্মার

তাই আপনি যদি অপ্স রিলেটেড যে কোন কাজে মোবাইল কমিউনিকেশন এবং সিসি ক্যামেরা অ্যাভয়েড করতে পারেন তাহলে আপনাকে খুঁজে পাবার জন্য তাদের কাছে ৩ নম্বর অপশন ছাড়া আর খুব বেশি পথ থাকবেনা। তাই আমরা অপ্স রিলেটেড কাজে মোবাইল কমিউনিকেশন ব্যাবহার করবোনা, এবং সিসি ক্যামেরা গুলোকে এড়িয়ে চলবো ইনশা আল্লাহ। যা সামনে আলোচনায় আসবে। সোর্স এবং ইনফর্মারকে প্রতিহত করার উপায় হচ্ছে নিজেকে স্বাভাবিক রাখা এবং বাইরে কোথাও অপ্স রিলেটেড কোন আলোচনা না করা। সব রকম অপ্স রিলেটেড ইন্টারনেটের রিসার্চ, স্টাডি, ম্যাপিং এর জন্য টর ব্রাউজার বা ভিপিএন ব্যাবহার করতে হবে।

১২  টিম সিলেকশন (যদি দরকার হয়)

ক। অপারেশন টিমের আকার যত সম্ভব ছোট রাখতে হবে, ৩ জনের অধিক না। ১ জন সবচেয়ে উত্তম।

খ। অপারেশনের টিমের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে, কারণ আপনার টিম মেম্বারের যে কোন একটা কথা বা কাজ আপনার অজান্তে আপনার পুরো অপারেশনকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই চেষ্টা করুন একা একা কাজ করতে।

গ। টিম যদি করতেই হয় তবে টিমের সবাইকে সব ইনফো বা তথ্য না জানানো। যার জন্য যতটুকু দরকার তাকে শুধু সেটুকুই জানানো।

ঘ। টিম মেম্বারদের সাথে মোবাইলে, মেসেজ বা চ্যাটে কোন আলোচনা করা যাবেনা। যত দরকার হবে মিট/দেখা করে কাজ সারতে হবে।

ঙ। নিজেদের মধ্যে টর বা ভিপিএন ইউজ করে এনক্রিপটেড মেসেজ বা মেইল আদান প্রদান করা যাবে। মিটিং ফিক্স বা শিডিউল করার জন্য। মোবাইল ইউজ করা যাবেনা।

চ। টিম মেম্বার নির্বাচনে যথেষ্ট দূরদর্শিতা এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। সামান্য সন্দেহ হলেও কাউকে রাখা যাবেনা।

ছ। বেশি কথা বলে, আড্ডাবাজ, ভীতু, মিথ্যা কথার অভ্যাস আছে এমন কাউকে টিমে রাখা যাবে না। টিমে কাউকে নেয়ার আগে তার ফেসবুক প্রোফাইল চেক করে দেখা যায়। তার কথা বার্তার মধ্যে বাতুলতা, নিজেকে জাহির করা, অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে নিজেকে মাতিয়ে রাখা, অধিক আড্ডাবাজ এসব লক্ষণ প্রকাশ করে এমন কাউকে রাখা যাবেনা।

জ। টিম মেম্বারদের আগে কিছু ছোট কাজ এবং দায়িত্ব দিয়ে তাদের জিম্মাদারি, আন্তরিকতা, সাহস, কর্মনিষ্ঠা, বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা যেতে পারে।

 

১৩ কমিউনিকেশন

ক। সমস্ত কমিউনিকেশন এনক্রিপটেড এবং টর বা ভিপিএন এর মাধ্যমে হতে হবে।

খ। মোবাইলে কোন কথা বলা যাবেনা, ব্রাউজ করা যাবেনা, নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল অপ্স এরিয়া, রেকি এরিয়াতে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল (সিম+সেট) কোন ভাবেই অপ্স এর সাথে জড়িত কোন কাজের জন্য ব্যাবহার করা যাবেনা।

গ। অপ্স এরিয়াতে কোন সেট ব্যাবহারের দরকার হলে ফ্রেশ সেট এবং সিম (অপরিচিত কারও নামে রেজিস্টার করা) দিয়ে কাজ করতে হবে।

১৪  সিসি ক্যামেরা

ক। রেকি করে সিসি ক্যামেরাগুলো লোকেট/নির্ণয় করতে হবে। এর পরে সেই সিসিগুলোর পজিশন ম্যাপে মার্ক/চিহ্নিত করতে হবে। এরপরে সেই রাস্তাকে এড়িয়ে বিকল্প রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে। সেই বিকল্প রাস্তা ম্যাপে মার্ক/চিহ্নিত করতে হবে।

খ। সব সময়ে ক্যাপ এবং মাস্ক ব্যাবহার করতে হবে।

গ। অনেক সিসি ক্যামেরা আছে যেগুলো নাইট ভিশন, তাই রাত হলেও মাস্ক, ক্যাপ খোলা যাবেনা।

ঘ। অপ্স এরিয়াতে যাবার সময় স্বাভাবিক ভাবেই ধরে নিতে হবে যে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা থাকবে, তাগুত বাহিনী যেন ব্যাক ট্রেস করে আশে পাশের কোন এরিয়াতে আপনাকে না পায় যেখানে আপনি মাস্ক বা ক্যাপ ছাড়া ছিলেন। এই জন্য আগেই ম্যাপ থেকে অপ্স স্পটকে কেন্দ্র করে আশে পাশের কম পক্ষে ৫ কিলোমিটার এলাকা রেড জোন হিসবে মার্ক করে রাখতে হবে এবং ঐ এলাকার মধ্যে সবসময়ে ক্যাপ এবং মাস্ক পরে থাকতে হবে।

১৫ যাতায়াত:

ক। ইন এবং আউটের রাস্তা আগেই ঠিক করে রাখতে হবে, সেই রাস্তাগুলোর স্বাভাবিক দিনের ট্রাফিক সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

খ। কাজ শেষ করে দ্রুত সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যেতে হবে, এজন্য অলি গলি ব্যাবহার করা যায়।

গ। সম্ভাব্য চেক পোস্ট, পুলিশের টহল গাড়িগুলো কোথায় থাকে তা ম্যাপে মার্ক করে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ২/৩ বার অপ্স এরিয়ার ম্যাপ স্টাডি করতে হবে। যেন আপনার মাথায় অপ্স এরিয়ার চিত্র পরিষ্কার ভাবে গেঁথে যায়।

 

১৬  অন্যান্য:

ক। বাইরে কোন মিট যদি দরকার হয় (টিমের ক্ষেত্রে) তাহলে কোন একটা সিকিউরড এবং পাবলিক প্লেস বেছে নিতে হবে যেখানে জাসুস (গোয়েন্দা, ইনফর্মার) বা অন্য কেউ আপনার তথ্য শুনে ফেলবে এমন ভয় কম থাকবে। চাইলে এক জায়গায় বসে না থেকে হেঁটে হেঁটে কথা বলা যায়। তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে, আপনার আশে পাশে কেউ যেন আপনার কথায় আকৃষ্ট না হয়।

খ। নিজে একাই কাজ করলে নিজের কাজের ব্যাপারে কারো সাথে কোন আলোচনা করা যাবেনা, মাশোয়ারা করা যাবেনা।

গ। এমন কিছু করা যাবেনা যা অন্যদের নজরে পড়ে যায়। রেকি এলাকায় রেকির সময় স্বাভাবিক থাকতে হবে। রেকি এলাকায় রেকির জন্য কাভার স্টোরি রেডি থাকতে হবে। অপ্স এর সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে ফেসবুকে এমন কোন পোষ্ট, আবেগতাড়িত পোস্ট দেয়া যাবেনা যা অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন – “একটা বিশেষ কাজের নিয়্যাত করেছি, দুয়া করবেন।” বা এমন কিছু।

ঘ। অপ্স এর জন্য এমন কোন টুলস বা ম্যাটেরিয়ালস কেনা যাবেনা যা সন্দেহজনক, যেমন ড্রোন, বড় আকারের চাকু, কোন এক্সপ্লোসিভ ম্যাটেরিয়ালস যা সন্দেহজনক। আসলে সব এক্সপ্লোসিভ ইনগ্রেডিয়েন্টসই এখন সন্দেহজনক। তাই এরকম কোন কেনাকাটার সময় যথাযথ কাভার স্টোরি রেডি রাখা এবং নিজের কোন ট্রেস না রাখা। নিজের অরিজিনাল কোন ডকুমেন্টস, আইডি, ফোন নাম্বার ব্যবহার না করা। অনেক লোন উলফ অ্যাটাক ভেস্তে যায় শুধু মাত্র কমপ্লেক্স ম্যাটেরিয়ালস/টুলস কিনতে গিয়ে।

ঙ। সকাল সন্ধ্যার আজকার এবং ঢেকে রাখার দুয়া, এইগুলো একজন মুজাহিদের বর্ম। এগুলো প্রতিদিন যথাযথভাবে আমল করতে হবে।

চ। ইস্তেখারা। ইস্তেখারা হচ্ছে আল্লাহর সাথে মাশোয়ারা। যেহেতু একজন লোন উলফ অন্যের সাথে মাশোয়ারা করার সুযোগ পান না তাই অবশ্যই তাকে গুরুত্ব সহকারে ইস্তেখারা করতে হবে।

১৭  আসলিহাঃ

মাদের দেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত আসলিহা হচ্ছে – চাপাতি, চাকু, নানচাকু, মলোটভ, হাতুড়ি, চেইন, স্পাইক, ছোট রড/পাইপ, সিরিঞ্জ + পয়জন, বাইক চাপা দেয়া (বিশেষ করে হারবি কোন কাফের হলে এই পদ্ধতি ব্যাবহার করা যায় তবে লক্ষ্য রাখতে হবে অন্য কোন মুসলিমের যেন কোন ক্ষতি না হয়)। স্যাবোটাজের জন্য যে কোন দাহ্য পদার্থ যেমন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি।

১৮  ড্রাই প্র্যাকটিস

অপ্স এর আগে ফুল অপ্স প্ল্যানকে অস্ত্রসহ মহড়া দেয়ার নাম ড্রাই প্র্যাকটিস। এই ড্রাই প্র্যাকটিসে অপারেশনের দিন যা যা হবার কথা তার সব কিছুই করতে হবে, শুধু মাত্র টার্গেটকে আক্রমণ করা হবে না। টিম হলে টিম সহ করতে হবে, একা হলে একাই করতে হবে। একটি ড্রাই প্র্যাকটিস প্ল্যান মূলত অপ্স প্ল্যান।

১৯  অপ্স প্ল্যানের নমুনা

প্স এর আগে অপ্স প্ল্যান লিখে রাখা ভালো। এতে সব কিছু ভালভাবে চেক করার সুযোগ থাকে। তবে অপ্স প্ল্যানের কোন কিছুই যেন বাইরে না থাকে। যেমন কোন কাগজে ছোট নোট, কোন স্কেচ, মোবাইল নাম্বার এরকম যে কোন কিছু। সমস্ত কিছু ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এর এনক্রিপটেড লোকেশনে রাখতে হবে। ফ্লেক্সি লোডের দোকানে ফেলে যাওয়া একটা চিরকুটের নাম্বার থেকে তাগুত একজন আসামীকে লোকেট করতে সমর্থ হয়েছিলো। তাই সমস্ত ডকুমেন্টস, পেপারস, নোট সব কিছু এনক্রিপ্টেড রাখতে হবে, যা কিছু হার্ড কপি থাকবে তা কাজ শেষ হবার সাথে সাথে পুড়িয়ে ফ্ল্যাশ করে দিতে হবে।

একটি অপ্স প্ল্যানের মূল ৩ টি অংশ থাকে

ক। সময় এবং অবস্থানঃ  এই সেকশনে অপ্স এর সমস্ত কাজের সময় এবং অবস্থান উল্লেখ করে দিতে হবে। তবে একজন হলে এটি জরুরী না।

খ। রাস্তাঃ কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে এবং কোন রাস্তা দিয়ে আসতে হবে, বিকল্প রাস্তা, এই সব পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

গ। কাজ বন্টনঃ কার কী কাজ হবে এটা পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যেমন কে আঘাত করবে, কে বাধা দিবে। তবে একজন হলে এটি জরুরী না।

২০ নিরাপত্তা সতর্কীকরণঃ

ক) কোন ভাবেই অপ্সের পরিকল্পনা কোথাও আলোচনা করবেন না।

খ) টার্গেট সম্পর্কে কারো সাথে বিরূপ মন্তব্য করবেন না। যেমন – আপনি কথাচ্ছলে কাউকে বললেন – ভারতীয় র’ এর এজেন্ট শাহরিয়ার কবিরকে মেরেই ফেলা উচিত। আপনি হয়ত জানেন না যাকে আপনি বললেন সে নিজে কিংবা যে সময়ে বলেছেন সে সময়ে আশে পাশে কোন জাসুস আপনার এই কথাকে নোটে নিয়ে আপনাকে নজরদারিতে রাখবে। একটা কথা আছে – If you want to shoot you don’t talk. তুমি যদি গুলি করতে চাও তবে কথা বলোনা। (স্রেফ গুলি করে দাও)

গ) অপ্সের সময় সাথে কোন মোবাইল, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ, পেনড্রাইভ, চিরকুট, সিমকার্ড ইত্যাদি আনবেন না।

ঘ) অথবা এমন কোন কিছু আনবেন না যার মাধ্যমে পরবর্তী সময় আপনাকে সনাক্ত করা যেতে পারে।

ঙ) অপ্স মোবাইল ও গনিমতের, অর্থাৎ টার্গেটের কাছ থেকে পাওয়া ফোন, ল্যাপটপ (যদি থাকে), কাজের পর দূরে কোথাও গিয়ে ব্যাটারী খুলে ফেলতে হবে। এটা আর অন করা যাবে না। পরে এটা বিক্রি করে দিতে হবে। বিক্রি করার জন্য নিজের ফোন ইউজ করা যাবেনা, নিজের বাসা থেকে ফোন দেয়া যাবে না। সম্ভব না হলে নষ্ট করে দিতে হবে। কোন ভাবেই নিজের জন্য ইউজ করা যাবে না।

দুয়াঃ সবসময় বেশি বেশি আল্লাহর কাছে সফলতা এবং নিরাপত্তার জন্য দুয়া জারি রাখতে হবে আল্লাহ আমাদেরকে সফলভাবে অপারেশন সম্পূর্ণ করার তৌফিক দান করুন এবং দুশমনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ রাখুন (আমিন)

 

২১  কিলিং এর ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা

কি

লিং এর ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতির দরকার আছে। এর জন্য মানসিক এবং শারীরিক দুই ধরনের প্রস্তুতির দরকার আছে। নিজের কাজের ব্যাপারে চিন্তা করা, বেশি বেশি দুয়া করা, তিলাওয়াত করা এগুলো মানসিক প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ।

শারীরিক প্রস্তুতির জন্য নিজেকে ফিট রাখতে হবে। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, কিংবা সুবিধা থাকলে জিম করা যায়। বিশেষ করে নিজের স্ট্যামিনা (কম পক্ষে একটানা ৫ কিমি দৌড় মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড তাহলে কাজের সময় আপনি অন্তত ১ কিমি দূরত্ব দ্রুত পার হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ), মাসল স্ট্রেন্থ, এগুলো জরুরী।

[মুহাম্মদ আলিকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো আপনি প্রতিদিন কত কিলোমিটার দৌড়ান? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন কিলোমিটার প্রশ্নকারী খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন মাত্র কিলোমিটার? আলী বললেননা এর আগে দৌড়ে টায়ার্ড হবার পরে আরো কিলোমিটার মূলত এটিই আসল বিষয়, আপনি আপনার সবটুকু দেয়ার পর আর কতটকু দিতে পারবেন আপনাকে যদি পালাতে হয় তবে আপনার ধরা পড়া চলবেনা]

আপনি আপনার টার্গেটকে কিভাবে, কী দিয়ে হত্যা করবেন সেটা নির্ধারণ করে এরপরে তা প্র্যাকটিস করতে হবে।

ক। আপনি নিজের ঘরে টার্গেটের সম্ভাব্য একটি ডামি করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এটির জন্য কোন সিকিউরিটি রিস্ক নেয়া যাবে না। আপনি দেয়ালে টার্গেট এর সমান উচ্চতায় কিছু চিহ্ন দিয়ে রাখতে পারেন যেমন, এই উচ্চতায় মাথা, চোখ, গলা, বুক এমনভাবে। এর পরে সেই হাইট বরাবর চাকু চালানোর অভ্যাস করেন।

খ। চাকুর ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে এটা দিয়ে হত্যা করতে হলে পিয়ার্স করতে হবে। মানে এটা নার্ভ পয়েন্টে ঢুকিয়ে দিতে হবে। যেমন ধরেন বুক  – তাহলে চাকু বুকের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে মোচড় দিতে হবে। চাকু দিয়ে স্লাইস করলে বা পোঁচ দিলে তা হত্যার জন্য যথেষ্ট না।

গ। আবার দূরত্বও একটা বড় ফ্যাক্টর। টার্গেট এবং আপনার মধ্যে দূরত্ব খেয়াল রাখতে হবে, এটা এত কাছে হওয়া যাবেনা যে আপনি ঠিকমত আঘাত করতে পারছেন না, আবার এত দূরে হওয়া যাবেনা যে আপনার আঘাতের ইমপ্যাক্ট নষ্ট হয়ে যায় বা কমে যায়। যেমন আপনি শয়তান জাফর ইকবালের ঘটনাটা যদি স্টাডি করেন তাহলে বুঝতে পারবেন – এখানে দূরত্ব এবং পদ্ধতি দুইটা সিলেকশনে ভুল হয়ে গিয়েছিল। টার্গেট এর খুব কাছে লোন উলফ মুজাহিদ ভাই অবস্থান করছিলেন এবং ছুরি দিয়ে তিনি স্লাইস/পোঁচ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক সময় জবাই দেয়ার কাজটাকে আমরা স্লাইস/পোঁচ এর সাথে মিলিয়ে ফেলি। দুইটা এক না। ছুরি দিয়ে আঘাতের সময় অবশ্যই তা ভিতরে ঢুকিয়ে মোচড় দিতে হবে, এবং কয়েক বার আঘাত করতে হবে। এটাকে স্ট্যাব বলে।

ঘ। এই ভাবে কোন অস্ত্র কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে কোন নার্ভ পয়েন্টে আঘাত করে হত্যার জন্য উপযুক্ত তা আপনাকে জানতে হবে। এর জন্য বেসিক ম্যানুয়াল হিসেবে নিচের বই দেখতে পারেন।

21 techniques of silent killing[4]

ঙ।  যা লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

কী দিয়ে হত্যা করবেন? (খালি হাত, চাকু, হাতুড়ি, স্পাইক, চেইন)

কোন জায়গায় আঘাত করবেন? (মাথা, বুক, পেট, কিডনি)

কোন সাইড থেকে আঘাত করবেন? (সাইড, সামনে, পেছনে)

টার্গেটের কোন অবস্থায় আঘাত করবেন? (চলন্ত, বসা, দাঁড়িয়ে থাকা)

আঘাতের সময় আপনার অবস্থা কেমন থাকবে? (স্থির, হাটার উপরে, দৌড়ের উপরে)

কয়বার আঘাত করবেন?

আপনার এবং আঘাত করার স্থানের মধ্যে দূরত্ব

আঘাত করার অ্যাঙ্গেল

উপরের বিষয়গুলো নোট নিয়ে যথাসম্ভব নিজে নিজে প্র্যাকটিস করা।

চ।  নার্ভ পয়েন্ট সিলেকশনঃ এটি একটি বড় বিষয়। মানুষের দেহের কিছু জায়গা আছে যেগুলোতে সঠিক আঘাত করা গেলে হত্যা দ্রুত এবং সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। নেটে এই বিষয়ে অনেক লেখা এবং ভিডিও আছে যা আপনারা দেখে নিতে পারেন ইনশাআল্লাহ।

২২  স্যাবোটাজ এর জন্য লক্ষণীয় কিছু বিষয়ঃ

স্যাবোটাজ শুধু মাত্র ‘ড’ থেকে ‘ত’ নং টার্গেটের জন্য। এই টার্গেট এর জন্য প্রযোজ্য হবে যে তাদের কাউকে হত্যা করা হবেনা, হত্যা করাকে উদ্দেশ্য রাখা যাবেনা। এই বিষয়টি খুব ভালো ভাবে মাথায় রাখা চাই যে এই টার্গেট শ্রেণীর কাউকে আমরা হত্যা করতে চাইনা এখানে শুধুমাত্র বস্তুগত ক্ষতি করতে হবে। স্যাবোটাজের জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবেঃ

স্যাবোটাজ দিনের বেলায় না করে রাতে করাই উত্তম।

কোন মুসলিম, সাধারণ মানুষ যেন নিহত না হয় বা তাদের কোন গুরুতর ক্ষতি না হয়।

স্যাবোটাজের জন্য আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া বা কোন দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া যায় কিংবা ভাংচুর করা যায়।

আগুন বা দাহ্য পদার্থ ব্যাবহার করার সময় সতর্ক থাকতে হবে তা যেন নিজের গায়ে না লাগে, কিংবা তা যেন বিপদজনক ভাবে আশেপাশের ভবন, বস্তি, বা মানুষ  বসবাস করে এমন জায়গায় ছড়িয়ে না পড়ে।

সাধারণ মুসলিমের ক্ষতি হবে এমন সম্ভাবনা থাকলে তেমন টার্গেট অ্যাভয়েড করতে হবে।

স্যাবোটাজের সময় গতি, ক্ষিপ্রতা, তান্ডব এবং পেশিশক্তির পূর্ণ ব্যাবহার করতে হবে।

২৩  অপ্সের পর বিবৃতি

আল্লাহর রহমতে সফল অপারেশনের পর আপনি মিডিয়াতে বিবৃতি পাঠাতে পারেন। একটি পরিমার্জিত, সহজবোধ্য বিবৃতি অপ্স এর অর্ধেক সফলতা বহন করতে পারে। তবে এটি অবশ্যই অনলাইন সিকিউরিটি বজায় রেখে করতে হবে। এমন কাজের জন্য অবশ্যই টর বা ভিপিএন ব্যাবহার করে কাজ করতে হবে। নিজের কম্পিউটার ব্যাবহার না করে সাইবার ক্যাফে ব্যাবহার করা যায়। তবে এটাও খেয়াল রাখা দরকার, এমন সাইবার ক্যাফে অ্যাভয়েড করতে হবে যেখানে সিসি ক্যামেরা থাকে। আর এরকম বিবৃতি না  দেয়া গেলেও দাওয়াহ ইলাল্লাহ ফোরাম বা এ রকম কোন প্লাটফর্মে অপারেশনের সুসংবাদ উম্মাহকে জানিয়ে উম্মাহর দুয়ার ভাগীদার হতে পারেন ইনশাআল্লাহ।

দুনিয়ার প্রতিটি প্রাণী যখন আরোও একটু বাঁচতে চায়, জীবনকে আরো একটু উপভোগ করে নিতে চায় তখন আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছে যারা রাতের গভীরতার সাথে সাথে চোখের পানি ফেলে আল্লাহকে ডাকতে থাকে আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে থাকে – কখন সে নিজেকে আল্লাহর জন্য কুরবান করে দিতে পারবে।

তুমি তাকিয়ে দেখ, সারা দুনিয়া আজ কত পঙ্কিলতায় ব্যস্ত। তাকিয়ে দেখ দুনিয়ার দিকে – তুমি কী দেখতে পাও? নোংরামি, অসভ্যতা, অশ্লীলতা, রাহাজানি, প্রতারণা, ছলনা, লোভ, হিংসা বিদ্বেষ, মানুষ তার নিজের তৈরি মায়াজালে আটকা পড়ে আজ ক্লান্ত। সারা দিন ছুটে রিজিকের পিছনে আর রাতে এসে ক্লান্ত পশুর মত ঘুমায়! আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক কোথায়! হায় কত হতভাগা সে অন্তর যে অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত।

তুমি তাকিয়ে দেখ তোমার মত কত যুবক আজ নষ্টা নারীদের মন পেতে ব্যস্ত, যাদের সতীত্ব বলতে কিছু নাই, পবিত্রতার সাথে যাদের কোন সম্পর্ক পর্যন্ত নাই। যারা নিজেদের সৌন্দর্যকে উঁচু দরে বিক্রি করতে শিখেছে। কিন্তু ৪০ পার হলেই সে সৌন্দর্য আর কোন দামেই বিক্রি হয়না। তুমি দেখ, তোমার মত কত যুবক আজ ছুটছে চাকরি, ব্যবসা আর ক্যারিয়ার নামক মায়ার পিছনে। তুমি জানো তাদের মধ্যে কতজন সফল হয় আর কতজন ঝরে যায়? তবুও তুমি তাদেরকে ছুটতেই দেখবে, বিরামহীনভাবে।

আর এসব কিছু ছাপিয়ে তুমি দেখবে খুব সামান্য মানুষকে – যারা যেন এই দুনিয়ারই না। তাদের পোশাক পরিচ্ছেদ খুবই সাদামাটা, তাদের চলাফেরা খুবই সাধারণ। তুমি দেখবে দুনিয়া তাদের মনে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তারা দুনিয়ার কাছে বিক্রি হয়নি আর দুনিয়াও তাদের সাথে কোন সওদা করতে পারেনি। কারণ তারা সওদা করেছে সরাসরি সারা জাহানসমূহের মালিক আল্লাহ রব্বুল ইযযাতের সাথে!

সৌন্দর্যকে উঁচু দরে বিক্রি করা নারীদের পিছনে ঘুরে বেড়াতে পারলে অনেক যুবক নিজেদের ধন্য মনে করে। এই হাতে গোনা বান্দারাও কিন্তু নিজেদের জন্য রমণী খুঁজে নিয়েছে। আর তারা এমন সস্তা কাউকে বেছে নেয়নি বরং তারা তো বেছে নিয়েছে জান্নাতী নারীদের মধ্য থেকে। যাদের রূপের বর্ণনা তোমার অন্তর ধারনা করতে পারবেনা, যাদের একটা রুমাল দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ অপেক্ষা দামী, যারা দুনিয়ায় একবার উঁকি দিলে সমস্ত পুরুষ পাগল হয়ে যাবে, যাদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন! আর তারা এমন একটা নয়, দুইটা নয়, দশটা নয়  বরং ৭২ জনকে বেছে নিয়েছে নিজের জন্য! ৭২ জন হুর আল আইন, যাদের দেখা মাত্র বুকের স্পন্দন থেমে যাবার উপক্রম হয়!

তারা বেছে নিয়েছে মৃত্যুর কষ্ট বনাম সামান্য পিঁপড়ার কামড়ের মত কষ্ট, তারা বেছে নিয়েছে হাশরের দিনে পঞ্চাশ হাজার বছর অপেক্ষা করা বনাম আল্লাহর আরশের নিচে সবুজ পাখি হয়ে ঝুলে থাকা, তারা বেছে নিয়েছে আল্লাহর সামনে হিসাব দেয়া বনাম বিনা হিসেবে জান্নাতে চলে যাওয়া। তারা জানে, তাদের এই জীবন তো আল্লাহরই দেয়া। আল্লাহর হুকুমেই আবার এই জীবন চলে যাবে। শেষ হয়ে যাবে। মাটির সাথে মিশে যাবে। এর বিনিময়ে তারা এটা বেছে নিয়েছে যে, তাদের এই জীবন আল্লাহর জন্য কুরবান হবে এবং তাদের শরীর গলে যাবেনা, পচে যাবেনা, তাদের রক্ত থেকে মেশক এর ন্যায় সুঘ্রাণ বের হতে থাকবে আর তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক প্রাপ্ত হতে থাকবে।

আর আল্লাহ এই ব্যাপারে সত্যায়ন করেছেন –

وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ

আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তোমরা তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।

[বাকারাঃ ২৫৩]

وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاء عِندَ رَببِّهِمْ يُرْزَقُونَ

আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।

[আল ইমরানঃ ১৬৯]

এরাই হল তারা যারা মরে যায়, কিন্তু মরে গিয়ে জীবিত হয়ে যায়! এরাই হল তারা যারা আল্লাহর আরশের নিচে সবুজ পাখি হয়ে ঝুলে থাকে। এরাই হল তারা যাদের মৃত্যু কষ্ট পিঁপড়া কামড় দেয়ার মত। এরাই হল তারা যাদের প্রথম ফোটা রক্ত মাটিতে পড়ার আগে সমস্ত পাপ মাফ হয়ে যায়। এরাই হল তারা যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক প্রাপ্ত হয়। এরাই হল তারা যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাবে। এরাই হল তারা যাদের ৭২ টি হুর আল আইন থাকবে, এরাই হল তারা যারা নিজেদের পরিবার এর ৭০ জন কে নিজের সাথে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে।

এরাই হল তারা যারা – আল্লাহর সাথে প্রেম করতে শিখেছে আর আল্লাহর ভালোবাসায় পাগল হয়ে নিজেকে কুরবান করতে শিখেছে !

২৪ শেষ কথাঃ

নিঃসন্দেহে আপনি যে কাজের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তা অনেক বড় একটি কাজ। আপনি কাজ করছেন একা কিন্তু আল্লাহ চাইলে আপনার এই কাজ অনেক বড় এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফল নিয়ে আসতে পারে। আপনার এই কাজ গ্লোবাল জিহাদেরই একটা অপারেশন। আজকে আপনার এই অপারেশন দেখে হয়ত আরো একশত জন উৎসাহিত হবেন। তাদের মধ্যে থেকে যদি বিশটি অপারেশনও হয় তবুও তা আল্লাহর দুশমনদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করবে ইনশা আল্লাহ। প্রতিটি অপারেশনের সমান ভাগ আপনিও পেয়ে যাবেন ইনশা আল্লাহ।

এই যুদ্ধটি হচ্ছে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। বাস্তবে এর অর্থ হচ্ছে আপনি তিলেতিলে শত্রুর রক্তক্ষরণ করে তাকে দুর্বল করবেন। আমরা তাদেরকে একদিনে পরাজিত করতে পারবোনা। বরং আমাদের যুদ্ধের একটি কৌশল হচ্ছে শত্রুকে আস্তে আস্তে নিঃশেষ করা, পরিশ্রান্ত করা, হয়রান করা। এরপরে শত্রুর চূড়ান্ত পতন এবং বিজয় আল্লাহর ইচ্ছা মত সময়েই আসবে ইনশা আল্লাহ। যেমনটা আমরা আফগানিস্তানের ময়দানে দেখেছি আলহামদুলিল্লাহ। ১৭ বছরের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার, সামরিক শক্তি, আজ সুপার পাওয়ার অ্যামেরিকার কোন কাজেই আসলোনা! লাঞ্ছিত এবং পরাজিত হয়ে আজ তারা ময়দান ছাড়ছে!

আপনাকে মনে রাখতে হবে, এই কাজে নিজের মনমত বা নিজের নফস এর অনুসরণ করা যাবেনা। কারণ এই কাজ শুধুই আল্লাহর জন্য। এই কাজের সফলতার জন্য বেশি বেশি দুয়া করতে হবে এবং যথাসম্ভব গাইডলাইনগুলো অনুসরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে শয়তান আমাদেরকে নানা দিক থেকে ধোঁকা দিবে, ভয় দেখাবে। কিন্তু শয়তানকে ভয় পাবার কোন কারণই নাই। আমাদের উচিত একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করা এবং আল্লাহর উপরেই তাওয়াক্কুল করা। আল্লাহ বলেন – “আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের ব্যাপারে খুব ভালো করেই জানেন, অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট, সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট”

আল্লাহ বলেছেন আল্লাহ চারিদিক থেকে কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন। উহুদের যুদ্ধের দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটা কথা শিখিয়ে দিয়েছিলেন – আর তা হচ্ছে – আল্লাহু মাওলানা ওয়ালা মাওলা লাকুম। আল্লাহ আমাদের মাওলা এবং তোমাদের কোন মাওলা নাই। তাই আপনি নিশ্চিত থাকেন আপনার এই কাজে আল্লাহ আপনার সাথে আছেন।

আপনি যদি সফল হোন তবে আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে আসলেন। সাথে মুসলিম উম্মাহর অন্তরের প্রশান্তি এবং তাদের দুয়া আপনার সাথে। একই সাথে আপনি কাফিরদের অন্তরে জ্বালা তৈরি করলেন এবং তাদেরকে অপমানিত করলেন। আর আপনি যদি শহীদ হয়ে যান তবে আপনি আরো বেশি সফল হয়ে গেলেন ইনশা আল্লাহ। কারণ আপনি আপনার সমস্ত গুনাহগুলোকে মাফ করিয়ে নিয়ে আল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য চলে যাবেন ইনশা আল্লাহ।

পরিশেষে আল্লাহর কাছে দুয়া করি – আল্লাহ আপনার এই কাজে সাফল্য দান করুন, কামিয়াবি দান করুন এবং আমাদের কাজগুলোকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নিন। ইয়া আল্লাহ, আপনি আমাদের আমলগুলোকে আপনার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নিন এবং সাহায্যকারী হিসেবে আপনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আমরা শুধু আপনার উপরেই ভরসা করি এবং আপনার কাছেই আমাদের সবার প্রত্যাবর্তন। আমীন।

سبحانك اللهم وبحمدك،

أشهد أن لا إله إلا أنت،

أستغفرك وأتوب إليك

Contact

https://dawahilallah.com

[1]       ঈনা: প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ধারে অধিক ক্রয়-বিক্রয় করা। যেমন কেউ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দশ টাকায় কিছু বিক্রি করলো এবং ঐ সময় শেষ হওয়ার পর তা আট টাকায় কিনে নিলো।

[2]           সহীহ : বুখারী ২৫, মুসলিম ২২, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫১৪১; মুসলিমের শব্দ হলো اِلَّا بِحَقِّهَا

মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

[3]           গ্লোবাল জিহাদ কোন আলাদা জিহাদ না, বা আলাদা ধরনের কোন জিহাদ না। ‘গ্লোবাল জিহাদ’ নামকরণের পেছনে মূল ধারণাটি হল সারা পৃথিবীতে এখন জিহাদ কোন নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। বা জিহাদের লক্ষ্যবস্তুও কোন নির্দিষ্ট এলাকা/শত্রুর উপরে না। বরং বর্তমানে এই জিহাদের কাজ সারা পৃথিবীব্যাপী। তাই এই জিহাদকে পদ্ধতিগত ভাবে গ্লোবাল জিহাদ বলা হয়।

[4] https://www.pdf-archive.com/2019/03/26/21-techniques-of-silent-killing-bn/

https://www.mediafire.com/file/mep2cx9uy452sln/21_Techniques_of_Silent_Killing-BN.pdf/file

https://www.pdf-archive.com/2019/03/26/21-techniques-of-silent-killing-en/

https://www.mediafire.com/file/o7p1b6srse9p9jm/21_Techniques_of_Silent_Killing-EN.pdf/file

পরিবেশনায়
বালাকোট মিডিয়া

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে বেয়াদবি কারীদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার তিনটি পদ্ধতি -মাওলানা মুহাম্মদ মুসান্না হাসান হাফি.

তারবিয়াহ ইস্যু-৭ | ১৪৪১ হিজরি | ২০২০ ইংরেজি শাতেমে রাসুলের ক্ষেত্রে করণীয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ...