সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / ধারাবাহিক ‘আলোর বাতিঘর’ সিরিজ-৬ | হিদায়াত ও জিহাদের নেয়ামত | শাইখ আতিয়াতুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ ও শাইখ আবুল ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ

ধারাবাহিক ‘আলোর বাতিঘর’ সিরিজ-৬ | হিদায়াত ও জিহাদের নেয়ামত | শাইখ আতিয়াতুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ ও শাইখ আবুল ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presentsالترجمة البنغالية
বাংলা ডাবিং
Bengali Translationبعنوان:
শিরোনাম:
Titled

الهداية ونعمة الجهاد
الحلقة السادسة من السلسلة بعنوان : قناديل من نور

ধারাবাহিক ‘আলোর বাতিঘর’ সিরিজ-৬
হিদায়াত ও জিহাদের নেয়ামত

Series ‘Light Lighthouse’ series -6
Hidayat and jihad blessings

للشيخين عطية الله و مصطفى أبو اليزيد رحمهم الله
শাইখ আতিয়াতুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ
শাইখ আবুল ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ
By Shaikh Atiaatullah And
Shaikh Abul Yazid Rahimahumullah

للمشاهدة المباشرة والتحميل
সরাসরি দেখুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Viewing and Downloading

https://justpaste.it/alor_batighor-6
https://mediagram.me/312be1c40a2f0955
https://noteshare.id/NsdQMyZ
https://web.archive.org/web/20220116…lor_batighor-6
https://web.archive.org/web/20220116…2be1c40a2f0955
https://web.archive.org/web/20220116…are.id/NsdQMyZ

روابط الجودة الاصلية
FULL HD 1080 [740 MB] মূল রেজুলেশন [৭৪০ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/fEej3rfteAsbAJs
https://archive.org/download/alor-ba…tighor%206.mp4
https://www.file-upload.com/3311cem1dlsr

روابط الجودة العالية
HQ 1080 (177 MB)
১০৮০ রেজুলেশন [১৭৭ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/Jsw4mRmpgK5argp
https://archive.org/download/alor-ba…r%206-1080.mp4
https://www.file-upload.com/qubrj0oisoed

روابط الجودة المتوسطة
MQ 720 (88.3 MB)
৭২০ রেজুলেশন [৮৮.৩ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/ss2pstYDQAWxyCo
https://archive.org/download/alor-ba…or%206-720.mp4
https://www.file-upload.com/mfgd3ruq7hmz

روابط الجودة المنخفضة
LQ 360 (46.5 MB)
৩৬০ রেজুলেশন [৪৬.৫ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/mwmgCoPGNJeRx55
https://archive.org/download/alor-ba…or%206-360.mp4
https://www.file-upload.com/71g6tsc5agpf

روابط جودة الجوال
Mobile Qoality (41 MB)
3GP রেজুলেশন [৪১ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/2tmZAGiPQo23wyw
https://archive.org/download/alor-ba…tighor%206.3gp
https://www.file-upload.com/x0lnn242agvw

روابط بي دي اب
PDF (538 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৫৩৮ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/wFxmSKAZWwB2mYt
https://archive.org/download/alor-ba…ighor%20-6.pdf
https://www.file-upload.com/t9u52ih4v5dl

روابط ورد
Word [305 KB] ওয়ার্ড [৩০৫ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/gJDERGBnSxHs2dZ
https://archive.org/download/alor-ba…ghor%20-6.docx
https://www.file-upload.com/uer6o5s37ix5

روابط الغلاف- ١
book Banner [843 KB] বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৮৪৩ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/s4DDSE8wRBDS3gR
https://archive.org/download/alor-ba…/Prossed-6.jpg
https://www.file-upload.com/nfa74ql1ncj7

روابط الغلاف- ٢
Banner [706 KB] ব্যানার ডাউনলোড করুন [৭০৬ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/qkymdi2sdYifs5e
https://archive.org/download/alor-ba…6/Banner-6.jpg
https://www.file-upload.com/evoi1u2x0mpt

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!

ধারাবাহিক ‘আলোর বাতিঘর’ সিরিজ-৬

হিদায়াত ও জিহাদের নেয়ামত

মূল:

শাইখ আতিয়াতুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ

শাইখ আবুল ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ

 

মূল প্রকাশনা সম্পর্কিত কিছু তথ্য

মূল নাম:

الهداية ونعمة الجهاد للشيخين (عطية الله وأبو اليزيد) رحمهما الله الحلقة ٦ من سلسلة قناديل من نور

ভিডিও দৈর্ঘ্য: ৪৮:৫৮ মিনিট

প্রকাশের তারিখ: শাওয়াল ১৪৪১ হিজরি

প্রকাশক: আস সাহাব মিডিয়া

بسم الله الرحمن الرحيم

শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের প্রতি! আপনাদের সন্তানদের রক্ত তো আমাদেরই সন্তানদেরই রক্ত। আর আপনাদের রক্ত তো আমাদেরই রক্ত। রক্তের বিনিময়ে রক্ত ঝরানো হবে, আর ধ্বংসের বিনিময়ে ধ্বংস চালানো হবে। মহান আল্লাহকে সাক্ষী করে বলছি, আমরা আপনাদেরকে ভুলে যাবো না। যতদিন না সাহায্য আসে, অথবা আমরা সেই স্বাদ আস্বাদন করি যা আস্বাদন করেছিলেন হামযা বিন আব্দুল মুত্তালিব রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু”।

শাইখ আতিয়াতুল্লাহ লীবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“জিহাদের মাধ্যমেই আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করবেন। সংশোধন করবেন পুরো উম্মাহকে”।

শাইখ আবু মুসআব আয-যারকাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“আল্লাহর সাহায্য নিয়ে বলছি, আমার সর্বস্ব দিয়ে আপনার সামনে সমাজের চিত্র স্পষ্ট করে তুলব”।

শাইখ আবু হামজা জর্দানী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“আল্লাহর অনুগ্রহে মুজাহিদদের কাছে যে স্বার্থ ও মনোবল থাকে, তা কাফেরদের কাছে থাকে না। আমাদের নিহতরা যায় জান্নাতে আর তাদের নিহতরা জাহান্নামে”।

মোল্লা দাদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“সত্যের জন্য অকাতরে জীবন দেব, তবু বাতিলের কাছে নত হব না”।

শাইখ আবুল লাইস আল-লীবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“উম্মাহর অনেক ভারী বোঝা বহন করতে হয় আমাদের”।

শাইখ আবু রুসমা ফিলিস্তিনী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“শাইখ আবু কাতাদা তেমন বড় কিছু করেননি। তিনি শুধু হক কথা বলতেন”।

শাইখ দোস্ত মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“আমরা আলেমদের উদ্দেশে বলব, আপনারা ইলম অনুযায়ী আমল করুন। কারণ আলেমরা নবীদের ওয়ারিশ”।

শাইখ আব্দুল্লাহ সাইদ রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“জিহাদের মাধ্যমেই উম্মাহ জীবন লাভ করবে। আল্লাহ বলছেন,

‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে ঐ কাজে ডাকে, যা তোমাদেরকে জীবন দান করবে’”।

শাইখ আবু উসমান আশ শিহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এ মহান নেয়ামতের মূল্যায়ন করুন। হে আল্লাহর বান্দা, ‍নিজেকে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ে অভ্যস্ত করে তুলুন”।

শাইখ আবু তালহা জার্মানী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“আমরা জিহাদ করি আর বিজয়ের গান গেয়ে উম্মাহর মাঝে প্রাণ সঞ্চার করি”।

শাইখ আবু ইয়াহইয়া আল-লীবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“প্রিয় পিতা, বিচ্ছেদের পরেই তো সাক্ষাৎ পর্ব আসে”।

শাইখ মুস্তফা আবু ইয়াযিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন,

‘আপনাদের সাথে মিলিত হতে চাই, যাতে আপনাদের ঈমান থেকে নূর গ্রহণ করতে পারি”।

************

 

একটি পংক্তি-

“অস্ত্র হাতে নাও আর শহীদদের পথে পা বাড়াও।

গোলাপটিকে তাজা রাখতে পানির বদলে রক্ত ঢেলে দাও

***************

 

 শাইখ আতিয়াতুল্লাহ আল-লিবী রহিমাহুল্লাহ

কাফেরদের পক্ষ থেকে একের পর এক মুজিযা ও অলৌকিক বিষয় দেখার প্রস্তাব আসতে থাকতো। যা না দেখালে তারা ঈমান আনবে না বলতো।

ويقول الذين كفروا لولا أنزل عليه آية من ربه

“আর কাফেররা বলে তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন নাযিল হয়না”।  [সুরা রা’দ – ১৩:৭]

অথচ তিনি তো অনেক নিদর্শন নিয়েই এসেছেন। কিছু নিদর্শন তো খুবই স্পষ্ট। যেমন চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া। এ বিষয়ক হাদিসগুলো মুতাওয়াতির ও অকাট্য। তারা প্রস্তাব করলো, আমাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখাও আমরা ঈমান আনবো। তখন তাদের চোখের সামনে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হলো। পরক্ষণেই তারা বেকে বসলো। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

اقتربت الساعة وانشق القمر* وإن يروا آية يعرضوا ويقولوا سحر مستمر

“কিয়ামত আসন্ন, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। তারা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে এটাতো চিরাচরিত যাদু”। (সুরা ক্বামার, ৫৪:১-২)

এটাই ছিলো তাদের স্বভাব। যখনই কোন নিদর্শন দেখতো তখনই বলতো এটাতো স্পষ্ট যাদু। তাই মুজিযা এবং নিদর্শন দেখানো তাদের জন্য একটি অর্থহীন বিষয়।  আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وما تغني الآيات والنذر عن قوم لا يؤمنون

“যে সম্প্রদায় ঈমান রাখে না, তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন এবং নিদর্শন দেখানো কোনই উপকারে আসেনা”। (সুরা ইউনুছ ১২:১০১)

অপর আয়াতে বলেন-

ولو فتحنا عليهم بابا من السماء فظلوا فيه يعرجون -لقالوا إنما سكرت أبصارنا بل نحن قوم مسحورون

“আর যদি আমি তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেই এবং তারা তাতে উড্ডয়ন করে তখন তারা বলবে, আমাদের দৃষ্টিকে নেশাগ্রস্ত করা হয়েছে, এবং আমরা হলাম যাদুগ্রস্ত সম্প্রদায়”।  (সুরা হিজর  ১৫:১৪-১৫)

তাই কোরআনের অধিকাংশ জায়গায় দেখা যায়, আল্লাহ তা‘আলা তাদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রস্তাবে সাড়া দেন না। বরং তিনি তাদেরকে জবাব দিয়ে দেন এবং তার রাসূলকে জবাব দিতে বলেন এই বলে যে, আমি তো একজন রাসূল ও বার্তাবাহক। আমি তোমাদের কাছে তাই নিয়ে আসি যা তিনি আমার কাছে ওহীস্বরুপ পাঠান। তার ইচ্ছা ছাড়া আমি কোন নিদর্শন আনতে সক্ষম নই ইত্যাদি। এ-জাতীয় জবাব দেওয়া হয়। তাদের পক্ষ থেকে আসে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব; কেন আসেনা, কেন নাযিল হয়না, কোন নিদর্শন?  আর আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আসে জবাব –

قل إن الله يضل من يشاء ويهدي إليه من أناب

“হে নবী আপনি বলে দিন, আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা করেন গোমরাহ করে দেন, আর যে তার অভিমুখী হয় তাকে হেদায়েত দেন”।  (সুরা রা’দ ১৩:২৭)

হ্যাঁ, তাদের উপর্যুপরি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এটাও এক ধরনের জবাব। অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলা তার হিকমাহ ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন, আর যাকে ইচ্ছা গোমরা করেন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তার কাজে স্বাধীন। তিনি কারো উপর জুলুম করেন না। তবে হিদায়াত তিনি তাকেই দেন, যে তার দিকে ফিরে যায়। এতে বুঝা যায় হিদায়াত লাভের কিছু উপকরণ আছে,  এর মধ্যে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ হলো, আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। আল্লাহর সামনে নত হওয়া। অন্তরে আল্লাহর ভয় নিয়ে আল্লাহর কাছে হিদায়াত ত্বলব করা। যার থেকে এই ত্বলব পাওয়া যাবে, তাকেই আল্লাহ হিদায়াত দিবেন।

আলোচনার সারকথা হলো, তারা (কাফেররা) আল্লাহর কাছে নিদর্শন চায়, পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাদেরকে বললেন, হে মুশরিকরা তোমরা নিদর্শন  চাচ্ছ? শোন কোন নিদর্শনই তোমাদেরকে হিদায়াত দিতে পারবে না। হিদায়াত তো আল্লাহর মালিকানায়। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তার থেকে হেদায়েত সরিয়ে রাখেন। আল্লাহ তার রাসূলকে পাঠিয়েছেন এবং যে সকল নিদর্শন নাযিল করেছেন, হিদায়াত প্রত্যাশীদের জন্য তা-ই যথেষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

أولم يكفهم أنا أنزلنا عليك الكتاب يتلى عليهم إن في ذلك لرحمة وذكرى لقوم يؤمنون

“তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছি যা তাদেরকে পড়ে শুনানো হয়, নিশ্চয় এর মাঝে রয়েছে দয়া এবং উপদেশ, যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য”। (সুরা আনকাবুত ২৯:৫১)

এই কিতাব হলো, সেই কিতাব যা আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলের উপর নাযিল করেছেন। যে বা যারা হিদায়াত প্রত্যাশা করে তাদের জন্য এই কিতাবই যথেষ্ট। তবে আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ হলো, তিনি আমাদের জন্য অনেক নিদর্শনের আয়োজন করেছেন। রিসালাতের যুগে তো সাহাবাগণ সরাসরি কোরআন নাযিল প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা প্রচুর পরিমাণে বড় বড় নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মুমিনদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাবের প্রতিটি আয়াতে অসংখ্য নিদর্শন লুকিয়ে রেখেছেন। যুগের বাকে বাকে যার ব্যাখ্যা জানা যাবে বা প্রকাশ পাবে। এমনিভাবে রহস্যময় এই প্রকৃতিতেও আল্লাহ তা‘আলা অনেক নিদর্শন লুকিয়ে রেখেছেন যা জীবনের পরতে পরতে ঈমানদারদের সামনে উন্মোচিত হবে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وكأين من آية في السماوات والأرض يمرون عليها وهم عنها معرضون

“নভোমণ্ডল এবং ভূমণ্ডলে কত নিদর্শন রয়েছে যার পাশ দিয়ে তারা অতিক্রম করে, অথচ তারা এসব থেকে বিমুখ হয়ে থাকে। (সুরা ইউসুফ ১২:১০৫)

قل إن الله يضل من يشاء ويهدي إليه من أناب

“হে নবী আপনি বলে দিন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন, আর যে আল্লাহর অভিমুখী হয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন”। (সুরা রা’দ ১৩:২৭)

আমরা আগেও বলে এসেছি যে, এই আয়াতের দ্বিতীয় অংশে ইঙ্গিত করা হয়েছে হিদায়াত লাভের জন্য আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত কিছু বিষয় নিয়ে। এর স্বপক্ষে কোরআনের অনেক আয়াত ও অসংখ্য হাদিস রয়েছে। সেই বিষয়গুলোর মধ্য হতে গুরুত্বপূর্ণ একটি  হলো, ইনাবত ইল্লাল্লাহ বা আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। তাছাড়া, হিদায়াত ত্বলব করা, আল্লাহর সামনে নত হওয়া, ইনসাফের উপর কায়েম থাকা এবং জুলুম থেকে দূরে থাকা, এগুলোই হল হিদায়াত লাভের মাধ্যম। হিদায়াত বলা হয়, সঠিকতা, সরলতা, কল্যাণ ও বান্দার জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষের দিকে পথ চলা।

হিদায়াতের রয়েছে অনেকগুলো প্রকার এবং স্তর। প্রথম স্তর হলো, সীরাতুল মুসতাকীমের পরিচয় লাভ। এরপর সে পথে চলার তাওফিক লাভ। এরপর সে পথে অটল থাকতে পারা। এরপর সীরাতে মুসতাকীমের মাকসাদ পূর্ণ করা। এরপর মহা উদ্দেশ্যের দিকে পৌঁছে যাওয়া। আর তা হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন এবং তার ফলস্বরূপ জান্নাত লাভ।

সুতরাং হিদায়াতের রয়েছে অনেক স্তর। এই কারণে আমরা যখনই সূরা ফাতিহার এই আয়াত তিলাওয়াত করি,

اهدنا الصراط المستقيم

হে আল্লাহ! আমাদেরকে সীরাতুল মুসতাকীমে চলার হিদায়াত দান করুন। (সুরা ফাতিহা ১:৫)

তখন এই  সবগুলো বিষয় সামনে রাখা জরুরী।

আমরা মাত্র বললাম যে, হিদায়াতের স্তরসমূহ হতে একটি হলো সীরাতে মুসতাকীমের উপর অটল থাকা। এর জন্যও রয়েছে অনেকগুলো আসবাব ও উপকরণ। সেসব আসবাবের একটি হলো নিজের মাঝে এই অনুভূতি তৈরি করা যে, হিদায়াত লাভ এটা আল্লাহ তা‘আলার অনেক মহান একটি নেয়ামত।

হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা!

আমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হিজরত এবং জিহাদের পথে আসার তাওফিক দিয়েছেন। আমাদের সবসময় এ কথা মনে রাখতে হবে যে, এটা আমাদের কোন কৃতিত্ব নয়, বরং আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ ও দান। অন্তরের এই যে গোপন অনুভূতি এটা হলো শুকরিয়ার প্রথম ধাপ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

لئن شكرتم لأزيدنكم

“তোমরা শুকরিয়া আদায় করলে আমি নেয়ামত বাড়িয়ে দেবো”। (সুরা ইবরাহীম ১৪:৭)

 সুতরাং আল্লাহ  তা‘আলার পক্ষ থেকে হিদায়াতের নেয়ামত পেয়ে যারা শুকরিয়া আদায় করবে আল্লাহ তা‘আলা তার এই নিয়ামত বাড়িয়ে দেবেন।

والذين اهتدوا زادهم هدى وآتاهم تقواهم

“যারা সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সৎপথপ্রাপ্তি আরও বেড়ে যায় এবং আল্লাহ তাদেরকে তাকওয়া দান করেন”। [সুরা মুহাম্মাদ – ৪৭:১৭]

অর্থাৎ যারা হিদায়াতের উপর অটল থাকে আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেবেন। হিদায়াত বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও যা কিছু প্রয়োজন তাও বাড়িয়ে দেবেন।

সুতরাং নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় হলে আরও নেয়ামত যোগ হতে থাকে। এভাবে নেয়ামত পূর্ণ হতে থাকে।  আল্লাহ তা‘আলা তার নেয়ামত এভাবেই পূর্ণ করে থাকেন।

ويتم نعمته عليك وعلى آل يعقوب

“এবং পূর্ণ করবেন স্বীয় অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবার-পরিজনের প্রতি”। [সুরা ইউসুফ – ১২:৬]

আল্লাহ বলেন,

اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي

“আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করলাম”। (সুরা মা-ইদাহ ৫:৩)

নেয়ামত পূর্ণ করার সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হল সবর এবং তার শোকর আদায় করা। পক্ষান্তরে যে শোকর আদায় করে না তাকে আল্লাহ ছেড়ে দেন, এবং হাত গুটিয়ে নেন। আল্লাহ বলেন,

ولئن كفرتم إن عذابي لشديد

“আর যদি শোকর আদায় না করো, তাহলে আমার আযাব অনেক কঠিন”।  (সুরা ইবরাহীম ১৪:৭)

এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হুমকি। অর্থাৎ শোকর আদায় না করলে নেয়ামত পূর্ণ হবে না শুধু এতটুকুই নয়, বরং শক্ত আযাবের মুখোমুখিও হতে হবে।

আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নাম মুজাহিদদের খাতায় উঠিয়েছেন। এই নেয়ামতের পূর্ণাঙ্গতা হল শাহাদাহ লাভ করা। শাহাদাহ হল, একজন মুমিন তার জীবনে মর্যাদার যত স্তর লাভ করবে তার সর্বোচ্চ স্তর। কারণ এই মর্যাদা তাকে নবী ও সিদ্দিকীনদের সাথে মিলিয়ে দেবে। নবীদের দরজাই তো শ্রেষ্ঠ আর সিদ্দিকীনদের দরজাও দুর্লভ। আর সালেহিনদের স্তরে পৌঁছার মত সে আমল করাও এ যুগে ততটা সহজ নয়।

সুতরাং সাফল্যের দরজাসমূহ থেকে এখন শুধু বাকী আছে শাহাদাতের দরজা। যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের উপর অনেক বড় অনুগ্রহ। শাহাদাতের দরজা এমন দরজা যা পশ্চাদগামীদেরকে মিলিয়ে দেয় অগ্রগামীদের সাথে। আমলের ময়দানে দুর্বল কিন্তু তার মাকাম মিলিত হয় নবী সিদ্দিক এবং ওলীদের সাথে। একজন ব্যক্তি সবেমাত্র ঈমান আনলো, এখনো কোন নামাজ আদায় করেনি, একটা রুকুও করেনি, একটা সিজদাও দেয়নি, একটা রোজাও রাখেনি, একটা পয়সাও সাদাকা করেনি, মোটকথা ইসলামের কোন আমলই তার দ্বারা আঞ্জাম পায়নি, সে মাত্র শাহাদাতবানী পাঠ করলো, এরপর কিতালে শরীক হলো, যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে গেল। সামান্যতেই তার মর্যাদা কোথা হতে কোথায় চলে গেল। স্বভাবতই অন্যান্য স্তরের লোকদের চাইতে তার অবস্থা অনেক ভিন্ন। আমলের বিবেচনায়  সে অনেক পিছনে, তা সত্ত্বেও তার মাকাম অনেক ঊর্ধ্বে। কারণ সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে কোরবান করে দিয়েছে।  স্বীয় অস্তিত্বকে বিলীন করে দিয়েছে। দেহের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এ কারণেই শাহাদাহকে শাহাদাত বলা হয়। অর্থাৎ একজন শহীদ যেন তার সবটুকু দিয়ে এ সাক্ষ্য দিয়ে থাকে যে, এটাই এমন সঠিক দ্বীন যে দ্বীনের জন্য নিজের রক্ত প্রবাহিত করা যায়, নিজের অস্তিত্ব বিলীন করা যায়। নিজের সত্ত্বাকে মিটিয়ে দেওয়া যায়। বাহ্যদৃষ্টিতে শাহাদাত তো একটি ছোট্ট বিষয়। একটি মৃত্যু। অন্যান্য মানুষের যেমন মৃত্যু হয় শহীদও তেমনি মৃত্যু বরণ করল। সবারই তো মরতে হবে তো সেও মরেছে। এসব বিবেচনায় শাহাদাত তেমন আর কী গুরুত্বপূর্ণ! কিন্তু শাহাদাতের মর্ম যদি বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে, এটি একটি মহান মর্যাদা। এটি নবী এবং সিদ্দীকীনদের পরে মর্যাদার তৃতীয় স্তর। যাদের উপর আল্লাহর ঘোষণাকৃত বিশেষ নেয়ামত, তাদের তৃতীয় সিঁড়ি। বাস্তবেই এটি একটি মহা সাফল্য। কিন্তু শাহাদাত লাভের আগেও মর্যাদার স্তর আছে। যারা মুজাহিদদের লিস্টিতে নাম লিখিয়েছে কিন্তু এখনো শাহাদত লাভ করেনি তাদের জন্যও বর্ণিত হয়েছে মর্যাদার অনেক স্তর। যেমন সহীহাইনের হাদীসে এসেছে-

إن في الجنة مائة درجة أعدها الله للمجاهدين في سبيل الله ما بين الدرجتين كما بين السماء والأرض

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

“আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীদের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন। দুটি স্তরের দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান”। (সহিহ বুখারী-২৭৯০)

মুজাহিদের ফযিলত সংক্রান্ত অনেক আয়াত ও অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। সবই মর্যাদার পরিপূরক এবং শেষ স্তর হলো শাহাদাত। সুতরাং কোন বান্দার উপর আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাকে মুজাহিদদের কাতারে জায়গা দিয়েছেন। তার নাম মুজাহিদদের খাতায় লিখেছেন। এমনি করে হিজরতের ফযিলতও অগণিত। তার ফাযায়েলও বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। মুজাহিদদের খাতায় নাম লেখানোর পর যদি কেউ শাহাদাত লাভ করতে পারে, তাহলে সে তো চির সাফল্যের বিশাল স্তরে পৌঁছে গেল। পক্ষান্তরে যে এখনো শাহাদাত লাভ করেনি সে এখনো মহা কল্যাণের উপর রয়েছে। কারণ জিহাদই হলো হক্বের উপর অটল থাকার শক্তিশালী মাধ্যম। অর্থাৎ জিহাদের পথে অবস্থান  করা এবং মুজাহিদ হওয়া সীরাতে মুস্তাকীমের উপর অটল থাকার প্রমাণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

والذين قتلوا في سبيل الله فلن يضل أعمالهم سيهديهم ويصلح باللهم

“আর যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয় আল্লাহ তাদের আমল বরবাদ করবেন না। তাদেরকে হিদায়াত দিবেন এবং তাদের অন্তর পরিশুদ্ধ করবেন”। (সুরা মুহম্মাদ ৪৭:৪-৫)

আয়াতের এই অর্থ হাফসের কেরাত অনুযায়ী। আরেক কেরাত অনুযায়ী অর্থ দাড়ায়-

والذين قاتلوا في سبيل الله فلن يضل أعمالهم سيهديهم ويصلح بالهم ويدخلهم الجنة عرفها لهم

“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় কিতাল করে, আল্লাহ তাদের আমল বরবাদ করবেন না। তাদেরকে হিদায়াত দিবেন এবং তাদের অন্তর পরিশুদ্ধ করবেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন”। (সুরা মুহম্মাদ ৪৭:৪-৬)

উলামাগণ বলেন- প্রতিটি কেরাত স্বতন্ত্র আয়াতের ন্যায়। সুতরাং দ্বিতীয় কেরাত অনুযায়ী আয়াতের মর্ম দাঁড়ায় – যারা আল্লাহর রাস্তায় কিতালে রত আছে আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তিনটি দায়িত্ব নিয়েছেন। এক- তাদেরকে হিদায়াত দান করবেন। দুই- তাদের আত্মা পরিশুদ্ধ করবেন। তিন- তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এই ক্বিরাত অনুযায়ী এটা হলো মুজাহিদদের জন্য ওয়াদা। আর প্রথম আয়াত অনুযায়ী এই ওয়াদাগুলো হলো, শহীদদের জন্য। তখন হিদায়াতের অর্থ হলো, মৃত্যুর পর জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وهدوا إلى الطيب من القول

“আর তাদেরকে পথ দেখানো হবে, পবিত্র কথা বলার জন্য”। (সুরা হাজ্জ ২২:২৪)

এবং এই জাতীয় আরও আয়াত রয়েছে। এবং তাদেরকে জান্নাতের ভবনসমূহ চিনিয়ে দেবেন।  উভয় ব্যাখ্যাই মুজাহিদ এবং শহীদদের ফযিলতের জন্য যথেষ্ট।

তো বলছিলাম, সীরাতে মুসতাকীমের উপর অটল থাকার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও কিতাল। যে জিহাদ ও কিতালের রাস্তায় অটল থাকবে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য হিদায়াতের ওয়াদা করে রেখেছেন। হক্বকে প্রতিষ্ঠা করা, দ্বীনের সাহায্য করা, তাওহীদের নুসরাত করা, আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার মেহনত চালিয়ে যাওয়া, সবগুলোই হলো সীরাতে মুসতাকীমের উপর অটল থাকার মাধ্যম।

আমরা তো আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের জন্য এবং আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার জন্য কিতাল করি। পাশাপাশি আমরা এ জন্যও কিতাল করি যাতে আমরা সীরাতে মুসতাকীমের উপর অটল থাকতে পারি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

يا إيها الذين آمنوا إن تنصروا الله ينصركم ويثبت أقدامك

“হে মুমিনরা যদি তোমরা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করো তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। এবং তোমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখবেন”। (সুরা মুহম্মাদ ৪৭:৯)

অর্থাৎ যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তার দ্বীনের সাহায্য করার মাধ্যমে, তাহলে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। আল্লাহ আমাদেরকে শুধু শত্রুদের উপর সাহায্য করবেন না বরং সাহায্যের মর্ম ব্যাপক। প্রথম সাহায্য হলো, নফসে আম্মারার বিরুদ্ধে সাহায্য। শয়তানের সাথে আমাদের যুদ্ধ, কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ, পার্থিব জীবনের মোহ ও কামনার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ, দুনিয়ার চাকচিক্য এবং ভোগবিলাসে মত্ত থাকার বাসনার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ ইত্যাদি এই সকল যুদ্ধে তিনি আমাদেরকে সাহায্য করবেন। এবং হক্ব বাতিলের যুদ্ধে বাহ্যিক শত্রুর মোকাবেলায়ও তিনি আমাদেরকে বিজয় দান করবেন। সুতরাং সাহায্যের মর্ম অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

قل إن الله يضل من يشاء ويهدي إليه من أناب

“আল্লাহ যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন, আর যে আল্লাহর দিকে ফিরে যায় তাকে হিদায়াত দান করেন”। (সুরা রা’দ ১৩:২৭)

الذين آمنوا وتطمئن قلوبهم بذكر الله

“আর যারা ঈমান এনেছে তাদের অন্তরসমূহ আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি লাভ করে”। (সুরা রা’দ ১৩:২৮)

প্রথম আয়াতের শেষাংশের তাফসীর। আরবি ব্যাকরণ হিসেবে, এই আয়াতটিতে সেসব ব্যক্তিদের বিবরণ দেওয়া হয়েছে যারা আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। বলা হচ্ছে যারা আল্লাহর দিকে ফিরে যায় তাদেরকে হিদায়াত দেন, তাহলে প্রশ্ন হয়, তারা কারা? তারা হলো, যাদের অন্তর আল্লাহর জিকিরে প্রশান্তি লাভ করে। তাদেরকে আবার হিদায়াত দেওয়ার কি অর্থ? তারা তো পূর্ব থেকেই মুমিন? হ্যাঁ এখানে এসে আমাদেরকে হিদায়াতের ব্যাপক অর্থমালার দিকে ফিরে যেতে হবে। যার আলোচনা আমরা পূর্বে করে এসেছি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وما يتذكر إلا من ينيب

“নিশ্চয় উপদেশ একমাত্র তারাই গ্রহণ করবে যারা আল্লাহর দিকে ফিরে যায়”।  (সুরা মু’মিন ৪০:১৩)

سيذكر من يخشى

“অচিরেই উপদেশ এমন ব্যক্তি গ্রহণ করবে যে ভয় করে”। (সুরা আ’লা ৮৭:১০)

والذين اهتدوا زادهم هدى

“আর যারা হিদায়াত প্রাপ্ত তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেবেন”। (সুরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৭)

অতএব এ-জাতীয় সকল আয়াত বুঝার জন্য আমাদেরকে হিদায়াতের সেই ব্যাপক মর্ম অনুধাবন করতে হবে। হিদায়াতের সকল স্তরকে সামনে আনতে হবে।

অপর দিকে এর বিপরীতপন্থী লোকদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

إن الله لا يهدي من هو مسرف كذاب

“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা হিদায়াত দেন না তাদেরকে যারা সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যুক”। (সুরা মু’মিন ৪০:২৮)

إن الله لا يهدي من هو كاذب كفار

“আল্লাহ তা’আলা হেদায়েত দেন না তাদেরকে যারা মিথ্যাবাদী ও অবিশ্বাসী কাফের”। (সুরা যুমার ৩৯:৩)

إن الله لا يهدي القوم الظالمين

“আল্লাহ তা‘আলা পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না”। (সুরা মা-ইদাহ ৫:৫১)

إن الله لا يهدي القوم الفاسقين

“আল্লাহ তা‘আলা অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না”। (সুরা মুনাফিক্বুন ৬৩:৬)

والله لا يهدي القوم الكافرين

“আল্লাহ তা‘আলা জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না”। (সুরা বাকারা ২:২৬৪)

কুরআনুল কারীমে এ জাতীয় আয়াত ভুরি ভুরি। আমরা দৈনিক এমন আয়াত অনেক বার পড়ে থাকি ও শুনে থাকি। কিন্তু আমরা এর মর্ম নিয়ে বেশি একটা ভাবিনা। অথচ এ আয়াতগুলোর মাঝে আছে ঈমান ও হিদায়াতের গভীর ও বিস্তৃত মর্মকথা। কোরআনে এই কথাগুলো বার বার আসে। আপনি যদি দৈনিক কোরআন পড়া এবং কোরআনের দৈনন্দিনের অযিফা আদায় করেন, দুই পৃষ্ঠা তিন পৃষ্ঠা বা পাঁচ পৃষ্ঠা তাহলে দেখবেন বার বার আল্লাহ তা‘আলা এই কথাগুলোই পুনরাবৃত্তি করছেন। কারণ আল্লাহ আমাদেরকে ঈমান ও হিদায়াতের এই গভীরতম মর্মকথাগুলোর ব্যাপারে  সতর্ক করছেন এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে। তাই আমাদের উচিত এই আয়াতগুলো নিয়ে ভাবা ও চিন্তা ফিকির করা।

আল্লাহ তা‘আলা সেসব লোকদের হিদায়াত দেন যাদের অন্তর আল্লাহর জিকিরে প্রশান্তি লাভ করে। আয়াতে ইতমিনানের কথা বলা হয়েছে। ইতমিনান হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্জিত হওয়া সাকিনা। এই সাকিনা অর্জন হয় নির্দিষ্ট একটি মাধ্যমে। আর তা হল আল্লাহর জিকির। সুতরাং যেসব অন্তর আল্লাহর জিকিরে প্রশান্তি লাভ করে সেসব অন্তরই হিদায়াত লাভের উপযুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা অন্তরকে সৃষ্টি করেছেন। এই অন্তরগুলো হলো, আল্লাহ তা‘আলার রহস্যময় সৃষ্টিসমুহের মাঝে একটি রহস্য। এই অন্তরগুলোই হলো দেহজগতের সম্রাট। বরং রুহেরও সম্রাট। জ্ঞান, বুদ্ধি, চিন্তা, ঈমান ও কুফর, হিদায়াত ও গোমরাহি, কল্যাণ ও অকল্যাণ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হলো এই অন্তর। সৃষ্টিগতভাবে অন্তরের খোরাক হল আল্লাহর জিকির। এর দ্বারাই অন্তর প্রশান্ত হয় এবং আলোকিত হয়। আরবি ব্যাকরণ হিসেবে আয়াতে হসর হয়েছে। অর্থাৎ- অন্তরের প্রশান্তি একমাত্র জিকিরের মাঝেই সীমাবদ্ধ। এটা ছাড়া প্রশান্তি লাভের আর কোন পন্থা নেই। এটা বলে জিকিরের প্রতি অতি-গুরুত্বের সাথে উৎসাহিত করা হলো। এবং এটাকেই হিদায়াত লাভের কারণ বানানো হলো। কারণ হিদায়াত পাবার জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া শর্ত। আল্লাহর জিকির ছাড়া তো তার দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং যে আল্লাহর জিকির করলো, সে আল্লাহর দিকে ফিরে গেল। আর যে আল্লাহর দিকে ফিরে গেল সে হিদায়াতের উপযুক্ত হয়ে গেল। এই জিকিরের মাত্রা যখন বাড়বে এবং তা মুখেও চালু হয়ে যাবে তখনই তা পূর্ণাঙ্গতা লাভ করবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে এর তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রিয় ভাইয়েরা!

আমরা আমাদের এই জিহাদী কাজে একটি মহান নেয়ামতের উপর আছি। এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের সাথে সাথে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে সেসব বিষয় থেকে যা এর ফযিলত নষ্ট করে দেয়। সাওয়াব বরবাদ করে দেয়। কেননা প্রতিটি নেক আমলের পিছনে শয়তান এমন কিছু বিষয় যুক্ত করে দেয় যা তার ফযিলত বরবাদ করে দেয়। অতএব, আমলকারীদের কর্তব্য হল এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক হওয়া ও সচেতন থাকা। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক হাদিসে এই বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক করে গেছেন। যেমন: এক হাদিসে এসেছে-

الْغَزْوُ غزْوانِ، فأمَّا من اْبَتغَى وجْهَ اللهِ، وأَطاعَ الإمامَ، وأنْفَقَ الكَريمة، وياسَرَ الشَّريكَ، واْجتنَبَ الفَسادَ، فإنَّ نَوْمَهُ ونُبْهَهُ أْجرٌ كُلُّهُ، وأَّما من غَزَا فَخْراً، ورَيِاءً، وسُمْعَة، وعَصَى الإمام، وأفسد في الأرضِ، فإنَّهُ لم يرَجِعْ بالكَفافِ رواه مالك وابوداؤد والنسائي

“যুদ্ধ দুই প্রকার-

এক, সেই জিহাদ যেই জিহাদে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আমিরের আনুগত্য করে, নিজের প্রিয় বস্তু বিসর্জন দেয় যা সাথীদের জন্য সহজ করে দেয় এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকে। এমন মুজাহিদের ঘুম ও সজাগ পুরোটাই সাওয়াবের। আরেক জিহাদ হলো, যে যুদ্ধ করে গর্ব-বশত, লোক দেখানোর জন্য, সুনামের জন্য, ইমামের অবাধ্য হয় এবং অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। এমন মুজাহিদ শুধু কষ্ট ছাড়া কোন প্রতিদান নিয়ে ফিরতে পারেনা”। এই হাদীসটি আলবানী রহিমাহুল্লাহ এর মতে হাসান”। (মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৮৪৬)

হাদিসটি সুনানের অনেক কিতাবেই এসেছে। এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদকে দুই প্রকারে ভাগ করলেন। উভয় প্রকারকে আবার বিস্তারিত বুঝালেন। প্রথম প্রকার হলো, ইখলাস ও আনুগত্য সমৃদ্ধ। অর্থাৎ এতে ময়দানে আমীরের আনুগত্য থাকে এবং  নিজের প্রিয় বস্তু তথা সম্পদ খরচ করা হয় এবং যে তার সাথীর জন্য সহজ করে, সাথীকে সহযোগিতা করে। এই ‘সাথীর জন্য সহজ করে’ বাক্য দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? এই বাক্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে, উত্তম আখলাকের প্রতি এবং মুমিনদের সাথে বিনয়ী হওয়ার প্রতি। এই বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাও জরুরী। অনেক ইবাদতের মধ্যেই এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি নামাজের মধ্যেও বলা হয়েছে-

لينوا بأيدي إخوانكم

“(নামাজে) তোমাদের ভাইদের হাতে তোমরা কোমল হয়ে যাও”। (সুনানে আবু দাউদ ৬৬৬)

অপর হাদিসে এসেছে-

خياركم ألينكم مناكب في الصلاة

“তোমাদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম নামাজে যাদের কাঁধ যত কোমল”। (সুনানে আবু দাউদ ৫১৬)

জিহাদের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একে অপরের প্রতি কোমল হতে। এর প্রথম স্তর হলো, কাউকে কোন ধরনের কষ্ট না দেওয়া। যেমন- এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

من آذى مؤمنا فلا جهاد له

“যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে কষ্ট দেয় তার কোন জিহাদ নেই”। (জা’মে  সগীর ৮৮১৪)

এই হাদিসটি সহীহ। সম্ভবত ইবনে মাজায় এসেছে। আরেক হাদীসে এসেছে-

مَنْ ضَيَّقَ مَنْزِلاً أَوْ قَطَعَ طَرِيقًا فَلاَ جِهَادَ لَهُ

“যে লোক স্থান সংকীর্ণ করেছে এবং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, তার জিহাদ নেই”। (সুনানে আবু দাউদ ২৬২৯)

এই হাদিসটি বলেছিলেন কোন এক যুদ্ধের সফরে। কিছু মানুষ অন্যদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং অযথা কিছু বৃক্ষ কেটে ফেলেছিল। তখন এটা বলেছিলেন। তার কোন জিহাদ নেই এ কথার অর্থ হলো তার কোন সাওয়াব নেই। অর্থাৎ এখন সে যে জিহাদ করছে তা অর্থহীন চেষ্টা। সুতরাং সাথীর প্রতি সহজ করার প্রথম স্তর হলো তাকে কষ্ট না দেওয়া।

এর পর রয়েছে আরও দুটি স্তর। ইনসাফের স্তর ও ইহসানের স্তর। এটা শুধু মুজাহিদদের জন্য নয় বরং সবার জন্যই। মানুষের সাথে সদাচরণের তিনটি স্তর। প্রথমটি হলো- তাকে কষ্ট না দেওয়া। তুমি তোমার অনিষ্ট থেকে তাকে হিফাজত করবে। এরপর তুমি তার প্রতি ইনসাফ করবে। এরপর তুমি তার প্রতি অনুগ্রহ করবে।

আমরা আবার উক্ত হাদিসটির প্রতি নজর দেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

وياسر الشريك واجتنب الفساد

“যে তার সাথীর প্রতি সহজ করে, এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকে”।  (মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৮৪৬)

ফাসাদ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার অর্থটিও অনেক ব্যাপক। হে আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ!  ফাসাদের সংজ্ঞায় যা কিছু আসে সব কিছু থেকে তোমাকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিটি মুমিনের প্রতি সব সময়ের নির্দেশ হল ফাসাদ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে লিপ্ত থাকা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وافعلوا الخير لعلكم تفلحون

“কল্যাণের কাজ করো, তাহলে  তোমরা সফল হবে”।  [সুরা হাজ্জ্ব – ২২:৭৭]

وأحسنوا إن الله يحب المحسنين

“এবং সৎকর্ম করো, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সৎকর্ম-শীলদেরকে পছন্দ করেন”।  [সুরা বাকারা – ২:১৯৫]

আর এটাই হল দ্বীন। এটা সবার জন্যই। তবে মুজাহিদদের জন্য এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদের চাইতে মুজাহিদদের উপর এর আবশ্যকীয়তা অনেক অনেক বেশি। কারণ মুজাহিদ তো আল্লাহর পথের দাঈ’। সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে মানে সে দাওয়া ইলাল্লাহর সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করছে। এমতাবস্থায় সে যদি ফাসাদে লিপ্ত হয়, কোন অন্যায়ে লিপ্ত হয়, তাহলে সে তো জিহাদের মৌলিকত্বের বিরোধিতা করল। তার দ্বারা তো জিহাদের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে গেল। এমনিভাবে এমন মুজাহিদের হাতে জিহাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলও অর্জন হবেনা। কারণ জিহাদের লক্ষ-উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীতে ইনসাফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং ফাসাদ দূরীভূত করা। তাছাড়া এই মুজাহিদের হাতে অস্ত্র আছে, শক্তি আছে। অর্থাৎ সে যখন কোন ভূখণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে তখন সে তো সেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনা। কারণ সে নিজেই তো ইনসাফের উপর নেই। সে কি প্রতিষ্ঠা করবে? সে ফাসাদই প্রতিষ্ঠা করবে। তার মাঝে থাকবে কি করে কারণ তার পক্ষে অন্যের উপর ক্ষমতাবান হওয়া, প্রাবল্য সৃষ্টি করা সহজ। তাছাড়া মানুষের মন সব সময় অন্যের উপর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার দিকে টানতে থাকে। তাই এই মুজাহিদের কাছে যদি ঈমানী শক্তি না থাকে, তরবিয়ত না থাকে, দ্বীনি বুঝ না থাকে, ইলম না থাকে, খোদাভীরুতা না থাকে তখন তার অস্ত্র ও তার শক্তি তাকে শুধু পাপের দিকে টেনে নেবে। কোন মানুষই চায় না সে ধীরে ধীরে পাপের দিকে যাক। একজন মানুষ বছরের পর বছর জিহাদে কাটানোর পর পাপের দিকে চলে যাবে, তাগুতের কাতারে নাম লেখাবে এটা কেউ চায় না। কিন্তু বাস্তবতার দিকে তাকালে দেখা যায় এমন ঘটনা অনেকের জীবনেই ঘটছে। আপনারা হয়ত জানেন, অনেক মানুষ একসময় জিহাদের বড় বড় লিডার ছিল। কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদের নেতৃত্ব দিত। জিহাদের ময়দানে অনেক কোরবানি, অনেক কৃতিত্ব ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ দেখবেন তারা আমেরিকার কাতারে। নাউযুবিল্লাহ! এই জন্যই বলা হয়, ইনসান নিজের নফসের ব্যাপারে কখনো নিরাপদ থাকতে পারেনা। আমরা আমাদের জন্য ও সকল মুজাহিদদের জন্য আফিয়ত কামনা করি।

জিহাদরত একজন মুজাহিদের কাছে অনেক ধরণের শক্তি থাকে। তার সাথে থাকে ক্ষমতা, শত্রুর মোকাবেলায় বিজয়, অন্যদের উপর প্রাবল্য, বাহুবল ও অস্ত্রবল। যার ফলে বিপর্যয় সৃষ্টি করা, জুলুম করা, সীমালঙ্ঘন করা অন্যদের তুলনায় তার জন্য অনেক সহজ। এই কারণেই প্রকৃত মুজাহিদের পরিচয় দিতে গিয়ে প্রিয় নবী বললেন-

واجتنب الفساد في الأرض

“মুজাহিদ ফাসাদ ফিল আরদ্ব (জমিনে বিপর্যয় ছড়ানো) থেকে বিরত থাকে”।  (মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৮৪৬)

সুতরাং হাদিসে বর্ণিত সবগুলো সিফাত যার ঠিক থাকে, তার ব্যাপারে বলা হচ্ছে-

فإن نومه وصحوه أجر كله

“তার ঘুম এবং জেগে থাকা পুরোটাই সাওয়াবের” (মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৮৪৬)

অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায়ও তার জন্য সাওয়াব লেখা হতে থাকে ।

মুজাহিদের আরেক প্রকার হলো, যে অহংকার বশত, লোক দেখানোর জন্য, সুনাম অর্জনের জন্য যুদ্ধ করে, এবং আমিরের অবাধ্য  হয়, এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে, অর্থাৎ প্রথম জনের বিপরীত। প্রথমজন যুদ্ধ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, আমিরের আনুগত্যের সাথে। এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকে। যেই মুজাহিদ এই সবগুলোর বিপরীত করে, সে কখনোই উপযুক্ত বিনিময় নিয়ে ফিরতে পারেনা। অর্থাৎ সে তার মূলধন নিয়েও ফিরতে পারেনা। হাদিসে বর্ণিত শব্দ হলো, সে কাফাফ নিয়েও ফিরতে পারেনা। কাফাফ বলা হয় সমান সমান। লাভও নেই লসও নেই। কিন্তু এই ব্যক্তি এতটুকুও পেলো না। অর্থাৎ তার মূলধনও টিকলো না। এটা একপ্রকারের ধমকি যে, তার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল এবং সে বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেল।

সুতরাং হে আমার মুজাহিদ ভাইয়েরা! আমাদের জিহাদের কাজে অবশ্যই ইখলাস থাকতে হবে। এবং এই বিষয়গুলো থাকতে হবে যা উপরের হাদিসে আমরা শুনেছি। যাতে আমাদের জিহাদ শরঈ জিহাদ হয়, আল্লাহর রাস্তার জিহাদ হয়। আল্লাহর কাছে মাকবুল জিহাদ হয়। এই জিহাদ আমাদের সীরাতে মুসতাকীমের উপর অটল থাকার উসিলা হয়। এবং যাতে এর দ্বারা আমরা আমাদের মহান লক্ষ অর্জন করতে পারি। আর তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং এর পুরস্কার স্বরূপ জান্নাত।

হে আল্লাহ আমাদেরকে আপনার এমন ভয় দান করুন যা আমাদেরকে আপনার নাফরমানী থেকে দূরে রাখবে। আমাদেরকে এমন আনুগত্য দান করুন যা দ্বারা আপনি আমাদেরকে জান্নাত দান করবেন। এমন বিশ্বাস দান করুন, যা দ্বারা দুনিয়ার বালা মুসিবত আমাদের কাছে সহনীয় হয়ে যাবে। হে আল্লাহ! আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং শারীরিক শক্তি দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন। যতদিন আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখেন এবং আমাদের পরবর্তীদেরকেও। যে আমাদের উপর  জুলুম করে আপনি তার প্রতিশোধ নিন। যে আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করে আপনি আমাদেরকে তার উপর সাহায্য করুন। আর দুনিয়াকে বানাবেন না আমাদের চিন্তার মূল বস্তু, বরং ইলমের লক্ষ। আমাদের গুনাহর কারণে আমাদের উপর এমন কাউকে চাপিয়ে দিবেন না, যে আমাদের ব্যাপারে আপনাকে ভয় করবে না, এবং আমাদের উপর রহম করবে না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য শুরুতে এবং শেষে, প্রকাশ্যে এবং গোপনে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

*******************

 

শাইখ মুস্তফা আবুল ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ

بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله

প্রথমত: সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের আপনাদের সকলের সিয়াম, সালাত, জিহাদ ও অন্যান্য আমল কবুল করুন। বিশেষ করে আপনারা রমজানের শেষ দশকে শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর যে সাহায্য লাভ করেছেন তা আল্লাহ তা‘আলা আপনাদের মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ বানান।

দ্বিতীয়ত: আমরা আপনাদের কাছে শাইখ ওসামার সালাম ও অভিনন্দন পৌঁছে দিচ্ছি। সকল মুজাহিদদের প্রতি। এমনিভাবে শাইখ আইমানের পক্ষ থেকেও। আলহামদুলিল্লাহ! এই শাইখদের সাথে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। তারাও আফগানিস্তান সহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের জিহাদী কার্যক্রম পরিপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করছেন।

তৃতীয় হলো, এই পথে অটল থাকার বিষয়। আমরা এ পথে দুই কল্যাণের যে কোন একটি অর্জন করবো। হয়তো বিজয় নয়তো শাহাদাত। সুতরাং এ পথে হারানোর কিছুই নেই। এই মনোভাবই আমাদেরকে এ পথে অটল থাকতে সাহায্য করবে। তাই আমাদেরকে আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে। শুকরিয়া আদায়ের সর্বোচ্চ পদ্ধতি হলো, এই পথে অটল থাকা এবং জিহাদ চালিয়ে যাওয়া। আর এক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে আমাদের পাথেয় অর্থাৎ তাকওয়া। আল্লাহ বলেন-

وتزودوا فإن خير الزاد التقوى

“আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া”। [সুরা বাকারা – ২:১৯৭]

প্রতিটি মুজাহিদের জন্য আবশ্যক হলো জিহাদের পথে তাকওয়ার পাথেয় গ্রহণ করা। যাতে সে এ পথে অটল থাকতে পারে।

এমনিতেই তাকওয়ার পাথেয় আম খাস সবার জন্যই জরুরী। কিন্তু মুজাহিদের জন্য এর বিশেষ আবশ্যকীয়তা রয়েছে। তাকওয়া হলো সকল নেক আমল আঞ্জাম দেওয়া আর গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তা‘আলা সূরা তাওবার মধ্যে বলেছেন-

إن الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون

“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন, জান্নাতের বিনিময়ে। তারা আল্লাহর রাস্তায় কিতাল করবে, হত্যা করবে ও শহীদ হবে”। [সুরা তাওবা – ৯:১১১]

এই আয়াতে ক্রয় বিক্রয়ের কথা বললেন। ক্রেতা আল্লাহ তা‘আলা আর বিক্রেতা হলো মুজাহিদ। পরের আয়াতে এই বিক্রেতার পরিচয় সুস্পষ্ট করতে গিয়ে বললেন-

التائبون العابدون الحامدون السائحون الراكعون الساجدون الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر والحافظون لحدود الله وبشر المؤمنين

“যারা হলো, তাওবাকারী, ইবাদত গুজার, প্রশংসাকারী, রোযাদার, রুকু-কারী, সিজদাকারী, সৎকাজে আদেশকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারী। আর আল্লাহর বিধানাবলীর সীমা রক্ষাকারী। আর আপনি মুমিনদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন”। (সূরা তাওবা: ১১২)

সুতরাং যারা এই পর্বতশৃঙ্গে (কারণ, জিহাদ হলো ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া) অবস্থান করছে, এবং এর উপর অটল থাকে তারাই আয়াতে বর্ণিত এসব সুউচ্চ গুণাবলীর অধিকারী। আর যারাই এ সকল গুণাবলীর অধিকারী হতে পারবে তাদেরকেই আল্লাহ তা‘আলা জিহাদের পথে অটল রাখবেন। তারাই এই দুর্গম পথে চলতে পারবে। তাদের জন্যই রয়েছে দুই কল্যাণের এক কল্যাণ। হয়তো বিজয় নয়তো শাহাদাত। তাই আমাদের কর্তব্য হলো, টিকে থাকার চেষ্টা করা। আমরা রমজান মাসে যেই আমালগুলোর উপর ছিলাম, রমজান চলে যাবার পরও যেন আমরা এই আমলের উপর থাকি। হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه

“আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে ফলে সে আমার প্রিয় পাত্রে পরিণত হয়”। (সহিহ বুখারী ৬৫০২)

সুতরাং আল্লাহর প্রিয় পাত্রে পরিণত হবার জন্য আবশ্যক হলো নেক আমলে লেগে থাকা। এই লেগে থাকার দ্বারাই তারা লাভ করবে আল্লার ভালোবাসা, অটলতা, সাহায্য এবং তাওফিক। আমলে লেগে থাকার এক অর্থ হলো, সময়কে কাজে লাগানো। অনর্থক সময় নষ্ট না করা। সালাত, সিয়াম, কোরআন তিলাওয়াত, নফল রোজা, কোরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা-ফিকির ইত্যাদিতে সময় কাজে লাগানো। আলহামদুলিল্লাহ মুজাহিদদের কাছে পর্যাপ্ত সময় থাকে, সবসময় ময়দানের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়না। এ সময়গুলোতে তারা উক্ত আমলগুলোতে ব্যস্ত থাকবে। এবং এই আমলগুলোর কারণেই মুজাহিদদের মাঝে স্তরগত পার্থক্য হয়ে থাকে। মুজাহিদদের জন্য রয়েছে মর্যাদার একশত স্তর । কারো মর্যাদা হবে প্রথম স্তরে। কারো মর্যাদা হবে দশম স্তরে। কারো শততম স্তরে। এমন করে বিভিন্ন স্তরে। এই স্তরগুলো নির্ণীত হবে আমলের মাধ্যমে। ইখলাস ও উত্তম নিয়তের মাধ্যমে। আর এই আমলগুলোর কারণেই সে এই মহান পথে অটল থাকতে পারবে। এর দ্বারাই আখেরাতে তার মর্যাদার স্তরসমুহ সমুন্নত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া  করি আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। জান্নাতুল ফেরদাউসের সুউচ্চ আসনে সমাসীন করুন। আমি আমার নিজের ও সকলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এখানেই শেষ করছি।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Important || জমিনে বিচরণ করো || শাইখুল হাদিস মুফতি আবু ইমরান হাফিজাহুল্লাহ

مؤسسة الحكمة আল হিকমাহ মিডিয়া Al-Hikmah Media تـُــقدم পরিবেশিত Presents في اللغة البنغالية বাংলা ভাষায় ...