সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / মিডিয়া / আল-হিকমাহ মিডিয়া / মুজাহিদদের কারামাত – শাইখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাজির রহ. || শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.কে নিয়ে এক দুর্লভ স্মৃতিচারণ
মুজাহিদদের কারামাত – শাইখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাজির রহ. || শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.কে নিয়ে এক দুর্লভ স্মৃতিচারণ

মুজাহিদদের কারামাত – শাইখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাজির রহ. || শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.কে নিয়ে এক দুর্লভ স্মৃতিচারণ

“মুজাহিদদের কারামাত”

আফগানিস্তান — আগ্রাসী সোভিয়েত ইউনিয়ন
প্রথম খন্ড

«শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.কে নিয়ে এক দুর্লভ স্মৃতিচারণ»
মূল
শাইখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাজির রহ.

অনুবাদ
মাওলানা আইমান মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

ডাউনলোড
পিডিএফ

http://www.mediafire.com/file/6luncenaog3k41e/66.mujahidder_karamat.pdf/file
https://archive.org/download/66.mujahidderkaramat/66.mujahidder%20karamat.pdf
https://archive.org/details/MujahidderKaramat
https://archive.org/download/Mujahid…%20karamat.pdf

 

ওয়ার্ড

http://www.mediafire.com/file/1bodatmvlmwhq8b/66.mujahidder_karamat.docx/file
https://archive.org/download/66.mujahidderkaramat/66.mujahidder%20karamat.docx
https://archive.org/details/MujahidderKaramat
https://archive.org/download/Mujahid…20karamat.docx

 

————————

মুজাহিদদের কারামাত

আফগানিস্তান — আগ্রাসী সোভিয়েত ইউনিয়ন

প্রথম খন্ড

«শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.কে নিয়ে এক দুর্লভ স্মৃতিচারণ»

মূল

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাজির রহ.

অনুবাদ

মাওলানা আইমান মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাজির রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خير خلق الله أجمعين محمد بن عبد الله أما بعد

সকল প্রশংসা উভয় জাহানের রব আল্লাহ তায়ালার জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টিকুলের শিরোমনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের উপর।

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-মুহাজির আল মিসরী আবদুর রহমান আল আলী রহ. এর মুজাহিদদের মাঝে “শাইখ আবুল আফগান আল মিসরি” নামেও পরিচিত ছিলেন। শাইখ আসলে পরিচয় দেওয়ার মুখাপেক্ষী নন। তিনি শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম এবং জিহাদী শায়েখদের মাঝে অন্যতম ছিলেন। তিনি প্রথম থেকেই আফগান জিহাদে লড়াই করেছিলেন, অত:পর আফগানিস্তানে বিভিন্ন দলের মাঝে ফেতনা প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার জন্য পাকিস্তানে গিয়ে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইসলামাবাদে লেখাপড়া শুরু করেন, শরীয়াহ বিভাগে মাস্টার্স করেন। কিন্তু পাকিস্তানের সরকার কর্তৃক তাঁকে হয়রানী করায় ডক্টরেট করা সম্ভব হয়নি! তাই তিনি আবার আফগানিস্তানে রওয়ানা করেন। সেখানে খোস্তে তিনি খালদুন প্রশিক্ষণ শিবিরে একটি মা’হাদুশ শরিয়াহ’তে অধ্যাপনা শুরু করেন, যার পরিচালক ছিলেন “শাইখ ইবনে শাইখ আল-লিবী রহ.”। অত:পর তিনি সেই ক্যাম্পের একজন দায়িত্বশীল হিসেবে নিযুক্ত হন। কিছুদিন পর কান্দাহারে শাইখ আবু হাফস আল মৌরিতানী রহ. পরিচালিত মা’হাদুশ শরীয়াহ’তে দরস প্রদান শুরু করেন। এই মা’হাদটি শাইখুল ইমাম উসামা বিন লাদেন রহ. উদ্বোধন করেছিলেন।

ইরাকী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কিংবদন্তী শাইখ আবু মুসআব আয-যারকাবী রহ. উনার থেকে ইলমী ইস্তিফাদা হাসিল করেছেন। এমনিভাবে তিনি হেরাতের ক্যাম্পে বৈজ্ঞানিক বিষয়ে কোর্স করানো জন্যও নিয়োগ লাভ করেছিলেন।

শায়খ আবু মুসাব আয-যারকাবী রহ. বলেন- “আমি শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-মুহাজির রহ. এর সাথে দীর্ঘমেয়াদী সোহবত লাভ করেছি। উনার সাথে শহিদী হামলার ব্যাপারে অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি। শাইখ তা জায়েজ হওয়ার অনেক প্রমাণ দিয়েছেন। আমি নিজেও এব্যাপারে অনেক গবেষণা করেছি। এবিষয়ে অনেক অডিও রেকর্ডও শুনেছি, ফলে আল্লাহ তায়ালা তিনি যে বিষয়টা জায়েজ হওয়ার প্রমাণ করতে চেয়েছেন সে ব্যাপারে আমার বক্ষকে উম্মোচিত করে দিয়েছেন।

ফলে শহীদি হামলা শুধু জায়েজ হওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তাকে মুস্তাহাব ও উত্তম আমল মনে করি। আল্লাহর কসম এটা শুধু ইলমের বরকত ও তার বাহকের সাক্ষাতের ফলেই হয়েছে”।

ইরাকী আল-কায়েদা’র শরীয়াহ কমিটির একজন সদস্য শাইখ মুহাম্মদ ওয়াইল হালওয়ানি (মাসিরাতুল গারিব) রহ. তাঁর “আয যারকাবী কামা আররাফতুহু” রিসালা’তে বলেছেন-

“আমাদের শাইখ জারকাবী তাঁর শাইখ আবু আবদুল্লাহ আল-মুহাজির রহ.কে অনেক ভালবাসতেন। এবং প্রচুর সম্মান ও খুব প্রশংসা করতেন,  মনে মনে কামনা করতেন যদি তিনি ইরাকে আসতেন অবস্থাদৃষ্টে মনে হত তাহলে উনাকে “শরীয়াহ বিভাগ” পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করবেন। তিনি আমাদের কাছে এটাও আলোচনা করেছেন যে, তিনি চার বছর উনার নিকট শিক্ষাগ্রহণ করেছেন”।

এমনিভাবে শাইখুল মুজাহিদ হাকিমুল উম্মাহ ডঃ আইমান আয জাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ “আত তাবরিয়া” নামক গ্রন্থে তাঁর আত্মসংযমের প্রশংসা করে বলেছেন- “মুজাহিদগণ যেসকল উলামা থেকে উপকৃত হয়েছেন শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-মুহাজির তাঁদের মাঝে অন্যতম। কেননা তিনি নিজেও এক নাগারে মুহাজির, মুরাবিত, ও মুজাহিদ ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদের আল জামিয়াতুল ইসলামিয়্যা থেকে ফারেগ হয়েছেন। অত:পর খালদুন ক্যাম্পে ইলম এবং দাওয়াতের মারকায চালু করেছিলেন। আর কান্দাহারে তালিমুল লুগাতিল আরাবিয়া মারকাজে শিক্ষকতা করেছেন। অত:পর কাবুল ও হেরাতে মুজাহিদগণের বিভিন্ন বিষয়ের ইলমী সমাধান দিয়েছেন। তিনি মাসায়িলুল ঈমান বিষয়ে একটি সুন্দর বই লিখেছেন যার নামটা এখন আমার জেহেনে আসছে না”।

শাইখ আবু মুহাম্মদ আল মাকদিসী তাঁর ধারাবাহিক আলোচনা “তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও!” তে শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল মুহাজির রহ. এর নাম উল্লেখ করে বলেন- “এমনিভাবে একবার ভাই আবু মুসআবের সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছিল, আর তাঁর সাথে ছিলেন শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল মুহাজির রহ.। সে সময় তিনি মিসরের তালেবে ইলম ছিলেন। তিনি পরে আমার সাথে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। আলোচনায় মনে হত আমি উনার নিকটেই আছি। তিনি গবেষণাধর্মী একটি আলোচনা কিংবা বইয়ের ব্যাপারে আমার সাথে পরিকল্পনা করেছিলেন। যাতে জিহাদের মাশায়েখ, উলামায়ে কেরাম -বিশেষভাবে শাইখ আবু কাতাদা, শাইখ আইমান আয জাওয়াহিরী এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম তাঁদের মাঝে আমিও একজন- সকলের পক্ষ থেকে জিহাদের ভ্রান্তি নিরসনে যে আলোচনা করা হয়েছে তা একত্রিত করবেন। এমনিভাবে জিহাদ বিষয়ক ছোট বড় যত ধরণের প্রশ্ন উঠে তার উত্তর সহকারে শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল মুহাজির রহ. তাঁর কিতাবে উল্লেখ করবেন। যেন এর মাধ্যমে চিন্তা শক্তি শানিত হয়ে সমস্ত ভ্রান্তি দূরীভূত হয়। তাঁর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিছু অধ্যায়ের প্রশ্ন ফ্যাক্সে আমার নিকট পাঠিয়েছিলেন। আমিও যথার্থ গুরুত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস অল্প কিছু প্রশ্ন পাঠানোর পরই আমি গ্রেফতার হয়ে যাই”।

২০০১ সালের ঘটনার পর আফগানিস্তানে যখন দখলদার বাহিনী আসলো, ইমারতে ইসলামিয়াকে ভেঙ্গে দেওয়া হল। শাইখকে বাধ্য করা হল যেন ইরানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন যে, ইরানের বাদশাহ তাকে গ্রেফতার করবে। ফলে তাই হল, এমনকি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানে বন্দী ছিলেন।

মোটকথা, শাইখ ছিলেন একজন দক্ষ গ্রন্থকার, তিনি জিহাদের ফিকহী মাসায়েল এবং কুরআন হাদিসে বর্ণিত আত তায়েফাতুল মানসুরার নিদর্শনাবলী সম্বলিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন, যার দ্বারা শাইখের ইলমী গভীরতা অনুমান করা যায়। শাইখের রচনাবলী যদিও প্রচুর নয়, তবুও সেগুলোর মাধ্যমেই অনেক আগ্রহ উদ্দিপনা জাগ্রত হয়।

এমনিভাবে শাইখের দরস ও ধারাবাহিক আলোচনাগুলোতেও অনেক ফায়দাজনক বিষয় ছিল।

শাইখের রচনাবলী

১- আ’লামুস সুন্নাতিল মানশুরাহ ফি সিফাতিত-তাইফাইল মানসুরাহ (১-৩ খণ্ড) (প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার তিন খণ্ডের এই কিতাবটির প্রকাশের তারিখ জানা যায়নি।)

২- মাসায়িল মিন ফিকহিল জিহাদ (প্রায় ৫৭০ পৃষ্ঠার দুর্লভ এই কিতাবটির প্রকাশের তারিখও জানা যায়নি।)

৩- সিলসিলাতু মুকাদ্দামাহ ফিলওয়ালা ওয়ালবারা (শাইখের বেশ কিছু দুর্লভ দরসের অডিও রেকর্ড থেকে ২০১৫ ইংরেজি সালে কিতাব আকারে প্রস্তুত করেছে “মুয়াসসাসাতু আত তায়াহা” এর তাফরিগ ও নশর বিভাগ।)

৪- সিলসিলাতুল হাকিমিয়্যাহ (শাইখের বেশ কিছু দুর্লভ দরসের অডিও রেকর্ড থেকে ২০১৪ ইংরেজি সালে কিতাব আকারে প্রস্তুত করেছে “মুয়াসসাসাতু আত তায়াহা” এর তাফরিগ ও নশর বিভাগ।)

৫- সিলসিলাতু সুকুতুল হাজারাতিল গারবিয়্যাহ (শাইখের বেশ কিছু দুর্লভ দরসের অডিও রেকর্ড থেকে কিতাব আকারে প্রস্তুত ও প্রকাশ করেছে “মুয়াসসাসাতু আত তায়াহা” এর তাফরিগ ও নশর বিভাগ। তবে প্রকাশের তারিখ জানা যায়নি।)

শাহাদাত বরণ

শাইখ রহ. শামে আল কায়েদা শাখা জাবহাতুন নুসরাহ এবং পরবর্তীতে জাবহাত ফাতহুশ শাম’ এর শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। গত ১৮ নভেম্বর ২০১৬ সালে সিরিয়ার ইদলীব প্রদেশে সারমাদা’র নিকটবর্তী স্থানে আমেরিকার বিমান হামলায় শাহাদাত বরণ করেন। তাকাব্বালাল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআলা।

অনুবাদ সম্পর্কে কিছু কথা

বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি গত রমজান ১৪৩৭ হিজরী/জুন ২০১৬ সালে শামের আল কায়েদার অন্যতম মিডিয়া প্রতিষ্ঠান “আর রিসালাহ” কর্তৃক ভিডিও সাক্ষাৎকার হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। মুয়াসসাসাতু আত-তাহায়া সে সময়ই আলোচনাটির আরবি টেক্সট প্রকাশ করেছিল। উল্লেখ্য জনসম্মুখে প্রকাশিত এটাই সম্ভবত শাইখের শেষ আলোচনা বা প্রকাশনা ছিল। এর পাঁচ মাস পর-ই ১৮ নভেম্বর ২০১৬ সালে শাইখ রহ. আমেরিকান বিমান হামলায় শাহাদাত বরণ করেন। আর আজ ২০১৮ সালের মার্চ মাসে আপনাদের সম্মুখে বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। শাইখের ধারাবাহিক স্মৃতিচারণমূলক আলোচনার এটাই ছিল প্রথম পর্ব। পরবর্তীতে আর কোন পর্ব প্রকাশিত হয়নি, তাই আমরা আর কোন পর্ব হয়তো আপনাদের সামনে অনুবাদ পেশ করতে পারবো না। আল্লাহ শাইখ রহ.কে জাঝায়ে খাইর দান করুন! শহীদ হিসেবে কবুল করুন! জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন! আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

———————————

بسم الله الرحمٰن الرحيم

ألحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين

সমস্ত প্রসংশা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্ তা’আলার জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুলের ওপর৷ হামদ ও সালামের পর-

ألسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

সম্মানিত দ্বীনি ভাইয়েরা! সুদীর্ঘকাল যাবৎ উম্মতে মুসলিমাহ এই ফরজিয়্যাত (জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্) থেকে দূরে সরে ছিল৷ আমি আপনাদের সাথে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্ ও সে অঙ্গনের মুজাহিদদের অবস্থা নিয়ে কিছু আলোচনা করবো৷ আমরা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট প্রার্থণা করি যে, তিনি যেন আমাদের ও আপনাদের সৎকর্মসমূহকে কবুল করে নেন এবং তিনি যেন আমাদের শেষ পরিণামকে মঙ্গলজনক করেন৷

আফগানিস্তানে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ চালু হওয়ার সময় আমিও তাঁদের একজন ছিলাম যারা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্ করার জন্য আফগানিস্তানে পাড়ি জমিয়েছিলেন৷ সে সময় আমি এবং ভাইদের এক জামাত এক আরব রাষ্ট্রে বসবাস করতাম৷ আমরা সে দেশে কিছু বক্তৃতা ও টেপ শোনার পর এবং কিছু কিতাব পড়ার পর যেমনঃ শাইখ আব্দুল্লাহ্ আজ্জামের “ইবার ওয়া বাছায়ের ফিল জিহাদিল আফগানী” ও “আয়াতুর রহমান ফি জিহাদিল আফগান” কিতাবদ্বয় পড়ার পর জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে যোগদানের প্রতি মনোনিবেশ করি৷ সে সকল বক্তৃতা, ওয়াজ ও পাঠগুলো ভাইদের মাঝে দ্ব্যর্থহীনভাবে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল৷ ফলে আমরা সে দেশ থেকে জিহাদের পূণ্যভূমি আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি৷ আমরা তখন আফগানিস্তানের জিহাদে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে চেষ্টা-তদবির করি; কিন্তু সর্বত্রই আমাদেরকে আফগানিস্তানে যেতে পরিষ্কারভাবে নিষেধ করে দেয়া হয়৷ পরিশেষে আমরা ওমরা আদায় করার জন্য ভিসা নিয়ে হারামাইন শরীফের দেশে যাই এবং হারামাইন শরীফের দেশেও আমরা দীর্ঘদিন অবস্থান করার পর এক পর্যায়ে আফগানিস্তানের ভিসা পাই৷

হারামাইনবাসীরা বাস্তবিকই আমাদের আনসার ছিলেন৷ তারা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়া ভাইদের বাস্তবিকভাবেই নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন৷ আমরা হারামাইন শরীফের দেশে বিভিন্ন ওলামা-মাশায়েখদের খেদমতে হাজির হতাম৷ একদিন আমাকে এক শাইখ বললেন, আমরা আজ আফগান মুজাহিদীন কমান্ডারদের এক কমান্ডারের সাথে সাক্ষাৎ করবো, যিনি একজন মিলিয়নিয়ারও বটে৷ আমরা আজ শাইখ উসামা বিন লাদেনের সাথে সাক্ষাৎ করবো৷

আমি যখন এই সংবাদ শুনেছিলাম তখন আমি বাস্তবেই প্রচুর খুশি হয়েছিলাম ও তাঁকে বলেছিলাম যে, ইনশাআল্লাহ্ আমিও আপনার সাথে যাবো৷ আমি দিলে দিলে আকাংক্ষা পোষণ করছিলাম যে, ইস্ আমি যদি শাইখ উসামা বিন লাদেনকে দেখতে পেতাম, যেমনটি তিনি আমাকে শোনালেন! স্বভাবতই আমি এ কারণে আনন্দিত হচ্ছিলাম যে, মুসলমানদের মধ্যে এমন মিলিয়নিয়ার রয়েছেন যিনি তার জানমাল দিয়ে উম্মতে মুসলিমাহকে সহায়তা করে থাকেন৷ তখন সেই শাইখ আমাকে সাথে নিয়ে নিলেন এবং আমরা জেদ্দায় শাইখ উসামার বাড়ীতে গেলাম৷

আমরা সেখানে গিয়ে দেখি ভাইদের এক জামাত শাইখ উসামার বাড়ীতে বসে শাইখের বেরিয়ে আসার অপেক্ষা করছেন এবং শাইখ আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন৷ আমরাও ভাইদের সাথে বসলাম৷ কিন্তু আমি যখন সেখানে পৌছে তার বাড়িতে বসলাম তখন আমি বাড়িঘর ও বিছানা অত্যন্ত সাধাসিধে পেলাম৷ উক্ত শাইখ যেমনটি বলেছিলেন যে, “আমরা মিলিয়নেয়ারের বাড়ীতে যাচ্ছি”, তেমন পেলাম না৷ আমি দেখলাম যে, বিছানাটি নিতান্তই সাধারণ ও সাধাসিধে ছিল, এমনকি আমরা মেঝেতে বসলাম৷ কিছুক্ষণ পর শাইখ বের হয়ে এলেন ও ভাইদের সালাম দিয়ে বসলেন৷

ভাইয়েরা আমাদের আফগানিস্তানের জিহাদে যাওয়ার পূর্বের সময়টাতে স্বভাবতই বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইতেন৷ আমরা সে সময় জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন এমন কমান্ডার ও মাশায়েখদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চেষ্টা করতাম এবং তাদেরকে আফগান জিহাদ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম৷ তখন মাশায়েখদের প্রায় সকলেই আফগান জনগণদের প্রতিরক্ষায় আফগানিস্তানে আগ্রাসী রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলতেন৷

তাই স্বভাবত-ই ভাইয়েরা শাইখ উসামাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলেন এবং আমি নিজেও শাইখকে একটি প্রশ্ন করেছিলাম৷ আমার পাশের ভাই শাইখকে প্রশ্ন করে বললেন, হে শাইখ! আপনি কি আপনার স্বচক্ষে এমন কোন কারামাত দেখেছেন, যা আপনি আমাদেরকে বর্ণনা করে শুনাবেন? ইতিপূর্বে শাইখ আব্দুল্লাহ্ আজ্জাম কিছুসংখ্যক কারামাত বর্ণনা করছেন৷ অন্যান্য ভাইয়েরাও রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আফগানিস্তানের ভূমিতে মুজাহিদদের ঘটে যাওয়া অনেক কারামাত বর্ণনা করছেন৷ তাই আপনি যদি আমাদের নিকট বর্ণনা করার মত কোন কারামাত দেখে থাকেন, তাহলে আমরা তা শুনতে চাচ্ছি৷

তখন শাইখ উসামা বললেনঃ হ্যাঁ, আমি আমার স্বচক্ষে একটি কারামাত দেখেছি এবং সে লড়াইয়ে আমি নিজেও শরিক ছিলাম৷ রুশরা “জাজী” অঞ্চলের আনসারদের ক্যাম্পে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে জেনে গিয়েছিলো এবং বহুসংখ্যক বিমান ট্যাংক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি এবং একশোর বেশি সৈনিক সে অভিযানে জমা করতে থাকে ও আনসারদের ক্যাম্পের সেই ঘাঁটির প্রতি অগ্রসর হতে থাকে, যেটিতে আমরা অবস্থান করতাম ও যে ঘাঁটিতে ভাইদেরকে প্রশিক্ষণ দিতাম৷

শাইখ উসামা বলেনঃ রুশদের আসার পূর্বে আমাদের নিকটও আমাদের আনসার ভাইদের পক্ষ থেকে খবর পৌছে গিয়েছিলো৷ ফলে আমরা প্রস্তুতি নেয়া শুরু করি এবং পর্বত ও টিলার চূড়াকেও আঁকড়ে ধরে রাখি৷ মোটকথা আমরাও আলহামদুলিল্লাহ্ যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে রাখলাম৷ অর্থাৎ আমরা খানা-পানীয় পর্যন্ত উপরে নিয়ে গেলাম৷ রুশদের পৌছার পর লড়াই শুরু হয়ে গেল৷ তারা আমাদের উপর বিমান থেকে বোম্বিং করতো; কিন্তু আল্লাহর দয়ায় সেগুলো বিস্ফোরিত হতোনা৷ ভাইয়েরাও রুশদের প্রতি তোপ, মর্টার, যাকিবীক, দোশকা ও শলাকা ইত্যাদি দ্বারা গোলা নিক্ষেপ করতেন৷ এ সকল অস্ত্রশস্ত্রের সবগুলোই আমরা পর্বতের চূড়ায় তুলে নিয়েছিলাম৷ এভাবেই আমাদের ও রুশদের মাঝে লড়াই শুরু হয়ে যায় এবং কোন রকমের মুলতুবি দেওয়া ব্যতিত লাগাতার তিনদিন পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে৷ এমনকি ভাইয়েরা নিজ স্থানেই খানাপিনা করতেন এবং নিজ স্থানেই নামাজ পড়তো, নিজ স্থান বা অস্ত্র ত্যাগ করার কিছুতেই কোন সুযোগ ছিল না৷

শাইখ উসামা বলেনঃ আমি নিজে দেখাশুনা করতাম ও যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করতাম এবং গোলা নিক্ষেপ করেও ভাইদের সাথে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতাম৷ আমি দূরবীন দিয়ে দেখলাম যে, রুশদের একটি দল আমাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাদের উপর একটি মর্টার শেল আপতিত হয়ে তাদের সকলকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিল৷ অতঃপর রুশদের আহত কিংবা নিহতদের উদ্ধার করার জন্য একটি এম্বুলেন্স এগিয়ে এলে মর্টার শেল সেটিকেও আগুনে ভস্ম করে দিল৷ তারপর তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য আরেকটি এম্বুলেন্স এগিয়ে এলো; কিন্তু তা সৈনিকদের নিহত অবস্থায় ও পূর্বের এম্বুলেন্সকে ভষ্মিভূত দেখে দ্রুত পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়৷ তিনি বলেন, এভাবেই লড়াই চলতে থাকে৷ অতঃপর তিনদিন পর প্রচন্ড গরম আবহাওয়ায় যোহর ও আছরের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে একটি মেঘখন্ড এসে পর্বতের চূড়ায় আমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করে এবং তা হতে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষিত হয়৷

শাইখ উসামা বলেনঃ এতে মুজাহিদদের তন্দ্রা এসে যায় এবং আকাশ থেকে বর্ষিত হওয়া এই পানি পরিমাণে স্বল্প থাকলেও সুবহানাল্লাহ্ সেটি ছিল মুজাহিদীন ভাইদের জন্য রহমত স্বরুপ৷

তিনি বলেন, আকাশ থেকে বর্ষিত হওয়া এই পানি বন্ধ হওয়ার পরপর হঠাৎ ভাইদের ও রুশদের উভয়পক্ষ থেকেই ট্যাংক কামান ও মিসাইল সবকিছুর আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি আকাশ থেকে বিমান পর্যন্ত আড়ালে চলে যাওয়া শুরু করে৷

শাইখ উসামা বলেনঃ আমরা পর্বত ও টিলার ওপর থেকে লক্ষ্য করছিলাম৷ তারপর দেখতে পেলাম যে, বিমানগুলো ভূপাতিত হয়ে রয়েছে ও ট্যাংকগুলোতেও আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে এবং সৈন্যদের লাশ একটির ওপর আরেকটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে৷ ফলে আমরা মৃতের সংখ্যা ও ঐ সকল রুশদের থেকে কি পরিমাণ গনীমত অর্জন করলাম তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ করি৷ রুশরা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দয়া ও অনুগ্রহে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়৷

শাইখ উসামা বলেনঃ এই লড়াইটি ছিল আমাদের ও রুশদের মাঝে ভাগ্য নির্ধারণকারী এক লড়াই৷ এ লড়াইয়ের পর রুশরা তাদের নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি প্রচার করা শুরু করে এবং আফগান যুদ্ধে তাদের লোকসানের কথা প্রকাশ করা শুরু করে৷

শাইখ উসামা বলেনঃ এছাড়াও আমাকে এক ভাই, যার নাম শাইখ আবু সাইয়্যাফ তিনি আমাকে বলেছেন যে, আমি চিকিৎসক ভাইদেরকে সাহায্য করার জন্য চিকিৎসা পয়েন্টে ছিলাম৷ মুজাহিদীন ভাইদের এক জামাত রুশদেরকে পিছন দিক থেকে ধাওয়া করে সে সকল রুশ সৈন্যদের একদলকে বন্দি করে নিয়ে এসেছিল৷ তিনি বলেন, ভাইয়েরা যখন তাদেরকে আমাদের নিকট নিয়ে আসে তখন মুজাহিদগণ তাদেরকে (বন্দিদেরকে) জিজ্ঞাসা করলেন যে, (তোমরা বন্দি হবার সময়) আমাদের ভাইদেরকে কেন ফায়ার করলে না? একটিও ফায়ার করলে না কেন? তখন তারা জবাব দিলো যে, আমরা ওই সকল মুজাহিদদেরকে এক অদ্ভুত বিস্ময়কর আকৃতিতে দেখতে পেয়েছিলাম৷ তারা সাদা পোশাক পরিধানকৃত বিশাল দীর্ঘাকৃতির ছিল৷ এমনকি তাদের ঘাড় আকাশ ছুঁয়ে গিয়েছিল এবং তাদের হাতে তরবারী ছিল৷

ভাইয়েরা এতে বিস্ময়াভিভূত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তারা কোথায়? তারা কি এখন তোমাদের সামনে? জবাবে তারা বলল যে, না; তারা আড়ালে চলে গেছেন, এখন আমাদের সামনে নেই৷

ভাইয়েরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তারা কি ঐ সকল ভাইয়েরা, যারা তোমাদেরকে বন্দি করেছে ও তোমাদেরকে বন্দি করতে মুজাহিদীন ভাইদেরকে নির্দেশ করেছে? জবাবে তারা বলল যে, না; যারা আমাদেরকে বন্দি করেছে তারা তো মানুষ; কিন্তু তারা (উল্লেখিত গুণবিশিষ্ট লোকেরা) ছিল অন্য কেউ৷

তখন ভাইয়েরা বুঝতে পারলেন যে, ফেরেশতাগণ তাদেরকে তাড়িয়ে এনেছেন ও তাদেরকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দয়া ও অনুগ্রহে বন্দিদশায় নিক্ষিপ্ত করেছেন৷ সেখানকার মুজাহিদীন ভাইদের জন্য যে সকল কারামাত সংঘঠিত হয়েছিল এটি ছিল সেগুলোর অন্যতম৷

جزاكم الله خيرا وبارك الله فيكم

ألسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তরবিয়াতি মুযাকারা সিরিজ ৩ || সকল মুসলমানের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করুন || মাওলানা আব্দুল্লাহ হুযাইফা

তরবিয়াতি মুযাকারা সিরিজ ৩ || সকল মুসলমানের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করুন || মাওলানা আব্দুল্লাহ হুযাইফা

مؤسسة الفردوس আল ফিরদাউস Al Firdawsتـُــقدم পরিবেশিত Presents في اللغة البنغالية বাংলা ভাষায় In the ...