সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / মিডিয়া / আল-হিকমাহ মিডিয়া / Bengali Translation || আল আকসা পুনরুদ্ধারের ফরয আদায় করুন || মুঈনুদ্দীন শামী হাফিযাহুল্লাহ

Bengali Translation || আল আকসা পুনরুদ্ধারের ফরয আদায় করুন || মুঈনুদ্দীন শামী হাফিযাহুল্লাহ

اداره الحکمہ
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al Hikmah Media

پیش کرتے ہیں
পরিবেশিত
Presents

بنگالی ترجمہ
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled

جو باقی کام ہے وہ فرض تم پر

আল আকসা পুনরুদ্ধারের ফরয আদায় করুন

Perform the obligation to restore Al-Aqsa

 

از معين الدين شامي حفظہ اللہ
মুঈনুদ্দীন শামী হাফিযাহুল্লাহ
By Muinuddin Shami Hafizahullah

 

الْحَمْدُ للهِ نَحْمَدُه ونستعينُه، ونستغفرُه، ونَتوكَّلُ عليه، ونعوذُ باللهِ من شرورِ أنفسِنا، ومن سيئاتِ أعمالِنا، مَن يَهْدِهِ اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضْلِلْه فلا هادِيَ له، ونَشهَدُ أنَّ مُحَمَّدًا عبدُه ورسولُه. رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي، أمَّا بَعْد!

হামদ ও সালাতের পর!

দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এই লাইনগুলো লিখছি। এই লেখায় হৃদয়ের রক্ত এবং চোখের অশ্রুও যুক্ত হয়েছে। প্রতিটা মুহূর্তেই বেদনা বেড়ে চলেছে। বেদনাটা এমন যে, কখনও কখনও হাঁটুর মাঝে মাথা চেপে ধরে চিন্তা করি, যদি এভাবেই ভাবতে থাকি এবং এই দুঃখ-বেদনার সমাধানের কোনো উপায় না ভাবি, তাহলে আমার হৃদয় ও মনের অবস্থা কী হবে?

তাই, এই কথা মাথায় রেখে এই কয়েকটি লাইন লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মনে হল সময়ের দাবি অনুযায়ী সচেতন হয়ে কিছু দিকনির্দেশনা ভাবা এবং লেখা জরুরী। কিন্তু আমার আবেগ প্রবল হয়ে আছে। তখন ভাবলাম যে, দিকনির্দেশনায় আবেগপ্রবণ হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যার আবেগ নেই সে তো উদাসীন। আর এই উদাসীনতার একটা বড় মাত্রা হল আত্মমর্যাদাহীনতা। এমন ব্যক্তির সামনে তার প্রিয়জনকে কেটে ফেলা হলেও সে উঠে দাঁড়ায় না। এমন দৃষ্টান্ত পশু জগতেও বিরল!

আজকের এই পরিস্থিতিতে কোনো নাদান তথা অজ্ঞ লোক ছাড়া এমন কেউ নেই, যে আমার দুঃখের কারণ জানে না। এ দুঃখ-বেদনা শুধু আমার নয়, এটা সমগ্র উম্মাহর দুঃখ-বেদনা। আজ মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্য, এমনকি তরুণরাও এ বিষয়ে অবগত। গতকাল রাতেও কম বয়সী দুই কিশোরীকে ফিলিস্তিনের শোকে হাত তুলে দোয়া করতে ও কাঁদতে দেখেছি। এ সময়ের তরুণ-তরুণী এই কবিতার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে:

 “কারো দেহে জখম হলে ছটফট করি আমরা সবে,

সারা বিশ্বের দুঃখ সবই আছে আমাদের হৃদয়ে।”

বৃদ্ধ কিংবা যুবক, শিশু অথবা বড়, পুরুষ বা মহিলা আমার জানা মতে এমন কেউ নেই, ইসরাঈলের আগ্রাসনে যাদের কলিজায় জখম হয়নি। আমি ভাবতাম তারা কিভাবে এমন ঈসায়ী (খ্রিস্টান) হবে, যে কিনা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামকে দেখে ঈমান নিয়ে আসবে। কম্পিউটারের স্ক্রিনে ফিলিস্তিনের উপর আগ্রাসন দেখে কয়েকজন খ্রিস্টান ফিলিস্তিনের মুজাহিদীনের পক্ষে কথা বলায় আমার মনে হয়েছিল যে, হয়তো তাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হবে। সারকথা হলো এই যে, আজ সকল বিবেকবান মানুষ ইসরাঈলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের সাথে আছে।

আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুজাহিদীন এবং তাদের মতো অন্যান্য ফিলিস্তিনি মুজাহিদদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ, আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতের প্রতি মুহাব্বত, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও কিতালের আগ্রহ, জীবনবাজি রাখা ও বীরত্বের যতই প্রশংসার করা হবে তা কম হবে। তারা এমন এক ফিদায়ী যুদ্ধের কাহিনী যুক্ত করেছে, যার নজির ইতিহাসে খুব কমই পাওয়া যায়।

হাজার হাজার ফিদায়ী মুজাহিদ আকাশ পথ ও স্থল পথে দখলদার ইহুদীদের সীমানা অতিক্রম করে তাদের বিশ্রামস্থল ও দুর্গে প্রবেশ করেন। এই শত্রুরা কখনোই কল্পনাও করেনি যে, তারা তাদের দুর্গে আক্রান্ত হবে। জীবনের প্রতি সবচেয়ে বেশি আসক্ত ‘আয়রন ডোমের’ নিচে নিশ্চিন্ত মনে বসবাসকারী ইহুদীদেরকে আযাবে ইলাহী ‘তুফানুল আকসা’ এমন আচ্ছন্ন করেছিল, ঠিক যেভাবে আদ ও সামুদ জাতিকে আযাবে ইলাহী আচ্ছন্ন করেছিল। ‘আয়রন ডোমের’ নিচে বসবাসকারী লোকেরা শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলো। তাদের অস্ত্র, শক্তি এবং ‘আয়রন ডোমে’ তাদের অগাধ বিশ্বাস ছিল। তারা বলতো, এখানে মৃত্যুর কি কাজ? আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা ‘আয়রন ডোমের’ প্রযুক্তি রয়েছে।

{مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً}

অর্থঃ “আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী কি আর কেউ আছে?” (সূরা ফুসসিলাত ৪১: ১৫)

আদ ও সামুদের মতো তারাও ভুলে গিয়েছিল যে, {هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً} “যে আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের থেকেও বেশি ক্ষমতাবান।” (প্রাগুক্ত) বরং ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁর শাস্তিও অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন:

{أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ}

অর্থঃ “যাবতীয় ক্ষমতা শুধু আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।” (সূরা বাকারা ০২: ১৬৫)

অতঃপর তিনি ঐ খোদায়ী শাস্তির বর্ণনাও দিলেন; আমার মুজাহিদ বান্দা! আমি তোমাদের উপর যুদ্ধ করা ফরয করে দিয়েছি, সুতরাং {قَاتِلُوهُمْ} “তাদের সাথে যুদ্ধ কর” {يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ}“তোমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি দিবেন, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন।” আর এই কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে তোমাদের অন্তর যে আগুনে জ্বলছে, আল্লাহ এই কষ্টেরও অবসান ঘটাবেন, খুশি ও আনন্দ তোমাদেরই হবে –

{وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِين}

“এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।” (সূরা তাওবা ০৯: ১৪)

প্রকৃতপক্ষে, ঐশী নির্দেশাবলীর আলোকে এই সম্মানিত মুজাহিদদের প্রশংসা যতই করা হবে তা কম হবে। তবে তাদের প্রশংসার জন্য এর চেয়েও বড় একটি দিক আছে।

এই মুজাহিদরা আসবাবের স্বল্পতা সত্ত্বেও সারা বিশ্বে ঈমানদারদের উপর একটি হুজ্জত কায়েম করেছে। তারা কর্মের ভাষায় এবং মুখের ভাষায়ও বলেছে:

“হে মুসলিম জাতি!

আমাদের রক্তে তোমাদেরকে একটি অনুরোধ লিখে যাই,

আমাদের উপর যা ফরয ছিল তা আমরা করেছি আদায়,

বাকি কাজের দায়িত্ব তোমাদের উপর বর্তায়।”

হে মুসলমান!

দেখুন, আসবাব স্বল্পতা ও সঙ্কটের মাঝেও আমরা আবাবীলরা জামানার আবরাহার উপর নিক্ষেপ করার জন্য নুড়ি পাথর জমা করেছি। এখন যখন সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, আমরা আবাবীলের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট প্রাণীদের উপর আক্রমণ করেছি। আপনারা আমাদেরকে প্যারাসুটে ঝুঁলে ইসরাঈলিদের উপর পড়তে দেখবেন। আমাদের মালিক আল্লাহ আমাদেরকে ‘আয়রন ডোমের’ মোকাবেলায় ‘আয়রন ডোম’ তৈরি করার আদেশ দেননি। তিনি আমাদের বলেছেন, যতটা সম্ভব তাদের সাথে লড়াই করার জন্য শক্তি সংগ্রহ করতে –

{وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ}

অর্থঃ “আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে।” (সূরা আনফাল ০৮: ৬০)

তাই আমরা সেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এই সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতির ফলাফল দেখুন, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ঘুণাক্ষরেও এর খবর পায়নি। মাত্র অল্প কয়েকদিনের জমানো সরঞ্জাম দ্বারা দেড় হাজার ইহুদীকে তাদের ‘আয়রন ডোমের’ নিচে, তাদের ঘুমের ঘরে হত্যা করা একটি অলৌকিক ঘটনা থেকে কম নয়!

ফিলিস্তিনের মুজাহিদদের প্রশংসা করতে হবে, ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য শোক প্রকাশ করতে হবে, তাদের পক্ষে মিছিলও করতে হবে। কিন্তু এসব আসল কাজ নয়। আসল দাবি তো গত দশ দশক থেকেই আছে। যখন ব্রিটিশ ক্রুসেডার জেনারেল ‘অ্যালেন বি’ বাইতুল-মাকদিসে প্রবেশ করেছিল, সেই দিন থেকে এখনও আমাদের উপর দায়িত্ব হয়ে আছে, সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহিমাহুল্লাহর উত্তরসূরিরা ক্রুসেডার ও জায়নিস্ট বাচ্চাদেরকে তাদের রক্তে ধুয়ে কুদসের ভূমি মুক্ত করবে। যদি আমরা উম্মতে মুসলিমা এই কাজটি করতাম, এই কাজের জন্য প্রস্তুত হতাম, তাহলে পৃথিবীর মানচিত্র আজ এতটা ভয়াবহ হতো না। পৃথিবীর মানচিত্রে ইসরাঈলের মতো নাপাক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকতো না।

অবশ্য মুসলিম উম্মাহর উপর আন্দালুসের (স্পেনের) পতনের পর থেকে জিহাদ ফরযে আইন[1] হয়ে আছে। সুতরাং জিহাদের এই ফরয প্রতিদিন না, বরং প্রতি মুহূর্তেই বেড়ে চলেছে। আন্দালুসের পতনের পর খিলাফতে উসমানিয়ারও পতন ঘটেছে। তার আগে এবং পরের সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও ভূগোল, এমনকি মুসলিমদের দীনও (দীন কায়েম ও শরীয়াহ আইন বাস্তবায়নের অর্থে) উপনিবেশের নতুন যুগে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন সহ প্রতিটি অঞ্চল – কোথাও পর্তুগাল, কোথাও ফ্রান্স, কোথাও ব্রিটিশ, কোথাও ডাচ, কোথাও জার্মান এবং ইতালিয়ানদের হাতে দখল হয়ে আছে। ক্রুসেডার ও জায়নিস্টদের বাচ্চারা কুদসের ভূমি দখল করেছে। অতঃপর একজন ব্রিটিশ জেনারেল সিরিয়ায় সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহিমাহুল্লাহর কবরে আঘাত করে বলেছিল, ‘সালাহুদ্দীন! আমরা আবার এসে গেছি।’

হারামাইনের ভূমিতে ক্রুসেডার এবং জায়নবাদীরা চতুর্দিক ঘিরে ফেলেছে। মসজিদে হারামের কয়েক কিলোমিটার দূরে আমেরিকান সৈন্যরা ঘাঁটি তৈরি করেছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে এক ইহুদীকে ঘুরতে দেখা গেছে।

হারামের পবিত্র ভূমির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ‘হারামের বাসিন্দাদের অসতর্কতার কারণে তাদের পদচিহ্ন দ্বারা হারামের অসম্মান হচ্ছে’। যারা নিজেদেরকে হারামাইন শরীফাইনের ‘মুতাওয়াল্লী’ হওয়ার দাবি করে, তারাই এক ধর্মহীন দু্শ্চরিত্রা-নির্লজ্জ মহিলাকে ডেকে এনে ২০২৩ সালের এই আগস্ট মাসের শেষ তারিখে প্রকাশ্যে শিরক করার আহ্বান করেছে। আল্লাহর পরিবর্তে দেব-দেবীর উপাসনার দাওয়াত, এটা আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করা এবং সকল নবী আলাইহিমুস সালামের দাওয়াতকে অবজ্ঞা ও প্রলাপ সাব্যস্ত করার নামান্তর। অতঃপর আজ ইসরাঈলের বিরুদ্ধে গাজার জনগণের যুদ্ধ এবং তার পরে ইসরাঈল কর্তৃক গাজার নিরীহ জনগণের উপর সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণ অব্যাহত আছে। পারমাণবিক বোমা না ফেললেও গাজা হিরোশিমা ও নাগাসাকির দৃশ্য ধারণ করেছে।

শরীয়তের আলোকে জিহাদ ফরয হওয়ার ক্ষেত্রে, প্রতিটি ঘটনার সাথে সাথে ফরযে আইনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আজ মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের উপর, সে পুরুষ হোক অথবা নারী, অতীতের তুলনায় অধিকতর তীব্রতার সাথে জিহাদ ফরযে আইন হয়ে আছে। এই ফরযে আইন আদায়ের উদ্দেশ্য শুধু পবিত্র স্থানসমূহ রক্ষা করা, ইসলামী ভূমি পুনরুদ্ধার করা, মুসলমানদের সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং আল্লাহর দীনের কালিমা সুউচ্চ হওয়াই নয়, বরং এই সবকিছুর আগে আল্লাহর দরবারে আমাদের নিজেদেরকে দায়িত্ব মুক্ত করাই হল আসল উদ্দেশ্য। তা এভাবে যে, হে মালিক! আমাদের যা দায়িত্ব ছিল, আমরা তা সাধ্য মতো পালন করেছি এবং দায়িত্ব পালন শেষে আমরা আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, এখন আমাদেরকে জাহান্নামের আগুনের ইন্ধন হওয়া থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার রহমতের চাদরে ঢেকে দিন।

আজ ফিলিস্তিনে চলমান যুদ্ধ, গাজার স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধ, গাজায় ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ, তারপর আগুন, গোলা-বারুদ ও ফসফরাসের বিষাক্ত বৃষ্টি এবং এর পরিণতিতে আড়াই হাজার (বর্তমানে ৮ হাজার ছাড়িয়েছে) মুমিনের শাহাদাত এবং ৯,০০০ আহত হয়েছে। (বর্তমানে ২০ হাজার ছাড়িয়েছে) [وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّابِاللَّهِ]

এসব কারণে আজ সারা বিশ্বের মুসলমানের উপর (মুসলিম জনগণ, উলামায়ে কেরাম ও ইসলামের মুজাহিদগণ সহ সকলের উপর) অতীতের তুলনায় আরও ভারী দায়িত্ব এসে গেছে। যদি মুসলিম দেশের শাসকদের মধ্যে সত্যিই ঈমান থাকে, তবে আজ ফিলিস্তিন ইস্যু তাদের ঈমানী দাবির প্রমাণ চাইছে। আজ সময় এসেছে ঈমান ও নিফাকের তাঁবু আলাদা হওয়ার।

বাইশ বছর আগে 9/11-এর রূপে পার্থক্যের একটি দিন ঈমান ও কুফরের শিবিরগুলো আলাদা করার মাধ্যম হয়েছিল এবং মুসলমানরা কাফেরদের নেতা আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট যুদ্ধে নেমেছিল। ঠিক একইভাবে আজকের পার্থক্যের দিন হল ‘তুফানুল আকসা’র যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ঈমান ও নিফাকের তাঁবু আলাদা করার মাধ্যম হবে, ইনশাআল্লাহ। আজকের এই যুদ্ধের কারণে ভিতরে ঈমান না কুফর তা প্রকাশ হয়ে যাবে।

টেরোরিজম তথা সন্ত্রাসবাদদর্শনের মুখোশ উন্মোচন

ফিলিস্তিন সমস্যা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্পষ্ট সমস্যা কিংবা কয়েকটি স্পষ্ট যুদ্ধের মধ্যে একটি, যেখানের জিহাদকে সেক্যুলার লোকেরাও ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ’ হিসাবে জানে এবং স্বীকার করে। গোটা বিশ্ব (শরীয়াহ মানদণ্ডে নয়) ফিলিস্তিনের সমস্যার সমাধান দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমঝোতার আকারে দেখতে চায়। আবার বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনকে বৈধ মনে করে।

কিন্তু ফিলিস্তিনের মুজাহিদীনরা যখন তাদের শরয়ী দায়িত্ব আদায় করা এবং ধর্মীয়, যৌক্তিক ও নৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ‘তুফানুল আকসা’র যুদ্ধ শুরু করে তখন আমেরিকা এবং পুরো ইউরোপ এই যুদ্ধকে ‘টেরোরিজম’ (সন্ত্রাসবাদ/জঙ্গিবাদ) নাম দেয়! কারণ এতে ইসরাঈল জুড়ে ইসরাঈলি মহিলাদেরও টার্গেট করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবতা হল, এই যুদ্ধে যে সমস্ত মহিলারা নিহত বা বন্দী হয়েছিল তারা সবাই ইসরাঈলি সেনাবাহিনীতে কাজ করত বা চাকরি করতো। ইসরাঈলের প্রতিটি পুরুষ বত্রিশ মাস (আড়াই বছর) এবং মহিলারা চব্বিশ মাস (দুই বছর) ইসরাঈলি নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকরি করে।

পবিত্র শরীয়ত সামরিক ও বেসামরিকের আধুনিক সংজ্ঞায় বিশ্বাসী নয়। পবিত্র শরীয়তের মানদণ্ডে যুদ্ধ করার ক্ষমতা সম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তিকে হরবি‘, ‘মুকাতিল’ তথা যোদ্ধা বলা হয়। তবে এতে এমন বয়স্ক ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যারা যুদ্ধে সক্ষম নয় কিন্তু মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে এ হুকুমের বাহিরে সন্ন্যাসী, উপাসক ও পুরোহিত যাদের যুদ্ধের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এবং নারী ও শিশু ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইসরাঈলি সেনাবাহিনীতে ইসরাঈলের সাধারণ নারীরাও সেবা দিয়ে থাকে। ইহুদীদের ছোট শিশুরা হরবি নয়, তবে এ বিষয়টি মনে রাখবেন যে, তারা সকলে আধুনিক অস্ত্রের প্রশিক্ষণ স্কুলেই গ্রহণ করে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছবিগুলো এর প্রমাণ।

যে দেশে ছোট বাচ্চারা পর্যন্ত অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয়, সেখানের নারীরা অবশ্যই অস্ত্র চালাতে জানে। তা সত্ত্বেও ইসলামের মুজাহিদগণ তাদের উপর হাত তুলেনি, বরং এই ইহুদী নারীদের ইজ্জত-সম্ভ্রমও তারা রক্ষা করেছে। এ রকম দশটি ভিডিও জনসম্মুখে এসেছে, যেখানে ইসলামের মুজাহিদীনরা নারী ও শিশুদের প্রতি করুণা দেখিয়েছেন। সেখানে তাদের বলতে শোনা যায় যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যুদ্ধের সময় নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। খোদ ইহুদী নারীদের এমন বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার এসেছে, যেখানে তারা মুজাহিদীনের নৈতিকতা ও ভালো আচরণের প্রশংসা করেছে।

অন্যদিকে ইসরাঈলি এক বৃদ্ধের ভিডিও সংবাদ সংস্থাগুলো প্রচার করেছে, যেখানে পঁচানব্বই বছরেরও বেশি বয়সী ইসরাঈলি বৃদ্ধ আজকের যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং বলেছে যে, মুসলমানদের যেখানেই পাও সেখানেই হত্যা কর। ইসরাঈল হল বিশ্বের এমন আদর্শিক ও ধর্মীয় রাষ্ট্র; যেখানে বসবাসকারী প্রতিটি ইহুদীই দখলদার ও ছিনতাইকারী। দখলদার ও ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের অনুমতি তো আমেরিকার গোলাম জাতিসংঘও দেয়। পূর্ব তিমুর, দক্ষিণ সুদান এরই উদাহরণ।

ফিলিস্তিনের মুজাহিদীন তাদের নিপীড়িত মুসলিম জাতির প্রতিশোধ নিয়েছে এবং তাদের নিরপরাধদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ইসরাঈলের উপর পাল্টা আক্রমণ করেছে। এই হামলাকে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং ইসরাঈলসহ ইউরোপীয় দেশগুলো ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পশ্চিমাদের পরিশ্রমের কারণে আমাদের মুসলমানদের মাঝে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও ইউরোপ ও আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা ও পরিচয় খুবই স্পষ্ট। 9/11 এর হামলা সন্ত্রাসবাদ, মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ, উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ, আইমান আয-যাওয়াহিরী রহিমাহুল্লাহ, আহমাদ ইয়াসীন রহিমাহুল্লাহ, আব্দুল আজীজ রান্টিসি রহিমাহুল্লাহ সবাই সন্ত্রাসী এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসবাদ।

ইসরাঈলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধও সন্ত্রাসবাদ।

আজকের যুদ্ধ ‘তুফানুল আকসা’ সন্ত্রাসবাদের দর্শনের মুখোশ খুলে দিয়েছে।

আমেরিকাই সকল নষ্টের মূল

‘তুফানুল আকসা’র যুদ্ধের পরে যেভাবে আমেরিকা তার মিত্রদের (বিশেষ করে ফ্রান্স এবং গ্রেট ব্রিটেন) সহ ইসরাঈলকে রক্ষা করার জন্য ছুটে এসেছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে ইসরাঈল নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম। ‘আয়রন ডোম’ও আমেরিকার সরবরাহ করা।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকা ইসরাঈলকে ১৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত শুধু সামরিক সহায়তা হিসাবে ইসরাঈলকে প্রতি বছর ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়া হয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্তের জন্য এই বার্ষিক সাহায্য তিন বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। অতঃপর ২০১৯ সালে বার্ষিক সাহায্য তৃতীয়বার বাড়ানো হয়, এবং এখন আমেরিকা প্রতি বছর ইসরাঈলকে সামরিক সহায়তা হিসাবে ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে। অর্থাৎ ১৯৯৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমেরিকা ইসরাঈলকে ৭১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার শুধু সামরিক সহায়তাই দিয়েছে।[2]

পূর্বেকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাইতুল মাকদিস পরিদর্শন করে আল-কুদস (জেরুজালেম)কে ইসরাঈলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সাথে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরেরও ঘোষণা দিয়েছিল।

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি কথা আজ বেশ প্রসিদ্ধ। যেখানে সে ২০২২ সালের অক্টোবরে বলেছিল যে, “যদি ইসরাঈল না থাকতো তবে আমাদেরকেই একটি ইসরাঈল উদ্ভাবন করতে হত।” (If there was no Israel we’d have to invent one.)[3]

এই আমেরিকাই ইসরাঈলের সবচেয়ে বড় সমর্থক। একটু চিন্তা করে দেখুন; ইসরাঈলি ভূখণ্ডে ১০০০ ফিদায়ী মুজাহিদীনের প্রবেশ এবং আক্রমণের কারণে আমেরিকা তার নৌবহর, ব্রিটেন তার দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা ইসরাঈলকে দান করেছে। এটা ঐ ব্রিটেন, যেটি তার ইতিহাসের গভীরতম রাজনীতিক ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। ঐ আমেরিকা, যার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব বলে গণ্য হয়। আমেরিকা তার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তার জনগণের জন্য চিকিৎসা সুবিধা ও কর্মক্ষেত্র তৈরি না করে বরং দখলদার ইসরাঈলের নিরাপত্তায় তাদের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করছে।

ফিলিস্তিনের জনগণকে কিভাবে সাহায্য করবেন?

ফিলিস্তিনের জনগণের সাহায্য মূলত ইসলাম ও মুসলমানের সাহায্য, প্রথম কিবলার সাহায্য ও পরকালের পুঁজি। অবশ্য ফিলিস্তিনের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করা যেতে পারে। সেগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু এই হতে পারে:

প্রথমে সবচেয়ে বড় শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ!

ইসরাঈলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ, হামলা তথা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি কঠিন বিষয়। কারণ তথাকথিত ইসরাঈলের একদিকে সমুদ্র এবং তিন দিকে আরব দেশ, যাদের শাসকরা আমেরিকার পুতুল ও গোলাম। তাই ইসরাঈলের বিরুদ্ধে মুসলমানরা সেই কাজ-ই করতে পারে, যা ‘তুফানুল আকসা’র রূপে ‘কাতাইব আল-কাসসাম’ এর মুজাহিদীন করেছে। কাতাইব আল-কাসসামের মুজাহিদীনকে হাজার বার মোবারকবাদ জানাই; কিন্তু আমরা জানি যে, দখলদার ইসরাঈলকে শেষ করার জন্য যে সকল যুদ্ধের প্রয়োজন, তার মাঝে ‘তুফানুল আকসা’ই প্রথম সিদ্ধান্তমূলক এবং বড় যুদ্ধ। কিন্তু এই ধরনের যুদ্ধ ইসরাঈলকে (যার পিছনে বড় তাগুত আমেরিকা দাঁড়িয়ে আছে) অবশ্যই দুর্বল করবে, কিন্তু উৎখাত করতে পারবে না।

  • এতদসত্ত্বেও যারা ফিলিস্তিনের জনগণকে আর্থিক ও শারীরিকভাবে সরাসরি সাহায্য করার পথ খুঁজে পান, তাদের উচিত তাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে সাহায্য-সহায়তা করা।
  • ইসলামের মুজাহিদীন যেখানে যেখানে জিহাদের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন, যেমন- পাকিস্তান, কাশ্মীর ও বাংলাদেশ, ইয়েমেন, মালি, আলজেরিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া ইত্যাদিতে, তাদের উচিত- সেসব জায়গায় তাদের জিহাদী শক্তি বৃদ্ধি করা। তাদের জিহাদে আরও গতি সঞ্চার করা ও শক্তি আনয়ন করা। তাদের আরও উচিত- নিজস্ব জমি এবং নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলিকে জিহাদী কেন্দ্রে পরিণত করা। আমেরিকা ও ইসরাঈলের নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের অধীনে বিশ্বব্যাপী কুফরী সরকারকে উৎখাত করার জন্য ‘স্থানীয় জিহাদকে বৈশ্বিক জিহাদের সমর্থকে’ পরিণত করা।
  • আজ ইসলামী বিশ্বের শাসকদের রীতি-নীতি সবার সামনে প্রকাশিত। এই শাসকরা এবং তাদের সেনাবাহিনীর অবস্থা এমন যে, আজ তারা উদ্যমী ও সাহসী মুসলমানদেরকে ইহুদীদের উপর আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখছে!

এরাই হল তথাকথিত সেই সকল শাসক; যারা কোথাও ইহুদীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক আমেরিকার ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা। আবার কোথাও নিজেদের ভূমিতে আবদুল আজীজ বিমান ঘাঁটি, শাহ ফাহাদ বিমান ঘাঁটি, শাহ খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং কোথাও আল উদেদ বিমান ঘাঁটি তাদেরকে দিয়ে দেয়। এই বিমান ঘাঁটি ব্যবহারকারীদের খরচও মুসলমানদের সম্পদ ‘খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস’ দ্বারা ব্যবস্থা করা হয়। অতঃপর এরাই নিজেদের সৈন্য ব্যবহার করে বা কোথাও তাদের বিমান ঘাঁটি থেকে বিমান উড়িয়ে উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মানুষদের (মুজাহিদীনের) উপর বোমা ফেলার সুযোগ-সুবিধা করে দেয়। তাই ইসলামী বিশ্বের সকল মুসলমানের কর্তব্য হলো- তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং কার্যকর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দেশের শাসকদেরকে আমেরিকা ও ইসরাঈলকে সমর্থন বন্ধ করতে বাধ্য করা।

  • সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুসলমানদের জন্য ইসরাঈলে পৌঁছানো কঠিন। কিন্তু ইসরাঈলের সবচেয়ে বড় মদদদাতা আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের স্বার্থ, আমেরিকা ও ইউরোপসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে, যেখানেই কোনো ইসরাঈলি, আমেরিকান, ব্রিটিশ, ফরাসি অথবা ইসরাঈলের সমর্থক অন্য কোনো ইউরোপীয়ানকে পাওয়া যাবে, তাকে সেখানেই হত্যা করা উচিত। আজকের বিশ্ব একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, যেখানে সকলের স্বার্থই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

ইহুদীরা একটি পবিত্র ভূমির বিশ্বাস লালন করে। তাই তারা নীল নদ ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বসবাস করতে চায়। কিন্তু ইসরাঈলের সমর্থকদের ক্ষেত্রে এমন কোনো পবিত্র স্থান নেই। তাই তারা সারা বিশ্বে বিদ্যমান। যদি আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ইসরাঈলের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করতে ইহুদীরা জাহাজ ভরে ভরে আসতে পারে, তবে কেন আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ায় এদের পুরুষ ও নারী সৈন্যদেরকে টার্গেট করে জাহান্নামে পাঠানো হবে না? এছাড়া আমেরিকানদের উপর এমন আঘাত এবং এমন যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে হবে যা আমেরিকানদেরকে ইসরাঈলকে সমর্থন ও রক্ষা করার চিন্তা করার কথা ভুলিয়ে দিবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৈনিক হও!বিশ্বময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মুসলিম সৈনিক ও অফিসারদের প্রতি

০4 জুন ২০২৩ এ একজন মিশরীয় সৈনিক মুহাম্মদ সালাহ ইবরাহীম, ইসরাঈল-মিশর সীমান্তে তিনজন ইসরাঈলি সৈন্যকে হত্যা করেন, অতঃপর শাহাদাতের সুধা পান করে চিরস্থায়ী জান্নাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। তারপর ১8 অক্টোবর ২০২৩ ‘তুফানুল আকসা’ যুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিন একজন মিশরীয় পুলিশ অফিসার মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে তিনজন ইসরাঈলি ইহুদীকে তার ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই দুই ইহুদী নিহত হয় এবং একজন আহত হয়ে সাহায্যের জন্য ডাকতে থাকে, অথচ এই ইহুদীদের সাথে আসা মহিলাকে এই মর্দে মুজাহিদ কিছুই বলেননি।

এ দুটি সাম্প্রতিক কালের ঘটনা। এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনীর সৈনিক, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মেজর নিদাল হাসান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট হুড, টেক্সাসে তার গ্লক/১৭ পিস্তল দিয়ে প্রায় ৫০ জন আমেরিকান সৈন্যকে গুলি করে ১৩ জন সৈন্যকে হত্যা করেছিল। সৌদি ফাইটার পাইলট মুহাম্মদ সাঈদ শিমরানি পেনসাকোলায় আমেরিকান নৌ ঘাঁটিতে ০৩ জন মার্কিন সেনাকে হত্যা করেন অতঃপর নিজে শাহাদাতের সুধা পান করে জান্নাত পানে রওয়ানা করেন।

পাকিস্তানে পাঞ্জাব পুলিশের সৈনিক গাজী মুমতাজ হুসাইন কাদেরি ২০১১ সালের ০4 জানুয়ারী তারিখে পাঞ্জাবের গভর্নর শাতেমে রাসূল সালমান তাসিরকে সরকারি লাইসেন্সকৃত ক্লাশিনকোভ থেকে 27টি গুলি ছুঁড়ে গোস্তাখে রাসূলকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন।

জিসান রফিক এবং ওয়াইস জাখরানি, সমুদ্রে আমেরিকান কমান্ডের অধীনে CTF অভিযানে যুক্ত ছিল। তারা ভারত মহাসাগরে আমেরিকান নৌ বহরে আক্রমণ করার চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ কিছু আমেরিকান গোলাম সৈন্যকে হত্যা করেছিল। এই কয়েকটি ঘটনাও উদাহরণস্বরূপ পেশ করলাম, নতুবা ইতিহাসে এ রকম আরও অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে।

এসবই মুসলিম সৈন্য কর্তৃক শত্রুকে আক্রমণ করার সর্বোত্তম উদাহরণ। তাই সেই সমস্ত মুসলিম সৈনিক ও অফিসারদেরকে উদ্দেশ্য করে বলছি- যাদের অন্তরে ঈমানের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্জ্বলিত আছে – মহান আল্লাহ আপনাদের অস্ত্র চালনার যোগ্যতা দিয়েছেন। অস্ত্র আপনাদের হাতে বা কয়েক মিটার দূরত্বেই থাকে। দীনের শত্রু বিশেষ করে আমেরিকান এবং ইহুদীদের কাছেও আপনাদের সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এমতাবস্থায় ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান বিশ্বযুদ্ধে ইসলামপন্থিদেরকে সমর্থন করুনআমেরিকান ও ইহুদিীদের জন্য তাদের নিরাপদ সামরিক ব্যারাকে বসবাস করাকেও হারাম করে দিন। নিশ্চয় এতেই রয়েছে দুনিয়ার সম্মান এবং পরকালের সফলতা!

কলম সৈনিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের প্রতি

মিডিয়া ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের গুরুত্ব এবং কলমের শক্তি সম্পর্কে, দরদী কলম সৈনিক ও মিডিয়া ব্যক্তিবর্গের (মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী ভাই-বোনদের) তুলনায় আর কে বেশি সচেতন! প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় বাণী:

جاهِدوا المُشركينَ بأَموالِكُم وأَنفُسِكُم وأَلسِنَتِكُم.

“তোমরা তোমাদের জান-মাল দিয়ে এবং জবানের মাধ্যমে মুশরিকদের (কাফেরদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর।” (আবু দাউদ, দারেমী, নাসায়ী, আহমাদ)

অর্থনৈতিক বয়কট

যতটা সম্ভব মুসলমানদের স্ব-নির্মিত পণ্য ব্যবহার করা উচিত। চাই তা খাদ্য দ্রব্য হোক, পোশাক হোক, যানবাহন অথবা যোগাযোগের সরঞ্জাম (মোবাইল এবং কম্পিউটার) হোক। আর যদি স্ব-নির্মিত জিনিসপত্র পাওয়া না যায়, তবে যারা আমেরিকার চেয়ে কম বিপজ্জনক শত্রু, তাদের জিনিসপত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। নিশ্চয়ই আমরা ইচ্ছা করলেই আমাদের আত্মচাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে শত্রুর ক্ষতি করতে পারি। আমরা কোকাকোলার পরিবর্তে স্থানীয় ব্র্যান্ডের পানীয় পান করতে পারি। আমেরিকান অ্যাপল এর পরিবর্তে জাপানি বা কোরিয়ান স্যামসাং ব্যবহার করতে পারি। গুচি, আরমানি, লেভিস, পোলো, অ্যাডিডাস এবং নাইকির পরিবর্তে স্থানীয় ব্র্যান্ড এবং স্থানীয় দর্জিদের তৈরি পোশাক পরিধান করতে পারি।

গাজার জনগণের বিরুদ্ধে চলমান ইসরাঈলি যুদ্ধে ইসরাঈলি ইহুদী সৈন্যদের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহকারী ম্যাকডোনাল্ডের পরিবর্তে আপনি আপনার শহরের কোনো ফাস্ট ফুড দোকান কিংবা আপনার দেশের স্থানীয় ফাস্ট ফুড কোম্পানির বার্গার, চিপস খেতে পারেন।

নিজের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী আমেরিকান, ইউরোপীয় ও ইসরাঈলি পণ্য বর্জন করলে কুফরের অর্থনীতি দুর্বল হবে। অবশ্য যে মুসলমান এই বয়কটের যোগ্যতা রাখে না অথবা যার প্রয়োজন দুশমনের ব্যান্ডের সাথে সম্পৃক্ত তার ব্যাপারে আমরা মুসলিম ভাইদের কাছে অজুহাত পেশ করবো।

দোয়া জারি রাখা

হাদীস শরীফে বলা হয়েছে-

الدُّعاءُ سلاحُ المؤمنِ

“দোয়া মুমিনের অস্ত্র (হাতিয়ার)।” (মুসতাদরাকে হাকেম)

আজকের এই নিষ্ক্রিয়তার যুগে, টিভি পর্দার সামনে সোফা ও বালিশে হেলান দিয়ে কখনও কখনও আমরা আমাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে শুধু দোয়াকেই মূল কাজ বলে মনে করি। এই মনোভাব শরীয়ত ও যুক্তি অনুযায়ী সঠিক নয়। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থে অন্য কোনো পথ খুঁজে পান না, তাদের জন্য ফিলিস্তিনের জনগণ সহ সারা বিশ্বের মুসলমান ও নির্যাতিতদের জন্য দোয়া করা, কুনুতে নাযিলার আয়োজন করা অনেক বড় ইবাদত। প্রকৃতপক্ষে এটি অনেক বড় অস্ত্র।

তাই আমাদের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত মজলিসগুলোতে দোয়া অবশ্যই করতে হবে। নিজে দোয়া করুন, আপনার পরিবার ও সন্তানদের দোয়া করতে বলুন। নিজেদের মসজিদগুলোতেও এই দোয়া চালু করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোনো দোয়া প্রত্যাখ্যান করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ ﴿٦٠﴾

“তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” (সূরা গাফির ৪০: ৬০)

বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময় এবং জুমআর দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে অবশ্যই দোয়া করবেন।

اللَّهمَّ اهدِنا فيمَنْ هدَيْتَ وعافِنا فيمَنْ عافَيْتَ وتولَّنا فيمَنْ تولَّيْتَ وبارِكْ لنا فيما أعطَيْتَ وقِنا شرَّ ما قضَيْتَ إنَّك تَقضي ولا يُقضَى عليكَ إنَّه لا يذِلُّ مَن والَيْتَ ولا يَعِزُّ مَن عادَيْتَ تبارَكْتَ وتعالَيْتَ.

“হে আল্লাহ, আমাদেরকে হেদায়াত দান করুন, তাদের মাঝে যাদেরকে আপনি হেদায়াত দান করেছেন। আমাদেরকে নিরাপত্তা দান করুন, তাদের মাঝে যাদেরকে আপনি নিরাপত্তা দান করেছেন। আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করুন, তাদের মাঝে যাদের দায়িত্বভার আপনি গ্রহণ করেছেন। আপনি আমাদেরকে যা কিছু প্রদান করেছেন, তাতে বারাকাহ দিন। আমাদেরকে রক্ষা করুন, আপনার মন্দ ফায়সালা থেকে। নিশ্চয়ই আপনি ফায়সালা করেন, আপনার উপর কেউ ফায়সালা করতে পারে না। আপনি যার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তাকে কেউ অপদস্থ করতে পারে না। আপনি যার সাথে শক্রতা করেন, তাকে কেউ ইজ্জত দিতে পারে না। আপনি বরকতময় এবং সুমহান।” (সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ প্রভৃতি)

اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الكِتَابِ، ومُجْرِيَ السَّحَابِ، وهَازِمَ الأحْزَابِ، اهْزِمْهُمْ وانْصُرْنَا عليهم.

“হে আল্লাহ, কুরআন অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী, সৈন্য দলকে পরাজয় দানকারী, আপনি কাফের সম্প্রদায়কে পরাজিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।” (সহীহ বুখারী: ৩০২৪, সহীহ মুসলিম: ১৭৪২)

উলামায়ে কেরামের নিকট অনুরোধ

সৃষ্টিজীবের পথ প্রদর্শক ও দিশারী হলেন নবী আলাইহিমুস সালাম। নবীগণের ওয়ারিশ হলেন উলামায়ে কেরাম। যেমন- হাদীস শরীফে বলা হয়েছে:

إنَّ العُلماءَ ورثةُ الأنبياءِ

“আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী।”(আবু দাউদ ৩৬৪৩, তিরমিযী: ২৬৮২)

অর্থাৎ উলামায়ে কেরাম মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত পথ প্রদর্শক। আজ কাফের বিশ্ব বিশেষ করে অভিশপ্ত ইহুদীদের বিরুদ্ধে উম্মাহকে সংগঠিত করে দাঁড় করানো, ইহুদী ও তাদের মদদ দাতাদের, বিশেষ করে আমেরিকার আসল চেহারা মুসলিম উম্মাহর কাছে প্রকাশ করা, নিজেদের ফতোয়া ও খুতবার মাধ্যমে উম্মাহকে তাদের ফরয দায়িত্বের প্রতি আহ্বান করা, এটা তাদের সাথে সর্বোত্তম শক্রতা হতে পারে।

মুসলিম শাসকদের প্রতি

বিশ্বব্যাপী মুসলিম দেশের শাসকদের আচরণ সবার খুব ভালোই জানা আছে। তাদের অপরাধ আমেরিকা ও ইসরাঈলের চেয়ে বেশি না হলেও তাদের থেকে কম নয়, বরং কমপক্ষে সমান সমান হবে। পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, তুরস্ক, আরব আমিরাত, মিশর এবং সুদানের শাসকরা সবাই আমেরিকার সরাসরি পূজারী ও বন্ধু। তাদের অনেকেরই আজ ইসরাঈলের সাথে গভীর ও মধুর সম্পর্ক রয়েছে। যদি তাদের মাঝে বিন্দুমাত্রও ইসলামের প্রতি সমর্থন এবং ঈমানী চেতনা থাকে, বরং সরষে দানা পরিমাণও ঈমান ও ইসলাম বাকি থাকে, তবে এই হাদীসগুলোতে তাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষা রয়েছে:

جَاءَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، مِنْ بَنِي الْخَزْرَجِ، إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي مَوَالِي مَنْ يَهُودٍ كَثِيرٌ عَدَدُهُمْ، وَإِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ مِنْ وَلَايَةِ يَهُودٍ، وَأَتَوَلَّى اللَّهَ وَرَسُولَهُ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ: إِنِّي رَجُلٌ أَخَافُ الدَّوَائِرَ، لَا أَبْرَأُ مِنْ وِلَايَةِ مَوَالِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ: “يَا أَبَا الحُباب، مَا بَخِلْتَ بِهِ مِنْ وَلَايَةِ يَهُودَ عَلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَهُوَ لَكَ دُونَهُ”. قَالَ: قَدْ قَبِلْتُ! فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: )يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (51) فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِنْ عِنْدِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَى مَا أَسَرُّوا فِي أَنْفُسِهِمْ نَادِمِينَ(تفسير ابن كثير (

“খাযরাজ গোত্রের হজরত উবাদাহ বিন সামিত রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমি অনেক ইহুদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছি, কিন্তু আমি তাদের সবার বন্ধুত্ব ছিন্ন করি। আমার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বন্ধুত্বই যথেষ্ট। এতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই (সেও খাযরাজ গোত্রের ছিল) বললো, আমি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আমি দূর চিন্তা করতে অভ্যস্ত, আমি এটা করতে পারবো না, আমি জানি না কখন কি সুযোগ আসবে?।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদুল্লাহ! তুমি উবাদার তুলনায় খুবই দুর্বল। তখন এই আয়াত নাযিল হয়: ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই একজন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না। সুতরাং যাদের অন্তরে ব্যাধি (নিফাক) রয়েছে আপনি তাদের দেখতে পাবেন তারা প্রতিযোগিতা করে তাদের (ইহুদীদের) দিকে ছুটে চলে, তারা বলে, আমরা ভয় করি যে, আমাদের উপর কোনো বিপদ আসবে। কিন্তু সেই সময় বেশি দূরে নয় যে, আল্লাহ (মুসলিমদের) বিজয় দান করবেন কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কিছু প্রকাশ করবেন, আর সেই সময় এই লোকেরা তাদের অন্তরে যা লুকিয়ে রেখেছিল তার জন্য অনুতপ্ত হবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা মায়েদা ০৫: ৫১-৫২)

তাফসীরে ইবনে কাসীর ও তাফসীরে তাবারীতেও এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে:

মুসলমানরা যখন ইহুদীদের এই গোত্রের (বনু কাইনুকার) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং আল্লাহর রহমতে তারা বিজয়ী হয়েছিল, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, হে মুহাম্মদ! আমার বন্ধুদের ব্যাপারে আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। এই লোকটি খাযরাজের সঙ্গী ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছু বলেননি। অতঃপর সে আবারও বললো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আস্তিন চেপে ধরে। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় ঘাড় চেপে ধরে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেন, ছেড়ে দাও। সে বললো, না! আপনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা ছাড়া আমি ছাড়বো না, তাদের একটি বড় দল আছে এবং আজ পর্যন্ত এই লোকেরা আমার সমর্থক এবং একদিনে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে! আমি ভবিষ্যতের মুসীবতের ভয় করছি। অবশেষে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও সব তোমার জন্য।

একটি বর্ণনায় আছে, “যখন বনু কায়নুকার ইহুদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনেই তাদের সমর্থন করতে শুরু করে। অথচ হযরত উবাদাহ বিন সামিত রাযিয়াল্লাহু আনহুও তাদের মিত্র থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের থেকে স্পষ্টভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

অনুরূপভাবে সুনানে আবু দাউদ এবং অন্যান্য তাফসীর ও হাদীসের গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: (সারমর্ম) যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এর শেষ সময় এল তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ কামনা করলো, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শেষ মুহূর্তেও তাকে বললেন:

قَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ حُبِّ يَهُودَ

‘আমি তোমাকে ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করতাম।’ (আবু দাউদ: 3094, আহমাদ: 21758)

উলামায়ে কেরাম বলেন, ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার কারণেই মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর কুফরের উপর মৃত্যু হয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য ক্ষমা চাইলেন এবং তার জানাযা আদায় করলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা চাওয়াও তার কোনো কাজে আসেনি, তার শেষ পরিণতি খারাপই হল। আল্লাহ তাআলা বলেন, আপনি যদি তার জন্য সত্তর বারও ক্ষমা চান তবুও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না।

إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ۚ ﴿٨٠﴾

“যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন, তথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।” (সূরা তাওবা ০৯: ৮০)

সুতরাং, আজ যদি ইবনে সালমান, ইবনে জায়েদ, সিসি, তামিম এবং তাদের সাথে সম্পৃক্ত আসিম মুনীর[4]সহ মুসলিম দেশের শাসকদের সত্যিকার অর্থে ঈমান থাকে, তাহলে তাদের উচিত ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে সম্পর্ক পরিত্যাগের ক্ষেত্রে শরীয়তের নীতি আঁকড়ে ধরা। প্রকৃতপক্ষে ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব একটি বড় ক্ষতির ব্যবসা এবং এর শেষ পরিণতি খারাপই হয়।

এখন লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা তুলে ধরবো

তথাকথিত ইসরাঈল রাষ্ট্রের উপর হামলার পর ইহুদী নেতানিয়াহু বলেছিল যে, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পাল্টে দেবো। কিন্তু এই ইহুদী ফিতনাবাজের জানা উচিত যে, মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং তার নিজ দেশের সমগ্র মানচিত্র বদলের সময় এসেছে। আজ উম্মাহর বিজয়ের স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানকারী আল্লামা ইকবাল রহিমাহুল্লাহ জীবিত নেই, কিন্তু শত বছর আগে তিনি যে দৃশ্যের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আজ তা আমরা নিজের চোখেই দেখছি:

“সাহারার মরু অঞ্চল থেকে বেরিয়ে রুমের রাজত্ব উৎখাত করেছে যারা,

শুনেছি আমি কুদসবাসীদের থেকে আবার জেগেছে সেই সিংহ তারা।”

সত্যিই সেই সিংহ জেগে উঠেছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় এই সিংহের গর্জনে পুরো মুসলিম উম্মাহ জেগে উঠবে! মুসলমানদের বিজয় ও উত্থানের সময় এবং খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাহ প্রতিষ্ঠার সময় অতি নিকটে। কে ভেবেছিল গাজা উপত্যকা থেকে মুষ্টিমেয় মুজাহিদীনের উত্থান ঘটবে এবং এই গুটিকয়েক মুজাহিদীন, সম্ভবত এক হাজার কিংবা তার কিছু কম-বেশি, পৃথিবীর সমস্ত পরাশক্তিকে ‘তুফানুল আকসা’র ঝড়ে আক্রান্ত করবে। পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম থেকে আওয়াজ আসছে:

“ওহে ঘুমন্ত বীর! জেগে ওঠো, এবার সময় এসেছে তোমার,

সময় হয়েছে ভেঙ্গে ফেলার সিংহাসন, আর মুকুট ছুঁড়ে ফেলার।

এখন ভেঙ্গে পড়বে কারার প্রাচীর, কারারক্ষীর কোনো উপায় নাই,

যে দরিয়ায় উঠেছে জোয়ার, খড়কুটায় তা বাধিবে না বাধ।

এগিয়ে চল, কাটতে থাকো সামনে যত বাহু ও শির,

চলতে থাক তোমরা সবে লক্ষ্যবস্তু তোমার সামনে স্থির।”

হে কুদস! তোমার মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে তোমার রক্ষীরা কাশগড় থেকে নীল নদ পর্যন্ত লড়াই করছে। অচিরেই তোমার এই জানবাজ রক্ষীরা তোমার শহরের মসজিদে, যেই মসজিদে আল্লাহর প্রিয় হাবীব দোজাহানের সরদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালামের ইমামতি করেছিলেন, সেই মসজিদে আকসার প্রাঙ্গনে জড়ো হবে। ইনশাআল্লাহ!

اللهم وفقنا لما تحب وترضى وجذ من دمائنا حتى ترضى. اللهم زدنا ولا تنقصنا وأكرمنا ولا تهنا وأعطنا ولا تحرمنا وآثرنا ولا تؤثر علينا وأرضنا وارض عنا. اللهم إنا نسئلك الثبات في الأمر ونسئلك عزيمة الرشد ونسئلك شكر نعمتك وحسن عبادتك. اللهم انصر من نصر دين محمد صلى الله عليه وسلم واجعلنا منهم واخذل من خذل دين محمد صلى الله عليه وسلم ولا تجعلنا منهم، آمين يا رب العالمين!

“হে আল্লাহ, আপনি আমাদের এমন কাজে তাওফীক দান করুন, যা আপনাকে সন্তুষ্ট করবে। এবং আপনার সন্তুষ্টির পথে আমাদের রক্তগুলোকে কবুল করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য নেয়ামতকে বাড়িয়ে দিন, কমিয়ে দিবেন না। আমাদের সম্মানিত করুন, লাঞ্ছিত করবেন না। আমাদেরকে দান করুন, বঞ্চিত করবেন না। আমাদেরকে বিজয় দান করুন, আমাদের উপর কাউকে কর্তৃত্ব দিবেন না। আমাদেরকে সন্তুষ্ট করুন, আমাদের উপর আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যান। হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে সকল ক্ষেত্রে দৃঢ়তা এবং সঠিক পথের অবিচলতা কামনা করি। আর আমরা আপনার কাছে তাওফীক চাই- নেয়ামতের শোকর আদায়ের, উত্তম ইবাদাতের। হে আল্লাহ, আপনি সাহায্য করুন, যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীনকে সাহায্য করবে; আর আমাদেরও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি লাঞ্ছিত করুন, যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীনকে লাঞ্ছিত করবে; আপনি আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।” আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

[যোহরের পূর্বে, পহেলা রবিউল আখির ১৪৪৫ হিজরী মোতাবেক ১৬ ই অক্টোবর ২০২৩ ঈসায়ী]

[1] শহীদ শাইখ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রহিমাহুল্লাহ-এর ঈমান আনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয আইন’ নামক কিতাবটি দ্রষ্টব্য।

[2] US Foreign Aid Israel (https://fas.org/sgp/crs/mideast/RL33222.pdf)

[3] The New Arad

[4] কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর আরবের মরুভূমিতে একটি তাঁবুতে ইবনে সালমানের সঙ্গে দেখা করেন। কথিত আছে যে, আরবরা যখন বিশেষভাবে কারও সাথে দেখা করতে চায়, তখন তাকে মরুভূমির তাঁবুতে দাওয়াত দেয়। আরব সাংবাদিক সামী হামদীর ভাষ্য মতে, (লেখকের শব্দে)  “ইবনে যায়েদ যেভাবে ইসরাঈলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করণের প্রক্রিয়ার সময় বাহরাইন ও সুদানের শাসকদেরকে ইসরাঈলের সেবায় নিয়ে গিয়েছিল, বিন সালমানও পাকিস্তানের শাসকদেরকে (সেনাবাহিনীরাই মূলত পাকিস্তানের শাসক) ইসরাঈলের চারণভূমিতে নিয়ে যাবে এবং মরুভূমির তাবুতে ইবনে সালমান ও আসিম মুনীরের এই বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।

আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিনের মুজাহিদদেরকে উত্তম বিনিময় দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে পুরস্কৃত করুন, তাদেরকে রক্ষা করুন এবং তাদেরকে বিজয় ও সফলতার সাথে আলিঙ্গাবদ্ধ করুন। কারণ, তারাই ইবনে সালমানের ইসরাঈলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের রাজনীতিকে মূলোৎপাটন করেছেন।

 

 

ڈون لوڈ كرين
সরাসরি পড়ুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Reading and Downloading
https://justpaste.it/restore_Al-Aqsa
https://mediagram.me/ff77bce92ba40d59
https://noteshare.id/sNQN8Lj
https://web.archive.org/web/20231106190133/https://justpaste.it/restore_Al-Aqsa
https://web.archive.org/web/20231106190010/https://mediagram.me/ff77bce92ba40d59
https://web.archive.org/web/20231106190243/https://noteshare.id/sNQN8Lj

 

پی ڈی ایف
PDF [627 KB]
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬২৭ কিলোবাইট]
https://archive.org/download/palestine-al-hikmah_release/Filistin%20-%20Al-hikmah.pdf

https://mega.nz/file/SZxDUAiI#N85KGHk3ST35h5dWQFhVjCGNSJZO9aBvDVsU0SFlqx8

https://www.mediafire.com/file/dsm4540ru1mg0ep/Filistin_-_Al-hikmah.pdf/file

https://files.fm/f/rjxgd3nau5

 

ورڈ
Word [3.1 MB]
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন [৩.১ মেগাবাইট]
https://archive.org/download/palestine-al-hikmah_release/filistin%20-%20NGH.docx

https://mega.nz/file/ychV3YIY#ZjEptSLZtwZaiOpgyBGE7U1qT-740fa3i1UZ2YYor7A

https://www.mediafire.com/file/58m1v0psvv7nrog/filistin_-_NGH.docx/file

https://files.fm/f/xyv3z2n5un

 

بنر- ١
book cover [304 KB]
বুক কভার ডাউনলোড করুন [৩০৪ কিলোবাইট]
https://mega.nz/file/GV4DDJgL#Cdis1Ao92-GjWl3ZaJ2Zisi_powmh-sOogAvn32eG-E

https://justpaste.it/img/425d1e6c7c120e68dd2101eb39f6dac1.jpg

https://www.mediafire.com/view/sq7h3st27qhz2x5/Aqsa-Faraz_Book_cover.jpg/file

https://files.fm/f/ny85q76gvk

 

بنر- ٢
Banner [70 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [৭০ কিলোবাইট]
https://mega.nz/file/3AIQ1KRI#ZqgLA6uemZJsX3bwEI_XSLr-nCfNj06KH5T1MSu4_qs

https://www.mediafire.com/view/tntk2ub0np3p6qk/Al-Aqsa-Ponoroddar_Web_Banner.jpg/file

https://justpaste.it/img/edf8ca0373dab63a78709034e8fd5058.jpg

https://files.fm/f/vv6mm27zbh

اپنی دعاؤں میں ہمیں یاد رکھيں
اداره الحکمہ براۓ نشر و اشاعت
القاعدہ برِّ صغیر
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

২ comments

  1. ৯/১১ এর বরকতময় হামলা ছিল প্রথম যুগান্তকারী হামলা যা একবিংশ শতাব্দীর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। একজন আমেরিকান রাজনৈতিক বলিছিলেন পৃথিবীতে গনতন্ত্র এবং আমেরিকান হিজিমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফলে ইতিহাস শেষ হয়েছে।এখন থেকে আর ইতিহাস লেখা হবে না। কিন্তু আলকায়েদা ৯/১১ এর মাধ্যমে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। মূলত আলকায়েদাই এক ইতিহাস যা পরবর্তী শতাব্দীতে পৃথিবীর সেরা আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন হিসেবে ইতিহাসের পাঠ্যসূচীতে স্থান পাবে যেমনটা উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থানের পিছনে সাদা দাড়িওয়ালা সংগঠন পেয়েছে যা পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
    ৯/১১ এর বরকতময় আক্রমণ পৃথিবীর বুকে নতুন করে জিহাদের দামামা বাজিয়েছিল। তাওহীদ ও কুফরের সংঘাত যে চিরায়ত এবং প্রকৃত তাওহীদের অনুসারীদের যে দমিয়ে রাখা যাবে না তা প্রমাণ করেছিল ।ফলে উম্মাহর যুবকেরা জিহাদের তামান্না নিয়ে বেড়ে উঠছে।
    হামাসের আক্রমণ উম্মাহর সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছে তাওহিদ ও কুফর এর মধ্যে চলমান এই সংঘাতে মুসলিমদের কর্মপন্থা এবং আলকায়েদা এর মানহাজ।
    ইনশাআল্লাহ বিজয় অতি নিকটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fourteen + twenty =

x

Check Also

Bengali Translation || আন নাফির বুলেটিন – ৩৭ || রবিউল আখির ১৪৪৫ হিজরী || মুনাফিকদের দৌঁড়ঝাঁপ

مؤسسة النصر আন নাসর মিডিয়া An Nasr Media تـُــقدم পরিবেশিত Presents الترجمة البنغالية বাংলা অনুবাদ ...