সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ-এর পুস্তিকা “জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা” -এর উপর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা (পর্ব-২) – শাইখ কাসিম আর-রীমি রহিমাহুল্লাহ

শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ-এর পুস্তিকা “জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা” -এর উপর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা (পর্ব-২) – শাইখ কাসিম আর-রীমি রহিমাহুল্লাহ

مؤسسة الحكمة
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al-Hikmah Mediaتـُــقدم
পরিবেশিত
Presentsالترجمة البنغالية
বাংলা ডাবিং
Bengali Translationبعنوان:
শিরোনাম:
Titled

تعليق على رسالة (توجيهات عامة للعمل الجهادي) (2) للشيخ قاسم الريمي (رحمه الله
শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ-এর পুস্তিকা
“জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা”
-এর উপর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা
(পর্ব-২)
শাইখ কাসিম আর-রীমি রহিমাহুল্লাহ
Commentary on The Message ‘General Guideline for Jihadi Action by Sheikh Ayman al-Zawahiri’ (May Allah protect him) (2)
by Sheikh Qassem Al-Rimi (May Allah have mercy on him)


للمشاهدة المباشرة والتحميل
সরাসরি দেখুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Viewing and Downloading

https://justpaste.it/jihader_diknirdesonar_bekkha-2
https://mediagram.me/314280b15e19aa6d
https://noteshare.id/sDe7yGb
https://web.archive.org/web/20220110…sonar_bekkha-2
https://web.archive.org/web/20220110…4280b15e19aa6d
https://web.archive.org/web/20220110…are.id/sDe7yGb

روابط الجودة الاصلية
FULL HD 1080 (330 MB)
মূল রেজুলেশন [৩৩০ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/RHRg7zz7LnzJ8Q4
https://archive.org/download/nirdesh…rdeshona-2.mp4

روابط الجودة الاصلية
HQ 1080 (179.4MB)
মূল রেজুলেশন [১৭৯.৪ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/kHjiAKySe5axpcF
https://archive.org/download/nirdesh…ona-2-1080.mp4

روابط الجودة المتوسطة
MQ 720 (73.9MB)
৭২০ রেজুলেশন [৭৩.৯ মেগাবাইট।

https://banglafiles.net/index.php/s/2b4m4Yw8pRtnJAo
https://archive.org/download/nirdesh…hona-2-720.mp4

روابط الجودة المنخفضة
LQ 360 (33.2MB)
৩৬০ রেজুলেশন [৩৩.২মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/y72KL4if42pw2k5
https://archive.org/download/nirdesh…hona-2-360.mp4

روابط جودة الجوال
Mobile Qoality (22MB)
3GP রেজুলেশন [২২ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/arsGfXEzApQYkkd
https://archive.org/download/nirdesh…rdeshona-2.3gp

روابط بي دي اب
PDF (382 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৩৮২ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/WxPzLXmZ8TkEpXZ

روابط ورد
Word (349 KB)
ওয়ার্ড [৩৪৯ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/Jdfa6bbmwWPSHTf

روابط الغلاف- ١
book Banner [971KB]

বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৯৭১ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/bnez3Nq8oLy4AkQ
https://archive.org/download/nirdeshona-2/Prossed.jpg

روابط الغلاف- ٢
Banner [711 KB]

ব্যানার ডাউনলোড করুন [৭১১ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/HHX573EHJfYHXAE
https://archive.org/download/nirdeshona-2/Banner.jpg

https://files.fm/f/25hphz4wu

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الحكمة للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

 

 

শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ-এর পুস্তিকা

জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা

এর উপর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা

(পর্ব-২)

 

মূল

শাইখ কাসিম আর-রীমি রহিমাহুল্লাহ

অনুবাদ ও প্রকাশনা

 

মূল প্রকাশনা সম্পর্কিত কিছু তথ্য

মূল নাম:

تعليق على رسالة (توجيهات عامة للعمل الجهادي) (2) للشيخ قاسم الريمي (رحمه الله).  –

ভিডিও দৈর্ঘ্য: ১২:০১ মিনিট

প্রকাশের তারিখ: জিলহজ্ব ১৪৪২ হিজরি

প্রকাশক: আল মালাহিম মিডিয়া

 

 

 

 

 

 

তিনি (শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন:

“তৃতীয়ত: দাওয়াত ও সামরিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসমূহ। আর তা নিচে দেওয়া হলো…

উপরোক্ত ভূমিকার উপর ভিত্তি করে আমরা সিয়াসাতুশ শরীআতের (ইসলামী রাজনীতি) আলোকে নিম্নোক্ত দিকনির্দেশনাসমূহ পেশ করছি, যার উদ্দেশ্য স্বার্থ (মাসলাহাত) সংরক্ষণ এবং ক্ষতি (মাফসাদাহ) এড়ানো”।

(দাওয়াতের ক্ষেত্রে)

“১। সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে মনযোগ দিন যাতে তাদের সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ করে তোলা যায়। একইভাবে মুজাহিদ বাহিনীর মধ্যে আরো অধিক মাত্রার সচেতনতা ও বোধশক্তির উন্নয়নে অধিক মনোযোগ দিন যেন একটি সুসজ্জিত, সংঘবদ্ধ, আদর্শিক এবং সচেতন মুজাহিদ বাহিনী গঠন করা যায় যারা ইসলামী আকাঈদে দৃঢ় বিশ্বাসী, এর বিধানের প্রতি অটল এবং মুমিনদের প্রতি কোমল ও কাফেরদের প্রতি কঠোর। সেই সাথে যারা আলেম এবং বাগ্মীতার অধিকারী তারা যাতে মুজাহিদদের বিভিন্ন শ্রেণী থেকে সামনের কাতারে চলে আসেন তা সুনিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালাতে হবে যাতে আমাদের বার্তা ও আদর্শ সুরক্ষিত হয় এবং মুসলমানদের মধ্যে জিহাদী দাওয়াতের প্রচার–প্রসার হয়”।

এটি আমার আপনার এমনিভাবে জামা‘আতের প্রতিটি সদস্য ভাইয়েরই কর্তব্য। অর্থাৎ একজন সদস্যের দায়িত্ব যে পর্যায়ের ই হোক না কেন, ছোট হোক বড় হোক, চাই তিনি যে কোন পরিষদের, যেকোনো অঞ্চলের অথবা যেকোনো বিষয়ে দায়িত্বশীল হন না কেন, তারই এটি দায়িত্ব। কী সেই দায়িত্ব? ভাইদের জ্ঞান ও আদর্শবোধ উন্নয়নে তাদেরকে সাহায্য করা। পরিশেষে আমরা এভাবে বলাটাই সমীচীন মনে করছি যে, জিহাদী জামা‘আতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে এই ব্যক্তি; যিনি নিজের অন্তরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পোষণ করেন। আপনি খুঁজে দেখুন, এই লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র কারণেই ওই ব্যক্তি এ পথে অটল অবিচল থাকছে। এ পথে তার টিকে থাকার মূল অনুপ্রেরণা এই কালেমা।

এখন যদি তার মাঝে আপনি সচেতনতা বৃদ্ধির কিছু কাজ করেন, যদি সে ব্যক্তি নিজ অন্তরে পুষে রাখা কালেমার মত দুর্মূল্য সম্পদের পাশাপাশি বাগ্মিতার অধিকারী হন, তার মাঝে যদি আরো বিভিন্ন সৃজনশীলতা থাকে, তবে তো তিনি উপচে পড়া এক মধুর পেয়ালা। এ ব্যক্তি এমনই সুবাসময় ফুল, বহু মানুষ হতে পারে যার সুবাসে মোহিত। তো এক্ষেত্রে এই মানুষগুলোকে বের করে এনে জামা‘আতের সামনের কাতারে নিয়ে আসার জন্য আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সজাগ দৃষ্টি রাখা। ভাইদের ব্যাপারে সচেতন থাকা। আমীরের দায়িত্বাবলী প্রসঙ্গে এ নিয়ে আরো আলোচনা আসবে, ইনশা আল্লাহ।

যাই হোক, খোলাসা কথা হল, জনসাধারণ এবং মুজাহিদ বাহিনীর মাঝে আরও অধিক সচেতনতা ও বোধশক্তি বৃদ্ধিতে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।

(সামরিক ক্ষেত্রে)

“২। সামরিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কুফরের কেন্দ্রকে (আমেরিকা) অব্যাহতভাবে দুর্বল করতে মনযোগ নিবদ্ধ রাখতে হবে যে যাবৎ না তা সামরিক এবং অর্থনৈতিক উভয় খাতে দেউলিয়া হয়ে যায়, এর জনশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তা পশ্চাদপসরণ ও একাকীত্বের পর্যায়ে পৌঁছে নিজের মাঝে গুটিয়ে যায় (যা আল্লাহর ইচ্ছায় খুবই নিকটে)”।

আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন, শাইখ বাস্তবিকপক্ষে আমাদের সত্যিকারের দায়িত্ব হিসেবে কোনটি চিহ্নিত ও নির্দেশ করেছেন। আমাদের ভাইয়েরা কি সরাসরি আমেরিকার পতনের জন্য কাজ চালাবে..? আমাদের ভাইয়েরা কি সরাসরি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সামনে এগোনোর সামর্থ্য রাখেন? তিনি কি আমাদেরকে এটাই করতে বলেছেন? না।

তাহলে তিনি আমাদেরকে কিসের নির্দেশনা দিচ্ছেন? তা হল— আমরা আঞ্চলিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবো এবং নিজেদেরকে তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচাবো। এভাবেই ধীরে ধীরে প্রাণশক্তি ক্ষরণ হতে হতে এই বিরাট দানব একসময় নিজের মাঝে গুটিয়ে যাবে আর আমরা তার অনিষ্ট থেকে বেঁচে যাব। আমাদের এই লক্ষ্যমাত্রা সুস্পষ্ট।

এ পর্যায়ে যদি এই কুফরি শক্তি নিজের মাঝে গুটিয়ে যায় তবে সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় বিজয়। এই কুফুরি শক্তি যদি মুসলমানদের ওপর হামলা বন্ধ করে দেয়, মুসলমানদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা ছেড়ে দেয়, তবেই সেটা বিরাট বিজয়। এ অবস্থায় আমাদের এটার প্রয়োজন নেই যে আমরা কুফুরি এ শক্তির ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে দেবো। লক্ষ্য করুন ডক্টর সাহেব এটাই বলেছেন। তিনি এ লক্ষ্যের ওপরেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন।

তিনি (শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ) বলছেন:

“সামরিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কুফরের কেন্দ্রকে (আমেরিকা) অব্যাহতভাবে দুর্বল করতে মনযোগ নিবদ্ধ রাখতে হবে যে যাবৎ না তা সামরিক এবং অর্থনৈতিক উভয় খাতে দেউলিয়া হয়ে যায়, এর জনশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তা পশ্চাদপসরণ ও একাকীত্বের পর্যায়ে পৌঁছে নিজেকে নিজ খোলসে ফিরিয়ে নেয় (যা আল্লাহর ইচ্ছায় খুবই নিকটে)”।

অর্থাৎ তারা যদি আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়, তাহলে যথেষ্ট। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় বিজয় রূপে গণ্য হবে। এই মহাযুদ্ধের পথে আমাদেরকে বড় যে দু’টি ধাপ পার হতে হবে, আমেরিকা নিজের মাঠে ব্যস্ত হয়ে যাবার পর আমরা তন্মধ্যে প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে পেরেছি বলে ধরা হবে; তখন আমাদের সামনে থাকবে দ্বিতীয় ধাপ। বর্তমান অবস্থার সঙ্গে সে অবস্থাকে মিলালে দেখা যাবে, আমরা একটা ভারসাম্যে চলে এসেছি।

মজলিসে অংশগ্রহনকারী জনৈক ব্যক্তি:  সে সময়ে আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব, কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না।

জি হ্যাঁ, ইনশা আল্লাহ, আল্লাহর তাওফিকে এমনই হবে। একটা সময় ছিল তখন আমাদের কিছুই ছিল না। ছিল না আমাদের পোশাক, আমরা ছিলাম নগ্ন পা। এই অর্থে ছিলাম বিবস্ত্র আর ওই অর্থে ছিলাম নগ্ন পা। সেখান থেকে আমরা মুসলিমরা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম বিজয়ী রূপে দাপিয়ে বেড়িয়েছি। মুসলমানদের এই বিজয় যাত্রা শৌর্যবীর্য ও অস্ত্রশস্ত্রের জোরে ছিল না। এই সাফল্য সম্ভাবিত হয়েছিল তাদের ধারণকৃত আল্লাহর দ্বীনের কারণে। অস্ত্রশস্ত্র সামরিক সরঞ্জাম ইত্যাদি তাদের কাছে ছিল খুবই অপ্রতুল। তারা যখন হাতি দেখেছে তখন আশ্চর্যান্বিত হয়ে গিয়েছে যে, এটা আবার কোন প্রাণী? ট্যাংক আর বিমানের কথা তো বহুদূর। জাগতিকভাবে এমন পতিত অবস্থায় থেকেও তারা বিশ্ব জয় করেছিলেন।

তাই তো জনৈক ঐতিহাসিক লিখেছেন, মুসলিমরা ৮০ বছরে যেখানে পৌঁছেছে, রোমকরা ৮ শত বছরেও তাদের সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়ে ততদূর পৌঁছতে সক্ষম হতো না। সবই আল্লাহর কৃপায় এবং তাঁর অনুগ্রহে হয়েছে। সামনের সময়টাতে আবারো তেমনি হবে। আল্লাহর তাওফিকে সাহায্য অতি নিকটে। আমরা আশা করতেই পারি।

যাই হোক।

“সকল মুজাহিদ ভাইয়েরা অবশ্যই বিশ্বের যেকোন অংশে পশ্চিমা জায়নবাদী ক্রুসেডার জোটের স্বার্থে আঘাত করাকেই অগ্রগণ্য দায়িত্বরূপে গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে তাদেরকে অবশ্যই তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিতে হবে। (আমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।)

অনুরূপভাবে, মুসলিম বন্দীদের মুক্তকরণে আমাদের ভাইদের অবশ্যই যেকোন উপায়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে, যার অন্তর্ভুক্ত হবে যেখানে তাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে তা ঘেরাও করা, অথবা মুসলিম দেশসমূহকে আক্রমণে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের নাগরিকদের জিম্মী করা, যাতে তাদের বিনিময়ে আমাদের বন্দীদের মুক্ত করে আনা যায়। (আমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।)

এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত যে, কাফেরদের প্রধান, আমেরিকাকে আক্রমণ করার এই নীতি মুসলমানদেরকে যারা অত্যাচার করছে; তাদের বিরুদ্ধে কথা কিংবা অস্ত্রের জিহাদের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। সুতরাং, ককেশাসে আমাদের মুসলমান ভাইদের অধিকার এটা যে, তারা আগ্রাসী রাশিয়া এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন।

এটা আমাদের কাশ্মীরের মুসলমান ভাইদের অধিকার যে, তারা সেখানকার অপরাধী হিন্দুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন।

এটা আমাদের পূর্ব তূর্কিস্তানের ভাইদেরও সমান অধিকার যে, তারা চীনা সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন।

একইভাবে ফিলিপাইন, বার্মা এবং এমন প্রতিটি ভূমি যেখানে মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, সেখানে তারা সেখানকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করবেন”।

আমরা এ কথা বলছি না আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধরত আমাদের এই ভাইদেরকে আমরা পরিত্যাগ করব। কিন্তু সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে লড়াইয়ের জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তো আমাদের এই নির্দেশনা মতে কিন্তু ইয়েমেনের বাহিনী যেহেতু আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত, তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমার কথা বুঝতে পেরেছেন? তো তাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করব, কিন্তু সেই সঙ্গে মূল শত্রুদের প্রতিও আমাদের তীর নিবদ্ধ থাকবে।

আর যে অঞ্চলের লোকেরা বৈশ্বিক কুফুরি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুযোগ পাবে না, তারা সেই আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।

“৩। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সশস্ত্র সংঘাত এড়িয়ে যাবেন যদি না আপনারা তা করতে বাধ্য হন, উদাহরণস্বরূপ, যদি স্থানীয় প্রশাসন আমেরিকার বাহিনীর একটা অংশ হিসেবে কাজ করে, যেমন আফগানিস্তানে হচ্ছে; অথবা যদি স্থানীয় প্রশাসন আমেরিকার পক্ষ থেকে মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, যেমন সোমালিয়া ও জাযিরাতুল আরবে হচ্ছে; অথবা যদি কোন স্থানে স্থানীয় প্রশাসন মুজাহিদদের উপস্থিতি মোটেও সহ্য না করে, যেমন ইসলামী মাগরিব, সিরিয়া এবং ইরাকে দেখা যাচ্ছে।

যাই হোক, এই ধরনের প্রশাসনের সাথে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়া যখনই সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

যদি আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাধ্য করা হয় তাহলে আমাদেরকে এটা অবশ্যই পরিষ্কার করে দিতে হবে যে, এদের সাথে আমাদের এই সংঘাত ক্রুসেডারদের দ্বারা মুসলমানদেরকে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলারই একটা অংশ মাত্র।

অধিকন্তু, যখনই স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সংঘাতের বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকবে তখনই তা করে ফেলা, যেন দাওয়াত ছড়িয়ে দেয়া, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির আদান প্রদান করা, ঈমানদারদেরকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা ও জিহাদে শরীক করা, ফান্ড (জিহাদের জন্য অর্থ) সংগ্রহ করা এবং সমর্থক বাড়ানোর সুযোগ জারি থাকে। আমাদেরকে অবশ্যই এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা উচিত। কারণ আমাদের জিহাদ অনেক দীর্ঘ এবং এই জিহাদের জন্য নিরাপদ ঘাঁটি এবং লোকবল, অর্থ ও অভিজ্ঞদের সার্বক্ষনিক সমর্থন দরকার রয়েছে”।

আমি একটা উদাহরণ দিই। একটা সময় ছিল যখন ইয়েমেন এবং পাকিস্তান ছিল এমন দুটো অঞ্চল, যা মুসাফিরদের মঞ্জিল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কেউই সেখানে থিতু হয়ে থাকত না। ভাইয়েরা তাহলে কোথায় যেতেন? কখনো তারা পাসপোর্ট দেখিয়ে কখনো বা আঘাতের মাধ্যমে আফগানিস্তানে প্রবেশের জন্য তারা ঠিকই পথ খুঁজে নিতেন। সেখানে তারা সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে ৯/১১ সহ অন্যান্য অপারেশন পরিচালনা করেছেন। চিত্রটি দেখুন পরিষ্কার কি-না! তারা একটি কাজ কখন করেছেন, কিভাবে করেছেন? যখন পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছে।

আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি। এখন যদি আমাদের সামনে এমন ক’টি অঞ্চল থাকে, যেখানে আমরা আন্দোলন পরিচালনা করতে চাই, তবে কি আমরা ইডেন ও সানআয় আক্রমণের সামর্থ্য রাখি? না, সে সামর্থ্য আমাদের নেই। কিন্তু এ ভূমিকে কাজে লাগানোর সুযোগ আপনার রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার শত্রুকে পরাজিত করার জন্য কি কারণে অঞ্চলবাসীর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়াবেন? বরং আপনি তো পারেন আপনার জন্য নিরাপদ অঞ্চল বেছে নিতে, যেখান থেকে অগ্রসর হয়ে আপনি মূল শত্রুকে আক্রমণ করবেন।

এ কারণেই ডক্টর সাহেব বলেছেনঃ আঞ্চলিক শাসক ও সরকারগুলো যদিও মুরতাদ হয়, তবু যদি আপনার পক্ষে তাদের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়, তবে আপনার সেটাই করা উচিত। যাতে আপনি নিজেকে আরও অধিক প্রস্তুত করতে পারেন। হ্যাঁ, আমি আপনাকে শান্ত থাকতে বলছি। তবে আমার বলার উদ্দেশ্য লড়াই ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং আপনিতো লড়াইয়ের ভেতরেই আছেন।

“হ্যাঁ, তবে যে সকল স্থানীয় প্রশাসন ক্রুসেডারদের হত্যাযজ্ঞের সাথী, আমাদের এই (উপরোক্ত) মূলনীতি তাদেরকে পরিষ্কারভাবে এই বার্তা পৌঁছিয়ে দেয়ার সাথে সাংঘর্ষিক হবে না যে, আমরা কোন সহজ শিকার নই এবং তাদের প্রতিটি কার্যকলাপের এক যথাযথ প্রতিউত্তর অবশ্যই দেয়া হবে ,ইনশা আল্লাহ; যদিও তা আসতে কিছুটা কালক্ষেপণ হতে পারে। এই নীতি সব ফ্রন্টে (মুসলমানদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে) বাস্তবায়ন করা উচিত, সেখানকার পরিস্থিতির সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ সে অনুযায়ী”।

(বিভ্রান্ত দল এর ক্ষেত্রে)

“৪। বিভ্রান্ত দল যেমন: রাফেজী শিয়া, ইসমাঈলী, কাদিয়ানী এবং বিদআতী সুফীদের সাথে সংঘর্ষ এড়িয়ে যান, যদিও তারা সাধারণত আহলে সুন্নাতের সাথে সংঘাতে লিপ্ত থাকে”।

অর্থাৎ যেখানে আমাদের আশা থাকবে জরুরি অবস্থার কারণে তাগুত গোষ্ঠীর সঙ্গেও যেন সংঘর্ষ এড়িয়ে চলা যায়, সেখানে বিভ্রান্ত দলগুলোর সঙ্গে কিভাবে আমরা আগ বাড়িয়ে সংঘর্ষে যেতে পারি?! তবে যদি তারা আগে আমাদের উপর আক্রমণ করে, তবে আমরা তা প্রতিরোধ করব। ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়েছে?

বিভ্রান্ত দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বৈধতা আমরা অস্বীকার করছি না। আমরা তো বরং ছোট তাগুতকে ছাড় দিচ্ছি বড় তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে। আমরা গাতফান গোত্রকে এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে এড়িয়ে চলছি কুরাইশ গোত্রের দিকে তাকিয়ে।

ঠিক একই পন্থা আমরা অনুসরণ করতে চাচ্ছি এ সমস্ত বিভ্রান্ত দলের বেলায় আরও অধিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে। এরা যদি আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে আমরা নীরবই থাকবো। আর যদি লড়াই করে, তখন আমরা আবার বসে থাকবো না। ব্যস এতটুকুই তো।

“যদি তারা আহলে সুন্নাতের সাথে লড়াই করতে থাকে তবে প্রতিঘাত শুধু ঐসব দলের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে যারা সরাসরি আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। একই সাথে আমাদের অবশ্যই পরিষ্কার করে দিতে হবে যে, আমরা শুধু আমাদের প্রতিরক্ষা করছি। যারা এবং যাদের পরিবার আমাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেয়নি তাদেরকে তাদের বাড়িঘর, ইবাদতখানা, তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় সমাবেশে লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত হবে না”।

যেখানে ইহুদী-খ্রিস্টানদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় স্থাপনা আমরা আমাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছি না, সেখানে বিভ্রান্ত এ দলগুলোর বিভিন্ন ধর্মীয়-বেদাতি আচার-অনুষ্ঠানকে কিভাবে আমরা লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারি? যখন কিনা অধিকাংশ মানুষের কাছে তারা মুসলিম হিসেবে পরিচিত। এ কেমন করে হতে পারে যে আপনি তাদের সঙ্গে কঠোরতা করলেন আর ইহুদী-খ্রিস্টানদের বেসামরিক লোকদেরকে ছেড়ে দিলেন?

যদিও তাদের মিথ্যা এবং তাদের বাতিল আমল ও আকীদার ভ্রান্তি অনবরত উন্মোচন করা থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য উচিত হবে না।

আর যেসব অঞ্চল মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে সেসব জায়গায় এসব দলগুলোকে প্রজ্ঞার সাথে পরিচালনা করতে হবে। এই দলগুলোকে প্রথমে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে, তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, তাদের সন্দেহের অবসান করতে হবে এবং এমনভাবে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করতে হবে যাতে তার চেয়ে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি না হয়, যেমন: ঐসব এলাকা থেকে মুজাহিদদের বের করে দেয়া, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনতার বিদ্রোহ, অথবা অশান্তির সৃষ্টি যার সুযোগ শত্রুপক্ষ নেয়ার চেষ্টা করবে”।

কিন্তু এখানে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা শাইখ বলেছেন তা হল, দাওয়াত ও হেকমতের পন্থা অবলম্বন। তাদের মাঝে সংস্কার সাধনের এই উদ্যোগ কখনোই যেন সংঘর্ষ পর্যন্ত না গড়ায়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঙ্গে মতবিরোধগুলো বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; যেগুলোর খুঁটিনাটি বিধান বিচিত্র। এই যেমন গম্বুজের কথাই ধরা যাক। গম্বুজ নির্মাণ কাজটা একটা বিদআত। এটা সরাসরি শিরক নয়। কিন্তু তাকে ঘিরে তাওয়াফ করা শিরক।

এখন আমরা সর্বস্থানে এই তাওয়াফ নিষিদ্ধ করতে পারি এবং সেটা করতেই হবে। এখন চাই সেটা ইয়েমেনে হোক কিংবা অন্য কোথাও হোক। কিন্তু তাওয়াফ নিষিদ্ধ করতে গিয়ে আমরা গম্বুজগুলো পর্যন্ত ধ্বংস করে দেব? না, বরং আপাতপক্ষে গম্বুজগুলো ছেড়ে দিতে হবে। তবে কখনো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোন গম্বুজের মাধ্যমে শিরকী ফেতনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা যদি থাকে, তবে অবশ্যই গম্বুজ ধ্বংস করে দেয়াটাই হবে মূল কাজ।

(মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসরত কাফেরদের ব্যাপারে)

“৫। খ্রিষ্টান, শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের যেসকল সদস্য মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাস করছে তাদের সাথে ঝগড়া না করা”।

এটাই হচ্ছে মূল কাজ। শরিয়াহ রাজনীতির সাধারণ চাহিদা এটাই। আমরা তো কখনো কখনো কাফের রাষ্ট্রকে পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকি, সেখানে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপারে কেমন করে আমরা ছাড় না দিয়ে থাকতে পারি? আমরা আমেরিকাকে প্রাধান্য দিই না? অন্য সব রাষ্ট্রের উপর? ফ্রান্সের ওপর। অথচ নিজ অবস্থানে ফ্রান্স ব্রিটেন আমেরিকা সবকটাই কাফের বিশ্বের মোড়ল। এমনিভাবে আমাদের টার্গেটে ইহুদীরা রয়েছে। এখন আপনি কিন্তু এই ইহুদীদের দিকে তাকিয়ে উদাহরণতঃ স্পেনকে ছেড়ে দিচ্ছেন। তাহলে আপনি বলুন! সে দেশের বেসামরিক জনসাধারণের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কি হতে পারে?

শাইখ বলেছেন:

“খ্রিষ্টান, শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের যেসকল সদস্য মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাস করছে তাদের সাথে ঝগড়া না করা”।

স্বভাবতই এদের দ্বারা আমরা তাদের কথাই বোঝাচ্ছি, যারা মুসলিম দেশের বেসামরিক নাগরিক‌।

এরপরে শাইখ বলছেন:

“তবে যদি তারা সীমালঙ্ঘন করে, তবে সেটার যথাযথ ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট। এই প্রতিক্রিয়া একটি বিবৃতিসহ আসতে পারে যে, আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করতে চাই না, যেহেতু আমরা কুফরের প্রধান আমেরিকার সাথে যুদ্ধরত আছি এবং নিকট ভবিষ্যতে আল্লাহর ইচ্ছায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের পরে আমরা তাদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই”।

আর বাস্তবেও তো ইসলামী শরীয়তের ছায়াতলে তারা যতটা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, তারা নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহায় সম্পত্তির ব্যাপারে যতটা নিরাপত্তা লাভ করবে, অন্য কোথাও কখনই তারা সেটা পাবে না।

এমনকি সিরিয়ার খ্রিস্টানেরা কেঁদেছিল যখন মুসলমানরা সিরিয়া থেকে বের হয়ে গিয়েছে। তারা আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছে যাতে মুসলমানরা ফিরে আসে। অতঃপর যখন মুসলিমরা ফিরে এসেছিল, তখন তারা গীত গেয়ে তাদেরকে সংবর্ধনা জানিয়েছিল। আবার যখন মুসলিমরা চলে গিয়েছিল, তখন তারা কেঁদেছিল। ইতিহাস এই সবকিছুর সাক্ষী। খ্রিস্টানরা মুসলমানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত এবং বলতো, তোমরা এসে আমাদের লোকদের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করো।

হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহিমাহুল্লাহ যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন ইহুদীরা তাঁর শোকে কেঁদেছিল। খ্রিস্টানদের ভয়ে নয়, বরং স্বজাতি ইহুদীদের ভয়েই তারা কেঁদেছিল। তারা বলেছিল: আজ ইনসাফ ও ন্যায়-নিষ্ঠার মৃত্যু ঘটে গেছে। একজন ইহুদী রাখাল হঠাৎ দেখল একটি শিয়াল অথবা বাঘ এসে ভেড়ার ওপর হামলা করেছে, তখন সে বলল, ‘আল্লাহর কসম! আজ উমর মৃত্যুবরণ করেছেন’।

বলা হয়, শাসক যদি ন্যায়পরায়ণ হয়, তাহলে তার প্রজারাও তেমনি ন্যায়পরায়ণ হয়। হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহিমাহুল্লাহ প্রকৃত অর্থেই ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। সকলেই তাঁর ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য দেবে। শুধু তাই নয় বরং ক্রুসেডারদের অনেক বড় ব্যক্তি তাঁর জন্য কেঁদেছিল। বলেছিল, ‘এমন একজনের জন্য কিভাবে আমি না কেঁদে থাকতে পারি?’ সে বলেছিল, ‘আজ ইনসাফ বিদায় হয়ে গিয়েছে’।

যাই হোক আমরা বলছিলাম, অমুসলিমরা ইনসাফ ও ন্যায়-নীতির ক্ষেত্রে মুসলমানদের চেয়ে অগ্রসর শাসকগোষ্ঠী কোথাও পাবে না। আমাদের ইচ্ছা হচ্ছে, আমরা লড়াইয়ের স্থানে লড়াই করব। দাওয়াতের স্থানে দাওয়াত প্রদান করব। শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্থানে ইসলামী শরীয়তের ছায়াতলে সকলকে নিয়ে বসবাস করবো। বিচারকের মজলিসে হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু সকলের সঙ্গে এখানে বসে আছেন, আর ইহুদীও তো বিচারকের সামনে রয়েছে। আদালতের কাঠগড়ায় উভয়কেই স্ব-নামে ডাকা হচ্ছে। অমুসলিমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও এমন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাবে না।

হে আকসা! আমরা আসছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Important | অচিরেই আসছে… || ‍‌‌‌’জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ’ সম্পর্কে প্রচলিত আপত্তির জবাব || আল হিকমাহ মিডিয়া

অচিরেই আসছে… ‍‌‌‌’জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ’ সম্পর্কে প্রচলিত আপত্তির জবাব মূল ভাই আবু আব্দুল্লাহ আল-মায়াফিরী অনুবাদ ...