সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / ইমামুল মুজাহিদ শাইখ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ) এর স্মৃতিচারণ | ইমামের সাথে অতিবাহিত দিনগুলো (৮ম পর্ব) – শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ

ইমামুল মুজাহিদ শাইখ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ) এর স্মৃতিচারণ | ইমামের সাথে অতিবাহিত দিনগুলো (৮ম পর্ব) – শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Mediaتـُــقدم
পরিবেশিত
Presentsالترجمة البنغالية
বাংলা ডাবিং
Bengali Translationبعنوان:
শিরোনাম:
Titled

أيام مع الإمام (٨)

ইমামুল মুজাহিদ শাইখ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ) এর স্মৃতিচারণ
ইমামের সাথে অতিবাহিত দিনগুলো
(৮ম পর্ব)

The days spent with the Imam
(Episode 8)

للشيخ أيمن الظواهري حفظه الله
শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ
By Sheikh Ayman Az Zawahiri Hafizahullah

للمشاهدة المباشرة والتحميل
সরাসরি দেখুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Viewing and Downloading

https://justpaste.it/imamer_sathe_katano_dingulo-8
https://mediagram.me/a0e6d64f2d0f1ea4
https://noteshare.id/4ng15De
https://web.archive.org/web/20220109…tano_dingulo-8
https://web.archive.org/web/20220109…e6d64f2d0f1ea4
https://web.archive.org/web/20220109…are.id/4ng15De

روابط الجودة الاصلية
FULL HD 1080 (859.1 MB)
মূল রেজুলেশন [৮৫৯.১ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/7NY5wcAjPtWA2gK
https://archive.org/download/imamer-…i-8/part-8.mp4
https://www.file-upload.com/0ebnjcyb7xvf

روابط الجودة العالية
HQ 1080 (461.4 MB)
১০৮০ রেজুলেশন [৪৬১.৪ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/WQQ7fZpZan3Ya4g
https://archive.org/download/imamer-…art-8-1080.mp4
https://www.file-upload.com/b2lphxl7kkkc

روابط الجودة المتوسطة
MQ 720 (199.4 MB)
৭২০ রেজুলেশন [১৯৯.৪ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/3TBtR4cWjJDEJ6d
https://archive.org/download/imamer-…part-8-720.mp4
https://www.file-upload.com/leuji1gasu0j

روابط الجودة المنخفضة
LQ 360 (88.9 MB)
৩৬০ রেজুলেশন [৮৮.৯ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/AxaYySY84s7kJ4c
https://archive.org/download/imamer-…part-8-360.mp4
https://www.file-upload.com/t9mqhjz7ff3b

روابط جودة الجوال
Mobile Qoality (57.3 MB)
3GP রেজুলেশন [৫৭.৩ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/bAbDByoHL9ynj5y
https://archive.org/download/imamer-…i-8/part-8.3gp
https://www.file-upload.com/usesbippwary

روابط بي دي اب
PDF (785 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৭৮৫ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/ZJkgyqfQqNS59sB
https://archive.org/download/imamer-…20-%208%20.pdf
https://www.file-upload.com/10bzxack73cx

روابط ورد
Word (628 KB)
ওয়ার্ড [৬২৮ কিলোবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/ntSfgYBzH2r5Zkf
https://archive.org/download/imamer-…0-%208%20.docx
https://www.file-upload.com/2c5jivw89jke

روابط الغلاف- ١
book Banner [1.6 MB]

বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৬ মেগাবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/595CsJWFF7ZgQPS
https://archive.org/download/imamer-…-8/prossed.jpg
https://www.file-upload.com/9t8x4h2fevzx

روابط الغلاف- ٢
Banner [1 MB]

ব্যানার ডাউনলোড করুন [১ মেগাবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/XLTgHy6ztTFzp5P
https://archive.org/download/imamer-…i-8/banner.jpg
https://www.file-upload.com/iskacaho95ka

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!

ইমামুল মুজাহিদ শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ’র স্মৃতিচারণ

ইমামের সাথে অতিবাহিত দিনগুলো

(পর্ব – ৮)

শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ

অনুবাদ ও পরিবেশনা

 

 

 

 

 

মূল প্রকাশনা সম্পর্কিত কিছু তথ্য

মূল নাম:

                                         أيام مع الإمام (٨)

ভিডিও দৈর্ঘ্য: ৪৪:১৩ মিনিট

প্রকাশের তারিখ: ১৪৪০ হিজরি, ২০১৯ ঈসায়ী

প্রকাশক: আস সাহাব মিডিয়া

 

 

 

সূচিপত্র

প্রথম শিক্ষা.. 12

দ্বিতীয় শিক্ষা.. 16

তৃতীয় শিক্ষা.. 18

চতুর্থ শিক্ষা.. 29

পঞ্চম শিক্ষা.. 30

ষষ্ঠ শিক্ষা.. 30

সপ্তম শিক্ষা.. 31

অষ্টম শিক্ষা.. 32

নবম শিক্ষা.. 32

দশম শিক্ষা.. 33

একাদশ শিক্ষা.. 33

দ্বাদশ শিক্ষা.. 34

ত্রয়োদশ শিক্ষা.. 34

চতুর্দশ শিক্ষা.. 34

পঞ্চদশ শিক্ষা.. 35

আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসূলের প্রতি, তাঁর পরিবার, সাহাবী এবং তাঁর অনুসারীদের প্রতি।

পৃথিবীর সকল মুসলিম ভাইদের প্রতি সালাম:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

হামদ-সালাতের পর,

বেশ কয়েক বছর পর “আয়্যামুন মাআল ইমাম” (ইমামের সাথে কাটানো দিনগুলো) এর অষ্টম কিস্তি পুনরায় রেকর্ড করার ইচ্ছা করেছি। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালার (প্রথম ও শেষ – সকল প্রশংসা একমাত্র তার জন্য) ইচ্ছায় এই পর্বের প্রথম রেকর্ডটি বোমা বর্ষণের ফলে পুড়ে যায়। সে কপিটি সম্মানিত ভাইদের একজনের নিকট ছিলো, যারা তাঁদের আল্লাহ’র রাস্তার মুজাহিদ ভাইদের সেবায় নিজেদের জান উৎসর্গ করেছেন। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করছি – আল্লাহ যেন এই ভাইকে একজন শহীদ হিসেবে কবুল করেন এবং আমাদেরকে, তার পরিবার-পরিজনকে ও সকল মুসলমানকে তার উত্তম স্থলাভিষিক্ত দান করেন, আমীন।

বিভিন্ন ব্যস্ততা ও অস্থিতিশীলতার কারণে শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ’র সাথে কাটানো আমার সুন্দর ও চমৎকার স্মৃতিচারণগুলো লেখার সুযোগ হয়ে উঠেনি।

وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي ۚ إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي ۚ إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু”। (সূরা ইউসূফ ১২:৫৩)

এখন আমার ইচ্ছা হলো, এই কিস্তিতে আমি “তোরাবোরা”র যুদ্ধ ও তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করবো। আমি গত কিস্তিতে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা সমাপ্ত করেছি, যেই চুক্তি মুনাফিকরা ভঙ্গ করেছিল। এর ফলে শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ তোরাবোরা পাহাড় থেকে ১৪২২ হিজরীর ২৭শে রমজান তথা ১২/১২/২০০১ খ্রিষ্টাব্দের দিবাগত রাতে মুজাহিদ ভাইদেরকে বের করে নিয়ে আসেন।

উভয় পক্ষ অর্থাৎ একদিকে আমেরিকা ও তাদের মুনাফিক দোসররা অন্যদিকে মুজাহিদগণ কি কারণে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন – তা নিয়ে আমি বিগত পর্বে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করেছি।

আমেরিকানদের অন্তরে হতাশা ছেয়ে যাবার পর তারা তোরাবোরা পাহাড়ে আক্রমন করার সাহস হারিয়ে ফেললো। এরপর গাদ্দারী ও কলাকৌশলের দ্বারা মুজাহিদদেরকে হত্যা করাই আমেরিকা ও তাদের মুনাফিক দোসরদের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে উঠলো।

এখানে একটু যোগ করতে চাই যে, ১৪২২ হিজরীর ২৪ শে রমজানে শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ’র নিভর্রযোগ্য ও আস্থাভাজন একদল “আনসার” শাইখের কাছে এসে বলেছেন, শাইখ রহিমাহুল্লাহসহ তার অল্প কিছু মুজাহিদ ভাইদের আশ্রয় নেয়ার জন্য তারা একটি নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করেছেন।

তখন শাইখ রহিমাহুল্লাহ আমার সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বললেন, “আপনি আরো কিছু ভাইসহ আনসার দলটির সাথে তোরাবোরা পাহাড় থেকে আগে বের হবেন। তারপর আপনি পাহাড় থেকে বের হওয়ার পথ সম্পর্কে বিবরণ মূলক একটি পত্র পাঠাবেন”। কিন্তু আমি বললাম; “না, না!! এটা কিভাবে সম্ভব? আপনি প্রথমে পাহাড় থেকে বের হন। আর এখানে আমি মুজাহিদ ভাইদের সাথে থেকে যাই”।

শেষ পর্যন্ত শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র পীড়াপীড়ির কারণে আমাকেই তোরাবোরা পাহাড় থেকে বের হতে হল। আমি শাইখ রহিমাহুল্লাহ’কে পাহাড় থেকে বের হতে বারবার আবেদন করেছি। কিন্তু উল্টো তিনি আমাকে বারবার বের হতে বলেছেন। দৃশ্যটি ছিলো অত্যন্ত আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক। কারন আমার জানা ছিলো না যে, শাইখের সাথে দ্বিতীয়বার আর কখনো দেখা হবে কিনা!

তাছাড়া এই কঠিন পরিস্থিতিতে শাইখ রহিমাহুল্লাহ সহ তার সাথীদের রেখে চলে যাওয়াটিও ছিলো বেশ কষ্টের ও যন্ত্রণার। কিন্তু এত কিছুর পরেও শাইখ রহিমাহুল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্তে অনঢ় ছিলেন। আমার মনে আছে যে, আমি তখন শাইখ রহিমাহুল্লাহ’কে এই বলে বিদায় জানিয়েছি যে, আল্লাহ চাইলে আমাদের পুনরায় সাক্ষাৎ হবে।

আমি প্রথম স্টেশনে পৌঁছে শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র নামে একটি চিঠি লিখেছি। যেই চিঠিতে বের হওয়ার পথ ও তার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শাইখ রহিমাহুল্লাহ ও তার সঙ্গীদেরকে তোরাবোরা পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসতে উদ্ভুদ্ধ করেছি। এদিকে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভূমিকা স্বরূপ ২৭ শে রমজানে কার্যত যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। তখন শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ সুযোগ বুঝে ২৭ শে রমজানের দিবাগত রাতে সঙ্গীদের তোরাবোরা পাহাড় থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন।

আস্থাভাজন এক আনসার ভাই, শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র জন্য আমার লেখা পত্রটি বহন করেছেন। আর আল্লাহর ইচ্ছায় তোরাবোরা পাহাড়ের নিকটস্থ একটি উপত্যকায় রাত্রে শাইখের দলটির সাথে পত্রবাহী আনসার ভাইয়ের সাক্ষাত হয়। তখন আনসার পত্রবাহক শাইখের সাথে মিলিত হয়ে তাকে আমার পত্রটি প্রদান করেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে, এতো অন্ধকারের মাঝে এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করার প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও এই আনসার তার নামে এই মর্মে একটি প্রশংসাপত্র লিখে দেয়ার জন্য শাইখ রহিমাহুল্লাহ’কে পীড়াপীড়ি করলেন, যাতে উল্লেখ থাকবে যে, “এই আনসার জিহাদের ময়দানে শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র সঙ্গী ছিলেন এবং যেসব মুসলিমের সাথে তার দেখা মিলবে তারা তার জন্য কল্যাণ কামনা করবে”।

আফগানদের কাছে এই প্রশংসাপত্রের মূল্য কী ধরণের তা শুধুমাত্র আফগানে যারা বসবাস করেছেন তারাই বুঝতে পারবেন। আফগানরা এই প্রশংসাপত্রকে বংশ পরম্পরায় গর্বের বিষয় মনে করেন। আরব মুজাহিদদের সহায়তা ও সহযোগিতা করাকে তারা অনেক উঁচু স্তরের ভাল কাজ বলে মনে করেন।

আফসোস! বস্তুবাদী চিন্তার এই ফেতনার যুগে অধিকাংশ লোকেরা এই বিষয়ের কদর ও মূল্যায়নের বিষয়টি – উপলব্ধি পর্যন্ত করতে পারে না। তারা কখনো কখনো আপত্তির ঝড় তুলে বলাবলি করে; এই কঠিন পরিস্থতিতে এই আনসার কেন এই প্রশংসাপত্র লাভের জন্য পীড়াপীড়ি করছে। কিন্তু এই প্রশংসাপত্রের মূল্য তারা কীভাবে বুঝবে? এর প্রকৃত মূল্য আফগানদের কাছেই রয়েছে। আফগানদের কাছে এই প্রশংসাপত্রকে সীমাহীন উচ্চ মর্যাদার চাবিকাঠি বিবেচনা করা হয়।

আমি ইতিপূর্বে বলেছি যে, পাহাড়ের নিকটস্থ অনেক গোত্রীয় নেতারা শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ থেকে কয়েকটি প্রশংসাপত্র লিখে দেয়ার আবেদন করেছিল। যাতে লেখা থাকবে: ‘বিগত এই যুদ্ধগুলোতে তারা শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র সাথে অংশগ্রহণ করে শাইখ রহিমাহুল্লাহ’কে সহযোগিতা ও সহায়তা করেছেন’।

যুগ যুগ ধরে এই প্রশংসাপত্র তাদের গর্বের কারণ হয় এবং এতে তারা নিজেদেরকে ধন্য মনে করে।

আফগানদের নিয়ে শাইখ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রহিমাহুল্লাহ’র একটি কবিতা রয়েছে। এই কবিতা শাইখ উসামা বারবার বলতেন। কবিতার পঙক্তিগুলো শাইখ ইউসূফ আবু হেলালের প্রশংসার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কবিতাটি নিম্নরুপ:

مــضـيـتُ مجـاهداً مع من بـهـم يـتشـرفُ المــثـلُ
بـني الأفــغــانِ لا مــيــلٌ إذا احـتـدمـت ولا عـزلُ
علـى نـارِ الأسـى شـبــوا وفـوقَ جـحيمِها اكتهلوا
وكان الحزنُ يلبسُهم وعنهم ليسَ ينفصلُ
فـتـلك ربـوعـُهم بـالــدا فــقِ المــوارِ تـغـتـسـلُ
وتحـتَ صـواعـــقِ الـغـارا تِ بالـنـيرانِ تـشـتـعـلُ
وتـلـك جـماجـمُ الأطــفا لِ تُسـحـقُ وهي تبتهلُ
فـــمـا ذل الإبــاءُ بــهــم وما بـهمُ احتفى الفشلُ
ورأسُ الشـعـبِ مـرتـفـعٌ ومـوجُ البـذلِ مـتـصـلُ

অনুবাদ:

“যাদের মাধ্যমে ধন্য হলো উপমা

তাদের নিয়ে চললাম জিহাদের ময়দানে

তারা হলো আফগান সন্তান

তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বলিনি আমি তা,

রাগে জ্বলে উঠি যখন আমি,

কবু রাগ সংবরণ করি না তখন আমি।

শোকের আগুনে জ্বলে উঠে তারা,

শোকের তীব্র অগ্নিতে বেড়ে উঠে তারা।

তারা আছে বিষন্নতার চাদরে ঢাকা,

প্রস্থান করবে না এই ছায়া তাদের হতে।

তাদের অঞ্চল প্রচন্ড

বোমার আঘাতে হয় প্রকম্পিত।

হামলার বজ্রধ্বনিতে হয়

তাদের ঘরবাড়ি অগ্নি প্রজ্বলিত।

তাতে হচ্ছে শিশুদের মাথার খুলি গুঁড়ো গুঁড়ো,

আর যালেমদের দিয়ে যাচ্ছে তারা অভিশাপ।

কিন্তু বশ্যতা স্বীকার করেনি বাবারা,

তাই ছুঁতে পারেনি তাদেরকে কাপুরুষতা।

আফগান জাতী চির উন্নত শির,

চলমান থাকবে ধারা এই ত্যাগের।”

শাইখ ইউসুফ আবু হেলাল হাফিযাহুল্লাহ শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ ও তোরাবোরা পাহাড়ের বীর নায়কদের প্রশংসা করে একটি কবিতা লেখেন-

أسامةُ والمفاخرُ ضابحاتٌ               توالت ليس يُحصيهن عدُ

تجودُ لِذكرِكم بالدمعِ عينٌ               ويَدمى يا حبيبَ الروحِ خدُ

لئن كثرت على الدنيا عِظامٌ             فإنك في حماها اليومَ فردُ

تعودت اغتيالَ اليأسِ فينا               تسيرُ بنا لكلِ علاً وتغدو

أتيت تُطلُ من مُقلِ الضحايا             ودونَ الثأرِ لم يغللْك قيدُ

مَضاؤك في يدِ الأقدارِ سيفٌ            ونهجُك في يدِ الإسلامِ بندُ

رجالُك يومَ زمجرتِ الرزايا             عليها باقتحامِ الموتِ ردوا

وحشوُ نفوسِهم كبرٌ أشمٌ                وملءُ صدورِهم عزمٌ أشدُ

وراياتُ الجهادِ (بتورا بورا)            بها انتفضتْ قساورةٌ وأسدُ

لئن حلت بأمريكا الدواهي               ودكَّ بروجَها هدمٌ وهدُ

فكم أرضٍ وقد عاشت عقوداً            تروحُ على زلازلِها وتغدو

وتعلنُها على الإسلامِ حرباً              لها باسمِ الصليبِ قوىً وحشدُ

جهاداً يا أحبتَنا جهاداً                    فما دونَ امتطاءِ الهولِ بدُ

অনুবাদ:

“উসামা সম্মুখপানে অগ্রসর হচ্ছে ঊর্ধ্বশ্বাসে এবং রণ হুংকারে,

তার রয়েছে অসংখ্য গৌরবময় ক্রমাগত কীর্তিধারা

তোমাদের স্মরণে আঁখি দিয়ে ঝরবে অশ্রু ঝরঝর,

হে প্রিয় আমাদের! রক্তাক্ত হচ্ছে তোমাদের গাল।

পৃথিবীতে যদিও বৃদ্ধি পেয়েছে মহান ব্যক্তির,

পৃথিবী রক্ষায় কিন্তু তুমি আজ এক অদ্বিতীয় মহান।

অভ্যস্ত তুমি আমাদের হতাশা দূর করতে,

চললে আমাদের নিয়ে উচ্চমর্যাদার জন্য সম্মুখ অভিমুখে।

আভির্ভূত হয়েছো তুমি আত্মোৎসর্গের তলদেশ থেকে,

কোন হাতকড়া বাঁধা দিতে পারেনি বদলা নিতে তোমাকে।

নিয়তির সামনে সংকল্প তোমার তরবারীতুল্য,

ইসলামের পথে বিজয়ের পতাকা তোমার আদর্শ।

দুর্যোগের গর্জনে তোমার লোকেরা,

মৃত্যুতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করে তা।

তাদের প্রাণ ভর্তি উচ্চগর্ব-অহংকার,

তাদের বক্ষ ভরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

(তোরাবোরা) জিহাদের ঝান্ডায়,

কেঁপে উঠেছে সিংহ-পশুরাজ।

আমেরিকায় নেমে এসেছে বিপদ আর দুর্যোগ,

ধ্বংস-বিনাশ করেছে আমেরিকার টাওয়ার।

কোন ভূমি অতিবাহিত করেছে কয়েক দশক,

যাতে নেমে এসেছে দিবারাত্র বিপদের উপর বিপদ।

এ যাবৎকাল দিয়ে আসছে আমেরিকা,

ইসলামের বিরুদ্ধে মজবুত ক্রুসেড যুদ্ধের ঘোষণা,

তাতে সংঘবদ্ধ হয়েছে সব কুফফার সেনা।

যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ো তাই হে প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা,

ভয়াবহ বিপদের উপর আরোহণ করে পরিত্রাণ পাবো আমরা।”

আর এটি হলো তোরাবোরা যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ঘটনা।

তোরাবোরা পাহাড়ের যুদ্ধ থেকে আমরা যে সকল গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি এখন আমি সেই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। এই যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো নিম্নরুপ:

প্রথম শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের প্রথম শিক্ষা হলো;

শত্রুর বিরুদ্ধে মুসলিমদেরকে বিজয় দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ একটি কারণ হল – শক্তির ভারসাম্য ঠিক থাকা এবং বিষয়গুলোর আকীদাগত অবস্থান স্পষ্ট করা। মুসলিম জাতির বীরত্ব ও সাহসিকতা জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং সহমর্মিতা লাভ ও সমবেদনা অর্জনের ক্ষেত্রে – আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোরাবোরা যুদ্ধকে একটি কারণ বানিয়ে সেখানে অংশগ্রহণকারী সকল মুজাহিদকে সম্মানিত করেছেন।

আমরা ইতিপূর্বে প্রত্যক্ষ করেছি যে, যখন দখলদার রাশিয়া ও তাদের ভাড়াটে এজেন্টদের বিরুদ্ধে আফগান জিহাদ শুরু হলো; তখন পুরো মুসলিম জাতি মুজাহিদদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়েছে এবং সহমর্মিতা দেখিয়েছে। এক্ষেত্রে রাফেজিরাও আফগান মুজাহিদদের সহযোগিতা করেছে।

কিন্তু মুজাহিদরা যখন পরষ্পর আত্মকলহে লিপ্ত হলো এবং মুজাহিদদের বন্দুকের নল নিজেদের ভাইদের দিকে ঘুরে গেলো, তখন মুসলিম উম্মাহ মুজাহিদদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। এর ফলে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য মুজাহিদ ভাইগণ তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

উদাহরণত; যখন আফগান জিহাদি নেতারা রাশিয়া ও তাদের ভাড়াটে দোসরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন তখন এই সব মুজাহিদ মুসলিম উম্মাহর চোখে সাহসী নায়ক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তাদের অনেকেই দখলদার আমেরিকাকে সাহায্য করলো তখন এই সব মুজাহিদদেরকেই আমেরিকার দোসর ও বিশ্বাসঘাতক ভাবতে শুরু করেছেন মুসলিম জাতি।

যখন মুজাহিদদের টার্গেট ও লক্ষ্য স্পষ্ট হবে এবং তাদের কাতার এক হবে তখন আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে নুসরত ও বিজয়ের নেয়ামত দান করবেন। তাই আমাদের প্রথম বার্তা হলো; দায়িত্বশীলগণ অহেতুক গোলযোগ সৃষ্টি করা, অন্যায়ভাবে কারো রক্ত ঝরানো এবং মুসলিম কিংবা কাফের কারো প্রতি যুলুম করা থেকে বিরত থকবেন।

তোরাবোরা যুদ্ধের সময় দল দুইটির অবস্থান পরিপূর্ণ স্পষ্ট ছিলো। উভয় দলের অবস্থান নিয়ে কোন ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়নি। কারণ এক দিকে ছিলো ক্রুসেডার আমেরিকা, তার মিত্র বাহিনী ও তার দোসরদের শিবির। অপর দিকে ছিলো আমেরিকার চির শত্রু মুহাজির ও আনসার মুজাহিদদের শিবির।

আমেরিকা তার চল্লিশেরও অধিক মিত্র দেশসহ আফগানের মাটিতে পা রেখেছে। মিত্র বাহিনীতে যেমন ক্রুসেডাররা ছিলো, তেমনি ছিলো মুসলমানদের উপর চেপে বসে থাকা অনেক দালাল শাসক। যেমন: মিশরের হোসনি মুবারক, আলে সউদের সরকার, বাশার আল আসাদ, উপসাগরীয় অঞ্চলের শাসকবর্গ এবং ঘুষখোর গাদ্দার পারভেজ মোশাররফের সরকার।

আফগান জিহাদে আমেরিকান ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিলো তুর্কি প্রশাসন। এরা আফগানিস্তান ও সোমালিয়ায় মুসলিম হত্যাকারী, ইজরাইলকে স্বীকৃতিদানকারী, আমেরিকান বাহিনীকে আমন্ত্রণকারী, সেক্যুলারিজমের প্রতি আহবানকারী, সেক্যুলারের ধ্বজাধারী, লম্পট, জালিম আব্দুর রশিদ দোস্তমের (প্রাক্তন আফগানিস্তানের উপরাষ্ট্রপতি) মদদদাতা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন স্বয়ং আমেরিকা আফগান ছেড়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে সন্ধিচুক্তির চেষ্টা করছে তখনও এই তুর্কি সরকার আফগানের পুতুল সরকার (গানী সরকারকে) সহায়তা করার লক্ষ্যে আফগানিস্তানে আরও দুই বছর পর্যন্ত তুর্কি বাহিনীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছে!

আমাদের মুসলিম দেশের জবরদখলকারী দালাল শাসকরা বাস্তবে বিশ্বের মোড়ল কাফেরদের সাহায্যকারী। যদিও তারা কখনো কখনো কোন এক পর্যায়ে মুজাহিদদের সাহায্য করে থাকে। সুতরাং এই বাস্তবতা সকল মুজাহিদ ও মুসলমানদের বুঝতে হবে।

কখনো কখনো এসব শাসকদের পরষ্পরের দ্বন্দ্বের কারণে মুজাহিদদের ও মুসলমানদের উপকার হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় আপদের কারণ হলো ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা, যারা খেয়ে না খেয়ে তাদের প্রশংসা করে এবং এ বলে সাধারণ জনগণকে প্রবোধ দেয় যে, এরাই হলো জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দানকারী সৎ শাসক। তাই মুজাহিদ ভাইসহ সকল মুসলমানদের কর্তব্য হলো, কোরআন সুন্নাহ ভালোভাবে অধ্যায়ন করে কাফেরদের দোসর মুনাফিকদের চরিত্র সম্পর্কে অবগতি লাভ করা, যাতে এই সকল মুনাফিকরা মুসলমানদের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষতির কারণ হতে না পারে।

অপরদিকে ধূর্ত ও ধোঁকাবাজ ইরানও কম করেনি। তারা তো ইসলামী ইমারতের অবস্থান সনাক্তকারী ম্যাপগুলো সরাসরি আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছিল। এই ইরানই আল কায়দার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালিয়ে আসছে যে, আল কায়দা মূলত আমেরিকা ও ইজরাইলের প্রজেক্ট। তারা আল কায়দার বিরুদ্ধে গুরুতর এই অপবাদ দেয় যে, আল কায়দা আমেরিকা ও ইজরাইলের সাথে বসে বাহরাইনের উপর আক্রমনের ছক তৈরী করেছে। অথচ আজ অবদি এমন কিছুই ঘটেনি।

ইরানের মুখপাত্র এতটুকু মিথ্যা প্রচারণা করেই ক্ষান্ত হয় নি। বরং একের পর এক মিথ্যচার করেই যাচ্ছে। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি কখন তারা বলবে যে, আল কায়দা আমেরিকার সাথে আঁতাত করে পেন্টাগনে হামলা চালিয়েছিল।

এছাড়া কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবীর আমেরিকান দূতাবাসে, তানজানিয়ার বৃহত্তর শহর ও প্রশাসনিক রাজধানী দারুস সালামে, “ইউ.এস.এস কোলে” (ক্ষেপানাস্ত্র বহণকারী আমেরিকান জাহাজে), “এল ঘ্রিবা সিনাগগ[1] (El Ghriba Synagogue)” সহ কেনিয়ায় “এল.আল (EL AL)” (ইজরাইল এয়ারলাইন্স লিমেটেড) এর বিমানেও কি আমেরিকা ও ইজরাইলের যোগসাজশে আল কায়দা আক্রমণ করেছে!?

নাকি তোরাবোরা পাহাড়ে আল কায়দা নেতাদের অবস্থানকালীন সময়ে, আমেরিকা ও ইজরাইলের সাথে আঁতাত করে “শার্লি হেবদো” পত্রিকা অফিসে হামলা করা হয়েছিল!? আমেরিকা ও ইজরাইলের সাথে আঁতাত করে আর কী কী হামলা চালিয়েছে আল কায়দা?

তোরাবোরা পাহাড়ে বোমা বর্ষণের ফলে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সরঞ্জামাদী উঠিয়ে নেয়ার পর – আশ্রয়স্থল খোঁজা আল কায়দা সদস্য, বন্দী, বিধবা নারী ও বাবাহারা সন্তানদের জন্য পাকিস্তান প্রশাসন সীমান্ত খুলে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু তারপর পনেরো বছর পর্যন্ত আবারও তাদের বন্দী করে রেখেছে। আর বর্তমানে তারাই শ্লোগান দিচ্ছে “আমেরিকা নিপাত যাক”, “ইজরাইল নিপাত যাক”।

আবার সে সময়ে আমেরিকান মেরিন সৈন্যদের পক্ষে এই ফতোয়াও প্রচার করা হয়েছে যে, মেরিন বাহিনীতে চাকরিরত কোন মুসলিম যদি আশঙ্কা করে যে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে তার চাকরি চলে যাবে, তাহলে তার জন্য মুজাহিদদের বিরুদ্ধে উক্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার বৈধতা রয়েছে।

সেই হামলায় সমানভাবে অংশ নিয়েছে – মুসলিম ব্রাদারহুডের মত আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমর্থনপুষ্ট সাইয়াফ ও রাব্বানীর মতো বড় বড় ব্যক্তিবর্গের দল।

একদিকে ছিলো তাদের গর্ব, অহংকার ও দাম্ভিকতা। তারা ছিলো সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত। তাদের ধোঁকা ও ষড়যন্ত্রের কোন ত্রুটি ছিলো না। তদ্রূপ লোভ ও ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রেও কোন কমতি ছিলো না।

অপরদিকে মুসলিম মুজাহিদরা ছিলেন অবরুদ্ধ এবং দুর্বল। কিন্তু তার পরও তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের নিজেদের বিষয় খালেকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন এবং তাঁর উপর ভরসা করে গেছেন। জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছেন নিজেদেরকে।

আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,

وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَٰذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ۚ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا

“যখন মুমিনরা শক্রবাহিনীকে দেখল, তখন বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি পেল”। (সূরা আহযাব ৩৩:২২)

আর আমার বিশ্বাস আল্লাহ তাদের মাঝে এই আয়াত বাস্তবায়ন করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন:

مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ ۖ فَمِنْهُم مَّن قَضَىٰ نَحْبَهُ وَمِنْهُم مَّن يَنتَظِرُ ۖ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا

“মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।” (সূরা আহযাব ৩৩:২৩)

মুজাহিদরা আমেরিকাতে আঘাত হানার সকল কারণ প্রকাশ করার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আমেরিকার নেতৃস্থানীয় অপরাধীদের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষে প্রতিরক্ষার জন্য মুজাহিদরা আমেরিকায় হামলা করেন।

দ্বিতীয় শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের দ্বিতীয় শিক্ষা হলো; এই যুদ্ধে সাহায্য ও বিজয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে- শত্রুর বিরুদ্ধে মুজাহিদদের ঐক্যবদ্ধ থাকা। শাইখ রহিমাহুল্লাহও বিভিন্ন জটিল থেকে জটিলতর পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বের সকল মুজাহিদদেরকে সংঘবদ্ধ করে এবং একই সারিতে নিয়ে আসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنْيَانٌ مَّرْصُوصٌ

“আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর”। (সূরা আস সফ ৬১:৪)

আরো ইরশাদ হচ্ছে:

وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ

“আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছ ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছ। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল”। (সূরা আল-ইমরান ৩:১৫২)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ‎﴿﴾ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার। আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে”। (সূরা আল-আনফাল ৮:৪৫-৪৬)

তারপর শাইখ রহিমাহুল্লাহ এই কর্মপদ্ধতির উপর ভিত্তি করে তার সঙ্গীদেরসহ সংঘবদ্ধ করতে শুরু করেন। একটু একটু করে অন্যান্য মুজাহিদ ভাইদের সংঘবদ্ধ করে পৃথিবীর সকল মুজাহিদদেরকে একই সারিতে নিয়ে আসতে থাকেন। আর আমাদের এই সংঘবদ্ধ হওয়া ও একই কাতারে সারিবদ্ধ হওয়াটা সুপার পাওয়ার আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় ভীতির কারণ ছিল। তাই আমেরিকা আমাদের এই আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করার সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু শাইখ রহিমাহুল্লাহ এই আদর্শের উপর অবিচল থেকে সামনে অগ্রসর হতে থাকেন।

হায় আফসোস! শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র মৃত্যুর পর নতুন কিছু দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তারা এই আদর্শ থেকে সরে ডানে-বামে ছুটাছুটি করেছে। তারা তাদের মূল আদর্শের কবর রচনা করেছে। তাদের একজন খেলাফতের দাবি করে বসল এবং তার খেলাফতকে অস্বীকারকারী সবাইকে কাফের ফতোয়া দেয়া শুরু করল। আরেকজন নেতৃত্বের দাবি করে বিভিন্ন হারাম কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ল। এর দ্বারা তারা শত্রুদের হয়ে তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষার চাইতেও বেশি উপকার করেছে।

তবে হক পথের মুজাহিদদের কারণে আমেরিকাসহ ইউরোপের সকল কুফ্ফারদের মাঝে এই ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে যে – তুর্কিস্তান থেকে পশ্চিম আফ্রিকা, ককেশাশ থেকে সোমালিয়া পর্যন্ত সকল মুজাহিদদের এই অগ্রবর্তী দল একই সারিতে, একই কাতারে সারিবদ্ধ হয়ে, একজোটে – বিশ্ব কুফুরি শক্তি ও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে হামলা করবে ইনশা আল্লাহ।

তৃতীয় শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের তৃতীয় শিক্ষা হলো; নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা জুলুমবাজ ও অহংকারী গোষ্ঠীর জুলুম-নির্যাতন থেকে ছোট মুমিন দলকে মুক্তি দিতে সক্ষম। আমেরিকা ও তার ন্যাটো জোট তোরাবোরা পাহাড়ে মাত্র তিনশত মুজাহিদকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়নি! সুপার পাওয়ার আমেরিকা, তার ন্যাটো জোট ও স্থানীয় দালাল শাসকের বাহিনীরা, সবাই মিলে মুজাহিদদেরকে তোরাবোরা পাহাড়ের চতুর্দিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং উপর থেকে জঙ্গী বিমানের মাধ্যমে তোরাবোরা পাহাড়ে অনবরত বোম্বিং করতে থাকে। কিন্তু তারপরও মুজাহিদরা আত্মসমর্পণ করেনি। ফলে তারা মুজাহিদদের আটক ও বন্দী করতে ব্যর্থ হয়।

আমি শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ’কে জিজ্ঞেস করেছিলাম; এই অবরোধ থেকে বের হওয়ার কোন পথ আছে কিনা? এই পাহাড় পর্বত বেয়ে কি আমরা পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারবোনা! তখন শাইখ রহিমাহুল্লাহ একজন আনসার তলব করলেন। অতঃপর তাকে পাকিস্তানে যাওয়ার পথ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তখন আনসার আমাদের পূর্ব ও দক্ষিণের সারি সারি স্পিনঘর পাহাড়ের[2] চূড়া এর দিকে হাতের ইশারা করে দেখালেন। শাইখ রহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘আপনি এই দিকে ইশারা করে কী বুঝাতে চাচ্ছেন একটু খুলে বলেন, তখন আনসার বললেন, “আপনি বরফে ঘেরা এসব পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখুন তাতে কোন পথই খোলা নেই। তবে বসন্তকালে বরফগুলো গলে গেলে পথ বের হবে”।

সুতরাং আমরা বর্তমানে ত্রিমুখী অবরোধের স্বীকার। একদিকে আকাশ পথে জঙ্গী বিমানের মহড়া। দ্বিতীয়ত, আমাদেরকে ক্রুসেডার ও তার ভাড়াটে সৈনিকদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলা। তৃতীয়ত, আমাদের বেষ্টন করে আছে বরফ আচ্ছাদিত পাহাড়ের মজবুত প্রাচীর। পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম যে, প্রায় এক সপ্তাহ পরে তুষারের ঝড় হতে পারে বলে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কেননা এই অবরোধ ছিলো ১২ই ডিসেম্বর ২০০১ সালে।

শাইখ রহিমাহুল্লাহ আমাদেরকে নেতৃত্ব প্রদান করে যান। এ কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহ তায়ালা মুজাহিদ বাহিনীর বিরাট অংশকে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করেছেন। তবে পাকিস্তানের গাদ্দারির কারনে মুজাহিদ বাহিনীর প্রায় অর্ধেক কারাগারে বন্দী হয়েছেন। তোরাবোরা যুদ্ধের পর দীর্ঘ একদশক পর্যন্ত শাইখ রহিমাহুল্লাহ অবিরাম জিহাদের কাজ চালিয়ে যান। তাই তোরাবোরা যুদ্ধের ঘটনাবলীর স্মৃতিচারণ দুর্বল মুসলিমের হৃদয়ে এই আশা জাগায় যে, আল্লাহ তায়ালা সংখ্যাগরিষ্ঠ জুলুমবাজ কাফেরদের থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের দলকে মুক্তি দিতে ও সাহায্য করতে সক্ষম। ইরশাদ হচ্ছে-

كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ‎

“সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন”। (সূরা বাকারা 2:২৪৯)

আরব বসন্ত ও “রাবেয়া এবং আন-নাহদা” চত্বরে এবং “রিপাবলিক গার্ড” সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক দুর্ঘটনার দৃশ্য এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এসবস্থানে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীরা মারত্মকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আমার বুঝে আসে না এই দু:সময়ে কিভাবে তাদের নেতৃত্ব নিজেদেরকে বিনা মূল্যে শত্রুদের কাছে সমর্পণ করেছে?

যদিও আল্লাহ ভাগ্যে যা রেখেছেন তাই ঘটেছে। যদি এই দলটি আল্লাহর প্রতি ভরসাকারী মুজাহিদদের নেতৃত্ব পেত, সেকুলার জীবনব্যবস্থা ও সেকুলার সংবিধানের সামনে তারা নতি স্বীকার না করতো, ফেতনা (শিরক) নির্মূল হয়ে পূর্ণ দ্বীন আল্লাহর জন্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ-জিহাদ চালিয়ে যেত, অন্যান্যদেরকে জিহাদের জন্য সংঘবদ্ধ করতো এবং এই নাস্তিক, মুরতাদ জালেম শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সাধ্যমত প্রস্তুতি গ্রহণ করতো – তাহলে আমার ধারণা মতে – অদৃশ্য বিষয় একমাত্র আল্লাহই জানেন- চিত্রটি পূর্ণ ভিন্নরূপ ধারণ করতে পারতো। আর সেটি হল – নাস্তিক, মুরতাদ ও অপরাধী শত্রুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিয়ে শুধু শুধু শহীদদের সারি বৃদ্ধি পেত না।

তাই আমার মতামত হলো, তোরাবোরা যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহে দুর্বল মুসলিমদের অন্তরে আশা জাগানোর মতো যথেষ্ট উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। তা এভাবে যে, মানব ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে দুর্বলরা আল্লাহর নুসরতে ও তার আদেশে বিশ্বের পরাশক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ করে আসছে।

তাই দলমত নির্বেশেষে মুসলিম উম্মাহর সকলকে আকিদাগত, দাওয়াতি, ইলমী ও রাজনৈতিকভাবে যথাসাধ্য যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তাগুতের সামনে আত্মসমর্পণকারী ফলাফল বিহীন ভঙ্গুর পথ ও পন্থা থেকে পূর্ণভাবে মুক্তি লাভের জন্য, মুসলিম উম্মাহকে জাগরণের যুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে একে অপরের দিকে সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

আরব বসন্তে ভুল পথ-পন্থা ছিল প্রচুর। কেউ কেউ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে। তারা দেশের পক্ষে এই বলে আওয়াজ তুলেছে যে, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের মাঝে সমন্বয় করে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। যার অবধারিত ফলাফল হলো, সেখানে জনগণের শাসন চলবে, আল্লাহর শাসন চলবে না। যেই দেশের সংবিধানের মূলভিত্তি মুসলিম ভ্রাতৃত্ব না হয়ে স্বদেশপ্রীতি হবে, যাদের চেতনা হবে অখণ্ড মুসলিম সাম্রাজ্যের পরিবর্তে খণ্ড খণ্ড মুসলিম রাষ্ট্র। এই কুসংস্কারমূলক চুক্তি ইসলামী ইতিহাসে কবে সংগঠিত হয়েছে তা আমার জানা নেই।

অথচ তারা আগ বাড়িয়ে বলে যে, মুসলিম, ইয়াহুদী ও অন্যান্যদের মাঝে সংগঠিত মদিনা সনদে নাকি তাদের কুসংস্কার মূলক এই চুক্তির প্রমাণ রয়েছে। অথচ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি। কেননা “যেকোন বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকার হবে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। এই বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে মদিনা সনদ স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়। অর্থাৎ “সব শাসন ক্ষমতার উর্ধ্বে হলো আল্লাহর শাসন ক্ষমতা” এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে মদিনা সনদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জনগনের কাছে বিচার প্রার্থনাকারী জাতীয়তাবাদের এসব প্রচারকদের কর্মপদ্ধতি কিতাবুল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমুহের সাথে পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কোরআনে কারীমের ইরশাদ হচ্ছে-

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

“অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমরা মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে”। (সূরা আন-নিসা ৪:৬৫)

আরো ইরশাদ হচ্ছে-

وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ

“তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই”। (সূরা আশ-শুরা ৪২:১০)

তাছাড়া আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে ফয়সালা চাওয়াকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ‘জাহিলিয়্যাতের শাসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন,

وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ﴿﴾ أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ

“আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান। তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে?” (সূরা মায়েদা ৫:৪৯-৫০)

এসমস্ত আল্লাহর বান্দারা তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে গুলি থেকে অধিক কার্যকরী ও শক্তিশালী মনে করে। কিন্তু তাগুত বাহিনীর প্রথম গুলিতেই তাদের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কোথায় যে হারিয়ে যায়? অথচ এই কর্মপদ্ধতি দ্বীন, শরিয়ত, সমাজ এবং ফিতরতের সাথে সাংঘর্ষিক। এই কর্মপদ্ধতির কুফল হলো, অধিকাংশ জনগণ আল্লাহর বিধানের উপরে জায়নিষ্ট ক্রুসেডার এবং মুসলিমদের রক্তখেকো, ধূর্ত সেকুলার ও জাতীয়তাবাদী মুসলিম রাষ্ট্রের দালাল শাসকদের আদেশ-নিষেধকে প্রধান্য দেয়।

অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا

“বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়”। (সূরা বাকারা ২:২১৭)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ﴿﴾ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ ۚ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ ۖ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ ۗ كَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ﴿﴾فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿﴾

“আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি। আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু”। (সূরা বাকারা ২:১৯০-১৯২)

 وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ 

“আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)”। (সূরা বাকারা ২:১৯৩)

সেখানে আরেকটি সমস্যা ছিল। তারা আলওয়ালা ওয়ালবারা (আল্লাহর জন্য শত্রুতা ও মিত্রতা) এর মাসআলাকে হালকা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং আলওয়ালা ওয়ালবারা (শত্রুতা-মিত্রতা) এর বন্ধনকে ভেঙ্গে তার মূল ভাবটি বিকৃত করে দিয়েছে। তাই শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক এমন সংবিধানের রক্ষক, অন্যায়-জুলুমের রাষ্ট্রকে সহায়তাকারী, যুগ যুগ ধরে মুসলিমদের নিধনকারী যায়নিষ্ট আমেরিকান বাহিনীকে নিজেদের ভাই মনে করে বসলো! তাদের অনেকেই তখন বলেছে; ‘আমাদের মাঝে এবং তাদের মাঝে কোন যুদ্ধ নেই’। অথচ এই কর্মপদ্ধতি কিতাবুল্লাহর সাথে সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিক।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

لَّا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ ۚ أُولَٰئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍ مِّنْهُ ۖ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ أُولَٰئِكَ حِزْبُ اللَّهِ ۚ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে”। (সূরা মুজাদালা ৫৮:২২)

আরো ইরশাদ হচ্ছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوًا وَلَعِبًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاءَ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

“হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও”। (সূরা মায়েদা ৫:৫৭)

আবারো ইরশাদ হচ্ছে,

لَّا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ﴿﴾ إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَىٰ إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ‎﴿﴾

“ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম”। (সূরা মুমতাহিনা ৬০:৮-৯)

এই আদর্শ লালণকারীদের ধারণা হলো, এই বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী (তাদের ধারণা মতে) তারা কোন মুসলিমকে হত্যা করার পরও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা নাকি আমাদের উপর আবশ্যক হবে না। তারা বলে, মুসলিমদের কর্তব্য হলো, কুফফারদের কাছে আত্মসমর্পণ করা। অথচ কোরআন আমাদেরকে ভিন্ন কিছু বলে। ইরশাদ হচ্ছে-

وَإِن نَّكَثُواْ أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُواْ فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُواْ أَئِمَّةَ الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لاَ أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ﴾﴿﴾ أَلاَ تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُواْ أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّواْ بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَؤُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ أَتَخْشَوْنَهُمْ فَاللّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤُمِنِينَ﴿﴾ قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ﴿﴾ وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللّهُ عَلَى مَن يَشَاء وَاللّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ﴿﴾

“আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কোন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে। (12) তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন। এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবে, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়”। (সূরা আত-তাওবা ৯:১২-১৫)

আরো ইরশাদ হয়েছে;

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ خُذُواْ حِذْرَكُمْ فَانفِرُواْ ثُبَاتٍ أَوِ انفِرُواْ جَمِيعًا﴿﴾ وَإِنَّ مِنكُمْ لَمَن لَّيُبَطِّئَنَّ فَإِنْ أَصَابَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَالَ قَدْ أَنْعَمَ اللّهُ عَلَيَّ إِذْ لَمْ أَكُن مَّعَهُمْ شَهِيدًا﴿﴾ وَلَئِنْ أَصَابَكُمْ فَضْلٌ مِّنَ الله لَيَقُولَنَّ كَأَن لَّمْ تَكُن بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ مَوَدَّةٌ يَا لَيتَنِي كُنتُ مَعَهُمْ فَأَفُوزَ فَوْزًا عَظِيمًا﴿﴾ فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآخِرَةِ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَيُقْتَلْ أَو يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا﴿﴾ وَمَا لَكُمْ لاَ تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاء وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَـذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا﴿﴾ الَّذِينَ آمَنُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُواْ أَوْلِيَاء الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا﴿﴾

“হে ঈমানদারগণ! নিজেদের অস্ত্র তুলে নাও এবং পৃথক পৃথক সৈন্যদলে কিংবা সমবেতভাবে বেরিয়ে পড়। (71) আর তোমাদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ রয়েছে, যারা অবশ্য বিলম্ব করবে এবং তোমাদের উপর কোন বিপদ উপস্থিত হলে বলবে, আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি। (72) পক্ষান্তরে তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ আসলে তারা এমনভাবে বলতে শুরু করবে যেন তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন মিত্রতাই ছিল না। (বলবে) হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে আমিও যে সফলতা লাভ করতাম। (73) কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জিহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাহে লড়াই করে অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুণ্য দান করব। (74) আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। (75) যারা ঈমানদার তারা যে, জিহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জিহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল”। (76) (সূরা আন-নিসা ৪:৭১-৭৬)

কোরআনের মানহাজই (কর্মপন্থাই) হল সম্মানের মানহাজ এবং অন্যায়-জুলুমকে প্রতিহত করার একমাত্র পথ। কুফর, শিরক ও দৃশ্য-অদৃশ্য সব মূর্তিকে গুড়িয়ে দেয়ার কার্যকরি পথ। কল্যাণ ও ইনাসাফের পথ। সম্মান ও মর্যাদার প্রতি আহবানকারীদের পথ। আল্লাহর নাযিলকৃত শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র উত্তম উপায়।

কোরআনে বর্ণিত পথ ও পন্থা – কখনোই বাতিলের সামনে নতী স্বীকারের পথ নয়। এটি বাতিলের উপর সন্তুষ্ট হওয়ার পথও নয়। আর তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির পথ, ক্ষণিকের এই জীবনে বেঁচে থাকার জন্যও কোন শান্তিপূর্ণ পথ নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الأَرْضِ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلاَّ قَلِيلٌ﴿﴾ إِلاَّ تَنفِرُواْ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلاَ تَضُرُّوهُ شَيْئًا وَاللّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴿﴾

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান”। (সূরা আত-তাওবা ৯:৩৮-৩৯)

আমরা বুঝতে পারলাম, জিহাদ ছেড়ে দেয়ার অন্যতম শাস্তি হলো, আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত করবেন।

তাই আমার মুসলিম ভাইয়েরা শুনুন!

যখন আমরা বিজয় ও সাহয্যের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করবো, তখন এমন অকার্যকর নেতৃত্ব পরিহার করতে হবে, যার অনুসরণ করলে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালিয়ে যেতে হয়। জাতীয়তাবাদের প্রতি আহবানকারীদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে। আমাদেরকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে – মুসলিমদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করতে এবং তাওহীদের কালিমার ছায়াতলে একত্রিত করতে। এই কালিমার খাতিরে আমরা বিভিন্ন দলে ও উপদলে বিভক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবো। আমাদের পরাজয়ের সব কারণ ক্ষতিয়ে দেখবো। তারপর এক আল্লাহর উপর ভরসা করে সুযোগ পেলেই জিহাদে অংশগ্রহণ করব। আর মনে রাখব – প্রতিটি ইসলামী ভূখণ্ড মিলে একটি মাত্র ভূখণ্ড।

রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন,

فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ ۚ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ عَسَى اللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنكِيلًا

“আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের যিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা”। (সূরা আন-নিসা ৪:৮৪)

তিনি আরো বলেন

وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ‎

“আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপরও, যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না”। (সূরা আনফাল ৮:৬০)

আমাদের মুসলিম বিশ্বে, বিশেষত আরব বিপ্লবের দেশগুলোতে – দালাল শাসকদের অন্যায়-অবিচারের কোন মাত্রা নেই। তবে তারা কোন অপরাজেয় শক্তি নয়। তারা অপ্রতিরোধ্যও নয়। কারণ এসব অপরাধীরা যতই শক্তি অর্জন করুক না কেন দিনশেষে তারা সকলেই মানুষ। না তারা কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে, না রিজিক দিতে পারে, না পারে কোন কিছুকে জীবন দিতে। আর তারা চাইলেও কাউকে মৃত্যু দিতে পারে না।

চতুর্থ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের চতুর্থ শিক্ষা হলো; দলের নেতাকে পরিবর্তনশীল পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বা কোন দিকে ঝুঁকে পড়ার পর তার উপর জমে না থাকা। বরং কাজের স্বভাবজাত ধারার সাথে মিল রেখে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার সৎ সাহস থাকতে হবে।

আমি শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহর মধ্যে এই গুণটি পেয়েছি। শাইখ যখন তোরাবোরা পাহাড়ের অবস্থানকে – যুদ্ধের স্বভাবজাত পরিবর্তনশীল ধারার সাথে অসামঞ্জস্বপূর্ণ দেখতে পেলেন, তখন তোরাবোরা পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার লক্ষ্যে চুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করলেন। যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্তটি কুফফার মোড়লদের বিরুদ্ধে এই লড়াইকে দীর্ঘস্থায়ী করার ভূমিকা স্বরূপ কাজ করেছে। এক জায়গায় অবস্থান করে লড়াই করতে থাকা ফোর্থ জেনারেশন (চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধ) যুদ্ধনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

মুজাহিদদের একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্রুসেড যুদ্ধ। সুতরাং যে পক্ষ তার শত্রুকে যত বেশী ক্লান্ত করে তুলতে পারবে বা যত বেশী ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবে, সেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারবে।

লুটতরাজ, লুন্ঠন ও দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া উচিৎ নয়। কারণ যুদ্ধের সাথে এসবের মৌলিক কোন সম্পর্ক নেই। একজন হয়তো খলীফা হওয়ার লোভ করবে, অপরজন লোভ করবে – নেতৃত্ব বা ক্ষমতার। এসব লোভ-লালসা করা থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ লোভ-লালসার এই পথ ধরলেই শরিয়তের বিধানগুলো উপেক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন হারাম কাজে লিপ্ত হতে হবে। বহু মানুষের অযথা প্রাণ যাবে। বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হবে।

অপরদিকে আমাদের শত্রুরা আমাদের মধ্যে এসব ঘটার কামনা করে। একপর্যায়ে জিহাদ চর্চার নামের এই নিরর্থক কাজকে মুসলিম জাতি ঘৃণা করা শুরু করে। সবশেষে জিহাদের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

পঞ্চম শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের পঞ্চম শিক্ষা হলো – শত্রুপক্ষের যোগাযোগ মাধ্যম ও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা। আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, শত্রুর যোগাযোগ মাধ্যমের উপর গবেষণা করে ‘মারকাজুশ্ শাইখ ইবনুশ্ শাইখ আল লীবী’র মুজাহিদ ভাইয়েরা বিভিন্ন সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ করানোর পথ আবিস্কার করেছেন। এপথ ধরে তারা অনেক মুজাহিদ ভাইকে কাফেরদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করাতে সক্ষম হয়েছেন।

ষষ্ঠ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের ষষ্ঠ শিক্ষা হলো – মুজাহিদদেরকে মৌলিকভাবে পর্যাপ্ত অস্ত্র সামগ্রী ও গোলাবারুদ সঞ্চয় করতে আগ্রহী হতে হবে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সম্পদের কোরবানী দিতে হবে।

শাইখ রহিমাহুল্লাহ শেষবারের মতো তোরাবোরা পাহড়ে আরোহণ করার পূর্বে কোন ভাই অভিযোগের সূরে বললেন যে, ‘আমাদের কেউ কেউ চড়া মূল্য দিয়ে কামান ক্রয় করছে!’

তখন শাইখ রহিমাহুল্লাহ আমাকে বললেন, ‘এই ভাইতো আমাদের জন্য বেশ কয়েকটি কামানের ব্যবস্থা করেছেন। অপরদিকে জিহাদের প্রতি আগ্রহী ভাইয়েরা এখন পর্যন্ত একটি কামানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। আমাদের যেসব ভাইয়েরা আমাদেরকে সম্পদ দিয়ে সহায়তা করেছেন অথচ সেই সম্পদ আমাদের হাতে আমানত হিসেবে রয়ে গিয়েছে এবং চড়া মূল্যের অজুহাতে আমরা কামান কিনতে পারিনি। যখন বিপর্যয় নেমে আসবে, তখন সেসকল ভাইকে আমরা কি বলে ওজর দেখাবো’?

আমি শাইখ রহিমাহুল্লাহ’কে দেখেছি – তোরাবোরা পাহাড়ে অবস্থানকালে তিনি কখনো গোলা-বারুদের মূল্য নিয়ে দামাদামি করতেন না। একবার শাইখ রহিমাহুল্লাহ’র কাছে এক আনসার ভাই “আর পি জি” ক্ষেপনাস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাব করলেন। তখন শাইখ রহিমাহুল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে তাকে মূল্য প্রদান করেন। আমি তাঁকে বললাম, ‘দামটা অনেক বেশী হয়ে গেলো না?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘হতে পারে। তবে এখন মূল্য নিয়ে দামাদামি করার সময় নয়’।

সপ্তম শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের সপ্তম শিক্ষা হলো – মাটিতে পরিখা খননের গুরুত্ব। বোমাবর্ষনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুজাহিদদের আত্মরক্ষা লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে তোরাবোরা পাহাড়ে করা পরিখাগুলো।

স্বাভাবিকভাবে এসব গর্ত ও পরিখাগুলো মুজাহিদদের আশ্রয়স্থল ছিল। আর প্রতিটি গর্তে ছিল লোহার একটি করে ছোট হিটার। যার নাম আফগানরা রেখেছে “বোখারা”। এই লোহার হিটারের সাহায্যে মুজাহিদগণ নিজেদেরকে শীত থেকে রক্ষা করতেন।

বড় শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় পরিখা খননের আসবাব সামগ্রীর গুরুত্বটিও এখান থেকে ফুঠে উঠেছে। তাই একজন নেতার দায়িত্ব হলো – তার সাথীদেরকে পরিখা খননের প্রশিক্ষণ দেয়া। পাশাপাশি পরিখা খননের জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রের ব্যবস্থা করা।

সে সময়ে তোরাবোরা পাহাড়ে অল্প সময়ে প্রচুর পরিখা খননের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। ফলে মুজাহিদ ভাইয়েরা তোরাবোরা পাহাড়ের নিকটবর্তী গ্রামের আনসারি ভাইদের সহায়তা চান। আলহামদুলিল্লাহ, অল্প সময়েই পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিখা খনন করার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য “মাইন” পুঁতে রাখাকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

অষ্টম শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের অষ্টম শিক্ষা হলো – সাহায্য ও নুসরাতের জন্য লোক সংগ্রহ করা আর শত্রুর সারিকে ছত্রভঙ্গ করার লক্ষ্যে সম্পদ খরচ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। আর এই সম্পদ হবে মূলত যাকাতেরই অংশ বিশেষ।

প্রতিরোধ যুদ্ধের ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যয় করা কখনো কখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হয়ে দাড়ায়। আমাদের অবরুদ্ধ ভাইদের মধ্যে যাদের নিকট অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হতো, তাদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা পাঠানো হত। এই ক্ষেত্রে শাইখ রহিমাহুল্লাহ কোমলতার পরিচয় দিতেন। আমার স্মৃতিতে এখনো ভাসছে যে, শাইখ রহিমাহুল্লাহ একজনের জন্য নির্দিষ্ট অংকের সম্পদ পাঠিয়ে দূতকে বলে দিয়েছেন যে, ‘তুমি তাকে বলে দিও যে, এই অর্থ তার গ্রামের এতিমদের জন্য’।

নবম শিক্ষা

তোরাবোরা যুদ্ধের নবম শিক্ষাটিও সম্পদ সংশ্লিষ্ট। আর সেটা হলো – জিহাদের পক্ষাবলম্বী আনসারদেরকে আর্থিক সহায়তা করা। আমি পঞ্চম কিস্তিতে আমাদের সহায়তাকারী গ্রামটির গল্প উল্লেখ করেছি। শাইখ রহিমাহুল্লাহ সেই গ্রামবাসীদের থেকে জিহাদের উপর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন। সেই গ্রামবাসীরা তাদের পরিবার-পরিজনকে বোমা বিধ্বস্ত এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য শাইখ রহিমাহুল্লাহ থেকে সময় চেয়েছিলেন। তখন শাইখ রহিমাহুল্লাহ হিজরতকারী প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

দশম শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের দশম শিক্ষা হলো – বিরাট সংখ্যক আনসারকে জিহাদের জন্য সংগ্রহ করে রণাঙ্গন পর্যন্ত নিয়ে আসা। সম্ভব না হলে, কমপক্ষে তাদের শক্তিকে ফলপ্রসূ করা, যদিও তারা যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত না থাকে। আর এসবের জন্য আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।

আর এখান থেকেই আনসার ভাইদের ও ভবিষ্যত মুজাহিদদের শক্তিগুলোকে ফলপ্রসূ করার গুরুত্বটি উঠে আসে। কারণ শাইখ রহিমাহুল্লাহ ও তার মুজাহিদ ভাইদের জন্য যারা খেদমত করে গেছেন, তাদের বহু সংখ্যক তখন রণক্ষেত্রের বাইরে ছিলেন। তারা কঠিনতর পরিস্থিতির মধ্যেও বিরাট বিরাট খেদমত করে গেছেন।

মানুষের ভালোবাসা অর্জনের জন্য উত্তম পূর্ব ইতিহাস ও আদর্শ জীবন বৃত্তান্ত থাকার গুরুত্বটিও এখান থেকে ফুটে উঠেছে।

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা দান করেন ও তার প্রতি অন্যদের ভালোবাসা সৃষ্টি করেন। যে ব্যক্তি বিশৃংখলা করে বেড়াবে, অন্যায় আচরণ করবে, মানুষকে গালাগালি করবে, নেয়ামতের কদর করবে না এবং নাফরমানি করবে – সে কখনো মানুষের ভালোবাসা লাভ করতে পারবে না। আর এটিই বাস্তব।

প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে তা বহন করে আনা এবং তারপর তা গুদামজাত করে রসদের যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে আনসারী ভাইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আর এটি তো একেবারেই স্পষ্ট যে, যুদ্ধের মাঠে টিকে থাকা ও অবিচল থাকার অন্যতম একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে রসদ সরবরাহ জারি থাকা।

একাদশ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের একাদশ শিক্ষা হলো – শত্রুকে নসীহতের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, যদিও তারা সীমাহীন অপরাধী হয়।

শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ’র একবারের ঘটনা। তিনি প্রিয় শাইখ দ্বীন মুহাম্মদের জন্য নসীহাহ বার্তা পাঠান। কিন্তু দ্বীন মুহাম্মদ এই নসীহাহ বার্তা দেখে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এই উপদেশকে প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা অন্য আরেক শাইখ, শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ’র নসীহায় সাড়া দিয়ে ওয়াদা করেছিলেন যে, তার পক্ষ থেকে কোন ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা না করতে।

দ্বাদশ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের দ্বাদশ শিক্ষা হলো – মুজাহিদদের অবস্থান, তাদের আশ্রয় ঘাটি, মুজাহিদদের জনসংখ্যা, নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি – এসব যাবতীয় তথ্য শত্রুদের থেকে গোপন রাখার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

ত্রয়োদশ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের ত্রয়োদশ শিক্ষা হলো – শত্রুদের কৌশলের (তথা; তারা আত্মসমর্পণ করতে চাওয়া এবং নেতৃস্থানীয় মুজাহিদদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাওয়া) ধোঁকায় না পড়া। যেমন, মুনাফিকদের পক্ষ থেকে মুজাহিদদেরকে জাতিসংঘের কাছে আত্মসমর্পণ করার প্রস্তাব উত্থাপন, মুহাম্মদ জামানের পক্ষ থেকে শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ’কে আশ্রয় দান করা এবং নিরাপত্তা দান করার প্রস্তাব উত্থাপন – এ ধরণের ধোঁকার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

চতুর্দশ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের চতুর্দশ শিক্ষা হলো – মুজাহিদদের মাঝে নেতৃবৃন্দের উপস্থিত থাকা, মুজাহিদদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং কঠিন সময়ে মুজাহিদদের সাথে কাজে অংশগ্রহণ করা।

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো – ‘মুজাহিদ নেতৃবৃন্দ’ সাধারণ জনগণের সামনে আকিদা-বিশ্বাস, অবিচলতা, চারিত্রিক মাধুর্যতা এবং বিশ্বস্ততার উত্তম দৃষ্টান্ত হবেন।

একমাত্র নিষ্ঠা ও অবিচলতার সাথে নেতৃত্ব প্রদানের ফলে মুজাহিদ ও সাধারণ মুসলমানদের মাঝে অবিচলতা ও নিষ্ঠা তৈরী হবে। এর বিপরীত হলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। মিথ্যা, প্রতারণা ও গায়রে শরয়ী নেতৃত্ব প্রদান করা স্বয়ং নিজের জন্য ফেতনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। এমন নেতৃত্ব প্রত্যেক স্বার্থান্বেষীদের জন্য খারাপ আদর্শ হয়ে দাঁড়াবে। এটা তাদের নিজেদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে এবং মুজাহিদ ও সাধারণ মুসলমানের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করবে।

পঞ্চদশ শিক্ষা

তোরাবোরা পাহাড়ে আমাদের পঞ্চদশ শিক্ষা হলো –  বিভিন্ন গোত্র থেকে উপকৃত হওয়া – মুজাহিদদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি মুজাহিদরা বিভিন্ন গোত্রের নিষ্ঠাবান ও সৎ লোকদেরকে একত্র করতে পারে এবং তাদের পূর্বের অবস্থা জানতে পারে, তাহলে তারা (গোত্রের সদস্যরা) হয় মুজাহিদ হবে অথবা জিহাদের আনসার হবে।

পরিশেষে বলবো যে, তোরাবোরা পাহাড়ের স্মৃতিচারণ – মুসলিম উম্মাহ’র ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে আশা আকাংখার প্রেরণা ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলে মুসলিম উম্মাহকে এই সুসংবাদ দিচ্ছে যে, চল্লিশটি ক্রুসেড রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাটো বাহিনী তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েও তিনশত এর মত মুজাহিদকে পরাজিত করতে পারে নি। এমন নজির ইতিহাস এর আগে কখনো দেখেনি। ন্যাটো জোটের সহযোগিতায় ছিল – পাকিস্তান, সৌদিআরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং উপসাগরীয় ছোট ছোট রাষ্ট্রসহ আরো অন্যান্য ভাড়াটে ভিক্ষুক রাষ্ট্রসমুহ যারা বশ্যতা ও দাসত্বের জীবণকে বরণ করে নিয়েছে।

হে মুসলিম উম্মাহ!

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে নিজে আত্মসমর্পণ করা বা অন্যকে সমর্পণ করার কর্মপদ্ধতিগুলোকে ছুড়ে ফেলুন। ছুড়ে ফেলুন সেসব পাগড়ীওয়ালাদের কর্মপন্থাকে যারা আমেরিকান সৈন্যদলের সারিতে শামিল হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর বৈধতার ফতোয়া দিচ্ছে। যারা মুসলিম উম্মাহর দুর্বলতার অযুহাত দেখিয়ে বলছে যে, শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও রক্তপাতহীন আন্দোলনগুলো বুলেটের চেয়েও অধিক কার্যকর।

আমাদেরকে বাস্তবতা বুঝতে হবে। এসকল পাগড়ীওয়ালারা বিভিন্ন দেশে শরিয়তের শাসনকে মেনে না নিয়ে জনগনের শাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে এবং ঘোষণা করে যাচ্ছে যে, জাতীয়তাবাদের বন্ধন ইসলামী ভ্রাতৃত্বের চেয়েও উর্ধ্বে।

হে মুসলিম উম্মাহ!

আপনারা এসব ভ্রান্ত “মানহাজ ও মাসলাক”কে ছুড়ে ফেলুন। ক্রুসেডার ও তার ভাড়াটে সেনাদের হামলার মোকাবেলায় আপনারা এক কাতারে এসে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান।

হে মুসলিম উম্মাহ!

আপনারা একতাবদ্ধ হন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের থেকে সতর্ক থাকুন। জাতীয়তাবাদের ধ্বজাধারী এবং গোয়েন্দা বিভাগের লোকদেরকে নিজেদের ভাই হিসেবে গ্রহণ করা থেকে সতর্ক হন, কারণ এরাই জাতীয়তাবাদের সন্তান।

হে মুসলিম উম্মাহ!

আপনারা আমেরিকা ও তার ন্যাটো জোটের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হবেন না। তারা তো এক আল্লাহরই সৃষ্টি। তারা তো দুর্বল। তারা মৃত্যুকে ভয় পায় ও যন্ত্রণা অনুভব করে। পার্থিব হীন লোভ-লালসার পিছনে কুকুরের মত জিহবা বের করে হাঁপাতে থাকে।

আমেরিকা সকল মুসলিমকে দুটি শিবিরে ভাগ করেছে। এক. জঙ্গী ও উগ্র গোষ্ঠীর শিবির। দুই.শান্তি প্রিয় ও মানবতাবাদী গোষ্ঠীর শিবির। তাদের এই ভাগ দেখে আপনারা ভয় পাবেন না। আল্লাহর শপথ! তারা না পারে কাউকে মৃত্যু দিতে, আর না পারে কাউকে জীবন দান করতে। তারা কাউকে পুনরায় জীবিতও করতে পারে না।

হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তার আদেশে জঙ্গী গোষ্ঠী ও উগ্র গোষ্ঠী। শুনে রাখ হে কুফুরি শক্তি! আমেরিকার অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা সংঘবদ্ধ হচ্ছি, একতাবদ্ধ হচ্ছি। আমরা চাই – আমেরিকাসহ তার দোসররা আমাদের মাথার মূল্য কোটি ডলার নির্ধারন করবে। কারণ এতে আমাদের দ্বীনের প্রতি অবিচলতা ও আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই কেবল বৃদ্ধি পাবে, ইনশাআল্লাহ।

আমি এই বলে আলোচনার ইতি টানছি যে, শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছিলেন। তাকে নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়ে আমার ও আমাদের সাথীদের খুশি ও আনন্দের সীমা ছিল না। আলহামদুলিল্লাহ। আমি প্রথমে শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহকে সালাম দিয়েছি। দ্বিতীয়ত তাঁকে মুতানাব্বীর কবিতার একটি পঙক্তি বলে স্বাগত জানিয়েছি-

ولا اخصك في منجى بتهنئة * إذا سلمت فكل الناس قد سلموا

‘আমি আপনাকে শুধু নিরাপদে থাকার স্বাগত জানাইনি।

বরং যেহেতু আপনি নিরাপদে বেঁচে আছেন

তাই  এখন সকল মানুষ নিরাপদে বেঁচে থাকবে’।

ربنا اغفر لنا ذنوبنا وإسرافنا في أمرنا وثبت أقدامنا وانصرنا على القوم الكافرين وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العلمين، وصلى الله على سيدنا محمد وأله وصحبه وسلم. والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

**********

১ এটি ‘জিরবা সিনাগগ’ নামে পরিচিত। তিউনিসিয়ার এক দ্বীপে ইহুদিদের গ্রামে অবস্থিত একটি উপসনালয়।

[2] ‘স্পিনঘর’ – পশতুভাষায় বরফের পাহাড় চূড়াকে ‘স্পিনঘর’ বলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Important | অচিরেই আসছে… || ‍‌‌‌’জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ’ সম্পর্কে প্রচলিত আপত্তির জবাব || আল হিকমাহ মিডিয়া

অচিরেই আসছে… ‍‌‌‌’জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ’ সম্পর্কে প্রচলিত আপত্তির জবাব মূল ভাই আবু আব্দুল্লাহ আল-মায়াফিরী অনুবাদ ...