সর্বশেষ
সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / বিষয় / আকিদা-মানহাজ / গুরুত্বপূর্ণ বই || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ || আল ফজর বাংলা কর্তৃক পরিবেশিত

গুরুত্বপূর্ণ বই || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ || আল ফজর বাংলা কর্তৃক পরিবেশিত

গুরুত্বপূর্ণ বই
গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ

সংকলন
মাওলানা ইবরাহীম হুসাইন দাঃ বাঃ

আল ফজর বাংলা কর্তৃক পরিবেশিত

ডাউনলোড করুন
পিডিএফ

https://archive.org/download/Deoband…ocracy_pdf.pdf

ওয়ার্ড
https://archive.org/download/Deoband…crcay_pdf.docx

=========================

 

গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ

গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আলেম ও  মুফতীয়ানে কেরামের ফতওয়া এবং সুচিন্তিত মতামত সমূহ

সংকলন

মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন

السلام عليكم و رحمة الله وبركاته

আল্লাহ তায়ালার বিশেষ মেহেরবানী এবং করুণায় মহামারী ফিতনা ও বর্তমান সময়ের মূর্তিসমূহের মধ্যে একটি মূর্তি –  গণতন্ত্র কে প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে উলামায়ে দেওবন্দের ফতওয়া এবং লিখনী একত্রিত করার তৌফিক দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সকল বিষয়ের তথ্যসূত্র বিশেষভাবে উল্লেখ করার ব্যাপারে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তবু মানুষ হিসেবে আমরা ভুলত্রুটির উর্ধ্বে নই। তাই ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে আহলে ইলমরা সংশোধন করে দিবেন।

আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি তিনি যেন অসীম দয়ায় আমার  মত  নগন্য  অধমের এ  ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবুল করে সকলের জন্যে উপকারী বানিয়ে দেন। আমীন, ইয়া রব্বাল আ’লামীন।

ইব্রাহিম হুসাইন
শাওয়াল, ১৪৩৯

গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আলেম ও  মুফতীয়ানে কেরামের ফতওয়া এবং সুচিন্তিত মতামত সমূহ

ইমাম নুরুল হুদা হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ আনোয়ার (রহিমাহুল্লাহ)

বর্তমানে ইসলামী গণতন্ত্র  এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের অনেক আলোচনা পর্যালোচনা হয়, সংবাদপত্রে বড় বড় শিরোনামে কলাম ছাপা হয়। প্রকৃতপক্ষে দুটোই ইসলামী রীতিনীতির বিরোধী। যে ব্যক্তি ইসলামের ক্ষেত্রে গনতন্ত্রের পরিভাষা ব্যবহার করতে চায় সে আসলে ইসলামকেই পরিপূর্ণ রুপে বুঝতে পারেনি। আর যে ইসলামকে  সমাজতন্ত্রের সাথে মিলাতে চায় সে আসলে সমাজতন্ত্রের অসারতা অনুধাবন করতে পারেনি।

এ বিষয়টা বুঝানোর জন্য বলি, যদি ইসলামী গণতন্ত্র  এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের অনুসরণ চললে জীবনের সকল  কার্যপদ্ধতি ইসলাম মোতাবেকই হয়, ইসলামের মতাদর্শের বিরোধী না হয়  – তাহলে সে আদর্শকে ইসলামী গণতন্ত্র  এবং ইসলামী সমাজতন্ত্র নাম দেওয়ার কী প্রয়োজন?

তারা ইসলামী গণতন্ত্র এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের নামে রূপান্তরিত করে কী লাভ করতে চায়?

ইসলামের মত পবিত্র ও ধবধবে সাদা পরিষ্কার  কাপড়ে রূপান্তরিত করার দাগ কেন লাগাতে চায়?

সুতরাং সুস্পষ্ট কথা এটাই যে, ইসলামের ভাবধারা পশ্চিমা কুফরী গণতন্ত্রের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না, কমিউনিজমেরও কোন পরোয়া করে না।

ইসলাম তো কেবল আল্লাহ জাল্লা শানুহুর রাজত্বের প্রবক্তা।  তার  চির শাশ্বত বাণী হল:

ان الحکم الا اللہ

হুকুমত চলবে কেবল আল্লাহ তায়ালার। (সূরা ইউসুফ, ৪০)

ইসলামের মাঝে আসল  কাজ হল প্রতিনিধিত্ব এবং খেলাফতের দায়িত্ব পালন করা। ইসলামের নবী ﷺ -ও আল্লাহ তায়ালার হুকুম আহকামই বাস্তবায়ন করেছেন। নিজের চাহিদা ও খেয়াল খুশির অনুসরণ করেননি। একারণে তাঁর ﷺ আনীত জীবন ব্যবস্থা এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার উপর ছিল না,  বরং তা  ছিল আল্লাহর মনোনীত তাওহিদের মানদন্ডের উপর।

ইসলাম না সমাজতান্ত্রিক মতবাদকে সমর্থন করে, না ইউরোপের পুঁজিবাদের পরোয়া করে। ইসলাম এটাই শিখায় যে, সকলের অধিকার সঠিকভাবে আদায় করবে, কারো হক্ব নষ্ট না করবে না।

তিনি আরো বলেন,

আমাদের দেশে  কী ইসলামী আইন  বাস্তবায়িত হয়েছে?

আমাদের ধর্মীয়  রাজনৈতিক দলগুলো  সেই চৌষট্টি বছর ধরে এ ব্যর্থ পদ্ধতিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে, যার কিছু মাধ্যম হল:

সাংবাদিক সম্মেলন করে সাক্ষাৎকার দেওয়া, সমাবেশ করা, বিক্ষোভ মিছিল করা, ধর্মঘট পালন করা, দাবী আদায়ের আবদার জানানো, লং মার্চ করা,  সামাজিক বয়কট করা, অভ্যর্থনা দেওয়া, অমন্ত্রণ জানানো, ইফতার পার্টি করা, ঈদে মিলাদুন্নী পার্টি, ডিনার, নাইট পার্টি এছাড়াও কাফেরদের আবিষ্কৃত আরো কত  হাজারো রকমের পদ্ধতি। এগুলো বাদ দিয়ে অন্য কোন পন্থায় তারা পাকিস্তানে শরিয়ত বাস্তবায়নকে  অসম্ভব মনে করে।  এ ব্যর্থ পন্থাগুলোর মাধ্যমেই তারা এ রাজ্যে ইসলামী হুকুমত ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। ।

ایں خیال است محال است جنون

আসলে  এটা তাদের অসম্ভব  দিবাস্বপ্ন আর পাগলের  প্রলেপ  ছাড়া  আর  কিছইু না।

সূত্র- মাকালাত ওয়া ইরশাদাত- ৭১ পৃষ্ঠা, “ইসলামী গণতন্ত্র  এবং ইসলামী সমাজতন্ত্র” শিরোনামের আলোচনা।

মুফতী নিজামুদ্দিন শামজায়ী শহিদ রাহিমাহুল্লাহ

“আমি আপনাদের কাছে যে কথা পেশ করতে চাই তা হল, যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখনো তা ভোটের মাধ্যমে হবে না।  আপনি পশ্চিমাদের বানানো পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দল বানিয়ে গনতন্ত্রের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করতে চান? তাহলে শুনে রাখেন, পশ্চিমাদের বানানো পদ্ধতিতে  ভোটের মাধ্যমে দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে না। কেননা দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দুশমনরাই বেশি।  ফাসেক, ফাজেরদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অধিক। আর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর। এতে মাথা গণনা করা হয় মাথার মূল্যকে নয়। অর্থাৎ সকল মানুষকে একই পাল্লায় মাপা হয় তাদের যোগ্যতার বিবেচনা করা হয় না। যেহেতু মানুষের মাথা গণনা করা হয় সে হিসেবে পশ্চিমাদের বানানো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনো  ইসলাম কায়েম হবে না। যেমনিভাবে কখনো পেশাবের মাধ্যমে ওযু হবে না। মোটকথা, নাপাকের মাধ্যমে যেমনিভাবে, পবিত্রতা হাসিল হবে না তেমনিভাবে, অনৈসলামিক ও পশ্চিমাদের বানানো কুফরী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখন তা সেই একটি পদ্ধতিইে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্রহণ করেছেন। এটাই সেই জিহাদ যার মাধ্যমে এই দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে”।

সূত্র- মাসিক সানাবিল, করাচী, মে ২০১৩, ভলিউম ৮, পৃষ্ঠা ৩৩

“উলামায়ে কেরাম  নির্বাচন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলাম কায়েমের জন্য ৪৮ বছর ব্যয় করেছে, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি  এ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ৪৮ হাজার বছর ব্যয় করলেও ইসলাম কায়েম হবে না”।

সূত্র-খুতবাতে শামজাযী, পৃ.২০৩

মাওলানা  মুহাম্মদ হাকীম আখতার রাহিমাহুল্লাহ

ইসলামে গনতন্ত্রের কোন ভিত্তি নেই যে যেদিকে বেশি ভোট হবে সেটাকেই  গ্রহণ করা হবে। বরং ইসলাম নিজেই পরিপূর্ণ ধর্ম, সুতরাং সারা  দুনিয়াও যদি একদিকে হয়ে যায় তবু মুসলমান হিসেবে শুধু আল্লাহ তায়ালাকেই রব হিসেবে মানতে হবে।

যখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা পাহাড়ে নবুওয়্যাতের  ঘোষণা দিলেন, তখন ইলেকশন কিংবা ভোটের হিসাব করলে উনার পক্ষে কেউ ছিল না। নিজের কাছে শুধু নিজের ভোটটাই ছিল। তা সত্ত্বেও কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়্যাতের ঘোষণা থেকে এ চিন্তা করে  বসে গিয়েছিলেন যে, জনমত আমার বিপক্ষে, অধিকাংশের ভোট  আমার বিরুদ্ধে। তাই আমি আমার নবুওয়্যাতের ঘোষণা থেকে বিরত থাকি?”

সূত্র- খাযায়েনে মারেফাত ওয়া মুহাব্বত পৃ. ২০৯

মুফতি হামিদুল্লাহ জান সাহেব রাহিমাহুল্লাহ

“ইসলামি গণতান্ত্রিক পাকিস্তান নয়! বরং শুধু ইসলামি পাকিস্তান!

গণতন্ত্রের এ কুকুরকে এ কূপ থেকে বের করা হলে তবেই এ কূপ পবিত্র হবে, অন্যথায় হাজরো বালতি পানি বের করলে এ কূপ পবিত্র হবে না! “যত দিন এই গান্ধা গণতন্ত্র, ইংরেজ প্রদত্ত শাসনব্যবস্থা এই দেশে থাকবে, ততদিন এই কূপ পাক হতে পারে না। সর্বপ্রথম মৃত কুকুর এই কূপ থেকে বের করে ফেলতে হবে। তারপর এই পানি পাক হবে। যতক্ষণ মরা কুকুর পানিতে পরে থাকবে, হাজাত বালতি পানি বের করুন! আলিমগণ বসা আছেন, (আমি প্রশ্ন রাখছি) সেই কূপ কি পাক হতে পারে? হতে পারে না। সেই কূপ কি পাক হতে পারে?  হতে পারে না।

নারাজ হবেন না! আমি একটি মৌলিক কথা বলছি, সংক্ষিপ্ত কথা বলছি।

কুরআনে কারিমের মাঝে আল্লাহ বলেছেন –

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللہ

তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পন্ডিত ও ধর্ম যাজকদেরকে রাব্ব বানিয়ে নিয়েছে… (সূরা তাওবাহ, ৩১)

এই আয়াতের ব্যাপারে হযরত আদি ইবনে হাতেম রাঃ জিজ্ঞাসা করেছেন-

তাফসিরে রুহুল মায়ানি উঠিয়ে দেখুন! তাফসিরে মাজহারী উঠিয়ে দেখুন! অন্যান্য তফসির উঠিয়ে দেখুন! আরবি না বুঝলে উর্দুতে হযরত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলবি রাহিমাহুল্লাহ এর তাফসিরে মায়ারিফুল কুরআন উঠিয়ে দেখুন!

যাইহোক হযরত আদি ইবনে হাতেম রাঃ জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আহলে কিতাবরা তো কখনো উলামাদের সামনে ইবাদত করতাম না। সেজদা দিতাম না। আমরা তো কখনো আমাদের পীরদের ইবাদত করতাম না। তাহলে আল্লাহ তাআলা কিভাবে বললেন যে,

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللہ

যে তারা তাঁদের পীরদের, মৌলবিদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করতো!

তো তারা কিভাবে রব বানাল? আমরা তো তাঁদের ইবাদত করিনি।

তখন হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন- হাদিস আছে- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- তারা শরীয়ত প্রণয়নের হক, হালালকে হারাম করা ও হারামকে হালাল করার হক পীর ও মৌলবিদের দিয়েছিল। অন্য ভাষায় আইন প্রণয়নের হক পীর ও মৌলবিদের দিয়েছিল। হারামকে হালাল সাব্যস্ত করে দেওয়া এবং হালালকে হারাম সাব্যস্ত করে দেওয়া, শরীয়ত প্রণয়নের হক, আইন প্রণয়ন, আইন তৈরির হক শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত।

إن الحكم إلا لله

বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। (সূরা ইউসুফ, ৪০)

কেউ বলবে ভোট আমানত, কেউ বলবে ভোট ওয়াকালত বা প্রতিনিধিত্ব। কেউ বলবে ভোট হচ্ছে সাক্ষ্য। ভোট যা কিছুই হোক, আমি এক একটি কথা জিজ্ঞাসা করছি – সাক্ষ্য দেওয়া হবে হকের ব্যাপারে যে বাতিল শাসনব্যবস্থা রয়েছে, তার সমর্থনে ভোট দেওয়া হল সেই বাতিল নেজামকে মেনে নেওয়া, এই বলা যে এই বাতিল শাসনব্যবস্থা সঠিক! আপনি (ভোটকে) শাহাদাত বলছেন! তো আমি শাহাদাত মানছি, আপনি ওয়াকালত বলছেন! তো আমি ওয়াকালত মানছি, আপনি আমানত বলছেন! তো আমি আমানতও মেনে নিচ্ছি। আপনি যাই বলতে চান বলুন! কিন্তু আপনি এটা বলুন যে,

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, এই নাপাক শাসনব্যবস্থা, ইংরেজদের দেওয়া শাসনব্যবস্থা! এটাকে কার্যকরভাবে মেনে নিবেন কি নিবেন না?

আমার মুহতারাম বুজুর্গ ভাই! কুরআন আইন প্রণয়ন ও বিধান প্রণয়নের ব্যাপারে ফায়সালা দিয়ে দিয়েছে।

মুসাল্লামুস সুবুত” এর ইবারত হচ্ছে-

أجمعت الأمة على أن الحاكم هو الله تعالى

উম্মাহ একমত হয়েছে যে, একমাত্র শাসক হচ্ছে আল্লাহ তাআলা।

মুজতাহিদও আইন প্রণয়নকারী নন। তিনি হচ্ছে শরঈ বিধিবিধানের ব্যাপারে পারদর্শী। তিনি শুধু বলে দেন, প্রণয়ন করেন না। আমরা বুজুর্গদের প্রতি সালাম পেশ করছি, আমরা বুজুর্গদের ইহতিরাম ও সম্মান করি। আমরা বুজুর্গদের প্রতি মন্দ ধারনা করি না। কিন্তু বুজুর্গদের এটাকে কিছু মৌলিক, কিছু অপরাগতা অথবা জরুরত বা ইজতিহাদি ভুল মনে করুন! যিনি যেই ব্যাখ্যা করুক, তিনি অংশ নিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু অভিজ্ঞতা এটাই প্রমান করে দেয় যে, এই হযরতদের এই চেষ্টা প্রচেষ্টা কামিয়াব হতে পারবে না। গণতান্ত্রিক পন্থায়।

সুতরাং

لا يلدغ المؤمن من جحر واحد مرتين

একজন মুমিন একই গর্তে দুইবার ধ্বংসিত হয়না।

পঞ্চাশ সালের চাইতে বেশি আমরা লোকদের কাছে ভোট চেয়েছি। লোকেরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, কখনো এমনও হয়েছে যে, আমাদের ৮৫ মেম্বার (সংসদ সদস্য) অর্জন হয়েছে। জাতীয় এসেম্বলিতে যথেষ্ট আধিক্য অর্জন হয়েছে। কিন্তু আপনারা দেখেছেন – কোন ইসলামী বিধানটা এসেছে?

তারা বলে যে, আমরা (ভোট/নির্বাচনের মাধ্যমে) প্রতিরক্ষা করছি, প্রতিরক্ষা কাকে বলে? নারী অধিকার বিল পাস হয়েছে। কেউ এটাকে প্রতিহত করতে পেরেছে? জবাব দিন! বলুন! শুধু (সংসদে কিছু) বলা তো উদ্দেশ্য নয়। প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য তো হচ্ছে কাজটাকে রুখে দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য কী, সেটা বুঝে নিন! প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য তো শুধুমাত্র বলা না! প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য তো হচ্ছে রুখে দেওয়া। কে রুখেছে সে বিলকে? পাস হয়েছে কিনা বলুন!?

আমি আরজ করবো, আল্লাহর ওয়াস্তে আগে বাস্তবতা বুঝুন! হে মৌলবিরা! তাওবা করুন! আমি বলছি, আমি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশ নিয়েছি। ৭০ সালে আমি মেম্বার (সংসদ সদস্য) ছিলাম। মাওলানা সদর শহীদও পাস হয়েছিলেন। ৬০ হাজারের ভোটের লিড পেয়ে পাস হয়েছেন। কিন্তু আমি পরিস্কার ভাষায় বলছি- আমি এই গুনাহ থেকে তাওবা করে নিয়েছি। আল্লাহ আমার তাওবা কবুল করুন! আপনাদের কাছে দরখাস্ত করছি, আপনারাও তাওবা করুন!

আসুন! খেলাফত শাসনব্যবস্থার জন্য আন্দোলনের মুল ভিত্তি অনুসারে ময়দানে আসুন!

কেন ঘাবড়াচ্ছেন? আসুন ময়দানে আসুন! দেখুন ইসলামী শাসনব্যবস্থা আসে কিনা! তো আমি শুধুমাত্র এটাই দরখাস্ত করবো এবং (দেশ) ইসলামী হবে কিন্তু কবে? যখন আপনারা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে ছুটি দিয়ে দিবেন। এবং এই নাপাক, এই মরা কুকুর আপনাদের কুপ থেকে তুলে ফেলতে হবে, তারপরেই আপনাদের পাক পানি ব্যবস্থা হবে।”

সূত্র- https://www.youtube.com/watch?v=Mx7E_2t4Qzg

মুফতি হামিদুল্লাহ জান সাহেব রহমাতুল্লাহ শরীয়তের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের অবস্থান এবং এর ক্ষতির দিক আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,

“গণতন্ত্র বিশৃঙ্খলার মূল শেকড়। যতক্ষণ পর্যন্ত এ দেশ থেকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা শেষ না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ দেশে ইসলাম কায়েমের কথা বলা অনর্থক হবে।

তিনি আরো বলেন,

এ দেশের আইনে যে পরিমাণ ধর্মহীনতা আছে আমরা এ রাষ্ট্রব্যবস্থা (গণতন্ত্র) দ্বারা কখনো তা নি:শেষ করতে পারব না। ইসলাম রক্ষার্থে যারা নিজেদের সংসদে থাকা জরুরী মনে করেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি এ শাসন ব্যবস্থার অনুগামী হয়ে ইসলাম রক্ষার কথা ভাবেন তাহলে তা রূপকথার গল্প বৈ কিছু হবে না।

অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, পাশ্চাত্যের এ গণতন্ত্র মূলত ধর্মহীনতা, অশ্লিলতা ও সকল বিশৃঙ্খলার মূল। বিশেষত সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ণের অধিকার দেয়া সরাসরি কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের এজমার বিরুদ্ধাচরণ।

আর ভোট দেয়া পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র ব্যবস্থাকে বাস্তবে মেনে নেয়া এবং সকল মন্দ কাজে শরীক হওয়ারই নামান্তর। এজন্য বর্তমানে পাশ্চাত্য ব্যবস্থার অনুগামী হয়ে ভোট দেয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে না জায়েয”।

সূত্র- শাইখের ভিডিও বয়ান।

মাওলানা ফজলে মুহাম্মদ দামাত বারাকাতুহুম

“ইসলামী শরয়ী শুরা এবং বর্তমানের গণতন্ত্রের পার্থক্য হল আসমান-যমীনের পার্থক্যের সমান। গণতন্ত্র তো হল পাশ্চাত্য শাসন ব্যবস্থার হৈ চৈ এর নাম। শরীয়তের শুরা ব্যবস্থার সাথে যার দূরতম সম্পর্ক নেই।”

সূত্র- “ইসলামী খেলাফত” -১১৭ নং পৃষ্ঠা

তিনি আরও লিখেন-

“গণ্যমান্য কিছু আলেমের বক্তব্য তো হল, ইসলামী গণতন্ত্র বলা তেমনি বোকামী হবে যেমন বোকামী হবে ইসলামী মদ বলা।”

সূত্র- ইসলামী খেলাফত- ১৭৬ নং পৃষ্ঠা

তিনি আরও বলেন-

“গণতন্ত্রে ইসলামের সামান্যতম চিহ্ন নেই। যে সকল রাষ্ট্র আমেরিকার ধ্বংসাত্মক কর্মে শরীক সে সকল রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু আছে। সুতরাং কাফের, মুশরিক, ইহুদী, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, অগ্নিপূজক, এবং নাস্তিকরা গণতন্ত্রকে ভাল মনে করে। পাকিস্তানের যে সকল দলের ইসলামের নাম শুনতে ভাল লাগে না তারা সকাল-সন্ধ্যা গণতন্ত্রের সুরে সুর মিলায়। যদি গণতন্ত্রে অনু পরিমাণও ইসলাম থাকত তাহলে ইসলামের ঘোর শত্রু কখনো গণতন্ত্রের নামও নিত না। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, গণতন্ত্রে ইসলামের সামান্যতম চিহ্ন নেই। উলামায়ে কেরামদের ভাল করে স্মরণ রাখতে হবে যে, গণতন্ত্রে ইসলাম তালাশ করা সময় অপচয় করা ছাড়া কিছুই না। کسے درصحن کا چی قلیہ جید اضاع العمر فی طلب للحال

ক্ষীরের পাত্রে বুট তালাশ করা সময় অপচয় ব্যতিত আর কিছু না।

কিছু লোক বলে, ইসলামী গণতন্ত্র। আসলে এমনটা বলা তেমনি হবে যেমন হবে ‘ইসলামী মদ’ বলা … ইসলামী বিশৃঙ্খলা” বলা।

সূত্র- ফিতনায়ে ইরতিদাদ ওয়া জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ- ১৩৯ পৃষ্ঠা।

খতমে নবুওয়তের আহবায়ক মাওলানা ইউসূফ লুধিয়ানভী রাহিমাহুল্লাহ

“কিছু কিছু ভুল চিন্তা-চেতনা জনগণের গ্রহণযোগ্যতা সনদ এমনি অর্জন করে যে, বড় বড় জ্ঞানী (এবং কিছু নামধারী আলেমও) এ গ্রহণযোগ্যতার সামনে মাথা নত করে দেয়। তারা হয়ত ভুলকে বুঝতেই পারে না অথবা যদিও বুঝতে পারে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন কিছু বলার সাহস রাখে না। পৃথিবীতে যে সকল বড় বড় ভুল প্রচলিত আছে সেগুলোর ক্ষেত্রে আজ জ্ঞানীজন দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকার। জনসাধারণের এ গ্রহণযোগ্যতার প্রভাব আজ গণতন্ত্রের উপর চলছে। বর্তমানে গণতন্ত্র সে বড় মূর্তির আকার ধারণ করেছে যার পূজা প্রথমে পাশ্চাত্যের বুদ্ধিজিবীরা শুরু করেছে। যেহেতু তারা আসমানী হেদায়েত থেকে বঞ্চিত তাই তাদের জ্ঞান অন্য শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে গণতন্ত্রের ভাস্কর্য নির্মান হাতে নিয়েছে। অতপর এটাকে আদর্শ রাষ্ট্র ব্যবস্থা বানিয়ে এর সিঙ্গায় এত জুড়ে ফুঁ দিয়েছে যাতে পুরো দুনিয়ায় এর খ্যাতি ছড়িয়ে পরে। এমনকি মুসলমানও পাশ্চাত্যের অনুসরণ করতে গিয়ে আজ গণতন্ত্রের তাসবীহ জপছে। কখনো বলে, ইসলাম গনতন্ত্রের অপর নাম। কখনো বা “ইসলামী গণতন্ত্র ” এর মত নাপাক পরিভাষা তৈরি করে। কিন্তু বাস্তবতা হল, পাশ্চাত্য আজ যে গণতন্ত্রের পূজারী ইসলামের সাথে তার সম্পক নেই শুধু তাই নয় বরং সেটা ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বিরোধী। এজন্য ইসলামের সাথে গণতন্ত্র বা এর কোন পরিভাষাকে মিলানো বা গণতন্ত্রকে ইসলামের চেয়ে ভাল মনে করা প্রকাশ্য ভুল বৈ কিছু নয়।

মোটকথা হল, গণতন্ত্রের শিরোনামে “মানুষের জন্য মানুষের আইন” এর যে শ্লোগান দেয়া হচ্ছে তা কেবল একটি প্রতারণা মাত্র। আর ইসলামের সাথে তাকে মিলানো প্রতারণার উপর প্রতারণা। বর্তমান গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। আর ইসলামের সাথেও গণতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই।’ضدان لایجتمعان’ (দুটি আগুন-পানির সম্পর্ক যা কখনো একত্র হতে পারে না।)”

শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহিমাহুল্লাহ

المدينة ذات اجتماع عظيم لا يمكن أن يتفق رأيھم جميعاعلى حفظ السنةالعادلة

শহর হল, মানুষের সমাগমের নাম। সুতরাং তাদের সকলের রায় সুন্নত মোতাবেক হওয়া অসম্ভব।

এর দ্বারা প্রতীয়মান হল, যে গণতন্ত্র ব্যবস্থা যা অধিকাংশের রায় একমত হওয়ার উপর নির্ভরশীল- এর মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানের সফলতা সাব্যস্ত করা ধোঁকা ব্যতিত আর কিছু না”।

সূত্র- হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, সিয়াসাতুল মাদিনাহ অধ্যায়

হাকীমুল ইসলাম কারী মুহাম্মদ তৈয়্যব কাসেমী রাহিমাহুল্লাহ

“এ গণতন্ত্রে আল্লাহ তায়ালার সীফত (গুণ) এর সাথেও শিরক হয় এবং সীফতে ইলমেও শিরক হয়।”

“সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ও শক্তিশালী মত।

গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে মাপা হয়, আর ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় শক্তিশালী মতকে মাপা হয়”।

তিনি আরও বলেন,

“এর দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে ফায়সালার মৌলিক ভিত্তি বানানোর মূল শেকড় উপরে ফেলা হয়। অর্থাৎ শুরা সদস্যদের নির্বাচিত আমীরের মত গ্রহণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যলগিষ্ঠের বিষয়কে গ্রহণ করা হবে না। বরং দলিলের মানকে গ্রহণ করা হবে। সুতরাং দলিলের মান মৌলিক বিষয়ের ভিত্তিতে হবে। অধিকাংশের মত একদিকে বেশি হওয়া ইসলামে হক ও বাতিল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন মৌলিক অবস্থান রাখে না। এজন্য ইসলামী আইনে সংখ্যাগরিষ্ঠকে কোন অবস্থানই দেইনি। ধর্ম, দেশ ও শাসন ব্যবস্থা ও  সততাসহ সকল ইসলামী বিষয়ে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠকে গ্রহণযোগ্য কোন পর্যায়ে রাখা হয়নি।

সুতরাং কুরআন দুনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর ঈমান, আকল, সত্য ভালবাসা, সঠিক বিষয়ে যাচাই, সচেতনতা, সুস্থ বোধ, অঙ্গিকার পূরণ, হেদায়াতকে অস্বীকার করেছে। আখেরাতে সওয়াবপ্রাপ্ত হওয়া এবং জান্নাতীর ভাগী হওয়াকেও অস্বীকার করেছে। জিহাদে সংখ্যাগরিষ্ঠের দাম্ভিকতার উপরও বিজয় ও সাহায্যের অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ব্যবহারিক দিক থেকেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মত হকের মাপকাঠি তো দূরের কথা বাতিলের মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকে। কেননা বাস্তবতা হল, দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ নির্বুদ্ধিতা, হক বিষয় গ্রহণে অপছন্দ করা, ধারণার অনুসরণ, উদাসিনতা, ওয়াদা খেলাফী, ভ্রান্তি, আখেরাতের শাস্তি, জাহান্নামবাসী হওয়া এবং পরাজিত হয়ে থাকে। এজন্য শুধু সংখ্যায় বেশি হওয়া ইসলামে কী গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে যে তাকে অধিকার বাস্তবায়নে মৌলিক সমাধান মানতে হবে এবং আমীরকে এর অনুসরণ করতে হবে”।

সূত্র- কারী মুহাম্মদ তৈয়্যব কাসেমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কৃত ফিতরি হুকুমাত

মাওলানা ইদরিস কান্ধলভী রাহিমাহুল্লাহ

“কোন শাসন ব্যবস্থা ইসলামী হওয়ার জন্য শুধু শাসক মুসলমান হওয়াই যথেষ্ট না। বরং যতক্ষণ না শাসন ব্যসস্থা হিসেবে দেশের আইন ইসলামী না হবে। যেমন বর্তমানে গোত্রিয় শাসন, গণতন্ত্র, ও জাতিয়তাবাদ শাসনের চর্চা হচ্ছে। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে ইসলামী বলা যাবে না। যে শাসন ব্যবস্থায় আল্লাহর ক্ষমতা এবং শরীয়তের আইনকে মেনে নেয় না বরং বলে, ক্ষমতা জনগণ ও শ্রশিকদের এবং রাষ্ট্রের আইন তাই হবে যা জনগণ নির্ধারণ করে……….. এ ধরণের শাসন ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে কুফুরী শাসন ব্যবস্থা

اِنِالْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِ (سورة یوسف ، ۴۰ )

ۭوَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ اَنْزَلَ اللّٰهُ فَاُولٰىِٕكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ ( سورة المائدة ، ۴۴ )

اَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُوْنَ ۭوَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللّٰهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُّوْقِنُوْنَ ( سورة المائدة ، ۵۰ )

সুতরাং যে ব্যক্তি বা দল শরীয়তের আইনের অনুসরণকে আবশ্যক মনে না করবে তার কুফুরীতে কী আর সন্দেহ বাকী থাকে! ঈমান হল মানার নাম আর কুফুর হল না মানার নাম”।

সূত্র- মাওলানা ইদরিস কান্ধলভী রাহিমাহুল্লাহ কৃত আকায়েদে ইসলাম

মুফতী মাহমুদ রাহিমাহুল্লাহ মেঙ্গুরা সোয়াতের এক উকিলের প্রশ্নের উত্তরে

“আমরা গণতন্ত্রের উপর অভিশাপ করি। এতে তো দুই পুরুষের মাঝেও বিবাহকে বৈধ করে। যেমনটা বৃটেন এ ব্যপারে অধিকাংশের মতের ভিত্তিতে বিল পাশ করেছে”।

সূত্র- ইসলামী খিলাফত- ১৭৭ পৃষ্ঠা

মাওলানা মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী রহ

“ইসলামে কোথাও এ গণতন্ত্রের ভিত্তি নেই (সুতরাং এটা একটি কুফুরী শাসন ব্যবস্থা) আর কোন সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এতে কোন কল্যাণের আশা করতে পারে না।”

সূত্র- ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়ার ২০ নং খন্ডের ৪১৫ নং পৃষ্ঠা

“হযরত শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী রাহিমাহুল্লাহ গণতন্ত্রের প্রতিহত স্বরূপ বলেন, সেখানে আইন-কানুনের মূল ভিত্তি দলিলের উপর নয় বরং সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর হয়। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর ফায়সালা হয়। সুতরাং সংখ্যাগরিষ্ঠের মত যদি কুরআন-হাদীসের বিরুদ্ধে হয় তাহলে তার উপরই ফায়সালা হবে। কুরআনে কারীম সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের অনুসরণকে ভ্রান্তির কারণ বলেছে, ،﴿وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَمَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ الآية﴾[১] জ্ঞানী-গুনী, সৎ ও বুদ্ধিমান লোকের সংখ্যা কমই হয়ে থাকে। চার খলিফা রাযিআল্লাহু আনহুম হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন। তাঁরা এর বিপরীতে অন্য কোন পথই গ্রহণ করেন নি”।

সূত্র- ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া খন্ড:৪ এর কিতাবুস সিয়াসাহ ওয়াল হিজরত, বাবে জমহুরী ও সিয়াসী তানযীমু কা বয়ান

“আজকাল গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য এটা যে, প্রত্যেক বালেগ পুরুষ-মহিলা, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বোধসম্পন্ন, মেধাহীনের ভোট দেয়ার অধিকার আছে এবং তাদের অধিকাংশের ভোটের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করা হয়ে থাকে। ইসলামে এ ধরনের গণতন্ত্রের কোন ভিত্তি নেই। আর কোন জ্ঞানী লোকও এতে কোন কল্যাণের আশা করতে পারে না। বাস্তবতা হল, অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত ও মুর্খ হয়ে থাকে। তারা এমন লোকদেরই ভোট দিবে যাদের দ্বারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার হবে। আর এটা সুনিশ্চিত যে, তাদের স্বার্থে মন্দের ভাগই বেশি থাকে। তাহলে মন্দের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে নেতা নির্বাচন করা কোন আকলের কথা হয়ে থাকে? এ দেশের অকল্যাণের কোথায় ঠিকানা হবে? যেখানের নেতা দলীল ও যোগ্যতা থেকে সরে চতুষ্পদ জন্তুতুল্য সাধারণ জনগনের সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর হয়ে থাকে”।

(সূত্র-ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১)

মুফতীয়ে আজম পাকিস্তান মাওলানা মুফতী রশীদ আহমেদ রাহিমাহুল্লাহ 

“ইসলামে পশ্চিমা গনতন্ত্রের কোন স্থান নাই। কেননা এতে বিভিন্ন দলমতে বিভক্ত হওয়া আবশ্যক। অথচ আল কুরআনে এবিষয়টাকে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

وَٱعْتَصِمُوا۟بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًاوَلَاتَفَرَّقُوا۟ ۚ(آل عمران : آیت ১০৩)۔

অনুবাদ: তোমরা  সকলে মিলে আল্লাহ তায়ালার রশ্মিকে আকঁড়ে ধরো , বিভিন্ন দলমতে বিভক্ত হয়ে যেও না।

গনতন্ত্রে অধিকাংশের রায়ের মাধ্যমে ফায়সালা করা হয়, অথচ আল কুরআনে এবিষয়টি থেকে  আল্লাহ  রাসূলকে কঠোর ভাবে  বারণ করেছেন।

وَإِنتُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّـهِ(الانعام: آیت ১১৬)۔

অনুবাদ: যদি আপনি যমিনের অধিকাংশের কথামত চলেন, তবে তারা আপনাকে  আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। (সূরা আল-আনআম, ১১৬)

ইউরোপ থেকে আমদানীকৃত  স্বভাব বিরোধী গনতন্ত্রে যার ভাগে ভোট বেশি পড়বে সেই ক্ষমতা লাভ করবে। অন্যরা ব্যর্থ হবে।

যেমন মনে করুন, ২জন প্রার্থী ভোটে দাঁড়াল একজন জ্ঞানী আলেম,  আরেকজন মুর্খ ফাসেক।

প্রথমজনকে সকল আলেম ও অন্যান্য ভাল লোকেরা ভোট দিল, ফলে সে ৫০ ভোট পেল, অন্যদিকে মুর্খ ফাসেককে  অন্যান্য কাফের ও ফাসেকরা ভোট দিল, ফলে সে ৫১ ভোট পেল। সুতরাং গনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী মুর্খ ফাসেকই  এলাকার নেতা নির্বাচিত হবে। এলাকায় তার প্রভাবই চলবে পক্ষান্তরে আলেমের কোন ক্ষমতা থাকবে না  কারো  উপর প্রভাব  খাটানোর। কেননা সে ১ ভোটের কারণে পাশ হয় নাই।

এসমস্ত অনৈতিক কার্যকলাপ, নোংরা ব্যবস্থাপনা পশ্চিমা গনতন্ত্রের চাল। ইসলামে এ ধরনের কুফুরী  ব্যবস্থাপনার কোন স¦ীকৃতি দেয় না।

সুতরাং পশ্চিমা গনতন্ত্রের পদ্ধতিতে কেয়ামত পর্যন্ত  ইসলামী নেজাম কায়েম হবে না।  একটি প্রসিদ্ধ কথা হল:

‘الجنس یمیل الی الجنس’

জাতি তার স্বজাতির  দিকেই ধাবিত হয়.অর্থাৎ সব জায়গায় যেহেতু মুর্খ, ফাসেক, কাফেরের সংখ্যাই বেশি সুতরাং তারা তাদের মত লোকদেরকেই নির্বাচিত করবে। এটাই গণতন্ত্রের চিরাচরিত ফলাফল।

পক্ষান্তরে ইসলামে রয়েছে সুন্দর শূরা ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে আহলে হাল্লি ওয়াল আকদী তথা যারা ইসলামী সুচিন্তিত ধর্মীয় বিষেজ্ঞ এবং  যে কোন কঠিন পরিস্তিতে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক  উপস্থিত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন ব্যক্তিরা পরামর্শ করে একজনকে আমীর নির্বাচন করবে। যেমনটা হযরত উমরে ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শহিদ হওয়ার পূর্বে ৬ সদস্যের  আহলে হাল্লি ওয়াল আকদীর এক শূরা বানিয়েছিলেন।

যারা ঐক্যমতে হযরত উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে খলিফা বানিয়েছিলেন।

ইসলামের এই সুন্দরতম ব্যবস্থাপনায়  শুধু মানুয়ের মাথা গণনা করা হয় না বরং মাথার সাথে ব্যক্তির যোগ্যতাকেই বিবেচনা করা হয়।এজন্য ইসলামে একজন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মতামত কোটি নির্বোধের মতামত থেকে শ্রেয় গন্য করা হয়।

যেমন দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছেন হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)কারো সাথে পরামর্শ ব্যতিতই  হযরত উমরে ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে পরবর্তী খলিফা ঘোষণা করেছেন। উনার একব্যক্তির নির্বাচন করাটাই কত শক্তিশালী ও পাহাড়ের চাইতেও ভারী ছিল। (মোটকথা, ইসলাম শুধু  সংখ্যাধিক্যতা প্রবক্তা নয়।)”

“গণতন্ত্র কে মাশওয়ারার মতই যারা মনে করে তারা এ কথাও বলতে শুরু করেছে যে ইসলাম মূলত গণতন্ত্রই।”কথাটা যতটুকু সহজ বিষয়টা ততটুকু সহজ না। প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পিছনে আলাদা একটি  মতাদর্শ কাজ করছে। যা দ্বীনে ইসলামের সাথে পরিপূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই উভয়টি এক সাথে এককদমও  চলতে পারে না।  এজন্যই  গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতাদর্শীদের সেকুলারিজমের  বিশ্বাসী হওয়া আবশ্যক।

সূত্র- আহসানুল ফাতওয়া, জিলদ ৬, ২৪ থেকে ২৬ পৃষ্ঠা এবং আহসানুল ফতওয়া, জিলদ ৬, ৯৪ পৃষ্ঠা

মুফতী মুহাম্মদ শফী রহিমাহুল্লাহ

“বর্তমানে গনতন্ত্রের যে পদ্ধতিতে  নেতা হয় সেটাই জুলুম অত্যাচারের পন্থা।  সুতরাং তারা ক্ষমতায় এসে কিভাবে ইসলামী আইন কায়েম করবে? তারা এতটাই বদমেজাজী ও বিকৃত মানসিকতার হয় যার  ফলে আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা, সকল মানুয়ের রব, এবং আল্লাহ তায়ালার  প্রকৃত হুকুমত ও রাজত্বের কথা  মনেই করে না। বরং তারা মনে করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা হওয়াকেও আল্লাহ তায়ালার দান মনে করে”।

সূত্র- মুফতী মুহাম্মদ শফী রহিমাহুল্লাহ কৃত তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন

মুফতী আবু লুবাবা শাহ মানসুর দামাত বারাকাতুহুম

“প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক পন্থায় হুকুমত এটা না জ্ঞানের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিষয়, আর না আমলের ক্ষেত্রে উপকারী সাব্যস্ত হয়েছে। আর না স্বভাবগত বিষয়ের অনুযায়ী প্রমাণিত হয়েছে। বরং তা ইয়াহুদীদের বানানো একটা ষড়যন্ত্রের জাল।

সমাজতন্ত্রের বিলুপ্তির পর তার অনুরূপ আরেকটা মতাদর্শের সবক শিখাতে লাগল যেন ভবিষতে আবার ফায়দা হাসিল করতে পারে।

যেহেতেু সকলে একসাথে থাকলে অনেক শক্তিশালী থাকবে, যা তাদের  উদ্দেশ্য হাসিলে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তাই তারা দুনিয়ায় নতুন  গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে  শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। যা ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া  সৃষ্টি করবে ঐক্যের শক্তিকে নানা দলে উপদলে বিভক্ত করে  যুদ্ধের ময়দানে অবর্তীণ করবে। তাই এখন  সমাজতন্ত্রের  যুগ গিয়ে গনতন্ত্রের যুগের শুরু হয়েছে। এটিতে শুধু নেতার পরিবর্তন হবে কিন্তু নীতির কোর পরিবর্তন হবে না”।

সূত্র- আলেমী ইয়াহুদী তানযিমী- ১৯৭ পৃষ্ঠা, “জমহুরিয়্যাত ইয়াহুদী ইজাত”নামক আলোচনা,

দাজ্জাল… আলমি দাজ্জালি রিয়াসাত, ইবতেদা সে ইনতেহা তক- ২৩

হযরত আল্লামা  সাইয়্যেদ সোলাইমান নদভী রাহিমাহুল্লাহ

গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক মতাদর্শের সাথে ইসলামের কী সম্পর্ক? কিংবা ইসলামের খেলাফতের সাথেই কী সম্পর্ক? তথাকথিত বর্তমান প্রচলিত গণতন্ত্র ১৭শ শতাব্দীর পর  নব আবিষ্কিত হয়েছে।

আমরাতো ইসলামে কখনো পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মতাদর্শের  কোন দৃষ্টান্ত খুজে পাইনি, এমনিভাবে ইসলামী গনতন্ত্রের নাম নিশানাও পাইনি। আল্লামা ইকবাল রাহিমাহুল্লাহ ইসলামী জীবন ব্যবস্থাপনায়  গণতান্ত্রিক মতাদর্শকে কোন দৃষ্টিতে দেখতেন? তিনি এটাকে কুফরী মতাদর্শই মনে করতেন। আসলে গণতন্ত্রটা এক বিশেষ ইতিহাস এবং তাহজিবের ফসল। যা ইসলামী ইতিহাসের  সঙ্গে পুরাপুরি সাংঘর্ষিক”।

সূত্র- মাহনামাহ সাহেল করাচী, ২০০২ জুন মাস,  আল্লামা  সোলাইমান নদভী রাহিমাহুল্লাহ তত্ত্বাবধানে  মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ. কর্তৃক প্রকাশিত।

মাওলানা আবদুল হক হক্কানী রাহিমাহুল্লাহ  

“ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা যা নিজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের কারণে অন্যকিছু অমুখাপেক্ষী। সুতরাং ইসলামী  জীবনব্যবস্থাকে গণতন্ত্র  কিংবা সমাজতন্ত্রের সাথে মিলানো ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতারই দলিল। একথাতো সকলেই জানে যে, পশ্চিমা গনতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস মানা হয় জনগনকে। জনসাধারণ যেরকম চাবে সেরকমই আইন করা হবে। দেশের কোন প্রচলিত আইনও শুধু সংখ্যধিক্যতার মতামতের ধরুন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। আবার তারা চাইলেই  দ্বীন ধর্মের মানবতা বিবর্জিত আইন পাশ করাতে পারে।

সুতরাং এটা এমন ব্যবস্থাপনা যার সকল ক্ষমতার উৎস  জনগনকে,  মন্ত্রী এমপিরা শুধু জনগনের প্রতিনিধি করে।

গণতান্ত্রিক  জীবনব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি গণনা করা হয় তার যোগ্যতা দেখা হয় না, তাই সকলের ভোট সমমূল্যের। চাই সে সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি হোক কিংবা নিম্মমানের হোক। সুতরাং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কায়েম হওয়া জীবনব্যবস্থা বাহ্যিক দৃষ্টিতে জনগনের মুখপাত্র বানানো দেখা গেলেও বাস্তবতায় জনগনেরই সবচেয়ে বেশি অধিকার ক্ষুণ্য করা হয়।

যেহেতু পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত সকলের সামনেই আছে সুতরাং এটা কোন লুকোচুরির কথা নয়।  গণতান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থার ফলে জাতি ধ্বংস ও বরবাদীর কোন স্থরের মুখামুখি হয় নাই?

পক্ষান্তরে ইসলামে সকল ক্ষমতার উৎস সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা। খলিফা শুধু আহকামে ইলাহিকে বাস্তবায়ন করবে।

এছাড়াও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার নির্বাচন পদ্ধতি ইসলামের নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা শুরা সদস্যদের এই অধিকার নেই তারা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত করে দেওয়া কোন বিধানকে উপেক্ষা করে ফায়সালা করবে। শুরার সবকিছুই শরীয়ত মোতাবেক হতে হবে। একারণেই যখন কোন খলিফা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত আইন অনুযায়ী ফায়ছালা করে, তখন তার বিরোধিতা করা নাজায়েজ, বিদ্রোহ ঘোষণার শামিল।

সুতরাং ভাল করে স্মরণ রাখতে হবে, ইসলাম সর্বকালের জন্য পরিপূর্ণ এক পবিত্র জীবন বিধানের নাম। যার সাথে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার কোন তুলনাই হতে পারে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার বিবেক বুদ্ধিহীন ভোট পদ্ধতির মোকাবেলায় ইসলামে সুন্দরতম যৌক্তিক শুরার মাধ্যমে খলিফা নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই অপূর্ণাঙ্গ অযৌক্তিক সুস্থ রুচি বিবর্জিত গনতন্ত্রের ভোটাভোটির আশ্রয় নেওয়ার কোন মানে হয় না”।

সূত্র- মাওলানা আবদুল হক হক্কানী রাহিমাহুল্লাহ কৃত ফাতওয়া হাক্কানিয়াহ

শায়খুল হাদিস মাওলানা সাইয়্যেদ হুসাইন আহমেদ মাদানী রহিমাহুল্লাহ

“পাকিস্তানের মুসলমান যারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভায়ের মতই এমনিভাবে সারা দুনিয়ার আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মুসলমানদের সাথে একইরকম সম্পর্ক। কিন্তু ইউরোপিয়ানদের আবিস্কৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় মুসলিম অমুসলিম সকলকে একসমানই ধরা হয়। এবিষয়টার ব্যাপারে মাস্টার জিন্নাহ ও বারে বারে সুস্পষ্টরূপে আলোচনা করেছেন। এমনকি বিধানসভার সূচনালগ্নে এবিষয়ে আলোচনা করেছেন। সুতরাং পশ্চিমাদের এ ধরণের কুফরী  গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ইসলাম সমর্থন করে না”।

সূত্র- মাকতুবাতে শাইখুল ইসলাম এবং মাআরিফ ওয়া হাকায়িক

মাওলানা আশেকে এলাহী বুলন্দশহরী রাহিমাহুল্লাহ

“প্রচলিত গণতন্ত্র ও তার পরিচয়।

পূর্বের যমানায় রাজতন্ত্র চালু ছিল। যমানার ওলী এর নীতি মোতাবেক রাজতন্ত্র পাওয়া যায়। আরব ও অনারবে রাজাও ছিল। তাদের মধ্যে জালেমও ছিল আবার দয়ালু, ইনসাফগারও ছিল। কিন্তু রাজতন্ত্রের ইতিহাসে অধিকাংশ ইতিহাস যুলুমেরই পাওয়া যায়। ইউরোপ এ যুলুম থেকে বের হয়ে গণতন্ত্র চালু করে আর এর নাম দেয় জনগণের ক্ষমতা । সাধারণত এর কার্যাবলী সম্পর্কে সকলেরই ধারণা আছে। এ গণতন্ত্রের মূল কথা হল, সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দেয়া এবং কোন এক দলের কিছু লোককে ক্ষমতাসীন করা ব্যতীত আর কিছুই না। শিরোনাম থাকে যে অধিকাংশের মতকে নির্বাচনে গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনের জন্য বালেগ হওয়া শর্ত। কিন্তু এতে প্রার্থী আলেম হওয়া, দীনদার হওয়া এমনকি মুসলমান হওয়াও শর্ত না। মূর্খ, অশিক্ষিত পুরুষ, মহিলা সকলেই এতে প্রার্থী হতে পারে। কেউ কেউ কোন দল নির্বাচিত হয় আবার কেউ স্বতন্ত্র একা নির্বাচন করে। তাদের কেউ কেউ আবার এমনও থাকে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, ইসলামের আইন হদ ও কিসাসকে জুলুম বলে- যার কারণে তারা কাফেরও হয়ে যায়। আর নির্বাচনে দল, নেতা এবং টাকার জোরে ভোটাররাও সাধারণত এমন হয়ে যায় যারা দীনে ইসলামের উদ্দেশ্য বুঝে না যার কারণে মূর্খ, ইসলাম বিদ্বেষী, যিন্দিকও নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসন পেয়ে যায়। যে ব্যক্তির পক্ষে ভোট বেশি আসবে সেই নির্বাচিত হবে। যদি কোন আসনে এগারজন প্রার্থী থাকে এবং তাদের দশজন ১৫টি ভোট পায় আর একজন ১৬টি ভোট পায় তাহলে তাকে জয়ী মনে করা হয়। এবং বলে থাকে যে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর সে নির্বাচিত হয়েছে। অথচ তার বিপক্ষে ১৫০ জন ভোট ছিল তাকে ভোট দেয়নি। ১৬ ব্যক্তির ভোটের গণনা করে ১৫০ লোকের মতকে গ্রাহ্য করা হল না। ১৫০ লোকের মতকে জলে ভাসিয়ে ১৬ জনের মতকে গ্রহণ করা হল আর এর নাম হল গণতন্ত্র। অতঃপর সংসদের যেই দলের সদস্য বেশি হয় তাদেরই ক্ষমতা হয়। আর তারাই সংসদে আসে। আর এভাবেই পুরো রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিছু লোকের হাতে চলে যায়। কিছু লোক সকলের পক্ষ থেকে সংবিধানে পুরোপুরি অধিকার নিয়ে নেয় এবং সাদা-কালো সবকিছুর মালিক হয়ে যায়। এমনকি দলের যে সকল লোক কোন একটি বিষয়ে একমত না হয় তাদেরকেও সংসদে মুয়াফেক বলতে হয়। নিজের ব্যক্তিগত মতকেও তারা কুরবানী দিয়ে দেয়। এটা হল গণতন্ত্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠের হাকীকত।

বলা হয়, ইসলামে গণতন্ত্র আছে। যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা হয় যে, ইসলামের পরামর্শের একটি অবস্থান আছে তাহলে এ কথা ঠিক। তবে তার অবস্থান সে রকমই যে রকম উপরে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু সারা দেশে নির্বাচনে প্রাপ্তবয়স্ক সকলে ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে এর উপর ভিত্তি করে সকল জ্ঞানী, মূর্খ ভোটার হবে এবং অধিকাংশ ভোটের উপর ফায়সালা হবে- ইসলামে এমন গণতন্ত্রের কোন অবস্থান নেই।

কিছু জ্ঞানী আছে আবার কিছু মূর্খ আছে যারা ভুলের স্বীকার হয়ে ইসলামের কথা মানতে নারাজ। তারা বলে, আমরা অনেক মেহনত করে গণতন্ত্র এনেছি এখন এর বিরুদ্ধে কিভাবে বলব? তাদের আমদানীকৃত গণতন্ত্র একেবারে মূর্খের গণতন্ত্র, ইসলামের সাথে যার দূরতম সম্পর্ক নেই। নির্বাচনে যেই কোনভাবে পাশ করবে গণতন্ত্র মূর্খের মত তাকে মানতে বাধ্য হয়ে যায়। আর বলে যে, এখন আর কী করার! যেহেতু সে নির্বাচিত হয়েই গেছে, জনগণের মতকে আর কিভাবে বাদ দেয়া যাবে। আইনের অনুগত কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা বা চলার চেষ্টা করারও অনুমতি নেই।

খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের নির্বাচন করার পদ্ধতি কখনোই সারা দেশে ইলেকশনের মাধ্যমে হয় নি।

এমনকি সকল সাহাবায়ে কেরামও (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শরিক ছিলেন না। এমনিভাবে, পুরা মদিনাবাসীও অংশগ্রহণ করেন নি। বরং কিছু শুরা সদস্যরা নির্বাচন করার পর সকলে বিনাবাক্যে মেনে নিয়েছেন। বর্তমানে কিছু নামধারী জাহিল মুসলিম বিট্রিশদের গণতান্ত্রিক জাহিলী জীবন ব্যবস্থার অযৌক্তিক নির্বাচনকেই শাসক নিয়োগের সঠিক ও যথার্থ পন্থা মনে করছে। পক্ষান্তরে সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ী নীতিমালা অনুযায়ী শাসক নির্বাচনকে ভুল ও ভ্রান্ত্র সাবস্ত করছে। (নাউযুবিল্লাহ) এবিষয়টি এতই গ্রহণীয় ও সুস্পষ্ট যার ফলে এসমস্ত নাদান, মূর্খদের মতামতকে খন্ডন করার কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না। কিন্তু আমরা তাদেরকে এ বিষয়টাও জানিয়ে দিতে চাই, যে তাদের এই সমালোচনাটা আল্লাহ তায়ালার উপর বর্তায়। কেননা আল্লাহ তায়ালা সুরা তওবার একশত নাম্বার আয়াতে মুহাজিরীন এবং আনসার ও যারা আল্লাহ ভীতির সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, তাদের পরিচয় দিয়ে তাদের উপর রাজি খুশি হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। رضی اللّٰہ عنھم و رضواعنہ

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন তারাও আল্লাহ তায়ালার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে।

এখন যদি আপনাদের কথা মেনে নেই যে, সাহাবায়ে কেরাম ইসলামকে বুঝতে পারেন নাই যার কারণে আমেরিকানদের নির্বাচন পদ্ধতিতে হয় নাই। সুতরাং তাদের পরে এমন কারা আছে যারা ইসলামকে এবং ইসলামের চাহিদাকে অধিক বুঝতে পারবে??

এমনিভাবে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

علیکم بسنتی و سنۃ الخلفاءالراشدین المھدیین (رواہ ابو داؤد الترمذی

অনুবাদ: তোমাদের জন্য আবশ্যক হল আদর্শ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা।

এখন যদি ঐসমস্ত হযরতদের নির্বাচন ঠিক না হয়ে থাকে তাহলে-তো খোলাফায়ে  রাশিদ্বীনই সাবস্ত হবে না। এখন যদি এসমস্ত জাহেলদের কথা মেনে নেই, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় হযরত সাহাবায়ে কেরাম দুশমনদের পদ্ধতি গ্রহণ না করায় কোন খোলাফায়ে রাশিদ্বীন হয় নি। (নাউযুবিল্লাহ)

সুতরাং এধরনের বিকৃতি পরিবর্তন সরাসরি ইমানের চাহিদার বিরোধী।

কাফের ফাসেকরা যে বিশেষ ধরন আকৃতির পোশাক পরিধান করা, তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, রাজনীতির ক্ষেত্রে জাহিলী গণতন্ত্রকে আঁকড়ে ধরা, কাফেরদের বানানো আইন কানুন মেনে নেওয়া এবং তাদের রচিত সংবিধান দিয়ে বিচার ফায়সালা করা এ সব কিছু আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী”।

সূত্র- তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান: ১ম খণ্ড

মাওলানা আসেম উমর সাহেব হাফিজাহুল্লাহ

গণতন্ত্রের ফেতনা আল্লাহ তায়ালার মোকাবেলায় ঐ নেযামকে মাবুদ বানিয়ে দিয়েছে। আইন কানুন করার অধিকার আল্লাহ তায়ালা থেকে ঐ নেযামকে দিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বিধান মন্জুর করতে গণতন্ত্রের মুখাপেক্ষী বানিয়ে দিয়েছে। মুসলমানদের আল্লাজ তায়ালার ইবাদত থেকে বের করে গায়রুল্লাহ পূজারী বানিয়ে দিয়েছে। এটা এমন ভয়ানক অন্ধকারাছন্ন ফেতনা যাতে নিজের হাতকেও নিজের মনে হয় না। কোন ধরনের দলিল প্রমাণ বুঝে আসে না। যার কুফর বর্তমানে সীমাহীন ক্ষতিকর ও ইসলামের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা বলাও ভুল হবে না যে গণতন্ত্র শুধু একটা ফেতনাই নয় বরং সকল ফেতনার জন্মদাতা, মহামারী।

এই ইবলিশী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মুসলমানদের ফাঁদের ফেলার সাধারণ মাথার কোন কারসাজি নয় বরং এমন জেহেনের বিছানো জাল যাদের দেমাগে শয়তান আস্তানা গেড়েছে।

সুতরাং তারা ইসলামের পরিভাষা সমূহ, ইসলামি আকিদা বিশ্বাস, এবং মুসলমানদের মেজাজ নিয়ে গবেষণা করে গণতন্ত্রের পরিভাষা নির্ধারণ করেছে। যার ফলে বাহ্যিকভাবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয় না। এই চক্রান্তমূলক মিশনে তার পুরাপুরি সফলতা অর্জন করেছে। ফলে সাধারণ মুসলমানের সাথে সাথে অনেক উলামায়ে কেরামও ধোঁকার জালে আটকা পড়েছেন। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের দ্বীন ধর্ম সবকিছু হরণ করে নিয়েছে। কেননা গণতন্ত্রে যা কিছু ইসলামে সাথে মিলে তা ঠিক রাখা হয়েছে। আর যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোতে কৌশলে ইসলামের পরিভাষাসমূহ টুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বাহ্যিকভাবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয় না”।

সূত্র- “আদইয়ান কি জঙ্গ” বাংলায় “ইসলাম এবং গণতন্ত্র” নামে অনূদিত

মাওলানা সাইয়িদ আতাউল মুহসিন শাহ বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি

কোনো কবরকে সমস্যার সমাধানকারী মানা ও বিশ্বাস করা যদি শিরক হয়, তাহলে অন্য কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেমন, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ, পুঁজিবাদ, রাজতন্ত্র, কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম ইত্যাদি জীবন ব্যবস্থার কাছে সমস্যার সমাধান চাওয়া ইসলাম হতে পারে?

কবরে সেজদাকারী মুশরিক, পাথর, কাঠ এবং গাছকে সমস্যার সমাধানকারী ও প্রয়োজনপূরণকারী মানা শিরক। তাহলে গায়রুল্লাহর নেযামকে মানা কি ইসলাম ও তাওহিদ হতে পারে? ইসলামের কোথায় গণতন্ত্র আর কোথায় ভোট? কিংবা কোথায় সব মতবাদের সার্বজনীনতা? ইসলাম এধরনের মনমানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয় না, এর উপস্থিতিকেও মেনে নেয় না। ইসলাম শুধু আপনার কাছে পূর্ণ আনুগত্য কামনা করে, আপনার খেয়ালখুশির মতামতকে নয়। যেমন আল্লাহ বলেছেন..

من یطع الرسول فقد أطاع اللہ..

..যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তায়ালাই আনুগত্য করল। (সূরা নিসা, ৮০)

সূত্র- তাওহিদ ও সুন্নাত কনফারেন্সে প্রদত্ত ভাষণ, ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ বিট্রেন, সৌজন্য: সানাবিল করাচি।

বেফাকুল মাদারিস পাকিস্তানের চেয়্যারম্যান মাওলানা সালিমুল্লাহখান দামাত বারাকাতুহুম

শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা সালিমুল্লাহখান দামাত বারাকতুহুমকে জিজ্ঞাসা করা হল, নির্বাচনী রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিংবা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব কী না?

উত্তরে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বললেন না এটা সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাধ্যমেও ইসলাম কায়েম সম্ভব নয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রে সংখ্যাধিক্যতা ধর্তব্য হয়। সংখ্যাধিক্যতা কেবল মূর্খদেরই হয়ে থাকে, যারা দীনের গুরুত্বের ব্যাপারে উদাসীন।

ফলে তাদের দ্বারা কোন ভাল কাজ হওয়ার আশা করা যায় না”।

সূত্র- মাসিক পত্রিকা, সানাবিল করাচি, মে ২০১৩, সংখ্যা :১১    

মুফতী জারওয়ালী খান 

“গণতন্ত্রের চিরাচরিত নিয়ম হল যদি ২০জন বলে তারা ইসলাম চায় পক্ষান্তরে ৫জন বলে ইসলাম চায় তাহলে ২০জনের মত বেশি হওয়ায় সে অনুযায়ী ফায়সালা করা হবে। আরেকটি লজ্জাজনক বিষয় হল এখন মৌলবীরাও নিজেদের মজলিসে কোন বিষয়ে মতামত চেয়ে যেদিকে বেশি মত হয় সেদিকেই ফায়সালা করে দেয়। আমি বলি এটাতো বুশ এবং ব্রেয়ারদের অভ্যাস। আপনারা এটাকে কীভাবে দলিল হিসেবে পেশ করতে পারেন!!

جمہوریت “জমহুরিয়্যাত”  শব্দ  جمہرا “জমহুরা” থেকে নির্গত, যার অর্থ হল, আলোকিত বালুকণা। “জমহুর” দ্বারা অধিকাংশ মানুষ উদ্দেশ্য নয়।  জ্ঞানের সর্বস্বীকৃত নিদর্শন আলেমগণ এ বিষয়ে কিছু বলেন নি ।

এমনিভাবে, আলকুরআনে এসেছে,

أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِى حَكَمًا وَهُوَ الَّذِىٓ أَنزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتٰبَ مُفَصَّلًا ۚ وَالَّذِينَ ءَاتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُۥ مُنَزَّلٌ مِّن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ

তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না”। (সূরা আল-আনআম, ১১৪)

মুজাহিদুল ইসলাম লাল মসজিদের খতিব মাওলানা শহিদ আব্দুল আজিজ গাজি রহিমাহুল্লাহ

আমরা কুরআন সুন্নাহকে গুরুত্ব দেই না ইংরেজদের আইন কানুনকেই বেশি গুরুত্ব দেই। এ প্রতারণা করা হয় যে কোরআন সুন্নাহর অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়া হয়। ইসলামের মাঝে শুরা ব্যবস্থা আছে কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলাম ও শরিয়তবিরোধী। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা আল্লাহ তায়ালার হাকিমিয়্যাতকে অস্বীকার করে, এর ক্ষমতা জনগনকে প্রদান করে।

এই জন্য গণতান্ত্রিক নীতির পূজারি রাজনীতিবিদরা সারাদিন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাআল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বাদ দিয়ে জনগণ জনগণ জপতে থাকে যে জনগণ যেটা চাইবে তাই হবে। বাস্তবে এটাও একটা ধোঁকা ও প্রতারণা। কেননা তারা শুধু জনগণের ঐ দাবি মানবে যা মানলে দাজ্জালী ব্যবস্থাপনার প্রভুরা খুশি হয়। গণতন্ত্র তাগুতী ও দাজ্জালী নীতি।

কোন কোন উলামা হযরত এ দাবি করতে চায় যে পাকিস্তানে ইসলামি জীবন ব্যবস্থা অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। এটা চরম মিথ্যা কথা বরং বলা যায় কিছু বিষয়ের উপর ইসলামের লেভেল লাগানো হয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা বিট্রিশদের বানানো নিয়ম কানুনই”।

হযরত মাওলানা যাহিদ ইকবাল

“আসল কথা হল গণতান্ত্রিক পন্থা তথা নির্বাচন পদ্ধতি খেলাফত কায়েমের বাস্তবসম্মত পথ নয়।

তার কিছু কারণ নিম্মে তুলে ধরা হল:

১.গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হল জনগণের জন্য সরকার, জনগণের মাধ্যমেই সরকার, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যা ইসলামি ইসলামি ধ্যান ধারণার সাংঘর্ষিক। গণতন্ত্রে ইসলামি দলগুলো মানুষের কাছে ইসলাম বাস্তবায়নের জন্য ভোট চাওয়ার দাবীটা এমন হয়ে যায় যে, জনগণকে আইন কানুনের ব্যাপারে ইখতিয়ার দেওয়ার হয়। সে চাইলে জনগণের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। চাইলে ইসলামের  ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারে। অথচ জনগণকে এমন কথার অধিকার দেওয়া এবং কোন একটিকে বেঁচে নেওয়া ইসলামি রীতিনীতির সুস্পষ্ট বিরোধী।

২. পার্লামেন্টে জয়ী এবং অধিক রাজনৈতিক সদস্যদের উপর ভিত্তি করে আইন পাশ করা হয়। অতএব, যতদিন পর্যন্ত নামধারী ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য সংখ্যা বেশি না হবে ততদিন তারা কোন আইন পাশ করাতে পারবে না। তাই যতদিন পর্যন্ত নামধারী ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য সংখ্যা কম থাকবে ততদিন ইসলাম বিরোধী আইন পাশ করাকে মেনে নিতে হবে। আর তাদের এমন অধিকার মেনে নেওয়া সরাসরি ইসলাম বিরোধী।

৩. গণতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার সোনার হরিণ পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাতিল সংবিধানের নিয়ম কানুন মানার হলফ করা আবশ্যক। কেননা শপথ করা ব্যতীত কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়াতো দূরের কথা নির্বাচনই করতে পারবে না। আর গণতান্ত্রিক সংবিধানের হলফ করা শরিয়ত বিরোধী।

৪.নির্বাচনে বেশি ভোট পেয়ে যদি কোনভাবে ক্ষমতায় আসতেও পারে তাহলেও শুধুমাত্র ৫বছর হুকুমতের অধিকার পাবে।অবশ্য জনগণ চাইলে এর আগেও বিদায় করতে পারে। ক্ষমতাশীল দলের জন্য এ শর্ত মানা আবশ্যক। কেননা এগুলো হল গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। সুতরাং যদি ধরেও নেওয়া হয় কোন ইসলামি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে তবু তা ৫ বছরের বেশি স্থায়ী হবে না।

নির্ধারিত সময়ের পর পুনরায় ক্ষমতায় আসার লড়াই করতে হবে। জনগণকে আবার এই অধিকার দিতে হবে তারা কি শরিয়া মোতাবেক চলতে চায় নাকি কুফরী অনুযায়ী চলতে চায়। এমনটাও হতে পারে এর ফলে নাস্তিক সেক্যুলারদের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ হয়ে যাবে। যা ইজমায়ে উম্মাতের বিরোধী। কেননা ইসলামে খলিফা যতদিন পর্যন্ত যোগ্য থাকবে ততদিনই শরিয়াহ অনুযায়ী ক্ষমতা পরিচালনা করবেন।

৫. প্রত্যেক ব্যবস্থাপনার একটা মূল চিন্তাধারা থাকে। সেই ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পৌছাতে হলে সেই পদ্ধতিকেই গ্রহণ করতে হবে যা তার সাথে নির্দিষ্ট।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হল সেক্যুলারিজম। তার সাথে নির্দিষ্ট পদ্ধতি হল ভোটের নির্বাচন।

পক্ষান্তরে খেলাফতের মূল ভিত্তিই হল ইসলাম। খেলাফত ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি ও হল ইসলাম। সুতরাং বুদ্ধিমানের কাজ হল এটা বিবেচনা করা যে, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পর্যন্ত পৌছাতে পারবে না খেলাফত পর্যন্ত। ইসলামের সাথে যেমন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এছাড়াও অন্যান্য মতবাদ চলতে পারে না এমনিভাবে এগুলোর সাথেও ইসলামী খেলাফত চলতে পারে না। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, আরো যত তন্ত্রমন্ত্র আছে এসমস্ত পদ্ধতি দিয়েও ইসলাম কায়েম হবে না। ইসলামী খেলাফত কেবল ইসলামিক বিধি বিধানও ইসলামিক পন্থায়ই হবে। তাই শরিয়ত সম্মত পন্থা বাদ দিয়ে এসমস্ত বাতিল কুফরী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যর্থ চেষ্টা করা শরিয়ত সমর্থন করে না। এটা ফিতরাত, আকলেরও পরিপন্থী।

৬.  গণতন্ত্র পুঁজিবাদের একটি শাখা বলা যায়। এজন্য গণতন্ত্র ব্যবস্থার সাথে জড়িত হওয়ার দ্বারা শুধু গণতন্ত্রই করা হয় না বরং সমাজতন্ত্রকে শক্তিশালী ও মজবুত করা হয়। ইসলাম গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ কোনটাই সমর্থন করে না।

৭. গণতান্ত্রিক রাজনীতি এমনই এক ভয়ানক বিষয় একবার জড়িত হয়ে পড়লে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেননা যারা ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের মাঝে জড়িত হয়ে ইসলামি খেলাফত কায়েমের দিবাস্বপ্ন দেখে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক পন্থায় চালানো এই চেষ্টা প্রচেষ্টাকে প্রকৃতপক্ষে দ্বীন কায়েমের ফরজ আদায় করা মনে করে। এজন্যই তারা গণতান্ত্রিক পন্থা বাদ দিয়ে অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণ করাকে আবশ্যক মনে করে না। গণতান্ত্রিক পন্থা ব্যতীত অন্যকোন পদ্ধতিতে ইসলামি খেলাফত কায়েমকে অসম্ভব মনে করে।

৮.ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ থেকে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন মুসলিম দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় দল ইসলাম কায়েমের জন্য গণতান্ত্রিক পথ গ্রহণ করেছে। (যা কিছু প্রসঙ্গ পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে) তারা এর মাধ্যমে খুব প্রচেষ্টার চালিয়ে আসছে, আজও একই পথে চলছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই দলগুলো সম্পূর্ণভাবে কোন ভূখণ্ডে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কারণ গণতন্ত্র এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে ধর্মীয় দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারে না, অর্থাৎ ইসলামী ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃত্ব-শীল হতে পারে না। কেননা প্রকৃত গণতান্ত্রিক কাঠামো এমনইভাবে সাজানো যে এটির মাধ্যমে শুধু নেতৃবৃন্দ, সরদার, বড় ব্যবসায়ী,  বিনিয়োগকারী,  শিল্প কারখানার মালিক, দুর্নীতিবাজ মানুষই নির্বাচিত হবে। যারা সুদ ঘুষ, লুণ্ঠন, জালিয়াতি,  চুরি, ডাকাতি, কালোবাজারির মাধ্যমে অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে।

৯. যদি সব বাধার পাহাড় অতিক্রম করে কোন ধর্মীয় দলগুলো নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে, তবু তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথেই যুক্ত থাকবে হবে। গণতান্ত্রিক আইন কানুন দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। কারণ তারা ক্ষমতায় এসেছেই গণতান্ত্রিক পন্থায়। এই ক্ষেত্রে কতটুকু আর ধর্মীয় ইসলামিক জীবন ব্যবস্থাকে বাস্তবায়িত করতে পারবে? এছাড়াও সংবিধানের বেড়িতো গলায় ঝুলানো আছেই। যা নিয়ে কদম এদিকে সেদিকে করার কোন সুযোগ নাই। তবুও যদি কেউ গণতান্ত্রিক  মতাদর্শকে বাদ দিয়ে ইসলামী ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে চায়, তবে বিরোধী দল এবং গণতান্ত্রিক মোড়ল দাদারা তাকে কখনোই এই অনুমতি দিবে না। সুতরাং ধর্মীয় শক্তিগুলো ক্ষমতায় আসার আর কোন যৌক্তিকতাই বাকি থাকলো না। কেননা তাদের চেষ্টাটাও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির বিরোধী”।

সূত্র- “আসরে হাজের মে গলাবায়ে দ্বীন কা নববী তরিকা কার” “গণতান্ত্রিক পন্থা খেলাফত কায়েমের বাস্তবসম্মত পথ কি না?” শিরোনামের আলোচনা।

মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানী

“এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আমাদের দেশ ও অধিকাংশ দেশে গণতন্ত্রের যেই চিন্তাধারা রয়েছে তা মৌলিকভাবে ইসলামের বিপরীত। প্রচলিত গণতন্ত্র ও ইসলামি চিন্তাধারার মাঝে দুইটি মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

১. গনতন্ত্রের মাঝে জনগনকে আইন প্রণয়নকারী মানা হয়। জনগণের জন্য সকল প্রকার আইন তৈরির অধিকার থাকে। যেন হালাল-হারামের চাবি ও ভাল-মন্দের ফয়সালা তাদের হতে হয় যাদেরকে জনগণ নির্বাচন করেছে। এটি পুরোপুরি ইসলামী চিন্তাধারার বিপরীত। ইসলামী চিন্তাধারায় আইনের মূল উৎস হল কিতাবুল্লাহ (কোরআন) এবং সুন্নাতে রাসূল (হাদিস)। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ আইনের ব্যাখ্যাদাতা আইন প্রণেতা নয়। এবং এর ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার কেবল ঐসমস্ত লোকের রয়েছে যাদের কোরআন ও হাদীসের উপর যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। হাঁ তবে মাজলিসে শূরার জন্য বাস্তবায়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে আইন তৈরি ও পরামর্শের অধিকার রয়েছে। এটি খুব সূক্ষ্ম চিন্তাধারার মতানৈক্য”।

সূত্র- কিতাবুল ফাতওয়া  

মাওলানা নাজিব আঁকবার আবাদী

“গণতন্ত্রের নীতি মানব ক্ষমতাকে এমন স্বাধীন পন্থায় ছেড়ে দেয় ও এই পরিমাণ চরিত্রহীন বানাতে চায় যে, মানুষ আপন রবের পরিচয় ও আল্লাহ তা’আলার ইবাদাতের খেয়াল বেশিদিন পর্যন্ত হৃদয়ে বাকি রাখতে পারবে না। নিরেট গণতান্ত্রিক নীতি নাস্তিক্যবাদ ও ধর্ম হীনতার সবচেয়ে ভয়াবহ আন্দোলন। যেমনিভাবে মরুভূমিতে ফসল হওয়া, স্থলভাগে মাছ জীবিত থাকা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন ও দুষিত বায়ূর মাঝে মানুষ সুস্থ থাকা অসম্ভব তদ্রূপ নিরেট গণতান্ত্রিক নীতি দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রের অধীনে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, বাধ্যবাধকতা ও ইবাদতের ক্রমবিকাশ ঘটা ও অসম্ভব। এবং কোন ওহীর ধর্ম বেশি দিন স্থায়ী থাকবে না। গণতন্ত্র ইসলামী শিক্ষার পরিপূর্ণ বিপরীত ও বনি আদমের জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ জনক নীতি”।

সূত্র- তারিখে ইসলাম

মাওলানা হাফেজ আহমাদ

“পুঁজিবাদী গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করি, শিরক, পথভ্রষ্ঠতা, গোমরাহি, আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ অতি নিকৃষ্ট অত্যাচার ও সীমালঙ্ঘনের সমষ্টি মনে করি। আমরা এই নীতিকে তেমনি সম্পূর্ণ কুফরি বলি যেমন ইহুদীবাদ, খ্রিস্টবাদ, হিন্দুত্ব-বাদ, বৌদ্ধমতবাদ ও শিখ মতবাদকে সম্পূর্ণ কুফরি মতবাদ বলি।

অতঃপর তিনি ‘‘ইসলামী গণতন্ত্র’’ বলতে কিছু আছে কি না? এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন:

এর সোজা উত্তর তো এটিই যে, আমি প্রশ্ন করি ‘‘ইসলামী কুফর’’ বলতেও কি কিছু আছে? এটি স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, কোন বিবেকবান মানুষ এর প্রবক্তা হবে না। বাস্তবতা হল চিন্তা করার বিষয় এই যে আমাদের কোন পরিভাষার সাথে ‘‘ইসলামী’’ শব্দটা লাগানোর প্রয়োজন কেন পড়ে? কেননা তা মূলত ইসলামী নয়। অধিকাংশ পরিভাষা যেগুলোর সাথে ইসলামী এই শব্দটা যুক্ত হয় তা সন্দেহ যুক্ত হয়। যেমন: ‘‘ইসলামী ব্যাংকিংবব্যবস্থা’’,  ‘‘ইসলামী টিভি চ্যানেল’’, ‘‘ইসলামী গণতন্ত্র’’ ইত্যাদি। অতঃপর তুমি এটাও একটু ভেবে দেখ কেউ তোমাকে কি কখনো এটা বলেছে যে, ‘‘ইসলামী নামায’’, ‘‘ইসলামী হজ্ব’’, ‘‘ইসলামী জিহাদ’’? এখানে ইসলামী শব্দ ব্যবহারের প্রয়েজন নেই কেননা এ সব পরিভাষা ইসলামের মাঝে বিধানগতভাবেই বিদ্যমান আছে। কখনো কারো এই সংশয় হয় না যে, হজ্ব বলা হবে আর এর দ্বারা কোন ব্যক্তি গঙ্গায় স্নান করা বুঝবে অথবা বৈশাখী মেলার দিকে তাদের খেয়াল যাবে!। তাই যেখানেই এমন পরিভাষা পাওয়া যাবে সেখানে আবশ্যক হল বিলম্ব করা হবে এবং খুব চিন্তা ভাবনা করার পর তা ইসলামী হওয়ার ফয়সালা করা হবে।

ইসলামী গণতন্ত্ররও এমন একটি পরিভাষা যার মাঝে চিন্তা ভাবনা করা প্রয়োজন। অনেক বুদ্ধিজীবিদের বক্তব্য হল পশ্চিমা গণতন্ত্র ও এবং ইসলামী গণতন্ত্র দু’টি ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ।

কারো করো বক্তব্য হল (নাউযুবিল্লাহ) ইসলাম ও গণতন্ত্র একই মুদ্রার দু পিঠ।

এটি প্রতারণাপূর্ণ কথা। ইসলাম আমাদের খেলাফতের আকিদা শিখিয়েছে। আর খেলাফত ও গনতন্ত্রের মূলনীতি ও শাখাগত মাসআলার মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান বিদ্যমান। এর পরও শুধু শুধু ইসলামের খিলাফত নীতিকে গণতন্ত্র  রূপে বিশ্বাস করানো বা গণতন্ত্রকে হুবহু ইসলামী নীতি সাব্যস্ত করার নাটক সাজানোর কি কারণ রয়েছে। গণতন্ত্রের আবিষ্কার ও সৃষ্টি পশ্চিমা বিশ্ব। ঐতিহাসিক ভাবে সাব্যস্ত যে, এটি ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে পাঁচ ছয়শত বছর বিদ্যমান ছিল। গ্রীক সভ্যতায় গণতন্ত্রের প্রচলন হয় অতঃপর পশ্চিমা বিশ্বে তার পুনরায় প্রচলন ঘটে।

একটি কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে যে, কোন ধর্মীয় সমাজে কখনো গণতন্ত্রের প্রচলন হয়নি বরং আল্লাদ্রোহী সমাজেইে এর প্রচলন হয়। এই নীতিকে ঐ সমাজই গ্রহণ করেছে যারা আল্লাহ তা’আলা ও আম্বিয়া আলাইহি ওয়াসাল্লামদের অস্বীকারকারী সমাজ হিসেবে প্রচলিত ছিল।

সুতরাং যখন গণতন্ত্রের ব্যাপারে জানা গেল যে ইসলামের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই আর এটা কোন ইসলামী পরিভাষা নয় বরং কুফরী পরিভাষা। তাহলে এর ব্যবহার কিভাবে জায়েজ হবে? উলামাগন লিখেন যে ঐ শব্দ যার মাঝে কোন দিক থেকে কুফরির অর্থ পাওয়া যায় তা যদি মূলত মুবাহ (বৈধ)ও হয় তবুও তার ব্যবহার না জায়েয”।

সূত্র- সার মায়াদারানাহ জমহুরি নেজাম কি শরঈ হাইসিয়াত

মাওলানা মুহাম্মাদ হুযাইফা ওয়াস্তানাবী

“হায় আল্লাহ! এটি কেমন ব্যাপার যে মানব শত্রুরা এতো সব কিছু করার পরও থামেনি রাজনীতিকেও নিজেদের চক্রান্তের জালে আবদ্ধ করেছে। এবং এই কাল্পনিক মূর্তি দাড় করিয়েছে যে, রাজনীতি ও ধর্ম আলাদা আলাদা বস্তু। সুতরাং মানুষের রাজনৈতিক সফলতা কেবল  গনতন্ত্রের মাঝেই নিহিত আছে।

আর নাউযুবিল্লাহ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আল্লাহ তা’আলার দেওয়া নীতিমালার কোন প্রয়োজন নেই। আর শরীয়তের স্থানে পার্লামেন্টকে হালাল হারামের ঠিকাদারী দিয়ে দিয়েছে।

সুতরাং হল এটাই যে পার্লামেন্টে উপস্থিত নাস্তিক্য চিন্তাধারার অধিকারি গ্রুপ মদ্যপান, জুয়াখেলা, বস্তুপূজাকে হালাল সাব্যস্ত করেছে। এবং ইসলামের ছোট থেকে ছোট আভিজাত্যকেও নিঃশেষ করে দিয়েছে।

আকীদা হরণের পর গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাজনীতিকেও নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নিয়েছে। আর অবশেষে জীবনপরিক্রমা ও জীবিকামাধ্যমকে কমার্শিয়াল পদ্ধতিতে নিজেদের অধীনে নিয়ে যায়”।

মাওলানা আবদুল হক হক্কানী রাহিমাহুল্লাহ

ইসলাম এমন এক জীবন ব্যবস্থা যা স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের কারণে অন্য সকল ব্যবস্থাপনা থেকে অমুখাপেক্ষী।

সুতরাং ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থা কিংবা অন্যকোন মতবাদের সাথে মিলানো ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতারই দলিল। একথা-তো সকলেরই জানা যে, ইসলামে সকল ক্ষমতার উৎস হলেন আল্লাহ তায়ালা। পক্ষান্তরে গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস মানা হয় জনগণকে। জনসাধারণের রুচির আধিক্যতার উপর ভিত্তি করে আইন রচনা করা হয়। দেশের কোন প্রচলিত আইনও শুধু সংখ্যাধিক্যতার মতামতের ধরুন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। আবার তারা চাইলে দ্বীন ধর্মের বিরোধী আইনও পাশ করাতে পারে। সুতরাং এটা এমন ব্যবস্থাপনা যাতে ক্ষমতার কল-কাঠি থাকে জনগণের হাতে। আর মন্ত্রী এমপিরা তাদের প্রতিনিধি করে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় শুধু সংখ্যা গণনা করা হয়। তাদের কোন যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় না।

তাই ভোটের ক্ষেত্রে সকলেই সমান। চাই সে গণ্যমান্য ব্যক্তি হোক কিংবা নিম্মমানের হোক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় এমপি মন্ত্রীদেরকে বাহ্যিকভাবে, জনগণের প্রতিনিধি বানানো মনে হলেও বাস্তবতায় জনগণেরই বেশি অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

এ ব্যাপারটা বুঝার জন্য পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত সকলের সামনেই আছে। এটা কোন লুকোচুরির কথা নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার ফলে জাতি অধঃপতনের কোন সিঁড়ি অতিক্রম করেনি?

পক্ষান্তরে ইসলামের বিধান হল সৃষ্টি যার বিধান চলবে তাঁর। খলিফা শুধু আহকামে ইলাহিকে বাস্তবায়ন করবে। এছাড়াও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার শাসক নির্বাচন আর ইসলামিক ব্যবস্থাপনায় খলিফা নিয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কেননা শুরা সদস্যদের এই অধিকার নেই, তারা আল্লাহ তায়ালার বিধানের বিপরীত পরামর্শ দিবে। এমনিভাবে খলিফার ও আল্লাহ তায়ালার ফায়সালাকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।

যদি কোন খলিফা আল্লাহর সীমাকে অতিক্রম করে তাহলে তাঁর আনুগত্য করা যাবে না। অন্যথায় খলিফার বিরোধিতা করা নাজায়েজ, বিদ্রোহ ঘোষণার শামিল। (আল আহকামুস সুলতানিয়্যাহ ৫৪)

সুতরাং সৃষ্টি যার আইন শুধু তারই চলবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

(1) إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ(سورۃالانعام آیت 75 ،سورۃ یوسف آیت 40/67

অনুবাদ: বিধান দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার

إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ( سورۃ البقرۃ  آیت 30)

অনুবাদ:আমি পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছি

أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ( سورۃ الاعراف آیت   54)

অনুবাদ: সৃষ্টি যার আইন শুধু তারই চলবে।

সুতরাং ভাল করে স্মরণ রাখতে হবে ইসলাম সর্বকালের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। যার সাথে পশ্চিমা বিবেক বুদ্ধিহীন কুফরী গণতন্ত্রের কোন তুলনাই হয় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অযৌক্তিক ভোট পদ্ধতির মোকাবেলায় ইসলামে সুযৌক্তিক শুরা ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন:

قولہ تعالیٰ : وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَاعَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللّہ ( سورۃآل عمران آیت 159)

আপনি তাদের সাথে কাজ কর্মের ব্যাপারে পরামর্শ করুন। তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করুন।

তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নোংরামিকে ছুড়ে ফেলে ইসলামের শুরা ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরতে হবে”।

সূত্র- ফাতাওয়া হাক্কানিয়াহ- জিলদ-২, ৩৫৪ পৃষ্ঠা

হাকিম মুহাম্মদ জাফর বলেছেন:

“বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে গণতন্ত্রের বাড়বসন্ত চলছে। ফলে সেই গণতন্ত্রের মরীচিকায় আওয়াম ও খাওয়াসের সাথে সাথে কিছু উলামায়ে কেরামও ইসলামের উপর গণতন্ত্রের লেভেল লাগিয়ে গণতন্ত্রের ব্যবস্থাপনাকে ইসলামী ব্যবস্থাপনার মতই সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করছে। কুফরী গণতন্ত্রকে ইসলামী গণতন্ত্রবলে অভিহিত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়।  ইসলামী হুকুমত ব্যবস্থাপনা এটা না জোর জবরদস্তিমূলত না আধিক্যকতার ভিত্তিতে আর না প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্য মতবাদের মত।

বরং ইসলামী হুকুমত ব্যবস্থাপনা হল শুরা তথা পরামর্শমূলক।  শুরার দ্বারা উদ্দেশ্য হল গুরুত্বপূর্ণ কাজে আহলে হাল্লী ওয়াল আকদী (তথা ইসলামী সুগভীর জ্ঞানে পারদর্শী যে কোন পরিস্থিতি কুরআন সন্নাহ মোতাবেক সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে) ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করা।

কিন্তু এ পরামর্শের পর খলিফার পূর্ণ ইখতিয়ার থাকবে তিনি চাইলে অধিকাংশ পরামর্শকদের রায় গ্রহণ করবে কিংবা তাদের খেলাফ ফায়সালা করবে। খেলাফতে রাশেদা এবং বিশেষভাবে সাইয়্যিদুনা

আবু বকর সিদ্দিকে আঁকবার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর খেলাফত যুগে এবিষয়টার আমল পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বড়কথা হল, সরকারে দু আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শও এ বিষয়টিকে দৃঢ় করে। কেননা  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাশওয়ারা বর্তমানের প্রচলিত গনতান্তিক পদ্ধতিতে ভোট নেওয়ার মত ছিল না। এমনিভাবে শুধু অধিকাংশের মতামতের উপর ভিত্তি করেই ফায়সালা করতেন না।

পক্ষান্তরে আধিক্যই হল গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। যা ইসলামের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আমাদের দাবী শুধু এটা নয় যে গণতন্ত্র ইসলামের বিরোধী বরং এটি স্বভাব, রুচি আকলেরও পরিপন্থী।

গণতন্ত্র  কেন ইসলামের  পরিপন্থী তার কিছু কারণ  নিচে দেওয়া হল:

১. গণতন্ত্র ইসলামের পরিপন্থী হওয়ার বড় কারণ হল গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস সার্বভৌমত্বের অধিকারী মানা হয় জনগণকে। পক্ষান্তরে ইসলামে সকল ক্ষমতার উৎস (Sovereignty) সার্বভৌমত্বের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালাকেই মানতে হবে। এক্ষেত্রে গণতন্ত্র যেন জনগণকে আল্লাহ তায়ালার সমকক্ষ দাঁড় করেছে।

রাজনীতিতে ‘সার্বভৌমত্ব’ শব্দটি  ক্ষমতা ও মর্যাদা বুঝায়।  সুতরাং গণতন্ত্রে কোন ব্যক্তি সার্বভৌমত্বের অধিকারী হওয়ার অর্থ হল আইন কানুন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অসাধারণ ক্ষমতা লাভ করবে। সে চাইলে শরিয়ত বিরোধী আইন করতে পারবে। অন্যান্য ব্যক্তিদেরকে শর্তহীন ভাবে আনুগত্যের প্রতি বাধ্য করতে পারবে। কোন ব্যক্তির জন্য তার বিরুধিতা করার অধিকার থাকবে না।

সে চাইলে কারো কারো হক্ব দিতে পারে কিংবা চাইলে সকলের হ্ক্ব কেড়ে নিতে পারে। একথাটাকে এভাবেও বলা যায়, জনগণ আইন প্রণয়নকারী শাসকের ইচ্ছায় বৃদ্ধমান (বেঁচে) থাকবে এবং ব্যক্তি পূজা করতে থাকবে।

২. গণতন্ত্র পুঁজিবাদী ব্যবস্থারই একটি  শাখা। ফলে নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়। লাগব বোয়ালরাই বারে বারে ক্ষমতায় আসে।

৩. গণতন্ত্র শিরিকর একটি শাখা। কেননা রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং অধিকাংশরা দেশের এমন কিছু ব্যক্তিদেরকে বিশ্বাস করে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, যারা তাদের খেয়াল খুশিমত আইন রচনা করবে। আর নির্বাচিতরাও নিজেদের মনগড়া রায় ও মস্তিষ্কপ্রসূত জ্ঞান দ্বারা জনগণের জন্য এমন আইন প্রণয়ন করে যাতে নিজেদের ও স্বার্থসিদ্ধি হয় এবং অখিকাংশরাও খুশি থাকে। যেহেতু তারা জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে আবার সামনের ইলেকশনেও তাদের ভোট পাওয়ার আগ্রহী থাকে।তাই সে এমন আইন পাশ করে যেন জনগণ খুশি হয়ে আগামী নির্বাচনে তাকেই ভোট দেয়।

এজন্যই এধরণের সস্তা নাম কুড়ানোর জন্য জনসমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিনিধিরা ইউরোপ আমেরিকায় জনগণের সকল কুপ্রবৃত্তি পূরণ করতে থাকে, তাদের খুশি রাখতে মদ,জুয়া, বেহাপনা, উলঙ্গপনা, পুরুষে পুরুষে সমকামীতা, মহিলা মহিলায় সমকামীতা, লিভ টুগেদার, পতিতাবৃত্তির মত হাজারো নোংরা কাজকে বৈধতা দিয়ে আইন পাশ করেছে। এসমস্ত চরিত্রহীন কাজ আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হওয়া সত্ত্বেও শুধু জনগণকে খুশি করার জন্য এমনি, মন্ত্রীরা সংসদে  বৈধতা দিয়ে আইন পাশ করেছে। আল্লাহ তায়ালাকে অসন্তুষ্টি করে গণতন্ত্রের প্রতি এমন গুরুত্ব দেওয়া, স্রষ্টাকে অসন্তুষ্টি করে সৃষ্টির সন্তুষ্টি আশা করাটাই শিরক। ইসলাম এবং শিরক দুটি বৈপরীত্বশীল যা কখনো একত্রিত হতে পারে না।

৪. গণতন্ত্রে বিভিন্ন দল উপদল থাকতে হয়। কমপক্ষে দুটি দল থাকা আবশ্যক।

১. ক্ষমতাসীন দল ২. বিরোধী দল।

ক্ষমতাসীন দলের কাজ হল নিজেদের খেয়াল খুশি মোতাবেক আইন করে জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া আর বিরোধী দলের কাজ হল ক্ষমতাসীন দলের কাজকে ভুল প্রমাণিত করতে সব রকমের চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। পক্ষান্তরে ইসলামে এধরণের  ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী দল কোনটাই নাই।

৫.ইসলামি জীবন ব্যবস্থাপনায় বান্দাদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় আর গণতন্ত্রে শুধু ব্যক্তি গণনা করা হয়। আসলে এটা রুচি বিরোধী কথা যে সকল ব্যক্তির মতামত, গ্রহণযোগ্যতা, ও জ্ঞান সমান নয়।

আল্লাহ তায়ালাও এবিষয়টিকে আল কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে:

আলেম এবং জাহেল সমান নয়।

এমনিভাবে, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে দক্ষ আর যে ব্যক্তি সে বিষয়ে অজ্ঞ তাদের দু ব্যক্তির মতামতে অনেক পার্থক্য দেখা দিবে। কখনোই উভয়ের মতামত বরাবর হবে না।

এবিষয়টাকেই আল্লামা ইকবাল বলেছেন,

جمہوریت وہ طرز حکومت ہے کہ جس میں

بندوں کو گنا کرتے ہیں تولانہیں کرتے

গণতন্ত্র এমন হুকুমত ব্যবস্থা যাতে মানুষ গণনা করা হয় মানুষের যোগ্যতাকে নয়।

গণতন্ত্র ইসলাম পরিপন্থি, কেননা  গণতন্ত্রে এমন পদ্ধতি রয়েছে জনগণের মধ্য থেকে জনগণকে শাসনের জন্য শাসক নির্বাচন করা হয়।

এটা একটা মিথ্যা কথা। যদি বাস্তবতা এমনই হত তাহলে সব সাধারণ মানুষ কেন নির্বাচিত হয় না। কেন সংবিধান রচনা, আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কিছু লোকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে? কিছু লোকেরাই কেন সকলের প্রতিনিধি করবে? যেখানে হাকিম নিজেই জনগণের সাথে সম্পৃক্ত ।অর্থাৎ জনগণই হাকিম নির্বাচন করেন দাবী করলে অনেক বড় ভুল হবে। কেননা হুকুমত পরিচালনা করে একজন যার একাটা দল থাকে। কোন কোন সময় তারা অল্প কিছু লোক হয়। যারা সকলের উপর আইন বাস্তবায়ন করে। ফলে আইন রচনাকারী শাসককে যে লোকেরা তাকে নির্বাচন করেছে, তারা সমাজের হর্তাকর্তা হয়ে বসে।

মাওলানা সুফি মুহাম্মদ (ফাক্কারাল্লাহু আসরাহু – আল্লাহ উনাকে কারামুক্তি দান করুন)

আমীর তাহরিকে নেফাযে শরিয়ত: বলেছেন,

গণতান্ত্রিক পদ্ধতির চেয়ে কুফরির ক্ষেত্রে (নোংরা) বীভৎস আকৃতি আর কি হতে পারে।

পাকিস্তানে চলমান আইন ব্যবস্থা অনৈসলামিক। এবিষয়ে পাকিস্তানের শাসক,জনগণ, এবং সর্বস্তরের উলামাকে কেরাম এ কথার উপর একমত যে, চলমান আইন ব্যবস্থা ইংরেজদের বানানো কুফরী আইনের উপর ভিত্তি করে বানানো। সুতরাং সেই আইনের মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করলে তা কুফরী না বললে অবশেষে কি বলা হবে? ইসলামের কোন আমর এ আইন ব্যবস্থার ভিন্ন হলে ইসলামি আইনের মোকাবেলায় কুফরী আইনকে প্রাধান্য দেওয়া এরচে কুফরীর মারাত্মক পদ্ধতি আর কি হতে পারে।? আর যখনই কোন ব্যক্তি কুফরী আইনের বিপরীতে কুরআন সুন্নাহ বাস্তবায়নের দাবী করে, তখন শুধু এতটুকুতেই শেষ নয় যে তার দাবী পুরা হবে না বরং সে হাসি মজাক, এমনকি ধর পাকড়ের শিকার হয়। শরিয়তে মুহাম্মাদী পালনকারীদেরকে ঘৃণা করে প্রস্তর যুগের সাবস্ত করা হয়।

অথচ এসমস্ত নামদারী শাসকরাই কাফের নেতাদেরকে  মুসলমানদের বিরোদ্ধে জান, মাল, ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে।

মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ বেলগুরামী শহিদ রাহিমাহুল্লাহ

পাকিস্তানের শাসকশ্রেণী যে যাই বলুক বাস্তবতা এটাই যে, পাকিস্তান না কোন ইসলামি আর না কোন দারুল ইসলাম। কেননা এর সংবিধান হল কুফরি সংবিধান। শুধু নামায, রোযা, জুমআ, ও ঈদের নামায আদায় করলেই দারুল ইসলামের ভূখণ্ড হয়ে যায় না। কেননা এমূলনীতি অনুযায়ী আমেরিকা, ইউরোপের অনেক এলাকাকেও দারুল ইসলাম বলতে হবে।

সেদিন তারা ইমানের চেয়ে কুফরীর কাছাকাছি ছিল। যা তাদের অন্তরে নাই তা তারা মুখে বলে। আর তার যা গোপন রাখে আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবহিত। (সুরা আল ইমরান আয়াত: ১৬৭)

ডক্টর সরার আহমদ

যদি আপনি পৃথিবীবাসী  অধিকাংশের অনুসরণ করেন তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। (সুরা আনআম আয়াত : ১১৬)

এ আয়াতের তাফসিরে বলেন:

বর্তমান প্রচলিত গণতন্ত্র কে নিষিদ্ধ এবং অবৈধ ঘোষণার জন্য এ আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ আয়াতের মাধ্যমে কুরআন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যদি আপনি সংখ্যাধিক্যতার অনুসরণ করেন তাহলে তার আপনাকে গোমরা করে ফেলবে।

কেননা দুনিয়াতে সর্বদাই খারাপ লোকের সংখ্যাই বেশি থাকবে।

হযরত সাহাবায়ে কেরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যুগে বড় বড় অধিবাসীদের মাঝে লক্ষ্য করে দেখেন, লাখ সংখ্যাধিক্য ও কি একজন সাহাবীর মতের উপর প্রাধান্য পেয়েছিল?

তাই সংখ্যাধিক্যের উপর ভিত্তি করলে কোন ভাল কাজই সংঘটিত হওয়ার মত সুযোগ থাকবে না।

তবে অধিকাংশরাই যদি আল্লাহ এবং তার রাসূলকে (সাল্লাআল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অকাট্যভাবে আহকামদাতা হিসেবে মেনে নেয় তাহলে অন্যান্য সাধারণ বিষয়ে অধিকাংশের মতামত গ্রহণ করতে কোন অসুবিধা নাই। আর যদি সকল ক্ষমতার উৎস মানা হয় জনগণকে ইন্না লিল্লাহি….তাহলে জনগণকে আইনদাতা মানা হয়। এটা কুফরী।

কেননা সর্ব অবস্থায় সর্বোচ্চ হুকুমদাতা, বিধানদাতা হলেন আল্লাহ তায়ালা।

যিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের সৃষ্টিকর্তা ও মালিক। সুতরাং সৃষ্টি যার বিধান চলবে তারই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

AQAP | Bengali Translation| চিন্তাধারা সিরিজ- ১৭ | প্রতিরোধের সুন্নাহ -শাইখ কাসিম আর-রীমি রহিমাহুল্লাহ Al-Hikmah Media Presents

مؤسسة الحكمة আল হিকমাহ মিডিয়া Al-Hikmah Media تـُــقدم পরিবেশিত Presents الترجمة البنغالية বাংলা অনুবাদ Bengali ...