সর্বশেষ
সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / হযরত উলামা ও উমারায়ে কেরাম / আরব / পিডিএফ/ওয়ার্ড || জালিমের কারাগারে দয়াময়ের করুণাধারা (১) – শাইখ ডঃ সামি আল উরাইদি হাফিজাহুল্লাহ

পিডিএফ/ওয়ার্ড || জালিমের কারাগারে দয়াময়ের করুণাধারা (১) – শাইখ ডঃ সামি আল উরাইদি হাফিজাহুল্লাহ

আল হিকমাহ মিডিয়া
পরিবেশিত

জালিমের কারাগারে দয়াময়ের করুণাধারা
(১)

শাইখ ডঃ সামি আল উরাইদি হাফিজাহুল্লাহ

 

 

ডাউনলোড লিংক

docx – 346 KB
http://www.mediafire.com/file/bmppmf1e8l13ppj/karagar-1_shaikh_sami.docx
https://archive.org/download/Karagar1ShaikhSami/karagar-1%20shaikh%20sami.docx
http://www.mediafire.com/file/9iutdggmkiuo1jf/56.karagar-1_shaikh_sami.docx/file
https://archive.org/download/56.karagar1shaikhsami/56.karagar-1%20shaikh%20sami.docx
https://mega.nz/file/TQt3yA7Z#0-04QJChTTMlV1QUvVmX7J02ssRx5uXbVF91ah4TMt4
https://mymegacloud.com/download/dXBsb2Fkcy9qYWhpZDI0L0FMLUhJS01BSC1NRURJQS81Nl9rYXJhZ2FyLTEtc2hhaWtoLXNhbWkuZG9jeA==/h/e56b596067433bf479b4131de6edf6ea
https://anonfiles.com/r6w9N3o2pa/56.karagar-1_shaikh_sami_docx
https://www.solidfiles.com/v/6dBRAqBxrmDXL

pdf – 615 KB
http://www.mediafire.com/file/l5byroc9h9d7s7m/karagar-1_shaikh_sami.pdf
https://archive.org/download/Karagar1ShaikhSami/karagar-1%20shaikh%20sami.pdf
https://mega.nz/file/rFlXmKbK#QKo0XCO2Dk_bl-zu6fANAK7unHKKiKxf4CSFCN8jNsA

http://www.mediafire.com/file/f40thsxya36b5ge/56.karagar-1_shaikh_sami.pdf/file
https://archive.org/download/56.karagar1shaikhsami/56.karagar-1%20shaikh%20sami.pdf
https://mymegacloud.com/download/dXBsb2Fkcy9qYWhpZDI0L0FMLUhJS01BSC1NRURJQS81Nl9rYXJhZ2FyLTEtc2hhaWtoLXNhbWkucGRm/h/c30c44727da91107974bb4375f5094d7
https://anonfiles.com/zew9N8oep6/56.karagar-1_shaikh_sami_pdf
https://www.solidfiles.com/v/6dBRAqBxrmDXL

 

————————–

জালিমের কারাগারে দয়াময়ের করুণাধারা

(১)

শাইখ ডঃ সামি আল উরাইদি হাফিজাহুল্লাহ

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد وعلى الرسل والأنبياء أجمعين،

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদ এবং সকল নবী ও রাসুলদের উপর। অতঃপর-

এগুলো হচ্ছে কতিপয় ফায়েদা, আল্লাহ তাআলা আমাকে যেগুলো নিয়ে কয়েকটি পৃষ্ঠা লেখার তাওফিক দান করেছেন, এবং যা আমি হাসিল করেছি তাহরির আশ শামের শাস্তির কারাগারে। জুলুম ও শত্রুতাবশত আমাকে যখন বন্দী রাখা হয়েছিল সেই সময়কালে। আর এগুলা হচ্ছে কিছু ইলমি ফায়েদা। বিচার-সালিশ ও আমাকে বন্দি করার কারণের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই। সেগুলো তো হচ্ছে ভিন্ন বিষয়, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সেগুলো স্বতন্ত্র ভাবে ও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে..।  এখন আমি আমার বুজুর্গ-মুরুব্বী ও প্রিয়তম ব্যক্তিদের অনুরোধ ও প্রত্যাশার কারণে সে বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করেছি, কারণ আমি তাঁদের অনুরোধ ও প্রত্যাশাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারি না।

প্রথম ফায়েদা

আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি দয়া করেছেন যে আমি তাঁদের সাথে ছিলাম।

নিশ্চই বিপদআপদ ও পরীক্ষা হচ্ছে সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার একটি সুন্নাহ বা নীতি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

(أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ. وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ)

“মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা  ঈমান এনেছি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না।

আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে”। (সুরা আনকাবুত- ১-২)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন-

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ

“আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না ফুটিয়ে তুলি তোমাদের জেহাদকারীদেরকে এবং সবরকারীদেরকে এবং যতক্ষণ না আমি তোমাদের অবস্থান সমূহ যাচাই করি”। (সুরা মুহাম্মাদ-৩১)

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ বলেন-

(والمقصود: أن الله سبحانه اقتضت حكمته أنه لا بد أن يمتحن النفوس ويبتليها فيظهر بالامتحان طيبها من خبيثها ومن يصلح لموالاته وكراماته ومن لا يصلح وليمحص النفوس التي تصلح له ويخلصها بكير الامتحان كالذهب الذي لا يخلص ولا يصفو من غشه إلا بالامتحان إذ النفس في الأصل جاهلة ظالمة وقد حصل لها بالجهل والظلم من الخبث ما يحتاج خروجه إلى السبك والتصفية فإن خرج في هذه الدار وإلا ففي كير جهنم فإذا هذب العبد ونقي أذن له في دخول الجنة)

“উদ্দেশ্য হলঃ আল্লাহ তাআলার হেকমতের দাবী হল এই যে, অবশ্যই নফসগুলোকে পরীক্ষা করা হবে এবং দুঃখকষ্টে আপতিত করা হবে, যাতে পরীক্ষার মাধ্যমে অপবিত্র থেকে পবিত্ররা আলাদা হয়ে যায়। এবং যারা মিত্রতা ও মর্যাদাকে সংশোধন করে আর যারা সংশোধন করে না তারা পৃথক হয়ে যায়। এবং যাতে সংশোধন করা নফসগুলোকে আরও পরিশুদ্ধ করা যায় এবং পরীক্ষার হাপর দিয়ে নফসগুলোকে খাঁটি করা যায়, ওই স্বর্ণের মত, যাকে আগুনে পুড়িয়ে-ই খাঁটি ও খাদ মুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু আসলে নফস হচ্ছে জাহেল ও জালেম। আর নফসের জুলুম ও মূর্খতা দ্বারা মন্দত্ব ও অপবিত্রতা অর্জন হয়, যেগুলো পরিশুদ্ধ ও খাঁটি করণের প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণের মুখাপেক্ষী। সুতরাং যে পরিশুদ্ধ করণের ঘর অভিমুখে বের হয়ে পড়লো, (সে পরিশুদ্ধ হয়ে সফলকাম হয়ে গেল আর যে বের হলনা, সে) জাহান্নামের হাঁপরে প্রবেশ করলো। সুতরাং বান্দা যখন নিজেকে খাঁটি ও নির্মল করে নিবে, তাঁকে তখন জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দেওয়া হবে”। (যাদুল মাআদ ফি হাদঈ খাইরিল ইবাদ- জিহাদের স্তরসমুহ পূর্ণ করা সম্পর্কিত অধ্যায়, আয-যুউল মুনির আলাত তাফসির-৩৯৩ পৃষ্ঠা)

আর জিহাদের রণাঙ্গনগুলো হচ্ছে শ্রেষ্ঠভূমিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে পরীক্ষা ও দুঃখকষ্টে পতিত হওয়ার সুন্নাহ প্রকাশ পায়। সুতরাং তা উক্তভূমিগুলোতে বিভিন্ন পরিবর্তন, ঘটনাপ্রবাহ ও উত্থান-পতনে আকস্মিক এসে দেখা দেয়। সুতরাং জিহাদের পথ হচ্ছে একটি কঠিন ও বিপদসংকুল পথ, যে পথে আল্লাহ যাকে অবিচল রাখেন, সে ছাড়া আর কেউ-ই অবিচল থাকতে না। আমরা আল্লাহর কাছে দৃঢ়তা কামনা করছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

(كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ)..

“তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না”। (সুরা বাকারা-২১৬)

এতদাসত্ত্বেও আপনি যুবকদের একটি দলকে পাবেন, আল্লাহ যাদেরকে তাঁর সুন্নাহ বুঝা, তাঁর ওয়াজিব বিধিবিধানকে আদায় করতে দণ্ডায়মান হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন। এবং যাদেরকে জিহাদের ফরজ দায়িত্ব আদায় ও জিহাদের পথে অটল থাকার জন্য তাঁর বান্দাদের থেকে বাছাই করেছেন। যুবকদের এই দল জানে যে, এই পথ হচ্ছে ইজ্জত, ক্ষমতা ও দ্বীনকে প্রতিরক্ষা করার পথ… তাঁরা জানে যে এই পথ পরীক্ষা ও বিপদআপদে পরিপূর্ণ এবং তাঁরা এই পথে রক্ত প্রবাহিত করে, শরীরকে খণ্ডবিখণ্ড করে, জিন্দেগীর বছরগুলো, সময়গুলো ও মালসম্পদ এই পথে বিলিয়ে দেয়… সুতরাং যে মনে করে যে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করা, দ্বীনের নুসরত ও সাহায্য করা ও দ্বীনকে প্রতিরক্ষা করা আত্মত্যাগ, জিহাদ ও কুরবানি ব্যতিত সম্ভব হবে, সে তাহলে একজন কল্পনাবিলাসী। যেমনটি শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহঃ বলেছেন-

 (فيا أيها المسلمون:

حياتكم الجهاد، وعزكم الجهاد، ووجودكم مرتبط ارتباطا مصيريا بالجهاد.

يا أيها الدعاة:

لا قيمة لكم تحت الشمس إلا إذا امتشقتم أسلحتكم وأبدتم خضراء الطواغيت والكفار والظالمين.

إن الذين يظنون أن دين الله يمكن أن ينتصر بدون جهاد وقتال ودماء وأشلاء هؤلاء واهمون، لا يدركون طبيعة هذا الدين)

“সুতরাং হে মুসলমানেরা!

জিহাদ হচ্ছে আপনাদের জীবন, জিহাদ হচ্ছে আপনাদের ইজ্জত ও সম্মান, আপনাদের অস্তিত্ব-ই হচ্ছে জিহাদের পথচলার সাথে সম্পৃক্ত।

হে ইসলামের প্রচারক ও দাঈগণ!

আপনাদেরকে আপনাদের অস্ত্র প্রস্তুত করা ও জালেম, কাফের ও মুরতাদদের ভীতি প্রদর্শন করা আসমানের নিচে আপনাদের কোন-ই মুল্য নেই।

নিশ্চই যারা ধারণা করে যে, আল্লাহর দ্বীনকে জিহাদ, কিতাল, রক্ত প্রবাহিত করা, শরীর খণ্ডবিখণ্ড করা ব্যতিত বিজয়ী করা সম্ভব, তারা হচ্ছে কল্পনাবিলাসী, যারা এই দ্বীনের স্বভাব অনুধাবন করতে পারেনি”

সুতরাং আল্লাহ যাকে এই সুন্নাতে রব্বানি বুঝার অনুগ্রহ করেছেন, পরীক্ষার সুন্নাহ এই পথে তাঁর দৃঢ়তা-ই শুধু বৃদ্ধি করে। সে জানে যে এটা হচ্ছে আল্লাহর সুন্নাহ, যা বিজয় ও ক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করে। যেমন আল্লাহ তাআলা তালুতের ঘটনার শেষাংশে তাঁর বান্দাদেরকে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তালুতের এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি ঘটনা নয়, যার আলোচনা করা হয় এবং তিলাওয়াত করা হয়। অনেকে এটা ধারণা করে। বরং এটা হচ্ছে আয়াত ও আল্লাহর আয়াতসমূহ এবং সাহায্য, ক্ষমতা ও জালেমের বিরুদ্ধে জিহাদের সুন্নাহসমুহের সুন্নাহ, সুতরাং আমাদের রব ঘটনার শেষে ইরশাদ করেছেন যে,

(تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ)..

“এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, যা আমরা তোমাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে থাকি। আর আপনি নিশ্চিতই আমার রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত”। (সুরা বাকারাহ- ২৫২)

সুতরাং যে ব্যক্তি দুঃখকষ্টে পতিত হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর সুন্নাহ সম্পর্ক অবগত হয়েছে, বিশেষ করে জিহাদের পথের বিপদআপদ সম্পর্কে, তাঁকে আপনি দেখবেন যে, আনন্দে ও পেরেশানিতে এবং নিরাপত্তার সময় সহজতায় ও ভয়ের সময় কাঠিন্যতায় মোটকথা সর্বাবস্থায় সে বলবে-

‘আল্লাহ তাআলা আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন যে আমি তাঁদের সাথে ছিলাম… সুতরাং জিহাদ হচ্ছে আমার জন্য নেয়ামত’।

আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, জিহাদের পথে পরীক্ষা ও বড় বড় কষ্ট নেই, সে কিছুতেই এই পথে অটল থাকতে পারবে না, এবং সে নুসরত ও সাহায্য পাবে না। চাই সে জিহাদের ভুমিতে থাকুক অথবা বাড়িতে বসে থাকুক। এবং অচিরেই এই সুন্নাতে রাব্বানি তার আবরণসমূহ ও যা কিছু সে গোপন করে রেখেছে তা খুলে যাওয়ার কারণ হবে। আমরা আল্লাহাওর কাছে সুস্থতা, নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও দৃঢ়তা কামনা করছি।

বান্দাদের এই শ্রেণীটি জানে না যে, শুধুমাত্র জিহাদের ভুমিতে বের হয়ে পড়া এবং বর্তমানে এই নির্দিষ্ট ফরজটি আদায় করা আল্লাহর বড় বড় নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেন…। সুতরাং (যে এই অনুগ্রহ পেল) তাঁর জন্য আবশ্যক হল যেন স্বীয় রবের শুকরিয়া আদায় করে। এবং এই পথে অবিচল থাকা ও লেগে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করে।

আর যে ব্যক্তি জিহাদের পথ, এবং তাতে অবিচল থাকা ওয়াজিব ও জিহাদের নেয়ামতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার ক্ষেত্রে বিপদআপদে পতিত হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর সুন্নাহর ব্যাপারে অবগত হয়নি। তাঁকে তুমি অচিরেই দেখতে পাবে যে, যদি সে জিহাদের ভুমিতে থাকে, তাহলে সে এই পথ থেকে প্রত্যাবর্তন ও জিহাদের স্থায়ী এবং অবিচল বিষয় ও মূলভিত্তিসমূহ ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলবে। আর যদি সে জিহাদ ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে বসে থাকে, তাহলে আপনি তাকে দেখবেন যে, অঙ্গভঙ্গি অথবা উক্তি দ্বারা চেঁচামেচি করতে থাকবে যে-

(قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ إِذْ لَمْ أَكُنْ مَعَهُمْ شَهِيدًا)..

“আল্লাহ তাআলা আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন যে আমি তাঁদের সাথে ছিলাম না”

আমরা আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও দৃঢ়তা কামনা করছি।

প্রকাশ হয়ে যাওয়া উক্তিটির ব্যাপারে আমি শাইখ সা’দি রহঃ এর কথা থেকে নকল করছি। শাইখ সা’দি রহঃ নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসিরে বলেন- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন-

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ فَانْفِرُوا ثُبَاتٍ أَوِ انْفِرُوا جَمِيعًا. وَإِنَّ مِنْكُمْ لَمَنْ لَيُبَطِّئَنَّ فَإِنْ أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَالَ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ إِذْ لَمْ أَكُنْ مَعَهُمْ شَهِيدًا. وَلَئِنْ أَصَابَكُمْ فَضْلٌ مِنَ اللَّهِ لَيَقُولَنَّ كَأَنْ لَمْ تَكُنْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ مَوَدَّةٌ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ مَعَهُمْ فَأَفُوزَ فَوْزًا عَظِيمًا)

“হে ঈমানদারগণ! নিজেদের অস্ত্র তুলে নাও এবং পৃথক পৃথক সৈন্যদলে কিংবা সমবেতভাবে বেরিয়ে পড়।

আর তোমাদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ রয়েছে, যারা অবশ্য বিলম্ব করবে এবং তোমাদের উপর কোন বিপদ উপস্থিত হলে বলবে, আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি।

পক্ষান্তরে তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ আসলে তারা এমন ভাবে বলতে শুরু করবে যেন তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন মিত্রতাই ছিল না। (বলবে) হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে আমি ও যে সফলতা লাভ করতাম”। (সুরা নিসা-৭১-৭৩)

শাইখ রহঃ বলেন-

(ثم أخبر عن ضعفاء الإيمان المتكاسلين عن الجهاد فقال: {وَإِنَّ مِنْكُمْ} أي: أيها المؤمنون {لَمَنْ لَيُبَطِّئَنَّ} أي: يتثاقل عن الجهاد في سبيل الله ضعفا وخورا وجبنا، هذا الصحيح.

وقيل معناه: ليبطئن غيرَه أي: يزهده عن القتال، وهؤلاء هم المنافقون، ولكن الأول أَولى لوجهين:

أحدهما: قوله {مِنْكُمْ} والخطاب للمؤمنين.

والثاني: قوله في آخر الآية: { كَأَنْ لَمْ تَكُنْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ مَوَدَّةٌ } فإن الكفار من المشركين والمنافقين قد قطع الله بينهم وبين المؤمنين المودة. وأيضا فإن هذا هو الواقع، فإن المؤمنين على قسمين:

صادقون في إيمانهم أوجب لهم ذلك كمال التصديق والجهاد.

وضعفاء دخلوا في الإسلام فصار معهم إيمان ضعيف لا يقوى على الجهاد.

كما قال تعالى: { قَالَتِ الأعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا } إلى آخر الآيات.

ثم ذكر غايات هؤلاء المتثاقلين ونهاية مقاصدهم، وأن معظم قصدهم الدنيا وحطامها فقال: {فَإِنْ أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ} أي: هزيمة وقتل، وظفر الأعداء عليكم في بعض الأحوال لما لله في ذلك من الحكم.

{قَالَ} ذلك المتخلف {قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ إِذْ لَمْ أَكُنْ مَعَهُمْ شَهِيدًا} رأى من ضعف عقله وإيمانه أن التقاعد عن الجهاد الذي فيه تلك المصيبة نعمة. ولم يدر أن النعمة الحقيقية هي التوفيق لهذه الطاعة الكبيرة، التي بها يقوى الإيمان، ويسلم بها العبد من العقوبة والخسران، ويحصل له فيها عظيم الثواب ورضا الكريم الوهاب.

وأما القعود فإنه وإن استراح قليلا فإنه يعقبه تعب طويل وآلام عظيمة، ويفوته ما يحصل للمجاهدين.)

“অতঃপর আল্লাহ তাআলা জিহাদের ব্যাপারে অলসতা প্রদর্শনকারী দুর্বল ঈমানদারদের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেন-

{وَإِنَّ مِنْكُمْ}

অর্থাৎ হে মুমিনগণ তোমাদের কেউ কেউ।

{لَمَنْ لَيُبَطِّئَنَّ}

অবশ্যই বিলম্ব করতো

অর্থাৎ ভয়, কাঠিন্য ও ভীতির কারণে আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকে অলসতা থাকতো। এবং এটাই হচ্ছে সঠিক অর্থ। কেউ কেউ তার আরও একটি অর্থ বলেন-

ليبطئن غيرَه

অর্থাৎ সে জিহাদ করা থেকে বিরত থাকতো।

এবং তারা হচ্ছে মুনাফিকরা। কিন্তু প্রথম অর্থটা দুই কারণে অধিক গ্রহণযোগ্য-

এক. আল্লাহ তাআলা বলেছেন

{مِنْكُمْ}

অর্থাৎ এখানে মুমিনদেরকে সম্ভোধন করেছেন।

দুই. আয়াতের শেষে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

{ كَأَنْ لَمْ تَكُنْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ مَوَدَّةٌ }

‘যেন তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন মিত্রতাই ছিল না’।

অর্থাৎ মুশরিক ও মুনাফিক কাফেররা তাদের মাঝে ও মুমিনদের মাঝে মিত্রতা সম্পূর্ণরূপে কেটে দিয়েছে। এবং তারা আসলে বাস্তবেই মিত্রতা কেটে দিয়েছে। সুতরাং বুঝা গেল মুমিন দুই প্রকার-

এক. নিজেদের ঈমানের ব্যাপারে সত্যবাদী, এবং তাঁদের উপর পরিপূর্ণরুপে সত্যবাদী হওয়া ও জিহাদকে ওয়াজিব করা হয়েছে।

দুই. দুর্বল লোকগুলো, যারা ইসলামে প্রবেশ করেছে। সুতরাং তাঁদের ঈমান এখনো দুর্বল, যা দিয়ে জিহাদের ব্যাপারে তারা শক্তিশালী হয়না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-

قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান”। (সুরা হুজুরাত-১৪)

অতঃপর এই সকল অলসতা প্রদর্শনকারী চূড়ান্ত অবস্থা ও তাদের সর্বশেষ মাকসাদসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এবং তাদের ইচ্ছার বড় অংশ হচ্ছে দুনিয়া ও দুনিয়ার ভগ্নাবশেষ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

{فَإِنْ أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ}

“তোমাদের উপর কোন বিপদ এলে”।

অর্থাৎ পরাজয়, হত্যা ও কোন কোন অবস্থায় তোমাদের উপর শত্রুর বিজয় লাভ করা। যেহেতু এমনটি আল্লাহর হুকুমেই হয়।

{قَالَ}

সে বলে অর্থাৎ পিছনে পড়ে থাকা লোকটি বলে-

{قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ إِذْ لَمْ أَكُنْ مَعَهُمْ شَهِيدًا}

“আল্লাহ তাআলা আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন যে আমি তাদের সাথে ছিলাম না”

সে তার ঈমান ও আকলের দুর্বলতার কারণে ভাবে যে, মসিবত ও বিপদযুক্ত জিহাদ থেকে দূরে বসে থাকাই হচ্ছে নেয়ামতসে অনুধাবন করতে পারে নি যে, প্রকৃত নেয়ামত হচ্ছে এই মহান আনুগত্যের তাওফিক লাভ করা। যার দ্বারা ঈমান শক্তিশালী হয়। এবং বান্দা শাস্তি ও ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকে। এবং এই নেয়ামতের ফলে বান্দার বড় বড় ছওয়াব ও মহান দাতা ও দয়ালু মাওলার সন্তুষ্টি অর্জন হয়

আর যে পিছনে বসে থাকে, যদিও সে সামান্য সময় আনন্দ লাভ করে, কিন্তু এর পরেই দীর্ঘ কষ্ট-ক্লান্তি ও বড় বড় মসিবত ও পেরেশানি পিছে নিবে। এবং মুজাহিদিন যা অর্জন করেছে সে তা হারাবে।

সুতরাং দুঃখকষ্ট, পরীক্ষা ও মসিবতের কারণে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কেননা অচিরেই আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করবেন। উভয় জাহানে তাঁর বান্দাদেরকে সম্মানিত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

(مَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ اللَّهِ فَإِنَّ أَجَلَ اللَّهِ لَآتٍ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. وَمَنْ جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ)

“যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো নিজের জন্যেই কষ্ট স্বীকার করে। আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে বে-পরওয়া”। (সুরা আনকাবুত-৫-৬ )

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ বলেন-

  (ولما كان الألم لا محيص منه البتة عزى الله – سبحانه – من اختار الألم اليسير المنقطع على الألم العظيم المستمر بقوله: {من كان يرجو لقاء الله فإن أجل الله لآت وهو السميع العليم} فضرب لمدة هذا الألم أجلا لا بد أن يأتي وهو يوم لقائه فيلتذ العبد أعظم اللذة بما تحمل من الألم من أجله وفي مرضاته وتكون لذته وسروره وابتهاجه بقدر ما تحمل من الألم في الله ولله وأكد هذا العزاء والتسلية برجاء لقائه ليحمل العبد اشتياقه إلى لقاء ربه ووليه على تحمل مشقة الألم العاجل بل ربما غيبه الشوق إلى لقائه عن شهود الألم والإحساس به

ولهذا سأل النبي صلى الله عليه و سلم ربه الشوق إلى لقائه فقال في الدعاء الذي رواه أحمد وابن حبان : [اللهم إني أسألك بعلمك الغيب وقدرتك على الخلق أحيني إذا كانت الحياة خيرا لي وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي وأسألك خشيتك في الغيب والشهادة وأسألك كلمة الحق في الغضب والرضى وأسألك القصد في الفقر والغنى وأسألك نعيما لا ينفد وأسألك قرة عين لا تنقطع وأسألك الرضى بعد القضاء وأسألك برد العيش بعد الموت وأسألك لذة النظر إلى وجهك وأسألك الشوق إلى لقائك في غير ضراء مضرة ولا فتنة مضلة اللهم زينا بزينة الإيمان واجعلنا هداة مهتدين]

فالشوق يحمل المشتاق على الجد في السير إلى محبوبه ويقرب عليه الطريق ويطوي له البعيد ويهون عليه الآلام و المشاق وهو من أعظم نعمة أنعم الله بها على عبده ولكن لهذه النعمة أقوال وأعمال هما السبب الذي تنال به والله سبحانه سميع لتلك الأقوال عليم بتلك الأفعال وهو عليم بمن يصلح لهذه النعمة ويشكرها ويعرف قدرها ويحب المنعم عليه فتصلح عنده هذه النعمة ويصلح بها كما قال تعالى : {وكذلك فتنا بعضهم ببعض ليقولوا أهؤلاء من الله عليهم من بيننا أليس الله بأعلم بالشاكرين} فإذا فاتت العبد نعمة من نعم ربه فليقرأ على نفسه : {أليس الله بأعلم بالشاكرين }

ثم عزاهم تعالى بعزاء آخر وهو أن جهادهم فيه إنما هو لأنفسهم وثمرته عائدة عليهم وأنه غني عن العالمين ومصلحة هذا الجهاد ترجع إليهم لا إليه سبحانه ثم أخبر أنه يدخلهم بجهادهم وإيمانهم في زمرة الصالحين)

“আর যখন মসিবত পরিশুদ্ধ করার বিষয় আবশ্যিকভাবে হয়ে গেল, তো আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিয়েছেন, যে অবিরত ও বড় মসবিতকে দূরীভূতকারী সহজ মসিবতকে গ্রহন করে নিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

{من كان يرجو لقاء الله فإن أجل الله لآت وهو السميع العليم}

“যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী”।

আর আল্লাহ তাআলা এই মসিবতের মূল ধাতু হিসেবে আজালান (নির্ধারিত কাল) এনেছেন। যা অবশ্যই আসবে। আর তা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাতের দিন। সুতরাং বান্দা অবশ্যই মহান স্বাদ আস্বাদন করবে, আল্লাহ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে পরিমান মসিবত সে সহ্য করেছে। এবং তাঁর স্বাদ, আনন্দ ও উৎফুল্লতা সে পরিমান হবে, যে পরিমান মসিবত সে আল্লাহর জন্য ও আল্লাহর বিধান আদায় করতে গিয়ে সহ্য করেছে। এই সান্ত্বনা ও প্রবোধ আল্লাহর সাক্ষাতের আশাকে আরও শক্তিশালী করেছে। যেন বান্দা সাময়িক মসিবত ও পেরশানিকে তাঁর অভিবাবক ও রবের সাক্ষাতের কামনায় সহ্য করে যায়। বরং অধিকাংশ এমন হবে যে, রবের সাক্ষাতের কামনা তাঁর থেকে মসিবত প্রত্যক্ষ করা ও তা অনুভব করা দূর করে দিবে।

তাই তো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের সাক্ষাতের কামনার দুয়া করেছেন। আহমদ ও ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুয়ায় বলতেন-

اللهم إني أسألك بعلمك الغيب وقدرتك على الخلق أحيني إذا كانت الحياة خيرا لي وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي وأسألك خشيتك في الغيب والشهادة وأسألك كلمة الحق في الغضب والرضى وأسألك القصد في الفقر والغنى وأسألك نعيما لا ينفد وأسألك قرة عين لا تنقطع وأسألك الرضى بعد القضاء وأسألك برد العيش بعد الموت وأسألك لذة النظر إلى وجهك وأسألك الشوق إلى لقائك في غير ضراء مضرة ولا فتنة مضلة اللهم زينا بزينة الإيمان واجعلنا هداة مهتدين

“হে আল্লাহ আপনার ইলমে গায়েব ও মাখলুকের উপর আপনার ক্ষমতা দ্বারা দুয়া করছি যে, আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যখন আমার জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয় এবং আপনি আমাকে মৃত্যু দান করুন, যখন আমার মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়। গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনার ভয় কামনা করছি। সন্তুষ্টি ও রাগের সময়ে হককথা বলার (ক্ষমতা) কামনা করছি। দারিদ্রতা ও প্রাচুর্যতায় আপনার অভিমুখী হওয়ার কামনা করছি। বিচারের পর আপনার সন্তুষ্টির ফায়সালা কামনা করছি। মরণের পর জিন্দেগী যাপনের শীতলতা কামনা করছি। আপনার প্রতি দৃষ্টিপাতের স্বাদের কামনা করছি। আপনার সাক্ষাতের আগ্রহ কামনা করছি। যে সাক্ষাতে ক্ষতিকর কষ্ট থাকবে না এবং পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থাকবে না। হে আল্লাহ আপনি ঈমানের সৌন্দর্য দ্বারা আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন। হেদায়াতপ্রদর্শনকারী হেদায়াতপ্রাপ্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত বানিয়ে দিন!”

সুতরাং শাওক বা কামনা আকাঙ্ক্ষিতকে তাঁর মাহবুবের প্রতি সফরের ব্যাপারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালানোর দাবী করে। কামনা তাঁর পথকে নিকটবর্তী করে দেয়। এবং তাঁর জন্য পথের দূরত্বকে সরিয়ে দেয়। এবং পথের দুঃখকষ্ট ও মসিবতকে সহজ করে দেয়। এবং কামনা হচ্ছে আল্লাহর মহান নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ যার দ্বারা বান্দাদের উপর নেয়ামত বর্ষণ করুন। কিন্তু এই নেয়ামতের জন্য কিছু কথা ও কিছু আমল বা কাজ রয়েছে। এবং এই দুটি বিষয়-ই এই নেয়ামত অর্জনের উপকরণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সে কথাগুলো শুনেন ও কাজগুলো জানেন। তিনি ওই ব্যক্তি সম্পর্কে সম্যক অবগত, যে এই নেয়ামত অর্জনের জন্য সংশোধন হয়েছে। এবং কৃতজ্ঞ হয়েছে। এবং এর মর্যাদা জেনেছে। এবং আল্লাহ যাকে এই নেয়ামত দান করেছেন, তাঁকে ভালোবেসেছে। সুতরাং যে এই নেয়ামত লাভ করবে এবং এর দ্বারা নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-

{وكذلك فتنا بعضهم ببعض ليقولوا أهؤلاء من الله عليهم من بيننا أليس الله بأعلم بالشاكرين}

“আর এভাবেই আমি কিছু লোককে কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি যাতে তারা বলে যে, এদেরকেই কি আমাদের সবার মধ্য থেকে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহ দান করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন”। (সুরা আন’আম- ৫৩)

সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর রবের নেয়ামতসমূহের একটি নেয়ামত হাতছাড়া করে ফেললো, সে যেন নিজেকে লক্ষ্য করে পাঠ করে-

{أليس الله بأعلم بالشاكرين }

“আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন”।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা আরও একটি সান্ত্বনার মাধ্যমে তাঁদেরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। আর তা হল তাঁরা যে জিহাদ করছে, তা তাদের জন্যই করছে। জিহাদের ফলাফল তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। এবং আল্লাহ তাআলা জগতসমুহ থেকে অমুখাপেক্ষী। এই জিহাদের মাসলাহাত বা উপকারিতা তাঁদের দিকেই ফিরবে। আল্লাহ তাআলা সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে নয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন যে, তাঁদেরকে তাঁদের জিহাদ ও ঈমানের দ্বারা নেককারদের কাতারে প্রবেশ করানো হবে”।

আর আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনের সাহায্য করবেন, আমাদের দ্বারা অথবা অন্যদের দ্বারা। সুতরাং আমরা যেন পরীক্ষা ও দুঃখ-দুর্দশার কারণে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে ভয় করি। এবং আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের সাহায্যকারী হওয়ার চেষ্টা-প্রচেষ্টা করি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন-

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ)

“হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী”। (সুরা মায়েদা-৫৪)

শাইখ সা’দি রহঃ বলেন-

(يخبر تعالى أنه الغني عن العالمين، وأنه من يرتد عن دينه فلن يضر الله شيئا، وإنما يضر نفسه. وأن لله عبادا مخلصين، ورجالا صادقين، قد تكفل الرحمن الرحيم بهدايتهم، ووعد بالإتيان بهم، وأنهم أكمل الخلق أوصافا، وأقواهم نفوسا، وأحسنهم أخلاقا)

“আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি জগতসমুহ থেকে অমুখাপেক্ষী। এবং কেউ যদি তাঁর দ্বীন থেকে বিমুখ হয়ে যায়, সে তাঁর কোন-ই ক্ষতি করতে পারে না। বরং সে নিজের ক্ষতি করে। এবং আল্লাহ তাআলার অনেক মুখলিস বান্দা রয়েছেন। অনেক সত্যবাদী পুরুষ রয়েছেন, অসীম দয়ালু ও পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁদের হেদায়াতের দায়িত্ব নিয়েছেন। এবং তাঁদেরকে নিয়ে আসার ওয়াদা করেছেন। এবং তাঁরা হবে গুণাবলীর দিক থেকে পরিপূর্ণ সৃষ্টি। এবং নফসের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী। এবং আখলাক ও চরিত্রের দিক থেকে অধিক চমৎকার”।

এই জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর পথ-ই হচ্ছে মহান নেয়ামত। যদিও তাতে রয়েছে অনেক মসিবত ও দুঃখকষ্ট। এই পথ থেকে ওই হতভাগা ছাড়া আর কেউ বিরত হবে না অথবা প্রত্যাবর্তন করবে না, যে মাখলুকের ব্যাপারে আল্লাহর সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত নয়। আর নিশ্চই আল্লাহ জগতসমুহ থেকে অমুখাপেক্ষী।

(وَمَنْ جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ)

“যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো নিজের জন্যেই কষ্ট স্বীকার করে। আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে বে-পরওয়া”। (সুরা আনকাবুত-৬)

হে আল্লাহ! আপনি দ্বীনের জন্য আমাদেরকে জিন্দা রাখুন! আপনাদের পথে আমাদেরকে মরণ দিন!

লিখেছেন-

শাইখ ডঃ সামি আল উরাইদি- আবু মাহমুদ আশ শামী হাফিজাহুল্লাহ

রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরি

 (হাইআত তাহরির আশ শামের কারাগারে বন্দি থাকাকালীন সময়ে লিখিত।)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

AQAP | Bengali Translation| চিন্তাধারা সিরিজ- ১৭ | প্রতিরোধের সুন্নাহ -শাইখ কাসিম আর-রীমি রহিমাহুল্লাহ Al-Hikmah Media Presents

مؤسسة الحكمة আল হিকমাহ মিডিয়া Al-Hikmah Media تـُــقدم পরিবেশিত Presents الترجمة البنغالية বাংলা অনুবাদ Bengali ...