আন-নাসর মিডিয়ানির্বাচিতপিডিএফ ও ওয়ার্ডফিলিস্তিন এক্সক্লুসিভবই ও রিসালাহবই ও রিসালাহ [আন নাসর]বাংলা প্রকাশনাভাষামিডিয়া

Bengali Translation || এই তো গাজা… ধৈর্যশীলদের মা, যার পড়শিরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে [যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহ] মূল: সালেম আল শরীফ

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:

هذه غزة …
(أم الصابرين) التي غدر بها جيرانها-٣

بقلم: سالم الشريف

এই তো গাজা…
ধৈর্যশীলদের মা, যার পড়শিরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে
[যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহ]

মূল: সালেম আল শরীফ

This is Gaza…
The mother of the endurance, whose neighbors betrayed her
[Fourth week of the war]

Author: Salem Al Sharif

 

 

للقرائة المباشرة والتحميل
সরাসরি পড়ুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Reading and Downloading

লিংক-১ : https://justpaste.it/this_is_gaza-3
লিংক-২ : https://mediagram.me/d2025d071243a27e
লিংক-৩ : https://noteshare.id/1vpya1b
লিংক-৪ : https://web.archive.org/web/20240523070637/https://justpaste.it/this_is_gaza-3
লিংক-৫ : https://web.archive.org/web/20240523070403/https://mediagram.me/d2025d071243a27e
লিংক-৬ : https://web.archive.org/web/20240523070906/https://noteshare.id/1vpya1b

 

روابط بي دي اب
PDF (658 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬৫৮ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/index.php/s/GJJwq3D42QgGzd2
লিংক-২ : https://archive.org/download/ei-to-gaza/ei-to-gaza-3.pdf
লিংক-৩ : https://workdrive.zoho.eu/file/d54kl18f162c3526a4b1fae0fd71047adcd82
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/cd11cf96-f276-487f-850b-f9209e66eaf9/2e0f94c09bd4ec3a653afe6d4be5849af5d87385701527a41883b7dfaf76e882
লিংক-৫ : https://eitogaza3.wordpress.com/wp-content/uploads/2024/05/ei-to-gaza-3.pdf
লিংক-৬ : https://files.fm/f/xhsrvfdnms
লিংক-৭ : https://mega.nz/file/Bt0QAQAY#xpqOQb9RQl1HQ9pwBfZkdg4AAr2Sg370jh0qMaULDE8
লিংক-৮ : https://www.mediafire.com/file/affpqjrvm4hxq77/ei-to-gaza-3.pdf/file

 

روابط ورد
WORD (853 KB)
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন [৪৫৩ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/index.php/s/8sZaKLfiZdP8jAQ
লিংক-২ : https://archive.org/download/ei-to-gaza/ei-to-gaza-3.docx
লিংক-৩ : https://workdrive.zoho.eu/file/d54kl4afd84b93a3b476c8d3d2a3c090c3158
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/b75f3e4f-fad6-43a5-bc14-6362a40ab857/8988589fcbdb8a0149933e4f66c9e3c29e3fe01de6370207f553392065cf64e5
লিংক-৫ : https://eitogaza3.wordpress.com/wp-content/uploads/2024/05/ei-to-gaza-3.docx
লিংক-৬ : https://files.fm/f/nwgg4rcbhq
লিংক-৭ : https://mega.nz/file/489ykR5Y#O7l4GYSeb4Y2pzSvGam5AjtMYrZHMhdL2nyo_nRsxag
লিংক-৮ : https://www.mediafire.com/file/58650epmy7842l3/ei-to-gaza-3.docx/file

 

روابط الغلاف- ١
book cover [1.5 MB]
বুক কভার [১.৫ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/index.php/s/mDfWbKwLAE5R2bd
লিংক-২ : https://archive.org/download/ei-to-gaza/ei-to-gaza-3%20Cover.jpg
লিংক-৩ : https://workdrive.zoho.eu/file/d54kl68a6797bd6f54f9c8b2f4ba614c59f5c
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/3b6219a4-6942-4612-bcce-c204526ccd70/1567509b1b7c11186251b62d0f382a2cdd0e58ad9d6e275ec908e99643a9ff6c
লিংক-৫ : https://eitogaza3.wordpress.com/wp-content/uploads/2024/05/ei-to-gaza-3-cover.jpg
লিংক-৬ : https://files.fm/f/xn8p2up8s3
লিংক-৭ : https://mega.nz/file/0tcDwCIT#TkpAP-vt4FAtMCLdWh7LxAnz7fv1V0mVXvHgL2hMlH8
লিংক-৮ : https://www.mediafire.com/view/yhyv5yu8vdcbje9/ei-to-gaza-3_Cover.jpg/file

 

روابط الغلاف- ٢
banner [2.7 MB]
ব্যানার [২.৭ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://archive.gnews.to/index.php/s/nFasgXbM5aEYqJc
লিংক-২ : https://archive.org/download/ei-to-gaza/ei-to-gaza-3-Banner.jpg
লিংক-৩ : https://workdrive.zoho.eu/file/d54kl4190c366aa3b4eb9987821c4cd0b605d
লিংক-৪ : https://drive.internxt.com/sh/file/2719cf21-50d9-464c-928b-b887c5d5700b/d6eec1c3ee90f413f3cf658a51cc8e1fcd15eb01cf7cde45b5271710284a39bc
লিংক-৫ : https://eitogaza3.wordpress.com/wp-content/uploads/2024/05/ei-to-gaza-3-banner.jpg
লিংক-৬ : https://files.fm/f/rhzv4yymdt
লিংক-৭ : https://mega.nz/file/JsUzzIqR#Y6Vz6nJCRmqXi_BQOoMir2I8z-sLoM1U7EHIWtDyEL8
লিংক-৮ : https://www.mediafire.com/view/0nwu8vbt73bsayw/ei-to-gaza-3-Banner.jpg/file

 

******************************** 

এই তো গাজা

ধৈর্যশীলদের মা, যার পড়শিরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

[যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহ]

 

 

بسم الله الرحمن الرحيم

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

 

এই তো গাজাধৈর্যশীলদের মা, যার পড়শিরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

      ওহ! ফিলিস্তিন.. আমার ছোটবেলা থেকেই তুমি আমার হৃদয়ে ছিলে। আমি তোমার কাছে পাঠানোর জন্য স্কুলে শীতকালীন সহায়তার কুপন কিনতাম। আমাদের ফিলিস্তিনি প্রতিবেশীর আঘাতের কথা কি আর বলবো! এই আঘাত কখনো অল্পকালের জন্য আলোচনার বাইরে থাকতো, এরপর আবার ব্যান্ডেজ করা সেই পরিচিত রূপ নিয়ে ফিরে আসতো। এগুলো আমার কল্পনা থেকে কেমন করে আমি হারাতে পারি!

আমি মিশরের সন্তান হিসেবে কেমন করে তোমাকে ভুলতে পারি হে ধৈর্যশীলদের মা ও আমার খালা ফিলিস্তিন! তুমিই তো নিজের ভালোবাসার বুকের দুধ খাইয়ে আমাকে বড় করেছো। তুমি দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত আমার পাশেই ছিলে। একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে তোমাকে স্বাধীন করার প্রচেষ্টায়; আল্লাহর দীনকে সুসংহত করার সংগ্রামে। যে সময়টাতে আমি শীতকালীন সহায়তার কুপন কিনতাম; সেদিনের পর থেকে প্রায় ৫৫ বছর কেটে গেছে, এখনো তুমি সেরকমই ধৈর্য ধারণ করে প্রতিদানের আশা করে যাচ্ছো!

কত দিন গড়িয়েছে! আমরা জীবনের কত পথ পাড়ি দিয়েছি! তারই মধ্য দিয়ে আমরা শিখেছি যে, প্রজ্ঞার জন্য দৃঢ়তার প্রয়োজন, সহনশীলতার জন্য রাগের প্রয়োজন, করুণার জন্য শাস্তির প্রয়োজন, সাহসের জন্য তীক্ষ্ণতা ও সূক্ষ্মতার প্রয়োজন, রাজনীতির জন্য ধূর্ততার প্রয়োজন, বিজয়ের জন্য ধার্মিকতার প্রয়োজন এবং ক্ষমতা বিস্তারের জন্য ক্ষমার প্রয়োজন। এভাবেই আমরা লড়াই শুরু করি এবং এভাবেই আমরা লড়াই শেষ করি।

সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ের এই অধ্যায়ে মুসলিম উম্মাহ্ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মোড় অতিক্রম করছে। উম্মাহ্ যদি এটিকে ভালোভাবে ব্যবহার করে, তবে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই সহস্রাব্দের শুরু থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর মুজাহিদ বান্দাদেরকে আমেরিকান ও ইহুদীদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড লড়াইয়ের তাওফীক দান করেছেন। তাঁরা তাদের উপর প্রচণ্ড আঘাত হেনেছেন। মুজাহিদীন শত্রুদের অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা এবং বাহ্যিক মূর্খতার আবরণ প্রকাশ করে দিয়েছেন।

অস্ত্র ও প্রযুক্তির পার্থক্য থাকায় মুজাহিদীন গেরিলা যুদ্ধের মূলনীতি ব্যবহার করেছেন। তাঁরা শত্রুদের শক্তি, প্রযুক্তি ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে তাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন। আজ উম্মাহর সন্তানদের সামনে লড়াইয়ের পরবর্তী স্তরে উন্নীত হবার সুযোগ অবারিত। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে আমেরিকানরা একবার সোমালিয়া থেকে বিতাড়িত হয়েছিল এবং কয়েক বছর আগে আবারও বিতাড়িত হয়েছে। তারা দুই বছর আগে আফগানিস্তান থেকেও পালাতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদীবাদী শত্রুর ভঙ্গুরতা এমন এক অপারেশনের মধ্য দিয়ে সকলের সামনে চলে এসেছে, যা ছিল ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর থেকে অদ্যাবধি সবচেয়ে চমৎকার এক অভিযান।

আল-আযহার প্রতিষ্ঠানের জন্য এটা খুবই একটা সুন্দর বিষয় হবে যে, তার বিবৃতিতে আমেরিকানদের উপর মুজাহিদীনের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া হবে। এ সম্পর্কে আল-কায়েদার অন্তর্গত আন-নাফির[1] বুলেটিনে মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা আল-আযহারকে বলবো: এখনো কি শাসক মহলের কাছ থেকে দূরে সরে আসার এবং দাসত্বের শিকল ভেঙে ফেলার সময় হয়নি? বিপ্লবের পথে অগ্রসর হয়ে, হারিয়ে যাওয়া অতীত ইতিহাসের সেই সম্মান ও গৌরব ফিরিয়ে আনার কি এখনো সময় হয়নি?

***

আসুন! আমরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গৌরবময় গাজার দৃশ্যটি দেখি:

শত্রুর দৃষ্টিকোণ থেকে:                

আমেরিকা ফিলিস্তিনের ইহুদীবাদী দখলদারদের জন্য এক হাতে দশ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। আর অন্য হাতে দিয়েছে সব ধরনের অস্ত্র, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সব ধরনের বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো দিয়ে তারা গাজায় বেসামরিক মুসলিমদের উপর বোমা মেরেছে। আফগানিস্তানের মাটিতে পরাজিত বিমানবাহী রণতরী, ২০০০ এলিট সৈন্যের বাহিনী এবং আমেরিকান জেনারেলদের প্রেরণের ধারা জারি রেখেছে আমেরিকা।

এভাবেই আমেরিকা সরাসরি গাজা উপত্যকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে, এমনকি সমগ্র মানব জাতির বিরুদ্ধে গণহত্যা ও অপরাধে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। নিঃসন্দেহে এটা মানব সম্প্রদায় এবং তাদের মালিকানাধীন সবকিছুর উপর নির্লজ্জ আক্রমণ। গাজায় এমন একটিও সামরিক লক্ষ্য নেই, যা নিয়ে তারা কথা বলতে পারে। বিকৃত তাওরাত গ্রন্থে যা বলা হয়েছে, তা ছাড়া তাদের সামনে এমন কোনো টার্গেট নেই, যা কারো পক্ষে যুক্তি দিয়ে বোঝা সম্ভব।

হত্যা ও নাশকতার পক্ষে তাদের দলীল হলো Deuteronomy (২০ নং অধ্যায়)-তে যা এসেছে। তাদের মতে- সন্ধি হলো দাস বানানো ও পরাধীন করে রাখার নাম। যখন তারা তাদের শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করে; তখন তাদের অবশ্যই তরবারি দিয়ে সমস্ত পুরুষকে হত্যা করতে হবে। নারী, শিশু এবং গবাদি পশুসহ পৃথিবীর সমস্ত কিছুকে লুণ্ঠন হিসাবে গ্রহণ করে ভক্ষণ করতে হবে। এই বিধান দূরবর্তী শহরগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে নবীদের অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য)-এর জন্য বিধান হল: গণহত্যা।

একই অধ্যায়ে কিছু অংশ পরে এসেছে: [- ১৬ – এই জাতিগোষ্ঠীর যে শহরগুলো তোমাদের ঈশ্বর প্রভু তোমাদেরকে উত্তরাধিকার হিসেবে দিচ্ছেন, সেখানে তোমরা কোনো একটি মানুষও ছেড়ে যাবে না। – ১৭ – বরং তোমরা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে: হিট্টাইটস (Hittites), আমোরিয়ান (Amorites), কেনানীয় (Canaan), ফ্রিসিয়ান (Frisians), হিব্বীয় (Hivites) এবং যিবুসীয়দের (Jebusites) সকলকেই; যেমনটা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের আদেশ করেছেন।]

বাইবেলের এই পাঠ্যের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, সামরিক উদ্দেশ্যগুলি গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং সাধারণ মানুষরাই লক্ষ্যবস্তু ও টার্গেট। বিশ্বজুড়ে ইহুদী ও ক্রুসেডাররা একই টার্গেট সামনে রেখে যুদ্ধ করে। কারণ তাদের সংবিধান হল তাওরাত গ্রন্থ (ওল্ড টেস্টামেন্ট); জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন নয়। তাই মানবাধিকার নিয়ে তাদের সাথে কথা বলার কোনো মানে নেই।

আন্তর্জাতিক আইন ও সীমাবদ্ধতা- শুধু দুর্বল, নিপীড়িত ও মজলুমদের জন্য। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মার্কিন শাসকরা কখনোই আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেনি। ইসরাইল ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিন দখল করে আছে। তারা ২০ বছর ধরে গাজা ও পশ্চিম তীর অবরোধ করে রেখেছে। তারা ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বসতি নির্মাণ বন্ধ করেনি। তারা সেখানে একটা বর্ণবাদী শাসন চাপিয়ে দিয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ব্যবস্থা। তারা হত্যা, গ্রেফতার, ধ্বংস ও লুণ্ঠনের পদ্ধতিগত প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

জনগণের পানি, খাদ্য, জ্বালানি এবং জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পথ বন্ধ করে রেখেছে। … সমস্ত মানুষের সঙ্গে তারা এরূপ আচরণ করে আসছে। তারা তাওরাত গ্রন্থে বর্ণিত গণহত্যার অনুশীলন করে আসছে। এই সব কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়? আন্তর্জাতিক আইন কি কখনও সত্যিকার প্রাপকদের প্রাপ্য অধিকার পুনরুদ্ধারে কিংবা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকরী কোনো ভূমিকা রেখেছে?

তারপরও ঘৃণ্য ক্রুসেডার পশ্চিমারা ইহুদীদের আত্মরক্ষার অধিকার ঘোষণা করে! কীভাবে একটা দখলদার রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অধিকার থাকতে পারে? নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদেরকেই কেমন করে ‘নিপীড়ক ও জল্লাদ’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে? শত শত[2] ইহুদী হত্যা করে সন্তুষ্ট হওয়াটা ছিল হিটলারের একটা ব্যর্থতা। এরা এমন এক জাতি, যাদেরকে গণহারে হত্যা ও জাতিগত নিধন করা উচিত ছিল। আগামী সময়টাতে – ইনশাআল্লাহ – সেটাই ঘটতে চলেছে। সে সময় তাদের জন্য ক্রন্দনকারী কেউ থাকবে না।

বাস্তবে যা ঘটছে, তা থেকে আমরা তাদের ধর্মীয় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি কি ধরনের সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছি। মানবজাতির প্রতি তাদের ঘৃণা ও বিদ্বেষের মাত্রা কত বেশি! এইসব নির্লজ্জ পাশবিকতা, অপরাধ এবং গণহত্যাকে কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। যদিও তারা এগুলো ঢাকার দুর্বল ও ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

হাতে হাতে মোবাইল ফোন থাকার কারণে আজ প্রত্যেকেই এক একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের মতো হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই মোবাইল ফোন দিয়ে চমকপ্রদ তথ্য সম্প্রচার করছে। তাই বর্তমান সময়ে সরাসরি সম্প্রচারকারী স্যাটেলাইট চ্যানেলের সংখ্যা উল্লেখ করার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়টা থেকে আমরা আরও বুঝতে পারি যে, তারা তাদের অপরাধ ধামাচাপা দিতে চায় না। বরং, তারা এগুলো দিয়ে সমগ্র বিশ্বকে আতঙ্কিত করতে চায়।

ইহুদী ও আমেরিকানরা ভুলে গেছে যে, তারা গাজা নামক একটি বৃহৎ শহরে অবরুদ্ধ বেসামরিক, দুর্বল লোকদের একটি জাতিকে ধ্বংস করছে। তারা ভুলে গেছে, এইতো সেদিন আফগানিস্তানে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারা সেখান থেকে অপমান ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনার স্বাদ পেয়েছে। তারা কি গাজার মুসলিমদের মাধ্যমে মুসলিম আফগানদের প্রতিশোধ নেবে? তাদের পাগলামো-ভরা বোমা হামলার মহাকাব্য ঘিরে এমনি আরও অনেক প্রশ্ন রয়েছে:

যেমন, তোমরা কি গাজার ক্ষমতাসীন (হামাস) সরকারকে উৎখাত করতে পেরেছ? তোমরা কি বন্দীদের মুক্ত করতে পেরেছ? তোমরা কি তোমাদের অনুগত সরকার চাপিয়ে দিতে পেরেছ?  তোমরা কি (হামাস)-কে ধ্বংস করে তাদের অস্তিত্ব মুছে দিতে পেরেছ? তোমরা কি আফগানিস্তানে তোমাদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হয়েছ? তোমরা কি পেরেছিলে তোমাদের কাদায় ডুবে যাওয়া অহংকার শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে? তোমরা কি তোমাদের ব্যর্থ, অপূর্ণাঙ্গ মস্তিষ্ক দিয়ে পরিবর্তনশীল বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছ? একথা বুঝতে পেরেছ যে, এখন পিছনে চলে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই? এ-ই সব প্রশ্নের উত্তর হলো শুধু না আর না। তোমরা এখন তাহলে কি করবে? আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা কি সাম্প্রতিক নয়?

তোমাদের প্রত্যাশা অচিরেই মাঠে মারা যাবে। তোমাদের প্রচেষ্টা লক্ষ্যচ্যুত হবে। তোমাদের অবরোধ কোনো কাজে আসবে না। বোমা হামলা করেও তোমরা কিছু করতে পারবে না। গাজাকে জনশূন্য করার অথবা এর জনগণকে বাস্তুচ্যুত করতে তোমরা সক্ষম হবে না। সময় তোমাদের জন্য লজ্জা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে যে, অস্ত্রের অধিকারী হবার কারণে একটা জাতির হৃদয় শক্ত হয়ে গিয়েছিল। সম্পদ হস্তগত করা এবং ক্ষমতা চুরি করা ভিন্ন আর কোনো কারণ ছাড়াই তারা তাদের আশেপাশের লোকদেরকে ধ্বংস করেছিল।

সারা বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠী, সকল অঞ্চলের ও বর্ণের জনগোষ্ঠীর কর্তব্য হচ্ছে:

বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ফ্রন্টে, জায়গায় জায়গায় ইহুদী গোষ্ঠী ও আমেরিকানদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত রণাঙ্গনে নিজেদেরকে উপস্থিত করা। তাদের বিরুদ্ধে কোনো সীমা-পরিসীমা ছাড়া যেকোনো অস্ত্রের অধিকারী হওয়া। তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অস্ত্র নির্দ্বিধায় ব্যবহার করা। বিশ্বের তাবৎ জনগোষ্ঠী যদি এ কাজ করতে না পারে, তাহলে ইহুদী গোষ্ঠী ও আমেরিকানদের চাবুক গ্রহণের জন্য নিজেদের পিঠ অবশ্যই যেন তারা প্রস্তুত করে রাখে।

***

গাজার জনগণ এবং মুজাহিদীনের দৃষ্টিকোণ থেকে:

আমাদের অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে যে, ০৭ই অক্টোবর থেকে মুজাহিদরা কী করেছেন? এই ঘটনা যতটা গুরুত্ববহ, ততটাই গভীরভাবে আমাদের এ বিষয়টা বিবেচনায় নিতে হবে। এই মহৎ ঘটনার দ্বারা দুর্নীতিগ্রস্ত ইহুদীবাদী সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলির আতঙ্ক এবং বিভ্রান্তি ছিল দেখার মতো। দখলদার সেনাবাহিনীর সামরিক স্থাপনায় ধ্বংস যজ্ঞ হয়; দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিভিশন ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর অনেক নেতা ও সৈন্যকে বন্দী করা হয়। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি তো ওরা এখনো ঘোষণা করেনি।

দখলদারদের নিরাপত্তা সংস্থা তার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত পেয়েছিল। সমস্ত ইলেকট্রনিক বাধা এবং শারীরিক বাঁধা অতিক্রম করা হয়েছিল। বসতি স্থাপনকারীরা তাদের অস্তিত্বের কারণ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল সেদিন।

রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বলবো: এটি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এক গোলকধাঁধায় প্রবেশ করেছিল। যেখান থেকে আজ পর্যন্ত উঠে আসতে পারেনি। এ বিষয়টা ফিলিস্তিনে সংঘাত পরিচালনা করার জন্য আমেরিকার হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছিল। যদি আমেরিকার অন্যায্য হস্তক্ষেপ না থাকত, তবে ঘটনাগুলি একটি বড় আকার ধারণ করত। পুরো ব্যাপারটা ভিন্ন দিকে মোড় নিত। ইহুদীবাদীদের পক্ষে সেটার প্রতিকার করা সম্ভব হত না। তখন এই ঘটনার আলোকে এই অঞ্চলের মানচিত্র পরিবর্তিত হয়ে যেত। তবে শীঘ্রই এই অঞ্চলের মানচিত্র অনিবার্যভাবে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হবে ইনশাআল্লাহ!

যেহেতু গণহত্যা (যুদ্ধ নয়) চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং স্থল বাহিনী গাজায় প্রবেশ করছে, তো এখন নতুন করে আর কী পরিবর্তন হবে?

আমাদের অবশ্যই ধৈর্যশীলদের মায়ের কাছ থেকে ধৈর্য শিখতে হবে! মানব জাতির শত্রুদের কাছে তিনি যে বার্তা প্রতিদিন প্রেরণ করছেন, তা বিবেচনা করতে হবে। আমাদেরকে ওই সমস্ত লোকের পরিচয় বুকে ধারণ করতে হবে, যারা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে নির্ভীক, দুর্জয়! তারা কতটা ধৈর্যশীল ও অবিচল! তারা অনড়, অপ্রতিরোধ্য মানব। বোমা হামলা, ধ্বংস, নাশকতা এবং বিপুল সংখ্যক মৃত্যু তাদেরকে দুর্বল করতে পারেনি। একইভাবে এগুলো শত্রুপক্ষকেও বিজয় এনে দেয়নি।

০৭ই অক্টোবর মুজাহিদ কর্তৃক দেয়াল অতিক্রম করার পর, ইহুদীবাদী ও ক্রুসেডাররা এ যুদ্ধে হেরে গিয়েছে। ৭৫ বছর ধরে তাদের বর্বরতা ও পাশবিকতা চলমান। তবুও পুরো সময় জুড়ে মুসলিমদের লড়াইয়ের ইচ্ছা অটুট! এই মুসলিমদের কি ইতিহাসের দৃষ্টান্তহীন অভূতপূর্ব নৃশংস বোমা হামলা করে, কয়েক সপ্তাহের ভেতরেই নতজানু করা সম্ভব?

হে জায়নবাদীরা!

তোমরা দৈনন্দিন কোনো হিট অ্যান্ড রান অপারেশনে সফল হয়েছো, নাকি প্রতিবারই পালাতে বাধ্য হয়েছো? তোমরা কি তোমাদের ঘরের দুয়ারে আঘাত হানা মুজাহিদদের মিসাইলগুলোকে থামাতে পেরেছ? নিমর (Nimr) সাঁজোয়া যানগুলো কি আল-ইয়াসীন 105 এর আঘাত থেকে বাঁচতে পেরেছে? গেরিলা আক্রমণ করে কমান্ডো মুজাহিদরা কি তোমাদেরকে ভয় দেখাননি? পুরো বিশ্ব কি কমান্ডো মুজাহিদদের গেরিলা আক্রমণের পুরো প্যাকেজ দেখে হতভম্ব হয়ে যায়নি?

তোমরা তো এখনো কিছুই দেখনি। উম্মাহর সন্তানেরা যখন উঠে দাঁড়াবে এবং সর্বত্র তোমাদের স্বার্থ টার্গেট করে হামলা করবে, তখন ভয়াবহতা টের পাবে। তোমাদেরকে সেই দৃশ্য দেখাতে আমরা খুব বেশি দেরি করবো না, ইনশাআল্লাহ।

তোমাদের দাওয়াত ও মতবাদের পতন ঘটেছে। আমাদের দাওয়াত শুরু হয়েছে। ০৭ই অক্টোবরের হামলার সাফল্যের মাধ্যমে সামরিক লক্ষ্য অর্জন এর পাশাপাশি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অপেক্ষায় আছি আমরা। মূল লক্ষ্যের সাথে আমরা অন্যান্য লক্ষ্যও দেখতে পাচ্ছি।

ইহুদীরা জুলুমের শিকার ও নিপীড়িত—এমন দাবির অসারতা আজ সকলের সামনে চলে এসেছে। এ কথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, তারাই বর্ণবাদী জল্লাদ। মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মহল ইত্যাদি শিরোনামের পেছনে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব প্রতারণার যে চেহারা লুকিয়ে রেখেছিল, তা থেকে মুখোশ খসে পড়েছে। তাদের বর্ণবাদী নগ্নতা, শ্রেণিবাদ, দুর্নীতি, এবং ইহুদীদের প্রতি নির্লজ্জ পক্ষপাতদুষ্টতা উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে বর্তমান সময়ে ইহুদী, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিক খ্রিস্টানরাই শুধু মানুষ। এছাড়া বাকিরা মানুষের কাতারে পড়ে না।

তারা যা প্রচার করে, বাস্তবে সেগুলোর কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না। অবশিষ্ট মানব গোষ্ঠী তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হাতিয়ার ছাড়া কিছুই নয়। বিকৃত জাপান এবং পৌত্তলিক ভারত ব্যস্ত রয়েছে চীনকে প্রতিহত করার জন্য। তাইওয়ান হল চীন সাগরের আরেকটি ইসরাঈল, যা ভোগবাদী পশ্চিমা শক্তির অনুপ্রবেশ সহজ করার সুবিধার্থে সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করছে।

দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে উত্তর কোরিয়ানদের প্রলুব্ধ করার জন্য। অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইসলামিক দ্বীপগুলিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে যায়… ইত্যাদি। তোমরা কি মনে কর যে, এই পৃথিবীর কোথাও তোমাদের দাওয়াত অবশিষ্ট থাকবে? প্রযুক্তি সর্বত্র সবকিছু স্থানান্তরিত করেছে। আজকের পরে কেউ তোমাদের কথা শুনবে না, তোমাদেরকে কিছু দিবে না। প্রযুক্তি একটি বৈশ্বিক বিপ্লব, কিন্তু এই প্রযুক্তি তোমাদের প্রাপ্য অবস্থানে তোমাদেরকে নিয়ে গিয়েছে।

জন কিরবি (John Kirby) বিষণ্ণ মুখে জনসম্মুখে বলেছে, ‘ফায়ারিং বন্ধ করার সময় এখনও আসেনি।’ সে কী জন্য এই কথা বলেছে? কারণ মুজাহিদীনের সংকল্প ও ইচ্ছা শক্তি ধ্বংস করাটাই তাদের আসল লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য এখনো তাদের অর্জিত হয়নি। ইনশাআল্লাহ, তাদের এ লক্ষ্য কখনোই অর্জিত হবে না। আফগানিস্তানে ইতিপূর্বে তোমরা যেভাবে মুজাহিদীনের ইচ্ছা ও সংকল্পের কাছে নতি স্বীকার করেছিলে, এবারও তাই হবে, ইনশাআল্লাহ!

হে আমেরিকা এবং জায়নবাদীরা!

তোমাদের নির্বুদ্ধিতাই তোমাদের পতন ডেকে এনেছে। শুধু মুসলিমরাই নয়; গোটা বিশ্ব এমনকি তোমাদের তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোও তোমাদেরকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। পশ্চিমা ও জায়নবাদীদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, ২৫ দিনের নিষ্ঠুর যুদ্ধের পর জন কিরবি (John Kirby) নিজ বক্তব্যে আমেরিকা এবং জায়নবাদীদের পরাজয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

তোমাদের যুদ্ধ অনিবার্যভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তোমরা যুদ্ধাঙ্গন ছেড়ে পারাপারের পথ অবশ্যই খুব অচিরেই খুলে দিবে। কিন্তু আমাদের তো এখনই যুদ্ধের সময়। সামনের সময়টা তোমাদের জন্য হবে আরো শোচনীয়; এমনকি তোমরা আমাদের ভূমি থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে। তোমাদের আমলাদেরকে তখন আমরা তোমাদের সাথে পাঠিয়ে দিবো।

মুসলিম উম্মাহকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করবো। আসমানের মালিকের নির্দেশনা মতে ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে প্রকৃত শান্তির পথে আমরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবো। সেখানে তোমাদের এঁকে দেয়া ভৌগোলিক সীমারেখার আমরা কোনো তোয়াক্কা করব না। দীর্ঘ কাল যাবৎ তোমরা গোটা বিশ্বকে শান্তি শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রেখেছো। তোমাদের স্বার্থ ও বিনোদনের জন্য ধোঁকা, প্রতারণা ও অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বকে সত্যিকার শান্তি শৃঙ্খলার বাতাস থেকে বঞ্চিত রেখেছো।

***

 

স্বৈরাচারী শাসকদের দৃষ্টিকোণ থেকে:

পুরো বিশ্ব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং আরব শাসক গোষ্ঠীর হাস্যকর, বিরক্তিকর সিরিজ নাটক প্রত্যক্ষ করেছে। কিসিঞ্জার এবং আরব শাসকদের ঘটনাবলী আরও চক্রান্তময় ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। অবশ্য কিসিঞ্জারের সাথে অংশগ্রহণকারী শাসকগোষ্ঠী প্রভাবশালী ছিল। অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পা চাটা গোলামদের ব্যাপারটা কিন্তু তাদের থেকে আলাদা। তাদের অবস্থান কারো পরিচিত নয়।

আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তারা (ইহুদী, পশ্চিমা বিশ্ব, আরব শাসক গোষ্ঠী) এবং কতক মুসলিম মনে করে যে, এই রাজনৈতিক ঘটনাবলী গাজার ভূমিতে রক্তাক্ত দৃশ্যকে হালকা করে তুলবে। না, খোদার কসম! তোমরা এই ভূমিতে যে আগুন জ্বালিয়েছো, তা কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই তোমাদেরকে জাহান্নামে পৌঁছে দিবে।

বিশ্বের মানুষ গাজাকে সমর্থন করার জন্য জেগে উঠেছে। বিশাল বিশাল বিক্ষোভ, সমাবেশ মানুষকে হতাশার দিকে নিয়ে যাবে না, বরং পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে। যদি তোমাদের কাছে অস্ত্র থাকে; তবে জনগণেরও নাগরিক বিদ্রোহের অধিকার ও সুযোগ আছে। তাদের কতকের কাছে কিছু অস্ত্রশস্ত্রও আছে। খুব শীঘ্রই উম্মাহর এই উত্থান বিদ্রোহের চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে, যা এই আগুন প্রজ্জ্বলনকারীদেরকে পুড়িয়ে ছাই করে দিবে।

শাসকদের অপমানজনক অবস্থান, ধর্ম ও মানবতার শত্রুদের কাছে তাদের লজ্জাজনক নতি স্বীকার, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে তাদের লজ্জাজনক দাঁড়িয়ে থাকা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গেটে মনিবদের কাছে অনুমতির অপেক্ষায় থাকা—এসবের কথা আর কি বলবো? জাতিসংঘের কাছে যুদ্ধ বন্ধের আবেদন করা এবং অনুগ্রহ ভিক্ষা করা কতটা অপমানজনক! এই ভিক্ষার অর্থ কী? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি এই যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষমতা আছে? এই ভিক্ষার কি অর্থ? ইহুদীরা কি কখনো জাতিসংঘের জারি করা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে? জাতির জনগণ ০৭ই অক্টোবরের বার্তা বুঝতে পেরেছে, কিন্তু তোমরা এখনো তোমাদের আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছো।

মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া এবং হারামাইন শরীফাইনের ভূমির মতো ইসলামী দেশের শাসকদের কাছ থেকে জাতি এই অবস্থান আশা করেছিল যে, তারা প্রথমত তাদের সেনাবাহিনীকে একত্রিত করবে। এরপর তাদের প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীকে ঠিক ঐ কাজের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিবে, মুজাহিদীনের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে যে কাজ সম্পাদিত হয়েছে।

নিশ্চয় ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং মর্যাদার সাথে আমাদের সংগ্রামী জীবনের বিজয় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিপরীতে পরাজয়, ব্যর্থতা ও বিপর্যয় এগুলো মূলত অত্যাচার ও নিপীড়নেরই প্রতিফলন। ফিলিস্তিন যে সময়টাতে আগ্রাসনের কবলে পড়ে, তখন কি রাজনৈতিক নিপীড়নের পরিবেশ বিরাজ করছিল না? ফিলিস্তিনের সরকার সে সময় জনগণের সামনে বড়াই জাহির করছিল কিন্তু শত্রুদের সামনে তারা ঠিকই নিরুপায় নিরীহ ছিল। এমনটাই কি হয়নি?

এ থেকেই আমরা বুঝতে পারি, মুসলিম রাষ্ট্রগুলি চলমান ইস্যুতে যা কিছু করেছে, সেগুলো তথাকথিত মুসলিম সরকারগুলোর ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা নয় বরং এগুলো মূলত জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি। নেতিবাচক বিক্ষোভের মাধ্যমে তাদের এই অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যা আমেরিকা এবং তার পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ছোট্ট জায়নবাদী রাষ্ট্র এই পর্যায়ে মেনে নিতে পারে।

(অর্থাৎ এ জাতীয় বিক্ষোভ প্রদর্শনকে আমেরিকা ও ইহুদীবাদী রাষ্ট্র ততটা খারাপভাবে বিবেচনা করবে না। সংঘাতের এই পর্যায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীদেরকে তারা সরাসরি সশস্ত্র লড়াইকারীদের তুলনায় সহজভাবেই গ্রহণ করবে। তাদের প্রতি এতটা রাগান্বিত ও রুষ্ট হবে না, যতটা উত্তেজিত হয়ে থাকে সশস্ত্র সংগ্রামের কথায়। তাইতো গাজার জনগণের উপর তারা উন্মত্তের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে।) (উপর্যুক্ত যে বিষয়টা বলা হলো তার দাবি ছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শনের এই সারিতে কোনো উল্লেখযোগ্য মুসলিম দেশ পিছিয়ে থাকবে না)

কিন্তু সত্যিই আমি অবাক হই: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জাযীরাতুল আরবের মুসলিম জনসাধারণ কোথায়? তারা কি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে? নাকি অত্যাচারী যুবরাজ বিন সালমান এবং তার নির্বোধ ভাইয়েরা তাদেরকে বারণ করেছে!

হে আমাদের প্রিয় উম্মাহ!

এমন বিক্ষোভের কোনো মানে নেই, যেটা শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করার জন্য ব্যবহার করা না হয়। যারা আপনাদেরকে হাতকড়া পরিয়ে দেয়, আপনাদের প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে আপনাদের সামনে বাধা সৃষ্টি করে, তাদের সাথে কোনো সমঝোতা নেই। যদি এদেরকে উৎখাত করা যায়, তবেই গোটা বিশ্বের সর্বত্র উম্মাহর সন্তানদের সাহায্যের জন্য আপনারা অগ্রযাত্রা করতে পারবেন। দুর্বলদের ডাকে আপনারা সাড়া দিতে পারবেন এবং শাশ্বত ঐশ্বরিক বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

নবম মূল্যায়ন: আরব ও মুসলিম শাসকদের প্রসঙ্গে:

আরব ও মুসলিম শাসকদের প্রতিক্রিয়া কি ছিল? তারা কী ঐতিহাসিক পর্যায়ে ছিল? (ইতিহাস জুড়ে মুসলিম শাসকদের যেই পরিচয় আমরা জেনে এসেছি; মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রশ্নে জালেম ও স্বেচ্ছাচারী মুসলিম শাসকরাও ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় যে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন, আজকের যুগের মুসলিম শাসকদেরকে কী আমরা সেরকমটা দেখতে পাচ্ছি? ঐতিহাসিক সেই অবস্থান কি তারা ধরে রাখতে পেরেছে চলমান ইস্যুতে?) গাজার মুসলিমদের সমর্থন করার জন্য তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে? গাজার মুজাহিদীনের সমর্থন করার বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করা কঠিন। কারণ হতভাগা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজীজ এবং তার বখে যাওয়া ছেলে জাযীরাতুল আরবে যখন থেকে আবির্ভূত হয়েছে, তখন থেকে তারা অন্যান্য আরব শাসকের মতো মুজাহিদীনের থেকে নিজেদের চেহারা ফিরিয়ে নিয়েছে।

এতোটুকুতেই ক্ষান্ত হয়নি! বরং তারা তাদের মনিব ইহুদীবাদী ও ক্রুসেডারদের সঙ্গে মিলে মুজাহিদীনকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেয়ার সুরে তাল মিলিয়েছে। ফিলিস্তিন দখলকারী ইহুদীবাদী শত্রুর তোষামোদে তারা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। অবশেষে ২০২৩ সালে গাজার ঘটনায় তাদের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে।

হামলার ২১ দিন পর ২৮শে অক্টোবর শনিবার বিকেল পর্যন্ত আমরা তাদের কাছ থেকে কোনো আওয়াজ শুনতে পাইনি। হ্যাঁ, তারা মাথা নিচু করে বকবক করছিল, কিন্তু তাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল। একটা কথাই যেন তারা বলতে চাচ্ছিল—“হে আমাদের মনিবেরা! সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আমাদেরকে দ্রুত বাঁচাও। তারা তো জনগণের সামনে আমাদেরকে লজ্জিত, অপদস্থ করে ছাড়ছে।”

আরব ও মুসলিম শাসকরা একথা এখনো বুঝতে পারেনি যে, ১৫ই আগস্ট আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান বাহিনী যখন লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে, তখনই ইহুদী মিথের মায়া ভেঙ্গে গিয়েছে। তখনই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব এবং তার মিত্রদের সময় শেষ। বিশ্ব এই দশকে নতুন সমীকরণের মুখোমুখি হবে, যা এই দশকের সামনে আসবে। মুসলিম শাসক হিসেবে এ দশকে কি কোনো সঠিক ভূমিকা পালন করার সুযোগ তোমাদের সামনে খোলা আছে? আমার সন্দেহ হয় এ বিষয়ে।

আমেরিকার পতনের আওয়াজ সকলে শুনতে পাচ্ছে। এই আওয়াজ শুনে মানুষের চোখ থেকে পর্দা সরে গিয়েছে। কিন্তু হে শাসকেরা! তোমরা এখনো তোমাদের হৃদয় থেকে পর্দা সরাওনি! কে জানে হয়তো তোমরা নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য এটাই কামনা করো যে, আমেরিকার পতন না ঘটুক! তোমাদের ব্যাপারেই যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন:

فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَىٰ أَن تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ ۚ فَعَسَى اللَّهُ أَن يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِّنْ عِندِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا أَسَرُّوا فِي أَنفُسِهِمْ نَادِمِينَ﴿٥٢﴾‏

অর্থঃ “বস্তুত যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তাদেরকে আপনি দেখবেন, দৌঁড়ে গিয়ে তাদেরই মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বলেঃ আমরা আশঙ্কা করি, পাছে না আমরা কোনো দুর্ঘটনায় পতিত হই।” [সূরা মায়েদা ০৫: ৫২]

তোমাদের ব্যাপারেই যেন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আরো ইরশাদ করেছেন:

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ تَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِم مَّا هُم مِّنكُمْ وَلَا مِنْهُمْ وَيَحْلِفُونَ عَلَى الْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ﴿١٤﴾

অর্থঃ “আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর গযবে নিপতিত সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে? তারা মুসলমানদের দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও দলভুক্ত নয়। তারা জেনে শুনে মিথ্যা বিষয়ে শপথ করে।” [সূরা মুজাদালা ৫৮: ১৪]

তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ (আরব ও মুসলিম দেশের সব শাসক) তাদের মন্দির ও গির্জার সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে । কেউ কেউ তাদের জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জাযীরাতুল আরবের ভূমিতে মন্দির ও গির্জা নির্মাণ করে যাচ্ছে— যেমনটা করে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ শাসক; যাদের শীর্ষে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের শয়তান ‘মুহাম্মদ বিন জায়েদ’।

তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসলিমদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করে যাচ্ছে এবং মুসলিমদের তথ্য কাফের মনিবদের কাছে সরবরাহ করছে, যেমন: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমানদারদেরকে গাজা থেকে নেগেভে স্থানান্তর করার পরামর্শ দিয়েছে (আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি)। তোমাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ রয়েছে; যারা মুসলিমদেরকে, মুসলিম সেনাবাহিনীকে সীমান্ত খুলে শত্রুদের উপর আঘাত হানার পথে বাঁধা দিয়েছে (জর্ডান, মিশর, সিরিয়া, লেবানন, রিয়াদ, তুরস্ক, এবং ইরাক প্রভৃতি অঞ্চলের শাসকগণ)…।

এভাবেই তোমরা একেকজন একেকভাবে উম্মাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছো। তোমরা সকলেই উম্মাহর বিরুদ্ধে শত্রুদের সাথে একই শিবিরে অবস্থান করছো। তাইতো গাজায় যে মুসলিমদের রক্ত ঝরানো হচ্ছে, তার জন্য তোমরাও দায়ী। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা মুসলিমদের হত্যাকারীদেরকে হুমকি দিয়ে ইরশাদ করেছেন:

وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا﴿٩٣﴾

অর্থঃ “যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।” [সূরা নিসা ০৪: ৯৩]

মিশরে ক্ষমতার মসনদ দখল করে রাখা ইহুদীবাদী শাসক (আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি):

আজকাল তারা (ক্ষমতাসীনরা) মিশরের বীরত্বপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে; কারণ মিশর গাজার জনগণকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গাজার জনগণ কি আদৌ ইহুদীদের (গাজা ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার) দাবি মেনে নিয়েছে? যদি তারা তা করতো, তাহলে কেউ তাদের বাধা দিত না। ফিলিস্তিনিরা চাইলে ঠিকই সীমান্ত ক্রসিং অতিক্রম করে মিশরে ঢুকে যেতে পারতো, যেমনটা তারা আগে করেছিল। বাস্তুচ্যুতি এবং অন্যত্র শরণার্থী হয়ে থাকার ব্যাপারটা ঠেকানোর সিদ্ধান্ত যিনি নিয়েছিলেন, তিনি হলেন একজন সাধারণ মুসলিম নাগরিক, যার দাদা প্রথম বাস্তুচ্যুতির তিক্ততার স্বাদ পেয়েছিলেন। বাস্তুচ্যুতির পরে কেউ নিজের ভূমিতে আর ফিরে আসতে পারেনি।

সিসির বিষয়টা হলো, সে তার কর্মচারীদের মাধ্যমে ইহুদীদেরকে একটি বার্তা পাঠায় যে, গাজার মুজাহিদরা তাদের বিরুদ্ধে একটি বড় হামলার পরিকল্পনা করছে। সে (আল-সিসি) ইহুদীদেরকে পরামর্শ দেয়, গাজার জনগণকে নেগেভে বাস্তুচ্যুত করার। ইহুদীদেরকে সে দুইটা অপশন দিয়েছিল- হয় ফিলিস্তিনিদেরকে গাজায় ফেরত পাঠাবে অথবা মরুভূমিতে ধ্বংস হওয়ার জন্য ফেলে রাখবে।

সে (সিসি) ক্রসিং গেট বন্ধ রেখেছিল যতক্ষণ না ইহুদীরা তাকে ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করানোর অনুমতি দেয়। অথচ তার দায়িত্ব ছিল বিশ্বের দশম শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে ফিলিস্তিন সীমান্তে একত্রিত করা। যদি তাতে অক্ষম থাকতো, তবে তার উচিত ছিল মুসলিম শাসকদেরকে সংগঠিত করা। তার কর্তব্য ছিল ইহুদী বিমানকে গাজায় বোমাবর্ষণ থেকে বিরত রাখা। কারণ এটি মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত। তাই নিজ সেনাবাহিনী নিয়ে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জন্য ছুটে যাওয়া ছিল তার দায়িত্ব। তা না করে সে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত ভিক্ষা করার জন্য লজ্জাজনক বিনয়ের সাথে অপেক্ষা করতে থাকে!

এই কি সেই ব্যক্তি নয় যে মিশরের কাছে আসা —সম্ভবত ক্ষমতার চেয়ার দখলের অভিলাষী— কাউকে হুমকি দিয়েছিল। এই লোক (সিসি) স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, মিশরীয় সেনাবাহিনীর লক্ষ্য কেবল তার দেশের সীমানা রক্ষা করা। তাই কেউ যেন এই লক্ষ্যের চেয়ে বেশি কিছু মিশরীয় সেনাবাহিনীর কাছে আশা না করে!

ছি, কি লজ্জা! এই সেনাবাহিনী ০৭ই অক্টোবর ইসলামের সিংহ ও বাজপাখিরা যে অপারেশন পরিচালনা করেছেন, তার ১০ ভাগের এক ভাগও করতে সক্ষম নয়। কারণ এদের নেতা হলো সিসি। নিম্নোক্ত কবিতার দুটি লাইন যেন এই সিসির কথাই বলছে:

أسد عليَّ وفي الحروب نعامة *** فتخاء تنفر من صفير الصافر

هلا برزتَ إلى غزالة في الوغى *** بل كان قلبك في جناحي طائر

আমার সামনে তুমি সিংহ হয়ে থাকো, কিন্তু যুদ্ধে তুমি হয়ে যাও উটপাখি, তাই যুদ্ধের গর্জনে তুমি পালিয়ে যাও।

যুদ্ধের ময়দানে কেন তুমি তোমার প্রতিপক্ষ নারীর সামনে এলে না? আসলে তোমার হৃদয় তখন ছিল পাখির ডানায়।”

হে মিশরের স্বাধীনচেতা জনগণ!

যাদের হৃদয়ে আত্মমর্যাদাবোধ, আত্মসম্মান ও আভিজাত্যের কিছু অংশ হলেও বাকি রয়েছে, সেনাবাহিনীর এমন প্রত্যেককে আমি আহ্বান করছি! আপনাদের এই শোচনীয় অবস্থা নিয়ে কি আপনারা সন্তুষ্ট? আপনারা কি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হতে চান না? আপনারা কী ইহুদী গোষ্ঠী এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পতাকা বহন করতে চান না?

আল্লাহর কসম! আপনাদের চেয়ে শক্তি-সামর্থ্যের বিচারে অনেক পিছিয়ে থাকা তুফানুল আকসার মুজাহিদীন; এই দখলদার ইহুদী গোষ্ঠী ও তাদের কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারেননি; এমনিভাবে দখলদারদের তাবেদার সিসি, তার নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং এদের সকলের অর্থহীন মুখরোচক কথাবার্তার উপর ভিত্তি করে বসেও থাকেননি। সুতরাং আগামী দিনে আমরা তাদের কাছ থেকে উম্মাহর জন্য উপকারী অনেক ভালো পদক্ষেপের প্রত্যাশা রাখি। অন্যথায় এই বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তারা চিরকালের জন্য নিন্দিত হবে, যা তাদেরকে লজ্জিত করবে।

পূর্ব আরব উপদ্বীপের বেশ কয়েকটি অত্যন্ত ধনী শহরের শাসনের উত্তরাধিকারী, শয়তান ডাকনামের অধিকারী ইহুদীবাদী শাসক (মুহাম্মদ বিন জায়েদ):

তোমার বিমান লিবিয়া ও মালিতে পৌঁছে সেখানকার মুসলিমদের উপর বোমাবর্ষণ করে। কিন্তু সেই বিমানগুলো ঘরের কাছে ফিলিস্তিনে পৌঁছুতে পারে না! কী কারণে? হ্যাঁ আমরা জানি। ভারতে যখন আল্লাহর ঘর (মসজিদসমূহ) ভেঙে ফেলা হয়, তখন ভারতের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অবস্থান তুমি গ্রহণ করনি —যেমন হিন্দুদেরকে বিতাড়িত করে দেয়ার হুমকি অথবা হারামাইনের ভূমিতে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো বন্ধ করে দেয়ার হুমকি। এগুলো কোনো কিছুই তোমার হতে প্রকাশ পায়নি। ভারতকে যেখানে তোমরা কিছু বলোনি, সেখানে নিজেদের রক্ষাকারী আমেরিকা এবং মনিব জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে? এটাতো কল্পনাও করা যায় না।

আমি সবসময় আমার ভাইদের বলেছি, গোলামীর একটা সীমা-পরিসীমা আছে। একজন গোলাম ও তাবেদার পুরোপুরিভাবে নতজানু হতে পারে না; বরং তার একটা সীমা রয়েছে। কিন্তু তোমার দাসত্ব ও নতজানু অবস্থার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। তোমার বিমান ইয়েমেন, লিবিয়া এবং মালিতে মুসলিমদের সাথে যা করেছে, তা ইহুদী বিমানগুলোর ফিলিস্তিন হামলার চেয়ে কম নয়। কত ফিলিস্তিনি তোমার ভূমিতে কাজ করে, যাদেরকে এখনো নাগরিকত্ব দাওনি! অথচ ৭০০০-এরও বেশি ইহুদীকে জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব দিয়েছো।

তুমি ভ্যাটিকানের পোপের আতিথেয়তা করেছো, শ্রদ্ধার সাথে তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলে। এর কারণ কী? সেটা কী এজন্য যে, তুমি ইবনে আরাবি, ইবনুল ফরিদ, ও জালাল উদ্দিন-রুমীর ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’ বা ‘সকল অস্তিত্বের একাত্মতা ও ভালোবাসার মতবাদে’ বিশ্বাসী? কিন্তু যখন তুমি মুসলিমদের দিকে তাকাও, তখন সকল অস্তিত্বকে ভালোবাসার এই মতবাদ তোমার থেকে কেন পৃথক হয়ে যায়? যাইহোক, তোমার বিশ্বাস ও মতবাদের জন্য তোমাকে অভিনন্দন!

لقد صار قلبي قابلاً كل صورة *** فمرعى لغزلان ودير لرهبان

وبيت لأوثان وكعبة طائف *** وألواح توراة ومصحف قرآن

أدين بدين الحب أنّى توجهت *** ركائبه فالحب ديني وإيماني

“আমার হৃদয় প্রতিটি চিত্র গ্রহণ ও ধারণ করে নিয়েছে, এই হৃদয় হরিণের জন্য একটি চারণভূমি এবং সন্ন্যাসীদের জন্য একটি আশ্রম

এ হৃদয় পৌত্তলিকদের উপাসনালয় আবার তাওয়াফকারীদের কাবা, এ হৃদয় তাওরাতের ফলক আবার আল কুরআনের মুসহাফ

আমি ভালোবাসার ধর্ম গ্রহণ করে ভালোবাসার বাহনে চড়েছি। কারণ এই ভালোবাসাই আমার দীন ও ঈমান।”

রিয়াদ শাসনের উত্তরাধিকারী, ক্রাউন প্রিন্স, পতিতাবৃত্তি ও অশ্লীলতার প্রচারক (মুহাম্মদ বিন সালমান):

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় জাযীরাতুল আরবের ভূমি, নির্লজ্জ শাসকদের নেতৃত্বে ধর্ম, পবিত্রতা এবং প্রশংসনীয় ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণ প্রত্যক্ষ করছে। যুবরাজ বিন সালমান আলেমদেরকে বন্দী করেছে এবং তাদের একদলকে হত্যা করেছে। বাকিদেরকে নীরব থাকতে বাধ্য করেছে। যারা এখন নীরব আছেন, তারা তার নামের প্রশংসা করে এবং তার ক্ষমাপ্রাপ্তির কথা ঘোষণা দেয়।

যুবরাজ বিন সালমান হারাম শরীফের কাছাকাছি পতিতাবৃত্তি, অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের সকল উপায় অবলম্বন সহজলভ্য করে দিয়েছে। সে জোরপূর্বক ধনীদের সম্পদে ভাগ বসায়। এমনিভাবে সে জোরপূর্বক সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং এর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা নেই, সে কি ইহুদীদের কাছে এই প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিয়েছে নাকি তাদেরকে বিনা মূল্যে মালিকানা হস্তান্তর করেছে!

আমেরিকান দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করার জন্য সে অপরাধী ট্রাম্পকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার পুরস্কার হিসাবে দিয়েছিল। সে মুসলিমদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে গর্ব, অহংকার ও প্রদর্শনের জন্য ফুটবল প্লেয়ার ক্রয় করে। এভাবেই উম্মাহর যুবকদেরকে সে অর্থহীন ও অনর্থক বিষয়ের পেছনে ব্যস্ত করে রাখে। এ বিষয়গুলোই সময়ের দাবি ও যুগোপযোগী বিষয়, তথা ‘জিহাদ ও শাহাদাতের পথ’ থেকে উম্মাহর যুবকদের বিচ্যুত হবার কারণ হয়।

আমি মসজিদে হারামের সম্মানিত ইমামকে (আস-সুদাইস) জিজ্ঞাসা করতে চাই, রিয়াদ ও আমেরিকা কি এখনও গাজার যুদ্ধে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে? … এই যাদের অবস্থা, তাদের কাছ থেকে কী গাজা বা অন্য কোনো ভূমিতে নির্যাতিত-নিপীড়িত মুসলিমদের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার কথা আশা করা যায়?

অক্টোবরের ০৭ তারিখের বরকতময় অভিযানটি আমাদের সামনে অনেক বার্তা রেখে দিয়েছে। এই বার্তা জাতির বীর বাহাদুর, লড়াকু সৈনিক, অতন্দ্র প্রহরী এবং উম্মাহর মুজাহিদ সন্তানদের কাছে গোপন নয়। এটি সত্যিই একটি অপ্রত্যাশিত আঘাত ছিল, যার প্রভাব অনেক গভীর। ইসলাম, মুসলিম, মুসলিমদের ভূমি ও সম্পদের উপর আগ্রাসনকারী বিভিন্ন প্রকল্পের উপর গভীর প্রভাব বিস্তারকারী আঘাত হেনেছিল এই অভিযান।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও শাসকগোষ্ঠী  নিজ ইচ্ছায় ক্রুসেডার জায়নবাদীদের অধীনে থাকার পথ বেছে নিয়েছে। খুব শীঘ্রই হাউস অফ সৌদ এবং ইহুদীদের মধ্যে অকপটে নির্লজ্জভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ঘোষণা হবার কথা ছিল। NEOM প্রকল্প বাস্তবায়নের মাঝে যে বিষয়টা লুকায়িত ছিল, সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সে বিষয়টা খুব দ্রুতই সর্বোচ্চ মাত্রা ছুঁয়ে যাবার কথা ছিল। যদিও আমি নিশ্চিত যে, বিন সালমানের সাহস রয়েছে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টা ঘোষণা করার; সেটা সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে; সম্ভবত বর্তমান রিয়াদ মৌসুম[3] (Riyadh Season) শেষ হওয়ার পরেই।

সম্ভবত আমরা প্রিন্স বিন সালমানকে (আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন!) ভুল বুঝেছি। সম্ভবত সে রিয়াদ মৌসুম থেকে উপার্জন করা সমস্ত অর্থ গাজার অবকাঠামো পুনঃর্নির্মাণে ব্যয় করবে!

শাসক মহলের এই কিছু উদাহরণ আমাদের বোঝার জন্য যথেষ্ট। যাদের কথা আলোচনা হল, তারা ছাড়া বাকিরা সেই একই পথের অনুসারী। তবে মাহমুদ আব্বাসের কথা ভিন্ন। সে অন্য কোনো দিকে যায় না। ক্ষমতার মূল আসন থেকে সে অপসারিত। ফলে ইহুদীদের কখন কি আদেশ-নিষেধ আসে সেই অপেক্ষায় থাকে।

যদি কবিদের বাদশাহ খ্যাত  ‘আহমেদ মাতার’ (Ahmed Matar)-এর কবিতা না হতো; গাজায় যা ঘটেছে ও ঘটছে, সেগুলো যদি না হতো, তবে কেউ মনে রাখতো না যে, (রামাল্লা) এলাকায় আব্বাস নামে একজন শাসক আছে। ‘আহমেদ মাতার’ কী তোমাকে নিয়েই তাঁর কবিতা রচনা করেছে? নাকি তিনি তোমার নামটাকে দুর্বল শাসকদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে?

সিসি এবং মিশরীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে আমি যা উল্লেখ করেছি, সকল মুসলিম দেশের শাসকের ব্যাপারে এই একই কথা প্রযোজ্য। আজকে কারও কাছে ইহুদী ও আমেরিকার স্বার্থ নষ্ট না করার কোনো অজুহাত নেই। কেবল ফিলিস্তিনেই নয়, গোটা বিশ্বে শত্রুদের স্বার্থ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শত্রু দেশের রাষ্ট্রদূতরা বিভিন্ন দেশে বসবাস করে সেই দেশগুলো পরিচালনা করেন। আমরা এমন একটি দেশের কথা শুনিনি, যে দেশ ইহুদী ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বয়কট করেছে বা বন্ধ করেছে…!

উপরে যাদের কথা আলোচনা হল, তাদের মধ্যে এমন একজন শাসকের কথাও শুনিনি, যে গোঁফ তুলে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত কিংবা ইহুদীদেরকে তার দেশ থেকে বিতাড়িত করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

তারা কীভাবে এটা করতে পারে? তারা তো ইহুদীদের চেয়েও বেশি ইহুদীবাদী! তাদের আমেরিকান প্রভুরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে। আমেরিকা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, তারা – (তথা আরব শাসকরা) – ইহুদীদের চেয়েও বেশি হামাসের ধ্বংস চায়। হামাস ধ্বংস হয়ে গেলে তারা ইহুদীদের চেয়েও বেশি আনন্দিত হবে।

 ০১লা নভেম্বর ২০২৩ সালে আমি ভাবছি, আরব লীগ কী গাজার স্বার্থে একটি অধিবেশন করবে? … নাকি এখনো এ বিষয়ে ইচ্ছুকদের কোরাম[4] পূর্ণ হয়নি?

***

[1] আমাদের অনুসন্ধানে ‘তুফানুল আকসা’ শুরু হওয়ার পর আন-নাফির এর ‍দুটি (৩৭-৩৮) বুলেটিন প্রকাশিত হয়। সে দুটি বুলেটিনে আল-আযহার এর কোনো বিবৃতি খুঁজে পাওয়া যায়নি। খুব সম্ভব নামের ক্ষেত্রে মুহতারাম লেখকের বিষয়টি ‘তাসামুহ’ হিসাবে বিবেচ্য। তবে আস-সাহাব মিডিয়া থেকে প্রকাশিত ‘হে ইসলামের আলেমগণ! কাফেলায় শরীক হোন!’-আসিম আল-মাগরিবি > এটাতে আল-আযহার এর বিবৃতি পাওয়া যায়। আগ্রহী পাঠকগণ এই নাম দিয়ে নেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন ইনশাআল্লাহ। [সম্পাদক]

[2] উইকিপিডিয়া’র তথ্যানুযায়ী- আনুমানিক ষাট লক্ষ ইহুদী হত্যা করেছে হিটলার। [সম্পাদক]

[3] রিয়াদ সিজন হল- রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে একটি বার্ষিক বিনোদন এবং ক্রীড়া উৎসব, যা অক্টোবর মাস থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আল সুয়েদি পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা অংশগ্রহণ করে থাকে। সেখানে একসঙ্গে প্রায় চল্লিশ হাজার (৪০,০০০) এর বেশি দর্শনার্থীদের সংকুলান হয়। এর দ্বারা সৌদি আরব বিপুল অর্থ উপার্জন করে থাকে। [সম্পাদক]

[4] আইনানুগভাবে কোনো সভা বা মিটিং পরিচালনার জন্য যে ন্যূনতম সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি বাঞ্চনীয় তাকে কোরাম বা গণপূর্তি সংখ্যা বলে। [সম্পাদক]

 

********************************

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 13 =

Back to top button