সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / ভারতবর্ষের মুসলিমদের প্রতি বার্তা- আপনাদের মহাসাগরে কোনও ঝড় নেই কেন? – মাওলানা আসীম উমার

ভারতবর্ষের মুসলিমদের প্রতি বার্তা- আপনাদের মহাসাগরে কোনও ঝড় নেই কেন? – মাওলানা আসীম উমার


مؤسسة القادسية
Al-Qadisiyyah Media
আল-ক্বাদিসিয়াহ
মিডিয়া

تقدم
Presents
পরিবেশিত

الترجمة البنغالية لإصدار السحاب المرئي
The Bengali
Translation of As-Sahab Video Release
আস-সাহাবের
একটি ভিডিও এর
অনুবাদ

بعنوان
Entitled
শিরোনাম



لماذا لا يوجد عاصفة في محيطكم؟
Why is
There No Storm in Your Ocean?

আপনাদের মহাসাগরে কোনও
ঝড় নেই কেন?

رسالة للمسلمين في الهند
A Message For The Muslims of
India
ভারতবর্ষের মুসলিমদের প্রতি
বার্তা

لمولانا عاصم عمر
By Maulana Aasim
Umar
মাওলানা আসীম উমার

حفظه الله
May Allah protect him
আল্লাহ্* তাঁকে রক্ষা করুন

للتحميل
Downland

https://archive.org/details/ban-asim

https://archive.org/details/4hindi.moslem

https://archive.org/details/MessagetotheMuslimsofIndia

পিডিএফ

https://archive.org/download/ban-asim/MI_Bn.pdf

ওয়ার্ড

https://archive.org/download/ban-asim/MI_Bn.docx

প্রকাশিত হলো

নতুন বাংলা লেকচার

মাওলানা আসেম ওমর (দাঃ বাঃ)

এর পক্ষ থেকে

হিন্দুস্তানের মুসলিমদের প্রতি একটি বার্তা

তোমাদের সমুদ্রে ঝড় নেই কেন!!!

ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন ১৬ এমবি

 

Video_HQ
http://www.mediafire.com/file/35le3v97dmyj33y/15.sh2Bn_HQ.mp4/file

 Video_LQ
http://www.mediafire.com/file/jwalantycnht9no/15.sh2Bn_MobileQ.3gp/file

Video_MQ
http://www.mediafire.com/file/rgdexvtms218z10/15.sh2Bn_MQ.mp4/file

 

Word
http://www.mediafire.com/file/l1kmdjze88sve7x/16.MI_Bn.docx/file

PDF
http://www.mediafire.com/file/1wsbugddwdr2o6c/16.MI_Bn.pdf/file

============================

আপনাদের মহাসাগরে কোনও ঝড় নেই কেন?

ভারতবর্ষের মুসলিমদের প্রতি

বার্তা

বার্তা প্রদানকারী

মাওলানা আসীম উমার

(আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন)

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ’র জন্য। সালাত ও সালাম সর্বশেষ রসুল (সাঃ) এর উপর বর্ষিত হোক।

প্রথমেই আমি অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহ’র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি । পরম করুণাময় ও অশেষ মেহেরবান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।

আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ

”هُوَ الَّذِيْٓ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰي وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهٗ عَلَي الدِّيْنِ كُلِّهٖ ۙ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ”

“তিনিই হচ্ছেন সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর রসূলকে (যথার্থ) পথনির্দেশ ও সঠিক জীবন বিধান দিয়ে পাঠিয়েছেন, যাতে করে আল্লাহ’র রসূল (দুনিয়ার) অন্য সব বিধানের ওপর একে বিজয়ী করতে পারেন, (সত্যের পক্ষে) সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে আল্লাহ ত’আলাই যথেষ্ট।”[সুরাঃ আল-ফাতহ; আয়াতঃ ২৮]

আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ

“وَقَاتِلُوْهُمْ حَتّٰي لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَّيَكُوْنَ الدِّيْنُ كُلُّهٗ لِلّٰهِ ۚ فَاِنِ انْتَهَـوْا فَاِنَّ اللّٰهَ بِمَا يَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ”

“(হে ইমানদারগণ) তোমরা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না (আল্লাহ’র যমীনে কুফরির) ফিতনা বাকী থাকবে এবং দীন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) হয়ে যাবে, (হাঁ) তারা যদি (কুফর থেকে) নিবৃত্ত হয়, তাহলে আল্লাহ তা’আলাই হবেন তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী।” [সুরাঃ আল-আনফাল; আয়াতঃ ৩৯]

আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ

وَلَوْلَا دَفْعُ اللّٰهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ ۙ لَّفَسَدَتِ الْاَرْضُ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ ذُوْ فَضْلٍ عَلَي الْعٰلَمِيْنَ ٢٥١؁

“(আসলে) আল্লাহ তা’আলা যদি (যুগে যুগে) একদল লোককে দিয়ে আরেকদল লোককে শায়েস্তা না করতেন, তাহলে এই ভূখণ্ড ফিতনা ফাসাদে ভরে যেতো, (কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তা চাননি, কেননা) আল্লাহ তা’আলা এ সৃষ্টিকুলের প্রতি বড়োই অনুগ্রহশীল!” [সুরাঃ আল-বাকারা; আয়াতঃ ২৫১)

আল্লাহ’র নাবী (সাঃ) বলেনঃ

“আল্লাহ আমার উম্মাতের দুই দলকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন; সেই দল যারা আল হিন্দ (উপমহাদেশ) আক্রমণ করবে এবং সেই দল যারা মারিয়াম (আঃ) এর পুত্র ঈসা (আঃ) এর সঙ্গে থাকবে।”

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে আল্লাহ’র নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ’র রসূল (সাঃ) আমাদেরকে হিন্দ (উপমহাদেশ) বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি আমি এতে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হই, তাহলে আমার মাল ও জানের দুটোই এতে ব্যয় করবো। যদি আমি নিহত হই, আমি সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্যতম হবো। আর যদি আমি ফিরে আসি, আমি হবো আবু হুরায়রাহ – যে কিনা মুক্ত (জাহান্নাম থেকে)।”

বাজপাখি গেছে উড়ে বন্দীদশা হতে, পাখীদের বলে
কারাগারের ডাণ্ডায় তোমরা নিজেদের করো আঘাত, রক্তে ভিজে উড়ো
নিজেদের শক্তিতে যদি থাকে বিশ্বাস তাহলে করো না বিনয়
একারণেই যে তুমি গতানুশোচনা করবে এ বয়সে কারাপালের দরজায় ঠুকা দিয়ে

দিল্লীর মাটি কি একজন শাহ মুহাদ্দিস দেহলভী কে জন্ম দিতে পারে না যিনি আবার ভারতীয় মুসলিমদের ভুলে যাওয়া জিহাদের অনুশীলনীর শিক্ষা দিবেন ও তাদের উদ্বুদ্ধ করবেন জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে? সেই দলের কি আর কোনও উত্তরাধিকারী নেই যারা বালাকোটে নিজেদের রক্তে সিক্ত করেছিলো, যাদের কুফরি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবার সাহস আছে ও যাদের সাহস আছে আল্লাহ’র জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার? উত্তর প্রদেশে কি এমন কোনও মা নেই যারা তাদের সন্তানদের এমন ঘুমপাড়ানি গান শুনাবে যা শুনে তাদের সন্তানেরা বাজার, পার্ক ও খেলার মাঠে যাওয়ার পরিবর্তে শামিলির যুদ্ধক্ষেত্র মঞ্চস্থ করবে? শায়খুল হিন্দের পরবর্তীরা কি আজীবনের জন্য হিজরত এবং জিহাদ পরিত্যাগ করলো? বিহারের মাটি কি এতোই অনুর্বর হয়েছে যে আযিমাবাদের মুজাহিদীনদের মতো একটি দল তৈরি করতে তারা অক্ষম? কোন ধর্মদ্রোহীর বদ নজর বাংলার মাটি দগ্ধ করেছে যার ফলে ইতিহাস আরেক সিরাজ উদ্দৌলা প্রত্যক্ষ করতে পারছে না? ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিমগণ যেন পুরোপুরি ভুলে গেছে মহিশূরের সিংহের সেই কথা যা আজও ধর্মদ্রোহীদের ভয়ে কাঁপায়ঃ ‘সিংহের একদিনের জীবন শিয়ালের হাজার বছরের জীবনের চেয়েও শ্রেয়। গুজরাটের মাটি কি এমন হল যেখানে কিনা আগে কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধে তাকবীরের আওয়াজ উঠত, যা আজও ওঠে তবে কেন তা সৌমনাথকে ভয়ে কম্পিত করে না? এসব প্রশ্ন ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ন্যয়সঙ্গতভাবে ভারতের মুসলিমদেরকে করতে হবে।

আজ সারাবিশ্বে যখন জিহাদের ডাক দেয়া হচ্ছে এবং এমন সময় যখন প্রত্যেক অঞ্চলের মুসলিমরা তাদের নিজ ভূমিতে জিহাদ শুরু করে দিয়েছেন কুফর ভিত্তিক ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটন করতে। তাই আজ শুধুমাত্র আলীমদেরকে প্রশ্ন করা ছাড়াও বিশ্বব্যপি জিহাদের নেতৃবৃন্দের ভারতের সাধারণ মুসলিমদের এই প্রশ্ন করার অধিকার আছে যে, ভারতের সেই মুসলিমরা কোথায় ইতিহাস যাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় যে তারা প্রতি যুগে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সত্যের পতাকা আরোহণ করেছিলেন? ভারতের সেই আলীমরা কোথায় যাদের পূর্ববর্তীরা সবচেয়ে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা পড়া সত্ত্বেও ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিত্যাগ করেননি? কেন ভারতীয় মুসলিমরা জিহাদের ময়দানগুলো থেকে পুরোপুরি অনুপস্থিত? হে উম্মাহ’র যুবকেরা, হে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ভারতীয় অনুসারীরা, দিল্লীর জামে মসজিদের অবস্থান স্মরণ করিয়ে দেয় তার অতীতের কথা। এই জামে মসজিদের সামনে যে লালকেল্লা দাঁড়িয়ে আছে – এই সেই একই লাল কেল্লা যেখানে মুসলিমদের পতাকা উড়েছে শত শত বছর জুড়ে – তা থেকে হিন্দুরা আজ আপনাদের রক্তের অশ্রু ঝরায় এবং দাঙ্গায় হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে আপনাদের রক্ত প্রবাহিত করাকে সস্তায় পরিণত করেছে। আপনাদের বিজয়ের প্রতিক – কুতুব মিনার – কি এই বার্তা পৌছানোর জন্য যথেষ্ট নয় যে এই মসজিদই আজীবন শাসন করবে এই ভূমি যা থেকে মুসলিমরা একবার নেমেছিলো? এই মসজিদ এবং যারা এই মসজিদে ইবাদত করেন তারাই এখানের কর্তৃত্বে থাকবে। তারা সেখানের শাসক থাকবে কারণ তারাই আল্লাহতে বিশ্বাস করেন যেখানে বাকীরা আল্লাহ’র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আর যারা আল্লাহ’র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তারা কখনও বিশ্বাসীদের উপর শাসক হতে পারবে না। ধর্মদ্রোহীরা কখনও বিশ্বাসীদের শাসন করতে পারে না। আল্লাহ’র শত্রুরা কখনও আল্লাহ’র বন্ধুদের চেয়ে বেশি সম্মানিত হতে পারে না। কীভাবে কেউ আপনাদের রক্তপাতের ও জাতিগত নির্মূলকরণের ভয় দেখাতে পারে? আপনারাই পানিপথের রণক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন – একবার নয় বরং কয়েকবার। আল্লাহ আপনাদেরকে বুদ্ধি দিয়েছেন। নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিন আপনাদের জন্য কি ভালো ছিলোঃ পানিপথের রক্তক্ষয় না আহমেদাবাদ ও সুরাতের দাঙ্গায় রক্তক্ষয়? কারা বুদ্ধিমান যারা আমেরিকার কাছে মাথা নত হয়ে নতি স্বীকার করে না- যারা এ যুগের ফির’আউনের মোকাবেলা করে শামিলির রণক্ষেত্রে? না কি তারা যারা কার্যালয় ও পদবী গ্রহন করেছে মুসলিমদের আদর্শিকভাবে তাদের দাসত্ব করার বিনিময়ে বা যারা স্বেচ্ছায় ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছে স্বাধীনতা ও সম্ভ্রমের জন্য? প্রথম উল্লেখিতরা আপনাদের আদর্শ? না যারা তাদের জীবন কাটিয়ে দিয়েছে মাল্টার কারাগারে যাদের শূলে চড়ানো হয় জলন্ত লোহার রডে, তাদের মাদ্রাসাগুলি বিপদে আপতিত করে এবং তাদের পদ কুরবানি করে। হে মুসলিমগণ, দুর্বলতা আপনাদের অজুহাত হওয়া উচিৎ নয়! আমার মুসলিম ভাইয়েরা, এটা এমন একটি বিষয় যা অনুধাবন করা প্রয়োজন। একজনের নিঃশ্বাস ধরে রাখাটাই জীবনের সব কিছু নয়। জীবনের সবটুকুই সম্ভ্রম ও উৎসাহে পরিপূর্ণ। কোনও জাতি কখনও তাদের শেষ নিঃশ্বাস ফেলে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের সম্মান ও উৎসাহ বজায় রাখে। কিন্তু, যদি এই দুই অংশ বাদ পড়ে যায়, তাহলে সেই জাতির মৃত্যু অনিবার্য, যদিও বাহ্যিকভাবে তা দেখে জীবিত মনে হতে পারে এবং আরও হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারে। এটাই সেই অন্তর্নিহিত রহস্য যা মাহিশূরের সিংহ আপনাদেরকে উপলব্ধি করাতে চেয়েছিলেন ‘সিংহের একদিনের জীবন শিয়ালের হাজার বছরের জীবনের চেয়েও শ্রেয়।’ ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ যদি এই হয় যে বাহ্যিক কিছু ইবাদত করা যাবে কিন্তু কুফরের দাসত্ব করতে হবে, তাহলে ভুলে যাবেন না দিল্লী ও লৌখনো এর সেই ধর্মভীরু পুরুষেরা যারা নিজেদের আবাস ত্যাগ করে ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বালাকোটে শাহাদাতকে বরণ করে নিয়েছেন, তারাও এই স্বাধীনতা ভোগ করতে পারতেন। শামিলির মুজাহিদীনরাও একই স্বাধীনতা ভোগ করতে পারতেন। কিন্তু, ফকিহ ও হাদিস বিশারদরা শামিলি রণক্ষেত্রে ব্রিটিশদের মোকাবেলা করেছিলেন! হে মুসলিম উম্মাহ’র যুবকেরা, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) পবিত্র কুর’আনে বলেনঃ

وَلَوْلَا دَفْعُ اللّٰهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ ۙ لَّفَسَدَتِ الْاَرْضُ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ ذُوْ فَضْلٍ عَلَي الْعٰلَمِيْنَ ٢٥١؁

“(আসলে) আল্লাহ তা’আলা যদি (যুগে যুগে) একদল লোককে দিয়ে আরেকদল লোককে শায়েস্তা না করতেন, তাহলে এই ভূখণ্ড ফিতনা ফাসাদে ভরে যেতো, (কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তা চাননি, কেননা) আল্লাহ তা’আলা এ সৃষ্টিকুলের প্রতি বড়োই অনুগ্রহশীল!” [সুরাঃ আল-বাকারা; আয়াতঃ ২৫১)

তার মানে এই যে যদি জিহাদ না থাকতো তবে সারাবিশ্ব ফাসাদে ভরে যেতো। পৃথিবীর কোনও কিছুই তার প্রাকৃতিক অবস্থানে থাকতো না। জিহাদ ব্যতীত মানুষ তার অস্তিত্বের উদ্দেশ্য থেকে বিপথগামী হয়ে যায়। তার রক্তক্ষরণ করা হয়। সর্বত্র অন্যায়-অবিচার প্রাদুর্ভূত হয়। দুর্বলদের অধিকার বঞ্চিত করা হয় আর সবলরা এমন আচরণ করে যেন তারা প্রভু বনে গেছে। ধনীরা গরীবদের দাসে পরিণত করে। আমার রব বলেন, ‘তাহলে এই ভূখণ্ড ফিতনা ফাসাদে ভরে যেতো।’ ভুলবেন না যে আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বিধানের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা দ্বারা বিশ্ব পরিচালনা করার চেয়ে বড় কোনও ফাসাদ নেই। যদি তাই ঘটে, তবে ফাসাদ বাকী সব কিছুর উপর জয় লাভ করবে। মানুষের কথা বাদই দিলাম, এমনকি পশুপাখিরাও বিলুপ্তির সম্মুখীন হবে। জমি ফসল উৎপন্ন করা বন্ধ করে দিবে। কেন? তা একারণেই যে পৃথিবীটা আল্লাহ’র পৃথিবী। পৃথিবী আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) নির্দেশ মেনে চলে। যদি এ পৃথিবীতে আল্লাহ’র কিতাব দ্বারা শাসন করা না হয়, আর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় মানব রচিত সংবিধান অনুসারে…যদি আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা বাদে অন্য কোনও ব্যবস্থা এই পৃথিবীতে জারী করা হয়, পৃথিবী বেদনায় কিলবিল করবে। তা ক্রোধে অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। পর্বতমালা ভয়ে কাঁপতে থাকে পৃথিবীতে আল্লাহ’র বিধান অমান্য করায়। বিশ্ববাসীরা যখন তাদের শাসনকর্তা ও প্রতিপালককে ছেড়ে আমেরিকা ও ব্রিটেনকে তাদের শাসনকর্তা হিসেবে মেনে নেয়, তাতে মহাসমুদ্রগুলোও ক্রুদ্ধ হয়। আজ আমেরিকা ও জাতিসংঘ যে আইন পাস করে তা জারী করা হয় অথচ সামান্যতমও ভ্রুক্ষেপ করা হয় না আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আইনের প্রতি।

যদি জিহাদ পরিত্যাগ করা হয়, ভূখণ্ড ফাসাদে ভরে যাবে। শুনুন! শুধুমাত্র পুরুষ নয়…শুধুমাত্র পশুপাখি নয়…শুধুমাত্র শস্য ও পানি ফাসাদে ভরবে না, এমনকি ফুলেরাও তাদের সুগন্ধি থেকে বঞ্চিত হবে। ফুলকুঁড়ি তাদের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবে। ফলমূল তাদের মধুরতা ও স্বাদ হারাবে। না কোনও খাঁটি দুধ পাওয়া যাবে, না পাওয়া যাবে বিশুদ্ধ পানি। হ্যাঁ, এমনকি বিশুদ্ধ পানিও! প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য শূন্য করে, রাসায়নিক মিশ্রণ করে ও বোতলযাত করে আপনাদের এসবের উপর নির্ভরশীল করা হবে। আমার রব যা ঘোষণা করেছেন তা কতই না সঠিকঃ “তাহলে এই ভূখণ্ড ফিতনা ফাসাদে ভরে যেতো…” এমনকি বায়ু, জীবনের মৌলিক শর্ত, তার প্রাকৃতিক অবস্থায় বিরাজমান থাকবে না। যদি আপনারা জিহাদ পরিহার করেন…যদি পৃথিবীতে আর খিলাফাহ বহাল না থাকে…যদি এই পৃথিবীতে ইসলামী ব্যবস্থা বহাল না থাকে…যদি পৃথিবীতে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বহাল না থাকে…যদি এই পৃথিবী আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) কিতাব অনুযায়ী পরিচালনা করা না হয় যা তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) তার প্রিয় নাবী (সাঃ) এর প্রতি নাযিল করেছেন পৃথিবীর সমস্ত প্রকৃতিবিরুদ্ধ ব্যবস্থা নিষ্কাশন করতে এবং প্রাকৃতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে – যা হচ্ছে খিলাফাহ – …তাহলে ভূখণ্ড ফাসাদে ভরপুর হয়ে যাবে।

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ

“তিনিই হচ্ছেন সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর রসূলকে (যথার্থ) পথনির্দেশ ও সঠিক জীবন বিধান দিয়ে পাঠিয়েছেন, যাতে করে আল্লাহ’র রসূল (দুনিয়ার) অন্য সব বিধানের ওপর একে বিজয়ী করতে পারেন, (সত্যের পক্ষে) সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে আল্লাহ ত’আলাই যথেষ্ট।”

তিনিই আল্লাহ যিনি তার রসূল (সাঃ) কে পথনির্দেশ ও এই ব্যবস্থা দিয়ে পাঠিয়েছেন যার ভিত্তি সত্য। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) তাকে (সাঃ) জীবন বিধান দিয়ে পাঠিয়েছেন যার ভিত্তি সত্য ‘যাতে করে আল্লাহ’র রসূল (দুনিয়ার) অন্য সব বিধানের ওপর একে বিজয়ী করতে পারেন।’ যে ব্যবস্থা এর বিপরীত, যে বিধান এর বিপরীত, তা অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে ও ইসলামকে এর উপর বিজয়ী করতে হবে। যদি কোনও শক্তি সেই পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তবে এ ব্যাপারে আমাদেরকে পরিষ্কার নির্দেশ দেয়া হয়েছেঃ

“(হে ইমানদারগণ) তোমরা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না (আল্লাহ’র যমীনে কুফরির) ফিতনা বাকী থাকবে এবং দীন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) হয়ে যাবে…।”

তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা এই ব্যবস্থাকে বাঁধা প্রদান করে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের শক্তি সন্দেহাতীতভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয় ও তাদের আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটানো হয়। তারপর, সারাবিশ্ব জুড়ে জীবন বিধান হবে আল-কুর’আন। কিন্তু, কোনও ধর্মদ্রোহীকে জোরপূর্বক শাহাদাহ পাঠ করাবেন না। এটা তার পছন্দ। এটা তার সিদ্ধান্ত যে সে একজন মুসলিম হবে নাকি তার পুরাতন ধর্ম পালন করবে। যেহেতু, এই পৃথিবী আল্লাহ’র, তাই, এতে আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরী। এটা জরুরী একারণেই যে অবিশ্বাসীরাও প্রাকৃতিকভাবে এতে জীবনযাপন করতে পারবে ও পৃথিবী ফাসাদমুক্ত হবে। যদি আপনারা জিহাদ পরিহার করেন বা আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদ না করেন, খিলাফাহ বহাল থাকবে না। সারাবিশ্ব ফাসাদে ভরে যাবে। পৃথিবী ও তার ভূগর্ভে যা কিছু আছে তা ফাসাদে ভরে যাবে। মনে রাখবেন আপনারা মাসজিদে সালাত পড়বেন কিন্তু ঐ সময়ও আপনারা বাজনার শব্দ শুনতে পাবেন কারণ শয়তানের ব্যবস্থা এ পৃথিবীতে প্রভাবশালী। পৃথিবীতে এতো পরিমানে ফাসাদ ছড়াবে যে পরিবেশও তার বিশুদ্ধতা ধরে রাখতে পারবে না। পরিবেশ দূষিত ও পরিবর্তন করা হবে। সন্তানরা মাতাপিতার অবাধ্য হবে। “ভূখণ্ড আসলেই ফিতনায় ভরপুর হয়ে যাবে!” ভাই ভাই কে খুন করবে। মায়ের মমতা মায়েদের থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে। সবকিছু ফাসাদে ভরে যাবে। এমনকি ভালোবাসাও বিশুদ্ধ থাকবে না। প্রতিবেশীরা অনিষ্টপ্রবণ হবে। সমাজের সম্মানিত বৃত্তাংশ…যেমন আলীমরা – তাদেরকে অসম্মান করা হবে। আমার সর্দার (সাঃ) এই ফাসাদকে বর্ণনা করেছেন সংক্ষিপ্ত ও যথাযথভাবে। তিনি (সাঃ) বলেছেন

প্রথমে নবুওয়াত থাকবে যা বহাল থাকবে যতদিন আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) ইচ্ছা, তারপর তার সমাপ্তি ঘটবে। তিনি (সাঃ) বলেছেন তারপর নাবুওয়াতের আদলে খিলাফাহ থাকবে যা বহাল থাকবে যতদিন আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) ইচ্ছা, তারপর তাতেও সমাপ্তি ঘটবে। এই পর্যায়ের পর স্বৈরশাসিত রাজতন্ত্র থাকবে যা বহাল থাকবে যতদিন আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) ইচ্ছা, তারপর তারও সমাপ্তি ঘটবে। পরবর্তীতে, পৃথিবীতে ফাসাদের পর্যায় আসবে, যারপর খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত হবে।

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে উসমানী খিলাফাহ’র অবসানের পরের পর্যায়টাই হচ্ছে ‘ভূখণ্ডে ফাসাদের’ যুগ। সর্বত্র ফাসাদ বিরাজ করছে। বাণিজ্য সুদের ফাসাদে ভরপুর। বিচারবিভাগ মানব রচিত আইনের ফাসাদে ভরপুর। নাবী (সাঃ) এর এই হাদিস আমাদের সুসংবাদ প্রদান করে যে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত হবে এই পর্যায়ের পর যার মাধ্যমে পৃথিবীকে ফাসাদ থেকে পবিত্র করা হবে। পৃথিবীতে ফাসাদের সমাপ্তি ঘটবে। ভূমি আবারও ফসল উৎপাদন করা শুরু করবে। সমৃদ্ধি পৃথিবীতে ফিরে আসবে। দুর্বলরা ন্যায়বিচার পাবে ও প্রাপ্যরা পাবে তাদের অধিকার। সমৃদ্ধি এতো মাত্রায় হবে যে ভিক্ষা বা দাতব্য গ্রহণ করার মতো কেউ থাকবে না।

ওহে যারা নাবী (সাঃ) কে ভালোবাসেন! সময় কি আসলেই ঘনিয়ে আসেনি যখন আমরা দেখবো আমাদের সর্দার – নাবী (সাঃ) এর কথাগুলো পূর্ণ হতে? এই বিশ্বে আরেকবার খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসারীরা রণক্ষেত্রে এসে গেছে তাদের জীবন বিসর্জন দিতে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠাকরণে। এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণে সবচেয়ে বড় বাধা – আমেরিকা – আফগানিস্তানে তাদের জখম চাটছে। যারা আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করে তারা আল্লাহ’র সাহায্যে আমেরিকান প্রযুক্তির সর্বনাশ করে দিয়েছেন। ইরাকের পর, খুরাসানের কালো পতাকা সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নাবীদের (আঃ) ভূমি, বরকতময় ও বিজয়ের ভূমি সিরিয়ায় কালো পতাকাবাহী মুজাহিদীনরা তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছেন খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) এই জিহাদকে এমন বরকত দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন যে এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে মুজাহিদীনরা এই পর্যায়ে চলে গেছেন যে তারা নুসাইরিদের হাত থেকে মুসলিমদের মুক্ত করার কিনারে পৌঁছে গেছেন। আমেরিকানরা ও অবিশ্বাসী বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধররা তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে দেখে অভিঘাতপ্রাপ্ত। আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) সাহায্যে, আল-কায়িদাহ ও অন্যান্য মুজাহিদীনরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। আফগানিস্তান থেকে কয়েকটি দল সিরিয়ায় গিয়েছে ও তারা সেখানে জিহাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ওহে যারা ভারত ৮০০ বৎসর শাসন করেছেন! হে পৌত্তলিকতার অন্ধকারে তাওহীদের মশালধারীরা! আপনারা কেমন করে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন যখন সারাবিশ্বের মুসলিমরা জাগ্রত হচ্ছে! যদি মুসলিম বিশ্বের যুবকেরা রণক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে “হয়তো শারি’আহ নয়তো শাহাদাহ” স্লোগানে ও তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে পারে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য, আপনারা কেমন করে তাদের পেছনে পড়ে থাকতে পারেন? উসমানী খিলাফাহ রক্ষার্থে আপনারাই জিহাদে নিযুক্ত ছিলেন। যদি ফিলিপাইন থেকে মরক্কোর মুসলিমরা আশাবাদী হতে পারে, তবে আপনাদের নিরাশ হওয়ার কোনও কারণ থাকতে পারে না। উঠে দাঁড়ান! জেগে উঠুন! সার্বজনীন জিহাদে অংশগ্রহণ করুণ আমেরিকার প্রাসাদ ধসে চূড়ান্ত ধাক্কা দিতে উঠে পড়ুন। এই জিহাদ কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এই জিহাদে জীবন উৎসর্গ করা হচ্ছে সর্বত্র আমেরিকা ও তার দোসরদের পরাজিত করতে।

আমার মুসলিম ভাই! সামনের দিকে অগ্রসর হোন! শাসনকার্যের নিয়ম আপনাদের জন্য নতুন কিছু নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী আপনারা সারাবিশ্বকে শিক্ষা দিয়েছেন কীভাবে শাসন করতে হয়। আপনারা মুসলিমদের সম্মান ও গৌরবের পতাকা বহন করেছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী। সেই মানসে আবারও জ্বলে উঠুন! আবারও সেই ঝড়কে পুনরুজ্জীবিত করুণ যা আপনাদের অন্তরে গর্জন করেছে! সময় এসেছে সেই ধাতুনিঃস্রব জিহাদের অগ্নিশিখা দিয়ে প্রজ্জ্বলনের যা আপনারা নিজেদের অন্তরে দমিত করে রেখেছেন সেই ১৮৭৫ সাল থেকে। এখন সময় দেবত্বের দাবীদারদের দেখানোর যে আপনাদের শিরায় শিরায় এখনও মুহাম্মাদ বিন কাসিম এর রক্ত দৌড়ে। এটা সময় তাদের দেখানোর যে মুসলিম মায়েরা গাওরী ও গাযনাভী’র কাহিনী এখনও তাদের সন্তানদের কাছে বর্ণনা করেন। এটা সময় তাদের দেখানোর আওরঙ্গজেব এর লোককাহিনী এখনও ভারতীয় মুসলিমদের বিবেক জাগ্রত করে এবং মহিশূরের সিংহের বিখ্যাত মন্তব্য এখনও ভারতীয় মুসলিম যুবকদের প্রণোদিত করে মৃত্যুর জন্য – একটি সম্মানিত মৃত্যু। সারা বিশ্বে আজ মুসলিমরা জেগে উঠেছে কুফরি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। জিহাদের রঙ্গভূমি এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভারতীয় মুসলিমদের জন্য। জিহাদের রঙ্গভূমি ভারতীয় মুসলিম যুবকদের অপেক্ষায়। তারা অপেক্ষা করছে আওরঙ্গজেব ও টিপুর সন্তানদের জন্য। মনে রাখবেনঃ অবিশ্বাসী বিশ্ব যেকোনো মূল্যে আমাদের ধ্বংস করতে চায়। চাই তা গণহত্যার মাধ্যমে হোক বা আমাদের জীবন্ত দগ্ধকরণের মাধ্যমে হোক বা আমাদের সম্পদ লুট করার মাধ্যমে হোক বা আমাদের বোন ও মেয়েদের সম্ভ্রমহানীর মাধ্যমে হোক। অবিশ্বাসী বিশ্ব সর্বত্র মুসলিমদের ধ্বংস করতে চায়; চাই বোমাবাজি করে তাদের ধ্বংস করা হোক বা ড্রোন হামলার মাধ্যমে হোক বা তাদের দারিদ্র্যতার বেড়ি পরিয়ে হোক বা দাঙ্গা উসকানি দিয়ে হোক। নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ

“কাফেররা একটি একক জাতি।”

আর তাই তারা আমাদের ধোঁকা দিতে মায়াকান্না দেখিয়ে থাকে। অন্যথায়, বাস্তবে তারা সবাই আমাদের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ। তারা সবাই একমত আমাদের প্রজন্মগুলি ধ্বংসকরণে ও তাদের দীন বিমুখকরণে। মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে জিহাদের ডাক আসছে ও ঘোষণা করা হচ্ছে নতুন এক উদয় ঘটেছে মুসলিম উম্মাহ’র। সম্মানিত বোনেরা যারা তাদের নিজ গায়ে বিস্ফোরক বাঁধেন এবং শত্রুদের সারিতে ঢুকে পড়েন, নিজেদের উৎসাহ জাগানোর জন্য তারা আপনাদের অনুপ্রেরণা । তারা ভারতে তাদের ভাইদের কাছে এই বার্তা পাঠাচ্ছেন যে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) জিহাদে এমন অসাধারণ শক্তি দান করেছেন যে বেয়াল্লিশটি কাফের দেশ তাদেরকে সম্মিলিত ভাবে পরাজিত করতে পারছে না। আমেরিকা তার সকল ড্রোন ও কৃত্তিম উপগ্রহ নিয়ে না পেন্টাগনে নিরাপদ না বাগ্রামে। মাত্র কিছুসংখ্যক শাহাদাত-অন্বেষণকারী যুবক তাদের নিরাপদ স্থাপনগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) সাহায্যে। শুধু একবার তাকিয়ে দেখুন কি ঘটছে ইয়েমেন ও ইরাকে। ইউফ্রেটাস ও টিগ্রিস এর ভূমির যুদ্ধের গানের প্রতিধ্বনিত থেকে অনুপ্রেরণা নিন।

আফগানিস্তান থেকে তাকবীরের প্রতিধ্বনি শুনুন। আপনাদের ভাইয়েরা মরনাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত হয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন রণক্ষেত্রে। তারা এ জীবন বিক্রি করছেন জান্নাতের জন্য। তাদের অন্তর্ভুক্ত শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক, বৃদ্ধ, এমনকি মা ও বোনেরা। তারা সবাই আপনাদের অপেক্ষায়। তারা সবাই ভারতীয় মুসলিমদের সাথে আছেন। আমি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর রবের শপথ নিয়ে বলছি, আপনারা যদি একবার জিহাদের জন্য দাঁড়িয়ে যান, ফিলিপাইন থেকে মরক্কো’র মুজাহিদীন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপনাদের সাথে দাঁড়াবেন। মক্কা, মদিনা, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিশর, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণের মুজাহিদীনরা আপনাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবেন যেভাবে তারা এই অঞ্চলের মুসলিমদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন অতীত ইতিহাসের ন্যায়। আফগান ভূখণ্ড আপনাদের সাহায্যের ডাকের অপেক্ষায়। আপনারা দেখবেন যেখানে আপনাদের অশ্রু পড়ে সেখানে মুজাহিদীনরা তাদের রক্ত উৎসর্গ করবেন। যে হাত আপনাদের ক্ষতি করতে চাইবে তা একেবারে কেটে ফেলা হবে। আমি হুনাইনের রবের শপথ নিয়ে বলছি, যারা আপনাদের সন্তান ও নারীদের জীবন্ত দগ্ধ করেছিলো মুজাহিদীনরা তাদের আবাসকে পানিপথের রণক্ষেত্রে পরিণত করবেন। শুধুমাত্র একটি বার আপনাদের ভাইদের আহবান জানান। তারা আপনাদের জন্য তাদের সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকার করবেন কারণ তারা তাদের জীবন বিক্রি করে দিয়েছেন যাতে করে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মাহ তাদের হারিয়ে যাওয়া সম্মান ফিরে পান এবং নিজেদের মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে একমাত্র আল্লাহ’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজেদের অর্পণ করেন। তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন একারণেই যে, এই উম্মাহ বিদ্রোহ ঘোষণা করছে অবিশ্বাসীদের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং নিজেদের জীবন গঠন করে নাবী (সাঃ) এর ব্যবস্থা অনুসারে।

হে মুহাম্মাদ বিন কাসিমের সন্তানরা! হে আওরঙ্গজেব ও গাযনাভীর উত্তরসূরীরা, উঠে দাঁড়ান ও জিহাদের ময়দানের দিকে অগ্রসর হোন একজন বোনের পর্দা কেড়ে নেয়ার আগে…মুসলিমদের আবারও একত্রে জীবন্ত দগ্ধকরণের আগে। আবারও খিলাফাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণে জিহাদের রঙ্গভূমির দিকে অগ্রসর হোন! সার্বজনীন জিহাদের বাহিনীতে যোগ দিন! আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আপনাদের সাহায্য করবেন। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আপনাদের সাহস যোগাবেন! আপনারা যদি এই পথ বেছে নেন, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আপনাদের কারণে এই জাতিকে সম্মানিত করবেন।

আমাদের শেষ দু’আ এই যে সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য যিনি সারা জাহানের রব।

—————————————————

مُؤَسَّسَةٌ الْقَادِسِيَّةِ لِلْإِنْتَاجِ الْإِعْلامِيَّ

আলক্বাদিসিয়াহ মিডিয়া

المصدر: ( مركز صدى الجهاد للإعلام )

উৎসঃ ইকো অফ জিহাদ মিডিয়া সেন্টার

الجبهة الإعلامية الإسلامية العالمية

দ্যা গ্লোবাল ইসলামিক মিডিয়া ফ্রন্ট

رصد لأخبار المجاهدين و تحريض للمؤمنين

মুজাহিদিনদের খবর পর্যবেক্ষন করছে এবং ঈমানদারদের উৎসাহিত করছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফাতিমাতুজ জাহরা – নারী জাতির চিরায়ত আদর্শ ┇ Shaikh Tamim Al Adnani ┇ Salihat

SALIHAT পরিবেশিত ফাতিমাতুজ জাহরা নারী জাতির চিরায়ত আদর্শ Shaikh Tamim Al Adnani ডাউনলোড করুন। ডাউনলোড ...