সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / An Nasr Media | ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ! পর্ব – ০১ AN UNPARDONABLE CRIME -01 | As Sahab Media

An Nasr Media | ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ! পর্ব – ০১ AN UNPARDONABLE CRIME -01 | As Sahab Media

مؤسسة النصر
আন নাসর মিডিয়া
An Nasr Media

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled

حريمة لا تغتفر _١

ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ! পর্ব – ০১

AN UNPARDONABLE CRIME -01

 

 

 

 

 

 

للمشاهدة المباشرة والتحميل
সরাসরি দেখুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Viewing and Downloading

লিংক-১ : https://justpaste.it/khomar_ojuggo_oporadh
লিংক-২ : https://mediagram.me/5003d1aa955f6072
লিংক-৩ : https://noteshare.id/nkEMraE
লিংক-৪ : https://web.archive.org/web/20211221…ojuggo_oporadh
লিংক-৫ : http://web.archive.org/web/202112210…03d1aa955f6072
লিংক-৬ : http://web.archive.org/web/202112210…are.id/nkEMraE

روابط الجودة الاصلية
FULL HD 1080 (478.2 MB)
মূল রেজুলেশন [৪৭৮.২ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/gjSWFtLcyNAfpFg
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03r1f199d5a4d87432ab38b26532a4c1c89
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=q6r1s1z7w5
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/1e020ec0-8f1e-4336-b3bd-edb856051756/6bf25897d8aab0a0151b310dfb57988458888b4d85d9724401d967bf83998e9c

روابط الجودة العالية
HQ 1080 (380.6 MB)
১০৮০ রেজুলেশন [৩৮০.৬ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/9nwLDfg4ZLetdM7
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201-1080.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03r6b18c4c137184510b27dbe680ebfac52
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=x6v3k7g7z7
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/44d719f4-2c4d-4f34-9e74-95a3b766e305/1bacbe3927ac9003d586f29171144bfd30d9769c63735f98fed9ac411ee97931

روابط الجودة المتوسطة
MQ 720 (216.3 MB)
৭২০ রেজুলেশন [২১৬.৩ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/ZBdcJqpP5RRXGQX
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201-720.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03r3c4d40a0ce24499780322e6b5c70c3f8
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=c9c6c5t4t2
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/82bf97cb-fef6-44c2-826a-eaffad9a42da/85249a2f5f9e1c43f9b7bd3987dc58c9954b6c3fc884fade00cc68e304ef100c

روابط الجودة المنخفضة
LQ 360 (92.2 MB)
৩৬০ রেজুলেশন [৯২.২ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/YswgYJK3gjdYCtk
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201-360.mp4
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03rc5d4ad56780748d79968f200e9ef9b3c
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=r6h7d3m7e7
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/cd0ef4e5-af66-49ed-9d71-bfd9790c5d4f/d515014e27ea8afbdcadb6e9e9c655f4faafb542defb3f3698e9b655a36efe86

روابط جودة الجوال
Mobile Qoality (52.7 MB)
3GP রেজুলেশন [৫২.৭ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/TaNDz3EfjBYG5AS
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201.3gp
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03rb04369b16e804757816f7e363de20db9
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=g7v6q8b9n1
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/52d8339e-7cb1-40d5-9e41-ec01d18cefc3/ee4c93c1797a34d8811d05c3a6911c77c9117abc03c8f2ac685036ada1f9f633

روابط بي دي اب
PDF (605 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৬০৫ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/Yyam2a22eZPRn23
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201.pdf
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03r70e9f367d0ae4ea1b6606016ac95dd58
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=l8z1s2l6a8
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/085c0b70-5944-4e01-bcdb-db78b58edbfb/71ed18d4c0eddcd0f6a9bcf5428d9e220c929d7c74f5840bfa738d1f827247e7

روابط ورد
Word (395 KB)

ওয়ার্ড [৩৯৫ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/ASBWztWattjyjRZ
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201.docx
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03r0629cc7671f140e3b92d7162cf8d2f5c
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=c9m1v4t8v8
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/18144948-21d9-458a-8185-08fb17e05a47/c8ffddf1f34190a9977c533eda52df3557937d1df52ce3167ab66d9f3fd9b1a1

 

روابط الغلاف- ١
book Banner [1 MB]

বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১ মেগাবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/stNYYygxz2NB6MJ
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201%20prossed.jpg
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03r15b0211724f04462a374c0befe518ff3
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=e8d3u7k2e0
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/50412a05-4eb4-4d80-a85e-7fbbea48c2c0/68add45264972664ea96bd9f672d0b11a7bcf8d137cfb16ec96e4b363133c88e

روابط الغلاف- ٢
Banner [761 KB]

ব্যানার ডাউনলোড করুন [৭৬১ কিলোবাইট]

লিংক-১ : https://banglafiles.net/index.php/s/C4SNgorGwZTwSn3
লিংক-২ : https://archive.org/download/khomar-ojoggo-oporadh-1-update/KhomarOjoggoOporadh%20-%201%20bannar.jpg
লিংক-৩ : https://workdrive.zohopublic.eu/file/3c03rc2a95f84de5b4c258500068d46eb7d1a
লিংক-৪ : https://www.idrive.com/idrive/sh/sh?k=v9w4u8x5g1
লিংক-৫ : https://drive.internxt.com/sh/file/cf0d8d46-597c-4c86-80e9-a87c662f458c/5f9543aa405f0709512857280d423bc76e97b477d89b174547c412573cfe3be6

 

 

******

 

ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ!

পর্ব-১

 

 

আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুউচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। আর আল্লাহ যার সম্মানের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তার সম্মান নষ্ট করার ক্ষমতা কারো নেই।

আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামকে নিজের নামের সাথে উল্লেখ করেছেন। প্রতিনিয়ত লক্ষ্য কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর পবিত্র নাম। যদি সমগ্র খৃষ্টান সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে আল্লাহর নবীর সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করতে চায়, তারা তা পারবে না।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চির সুন্দর জীবনাচারকে সামান্যতম বিকৃতির চেষ্টা করলেও তারা অবশ্যই ব্যর্থ হবে। তাঁর চরিত্র, মহত্ব আর জীবন সংগ্রামের অনুপম দৃষ্টান্তগুলো, তাঁর নামে অপবাদ আরোপকারীদের জন্য অজেয় চ্যালেঞ্জ। গাছপালা পশু-পাখিরাও তাঁর গুণ কীর্তন করে।

আল্লাহর কসম! মানব জাতির ইতিহাসে সুন্দর শারীরিক গঠন আর সুনিপুণ আদর্শের ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় কোন উদাহরণ আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেননি। যতদিন পর্যন্ত কোন একটি কলম ন্যায়ের কথা লিখবে অথবা সত্যের সামান্য আলো পৃথিবীতে বাকি থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন।

বাচাল, সর্বনিকৃষ্ট পথভ্রষ্ট, অপবিত্র দেহ আর বিষাক্ত চিন্তাধারী ম্যাক্রনের প্রতি নিক্ষেপ করি তুচ্ছ থুথু। তার প্রতিটি কথা মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। নিপাত যাও তুমি হে নির্বোধ! আমি তো তোমাকে মহানুভব নবিজীর জুতা হওয়ারও যোগ্য মনে করি না। আল্লাহর কসম! নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি জুতাও সমস্ত কাফেরের চেয়ে দামী। তাঁর জুতার রঙ সমস্ত কাফেরের চেহারার চেয়েও অনেক সুন্দর ও উজ্জ্বল।

যদি তুমি খৃষ্টানদের এমনকি সমগ্র পৃথিবীর সাহসী ও শক্তিশালী পুরুষদের একত্র করো এবং গরু ছাগল থেকে শুরু করে সমস্ত প্রাণীদেরও সহযোগিতা নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরিয়াহকে অপমানিত করার চেষ্টা করো, তবুও তোমার এই হীন প্রচেষ্টা সফল হবে না। বরং তোমার এই হীন কাজগুলোকে বিচার দিবসে তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে এবং পুনরুত্থানের দিবস পর্যন্ত তোমাদের জন্য কবরে তা আযাবের কারণ হবে।

يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

“অর্থঃ তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে”। (সূরা আস-সফ ৬১:8)

إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ

“অর্থঃ (হে নবী!) বিদ্রুপকারীদের জন্যে আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট”। (সূরা আল হিজর ১৫:৯৫)

আযানের অংশঃ

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

কবিতার অংশ

“মুজাহিদ বাহিনী তোমাদের দিকে এগিয়ে আসছে…

শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

“আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদেরকে বলছি: আপনাদের সন্তানদের রক্ত আমাদের সন্তানদেরই রক্ত। আপনাদের রক্ত আমাদেরই রক্ত। তাই রক্তের বদলা রক্ত, ধ্বংসের বদলা ধ্বংস। আমরা মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে শপথ করছি যে, আমরা আপনাদের একা ছেড়ে দিবো না, যতক্ষণ না আমরা বিজয় লাভ করছি কিংবা হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত শাহাদাতের অমৃত শুধা পান করছি”।

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ﴾﴿﴾ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

“অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। যিনি তোমাদের দুঃখে দুখী, তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকামী ও মুমিনদের প্রতি করুণাশীল ও অতি দয়ালু। কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আপনি বলুন: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট; যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই। আর আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি, আর তিনি মহান আরশের অধিপতি”। (সূরা তাওবা ৯:১২৮-১২৯)

উস্তাদ সায়্যিদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে উচ্চ প্রশংসা থেকে এটি স্পষ্ট ভাবে বুঝে আসছে য়ে, নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া অত্যন্ত জঘন্য, ধিক্কৃত ও ঘৃণ্য কাজ।

إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا

“অর্থঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি। ” (সূরা আহযাব ৩৩:৫৭)

এই কাজটি অধিক ঘৃণ্য ও জঘন্য হওয়ার কারণ হল, এটা তো আল্লাহর গোলাম ও মাখলুকের পক্ষ হতে স্বয়ং আল্লাহকেই কষ্ট দেয়া। বাস্তবিক অর্থে বান্দা ও মাখলুকেরা তো আল্লাহকে কষ্ট বা আঘাত দেয়ার কোন ক্ষমতাই রাখে না। কিন্তু তবুও এভাবে বলা হয়েছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আঘাত করার ভয়াবহতা তুলে ধরার জন্য। কারণ এটা যেন স্বয়ং আল্লাহ তালাকেই আঘাত করার সমতুল্য, যিনি সুমহান ও পরাক্রমশালী। এটা কতইনা ভয়ংকর! কতইনা জঘন্য! কতইনা ঘৃণ্য!”

শাইখ হারিস বিন গাযি আন-নাযযারহিমাহুল্লাহ বলেন:

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননা করা অবশ্যই একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে কোন প্রকার সন্ধি বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ﴿﴾ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ

“অর্থঃ আর যদি আপনি তাদের কাছে (কটু কথা বলার) কৈফিয়ত চান তখন তারা অবশ্যই বলবে যে আমরা তো শুধু কৌতুক ও মজা করছিলাম। আপনি বলুন: তোমরা কি তবে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও কোরআনের আয়াত নিয়েই মজা করো? তোমরা আর অজুহাত পেশ করো না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর”। (সূরা তাওবা ৯:৬৫-৬৬)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে কটুবাক্য উচ্চারণ অবশ্যই একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ”।

ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ

পর্ব-১

وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَىٰ ۗ بَل لِّلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعًا ۗ أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَن لَّوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا ۗ وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا تُصِيبُهُم بِمَا صَنَعُوا قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِّن دَارِهِمْ حَتَّىٰ يَأْتِيَ وَعْدُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ

“যদি কোন কোরআন এমন হত, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা জমিন খণ্ডিত হয় অথবা মৃতরা কথা বলে, তবে কি হত? বরং সব কাজ তো আল্লাহর হাতে। ঈমানদাররা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? কাফেররা তাদের কৃতকর্মের কারণে সব সময় আঘাত পেতে থাকবে অথবা তাদের গৃহের নিকটবর্তী স্থানে আঘাত নেমে আসবে, যে পর্যন্ত আল্লাহর ওয়াদা না আসে। নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদার খেলাফ করেন না। (সূরা আর-রাদ ১৩:৩১)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘তাফসীর আস-সাদী’তে উল্লেখ করা হয়েছে: “যে সমস্ত কাফিররা তাদের কুফুরিতে অটল থাকে, কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে না বা চিন্তা ভাবনাও করে না, আল্লাহ তাদেরকে বিপদাপদে ফেলে রাখেন যা নেমে আসে তাদের ঘরের ভিতরে অথবা আশেপাশে কোথাও। কিন্তু তখনও তাদের কুফুরি বৃদ্ধি পেতেই থাকে যতক্ষণ না সমূলে আযাব দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করার বিষয়ে আল্লাহর ওয়াদা এসে উপস্থিত হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। এটি হচ্ছে কুফুরি, দাম্ভিকতা ও অন্যায়ের উপর অবিচল থাকার কারণে আল্লাহর আযাব নেমে আসার বিষয়ে তাদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী

করোনা ভাইরাস হল এমনই একটি আযাব যা সমগ্র মানব জাতিকে আঘাত করেছে। কিন্তু এর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতটি পড়েছে কাফির ও পথভ্রষ্টদের উপর যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে বেয়াদবি করেছিলো। এই ভাইরাস তাদের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, তাদের মজুদকে শেষ করেছে, তাদের ঋণকে বৃদ্ধি করেছে এবং তাদের অনৈতিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। এটি তাদের নেতাদের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকেও আক্রান্ত করেছে। সর্বশেষ বিকারগ্রস্ত ক্রুসেডার ‘ম্যাক্রন’ করোনার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। কিন্তু এ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে ক্রুসেডাররা আরও অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা তাদের পূর্ববর্তীদের বিষয়ে বলেন:

وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ

“অর্থঃ তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার যে কোন নিদর্শনই এসেছে তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে”। (সূরা আনআম ৬:৪)

এই কঠিন সময়েও ভাইরাসের দিকে নজর দেয়া এবং এর ক্ষতি থেকে উদ্ধারের পথ সন্ধানের পরিবর্তে ভারসাম্যহীন ম্যাক্রন সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে আরেকটি চরম শত্রুতার সূত্রপাত করেছে।

ম্যাক্রনের বক্তব্য:

“শুধু আমাদের দেশেই নয়, বরং আজ সারা বিশ্বব্যাপী ইসলাম সংকটাপন্ন একটি ধর্ম। খুব সহজেই বলা যায় যে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি গভীর সমস্যা এবং আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে মৌলবাদী চরমপন্থীদের সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি”।

উপস্থাপকঃ

শুনে রাখো! আমরা নই, বরং তোমরাই আত্মপরিচয় ও কর্তৃত্বের সমস্যায় জর্জরিত। তোমরা ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ চর্চার দাবীদার হওয়া সত্বেও মুসলিম নারীদের তাদের ধর্মীয় আদর্শ পালন করা থেকে বাঁধা প্রদান করছো। তোমরা বাক-স্বাধীনতার নামে ইসলাম এবং এর পবিত্র বিধানগুলোকে অপমান করছো। এমনকি যখন তোমাদের অসভ্যরা কার্টুন প্রকাশ করেছিল তখনও তোমাদের বাক-স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলো। যারা হলোকাস্ট পরিসংখ্যানে সন্দেহ পোষণ করে ছিল তাদেরকে তোমরা কারারুদ্ধ করেছিলে। আয়া সোফিয়ার মসজিদ রূপে প্রত্যাবর্তন – তোমাদের মর্মপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ কতগুলো মসজিদকে তোমরা নাপাক করেছো, কত মসজিদ বোমারু বিমান দ্বারা নির্দয়ভাবে ধ্বংস করেছো – সেটা বেমালুম ভুলে গিয়েছ।

তোমরা মানবাধিকারের কথা বল! অথচ সিসিকে তার জনগণের উপর আক্রমণ করার জন্য লাল গালিচা শুভেচ্ছা জানিয়েছিলে। সামরিক বাহিনীসহ মারণাস্ত্র দিয়ে তাকে সাহায্য করেছিলে। সেখানে ইসলামের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ অনেক আগ থেকেই চলে আসছে, যার একমাত্র লক্ষ্য হল ইসলাম ও মুসলিমদেরকে ধ্বংস করা।

শাইখ আবু ইয়াহইয়া আল লীবী রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

“তারা সেখানে প্রতিটি ইসলামিক নিদর্শনে আক্রমণ করেছে। তারা ইসলামের প্রতিটি শক্ত দরজা ভেঙ্গে ফেলেছে এবং অন্য ধর্মের সাথে পার্থক্য সৃষ্টিকারী ইসলামের এমন প্রতিটি বিধান তারা মুছে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। ইসলামের সুসাব্যস্ত অধিকারগুলোকেও তারা হয় পরিবর্তন, নয়তো নাকচ করে দিয়েছে। যার ফলে ইসলামের আকীদা বিশ্বাসগুলো সর্ব সাধারণের জন্য উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ইসলামি আইন ও নীতিসমূহের বিষয়ে অনধিকার চর্চা – একটি ভিন্ন চিন্তা, সংস্কৃতি ও শিরোনামে পরিণত হয়েছে। ইসলামের অকাট্য বিধানাবলী এমনকি (নবীজীর শানে) অরুচিকর বাক্য উচ্চারণ করার দ্বারা তাঁর পবিত্রতাকে লঙ্ঘন করা – মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে মুক্তমনা মিডিয়ার জন্য একটি সহজ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ সবকিছুই সুষ্ঠ পরিকল্পনা অনুসারে, সুচিন্তিত মজবুত পদ্ধতিতে ও দক্ষতাপূর্ণ সূক্ষ্ম মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে ধারাবাহিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে”।

উপস্থাপকঃ

আবার দয়ার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপ্রীতিকর চিত্র পুনরায় তৈরির মধ্য দিয়ে নতুন করে এক জাগরণ তৈরি হয়েছে। একাজ ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চালানো ক্রমাগত জঘন্য অপরাধের একটি অংশ। এই জঘন্য কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে জায়োনিস্ট ক্রুসেডার ফরাসী সরকার এবং তার মুখপাত্র ‘চার্লি হেবদো’। এতে প্রতীয়মান হয় এই অভিশপ্ত ম্যাগাজিনের দায়িত্বশীলরা তাদের পূর্বসূরিদের উপর চালানো বরকতময় প্যারিস অভিযানের কথা ভুলে গেছে। এটি ছিল এমন একটি অভিযান যা ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মত।

আক্রমণ পরিচালনাকারীদের বক্তব্যঃ

“আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানের উপর আঘাতের প্রতিশোধ নিয়েছি। চার্লি হেবদো বিধ্বস্ত হয়েছে”।

শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহর বক্তব্যঃ

“পূর্ববর্তী বিজয়গুলোর মধ্যে এটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি বড় বিজয়। এটি শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ’র অঙ্গীকারকৃত একটি বিজয়। আর আল্লাহ তার নিপীড়িত বিশ্বাসী বান্দাদের উপর রহম করুন যারা তাঁর ওয়াদাকে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন।

হ্যাঁ, এটি ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানের উপর আঘাত করার প্রতিশোধ। ইসলামাবাদে ডেনিশ দূতাবাসের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল প্যারিসের চার্লি হেবদোর সদর দপ্তরে আক্রমণের অনুসরণেই। আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। এরূপ বিজয় দানের মাধ্যমে আল্লাহ বিশ্বাসীদের অন্তরকে আরও সুদৃঢ় করুনআমি এখানে সায়্যিদিনা হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথাটি উল্লেখ করছি, তিনি বলেন,

وقال الله: قد يسرت جندا * هم الأنصار عرضتها اللقاء

আল্লাহ বলেন: আমি একটি বাহিনী তৈরি করেছি, তারা হল আনসারশত্রুর মুখোমুখি হওয়াই যাদের একমাত্র লক্ষ্য

لنا في كل يوم من معد * قتال أو سباب أو هجاء

প্রতিদিনই আমাদের একটি করে বিজয় হয়, লড়াই, নিন্দা কিংবা কথা দিয়ে

فنحكم بالقوافي من هجانا * ونضرب حين تختلط الدماء

যারা আমাদের নিন্দা করে তাদের ফায়সালা আমরা কবিতা দিয়েই করি, কিংবা চরম আঘাতে তার রক্ত ছড়িয়ে দেই

ألا أبلغ ترامب والعلوج * مهلهلة فقد برح الخفاء

শত্রু আর অপরাধীদের জানিয়ে দাও! বিজয় তো আমাদের সন্নিকটেইসামনে আর কোন বাধা নেই আমাদের

لهجو محمد سنجيب عنه * وعند الله في ذاك الجزاء

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কেউ নিন্দা করলে অবশ্যই তার জওয়াব আমরা দিবআর তার প্রতিদান আমরা আল্লাহর কাছে পাবো

أتهجوه ولست له بكفء * فشركما لخيركما الفداء

তুমি কে তাকে নিন্দা করার? তোমার মতো নিকৃষ্ট তার মতো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির জন্য কোরবান হও

فإن أبي ووالده وعرضي * لعرض محمد منكم وقاء

আমি, আমার বাপদাদা এবং আমার সম্মান, তোমাদের বিরুদ্ধে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানের ঢাল স্বরূপ

لساني صارم لا عيب فيه * وبحري لا تكدره الدلاء

আমার জিহবা অতি ধারালো, তাতে কোন জড়তা নেইআর সাগর সম বিশালতায় তোমাদের বালতি পরিমাণ নিন্দা কোন প্রভাবই ফেলবে না

উপস্থাপকঃ

আর এই হামলাটি ছিল আহলে ইলম ও মুজাহিদদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অভিষেক স্বরূপ। এর মাধ্যমে তাঁরা মুসলিম উম্মাহকে ইসলাম-কুফরের মাঝে দ্বন্দ্বের বাস্তবতা উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছেন। যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয় এবং পৃথিবীবাসীকে জিম্মি করে রাখতে চায়, মুসলিম উম্মাহকে তাদের বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান পরিচালনা করার জন্য উৎসাহিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“মুসলিমদের কোনো জামাত যখন নিজ ভূমি ও ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে, তখন আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। তারা যতই দুর্বল, অসহায়, গরিব ও মূর্খ হোক না কেন”।

মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“যদি গোটা বিশ্বও আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবুও আমরা আমাদের বিশ্বাস ও নীতির ক্ষেত্রে আপস করবো না। ”

শাইখ উমর আব্দুর রহমান রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“এর থেকে সুস্পষ্ট দলিল আর কি হতে পারে যেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ ۚ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ عَسَى اللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنكِيلًا

“অর্থঃ আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের জিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ্য খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থ্যের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা”। (সূরা নিসা ৪:৮৪)

শাইখ আবু কাতাদা ফিলিস্তিনি হাফিযাহুল্লাহ বলেন:

“যখন আমি আপনাদেরকে পড়ার কথা বলি, তখন মুহাম্মাদ শাকির, সায়্যিদ কুতুব, হাসান আল-বান্না, রাশিদ রিযা এবং তাদের মত আরও প্রমুখের কিতাব পড়তে বলি। কারণ তারা হলেন জিহাদের পক্ষে নিবেদিত আলিম। এরা হচ্ছেন ঐসকল উলামায়ে কেরাম যারা নিজেদের জান-প্রাণকে উপেক্ষা করে বিস্মৃতি ও মূলোৎপাটনের দ্বারপ্রান্তে থাকা উম্মাহর আত্মপরিচয়কে আবার প্রতিষ্ঠা করেছেন”।

শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি হাফিযাহুল্লাহ বলেন:

“আসুন আমরা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করি। এটা হবে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের, ভালোবাসা ও হৃদ্যতার। আর আমরা এর সূচনা এখান থেকেই করব। আমাদের সকল ভাইদের প্রতি ও চলমান সকল ইসলামিক আন্দোলনসমূহের প্রতি এবং যারা বিচ্যুত হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের উন্মুক্ত আহবান – আপনারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করুন এবং সত্য কথা বলুন”।

শাইখ আবু উসামা গুফরান রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“পরিশেষে সকল স্থানের মুজাহিদদের জন্য একটি উপদেশ – দ্রুত ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বন্ধনকে আঁকড়ে ধরুন”।

শাইখ মাওলানা আব্দুল আজিজ হাফিযাহুল্লাহ বলেন:

“ইনশাআল্লাহ, আমি আমৃত্যু ইসলামি শরিয়াহ’র পক্ষে লড়ে যাব। আমি এই দেশে একটি বাস্তবিক শরিয়াহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বদা কিতাল করে যাব। এরপরই আমরা শান্তি নিশ্চিত করতে পারব ইনশা আল্লাহ”।

শাইখ আব্দুল আজিজ আল রানতিসি রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“মুজাহিদরা শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করতে এগিয়ে যায়। হে বুশ! আমরাই বিজয়ী হব। হে শ্যারন! আমরাই বিজয়ী হব। তোমরা শীঘ্রই এটা উপলব্ধি করতে পারবে ইনশাআল্লাহ”।

শাইখ আবু মুহসিন আদম আইরু বলেন:

“হে আমার ভাইয়েরা – আমরা জানি যে, সংখ্যার বিশালত্বের কারণে, অস্ত্রের আধিক্যের কারণে কিংবা পশ্চিমা পুলিশ বাহিনীর সাথে আঁতাত করার মাধ্যমে বিজয় আসে না। বরং বিজয় তো তাদের জন্য যারা আল্লাহর প্রতি সত্যবাদী”।

শাইখ আবুল হাসান রশিদ আল-বুলাইদি বলেন:

“এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট যে, আমরা তাগুতকে অস্বীকার করেছি এবং তাগুতের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ছায়াতলে জীবন-যাপনকে বর্জন করেছি। আর আমরা আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পথে জীবন-যাপন করছি। আল্লাহর সাহায্য খুবই নিকটে ইনশাআল্লাহ”।

শাইখ আনোয়ার আল আওলাকি রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“ভাইয়েরা! এটি একটি বড় নেয়ামত যে আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি। আলহামদুলিল্লাহ! এ সময়টাকে আমরা শুভ লক্ষণ বলতে পারি। কারণ প্রতিদিন মুজাহিদীনগণ বিভিন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে আমাদের শত্রু আমেরিকা এবং তাদের মিত্ররা দিন দিন তাদের বাহিনীকে নিজ নিজ দেশে সংকুচিত করতে বাধ্য হচ্ছে”।

শাইখ আবু হাফস আল মিসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা সাহায্যকারী হও, অবিচল থাক! এখান থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আসবে এবং এখান থেকেই আরব উপদ্বীপের স্বাধীনতা আসবে। এখান থেকেই পৃথিবীর বুকে ইসলামের ছায়া ও ইসলামি শরিয়াহ ফিরে আসবে”।

উপস্থাপকঃ

জিহাদের এই জাগরণ বছরের পর বছর ধরে উম্মাহর ধার্মিক সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে। এই পথে পবিত্র রক্তদান, কারা নির্যাতন, অপরিসীম ধৈর্যধারণ, দেশান্তর, প্রিয় সন্তানদের থেকে দূরে বসবাস এবং সাহাবাযে কেরামের অনুসরণে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান রক্ষার জন্য সর্বস্ব দানের দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে জিহাদের এই পথ আজ আলোকিত হয়েছে।

শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“আমি নিজেকে এবং আপনাকে – সত্য ও ন্যায়ের পথের ইসলামের প্রথম সৈনিক মহান সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হবে – দ্বীনের সহযোগিতায় আমরাও যেন তাদের মতো হওয়ার চেষ্টা করি। সৎ ব্যক্তিদের মতো হতে পারা তো অবশ্যই সফলতা।

সীরাত শাস্ত্রবিশারদ এবং হাদীস শাস্ত্রবিশারদদের অনেকেই কা’ব ইবনে আশরাফের কবিতা সংক্রান্ত ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। কা’ব ইবনে আশরাফ কবিতার মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আক্রমণ করত। যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার কথা পৌঁছল তখন তিনি বললেন: “কে আছে যে কাব বিন আশরাফকে হত্যা করবে? কারণ সে আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্ট দিচ্ছে। ”

সাথে সাথে মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন: “আমি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করে ফেলি”? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন, “অবশ্যই”।

আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার!!

তারা কত দ্রুত আল্লাহ ও তার রাসূলের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন! আল্লাহু আকবার! তাদের ইমান ও ইয়াকিন কতইনা বিশাল ছিল! তারা কতটা জ্ঞানী ও অনুভবক্ষম ছিল! মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু জানতেন যে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার একমাত্র শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’। কোনো প্রকার অজুহাত ছাড়াই”।

উপস্থাপকঃ

এটি হল মুজাহিদদের পাশে দাঁড়িয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ার একটি আহবান। এখানে আমাদেরকে দলমতের পার্থক্য একদম ভুলে যেতে হবে, যাতে ইসলামী বিশ্বের একত্রিত শক্তি দিয়ে আমরা এই আক্রমণ রোধ করতে পারি।

শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ বলেনঃ

“হে মুসলিম উম্মাহ! এটা একটি সংগঠন বা ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; বরং এই যুদ্ধ হল ইসলাম ও কুফরের মধ্যে লড়াই। ক্রুসেডার ও তাদের মিত্রদের এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যারা ভালবাসে; যারা তাদের রক্ত দিয়ে তার সম্মান রক্ষা করে – তাদের মধ্যে লড়াই। এই যুদ্ধ আপনার যুদ্ধ। এই দায়িত্ব আপনার দায়িত্ব। আপনার নবীর সম্মানে তারা কালিমা লেপন করতে চেয়েছে!!

এই যুদ্ধ হল দুর্নীতিবাজ, অত্যাচারী, নৈতিক চরিত্রহীন এবং মানুষ হয়ে যারা মানুষের রক্ত চোষে তাদের বিরুদ্ধে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরিয়াহ তো হল – ন্যায়বিচারের শরিয়াহ, দয়ার শরিয়াহ, পবিত্রতা ও বিশুদ্ধতার শরিয়াহ এবং অত্যাচারীদের প্রতিরোধ করার শরিয়াহ”।

উপস্থাপকঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্বে আলেম-উলামা থেকে শুরু করে মুজাহিদ পর্যন্ত সবাই একত্রিত হয়েছে। সাধারণ জনতাও মিছিল মিটিং করে প্রতিবাদ করেছে। ঢাকা থেকে তিমবুকতু (মালির রাজধানি) পর্যন্ত উম্মাহ গণহারে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। যেসব রাষ্ট্র এসব ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশনাগুলোকে সমর্থন করেছিল, এই গণআন্দোলন সেসব রাষ্ট্রের দূতাবাসে আক্রমণ করেছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের পণ্যকে সম্পূর্ণভাবে বয়কট করা হয়েছে। মুজাহিদীন এসব দেশের দূতাবাস ও তাদের রাষ্ট্রদূতদের উপর হামলা করেছে। আর এভাবেই তাদের পিঠে আঘাত করা হয়; যারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমান করার দুঃসাহস দেখায়।

فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّىٰ إِذَا أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّىٰ تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا

“অর্থঃ অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত কর। অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল”। (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৪)

এই আন্দোলন ও প্রতিবাদ শরিয়াহ’র আদেশ অনুযায়ী হওয়া এবং কোন প্রকার সীমালঙ্ঘন না হওয়ার বিষয়ে সবাই সতর্ক ছিলেন। কারণ আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসেন না। শরিয়াহ যাদেরকে হত্যার অনুমতি দিয়ে ছিল তারা তাদেরকেই হত্যা করেছে এবং যারা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে ক্ষমা করা হয়েছে। উম্মাহ এবং এর মিত্র মুজাহিদ সন্তানদের এই জাগরণকে প্রতিহত করা জন্য পশ্চিমা অবৈধ অত্যাচারী শাসকরা এবং তাদের ভাড়াটে কর্মীরা নিজেদের বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

শাইখ নাসর বিন আলি আলআনিসি রহিমাহুল্লাহ বলেন:

“এসব ঘটনায় আঘাত পাওয়ার পর কাফির প্রধানগণ তাদের ভুল বুঝতে পারে। দেখুন তারা কিভাবে একত্রিত হচ্ছে! তারা একে অন্যকে সমর্থন করছে, তাদের দুর্বলতাকে শক্তিশালী করছে এবং তাদের ক্ষতগুলোকে ড্রেসিং করছে। তাদের সমাবেশগুলোর প্রতি ভাল করে লক্ষ্য করুন। এরাই হল তারা যারা আফগানিস্তানে, ককেশাসে, গাজা, সিরিয়া, ইরাকে, সোমালিয়ায় ও ইয়েমেনে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।

এদিকে দেখুন। এই যে ফ্রান্স। সে আমেরিকার সকল অপরাধের অংশীদার। এই হল ফ্রান্স যে মালি ও ইসলামিক মাগরিবে ক্রমাগত অপরাধ করে যাচ্ছে। এই হল সেই ফ্রান্স যে মধ্য আফ্রিকায় শুদ্ধি অভিযানের নামে মুসলিম নিধনকে সমর্থন করে। তারা হল শয়তানের দল, আল্লাহ ও আম্বিয়ায়ে কেরামের শত্রু”।

উপস্থাপকঃ

এ সব বিক্ষোভে নির্লজ্জ নেতা নেতানিয়াহু ফরাসী সরকারের পাশে দাঁড়ায়। সেখানে তাদের অতি নিকটেই দাঁড়িয়ে ছিল জর্ডান ও ফিলিস্তিনের শাসকরা। মুসলিম উম্মাহর বিক্ষোভ ও বিপরীতে ফরাসী সরকার কর্তৃক পরিচালিত বিক্ষোভ – দুটি প্রতিবাদী তাবুর অবস্থানের বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে। মুসলিম জনগণ ও এর খরিদ্দার শাসকদের মাঝে এবং জনগণের স্বপ্ন-বিশ্বাস ও শাসকদের কার্যক্রমের মাঝে গভীর ফাটলকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। জনগণের সাথে শাসকদের সম্পর্ক ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব রূপ বের করে এনেছে।

এসব ঘটনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এই ধরণের শাসকেরা না উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করে আর না ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে। এসব বিক্ষোভ মূলত হিংসাত্মক মনোভাবেরই বহি:প্রকাশ যা পশ্চিমারা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ধারণ করে রাখে।

শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ বলেনঃ

“হে মুসলিম উম্মাহ!

এটা হল তাদের ধর্মের চরিত্র যা তাদেরকে ক্রুদ্ধ করেছে এবং তাদেরকে বিক্ষোভ সংগঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সেখানে তারা চার্লি হেবদোতে আক্রমণকারী মাত্র ৩ জন মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ মিলিয়নেরও বেশি লোক অংশগ্রহণ করেছে। তারা এসে ছিল তাদের পথভ্রষ্টতাকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননা করার অপরাধকে স্বাধীনতার নামে সাব্যস্ত করার জন্য।

তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমান করার উপর তাদের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশের জন্য বেরিয়ে এসেছিল এবং আমাদেরকে এই বার্তা দেওয়ার জন্য যে – তারা তাদের অপরাধ ও অসভ্য ব্যবহারে অটল থাকবে। এর প্রমাণ হিসেবে তারা কতিপয় অন্যান্য ম্যাগাজিনগুলোতেও একই জঘন্য ব্যঙ্গচিত্র পুন:প্রকাশ করে। এমনকি চার্লি হেবদোর সদর দপ্তরে হামলার পর প্রকাশিত প্রথম ইস্যুতেই আবার ব্যঙ্গচিত্রটি পুনঃ-প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে পশ্চিমা বস্তুবাদী বিশ্ব ইসলামের প্রতি তাদের ধর্মীয় ক্রোধকে প্রদর্শন করেছে ও অপর দিকে অপরাধীদেরকে সমর্থন দিয়েছে।

হে মুসলিম! তোমাদের ক্রোধ কোথায়? আত্মমর্যাদা কোথায়? এবং তোমাদের নবী, ধর্ম ও বিশ্বাসের গায়ে কালিমা লেপনের মোকাবেলায় কোথায় তোমাদের ঈমানী চেতনা”?

উপস্থাপকঃ

অতএব এই কাজের দায়িত্ব উম্মাহ ও এর মুজাহিদদের উপর। এই আহবানে তারা সাড়া দিয়ে বিশাল বিক্ষোভ ও জিহাদি অপারেশন পরিচালনা করেছেন। এই বার্তাটি কাফির পশ্চিমা বিশ্বের উপর বড়সড় প্রভাব ফেলেছিল। এর দ্বারা পশ্চিমারা বুঝতে পারে যে, মুসলিম উম্মাহ এখনও শাহাদাত পিয়াসী জিহাদি উম্মাহ। এই উম্মাহ তার ধর্ম ও নবীর সম্মান রক্ষার জন্য সব কিছু করতে পারে। ফ্রান্সের বরকতময় অপারেশন ও তার আগের বিভিন্ন বিজয়ের মাধ্যমে এই বার্তা পৃথিবীবাসী পেয়েছে।

এই ‍উম্মাহ ইসলামাবাদে ডেনিশ দূতাবাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলাকে ভুলে যায়নি। সেখানে বীর যুবক মুয়াজ্জিন রাসূলের শানে বেয়াদবির শাস্তি স্বরূপ ডেনিশ সাংবাদিক ও কূটনীতিবিদদেরকে তাদের দূতাবাস সহ ধ্বংস করে দেন। আমরা ভুলে যাইনি যে ‘বাকস্বাধীনতা রক্ষা’র মিথ্যা অজুহাতে ডেনিশ প্রেসিডেন্ট এ ধরণের জঘন্য কাজ সামনেও চালিয়ে যাওয়ার জন্য এখনো বদ্ধপরিকর।

রাসমুসেন (Rasmussen), ডেনমার্কের প্রাক্তন ঘৃণ্য প্রধানমন্ত্রীঃ

“তাদের (মুসলিমদের) লক্ষ্য হল ধর্মীয় বিষয়ে বাক-স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা। কিন্তু আমরা আমাদের “বাক-স্বাধীনতা” ও ধর্মীয় অবস্থান রক্ষার জন্য অটল থাকবো”।

উপস্থাপকঃ

অভিশপ্ত কার্টুনিস্ট যে কিনা নবীর শানে কার্টুন বানানোর মতো জঘন্য কাজের সূচনা করে ছিল, সে এটা পরিষ্কার করেছে যে এই কার্টুনগুলো ছিল জিহাদ ও মুজাহিদদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর যুদ্ধের একটি অংশ মাত্র। এই নিকৃষ্ট কুকুর বলে যে,

কার্ট ওয়েস্টারগার্ড (Kurt Westargaard), অভিশপ্ত কার্টুনিস্টঃ

“ফ্লেমিংরোজ আমাকে মুহাম্মাদের ব্যঙ্গ চিত্র অঙ্কনের জন্য অনুরোধ করে। এটি আমার জন্য সন্ত্রাসীদের জ্বালাতনের জবাব দেওয়ার একটি মোক্ষম সুযোগ ছিল। এই সন্ত্রাসীরা ধর্মকে একটি আধ্যাত্মিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

সাংবাদিকঃ তুমি কি একাজের জন্য মাফ চাইবে?

কার্টুনিস্টঃ না, কখনই না। ভাগ্যক্রমে আমার বয়স এখন ৭২ বছর এবং আমার বার্ধক্যের কারণে আমি ভীত নই”।

উপস্থাপকঃ

আমাদের বীর তাঁর আক্রমণ চালানোর পূর্বে পরিষ্কার বার্তায় জানিয়ে দেন যে, এই আক্রমণ হল তাদের বিরুদ্ধে, আত্মপ্রবঞ্চনায় পড়ে যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে বেয়াদবির দুঃসাহস প্রদর্শন করেছে।

মুজাহিদ আবু গারিব আল মাক্কি রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

“ক্রুসেডার ডেনমার্কের প্রতি আমার সর্বশেষ বার্তা হল: ইনশাআল্লাহ! এটাই আমাদের সর্বপ্রথম কিংবা সর্বশেষ প্রতিশোধ নয়। ইনশাআল্লাহ, শাইখ উসামা তোমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দিবেন না। মুজাহিদরা তোমাদেরকে কখনই শান্তিতে থাকতে দিবে না। এটা হল তাদের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা যারা মনে করে যে, তারা ধর্মনিন্দা চালিয়েই যাবে, এই গাড়িটিই হল তোমাদের শেষ ভাগ্য”।

উপস্থাপকঃ

এই শহীদের কথাগুলো আলেমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। উম্মাহ, জিহাদ ও মুজাহিদদের প্রতি তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَىٰ مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ ۙ أُولَٰئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ

“অর্থঃ নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যেসব বিস্তারিত তথ্য এবং হেদায়েতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণেরও”। (সূরা বাকারা ২:১৫৯)

মুজাহিদ আবু গারিব আল মাক্কি রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

সুতরাং নিজেদের জ্ঞানের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করুন। যদি বিচার দিবসে আপনাদের ভাইরা আপনাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে যে, এ সব আলিমগণ সংকটময় মুহূর্তে আমাদের সাহায্যের জন্য কোনো ফতোয়া দেয়নি তখন কী জবাব দিবেন? আপনারা প্রত্যেকটি ধর্ষণ, অন্যায়ভাবে ঝরানো প্রতি ফোটা রক্ত এবং অন্যায়ভাবে অপহৃত প্রতিটি প্রাণের জন্য দায়ী। আল্লাহর শপথ! আপনারা আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন। সুতরাং আপনাদের ভাইদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। নবীজীর সম্মান রক্ষার বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করুন”।

উপস্থাপকঃ

মুজাহিদরা সব সময়ের মতো ‘নিরপরাধ প্রাণ রক্ষার দায়িত্ববোধ’ থেকেই সাধারণ ছুটির দিন – যখন দূতাবাস বন্ধ থাকে – জনসম্মুখে এই অপারেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। হামলাটি সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল এবং এর ফলস্বরূপ আল্লাহ বিশ্বাসীদের অন্তরে আনন্দ ও প্রশান্তি দান করেন এবং তাদের ক্রোধ নিবারণ করেন।

ডেনিশ দূতাবাসের আশেপাশে বসবাসকারী একজনঃ

“পশ্চিমে যে ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশিত হয়েছিল তার জন্য তারা এরূপ বা এর চেয়ে বেশি আঘাত পাওয়ার উপযুক্ত। কোনো মুসলিম এই ব্যাঙ্গ চিত্রগুলো দেখলে বুঝতে পারত যে আমি কী বলছি!”

ডেনিশ দূতাবাসের আশেপাশে বসবাসকারী আরও একজনঃ

“পশ্চিমারা এর জন্য ক্ষমা চাইতেও অস্বীকৃতি জানায়। ফলে পরিণতি আরও খারাপ হবে। আমরা দেখি যে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে প্রতিদিনই মুসলিমদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। পশ্চিমারা যদি এই ধরণের অপরাধ বন্ধ না করে, তাহলে তাদেরকে অবশ্যই খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে”।

উপস্থাপকঃ

এই বরকতময় হামলার দ্বারা মুজাহিদরা পশ্চিমা বিশ্বের কাফির সরকারদের প্রতি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, যারা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে উপহাস করে, তাদের পরিণতি এমনই হবে। মুজাহিদগণ পশ্চিমা মুসলিমদেরকেও এই অত্যাবশ্যকীয় জিহাদে অংশ গ্রহণের জন্য আহবান জানায়।

শাইখ মুস্তফা আবুল ইয়াযিদ রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

“আর আমরা পশ্চিমা ঐ সমস্ত মুসলিম যুবকদেরকে; যারা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ক্রুসেডারদের শত্রুতার কথা জানে এবং ইউরোপ ও আমেরিকায় ইসলামের গৌরবময় অতীত আবার ফিরিয়ে আনতে চায় – তাদেরকে আল্লাহকে ভয় করার এবং তাদের নবী, তাদের কুরআন, তাদের দ্বীনের অপমানের বদলা নেবার জন্য আহবান করছি। তাদেরকে তাদের মাঝেই বসবাসরত ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আহবান করছি।

হে আমার মুসলিম ভাই ও বোনেরা!

আপনাদের কাফিরদের মাঝে বসবাস করার কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই। যদি আপনারা জিহাদের কাফেলায় যোগ না দেন এবং আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব পালন না করেন – তবে কাফিরদের মাঝে থাকার জন্য আপনাদের কোন অজুহাত নেই। এখনই উপযুক্ত সময় আপনার ধর্মের পাশে দাঁড়ানোর। আপনাদের হল্যান্ডের ভাই, ইসলামের সাহসী ও বীর যোদ্ধা মুহাম্মদ বুয়েরির মত ধর্মনিন্দুক ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কটূক্তিকারীদের হত্যা করুন। এই আল্লাহর শত্রু আল্লাহর ধর্মকে নিয়ে উপহাস করেছিল। তাই ভাই বুয়েরি তাকে আল্লাহর আইন অনুযায়ী তার প্রাপ্য শাস্তি বুঝিয়ে দিয়েছে। সে এমন শাস্তি পাওয়ারই উপযুক্ত ছিল।

পশ্চিমা যুবকদের মধ্যে যেসব বীরেরা মুজাহিদীন নেতাদের আহবানে সাড়া দিয়েছিল তাদের মধ্যে শহীদ (আমরা তাকে এমনটাই মনে করি) মুহাম্মদ আল বুয়াইরি ছিলেন একজন। তিনি ডাচ ফিল্ম নির্মাতা ভেনকোচকে তার প্রাপ্য শাস্তি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন”।

উপস্থাপকঃ

এই ফিল্ম নির্মাতা ধর্মনিন্দার সকল সীমা অতিক্রম করেছিল। এই ফিল্মে সে সরাসরি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং কোরআনকে অবমাননা করেছিল। সে ইসলাম ও ইসলামের সকল প্রতীকের বিরুদ্ধে ধর্ম নিন্দার সম্ভাব্য সকল উপায় ব্যবহার করেছিল। কিন্তু সে এটা ভুলে গিয়ে ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামের ভালবাসা মুসলিমদের অন্তরের গভীরে বিদ্যমান, যদিও তারা ইউরোপে বা ইতালিতে লালিত-পালিত হয়। এখানে হামলাটির কিছু বিবরণ পেশ করা হল:

ফ্রিটস ভ্যান স্ট্রেইলেন (Frits Van Strealen), বিচারকঃ

“আমার সহকর্মী আহত হয়েছিল। সে তখন পুলিশ কার চালাচ্ছিল। পরে দেখা যায় যে গুলি তার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লেগেছিল। জ্যাকেটের কারণে সে প্রাণে বেঁচে যায়।

ডগ ইউনিটের আরেকটি পুলিশ কার কয়েক বার গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। আর আমাদের গাড়িতে দুইটি বুলেট বিদ্ধ হয়। মনে হচ্ছিল এর থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন হবে।

সে রাস্তার মধ্যে থিও ভ্যান গগ’কে (Theo Van Gogh) প্রথমে গুলি করেছিল। পরে সে হেটে রাস্তা পার হয়। এমনকি সে দৌড়ও দেয় নি। সেখানে সে থিও ভ্যান গগ এর জিহবা কেটে দেয় এবং তার শরীরে চিঠিটিকে ছুরি দিয়ে আটকে দেয়। এরপর চারপাশের নীরব দর্শকদেরকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তারা দ্বিতীয় লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হতে পারে’।

সে শান্তভাবে ও আস্থার সাথে ওস্টারপার্ক (Oosterpark) দিয়ে মরিটস্কেড (Mauritskade) হেটে চলে গেল। সে যখন পুলিশকে গুলি করছিল তখনও পুরোপুরি শান্ত ছিল। মনে হয় সে জানত যে, এখানেই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে”।

উপস্থাপকঃ

এই হামলায় এই বীরের বীরত্ব স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেয়েছে এবং তার কাজের কার্যকারণ স্পষ্ট হয়েছে। তিনি এতোটুকু করেই ক্ষান্ত হননি। বরং বিচার করার সময়ও তিনি একই কথা প্রকাশ করেন।

বিচারের সময় তার বক্তব্যগুলো গভীর ঈমান ও ধর্মের প্রতি তার গভীর সম্মানের কথা অত্যন্ত শক্ত ভাবে প্রমাণ করে (আমরা তাকে এরূপই বিবেচনা করি এবং আল্লাহই হলেন চূড়ান্ত বিবেচক)। সে আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিল,

মুহাম্মদ বুয়েরিঃ

“আমি ঈমানী দায়িত্ববোধ থেকে এক বরকতপূর্ণ কাজ করেছি। আমি এটা স্পষ্ট করতে চাই যে, যদি এই জঘন্য কাজটি আমার বাবা কিংবা আমার ছোট ভাইও করত, তাদের বেলায়ও আমি একই আচরণ করতাম। তোমরা তোমাদের সকল মনোবিজ্ঞানী, ডাক্তারদেরকে ও বিশেষজ্ঞদেরকে পাঠাতে পার, তবু তোমরা কখনই এটা বুঝতে সক্ষম হবে না যে, কি ঘটেছে। যদি আমি মুক্তি পাই ও ২রা নভেম্বর আমি যা করেছিলাম সেটার সুযোগ পাই, তাহলে আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পুনরায় একই কাজ করব”।

উপস্থাপকঃ

এই উম্মাহ লিবিয়াতে উমর আল মুখতারের নাতিদের হামলার কথা কখনই ভুলে যাবে না। আমেরিকার ছত্রছায়ায় মিশরীয় ভাষায় ফিল্ম নির্মাতা অপরাধী নিকোলা বাজিলে (Nicola Bazile) এর ধর্মনিন্দামূলক ফিল্ম নির্মাণ এবং অভিশপ্ত টেরি জনসনের (Terry Johnson) কোরআন পোড়ানোর প্রতিশোধ স্বরূপ আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে তারা টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে এনেছিল।

শাইখ আলী মুহাম্মাদ রাজি বলেন;

“লিবিয়ার সংঘাতপূর্ণ ভূমিতে উমর আল মুখতারের নাতিদের পক্ষ থেকে ধর্ম নিয়ে কটুক্তিমূলক এই ফিল্মের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদ করা হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের ভাবমূর্তিকে লিবিয়ার রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। এই বীরত্বপূর্ণ মূহুর্ত সমস্ত মুসলিমদের স্মৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে মুসলিমরা খাতামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান রক্ষার জন্য একত্রে বিক্ষোভ করেছিল। আমার পিতা-মাতা তার জন্য কোরবান হোক”।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারেঃ

এই হামলা সি.আই.এ. এর জন্য ছিল একটি মহা বিপর্যয়। এই হামলায় একদিকে ঐ অঞ্চলে সি.আই.এ. এর উপস্থিতি প্রকাশিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঐ অঞ্চলে সি.আই.এ. এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। ১১ই সেপ্টেম্বর বেনঘাজি শহরের হামলায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূত সহ আরও ৩ জন নিহত হয়। এটাকে সি.আই.এ. এর জন্য বড় ধরণের একটি আঘাত বলে বিবেচনা করা হয়।

উপস্থাপকঃ

সি.আই.এ. সেখানে তাদের কিছু অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত এজেন্ট নিয়োগ করেছিল। তারা শহরের ভিতরে ও বাইরের সশস্ত্র দলগুলোর হামলার উপর নজরদারী করতো। একজন আমেরিকান কর্মকর্তা বলেন: এই হামলাটি ছিল এমন একটি দুর্যোগ, যার ফলে সংস্থাটি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিবিয়ায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা আরও বলেন: ‘এই হামলাটি আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে’।

বারবার এসব অপরাধের পুনরাবৃত্তির কারণে উম্মাহ আমাদের ভূমিতে শয়তানের কেন্দ্রগুলোর অর্থাৎ এসব দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দূতাবাসগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ করে আসছে। তারা এসব দেশের পতাকাগুলোকে নিচে নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং জিহাদের পতাকাগুলোকে উত্তোলন করে। এতে করে বিশ্ব দেখেছে যে – এই উম্মাহ তার নবীর সম্মান রক্ষার জন্য সব কিছুই বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

কায়রোর আমেরিকান দূতাবাসের সামনে একজন বিক্ষোভকারীঃ

“আমাদেরকে অপমান করলে আমরা ক্ষমাশীল হতে পারি। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিষয়টি – আমি বলছি না যে এটি একটি রেড লাইন; বরং আমি বলি – তার জন্য আমাদের রক্ত ও জীবন – সবকিছু তাঁর জন্য উৎসর্গ হবে”।

উপস্থাপকঃ

উম্মাহর মুজাহিদ সন্তানরা ভারতীয় উপমহাদেশের ঐ সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে তাদের বীরত্বের ইতিহাস গড়েছেন, যারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কটূক্তি করেছে।

মাওলানা আসেম উমর হাফিযাহুল্লাহঃ

“আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে ভারতীয় উপমহাদেশের মুজাহিদীন, তাদের ইয়েমেনের ভাইদের মতই কতিপয় ধর্মকটুক্তিকারীদেরকে জাহান্নামে পাঠিয়েছেন। করাচীতে তারা ড. শাকিল ওজ (Dr. Shakeel Auj) এবং ‍আনিকা নাজকে গুপ্ত হত্যা করেন। বাংলাদেশে রাজীব হায়দার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাস্তিক প্রফেসর এবং সম্প্রতি আমেরিকায় জন্ম নেয়া হিন্দু ব্লগার – অভিজিৎ রায়কে শুধু মাত্র মাংস কাটার ছুরি ও চাপাতি দিয়ে হত্যা করেন। এর মাধ্যমে সমস্ত ইসলাম বিদ্বেষীদেরকে একথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হল যে – এমনকি বিশ্বাসীরা অস্ত্র ছাড়াই একজন সৈনিকের মত লড়াই করতে পারে।

আলহামদুলিল্লাহ! এটা হল ঐ অপারেশন সিরিজের একটি অংশ যা সম্মানিত আমির শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ’র আদেশে এবং শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ’র অঙ্গীকার পূরনার্থে আল কায়দার বিভিন্ন শাখা বাস্তবায়ন করে আসছে”।

উপস্থাপকঃ

হ্যাঁ, বিশ্বের কুফুরি শক্তি বুঝতে পারল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে সামান্য কটূক্তি করলেও মুসলিম উম্মাহ এই জঘন্য কর্মের শাস্তি প্রদান করবে। এর ফলে অনেক রাষ্ট্র যেমন ফ্রান্স, এমনকি তাদের ম্যাগাজিন অভিশপ্ত চার্লি হেবদো – এই ধরণের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়েছে।

সুতরাং একথা আরও একবার সত্য প্রমাণিত হল যে, তরবারি সত্য বুঝতে সাহায্য করে।

শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্য:

“আসলে তরবারিই কাফিরদেরকে সত্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। আজ তরবারি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করেছে। যতক্ষণ তরবারি চলে, কাফিরদের হৃদয় সত্য উপলব্ধি করে এবং তাদের মনে সত্য দ্বীন ইসলাম জানার ও বুঝার আগ্রহ জাগে”।

শাইখ খালিদ বাতারফি হাফিযাহুল্লাহ বলেন:

“আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ দয়ায় আজ মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর ওয়াদা পূরণের সাক্ষী হয়েছে। বৈশ্বিক জিহাদের প্রভাবে এবং চার্লি হেবদো ম্যাগাজিনের হেডকোয়ার্টারে ২জন বীর মুজাহিদের আক্রমণের পর থেকে তারা নবীদের (আলাইহিস সালাম) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা বন্ধ করতে বাধ্য হয়”।

“দুটি দল যখন মুখোমুখি হল, তখন মুহাম্মাদের দল আল্লাহর নাম নিয়ে তাকবীর দিয়ে শাহাদাতের পিপাসায় ছুটে গেল। আর কুফফারদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলো চরম ইসলাম বিদ্বেষী কট্টর ক্রুসেডার সম্রাট। অতপর সম্পূর্ণ ভয়ভীতিহীন তুমুল লড়াই যখন শুরু হল তখন মুসলমানদের সাথে ছিল আল্লাহর প্রতিশ্রুত ‘সাহায্য’। তাই তাদের বিজয় নির্ধারিত সময়েই হয়েছে, আগেও না পরেও না

উপস্থাপকঃ

যায়নিষ্টদের শপথ ভঙ্গ করার অভ্যাসের অনুসরণে ফ্রান্স রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবসে, বরকতময় প্যারিস হামলার ছয় বছর পর – একই অভিশপ্ত ম্যাগাজিনের মাধ্যমে পুনরায় ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে। আর কাকতালীয়ভাবে এটা করা হয়েছে এমন এক সময়ে যখন বরকতময় প্যারিস অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্টদেরকে মিথ্যা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর নাটক চলমান আছে।

ম্যাক্রন:

আমি যখন ঐ বিষয়টি উল্লেখই করেছি, তখন আমাদের আলোচিত ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলাম। ২০১৫ সালে যখন চার্লি হেবদোতে হামলা হয়েছিল প্রায় সে সময়টাতেই আবার এর সাথে যুক্তদের বিচার কাজ শুরু করার এই বিষয়টি কাকতালীয় ছিল।

উপস্থাপকঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিনে তাদের এই ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ। এই অপরাধ সংগঠিত করার মাধ্যমে পশ্চিমা কাফিররা ইসলাম ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মুসলিমদের ভালোবাসা ও তাদের অনুভূতিকে পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিল। পশ্চিমাকরণ তথা পশ্চিমাদের অনুসরণ ও অনৈতিকতার বিস্তারের এই মহড়ায় মুসলিমরা ইসলাম ও এর শিকড় থেকে কতটা দূরে সরেছে, তা তারা যাচাই করতে চেয়েছিল।

মার্টিন স্মিথ (Martin Smith)

ঐ সকল আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে আপনি কী বলবেন, যারা মনে করে যে সৌদি আরব কতিপয় সন্ত্রাসীকে অস্ত্র ধরতে সাহায্য করেছিল?

সৌদি পরিবারের প্রধান মুফতিঃ

আমাদের মুসলিম সম্প্রদায় জঙ্গিবাদের সকল প্রকার কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এতে কোনো প্রকারের সহযোগিতা করা হতে বিরত থাকে। তারা জঙ্গিবাদের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে অবগত।

রেক্স টিলারসন (Rex Tillerson), প্রাক্তন সেক্রেটারি অফ ষ্টেটঃ

“আমেরিকায় আমাদের নেতাদের কাজগুলোর একটি হচ্ছে, যেমন সৌদি আরবে উগ্রবাদী ইসলামী বক্তৃতাগুলো রোধ করার জন্য সংগঠন গড়ে তোলা। সংগঠনটি এখনো আছে, আমরা সেটি সেখানে উদ্বোধন করে দিয়ে এসেছি।

বিশ্বব্যাপী উগ্রবাদ প্রতিরোধে আমাদের সংগঠনটির কিছু মৌলিক পদক্ষেপ রয়েছে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি আমরা কাজে লাগিয়েছি এবং সৌদিয়ানরাও এর বাস্তব প্রয়োগ শুরু করেছে সেটি হল – পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন করে নতুন পাঠ্যবই প্রবর্তন।

এই নতুন বইগুলো সারা দেশের মসজিদ মাদরাসাগুলোতে পড়ানো হবে। এই নতুন পাঠ্যবইগুলো জঙ্গিবাদ, কট্টরপন্থা আর ওয়াহাবী চিন্তায় ভরা পুরনো পাঠ্যবইগুলোর স্থলাভিষিক্ত হবে। আমরা তাদেরকে শুধু নতুন বই প্রণয়ন করতেই বলিনি, বরং পুরনো বইগুলোও সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে বলেছি। এটা শুধু একটি উদাহরণ।

আমাদের সংগঠনটি অচিরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বব্যাপী সংবাদ প্রচারের একটি বড় উদ্যোগ নিচ্ছে। সেইসাথে ইসলামী বিদ্যাপীঠগুলোতে নেতৃত্বস্থানীয় যুবকদের মনন গঠনের চেষ্টা চলছে। এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা তাদের সাথে কাজ করছি। এই ক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অবস্থার দিকে আমরা অবশ্যই লক্ষ্য রাখবো। সৌদি আরবসহ আরও বিভিন্ন রাষ্ট্রে যে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে, এটি হচ্ছে সেগুলোর একটি। সাথে সাথে এই সংগঠনটিকে আমরা কারিগরি মানের স্তরে উন্নীত করবো”।

উপস্থাপকঃ

এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে তাদের মাত্র তিন বছরের চেয়েও কম সময় লেগেছে। বিশ্বব্যাপী ইহুদীবাদী এই চক্রান্তের সফলতা নিয়ে 2020 সালের ডিসেম্বর মাসে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়:

সৌদি আরবের ভিতরে এবং বাইরে মিলে প্রায় ত্রিশ হাজার বিদ্যালয়ে রিয়াদ থেকে যে সকল পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়, সেগুলো থেকে ইহুদীবাদী শক্তির পৃথিবীব্যাপী প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। শরীয়তের আলোকে সমকামী ও মুরতাদদেরকে হত্যার বিধান মুছে দেয়া হয়েছে।

শেষ যামানায় গাছপালা যখন কথা বলতে শুরু করবে তখন মুসলিম এবং ইহুদীদের মাঝে এক বীরত্বপূর্ণ লড়াই সংঘটিত হবে। সেই যুদ্ধে মুসলমানরা জয় লাভ করবে – এ আলোচনাগুলোও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতের মর্যাদা ও গুরুত্ব এবং জিহাদের জন্য মুসলিমদেরকে আবশ্যকীয় প্রস্তুতির প্রতি আগ্রহ দানকারী আলোচনাগুলোকেও চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে।

আরব বসন্তের পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের দোসরদের দ্বারা মুসলিম দেশের জনগণের উপর একটি পরীক্ষা চালায়। জীবনের ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া যায় কিনা – এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে তারা কিছু সফলতাও পেয়েছে। এখনো তারা বেঁচে থাকার জন্য এক মুঠো ভাত পায় না। তাদের নিকটাত্মীয়রা এখনো জেলে বন্দী। গুম-খুনের ভয়ে এখনো তারা তটস্থ।

ফ্রান্স সরকার আরব বসন্তের সময়কালে তাদের মিত্রদের সহায়তা করার লক্ষ্যে অপরাধীদের সরকারগুলোর পক্ষে ক্রমাগত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অপরাধী “হাফতার” কে অর্থনৈতিক সাহায্য, অস্ত্রশস্ত্র প্রদান ও জঙ্গীবিমান দ্বারা বোমা বর্ষণে সাহায্য করার মাধ্যমে এই যুদ্ধে তাদের পক্ষাবলম্বন করে। রাসূল সা্ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরব উপদ্বীপে ইসলামের বিরুদ্ধে গর্দভ বিন সালমানের আগ্রাসনের এক বড় সহায়ক তারা। তারা শয়তান বিন যিয়াদ এর সাথে মৈত্রিক সম্পর্ক গঠনের মাধ্যমে সারাবিশ্বের মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক প্লাটফর্ম তৈরি করছে। একই ভাবে তারা রক্তখেকো প্রেসিডেন্ট সিসি এর সাথে মিলিত হয়ে তথাকথিত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে মিসরের মুসলিমদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে।

ম্যাক্রনঃ

“আমাদের আঞ্চলিক মৈত্রিতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সর্বপ্রথম সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে দমন করতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। উভয় রাষ্ট্রই (ফ্রান্স ও মিসর) জঙ্গিবাদ তথা ইসলামী উগ্রবাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। আমি প্রেসিডেন্ট সিসিকে পরিষ্কার ভাষায় বলেছি, আমাদের রণকৈাশলের ক্ষেত্রে ‘মিসরের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ ফ্রান্সের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। উভয় রাষ্ট্র এই উদ্বেগের জায়গা থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে আমরা একসাথে দৃঢ়ভাবে পরস্পর সহায়তা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এরই ভিত্তিতে আমরা একসাথে কাজ করে যাব”।

সত্যিকারার্থেই আরব বসন্তের শুরু থেকে ফ্রান্স মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে এক বিরামহীন যুদ্ধে নামে। তাদের মূল লক্ষ্য– উম্মাহ যেন পুনরায় জাগ্রত হতে না পারে। কারণ, তারা খুব ভালো করেই জানে যে – মুসলিম উম্মাহ তাগুতের থেকে স্বাধীনতা পেলে তাদের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরবে। এরপর নিজেদের এবং পবিত্র স্থানগুলো প্রতিরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং নিজেদের খনিজ সম্পদ ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।

ড. ইসমাইল খালফুল্লাহ (Dr. Ismail Khalfullah):

“২০১১ সালে যখন তিউনিসিয়ার আন্দোলন শুরু হবার পর, বিন আলী পালিয়ে যাবার আগে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে – এই গণ আন্দোলন ঠেকাতে সহায়তা করার তারা পরিপূর্ণ প্রস্তুত। তাদের ভাষ্য – এইসব বিক্ষোভের ফলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বন্ধ করার জন্য সহায়তা করতে আমরা পরিপূর্ণ প্রস্তুত।

এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় যখন বিভিন্ন মিডিয়ার পক্ষ হতে এই ঘোষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবি জানানো হয় তখন সে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিল, ‘রাষ্ট্রের কল্যাণ ও স্বার্থের কারণে এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে’”।

উপস্থাপকঃ

ম্যাক্রন ইসলামের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ঘোষণা করা সেই বক্তৃতায় মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের বিরুদ্ধে তাদের চালানো অপতৎপরতার কথা গোপন করেনি। তার একটি অপতৎপরতা ছিল এমন – তৎকালীন তিউনিসিয়ায় স্বৈরশাসক “বুরকিবা” এর শাসনামলে জনগণের মাঝে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সেকুলারিজম এর প্রসার ঘটানো। কিন্তু সেখানকার যুবকদের দ্বীনের প্রতি আগ্রহ এবং জাতীয় সংকটকালে জনগণের একতা তাদের অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাক্রনের বক্তব্য:

“উদাহরণ স্বরূপ আমাদের বন্ধু দেশ তিউনিসিয়ার কথা ধরা যাক। গত ত্রিশ বছর আগে তিউনিসিয়ার অবস্থা ছিল একেবারেই আলাদা। ধর্ম ও জীবন চর্চা সাধারণভাবেই চলছিল। পরবর্তী সময়গুলোতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন এসেছে”।

উপস্থাপকঃ

পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসরত অভিবাসীদের উপর এই অপতৎপরতা পূর্ব থেকেই চলমান ছিল। আর ফ্রান্স স্বভাবতই এক্ষেত্রে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে।

এরিক যিমার (Eric Zimmer), ডানপন্থী চরমপন্থীঃ

“আমার বিশ্বাস, আমাদের উচিৎ তাদেরকে ইসলাম অথবা ফ্রান্স দুটির যেকোনো একটি গ্রহণ করতে বাধ্য করা

উপস্থাপকঃ

জাতীয়তাবাদ, সামাজিক সমতা, গণতন্ত্রের অধিকারের প্রতি সম্মান ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে – মসজিদ, মাদরাসা, হিফজখানাসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান তারা বন্ধ করেছে। হিজাব পরিধান করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইসলামের দায়ী ও ইমামগণকে বহিষ্কার করেছে।

জেরাল্ড ডোরম্যান (Gerald Dorman); প্রাক্তন ঘৃণ্য ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঃ

“আমাদের নজরদারীতে মুসলিমদের ৭৬টি ইবাদতখানা আছে। আশংকা করা হচ্ছে যে, সেখানে উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তার চর্চা হয়। কিছু ইমাম সাহেবও আছেন যাদেরকে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ নজরদারিতে রেখেছে।

নারী-পুরুষ সমান অধিকার বিষয়ে – ইসলামিক স্কলারদের এমন কিছু বক্তব্য আছে যেগুলো আমাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে যায় এবং ইহুদী খৃষ্টানদের ব্যাপারে জনমনে ঘৃণা জন্মায়। এছাড়া তাদের অর্থায়ন নিয়েও সন্দেহ আছে।

জেলা প্রধানকে আমি নির্দেশ দিয়েছি নজরদারি কর্মসূচি জোরদার করতে এবং উগ্রবাদের সাথে সংযুক্ত সকল কিছু দমন করতে। লাইসেন্সসমূহ পুনর্বিবেচনা করা হবে, মাদরাসা এবং নামাজের স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হবে, ইমামগণ কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিবন্ধনভুক্ত কিনা, অর্থায়নের উৎস এবং উদ্দেশ্য পূর্ণ যাচাই করা হবে”।

উপস্থাপকঃ

এই নীতি বাস্তবায়নে ফ্রান্স ‘বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের’ সমন্বয়ে একটি বাহিনী গঠন করেছে। ফ্রান্স নারী স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামপন্থী ও কুফফার উগ্রবাদীদের উস্কানি দিয়ে থাকে।

হাসান শালঘমি (একজন পথভ্রষ্ট);

“মানবতার ফরাসি মডেলটি ইসলামপন্থী ও উগ্রপন্থীদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করে। অথচ এই মডেলটি নারীদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দেয়, পুরুষদের সাথে সমতার রাস্তা তৈরি করে। সর্বোপরি বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সকলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে”।

আদনা ইব্রাহিম (ADNA IBRAHIM) (একজন পথভ্রষ্ট);

“দুর্ভাগ্যবশত এটা পরিষ্কার যে, মুসলিমরা এই আধুনিক সমাজে একত্রিত হয়ে বসবাস করার মতো কোনো প্রকৃত যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারেনি। অসংখ্য মসজিদ থেকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য বক্তব্য, বৈষম্য, অহংকার ও স্বজাতি কেন্দ্রিক মনোভাব পরিস্ফুটিত হয় যা হুমকি স্বরূপ”।

উপস্থাপকঃ

ফ্রান্স রাজনীতিবিদরা ইসলামের প্রতিকূলে অবস্থানের দৃষ্টান্ত কায়েমের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

জেরাল্ড ডোরম্যান (Gerald Dorman); প্রাক্তন ঘৃণ্য ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঃ

“মিস্টার লোবান তার ভোট বৃদ্ধির কৌশলস্বরূপ ইসলামের প্রতি কিছুটা নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। আপনাদের আরেকটু ভাবা দরকার। আমার মনে হচ্ছে আপনারা ইসলামের প্রতি যথেষ্ট কঠোর নন। আমি আপনার এবং আপনার দলীয় ব্যক্তিবর্গ তথা মিস্টার রাফি, মিসেস মারিশাল লোবান এবং মিস্টার কোলার প্রমুখ ব্যক্তিদের বক্তব্যে বিশাল পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি। আপনারা ধর্মীয় সহিংসতা দমনে আইন প্রণয়ন করবেন না এবং আপনারা দাবি করছেন ইসলাম কোনো সমস্যা নয়”।

উপস্থাপকঃ

এই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে, এই নীতির বিরোধিতাকারীদের দমনের জন্য সহিংসতার ও কারাদণ্ডের আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। এরপরই ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পূর্ণ ঘোষণা স্বরূপ ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান রক্ষার্থে যখন গোটা মুসলিম উম্মাহ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে তখন পশ্চিমা কাফির পরাশক্তিরা হতভম্ব হয়ে পড়ে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রহমত ও পবিত্রতার নবী। বিশ্বজগতের বিশালতায় তিনি সর্বদা মহান হয়ে থাকবেন। হ্যাঁ, তোমাদের অজ্ঞতা-মূর্খতা থেকে চিরতরে মহান তিনি। আমাদের পথ প্রদর্শক ও পথ নির্দেশক হয়ে তিনি সুউচ্চ আসমানে আলোর রবি হয়ে জ্বলজ্বল করবেন। সুতরাং সূর্য কিংবা তারকাকে ঘিরে তোমার মূর্খতা, নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি ঝেড়ে ফেলো। সূর্যের উজ্জ্বল আলোকে অন্ধরা যতই অস্বীকার করুক না কেন, তা চির উজ্জ্বল হয়েই থাকবে। বসন্তের মতো মৃদু হেসে সুবাতাস-সুঘ্রাণ ছড়িয়ে নক্ষত্র হয়ে পরিভ্রমণ করবে।

তাঁর নাম বারবার উচ্চারণের অনুভূতি পুষ্প-মধুপানের মিষ্টতার চেয়েও অধিক। বিশ্বভ্রম্মান্ডের বিশালতায় তার স্মৃতি সর্বদা সুবাসিত হয়ে থাকবে।

হে দুশ্চরিত্র নিন্দুকেরা, হে মূর্খ, লাঞ্ছিত, অস্বীকারকারী গর্ধবেরা, তোমরা সর্বদা কলঙ্কিত, অপমানিত থেকে যাবে। এটাতো সামান্য বৃষ্টি। এরপর আসছে তোমাদের বিরুদ্ধে শিলাবৃষ্টি। আমার কী অজুহাত থাকতে পারে তোমাদের জন্য! আমি তো একজন লক্ষ্যভেদী তীরন্দাজ। দুরন্ত গোলামের মতো আমি তোমাদের ঘাড়ে বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ করতেই থাকবো।

আমি মিথ্যার উপর অনড় মূর্খদেরকে উমরের মতো চাবুকাঘাত করেই যাব এবং তাদের নিদারুণ যন্ত্রণাভোগ করাবো। আমার অন্তরে তাদের জন্য যা আছে তা আরও অধিক ভয়াবহ।

***

 

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 + eleven =

x

Check Also

Bengali Translation || মুজাহিদ নেতা শায়খ আবু মুহাম্মাদ সালেহ আল-আরুরী রহিমাহুল্লাহ’র শাহাদাত প্রসঙ্গে শোকবার্তা

اداره النصر আন নাসর মিডিয়া An Nasr Media پیش کرتے ہیں পরিবেশিত Presents بنگالی ترجمہ ...