সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / নির্বাচিত / পোষ্ট বাংলা অনুবাদ || Why did we reject Pakistan ।। কেন আমরা পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করেছি?

পোষ্ট বাংলা অনুবাদ || Why did we reject Pakistan ।। কেন আমরা পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করেছি?


لماذا أنكرنا باكستان ؟

কেন আমরা পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করেছি ?

ہم نے پاکستان کا انکر کیوں کیا ؟

Why did we reject Pakistan

بسم الله الرحمان الرحيم

Al-Hurr


পাকিস্তানের মুসলিমগণের প্রতি শায়খ উসামা বিন লাদেন (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) -এর বার্তা

তারিখ: জুমাদাস-সানী ১৪৩০ হিজরী

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:

ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّٰغُوتِ فَقَٰتِلُوٓا۟ أَوْلِيَآءَ ٱلشَّيْطَٰنِ ۖ إِنَّ كَيْدَ ٱلشَّيْطَٰنِ كَانَ ضَعِيفًا
অর্থ: যাঁরা মু’মিন তাঁরা আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় লড়াই করে । আর যারা কাফের তারা ত্বগুতের রাস্তায় লড়াই করে সুতরাং তোমরা শয়তানের সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করো । নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত অনেক দুর্বল । (সূরা নিসা : ৭৬)


পাকিস্তান সরকার এবং তার প্রশাসন বাতিল কাজে শয়তানের সাহায্যকারী । এই পবিত্র আয়াতে ঐসকল লোকদের ঐ প্রশ্নেরও উত্তর রয়েছে যারা এই প্রশ্ন করে যে, “মুজাহিদগণ কিভাবে পাকিস্তান প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অথচ এটি একটি মুসলিম প্রশাসন!?” । যদিও প্রত্যেক লোক জানে যে, পাকিস্তানী প্রশাসন আমেরিকার দাবি এবং উদ্দেশ্য পূরণ করা জন্য ক্ষমতায় এসেছে । আর এই জন্যই মুজাহিদগণ যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন । তারপর এই নীতিও একটি কারণ যে, “যখন কোন মুসলিম কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করে তখন সে তার এই কাজের জন্য ইসলাম থেকে খারিজ (বের) হয়ে কাফের এবং মুরতাদ হয়ে যায় । কেননা, যেমনভাবে ওযু ভঙ্গের কারণ রয়েছে এমনিভাবে ঈমান ভঙ্গেরও কারণ রয়েছে । যার কারণে ঈমান থেকে হাত ধোয়ে বসে । আর ইসলাম থেকে খারিজ (বের) হওয়ার কারণগুলোর মধ্য থেকে একটি কারণ হল “কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব এবং ইসলামের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা” । আজ পাকিস্তানী প্রশাসনের অবস্থা একদম এমনি । পাকিস্তানী প্রশাসন এবং আমেরিকা একই খন্দকে দাঁড়িয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত । যাঁরা নিজেদেরকে মু’মিন বলে দাবি করেন তাঁদের উচিত ওদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই করা ।

তারপর রয়েছে, সেই সব মুসলিম যারা বলে: “প্রশাসনের মুসলিমদেরকে হত্যা করা একটি দুর্বলতার কারণে” তাদের এই দাবি মিথ্যা, অযুক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য । এই কথার প্রসারতা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, সরকারের চেলারাও এই কথা দালিল হিসেবে ব্যবহার করে এবং প্রচার করে । পশ্চিমাদের থেকে বেঁচে থাকা মুসলিমদেরকে হত্যা করতে পাকিস্তান বাধ্য নয় তো আমেরিকা হিন্দুস্তানের মাধ্যমে পাকিস্তানে যুদ্ধ শুরু করে দিবে । আফসোসের কথা তো এটা যে, অধিকাংশ লোক না জেনে-বুঝে এই ধরণের কথা বলে থাকে । এটা তো এমন হয়ে গেল যে, “কোন জালেম লোক আপনাকে ধমক দিয়ে বলল: তুই তর্ ভাইদেরকে এবং সন্তানদেরকে হত্যা কর্ নয় তো তকে আমি হত্যা করে ফেলব !” আপনি আপনার অন্তরকে জিজ্ঞাসা করে বলুন তো, আপনি কি নিজেকে বাঁচাতে নিজ ভাইদেরকে এবং সন্তানদেরকে হত্যা করবেন নাকি ঐ জালেমের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন ? আর যদি আমরা এটা অনুমান করে নেই যে, “জালেমের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি কোন লোকের নেই” তাহলে এটা তো দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া । যে লোকের জীবন ঝুলে আছে এর মাধ্যমে তা বৈধ হবে না যে, সে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য কোন নিরপরাধীকে হত্যা করে ফেলবে ।

তারপর রয়েছে, ইকরাহ অর্থাৎ এই বাধ্য হওয়ার দাবি আর এই গুজবের মাধ্যমে ধোঁকা দেওয়া, তো যদি আমরা এই দাবিকে মেনে নেই তাহলে এর পরিণাম এটা হয় যে, আমরা মুরতাদ ইমরানকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিবো আর সে আল্লাহর দ্বীনকে মুছে দিয়ে তার এবং তার মালিক আমেরিকার মত প্রতিষ্ঠা করবে । নিঃসন্দেহে এই বিষয়টি আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য বিরোধী এবং আল্লাহর হুকুম বিরোধী । যিনি কুরআন মাজিদে এই ফয়সালা দিয়ে দিয়েছেন যে,


وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِ ۚ
অর্থ: আর তোমরা ওদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করতে থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত না ফিতনা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং দ্বীন পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায় । (সূরা আনফাল : ৩৯)


মুজাহিদগণের মাহফিলে হাফেয মুস্তফা আব্দুল কারীম (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) এর একটি দরস (পাঠ দান) :

কেন আমরা পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করেছি ?

অতিদয়ালু ও চিরদয়াময় আল্লাহ তা’আলার নামে শুরু করছি । সমস্ত প্রসংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য সাব্যস্ত করছি যিনি এক এবং তাঁর কোন শরিক নেই । সলাত ও সালাম বর্ষিত হউক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যাঁর পর আর কোন নবী নেই । হামদ ও সানার পর ।

আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা পবিত্র কালামে মাজিদে এবং ফুরক্বনুল হামিদে বলেছেন:


أعوذ بالله من الشيطان الرجيم
بسم الله الرحمان الرحيم

فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَا ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ


আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে এই জিহাদের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন । এটা আমাদের উপর তাঁর বিশাল বড় অনুগ্রহ । কেননা, এমন অনেক লোক রয়েছেন যারা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে আসতে চায় কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আনেন না ! আবার এমনও লোক আছে যাদের অন্তরে জিহাদের তামান্না (ইচ্ছা)ও নেই ! আবার এমনও লোক রয়েছে যারা জিহাদ ঠিকই করে কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে করে না ! আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই রাস্তার জন্য কবুল করেছেন, অবশ্যই এটা তাঁর অনুগ্রহ ; এর চেয়েও বড় অনুগ্রহ তিনি আমাদেরকে দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে জিহাদ করাচ্ছেন । আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সেই রাস্তা দেখিয়েছেন যেখানে শুধু কামিয়াবী আর কামিয়াবী । দুনিয়াতেও কামিয়াবী আখিরাতেও কামিয়াবী । কেননা এই রাস্তায় চলা অনেক কঠিন ; কিন্তু বাকী রাস্তা গুলোতে চলা বেশ সহজ হলেও অনেক দূর চলার পরও অনুভব করা যায় না যে আল্লাহ তা’আলার নুসরত (সাহায্য) আসবে; কিন্তু আমাদের রাস্তাটি যদিও কঠিন কিন্তু আল্লাহ তা’আলার নুসরত (সাহায্য) প্রতিদিন দেখা যায় এবং আমাদের মাথায় সর্বদা এটা চলতে থাকে যে “এই বুঝি আল্লাহ তা’আলা নুসরত পাঠাবেন!” আর তিনি পাঠানোও । কিন্তু কখনও কখনও আমরা তা অনুভব করি আবার কখনও কখনও আমরা তা অনুভব করতে পারি না । এই রাস্তায় আল্লাহ তা’আলার অনেক নুসরত রয়েছে । আল্লাহ তা’আলার এই নুসরতসমূহ ঐ সকল লোকদের জন্যই যাদের অন্তরে এখলাস রয়েছে এবং যাদের রাস্তা সহিহ । এই সকল লোকদেরকে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা বিভিন্ন দিক থেকে দ্রুত নুসরত দিয়ে দেন । তাই নয় কি ? মানুষ যদি মনোযোগ সহকারে এই রাস্তায় চলে তবে প্রতি কদমে কদমে আল্লাহ তা’আলার নুসরত মিলবে ।

প্রথমে আমাদের বুঝা জরুরী যে, “আমরা কেন এই রাস্তাকে নির্বাচন করেছি অর্থাৎ আমরা কেন জিহাদ করাকে নির্বাচন করেছি?” এই রাস্তাকে আমরা এই জন্য নির্বাচন করেছি বা বাছাই করেছি যে এটা আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা এর হুকুম এবং ইবাদত । কিন্তু কখনও কখনও কোন ইবাদতও মানুষের জন্য জুলুম হয়ে যায় । সেই সকল ইবাদত জুলুম হয়ে যায় যার মধ্যে শিরক থাকে । অর্থাৎ যে ইবাদত শরীআতের সীমানা থেকে বের হয়ে করা হয় ওটা মানুষের জন্য জুলুম হয়ে যায় । আবার যে ইবাদত শরিআতের ভিতরে থেকে এবং শরিআতের হুকুম অনুযায়ী করা হয় আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা তাকে প্রতিদানও দেন এবং নুসরতও করেন । দুনিয়াতেও নুসরত করবেন এবং আখিরাতেও নুসরত করবেন ।

আপনাদের মনে মধ্যে এমন উদয় হতে পারে যে , “আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে কি আর নুসরত করছেন অথবা এটা তো আল্লাহর নুসরত নয়!” । কিন্তু, হে আমার ভাই! বাস্তবিক ভাবে হয়তো নুসরতকে নুসরত মনে হচ্ছে না কিন্তু কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বুঝে আসে যে “আরে ওটা তো আল্লাহর নুসরত ছিল!”

আমরা অনেক বার অবলোকন করেছি আর মনে মনে ভেবেছি : আরে এটা তো অনেক কঠিন এবং এর মধ্যে নুসরত নেই ; কিন্তু কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বুঝে এসেছে যে আরে ওটা তো আল্লাহর নুসরত ছিল ! এমনটা তার সাথে হয় যে আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ় ।

আবার জিহাদ করা সহজ কেননা, লোকেরা তো অনেক কিছুকে জিহাদ বানিয়ে দিয়েছে ! কিন্তু আসল জিহাদ (কিতালুল কুফ্ফার) এর বাস্তবতা হল কঠিন । এই জিহাদ শরিয়াতের সীমানের মধ্যে থেকে করা আরোও বেশি কঠিন । কেননা, আমরা যখন শরিয়াতের সীমানায় থেকে জিহাদ করব তখন শুধু এক কাফেরের বিরুদ্ধে লড়াই করা সীমাবদ্ধ থাকে না বরং ত্বগুতদের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয় , কিছু নামধারী মুসলিমের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয় । তাই নয় কি ? এই জন্যই আর আপনারা তো জানেনই যে, হিন্দুস্তান (ভারত) আমাদের জন্য তত বড় দুশমন নয় যত বড় দুশমন পাকিস্তান। হিন্দুস্তান আমাদের তেমন বেশি ক্ষতি করতে পারেনি যত বেশি ক্ষতি পাকিস্তান করেছে ।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুরতাদ ইমরান খান এর বক্তব্য:
আজ আমি আপনাদেরকে একটি কথা বলে দিচ্ছি যে, যদি কেউ পাকিস্তান থেকে হিন্দুস্তানে গিয়ে হতে পারে কাশ্মীরে গিয়ে যুদ্ধ করবে বা জিহাদ করবে তবে সে সর্ব প্রথম জুলুম করবে কাশ্মীরীদেরকে । যদি কেউ এখান থেকে কোন ভাবে কিছু করার চেষ্টা করে তবে আমি বলি দিচ্ছি যে সে পাকিস্তানেরও দুশমন এবং কাশ্মীরীদেরও দুশমন ।

আলহামদুলিল্লাহ ! আমাদের অধিকাংশ মুজাহিদ ভাই বুঝেছেন যে, এই পাকিস্তান জিহাদের জন্য কিছুই করবে না বরং বিরোধীতাই করবে । তবে কিছু ভাই এখনও বুঝেননি । তারাও খুব দ্রুত অনুধাবন করতে পারবেন কিন্তু তাদের কাছে আমাদের দাওয়াত পরিপূর্ণ ভাবে পৌঁছাতে হবে । এক তো দাওয়াত পৌঁছাতে হবে আর দুই হল উক্ত ভাইয়ের দাওয়াত কবুল করার ইচ্ছাও থাকতে হবে । কেননা, এই কুরআন হুদাল্লিল মুত্তাক্বীন অর্থাৎ মুত্তাক্বীন লোকদের জন্য হেদায়েত । এখন আমরা বলতে পারি যে, তাহলে কি কুরআন কাফেরদের জন্য হেদায়াত নয় ? আবার আমরা তো এও বলে থাকি যে, কুরআন সকল মানুষের জন্য হেদায়েত । আসলে হুদাল্লিল মুত্তাক্বীন এর অর্থ হচ্ছে : যারা হক্বকে শোনে-বোঝে-কবুল করতে চায় তাদের জন্য কুরআন হেদায়েত । আর এই জন্যেই আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা এই আন্দোলনকে দাঁড় করিয়েছেন । এই জিহাদকে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা এই জন্যও দাঁড় করিয়েছেন যাতে করে মুহসিনীন এবং গাদ্দারদেরকে পৃথক করা যার । কারা ইসলামের বন্ধু আর কারা ইসলামের শত্রু তাদেরকে পৃথক করার জন্যই এই জিহাদকে বাছাই করা হয়েছে । যখন এই জিহাদ শুরু হল তখন বিভিন্ন ধরণের গুজব শুরু হয়ে গেল । কুফ্ফারও এত গুজব ছড়ায়নি যত বেশি এই পাকিস্তান সরকার, প্রশাসন ও নামধারী আলেমরা ছড়িয়েছে । কখনও বলেছে এটা খারিজিদের গ্রুপ আবার কখনও অন্য কিছু কিন্তু অধিকাংশ সময় মুজাহিদীন বলেই সম্বোধন করত ।

যখন মানুষের সামনে কোন নতুন দাওয়াত চলে আসে মূলত তা নতুন নয় কিন্তু মানুষ সেটাকে নতুন দাওয়াত হিসেবেই গ্রহণ করে ফেলল এবং নতুন কিছু দেখে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল : আরে এটা কি এসে গেল ? মানুষের তো জানাই নেই সঠিক ইসলাম সম্পর্কে । মানুষের মাথায় তো এটা ছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তান আছে ততক্ষণ পর্যন্ত জিহাদ আছে । যখন পাকিস্তান খতম হয়ে যাবে তখন জিহাদও খতম হয়ে যাবে । (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) । এমনটাই কি দেমাগে ছিল না ? এই দেমাগকে তো ৭০ বৎসর যাবৎ ওয়াশ করা হচ্ছে । আর বলা হচ্ছে : পাকিস্তান হল এটা, পাকিস্তান হল সেটা, পাকিস্তান এমন, পাকিস্তান তেমন ইত্যাদি । সাধারণ মানুষের কাছে পাকিস্তানকে নিয়ে যে ভ্রান্তি রয়েছে তার একটি কারণ হল : তাদের সামনে পাকিস্তানকে একটি ইসলামী হুকুমত হিসেবে মায়াজাল দেখানো হয়েছে । অর্থাৎ তাদেরকে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান একটি ইসলামী রাষ্ট্র , এখানে খেলাফত রয়েছে, নওয়াজ শরীফ বা ইমরান খানকে খলিফা হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তাদের গুদ্দাহীন কাজ গুলোকে বড় করে তুলে ধরা হয়েছে । কিন্তু কারো জানা ছিল না যে, পাকিস্তানের যে আঈন-কানুন গুলো রয়েছে সেগুলো কোন আঈন-কানুন !


মুফতী নাজিমুদ্দিন শামযাই ( আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন)
তাকে পাকিস্তানী বাহিনী ২০০৪ সালে শহীদ করেছে ।
পাকিস্তানের এই স্বীকৃত আঈন-কানুন বাস্তবিক ভাবে আমাদেরকে কি দিয়েছে ? সংবিধানের ভিতরে তো খুব সুন্দর সুন্দর শব্দে সব কিছু আছে কিন্তু এর উদাহরণ তো এমন যেমন ভাবে কোন এক ফার্সি শায়খ বলেছেন যে, ওয়েজের বচন-ভঙ্গি, কথা-বার্তা তো হৃদয় ছোঁয়ে যায় কিন্তু তার চোখের মধ্যে সেই সিগ্ধ ভালবাসা নেই এবং চেহারার মধ্যে সেই ঈমানী নূর নেই । আজ সেই সিগ্ধ ভালবাসা এবং ঈমানী নূর কোথায় ? পাকিস্তানের এই স্বীকৃত আঈন-কানুন বাস্তবিক ভাবে আমাদেরকে কি দিয়েছে ? পাকিস্তানের দারিদ্রতা কি খতম হয়েছে ? এখানের গরীবদের কি অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে ? এখানে ইসলাম কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ? আর আমাদের উপর যে মুনাফিক শাসন করে যাচ্ছে এর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম আমাদেরকে সশস্ত্র জিহাদ করতে হবে । আমি কলমের জিহাদের কথা বলছি না । আমি জবানের জিহাদের কথাও বলছি না । এগুলো আমরা অনেক করেছি । কলমের জিহাদ অনেক করেছি । জবানের জিহাদও অনেক করেছি । এই ব্যধির চিকিৎসা জিহাদ বৈ আর কিছুই নয় । যদি যুবকদের মাঝে শক্তি থাকে তবে এদেরকে হত্যা করো । এই জুলুমের ফল পেঁকে গিয়েছে এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার সময়ও হয়ে গিয়েছে । যদি জিহাদের শক্তি আপনাদের থাকে তবে আপনারা দাঁড়িয়ে যান সামনের দিনগুলো আপনাদেরই হবে এবং সামনের দিনগুলো আপনাকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে । আর যদি বলা হয় জিহাদের জন্য আমাদের শক্তি নেই এবং সশস্ত্র জিহাদের কথা না বলা হয় তবে কিছুই হবে না* হে আমার ভাই ।

সাধারণ মানুষ মায়াজালের মধ্যে পড়ে ছিলেন আর এই জন্যই যখন তারা প্রথম প্রথম এটা শোনেছেন যে, “শরী’আতে শাহাদাত আজাদ জিহাদ” তখন তারা আশ্চর্য হয়ে গিয়েছেন । কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলার অনুগ্রহে এখন মানুষ বুঝতে সক্ষম হয়েছেন “আজাদ জিহাদের অর্থ কি? , কেন পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল?” এখন মানুষ জানে এবং বুঝে । আপনি যদি এমন কোন বাচ্চাকেও জিজ্ঞাস করেন যার কাছে জিহাদের কিছু জ্ঞান রয়েছে সে আপনাকে বলে দিবে “কেন পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে?”

” কেন আমরা পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যার করেছি ” এর অনেক গুলো কারণ আপনাদেরকে বলেছি এরপর আবারও বলছি। প্রথম বিষয় তো হল এটা আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলার হুকুম ।
আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা বলেছেন :
فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَا ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: যে কেউ ত্বগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা এর প্রতি ঈমান আনবে, নিশ্চয় সে এমন মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরবে, যা ভেঙ্গে যাওয়ার নয় । আর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ । (সূরা বাকারা : ২৫৬)

যদি কোন মানুষ কোন সমস্যায় পতিত হয় তবে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা তা থেকে উত্তরণের উপায় বলে দিয়েছেন। সেই উপায়টি হচ্ছে: যে কেউ ত্বগুতকে (ত্বগুত বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যে শরী’আত ব্যতিত আদেশ দেয়; হউক সে মুসলিম বা কাফের । এই সঙ্ঘা সকলে মেনে নিয়েছেন ) অস্বীকার (বর্জন) করেছে فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّٰغُوتِ অর্থাৎ যে ত্বগুতকে ত্বগুত বলেছে এটাই অস্বীকার করার অর্থ; وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ এবং আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলার প্রতি ঈমান এনেছে فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ সে একটি মজবুত হাতল বা রশি আঁকড়ে ধরল لَا ٱنفِصَامَ لَهَا যা ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাওয়ার নয় ।

এমন নয় যে, প্রথমে আপনাকে জিহাদের মাঠে পদার্পণ করিয়ে মাঝ পথে ছেড়ে চলে যাবে । আরে আল্লাহ তা’আলার রশি কি পাকিস্তানের ত্বগুত প্রশাসনের রশির মত যা মাকড়শার জালের চেয়েও চিকন যখন তখন ছিঁড়ে যায় ! আমি তো ত্বগুত প্রশাসনের রশি আছে বলে ফেলেছি ! আসলে তো এদের কোন রশিই নেই । আরে আল্লাহ তা’আলার রশি তো এমন মজবুত রশি তা কখনও ছিঁড়ে যাবার নয় । আমাদের উচিত এই মজবুত রশিকে আঁকড়ে ধরা । এই রশিকে আঁখড়ে ধরার ২টি ধাপ : ১/ ত্বগুতদের প্রত্যাখ্যান করা ২/ আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলার প্রতি ঈমান আনা । এটাই لا إله إلا الله -এর অর্থ । لا إله (কোন সত্য ইলাহ নেই) -এর অর্থ হল কুফর বিত-ত্বগুত আর إلا الله ( আল্লাহ ছাড়া) অর্থ হল ঈমান বিল্লাহ । ঈমান বিল্লাহ -এর অর্থ হল আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলার উপর ভরসা করা । যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:
أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ .
অর্থ: জেনে রাখ/ শোনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটে । (সূরা বাকারা : ২১৪)
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন সাহায্য নিকটে তো এর উপর দৃঢ় বিশ্বাস করা উচিত । যদি বলা ত্বগুতকে প্রত্যাখ্যান করার পরে আপনাকে বিজয় ও সাহায্য দেয়া হবে তাহলে আমাদের উচিত এই ত্বগুতদেরকে অস্বীকার করা ।
এক নাম্বার কারণ এটা আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা-এর হুকুম যে ত্বগুতকে প্রত্যাখ্যান কর। দুই নাম্বার কারণ ওদেরকে প্রত্যাখ্যান এই কারণেও করা হয় যে তারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে গিয়েছে । কেননা, হক্ব-বাতিলের এই লড়াইয়ে তারা বাতিলকে সঙ্গ দিয়েছে । আর ইকটু-আধটু সঙ্গ দিয়েছে তা নয় বরং এমন সঙ্গ দিয়েছে যে ইমারতে ইসলামীয়া আফগানিস্তানের পতন ঘটেছে । ৬০০ জামাতের মুজাহিদীনকে আমেরিকার হাতে তুলো দিয়েছে । আমেরিকাকে খুশি করার জন্য সমানে নিজ রাষ্ট্রের মুসলিমদেরকে হত্যা করেছে । আমাদেরকে না তারা পছন্দ করে না কিন্তু দেশকে তো ভালবাসবে কিন্তু তারা তো নিজ দেশকেও ভালবাসে না । নিজ দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে , অকেজো করে দিয়েছে, আমাদের কাছে হয়তো এমন মনে হয় যে এখানে ইমরান খানের হুকুমত চলছে কিন্তু আসলে তো আমেরিকার হোয়াইট হাউজের হুকুমত চলছে । এরা ঐসকল লোকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে যাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা নিষেধ করেছেন ।
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ ٱلْيَهُودَ وَٱلنَّصَٰرَىٰٓ أَوْلِيَآءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُۥ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না । ওরা একে অন্যের বন্ধু । আর তোমাদের মধ্যে যে ওদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে ওদেরই মধ্যে গণ্য হবে । নিশ্চয় আল্লাহ জালেমদের হেদায়াত দান করেন না । (সূরা মায়েদা : ৫১)
মুফাসসিরীন بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ এর সম্পর্কে বলেছেন: যদিও বাহ্যিক ভাবে আপনার কাছে মনে হচ্ছে ইহুদী ও নাসারাদের মাঝে শত্রুতা রয়েছে কিন্তু যখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন একে অপরে একসাথে হয়ে যায় । আর আমরা তো দেখতেও পাচ্ছি যে মুজাহিদগণের বিরুদ্ধে ইহুদী, নাসারা, মুশরিক এবং যা আছে সকলে এক হয়ে লড়াই করছে ।
মুফাসসিরীনগণ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُۥ مِنْهُمْ এর সম্পর্কে বলেছেন : যে ইহুদী-নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তারা ওদের ধর্মের অনুসারী।
অর্থাৎ সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে ইহুদী-নাসারাদের দীনকে গ্রহণ করেছে ।
কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করার দুইটি পদ্ধতি রয়েছে । ১/ কাফেদের সাথে ভালো ব্যবহার করা যাতে তাদেরকে দাওয়াত দেয়া যায় এবং ২/ কাফেরদেরকে খুশী করার জন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। পাকিস্তান ত্বগুত সরকার ও প্রশাসন দ্বিতীয়টিই গ্রহণ করেছে । সকল ওলামায়ে কেরামের ইজমা (ঐক্যমত) হল: হক-বাতিলের লড়াইয়ে যে বাতিলকে সাহায্য করবে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে । পাকিস্তান তো এমনটাই করেছে । কেননা, তারা ইসলামী ইমারত আফগানিস্তানের পতনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ; পাকিস্তান তো আমেরিকার চাইতেও বেশি মুসলিমদের ক্ষতি করেছে । পাকিস্তান থেকে বিমান উড়ে আফগানিস্তানে বোমা হামলা করেছে । শুধু তাই নয় , তারা নিজের দেশের মা-বোন-মেয়েদেরকে আমেরিকার ইশারায় তাদের কাছে তুলে দিয়েছে ! ওরা মুসলিম বোনদেরকেও সমানে হত্যা করেছে । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করছে । পাকিস্তানের এই সামরিক বাহিনী এত নিকৃষ্ট হওয়ার পরও কীভাবে তারা আমাদের রক্ষাকর্তা হতে পারে ?

একজন সাংবাদিক পাকিস্তান জামায়েতে ইসলামের আমীর সাইয়্যেদ আনোয়ার হোসেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-কে প্রশ্ন করছেন :

সাংবাদিক: (হযরত) এই যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যারা তেহরিকে তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করছে, আমরা কি তাদেরকে শহীদ হিসেবে মনে করতে পারি ?

সাইয়্যেদ আনোয়ার হোসেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-এর উত্তর : দেখুন, আমি ইকটু এগিয়ে কথাটা বলতে চাই যে, পাকিস্তানের ভিতর যখন কোন আমেরিকান সৈন্য লড়াই করে মৃত্যুবরণ করে সে আমাদের কাছে শহীদ নয় । এখন যারা আমেরিকান বাহিনীকে সঙ্গ দেয়, আমেরিকার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে, আমেরিকার আঈন-কানুন অনুযায়ী কাজ করে ইত্যাদি । আমেরিকান সৈন্য লড়াই করে মৃত্যুবরণ করে সে যদি শহীদ নয় তবে তাদেরকে যারা সব দিক থেকে সাহায্য করে তারা কিভাবে শহীদ হতে পারে ? এই প্রশ্ন তো আমার দেমাগেও আছে ! কোন এক মুফতীর অপেক্ষায় আছি প্রশ্ন করব বলে, আজ তো আপনার সাথে সাক্ষাত তো আপনার কাছ থেকেই জেনে নেই যে, ওরা কীভাবে শহীদ হবে ?


মানুষকে বুঝতে হবে । পাকিস্তান বাহিনী সমানে মুসলিমদের হত্যা করছে, এমনকি নিজ দেশের মুসলিমদেরকে সমানে হত্যা করছে, নিজ দেশের লোকজনকে বাছাই করে করে হত্যা করছে, নিজ দেশের লোকজনকে বাছাই করে করে আমেরিকার কাছে তুলে দিচ্ছে, ওলামাদেরকে হত্যা করছে এর পরও কিভাবে আমরা ভাবতে পারি এরা ন্যায়ের উপর আছে ? এরা এমন এক গুণ্ডা বাহিনী তৈরি করে রেখেছে যখনই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলবে তখনই তাকে হত্যা করা হয়-শহীদ করে দেওয়া হয় । এরা নিজ দেশের রক্ষা করে না, এরা নিজ দেশের লোকদেরকে রক্ষা করে না, নিজ দেশের লোকদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই , যেই তাদের বিরুদ্ধে বলে তাকে হত্যা করা হয় । সাইয়্যেদ সেলিম শাহজাদ, উনি সালফি ছিলেন তারপরও তাকে হত্যা হত্যা করা হয়েছে । আমাদের জানামতে হিদুস্তানে তো ব্যস এক বাবরী মসজিদকে শহীদ করা হয়েছে আরও হতে পারে কিন্তু পাকিস্তানে যে পরিমাণ মসজিদকে শহীদ করা হয়ে তা অবিস্মরনিয় । এমনি ভাবে অগণিত মাদ্রাসাকে কুরআন সহ জ্বালীয়ে দেওয়া হয়েছে । মাদ্রাস ও মসজিদ সমূহের উপর বোমা নিক্ষেপ করে । এমন তো হিন্দুস্তানেও করা হয়নি । অথচ পাকিস্তান স্বইচ্ছায় আমেরিকাকে পাকিস্তানে এনে নিজ দেশকে ওদের হাতে তুলে দিয়েছে । এবার বলুন এই ধরণের লোকেরা কীভাবে আমাদের রক্ষাকর্তা হতে পারে ? আর এটা তো হওয়ারও নয় । আল্লাহ তা’আলাই তো বলে দিয়েছেন এরা ইহুদি-নাসারাদের অন্তর্ভূক্ত । যখন আমাদের লড়াই ইহুদি-নাসারাদেরই বিরুদ্ধে তখন এরা কিভাবে আমাদের রক্ষাকর্তা হতে পারে এবং আমাদের ভালো চাইতে পারে ?তারা জিহাদকে সন্ত্রাস বলেছে, তারা মুজাহিদীনদের জঙ্গি বলেছে, মুজাহিদীনকে শহীদ করছে, শায়খ উসামা (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) কে হত্যা ও আমেরিকার হাতে তুলে দিতে সাহায্য করেছে, আল-কায়দার ৬০০ মুজাহিদকে আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে, পাকিস্তানের ক্যাম্পে মুজাহিদীনকে বন্দী করছে, যখন কাশ্মীরের জিহাদ শুরুরদিকে ছিল তখনও আমেরিকার ইশারায় ওই ক্যাম্প গুলো বন্ধ করেছে , ৯০ হাজার সৈন্য হিন্দুস্তানের সামনে ঝুঁকে গিয়েছে । এরা কিভাবে আমাদেরকে মদ করবে বলুন ? এরা আমাদের হেফাজতকারী হতে পারে না । একদিক দিয়ে এরা মুজাহিদগণকে আমেরিকার কাছে তুলে দিচ্ছে অপর দিকে মুজাহিদদের রক্ষাকর্তা হয়ে আছে । চিন্তার বিষয়, কেন এরা রক্ষাকর্তা হয়ে আছে !?


পাকিস্তানী এক আর্মি কোন এক বিদেশী সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বলছে:
আমরা (আমেরিকা এবং পাকিস্তান) ঐক্যের মাঝে আছি । আমরা একসঙ্গে বৈশ্বিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি । আমরা এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়েছি । আমরা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে চলছি । আমরা অধিকাংশকে গ্রেফতার করেছি । কিছু ছাড়া প্রায় অধিকাংশকে হত্যা করেছি । আমাদের এই বলিদান বিশ্বের উপকার্তে ।

এর উত্তর হল, যখন এদের প্রয়োজন পড়ে তখন আপনাকে সঙ্গ দিবে এবং আপনাকে মুজাহিদ বলে । যখনই আপনার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে তখনই আপনাকে সন্ত্রাসী বলবে আখ্যায়িত করে দিবে , আপনাকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে দিবে । যখন ওদের আপনাকে প্রয়োজন তখন দু’চার ক্লাসিনকোভ দিয়ে সাহায্য করবে প্রয়োজন ফুরোতেই আপনাকে নিক্ষেপ করবে । আপনাকে ময়দানে নামিয়ে মাঝ পথে ছেড়ে দিবে এটাই হল এদের রশি । কিন্তু আল্লাহ তা’লার যে রশি আছে যা তাওক্কালের রশি, যা ঈমানের রশি তা কখনও ছিঁড়ে যাবার নয় । জিহাদের মাঝ পথে আপনাকে ছেড়ে আল্লাহ চলে যাবেন না ।

যদি তারা ঈমানের ভিত্তির উপর আমাদেরকে সাহায্য করত তবে এদের রশি ২০০১, ২০০৮, ২০১১, ২০১৭ তে খতম হতো না আর কখনও ছিঁড়েও যেত না কেননা, ঈমানের রশি অনেক মজবুত হয়ে থাকে । ঈমানের রশি মুমিনের কাছে নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয় হয়ে থাকে । তাই কি নয় ?

হযরত আলী (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন) -এর উপদেশ : যদি তোমার জান এবং মাল ঝুঁকির মধ্যে থাকে তবে মাল দিয়ে জানকে বাঁচিয়ে নিও । আবার যদি তোমার জান এবং ঈমান ঝুঁকির মাঝে থাকে তবে জান দিয়ে ঈমানকে বাঁচাও ।
কেননা, আখিরাতে তো জান পুনরায় আবার পাওয়া যাবে কিন্তু ঈমান পাওয়া যাবে না ।
যদি এই সম্পর্কের ভিত্তি ঈমান হতো, যদি এই সাহায্য ঈমানের ভিত্তিতে হতো তবে তা কখনও ভেঙ্গে যেত না, আমেরিকার বলার পরও এই সম্পর্কে ভেঙ্গে যেত না । আসলে এটা তো প্রয়োজন পূরণের সম্পর্কে ছিল, প্রয়োজন পূরণের সাহায্য ছিল । এ কারণেই যখনই কোন ত্বগুত বলে যে, এটা কর তখনই এরা তা ছঠাং করে সম্পন্ন করে ফেলে । আর মুজাহিদগণকে নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে দেয় । এরা যদি গাদ্দারি না করতো তবে হয় তো কাশ্মীরে এবং আফগানিস্থানে ইসলাম আজ প্রতিষ্ঠিত থাকত ।

অনেকে মনে করেন যে কোন রাষ্ট্র ছাড়া জিহাদ করা যায় না । কিন্তু সত্য তো এটা যে, রাষ্ট্র ছাড়াই জিহাদ চলে । যে জিহাদ গুলো ত্বগুতের সাথে মিলে করা হয়েছে সেখানে না নুসরত আসে আর না সফলতা আসে । কিন্তু যে জিহাদ ত্বগুত থেকে আজাদ হয় সে জিহাদে আল্লাহ তা’আলা নুসরতও করেন আবার সফলতাও দেন । উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সোমালিয়া, শাম, আফগানিস্তান । প্রতিটি জায়গায় মুজাহিদীন ক্ষমতায় আছেন । কারণ এটাই যে, তারা কোন ত্বগুতকে, কোন এজেন্সিকে সঙ্গী হিসেবে রাখেনি । তাদের কাছে সাহায্য চায়নি ।
আমরা জিহাদে বের হলাম শুধু এটাই ঈমান নয় বরং সঠিক পদ্ধতিতে জিহাদ করাও ঈমান । কোন ত্বগুতের সাহায্য , কোন এজেন্সির সাহায্য না নেয়াও ঈমান । এটাই তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহ । আমল সহিহ হওয়ার জন্য ৩টি বিষয় জরুরী ১/ সহিহ নিয়ত ২/ এখলাস ৩/ সুন্নত (পদ্ধতি) । কোন আমলের মাঝে এই তিনটির কোন একটিও যদি না পাওয়া যায় তাহলেই আমল কবুল হবে না । এক. সহিহ নিয়ত করতে হবে, দুই. শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে এবং তিন. শরিয়াতের দেখানো পন্থায় করতে হবে । এই তিনটি পাওয়া গেলে আমল কবুল হবে, আল্লাহর নুসরত আসবে, সফলতা আসবে । নয় তো আমল কবুল হবে না, আল্লাহর নুসরত আসবে না, সফলতাও আসবে ।
মনে করুন আপনি সলাত আদায় করবেন । সলাত সহিহ হওয়ার জন্য ক্বিবলামুখী হওয়া শর্ত । কিন্তু আপনি তার বিপরীতমুখী হয়ে দাঁড়ালেন তাহলে কি আপনার সলাত আদায় হবে ? আপনি শরিয়াতের দেখানো পন্থার উল্টা করলেন । যদিও আপনার নিয়ত ঠিক, এখলাস ঠিক কিন্তু পদ্ধতি বেঠিক এই জন্য আপনার সলাত আদায় হবে না, কবুল হবে না । নুসরত তখন আসবে যখন শরিয়াতের সীমায় আছো । যেমন কুরআনে এসেছে:
كَمَآ أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنۢ بَيْتِكَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًا مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ لَكَٰرِهُونَ.
অর্থ: যেমন আপনার রব আপনাকে আপনার ঘর থেকে যথাযথ কারণে বের করেছিলেন, অথচ ঈমানদারদের একদল (তাতে) অসন্তুষ্ট ছিল । (সূরা আনফাল : ৫)

ঈমামুল মুফাস্সিরীন ঈমাম উহইয়ান (আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি রহম করুন) এই আয়াতের كَمَآ শব্দটি নিয়ে দাহরে মুহইত কিতাবে ১৫ টি কথা নকল করেছেন । এবং বলেছেন এই ১৫ টি কথার কোনটির সাথে আমি একমত নই কেননা এগুলোতো অন্যান্য মুফাস্সিরীনদের কথা। তিনি কামা শব্দটি নিয়ে চিন্তা-ফিকির করতে যাতে করে এর মূল ব্যাখ্যা বুঝে আসে । এমনি করে একদিন তিনি চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে যান । এবং স্বপ্নে একজন আসল এবং সে সামনে সামনে চলছিল আর ঈমাম (রহঃ) পিছে ছিলেন । উনার দুজন এই আয়াতের নিয়ে আলোচনা করতেন । ঈমাম (রহঃ) বলেছেন : ঐ ব্যক্তি তাকে বলেছেন كَمَآ শব্দটি এই জন্য এসেছে যে, আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সাহাবাগণ বদরের যুদ্ধে যা করেছেন তা শরীয়ত মোতাবেক ছিল তাই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সাহায্য করেছেন ।
সুতরাং এখান থেকে আমরা বুঝলাম, আল্লাহর নুসরত তখন আসে যখন আমল শরিয়াত অনুযায়ী হয় । এটা আল্লাহ তা’আলার ওয়াদা । সাহাবায়ে কেরাম যা করেছেন শরিয়াত মোতাবেক করেছেন , তাঁরা শরিয়াতের বাইরে যাননি । আর এই জন্যই বদরের যুদ্ধে তাদেরকে নুসরত করা হয়েছে ।
এখন আমরা যদি ইহুদি-নাসারা-ত্বগুতদের সাথে হাত মিলাই, তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করি তবে কি সাহায্য আসবে ? আসবে না । কেননা, ওদের সাথে হাত মিলানো, ওদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা শরিয়াতে বৈধ নয় সুতরাং সাহায্যও আসবে না । আল্লাহর নুসরত শরিয়াতের সাথে যুক্ত । শরিয়াতের পথে চলা অবশ্যই কঠিন তারপরও তা অনেক সহজ । কেননা যদি আপনি বেশারিয়াত অনুযায়ী চলেন তবে কখনও নুসরত আসবে না ; নুসরত তো শারিয়াতের সাথে লাযেম বেশারিয়াতের নয় । তো যখন শারিয়াতের রাস্তায় সাহায্য আসবে তখন কি কঠিন লাগবে নাকি সহজ হয়ে যাবে ? নিশ্চয় সহজ হয়ে যাবে । আমরা যদি এই জিহাদকে শারিয়াত অনুযায়ী জারি রাখি তবে ১০-২০ সালের ১ দিনেই আল্লাহ তা’আলা বিজয় দিয়ে দিতে পারে ।

আমাদের উচিত আমাদের জিহাদকে ত্বগুতদের কাছ থেকে স্বাধীন রাখা । আমরা যদি এই ত্বগুতদের সাথে সম্পর্ক রাখি তবে তো আমরা গোলামের গোলাম হয়ে যাবো । প্রথমে আমরা গোলাম হবো ত্বগুত পাকিস্তানের আর পাকিস্তান হল আমেরিকার গোলাম -এই হল গোলামের গোলাম । আর আমেরিকা তো হল সবচেয়ে বড় কুফর, ওরা তো সবচেয়ে বড় শয়তান । তাই আমাদের উচিত এই জিহাদকে আজাদ রাখা অর্থাৎ স্বাধীন রাখা এবং শারিয়াত অনুযায়ী করতে থাকা ।

খেয়াল করুন, সাহাবায়ে কেরামের ঈমান কেমন ছিলেন ? উনাদের ঈমান তো ছিলেন এমন যে, শোনলাম আর মানলাম । কখনও এটা চিন্তা করতেন না যে, সাহায্য আসবে কি না ! আমরা তো সকলেই বদরের ঘটনা জানি । না সাহাবাদের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস ছিল আর না তাদের কোন প্রস্তুতি ছিল , তারা তো এসেছিল ব্যবসায়ী কাফেলার কাছ থেকে মাল ছিনিয়ে নিতে । উনাদের প্রস্তুতি থাকবে তো দূরের কথা উনাদের তো জানাও ছিল যে যুদ্ধ হবে তারপরও যখন যুদ্ধের হুকুম করা হল তারা পিছু হটেননি । আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করেছিলে, আমরা কি জিহাদ করবো নাকি করবো না ? তখন এক আনসারি সাহাবি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি আমাদের যাই হুকুম করবেন আমরা তাই করতে প্রস্তুত । যদি আপনি যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দাও তবে আমরা ঝাঁপ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি । এটাই হচ্ছে শারিয়াত। এটাই হচ্ছে ঈমান । তাই নয় কি ? উনাদের বিশ্বাস ছিল যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশিত রাস্তায় কোন বরবাদি নেই । যদি বাহ্যিক ভাবে মনে হচ্ছে বরবাদি রয়েছে কিন্তু বাস্তবিক ভাবে সেখানে বরবাদি থাকে না বরং নুসরত থাকে । এই নুসরতকে তো আমরা কখনও কখনও অনুভব করতে পারি আবার কখনও কখনও তাকে অনুভব করতে পারি না । তবে কিছু সময় পর ঠিকই বুঝে আসে ।
এই জন্যই যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই জিহাদকে শারিয়াত অনুযায়ী জারি না রাখবো ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর নুসরত আসা অসম্ভব । আল্লাহর নুসরত তাদের জন্য আসে যারা বাস্তবিক অর্থেই তার বান্দা অর্থাৎ বান্দাদের জন্যই আল্লাহ নুসরত আসে ।
وَمَا خَلَقْتُ ٱلْجِنَّ وَٱلْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
অর্থ: আমি জ্বিন ও মানুষকে আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি । (সূরা যারিয়াত : ৫৬)
আল্লাহ তা’আলা যে যে ইবাদতের হুকুম দিয়েছেন সেই ইবাদতের পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন । আল্লাহ তা’আলা যে পদ্ধতি দিয়েছেন সেই পদ্ধতিতেই করতে হবে নয়তো কবুল হবে না । যেমন: সলাতের জন্য অযু শর্ত । আপনি অযু ছাড়াই সলাত আদায় করলেন ! আপনার সলাত তো আদায় হবেই না উপরন্তু আরো বেশি গোনাহ হবে । কোন হুকুম আদায় না করা হলে যে গোনাহ হয় উক্ত হুকুমকে বিকৃত করলে তার চেয়ে অনেক বড় গোনাহ হয় ।

এইজন্য আল্লাহ তা’আলার কাছে আমাদের দোয়া করা উচিত , তিনি যেন আমাদেরকে শক্তি দান করেন , সাহায্য করেন, অনুগ্রহ করেন যাতে আমরা এই আজাদ জিহাদকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি । আজাদ জিহাদ কোন নতুন দাওয়াত নয় বরং অনেক পুরনো দাওয়াত এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের দাওয়াত । আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সহিহ বুঝ দান করুন । আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে শোনার চেয়ে বেশি আমল করার তাওফিক্ব দান করুন ।
و آخر دعونا عن الحمد لله رب العالمين

Al-Hurr

হয়তো শারী’আত নয়তো শাহাদাত

জ্বিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী
JULY 2021

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Ummah Studio┇ শাহাদাতের পূর্বে শহিদের ঈমানদীপ্ত কথামালা ┇ہم آخرت کے راہی (মোরা আখিরাতের পথিক) ┇শহীদ আহসান আজিজ রহ

Ummah Studio পরিবেশিত শাহাদাতের পূর্বে শহিদের ঈমানদীপ্ত কথামালা ہم آخرت کے راہی (মোরা আখিরাতের পথিক) ...