সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / মিডিয়া / আন-নাসর মিডিয়া / জিহাদের তিন মাশায়েখ – ১ || শায়খ আইমান আয-যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ

জিহাদের তিন মাশায়েখ – ১ || শায়খ আইমান আয-যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ

জিহাদের তিন মাশায়েখ – ১

শায়খ আইমান আয-যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ

ডাউনলোড করুন

পিডিএফ ডাউনলোড
https://banglafiles.net/index.php/s/rLCfFeCaCRZBM3Y
https://www.file-upload.com/643uebl3ogy9
https://archive.org/details/ThreeMashaykh1
https://archive.org/download/ThreeMashaykh1/Three%20Mashaykh%201.pdf

word
https://banglafiles.net/index.php/s/wMFEsCr9ns3TNna

আন নাসর সকল প্রকাশনা
https://archive.org/details/@an_nasr

আর্কাইভে লগ-ইন করতে ভুলবেন না।

====================

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية (بنغلاديش)
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
আন নাসর মিডিয়া
আল কায়েদা উপমহাদেশ বাংলাদেশ শাখা
In your dua remember your brothers of
An Nasr Media
Al-Qaidah in the Subcontinent [Bangladesh]

=================

ধারাবাহিক সিরিজঃ শহীদের অস্ত্র বহন কর!

৪র্থ পর্ব

জিহাদের তিন মাশায়েখ -১

হাকিমুল উম্মত শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ

(এই পর্বে থাকছে শাইখ আবুল হাসান রশিদ আল বুলাইদি রহঃ শাইখ আবু ফিরাস আস সুরি রহঃকে নিয়ে শায়েখের স্মৃতিচারণ)

আস সাহাব মিডিয়া

১৪৩৮ হিজরী

অনুবাদ প্রকাশনা

بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه

সারা বিশ্বে অবস্থানরত মুসলমান ভাই-বোনেরা!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আজ আমি আপনাদেরকে তিনজন কীর্তিমান জিহাদি শাইখের কথা বর্ণনা করতে চাই, যারা তাঁদের সারা জীবন জিহাদ এবং হিজরতের মাঝে অতিবাহিত করে স্বীয় প্রতিপালকের নিকট শহীদ হিসাবে মর্যাদালাভ করেছেন। আমরা তাঁদের ব্যাপারে এমনই ধারনা করি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের কুরবানি ও আত্মত্যাগসমূহকে কবুল করে নিন। আমিন।

তাঁরা হচ্ছেন শাইখ আবুল হাসান রশিদ আল বুলাইদি রহঃ[1], শাইখ আবু ফিরাস আস সুরি রহঃ[2] ও শাইখ রেফায়ি ত্বহা রহঃ।

আল্লাহ তাআলা তাঁদের উপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন! জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে তাঁদের বাসস্থান বানিয়ে দিন! এবং আমাদেরকে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও হক থেকে পরিবর্তিত না করে তাঁদের সাথে একত্রিত করে দিন। আমিন।

শাইখ আবুল হাসান রশিদ আল বুলাইদি রহঃ স্বীয় রবের সাথে শহীদ অবস্থায় মিলিত হয়েছেন, আমরা তাঁর ব্যাপারে এমনই ধারণা করি। তিনি জিহাদের ময়দানে আসার পর এই উম্মতের এবং মুজাহিদদের জন্য একটি জলজ্যান্ত আদর্শ রেখে গিয়েছেন। যা ইলমের পাশাপাশি প্রজ্ঞা, ধৈর্য, রিবাত এবং জিহাদের ক্ষেত্রেও অনুসরণীয়।

বাস্তবিক ক্ষেত্রেও তিনি মুজাহিদদের জন্য একজন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি জিহাদের ময়দানে যেমন মেশিনগান নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তেমনি কলম ও দাওয়াতের কাজেও নিমগ্ন থাকতেন। তিনি উম্মতকে জিহাদের জন্য আহ্বান করতেন এবং নিজেও জিহাদ করতেন। তিনি উম্মতকে হিজরতের জন্য আহ্বান করতেন এবং নিজেও হিজরত করতেন। এভাবে তিনি মানুষকে সবরের উপদেশ দিতেন এবং নিজেও সবর অবলম্বন করতেন। তিনি মুত্তাকী প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের জন্য একজন আদর্শ পুরুষ ছিলেন। যিনি ফেতনার আগুন ছড়ানোর পূর্বেই তা দেখতে পেতেন ও তা থামানোর জন্য উদ্যোগী হতেন এবং আগুন প্রজ্জলনকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করতেন।

শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) “আল হাসাবাহ ফোরাম”এর এক প্রশ্নের জবাবে বলেনঃ

সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে জনসমর্থন বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ এই নয় যে ত্বগুতরা সমস্ত ভূমিতে তাদের নির্যাতন থেকে তওবা করেছে অথবা জনগন সাপের চামড়া পরিধানকারীদের উপর আস্থাবান হয়ে গেছে বরং তার একমাত্র কারণ হল (পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে) ইসলামী দলগুলোর সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া। আমাদের জনগণ তো বিদ্রোহ এবং রক্ত উৎসর্গের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করে। আল হামদুলিল্লাহ বর্তমানে তাদের জান এবং মালের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত হয়েছে। ফলে অচিরেই তারা আল্লাহর মার্জি মোতাবেক মুজাহিদদের মাঝে ফিরে আসবে। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট দুয়া করি, তিনি যেন আমাদের উপর ন্যস্ত তাদের অধিকারসমূহ আদায় করার তাওফিক দান করেন।”

ষষ্ঠমঃ বিচ্যুতি ঘটার মূল কারণঃ

প্রশ্নকারী প্রশ্ন করল যে, এই বিচ্যুতি ঘটার মূল কারণ কী যা থেকে জিহাদ নিষ্কৃতি পেয়েছে?

শাইখ তাঁর জবাব দিয়েছেনঃ

(১) এর কারণ হলো মূল মানহাজ থেকে পদস্খলন ঘটা যা কিনা প্রত্যেক ধর্মের মাঝেই বিদ্যমান থাকে…….. এই কথার দ্বারা ভ্রষ্টতাকে সমর্থন করা উদ্দেশ্য নয় বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কোন দলের ভ্রষ্টতা যাতে বিশালত্বের কারণে গ্রহন যোগ্য না হয়ে যায় এবং এই ধারনা যাতে না হয় যে, এই জামাতই দ্বীনের মূল। ফলে সে হাক্ককে ছেড়ে দেয় এবং (তারা ছাড়া সমস্ত দল) ভ্রষ্ট হওয়ার দাবী করে বসে থাকাকে বিচক্ষণতা মনে করে। কক্ষনো এমন নয়!!!

ফেতনা ছড়িয়ে পরার আগে এবং পরে আলজেরিয়ার ভূমিতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মানহাজের উপর পরিচালিত মুজাহিদদের একটি দল পূর্বেও ছিল এবং বর্তমানেও আছে। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এবং মুজাহিদদের কুরবানি, ধৈর্য, অবিচলতা এবং উদ্যোগী ভূমিকার ফলে এই ভ্রষ্টতা থেকে জিহাদ কলঙ্কমুক্ত রয়েছে।

(২) আমাদের আলজেরিয়াতে জিহাদের পথে যে পদস্থলন ঘটেছে, তা জিহাদের সকল সন্তান ও ভূখণ্ডসমূহে এতটা ব্যাপক হয়নি। বরং তা ছোট্ট একটা গ্রুপে সীমাবদ্ধ ছিল যা শেষ হয়ে গেছে, আল-হামদুলিল্লাহ এবং তারা ছিল দেশের খুবই সংকীর্ণ একটি অংশে। আর বাকীরা তাদের আগের আদর্শের উপরই রয়েছে।

এর দলিল হল, ভ্রষ্টদলের বিরুদ্ধাচরণটা তাদের বিচ্যুতির নিদর্শন প্রকাশের সাথে সাথেই হয়েছিল। এবং তা একসময় তাদের সাথে যুদ্ধ পর্যন্ত নিয়ে যায়। এবং খারিজিদের এই ফেতনা থেকে উম্মতকে বাঁচাতে গিয়ে আমদের অনেক শ্রেষ্ঠ বিচক্ষণ ভাইদেরকে শাহাদাত বরণ করেছেন। সমস্ত কিছু তাওফীক আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

(৩) তাদের পথভ্রষ্টতার বাস্তবতা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলঃ

  • সীমালঙ্ঘনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং কঠোর রেওয়ায়েতকে দলিল হিসাবে গ্রহন করা।
  • বিদআত এবং কুফরি ও কুফরি নয় বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্যে না বোঝা। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে প্রতিপক্ষের সাথে খারাপ আচরণ যা কখনো কখনো হত্যা এবং সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
  • জামাআহর ভুল অর্থ বুঝা এবং ইমামের জামাআহ এবং খাস জামাআতের মাঝে পার্থক্য না করা। যা প্রতিপক্ষের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
  • (কুফফারদের সাথে) বন্ধুত্বের অর্থ অনুধাবনে ভুল করা। এবং কোনটা ঈমান ভঙ্গকারী হবে ও কোনটা হবে না। ফলে অনেক সাধারন মানুষ মুরতাদদের পৃষ্ঠপোষকতাকারী দলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।… যা মেরুদন্ডকে একেবারে ভেঙ্গে দিয়েছে।

শাইখ তার বই” আল বায়ান ওয়াত তাবয়িন লি হুকমি মুমাওয়িনিল মুরতাদ্দিন”[3] এ (البيان والتبيين لحكم مموني المرتدين) বলেছেনঃ

আর সর্বশেষ কথা হলঃ

কুফর শিবির এবং মুসলমানদের ঘাটির মাঝে এই যুদ্ধ চলমান থাকবে। তাগুতেরা মুজাহিদদেরকে পরাস্ত করার জন্য নতুন উদ্যমে চক্রান্ত করা এবং তাদেরকে জাতীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা এবং তার ব্যাপক প্রচার অব্যহত থাকবে যতক্ষণ যুদ্ধ ব্যকি থাকবে। তাই মুজাহিদদের জন্য দুইটি বিষয় আবশ্যকঃ

১। সর্বদা কাফেরদের প্রবঞ্চনা ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখা আমি প্রতারক নই এবং কোন প্রতারনা আমাকে ধোকায় ফেলতে পারবে না। যেমনটি হযরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেছেন।

২। বিশৃঙ্খলার হেকমত ও প্রজ্জার সাথে সমাধান করতে হবে এবং আল্লাহর দ্বীনের উপর অটল থাকতে হবে তা যেখানেই হোক।

 

তাই আল্লাহ তাআলার দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বা দ্বীনকে উপেক্ষা করা এবং বিলীন করা গ্রহনযোগ্য নয়, যেহেতু উভয়টিই নিন্দনীয়। এবং সর্বদাই কোন রকম বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি করা ছাড়া ইলমের সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করতে হবে।

অতঃপর আবুল হাসান রহিমাহুল্লাহ দেখলেন ফেতনা আবার মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। তখন কলমের এবং দাওয়াতের মাধ্যমে এর থেকে সতর্ক করেন।

শাইখ তার সঙ্গী-সাথীদের জন্য একজন উপদেশদানকারী অভিভাবক ছিলেন। তিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং সিরাত থেকে সুন্দর সুন্দর উপদেশবানী চয়ন করে তাদের নিকট বাস্তব শিক্ষা পেশ করতেন। যা তাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ প্রদর্শন করবে। ফলে তাদের বর্তমান অতীতের সাথে মিলে যাবে এবং এদের ইলম তাদের ইলমের সাথে।

আর তিনি এই সমস্ত দরসের অনেক আগ্রহী ছিলেন। যাতে করে একজন মুজাহিদ রব্বানী (আল্লাহওয়ালা) এর মর্যাদায় পৌঁছে যেতে পারে। যে দাওয়াতের ফিকির বহন করবে, এবং জিহাদের পথে সমস্যাগুলোকে নবুওয়াত থেকে আহরণকৃত নুরের মাধ্যমে সমাধান করবেন। ভাল হলে উদ্বুদ্ধ করবে, হোঁচট খেলে হাতে ধরবে। এবং সে দাওয়াহ দিবে তার কর্তব্য অনুযায়ী, চাহিদা অনুযায়ী এবং যেই আমানত বহন করার জন্য উম্মত আহ্বান করছে সেই আমানতের অনুযায়ী।

এবং তাদের থেকে চাইতেন তারা যাতে ইবাদতগুজার, দুনিয়াবিমুখ, বুদ্ধিমান এবং স্বীয় প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে। সাথে সাথে সে একজন বাস্তবমুখী ফকিহ এবং যুদ্ধের ময়দান সম্পর্কে তার থাকবে পূর্ণ জ্ঞান। যুদ্ধের ময়দানের যুদ্ধের ময়দানের গতি-প্রকৃতি ও আবশ্যকীয় জিনিসগুলোতে দক্ষ হবে। ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং দুর্বলতা খুজে বের করে ফেলবে। উন্নয়ন-উন্নতি আগ্রহী হবে।

কাজ নষ্ট হলে দায়িত্ব অন্যের উপর নিক্ষেপ করবে না বরং স্পষ্ট ও ইনসাফের সাথে নিজের দিকে নিয়ে আসবে। বিচ্যুতির ব্যাপারে অবগত হবে ও বন্ধ করে দিবে এবং ভুলের ব্যাপারে জেনে দূরে থাকবে।

অতঃপর যখন চমৎকার সংগ্রহ (ইসলামী শরিয়াহ ও বাস্তব জ্ঞান) প্রকাশ হল, যাতে সমাজের সাথে ইসলামী আন্দোলনকারী দলসমূহের আচরণের ইলমী অবস্থানকে শরীয়তসম্মত মতামতের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তিনি এই কিতাব ছোট হওয়া সত্যেও মৌলিক বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করেছেন। যা এই বিষয়ে তার উসূলি যোগ্যতা ও ফিকহি নীতিমালা উপর তার দক্ষতা এবং মাসলাহাতের নিয়ম-কানুনের দক্ষতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।

শাইখ রহিমাহুল্লাহ বর্তমান সময়ের ভূলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন, এবং বিভেদকারী, সীমালঙ্ঘনকারী ও অহংকারীদের থেকে সতর্ক করে দিয়েছে, যারা নিজেদেরকে তাদের আসল অবস্থার তুলনায় অনেক বড় মনে করে থাকে। কিন্তু তারা বাস্তবতার চরম রীতিনীতির প্রস্তারাঘাতে তারা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ তারা কখনোই শরীয়তসম্মত আখলাককে আকড়ে ধরে নি।

তিনি তার বইয়ের শেষ আলোচনায় তার মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করেছেন। চার দশক ধরে চলা তার জিহাদ, তালীম-তরবিয়াত এবং অভিজ্ঞতার সারমর্ম তুলে ধরেছেন। তিনি সেখানে লিখেছেনঃ

“নিশ্চয়ই দ্বীনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমাদের ভ্রাতৃত্বের এবং পরস্পরের সাহায্যে প্রয়োজন। এবং ঐক্য স্থাপন করা এবং তার আসবাবের প্রতি আগ্রহী হওয়া ও ইখতিলাফ এবং তার আসবাব থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

কেউ যদি এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আল্লাহর রাসূল ﷺ তার থেকে মুক্ত যিনি ওহী দ্বারা সাহায্য প্রাপ্ত। তার পবিত্র জীবনচরিতই এই বিষয়ের বাস্তব প্রমান। এমনিভাবে খুলাফায়ে রাশেদা রাজিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর জীবনচরিত এই বিষয়ের দলিল।

কোন জামাত তা যতই শক্তিশালী বা বড় হোক, একা কখনোই শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক শৃংখলা বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

সুতরাং অহংকার, উপেক্ষা বা সুযোগ ছাড়ার কোন কারণ নেই। মানুষ তার দোষ-ক্রটি থেকে গাফেল থাকা তাকে অহংকার দিকে আহ্বান করে। আর অহংকার তাকে ভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়। আর ভ্রষ্টতা তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।… শুকর চরানো অপেক্ষা উট চরানো অপেক্ষা অধিক উত্তম।……

ফিকহ এবং রাজনীতিতে যার অনেক সম্পর্ক। এবং উম্মতে মুসলিমার সাথে উত্তম সম্পর্ক ও তাদের শক্তি সামর্থ থেকে ফায়দা হাসিল করার যোগ্যতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

অতঃপর তার সর্বশেষ ওয়াসিয়াতে (অসিয়তসমূহ) শারঈ যোগ্যতা বৃদ্ধি এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও প্রশাসনিক শিক্ষা আবশ্যকীয়তার প্রতি অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। এবং বিশেষ করে উত্তম দাওয়াহ এর পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রতি।

আল্লাহ তা’আলা শাইখ বুলাইদির প্রতি রহম করুন। তিনি আমাদের জন্য তার জিহাদ, দাওয়াত এবং অভিজ্ঞতার মুক্তো-মনি রেখে গেছেন। এটাই হল তার মহৎ উদ্দেশ্য।

যা আমাদেরকে আহ্বান করছে শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে মনোযোগী হওয়ার জন্য এবং শারঈ কর্মকাণ্ডে বিশেষ করে ফতোয়া দান, বিচার-ফয়সালা করা এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জন করার জন্য, যাতে করে তা ইসলামী আন্দোলন, ইসলামের প্রতি আহ্বান এবং সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ ইত্যাদির জন্য বাস্তবসম্মত উদাহরণ হয়। বিশেষ করে বিচার করার ক্ষেত্রে, ফতোয়া দানের ক্ষেত্রে এবং দরবারি আলেমদেরকে দাওয়াত দানের ক্ষেত্রে।

যেখানে শরীয়তের আহকাম বাকি আছে সেখানে তাগুত সরকার ফতোয়া, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বীনি মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এইসকল কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই উম্মতকে পথভ্রষ্ট করা এবং তাদের এমন একটি ধর্ম উপহার দেওয়া যেখানে কোন জিহাদ নেই, নেই সৎ কর্মের আদেশ এবং অসৎ কর্মের নিষেধ, নেই ওয়ালা আর বারার বিধান।

বরং এটি এমন একটি ধর্ম যেখানে রাষ্ট্রকে সর্বাপেক্ষা মহান মনে করা হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রধান্য দেওয়া হয়। যেখানে ইহুদি এবং বড় বড় তাগুতদের সাথে চুক্তি করাকে সমর্থন করা হয়। এটি এমন একটি ধর্ম যাকে “রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা” নামে নামকরণ করে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হয়।

এই শাসনব্যবস্থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয়ী মুরতাদদের শাসনব্যবস্থা”ও বলা যায়। তারা ইসলামী আকিদা সমুহকে বিনষ্ট করতে চায়, যা আধুনিক ও মানসম্মত সভ্যতার উপর প্রতিষ্ঠিত।

শারঈ ইলমের প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয়সমুহ ধর্মনিরপেক্ষ, জাতীয়তাবাদী ও তাগুত সরকারের সেনাবাহিনীর পক্ষে একের পর এক বিবৃতি বের করছে, তাদেরকে উপস্থাপন করছে তারা এমন একটি দল যারা জুলুমকে প্রতিহত করবে। যারা তাগুতকে সমর্থন করে এবং তাগুতি মূলনীতি বাস্তবায়ন করতে চায়।

শাইখ রহিমাহুল্লাহ সাথে সাথে বর্তমান যুগের জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী হওয়ার উপর আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন এবং আমরা যেন এই শিক্ষার মাধ্যমে জিহাদের কল্যাণ-সাওয়াবের দিকে মানুষকে পথ প্রদর্শন করতে পারি।

উম্মতের জন্য আমাদের দাওয়াহর উপর আমাদের মনোযোগ আহ্বান করেছেন। আমরা তাদের নিকটবর্তী হবো যাতে তারাও আমাদের নিকটবর্তী। আমরা যেন তাদেরকে সুসংবাদ দিতে পারি যে, ‘ বর্তমান সময়ের অত্যাচারী, সীমালঙ্ঘনকারী ও ফাসেদ তাগুতরা যারা তাদের উপর চেপে বসে আছে ‘ অচিরেই পতন ঘটবে যাতে এমন একটি সময় আসবে যখন তাদের পরিবর্তে ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণভিত্তিক ইসলামী শাসন কায়েম হবে। যা মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করবে, জালেমদেরকে প্রতিহত করবে এবং খুলাফায়ে রাশেদা রাজিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর পদ্ধতি জীবিত করবে।

তিনি আমাদেরকে লোভী, অহংকারী এবং মূখদের থেকে জিহাদের ময়দানকে পবিত্র করতে আহ্বান করেছেন। যারা খুলাফায়ে রাশেদা রাজিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এবং আহলে সুন্নাতের বিপরীত কাজ করে। তারা মাজলুম, শোষিত এবং অপহৃত উম্মতকে এই সুসংবাদ দান করে যে, অচিরেই আমরা তোমাদের তাগুতদের থকে মুক্তি দিব ; যাতে তোমাদের উপর চেপে বসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বংশধরদের, যারা তোমাদের উপর ঝাপিয়ে পরবে বিদ্বেষ, সম্পদ লুণ্ঠন, অত্যাচার-নির্যাতন, জবাই ও বুলেট নিয়ে। তখন তোমরা তাদের আনুগত্য, বাই’আহ ও ধৈর্য ধরা আর কোন পথ থকবে না। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, অবাধ্যতা পোষণ কর তাহলে তোমাদের সামনে দুইটি পথ খোলা থাকবে, হয়তো ধারালো ছুরি বা বুক বিদীর্ণকারী বুলেট।

যেমনিভাবে তিনি আমাদের আহ্বান করেছেন জিহাদের ময়দানকে এমন জিনিস থেকে মুক্ত রাখতে যা ছাড়াছাড়ির প্রতি ধাবিত করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ও জাতীয়তাবাদের দিকে পদস্খলিত করে। এবং আকীদা ও শরিয়াতের ভিত্তি থেকে সরে ফাসাদ সৃষ্টিকারী শাসক ও তাদের আনুগত্যদের সাথে সমযোতার দিকে নিয়ে যায়।

এবং সতর্ক থাকতে শাসক ও তার অনুসারী এবং হারাম মালের ধোকাসমূহ থেকে, যা মুজাহিদদেরকে মরিচিকার ন্যায় ধোঁকা দেয়। যেন তারা দ্বীন থেকে সরে যায় ও ঐক্যকে বিচ্ছিন্ন করে। এবং তারা তাদের দলকে ভাগ করে নেয় ; মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী দের মাঝে যাদেরকে (তাদের গোমরাহী) বুঝাতে পেরেছে এবং চরমপন্থীদের মাঝে যাদের ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দেয়া আবশ্যক। অতঃপর যারা এই দলে প্রবেশ করে তাদের কাছে উন্মোচিত হয়-যারা শয়তানের ধোকায় পড়ে গেছে-তারা ভীষণ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পানির অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে।

যাতে আগেই পতিত হয়েছে মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিন, মুহাম্মদ মুরসি এবং মিসরের বিভিন্ন দলের নেতরা। পরে জেলে গিয়ে তারা তাদের পথভ্রষ্ঠতার জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন অথবা ফাসির কাষ্ঠে ঝুলে। এবং এমন সময় লজ্জিত হয়েছেন যখন লজ্জা কোন উপকারে আসবে না।

أمرتهم أمري بمنعرج اللوی

فلم يستبينوا النصح إلا ضحی الغد

আমি তাদেরকে বক্র মোড়ের ব্যাপারে আমার নির্দেশটি দিয়েছি ***

কিন্তু তারা আমার উপদেশের প্রতি লক্ষ্য করেনি, তবে আগামীকাল সকালে (করবে)

আল্লাহ তায়ালা শাইখ বুলাইদী রহ. কে রহম করুন। তিনি এমন এক ফাঁকা রেখে গেছেন যা পূরণ করা খুবই কঠিন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার উত্তম বদলা দিন! আর তাঁর শাহাদাত ও ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাসকে মুজাহিদ ও দায়ীদের জন্য আল্লাহর পথে উত্তম প্রতিদান, জ্ঞান ও সৃষ্টিজীবের মাঝে উত্তম মর্যাদা এবং কলম ও অস্ত্রের যুদ্ধে প্রতিযোগীতার ক্ষেত্রে এক প্রেরণা এবং চালিকা শক্তি হিসেবে বানিয়ে দিন! জান্নাতুল ফেরদাউসে তাঁর স্থান বানিয়ে দিন! এবং আমাদেরকে অপমানিত, লাঞ্চিত ও হক থেকে পরিবর্তিত না করে তাঁদের সাথে একত্রিত করে দিন! আমিন।

اجعل رثاءك للرجال جزاء    وابعثه للغرب الحزين عزاء

إن الديار تريق ماء شؤونها    كاألمهات وتندب الابناء

ثكل الرجال من البنين وإنما    ثكل الممالك فقدها العلماء

يجزعن للعلم الكبير إذا هوى    جزع الكتائب قد فقدن لواء

علم الشريعة أدركته شريعة    للموت ينظم حكمها الاحياء

 

شيخ الصمود ألا أزفك حادثا    يكسو عظامك في البلى السراء

قم من صفوف الحق وارقب شامنا    دكت صروح الظالمين هباء

أسدًا من البنغال حتى مغرب   دون العقيدة عرضةً وفداء

 

من ساحل الصومال حتى كاشغر    قامت تلبي للجهاد نداء

من قمة القوقاز حتى كابل    وبحضرموت تالاحما وإخاء

والهند قامت للجهاد تعيده   دكا تبيد الزيف واألجراء

وتذب عن عرض النبي حثالةً متسولين أذلةً حقراء

وارقب من النشء الجديد جمو   عهم قد أسرعت سباقةً معطاء

روح الجهاد سرت بأمتنا فلن   تبصر نكوصا أو تر استخذاء

الدين دين الله وهو كفيله لقيت أجرا وافرا وجزاء

 

তুমি তোমার দুঃখকে মানুষদের জন্য প্রতিদান বানাও এবং ভরাক্রান্ত অশ্রুধারীর (ক্রন্দনকারী) জন্য তা সান্ত্বনাস্বরূপ পাঠিয়ে দাও।

বিভিন্ন দেশ আজ এমন অশ্রু প্রবাহিত করছে যার অবস্থা হল ঐ সকল মায়েদের মত যে তাঁর সন্তানদের জন্য বিলাপ করছে।

লোকেরা সন্তানদের হারিয়ে ব্যথিত। আর আলেমদের হারিয়ে ভূখণ্ডসমূহ ব্যথিত।

তারা (ভূখণ্ডসমুহ) বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হারিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছে, সৈন্যবাহিনী তাদের সেনাপ্রধান হারিয়ে গেলে যেমন দুঃখ করে।

মৃতের জন্য শরীয়তের জ্ঞান তুমি পাবে, জীবিতরা তার বিধানগুলো সুন্দরভাবে বর্ণনা করে দিচ্ছে।

হে দৃঢ়তার শাইখ! আমি তোমাকে এমন একটি কাহিনীর সুসংবাদ দিবো না! যা দুর্যোগে তোমার হাড়কে আনন্দের পোশাক পড়িয়ে দিবে!?

সত্যের কাতার থেকে তুমি দাঁড়াও এবং আমাদের শামে দেখ! যালেমদের প্রাসাদ ভেঙ্গে ধুলায় পরিণত হয়েছে।

(হে ইসলামের সিংহরা!) বাংলা থেকে মরক্কো পর্যন্ত বাঘের গর্জন ছাড়! তাওহীদের আকিদা ছাড়া কোন সম্মান নেই, বিলিয়ে দাও জীবন!

সোমালিয়ার উপকূল থেকে কাশগর পর্যন্ত ইসলামের সিংহরা জিহাদের তাকবীর দিচ্ছে।

ককেশাসের পর্বত শৃঙ্গ থেকে কাবুল পর্যন্ত ডাক আসছে ভ্রাতৃত্বের ও যুদ্ধে যাওয়ার, সাথে আছে হারামাউত।

হিন্দুস্তান (ভারতবর্ষ) প্রস্তুত হয়েছে জিহাদকে ফিরিয়ে আনবে বলে, ঢাকা ধ্বংস করে দিবে যত সব মিথ্যা ও ভ্রান্তি।

হীন মুরতাদ-কাফেরদের উপর প্রভাব বিস্তার করে তারা রাসূলের চরিত্রের উপর আক্রমণকে প্রতিহত করছে।

চেয়ে দেখ নতুন প্রজন্মের দলগুলোর প্রতি! বিরামহীন তারা এগিয়ে যাচ্ছে।

উম্মাহর জন্য জিহাদের পটভূমি তৈরি হয়ে গেছে সুতরাং তুমি পশ্চৎপদতা অথবা হীনতার প্রতি দৃষ্টি দিও না!

দ্বীন একমাত্র আল্লাহরই দ্বীন এবং তিনিই তাঁর দ্বীনের জামিনদার। (কিন্তু) তুমি পাবে অফুরন্ত প্রতিদান ও বিনিময়। [4]

আর শাইখ আবুল ফিরাস আস সুরী রহ. তিনি মুজাহিদ এবং তাওহীদের প্রতি দায়ীদের প্রথম সারীর একজন ছিলেন। তিনি হাফেয আসাদের[5] বিরুদ্ধে জিহাদী আন্দোলনে শরীক ছিলেন। তারপর তিনি সারা জীবন মুজাহিদ ও মুহাজিরদের মাঝেই কাটিয়ে দিয়েছেন। অবশেষে জীবনের চল্লিশটি যুগ আফগানিস্তান ও শামের জিহাদে কাটানোর পর মুমিনদের শহর শামে শহীদ হন।

আফগানিস্তনে রাশিয়া ও তার মুরতাদ দোসরদের সাথে যুদ্ধ চলাকালীন পেশাওয়ারে তার সাথে আমার পরিচয় হয়। আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব ছিল একমাত্র আল্লাহর তায়ালার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে চলে যাওয়ার জন্য বাধ্য হই। তখন আমারা পৃথক হয়ে যাই।

পরবর্তীতে তাঁর সাথে দ্বিতীয় বার দেখা হয় আরব মুহাজিরদের শহর কান্দাহারে। তিনি এসেছিলেন শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ, এবং তাঁর সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং কিছু মিডিয়া সেক্টরের কার্যক্রম বিন্যস্ত করার ব্যাপারে আলোচনা করতে।

তিনি তখন আমাকে একটি কথা বলেছিলেনঃ- এই গ্রাম এবং এই সমাবেশ -প্রশিক্ষণের স্থান- তো শত্রুদের কাছে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যম মাত্র। তারপর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

পেশাওয়ারে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় আমি তাঁকে একজন নম্র সম্রান্ত এবং নিজ সাথীদের প্রতি সহনশীল ব্যক্তি হিসেবে দেখেছি। তিনি ছিলেন বাস্তব-সত্য বর্ণনায় স্পষ্টভাষী এবং তাঁর সাথীদের নসীহত এবং এখলাসের বিষয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনায় খুব আগ্রহী ছিলেন।

তিনি মুহাজির-মুজাহিদদের খেদমত ও সহযোগীতায় অগ্রগামী ছিলেন। তবে যারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত অথবা আচরণে অসংগতি করত তার ব্যাপারে তিনি খুব কঠোর ছিলেন।

কান্দাহার থেকে আমরা আবার আলাদা হয়ে গেলাম। একদিন নব্য খাওয়ারেজদের হাতে শহীদ প্রিয় ভাই শাইখ আবু খালেদ আস্-সূরী রহ.[6] এক চিঠি মারফতে আমাকে জানালেন যে, শাইখ আবু ফিরাস আস্-সূরী রহ, সিরিয়ায় পৌঁছেছেন এবং তিনি মনে করছেন যে, ইবরাহীম আল বাদরীর দলের উদ্দেশ্যে একটি নসিহাতমূলক বয়ান প্রকাশ করলে তাদের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। যদি তারা এর কোন উত্তর না দেয় তাহলে সমাধানের ব্যপারে আরেকটি বয়ান প্রকাশ করবেন।

আমি আমার শহীদ ভাই আবু খালেদ আস্-সূরী রহ. (6) এর ডাকে সারা দিয়ে বললাম যে, শহীদ আবু ফিরাস রহ, কে আমার সালাম এবং তাঁর হেফাজত ও তাওফিকের ব্যাপারে আমার দোয়া জানাবেন। আর বলবেন যে, আমার মতে তাঁর মত এবং আপনাদের মত জিহাদের শাইখদের মূল লক্ষ্য হল, শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য এখন জিহাদের ময়দানে মুজাহিদদের একত্র করা।

সেই সাথে শায়খ আবু ফারাসের সাথে মিলে জাবহাতুন নুসরার ভাইদেরকে নসিহাত, দিক-নির্দেশনা প্রদানের আশা করছি।

তিনি ইবরাহীম আল-বদরী আল-হুসাইনীর সাথে মতপার্থক্য সমাধান করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন হিকমাহ ও মাসলাহাতের ভিত্তিতেই। কিন্তু তারা বড়ত্ব দেখিয়েছে এবং অন্তরে যা ছিল তা প্রকাশ করা শুরু করল, তা হচ্ছে নিজের মতের বিরোধীদেরকে শুবুহাতের ভিত্তিতে তাকফীর করা বরং ইবাদাতের ভিত্তিতেই।

তিনি সবচেয়ে যে বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন তা হল, শামে ইমারত প্রতিষ্ঠা শামবাসী এবং বিশ্বের উলামাদের সাথে পরামর্শ ছাড়া হবে না।

তিনি এবং তার সাথীরা প্রকাশ্যে নাকচ করে দেন ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রগুলোতে একত্রিত হওয়ার পরামর্শকে। তিনি বলেছিলেন, জিহাদ কোন দলকে সহায়তা করার জন্য ওয়াজিব হয়নি বরং আল্লাহর কালিমাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ওয়াজিব হয়েছে।

হে আবু ফারাস! আল্লাহ তায়ালা তোমাকে রহম করুন। আপনি তো জিহাদ এবং দাওয়াতের এ রাস্তাকে যৌবনে বা বার্ধক্যে ছাড়েন নি। আর আমাদেরকে ক্ষমতাধর বাদশাহর নিকটে উত্তম অবস্থায় মিলিত করুন।

بني الإسلام بالشام استفيقوا وألقوا عنكم الأحلام ألقوا

يخادعكم عميل مستقل وهل يرجي من الكذاب صدق

نموا في ذل أمريكا خساستا لها هانوا وذلوا واسترقوا

نصحت ونحن مختلفون دارا ولكن نصحكم دين وحق

وتجمعنا إذا اختلفت بالاد عقيدة لا تفرق أو تشق

ألا يا أمة الاسلام رصي صفوفك لا تخلخل أو تشق

ولا تصغوا لنكاث كذوب تحركه مطامعه فتشقوا

وغذوا السير تدعوكم دمشق تئن يذلها قيد ورق

أعدوا الحشد فيها نحو قدس ففتح القدس أوله دمشق

***

শামে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে সুতরাং তোমরা জেগে উঠো এবং তোমাদের যত কল্পনা ছিল তা ছুড়ে ফেল! ছুড়ে ফেল!!

অপমানিত এজেন্টরা তোমাদের ধোঁকা দিয়েছে। মিথ্যাবাদীর কাছে কি কোন সত্যের আশা করা যায়? আমেরিকার পরাজয়ে তারাও পরাজিত হয়েছে, তারা লাঞ্ছিত হয়েছে অপদস্থ হয়েছে এবং অপমানিত হয়েছে।

আমাদের দেশ যদিও ভিন্ন, তবুও আমি তোমাদের একটি উপদেশ দিচ্ছি- তোমাদের আদর্শ হল দীন ও সত্যের উপর।

যদিও আমাদের দেশ বিভিন্ন কিন্তু আকীদা-বিশ্বাস সবার এক। তাতে না আছে কোন পার্থক্য, না আছে কোন ভিন্নতা।

হে মুসলিম উম্মাহ! তোমাদের কাতার মজবুত হয়েছে তাতে কোন ফাঁকা নেই, নেই কোন বিদীর্ণ স্থান।

তোমর মিথ্যাবাদীর কোন বিশ্বাসঘাতকতার প্রতি লক্ষ্য করো না, তাহলে তোমরা আশা ভেঙে দিবে। তখন তোমরা কষ্ট পাবে।

তোমরা যুদ্ধ কর! দামেস্ক তোমাদের কেঁদেঁ কেঁদেঁ ডাকছে। তাকে লাঞ্ছিত করছে বন্দিত্ব ও দাসত্ব।

তোমরা বাইতুল মুকাদ্দাসের অভিমুখে সমাবেশ প্রস্তুত কর। তাহলে তোমার বাইতুল মুকাদ্দাস জয় করতে পারবে, যার শুরু দামেস্ক থেকে। [7]

আজ এখানেই ইতি টানছি। আগামী পর্বে শাইখ রেফায়ীর কিছু স্মৃতিচারণ করবো ইনশাআল্লাহ।

وأخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين ، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم

[1] শায়েখ আবুল হাসান রশিদ আল বুলাইদি রহঃ গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ইংরেজি সালে শুক্রবার পশ্চিম আল জাযায়েরের তেজিওয়াজু অঞ্চলে আলজেরিয়ান সেনাবাহিনীর এক হামলায় শাহাদাত বরণ করেন। শায়েখ আল কায়েদা ইসলামিক মাগরিবের (AQIM) এর শরিয়াহ বোর্ডের প্রধান ছিলেন। শায়েখ প্রাথমিক জীবনে বুলাইদিয়াহ প্রদেশে নিজ শহর হালাভিয়াতে মসজিদের ইমাম ও খতীব ছিলেন। ধারণা করা হয় আল কায়েদা ইসলামিক মাগরিবের আমীর শায়েখ আবু মুসআব আব্দুল ওয়াদুদ হাফিজাহুল্লাহর পরেই শায়েখের অবস্থান। পূর্বে তিনি সাবেক” জামাআতুস সালাফিয়াহ লিদ দাওয়াতি ও ওয়াল কিতাল” এর বিচারক ছিলেন। শায়েখের অনেক কিছু কিতাব ও বয়ান সংকলন রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য হল

১। উজুবুল ফিসাম ওয়া হাতমিয়্যাতুস সাদ্দাম বাইনাল কুফরি ওয়াল ইসলাম।  وجوب الفصام وحتمية الصدام بين الكفر والاسلام

২। আল বয়ান ওয়াত তিবয়ান লিহুকমি মুমাওইনিল মুৱদ্দিন البيان والتبيين لحكم مموني المرتدين

[2] শায়েখ আবু ফিরাস আস সুরি রহঃ গত রবিবার ৪ এপ্রিল ২০১৬ ইংরেজি সালে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আমেরিকান বিমান হামলায় শাহাদাত বরণ করেন। শায়েখ সাবেক জাবহাতুন নুসরাহ (জাবহাতু ফাতহিশ শাম ও বর্তমান হাইআত তাহরিরুশ শাম) এর গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ছিলেন, নুসরার সামরিক বিভাগের অন্যতম কমান্ডার ও শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ধারণা করা হয় শায়েখ ১৯৫০ সালে দামেস্কের মাদায়া শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। শায়েখ আফগানিস্তানে হিজরত করেছিলেন। পরিশেষে সিরিয়ায় বিপ্লব শুরু হলে সিরিয়ায় ফিরে আসেন। জাবহাতুন নুসরার অফিসিয়াল মিডিয়া আল মানারাতুল বাইদা ও আল বাসিরাহ মিডিয়া থেকে মূল্যবান বয়ান ও নসিহত প্রকাশিত হয়েছে।

[3] শায়েখের গুরুত্বপূর্ণ কিতাবটি নিম্নের লিংক থেকে ডাউনলোড করুন- www.ilmway.com/site/maqdis/MS_11179

[4] শাইখ হাফিজাহুল্লাহর আবৃতি করা এই কবিতাগুলো মূলত মিসরের প্রখ্যাত কবি আহমাদ শাউকি আলী আহমাদ শাওকি বেগ (১৬ অক্টোবর ১৮৬৮ ইং-১৪ অক্টোবর ১৯৩৪ ইং) এর রচিত। শাইখ কিছু কিছু স্থানে ঈষৎ পরিবর্তন করেছেন। ৬৪ বছর বয়সী কবি কায়রোতেই জন্ম ও মৃত্যু বরণ করেছেন। দিয়ানে শাউকি সহ কবির অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে।

[5] হাফেজ আসাদ (জন্মঃ ৬ অক্টোবর, ১৯৩০ কারদাহা, সিরিয়া, মৃত্যুঃ ১০ জুন, ২০০০ দামেস্ক, সিরিয়া) প্রায় তিন দশক যাবত সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিল। কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী এই শিয়া শাসক ও তার পুত্র বাশার আল আসাদ শামের মুসলমানদের রক্ত চুষে খেয়েছে ও এখনো অবধি খাচ্ছে। এই দুই বাপ-বেটার হাতে শামে লক্ষ লক্ষ মুসলমান শাহাদাত বরণ করেছেন। ১৯৮২ সালে হামাতে এক গণহত্যায় কয়েক লক্ষ মুসলমানকে হত্যা করেছিল এই হাফেজ আল আসাদ।

[6] শাইখ আবু খালেদ আস সুরি রহঃ গত সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ইংরেজি শামের হালবে খারেজি আইএসের এক হামলায় শাহাদাত বরণ করেন। শাইখ শামের অন্যতম জিহাদি গ্রুপ হারাকাতু আহরার আশ শাম আল ইসলামিয়্যাহর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ছিলেন। শাইখ আফগানিস্তান, শিশান, বসনিয়া ও ইরাকে হিজরত ও জিহাদ করেছিলেন। তিনি শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহঃ, শাইখ উসামা বিন লাদেন রহঃ ও শাইখ আবু মুসআব আয় যারকাবি রহঃ সহ জিহাদের গুরুত্বপূর্ণ উমারাদের সাথে জিহাদ করেছেন।

[7] শাইখ হাফিজাহুল্লাহর আবৃতি করা এই কবিতাগুলো মূলত মিসরের প্রখ্যাত কবি আহমাদ শাউকি আলী আহমাদ শাওকি বেগ (১৬ অক্টোবর ১৮৬৮ ইং-১৪ অক্টোবর ১৯৩৪ ইং) এর রচিত। শাইখ কিছু কিছু স্থানে ঈষৎ পরিবর্তন করেছেন। ৬৪ বছর বয়সী কবি কায়রোতেই জন্ম ও মৃত্যু বরণ করেছেন। দিয়ানে শাউকি সহ কবির অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Important | অচিরেই আসছে… || ‍‌‌‌’জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ’ সম্পর্কে প্রচলিত আপত্তির জবাব || আল হিকমাহ মিডিয়া

অচিরেই আসছে… ‍‌‌‌’জামাআত কায়িদাতুল জিহাদ’ সম্পর্কে প্রচলিত আপত্তির জবাব মূল ভাই আবু আব্দুল্লাহ আল-মায়াফিরী অনুবাদ ...