সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / Letter To The Insider-ভিতরের ভাইয়ের প্রতি খোলা চিঠি || Lone Wolf Magazine-Issue 2

Letter To The Insider-ভিতরের ভাইয়ের প্রতি খোলা চিঠি || Lone Wolf Magazine-Issue 2




الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
ইমানদারগণ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে আর যারা কাফির তারা তাগুতের পথে যুদ্ধ করে। কাজেই তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।
[সূরা নিসা, আয়াত ৭৬]
খিলাফাতের পতনের পর শুরু হল অন্ধকারের এক নতুন যুগ,
আক্রান্ত হল উম্মাহ, হাতছাড়া হল আল-আক্বসা,
ইসলামী শরীয়াহকে সরিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হল মানব রচিত কুফরি তন্ত্রমন্ত্র,
বলা হলো আল্লাহর দ্বীন এই সময়ে ব্যাকডেটেড।প্রান্তর থেকে প্রান্তরে রক্তাক্ত হলো মুসলিম নারী ও শিশু,
আকাশ বাতাস ভারী করে তুললো তাদের বুক ফাটা আর্তনাদ,
উম্মতের যুবকেরা ডুবে থাকলো গাফেলতি এবং উদসিনতার চোরাবালিতে।আজ কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদে রক্তস্নাত সিরিয়া,
নির্যাতিত উইঘুর,
অন্ধকারে কাশ্মীর …
অসহায় আরাকান,
আর বাংলাদেশ?
… অঘোষিত করদ রাজ্য।তুমি সাহসী, তুমি নির্ভিক,
তুমি জলে, স্থলে বা আকাশপথে যেখানেই যাবার আদেশ করা হবে সেখানেই যেতে প্রস্তুত একজন প্রশিক্ষিত সৈনিক।
কিন্তু প্রশ্ন – তুমি আজ কার সৈনিক?
বেতনভোগী অস্ত্রধারী মাস্তান আর তোমার মাঝে কি পার্থক্য?
খুঁজেছো কখনো ?

কাফেররা তাদের সেনাবাহিনী নিয়ে প্রস্তত,
প্রস্তুত আল্লাহর সেনাবাহিনী,
সত্য এবং মিথ্যার মীমাংসায় দুই বাহিনী আজ মুখোমুখি,
আর মিথ্যা তো বিলুপ্ত হবারই…।

এখন প্রয়োজন শুধু একটি অভিপ্রায়,
একটি সাহসী পদক্ষেপ, দুনিয়ার যে কোন প্রান্তে কুফুরি শক্তির বুকে আঘাত হানার…

তোমার জন্য আহ্বান, হে সৈনিক!
এ আহ্বান কোন বেটার লাইফের জন্য নয়,
এ আহ্বান আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষার জন্য।
উই ফাইট ফর আওয়ার দ্বীন। (We fight for our deen.)

কে আছে এমন, যে নিজের জীবন বাজি রাখবে জান্নাতের জন্য?
কে আছে এমন, যে নিজের জীবন বাজি রাখবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং শাহাদাতের জন্য?
কে আছে এমন, যে নিজের জীবন বাজি রাখবে – আল্লাহর দ্বীন এবং মুসলিম উম্মাহ’র জন্য?
কে আছে এমন, যে নিজের জীবন বাজি রাখবে আল্লাহর সেনাবাহিনীর জন্য?

আল্লাহ ডাকছেন আপনাকে – আপনি আসছেন তো?

পড়ুন
LONE WOLF 2
Letter To The Insider
ভিতরের ভাইয়ের প্রতি খোলা চিঠি

(তাগুতের বাহিনীর ভেতরে থাকা ঈমানের দাবীদার ভাইদের প্রতি)

পরিবেশনায়
Al Hikmah Media

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
হাই কোয়ালিটি [৭০.৭ মেগাবাইট]


https://banglafiles.net/index.php/s/fDpoWC5FMsAmcAz
https://archive.org/download/letter-to-the-insider/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-HQ.pdf
http://www.mediafire.com/file/f0oe5dk07wt8pmg/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-HQ.pdf/file
https://mega.nz/file/ah4gnDLY#RF6ckajEKYXM0hnEgvjL3fJ3NE3BCF71jRCCW8SLlsA
https://free.files.cnow.at/index.php/s/GBr2d3cLwK3m3He
https://disk.yandex.com/i/AvEQQ3rOToV2AQ
https://archive.org/details/lettertotheinsiderlonewolf2alhikmahmediafullhq
https://archive.org/download/lettertotheinsiderlonewolf2alhikmahmediafullhq/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-HQ.pdf
https://www101.zippyshare.com/v/o8ahqyG8/file.html
https://top4top.io/downloadf-15286sun21-pdf.html


মিডিয়াম কোয়ালিটি [৪৪.৪ মেগাবাইট]


https://banglafiles.net/index.php/s/3TX8arLdkoztfwL
https://archive.org/download/letter-to-the-insider/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-MQ.pdf
https://mega.nz/file/mkpSBLzT#QMs5zZTENOLGje8WOsiLCPvD819eEswcgmHqBkc3C-Y
http://www.mediafire.com/file/9f28buzpp3myumx/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-MQ.pdf/file
https://free.files.cnow.at/index.php/s/8P8JLqLf6SAEcHG
https://disk.yandex.com/i/cwPIHnJw-naAMA
https://archive.org/details/lettertotheinsiderlonewolf2alhikmahmediafullmq_202003
https://archive.org/download/lettertotheinsiderlonewolf2alhikmahmediafullmq_202003/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-MQ.pdf
https://top4top.io/downloadf-1528wx3cn1-pdf.html

 

লো কোয়ালিটি [১৩.৭ মেগাবাইট]


https://banglafiles.net/index.php/s/2EBXsW2exJLTXcr
https://archive.org/download/letter-to-the-insider/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-LQ.pdf
https://mega.nz/file/r1gijJTY#yCVU0LY62XjBzmSqN83uHB8jKeKkFql3VxHoifELFQc
http://www.mediafire.com/file/fah340o2x50ancc/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-LQ.pdf/file
https://free.files.cnow.at/index.php/s/PqYo3b6GesbfgwA
https://disk.yandex.com/i/8NLDrNV0dc3eow
https://archive.org/details/lettertotheinsiderlonewolf2alhikmahmediafulllq
https://archive.org/download/lettertotheinsiderlonewolf2alhikmahmediafulllq/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media-Full-LQ.pdf
https://top4top.io/downloadf-1528ibykl1-pdf.html
******************

এই পিডিএফ ম্যাগাজিনটি খাসভাবে ঈমানের দাবীদার সেসব ভাইদের প্রতি, যারা তাগুতের অধীনে চাকরি করেন, যেমন: আর্মি, পুলিশ, র*্যাব, বিজিবি ইত্যাদি বাহিনী। বিশেষভাবে, এ লেখাটি তাদের জন্য যারা সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন।
তাই ভাইয়েরা! পিডিএফ এর পাশাপাশি এই প্রচারণামূলক ভিডিওটিও বেশি বেশি শেয়ার করুন…

বাংলাদেশে গ্লোবাল জিহাদের কাজকে সামনে অগ্রসর করতে…
লোন উলফ ম্যাগাজিন | Lone Wolf Magazine
লেটার টু দা ইনসাইডার

┇ইস্যু-২┇
জমাদিউস সানী ১৪৪১ | ফেব্রুয়ারি ২০২০
অসাধারণ এই ম্যাগাজিনটি পড়ার আগে দেখে নিন অনবদ্য এই ভিডিও ট্রেইলারটি (৪ মিনিট)
দেখুন এবং ছড়িয়ে দিন!

ভিডিও ট্রেইলার

ডাউনলোড করুন
হাই কোয়ালিটি [৭৯ মেগাবাইট]


https://banglafiles.net/index.php/s/etwXkAB7PbafsRo
https://archive.org/details/letter-to-the-insider-lone-wolf-2-al-hikmah-media-hd_202102
https://archive.org/download/letter-to-the-insider-lone-wolf-2-al-hikmah-media-hd_202102/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media%20HD.m4v
http://www.mediafire.com/file/ecot8h76ppq1tcg/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media_HD.m4v/file
https://mega.nz/file/X85E2ZTZ#OGCoKEKUx8hp6VL8ahJpLvk4IKtUTTPBeAeN9nTFM4M
https://disk.yandex.com/i/-FCop3i0v_XL2A
https://www.mediafire.com/file/agc9ltqe20zqmh1/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media_HD.m4v/file
https://i.top4top.io/m_1515l9xky1.m4v


মিডিয়াম কোয়ালিটি [৩৩ মেগাবাইট]

https://banglafiles.net/index.php/s/kYT8iKr6cnakTta
https://archive.org/details/letter-to-the-insider-lone-wolf-2-al-hikmah-media-mq

https://archive.org/download/letter-to-the-insider-lone-wolf-2-al-hikmah-media-mq/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media%20MQ.m4v
http://www.mediafire.com/file/yophnnjs9fbx3qj/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media_MQ.m4v/file
https://mega.nz/file/bshknLrb#Vw3YXV4MvYgtYO5BPdQndldU3QqgI5ypSBqB2XPE4Nk
https://disk.yandex.com/i/-roaoArkcpkA8Q
https://www.mediafire.com/file/fkutbv0rgn0fwgx/Letter-To-The-Insider-Lone-Wolf-2-Al-Hikmah-Media.m4v/file
https://h.top4top.io/m_1515e3dbj1.m4v

 

*************

L E T T E R T O T H E

I N S I D E R

ভিতরের ভাইদের প্রতি

খোলা চিঠি

সূচিপত্র

অবতরণিকা5

ঈমানের দাবিদার ভাইদের প্রতি খাস আহবান. 8

আজকের মুসলিম শাসকরা কি আসলেই  মুসলিম ?. 12

১। কালিমার প্রথম দাবি লা ইলাহ অর্থাৎ অন্য যে কোন ইলাহ বা তাগুতকে অস্বীকার না করার কারণে তারা কাফের: 12

২। আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন এবং এর বিধানসমূহ এখনকার দিনে ‘অপ্রয়োজনীয় বা অকার্যকর’ বলা এবং এগুলোর কোন কোনটা নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করার কারণে তারা কাফের: 13

৩। আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে গণতন্ত্রকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার কারণে তারা কাফের: 16

৪। একই ভাবে তারা আল্লাহর দ্বীনকে বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া বিধান বানিয়ে এবং সেগুলোকে প্রয়োগ করার কারণে কাফের: 18

এসকল তথাকথিত মুসলিম শাসকদের সাহায্যকারীদের (ফোর্সেস-এর) ব্যাপারে আল্লাহর সতর্কবাণী এবং ভয়াবহ পরিণাম! 20

খুব অস্পষ্ট কিছু কি?. 26

গ্লোবাল জিহাদের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট এবং কুফরের সর্দার অ্যামেরিকার অবস্থান  28

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈমানের দাবি কী ?. 33

১। আক্রমণাত্মক জিহাদ: 33

২। আত্মরক্ষামূলক জিহাদ: 34

মোল্লা ব্র্যাডলিদের ব্যাপারে কিছু কথাঃ39

আল্লাহর সেনাবাহিনী বনাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী.. 45

আমি কী করতে পারি?. 52

১। আনসার: 55

২। মুহাজির: 56

৩। ওয়ান ম্যান আর্মি: 57

আমার একার এই কাজে কী এমন প্রভাব পড়বে ?. 64

১। শেষ আঘাতটির কারণেই পাথরটি ভাঙ্গেনিঃ67

২। শত্রুর অন্তরে ভীতি সৃষ্টিঃ68

৩। প্রতিটি বিস্ফোরণের জন্য একটি সামান্য স্ফুলিঙ্গ দরকার হয়ঃ71

৪। কিতাল নিজে একটি শক্তিশালী দাওয়াহঃ73

ভয়ের মোকাবেলা: নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত অতি দুর্বল! 75

অবতরণিকা

ইন্নাল হামদালিল্লাহ, ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ (ﷺ)।

অবশ্যই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি আমাদের অন্তরের অনিষ্ট থেকে ও আমাদের কাজের অনিষ্ট থেকে। নিশ্চয়ই যাকে আল্লাহ পথ দেখান তাকে কেউ বিপথে নিতে পারে না, আর আল্লাহ যাকে পথ না দেখান তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কোন উপাস্য নাই, আল্লাহ এক ও তাঁর কোন শরীক নাই, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর,

সেই মহান আল্লাহর প্রশংসা সহকারে শুরু করছি, যিনি সমস্ত সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এমন অবস্থা থেকে যখন আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই ছিলোনা। সৃষ্টির এই কাজে কেউ তাঁকে পরামর্শ দেয়নি, না কোন পরামর্শ তাঁর দরকার ছিল! কেউ তাকে সাহায্য করেনি, না কোন সাহায্য তাঁর দরকার ছিল! বরং সব কিছুই তো তাঁর ইচ্ছা, প্রজ্ঞা ও অনুগ্রহের ফলে সৃষ্টি জগতে প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহ আসমান এবং জমিন সমূহকে বললেন,

ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ

﴿فصلت: ١١﴾

অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আসো স্বেচ্ছায় কিংবা আমি আনবো বলপূর্বক, তারা বললো আমরা আসলাম আনুগত্যের সহিত“। (সুরা হামিম সাজদা, আয়াত ১১)

অতএব সেই মহান সত্তা যিনি শুধু সমস্ত কিছু সৃষ্টিই করেননি বরং এসব কিছুর প্রতিপালনও নিজের উপরে ন্যস্ত করে নিয়েছেন। জগতসমূহ এবং এর মাঝে যা আছে সেগুলোর প্রতিপালন, রক্ষণাবেক্ষণ তাকে কখনো ক্লান্ত করেনা। তিনি সুমহান, তাঁর কুরসি সমস্ত সৃষ্টি জগতকে পরিব্যাপ্ত করে আছে আর, তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সেই কুরসির উপরে তাঁর শান অনুযায়ী সমুন্নত। তাঁর সমকক্ষ কেউ নাই, তাঁর সমতুল্য কেউ নাই। তিনি এক, অদ্বিতীয়, সমস্ত কিছুর উপরে তিনি একক ভাবে প্রবল পরাক্রমশালী। আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করেছেন, পারলে যেন যে কেউ তার সমস্ত সেনাবাহিনী নিয়ে আল্লাহকে আসমান কিংবা জমিনে পরাস্ত করে দেখায়! আর আদতে এই তুলনা করতে চাওয়াই তো সৃষ্টির জন্য অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক।

ইতিহাসের শুরু থেকে অনেক মূর্খ জালিম তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক বাহিনীর শক্তির উপর ভর করে এমন ধৃষ্টতা এবং দুঃসাহস দেখিয়েছিলো এবং এ কথাও সত্য যে ইতিহাস তাদের পরিণতি লিপিবদ্ধ করতে ভুলেনি! নমরুদ তার বাহিনী নিয়ে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নেমেছিলো, আর তার মোকাবেলায় সামান্য মশাই যথেষ্ট ছিলো! ফিরাউন নিজেকে খোদা দাবি করেছিলো আর সেই ফিরাউনকে আল্লাহ ডুবিয়ে মেরেছেন একই সাথে তাকে শিক্ষা হিসেবে নিদর্শন করে দিয়েছেন পরবর্তীদের জন্য। আবরাহাও চেয়েছিলো আল্লাহর ঘরকে গুড়িয়ে দিতে কিন্তু সেই আবরাহার বিশাল হস্তী বাহিনীর জন্য যথেষ্ট ছিলো সামান্য কংকরই। আল্লাহ তাদেরকে পিষে মেরেছিলেন। নিদর্শন আছে আদ জাতি, সামুদ জাতি কিংবা সালিহ আলাইহিস সালাম এর কওমের মধ্যে। আল্লাহ তাদের এমন ভাবে নিশ্চিহ্ন করেছেন যেন কোন কালে তাদের কোন অস্তিত্বই ছিলোনা।

আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না। তাকিয়ে দেখিনা আল্লাহর বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধে নেমেছিলো তাদের পরিণতি কী হয়েছিলো! বদরের যুদ্ধের প্রাক্কালে মক্কার কাফিরদের নিকট আবু সুফিয়ান মেসেজ পাঠালো, কাফেলা নিরাপদ আছে, তোমরা এবার ফিরে যাও। কিন্তু এমন কথা মক্কার কাফের নেতাদের পছন্দ হলোনা। বরং তারা গর্ব করলো, অহংকার করলো, নিজেদের শক্তিমত্তার উপরেই অনেক বেশি ভরসা করলো এবং বললো, দুনিয়ার বুক থেকে ইসলাম এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) কে বিলীন করেই ছাড়বো। বদরের যুদ্ধের পরে যখন কাফেরদের নেতারা অন্ধ কূপে নিক্ষিপ্ত হল, তখন রাসুল (ﷺ) তাদের উদ্দেশ্য করে  বললেন – আমি আমার রবের ওয়াদা সত্য পেয়েছি তোমরাও পেয়েছ কি!” বদরের প্রাক্কালে তারা তাদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে এক হয়েছিলো ইসলামকে বিনাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু আজ তারা কোথায়? এ কথাগুলো এজন্য বলে নেয়া দরকার মনে করলাম যেন, আল্লাহর বিরুদ্ধে যারাই যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে তাদের কী পরিণতি হয়েছিলো, সে ব্যাপারে আমাদের সামনে একটা পরিষ্কার ছবি থাকে! আজ অনেকেই জেনে হোক, না জেনে হোক আল্লাহ’র বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

আল্লাহ বলেন –

وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ

‌ ﴿آل عمران: ٥٤﴾

“তারাও চক্রান্ত করে আর আল্লাহও পরিকল্পনা করেন নিশ্চয়ই আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী” (সুরা আলেইমরানঃ ৫৪)

আল্লাহ আরো বলেন –

وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ

﴿البقرة: ١٩﴾

“আল্লাহ সব দিক থেকে কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন”। (সুরা বাক্বারা: ১৯)

আল্লাহ বলেন

إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

﴿العنكبوت: ٢٠﴾

“নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল কিছুর উপরে একক ক্ষমতাবান”। (সুরা বাক্বারা: ২০)

আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতি সমূহের ধ্বংসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুরা আদ দুখানে বলেন-

তাদের মৃত্যুতে আকাশ, বাতাস কাঁদেনি– (ব্যঙ্গাত্মক অর্থে) তারা নিজেদের কতই না রাজা বাদশাহ দাবি করেছিলো। কিন্তু কই! তাদের মৃত্যুতে তো আকাশ, বাতাস কোন শোক প্রকাশ করেনি! আজকে যারা দুনিয়ার জীবন আর পদপদবী নিয়ে সন্তুষ্ট, যারা দুনিয়া অর্জনের জন্য সত্যকে ভুলে আছেন, তাদের পরিণতি কি ভিন্ন কিছু হবে?

আজ তাগুতের বাহিনীতে (হতে পারে আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স, পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব, কিংবা এস এস এফ, পি জি আর, বি জি বি, ডি জি এফ আই, ডিবি ইত্যাদি) চাকরি করছেন তাদের এই ছোট্ট চিঠিটি অবশ্যই পড়া উচিত। এটি পরিষ্কার একটি দাওয়াত যেখানে তাগুতের শেখানো দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে প্রকৃত বাস্তবতাকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এই চিঠি হাতে পাবার পরে ‘সত্য জানতেন না’, এই অজুহাত দেয়ার সুযোগ আর থাকছে না।

ঈমানের দাবিদার ভাইদের প্রতি খাস আহবান

আজকে

আমার এই কথা গুলো খাস ভাবে সেসব ভাইদের প্রতি, যারা তাগুতের অধীনে চাকরি করেন, যেমন: আর্মি, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ইত্যাদি বাহিনী। বিশেষভাবে, আমার এ লেখাটি তাদের জন্য যারা সেনাবাহীনিতে চাকরি করেন। আপনাদের অনেককে ব্যক্তি পর্যায়ে আমি এখনো ভাই বলেই মনে করি, যদিও দলগত ভাবে আপনাদের পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ! এই লেখা শুধু তাদের উদ্দেশ্য করেই, যাদের অন্তরে ঈমানের আলো এখনো নিভে যায়নি। যারা হাজারও কর্মব্যস্ততার মাঝে মসজিদে সালাতের কাতারগুলো এখনো পূরণে সচেষ্ট, যারা এখনো নিজেকে মনেপ্রাণে মুহম্মদ (ﷺ) এর উম্মত মনে করেন এবং উম্মাহ’র অংশ হিসাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত মুসলিমদের কষ্ট দেখে ব্যথিত হন। নীরবে নিভৃতে কখনও বা রাতের নির্জনতায় উম্মাহ’র রক্তক্ষরণ স্মরণে এলে কষ্ট পান। আমি তাকেই আমার দ্বীনের ভাই বলে স্বীকার করি যার অন্তরে আল্লাহ, তাঁর রাসুল (ﷺ) এবং তাঁর দ্বীনের জন্য শেষ বিন্দু ভালোবাসা এখনো টিকে আছে, যদিও বা তা গোপনে! তিনিই আমার ভাই।

এর বাইরে সবাইকে আমি তাগুত এবং তার সাহায্যকারীই মনে করি। যাদের ব্যাপারে আল্লাহ জাহান্নামের ওয়াদা করেছেন

আমি যখন আপনার জন্য এ কথাগুলো লিখছি তখন গভীর রাত। সারাদিনের কর্ম-ক্লান্ত শরীর নিয়ে আমারও ঘুমিয়ে যাবার কথা। আমার জানালার বাইরে ব্যস্ত শহর ইতিমধ্যেই নীরব-নিস্তব্ধ, হয়ত স্বপ্নরাজ্যের কোলে ঢলে পড়েছে। কিন্তু আমি এখনো জেগে আছি আপনাদেরকে স্মরণ করে কিছু লেখার জন্য। এভাবে বলছি কারণ, আমি আশা করি, আপনি বিশ্বাস করবেন যে, অহেতুক কোন বিষয়ে আমি আপনার সময় নষ্ট করছি না, বরং আমি চেষ্টা করছি কেবল এটুকুই বলতে, যেটুকু আমার এবং আপনার জন্য কল্যাণকর, যেটুকু আমার এবং আপনার জন্য অবশ্য করণীয়। ইতিমধ্যে আমাদের গাফেলতি এবং উদাসীনতার জন্য উম্মাহ’র যে রক্তক্ষরণ হয়ে গেছে তা প্রকাশ করার মতো উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই, তবুও কিছু সংকোচ ও দ্বিধা ভেঙ্গে কলম ধরলাম, কারণ ভাই হিসাবে ভাইয়ের কল্যাণকামীতার একটি দায় বা দায়িত্ব তো থেকেই যায়। মহান মাবুদ আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা গুলো কবুল করে নিন।

আপনার প্রতি আমার বিশেষ বিনীত অনুরোধ, লেখাটি পড়বেন। পড়া শেষে এ ব্যাপারে নিজেকে কিছুটা সময় দিবেন এবং দুনিয়াবি হাজারো ব্যস্ততা থেকে কিছুটা আলাদা হয়ে নীরবে নিভৃতে কিছু চিন্তাফিকির করবেন ইনশাআল্লাহ ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ আর নিশ্চয়ই মহান রব আমাদের নিয়্যাতের খবর রাখেন

কেন এই আহবান?

প্রথমেই বলে এসেছি যে, আমাদের গাফেলতি, উদাসীনতা এবং গাদ্দারির জন্য উম্মাহ’র যে রক্তক্ষরণ তা আসলে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব না। আল্লাহ বলেন –

وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا

﴿النساء: ٧٥﴾

“তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ এবং শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করবে না, যারা দু’আ করছে হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এই জালিম অধ্যুষিত জনপদ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ থেকে কাউকে আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে কাউকে আমাদের সাহায্যকারী বানিয়ে দাও” (সুরা নিসা: ৭৫)

আজ মুসলিম জাহানের যৎসামান্য যে অবস্থা আপনি, আমি ইন্টারনেট বা টিভির কল্যাণে দেখি, তার প্রেক্ষিতে এই আয়াতটি কি আমাদেরকে চমকে তোলেনা ভাই? আয়াতটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার! এখানে ঘোলাটে কিছুই নেই। একদম কিছুই না! এরচেয়ে অনেক জটিল কমান্ড এবং অনেক জটিল ট্যাকটিক্যাল থিওরি আমরা খুব সহজেই বুঝে যাই কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালার খুব স্পষ্ট একটি কথা আমাদের বুঝে আসেনা! কেন আমাদের বুঝে আসেনা এই বিষয়টি নিজেই অনেক বড় আলোচনার দাবি রাখে যা এই লেখার মূল উদ্দেশ্য নয়। তবে সারকথা এই যে, এর কারণ হল আমাদের উদাসীনতা, গাফেলতি এবং গাদ্দারি! পবিত্র কুরআনে এমন আরো দেড়শোর বেশি  আয়াত দ্বারা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে আল্লাহ তা আলা একটিবিশেষ বিষয়েরদিকে আপনাকে আমাকে ডাকছেন অথচ আমরা কর্ণপাতই করছি না!

আপনি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন, আজ দুনিয়ার এমন কোন প্রান্ত বাকি আছে কি যেখানে মুসলিম উম্মাহ নির্যাতিত-নিপীড়িত নয়! দুনিয়ার সুপার পাওয়ারগুলো তাদের অস্ত্র শান দিচ্ছে শুধু মাত্র একটি মাত্র লক্ষ্য নিয়ে আর তা হল মুসলিম উম্মাহকে নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য। মাদার অফ অল বম্বস থেকে শুরু করে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্রগুলো সার্ভিসে যুক্ত হবার আগে মুসলিম ভূমিগুলোর উপরেই পরীক্ষিত হয় আর রক্তাক্ত হয় উম্মাহ’র নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু সবাই। শুধুমাত্র ইউএস (অ্যামেরিকা) দুনিয়ার ৭৬ টি দেশে মিলিটারি অ্যাকটিভিটিস জারি রেখেছে। এ সামরিক কার্যক্রমের ৯০% এরও বেশি হচ্ছে মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে। এর মধ্যে আপনি যদি শুধু প্রেজেন্স অফ কমব্যাট ট্রুপস এবং এয়ার অ্যান্ড ড্রোন স্ট্রাইক এই দুটি ক্যাটেগরিতে বিচার করেন তাহলে ইউএস এর উপস্থিতি ১০০% শুধু মাত্র মুসলিম দেশগুলোতেই! আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন মুসলিম দেশগুলোতে অ্যামেরিকা কমব্যাট ট্রুপ্স এবং ড্রোন স্ট্রাইক দ্বারা ঠিক কী করছে বলে আপনার ধারণা? এ ব্যাপারে আমি হাফিংটন পোস্ট এর হেডলাইন বলি –

Nearly 90 Percent of People Killed In Recent Drone Strikes Were Not the Target[1]

ড্রোন স্ট্রাইকে নিহত ৯০ ভাগ মানুষই টার্গেট এর বাইরে, অর্থাৎ সিভিলিয়ান! এতো গেলো শুধু ইউএস এর কথা। রাশিয়া, চায়না, দলগত ভাবে ন্যাটোর অন্যান্য দেশ এবং এই অঞ্চলে আমেরিকা ও যায়নিস্ট ইসরায়েলের দালাল হিন্দুত্ববাদী ভারতের কথা তো বাদই রইল। আমি শুধু আপনার সামনে একটা ধারণা উপস্থাপন করতে চাচ্ছি যে দেখুন, দুনিয়াব্যাপী মুসলিম উম্মাহকে নিঃশেষ করে ফেলার ব্যাপারে কাফিররা কেমন তৎপর! কেন আমি এটি উপস্থাপন করতে চাচ্ছি? কারণ আপনি যখন তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন তখন আপনার জন্য উপরের সেই আয়াতটির অর্থ উপলব্ধি করা আরো একটু সহজ হবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর রাসুল (ﷺ) কে আদেশ করছেন –

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ

﴿الأنفال: ٦٥﴾

“হে নবি, আপনি মুমিনদেরকে কিতালের জন্য উদ্বুদ্ধ করুন”। (সুরা আনফালঃ ৬৫)

এই লেখার উদ্দেশ্যও তাই – মুমিনদেরকে কিতালের জন্য উদ্বুদ্ধ করা

এখন আপনি হয়ত বলবেন, “ভাই আমার তো কিছু করার নেই আসলে, আমার হাত পা বাধা আমি তো কেবল সরকারি চাকরি করি, সরকারের নুন খাই, তারই গুণ গাই আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র আমাকে যা আদেশ করেন আমি সে মোতাবেক অফিসিয়াল কাজ করি, বিনিময়ে বেতন, রেশন পাই, বউ বাচ্চা নিয়ে খেয়ে পরে বেঁচে থাকি!”

ভাই, এই ভাবনা একটি আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু না! চোখের সামনে এত এত অন্যায়, আর নিপীড়িতের আর্তনাদের মাঝে কী করে আপনি এতটা নির্লিপ্ত হয়ে সুখে দিন কাটাতে পারেন? যখন আপনার কিছু করার আছে, তা যত সামান্যই হোক না কেন? দাওয়াত পাবার পর আল্লাহ অসন্তুষ্টির ভয়ে আপনার অন্তর যদি কিছুটা হলেও কম্পিত হয়, যদি আপনি খাঁটি দিলে তাওবা করেন, হিদায়াতের পথে প্রত্যাবর্তন করেন এবং আল্লাহ্ শত্রু মুসলিমদের শত্রুদের ক্ষতি করতে পারেন, তাহলেই আপনি সফল ইনশাআল্লাহ পক্ষান্তরে আপনি যদি নিজের আত্মায় আসা উপলব্ধিকে উপেক্ষা করে এভাবেই জীবন পার করে দেন, তাহলে আমি আশঙ্কা করি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন এক আযাব নিয়ে কোন সন্দেহ থাকলে আল্লাহর কালামের উপর আবার চোখ বুলিয়ে নিন একজন সৈনিক বা কনস্টেবল বা অফিসার হিসাবে আর দশটা মানুষের থেকে আল্লাহ তাআলা আপনাকে আলাদা কিছু সুযোগ দিয়েছেন আপনি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন মনে রাখবেন আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত সুখ সম্মান যেমন নিয়ে আসে, তেমনি নিয়ে আসেনীরব এক পরীক্ষা ! নিয়ামতের হক আদায়ের পরীক্ষা

আজকের মুসলিম শাসকরা কি আসলেই  মুসলিম ?

আজ

বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের উপর চেপে বসা নামসর্বস্ব “মুসলিম শাসকেরা” নির্লজ্জভাবে, পশ্চিমা প্রভু এবং যায়নিস্টদের পদলেহন করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ক্রুসেডার আর ইহুদি যায়নিস্টদের পাশাপাশি এই শাসকেরা বিশেষভাবে পূজা করে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু মুশরিক সন্ত্রাসীদের। কাফের-মুশরিক মনিবদের আজ্ঞাবহ দাস হয়ে এই শাসকেরা মুসলিম নাগরিকদের উপরে জুলুম, নিপীড়নের চূড়ান্ত নমুনা দেখানোর কোন অংশ বাকি রাখেনি। আল্লাহর দেয়া বিধানকে বাতিল আখ্যা দিয়ে কাফের মনিবদের মনগড়া মতবাদ ডেমোক্রেসি আর সেকুলারিজমকে তারা জনগণের উপরে চাপিয়ে দিয়ে মানুষের উপরে ফিরাউন সেজে বসেছে। অথচ এমন অবস্থাতেও আমরা অনেকেই সন্দেহে দুলতে থাকি- তারা তো মুসলিম!” বাস্তবতা হল বর্তমান পৃথিবীতে মুসলিম অধ্যুষিত ভূখণ্ডগুলোর উপর কর্তৃত্ব করা এই নামসর্বস্ব “মুসলিম শাসকেরা” আসলে মুরতাদ এবং তাগুত এটা আসলে প্রকাশ্য দিবালোকের মত সুস্পষ্ট। শুধুমাত্র এই বিষয়ের উপরেই বহু আলোচনা রয়েছে। বড় কুফর হচ্ছে তেমন কুফর যার যে কোন একটির কারণে যে কেউ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। যেমন – আল্লাহর বিধান বাতিল করে দেয়া কিংবা দ্বীনের কোন ব্যাপারে হাসি, ঠাট্টা বা মশকরা করা, উপহাস করা

 

আপনার সুবিধার্থে বর্তমান শাসকদের মধ্যে উপস্থিত এধরনের বড় বড় কুফরগুলোর কয়েকটি সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:

১। কালিমার প্রথম দাবি লা ইলাহ অর্থাৎ অন্য যে কোন ইলাহ বা তাগুতকে অস্বীকার না করার কারণে তারা কাফের:

দেখুন, মক্কার কাফেররা কিন্তু এজন্য কাফের ছিলোনা যে তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করতো না, বরং তারা তো আল্লাহকে খুব ভালো ভাবেই বিশ্বাস করত। বরং তারা এজন্য কাফের ছিলো যে, তারা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য ইলাহতে বিশ্বাসী ছিল। সেইসব মিথ্যা ইলাহের আনুগত্য করতো। তারা বলত, আমরা লাত কিংবা উযযা কে আল্লাহর সমতুল্য মনে করিনা, বরং আমরা মনে করি এসব দেব দেবীর উপাসনার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর আরো কাছাকাছি হতে পারব! তাই আজ যদি কেউ দাবি করে আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি এবং একই সাথে সে গণতন্ত্র রক্ষার একজন আদর্শ সৈনিক হিসেবেও গর্ব বোধ করে, তবে তার এই আয়াত স্মরণ করা উচিৎ –

وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللّهِ إِلاَّ وَهُم مُّشْرِكُونَ

﴿يوسف: ١٠٦﴾

অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।“।  [সুরা ইউসুফঃ ১০৬]

এবং আল্লাহ আরও বলেন,

وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

﴿الزمر: ٦٥﴾

আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। [সুরা যুমারঃ ৬৫]

 

২। আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন এবং এর বিধানসমূহ এখনকার দিনে ‘অপ্রয়োজনীয় বা অকার্যকর’ বলা এবং এগুলোর কোন কোনটা নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করার কারণে তারা কাফের:

যেখানে প্রকাশ্যে আল্লাহর দ্বীন ইসলামকে নিয়ে কটাক্ষ করা হয়, ইসলামকে ব্যাকডেটেড মনে করা হয়, এমনকি ইসলামের হুকুম আহকামের উপরে আক্রমণ করা হয় তখন তা বড় কুফর।

আল্লাহ বলেন –

وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ ۝ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ

﴿التوبة: ٦٥-٦٦﴾

আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার। (সুরা তাওবাঃ ৬৫৬৬)

যখন ইসলামী শরিয়াহর কোন বিধানকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, ইসলামী শরিয়াহ’র কোন আইন/হদ কে অকার্যকর মনে করা হয় তখন তা বড় কুফর।

আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু এর আমলে রিদ্দার যুদ্ধের ব্যাপারে আমাদের জানা আছে। মুরতাদ গণ্য করে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছিল তাদের অপরাধ কী ছিল? মূলত তারা যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো। লক্ষ করুন, তারা যাকাতের বিধান অস্বীকার করেনি। তারা বিধান স্বীকার করেছে, কিন্তু যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে। ইসলামের কেবল এই একটি হুকুমের ব্যাপারে তারা এমন অবস্থান নিয়েছিল। বাদবাকি অন্য বিধান তারা মানতো। তারা কুরআন পড়ত, সালাত কায়েম করত, হাজ্জ আদায় করত। শুধু মাত্র এই একটি হুকুমকে অস্বীকার করার কারণে তারা পরিণত হয়েছিলো ধর্মত্যাগী মুরতাদে!  আর এজন্যই এ যুদ্ধের নাম ছিলো রিদ্দার যুদ্ধ

আরও একটি উদাহরণ পর্দা পর্দা ইসলামের একটি ফরজ হুকুম। যে কেউ এই পর্দার ব্যাপারে সামান্য কোন বাজে মন্তব্য করবে সেই এই হুকুমের ব্যাপারে কটাক্ষের আওতায় পড়বে। অথচ এখন তো পর্দা পালন করা নিজের উপর হুমকির শামিল! অহরহ পর্দার উপরে কটাক্ষ করা হচ্ছে এবং একে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রীয় ভাবে পর্দার উপরে অবমাননাকর মন্তব্য আরোপ করা হচ্ছে! হিন্দুত্ববাদীদের খাস এজেন্ট তাগুত হাসিনা প্রেস কনফারেন্সে চরম স্পর্ধা আর ঔদ্ধত্যের সাথে কুরআনের বিধানকে নিয়ে হাসিতামাশা করছে। বোরকাকে ‘তাবু’ বলছে, কটাক্ষ করছে ।[2]

এছাড়া জিহাদ ইসলামের একটি ফরজ হুকুম, যেভাবেই হোক তা ফরজ। হয় ফারদুল আইন অথবা ফারদে কিফায়া। এমন একটি ফরজ হুকুমকে রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, যে জিহাদ করতে চায় তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে যাচ্ছে সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র। এটিও সুস্পষ্ট রিদ্দা!

আর সুদি ব্যাংকিং সিস্টেম দ্বারা দেশের প্রায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নাপাক করে ফেলা তো আল্লাহ’র বিরুদ্ধে স্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণা! এর বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে গেলে আপনি আমি কিভাবে নাজাত পাব ভাই? আল্লাহ্সুদকে হারাম করেছেন, এটি এমন পর্যায়ের গুনাহ যা আপন মায়ের সাথে জিনা করার চেয়েও জঘন্য! এমন পর্যায়ে যে তা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল, অথচ এখন সুদকে রাষ্ট্রীয় ভাবে বৈধ করা হয়েছে।

আল্লাহ্মদকে করেছেন হারাম, হারাম করেছেন সমস্ত অশ্লীলতা। অথচ এখন রাষ্ট্রীয় ভাবে মদকে বৈধ করা হয়েছে এবং সমস্ত অশ্লীলতাসহ পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত বৈধ করা হয়েছে!

এই শাসকরা জেনে এবং না জানার বাহানা করে, বড় ফায়দা লাভের জন্য কিংবা কিছু ছোট ছাড় দেওয়ার অজুহাতে, আল্লাহর বিধান সমূহকে অকার্যকর বা বাতিল করেছে! সেই জায়গায় নিজেরা আইন বানিয়েছে এবং সেই আইনকে আল্লাহর আইনের উপর স্থান দিয়েছে। তারা নিঃসন্দেহে মুরতাদ! এব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণ দালিলিক গবেষণা ইজমাকিয়াস রয়েছে যা আপনি চাইলেই ইন্টারনেটে খুঁজে পাবেন সহজে

বর্তমানে এইসব নামসর্বস্ব “মুসলিম শাসকেরা” প্রত্যেকেই কাফের/মুশরিক মনিবের সাথে কোন না কোন ভাবে মুসলিমের বিরুদ্ধে সাহায্য সহযোগীতার চুক্তিতে আবদ্ধ। তাদের কাফের মনিবরা দুনিয়ার কোন না কোন প্রান্তে মুসলিমদের হত্যায় ব্যস্ত। এই সব নামসর্বস্ব “মুসলিম শাসকেরা” তো এতই জঘন্য যে, নিজেদের দেশের মুসলিম নাগরিকদের ধরে ধরে তাদের কাফের মনিবদের হাতে তুলে দেয়! আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

﴿المائدة: ٥١

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহুদ ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে থেকে যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সুরা মায়িদাহঃ ৫১)

রাসুল (ﷺ) এর চাচা আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বদর এর যুদ্ধে মুসলিম সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছিলেন যদিও তিনি মুসলিম হয়েছিলেন এর আগেই। কিন্তু রাসুল (ﷺ) তাঁর থেকেও মুক্তিপণ নিয়েছেন। আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু যে বাহিনীর সাথে ছিলেন তাদের মতই বিবেচিত হয়েছিলেন! জি, আমি বলছি রাসুল (ﷺ) এর আপন চাচা আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু এর কথা! মক্কার কাফেরদের বাহিনীতে শুধুমাত্র উপস্থিতির কারণে তাঁর উপরেও সেই একই হুকুম আরোপিত হয়েছিলো যা কাফেরদের উপরে আরোপ করা হয়েছিলো! অথচ আমাদের মুসলিম নামসর্বস্ব শাসকরা তো মুসলিমদের রক্ত বন্যা বইয়ে দিয়ে হলেও মনিবদের মনোরঞ্জনে কোন ত্রুটি করেনা! তারা কি মুরতাদ হবে না ভাই? অবশ্যই হবে, কোন সন্দেহ নেই!

 

৩। আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে গণতন্ত্রকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার কারণে তারা কাফের:

গণতন্ত্র হচ্ছে একটি শিরক এবং কুফর মিশ্রিত জীবনবিধান। গণতন্ত্র’র জন্মই হয়েছিলো ধর্ম থেকে পৃথক হয়ে, সেকুলারিজম এর উপরে ভিত্তি করে। এখানে আরো একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার তা হচ্ছে, দ্বীন অর্থ শুধু নামাজ, রোজা, হাজ্জ পালনের নাম নয়। নিশ্চিত ভাবেই নয়। ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। দ্বীন অর্থই জীবনবিধান, সংবিধান। আল্লাহ জীবনবিধান হিসেবে আমাদের জন্য শুধুমাত্র ইসলামকেই মনোনীত করেছেন। আল্লাহ বলেন –

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

﴿المائدة: ٣﴾

“আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করলাম।”)সুরা মায়িদাহঃ (

আল্লাহ আরও বলেন –

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

﴿آلعمران: ١٩﴾

“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন হচ্ছে কেবলমাত্র  ইসলাম।”(সুরা আলেইমরানঃ ১৯)

এখন কেউ যখন এই ইসলামকে দ্বীন হিসেবে বাদ দিয়ে অন্য যে কোন মানব রচিত বিধানকে সাধারণ মানুষের উপরে প্রয়োগ করে তখন সে কাফের এবং তাগুত। কারণ আল্লাহ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন –

إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِينَ

﴿الأنعام: ٥٧﴾

“আল্লাহ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠতম মীমাংসাকারী।” (সুরা আনআমঃ ৫৭)

এমন অবস্থায় যে দেশের সংবিধান বলে – “সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনগণের পক্ষে এই ক্ষমতার প্রয়োগ হবে সংবিধান এর দ্বারা”, যখন সংবিধানে বলা হয়- “জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে[3] – তখন এর মধ্যে শিরক এবং কুফর ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা! আমি আবারো বলছি, তখন তার মধ্যে শিরক এবং কুফর ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা! আপনি অন্য কিছু দেখতে পাচ্ছেন কি!

৪। একই ভাবে তারা আল্লাহর দ্বীনকে বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া বিধান বানিয়ে এবং সেগুলোকে প্রয়োগ করার কারণে কাফের:

আল্লাহ বলেন –

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

﴿الشورى: ٢١﴾

“তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সুরা আশশূরা: ২১)

আল্লাহর বান্দাগণ আল্লাহর দুনিয়ায় কিভাবে চলবে, কোন বিধানের আওতায় তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে তা বলে দেয়ার মালিক নিঃসন্দেহে আল্লাহ এবং শুধুই আল্লাহ। কারণ আল্লাহ ব্যতীত তো তারা কেউ এই দুনিয়ার কোন কিছুরই মালিক না। এমনকি আল্লাহ বৃষ্টি না দিলে তো তাদের কেউ এক ফোঁটা বৃষ্টিও নামাতে পারবেনা! আল্লাহর এক ক্ষুদ্র সৃষ্টি মশার মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা পর্যন্ত তাদের নেই।

তাহলে এটা কিভাবে মেনে নেয়া সম্ভব যে, আল্লাহর জমিনে, আল্লাহর সমস্ত নিয়ামত ভোগ করে, আল্লাহর বান্দাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিধান বাদ দিয়ে, আল্লাহর সৃষ্ট কিছু নগণ্য মানুষের বিধান প্রযোজ্য হবে!

এমন জুলুম অস্বীকার করার জন্য অনেক বড় মুফতি হবার দরকার হয়না কিংবা অনেক গবেষণারও দরকার হয়না। শুধু দরকার হয় নিজের সত্য স্বত্বাকে উপস্থাপন করা এবং নিজের সাথে প্রতারণা না করা।

তাই সারকথা হল এসব তথাকথিত নামসর্বস্বমুসলিম শাসকেরাআসলে মুরতাদ! এদের কুফুরি মক্কার কাফেরদের চেয়েও বড় এবং জঘন্য! মক্কার কাফেররা শুধুমাত্র কিছু ইবাদতে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করত, এবং সকল কিছুর উপরে একক ক্ষমতাবান হিসেবে আল্লাহকে স্বীকারও করে নিত। আর এসব তাগুতরা তো সমস্ত বিধিবিধানের ক্ষেত্রেই আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করেছে। শুধু তাই নয় নিজেদের মনগড়া নতুন বিধান প্রণয়ন করেছে, শুধু তাই নয়- সেই বিধানকে জনগণের উপরে চাপিয়ে দিয়েছে, এবং যদি কেউ তাদের এই মনগড়া শিরকি বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহ বিধানকে গ্রহণ করতে চায় তবে তারা তাদেরকে হত্যা করে ফেলে!

এরাই হচ্ছে মুরতাদ, এরাই হচ্ছে তাগুত এদের উপরেই আল্লাহর অভিশাপ এবং এদের ধ্বংস অপরিহার্য আল্লাহ্ওয়াদা করেছেন জাহান্নামই হচ্ছে তাদের জন্য আবাসস্থল!

আর আপনি কি তাদেরই সাহায্যকারী হিসাবে

তাদের বিভিন্ন বাহিনীগুলোতে (ফোর্সেস )

চাকুরী করছেন না ভাই?

 

 

এসকল তথাকথিত মুসলিম শাসকদের সাহায্যকারীদের (ফোর্সেস-এর) ব্যাপারে আল্লাহর সতর্কবাণী এবং ভয়াবহ পরিণাম!

আল্লাহ  বলেন

قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ اللَّهِ مَن لَّعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ أُولَٰئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ

﴿المائدة: ٦٠﴾

“বল আমি কি নির্দিষ্ট করে সেই সব লোকের নাম বলবো যাদের পরিণতি আল্লাহর নিকট ফাসেক লোকদের পরিণতি অপেক্ষাও খারাপ হবে? তারা সেই লোক যাদের উপর আল্লাহ অভিশাপ বর্ষণ করেছেন, যাদের উপর অসন্তোষ নাজিল হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু লোককে বানর ও শুকর বানিয়ে দেয়া হয়েছে, যারা তাগুতের বন্দেগী করেছে, তাদের অবস্থা অধিকতর খারাপ এবং সরল সত্য পথ হতে সবচেয়ে বিচ্যুত।” (সুরা মায়িদাহঃ ৬০)

সংক্ষেপে তাগুতের সংজ্ঞা হচ্ছে, যে কেউ আল্লাহ যা করেন তা করতে চায় বা করে বা করার প্রবণতা প্রদর্শন করে, যে মহান আল্লাহর সুনির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিজের উপর আরোপ করার চেষ্টা করে, সেই-ই আসলে তাগুত। যেমন আল্লাহ বলেছেন – ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহ – শুধু আল্লাহর হুকুমই চলবে। কিংবা আল্লাহ বলেছেন বিধান দেয়ার মালিক এক মাত্র আল্লাহ। এখন যে আল্লাহর এই কাজকে চ্যালেঞ্জ করবে, করতে চাইবে, করার দাবি করবে সে তাগুত।

সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। এটুকু যদি কারো মেনে নিতে আপত্তি না থাকে তবে সেই সৃষ্টির জন্য আইনও হবে আল্লাহর তা মেনে নিতে আপত্তি কোথায়? উপরন্তু আল্লাহর সৃষ্টি হয়ে যারা কিনা দাবি করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইনকে বাতিল আখ্যা দিয়ে তারাই আইন বানাবে এবং সেই আইন আল্লাহর বান্দাদের উপরে প্রয়োগ করবেএরাই হচ্ছে প্রথম সারির তাগুত আর যারা এই আইনের সুরক্ষা দেয় তারাই তাগুতের প্রথম সারির সাহায্যকারী

আল্লাহ বলেন – 

الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ

﴿النساء: ٧٦﴾

যারা ঈমানদার তারা তো যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে আর যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে।  (সুরা নিসা: ৭৬)

কিন্তু আপনি বলতে পারেন আমি তো আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসুলের উপরে ঈমান এনেছি, তাহলে আল্লাহ্‌ বলছেন –

আল্লাহ বলেন –

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَن يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا

﴿النساء: ٦٠﴾

আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যারা দাবি করে যে, যা আপনার উপরে নাজিল হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপরে ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতিও ঈমান এনেছি কিন্তু তারা বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, অথচ তাদের কে নির্দেশ করা হয়েছিলো যেন তারা তাগুতকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করতে চায়। (সুরা নিসা: ৬০)

সমস্ত যুক্তি-তর্ক, উসূলুল হাদীস, উসূলুল ফিকহ বা ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যাকৃত ফাতওয়াগুলো না হয় বাদই দিলাম, আপনি তো কমপক্ষে কুরআন মানেন, এর আয়াতগুলোর অর্থ পড়তে পারেন, আল্লাহ আপনাকে সেই জ্ঞানটুকু দিয়েছেন। উপরে বর্ণিত আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করার, সত্যিকার অর্থে এর ভিতরের মর্মটাকে বোঝার মতো একটুখানি অবসর তো আপনার অবশ্যই হয়। লক্ষ করুন, এখানেতাগুতবলে একটি শব্দ আছে, আর আপনারা জ্ঞানতঃ বা অজ্ঞানতা বশতঃ এই তাগুতেরই ইবাদত করে চলেছেন অথচ মনে মনে ভাবছেন আমরাখুব সৎ চাকরি করি, সৎ উপার্জন করি‘! হায় আফসোস!!

অনেক সংখ্যক মানুষ একত্রিত হয়ে পরামর্শ করে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর, সেই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু ‘অনেক’ মানুষের সমর্থন থাকার কারণে সেটা নিজেদের জন্য পালনযোগ্য বা জায়েজ হয়ে যায়না। সেই সিদ্ধান্ত ঐ মানুষগুলোর বা ঐ  দেশের বা ঐ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে পক্ষপাতদুষ্ট হতেই পারে, হবেই। তা কোনক্রমেই সর্বজনীন হবে না, হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ – ধরুন এক দেশের সরকার কর্তৃক অপর কোন দেশকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত করা হল, যেখানে  গুলি করে বা বোম্বিং করে মানুষ হত্যা করার মত বড়, গুরুতর ব্যাপার রয়েছে। মনে করুন, পার্লামেন্টে (সংসদে) এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেল, অতঃপর তা এক্সিকিউট করার জন্য, সংসদ ও শাসক তার পালিত বাধ্য সেনাবাহিনীকে আদেশ দিয়ে দিল। এখন কি সেই বাহিনীতে যারা আছেন তাদের জন্য সেটা পালন করা ‘পবিত্রতম’ কর্তব্য হয়ে গেল? ঐ বাহিনীর ভূমিকা কি সরকার নামক মালিকের পোষা গুন্ডার মত হয়ে গেল না?

একই সাথে এটাই বা কিভাবে সম্ভব যখন এই একই আদেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, অর্থাৎ যখন জিহাদের আদেশ পালনের কথা আসে তখন তাতে বাধা দেয়া হয়! সরকার বা সংবিধান যদি যুদ্ধের আদেশ দেয় তবে “অবশ্য পালনীয়” হয়ে যায়, “পবিত্র কর্তব্য” হয়ে যায়, কিন্তু এই একই যুদ্ধের আদেশ যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে তখন হয়ে যায় জঙ্গিবাদ! আর সরকারের আদেশে, আল্লাহর আদেশ পালনে বাধা দেওয়া হয়ে যায় দায়িত্ব, কর্তব্য?  নিজেকে অবশ্যই এ প্রশ্ন করা দরকার যে, আমি যদি আল্লাহকে বিশ্বাস করে থাকি তবে কেমন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড! এমন মনে করে নেয়ার কোন কারণ নাই আমার আপনার এমন আচরণের পরেও আল্লাহর দ্বীন আমাদের মুখাপেক্ষী।

নিজেকে আরও প্রশ্ন করা দরকার যে, আমি আসলে কোন মালিকের গোলামী করছি? আমি কার ইবাদত করছি? আল্লাহর? নাকি সরকারের? তাগুতের?

আল্লাহ বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

﴿المائدة: ٥٤﴾

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের মধ্যে কেউ তার দ্বীন হতে ফিরে গেলে সত্বর আল্লাহ্‌ এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন আল্লাহ্‌ যাদের ভালোবাসেন, আর তারাও আল্লাহকে ভালোবাসবে। তারা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, আর কোন নিন্দুকের নিন্দা কে পরোয়া করবেনা, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি দান করেন এবং আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যের অধিকারী, সর্বজ্ঞ” (সুরা মায়িদাঃ ৫৪)

বর্তমান সরকার হাসিনা ও তার বাহিনী হচ্ছে তাগুতের বাহিনী এবং তার সংবিধান হচ্ছে শিরকের বিধান। আর এই বাহিনীর সদস্য হিসাবে আপনি নিজেও জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে এই শিরকি পদ্ধতি টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন পালিত মাস্তান হিসাবে। সেই কাজের টাকা দিয়ে খাচ্ছেন, নিজের সন্তানকে বড় করছেন ও ইবাদত করছেন, এই ইবাদত কবুল হচ্ছে কি না তা নিয়ে আপনার গভীরভাবে ভাবা দরকার। কারণ, আমাদের রুজি-রোজগার যদি হালাল না হয়, সেই রুজি খেয়ে ইবাদত কবুল হবার নয়। রাসুল (ﷺ) বলেন –

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ: (إن الله تعالى طيب لا يقبل إلا طيبا وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المرسلين فقال تعالى: ( يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ). وقال تعالى: ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ). ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر يمد يديه إلى السماء يا رب يارب ومطعمه حرام ومشربه حرام وملبسه حرام وغذي بالحرام فأنى يستجاب له)

[صحيح مسلم]

হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ () বলেন, “নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ্‌ পবিত্র তিনি পবিত্রতা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আল্লাহ্‌ তা’আলা রাসূলদের (আঃ) প্রতি যা নির্দেশ পাঠিয়েছেন, মুমিনদের প্রতিও তাই পাঠিয়েছেন।  (সহীহ্মুসলিম)

তিনি এরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا

হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার্য গ্রহণ কর এবং সৎ কর্ম কর

(সুরা মুমিনূনঃ ৫১)

 তিনি মুমিনদেরকে লক্ষ্য করে নির্দেশ দেন:  

ياَ أيُّهاَ الَّذِيْنَ آمَنُوْا كُلُوْا مِنْ طَيِّباَتِ ماَ رَزَقْناَكُمْ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী থেকে আহার্য গ্রহণ কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসেবে দান করেছি। (সুরা বাকারা: ১৭২)

অতঃপর রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ সফর করে এলোমেলো কেশ ও ধূলি ধুসরিত পোশাক নিয়ে অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে ডাকতে থাকে, হে আমার প্রতিপালক! হে রব!! অথচ সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম পয়সায় সংগৃহীত, এমতাবস্থায় কি করে তার দুআ কবূল হতে পারে?

(সহীহ্মুসলিম)

আর আপনার উপার্জন তো কেবল হারাম কাজের মাধ্যমে না বরং আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহদ্রোহী তাগুতের মসনদ টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে, আপনাকে অর্থ দেয়া হচ্ছে কতোই না নিকৃষ্ট এই উপার্জন!

আপনি দেখুন, আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন – যারা কাফির তারা যুদ্ধ করে তাগুতের পক্ষে

একদম দুধ দুধের মত, আর পানি পানির মত যেমন হয় তেমনই পরিষ্কার, আপনি এই আয়াতের ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা দেখতে পাচ্ছেন কি? এখানে এমন কোন বিষয় কি আছে যা পরিষ্কার নয়? এখানে ২ টি শব্দ আছে তাগুত এবং কাফির সেই কাফির যে তাগুতের পক্ষে যুদ্ধ করে এখন আপনার একটাই সন্দেহ আসতে পারে যে হাসিনা তাগুত কি না। হাসিনা তাগুত কিনা এটা উপরেই বলে এসেছি। আর তারপরেও বলি হাসিনা মুরতাদ এবং তাগুত। মুরতাদ হচ্ছে সেই, যে এক সময় মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের বিরুদ্ধে কোন বিশ্বাস, কথা বা কাজের কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। মুরতাদ হল এমন কেউ যে একসময় মুসলিম ছিল এখন কাফের হয়ে গেছে। একজন মুরতাদ ইসলামের বাইরে। একজন মুরতাদ ইসলামের বাইরে। একজন মুরতাদ ইসলামের বাইরে। তার আর কাফের এর মধ্যে কোন পার্থক্য নাই এটুকু ছাড়া যে, তার কুফর সাধারণ কাফেরের কুফরের চেয়েও গুরুতর। সে সাধারণ কাফের এর চেয়েও জঘন্য। কারণ সে দ্বীনে আসার পরেও আল্লাহর অবাধ্য হয়ে বেদ্বীন হয়ে গেছে। একজন মুরতাদকে প্রথম সুযোগেই হত্যা করে ফেলা হবে নাকি তাওবা করার সুযোগ পাবে ব্যাপারে আলোচনা আছে

এবার তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কী করছেন? আপনি কি বুঝতে পারছেন, আপনার এই সেনাবাহিনীই আজ হাসিনাকে তার আসনে বসিয়ে রেখেছে? তার শিরক এর আসনে বসিয়ে রাখার পেছনে আপনারও অবদান আছে? তার এই শিরকি গণতন্ত্র মতবাদকে রক্ষা করার পেছনে আপনিও একজন! আজ আপনি যে ডেমোক্রেসির ধারক, বাহক এবং রক্ষক এই ডেমোক্রেসি কোথা থেকে এসেছে? আপনি এই উত্তর জানেন। আঙ্কেল স্যাম আমাদের উপরে এই ডেমোক্রেসি চাপিয়ে দিয়ে গেছে বা আমরা তাদের থেকে শিক্ষা নিয়েছি। অর্থাৎ এই ডেমোক্রেসির ফাদার হচ্ছে আঙ্কেল স্যাম বা টম, ডিক হ্যারিরা। নিঃসন্দেহে এই ডেমোক্রেসি হল কুফর ও শিরকের মতবাদ যা আল্লাহ্‌র আইনকে বাতিল সাব্যস্ত করে, তারপর মানুষের আইনকে আল্লাহর আইনের জায়গায় স্থাপন করে।  আর এই মতবাদ হল কাফেরদের বানানো।

তাহলে দেখা যাক, আল্লাহ এই ব্যাপারে কি বলেছেন। আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تُطِيعُوا فَرِيقًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ

﴿آلعمران: ١٠٠﴾

“হে ঈমানদারগণ, যদি তোমরা এই আহলে কিতাবদের মধ্যে (ইহুদী, খ্রিস্টান) কোন দলের কথা মেনে নাও তবে তারা তোমাদের ঈমান আনার পরে আবার তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে ছাড়বে” (সুরা আলইমরানঃ ১০০)

খুব অস্পষ্ট কিছু কি?

আপনাকেই বলি, হাসিনার আইনে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে গালি দিলে যে শাস্তি শেখ মুজিব কে গালি দিলে তার চেয়ে বেশি শাস্তি! এটা কি ঈমানদারের অনুসরণীয় আইন হতে পারে? নাকি এটা কাফেরদের জন্য কাফেরের বানানো আইন? আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উম্মত নাকি মুজিবের উম্মত?

কিয়ামতের দিন আপনার জন্য কি মুজিব শাফায়াত করবে নাকি মুহাম্মাদ (ﷺ) করবেন? তাহলে আপনি এবার বলুন আপনি আজ দুনিয়ায় বসে আল্লাহর সমস্ত নিয়ামত ভোগ করে এমন আইনকে যখন সুরক্ষা দিচ্ছেন এর প্রতিদানে কিয়ামতের দিন আপনি আল্লাহর কাছ থেকে কেমন আচরণ আশা করেন? আল্লাহ যদি আপনাকে সেদিন জিজ্ঞেস করেন – যেই মুহাম্মাদ (ﷺ) কে আমি সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি, আমি আল্লাহ নিজে যার উপরে সালাম পাঠ করি, তুমি সেই মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবর্তে অন্য একজনকে এবং তার আইনকে (যার ঈমান এর ব্যাপারে সঙ্গত ভাবেই প্রশ্ন করা যায়) এত বেশি প্রাধান্য কেন দিয়েছিলে? – সেদিনের এই প্রশ্নের জবাব হিসাবে কী উত্তর আপনি তৈরী করে রেখেছেন?

আল্লাহ্‌ আর-রাহমানুর রাহীম, কিন্তু সেই সাথে তিনি সারিউল হিসাব (হিসাব গ্রহণে তৎপর) এবং শাদীদুল ইক্বাব (শাস্তি প্রদানে কঠোর)।

আল্লাহর আইনকে হাসিনা এবং তার দুই পয়সার মন্ত্রীরা ব্যাকডেটেড বলে। আল্লাহর আইনের পরিপন্থী আইন বানায়, আর আপনি সেই  আইনের রক্ষাকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন! আল্লাহর আইন ভূলুন্ঠিত অথচ আপনি মানুষের আইনের সামনে অবনত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দ্বীনের পতাকা নিশ্চিহ্ন অথচ আপনি জাতীয়তাবাদের পতাকাকে সালাম করছেন! সারা পৃথিবী জুড়ে আজ ইহুদিনাসারা আর নাপাক মুশরিকদের আগ্রাসনে মুসলিমরা আক্রান্ত মুসলিমদের রক্তের বন্যা বইছে আর মুসলিমদের রক্ত ঝরানো কাফেরদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, তাদের অধীনস্থ হয়ে আপনি জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে কাজ করছেন শুধু তাই না এটা নিয়ে আপনি গর্ব করছেন এই জঘন্য কাজ করতে গিয়ে মারা গেলে এই তাগুত আর কাফিরদের পক্ষ থেকে আপনাকে আবার “শহীদ” উপাধি দেয়া হচ্ছে।

আপনাকে খুব সরল একটা প্রশ্ন করি। এই যে আপনাকে বলা হল “শহীদ”, যদি ধরেও নেই আপনি “শহীদ”, এই শহীদের পুরষ্কার কে দিবে? আল্লাহ নাকি হাসিনা? যদি বলেন আল্লাহ, তাহলে আল্লাহই তো বলেছেন- যারা তাগুতের পক্ষে যুদ্ধ করে তারা কাফির। আপনি তো হাসিনার হুকুমে জাতিসংঘের পক্ষে যুদ্ধ করে মরে গেলেন! তাহলে আপনি মারা যাবার পরে কী আশা করেন! মনে রাখবেন আপনি মরে গেলেন তো আপনার সুযোগ শেষ। আসল খেলা শুরু এর পর। আর কোন ফিরে দেখার সুযোগ নেই। আর কোন রিকনসিলিয়েশন নেই। আপনার হাত যা কামাই করেছে আপনি তাই বহন করবেন।

আল্লাহ বলেন

اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

﴿البقرة: ٢٥٧﴾

“আল্লাহ্‌ মুমিনদের অভিভাবক, (এবং তিনি মুমিনদের) অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং কাফিরদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত, সে তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই আগুনের বাসিন্দা, এরা চিরকাল সেখানে থাকবে। (সূরা বাকারাহঃ ২৫৭)

খুব বেশি দুর্বোধ্য কিছু কি?

গ্লোবাল জিহাদের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট এবং কুফরের সর্দার অ্যামেরিকার অবস্থান

(ইদার ইউ আর উইথ আস অর উইথ দা টেরোরিস্টস!)

সারা দুনিয়াতে মুসলিম উম্মাহ’র অবর্ণনীয় নির্যাতন, নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করার পরেও যখন উম্মাহ’র জিম্মাদারদের সামনে জিহাদের ফারজিয়াত এর ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করার দরকার হয়, তখন আমার কাছে বিষয়টি খুব অদ্ভুত মনে হয়! আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি একটুও বাড়িয়ে বলছিনা, বরং আমি যা বলছি তার ভিত্তি খুব সরল এবং প্রাচীন তা হচ্ছে সেলফ ডিফেন্স পশু পাখিও নিজেদের রক্ষার ব্যাপারটি নিয়ে কোন দ্বিধা সংশয়ে থাকেনা। যখন উম্মাহ’কে রক্তাক্ত করা হচ্ছে তখন সেলফ ডিফেন্স এর জন্য জিহাদের বিষয়টি অবধারিতভাবেই তো সামনে চলে আসে।

জিহাদ নিঃসন্দেহে আল্লাহর হুকুম, এ নিয়ে আর খুব বেশি আলোচনার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ্‌ বলেছেন কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম, কুতিবা আলাইকুমুল কিতাল। ঠিক যেভাবে সাওম এর হুকুম এসেছে সেভাবেই জিহাদের হুকুম এসেছে। আল্লাহ্‌ বলেন-

كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تَكْرَهُواْ شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تُحِبُّواْ شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ

﴿البقرة: ٢١٦﴾

“তোমাদের উপরে জিহাদের বিধান আরোপ করা হল, অথচ তা তোমাদের কাছে অপ্রিয়। তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর, সম্ভবত তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং সম্ভবত কোন কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ্‌ই জানেন, তোমরা জানোনা।” [সুরা বাকারাহঃ ২১৬ ]

জিহাদের স্পষ্ট হুকুমের ব্যাপারে এত বেশি আয়াত এবং হাদিস আছে যে এটা নিয়ে এমনকি সেকেন্ড থট দেয়ার কোন সুযোগ ঈমানদার এর জন্য নেই! কিন্তু তবুও কেন জিহাদ নিয়ে এত অস্পষ্টতা? কারণ অনেক। তবে নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে বড় কারণ আমরা নিজেরাই। কিভাবে? আমরা নিজেদের সামান্য স্বার্থ, সামান্য দুনিয়াবি উপকরণের জন্য এই জিহাদকে পরিত্যাগ করেছি। নিজেদের স্বার্থের জন্য আমরা নিজেদের সত্য স্বত্বা বা ফিতরাতকে বিক্রি করে দিয়েছি। জিহাদ তো এজন্যই যে, আল্লাহর দুনিয়াতে জালিমকে প্রতিহত করা হবে এবং মাজলুমকে রক্ষা করা হবে। আল্লাহর দুনিয়াতে আল্লাহর বান্দাদের জন্য শুধু মাত্র আল্লাহর রহমতস্বরূপ আল্লাহর দ্বীনকেই বাস্তবায়ন করা হবে। আর যখন তা সত্যিই করা হবে, তা হবে তাগুতি এবং কুফরি শক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আল্লাহর এই দ্বীন তাদের নিকট পছন্দ না। তারা এই দ্বীনকে মোকাবেলা করার জন্য, জিহাদকে মোকাবেলা করার জন্য নিজেদের শয়তানী ক্যাম্পেইনগুলো চালু রাখে। এটা যেমন হয় অত্যাচার এবং নিপীড়নের তেমনি হয় ভোগবিলাসের। আল্লাহর সত্য দ্বীনের ব্যাপারে আমাদের উদাসীন করে দেয়ার জন্য তাদের প্রচেষ্টার কোন অভাব থাকেনা। সেইসাথে এটাও সত্য যে, আমরা নিজেরাই তাদের এই ক্যাম্পেইনগুলো সফল করে দেই। আমরা অনেক শিক্ষা অর্জন করি, অনেক বড় বড় ডিগ্রি আমাদের থাকে কিন্তু আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর কিতাবে কী বলেছেন তা শিখতে আমরা ব্যর্থ হই। এরপরে যখন মোল্লা ব্র্যাডলিরা এসে আমাদেরকে তাদের ভার্সনের ইসলাম শেখায়, যে ইসলামে কোন জিহাদ নাই, কিংবা তাদের মনমতো ‘জিহাদ’ আছে, আমরা তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে যাই।

হাস্যকর ব্যাপার হল আল্লাহর কিতাবে আল্লাহর দ্বীনের জন্য জিহাদের যে আয়াতগুলো আল্লাহ নাজিল করলেন সেই জিহাদের আয়াতগুলোই উজ্জীবনি স্লোগান হিসাবে ব্যবহার করে তাগুত সরকার পরিচালিত তথাকথিত “মুসলিম সেনাবাহিনী”। তাদের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আর দেয়ালে দেয়ালে জিহাদেরই আয়াতগুলো দেখা যায়! কী অদ্ভুত নির্লজ্জতা! আল্লাহর নাজিল করা জিহাদের আয়াত আল্লাহর হুকুম জিহাদের জন্য প্রযোজ্য না হয়ে বরং তাগুতের পোষা গুন্ডাবাহিনীর মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে! আমি নিশ্চিত কোন বিবেকবান মুসলিমের কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারেনা!

আমি এমন এক মুহূর্তে এ লেখাটি লিখছি যখন সারা দুনিয়ায় মুসলিম উম্মাহ’র বিরুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চলমান। দুনিয়ার প্রত্যেকটি প্রান্তে আজ মুসলিম উম্মাহ নির্যাতিত এবং নিপীড়িত। এমন অবস্থায় প্রত্যেক মুসলিমের উপরে জিহাদ ফরজ। এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধ উলামাগণের বিস্তর আলোচনা আছে, তাই আমার মত অধমের এ ব্যাপারে আর বেশি কথা না বাড়ানোই উত্তম। গোটা দুনিয়ার পরাশক্তিগুলো আজ একটি বিষয়ে একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে, আর তা হচ্ছে ইসলামের সাথে শত্রুতা! আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স কেউ এ ব্যাপারে আলাদা না। বরং এই একটি মাত্র মিশনে তারা সবাই এক।

আমরা বসে থাকলেও এটা সত্য যে উম্মাহ’র কিছু অংশ অবশ্যই বসে থাকেনি। বরং তারা উম্মাহ’র জিল্লতি দেখে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছে দুশমনের মোকাবেলায়। আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার জন্য তাদের একটি দল জিহাদের পথে অগ্রসর হয়েছে। এবং এমনটাই হবার ছিল। কিয়ামতের আগ পর্যন্ত সর্বদা একটি দল থাকবেই যারা জিহাদ করতে থাকবে হকের উপরে। রাসুল (ﷺ) বলেন,

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ ، قَالَا : حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ : أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : “لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ “

(حديث مرفوع)- رقم الحديث: 3554 صحيح مسلم – كِتَاب الْإِمَارَةِ – بَاب قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا …

আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল কিয়ামতের আগ পর্যন্ত হক্কের উপরে অবিচল থেকে কিতাল জারি রাখবে

[সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৩৫৫৪ কিতাবুল ইমারাহ]

নিচের হাদিসটি প্রায় একই অর্থ ধারণ করে এবং এই হাদিসটিও সহীহ।

حدثنا سعيد بن منصور وأبو الربيع العتكي وقتيبة بن سعيد قالوا حدثنا حماد وهو ابن زيد عن أيوب عن أبي قلابة عن أبي أسماء عن ثوبان قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك وليس في حديث قتيبة وهم كذلك

صحيح مسلم – كتاب الإمارة – باب قوله صلى الله عليه وسلم لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خالفهم

সাওবান রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর দ্বীনের উপর বিজয়ী থাকবে। বিরোধিতাকারীরা তাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।

(সহীহ মুসলিমঃ কিতাবুল ইমারাহ)

ইসলামের সাথে শত্রুতায় যেমন আল্লাহর দুশমনেরা এক, তেমনিভাবে দুশমনদের মোকাবেলায় এই জিহাদও বিশ্বব্যাপী এক এবং অভিন্ন। খোরাসান থেকে শাম, কাশ্মির থেকে উইঘুর, ইয়েমেন থেকে আফ্রিকা, সারা দুনিয়াব্যাপী অভিন্ন এই জিহাদের ধারাই হচ্ছে গ্লোবাল জিহাদ। আল্লাহ্‌ কাফেরদের ব্যাপারে বলেছেন, “আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহিদাহ” সমস্ত কাফের এক মিল্লাত, এক জাতি।

এবং আমাদের আদেশ করেছেন, –

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

﴿آلعمران: ٢٠٠﴾

“হে মুমিনগণ, ধৈর্য অবলম্বন কর, দৃঢ়তা প্রদর্শন কর, নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য পারস্পরিক বন্ধন মজবুত কর এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার”

(সুরা আলেইমরানঃ ২০০)

নিঃসন্দেহে ইসলামের সাথে শত্রুতায় আমেরিকা সবার চেয়ে এগিয়ে। আমেরিকা হচ্ছে দুনিয়ার সকল কুফুরি শক্তির মাথা। আমেরিকার সামরিক বাজেট প্রথম সারিতে থাকা অন্য ৭ দেশের চেয়েও বেশি। নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই বিশাল সামরিক বাজেটের অনুশীলন কোথায় হয়? টাকাগুলো কোথায় খরচ হয়? উত্তর আপনি জানেন। যদি আপনি নিজে থেকে এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কিছু সময় ব্যয় না করেন, তাহলে আমার সাধ্য নেই আপনার সামনে বিশ্বব্যাপী এই জিহাদি ময়দানের বাস্তবতা তুলে ধরা। তবে আমি বুশের একটা কথা সামনে নিয়ে আসতে চাই, তা হল- “Every nation, in every region, now has a decision to make. Either you are with us, or you are with the terrorists.”

শুধু মাত্র এই একটি কথা সময় নিয়ে একটু ভাবলেই এ সত্য অনুধাবন করা সম্ভব যে আজ মিডল গ্রাউন্ড বলতে কিছু নাই কারণ কাফেররা তা থাকতে দিবেনা। দুটি পক্ষের যে কোন একটি পক্ষ আপনাকে বেছে নিতেই হবে। বুশ কোন এলাকা নির্দিষ্ট করে দেয়নি, কোন রাষ্ট্র নির্দিষ্ট করে দেয়নি। “এভরি নেশন”, “ইন এভরি রিজিওন”, স্পষ্ট, পরিষ্কার মেসেজ। আর এই বক্তব্য শুধু কথার কথা না। যারা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করেন তারা ভালো করেই জানেন, Bush meant what he said. অর্থাৎ যখন ইউএস তার কথিত সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করবে তখন দুনিয়ার যে কোন তাবেদার রাষ্ট্র; আমরা যাদেরকে স্যাটেলাইট স্টেট বলি, ইউএস এর হুকুম মানতে বাধ্য। ইউএস এর পক্ষ গ্রহণ করতে বাধ্য। তা না হলে যে ইউএস তাকে কঠিন শাস্তি দেবে! এটাই এ যুদ্ধের বাস্তবতা, এবং বিবেকবান কোন মানুষ এ বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারবে না।

এতো গেল বুশের কথা। দেখা যাক আল্লাহ কী বলেছেন –

لَّا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ

﴿آلعمران: ٢٨﴾

“মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব না করে, মূলত যে এমন করবে আল্লাহর সাথে তার কোন কিছুরই সম্পর্ক নাই। তবে ব্যতিক্রম হল যদি তোমরা তাদের জুলুম হতে আত্মরক্ষার শর্তে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ্‌ তাঁর নিজের ব্যাপারে তোমাদেরকে সতর্ক করছেন, এবং আল্লাহরই দিকে (তোমাদের) প্রত্যাবর্তন”  (সুরা আলেইমরানঃ ২৮)

তাহলে সঙ্গত প্রশ্ন –  আপনি কোন দলে ?

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈমানের দাবি কী ?

বর্তমান

পরিস্থিতিতে ঈমান আনার পরে সর্বপ্রথম ফরজ দায়িত্ব হচ্ছে মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা। শ্রদ্ধেয় শায়েখ, মুজাহিদ আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. এই শিরোনামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। মুসলিম ভূমিসমূহ যখন আজ কাফেরদের পদচারণায় অপমানিত, মুসলিম উম্মাহ যখন আজ রক্তাক্ত, এমন সময়ে ঈমান আনার পরে সর্বপ্রথম দায়িত্ব মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা এবং তা জিহাদ ব্যতীত অসম্ভব। তাই ঈমান আনার পরে সর্বপ্রথম দাবি হল আগ্রাসী কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদের দাবি বর্তমানে জিহাদ ফারদুল আইন। শায়েখ আযযাম রহঃ এর এই পুস্তিকাটি সম্মানিত শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন বায কে দেখানোর পরে তিনি (শায়েখ বিন বায) খুতবা দেয়ার সময় ঘোষণা দেন যে, বর্তমানে জিহাদ সবার জন্য ফরজে আইন[4]

জিহাদ যে ইসলামের একটি ফরজ হুকুম এ ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ নাই। এই ফরজ হুকুমটি দুই রকম। কখনো তা ফরযে কিফায়া এবং কখনো তা ফরজে আইন। প্রশ্ন হচ্ছে এখন জিহাদ কি ফরজে কিফায়া নাকি ফরজে আইন? কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ দুই ধরনের।

১। আক্রমণাত্মক জিহাদ:

এই জিহাদের ব্যাপারে সার কথা এই যে, এক্ষেত্রে কাফেররা মুসলিমদের আক্রমণ করার জন্য একত্রিত হয়না, বরং মুসলিম বাহিনী নিজে থেকে নতুন ভূখণ্ড ইসলামের অধীনে আনার জন্য, আল্লাহর দুশমনদের ভীতসন্ত্রস্ত রাখার জন্য এবং জিজিয়া আদায়ের জন্য ইমামের অধীনে বছরে কমপক্ষে একবার অথবা দু’বার এমন আক্রমণ পরিচালনা করে। এই জিহাদ সকল মুসলিমের উপরে ততক্ষণ পর্যন্ত ফরজে আইন যতক্ষণ না এর জন্য যথেষ্ট সৈন্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনের ব্যবস্থা হয়ে যায়। একবার তা হয়ে গেলে অন্য সবার ফরজ এই বাহিনীর জিহাদের দ্বারা আদায় হয়ে যায়।

২। আত্মরক্ষামূলক জিহাদ:

এ প্রকার জিহাদ হচ্ছে, মুসলিম ভূমি থেকে আগ্রাসী কাফেরদের বের করে দেয়া। মুসলিম ভূমিগুলো কাফেরদের দখল থেকে মুক্ত করা। এটি হচ্ছে ফরজে আইন, সবার জন্য ফরজ। এ অবস্থা তখন তৈরি হয় যখন নিচের কোন একটি বা সবগুলো শর্ত পূরণ হয়ঃ

যদি কাফেররা মুসলিম ভূমিতে প্রবেশ করে

যদি দুটি বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে পরস্পরের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় এবং একে অপরকে আহবান করতে থাকে

যদি খলিফা বা ইমাম কোন ব্যক্তি বা জনগণকে জিহাদের জন্য আহবান জানায়

যদি কাফেররা মুসলিমদের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে বন্দী করে ফেলে

সালফে সালেহিন, তাঁদের উত্তরসূরিগণ, চার মাজহাবের আলিমগণ, মুহাদ্দিস এবং মুফাসসিরগণ সবাই ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি কালে একমত ছিলেন যে, আগ্রাসী কাফেররা যদি মুসলিম ভূমিতে প্রবেশ করে তবে, জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায় ফরজে আইন ঐ সকল ভূমির মুসলিমদের জন্য এবং যারা আক্রান্ত মুসলিম ভূমির কাছাকাছি রয়েছে তাদের জন্য। এমন অবস্থায় জিহাদের জন্য সন্তানের তার পিতামাতার কাছ থেকে, স্ত্রীর তার স্বামীর কাছ থেকে, দাস তার মনিবের কাছ থেকে, দেনাদার তার পাওনাদারের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার কোন প্রয়োজন হয়না অবস্থা যদি এমন হয় যে, উক্ত অঞ্চলের মুসলিমদের শক্তি সামর্থ্য কাফেরদের মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় কিংবা তাদের গাফেলতির জন্য কাফেরদের অগ্রগতি প্রতিহত করা যাচ্ছেনা, তখন এই ফরজ হুকুম তার নিকটবর্তী অঞ্চলের মুসলিমদের উপরে বর্তায়। এমনিভাবে মুসলিম ভূমি থেকে কাফেরদের বিতাড়িত করার আগ পর্যন্ত এই ফরজ হুকুম দুনিয়ার প্রতিটি মুসলিমের উপরে ফরজে আইন হয়ে যায়। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, এমন অবস্থায় ফরজ হজ্জের আগেও ফরজ জিহাদ প্রাধান্য পায়! কারণ ফরজ হজ্জ হল ব্যক্তিগত আমল এবং তা ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অপরদিকে কাফেরদের বিতাড়ন করা না হলে এবং আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা না হলে উক্ত এলাকার সাধারণ মুসলিম জুলুম এবং নিপীড়নের মধ্যে থাকে এবং আল্লাহর দ্বীন এর মর্যাদা সমুন্নত থাকেনা।

এই ব্যাপারে চার মাজহাবের আলিমগণ সকলেই একমত

শুধুমাত্র এই একটি শর্তের অধীনেই দুনিয়ার প্রত্যেক মুসলিমের উপরে জিহাদ ফরজে আইন, ঠিক যেভাবে নামাজ এবং রোজা ফরজে আইন।

তাবুকের যুদ্ধে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিলো। কারণ রোমানরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলো মুসলিমদের আক্রমণের। এজন্য তাবুকের যুদ্ধে কিছু শর্ত ব্যতীত (যাদের জন্য ওজর প্রযোজ্য) সবার জন্য অংশগ্রহণ ছিলো বাধ্যতামূলক। যা আল্লাহ্‌ নিজে আদেশ দিয়েছিলেন –

انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

﴿التوبة: ٤١﴾

“তোমরা হালকা হোক কিংবা ভারী হোক উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও এবং তোমাদের জান মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে” (সুরা তাওবাঃ ৪১)

রোমানরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কারণে যদি জিহাদ সবার জন্য ফরজে আইন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে এমনটা কিভাবে সম্ভব যে, বাইতুল মাকদিস আজ ইহুদীদের দখলে চলে গেছে অথচ আমাদের উপরে জিহাদ ফরজে আইন হয়নি! মুসলিম ভূমিগুলোতে এমনকি দুই পবিত্র মসজিদের ভূমিতে আজ নাপাক কাফেরদের উপস্থিতি, সেখান থেকেই ইরাক আর ইয়েমেনের মুসলিমদের উপরে রক্তাক্ত আক্রমণ চালানো হয়, এমন অবস্থাতেও কিভাবে এ স্বপ্নবিলাস সম্ভব যে জিহাদ ফরজে আইন হয়নি! যেখানে বলা হয়েছে কাফের সেনাবাহিনী মুসলিমদের মধ্যে থেকে কাউকে বন্দী করলে জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যায় সেখানে কিছু নয় বরং হাজার হাজার মুসলিম ভাই, মা, বোন আজ কাফেরদের কারাগারে শুধু বন্দীই নয় বরং পাশবিক নির্যাতনের স্বীকার। শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ যে রিজিক হালাল করেছেন তা খাবার অপরাধে পাশের ভূখণ্ড ভারতে নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে, হাজার হাজার কাশ্মীরী মা-বোনদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ করা হচ্ছে, মুসলিম যুবকদের গুম করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে, আর এমন অবস্থায় যদি কেউ বলে জিহাদ ফরজে আইন নয় তবে তার ব্যাপারে আপাতত কোন মন্তব্য নয়! তবে হ্যাঁ, কেউ যদি দ্বীনের এবং ফিকহ’র ইলম থাকা সত্ত্বেও এমন বলে থাকে, এমন ধারণা প্রচার করে থাকে, তবে সে প্রকাশ্য এবং সুস্পষ্ট মুনাফিক! আল্লাহ বলেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

﴿التوبة: ٣٤﴾

“হে বিশ্বাসীগণ, অবশ্যই আলিম ও দরবেশদের অনেকেই ভুয়া কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষদের সম্পদ গ্রাস করে থাকে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে” (সূরা তাওবাঃ ২৪)

তারা সামান্য পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে আল্লাহর কালাম বিক্রি করে দেয়! আল্লাহ বলেছেন তারা জাহান্নামের আগুন দিয়ে তাদের নিজেদের উদর পূর্ণ করেছে! নাউজুবিল্লাহ।

আল্লাহ্বলেন:

لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ ۝ إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ

﴿التوبة: ٤٤-٤٥﴾

“যারা আল্লাহ্‌ এবং শেষ দিবসে বিশ্বাস করে তারা তাদের মাল আর জান দিয়ে জিহাদ করা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য তোমার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেনা। মুত্তাকীদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ খুব ভালোভাবেই অবগত আছেন। তোমার কাছে অব্যাহতি তারাই প্রার্থনা করে যারা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করেনা, যাদের অন্তর সন্দেহপূর্ণ, কাজেই তারা তাদের সন্দেহের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।” (সুরা তাওবাঃ ৪৪৪৫)

স্মরণ থাকার কথা যে এই আয়াত দুটি সুরা তাওবার। এই আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপট ছিলো তাবুকের যুদ্ধ, যখন রোমানরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সমাবেশ করছিলো, কিন্তু তখনো তারা মুসলিমদের সীমানায় অনুপ্রবেশ করেনি। এমন অবস্থাতেও আল্লাহ্‌ প্রত্যেকের জন্য জিহাদকে ফরজ করে দিয়েছেন এবং শর্ত ব্যতীত কাউকে অব্যাহতি দেননি। তাহলে যখন শুধু মুসলিম ভূখণ্ডগুলোই নয় বরং আমাদের প্রথম কিবলা বাইতুল আকসা আজ কাফেরদের দখলে, বিলাদুল হারামাইনে (দুই পবিত্র মসজিদের ভূমি) আজ কাফেরদের পদচারণা, যেখান থেকে তারা মুসলিম দেশগুলোর উপরে বম্বিং করতে থাকে তখন কিভাবে জিহাদের ফারজিয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ থাকতে পারে! না শুধু পড়ে যাওয়া নয়, অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করা উচিৎ – এখনো কিভাবে জিহাদের ফারজিয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ থাকতে পারে!

আল্লাহ্বলেন:

وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ

﴿التوبة: ٤٥﴾

তাদের অন্তর সন্দেহপূর্ণ আর তারা তাদের সন্দেহের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে

(সুরা তাওবাঃ ৪৫)

আল্লাহ্বলেন:

كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

﴿البقرة: ٢١٦﴾

“তোমাদের উপরে জিহাদের বিধান আরোপ করা হল, অথচ তা তোমাদের কাছে অপ্রিয়। তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর, সম্ভবত তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং সম্ভবত কোন কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ্‌ই জানেন, তোমরা জানোনা।”

(সুরা বাকারাহঃ ২১৬)

আল্লাহ্বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

﴿التوبة: ٣٨﴾

“হে ঈমানদারগণ তোমাদের হয়েছে কী যে, যখন তোমাদের আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় তখন তোমরা আরো জোরে মাটি কামড়ে ধর। তোমরা কি আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ কর? আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী তো অতি নগণ্য। তোমরা যদি জিহাদে বের না হও, তাহলে তোমাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, আর তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে নিয়ে আসা হবে, (অথচ) তোমরা তাঁর কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা। আল্লাহ্‌ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান”

(সুরা তাওবাঃ ৩৮)

আল্লাহ বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ

﴿التوبة: ١٢٣﴾

“হে মুমিনগণ যেসব কাফের তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ কর যাতে তারা তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পায়। আর জেনে রেখ আল্লাহ্‌ মুত্তাকীদের সাথে আছেন” (সুরা তাওবাঃ ১২৩)

আল্লাহ্বলেন:

وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ

﴿التوبة: ٣٦﴾

“মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে”   (সুরা তাওবাঃ ৩৬)

“তারা চায় তোমরাও তাদের মত

কাফের হয়ে যাও!”

মোল্লা ব্র্যাডলিদের ব্যাপারে কিছু কথাঃ

আল্লাহ্বলেন:

وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً

﴿النساء: ٨٩﴾

“তারা আকাঙ্ক্ষা করে যে, তারা নিজেরা যেমন কুফরী করেছে, তোমরাও তেমনি কুফরী কর, যেন তোমরাও তাদের মত হয়ে যাও”। (সুরা নিসা: ৮৯)

আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে কাফেরদের যে ক্রুসেড তার অনেক বড় একটা অংশ হচ্ছে ব্যাটল অফ হার্টস অ্যান্ড মাইন্ডস। ট্যাঙ্ক আর ফাইটার এর যুদ্ধ তো আসলে দৃশ্যমান কিন্তু হার্টস অ্যান্ড মাইন্ডসের যে যুদ্ধ তা সহজে দৃশ্যমান নয়। কাফেররা চায়, তারা মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূর (আল্লাহর দ্বীন) কে নিভিয়ে দিবে। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা প্রজ্বলিত করেই ছাড়বেন।

কাফেররা ভেবে দেখলো আচ্ছা এমন একটা যুদ্ধ করলে কেমন হয় যে যুদ্ধে কোন হাতি ঘোড়া, ঢাল তলোয়ার, সৈন্য, সেনাপতি কিছুই লাগেনা! কেমন হয় যদি শত্রু যুদ্ধ করার আগেই যুদ্ধে হার মেনে নেয়! আরো কেমন হয় যদি শত্রু আসলে আর শত্রুই না! নিঃসন্দেহে কাফেরদের যুদ্ধ মুসলিমদের সাথে নয় বরং তাদের যুদ্ধ মুসলিমদের বিশ্বাসের সাথে, ঈমানের সাথে, আকিদার সাথে, ইসলামের সাথে।

আমাদের সাথে কাফেরদের যুদ্ধ শুধু মাত্র আমাদের দ্বীনের কারণে। কাফেররা চিন্তা করে দেখলো যদি তারা আমাদের বিশ্বাসকে পরিবর্তন করে দিতে পারে তাহলেই তারা সফল! আল্লাহ্‌ তাদের ব্যাপারে বলেছেনঃ

وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ

﴿البقرة: ٢١٧﴾

“তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন হতে ফিরিয়ে না দেয়…” (সুরা বাক্বারা: ২১৭)

তখন থেকে তারা শুরু করলো আমাদের বিশুদ্ধ আকিদাহ এবং বিশ্বাসকে পরিবর্তন করে দেয়ার চক্রান্ত। মাত্র কয়েক লাইনে এই ভয়াবহ চক্রান্তের বাস্তবতা কিছুতেই উপস্থাপন করা সম্ভব নয়! কিন্তু এই চক্রান্তে তারা এতোটাই সফল যে, আজ মুসলিম হয়েও আমরা আমাদের রব্ব আল্লাহ প্রদত্ত জীবনবিধান কুরআন এবং শরিয়াহ মানতে চাইনা, কিন্তু জাহান্নামের ইন্ধন কাফেরদের উদ্ভাবিত জীবনবিধান ডেমোক্রেসি মানতে রাজি! কী অদ্ভুত! এভাবে কাফেররা তিলে তিলে আমাদের বিশ্বাস, ঈমান এবং আকিদাহকে পরিবর্তন করে দিতে পেরেছে, অথচ আমরা বেখবর! এমনকি আমরা জানিই না যে, আমাদের বিশ্বাস দূষিত হয়ে গেছে! ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক এমপি কুরআন হাতে নিয়ে বলেছিলোযতদিন মুসলিমরা এই বইয়ের সাথে যুক্ত থাকবে ততদিন তাদের শাসন করার কথা ভুলে যাও

আজ তারা আমাদেরকে কুরআন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সফল হয়েছে! আপনি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন আপনার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে কুরআনের মূল্যায়ন এবং অনুশীলন কতটুকু? অথচ আল্লাহ্বলেছেন, এই কুরআন আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক। ব্রিটিশ এমপি কি ঠিক বলেনি? কুরআন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দাও, তোমরা তাদের শাসন করতে পারবে। আজ আমাদের শাসন করার প্রয়োজন হয়না, আমরা নিজেরাই তাদের গোলাম সেজে বসে আছি। শুধু তাই নয়, আমরা আজ তাদের দেয়া জীবন বিধানডেমোক্রেসিরএকনিষ্ঠ সাধক, রক্ষক হিসাবে গর্ববোধ করি এবং, আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান ইসালামি শরিয়াহ এর ব্যাপারে লজ্জা বোধ করি, এমনকি যারা এই শরিয়াহর পক্ষে অবস্থান করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দেই!

দেখুন আল্লাহ্কী বলছেন:

وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ

﴿البقرة: ١٢٠﴾

“ইহুদী নাসারারা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেনা যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি জ্ঞান আসার পরেও যদি তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবেনা”

(সুরা বাকারাহঃ ১২০)

আল্লাহ্‌ বলেন:

الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا

﴿النساء: ١٣٩﴾

“যারা মুমিনদের ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তারা কি তাদের নিকট ইজ্জত চায়? ইজ্জতের সবকিছুই আল্লাহর অধিকারে”

(সুরা আননিসা: ১৩৯)

আজ আমরা কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে সহিহ এবং বিশুদ্ধ দ্বীন শিখতে চাইনা, বরং তাদের থেকে ইসলাম শিখতে চাই যারা ইসলামের প্রকাশ্য দুশমন! আজ আমেরিকা আর তার মোল্লা ব্র্যাডলি গোষ্ঠী আর র‌্যান্ড কর্পোরেশন আমাদেরকে ইসলাম শেখায়। তাদের সে নিফাকে ভরা ইসলাম আমাদের নিকট বড় প্রিয়! যে ইসলামে কোন জিহাদ নাই, “আল ওয়ালা ওয়াল বারানাই, শরিয়াহ এর বাস্তবায়ন নাই, হারাম হালাল এর কোন তোয়াক্কা নাই! র‌্যান্ড কর্পোরেশন তাদের বিস্তারিত গাইডলাইনে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে মডারেট মুসলিম তৈরি করতে হবে, এবং একজন মডারেট মুসলিমকে অবশ্যই ডেমোক্রেসি, সেকুলারিজম এসব আদর্শে বিশ্বাসী হতে হবে![5]

তাদের এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে থাকে একদল মোল্লা ব্র্যাডলি যারা তাদের মনিব যেমন ইসলাম পছন্দ করে তেমন ইসলামের কথা বলে। তারা সামান্য দুনিয়াবি স্বার্থের বিনিময়ে আল্লাহর আয়াতগুলোকে গোপন করে ফেলে, অর্থগুলো বিকৃত করে দেয়, সাধারণ মুসলিমের সামনে প্রতারণা করে পরিবর্তন করে দেয় দ্বীনের হুকুমগুলোকে।

দুনিয়াবি স্বার্থের বিনিময়ে এই মোল্লারা নিজেদেরকে তাগুতের কাছে বিক্রি করে দেয়, আর তাগুতের খুশি মতো ফাতওয়া জারি করে! তাদের এই বিভ্রান্তিমূলক কথায় আজ মুসলিম উম্মাহর বিশাল এক অংশ আজ প্রতারিত এবং বিপথগামী!

তারা জিহাদের মত সুস্পষ্ট ফরজ হুকুমকে সংশয়পূর্ণ বানিয়ে ফেলে! উম্মতকে জিহাদের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে থাকে, এমনকি অ্যামেরিকা আর তার গোলাম সৌদি মিলে যখন ইয়েমেনে নির্বিচারে বোম্বিং করে নিরীহ মুসলিমদের পাইকারি হারে হত্যা করতে থাকে তখন এমন নির্লজ্জ জঘন্য কাজকেও জিহাদের মত পবিত্র আমলের সাথে মিলিয়ে দেয়! যে আমেরিকা আজ সারা দুনিয়ায় মুসলিম উম্মাহ’কে নির্বিচারে হত্যা করে চলেছে, ইসলামের সবচেয়ে বড় দুশমন, যুগের হুবাল এই আমেরিকাকে তারা হক্কের পথে যুদ্ধকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তাদের জন্য হাত তুলে দুয়া পর্যন্ত করে! অপরদিকে প্রকৃতপক্ষে যেসব জানবাজ মুজাহিদ এই জুলুমের বিরুদ্ধে, অসহায় নারী পুরুষ আর শিশুদের জন্য জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে বানিয়ে দেয় টেরোরিস্ট! কতই না নিকৃষ্ট তারা! কতই না নিকৃষ্ট তাদের এই কাজ! আর কতই না নিকৃষ্ট তাদের শেষ পরিণতি! আল্লাহ্ওয়াদা করেছেন, মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সবচেয়ে নিচু স্তরে!

এমনি করে তাদেরই উত্তরসূরিদের মধ্যে কেউ আবার লাখো আলেমের(!) সাক্ষর সংগ্রহ করে এবং মনিব যেমন পছন্দ করে তেমন ফাতওয়া প্রদান করে সাধারণ মুসলিমকে বিভ্রান্ত করে রাখে।

এখন সঙ্গত প্রশ্ন হতে পারে, কেন আমার এই কথাকে আপনি সত্য হিসেবে মেনে নেবেন? এ ব্যাপারে সবচেয়ে সরল উত্তর এটাই যে –

তারা যে ইসলাম প্রচার করে, তারা ইসলামের ব্যাপারে যে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে এসব ব্যাখ্যা এবং ফাতওয়ার উপরে যদি কাফেররা খুশি হয় তবে তা কোন রকম চিন্তা করা ছাড়াই বাতিল কারণ, যা কাফেরদের পছন্দ তা কখনই আল্লাহর পছন্দ হতে পারেনা! কারণ আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, তারা (কাফিররা) চায় তোমরাও তাদের মত কাফির হয়ে যাও আর আল্লাহ্চান আমরা আল্লাহর সামনে মুসলিমুন হয়ে থাকি

এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার আপনার উপরেই ছেড়ে দিলাম। ইসলাম এবং এর যে কোন হুকুমের ব্যাপারে আপনি যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন তা যদি কাফেরদের সন্তুষ্ট করে তবে তা কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকেই বাতিল মোল্লা ব্র্যাডলি কিংবা মুফতি ফুলান এর জারি করা কোন ফাতওয়া যদি তাগুতের গায়ে জ্বালা না ধরিয়ে দেয়, তার জুলুমের মসনদ এবং সিস্টেমের জন্য হুমকি না হয় বরং তা যদি তাগুতের সন্তুষ্টির কারণ হয়ে থাকে তবে কোন প্রশ্ন ছাড়াই সেই মুফতি ফুলানের ফাতওয়া বাতিল! কারণ, আল্লাহ্‌ বলেছেন- যারা কাফির তারা যুদ্ধ করে তাগুতের পক্ষে এমন অবস্থায় এমন যেকোনো তত্ত্ব, ব্যাখ্যা, ফাতওয়া যা তাগুতকে খুশি করে তা কিভাবে মুমিনদের জন্য পালনযোগ্য হতে পারে! যেখানে আল্লাহ্‌ মুমিনদের সিফাত বর্ণনা করে বলছেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

﴿المائدة: ٥٤﴾

“হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী”।

(সুরা মায়েদাহঃ ৫৪)

আর যে কথাটি না বললেই নয় তা হচ্ছে, বর্তমান সময়ে জিহাদের পথে সবচেয়ে বড় বাধার নাম এই মোল্লা ব্র্যাডলি কিংবা মুফতি ফুলান, যাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে তাগুতের মনমত ইসলাম উপস্থাপন করা। উম্মাহ’র যুবকদের নিষ্ক্রিয় করে দেয়া, যেন এই যুবকরা কোন একদিন জিহাদের সংস্পর্শে এসে এই তাগুত এবং তার সিস্টেমের জন্য হুমকি না হতে পারে!

এই মোল্লা ব্র্যাডলিদের নিয়ে তাগুত সরকার বিশুদ্ধ আকিদাহ মানহাজে বিশ্বাসী মুমিনদের ব্রেইন ওয়াশডঅ্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের মনগড়া ইসলামের শিক্ষা দিয়ে থাকে। তারপর এই মুনাফিকের দল সেই ভ্রান্তির শিক্ষা দিতে থাকে যা তাদের মনিবের মন রক্ষা করে! আর এভাবে আমাদের গাফলতি-উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের বিশুদ্ধ ইসলাম থেকে বহু দূরে নিয়ে চলে যায়। এভাবেই আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যায় ডেমোক্রেসির মত শিরকি ব্যবস্থা এবং আল্লাহর বিধান, ইসলামী শরিয়াহ আমাদের চিন্তা চেতনা থেকে বিলুপ্ত হয়!

আল্লাহ্বলেন:

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ۝ كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ۝ أُولَٰئِكَ جَزَاؤُهُمْ أَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

﴿آلعمران: ٨٥-٨٧﴾

“আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবুল করা হবেনা এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ কীরূপে সেই সম্প্রদায়কে সুপথ দেখাবেন যারা ঈমান আনার পর, এবং রাসুলকে সত্য বলে স্বীকার করার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল আসার পর কুফুরি করে? বস্তুত আল্লাহ্‌ যালিম কওমকে পথ দেখান না। এরাই তারা যাদের প্রতিফল এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সমুদয় মানবের অভিসম্পাত।”

(সুরা আলইমরানঃ ৮৫৮৭)

আল্লাহর সেনাবাহিনী বনাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

“আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা আনুগত্য পোষণ করিব” – এটি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক লম্বা শপথের একটি লাইন। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শপথ করা হচ্ছে এবং শপথের বিষয়বস্তু হল, ডেমোক্রেসি নামক এক শিরকি ব্যবস্থায় পরিচালিত, ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করা,  জনগণকে কথিতভাবে সকল ক্ষমতার উৎস হিসেবে দেখানো একটি দেশ, তার সংবিধান এবং তার রাষ্ট্রপতির প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য পোষণ করা! সহজ কথায় – আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি শিরক এবং কুফর এর ভিত্তিতে পরিচালিত একটি সংবিধান, দেশ এবং তার রাষ্ট্রপতির প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা আনুগত্য পোষণ করব! সুবহানাল্লাহ্‌! যখন শিরক করা হয়, তখন শিরক এর পাপ এবং আল্লাহর কাছে এর জঘন্যতার ভয়ে আসমান এবং জমিন থরথর করে কাঁপতে থাকে। অথচ আপনার সেনাবাহিনী আপনাকে সর্বপ্রথম সেই মহান আল্লাহর নামে শিরক এর ধারক, বাহক এবং রক্ষক হিসেবে অকৃত্রিম গোলামী করার শপথ করাচ্ছে!

আল্লাহ আমাদের কাছে তাঁর দ্বীন এবং তাঁর রাসুল (ﷺ) এর প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য চেয়েছেন, তার বদলে আপনি আজ কার কাছে সেই অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য’র প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন! আমরা আল্লাহর বান্দা হয়ে আল্লাহর কাছে অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য প্রদর্শন করতে রাজি না, বরং আল্লাহর জমিন সমূহের মধ্যে থেকে তুচ্ছ এক টুকরা ভূখণ্ডের প্রতি, আল্লাহ্‌ বিরোধী কুফর এবং শিরকি মতবাদের প্রতি এবং আল্লাহর সৃষ্ট মাখলুকের মধ্য থেকে তুচ্ছ এক মাখলুক, যে কিনা মরে যায়, মরে গেলে পচেগলে মাটির সাথে মিশে যায়, সেই মাখলুকের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য’র প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি! অথচ আল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, আহাদুন সামাদ, আল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ, ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ, রব্বাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া রব্বাল আরশইল জিম, মালিকি ইয়াওমিদ্দীন, জুল কুউওয়াতিল মাতিন, লিল্লাহি মুলকুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদআল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালা এর সামনে আমরা এই অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য প্রতিশ্রুতি দেইনা!

আল্লাহ্আরও বলেন:

قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ ۝ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

﴿الزمر: ٦٥-٦٤﴾

“বল ওহে অজ্ঞরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যের ইবাদত করার আদেশ করছ? কিন্তু তোমার কাছে আর তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, তুমি যদি (আল্লাহর সাথে) শরীক সাব্যস্ত কর তাহলে তোমার কর্ম অবশ্য অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে আর তুমি অবশ্য অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সুরা যুমারঃ ৬৪৬৫)

এমন সেনাবাহিনীর সৈনিক হতে পেরে আপনি কতই না গর্ব করেন! গর্বিত সৈনিক! কতই না রং চড়িয়ে যুবকদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এই জীবনের কথা! মাস শেষে যদি রেশন না আসতো আর যদি স্যালারি জমা না হত তাহলে কয়জন এই অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য প্রতিশ্রুতির উপরে অটল থাকতে রাজি থাকবে, সেটা দেখার আমার খুব শখ!

মাস শেষে কিছু টাকা, ইউনিফর্মের গ্ল্যামার, সুন্দরী স্ত্রী, এলিট ক্লাসের তকমা, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, এবং তথাকথিত একটা নিশ্চিত জীবনের লোভে আমরা বিক্রি হয়ে যাই। তাগুতের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারলে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি অথচ আল্লাহর সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে লজ্জা বোধ করি!

চলুন দেখে নেয়া যাক আল্লাহর সেনাবাহিনীতে আপনি কী কী পেতে পারেন!

আপনি তাগুতের বাহিনীতে বেতন পান, ধরে নিলাম কয়েক লক্ষ টাকা। আর আল্লাহ্‌ আপনাকে কী অফার করছেন জানেন? সরাসরি জান্নাত। আমি আপনি মুখে মুখে কতই না বলি, আল্লাহ্‌ আপনি আমাদের জান্নাত দিয়ে দেন, কিন্তু নিজেকে একবার সত্য প্রশ্ন করা দরকার, সত্যি আমি জান্নাত কতটুকু চাই? জান্নাতের ব্যাপারে আমার আগ্রহ কতটুকু? জান্নাতের মূল্য আমি কতটুকু বুঝি? আমার বাস্তবতায় জান্নাতের উপস্থিতি কতটুকু? আমি আপনি কয়েক লক্ষ টাকার জন্য জান বাজি দিয়ে দেই যা কিনা এই দুনিয়ার সামান্য কিছু সময়ের বিষয়, অথচ জান্নাতের মত বহুগুণ উত্তম কিছু উপেক্ষিত রয়ে যায়, ভ্রুক্ষেপই করি না।

মহান আল্লাহ্‌ সরাসরি আমাদেরকে সেই জান্নাতের অফার দিচ্ছেন যেখানে চিরকাল থাকা যাবে:

لَٰكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ وَأُولَٰئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ۝ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

﴿التوبة: ٨٨-٨٩﴾

“কিন্তু রাসুল আর তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের মাল দিয়ে এবং জান দিয়ে জিহাদ করে। যাবতীয় কল্যাণ তো তাদের জন্যই। সফলকাম তো তারাই। আল্লাহ্‌ তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, যাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হল বিরাট সফলতা” (সুরা তাওবাহঃ ৮৮৮৯)

আল্লাহ্বলেন:

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

﴿التوبة: ١١١﴾

“নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ মুমিনদের থেকে জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জান আর মাল কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে কিতাল করে। অতঃপর (দুশমনদের) হত্যা করে এবং নিজেরাও (নিহত) হয়। এ ওয়াদা তাঁর উপরে অবশ্যই পালনীয় যা (লিখে দেয়া) আছে তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআনে। আল্লাহর চেয়ে আর কে বেশি ওয়াদা পালনকারী? কাজেই তোমরা (আল্লাহর সাথে) যে বেচাকেনা সম্পন্ন করেছ তাঁর জন্য আনন্দিত হও, আর এটাই মহান সফলতা” (সুরা তাওবাহঃ ১১১)

মাস শেষে কিছু টাকার কাছে আমরা নিঃসন্দেহে বিক্রি হয়ে যাই, কিন্তু জান্নাতের কাছে বিক্রি হই না! আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি জান্নাত বনাম মাস শেষে কিছু টাকা, এ দুইয়ের মধ্যে থেকে আমরা শেষ পর্যন্ত অস্থায়ী দুনিয়ার কিছু টাকাই বেছে নেই! আল্লাহ্‌ নিজে তাঁর সেনাবাহিনীতে আমাকে আপনাকে আহবান করছেন এবং বিনিময়ে আল্লাহ্‌ আর অন্য কিছুই রাখেননি সরাসরি জান্নাত ছাড়া! শুধু তাই নয়, একটু মনোযোগসহ লক্ষ্য করুন, আল্লাহ্‌ আরো কী বলছেন? আল্লাহ্‌ বলছেন – এটাই মহান সফলতা! আল্লাহ্‌ যখন কোন কাজের ব্যাপারে বলে দেন এটাই হচ্ছে মহান সফলতা তখন সেই কাজের মর্যাদা কেমন হতে পারে! আসলে আমাদের জন্য এগুলো অনুধাবন হয়ত বেশ কঠিন হয়ে যায়, কারণ শেষ কবে আমরা জান্নাত নিয়ে ভেবেছি, আল্লাহ রব্বুল ইজ্জাহ এবং তাঁর সম্মান নিয়ে ভেবেছি! তাগুত সরকারের কাছ থেকে কোন পদক পেলে আমরা নিজেদেরকে ধন্য মনে করি, অথচ যখন আল্লাহ্‌ সরাসরি সাক্ষ্য দিয়ে দিলেন – এটাই হচ্ছে সফলতা তখন সেটা আমাদের উপরে কোন প্রভাবই ফেলে না!

যা বলছিলাম – আপনার সেনাবাহিনী আপনাকে দিতে পারে সামান্য কিছু টাকা আর আল্লাহ আপনার জন্য সরাসরি জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। বেশ, তো প্রশ্ন করা যাক – কোনটি বেশি উত্তম? জান্নাত নাকি তুচ্ছ কিছু স্যালারি!

আপনার সেনাবাহিনী আপনাকে হয়ত জলসিঁড়ি আবাসনে ৫ কাঠা জমি দিবে তাতে আপনি মিশন থেকে আনা টাকা দিয়ে অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট বানাবেন। ধরে নিলাম দুনিয়ার সবচেয়ে বিলাসবহুল আবাসন হবে সেটি। বেশ, তো প্রশ্ন করা যাক, কোনটি বেশি উত্তম? আপনার সেই প্লট বা ফ্ল্যাট নাকি জান্নাতের প্রাসাদ?

সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম গ্ল্যামার আর তথাকথিত এলিট লাইফস্টাইলের বাজার দর অনুযায়ী একজন সুন্দরী স্ত্রীও হয়ত পেয়ে যাবেন আপনি, পর্দা যার কাছে ব্যাকডেটেড কিছু। বেশ, তো প্রশ্ন করা যাক- কোনটা বেশি উত্তম? আপনার এ ঠুনকো আভিজাত্যের মোহওয়ালা স্ত্রী নাকি জান্নাতের রমণীদের মধ্য থেকে হুর আল-আঈন? একজন নয়, দশজন নয়, বরং ৭২ জন! যাদের সৌন্দর্যের প্রশংসা আল্লাহ নিজে করেছেন! রাসুল (ﷺ) বলেন, জান্নাতি রমণীদের কেউ একজন দুনিয়ায় উঁকি দিলে দুনিয়ার সমস্ত পুরুষ পাগল হয়ে যেত, তাদের রুমাল দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা আছে তার সবকিছু অপেক্ষা উত্তম! আপনি হয়ত বিয়ে করার ইচ্ছা রাখেন চোখ ধাঁধানো কোন কনভেনশন সেন্টারে, সেনাকুঞ্জ বা মালঞ্চে কিংবা হতে পারে আর যে কোন কোথাও। অপরদিকে আল্লাহর সেনাবাহিনীর সৈন্যদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ বলছেন:

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ ۝ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ۝ يَلْبَسُونَ مِن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُّتَقَابِلِينَ ۝ كَذَٰلِكَ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ

﴿الدخان: ٥١-٥٤﴾

“নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগান আর ঝরনার মাঝে। তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী কাপড়, আর বসবে মুখোমুখি হয়ে। এ রকমই হবে, আর তাদের বিয়ে দিয়ে দেব ডাগর ডাগর, সুন্দর উজ্জ্বল চোখওয়ালা হুরদের সাথে” (সুরা দুখানঃ ৫১৫৪)

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা জান্নাতের সেটআপে আপনার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিবেন হুর আল-আঈন এর সাথে!

আপনার সেনাবাহিনী আপনার মৃত্যুর পরে “শহীদ” উপাধি দেয়। আচ্ছা, শহীদ শব্দ এবং শহীদ এর মর্যাদা দেয়ার অধিকার কি আপনার সেনাবাহিনী কিংবা আপনার জেনারেল কিংবা আপনার রাষ্ট্রপতির হাতে? অবশ্যই না। আমি নিশ্চিত জানি, আপনিও আমার সাথে এ ব্যাপারে একমত হবেন। তাহলে প্রশ্ন – আপনার শাহাদতের এই পুরস্কারটা আসলে কে দিবে? নিশ্চয়ই দুনিয়াবি ক্রেস্ট, মেডেল, পদক তাগুতই আপনার হাতে তুলে দিবে, কিন্তু শাহাদাত এর মর্যাদা এবং সেই পুরস্কার কার জিম্মায়? ভেবে দেখেছেন কি? আপনি আপনার নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন কিংবা দেয়ার ইচ্ছা রাখেন এবং আশা পোষণ করেন যে আপনি শহীদ হয়ে যাবেন, কিন্তু যে প্রশ্নটি কখনোই করা হলনা তা হচ্ছে আপনার শাহাদতের পুরস্কার কে দিবে? স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আপনি আল্লাহর নামে শপথ করেছেন যে আপনার অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য একটি শিরক এবং কুফুরি সিস্টেমের প্রতি, রাষ্ট্রপতির প্রতি, আল্লাহর প্রতি নয়! আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, আমি কিভাবে জানি, আল্লাহর প্রতি নয়? আমি এভাবে জানি যে, আল্লাহ্‌ বলেন:

الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ

﴿النساء: ٧٦﴾

“যারা ঈমানদার তারা তো যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে আর যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে।” (সুরা নিসা: ৭৬)

আপনি হয় তাগুতের অনুগত, না হয় আল্লাহর অনুগত, কারণ দুটি কখনই এক সাথে হতে পারে না।

আল্লাহর রাস্তায় যারা জিহাদ করে, আর নিহত হয় তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ বলেন:

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ

﴿آلعمران: ١٦٩﴾

“যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাদেরকে তুমি কখনও মৃত মনে করোনা, বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও রিজিক প্রাপ্ত”

(সুরা আলেইমরান ১৫৪)

একজন শহীদের রক্তের প্রথম ফোটা মাটিতে পড়ার আগে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়, কবরে তাকে সম্মুখীন হতে হয়না কোন প্রশ্নের। একজন শহীদকে আল্লাহ বিনা হিসেবে জান্নাতে দিবেন (ঋণ ব্যতীত), একজন শহীদ নিজ পরিবারের ৭০ জনের ব্যাপারে সুপারিশ করে তাঁদেরকে নিজের সাথে করে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন। একজন শহীদের জন্য ৭২ জন হুর আল-আঈন থাকবে! হাশরের ময়দানে সবাই যখন ৫০ হাজার বছর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবে, একজন শহীদ তখন জান্নাতের সবুজ পাখি হয়ে আল্লাহর আরশের নিচে ঝুলে থাকবে!

আমি আপনাকে প্রশ্ন করতে চাই,  আপনার সেনাবাহিনী এগুলোর মধ্যে থেকে কোনটা আপনাকে দেয়ার সামর্থ্য রাখে?

আর হ্যাঁ, এখন অবশ্যই সেই সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আপনার সামনে উপস্থাপন করা দরকার, আপনি আসলে কী চান?

নিজের সাথে সৎ হয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন তো, কেন আপনি এই পথ বেছে নিলেন? রিজিক? হাই স্যালারি, বিলাসবহুল বাসা, সম্মান, এলিট ক্লাস? তাহলে আপনি নিজেকে এই প্রশ্নটিও করে ফেলুন, সারা দুনিয়ার সমস্ত বিলাসিতার বিনিময়ে আপনি কি জাহান্নামকে গ্রহণ করতে রাজি আছেন? কারণ আপনি তো তাগুতের পক্ষ নিয়ে, যোদ্ধা জীবন বেছে নিয়ে, আপনার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিরুদ্ধেই যুদ্ধে লিপ্ত হলেন!

নিরাপত্তা- ভাবছেন আমার ছেলে মেয়ের কী হবে? ধরে নিলাম এই দুনিয়াবী মানদণ্ডে তাদের সকলেই সফল হল, কিন্তু তাদের আখিরাতের বিষয়টা?

আপনারা ব্যাটল সিনারিও তৈরি করেন যেন প্রকৃত যুদ্ধের সময় একজন সৈনিক আতঙ্কিত না হয়ে তার কাজ ঠিক মত করে যেতে পারে। কিন্তু সব চেয়ে ভয়াবহ ব্যাটল সিনারিও যে আল্লাহ আমার আপনার জন্য তৈরি করে রেখেছেন তা কি কখনো নজরে এনেছেন?

সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে, জমিন তার সব কিছু বের করে দিবে, তুমি দেখবে সাগরগুলো আগুনে বিস্ফোরিত হচ্ছে, পাহাড়গুলো পশমের মত বিক্ষিপ্ত হবে, চাঁদ তারা খসে খসে পড়বে, আসমান এবং জমিন থরথর করে কাপতে থাকবে, গ্রহ নক্ষত্র কক্ষচ্যুত হয়ে যাবে, সেদিন সবাই উদভ্রান্ত হয়ে যাবে যেন তারা মাতাল কিন্তু আসলে তারা মাতাল না বরং আল্লাহর আজাবের ভয়াবহতায় তারা এমন হয়ে যাবে

সেদিন দুশ্চিন্তায় নিষ্পাপ শিশুর মাথার চুল সাদা হয়ে যাবে। এসব কিছুই অবধারিত সত্য আমার এবং আপনার জন্য। আপনার ব্যাটল সিনারিওতে শুধু এক পার্টি কাজ করে আরেক পার্টি সাইডে বসে থাকে, এই ব্যাটল সিনারিওতে আমি, আপনি, আপনার কমান্ডার, চিফ কিংবা আর যারা আছে, সবাই সমান (আল্লাহর পানাহ)। আপনি কুরআন খুলে দেখুন আমি কোন কিছু বানিয়ে বলছি কিনা!

আপনি হয়ত বলতে পারেন এগুলো মেটাফরিক। আর যাই হোক যখন আল্লাহ কিয়ামতের বর্ণনা দেন তখন তার এক সরিষা দানাও মেটাফরিক না, আল্লাহর ইজ্জতের কসম। কেন? তা জানতে চাইলে আপনি তাফসিরগুলো একবার হাতে নেন, পড়ে দেখুন। আমি এবং আপনি এই বাস্তবতা মেনে নিলাম যে, আমার এবং আপনার জন্য এই ব্যাটল সিনারিও রেডি। অবধারিতভাবেই তা আসছে। এমতাবস্থায় সেদিন আপনার সেনাবাহিনী আপনার বিন্দুমাত্র উপকারে আসতে পারবে কি? আপনার রেজিমেন্ট, আপনার ডিভিশন, আপনার লজস্টিকস আপনার কী উপকারে আসবে সেদিন? যদি না আসে, তাহলে আজ কার ভরসায় আপনি নিজেকে আল্লাহর প্রতিপক্ষের কাতারে দাঁড় করালেন? কে আপনার অভিভাবক? কে আপনার কমান্ডার? কে আপনার চিফ? সে যদি হাসিনাই হয় কিংবা রাষ্ট্রপতি হয়, তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকেন কিয়ামতের দিন তারা আপনার কোন উপকারই করতে পারবে না, বরং তারা নিজেরাই সেদিন অস্থির থাকবে তাদের হিসাব দিতে!

এবার তাহলে ভেবে দেখুন, আপনি কি আল্লাহর সৈন্য হতে চান নাকি রাষ্ট্রপতির কিংবা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সৈন্য হতে চান?

আমি কী করতে পারি?

মানুষ

ডাক্তার হয়, ইঞ্জিনিয়ার হয়, শিক্ষক হয় কিংবা অন্য কিছু। কিন্তু পেশাগত দিক দিয়ে, শরীরের দিক দিয়ে, মনের দিক দিয়ে, সামাজিক দিক দিয়ে, আপনি এখন একজন সৈনিক। আর একবার সৈনিক তো আজীবনই সৈনিক। তাহলে আপনি কি আল্লাহর সৈনিক হওয়ার চেয়ে কোন এক তাগুত শক্তির পোষা সৈনিক হওয়াকে পছন্দ করছেন? আপনার জন্য আল্লাহর সৈনিক হওয়া অপেক্ষা অধিক সম্মানের আর কী আছে! আপনি একজন আল্লাহর সৈনিক হবেন। আপনি হবেন একজন মুজাহিদ!

এই লেখার আরো একটি কারণ হচ্ছে, সমসাময়িক বাস্তবতা। অনেক কথা খুব সংক্ষেপে কিভাবে বলতে হয় আমার জানা নেই। আমি ধরে নিচ্ছি, আপনি সমসাময়িক বাস্তবতার ব্যাপারে উদাসীন নন। আপনি ভালো করে তাকিয়ে দেখুন সারা দুনিয়া যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এক বিশাল যুদ্ধ। আর রাসুল (ﷺ) সেটাই বলেছেন আলমালহামা

আপনি তাকিয়ে দেখুন আপনার পাশের দেশ এক বিশাল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে। সবদিক দিয়ে গ্রাস করছে আমাদের। শুধু আমাদের না পুরো উপমহাদেশ জুড়ে ভারত নেমেছে অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। অতীতে কখনো ভারতের সামরিক ব্যয় এতো বিশাল ছিলোনা। বাংলাদেশের ভিতরে হিন্দুত্ববাদীদের নেটওয়ার্ক কিভাবে ছড়ানো হচ্ছে, কিভাবে তারা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ে প্রশাসনে কর্তৃত্ব করছে সেটাও আপনার জানা হিন্দুত্ববাদীরা কী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগোচ্ছে তা আজ পরিষ্কার এমনকি বুড়ি হাসিনার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে শেখ পরিবারের ভিতরের দ্বন্দ্বের সমাধান আর ক্ষমতার ভাগাভাগির হিসাবও হচ্ছে ভারতের কথা মতো সমাধানের জন্য দুই পক্ষই হিন্দুত্ববাদীদের কাছে আরো বেশি দাসত্বের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এই খবরগুলোও নিঃসন্দেহে আপনার কানে এসেছে সেই সাথে কাশ্মীরে কী হচ্ছে, আসামে কী হচ্ছে, এনআরসি আর নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে কী হচ্ছে, সব কিছু আপনার সামনে

রাসুল (ﷺ) এর হাদিসে অনেক আগেই কিন্তু কথা চলে এসেছে, গাজওয়াতুল হিন্দ

যখন খেলা শুরু হবে, তখন হয়ত খুব বেশি সুযোগ থাকবে না, আল্লাহু আ’লাম। রাসুল (ﷺ) বলেছেন ফিতনা আসবে ঢেউ এর মত। আগের ফিতান, পরের ফিতান এর তুলনায় একেবারে নগণ্য মনে হবে।

আর সবকিছু বাদ দিয়ে – যদি শুধু এই আয়াতটাকে সামনে রাখি, যারা কাফির তারা যুদ্ধ করে তাগুতের পক্ষে সেটাই আমার এবং আপনার শিহরিত হবার জন্য যথেষ্ট নয় কি? আপনি বলতে পারেন আমি কী করতে পারি? আমি তো হুকুমের গোলাম। আমার পায়ে তো শিকল পরানো। আমি বলবো আপনি নিজে আপনার পায়ে শিকল পরেছেন, কেউ পরায়নি। আপনি নিজে আল্লাহর দাস না হয়ে তাগুতের দাসত্ব মেনে নিয়েছেন। একদিন এই তাগুতের বাহিনীর গোলামি করবেন এটা স্বপ্ন হিসেবে লালন করেছেন। তাই এ শিকল আপনাকেই খুলতে হবে। এটা তো আপনাদেরই কথা – যদি বুঝে থাকো এটা তোমাকে করতেই হবে তাহলে করে ফেল, কারণ আজ হোক বা কাল হোক এটা তোমাকেই করতে হবে

আমি কী করতে পারি? এ প্রশ্নের উত্তর হিসেবে কোন শর্ট লিস্ট নেই। তবে হ্যাঁ আমি আপনার সাথে কিছু করণীয় আলোচনা করতে পারি ইনশা আল্লাহ।

তাগুতকে অস্বীকার করে নিজের অতীতের জন্য তাওবা করা এবং নিজেকে জিহাদের কাজে শামিল করা:

তাগুতকে অস্বীকার করা ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না। আল্লাহ্‌ স্পষ্ট আদেশ করেছেন তাগুতকে অস্বীকার করতে। আল্লাহ স্পষ্ট আদেশ করেছেন তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী না হতে। কালিমার প্রথম শর্তই হচ্ছে লা ইলাহ, অর্থাৎ অন্য যে কোন ইলাহকে অস্বীকার করে নেয়া। কারণ, আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি বিশ্বাসের সাথে আর কোন শরীক পছন্দ করেন না। তাগুতকে অস্বীকার করা ঈমানের প্রথম শর্ত, এরপরে আল্লাহকে বিশ্বাস করা। তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত আল্লাহ্‌কে স্বীকার করে নেয়া অর্থহীন! এ অবস্থা মক্কার কাফেরদের মত যারা বলত, আমরা তো আল্লাহ্‌কে স্বীকার করি কিন্তু লাত উযযাকেও স্বীকার করি। তাই প্রথম কাজ তাগুতকে অস্বীকার করা। আমাদের জন্য উদাহরণ রয়েছে আমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর মধ্যে। তিনি তৎকালীন তাগুতদের অনুসারীদের বলেছিলেন,

إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ

﴿الممتحنة: ٤﴾

“তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে।” (সুরা মুমতাহিনাঃ )

তাগুতকে অস্বীকার করার পরে আমাদের প্রথম কাজ দ্বীনের মধ্যে প্রবেশ করা যেভাবে আল্লাহ্‌ পছন্দ করেন। আগেই বলে এসেছি বর্তমানে উম্মাহ’র জন্য জিহাদ ফরজে আইন। আমি আপনি কেউই তা অস্বীকার করতে পারিনা। আর একজন সৈনিক হিসেবেও আপনার জন্য এরচেয়ে মর্যাদার বিষয় আর কী হতে পারে যে, আপনি তাগুতের সেনাবাহিনী পরিত্যাগ করে আল্লাহ্‌র সেনাবাহিনীতে যোগ দিবেন। আপনি সরাসরি আল্লাহর সৈনিক। আপনার স্যালারি, রিজিক আসবে সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে, দুনিয়াতেও এবং মৃত্যুর পরেও ইনশাআল্লাহ। এই সেনাবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন মুহাম্মাদ (ﷺ), এই সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠ সৈনিকরা ছিলেন, আবু বকর, উমার, উসমান, আলী, হামযা, খালিদ ইবনু ওয়ালিদ, তালহা ইবনু জুবায়ের, কা’কা বিন আমর, আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহুম এবং আরো কত! সুবহানআল্লাহ্‌ আপনি হবেন তাঁদের উত্তরসূরী ইনশাআল্লাহ।

আপনি নিজেকে জিহাদের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করবেন। কথা এবং কাজের পূর্বে ইলম। তাই এই জিহাদের কাজের জন্য আপনার ইলম দরকার হবে। এর অর্থ এই নয় যে, আপনি ইলম এর জন্যই সব সময় শেষ করবেন, বরং ইলম এবং জিহাদ দুটি একই সাথে সহাবস্থান করতে হবে।

জিহাদ পরিচালিত হয় দুটি প্রধান ভিত্তির উপর ভর করে আনসার এবং মুজাহিদ/মুহাজির আপনি নিজের জন্য কোন একটি ভিত্তি পছন্দ করেন

১। আনসার:

আনসাররা হচ্ছেন জিহাদের লঞ্চিং প্যাড। আনসার ব্যতীত জিহাদি কার্যক্রম প্রায় অচল! তাই আপনি নিজেকে একজন আনসার হিসেবে তৈরি করতে পারেন। আপনি হতে পারেন জানবাজ মুজাহিদের আনসার তথা সাহায্যকারী। আনসার বলতে কী বুঝায় এবং তার বাস্তবতা কী তা বুঝার জন্য আমরা সীরাহ পড়তে পারি। কিভাবে মদিনার আনসারগণ দ্বীনের বিজয়ে ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেখান থেকেই আপনি গাইডলাইন পাবেন, ইনশা আল্লাহ বুঝতে পারবেন আনসার হিসেবে আপনার জিম্মাদারি কী কী হতে পারে।

আল্লাহ্‌ জিহাদের সাথে দুটি শব্দ এক করেছেন, “মাল”এবং “নাফস” সম্পদ দ্বারা জিহাদ এবং নিজের জীবন দ্বারা জিহাদ। সম্পদ ব্যতীত জিহাদ চলতে পারেনা। আপনার জন্য যদি এই মুহূর্তে নিজের জান দিয়ে জিহাদ করার সামর্থ্য বা সুযোগ না থাকে তবে আপনি মাল দিয়ে জিহাদের কাজে শরীক থাকতে পারেন। মেজর নিদাল হাসান তাঁর জীবনের একটা পর্যায়ে তাঁর বেতনের প্রায় ৭৫% সাদাকাহ করে দিতেন[6]

২। মুহাজির:

আপনার জন্য আরেকটি করণীয় হতে পারে হিজরত। আপনি নিজেকে একজন মুহাজির হিসেবে প্রস্তুত করতে পারেন। আপনার সমস্ত সুবিধাদি, শিক্ষা, ট্রেনিং, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা প্রয়োগ করে আপনি জিহাদের ভূমিগুলো যেমন, খোরাসান, শাম, ইয়েমেন, কাশ্মির এসকল ময়দানে হিজরত করতে পারেন। হিজরত এমন এক আমল যার প্রথম কদমের সাথে সাথে অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ্‌ মাফ করে দেন। সরকারী পাসপোর্ট থাকার কারণে, সামরিক সদস্য হবার কারণে আপনি বিদেশ ভ্রমণে বিভিন্ন সুবিধা পাবেন যা অন্য অনেকেই হয়ত পাবেনা। আপনি এগুলো ব্যাবহার করেন। জাতিসংঘ মিশনে থাকাকালীন, কিংবা মিশন চলাকালীন অবকাশে আপনি হিজরতের প্ল্যান করতে পারেন। কোন অনিবার্য কারণে আপনি নিজে যদি হিজরত নাও করতে পারেন, কিন্তু এ ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা আছে। আপনি তা কাজে লাগিয়ে হিজরতের জন্য গাইডলাইন প্রস্তুত করতে পারেন এবং আপনার মত অন্য কোন মুজাহিদ ভাইকে হিজরতের জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। রাসুল (ﷺ) বলেন,

وعن زَيدِ بنِ خَالدٍ، أنَّ رسُولَ اللَّهِ (ﷺ) قَال: مَنْ جهَّزَ غَازِيًا في سبيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا، ومنْ خَلَفَ غَازيًا في أَهْلِهِ بخَيْر فَقَدْ غزَا.

متفقٌ عليهِ

“যে কোন মুজাহিদকে প্রস্তুত করে দিলো, সে নিজেই জিহাদ করলো, আর যে ব্যক্তি মুজাহিদের পরিবার দেখাশোনার উদ্দেশ্যে পেছনে থেকে গেলো সে যেন নিজে জিহাদ করলো” (বুখারি মুসলিম)

৩। ওয়ান ম্যান আর্মি:

আপনি তাগুতের ভিতরে থেকেই একজন ওয়ান ম্যান আর্মি হিসেবে কাজ করতে পারেন। আল্লাহ্চাইলে হয়ত এটিই হবে আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে কার্যকর পথ সবার আগে আপনি নিজেকে একজন মুজাহিদ হিসেবে প্রস্তুত করুন। একজন মুজাহিদের প্রস্তুতি হিসেবে কিছু বিষয় অপরিহার্য, তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইলম ইলম ব্যতীত একজন মুজাহিদের কার্যক্রম তার নিজের জন্য বিপদজনক হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধ শায়েখ, এবং মুজাহিদ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. বলেছিলেন, একজন ডাকাতের কাছেও অস্ত্র থাকে, একজন মুজাহিদের কাছেও অস্ত্র থাকে। একজন মুজাহিদ যদি তাঁর অস্ত্রের ব্যাবহার শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর শরিয়াহ অনুযায়ী না করে তবে ডাকাতের রাহাজানি আর মুজাহিদের কাজের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। তাই সবার আগে আপনাকে অন্তত দ্বীনের কিছু মৌলিক বিষয় জানতে হবে। জিহাদের কাজের ব্যাপারে ইলমের জন্য আপনাকে প্রসিদ্ধ মুজাহিদ শায়েখগণ, হক্কপন্থী জিহাদি তানজিমগুলোর মুজাহিদ কমান্ডারদের গাইডলাইন, আলোচনা, রিসালাহ ইত্যাদি পড়তে হবে আপনার তথাকথিত সেনাবাহিনীর জীবনে যেমন প্রমোশনের জন্য অনেক রকম পড়াশোনা করতে হয়, তেমনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য, এবং আল্লাহর সৈনিকদের মধ্যে টপ র‌্যাংক পাবার জন্য আপনাকে আল্লাহর দ্বীন, জিহাদের ফিকহ, এবং শারিয়াহ’র মৌলিক বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে। তবে এর অর্থ এখানেই শেষ নয় বরং এ দ্বারা কেবল শুরু হল মাত্র, এখন আপনি আল্লাহর সৈন্য হিসেবে নিজেকে কোন পর্যায়ে নিতে চান তা আপনাকে বেছে নিতে হবে। আপনার সেনাবাহিনী আপনার পারফরম্যান্স যাচাই করে, তা নোট করে রাখে, এবং তার ভিত্তিতেই হতে থাকে আপনার প্রোমোশন। তাহলে মাথায় রাখুন আল্লাহ্‌ নিজে আপনার সমস্ত কাজ যাচাই করেন, নিরীক্ষণ করেন এবং আল্লাহর কাছেও আপনার প্রোমোশন লিপিবদ্ধ হতে থাকে। বরং আল্লাহ্‌ বিভিন্ন ভাবে আমাদের উৎসাহিত করেছেন আমাদের আমল/পারফরম্যান্স আরো ভালো করার জন্য।

আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন একজন সলিড ফাইটার। বর্ন টু কিল ধরণের। আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু যুদ্ধের আগে কপালে একটি লাল ব্যান্ডানা বেঁধে নিতেন, আর যখন তিনি এই ব্যান্ডানা বেঁধে নিতেন তখন সাহাবারা বুঝে নিতেন, আজ সে শত্রুকে শেষ না করে আর ফিরছেনা! এই লাল ব্যান্ডানা বেঁধে আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু ঘোষণা দিয়ে দিতেন, আমি না ফেরার জন্য যাচ্ছি!

মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বলেনঃ

রাসুল (ﷺ) গাযওয়ায়ে উহুদে একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে উঁচু করে ধরে বললেন “কে এর হক্ক আদায় করবে?” বহু সাহাবাগণ এগিয়ে আসলেন। রাসুল (ﷺ) তাঁদের কাউকেই দিলেন না। এ দেখে আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ এই তলোয়ার এর হক্ক কী?” রাসুল (ﷺ) বললেন, “এটা দিয়ে কাফেরদের আঘাত করতে হবে যতক্ষণ না এটা ভেঙ্গে যায় বা বাঁকা হয়ে যায়” আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আমি এর হক্ক আদায় করব। রাসুল (ﷺ) আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু কে তলোয়ারটি দিয়ে দিলেন।

আবু দুজানা বাহাদুর ছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে তিনি বুক ফুলিয়ে চলতেন। তাঁর লাল রঙের ব্যান্ডানা ছিলো যা দেখে দূর থেকে তাকে চেনা যেত। যখন তিনি এটি পরিধান করতেন তখন মানুষ বুঝে নিত তিনি যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন।

মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বলেনঃ

আবু দুজানা তরবারীটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত থেকে নিয়ে তার ব্যান্ডানাটি বের করে বেধে নিলেন তারপর বুক ফুলিয়ে কিছুটা গর্বভরে সাহাবাদের সামনে দিয়ে পার হচ্ছিলেন। রাসুল (ﷺ) সেটি দেখে বললেন, “এটি এমন এক চলন যা আল্লাহকে রাগান্বিত করে, তবে যুদ্ধক্ষেত্র ব্যতীত।”

(আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহঃ

গাযওয়াতু উহুদ, খন্ডঃ , পৃঃ ৩৩৭)

এটা দিয়ে কাফেরদের আঘাত করতে হবে যতক্ষণ না এটা ভেঙ্গে যায় বা বাঁকা হয়ে যায়” – দেখুন তলোয়ারের কী হক, অস্ত্রের কী হক, রাসুল (ﷺ) নিজে সেটা বলে দিচ্ছেন হক আদায় করে আবু দুজানা রাযিয়াল্লাহু আনহু জান্নাত কিনে নিয়েছিলেন আপনি আপনার অস্ত্রের আর প্রশিক্ষণের কোন হক আদায় করছেন? এই অস্ত্র আর প্রশিক্ষণ দিয়ে আপনি কী কিনছেন?

তাই আপনাকে এই জিহাদের কাতারেও হতে হবে প্রথম সারির, আর এজন্য আপনাকে প্রস্তুত হতে হবে। এটা সহজ নয়, যেমন সহজ নয় আপনার ট্রেনিংগুলো।

ইলম অর্জন করাই শুধুমাত্র আপনার কাজ নয়, বরং আপনি এখন চিন্তা করবেন আপনি কিভাবে একজন মুজাহিদ হিসেবে, ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করতে পারেন, ভেতরে থেকেই। একজন ইনসাইডার হিসেবে, কোভার্ট অপারেটর হিসেবে এ ব্যাপারে অনেক ভাই দ্বিধায় পড়ে যান এই বিষয়ে যে, আমি তো একা, আমি তো কোন দল বা সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত না। এই বিষয়ের উপরে বিশদ আলোচনার সুযোগ আপাতত নাই। তবে অল্প কিছু উদাহরণ আমি এখানে পেশ করছি।

প্রথম উদাহরণ সীরাহ থেকে।

সাহাবী আবু বাসীর রাযিয়াল্লাহু আনহু কে রাসুল (ﷺ) সন্ধির চুক্তি অনুযায়ী মক্কার কাফেরদের কাছে ফেরত দিয়ে দেন। আবু বাসীর রাযিয়াল্লাহু আনহু জানতেন তিনি যদি আবার মদিনায় ফিরে যান, রাসুল (ﷺ) হয়ত আবার তাঁকে মক্কার কাফেরদের কাছে ফিরিয়ে দিবেন। তাই তিনি একাই পালিয়ে গেলেন প্রত্যন্ত একটি এলাকায় এবং সেখান থেকেই তিনি কাফেরদের কাফেলাগুলোতে হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে আক্রমণ চালাতে লাগলেন। এভাবে আবু বাসীর রাযিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে যোগ দিলেন মক্কা থেকে পালিয়ে আসা আরো কিছু সাহাবা। এরপর তারা নিজেরা মিলে তৈরি করে ফেললেন একটি ফাইটিং গ্রুপ, যারা কাফেরদের কাফেলাতে অহরহই রেইড দিতে লাগলেন। একপর্যায়ে কাফেররা বাধ্য হল, চুক্তি থেকে তাদের এই শর্তটি উঠিয়ে নিতে।

তাই আপনি একা, আপনি কোন দলের সাথে নাই এমন কারণে আপনার জিহাদি কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন না। বরং বাস্তবতা হচ্ছে দুনিয়াতে আর কেউই যদি জিহাদের উপরে আমল না করে তবুও আপনার উপর জিহাদ ফরজ এবং আপনাকে আপনার সাধ্যমত জিহাদের আমল করতেই হবে তাই আপনি কখনই ভাববেন না আমি একা কী করতে পারি? এ প্রশ্নটিই অবান্তর। প্রথম কথা হচ্ছে আপনি একা নন, বরং আল্লাহ্‌ এবং আল্লাহর সেনাবাহিনী আপনার সাথে আছেন।

আপনি এভাবে চিন্তা করুন যে, আপনি নিজে একটি মুজাহিদ সেল তৈরি করবেন। এটা আপনার জন্য নতুন নয়, আমি জানি এটা আপনার প্রশিক্ষণেরই অংশ। যেখান থেকে অপারেশন চালানোর কোন পরিস্থিতিই থাকেনা সেখানে ল্যান্ড করে/ইনফিলট্রেট করে অপারেশন চালানোর পর্যাপ্ত পরিবেশ তৈরি করাই আপনার কাজ। তাই আপনি অপারেশনের জন্য বেইজ তৈরি করুন, টিম তৈরি করুন, তাদেরকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত করুন।

আপনি আঘাত করবেন না, বরং আল্লাহ্ই আঘাত করবেন। আল্লাহর মুজাহিদ ফেরেশতাগণ আপনার সাথে আঘাত করবেন। আমি দেখেছি মুজাহিদগণ একটি হামভিতে রকেট হামলা চালিয়েছে, সেই জ্বলন্ত হামভি থেকে একটি চাকা খুলে গিয়ে পাশের হামভিতে আঘাত করেছে। সামান্য এই চাকার আঘাতে আরেকটি হামভি জ্বলে গেছে। আমি আরো দেখেছি, মুজাহিদ ভাইরা কোন একটি এপিসিতে রকেট হামলা চালিয়েছেন, কিন্তু সাথে থাকা অন্য ভেহিকলগুলোর অ্যামিউনেশন নিজে থেকেই বিস্ফোরিত হওয়া শুরু করেছে! এগুলো আল্লাহর নুসরাহ, আল্লাহর সাহায্য, যা আল্লাহ্‌ ওয়াদা করেছেন মুমিনদের জন্য, মুজাহিদদের জন্য। এমন নুসরাহ আর সাহায্য অহরহই আসতে থাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে মুজাহিদদের জন্য!

আপনার সমমনা মুজাহিদ ভাইদের নিয়ে ছোট একটি সেল তৈরি করুন। এরপরে টিম হয়ে কিংবা একাকী আঘাত করুন তাগুতের উপরে। তাগুতকে ক্ষতবিক্ষত করে দেন, তাকে রক্তাক্ত করে দেন। Bleed them as they bleed us. আপনি বিশ্ব কুফর এর সর্দার আমেরিকা, ব্রিটেন, ন্যাটো জোটের যেকোনো দেশের, কিংবা ভারতীয় স্বার্থের উপরে আক্রমণ করুন। আপনি আপনার অবস্থান থেকে বেস্ট টার্গেট বেছে নিয়ে আক্রমণ করুন। তবে আল্লাহ্‌ বলেছেন, তোমরা কুফর এর মাথা/সর্দারদের সাথে যুদ্ধ কর। আগে তাদের ফেলে দাও। সম্ভব হলে আপনি সরাসরি মুরতাদ সরকার প্রধান হাসিনাকে হত্যা করে ফেলুন। বিশেষভাবে এস এস এফ এর ভাইদের জন্য তা তুলনামূলকভাবে অন্যদের তুলনায় সহজ, আল্লাহ্‌ চাইলে। অথবা এ দেশের মাটিতে থাকা ক্রুসেডার আমেরিকান কিংবা হিন্দুত্ববাদী ভারতের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের আক্রমণ করুন। মিশনে থাকা অবস্থায় উপযুক্ত টার্গেটে হামলা করুন। অথবা কাজে লাগান পশ্চিমা দেশে ছুটি কাটানোর সময়টাকে।

সীরাহ থেকে উদাহরণের পর আমি এখন আপনাকে বর্তমানের কিছু উদাহরণ দিচ্ছি, যাতে করে আপনি বুঝতে পারেন আপনি একাকী কতো বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

আপনি অনুসরণীয় দৃষ্টান্তের জন্য তাকাতে পারেন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট খালিদ আলইসলামবুলি রাহিমাহুল্লাহ এর দিকে। যিনি উম্মাহর সাথে গাদ্দারী করা ইহুদীদের এজেন্ট, তাগুত আনওয়ার সাদাতকে (মিশরের একসময়কার প্রেসিডেন্ট) প্যারেড চলাকালীন সময়ে হত্যা করেছিলেন।

মেজর নিদাল হাসান ছিলেন আমেরিকান সেনাবাহিনীর একজন সাইকিয়াট্রিস্ট ২০০৯ তিনি টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে ১৩ জন ক্রুসেডারকে হত্যা করেন এবং আরো ৩০ জনকে আহত করতে সক্ষম হন আমেরিকার মাটিতে বসে আমেরিকান আর্মির অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেন তিনি

একইরকম আরেকটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মুহাম্মাদ সাইদ আশশামরানি। আমেরিকায় প্রশিক্ষণ নিতে আসা সৌদি বিমান বাহিনীর এই তরুণ সদস্য, ২০১৯ এর ডিসেম্বরে হামলা চালান আমেরিকার পেনসাকোলার নেভাল এয়ার স্টেশনে। হত্যা করেন ৩ ক্রুসেডারকে।

একজন ইনসাইডার অ্যাটাকার কতো বড় অবদান রাখতে পারেন তার আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আপনি পাবেন মেভলুত আলতিনতাস -এর মাঝে। আল্লাহ্‌র এই বীর সৈনিক ২০১৬ তে সারা বিশ্বের চোখের সামনে হত্যা করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে। সিরিয়াতে চালানো নির্বিচার বোমা হামলা, হত্যা এবং বাশারের প্রতি সমর্থনের প্রতিশোধ হিসেবে এ অপারেশন জানান মেভলুত আলতিনতাস। তিনি কুফফার গোষ্ঠীকে আবারো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, যদি আমরা মুসলিমরা নিরাপদ না থাকি, তাহলে তোমরাও নিরাপদ থাকবে না। আলতিনতাস ছিলেন তুর্কি পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

খালিদ আল-ইসলামবুলি, নিদাল হাসান, মুহাম্মাদ আশ-শামরানি, মেভলুত আলতিনতাস – চারজনই নিজেদের ট্রেনিং এবং সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের ফায়দা নিয়ে এমন টার্গেটে হামলা চালিয়েছিলেন যা পর্যন্ত পৌছানো অন্যদের জন্য ছিল অনেক কঠিন। আল্লাহ্‌ তাঁদের উপর রহম করুন। নিশ্চয় এখানে আপনার জন্য উত্তম দৃষ্টান্ত আছে। আছে চিন্তার খোরাক।

আপনি আপনার সামর্থ্য, পরিবেশ, ট্রেনিং এবং লজিস্টিকস এর উপরে ভিত্তি করে বেস্ট পসিবল টার্গেটে আক্রমণ করুন। আপনাকে শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে দু’টি বিষয়। শত্রুর সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধন, এবং সাধারণ মুসলিমের জান মালের যথাসম্ভব নিরাপত্তা বজায় রাখা যেমন আপনি যদি নেভি অফিসার হয়ে থাকেন তবে কোন একটি ফ্রিগেট নিয়ে, নেভি ভেসেল নিয়ে আক্রমণ করুন আপনার সাধ্যের মধ্যে কাফেরদের যেকোনো টার্গেটে। আপনি যদি মিশনে থাকেন তবে তাদের কোন অফিসে, প্ল্যান্টে, বেইজে, হ্যাঙ্গারে কিংবা তাদের কোন ভেসেলে স্যাবোটাজ করেন।

মিশনে থাকাকালীন সময়ে আপনি সেখান থেকেই অ্যামেরিকার পা চাটা দালাল জাতিসংঘ এবং অন্যান্য হারবি দেশের যে কোন টার্গেটে আক্রমণ করেন। এই সেই জাতিসংঘ যে ইরাকের উপরে অবরোধ আরোপ করে লক্ষ লক্ষ ইরাকি শিশু হত্যা করেছিলো, কিন্তু ফিলিস্তিন, কিংবা আরাকানের গণহত্যার ব্যাপারে কিছুই করতে পারেনি! এবং তারা করবেও না!

আপনাকে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এজন্য যে, “You can HIT HARD” So HIT HARD” আপনি আল্লাহর দুশমনদের অন্তরে ভীতি তৈরি করেন আল্লাহ্সরাসরি আদেশ দিচ্ছেন শত্রুদের অন্তরে ভীতি তৈরি করার জন্য

আল্লাহ্বলেন:

وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ

﴿الأنفال: ٦٠﴾

“তোমরা কাফেরদের মুকাবেলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি এবং সদা সজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দ্বারা আল্লাহর শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদের ভীত সন্ত্রস্ত করবে। এছাড়াও অন্যান্যদের যাদের ব্যাপারে তোমরা জানোনা কিন্তু আল্লাহ্‌ জানেন। আর তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যায় কর তার প্রতিদান তোমাদের পুরাপুরি দেয়া হবে, তোমাদের প্রতি (কম দিয়ে) অত্যাচার করা হবেনা” (সুরা আনফালঃ ৬০)

আপনার কাজে আল্লাহ্‌ এমন বারাকাহ দিবেন যে, আপনি শহীদ হয়ে আল্লাহর কাছে দেখা করতে চলে যাবেন ইনশাআল্লাহ, কিন্তু আপনার পরে তৈরি হবে লিগ্যাসি, তৈরি হবে নতুন জাগরণের একটি ধারা। হতে পারে তারা হবে আপনার চেয়ে আরো বেশি স্পিয়ার হেডেড, আরো বেশি ইমপ্যাক্ট নিয়ে তারা আঘাত হানবে শত্রুর বুকে! আপনার মত আরো অনেকে উৎসাহিত হবে এই কাজের ধারা অব্যাহত রাখতে আর আপনি এই সমস্ত কাজের পুরস্কার পেতে থাকবেন ইনশা আল্লাহ!

একথা সত্য যে, টার্গেট কী হবে? ট্যাকটিকস কী হবে? এসব নিয়ে আলোচনা করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয় কারণ আমি জানি এ ব্যাপারে আপনারা প্রশিক্ষিত এবং সাথে দরকার হবে আরো কিছু শরয়ী লেখাপড়া যা উপরের ইলম অর্জনের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই লেখার মৌলিক উদ্দেশ্য ছিলো আপনাকে তাগুতের দাসত্ব অস্বীকার করে শুধু মাত্র আল্লাহর দাসত্বের জিন্দেগীতে প্রবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করা। তাগুতের সেনাবাহিনীকে অস্বীকার করে আল্লাহর সেনাবাহিনীতে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করা। তাগুতের কমান্ডো না হয়ে আল্লাহর দ্বীনের কমান্ডো হতে উদ্বুদ্ধ করা। তাগুতের নিরাপত্তায় নিয়োজিত না থেকে আল্লাহর দ্বীন আর মুসলিম উম্মাহ’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত হতে উদ্বুদ্ধ করা। তাগুতের পতাকার সামনে দণ্ডায়মান না হয়ে আল্লাহর দ্বীনের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া।

মনে পড়ে জাফর রাযিয়াল্লাহু আনহু এর কথা? জাফর রাযিয়াল্লাহু আনহু দ্বীনের ঝাণ্ডা হাতে কাফেরদের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, কাফেররা তাঁর এক হাত ছিন্ন করে ফেললো, তিনি অপর হাতে দ্বীনের ঝাণ্ডা তুলে ধরলেন, কাফেররা তাঁর সেই হাতও ছিন্ন করে দিল, তিনি কর্তিত দুই বাহু দিয়ে দ্বীনের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে রাখলেন, কাফেররা তাঁকে অবশেষে শহীদ করে ফেললো আল্লাহ্ রাসুল (ﷺ) জানিয়ে দিলেন, আল্লাহ্জাফরকে পাখির মত দুটি ডানা দিয়েছেন সে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়ায়!

এ লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সেই কথাঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

﴿المائدة: ٣٥﴾

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অনুসন্ধান কর এবং তাঁর পথে জিহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার” (সুরা মায়িদাহঃ ৩৫)

আমার একার এই কাজে কী এমন প্রভাব পড়বে ?

নেকের মনে একটি সন্দেহ এসে থাকে যে, আমার একার কাজে কী এমন প্রভাব পরিলক্ষিত হবে! আমি একা কী-ই বা করতে পারি! সাধারণত এই রকম চিন্তা হতাশা কিংবা কাজের ফলাফল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে আসে। আপনি স্টাফ কলেজের প্রস্তুতি নিতে কতোই না মেহনত করেন, একটু কষ্ট করে আর্কিটেক্ট অফ গ্লোবাল জিহাদ নামে খ্যাত শাইখ আবু মুসাব আস সুরী এর The Global Islamic Resistance Call নামক বইটির শুধু ৮ম চ্যাপ্টারের ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম সেকশন গুলো একটু পড়ে দেখুন না। টর ব্রাউজার দিয়ে নেটে একটু সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। চিন্তার কোন কারণ নেই, টর ব্যবহার করলে ওরা আপনার নেট হিস্ট্রি জানতে পারবে না। আপনার নেট অ্যাক্টিভিটিও অন্যদের কাছ থেকে গোপন থাকবে। অন্তত এই অল্প কিছুটা অংশ পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে আপনার জায়গা থেকেই আপাত দৃষ্টিতে ছোট কোন কাজ, দীর্ঘমেয়াদে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সারা পৃথিবী ব্যাপী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইন্ডিভিজুয়াল সেল অ্যাটাক কিংবা লোন অ্যাটাকের কী কালেক্টিভ ইমপ্যাক্টই না  আজ আমরা দেখতে পারছি, সুবহানআল্লাহ!

মূল কথা হল তাগুত, মুরতাদ, কাফেরদের চারপাশটা অনিরাপদ করে তুলুন। ওদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলুন, ওরা যেন সবসময় প্যানিক এর মধ্যে থাকে, ভাবে – এই বুঝি আমার উপর আক্রমণ হল। আমেরিকা ও তার দোসরদের জনগণকে ওদের শাসকদের বিপরীতে দাঁড় করাতে সাহায্য করুন – তারা যেন তাদের শাসকদেরকে প্রশ্ন করে কেন তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা বাহিনীগুলো অযথা অন্য দেশের সীমানায় গিয়ে মোড়লগিরি ফলাচ্ছে যার ফল আজ তাদের ভোগ করতে হচ্ছে?  আজ এই চিঠিটি পড়ার পর শুধু যদি একজনও অফিসার, সৈনিক বা পুলিশ ভাই যদি ছোট্ট একটি প্রজেক্ট ও হাতে নেন, একটি ক্যাজুয়াল আক্রমণও করে বসেন, দেখবেন ওদের সিস্টেমে কী পরিমাণ ধ্বস নেমে গেছে, কিংবা দুশ্চিন্তা এসে ভর করেছে! কারণ ওরা জানেনা এই মূহুর্তে কে তাকে কোথায় আক্রমণ করবে! তাই বলছিলাম আসলে আমাদের গ্লোবাল জিহাদের কার্যক্রম ও ফলাফল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে, আপনার আমার আপাত দৃষ্টিতে ‘ছোট’ কাজের ফল হিসেবে শত্রুর কী পরিমাণ ক্ষতি সাধন বা মুসলিম উম্মাহর কি পরিমাণ লাভ হবে তা আমরা বুঝতে ব্যর্থ হই। আমি আবারও বলছি, অধমের মতে জিহাদে যোগদানের জন্য আমাদের সিদ্ধান্তহীনতার অন্যতম প্রধান কারণ গ্লোবাল জিহাদের কার্যক্রম এবং এর ধরণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকা।

আপনি জানেন, শত্রুর ক্ষতিকে বিভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। যেমন – বস্তুগত ক্ষতি (Tangible loss),  মোরাল লস (Intangible loss) ইত্যাদি। আবার কিছু ক্ষতি এমন হতে পারে যা আপাত দৃষ্টিতে চোখে পড়েনা বা সমসাময়িক না কিন্তু কিছু সময় পার হলে সেই ক্ষতির স্বরূপ প্রকাশিত হয়। যেমন ধরা যাক কোন একটি ফিদায়ী অপস হয়েছে যা হয়ত কাঙ্ক্ষিত ক্ষতি সাধনে সমর্থ হয়নি। তাই আপাত দৃষ্টিতে এর কোন ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়না। কিন্তু হতে পারে এই অপসটি ব্যর্থ হবার কারণে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আরো কয়েকজন এই ধরনের অপসের জন্য উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। হয়ত খুব শীঘ্রই তারা এই একই টার্গেটে বা একই সাথে আরো অন্য টার্গেটে আঘাত হানতে যাচ্ছে, আগের চেয়েও তীব্রতার সাথে! কিন্তু যুদ্ধের ধরণের জন্য আপনি হয়ত কখনই জানবেন না যে এই গ্রুপটি আসলেব্যর্থঅপসটির কারণেই উৎসাহিত হয়েছে তাই টার্গেটের উপরে সুনির্দিষ্ট ক্ষতির হিসেবে আপনার কাজটি সফল না হলেও এর চেয়েও আরেকটি বড় লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে তা সফল হতে পারে, তা হচ্ছে আপনার মত আরো অনেক মুজাহিদ ভাইদের জন্য জিহাদের/কিতালের স্পৃহা (Initiative) নিয়ে আসা। আপনি নিশ্চয়ই জানেন প্রত্যেকটি যুদ্ধের জন্য ইনিশিয়েটিভ কত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর! যথার্থ ইনিশিয়েটিভ এর অভাবেমোরাল লসশুরু হয় এবংমোরাল লসএর কারণে পরাজয় শুরু হয়

বর্তমানে জিহাদের ধরণ মূলত আরবান গেরিলা ওয়ারফেয়ার। আমি সাথে একটু যোগ করে নিয়েছি তা হচ্ছে ইমপ্রোভাইজড আরবান গেরিলা ওয়ারফেয়ার। কারণ এই ওয়ারফেয়ার প্রতিদিন প্রতিনিয়ত শত্রুর কৌশল সমূহ বিবেচনা করে, এবং নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে এর কৌশল সমূহকে শত্রুর উপরে কার্যকরী রাখার চেষ্টা করে।

ক্রুসেডার শক্তির সাথে বর্তমান চলমান জিহাদ মূলত শত্রুকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করার যুদ্ধ। শায়েখ আবু বকর নাজি রহ. তার  The Management of Savagery বইতে একে উল্লেখ করেছেন নিঃশেষ পরিশ্রান্তকরণ‘ (War of attrition) বা তটস্থকরণ ক্রমঃশক্তিক্ষয়করণ‘ (Vexation and Exhaustion) হিসেবে। এই যুদ্ধে আমরা একদিনেই শত্রুকে পরাজিত করার প্রতিশ্রুতি দেইনা বা সে আশাও করিনা, বরং আমরা শত্রুকে আঘাতের পর আঘাত করতে থাকি, তাকে রক্তাক্ত করতে থাকি এমন পর্যায়ে যে শত্রু নিজের দেহের ভার বহন করার সামর্থ্যটুকুও হারিয়ে ফেলে। এরপরে সে নিজেই ধ্বসে পড়ে কিংবা পরাজিত কুকুরের মত ময়দান ত্যাগ করে। এই বিষয়টিতে আমি আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি কারণ এটিই গ্লোবাল জিহাদের মৌলিক ট্যাকটিক্স আল্লাহর ইচ্ছায় আপাত দৃষ্টিতে এই সহজ সমীকরণটিই যুগে যুগে পরাশক্তি গুলোকে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। যদি উপরের বই দুটি কোন কারণে পড়তে না পারেন তাহলে দ্রুত গুগল করে পড়ে নিন রবার্ট ট্যাবারের The War Of The Flea. ইনশাআল্লাহ্ সমীকরণ বুঝা একেবারেই সহজ হয়ে যাবে।

কেন আমি এই ব্যাপারে আপনাদের মনোযোগ চাচ্ছিলাম? কারণ, আমি একা কী বা করতে পারিএই প্রশ্নটির উত্তর লুকিয়ে আছে এই সমীকরণের ভিতরে তাহলে এভাবেও বলা যায় যে, আপনার কোন কাজই বিচ্ছিন্ন নয় বা ফলহীন নয় বরং ইনশা আল্লাহ আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার প্রত্যেকটি কাজ গ্লোবাল জিহাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক।

উপরের আলোচনার বাস্তবতাও আমাদের সামনে উপস্থিত আছে। বর্তমান বিশ্বের সুপার পাওয়ার অ্যামেরিকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে দুনিয়ার সমস্ত অ্যাডভান্সড মিলিটারি ইকুইপমেন্টস এবং আর্মি নিয়ে আফগানিস্তান থেকে পরাজিত নেড়ি কুকুরের মত লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছে। ১৯ বছর ধরে অ্যামেরিকাকে আঘাত করে করে তাকে এমন রক্তাক্ত করা হয়েছে যে ১৯ বছরের রক্তক্ষরণ আজ অ্যামেরিকাকে বাধ্য করেছে লেজ গুটিয়ে সরে পড়তে।

আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার কাজ কিভাবে গ্লোবাল জিহাদের কাজকে প্রভাবিত করতে পারে তার কয়েকটি উদাহরণ আমি নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি ইনশা আল্লাহ।

১। শেষ আঘাতটির কারণেই পাথরটি ভাঙ্গেনিঃ

কোন শক্ত পাথর/বোল্ডার ভাঙ্গার জন্য শুধু মাত্র একটি আঘাতই যথেষ্ট নয়, বরং আঘাতের পর আঘাত করতে হয়। হতে পারে ১০ টি আঘাতের পরে পাথরটি ভেঙ্গে যাবে। এর অর্থ এই নয় যে, পাথর ভাঙ্গার অবদান শুধু মাত্র দশম আঘাতের। বরং এই পাথর ভাঙ্গার পেছনে প্রতিটি আঘাতেরই অবদান আছে। আপনি যদি এই লাইনগুলো উপেক্ষা করেন তাহলে অনেক বড় ভুল করে ফেলবেন। বিশেষ করে একজন মুজাহিদ হিসেবে আপনাকে এই কৌশল মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। কেন আমি এই লাইনের উপরে জোর দিচ্ছি? কারণ আপাত দৃষ্টিতে সরল মনে হওয়া লাইন কয়টি আমরা গুরুত্ব দিতে চাইনা, কিন্তু বাস্তবে আল্লাহর ইচ্ছায় এটিই হচ্ছে মুজাহিদদের সফলতার অন্যতম কৌশল। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অ্যামেরিকাকে এবং অ্যামেরিকার স্বার্থের উপরে মুজাহিদগণ সাধ্যমত হামলা করেই যাচ্ছেন এবং অন্য মুজাহিদদের আহবান করছেন যেন যুগের হুবাল, সাপের মাথা অ্যামেরিকার উপরে আঘাত করা হয়। এই প্রত্যেকটি আঘাত যা অ্যামেরিকার উপরে করা হয়েছে তার প্রত্যেকটির অবদান আছে আজকের অ্যামেরিকার পতনের পেছনে। মুজাহিদ কমান্ডার শায়েখ উসামা রহ. এর কৌশল ছিলো, অ্যামেরিকাকে চোরাবালিতে টেনে নিয়ে আসা, তাকে একই সাথে কয়েকটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা, যেন এক অ্যামেরিকা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুজাহিদদের আঘাতের টার্গেট হতে পারে। আর বাস্তবেও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর ইচ্ছায় তাই হয়েছে। তাই গ্লোবাল জিহাদের এই জিহাদি ময়দানে শত্রুর প্রতি প্রত্যেকটি আঘাত তেমনই গুরুত্বপূর্ণ, পাথর ভাঙ্গার জন্য অন্য আঘাত গুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যাপারে আমি শামের একজন মুজাহিদ ভাই এর কথা উল্লেখ করতে চাই। সে ভাই এর বয়স বেশী নয় হয়ত ২০ বছরের একজন টগবগে যুবক। সেই ভাই কোন একটি অপস এর পরে হাসি মুখে বলছিলেন – (খুব সম্ভব বাশার আল আসাদকে উদ্দেশ্য করে) আজ হোক বা কাল হোক আমরা তোমাকে হত্যা করবই, এটা তো শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র আমি যদি নাও থাকি আমার পরে অনেকে আসতেই থাকবে যতক্ষণ না তোমাকে হত্যা করা হয়

এজন্য আপনি অবশ্যই মনে করবেন না আপনার কাজের কী-ই বা এমন প্রভাব আছে! আছে, ইনশাআল্লাহ আছে। আপনার প্রত্যেকটি কাজ শত্রুকে তার চূড়ান্ত পতনের দিকে আরো একটু এগিয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ, যা হয়ত আপনি দিব্য চোখে দেখতে পারবেননা কিন্তু এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে এবং সামরিক কৌশল, অভিজ্ঞতার আলোকে উপলব্ধি করে নিতে হবে।

২। শত্রুর অন্তরে ভীতি সৃষ্টিঃ

আগেই সংক্ষিপ্ত ভাবে উল্লেখ হয়েছে কেন দুনিয়ার যে কোন প্রান্তর থেকে সম্ভাব্য যে কোন উপায়ে অ্যামেরিকার উপরে আঘাত হানার আহ্বান করা হয়েছে। এটি হচ্ছে এক অ্যামেরিকাকে অসংখ্য অপরিচিত হুমকির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া, যার ফলে কখনই অ্যামেরিকার সাধ্য হবেনা এক সাথে সবগুলো হুমকির মোকাবেলা করার। সাধারণত এই অ্যাটাকগুলো লোন মুজাহিদদের দ্বারা পরিচালিত লোন অ্যাটাকহয়ে থাকে। অ্যামেরিকা সহ বিশ্ব ক্রুসেডার অক্ষের অন্যতম ভীতির নাম লোন অ্যাটাক। লোন অ্যাটাক ধরণগত ভাবেই এমন যে, কেউ জানেনা পরবর্তী টার্গেট কী হবে? কোথায় হবে? এবং কীভাবে হবে? তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাফির এবং মুরতাদরা এই লোন অ্যাটাকের সামনে অসহায় হয়ে থাকে! তারা জানে এমন অ্যাটাক আবার হবে কিন্তু যা জানেনা তা হচ্ছে কখন! কোথায়! এবং কীভাবে! এই অজানা শঙ্কা কাফেরদের অন্তরে ভীতির প্রভাব বিস্তার করে রাখে।

একই ভাবে আপনার যে কোন অপারেশন হোক তা সফল কিংবা ব্যর্থ, ছোট কিংবা বড় তা অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছায় কাফের মুরতাদ এবং তাদের সহযোগীদের অন্তরে ভীতি তৈরি করবে। এখানে আরো একটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ করা জরুরী আর তা হচ্ছে – কাফেরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার এর বিষয়টি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নুসরাহ বা সাহায্য। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করব আমি এমনও ঘটনার কথা শুনেছি যে, শুধু মাত্র সজোরে তাকবীর (আল্লাহু আকবর) শুনে তাগুতের বাহিনী ভয়ে দৌড় দিয়েছে! ইউটিউবের সেই ভিডিওটির কথা কারো অজানা থাকার কথা না, যেখানে দেখা যায়, ট্রাম্পের কোন এক সভায় কেউ একজন শুধুমাত্র “আল্লাহু আকবর” বলায় ট্রাম্প নিজের মাথা লুকাতে অস্থির হয়ে গিয়েছিলো!

উপরন্তু আল্লাহ এমন আদেশও দিচ্ছেন, আমরা যেন আমাদের সাধ্যমত প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং কাফেরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করি।

আল্লাহ্বলেন:

وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ

﴿الأنفال: ٦٠﴾

“তোমরা কাফেরদের মুকাবেলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি এবং সদা সজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দ্বারা আল্লাহর শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদের ভীত সন্ত্রস্ত করবে। এছাড়াও অন্যান্যদের যাদের ব্যাপারে তোমরা জানোনা কিন্তু আল্লাহ্‌ জানেন।” (সুরা আনফালঃ ৬০)

আপনার কাজের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ কাফের, মুরতাদদের অন্তরে ভীতি ছড়িয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ্। তারা সবসময়ে এই ভয়ে তটস্থ থাকবে না জানি আরো কতজন এমন অ্যাটাকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে! না জানি পরের অ্যাটাক কোথায় হবে! কিভাবে হবে! এই ভয়কে দমন করার জন্য তাগুত এবং মুরতাদরা বিভিন্ন দমন পীড়ন শুরু করে। কখনো জুলুম এবং নির্যাতনের মাধ্যমে, কখনো বা মিষ্টি কথার ডির‌্যাডিক্যালাইজেশন এর নামে। মজার ব্যাপার হচ্ছে তাদের এই পদক্ষেপ গুলো তাদেরই বিপক্ষে চলে যায়! যারা হয়ত সেলফ মোটিভেটেড হয়ে আছেন কিন্তু এখনো বোল্ড কোন স্টেপ নিতে পারেননি বা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি, জুলুম নির্যাতনের কারণে তাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়ে যায়। একই ভাবে ডির‌্যাডিক্যালাইজেশন এর মাধ্যমে যদিও তাগুত সফলতা আশা করে কিন্তু বাস্তবে এটি তাদের জন্য বুমেরাং বৈ অন্য কিছু হয়না। বাস্তবে তাদের এই ডির‌্যাডিকালাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের অসারতা এবং তাদের মিথ্যা আরো সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। আল্লাহ্‌ বলেন, তারাও (কাফেররা) পরিকল্পনা করে আর আল্লাহ্ পরিকল্পনা করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী আল্লাহ্‌ আরো বলেন, মিথ্যা ব্যর্থ হবেই

এভাবেই আল্লাহর দ্বীনের মুজাহিদদের সাধ্যমত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ কাফেরদের পরিকল্পনাগুলো নস্যাৎ করে দেন, শুধু মাত্র এই বিষয়টিই আলাদা ভাবে তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে, আর তা হচ্ছে – কিভাবে সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা স্বত্বেও তারা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে এবং আল্লাহর দ্বীন আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে! এটিই হচ্ছে তাদের চূড়ান্ত ভীতি আর তা হচ্ছে পরাজয়ের ভীতি!

আল্লাহ কথাই বলেছেন

يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

﴿الصف : 8﴾

“তারা (কাফেররা) মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূর (দ্বীন) নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ্‌ তা প্রজ্বলিত করেই ছাড়বেন তাতে কাফেরদের যতই গায়ে জ্বালা ধরুক না কেন।” (সুরা সফঃ )

ভীতি সঞ্চারের ব্যাপারে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় তা হচ্ছে, আপনার কাজটি কী পরিমাণ ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হল তা দ্বারা ভীতি সঞ্চার বিষয়টি প্রভাবিত হয়না। বরং কাজটি কী পরিমাণ ক্ষতি সাধনে সক্ষম ছিলো তা দ্বারা ভীতি সঞ্চার প্রভাবিত হয়। যেমন, ভিয়েতনাম ওয়ারে একটি গেরিলা ইউনিট ইউএস অ্যাম্বাসিতে অ্যাটাক করে। এই দলটির প্রায় সবাই নিহত হয়, কিন্তু তাদের একটি আরপিজি শেল ইউএস অ্যাম্বাসির মেইন কম্পাউন্ডে হিট করে। ব্যাস এতটুকুই, আর বেশী কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু ইউএস এর দিক থেকে ভীতির বিষয়টি ছিল এই যে, আরপিজি শেল অ্যাম্বাসির মেইন কম্পাউন্ডে হিট করতে সমর্থ হয়েছিলো। আপাত দৃষ্টিতে তা বড় কোন ক্ষতি করতে সমর্থ না হলেও এটির সামর্থ্য ছিলো আরো অনেক বেশী ক্ষয়ক্ষতি সাধনের। যেমন, এর ফলে অ্যাম্বাসির স্টাফদের মধ্যে অনেক হতাহত হতে পারত। এটিই ছিলো ইউএস এর জন্য সেই ভীতি যা বাস্তবে হয়নি কিন্তু হওয়া সম্ভব ছিলো।

তাই আবারো বলছি, ইনশা আল্লাহ আপনার যে কোন প্রচেষ্টার মধ্যেই আল্লাহ্‌ বারাকাহ দিবেন এবং তার মাধ্যমে তাগুত এবং মুরতাদদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিবেন।

৩। প্রতিটি বিস্ফোরণের জন্য একটি সামান্য স্ফুলিঙ্গ দরকার হয়ঃ

বিস্ফোরক যত বড় আর যত বিধ্বংসীই হোক না কেন তার জন্য দরকার হয় খুব ছোট একটি ডেটোনেটর। এই ডেটোনেটর ছাড়া বিস্ফোরক কার্যত অকেজো! আবার ফায়ারিং পিনের সামান্য আঘাতই বুলেটকে নিয়ে যায় কয়েক হাজার মিটার। ফায়ারিং পিনের সামান্য ঐ আঘাত ছাড়া কার্যত বুলেট অকেজো! ইনশাআল্লাহ্‌ এমন হতেই পারে আপনার কাজের প্রত্যক্ষ ফলাফল যাই হোক না কেন এর পরোক্ষ ফলাফল হিসেবে আল্লাহ্‌ আরো অনেক মুজাহিদ ভাইকে প্রস্তুত করে দিতে পারেন। আপনি হয়ত ভাবছেন আপনার একার এই সামান্য কাজ কী এমন উপকার নিয়ে আসতে পারে? হতেই পারে আপনার এ কাজটি অন্য আরো অনেক ভাইয়ের জন্য ডেটোনেটর কিংবা ফায়ারিং পিনের মত কাজ করবে। এটি এমন একটি বিষয় যার বাস্তব ফলাফল অনুমান করা বেশ কষ্টকর। কারণ আপনি, আমি আসলেই জানিনা যে, আল্লাহ্‌ এই কাজে কী পরিমাণ বারাকাহ লুকিয়ে রেখেছেন এবং আল্লাহ্‌ তা কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যাবেন!

স্মরণ করেন উপরে একবার বলে আসা, আবু বাসীর রাযিয়াল্লাহু আনহু এর সেই ঘটনাটি। রাসুল (ﷺ) যখন উনাকে চুক্তি অনুযায়ী মক্কার কাফেরদের কাছে ফিরিয়ে দিলেন, উনি মদিনায় ফিরে না গিয়ে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে গেলেন এবং সেখান থেকে আরো এমন কয়েকজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে কাফেরদের ব্যবসা কাফেলার উপরে হামলা চালাতে শুরু করলেন। এই পরিস্থিতিই পরে এমন হয়ে গেলো যে, কাফেররা নিজে রাসুল (ﷺ) এর কাছে এসে চুক্তির উক্ত শর্তটি বাতিল করে দিলো। যে শর্তের জন্য আবু বাসীর রাযিয়াল্লাহু আনহু পালিয়ে গিয়েছিলেন সেই পালিয়ে যাবার কাজটিই উক্ত শর্ত মুছে দেয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো!

শামের আজকের যুদ্ধাবস্থার পিছনে ছিলো খুব ছোট একটি ঘটনা। সামান্য এক স্কুল ছাত্র দেয়ালে দেয়ালে কিছু সরকার বিরোধী গ্রাফিতি লিখে বেড়াচ্ছিলো আর সেখান থেকেই সূচনা হয় আজকের শামের যুদ্ধাবস্থা!

আজ উম্মতের অবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। উম্মতের রক্তক্ষরণ, জিল্লতি, অপমান অহরহই ঘটে যাচ্ছে কিন্তু উম্মতের মধ্যে জাগরণ বা চেতনা নাই বললেই চলে। এমন অনেক যুবক আছেন যারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন কিংবা কোন একজনের অপেক্ষা করছেন বা কোন একটি ঘটনার অপেক্ষা করছেন। যখনই কেউ সামনে এগিয়ে আসেন কিংবা কোন একটি ঘটনা ঘটে তখন তাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়ে যায়, কখনো বা জড়তা দূর হয়ে যায়, কখনো বা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়, কখনো বা ভয় ভীতি দূর হয়ে যায়। আল্লাহর ইচ্ছায় কোন একটি ঘটনাই তাদের জীবনের মোড় পাল্টিয়ে দেয়। প্রতিটি আপরাইজিং কিংবা অভ্যুত্থানের পিছনে এমন কোন একটি ছোট স্ফুলিঙ্গই থাকে!

এক একটি লোন এ্যাটাক এমনই এক একটি স্ফুলিঙ্গ! গ্লোবাল জিহাদের একটি বরকতময় কৌশল হচ্ছে এই “লোন অ্যাটাক”। একটি আর একটিকে ইগনাইট করে। আমি কিংবা আপনি, কিংবা তাগুত এবং তার দল, আমরা কেউই জানিনা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কিংবা এমনকি আমাদের নিজেদের আশে পাশেও কয়জন “লোন মুজাহিদ” কিংবা “লোন উলফ প্যাক” প্রায় রেডি হয়ে আছে। হয়তবা তারা শুধু মাত্র একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন না কিংবা এমনও হতে পারে তারা অজানা কোন একজনের অপেক্ষা করছেন যিনি কোন কিছু করে দেখাবেন। যখন সেই ঘটনাটি ঘটে যায় ঠিক তখনই আল্লাহর ইচ্ছায় এই লোন মুজাহিদ ভাইগণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলতে পারেন। তাদের জন্য দরকার হয় শুধু মাত্র সামান্য একটা স্ফুলিঙ্গ। যুদ্ধের ময়দানে দুটি দল পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পার করে দেয় কিন্তু তাদের মধ্যে হয়ত একটি গুলিও বিনিময় হয়না। হঠাৎ কোন একদিন শুধুমাত্র একটি গুলির আওয়াজে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, মেশিনগান গুলো গর্জে উঠে! তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য শুধু মাত্র ঐ একটি গুলির আওয়াজই যথেষ্ট ছিল! আজ আপনি যে কাজটিকে সামান্য ভাবছেন আপনি হয়ত জানেনও না এই সামান্য কাজটিই ইনশা আল্লাহ আরো অনেক ভাইয়ের জন্য ডেটোনেটর হিসেবে কাজ করবে। আপনি হয়ত জানেনও না আল্লাহর ইচ্ছায় সেই ভাইয়ের প্ল্যান আপনার চেয়েও শত গুন বেশী ক্ষতি সাধন করবে! উনার জন্য দরকার শুধু আপনার থেকে সামান্য স্ফুলিঙ্গ!  

৪। কিতাল নিজে একটি শক্তিশালী দাওয়াহঃ

কিতাল নিজেই একটি শক্তিশালী দাওয়াহ। কখনো এমন পরিস্থিতি আসে যখন প্রথাগত দাওয়াহ অপেক্ষা কিতালের কাজই শক্তিশালী দাওয়াহ হিসেবে কাজ করে। এমনও হয় যে, প্রথাগত দাওয়াহ’র প্রভাব আর তেমন কাজ করেনা, এমন অবস্থায় কিতাল নিজেই একটি শক্তিশালী দাওয়াহ হিসেবে কাজ করে।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে নিয়ে আসা যায় ৯/১১ অপারেশন ম্যানহাটন এর ঘটনাটি। এটি একদিকে যেমন একটি বরকতময় অপারেশন ছিলো তেমনি আল্লাহর ইচ্ছায় এটি সারা বিশ্বের মুসলিম যুবকদের জন্য এক বিশাল দাওয়াহও ছিলো! শুধু মুসলিমই নয় বরং অমুসলিমদের জন্যও এই অপারেশন ছিলো এক বিশাল দাওয়াহ। ৯/১১ এর পরে অ্যামেরিকাতে ইসলাম গ্রহণের হার অনেক বেড়ে গিয়েছিলো! একই সাথে এই অপারেশন মুসলিম বিশ্বের যুবকদের মাঝে প্রাণ সঞ্চার করতে এবং তাদেরকে জিহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক সহায়তা করেছিলো। আল্লাহর ইচ্ছায় এগুলোই ছিলো কিতালের সুস্পষ্ট এবং প্রভাববিস্তারকারী সেই দাওয়াহ যা বছরের পর বছর ধরে উম্মাহ’র যুবকদের মাঝে অন্য কোন পদ্ধতিতে কেউ উজ্জীবিত করতে পারেনি। এই অপারেশন উম্মাহ’র যুবকদের মাঝে এই দাওয়াহর প্রসার ঘটিয়েছিলো অ্যামেরিকাই হচ্ছে সাপের মাথা শুধুমাত্র এই বিষয়ের উপরে পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন অ্যানালিসিস আলোচনা করতে গেলে এই লেখার কলেবর অনেক বেড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে আরো একটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ ঘটনা অবশ্যই সামনে নিয়ে আসা দরকার। ব্রিটিশ অধীনস্থ ভারতে রাসুল (ﷺ) এর শানে অবমাননামূলক বিভিন্ন বই প্রকাশ করতে শুরু করে উগ্র হিন্দুদের একটি সিন্ডিকেট যার প্রধানের নাম ছিলো রাজপাল। রাজপালের প্রকাশনীর মুনশি রাম নামের এক কর্মচারীকে ব্রিটিশরা নানাভাবে সাহায্য করতে থাকে। এমন অবস্থায় লোন মুজাহিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মুনশি রাম কে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন কাজী আব্দুর রশিদ নামের একজন বীর মুসলিম। এই ঘটনার পরে রাজপালের উপরে আক্রমণ চালান আরেক লোন মুজাহিদ গাজী খোদাবখশ। গাজী খোদাবখশের হামলায় রাজপাল আহত হলেও বেঁচে যায়। এর কিছুদিন পরে রাজপাল কে হত্যার নিয়তে আফগানিস্তান থেকে লাহোরে আসেন আরেক লোন মুজাহিদ গাজী আব্দুল আজিজ। গাজী আব্দুল আজিজ সত্যানন্দ নামে আরেক মালাউন কে রাজপাল মনে করে হত্যা করে দেন। শেষ পর্যন্ত নাপাক রাজপাল কে হত্যা করেন গাজী ইলমুদ্দিন নামে আরেক লোন মুজাহিদ। গাজী ইলমুদ্দিনের লাশ ব্রিটিশরা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আন্দোলন গড়ে উঠে। অবশেষে ১৪ দিন পরে ইংরেজ সরকার বাধ্য হয় শহীদের লাশ হস্তান্তর করতে। সেই সময়ে গাজী ইলমুদ্দিনের জানাজায় প্রায় ৬ লক্ষ মুসলমান অংশগ্রহণ করে! স্মরণ রাখা দরকার, রাসুল (ﷺ) এর পবিত্র সম্মান অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড শাতিম আর রাসুল (ﷺ) এর বিরুদ্ধে অপারেশনের কল্যাণেই সেই সময়ের মুসলিম যুবকদের চেতনায় রাসুল (ﷺ) এর সম্মান এবং রাসুল (ﷺ) এর ভালোবাসা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিলো! এই কিতাল কমপক্ষে ৬ লক্ষ মুসলিমের অন্তরে রাসুল (ﷺ) এর শান, সম্মান এবং এর খেলাফে করনীয় কী হবে তার সুস্পষ্ট দাওয়াহ প্রচার করে দিয়েছিলো! অথচ খুব বেশীদিন আগের কথা নয় যখন এ দেশে রাসুল (ﷺ) কে অসম্মান করা যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিলো (নাউজুবিল্লাহ!) উম্মতের যুবকদের মাঝে এ ব্যাপারে তেমন কোন করনীয়ই স্পষ্ট ছিলো না যে, রাসুল (ﷺ) শানের বেয়াদবি হলে কী করতে হয়! তাই যা বলছিলাম, কখনো আমাদের চেতনা এমন অন্ধ কিংবা উদাসীন হয়ে যায় যে, প্রথাগত দাওয়াহ কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় এমন কাজগুলোই কল্যাণের ধারা নিয়ে প্রকাশমান হয়

এই ধরনের অপারেশন/কিতালের মাধ্যমে আরো এক প্রকার দাওয়াহ প্রকাশিত হয় তা হচ্ছে, “এ কাজটিও করা সম্ভব”। যেমন ৯/১১ এর আগে এমন অপারেশন সম্পর্কে কিংবা কারো ধারণা ছিলোনা যে, অ্যামেরিকার মাটিতেই অ্যামেরিকার অহংকারের নিদর্শনের উপরে এভাবে আক্রমণ চালানো সম্ভব। কিন্তু ৯/১১ এরপরে দুনিয়াব্যাপী এই মেসেজ পরিষ্কার হয়ে গেলো, অ্যামেরিকাকে তার ঘরের ভেতরেই আঘাত করা সম্ভব। আল্লাহর ইচ্ছায় অ্যামেরিকাকে ট্যাঙ্ক কিংবা ফাইটার ছাড়াও আঘাত করা সম্ভব। আবার “ইউএসএস কোল” অ্যাটাকের পরে এটিও জানা গেলো আল্লাহর সাহায্যে অ্যামেরিকা কে ঘরে কিংবা বাইরে, জলে কিংবা স্থলে যে কোন অবস্থাতেই আঘাত করা সম্ভব। অ্যামেরিকারও দুর্বলতা আছে, অ্যামেরিকা অজেয় না, অ্যামেরিকাকেও রক্তাক্ত করা সম্ভব, অ্যামেরিকাকেও নিরাপত্তাহীনতার স্বাদ আস্বাদন করানো সম্ভব সারা দুনিয়ার অসংখ্য যুবক যখন দেখলো অ্যামেরিকার গর্ব টুইন টাওয়ার নিমিষেই ধ্বসে গেলো তখন তাদের অনেকের সামনেই এই সত্য প্রমাণিত হয়েছিল যে, অ্যামেরিকাকেও আঘাত করা যায়।

একই ভাবে গাজী ইলমুদ্দিনের ঘটনা থেকেও আমরা এই শিক্ষা পাই যে, রাজপালের মত কোন নাপাক মালাউনকে হত্যা করার জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় এক রুপির ছুরিই যথেষ্ট এবং তা দিনে দুপুরে প্রকাশ্যেই করা যায়। এবং এ শিক্ষাও পাওয়া যায় যে, রাসুল (ﷺ) এর সম্মান অপেক্ষা নিজের জীবন কোনভাবেই দামী হতে পারেনা আর তার বাস্তব প্রয়োগ কেমন হয়! কিভাবে হয়! এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন, আমরা পরিকল্পনা করতেই থাকি আর এক কাঠমিস্ত্রির ছেলে এসে মর্যাদা লুফে নিয়ে যায়

তাই আপনার কোন কাজের মাধ্যমে এমন হতেই পারে যে, উম্মতের যুবকদের পরিকল্পনা গুলো অবশেষে মর্যাদায় পরিণত হবে ইনশা আল্লাহ!

ভয়ের মোকাবেলা: নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত অতি দুর্বল!

إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا

﴿النساء: ٧٦﴾

শয়তানের চক্রান্ত নিতান্তই দুর্বল

(সুরা নিসা: ৭৬)

এবার

আপনাকে শয়তান অনেক অনেক ভয় দেখাবে, অনেক অনেক দুশ্চিন্তা নিয়ে হাজির হবে। কিন্তু আপনি একজন সৈনিক। ভয়কে জয় করার ব্যাপারেই আপনার প্রশিক্ষণ ছিলো। আর এখন তো আপনি আল্লাহ্‌র সৈনিক। একই আল্লাহ আপনাকে আদেশ করেছেন তাগুত আর কাফেরদের ভয় না করতে।

ভয় এবং দুশ্চিন্তার ব্যাপারে আল্লাহ বলেনঃ

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِاللَّهِ نَصِيرًا

﴿النساء: ٤٥﴾

“আল্লাহ তোমাদের শত্রুর ব্যাপারে খুব ভালো করেই জানেন, অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট আর সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট”

(সুরা নিসা: ৪৫)

আল্লাহ্আরও বলেন:

إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءَهُ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

﴿آلعمران: ١٧٥﴾

“এ লোকেরা হচ্ছে শয়তান, তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ব্যাপারে ভয় দেখায়, তোমরা তাদেরকে ভয় করোনা, আমাকেই ভয় কর, যদি তোমরা মুমিন হও”

(সুরা আলেইমরানঃ ১৭৫)

শয়তান আপনাকে ভয় দেখাবে, মৃত্যু ভয়, বন্দিত্বের ভয়, জুলুমের ভয় এরকম আরো অনেক কিছু। কিন্তু মৃত্যুকে তো আপনার ভয় পাওয়া উচিৎ নয় বরং মুমিনের জন্য মৃত্যু হচ্ছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ! দুনিয়া মুমিনকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত থেকে আটকে রাখে। একজন মুজাহিদ শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানজনক ভাবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য চলে যায়! বন্দিত্ব জুলুম এসব ব্যাপারে আমাদের আল্লাহর উপরেই ভরসা করা উচিৎ।

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেছিলেন, তোমরা আমার কী করতে পারো? আমার জান্নাত আমার হৃদয়ে। আমাকে নির্বাসন দিলে আমি আল্লাহর দুনিয়া দেখব, আমাকে বন্দী করলে আমি আল্লাহর জিকির করব, আমাকে হত্যা করে ফেললে আমি শহীদ হয়ে যাবো, তোমরা আমার কী-ইবা করতে পার? আমার জান্নাত আমার অন্তরে।

আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কেউ আমাদের সামান্য পরিমাণ ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখেনা। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য, কাফেররা এমন মারাত্মক আগুন জ্বালিয়েছিলো যে, তারা তার ধারে কাছেও ভিড়তে পারছিলোনা। তারা দূর থেকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কে আগুনের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে। আল্লাহ্‌ সেই আগুনের মধ্যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর জন্য শান্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আগুন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর কোন ক্ষতিই করতে পারেনি। উপরন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, আগুনের ভিতরে অবস্থান করা সময়গুলো ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে প্রশান্তির!

ফিরাউনের যুগে যে লোকটি মুসা আলাইহিস সালাম কে সতর্ক করতে এসেছিলো এবং তার কওমকে উপদেশ দিয়েছিলো সে বলেছিলো,

فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ۝ فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ

﴿غافر: ٤٤-٤٥﴾

“… আমি আমার নিজের ব্যাপারটা আল্লাহর উপর সোপর্দ করছি (আমার বাঁচা মরার জন্য আমি মোটেও ভাবিনা)। আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের উপর সর্বদা দৃষ্টি রাখেন। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের খারাবি থেকে হেফাজত করলেন, আর কঠিন শাস্তি ফেরাউনের লোকজনদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেললো”

(সুরা গাফির ৪৪৪৫)

আল্লাহ আরও বলেন:

إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ

﴿غافر: ٥١﴾

“আমি আমার রসুলদেরকে আর মুমিনদেরকে অবশ্যই সাহায্য করব, দুনিয়ার জীবনে আর (কিয়ামতের দিনে) যে দিন সাক্ষীরা দাঁড়াবে”

(সুরা গাফিরঃ ৫১)

একইভাবে হুদ আলাইহিস সালামের জাতি ছিলো দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি। আল্লাহ্‌ তাদেরকে সমস্ত রকম শক্তিমত্তা দিয়েছিলেন। সেই জাতি শক্তির গর্বে হুদ আলাইহিস সালাম কে হত্যা করার হুমকি দিল (নাউজুবিল্লাহ)। আর হুদ আলাইহিস সালাম ও চ্যালেঞ্জ দিলেন, তোমরা আমাকে প্রস্তুতি নেয়ার কোন সুযোগ দিওনা, দিনে কিংবা রাতে যে কোন সময়ে আমাকে আক্রমণ কর, যদি তোমরা পার। হুদ আলাইহিস সালাম এর কওম হুদ আলাইহিস সালাম কে হত্যা করা তো দূরের কথা সামান্য চুলের মাথা পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। আর হুদ আলাইহিস সালাম এর ফর্মুলা বলে দিয়েছেনঃ

إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

﴿هود: ٥٦﴾

“আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালনকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।”

(সুরা হুদঃ ৫৬)

সুতরাং শয়তানের এসমস্ত ভয়ের কোন ভিত্তি নাই, উপরন্তু আমাদের স্মরণ রাখা দরকার দুনিয়ার এই সামান্য জুলুম, নির্যাতন অপেক্ষা আল্লাহর শাস্তি অনেক অনেক বেশি ভয়ংকর! এছাড়া আরো একটি বিষয় হল, কাফেররা আর আল্লাহর দুশমনেরা যদি আল্লাহর সাথে শত্রুতা করে আল্লাহর আজাবের ব্যাপারে ভয় না পায় তাহলে আমরা মুমিন হয়ে, আল্লাহর সৈন্য হয়ে কিভাবে কাফেরদের শাস্তির ব্যাপারে ভয় পেতে পারি! এ কথা বড়ই লজ্জার! যেখানে আল্লাহ্‌ বলেছেন, আল্লাহ্‌ হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু! আল্লাহ্‌ বলেছেন মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। এভাবে আল্লাহ্সমগ্র কুরআন জুড়ে মুমিনদের এবং মুজাহিদদের নিরাপত্তার ওয়াদা দিয়েছেন! সাহায্য এবং বিজয়ের ওয়াদা দিয়েছেন!

শয়তানের আরেকটি বড় ওয়াসওয়াসা আসে, নিজের পরিবার আর স্ত্রী সন্তানদের ব্যাপারে। শয়তান বলে, তুমি মরে গেলে তাদের কী হবে! এই কথার উত্তরে অনেক কথাই বলা যায়, তবে দেখা যাক আল্লাহ্‌ কী বলছেনঃ

قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

﴿التوبة: ٢٤﴾

“বল, যদি তোমাদের পিতারা, আর তোমাদের সন্তানেরা, আর তোমাদের ভাইয়েরা, আর তোমাদের স্ত্রীরা, আর তোমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা আর ধন সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছো, আর তোমাদের ব্যবসা যার মন্দার ভয় কর, আর বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাসো, এসব যদি তোমাদের নিকট প্রিয় হয় আল্লাহ্‌, তার রাসুল এবং তাঁর পথে জিহাদ করা হতে, তাহলে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর চূড়ান্ত ফায়সালা তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ্‌ অবাধ্য আচরণকারীদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।”

(সুরা তাওবাহঃ ২৪)

অনেক কঠিন একটি আয়াত। আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করেছিলেন সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে, যাঁদের সারা জিন্দেগীই ছিলো জিহাদ নিয়ে, তবুও আল্লাহ্‌ তাঁদেরকে এই ব্যাপারে এমন কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন! তাহলে আমাদের ভেবে দেখা দরকার যখন আমরা জিহাদকে পরিপূর্ণ রূপে পরিত্যাগ করেছি তখন আমাদের অবস্থান আল্লাহর সামনে কেমন হতে পারে!

আমি

আপনাকে আহবান করছি আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্য। তাগুতকে অস্বীকার করার জন্য। কারণ আমি জানি তারা ধ্বংস হবেই দুনিয়াতে এবং আখিরাতেও। এটা তো শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। আজ পর্যন্ত আল্লাহর কোন দুশমন কি আল্লাহর বিরুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছে? একটা উদাহরণও কি দেখেছেন? ফিরাউন পেরেছিলো? নমরুদ পেরেছিলো? আবরাহা পেরেছিলো? আবু জাহেল পেরেছিলো? নাকি পারস্য রোম সাম্রাজ্য পেরেছিল? সুপার পাওয়ার অ্যামেরিকাও কি পারল? তাহলে কি আপনাকে এখনো ধোঁকায় ফেলে রাখলো? এমন যেন না হয় যে পরাজয়ের গ্লানিসহ আল্লাহর অভিশাপ ও আমাদের উপরে এসে পড়ল। তারা তো পরাজিত হবেই কারণ এটাই আল্লাহর ওয়াদা। এটাই আল্লাহর ওয়াদা। এটাই আল্লাহর ওয়াদা তারা পরাজিত হবেই এবং শুধু তাই নয়, আল্লাহর ওয়াদা এটাও যেআল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন

আমি

আপনাকে আহবান করছি জান্নাতসমূহের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান এবং জমিন সমূহের মধ্যকার দূরত্বের চেয়েও বেশি। আমি আপনাকে আহবান করছি আপনার রবের সন্তুষ্টির দিকে। রাসুল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্যার দিকে তাকিয়ে হাসেন জাহান্নাম তাঁর জন্য হারাম হয়ে যায় আমি আপনাকে আহবান করছি অনন্তকালের সেই সম্মানিত জীবন, শাহাদাতের দিকে! আল্লাহ্‌ শহীদদের জিজ্ঞেস করবেন তোমরা আর কী চাও? তাঁরা উত্তর দিবেন ইয়া আল্লাহ্‌ আপনি আমাদের তো সব কিছুই দিয়েছেন আমরা আর কী চাইতে পারি! আল্লাহ্‌ আবার জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কী চাও? আবারো তাঁরা একই উত্তর দিবেন। আল্লাহ্‌ আবার জিজ্ঞেস করবেন, বান্দা তোমরা কী চাও? শহীদগণ বুঝবেন আল্লাহ্‌ জিজ্ঞেস করতেই থাকবেন। তাই তাঁরা উত্তর দিবেন,- ইয়া আল্লাহ্‌ আপনি আমাদেরকে আবার দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন, যেন আমরা আবার আপনার পথে জিহাদ করে আবার শাহাদত অর্জন করতে পারি। কিন্তু তা পূরণ হবার নয়।

কিন্তু কেন শহীদগণ আবার দুনিয়াতে ফিরে আসতে চাইবেন? যেখানে জান্নাতে আল্লাহ্‌ তাঁদের সমস্ত নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন সেখানে কেন তাঁরা আবার শহীদ হতে চাইবেন? কারণ, একজন শহীদকে আল্লাহ্‌ কিয়ামতের দিন যে বিশাল সম্মানের সাথে উপস্থাপন করবেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে সে মহিমাময় সম্মান এবং সংবর্ধনা (গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন) আবার পাবার জন্যই শহীদগণ আবার দুনিয়ায় এসে জিহাদ করে আবার শহীদ হয়ে যেতে চাইবেন!

প্রিয় ভাই, জান্নাতের বাজার খুলে গেছে, শাহাদাতের মওসুম শুরু হয়ে গেছে! সবাই বলে, “জিহাদ নাই। আরে এখন কোন জিহাদ নাই”। শুনে নিন, আপনার রাসুল (ﷺ) কী বলছেন:

نا أَبُو مُعَاوِيَةَ ، قَالَ : نا أَبُو رَجَاءٍ الْجَزَرِيُّ ، عَنِ الْحَسَنِ ، أَنَّهُ قَالَ : سَيَأْتِي النَّاسَ زَمَانٌ يَقُولُونَ : لا جِهَادَ ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَجَاهِدُوا ، فَإِنَّ الْجِهَادَ أَفْضَلُ

سنن سعيد بن منصور  -كِتَابُ الْجِهَادِ  – بَابُ : مَنْ قَالَ الْجِهَادُ مَاضٍ – رقم الحديث: 2208

“হাসান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, অচিরেই এমন একটা সময় আসবে যখন লোকেরা বলতে থাকবে যে এখন কোন জিহাদ নেই। যখন সেই সময় আসবে তখন তোমরা জিহাদ করবে। নিশ্চয় জিহাদ-ই হচ্ছে সর্বোত্তম।”

(সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুরঃ ২২০৮)

এখন সিদ্ধান্ত তো শুধুই আপনার- আপনি হয় আল্লাহর ওয়াদাকে বিশ্বাস করবেন এবং আল্লাহর সৈন্যের কাতারে এসে দাঁড়াবেন। অথবা তাগুতের প্রতারণা বিশ্বাস করবেন এবং তাদের কাতারেই থাকবেন। আপনি যত চেষ্টাই করেন এই দুইয়ের মাঝে আর কিছু নাই। এটা আল্লাহরও কথা এটা তাগুতেরও কথা!

যেটা বুশ বলেছিলো – “Either you are with us or with the terrorists”

দেখতে পাচ্ছেন তো, মিডল গ্রাউন্ড বলে কিছু নেই! হয় আপনি আল্লাহর সাথে আছেন অথবা আল্লাহর দুশমনের সাথে আছেন!

শাহাদাতের বাজার বসে গেছে! দুনিয়ার কিছু গুরাবা আর আল্লাহর প্রেমিকেরা দুনিয়াতেই জান্নাতের সুবাস পেতে শুরু করেছে আর জান্নাতের নেশা তাদের পাগল করে তুলেছে! জান্নাতের সুঘ্রাণ আর জান্নাতের নেশার সামনে দুনিয়া তুচ্ছ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরগুলোকে আল্লাহ্‌ সঙ্কীর্ণতা থেকে মুক্ত করে এত প্রশস্ত করে দিয়েছেন যে, সেই অন্তর গুলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে গেছে। কী অদ্ভুত সেই অন্তরগুলো, তাঁদের দেহ পড়ে থাকে এই দুনিয়ায় কিন্তু অন্তর চলে গেছে আল্লাহর কাছে। তাঁরা আকুল আবেদনে আর চোখের জলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে থাকে – ইয়া রব্ব কখন তুমি আমাকে নিয়ে যাবে তোমার কাছে! দুশমন যখন আর্মার প্লেট আর বুলেট প্রুফ জ্যাকেট এর আড়ালে ক্লান্ত হয়ে যায় তখন এই বান্দারা জান্নাতের নেশায় পাগল হয়ে ঝাঁপ দেয় শত্রুর দিকে। বুলেট কিংবা শ্র্যাপনেল কিংবা মর্টার এর গোলা হাসি মুখে বরণ করে নেয়! তাজা খুনের পেয়ালা হয়ে যায় বুকের মাঝে আর জান্নাতি হাসির এক টুকরা হাসি ঝুলিয়ে চলে যায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাতে! কখনো হুররা নেমে আসে দুনিয়ায় আর হাতছানি দেয় জান্নাতের! এভাবেই একের পর এক সবাই উঠে যাচ্ছে জান্নাতের দিকে! হায় জান্নাতের সুবাস তো তাদের পাগল করে দিয়েছে! তারা কিভাবে থাকতে পারে এই দুনিয়ায়!

পরিশেষে আল্লাহর কালাম দিয়ে শেষ করছি-

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُّؤَجَّلًا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ ۝ وَكَأَيِّن مِّن نَّبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ ۝ وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَن قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ۝ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ ۝ بَلِ اللَّهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ ۝ سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ

﴿آلعمران: ١٥١-١٤٥﴾

“কোন জীবই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারেনা, তাঁর মেয়াদ নির্ধারিত। যে ব্যক্তি পার্থিব ফল চায় আমি তা তাকে দিয়ে দেই, আর যে ব্যক্তি আখেরাতের ফল চায়, আমি তাকে তা থেকে দেই এবং কৃতজ্ঞদেরকে আমি শীঘ্রই বিনিময় প্রদান করব। কত নবী যুদ্ধ করেছে, তাঁদের সাথে ছিলো বহু লোক, তখন তারা আল্লাহর পথে তাঁদের উপরে সংঘটিত বিপদের জন্য হীনবল হয়নি, দুর্বল হয়নি, অপারগ হয়নি, বস্তুত আল্লাহ্‌ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। তাঁদের মুখ হতে কেবল এ কথাই বের হয়েছিলো, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের অপরাধগুলো এবং আমাদের কাজ-কর্মে বাড়াবাড়ি গুলো তুমি ক্ষমা করে দাও, আমাদেরকে দৃঢ়পদ রেখো এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। সুতরাং আল্লাহ্‌ তাঁদের পার্থিব সুফল দান করলেন আর পরকালীন উৎকৃষ্ট সুফল। আল্লাহ্‌ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা কাফেরদের আনুগত্য কর তাহলে তারা তোমাদেরকে পিছনের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, তখন তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। বরং আল্লাহ্‌ই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী। অতিসত্বর আমি কাফেরদের অন্তরে ভয় সঞ্চার করব, কারণ তারা আল্লাহর সাথে শরীক গ্রহণ করেছে যার সপক্ষে তিনি কোন সনদ নাজিল করেননি, তাদের নিবাস হবে জাহান্নাম এবং জালিমদের আবাস কতইনা জঘন্য!” (আল ইমরানঃ ১৪৫১৫১)

*********

[1]           Huffington Post, October 2015, Marina Fang

[2]               “গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে মুসলিম নারীদের পর্দার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘হাত মোজা পা মোজা নাক-চোখ ঢাইকা একেবারে এটা কি? জীবন্ত ট্যান্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এর তো কোনো মানে হয় না।”, বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি পর্দা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অবমাননাকর, নয়া দিগন্ত, ১৩ জুন, ২০১৯।

[3]              ৭। (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।

 (২) জনগণের অভিপ্ৰায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

[4] মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রাহিমাহুল্লাহ,

Bangla:

https://archive.org/details/DefenceOfTheMuslimLandsbangla-shaheedAbdullahAzzamra

Englihs:

*Archive.org বাংলাদেশে ব্লকড। Tor Browser বা VPN দিয়ে ভিজিট করতে পারেন।

[5] Civil Democratic Islam – Partners, Resources, and Strategies, Cheryl Benard, RAND 2003

[6]         2009 Fort Hood shooting, Major NIdal Hasan

৪ comments

  1. আমি কিভাবে তালেবানে যোগ দিতে পারব ?

  2. প্রিয় শাইখ ও মুজাহিদীন ভাই,আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ। আমার প্রশ্নঃ “The Global Islamic Resistance Call” <— শায়েখ আবু মুসাব আস সুরী রহ. এর এই বইটির বাংলা অনুবাদ কিভাবে পাবো? Tor beowser দিয়ে খুজেছিলাম কিন্তু বাংলাটা পাইনি। এখানেও নেই?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Ummah news || আমিরুল মুমিনীন মোল্লা ওমরের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার

UMMAH NEWS পরিবেশিত আমিরুল মুমিনীন মোল্লা ওমরের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার ডাউনলোড করুন ডাউনলোড করুন, 1080 ফরম্যাট ...