সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / হযরত উলামা ও উমারায়ে কেরাম / আলজেরিয়া / সোমালিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলনের অগ্রদূত শাইখ মুহাম্মাদ মাহমুদ আলী রহ. জীবন ও কর্ম

সোমালিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলনের অগ্রদূত শাইখ মুহাম্মাদ মাহমুদ আলী রহ. জীবন ও কর্ম

সোমালিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলনের অগ্রদূত
শাইখ মুহাম্মাদ মাহমুদ আলী রহ.
জীবন ও কর্ম

অনুবাদ- মাওলানা হামিদুর রহমান

PDF

https://archive.org/download/ShaikhMahmudAli/shaikh%20mahmud%20ali.pdf

WORD

https://archive.org/download/ShaikhMahmudAli/shaikh%20mahmud%20ali.docx

 

 

 

PDF
—-
http://www.mediafire.com/file/tz85riyyug219z5/120._shaikh_mahmud_ali.pdf/file

https://archive.org/download/U_M_A_04/120.%20shaikh%20mahmud%20ali.pdf

Word
—–
http://www.mediafire.com/file/fqbl1fvmutbfevh/120._shaikh_mahmud_ali.docx/file

https://archive.org/download/U_M_A_04/120.%20shaikh%20mahmud%20ali.docx

==================

সোমালিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলনের অগ্রদূত

শাইখ মুহাম্মাদ মাহমুদ আলী রহ.

জীবন ও কর্ম

 

অনুবাদ

মাওলানা হামিদুর রহমান

 

দৃষ্টিপাত

আমাদের এই বইটি সোমালিয়ার মুজাহিদিন সংগঠন হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিনের অফিসিয়াল আল কাতায়েব মিডিয়া ফাউন্ডেশনের ভিডিও প্রকাশনা সিরিজ “রিবহুল বাঈ – লাভজনক ব্যবসা” এর পঞ্চম পর্ব থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। শাইখদের কোট করা বক্তব্য ছাড়া বাকি বক্তব্যগুলো ভাষ্যকারের। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বইয়ের ভাষায় রূপান্তরিত করতে। ভুলত্রুটির জন্য অত্যান্ত ক্ষমাপ্রত্যাশী। -প্রকাশক

 

আল্লাহ্ তাআলা বলেন-

الذين آمنوا يقاتلون في سبيل الله، والذين كفروا يقاتلون في سبيل الشيطان، فقاتلوا أولياء الشيطان، إن كيد الشيطان كان ضعيفا

অর্থঃ যারা ঈমানদার তাঁরা যে, জিহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জিহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল। (সুরা নিসা: ৭৬)

 

হক-বাতিলের দ্বন্দ অবিনশ্বর চিরন্তন৷ কালের আবর্তনে  চিরাচরিত নীতিতে কোন বিবর্তন আসে না৷ হকের আলো উদ্ভাসিত হওয়া মাত্রই বাতিল সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং সে আলো নিভিয়ে দেওয়ার, সে আলোর নিদর্শন মুছে দেওয়ার  সেই আলোকিত মানুষগুলোকে নিঃশেষ করে দেওয়ার হোলি খেলায় মেতে ওঠে৷ সুতরাং আল্লাহ্ তাআলা সমুদয় দুনিয়া  দুনিয়াবাসীর উত্তরাধিকারী হওয়ার আগপর্যন্ত আল্লাহর সেনাদল  শয়তানের সেনাদলের মধ্যকার  সংঘাত চিরস্থায়ী রবে৷

তাই আহলে হক  আহলে বাতিলের মধ্যে  সংঘাতের আগুন আজো প্রজ্বলিত রয়েছে৷ কিন্তু যারা নিজের জীবনকে তাগুতের পথে ধ্বংস করে দেয় এবং যারা আল্লাহর পথে  আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার জন্য নিজের হৃদপিণ্ডের তাজা রক্তকে সুলভে বিলিয়ে দেয় তাদের উভয় শ্রেণীর মাঝে আকাশপাতাল বরাবর পার্থক্য রয়েছে৷

সুতরাং প্রত্যেকেই লড়াই করছে এবং প্রত্যেকেই মারা যাচ্ছে৷ কিন্তু আদৌ উভয় শ্রেণীর নিহত ব্যক্তিরা বরাবর নয়৷ কেননা কাফেরদের নিহত ব্যক্তিদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হয় এবং মুসলমানদের নিহত ব্যক্তিদেরকে জান্নাতে রিযিক দেওয়া হয়৷ আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ

والذين قتلوا في سبيل الله فلن يضل أعمالهم، سيهديهم ويصلح بالهم، ويدخلهم الجنة عرفها لهم، ياأيها الذين آمنوا إن تنصر الله ينصركم ويثبت أقدامكم، والذين كفروا فتعسا لهم وأضل أعمالهم  

অর্থঃ যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাঁদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। তিনি তাঁদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাঁদের অবস্থা ভাল করবেন। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাঁদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন। আর যারা কাফের, তাদের জন্যে আছে দুর্গতি এবং তিনি তাদের কর্ম বিনষ্ট করে দিবেন। (সুরা মুহাম্মাদ: )

একদিকে কাফেররা মৃত্যু থেকে পলায়ন করে পার্থিব জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেষ্টা করছে৷ আর অপরদিকে মুজাহিদগণ আপন রবের সাক্ষাৎ লাভের দিকে  তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে এবং তাঁর রাহে মরে যাওয়া বা নিহত হওয়া ব্যক্তির জন্য তিনি যে পুরষ্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন তা অর্জন করার জন্যে তথা তাঁর পথে শাহাদাত লাভের জন্যে আগ্রহভরে অনাবৃতমস্তকে দৌড়ে অগ্রসর হচ্ছে৷

কেননা শাহাদাত শহীদের জন্য একটি গৌরব  মর্যাদার বিষয়৷ শাহাদাত এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব, যা আল্লাহ্ তাআলা আপন বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁদেরকেই প্রদান করে থাকেন, যাদেরকে তিনি সম্মানিত মনোনীত  মর্যাদাবান করতে চান এবং যেন তাঁদের দ্বারা তিনি হেদায়াতের সেই মশাল প্রজ্বলিত করেন, যার আলোতে দিশেহারা পথিক পথ খুঁজে পাবে এবং যেন তিনি তাঁদেরকে এমন প্রদীপ বানান, যা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আলো গ্রহণ করতে পারবে৷

 

শাইখ আবু ইয়াহ্ইয়া লিবী রহ. শহীদদের ব্যাপারে বলেন- “তাঁরা আমাদের ভাই, আমাদের প্রিয়জন, আমাদের সুহৃদ বন্ধু৷ আল্লাহর কসম! আমাদের প্রত্যেকেই আপন রক্তের বিনিময়ে তাঁদের মুক্তিপণ গ্রহণ করার তামান্না রাখে৷ আল্লাহ্ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তাঁদের সাথে একত্রিত করেনি কোন ঘৃণ্যতম দেশাত্মবোধ বা নিকৃষ্টতম পচা দুর্গন্ধময় জাতীয়তার বন্ধন৷ বরং আমাদেরকে তাঁদের সাথে সংযুক্ত করেছে একটি জিনিস৷ সেই জিনিসটির দিকে তাকিয়েই তাঁরা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়ার নজরানা পেশ করেছেন৷ কি সেই জিনিস? তা হচ্ছেঃ لا إلٰه إلا الله محمد رسول الله ৷

সুতরাং হে ভাইয়েরা! তাঁরা সকলেই জীবিত৷ যেমনটি আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা৷ তিনি বলেছেন “যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাঁদেরকে তোমরা মৃত বলো না!” তাঁদেরকে মৃত বলে মৃত্যুর গুণে গুণান্বিত করা আল্লাহ্ তাআলার নিকট পছন্দনীয় নয়৷ বরং তারা আল্লাহ্ তাআলার নিকট জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত৷ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তাঁর প্রেক্ষিতে তাঁরা আনন্দ উদযাপন করছে”৷

 

শাইখ আনওয়ার আল আওলাকী রহ. শহীদদের ব্যাপারে বলেন- “আল্লাহ্ তাআলা যখন কাউকে শহীদ হিসেবে মনোনীত করেন তখন সেটা ঐ ব্যক্তির জন্য মর্যাদার বিষয়৷ আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি দান৷ সেটা কোন লোকসান নয়; কস্মিনকালেও সেটা কোন লোকসান নয়৷ এজন্যে লোকদের উচিত শাহাদাত সম্পর্কে পড়াশোনা করা যে, শাহাদাত আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে দয়া ও করুণার বহির্প্রকাশ মাত্র৷ কস্মিনকালেও তা সর্বনাশের কিছু নয়৷ আল্লাহ্ তাআলা কিছু মানুষকে শহীদরূপে গ্রহণ করলে; যারা এই চশমা দিয়ে দেখে না তারা মনে করে যে, তাঁদেরকে হত্যা করা হয়েছে৷ অর্থাৎ তারা যেহেতু বলে যে, তাঁদেরকে হত্যা করা হয়েছে, তাই যেন তারা এই দৃষ্টিতে দেখে যে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিয়েছে৷ অথচ তারা জানে না যে, এ ব্যবসায় জগতে একমাত্র তাঁরা-ই কামিয়ে নিয়েছে৷ কেননা তারা আল্লাহ্ তাআলার সাথে ব্যবসা করেছে”৷

 

“লাভজনক ব্যবসা” সিরিজের  নতুন সংখ্যায় আমরা জিহাদী ময়দানের তেজস্বী ঘোড়সওয়ার, ইলমি  দাওয়াতী আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, দুঃসাহসী রণকুশলী, পুনঃপুনঃ আক্রমণকারী কমান্ডার শাইখ মুহাম্মাদ মাহমুদ আলী রহ. এর জীবনীর কিছু দীপ্তিময় পৃষ্ঠা সম্পর্কে অবগত হবো, যিনি শাইখ জুলইয়াদাইন নামে প্রসিদ্ধ৷

শাইখ রহ. ১৩৮৭ হিজরীতে কেনিয়ার দখলকৃত মুসলিম ভূখণ্ডে জন্ম গ্রহণ করেন এবং গারিসা শহরে বেড়ে ওঠেন৷ মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করে তিনি শরয়ী ইলম অন্বেষণের প্রতি মনোযোগী হন৷ ফলে তিনি খুরতুম শহরে সফর করেন এবং সেখানকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন৷

 

শাইখ আবু আব্দুর রহমান মাহাদ ওয়া রসমী দা. বা. এক স্মৃতিচারণে বলেন-

“শাইখ মুহাম্মাদ জুলইয়াদাইন রহ. ঐ সমস্ত প্রখ্যাত বিশিষ্টজনদের অন্যতম ছিলেন, যাদেরকে সুনামের সহিত স্মরণ করা হত৷ শাইখ রহ. সুদানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে গারিসা শহরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকতা করেছিলেন৷

শাইখের এক ভাই দক্ষিণ সোমালিয়ায় কাম্বোনি’র প্রশিক্ষণ শিবিরগুলোতে জিহাদরত ছিলেন৷ যদ্দরুণ মুজাহিদদের অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞাত থাকার সুযোগ মিলেছিল৷ ফলে অনতিবিলম্বে তিনিও রণাঙ্গনে বেরিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন, যেন জিহাদ ফি সাবিল্লিল্লাহতে তিনি পূর্ণ মনোযোগের সহিত যোগদান করতে পারেন”৷

 

শাইখ রহ. নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে দক্ষিণ সোমালিয়ার কাম্বোনি প্রশিক্ষণ শিবিরে কমান্ডার শাইখ হাসান আব্দুল্লাহ্ হারসীর হাতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ যিনি শাইখ হাসান তুর্কী রহ. নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন৷

তিনি ছিলেন বিদগ্ধ কমান্ডার, যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্বলনকারী৷ যুদ্ধসমূহের ভিড়ে তিনি নিজেকে নিমগ্ন রাখতেন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা সহ্য করতেন৷ তিনি ছিলেন উচ্চ হিম্মতের অধিকারী, বিপজ্জনক স্থানগুলোতে তিনি নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দিতেন৷ রণক্ষেত্রগুলোতে তিনি নিজে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন, দূর থেকে আক্রমণঅভিযানগুলোর খবরাখবর রাখা  সামরিক অপারেশনগুলোর পরিকল্পনা করার দ্বারাই তাঁর ভূমিকা শেষ হয়ে যেত না; বরং তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ভাইদের মাঝে দায়িত্ব বন্টন করে দিতেন  তাঁদের সাথে কষ্টযন্ত্রণা ভাগাভাগি করে নিতেন এবং পুণ্যভূমির সীমান্তে তাঁদের সাথে প্রহরার কাজ আঞ্জাম দিতেন৷ এভাবেই তিনি তাঁদের জন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন-

“গতকাল ভাইয়েরা যেই হামলাটি সম্পাদন করেছে তার দ্বারা আমরা একটি ব্যাপক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি৷ আর এ অভিযান দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ আমাদের ভূমি দখলকারী আগ্রাসী শত্রুকে দূরীভূত করা”৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. অন্য এক মজলিসে বলেন-

“আল্লাহর ইচ্ছায় অপারেশন কিছুতেই বন্ধ হবে না, গতকালের ন্যায় শত্রুদের নির্মূলকরণ ও হামলা চালিয়ে যাওয়াকে আমরা অবশ্যই অব্যাহত রাখব৷ আমরা আল্লাহ্ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি এ মিশনটিকে পূর্ণ করুন ও আমাদের এ অপারেশনগুলোকে জারী রাখুন৷ এ অভিযানটিকে আমরা নামকরণ করেছি “প্রতিশোধের ঘূর্ণিঝড়” বলে৷ আপনারা সকলেই জানেন যে, আমাদের এ ভূমি আগ্রাসী শত্রুর হাতে দখলকৃত৷ আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন তাঁদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য৷ আমদের এ হামলাটি হচ্ছে প্রতিশোধমূলক আক্রমণের সূচনা৷ আল্লাহর ইচ্ছায় অবশ্যই তা অব্যাহত থাকবে৷ গতকাল সংঘটিত অপারেশনটি ছিল কয়েকটি উপলক্ষকে সামনে রেখে৷ সার্বিকভাবে আল্লাহ্ তাআলা জিহাদকে বিধিবদ্ধ করেছেন কয়েকটি কারণে৷ প্রথম যে উদ্দেশ্যটিকে সার্বক্ষণিকভাবে আমরা আমাদের হৃদয়ে উপস্থিত রাখি তা হচ্ছে আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করা৷ এ উদ্দেশ্যটির অধীনে আরো কিছু শরয়ী উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে৷ তন্মধ্যে একটি হচ্ছেঃ নিপীড়িত নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও ওলামাদের সাহায্য করা৷ তাঁদেরকে সাহায্য করা আমাদের দ্বীনি দায়িত্ব৷ ঠিক কি বেঠিক? এ বিষয়টি শুধুমাত্র আফমাদো শহরের সাথেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুসলমানদের যে ভূমিকেই কাফেররা জবরদখল করে নিয়েছে সেখানেই তা ওয়াজিব৷ সুতরাং নিপীড়িত মুসলমানদের সাহায্য করা হচ্ছে আমাদের গতকালের আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহের একটি৷ আর উদ্ধত ক্রুসেডার শত্রুর প্রতি বলপ্রয়োগ ও চাপ সৃষ্টি করাও আমাদের শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম উদ্দেশ্য৷ এবং যেন আমরা শত্রুদের সাথে জিহাদ করা ও তাদের ক্ষতি করার ফরজিয়্যাত আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলার আদেশ মান্য করতে পারি”৷

 

শাইখ রহ. ইসলামি জুবা প্রদেশে কেনিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে বহুসংখ্যক মারাত্মক মারাত্মক যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন এবং যেগুলো আল্লাহ্ তাআলার দয়ায় দখলদার ক্রুসেডারদের চেহারা বিভক্ত করে দিয়েছে৷ 

দখলদার কেনিয়ান ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইরত এক ময়দানে শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. মুজাহিদদের সামনে বলেন-

“আমরা এখন অন্তিম মূহুর্তগুলো অতিবাহিত করছি৷ সুতরাং আপনারা গোলা-বারুদ সঞ্চয় করুন ও নিক্ষেপণ যন্ত্রগুলোকে শত্রুদের দিকে তাক করুন এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করা থেকে সম্পূর্ণরুপে দূরে থাকুন৷ কেননা আপনাদের প্রত্যেকেই নিজের রক্ষণাবেক্ষণকারী৷ জেনে রাখুন মৃত্যু থেকে পলায়ন করা আপনাদের কোনই ফায়দা পৌছাতে পারবে না৷ শুনে রাখুন আল্লাহ্ তাআলা বলেন-

قل لن ينفعكم الفرار إن فررتم من الموت أو القتل، وإذا لا تمتعون إلا قليلا

অর্থঃ বলুন! তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর, তবে এ পলায়ন তোমাদের কাজে আসবে না। তখন তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে। (সুরা আহযাব: ১৬)

এবং জেনে রাখুন জিহাদের ভেতরই জীবন রয়েছে৷ আর পলায়ন করা কখনো মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পারে না৷ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রহ. বলেছেন- “আমরা শামে শত্রুদের সাথে জিহাদ করছিলাম৷ তখন কিছুসংখ্যক শামবাসী পালিয়ে মিশরে চলে গেলে আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত করে ফেলেন৷ ফলে তারা স্বাভাবিকভাবে বিছানাতেই মারা যায়৷ আর আমাদেরকে আল্লাহ্ তাআলা নিরাপদ রাখলেন ও শত্রুদের মুকাবিলায় সাহায্য করলেন”৷ সুতরাং আল্লাহ্ চাহে তো আমাদেরকেও তিনি অবশ্যই সাহায্য করবেন৷ অতএব আপনারা সংগ্রাম চালিয়ে যান, আল্লাহ্ আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন”৷

 

সাহাবায়ে কেরাম   সমস্ত সালাফে সালেহীনদের অনুসরণ করতঃ, যারা জিহাদ  ইলমের মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন শাইখ রহ. ও আমাদের ধারণানুসারে  দুটি শ্রেষ্ঠ ইবাদত তথা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর ইবাদত  ইলমে শরয়ী অন্বেষণ করার ইবাদতের মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন৷ 

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. বলেন-

“আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ্ বিন কায়েস তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করে বলেন- “আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি; রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

إن أبواب الجنة تحت ظلال السيوف

অর্থঃ নিঃসন্দেহে জান্নাতের দরজাসমূহ রয়েছে তরবারীর ছায়াতলে”৷

এর দ্বারা বুঝা গেল আবু মুসা এবং তার ছেলে উভয়েই জিহাদের ময়দানে ছিলেন৷ কেননা আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ্ বিন কায়েস বলছে যে, “আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি…”, অথচ তার বাবা তখন শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করছিলেন৷

লক্ষ্য করুন! তিনি তাঁর বাবা থেকে মসজিদেও হাদিসটি শিখেননি, বাড়ীতেও নয়; বরং তিনি হাদিসটি শিখেছেন শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে৷ সুতরাং ছেলে ও বাবা উভয়েই রণাঙ্গনে উপস্থিত রয়েছেন৷ এর দ্বারা বুঝা গেল আবু মুসা আশআরী (রাযি.) আপন সেনাদলকে কিতালের প্রতি উদ্বুদ্ধ করছিলেন৷ ঠিক কি বেঠিক?”

 

শাইখ আলী মাহমুদ রাজী দা. বা. এক স্মৃতিচারণে বলেন- “শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. বিভিন্ন দিকে পারদর্শী ছিলেন৷ আল্লাহ্ তাআলা তাঁকে অনেক প্রতিভা দান করেছিলেন৷ তাঁর প্রচেষ্টা শুধুমাত্র সামরিক সেক্টরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অন্যান্য সেক্টরেও তিনি কাজ করে গেছেন ও অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজ করেছেন৷ বিশেষ করে দাওয়াত ও তারবিয়াতের সেক্টরে৷

তিনি ছিলেন উচ্চ হিম্মতের অধিকারী, সর্বদা গভীর ধ্যানমগ্ন থাকতেন৷ জাতির চিন্তা ও উৎকন্ঠা এবং জাতিকে জাতির শত্রুদের গোলামী থেকে উত্তরণের উপায় অন্বেষণ তাকে সর্বদা ভারাক্রান্ত করে রাখত৷ চাই সেই গোলামী সাংস্কৃতিক হোক বা প্রশাসনিক বা অর্থনৈতিক বা অন্য কোন ভাবে”৷

 

শাইখ রহ. অত্যাধিক পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত  তাতে গভীরভাবে চিন্তাগবেষণা করতেন৷ তাঁর কোন মজলিস আল্লাহ্ তাআলার আয়াতের মাধ্যমে নসিহত প্রদান  প্রভাবপূর্ণ হিতোপদেশ থেকে খালি থাকত না৷ যা হিম্মতসমূহকে সুদৃঢ় মজবুত  মৃতপ্রায় হৃদয়সমূহকে সজীব করে তুলত৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন- “আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর শত্রুদের পরাস্ত করেছেন এবং সে সকল ছোটছোট বালকদেরকে তাদের পরাজয়ের কারণ বানিয়েছেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় অস্ত্র ধারণ করেছে৷ তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দ্বীন, দেশ ও দেশের জনগণকে সম্মানিত করেছেন৷ সুতরাং একমাত্র তাঁরা-ই দেশ ও দশের কল্যাণার্থে কাজ করছে৷ আর বাকি যারা রয়েছে তারা তো এ দেশকে কাফের শত্রুদের হাতে তুলে দিতে এবং কেনিয়ান সরকার, ইথিওপীয় সরকার ও অন্যান্য কুফরী জাতির মাঝে বন্টন করে দিতে সদা উদ্যত৷

এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকা টেনে আমি আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের একটি ধর্ম রয়েছে এবং আমাদের ধর্মের একটি শিক্ষা রয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তাআলার রাস্তায় জিহাদ করবে নিঃসন্দেহে সে বিজয় লাভ করবে৷ অন্যথায় আমাদের এমন আয়াতের প্রতি বিশ্বাস রবে না, যা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপন কিতাবে উল্লেখ করেছেন৷ সেক্ষেত্রে আমরা কাফের হয়ে যাব৷ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

ولقد كتبنا في الزبور من بعد الذكر

অর্থঃ আমি লৌহে মাহফুজের পর (তথা লৌহে মাহফুজে লেখার পর) যাবুরে (তথা তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরআন সকল নাযিলকৃত কিতাবে) লেখে দিয়েছি (সুরা আম্বিয়া: ১০৫)

আল্লাহ্ তাআলা লৌহে মাহফুজ ও সকল নাযিলকৃত কিতাবে কি লেখেছেন? তা হচ্ছে সামনের এই বাক্যটি, যা মুসলিম কাফের সকলের জন্যই একটি ব্যাপক ঘোষণা৷

أن الأرض يرثها عبادي الصالحون

অর্থঃ (লেখে দিয়েছি) যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ অবশেষে পৃথিবীর অধিকারী হবে৷ (সুরা আম্বিয়া: ১০৫)

পৃথিবী আল্লাহর৷ ঠিক কি বেঠিক? পৃথিবী আল্লাহর, তিনি তাঁর সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের যাকে ইচ্ছা পৃথিবীর অধিকারী বানাবেন৷

তাহলে দখলদার কেনিয়ানরা কি আল্লাহ্ তাআলার সৎকর্মপরায়ণ বান্দা? এবং দখলদার ইথিওপিয়ানরা কি আল্লাহ্ তাআলার সৎকর্মপরায়ণ বান্দা? কাফেররা কি আল্লাহ্ তাআলার সৎকর্মপরায়ণ বান্দা? তারা সকলেই কুফরী করেছে৷ তাই পৃথিবীর অধিকারী হওয়ার কোন অধিকারই তাদের নেই৷

তারা এই পৃথিবীতে ঘোরাঘুরি করছে সীমিত কয়েকদিনের জন্য; কিন্তু চিরস্থায়ীভাবে তাতে তাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব, আদৌ সম্ভব নয়৷ যে মুসলমান এ কথা বিশ্বাস করে না সে দূর্বল ঈমানের অধিকারী”৷

 

শাইখ আলী মাহমুদ রাজী দা. বা. এক স্মৃতিচারণে বলেন- “ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে যখন মিশনারি সংস্থাগুলো দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করত তখন শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. কে তারবিয়াত ও শিক্ষাদান কার্যালয়ে কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং তাকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গঠনমূলক একটি ব্যাপক গবেষণা জমা দিতে বলা হয়েছিল৷ সুতরাং তাকে শিক্ষাব্যবস্থার মতবাদগত লড়াই থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল৷

এ সেক্টরে তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করেছিলেন ও সকলকে উপকৃত করেছিলেন, আল্লাহ্ তাআলা তাঁকে উত্তম বিনিময় দান করুন৷ আল্লাহ্ তাআলার নিকট আমাদের মিনতি যে, তিনি তাঁকে পরকালে বিরাট প্রতিদান দান করুন, কেননা তিনি অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজটি করেছেন ও আপন প্রচেষ্টার বদৌলতে বহু মানুষকে নিষ্কৃতি প্রদান করেছিলেন৷ শাইখ রহ. কাজটি আঞ্জাম দিয়েছেন ও যেভাবেই হোক তিনি তা সম্পন্ন করেছেন এবং কাজটি প্রতিষ্ঠায় তাঁর বিরাট অবদান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল”৷

 

শাইখ রহ. এর হৃদয় সর্বদা বিষণ্নতা ও শোকে পরিপূর্ণ থাকত৷ তিনি বিশ্বের মুসলমানদের সমস্যাগুলো নিয়ে খুব বেশি ভাবতেন৷ বিশেষকরে কেনিয়ার মুসলমানদের অবস্থা ও ক্রুসেডার বাহিনীর হাতে তারা যে সকল জুলুম, উৎপীড়ন-নিপীড়নের স্বীকার হয়ে থাকে সেগুলো নিয়ে৷ তিনি প্রতিটি মজলিসেই মুসলমানদেরকে কেনিয়ান সরকার কর্তৃক নিয়মানুগভাবে গণহত্যা করার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন- “আপনারা তো গারিসা গণহত্যার কথা সকলেই শুনেছেন৷ আপনাদের মধ্যে কি এমন কেউ রয়েছে, যে স্বচক্ষে সে ঘটনা অবলোকন করেছে? আমি হচ্ছি সে ঘটনা সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন৷ যাদেরকে সেদিন বলি দেওয়া হয়েছিল আমি তাদের মাঝে ছিলাম না; কিন্তু আমি ছিলাম শহরের উপকণ্ঠে৷ আমার ওপর দিয়ে খুব নীচ থেকে দুটি হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছিল৷ লোকেরা সেদিন গারিসা শহরের একটি প্রাইমারী স্কুলে সমবেত হয়েছিল৷ তাঁদের ওপর দিয়ে তিন তিনটি দিন এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, তাদের নারী-পুরুষ, শিশু কাউকে নামাজ, খানা বা অন্যকোন প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ তাঁদের কেই কেউ তখন ইশারায় নামাজ পড়েছিল৷ যুগপৎভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল গ্রীষ্মকালে৷ ফলে লোকেরা তীব্র জলশূন্যতা ও প্রচণ্ড গরম সহ্য করে৷ এই গণহত্যায় তিনহাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে৷ আর কি পরিমাণ ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছে, কি পরিমান ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত করা হয়েছে, কি পরিমান সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে, কি পরিমাণ মালিকানাধীন বস্তুকে পুড়িয়ে ছারখার করা হয়েছে তার তো কোন ইয়ত্তাই নেই৷ সেই গণহত্যায় তিনহাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের কেউ প্রচণ্ড তৃষ্ণা ও ক্ষুধার তাড়নায় মারা গিয়েছে বা কাউকে হত্যা করা হয়েছে৷

আর “বিজালা গণহত্যা”! বিজালা হচ্ছে একটি ছোট গ্রাম, যা ওয়াজির শহর থেকে পনের কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত৷ সেখানে বিভিন্ন উপজাতির বসবাস রয়েছে৷ তবে সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা হচ্ছে দাগুদিয়া উপজাতির৷ কেনিয়ান বাহিনী সেই গ্রামটিতে আক্রমণ করেছে ও সেখানকার পাঁচহাজার পুরুষকে গ্রেফতার করে তাঁদেরকে এয়ারপোর্টের রানওয়েতে জড়ো করেছে৷ অতঃপর তাঁদেরকে বস্ত্রশূন্য করে এই বস্ত্রহীন অবস্থাতেই মাটিতে লাগাতার পাঁচদিন উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে বাধ্য করেছে…৷ অবশেষে তাঁদের একজনও বেঁচে ফিরেনি৷ তাঁদের মধ্যে যারা পলায়ন করতে চেয়েছিল তাঁদেরকে ফায়ার করে হত্যা করা হয়েছে৷ সুতরাং তাঁদের কেউ কেউ প্রচণ্ড তৃষ্ণা ও তীব্র উষ্ণতার দরুণ মারা গিয়েছে ও কতককে ক্রুসেডার বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে”৷

 

শাইখ আবু আব্দুর রহমান মাহাদ ওয়া রসমী দা. বা. এক স্মৃতিচারণে বলেন- “তিনি একজন বিজ্ঞ দাঈ ও জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী ছিলেন৷ তাঁর কারণে তাঁর অনেক ছাত্র কেনিয়া থেকে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে৷ তাঁকে যখন ইসলামি জুবা প্রদেশের সামরিক কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছিল তখন তাঁর হাতে উল্লেখযোগ্য হারে সফলতা অর্জন হয়েছিল”৷

 

দ্বীনি মৈত্রীত্ব এবং সেই ঈমানী ভ্রাতৃত্বের বহির্প্রকাশ স্বরুপ, যা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল মুসলমানদেরকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে; শাইখ রহ. মুহাজিরীন ভাইদের অত্যন্ত সম্মানের সাথে স্বাগত জানিয়েছেন  তাঁদের উত্তম মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেছেন৷ যেন তাঁরা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে এবং ইসলাম  মুসলিমদের প্রতিরক্ষার  মুসলমানদের হারানো ভূখণ্ডগুলোকে পুনরুদ্ধারের ফরজে আইন জিহাদ আদায় করতে পারে৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. মুজাহিদদের এক মজলিসে বলেন- “এই অঞ্চলের মুসলমানদেরকে কেনিয়ান সরকার বিগত একান্ন বৎসর যাবৎ দাসে পরিণত করে রেখেছে৷ আজ আমরা একটু পর সেই পথ অভিমুখেই রওয়ানা করব, একদল কাফের যার নকশা এঁকেছে আমাদের জাতিকে বিভক্ত করার জন্য৷ আমরা চাচ্ছি এই কৃত্রিম সীমান্ত প্রাচীর ডিঙাতে, ঠিক কি বেঠিক? আমরা চাচ্ছি এই প্রতিবন্ধকতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে ও সীমান্ত প্রাচীরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে৷ আমরা চাচ্ছি মুসলমানদেরকে এমন মুক্ত-স্বাধীন করে দিতে যে, একজন মুসলমান নির্বিঘ্নে নাইরোবি পর্যন্ত চলে যাবে ও কেউ তাঁর নিকট কোন পরিচয়পত্রও চাইবে না”৷

 

শাইখ আবু আব্দুর রহমান মাহাদ ওয়া রসমী দা.বা. এক স্মৃতিচারণে বলেন- “আল্লাহ্ তাআলা শাইখ রহ.কে প্রচুর ইলম দান করেছেন৷ (আর আল্লাহ তাঁর প্রতি ভরপুর রহমত বর্ষণ করুন৷) পাশাপাশি তিনি কেনিয়ান সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ক্ষেত্রেও দুঃসাহসী ছিলেন৷ তিনি সবসময় কেনিয়ান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত ফ্রন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করার জন্য পীড়াপীড়ি করতেন এবং আল্লাহ্ তাআলার ফয়সালা অনুযায়ী পরবর্তীতে শাইখ রহ. এ সকল ফ্রন্টগুলোর একটির আমির নিযুক্ত হন ও এ সকল অপারেশনগুলোর নেতৃত্ব দেন৷ তবে মুজাহিদদের মাঝে একতা ধরে রাখা ও তাঁদেরকে সংঘবদ্ধ করে রাখার ব্যাপারে শাইখের এক বিশেষ সম্মানজনক অবস্থান ছিল”।

 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে: মুসলমানদেরকে এক কাতারে দাঁড় করানোর  তাঁদের ঐক্যবদ্ধতাকে পুণর্গঠনের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড আগ্রহ এবং

عليكم بالجماعة؛ فإن يد الله مع الجماعة

অর্থঃ তোমাদের ওপর আবশ্যক হচ্ছে জামাতকে আঁকড়ে ধরা; কেননা আল্লাহর সাহায্য জামাতের সাথে রয়েছে” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  হাদিসের ওপর আমল করতঃ সকল মতসমূহকে তাওহীদের কালিমার অধীনে একত্রিত করণের প্রচেষ্টা৷ 

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন-

واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا واذكروا نعمة الله عليكم إذ كنتم أعداء فألف بين قلوبكم فأصبحتم بنعمة الله إخوانا الخ

অর্থঃ আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার। (সুরা আল ইমরান: ১০৩)

সমস্ত প্রশংসা এক আল্লাহ্ তাআলার জন্য, যিনি বিচ্ছিন্নতা ও বিক্ষিপ্ততার পর আমাদের ঐক্যবদ্ধতাকে পুনর্গঠন করেছেন এবং আমাদের স্কন্ধমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার গুনাহ দূরে সরিয়ে দিয়েছেন৷ এই একতার বদৌলতে আমরা জামাতবদ্ধতার দৌলত লাভ করেছি৷ বিবৃতি পাঠ করা হয়েছে; তবে বস্তুত মানুষ নিজেকে আনন্দিত করতে পারে না এবং কথাগুলোও বলার ক্ষেত্রে সবসময় হক আদায় করে বলা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না৷ তবে এ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় সকলের সাথে আমি একটি কথাই বলতে চাই৷ আর তা হচ্ছেঃ আমরা আমাদের মতবিরোধ ও বিচ্ছিন্নতার সময় ক্রুসেডারদের ট্যাংকসমূহ জ্বালাতে পারিনি৷ কিন্তু এখন আমি আপনাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছি যে, এই “একতা”-ই হচ্ছে আমাদের ভয়াল মরণাস্ত্র, এই “একতা”-ই হচ্ছে আমাদের সবকিছু তছনছকারী কামান৷ এ সুসংবাদটুকুই আমি আপনাদেরকে দিতে চেয়েছি”৷

 

কমান্ডার ইবরাহীম নালী রহ. এক স্মৃতিচারণে বলেন- “এ সভায় আমরা কতিপয় ঐ সকল ভাইদের কথা স্মরণ করতে চাচ্ছি, যারা এ রাস্তায় নিজেদের জীবন বিলিয়ে গিয়েছেন৷ বিশেষকরে আমার ভাই ও আমার আমির শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এর কথা৷ আমরা আল্লাহ্ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি তাঁর শাহাদাতকে কবুল করে নিন৷ শাইখ রহ. আমার ও ইসলামি জুবা প্রদেশের ব্রিগেড জেনারেল আমির ছিলেন৷ আমার মনে পড়ে যে, তিনি একজন আবেদ ও বিশুদ্ধভাষী ছিলেন৷ যখন তিনি বক্তৃতা করার জন্য দাঁড়াতেন তখন তাঁর বক্তৃতায় কেউ বিরক্ত হত না৷ তিনি প্রাণবন্ততা ও সজীবতায় পরিপূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন৷ তিনি আপন মর্মস্পর্শী প্রণোদন দ্বারা সেনাদলকে জাগিয়ে তুলতেন৷ আল্লাহ্ তাআলা তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্টাবলী দ্বারা সম্মানিত করেছেন৷ সুতরাং তিনি বিভিন্ন সেক্টরে অগ্রগণ্য থাকতেন৷ চাই তা সামরিক হোক বা দাপ্তরিক বা দাওয়াতী৷ তিনি নিজে সৈন্যদের সতর্ক করার দায়িত্ব গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের মাঝে বক্তৃতা করতেন ও তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেন৷ আমার জানামতে আমি কখনোও এমন কোন সেনাদল দেখিনি, যাদের মাঝে শাইখ জুল ইয়াদাইন রহ. বক্তৃতা করেছেন আর তাঁরা পশ্চাতে ফিরে এসেছে”৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন- “আমরা একবার বাইয়াত দিয়েছি আল্লাহ্ তাআলার হাতে, আরেকবার বাইয়াত দিয়েছি আমাদের আমিরের হাতে৷ এখন আমরা মৃত্যুর ওপর বাইয়াত গ্রহণ করব; আপনারা কি প্রস্তুত?” সেনাদল বলে উঠে: আমরা প্রস্তুত।

 

কমান্ডার ইবরাহীম নালী রহ. এক স্মৃতিচারণে বলেন- “শাইখ রহ. অনুসন্ধান ও তদন্ত করার সময় আমাদের সাথে থাকতেন এবং রণাঙ্গনগুলোতেও আমাদের সাথে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন৷ আমার মনে পড়ে তিনি আফমাদু অঞ্চলের উভয় রণাঙ্গনেই আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ আমরা সম্পূর্ণ ঘাঁটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম এবং প্রচুর গনীমত অর্জন করেছিলাম৷ তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন আমরা যেন গনীমত ও গাড়ীগুলোকে আগে পাঠিয়ে দেই, যেন সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সে স্থান ত্যাগ করতে পারে৷ আমার মনে পড়ে ঘাঁটির মধ্যস্থলে ধূলোয় পরিপূর্ণ একটি পরিখা ছিল৷ তিনি আমার ঘাড়ে হাত রেখে পরিখা অভিমুখে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বললেনঃ তাতে প্রবেশ কর; কেননা যার উভয় পা আল্লাহর রাস্তার ধূলোয় ধূসরিত হবে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না৷ ফলে আমরা আল্লাহ্ তাআলার নিকট জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশায় পরিখায় প্রবেশ করলাম, যেখানে ধূলি আমাদের পায়ের অর্ধেক গোছা পর্যন্ত পৌছেছিল৷”

ইসলামী জুবা প্রদেশের আফমদু রণাঙ্গন (১৪৩৪ হিজরী) জনৈক মুজাহিদ বলেন- “আলহামদুলিল্লাহ্ মুজাহিদগণ পুরো শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন৷ টানা তিনঘন্টা লড়াই করার পর আল্লাহ্ তাআলা মুজাহিদীনদের বিজয় দান করেছেন এবং রাত দশটায় শহর মুজাহিদীনদের দখলে চলে এসেছে৷ এই হচ্ছে তাদের সাঁজোয়া যানের পরিণতি, যা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন৷ তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছে৷ ফলে তারা পলায়ন করেছে ও তাদের অস্ত্র-হাতিয়ার, মেশিনারিজ ও যানগুলো আগুনে দগ্ধ হচ্ছে৷”

 

শাইখ রহ. অন্যায়ের প্রতি আপোসহীন একজন দুঃসাহসী মানুষ ছিলেন৷ কখনো তিনি অবিচার মেনে নিতে পারতেন না৷ তিনি মহানুভব স্বভাবের  মহৎ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন৷ সকলের মাঝে প্রিয়  মার্জিত আচরণের অধিকারী ছিলেন৷ লাঞ্ছনা  অপদস্থতার জীবনকে তিনি ঘৃণা করতেন৷ তাই জিহাদের পূণ্যভূমিতে হিজরত করেছিলেন যেন তাওহীদের পতাকাতলে ইজ্জত  সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে পারেন৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন- “আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

والذين قتلوا في سبيل الله فلن يضل أعمالهم سيهديهم ويصلح بالهم ويدخلهم الجنة عرفها لهم

অর্থঃ যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাঁদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। তিনি তাঁদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাঁদের অবস্থা ভাল করবেন। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাঁদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। (সুরা মুহাম্মাদ: ৪-৬)

না জাতীয়তাবাদের রাস্তায়, না তাগুতের রাস্তায়, না অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক আয়-রোজগারে উন্নতিসাধনের রাস্তায়৷ বরং তাঁরা ঐ সমস্ত লোক যারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে এবং আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়৷ যারা লড়াই করে তাঁরা শুধুমাত্র জিহাদ ফি সাবিলিল্লায় অংশগ্রহণ করার দ্বারাই জান্নাতে যাবে; চাই সে নিহত হোক বা না হোক”৷

 

ফেরেববাজ আমেরিকা শাইখ রহ.  তাঁর সঙ্গীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ত্যাগবিসর্জন, বীরত্বসাহসিকতা  ধৈর্য্যসহিষ্ণুতায় পরিপূর্ণ দীর্ঘ সফরের পর, যা দুই দশক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল, এই মহান শাইখ অবিনশ্বর পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে আপন প্রভুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন৷ আল্লাহ্ তাআলা তাঁদের সকলকে শুহাদার কাতারে শামিল করে নিন৷

শাইখ আবু আব্দুর রহমান মাহাদ ওয়া রসমী দা.বা. স্মৃতিচারণে বলেন- “যখন শাইখ রহ. পোলো জেদুদ শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ জিহাদি কাজে মশগুল ছিলেন তখন আল্লাহ্ তাআলার তাকদীরী ফয়সালা অনুযায়ী মার্কিনী ও তাদের দোসররা তাঁর প্রতি ওঁৎ পেতে থেকে আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল৷ তখন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা কোনরকম আত্মসমর্পণও করেননি, পৃষ্ঠ প্রদর্শনও করেননি; বরং তাঁরা তাঁদের ব্যাপক ক্ষয়সাধন করেছিলেন ও দুঃসাহসিকতার সাথে তাদের সাথে কঠোরভাবে লড়েছিলেন৷ এবং এভাবে সরাসরি সংঘর্ষের একপর্যায়ে আল্লাহ্ তাআলা তাঁদেরকে শুহাদার কাতারে শামিল করে নেন”৷

 

শাইখ মুহাম্মাদ জুল ইয়াদাইন রহ. এক মজলিসে বলেন- “আমরা চাই আমাদের হৃদয়ে শাহাদাত, ক্বিতাল ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর ভালবাসা বদ্ধমূল হয়ে যাক৷ আমাদের উচিত এ সকল তাৎপর্যসমূহকে বারবার আওড়ানো, যেন তা আমাদের মনোবৃত্তি ও চিন্তাধারায় দৃঢ়মূল হয়ে যায়৷ এবং আমাদের উচিত তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির বিশুদ্ধ পানি পান করার ন্যয় এ সকল প্রস্রবণ থেকে পরিতৃপ্ত হওয়া ও শাহাদাতের পথে অগ্রসর হওয়া৷ কেননা শাহাদাত হচ্ছে ঐ সমস্ত সংক্ষিপ্ত পথসমূহের অন্যতম, যা আপনাকে খুব সহজেই জান্নাতে পৌছিয়ে দিবে৷ যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমরা অস্ত্র হাতে নিয়েছি তা হচ্ছেঃ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা এবং যেন এ লক্ষ্যে পৌছার জন্য মাধ্যম স্বরুপ আমরা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর খেদমত আঞ্জাম দিতে পারি৷ অতএব আমাদের কর্তব্য হচ্ছে এ মর্মার্থসমূহের চাড়াগুলো সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের জেহেনে রোপণ করা ও আওড়াতে থাকা৷ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি যে, এ পথে অবিচল থেকেই আল্লাহ্ তাআলার সাথে মুলাকাত করব, যাবৎ না আমরা শাহাদাত লাভে ধন্য হই বা জয়লাভ করি ও দেশে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়৷ এতদভিন্ন সবকিছুকেই আমরা অস্বীকার করি৷ অস্বীকার করি গণতান্ত্রিক নীতিমালা, মানবরচিত সংবিধান ও ইত্যাকার কাফেরদের যত নীতিমালা রয়েছে৷ সবকিছু থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করে একমাত্র এক আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা তা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ্”৷

 

শাইখ আবু বাছির নাসির আল ওয়াহাইশী রহ. শহীদদের ব্যাপারে বলেন- “তেমনিভাবে ঐ সমস্ত শুহাদায়ে কেরাম, যাদেরকে তারা কারাগারে বা সম্মুখযুদ্ধে হত্যা করেছে কিংবা যাদেরকে হত্যা করার জন্য তারা মার্কিনিদের সঙ্কেত দিয়েছে; আমাদের জন্য আবশ্যক হচ্ছে তাঁদের সকলের প্রতিশোধ গ্রহণ করা এবং তাঁদের পথে অবিচল থাকা৷

نادى على دم الشهيد يقول لي #  أترى تمد يدا تصافح قاتلي؟

هذا التراب مضمخ بدمائنا # أتبيعه يوما لجند الباطل؟

“শহীদের রক্তের প্রতি আমাকে আহবান করে বলে:

তুমি কি আমার ঘাতকের সাথে মুসাফাহা করার জন্য হস্ত সম্প্রসারণ করবে?

এ মাটি আমাদের রক্তে সিক্ত রয়েছে

তুমি কি তা কোনদিন বাতিল সেনাদের কাছে বিক্রি করে দিবে?”

 

হে আল্লাহ্! আপনি আমাদের হাতে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দিন এবং আমাদের জন্য সেই জীবনাদর্শকে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন যা আপনি আমাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং আমাদের ভয়কে নিরাপত্তা দ্বারা পরিবর্তন করে দিন৷ হে আল্লাহ্! আপনি আমাদেরকে আপনার আনুগত্যময় কাজে ব্যবহার করুন  অন্য কাউকে আমাদের পরিবর্তে ব্যবহার করবেন না৷ 

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আপনার ঘুমকে ইবাদতে পরিণত করুন | Shaikh Tamim Al Adnani | IBADAH

Ibadah পরিবেশিত আপনার ঘুমকে ইবাদতে পরিণত করুন Shaikh Tamim Al Adnani ডাউনলোড করুন ডাউনলোড করুন, ...