সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / প্রবন্ধ-নিবন্ধ / বরকতময় 9/11 হামলার অন্যতম কারিগর মোহাম্মদ আতা (রাহিমাহুল্লাহ) এর ডায়েরি
বরকতময় 9/11 হামলার অন্যতম কারিগর মোহাম্মদ আতা (রাহিমাহুল্লাহ) এর ডায়েরি

বরকতময় 9/11 হামলার অন্যতম কারিগর মোহাম্মদ আতা (রাহিমাহুল্লাহ) এর ডায়েরি

প্রথম খন্ড :

বরকতময় 9/11 হামলার অন্যতম কারিগর মোহাম্মদ আতা (রাহিমাহুল্লাহ), আল্লাহ তায়ালা তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। তিনি সহ মাত্র ১৯ জন যুবক সেদিন আমেরিকার মান সম্মান মাটির সাথে মিশিয়ে দেন৷ মিশরের এই মহান আল্লাহর সৈনিক তাঁর শাহাদার আগের রাতের কিছু করণীয় লেখে গেছেন। যেটা পরে তাঁর ব্যাগ থেকে পাওয়া যায়৷ আজ আমরা পড়ব তাঁর সেই বিখ্যাত নোটটি। একজন শহীদের আগের রাতে করনীয়। আল্লাহর রাস্তায় যারা জীবন দিতে চায় আশা করি তাদের জন্য এতে রয়েছে অন্তরের খোরাক। কয়েক খন্ডে তা প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করুন, আমিন৷

1. মৃত্যুর জন্য শপথ গ্রহন কর এবং নিজের নিয়তকে পুনরায় পরিশুদ্ধ এবং নতুন কর ।

2. শরীরের বাড়তি লোম কেটে পরিচ্ছন্ন হও এবং সুগন্ধি ব্যাবহার কর ।

3. গোছল কর।

4. নিশ্চিত হও, তুমি পরিকল্পনার সকল দিক খুব ভাল করে জান। শত্রুদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া বা বাঁধার আশা কর ৷

5. সূরা তওবা এবং সূরা আনফাল তেলওয়াত কর এবং এদের অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ফিকির কর। স্মরণে রাখার চেষ্টা কর, আল্লাহ তায়ালা শহীদদের জন্য কী কী ওয়াদা করেছেন।

6. নিজের রূহকে মনে করিয়ে দাও, সে যেন আল্লাহ পাকের সকল হুকুম আহকাম শুনে এবং মেনে নেয়। এবং মনে রাখ তুমি এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পার যা তোমাকে ১০০ভাগ আল্লাহর আনুগত্য করতে বাঁধা দিতে পারে। সুতরাং নিজের অন্তরকে শিকলবন্দী কর,তাকে পরিশুদ্ধ কর, তাকে বুঝাও এবং উদীপ্ত কর.

“আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ করো না, তা করলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে, তোমাদের শক্তি-ক্ষমতা বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। “

7. রাতের বেলা কিয়ামুল লাইল কর এবং আল্লাহর কাছে বার বার দোয়া কর যেন তিনি তোমাকে বিজয়, নিয়ন্ত্রণ দান করেন। যেন তিনি তোমার কাজকে সহজ করে দেন এবং যেন কাফিরদের কাছে আমাদের ফাঁস না করে দেন।

8. আল্লাহকে বার বার স্মরণ কর৷ এটার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কোরান মাজীদ তিলোয়াত করা। এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট। কোরান হলো এই পৃথিবী, গাছপালার রবের বাণী , যার সাথে তুমি মিলিত হবে বিচারের দিনে।

9. সকল প্রকার ময়লা থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ কর। সম্পূর্ণভাবে ভুলো যাও ‘দুনিয়া’ বলে কিছু আছে। খেলাধূলা, হাসি তামাশার সময় শেষ এখন সামনে কঠিন সময়। আমরা জীবনে কত সময় নষ্ট করেছি? আমরা কি এই শেষ সময়ে এসে কিছু ভাল কাজ এবং আল্লাহর আনুগত্য করব না?

10. তোমার সম্পূর্ণভাবে প্রশান্তি অনুভব করা উচিত। কারণ তুমি এবং জান্নাতে তোমার বিবাহর মধ্যে খুব অল্প সময়ই বাকি আছে। এরপরেই তো শুরু চিরস্থায়ী আনন্দের জীবন, যেখানে আল্লাহ তোমার উপর খুশি। চিরস্থায়ী শান্তির জীবন নবী-রাসূলগন, সাহাবীগন এবং নেককার মানুষদের পাশে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং আশাবাদী হও। কারণ, নবীজি (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) সকল কাজে আশাবাদী ছিলেন।

11. মনে রেখো, যদি বিপদে আপতিত হও, কিভাবে সামাল দিবে, কিভাবে নিজেকে অটল রাখবে। মনে রেখো, তুমি আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে এবং যা ঘটার তা কোন ভাবেই এড়ানো যাবে না। যা না ঘটার তা কখনোই ঘটত না৷ এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা জান্নাতে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। নিশ্চিত থাকো এগুলো অল্প কিছু মুহূর্তের জন্য যা অল্পতেই শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং তারাই তো সফল যারা এই বিশাল পুরুষ্কার প্রাপ্ত হয়৷

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখন পর্যন্তও পরখ করেননি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্যশীল।”

12. মনে রেখ, আল্লাহ পাক বলেছেন, “আল্লাহর হুকুমে বহু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র দল বৃহৎ দলের উপর জয়যুক্ত হয়েছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”

আরো মনে রেখ, “যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের উপর কেউই বিজয়ী হতে পারবে না এবং যদি তিনি তোমাদের সাহায্য না করেন, সে অবস্থায় এমন কে আছে যে, তোমাদেরকে সাহায্য করবে? মু’মিনদের আল্লাহর প্রতি নির্ভর করাই উচিত।”

সুতরাং আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।

13. নিজের জন্য দোয়া কর, নিজের সাথীদের জন্য দোয়া কর এবং দোয়ার অর্থ নিয়ে চিন্তা কর। সকাল সন্ধ্যার আযকার সমূহ, কোন শহরে প্রবেশের আগে দোয়া, শক্রুর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার আগে দোয়া ভাল করে আদায় কর।

14. কোরানের আয়াত পড়ে নিজের শরীর, লাগেজ, কাপড়চোপড়, ছুরি, আইডি, পাসপোর্ট, অন্যান্য কাগজপত্র এর উপর হাত বুলিয়ে সেগুলোকে বন্ধ করে নাও।

15. বের হওয়ার আগে তোমার অস্ত্রশস্ত্র ঠিক আছে কিনা চেক করে নাও। ( তোমার ছুরিকে অবশ্যই ধারালো হতে হবে এবং তোমার হত্যাকৃত পশুটি যেন কষ্ট না পায় )

16. নিজের পোশাককে শক্ত করে পড়ে নাও ( যেন লজ্জাস্থান অনাবৃত না হয়ে পড়ে). এটাই নবিজির (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে সাহাবাদের নিয়ম ছিল। তারা যুদ্ধের আগে নিজেদের পোশাককে শক্ত করে পড়ে নিত। তোমার জুতাকে শক্ত করে বেঁধে নাও। মোজা পড়বে যেন জুতো পায়ের সাথে ভাল করে লেগে থাকে৷ এসবই দুনিয়াবি কাজ, বাকিটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিব , তাঁর উপরই ভরসা করবে। ভারসা করার জন্য তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।

17. সকালের নামায জামাতে আদায় করবে এবং নামাযের পরে যে পুরুষ্কার পেতে যাচ্ছ সেটা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে। এরপরে দোয়া করবে। অবশ্যই ওযু না করে ঘর থেকে বের হবে না, কারণ ফেরেস্তারা তোমার জন্য মাফ চাইতে থাকে যতক্ষণ তুমি ওযু অবস্থায় থাকবে।

প্রথমখন্ড সমাপ্ত। আল্লাহ তৌফিক দিলে আরো দুই খন্ড প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ। পোস্টটি নিজের কাছে রেখে দিন, এবং পরিচিতদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন ইয়া রব।

দ্বিতীয় খন্ড :

বরকতময় 9/11 হামলার অন্যতম কারিগর মোহাম্মদ আতা (রাহিমাহুল্লাহ), আল্লাহ তায়ালা তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। তিনি সহ মাত্র ১৯ জন যুবক সেদিন আমেরিকার মান সম্মান মাটির সাথে মিশিয়ে দেন৷ মিশরের এই মহান আল্লাহর সৈনিক তাঁর শাহাদার আগের রাতের কিছু করণীয় লেখে গেছেন। যেটা পরে তাঁর ব্যাগ থেকে পাওয়া যায়৷ আজ আমরা পড়ব তাঁর সেই বিখ্যাত নোটটি। একজন শহীদের আগের রাতে করনীয়। আল্লাহর রাস্তায় যারা জীবন দিতে চায় আশা করি তাদের জন্য এতে রয়েছে অন্তরের খোরাক। তিনখন্ডে তা প্রকাশিত হবে,ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করুন, আমিন৷
.

যখন গাড়ি তোমাকে নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে, আল্লাহকে সারাক্ষণ স্বরণ করতে থাক। ( মনে রেখ, যানবাহনে প্রবেশের দোয়া, কোন শহরে প্রবেশের দোয়া, কোন জায়গায় নামার পরের দোয়া এবং অন্যান্য দোয়াগুলো পড়বে)।
.
জায়গায় পৌঁছে যাবার পরে, যখন গাড়ি থেকে নামবে, তখন নির্ধারিত দোয়া পড়ে নিবে। তুমি যেখানেই যাও না কেন সবসময় দোয়া পড়বে। হাসিমুখে থাকবে এবং শান্ত থাকবে, কারণ আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন।
ফেরেস্তারা তোমাকে রক্ষা করতে থাকবে যদিও তুমি তা অনুভব কর না।
.
এটা বলবে,”হে আল্লাহ, তাদের থেকে তোমার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে আমাকে রক্ষা কর।”
.
আরো বলবে, ” ও আল্লাহ তাদের দৃষ্টিশক্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেন, যেন তারা আমাদের না দেখতে পায়। ”
.
আল্লাহর তায়ালার বাণীটি মনে রেখ, “যাদেরকে লোকে খবর দিয়েছিল যে, একটা বড় বাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে জড় হচ্ছে, কাজেই তাদেরকে ভয় কর। তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিল এবং তারা বলল, ‘আমাদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!”
.
এইগুলো বলার পরে তুমি টের পাবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যে ওয়াদা করেছে :

১. তারা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসবে আল্লাহর রহমত নিয়ে।
২.তাদের কোন ক্ষতি হবে না
৩. এবং আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতঃপর তারা আল্লাহর নি‘মাত ও অনুগ্রহসহ ফিরে আসল, কোনও প্রকার অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল এবং আল্লাহ মহাকল্যাণময়।”
.
তাদের সকল সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি কোন কাজে আসবে না, এবং এগুলো তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছে ছাড়া। একজন মুমিন এগুলোকে ভয় পায় না। একমাত্র শয়তানের বন্ধুরাই এগুলোকে ভয় পায়, যারা কিনা শয়তানের ভাই। তারা একে অপরের মিত্রে পরিণত হয়েছে।
.
ভয় একটি বড় ধরনের ইবাদত। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আল্লাহর বন্ধুরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ছাড়া কারো ইবাদত করে না।
আল্লাহ বলেন, “এ লোকেরা হচ্ছে শয়ত্বান; তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়, তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, যদি তোমরা মু’মিন হও।”

আল্লাহই সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিশ্চিত থাক তিনি কাফেরদের চক্রান্ত দূর্বল করে দিবেন।
.
তোমাকে তোমার সাথী ভাইদের সর্বক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে। কেউ যেন খেয়াল না করে তুমি এই যিকির করছ, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ” কারণ তুমি যদি ১০০০ বার এটা পড় তাহলেও কেউ বুঝতে পারবে তুমি চুপ আছ নাকি যিকিরে আছ৷
.
এই যিকিরের একটা অন্যতম মিরাকল হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি খালেস অন্তরে একনিষ্ঠতার সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
.
অপর একটি হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে বলেন,”হে মুসা! সাত তবক আসমান-জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে, সবি যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর অন্য পাল্লায় শুধু ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ রাখা হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর পাল্লাই ভারী হয়ে যাবে।”
.
এটাই যথেষ্ট যে, এই শব্দগুলো তাওহিদের বাণী, যেটা কিনা তোমাকে যুদ্ধে আটল রাখবে যেমন করে রেখেছিল নবীজিকে (সল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম), সাহবাদের, তাদের পরে যারা এসেছেন তাদের। ইনশাল্লাহ, কেয়ামত পর্যন্ত এমনই হবে।
.
কনফিউশড হয়ো না অথবা নার্ভাস হবার কোন লক্ষণ প্রকাশ করো না। হাসিখুশি থাক, আশাবাদী হও, শান্ত থাক কারণ তুমি এমন একটি কাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছ যা আল্লাহ তায়ালা ভালবাসেন এবং তিনি গ্রহণ করবেন। এটাই সেই দিন, আল্লাহর ইচ্ছাই, তুমি জান্নাতে তোমার স্ত্রীদের সাথে সময় কাটাবে।
.
[কবিতা] কষ্টের মাঝে হাসো, হে নওজোয়ান
তুমি তো চলছ চিরস্থায়ী জান্নাতে।
.
[Translated from English] .
দ্বিতীয় খন্ড সমাপ্ত। অবশ্যই প্রথম খন্ডটা পড়বেন। ওখানেই যাবতীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। আল্লাহ তৌফিক দিলে শেষ খন্ড প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ। পোস্টটি নিজের কাছে রেখে দিন, এবং পরিচিতদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন ইয়া রব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিদ্রোহকারী দল ও শরীয়াহ পালনে বাঁধা প্রদানকারী দলের বিধান – শাইখ হারেস বিন গাযী নাযারী রহ.

তারবিয়াহ ইস্যু-৫ | ১৪৪১ হিজরি | ২০২০ ইংরেজি বিষয়ঃ শরিয়তের আহকাম বিদ্রোহকারী দল ও শরীয়াহ ...