Home / অডিও ও ভিডিও / জেনে রাখ! আল্লাহর সাহায্য কাছেই – মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ

জেনে রাখ! আল্লাহর সাহায্য কাছেই – মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ

অডিও বার্তা
জেনে রাখ! আল্লাহর সাহায্য কাছেই

মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ

আমির আল-কায়েদা উপমহাদেশ

আরও ডাউনলোড লিংক
——————–
অডিও বার্তা
জেনে রাখ! আল্লাহর সাহায্য কাছেই

মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ

আমির আল-কায়েদা উপমহাদেশ

সমস্ত প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর যার পরে আর কোন নবী নেই।

আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিতাড়িত শয়তান থেকে।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَاْتِكُمْ مَّثَلُ الَّذِيْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ ۭ مَسَّتْهُمُ الْبَاْسَاۗءُ وَالضَّرَّاۗءُ وَزُلْزِلُوْا حَتّٰى يَقُوْلَ الرَّسُوْلُ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَعَهٗ مَتٰى نَصْرُ اللّٰهِ  ۭ اَلَآ اِنَّ نَصْرَ اللّٰهِ قَرِيْبٌ

অর্থঃ তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।

আমার মুজাহিদ সাথীরা!

আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের জীবন বিসর্জন দানকারীরা, আল্লাহর রাস্তায় যখন সমস্যা বাড়তে থাকে, পরীক্ষা কঠিন থেকে কঠিন হতে থাকে, দুঃখ দুর্দশা এবং দুশ্চিন্তার মেঘ ঘন কাল হতে থাকে, নৌকার সমস্ত দাঁড় হাত থেকে ছুটে যায়, সব উপকরণ, বাহ্যিক সহযোগিতার মাধ্যম ভেঙে যায় এবং অবস্থা এমন হয়ে যায় যে দৃঢ় সংকল্পের লোকেরাও বলে উঠে, متیٰ نصر اللہ, অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? তো জেনে রাখা চায় যে আল্লাহর সাহায্যের সময় এসে গেছে, আল্লাহর সাহায্য প্রায় এসেই গেছে।

আল্লাহ তাআলা নিজ কিতাবে আপনাদেরকে সুসংবাদ শুনাচ্ছেন যে, সমস্যা এবং পরীক্ষার পরে আল্লাহর সাহায্য প্রায় এসেই গেছে, আল্লাহ তাআলা নিজ দ্বীনের বিজয় এবং শরীয়তের প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইকারীদের এমন সময়ে সুসংবাদ শুনান যা শুনে দুনিয়াদার, অন্তরের ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষেরা এমন কথাকে পাগলপ্রলাপ বলে থাকে, কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহ তাআলা ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাস ভরে দিয়েছেন, সে বিপদজনক থেকে বিপদজনক অবস্থাতেও নিজের রব এবং নিজের প্রিয় রাসূল (ﷺ) এর সুসংবাদের উপর এমন দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন, যেমন মানুষ নিজ চোখে দেখা জিনিসের উপর রাখে।

ঈমানকে তাজা করার জন্য, আত্মবিশ্বাসকে ফিরে পাওয়ার জন্য, আবেগকে গতি দেওয়ার জন্য, চলুন একটি দৃশ্য সামনে নিয়ে আসা নিয়ে যাক। এমন ভীতিকর ও কঠিন দৃশ্য যা আল্লাহ তাআলা নিজেই এভাবে বলছেন যে, গাযওয়ায়ে খন্দকের সময় মুসলমানদের কতটা কঠিন পরীক্ষায় ফেলা হয়েছিল।

إذ جاؤکم من فوقکم ومن أسفل منکم وإذزاغت الأبصار،

যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল

ঐ দৃশ্যের বাস্তবতা আপনাদের সামনে নিয়ে আসেন, যখন মদিনা মনোওয়ারার উপর দিক থেকে শত্রুরা ঘিরে রেখেছে এবং নিচের দিক থেকেও ঘেরাও করে রাখা হয়েছে, আরব উপদ্বীপের সুপার পাওয়ার ইসলাম ও মুসলমানদেরকে মদিনাতেই দাফন করার শপথ নিয়ে বের হয়েছে, তাদের বাহির ও ভেতরের ইহুদীদের সমর্থন মিলেছে, তারা সাথে অন্যান্য আরব গোত্রকেও নিয়ে এসেছে, একইসাথে ভেতরের মুনাফিকরা এবং আরেকদিক থেকে ইহুদীরাও মুসলমানদেরকে শেষ করে দেওয়ার খায়েশ করেছিল। এরকম সময়েই কুরআন বলে যে, وإذ زاغت الأبصار এমন সংকটপূর্ণ অবস্থায় দৃষ্টিভ্রম হয়, وبلغت القلوب الحناجر এবং জীবন গলায় চলে আসে। মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা শরীয়ত কি শেষ করে দেওয়া সম্ভব? আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দেওয়া শাসনব্যবস্থাকে কি শেষ করে দেওয়া সম্ভব, যে শরীয়তকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যে দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য গাযওয়ায়ে উহুদ এবং অন্যান্য গাযওয়া ও সারিয়্যাতে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিবেদিত প্রাণ সাথীদের মূল্যবান রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, এগুলো সব কি বৃথা চলে যাবে?

শত্রু সৈন্যরা আসার আগে সাহাবাগণ (রা) পরিখা খননে ব্যস্ত। মদিনার সর্দার (ﷺ) যখন নিজের সাথীদেরকে তীব্র শীত এবং ক্ষুধা পিপাসার মত জীবন ধারণের মৌলিক জিনিসের অভাবে, ক্লান্তির কারণে বেহাল অবস্থায় দেখলেন, তো নবী (ﷺ) উনাদের জন্য দু’আ করা শুরু করেন। তিনি বলেনঃ

’’اللهم إن العيش عيش الآخرة * فاغفر الأنصار وَالْمُهَاجِرَهْ‘‘

হে আল্লাহ! জীবন তো আখিরাতেরই জীবন, তাই আপনি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করুন আর তাঁদের জন্য আখিরাতের জীবনকে সুশোভিত করে দিন। শরীয়তের জন্য এই মাতালরা অনুভব করেন যে নবী (ﷺ) আমাদের অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন, সাহাবায়ে মুহাম্মাদ (ﷺ) উচ্চস্বরে বলে উঠলেনঃ

نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوا مُحَمَّدًا * عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِينَا أَبَدَا

হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো ঐসব লোক, যারা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর হাতে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জিহাদের বায়আত করেছি যে, আমরা এই রাস্তায় নিজেদের জীবন কুরবানি করে দেব। মদিনার সর্দার (ﷺ) নিজ সাথীদের সাথে দাঁড়িয়ে আছেন। হযরত সালমান ফার্সি (রা) খন্দক খনন করছেন। খন্দক খনন করতে করতে এক বড় প্রস্তরখণ্ড আসল, যার কারণে কোদালও ভেঙে গেল, হযরত সালমান ফার্সি (রা) মদিনার সর্দারের সেবায় হাজির হলেন এবং বললেন যে বড় এক প্রস্তরখণ্ড এসেছে, রাসূল (ﷺ) আসলেন, কোদাল হাতে নিলেন এবং বড় এই প্রস্তরখণ্ড ভাঙতে শুরু করলেন, পাথর থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ল, রাহমাতুল লিল আলামিন (ﷺ) মুখ থেকে তাকবীরের কালিমা বুলন্দ হল। এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বারও এমন আলো ছড়িয়ে পড়ল, নবী (ﷺ) এর মুখ থেকে তাকবীরের ধ্বনি বুলন্দ হল, হযরত সালমান ফার্সি (রা) ও অন্যান্য সাহাবা(রা) নবী (ﷺ) এর এই কথার স্মরণ করলেন এবং এই আলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, রাহমাতুল লিল আলামিন (ﷺ) বললেন, প্রথমবার আমাকে হেরা এবং কিসরার শহর দেখান হয়, আর জিব্রাঈল (আ) বললেন যে, আমার উম্মত এগুলো জয় করবে, দ্বিতীয় আলোর ছটায় রোমীয় সাম্রাজ্যের লাল প্রাসাদগুলো আলোকিত হয় এবং জিব্রাঈল (আ) আমাকে বললেন যে, আমার উম্মত এগুলোও জয় করবে, তৃতীয় আলোর ছটায় ইয়েমেনের প্রাসাদগুলো দৃষ্টিতে আসে এবং জিব্রাঈল (আ) এগুলো বিজয়ের সুসংবাদ শুনান।

হে আমার মুজাহিদ সাথীরা! এরকম নাজুক সময়ে এই সুসংবাদ এমন ছিল যার উপর শুধু ঐ ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে পারে যার অন্তরকে আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা শরীয়তের জন্য খুলে দিয়েছিলেন।

তা না হলে রোগাক্রান্ত অন্তরের অধিকারী এটা ছাড়া আর কি বলতে পারত যে, এর অবস্থা দেখ, পুরো আরব অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এদের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে এসেছে আর এই অবস্থায় এদের খাবার, রুটির টুকরাও সহজে মিলছেনা, পেটে পাথর বেঁধে ঘুরছে; মদিনা থেকে বাহির যাওয়াও সম্ভব নয়, এদের বাঁচার কোন রাস্তাও অবশিষ্ট নেই; কিন্তু এদের বুলি দেখ, এরকম জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় এরা রোম ও পারস্য জয় করবে। কতটা বিস্ময়কর কথা। এরকম অবস্থা শুধু আমাদের উপর আসেনি। আল্লাহ তাআলা এমন অবস্থা মুসলমানদের উপর নিয়ে আসেন যাতে খারাপ ভাল আলাদা করে দেওয়া যায়, সত্য এবং মিথ্যা দেখে নেওয়া যায়। আবার মনে রাখুন এই পরীক্ষা যখন এই পর্যায়ে পৌঁছিয়ে যায় যে, অবস্থা وزلزلوازلزالاً شدیدا এর মত হয়ে যায়, অবস্থা এমন হয়ে যায় যে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দেওয়া হয়, حتیٰ یقول الرسول والذین آمنوا معہ, এত প্রচণ্ড ঝাঁকুনি যে রাসূল এবং তাঁর উপর ঈমানদাররা চিৎকার করে, متیٰ نصر اللہ …! আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে, এই সাহায্যের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস তো আছে, কিন্তু এই সাহায্য কখন আসবে? এরপরে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হয় সুসংবাদের … الا  … শুনে রাখ! إن نصر  اللہ  قریب  , আল্লাহর সাহায্য কাছেই আছে, আল্লাহ তাঁর শরীয়তের জন্য জীবন নিঃশেষ করে দেওয়া মানুষকে কখনও একেলা ছাড়েননা, দৃঢ় বিশ্বাস রাখ এমন মানুষের জন্য সাহায্য শীঘ্রই আসবে।

কাজেই! হে কুরআন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনবাজি রাখা লোকেরা! হে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর শরীয়তের মাতালেরা! নিজেদের সন্তানদেরও এই রাস্তায় ঘরছাড়া করা লোকেরা, পরীক্ষা লম্বা হয়ে যাওয়া যেন তোমাদের নিরাশ না করে, শরীয়তের শত্রুদের তর্জন গর্জন যেন উদ্বিগ্ন না করে … বিশ্বাস রাখ…! পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক না কেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা গাযওয়ায়ে খন্দকের মত হোক না কেন, মনে রেখ আল্লাহর ওয়াদা – তাঁর শরীয়তকে বিজয়ী করার জন্য যে লড়াই করবে, যে তাঁর কালেমাকে বিজয়ী করার জন্য যে লড়াই করবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। আপনারা কি দেখেন নি, যে আমেরিকার গোলামী করতে করতে শরীয়তের শত্রু সেনাবাহিনী ওয়াজিরিস্তান পর্যন্ত পৌঁছেছিল, আজ সেই আমেরিকার কি অবস্থা হতে চলেছে, চরিত্র ও সম্মানের ধারক ও বাহক আমেরিকার চারিত্রিক অবস্থার লাশ দুনিয়া এই নির্বাচনে বের হয়ে আসতে দেখেছে এবং এ তো শুরু, অচিরেই আপনাদের রবের সাহায্য ও নুসরতের ধরণ দেখতে থাকুন। আমেরিকা শুধু আফগানিস্তান থেকে পালাচ্ছে এমনটি নয়, বরং ইনশাআল্লাহ সিরিয়ায় মুসলিম উম্মতের সন্তানদের আঘাতে আমেরিকা দুনিয়ার নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে শীঘ্রই পালিয়ে যাবে। “সবার আগে আমেরিকা” এই শ্লোগান তো  এই ধারাবাহিকতার প্রথম কিস্তি; আর যদি আল্লাহ একে পুরোপুরি পাকড়াও করার ফয়সালা করে থাকেন তো আমেরিকা শুধু বিশ্বের নেতৃত্ব থেকেই পালাবেনা বরং আমেরিকার নিজের অস্তিত্বও দুনিয়ার মানচিত্রে এমনভাবে চোখে পড়বেনা যেমনটা আজ চোখে পড়ে। USA। অর্থাৎ অধিকৃত সংযুক্ত রাষ্ট্রগুলোর চেহারায় একটি দেশ উত্তর আমেরিকার মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে। এসব অধিকৃত রাষ্ট্রগুলোও একে ছেড়ে পালিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এই সেই আমেরিকা, যে ইসলামী ইমারতের উপর হামলা করার জন্য এসেছিল এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী এর কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে মুসলমানদেরকে হত্যা করা নিজেদের জন্য হালাল করে নিয়েছিল; ঐ সময় ইসলামের বিরুদ্ধে লোকদের কথা কতটা ধারালো ছিল! এখন তালেবানের ইসলামের কি হবে, এখন তাদের জিহাদের কি হবে, জিহাদের কি লাভ হল, আমেরিকার সাথে সংঘাতে লিপ্ত হওয়া কোন শরীয়তে জায়েজ? কিন্তু যাদের আল্লাহর ওয়াদার উপর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তারা ঐ সময়েও বাগরামের যুদ্ধ ময়দানে যুদ্ধ বিমানের বোমাবর্ষণের মাঝে দৃঢ় থেকে এই শ্লোগান দিচ্ছিল ھذا ما وعدنا اللہ ورسولہ, এটা ঐ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের সাথে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, তারা ঐ সময়েও বলছিল যে, আমেরিকা আত্মাহুতি দেওয়ার জন্য আফগানিস্তানে এসেছে। এসব আল্লাহর সাহায্য এবং এই উম্মতে মুহাম্মাদী (ﷺ) এর জিহাদের উপর দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকার ফল। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধেও আল্লাহ এই জিহাদের কারামাত দুনিয়াকে দেখিয়েছেন কিন্তু মিথ্যাচার ও প্রতারণার গণতান্ত্রিক বিশ্ব একে আমেরিকার সাহায্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে এবং উম্মতকে জিহাদ থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেয়েছে, কিন্তু এই আমেরিকার অপমানজনক পরাজয় কিভাবে হল? জীবিকা বিলি বন্টন করার দাবিদার আমেরিকা নিজে আজ কেন দারিদ্র্য ও দেউলিয়ায় জর্জরিত হয়ে কাঁদছে। জীবন ও মৃত্যুর বন্টন করার দাবিদার আমেরিকা আজ নিজের প্রতিরক্ষা করতে অক্ষম হয়ে গেছে, এর কেন্দ্রীয় সেনা ছাউনি বাগরামেও মৃত্যু এর পিছু ছাড়েনি। অন্তরের ব্যাধিতে ব্যাধিগ্রস্তরা জিহাদের কারামতকে যদি এখনও মেনে না নেই, সে এটাই বলবে যে এটা চীনের সাহায্য, চীন আমেরিকাকে পরাজিত করেছে। তাই এদের অন্তর জ্বলছে আর জ্বলছে এবং আর এই দহন দেখেই হয় এদের অন্তর প্রশান্ত হবে নতুবা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উম্মতের অন্তর প্রশান্ত হবে।

হে আমার ভাইয়েরা!

এই রবের সত্ত্বার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, শুধু এই এক সত্ত্বারই ইবাদত করুন, তাঁর সাথে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শরীক করবেন না, শুধু তিনি ইবাদতের যোগ্য। যেই আল্লাহ ইসলামী ইমারতের সাহায্য করেছেন, যিনি অসহায় ও দেশান্তরের পরে তাঁদেরকে সুদৃঢ় করেছেন এবং দ্বিতীয়বার শরীয়ত প্রতিষ্ঠার শক্তি দিয়েছেন, ঐ রব চিরঞ্জীব (حئی), শাশ্বত (قیوم)। যদি তোমরাও এই শরীয়ত মোতাবেক উনার শরীয়তের প্রতিষ্ঠার জন্য নিজ কিতালকে জারি রাখ, নিজেদের সারিতে একতা ও ঐক্যবদ্ধতাকে ধরে রাখ তাহলে ঐ রব অবশ্যই তোমাদের সাহায্য করবেন। ঐ রব পাকিস্তানের মুসলমানদের শরীয়তের ভালবাসা, দ্বীনের সাথে লেগে থাকা এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা শাসনব্যবস্থার সাথে যুক্ত লোকদের ভাল করে জানেন। আল্লাহর শরীয়তের সাথে যুদ্ধ করে শরীয়তের শত্রু শাসকগোষ্ঠী কোথায় আশ্রয় নিতে পারবে? কোন নতুন অথবা পুরনো সুপার পাওয়ার একে আল্লাহর মোকাবেলায় আশ্রয় দিতে পারবেনা। শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য যে কুরবানি পাকিস্তানিরা দিয়েছে, বালাকোটের আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত উম্মতের সন্তানদের যে রক্ত এই জমিনে প্রবাহিত হয়েছে, যে জুলম এই রাস্তায় আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মুসলমানরা সহ্য করেছে, ইনশাআল্লাহ এসব বৃথা যাবেনা। হক্বপন্থী উলামায়ে কেরামদের যে রক্ত এই জমিনে প্রবাহিত হয়েছে, তা অবশ্যই সুফল নিয়ে আসবে। রায়েবেরেলি ও দিল্লী থেকে চলা শুরু করে বালাকোটের উপত্যকাকে নিজেদের রক্ত দিয়ে সিক্ত করা সৈয়দ আহমাদ শহীদ (র) ও শাহ ইসমাইল শহীদ (র) এর রক্ত হোক অথবা হক্ব নেওয়াজ জংভী শহীদ (র) এবং উনার বীরদের রক্ত, ডক্টর হাবিবুল্লাহ মুখতার শহীদ (র), মুফতি নিযামউদ্দীন শামজায়ী শহীদ (র), মুফতি আব্দুল মাজেদ দ্বীনপুরি শহীদ (র), মুফতি আতিকুর রহমান শহীদ(র) এর রক্ত হোক অথবা মাওলানা আবদুল্লাহ শহীদ (র) এবং উনার পুত্র গাজী আব্দুর রশীদ (র) এর রক্ত, মানবতার জন্য উপহার শায়খ উসামা বিন লাদেন (র) এর রক্ত হোক, অনেক দীর্ঘ ও সোনালী ইতিহাস। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে উনাদের হক্ব আদায় করাও সম্ভব নয়, কিন্তু শহীদদের রব তো উনাদের সবার নাম জানেন। কত হাফেয এবং ক্বারী আছেন যারা নিজেদের বুকে রক্ষিত কুরআনকে এই দেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজেদের জীবন কুরবানি করেছেন। এঁদের রব, না নিজের ওয়ালীদের কুরবানির ব্যাপারে গাফিল, আর না তিনি জালেমদের জুলমের ব্যাপারে গাফিল, না উনি গাফিল শরীয়তের প্রতি শত্রুতার ব্যাপারে, আর না গাফিল শরীয়ত প্রতিষ্ঠার প্রতি শত্রুতার ব্যাপারে। শরীয়ত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নামে গঠিত হওয়া পাকিস্তানে শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য উম্মতের সন্তানদের কুরবানি আজও জারি আছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ‘যরবে আযব’ এর পরেও এই আবেগকে ঠাণ্ডা করতে পারেনি। শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদদের এক কাফেলার পর আরেক কাফেলা জীবন কুরবানি করে যাচ্ছে। নিজের চোখে দেখা মৃত্যুর সওদা করে যাচ্ছে। তারা জানে যে, এখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে আছে অ্যামেরিকান ড্রোন, আমেরিকার হামলা অভিযান, অ্যামেরিকান কমান্ডো, কিন্তু তাদের পা পিছলে যায়নি। وما بدلو تبدیلا অর্থাৎ তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি। তারা ‘হয় শরীয়ত, নয় শাহাদাত’ এর যে শ্লোগান দিয়েছিল, শরীয়ত প্রতিষ্ঠার যে শ্লোগান দিয়েছিল, তা থেকে পিছু হটেনি। এই অতিবাহিত সময়ে অসংখ্য মুজাহিদ নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সামনে পেশ করেছেন। ডেরা ইসমাইল খানের সাথে সম্পর্কিত আমাদের সম্মানিত ভাই উস্তাদ আলীও (র) নিজ জীবনের লম্বা সময় জিহাদে অতিবাহিত করে এই রাস্তায় শাহাদাতের শুধা পান করেন। কাশ্মীর, ইসলামী ইমারত আফগানিস্তান এবং শরীয়তের নামে অর্জিত নিজের দেশ পাকিস্তানে শরীয়ত প্রতিষ্ঠার অপরাধের জন্য পরাশক্তির টার্গেটে পরিণত হোন। একইভাবে ক্বারী আজমলকে (র) ربنا اللہ   অর্থাৎ ‘আমাদের রব আল্লাহ’ শ্লোগান দেওয়ার অপরাধে শহীদ করে দেওয়া হয়। আমাদের হক্ব উলামায়ে কেরামদের কাফেলার পথিক, আল্লাহর কিতাবের প্রত্যেক আয়াত খুলে খুলে বয়ান করার অপরাধে কারাবরণকারী, পূর্বসূরিদের সুন্নতের পুনর্জীবন দানকারী, মাওলানা ইশতিয়াক সাহেব শহীদ (র) ওরফে মাওলানা আবু মুহাম্মাদ আজমী ওরফে মাওলানা খুবাইব সাহেব (করাচী) উলামাদের সেই প্রতিশ্রুতিকে পূরণ করেছেন যা আল্লাহ উলামাদের থেকে নিয়েছেন – আল্লাহর কুরআনের কোন হুকুমকে গোপন করা যাবেনা এবং শুধু এই ব্যাপারে আল্লাহকেই ভয় পাবে, উনি ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবেনা। এই কুরবানির ঈদে আলকায়েদা উপমহাদেশের শুরা সদস্য এবং আস-সাহাব এর দায়িত্বশীল, মিডিয়ার দুনিয়ার নামবিহীন সিপাহশালার, উসামাহ ইব্রাহীম (র) ওরফে আমজাদ ভাই (ইসলামাবাদী), পাকিস্তানি বাহিনীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের জাবুলে আমেরিকার হামলায় শাহাদাতের শুধা পান করেন। আল্লাহ তাআলা উনাদের সবার শাহাদাতকে নিজ দরবারে কবুল করুন এবং উম্মতের মায়েদের গর্ভে উসামাহ ইব্রাহীমদের মত সুপুত্রের জন্ম দেন। আস-সাহাব উর্দু এবং এরপর আস-সাহাব উপমহাদেশের প্রাণ, অসংখ্য গুণের অধিকারী, এই বীরপুরুষ এমন ছিলেন যে, কয়েক মাস আগে কান্দাহারে শরীয়তের শত্রুদের চৌকিতে অসীম সাহস নিয়ে হামলা করেন এবং শত্রুদের দাঁত ভেঙে দেন।

শুধু পাকিস্তানে নয়, বরং আলহামদুলিল্লাহ্‌ পুরো উপমহাদেশে মুসলিম উম্মতের বীরেরা নিজেদের প্রিয় নবী (ﷺ) এর নিয়ে আসা শরীয়তের জন্য নিজেদের সবকিছু কুরবানি করে দিচ্ছে। নিজেদের জীবন আল্লাহর সামনে পেশ করে, দেশের গণ্ডীতে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া উম্মতের দেহকে এক উম্মতের লড়াইয়ে পরিণত করার জন্য নিজেদের শরীরকে জীর্ণশীর্ণ করে ফেলছে। ঢাকার রঙিন জীবন ছেড়ে ওয়াজিরিস্তানে হিজরত করা, আমাদের প্রিয় ভাই, তারেক ভাই (র) (সোহেল, বাংলাদেশের কাজের দায়িত্বশীল), এই আশায় কান্দাহারের মরুভূমিকে নিজের রক্ত দিয়ে সিক্ত করে গেছেন যে, বাংলাদেশের মাটিতে আবার ইসলামী শাসনব্যবস্থা ফিরে আসে। উনার সাথে উনার অন্যান্য সাথী ক্বারী আব্দুল আযিয (র) (আব্দুল হালিম), ইয়াকুব ভাই (র) (সাদ্দাম হোসেন), আসাদুল্লাহ ভাই (র) (নাজিমউদ্দিন মায়মুন) এবং আবু ইব্রাহীম ভাই (র) (সাইফুল ইসলাম হাসান), আবু বকরও (র) (অনুজ হাসিব) শাহাদাতের শুধা পান করেন। একইভাবে হায়দ্রবাদ দাক্কান থেকে আসা আমাদের প্রিয় সাথী ক্বারী উমর (র) ওরফে হাম্মাদও নিজ জাতিকে নিজের রক্ত দিয়ে জাগিয়ে তোলার জন্য, ভারতের মাটিতে ইসলামের বিজয়ের আশায়, কান্দাহারের মরুভূমিতে রবের কাছে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন। এছাড়াও গোমেল এবং অন্যান্য প্রদেশের ভেতর আমাদের অনেক প্রিয় প্রিয় সাথীরা এই রাস্তায় শাহাদাতের শুধা পান করেছেন। আল্লাহ তাদের সবার সম্পর্কে জানেন, আল্লাহ তাআলা তাদের সবার শাহাদাত কবুল করুন।

এই কথা চিন্তা করা উচিত যে, এই সব শাহাদাত আফগানিস্তানে আমেরিকার হামলা অভিযানের সময় হয়েছে। এ থেকে এ কথা বোঝা যায় যে, আমেরিকাও চায়না পাকিস্তানে শরীয়ত প্রতিষ্ঠা হোক। সে প্রত্যেক অবস্থায় শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করাকে বন্ধ করতে চায় আর এরই ধারাবাহিকতায় সে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করছে। এ থেকে এ কথাও বোঝা যেতে পারে যে, দুনিয়া জুড়ে কুফর ও ইসলামের মাঝে যে যুদ্ধ জারি আছে, সেটা জীবনব্যবস্থার যুদ্ধ, ইসলামী জীবনব্যবস্থা বনাম গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থার যুদ্ধ। শরীয়তের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সব দেশভিত্তিক রাষ্ট্র একই অবস্থানে – যারা শরীয়ত চায়, তাদেরকে তছনছ করতে হবে, তাদের অস্তিত্বকে শেষ করে দিতে হবে, তাদেরকে নিজ নিজ দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। আমেরিকা হোক অথবা ইসরায়েল, আফগানিস্তানের মুরতাদ সেনাবাহিনী হোক অথবা মিশরীয় সেনাবাহিনী, ভারত হোক অথবা শরীয়তের নামে হওয়া পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, শরীয়ত প্রতিষ্ঠাকে সবাই এভাবেই ঘৃণা করে, সবাই একইরকম, সবার চেষ্টাই হল যেভাবেই হোক নিজেদের দেশে শরীয়ত প্রতিষ্ঠিত না হোক। নিজস্ব গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করতে এরা সবকিছু করতে প্রস্তুত। এজন্যই তারা একজন আরেকজনকে সাহায্য করে যাচ্ছে, কাজের বিনিময় হচ্ছে, কিন্তু এরা জানেনা যে, আল্লাহর পরিকল্পনাই বিজয়ী হয়, (لیمیز اللہ الخبیث من الطیب ویجعل الخبیث بعضہ علی بعض), যাতে আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে আলাদা করেন এবং সমস্ত অপবিত্রকে একত্রিত করেন এবং একইসাথে পুনরুত্থিত করেন। এরা যতই চাক মিথ্যাচার, প্রতারণা ও কপটতা করুক, এ যুদ্ধ এরা হেরে গেছে। বাস্তবতা এই যে, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এবং এর রক্ষক শক্তিগুলো, হোক তা বৈশ্বিক বা স্থানীয়, যুদ্ধ হেরে গেছে। এরা যে জীবনপদ্ধতির রক্ষক, যে লাইফ স্টাইলের রক্ষক, যে জীবনব্যবস্থার রক্ষক ইনশাআল্লাহ তা অবশিষ্ট থাকবেনা। এটা ধ্বসে পড়বেই, বিলুপ্ত হয়ে যাবেই। দেশভিত্তিক জাতিতে বিভক্ত উম্মত এখন এক উম্মত হয়ে যাবে। এই উম্মতকে এখন দাবিয়ে রাখা যাবেনা। বৈশ্বিক কুফরি শক্তি এবং এর স্থানীয় এজেন্ট, এই উম্মতকে রাহমাতুল লিল আলামিন (ﷺ) এর নিয়ে আসা জীবনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করা থেকে থামিয়ে রাখতে পারবেনা। যেই উম্মতের মায়েরা নিজেদের কলিজার টুকরাকে নিজে তৈরি করে যুদ্ধের ময়দানে পাঠাতে থাকে, বোনেরা শহীদ ভাইদের শাহাদাতকে নিজেদের জন্য মর্যাদা মনে করে, বাবা-চাচারা নিজেদের রক্তের উপর এজন্য গর্ব করতে থাকে যে তাঁদের বীর যুবকেরা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনা শরীয়তের জন্য কুরবানি হয়েছে, আল্লাহর কসম এমন উম্মতকে এখন আর দাস বানিয়ে রাখা যাবেনা। এই উম্মতকে এখন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনা জীবনব্যবস্থা থেকে ঠেকিয়ে রাখা যাবেনা। হতে পারে কোথাও কাল, কোথাও পরশু, কোথাও কিছুদিন পরে, কিন্তু এই উম্মত এক উম্মত হয়ে যাবেই এবং ইংরেজদের এজেন্ট, সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ট, কুফরের এজেন্ট হীন ও অপমানিত হবেই। এই উম্মতকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনা জীবনব্যবস্থা থেকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

কাজেই আমার মুজাহিদ ভাইয়েরা!

নিজেদের এই শহীদ ভাইদের রক্তের প্রতি বিশ্বস্ততা দেখানো এবং আল্লাহর কাছে কৃত ওয়াদাকে প্রত্যেক অবস্থায় পূরণ করার সফলতা শুধু তাদের জন্য যারা এই সওদা করার পরে এর উপর নিজের জীবন কুরবানি করে যায়। কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছ! আরে তোমরা উদ্বিগ্ন কেন হচ্ছ, তোমাদের প্রত্যেক চোখের পলক, প্রত্যেক নিঃশ্বাস, তোমাদের দুইটি সফলতার একটির কাছে নিয়ে যাচ্ছে –

إماالفتح و إماالشھادہ إحدی الحسنیین

দুইটির মধ্যে একটি সফলতার দিকে হয় বিজয় না হয় শাহাদাত, প্রত্যেক অতিবাহিত চোখের পলক, প্রত্যেক অতিবাহিত রাত, প্রত্যেক অতিবাহিত নিঃশ্বাস তোমাদেরকে দুইটি সফলতার একটির কাছে নিয়ে যাচ্ছে। যদি তুমি কারাগারে হও, যদি তুমি সেলে হও, যদি তুমি স্বাধীন হও, যদি তুমি বোমাবর্ষণের ভেতরে হও, যদি ড্রোনের ছায়া তোমাদের মাথার উপরে হয়, যতই সমস্যার মধ্যে তোমরা থাকনা কেন, বিশ্বাস রাখ! তোমরা দুইটি সফলতার মধ্যে একটির দিকে অগ্রসর হচ্ছ। যদি তোমরা এই রাস্তার উপর চলতে থাক, নিজের রবের সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করে যাও, নিজ রবের সাথে যে সওদা করেছ, তা পূরণ কর, তাহলে তোমরা প্রত্যেক অবস্থায় সফল, তোমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কি দরকার? শরীয়তের শত্রুসেনাদের এমন দাপটের সাথে ঘোরাঘুরি, শরীয়ত চাওয়ার অপরাধে তোমাদের বাসার উপর বোমাবর্ষণ, তোমাদের মেয়েদের গ্রেফতার করে টর্চার সেলে ছুঁড়ে ফেলা, এসব দেখে নিজ রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা। শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য কিতালকারীদের মোকাবেলায় আমেরিকা এবং তার সব জোট ইনশাআল্লাহ এমন অপমানিত হবে যেমন আমেরিকা অপমানিত হচ্ছে। রুটির টুকরোর জন্য তাদের বংশধরেরা ভিক্ষা করবে। মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উম্মত সম্মান পাবে, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা দ্বীন বিজয়ী হবে, (الإسلام یعلوا ولا یعلی) অর্থাৎ ইসলাম এই দ্বীন বিজয়ী হয়ে টিকে থাকবে, এখন এটা পরাজিত হতে পারেনা। উম্মত জেগে উঠেছে, পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ, এই উম্মত একসাথে ঐক্যবদ্ধ হবে। দ্বীনি শক্তি, ইসলামী শক্তি বিজয়ী হবে। কুফরি শক্তি, সেকুল্যার শক্তি এবং মুনাফিক শক্তি অপমানিত ও হীন হয়ে থাকবে, নিজেদের চোখে ইনশাআল্লাহ তোমরা এটা দেখবে।

হে আল্লাহর রাস্তায় জীবন উৎসর্গকারীরা! তোমরা শোকাহত কেন হচ্ছ, উদ্বিগ্ন কেন হচ্ছ? তোমাদের রব তোমাদের সুসংবাদ শোনাচ্ছেন, তোমাদের সত্য কুরআন তোমাদের সান্ত্বনা দিচ্ছে,

ولا تھنوا ولا تحزنوا

অর্থাৎ “আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখ করো না”, আরে তোমরা দুর্বল হয়োনা, শাহাদাতের খবর শুনে শুনে, গ্রেফতারের খবর শুনে শুনে, হামলা অভিযানের খবর শুনে শুনে, নিজেদের লোকসানের খবর শুনে শুনে … আজ অমুক শহীদ হয়ে গেছে, আজ অমুক গ্রেফতার হয়ে গেছে, আজ অমুক শহীদ হয়ে গেছে, আজ এত সাথী শহীদ হয়ে গেছে। ইসলামী ইমারতের ইতিহাসের কথা মনে কর, আফগানিস্তানের জিহাদের কথা মনে কর, এই জাতি কত কুরবানি দিয়েছে, নিজেদের দেশে ইসলাম নিয়ে আসার জন্য মুহাম্মাদ (ﷺ) এর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা শরীয়তকে বিজয়ী করার জন্য, কিন্তু আজ একবার দেখ – গ্রামের পর গ্রামে, বসতির পর বসতিতে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর দ্বীন বিজয়ী। আমেরিকা এবং এর এজেন্ট, শরীয়তের প্রতি ঘৃণা পোষণকারীরা, শরীয়ত প্রতিষ্ঠার পথে বাঁধা প্রদানকারীরা হীন ও অপমানিত হচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাই মিলছেনা, কেউ দিল্লীতে যেয়ে আশ্রয় নিচ্ছে, কেউ পেশাওয়ার যেয়ে আশ্রয় নিচ্ছে, কেউ ইসলামাবাদ যেয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। আফগানিস্তানে তাদের জন্য জায়গা নেই। আল্লাহ নিজের শরীয়তকে বিজয়ী করেছেন, এই কুরবানির পরে, লাখো শহীদের কুরবানির পরে, আল্লাহ এই শরীয়তকে এই দুনিয়ার উপর বিজয়ী করেছেন। কাজেই তোমরা উদ্বিগ্ন হয়ো না, দুর্বল হয়ো না আর দুশ্চিন্তা করোনা, তোমরাই বিজয়ী হবে, وأنتم الأعلون  إن کنتم مؤمنین যদি তোমাদের জিহাদ আল্লাহর বলে দেওয়া পদ্ধতি মোতাবেক থাকে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বলে দেওয়া পদ্ধতি মোতাবেক জারি থাকে, না তোমরা দুর্বল হবে, না পিছু হটবে, না কাপুরুষতা দেখাবে আর না জীবন দেওয়া থেকে ঘাবড়িয়ে যাবে, ولا تھنوا ولا تحزنوا وأنتم الأعلون إن کنتم مؤمنین অর্থাৎ আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখ করো না, তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। দুনিয়া তোমাদের পায়ের তলে। দুনিয়ার শাসনক্ষমতা তোমাদের হাতে দেওয়ার মালিক আল্লাহ, দুনিয়ার নেতৃত্ব তোমাদের হাতে শীঘ্রই আসবে। আমরা না থাকি, এই উম্মতের ছেলেরা, এই উম্মতের সন্তানেরা ইনশাআল্লাহ ইসলামের বসন্ত দেখবে, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর শরীয়তকে বিজয়ী হতে দেখবে। মুহাম্মাদ (ﷺ) এর এই উম্মতকে সম্মানের অধিকারী, সুউচ্চ অবস্থানে দেখা যাবে এবং ইসলামের শত্রু অপমানিত হবে, ইসলামের শত্রু পরাজিত হবে। এই সময় কাছাকাছি এসে গেছে, তোমরা নিজ চোখে দেখছ আল্লাহ তাআলা বিজয়ের ধারাবাহিকতা খুলে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ওয়াজিরিস্তানের পর আল্লাহ তাআলা পাকিস্তানের মুজাহিদদের জন্য পুরো আফগানিস্তান খুলে দিয়েছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা পুরো জমিন মুহাজিরদের আবাসস্থল বানিয়ে দিয়েছেন। ওখানে আল্লাহর এই সিংহরা ইসলামী ইমারতের সাথে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে যুদ্ধ করছে, জীবন উৎসর্গ করছে, বিজয়ে অংশ নিচ্ছে, আল্লাহ তাদের গনিমত দিচ্ছেন, এই সময়ের মধ্যে আল্লাহ মুহাজিরদেরকে, পাকিস্তানি মুহাজিরদেরকে, তুর্কিস্তানি মুহাজিরদেরকে, আরব মুহাজিরদেরকে আল্লাহ এত গনিমত দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ আল্লাহ তাআলা সবদিক থেকে বিজয় দান করছেন। আল্লাহ তাআলা এই জমিনের মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী করবেন। আল্লাহ তাআলা এই জমিনের মাধ্যমে পাকিস্তানি মুজাহিদদের, পাকিস্তানি মুহাজিরদের বিজয়ী করবেন, আল্লাহ তাআলা ইনশাআল্লাহ এই জমিনের মাধ্যমে অন্যান্য মুহাজিরদের বিজয়ী করবেন। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। ھنالک ابتلی المومنون, আল্লাহ নিজে ঘোষণা করেছেন যে পরীক্ষা করা হয়েছে, সাহাবাদের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছে যাদের অন্তরে তাকওয়া ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি, اولئک الذین امتحن اللہ قلوبھم للتقویٰ  অর্থাৎ তারা হল ঐসব লোক যাদের অন্তরকে আল্লাহ তাক্বওয়ার জন্য শোধিত করেছেন। এরপরে ঘোষণা হচ্ছে – ھنالک ابتلی المومنون وزلزلوا زلزالاً شدیدا  অর্থাৎ সে সময়ে মুমিনরা পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।

হে রাহমাতুল লিল আলামিন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর শরীয়তের জন্য জীবন উৎসর্গকারীরা! হে এই ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য নিজ ঘরবাড়ী ত্যাগকারী! এবং নিজ সন্তানদেরও নিজের সাথে নিয়ে ভ্রমণকারীরা! হে গৃহহীনেরা! উদ্বিগ্ন হয়ো না, ঘাবড়িয়ে যেওনা, ھنالک ابتلی المومنون  وزلزلوا زلزالاً  شدیدا   অর্থাৎ মুমিনরা এভাবে পরীক্ষিত হয় এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়; কিন্তু এরপরেই متیٰ نصر اللہ অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য কিভাবে আসবে তা উপলব্ধিতে আসে, ألا إن نصراللہ قریب، ألا إن نصراللہ قریب، ألا إن نصراللہ قریب  অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী। আল্লাহর আয়াতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখ, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর প্রতিশ্রুতির উপর ইয়াক্বীন রাখ, তোমরাই বিজয়ী হবে, তোমাদের দ্বীনই বিজয়ী হবে, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর জীবনব্যবস্থাই বিজয়ী হবে। কাজেই এই রাস্তার উপর দৃঢ় থাক, আল্লাহর কাছে চাইতে থাক, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ট করতে থাক এবং উনার কাছে চাইতে থাক। নিশ্চিত জেনে রাখ! আল্লাহর সাহায্য শীঘ্রই আসবে। নিশ্চিত জেনে রাখ! আল্লাহর সাহায্য শীঘ্রই আসবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের শরীয়তের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গকারী বানিয়ে দিন, আল্লাহ তাআলা এই শরীয়তের রাস্তায় আমাদের জীবনকে কবুল করেন এবং নিজ দ্বীনকে বিজয়ী করেন, নিজ হাবিব (ﷺ) এর নিয়ে আসা শরীয়তকে এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর বিজয়ী করেন।

আর আমাদের সর্বশেষ বাণী হল সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

জমাদিউস সানী ১৪৩৮ হিজরী

x

Check Also

অচিরেই আসছে… || কাশ্মীরকে ভুলে যেও না! -শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ || [বাংলা ডাবিং ও সাবটাইটেল]

অচিরেই আসছে… আন নাসর মিডিয়া পরিবেশিত শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা কাশ্মীরকে ভুলে ...