সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / অডিও ও ভিডিও / ‘আন-নাসর’ পরিবেশিত শাইখুল মুজাহিদ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর স্মরণে -শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ
‘আন-নাসর’ পরিবেশিত শাইখুল মুজাহিদ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর স্মরণে -শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ

‘আন-নাসর’ পরিবেশিত শাইখুল মুজাহিদ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর স্মরণে -শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ

‘আন-নাসর’ পরিবেশিত
শাইখুল মুজাহিদ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর স্মরণে
-শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ

‘আন-নাসর’ পরিবেশিত শাইখুল মুজাহিদ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর স্মরণে -শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ

বাংলা ডাবিং ভিডিও ডাউনলোড লিঙ্ক
https://archive.org/download/JalalUddinHaqqaniconverted/jalal%20uddin%20haqqani%20%28converted%29.mp4

বাংলা ডাবিং অডিও ডাউনলোড লিঙ্ক
https://archive.org/download/JalalUddinHaqqani_201906/jalal%20uddin%20haqqani%20.mp3

পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক
https://archive.org/download/JalalUddinHaqqani_201906/jalaluddin%20hakkani.pdf

ওয়ার্ড ডাউনলোড লিঙ্ক
https://archive.org/download/JalaluddinHakkani/jalaluddin%20hakkani.docx

অনলাইনে পড়ুন ও ছড়িয়ে দিন
https://justpaste.it/3kr0g

আরও ডাউনলোড করুন
mp4 (فيديو)

http://www.mediafire.com/file/1qlollj301es8mh/jalal_uddin_haqqani.mp4/file

PDF (بي دي اف)

http://www.mediafire.com/file/kdv2ymxf5vomfi9/jalaluddin_hakkani.pdf/file

mp3 (صوتي)

http://www.mediafire.com/file/g1cg8vw9eeo46sd/jalal_uddin_haqqani_.mp3/file

——————-

আন-নাসর‘ পরিবেশিত

 শাইখুল মুজাহিদ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর স্মরণে

শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ

*********************

 

বীর মুজাহিদ সিংহপুরুষ, যোগ্য সিপাহসালার শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. সম্পর্কে শাইখ আব্দুল্লাহ আজ্জাম রহ. এর কিছু বক্তব্য

‘আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর কাছে চলমান যুদ্ধ সম্পর্কে একটি চিঠি পাঠালেন। পত্রের মাধ্যমে তিনি জালালুদ্দিন হক্কানি রহ.-কে প্রস্তাব দিলেন যে, শহর ও গ্রাম-গঞ্জের রাস্তাগুলো আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দাও। বিনিময়ে তুমি যা চাও, তা দেবো, তোমাকে ক্ষমা করে দেবো, বাক্কার বন্দীদেরকে মুক্ত করে দেবো। আমরা সকলেই মুসলিম। কিন্তু কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আমি কিছুই করতে পারব না। আর যদি তুমি আমার সাথে বৈঠকে রাজি হও, তাহলে তোমার খাতিরে আমি একশ বন্দীকে মুক্ত করে দেবো। জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. একটি দীর্ঘ পত্র লিখে এসবের প্রত্যুত্তরে বললেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ (২)

كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ (৩)

“হে ইমানদারগণ, তোমরা কেন এমন কথা বলো, যা তোমরা করো না? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।” (সুরা আস সাফ, আয়াত নং ২-৩)

তারপর তিনি বললেন, “আমি দুটি শর্তে তোমার সাথে বৈঠকে রাজি হবো। এক. তোমাকে অবশ্যই কমিউনিস্টদের ত্যাগ করতে হবে। দুই. রুশদের ধ্বংস করতে হবে। কারণ আমি মর্যাদাহীন ব্যক্তিদের সাথে বসতে রাজি নই।”

একটু ভেবে দেখুন! একদিকে একজন রাষ্ট্রপ্রধান। অপরদিকে একজন সাধারণ মৌলভি জালালুদ্দিন হক্কানি। তিনি আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন মাত্র। কিন্তু এ জিহাদের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে মর্যাদার এমন এক স্তরে সমাসীন করেছেন যে, পৃথিবীর বিভিন্ন বৈশ্বিক নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁর কাছে চিঠি লেখে। হাঁ! এমনই একজন মৌলভির কথা বলছি এখানে, যিনি দীর্ঘ দশ বছরেরও অধিক সময় জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত করেছেন। জিহাদ তাঁদের জলন্ত আঙ্গারে পরিণত করেছে, তাঁদের বড় ও মর্যাদাবান বানিয়ে দিয়েছে। যা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. কর্তৃক বর্ণিত খোস্ত বিজয়ের কিছু স্মৃতিময় ঘটনা

রণকৌশল-বিষয়ক অবস্থা

নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লি আলা রাসুলিহিল কারিম।

আপনারা সকলে ভালো করেই জানেন যে, খোস্ত অঞ্চলটি সামরিক বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এটি নাস্তিক্যবাদী সরকার ও রুশদের ঘাঁটি ছিল। এখানে এমন অনেক রাস্তা ছিল, যেগুলো দিয়ে খোস্ত শহর থেকে মুহাজিরদের শিবির, বিভিন্ন গোত্র ও পাকিস্তানে সহজে যাতায়াত করা যেত। বিভিন্ন ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে পাকিস্তানে যেতেও এই রাস্তাগুলো ছিল বেশ সুবিধাজনক। ডাকাত ও সন্ত্রাসরা এ পথ দিয়ে মুহাজির ও মুজাহিদদের আফগানিস্তানে প্রবেশে বাধা প্রদান করত। কারণ খোস্ত ও পাকিস্তানের মাঝে যোগাযোগের মতো প্রায় ১১ টি রাস্তা ছিল। যা ছিল ট্যাংক ও বিভিন্ন গাড়ি চলাচলের রাস্তা। আর খোস্তের অধিকাংশ গোত্র রুশ ও নাস্তিক্যবাদী হুকুম বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত ছিল। সর্বোপরি খোস্ত শহরটি ছিল মুজাহিদদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা।

খোস্তের রাস্তাগুলোর ওপর দখলদারিত্ব অর্জন

খোস্ত বিজয়ের জন্য প্রথমে আমরা সেই রাস্তাটি দখলে নিলাম, যেটি খোস্ত থেকে গারদিজ এবং গারদিজ থেকে কাবুলের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। আমরা এই রাস্তাটি ১৯৭৯ সাল থেকে প্রায় ১২ বছর দাপটের সাথে দখলে রাখি। এই বারো বছরের মধ্যে শুধু একবার রুশশক্তি চার হাজার রাশান সেনা ও পনেরো হাজার দেশীয় সেনার এক বিশাল বাহিনী নিয়ে খোস্ত উদ্ধারের জন্য রাস্তাটির দখল নিতে সক্ষম হয়। অবশ্য তারা ২২ দিনের বেশি টিকে থাকতে পারেনি। পুনরায় মুজাহিদগণ তা দখলে নিয়ে নেন।

বিভিন্ন বিমানবন্দরে রাতদিন বোমাবর্ষণ

তারপর আমরা বিমানবন্দর দখল করার অভিযান শুরু করলাম। এ জন্য আমরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রবল আক্রমণ চালাতে থাকলাম। ফলে রাতেও স্বাভাবিকভাবে কোনো বিমান ওঠানামা করতে পারেনি। এতে অনেক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল।

খোস্তের অবরোধকে আরও কঠোর করা হয়েছে

ফলে বেশিরভাগ সময় রাতের বেলায়ও শত্রুরা পাকিস্তান থেকে তাদের রসদপত্র ও খাদ্যসামগ্রী আনতে সক্ষম হয়নি। এটা ছিল মুজাহিদদের তৃতীয় সামরিক পদক্ষেপ। এরপর মুজাহিদগণ সহজেই পরবর্তী পদক্ষেপে অগ্রসর হতে পেরেছেন।

খোস্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও অফিস-আদালত বিজয়

মুজাহিদগণ ট্যাংক ও কামানের মাধ্যম খোস্তের একটি বড় শহরের ওপর আক্রমণ করলেন। সেখানে কাফিরদের বিভিন্ন সেনাদল ও মোসাদের বাহিনীও উপস্থিত ছিল। সেটি ছিল তাদের জন্য একটি নিরাপদ শহর। মুজাহিদদের গাড়ি নিয়ে প্রবেশের রাস্তাগুলো কেটে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তাঁরা সেই অঞ্চলটি দখল করে নেন এবং শত্রুদের কাছ থেকে অনেক ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র গনিমত লাভ করেন।

খোস্তের সামরিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মালভূমির ওপর দখলদারিত্ব

বিগত বছর প্রায় ১৩ মাস আমরা তুরগানে অবরুদ্ধ ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা তুরগান দখল করে নিয়েছি; যদিও সেখানে তাদের অনেক সুবিধাজনক অবস্থান ছিল।

উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের অংশগ্রহণ

সেখানে মুজাহিদদের অনেক কষ্টের স্বীকার হতে হয়েছে। অনেকেই শহিদ হয়েছেন। অনেকেই আহত হয়েছেন।

দোয়া মুমিনের অস্ত্র।

চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে যদিও আমাদের অভিযানের দিনটি ছিল শুক্রবার। তথাপি মানুষজন যেন অন্যত্র সরে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করেছিলাম। এ সময় আমরা কোনো আক্রমণ করিনি; বরং জুমার নামাজে আমাদের জন্য দোয়ার আবেদনও করেছি লোকজনের নিকট।

তাদের প্রথম পরিকল্পনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে

কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অতি দ্রুতই শত্রুদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিয়েছেন। ফলে আমরা তাদের প্রথম পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে সক্ষম হই। তারা তাদের ট্যাংকগুলো সহকারে পূর্ব, দক্ষিণ ও উত্তরের অধিকাংশ এলাকা থেকে সরে গেল। এভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে কয়েক জন মুজাহিদ কুকারকা এলাকায় হামলা করেছিলেন। কেননা, কুকারকা ছিল সামরিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।

যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ

তাদের প্রথম পরিকল্পনা অকেজো করে দেওয়ার পর নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আমরা যুদ্ধ থেকে বিরত রইলাম। তারপর নতুন বিমানবন্দর ও পুরাতন বিমানবন্দরে আক্রমণের জন্য আমরা আমাদের মজলিসে শুরার শরণাপন্ন হলাম।

গুজবের সম্মুখীন

একপর্যায়ে শত্রুবাহিনী চতুর্দিক থেকে আমাদের ঘিরে ধরল। ফলে আমরা নতুন পরিকল্পনার জন্য দুদিন যুদ্ধ থেকে বিরত থাকলাম। অথচ সারা দুনিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বলতে শুরু করল যে, মুজাহিদরা আক্রমণের সামনে টিকতে না পেরে যুদ্ধ থেকে সরে গিয়েছে। বিবিসি প্রচার করতে লাগল, মুজাহিদরা থেমে গেছে, তারা ব্যর্থ হয়ে পড়েছে, শত্রুবাহিনী রাতের বেলা তাদের ওপর হামলা করছে, বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করছে। ফলে তারা সম্মুখে অগ্রসর হতে পারছে না। তারা এমন অনেক বানোয়াট খবর প্রচার করতে থাকল। এমনকি মুজাহিদদের কেউ কেউ বলছিল যে, আমরা ইদুল ফিতরের পর পুনরায় যুদ্ধ শুরু করব। সাধারণ লোকদের মধ্যে অনেকেই বলতে লাগল যে, মুজাহিদরা যুদ্ধ ছেড়ে দিয়েছে। কিছু লোক এসে বলছিল, ‘কেন আপনারা যুদ্ধ বর্জন করেছেন! দ্বিতীয় যুদ্ধ কখন শুরু করবেন?’ কমান্ডারদের থেকেও কেউ কেউ এমন মন্তব্য করেছে যে, আমরা ইদুল ফিতরের পর যুদ্ধ করব। তার কথায় আমি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বললাম, ‘আপনি কীভাবে এমনটা ভাবছেন যে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ আমাদের কারও হাতে?’ আমি তাকে বললাম, ‘যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহ তাআলার হাতেই।’ তিনি বললেন, ‘হাঁ! তাই।’

মুজাহিদদের সাথে আল্লাহর সাহায্য

একদিন আমি ট্যাংক চালনায় নিয়োজিত ভাইদের নিয়ে ভাবছিলাম। তারা আমাদের এই মর্মে সংবাদ দিয়েছিল যে, আমাদের গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেছে। আমাদের জন্য গোলাবারুদ পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। আর সম্মুখে অবস্থানরত মুজাহিদগণ দুর্গের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। কারণ সেখানে শত্রুবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। তারা চাচ্ছিল, ট্যাংক-বাহিনী গোলা নিক্ষেপ করুক, তারপর আমরা প্রবেশ করব। এমন করুণ পরিস্থিতিতে আমি আমাদের আশপাশের গোলাবারুদের গুদামগুলোতে তল্লাশি করলাম। কিন্তু একটি গোলাবারুদও পেলাম না। দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে খবর পাঠালে তারা জানাল, ‘আমরা তিন ঘণ্টা পর আপনাদের কাছে গোলাবারুদ পৌঁছাতে পারব ইনশাআল্লাহ।’ কিন্তু এখানে সমস্যা ছিল যে, তিন ঘণ্টার মধ্যে রাতের আধারে সব অন্ধকারে ছেয়ে যাবে। ফলে আজ আর মুজাহিদগণ ট্যাংক ব্যবহার করতে পারবেন না।

আসরের নামাজের প্রায় বিশ মিনিট পর একটি বিমান আসলো। আমরা ভেবেছিলাম, সেখান থেকে হয়তো আক্রমণ চালাবে। কিন্তু বিমান থেকে কতগুলো প্যারাসুট বের হলো। এই স্থানটি গতকাল পর্যন্ত শত্রুদের হাতে ছিল। কিন্তু আজ তা মুজাহিদদের দখলে। তাই প্যারাসুট-বাহিনী জানত না যে, এখানে বর্তমানে মুজাহিদগণ অবস্থান করছেন। তারা মুজাহিদদের সামনে প্যারাসুটগুলো নামিয়ে দিল। মুজাহিদগণ সেগুলো অনুসন্ধান করে দেখলেন, এগুলো সব গোলাবারুদে ভর্তি। অতঃপর মুজাহিদগণ তাঁদের ট্যাংক-বাহিনীর কাছে গাড়ি পাঠিয়ে গোলাবারুদগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য সংবাদ দিলেন। অবশেষে দেখা গেল, এখানে যেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল, সেগুলো খোস্ত বিজয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে গিয়েছে।

একের পর এক মুজাহিদদের বিজয়

মুজাহিদগণ এর প্রায় পনেরো দিন পর বিমানবন্দরের পূর্ব, দক্ষিণ, উত্তর ও উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থান নিলেন। আমাদের ধারণা ছিল, মুজাহিদগণ পুরাতন বিমানবন্দর দখল করার পর নতুন বিমানবন্দর দখল করে নেবেন। এ জন্য আমরা বিভিন্নভাবে লেখালেখির মাধ্যমে এবং উচ্চ আওয়াজে ঘোষণা করেছি যে, তোমাদের জন্য এখন আর পলায়নের কোনো পথ নেই। না স্থলপথ না আকাশপথ। কোনো পথই নেই। এখন তোমাদের উচিত মুজাহিদদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করা। আমরা কিছু শর্তের ভিত্তিতে তোমাদের সন্তান-সন্তুতি, পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-পুত্র, ধন-সম্পদ ইত্যাদি সকল কিছুর সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।

আমাদের ইচ্ছা ছিল যখন তারা আমাদের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করবে, তখন তাদের কাছে শর্তগুলো পেশ করব। কিন্তু আমাদের এই প্রস্তাবে তারা কোনো সাড়া দেয়নি। যখন আমরা বিমানবন্দর দখল করতে শুরু করলাম, তখন তাদের এই প্রস্তাব দেবো ভেবেছি। এ জন্য যে, হয়তো তারা আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে মুজাহিদগণ নতুন বিমানবন্দরে পৌঁছে যান। এরই মধ্যে তাঁরা প্রায় ছয়টি সেনাচৌকির কাছে পৌঁছে যান। অতঃপর একই সাথে ধারাবাহিকভাবে তাঁরা প্রায় উনিশটি সেনাচৌকির কাছে চলে যান। এ সময় কিছু মুজাহিদ ভাই শহরের একেবারে কাছাকাছি চলে যান। ফলে আত্মসমর্পণ করতে বলার আগেই তারা পালাতে শুরু করে।

শত্রুদের পরাজিত করার পর মুজাহিদদের সাহায্য

এ সময়ও মুজাহিদদের কঠিন অবরোধের মুখে পড়তে হয়েছে। তারা প্রায় ছয়শ সৈন্য ট্যাংক নিয়ে আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুজাহিদদের চারদিক থেকে ঘিরে রাখল। উভয়পক্ষের মাঝে নানান বাক্য বিনিময় হচ্ছিল। তারা বিভিন্ন খারাপ ভাষায় আমাদের গালি দিচ্ছিল। এই সময় আমি তাদের আত্মসমর্পণের কথা বললে তারা বলল, ‘মুজাহিদরা আমাদের নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণের অনুমতি দিচ্ছে না।’ অবশেষে অনেক বাক-বিতণ্ডার পর মুজাহিদদের দুজন ব্যক্তি তাদের অভ্যন্তরে গেলেন। তাদের এই শর্ত দিলেন যে, তারা অস্ত্র রেখে সাদা পতাকা উত্তোলন করবে এবং তারা মুজাহিদদের নিরাপত্তায় চলে যাবে। অতঃপর তারা আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবির দিতে লাগল। এতে মুজাহিদগণও তাদের কোনো বাধা দেননি।

উভয় দলই পাশাপাশি চলছিল। মুজাহিদগণ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইসলাম জিন্দাবাদ, মুজাহিদিন জিন্দাবাদ ইত্যাদি। সাথে সাথে তারাও বলছিল, ‘ইসলাম জিন্দাবাদ, মুজাহিদিন জিন্দাবাদ।’ তারা এমনও বলছিল যে, হক্কানি জিন্দাবাদ। এই জাহিলগুলো এমনও বলে ফেলেছিল যে, আল্লাহ জিন্দাবাদ। এ কথা শুনে মুজাহিদগণ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘এটা কী বলছ তোমরা?!’ তারা বলল, ‘এটা একটা ভালো কথা। যখন বলি, ইসলাম জিন্দাবাদ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন্দাবাদ, তখন তোমরা খুশি হও; আর যখন এ কথা বলি, তখন তোমরা রাগান্বিত হও!’

শহর ও শহরের ঘর-বাড়িগুলোকে কুফরির নিদর্শন থেকে পবিত্রকরণ

ঘর-বাড়ি, লাইব্রেরি ইত্যাদি সকল জায়গায় কোনো না কোনো ছবি বা মূর্তি ঝুলানো ছিল। একটা ঘরে দেখলাম, কুরআন শরিফ নিচে রাখা আর তার ওপরে নারীর একটি ছবি ঝুলানো। প্রত্যেক বাড়িতেই এমন কিছু না কিছু ছিল। ঘরে ঘরে ছিল মদের বোতল আর গান-বাজনার যন্ত্র। মুজাহিদগণ লজ্জার কারণে নগ্ন, অর্ধ-নগ্ন নারীদের পোষ্টারগুলো ছিড়তে পারছিলেন না, তাই তারা চোখ বন্ধ করে সেগুলো উঠাচ্ছিলেন।

বন্দীদের সাথে মুজাহিদদের আচরণ

আমরা তাদের বন্দী করার পর এই ওয়াদা নিয়েছি যে, ভবিষ্যতে তারা আর কখনো শত্রুবাহিনীর সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে না, আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না। তাই আমরা তাদের পূর্বের কৃতকর্মের কারণে সুবিধা অনুযায়ী একেক জনকে একেক জায়গায় রাখার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে কিছু যুবক ছিল, যাদের বয়স সম্ভবত ১৫ বা ১৬ হবে। যেহেতু তারা আমাদের বিরুদ্ধে আর যুদ্ধ না করার অঙ্গীকার করেছে, তাই আমরা তাদেরকে তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছি।

আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় ও সাহায্য অতি নিকটে

অবশেষে খোস্ত বিজয়ের সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এমনকি মুক্তিপ্রাপ্ত শত্রুরাও এই সংবাদ প্রচার করতে লাগল। যখনই আমরা মানুষের কাছ থেকে খোস্ত বিজয়ের খোশখবর শুনি, তখন নিজের কাছে যে কতটা আনন্দ অনুভূত হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পরিশষে আমরা এটাই বলব, এই বিজয় আল্লাহর ইচ্ছায় ও অনুগ্রহেই হয়েছে।

শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর সম্পর্কে শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ’র বক্তব্য-

বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ…।

মুজাহিদদের অহংকার মাওলানা জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর ইন্তেকালে আমিরুল মুমিনিন মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দাজাদাহ, মজলিসে শুরা ইমারাতে ইসলামিইয়্যার সকল দায়িত্বশীল ও মুজাহিদদের প্রতি এবং শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর পরিবারবর্গের প্রতি আল কায়দা এবং বিশেষ করে আমার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং আমাদেরকেও তাঁর সাথে উত্তমভাবে যুক্ত করুন।

বীর মুজাহিদ শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর ইন্তেকাল অবশ্যই সকল মুজাহিদ, মুহাজির ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় বিষয়। কিন্তু তাঁর উত্তম জীবনাদর্শ, ইমারাতে ইসলামিয়া ও জিহাদের প্রতি তাঁর কুরবানি, মুহাজির ও অসহায়দের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও তত্ত্বাবধান অবশ্যই মুজাহিদদের জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন শাইখ জালালুদ্দিন হক্কানি রহ. এর গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন; জিহাদের জন্য তাঁর ত্যাগ ও নেকআমলগুলোকে কবুল করে নেন; তাঁর রিবাত ফি সাবিলিল্লাহ, হিজরত ও দ্বীনের পথে তাঁর দৃঢ়তা—এ সবকিছু কবুল করে নেন। তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সন্তান মোল্লা সিরাজুদ্দিন হক্কানি রহ.-কে যেন আল্লাহ তাআলা ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করেন।

হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দা জালালুদ্দিন হক্কানি আপনার দ্বীনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছে। আর আপনি তো সবচেয়ে সম্মানিত সত্তা, অধিক দয়ালু। সুতরাং আপনি তাঁর এই কুরবানিকে কবুল করে নিন। তাঁকে আপনার মাকবুল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন, তাঁর মর্যাদা উঁচু করে দিন, জিহাদের পথে তাঁর সকল কুরবানি, হিজরত ও রিবাত সবকিছু কবুল করে নিন।

হে আল্লাহ! যদি তিনি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর সৎকর্মগুলো বাড়িয়ে দিন। আর যদি কোনো ভুল করে থাকেন, তাহলে তাঁর ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! তাঁকে ঠান্ডা-শীতল পানি দ্বারা ধৌত করুন। হে আল্লাহ! তাঁকে ভুল-ত্রুটি থেকে পরিষ্কার করুন, যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন। আমাদেরকে তাঁর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তাঁর অবর্তমানে আমাদেরকে ফিতনায় নিপতিত করবেন না। তাঁর সাথে আমাদেরকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন (আমিন)।

ওয়া আখিরু দাওয়ানা আনিল হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন।

সালাত সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবীজীর প্রতি, তার পরিবার পরিজনের প্রতি, এবং তার সাহাবীগণের প্রতি।

ওয়াস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু….

রমজান ১৪৪০ হিজরি

মে ২০১৯ ইংরেজি

——————

আপনাদের নেক দুয়ায় ভাইদের ভুলবেন না যেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আত্মশুদ্ধি- পর্ব-২২ || মুসলমানদের ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হওয়ার কারণ || মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

আত্মশুদ্ধি- পর্ব-২২ || মুসলমানদের ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হওয়ার কারণ || মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

مؤسسة الفردوس আল ফিরদাউস Al Firdaws تـُــقدم পরিবেশিত Presents في اللغة البنغالية বাংলা ভাষায় In ...