সম্মানিত ভিজিটর! গাজওয়াতুল হিন্দ ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস- 82.221.136.58, ব্রাউজিং করতে সমস্যা হলে আইপি দিয়ে প্রবেশ করুন!
Home / মিডিয়া / আল-হিকমাহ মিডিয়া / সেপ্টেম্বরের গাযওয়াতে আর-রাহমানের নিদর্শন – শাইখ নাসির আল-ফাহদ [ফাক্কাল্লাহু আসরা ]
সেপ্টেম্বরের গাযওয়াতে আর-রাহমানের নিদর্শন – শাইখ নাসির আল-ফাহদ [ফাক্কাল্লাহু আসরা ]

সেপ্টেম্বরের গাযওয়াতে আর-রাহমানের নিদর্শন – শাইখ নাসির আল-ফাহদ [ফাক্কাল্লাহু আসরা ]

আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
সেপ্টেম্বরের গাযওয়াতে আর-রাহমানের নিদর্শন
মুল
শাইখ নাসির আল-ফাহদ [ফাক্কাল্লাহু আসরাহ]
অনুবাদ
মুফতি ইবরাহীম হুসাইন দাঃ বাঃ

ডাউনলোড করুন

pdf

http://www.mediafire.com/file/qkp09q5q891zzbf/80.Gazwah_September_PDF.pdf/file
https://archive.org/details/80.gazwahseptember
https://archive.org/download/80.gazwahseptember/80.Gazwah_September_PDF.pdf

https://bit.ly/2xa48oL
https://archive.org/details/GazwahSeptemberPDF

word

http://www.mediafire.com/file/2774q2ru1o08ve0/80.Gazwah_September.docx/file
https://archive.org/download/80.gazwahseptember/80.Gazwah_September.docx

https://bit.ly/2x2tbsY
https://archive.org/details/GazwahSeptember

 

———————-

সেপটেম্বরের অভিযানে আল্লাহর নিদর্শনাবলী

শায়খ নাসির ইবনে হামদ আল-ফাহদ

(আল্লাহ তাঁর কল্যাণময় মুক্তি ত্বরান্বিত করুন)

অনুবাদ: মুফতি ইব্রাহিম হোসাইন

বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ

আম্মা বাআদ

বাইতিল মাকদিস তথা জেরুসালেম দখল হবার পর যখন ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার কথা বলা হতো, তখন এক শ্রেণির লোকেরা বলতো – আর-রুম (ইউরোপিয়ান) এর সাথে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়? তারা তো সমুদ্রের পানির মতো – অগণিত, অপ্রতিরোধ্য,অজেয়! যখন উম্মাহ পরাজয়ের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অধঃপতিত হয়েছিল তখন এধরনের কথা বলার লোকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। তারাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় আসতে শুরু করার পর তাদের সংখ্যা কমতে লাগলো। তাদের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌছায় সুলতান সালাউদ্দিনের বিজয়ের সময়কালে। কিন্তু লক্ষনীয় বিষয় হল বিজয়ের ঠিক আগেও এদের অস্তিত্ব ছিল। এ থেকে দুটি বিষয় বুঝা যায়। এক, পরাজয়ে এধরনের চিন্তা ও মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, বিজয়ের সাথে সাথে তাদের সংখ্যা কমে। দুই, সর্বাবস্থায় উম্মাহর মধ্যে এ জাতীয় কিছু লোক থাকবে। তবে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে পরাজয়ের সময়ে।

পূর্বযূগের ক্রুসেডারদের ব্যাপারে যে ধারণা পরাজিত মানসিকতার মানুষদের মধ্যে ছিল, বর্তমানে ক্রুসেডের নেতা আমেরিকার ব্যাপারেও সেই ধারণা বিদ্যমান।  নিচের লেখাটি শাইখ নাসির আল-ফাহদ লিখেছিলেন। ২০০২ সালে। ঐতিহাসিক গাজওয়াতুল ম্যানহাটন বা ৯/১১ হামলার মাত্র একবছর পর। নিঃসন্দেহে পশ্চিমের ক্ষমতা দেখে অভিভূত, পশ্চিমের দর্শন দ্বারা প্রভাবিত অনেক চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষকের কাছে শাইখের এ কথাগুলো তখন ‘অবাস্তব’, ‘কল্পবিলাস’ ইত্যাদি মনে হয়েছিল, এবং তাদের দুঃখজনকভাবে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইসলামী আন্দোলনের ব্যক্তিরাও বিদ্যমান। কিন্তু আজ ১৭ বছর পর এর প্রথম পর্যবেক্ষকের কাছেই শাইখের এ কথাগুলোর অনেকগুলোর বাস্তবতা পরিস্কার হয়ে গেছে। তেমনিভাবে আজো হয়তো অনেকের কাছে শাইখের কথাগুলো ইউটোপিয়া কিংবা প্রপাগান্ডা মনে হতে পারে। এ নতুন কিছু না। কিন্তু সময়ের সাথে সথে তাদের অধিকাংশই শাইখের কথার সত্যতা ও তাঁর উপলব্ধি ও দূরদৃষ্টির গভীরতা অনুভব করতে সক্ষম হবে, বিইজনিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ একদিন আসবে যখন মুসলিম উম্মাহ এর মায়েরা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা দেবে মুহাম্মাদ আতা ও তাঁর অধীনস্ত ১৮ জন বিস্ময়কর যুবা, বিশ্ব কুফরকে হতভম্ব করে দেওয়া শাইখ খালিদ শেইখ মুহাম্মাদ ও তাদের আমির ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ শাইখ উসামা ইবনে লাদেন এর নাম ও রাসূল ﷺ এর পতাকাতলে সমবেত এই মহান অশ্বারোহীগণের বীরত্বগাথা।

আল্লাহ তাঁদের কবুল করুন, তাঁদের রহমতের চাদরে জড়িয়ে রাখুন। শাইখ খালিদ শেইখ মুহাম্মাদ ও শাইখ নাসির আল-ফাহদসহ সকল বন্দী মুজাহিদ, আলিম ও মুসলিমদের কল্যাণময় মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। গর্বিত উম্মাহকে গৌরবের এ গাঁথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের এ প্রচেষ্টা কবুল করুন। আমীন।

আল হিকমাহ মিডিয়া

আলহামদু লিল্লাহ। আম্মাবাদ…

বিখ্যাত অভিযান ‘সেপ্টেম্বরের অভিযান’র এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আমার ইচ্ছে হল, উক্ত অভিযানে আল্লাহর যে সমস্ত নির্দশনাবলীর প্রকাশ ঘটেছে, তার কিছু নিয়ে আলোচনা করার। যার মধ্যে ঐ সমস্ত লোকদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা থাকবে, বিবেকবান ও যারা (উপদেশ) মনোযোগসহ গ্রহণ করে তাঁদের প্রতি।

এখানে উক্ত অভিযানের বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে আলোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কারণ এ বিষয়ে আলোচনা ইতিমধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।[1] অভিযানের ঘটনাও অতীত হয়ে গেছে। শেষ হয়ে গেছে। এখানে আমি চাচ্ছি, তার কিছু ফল ও প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করতে। আর এখানে যা উল্লেখ করবো, কোন ইনসাফগার লোক তার বিরোধিতা করবে না।

প্রথম নিদর্শন:

আল্লাহর বাণী-

(كم من فئة قليلة غلبت فئة كثيرة بإذن الله)

আল্লাহর হুকুমে কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলকে পরাজিত করেছে; বস্তুতঃ ধৈর্যশীলদের সঙ্গী হচ্ছেন আল্লাহ! (সূরা বাকারা, ২৪৯)

মাত্র উনিশজন মুজাহিদ এই অভিযান পরিচালনা করেছেন, যাদের অস্ত্র ছিল কয়েকটি চাকু ও বক্সকাটার। তথাপি তারা কুফরের অর্থনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর ভিত্তি চুরমার করে দিয়েছেন। সেই আমেরিকায়, যাকেবলা হয় একমাত্র পরাশক্তি এবং আধুনিক বিশ্ব-শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক! নিশ্চয়ই এর মধ্যে মহা নিদর্শন রয়েছে।

দু’জন ভাইয়ের মাঝে এ বিষয়ে একটি চমৎকার কথোপকোথন হয়েছে। আমি এখানে তার কথাগুলো তুলে ধরছি:

দু’জনের একজন বলল: একটি রাষ্ট্রকে বেসামরিক বিমান দিয়ে আক্রমণ করার মাঝে কী কৃতিত্ব আছে, যে বিমানকে আদৌ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হয়নি?

অপরজন বলল: তাহলে আফগানিস্তান, ইরাক ও অন্যান্য দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত আমেরিকার যুদ্ধগুলো কেমন?

প্রথমজন: তুমি কী বুঝাতে চাচ্ছো?

দ্বিতীয়জন: এই প্রতিটি স্থানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধগুলো কি এই প্রকারেরই নয়? আফগানিস্তান, ইরাক, সুদান ও অন্যান্য দেশে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার মাধ্যমে কি ঐ সকল লোকদেরকেই নাস্তানাবুদ করছে না, যাদেরকে তারা বেসামরিক ও নিরপরাধ বলে অভিহিত করে থাকে, তথা বৃদ্ধ, নারী ও শিশু? আর এক্ষেত্রে তাদের দাবি হল, সবগুলোই আকাশযুদ্ধ। বিমানযুদ্ধ।

প্রথমজন: কিন্তু এগুলো তো যুদ্ধবিমান আর ওগুলো তো বেসামরিক বিমান।

দ্বিতীয়জন: তাহলে কি কোন একটি বিমানের নাম এফ-১৫ বা টর্নেডো রাখা হলে এর জন্য তাদের কথিত বেসামরিক লোকদেরকে হত্যা করা বৈধ হয়ে যাবে, আর যখন এর নাম ‘বোয়িং বা এয়ারবাস রাখা হবে, তখন তার জন্য এটা বৈধ হবে না?

তাই প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ দুই পদ্ধতির কোন একটি পদ্ধতিতে হয়:

হয়ত সম্মুখ সমর তথা মুখোমুখি লড়াই। এক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্ববাসীর সাক্ষমতে আমেরিকাই আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক কাপুরুষ এবং সম্মুখ সমর থেকে হতে দূরে অবস্থানকারী। এজন্য তারা চায় বিমান যুদ্ধ করতে। অতএব সবগুলোই উপর হতে আঘাত। তাই তাদেরটার মোকাবেলায় এদেরটা। আর প্রথমে যে শুরু করে সেই জালিম। কথোপকোথনটি সংক্ষিপ্তভাবে এখানেই শেষ হল।

কেউ কেউ বলতে পারে: এই আক্রমণের দ্বারা কী ফায়দা হয়েছে?

উত্তর হল, যদি অন্য কোনও লাভ না হয়, শুধু এতটুকুই যে, এর দ্বারা তাদের ইতিহাস, শক্তির পাল্লা, কূটনৈতিক-সামরিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা সমূলে পাল্টে যায়, তবে এটুকুই যথেষ্ট। এ অভিযান বিরাট ঐতিহাসিক ধারা পরিবর্তন হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। অনেক চিন্তা-গবেষনার রূপ পাল্টে দিয়েছে।

কারন পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞগণ আধুনিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করেছে:

১৬৪৮ থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত সময়কাল। এটা হল ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর ধাপ। যা ইউরোপে মাঝে যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে। এটাই ছিল আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি।

১৯১৪ থেকে ১৯৪৫ এর ধাপ। এটা হল দুই বিশ্ব যুদ্ধের যুগ।

১৯৪৫ থেকে ১৯৯০ এর ধাপ। এটা হল জাতিসংঘ গঠন, বিশ্বের উপর দুই পরাশক্তি- সেভিয়েত-আমেরিকার কর্তৃত্ব, তাদের মধ্যকার শীতল যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ধাপ।

১৯৯০ থেকে তার পরের কাল। এ ধাপের সূচনা হয়েছে সেভিয়েত ইউনিয়নের পতন, কমিউনিজম ব্যবস্থার ধ্বংস, শীতল যুদ্ধে সমাপ্তি, আমেরিকার একক প্রভাব ও ক্ষমতা অর্জন এবং আধুনিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ব্যবস্থার সূচনা থেকে।

এ ধাপের ব্যাপারে আমেরিকান বড় বড় চিন্তাবিদরা মনে করে, এটাই বড় ধরণের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও লড়াইয়ের সমাপ্তি এবং পশ্চিমা পূজিবাদের বিজয়ের চূড়ান্ত ধাপ। তাদের চূড়ান্ত ও সর্বশেষ বিজয়কে সুদৃঢ় করে ইতিহাস এখানেই থেমে গেছে।

একারণেই ফুকুইয়ামা ‘ইতিহাসের সমাপ্তি’ নামে একটি কিতাব লিখে তাতে এ ধারণা পেশ করে যে, বিশ্ব ইতিহাসের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে[2]। কেননা তাদের মতে পুজিবাদ থেকে উত্তম কোন ব্যবস্থা নিয়ে আসা মানবজ্ঞানের সাধ্যের বাইরে। কারণ এর বিকল্প কমিউনিজম, যেটাকে মানব সফলতা বাস্তবায়নের আশার স্থল মনে করা হত, সেটা ৭২ বছর কার্যকর থাকার পর ব্যর্থ হয়ে গেছে। একারণে এখন পুজিবাদই মানুষের ভাগ্যের লিখন হয়ে গেছে। যা থেকে পলায়নের কোন পথ নেই। এর অধীনেই শেষ পর্যন্ত বসবাস করতে হবে।

জনৈক আমেরিকান চিন্তাবিদ বলেছে: বিগত পঞ্চাশ বছরে আমেরিকান বহি:রাজনীতি ছিল, দেশের শত্রুদের থেকে আগত হুমকিসমূহের মোকাবেল করা। একারণে পার্ল হারবার থেকে শুরু করে প্রতি বছরই আমেরিকা কোন না কোন দ্বন্ধ-সংঘাতে জড়িয়েছে। যুদ্ধ কিংবা মোকাবেলা করেছে।

অর্ধ যুগ ধরে নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এখনই সর্বপ্রথম আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্র তাদের বহি:রাজনীতিকে শীতল যুদ্ধের চাপ ও প্রতিকূলতা থেকে মুক্ত-স্বাধীনভাবে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সুযোগ পেয়েছে।

আর এ সুযোগ পাওয়ার ফলেই (যেমনটা সে বলল) তার অনিষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ভয়াবহতা তীব্র হয়েছে। তার সমস্যা সীমাতিক্রম করেছে। ফলে সে পৃথিবীব্যাপী বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মুসলমানদের যাদেরকে ইচ্ছা হত্যা করছে, যাদেরকে ইচ্ছা বন্দী করছে, যাদেরকে ইচ্ছা অবরোধ করছে এবং যাদেরকে ইচ্ছা আঘাত করছে। যেন মুসলিমরা কীট-পতঙ্গের একটি দল, তাদের রক্তের কোন মূল্য নেই, তাদের ইজ্জতের কোন মূল্য নেই।

তাই তাদের মোকাবেলায় পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি যোদ্ধা দলের মাত্র ১৯ জন অল্পবয়স্ক  মুজাহিদ আসলেন। তারা তাদের উপর কড়া নজরদারি করলেন। তাদের ধারণাকে ব্যর্থ করে দিলেন। তাদের  শাসনব্যস্থা ও রাজনীতির পট পরিবর্তন করে দিলেন। তাদের গবেষণা ভুল প্রমানিত করলেন এবং তাদের পুজিবাদ, বিশ্বায়ন, গণতন্ত্র, কথিত মানবাধিকার এবং রূপকথার ‘সি আই এ’ এর ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে দিলেন। আর তাদের চিন্তাবিদরা যেটাকে ইতিহাসের শেষ বলে অভিহিত করেছে, তারা আল্লাহর হুকুম ও সাহায্যে সেটাকেই তাদের ধ্বংসের সূচনা বানিয়ে দিয়েছেন।

আর আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মত মুসলিমগণ ঘটনার ভূক্তভোগী না হয়ে ঘটনার জন্মদাতা হয়!

এ ঘটনার মাহাত্ব্য প্রকাশ পায় পাঁচটি অক্ষে:

প্রথম অক্ষ: এ ঘটনা ইসলামকে পুনরায় কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখভাগে নিয়ে এসেছে। অথচ এতদিন জাতীয়তা, দেশাত্ববোধ ও বিভিন্ন স্বার্থই ছিল যুদ্ধ ও লড়াইয়ের প্রেরক। ফলে এর মাধ্যমে ক্রুসেডীয় শত্রুতা গোপনীয়তা থেকে প্রকাশ্যে চলে আসে এবং হুমকি থেকে বাস্তবতায় চলে আসে।

দ্বিতীয় অক্ষ: এটা আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ পরিবর্তনে জিহাদের বিরাট অবদানের কথা স্পষ্ট করেছে।

তৃতীয় অক্ষ: জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রগুলো কর্তৃক রাজনীতিতে এবং যুদ্ধ ও শান্তি ঘোষণায় একচ্ছত্র কর্তৃত্বের চিন্তা খতম করে দিয়েছে। কারণ এই লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল এমন লোকদের হাতে, যাদের নির্দিষ্ট জাতীয়তা বা দেশীয় তন্ত্রের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। বরং যেমনটা আমেরিকানরা বলে থাকে- তারা পঞ্চাশটিরও অধিক রাষ্ট্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সালাফী জিহাদী ইসলাম বা যেটাকে তারা ওয়াহাবী ইসলাম বলে, এটা ব্যতিত অন্য কোন কিছু তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেনি। বরং যে চারটি অভিযান আমেরিকার উপর চরম আঘাত হেনেছিল, তা পরিচালনা করেছিল এমন চারজন লোক, যারা সকলে এক রাষ্ট্রের অধিবাসী ছিল না। তাদের একজন ছিল কেনানার, একজন উপসাগরীয় অঞ্চলের, তৃতীয়জন সিরিয়ার এবং চতুর্থজন হিজাজের।

চতুর্থ অক্ষ: এ অভিযান, আমেরিকা কর্তৃক যেকোন মুসলিম দেশের উপর কোন ধরণের প্রতিশোধবিহীন আঘাত করার যুগের এমনভাবে পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে, যা কখনো ফিরে আসবে না ইনশাআল্লাহ।

পঞ্চম সাইড: এটাই আধুনিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা চিন্তাধারার পতনের সূচনা। যা আমেরিকা মাত্র কয়েক বছর উপভোগ করতে পেরেছে। আর এটাই আমেরিকার চূড়ান্ত পতনেরও সূচনা ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয় নিদর্শন:

আল্লাহর বাণী-

(وظنوا أنهم مانعتهم حصونهم من الله فأتاهم الله من حيث لم يحتسبوا وقذف في قلوبهم الرعب)

আর তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ (’র কবল) থেকে রক্ষা করবে কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে এমন দিক থেকে পাকড়াও করলেন যা তারা ভাবতেও পারেনি তিনি তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করলেন (সূরা হাশর, ২)

এটি আল্লাহর একটি বিস্ময়কর নিদর্শন। যা সেপ্টেম্বরের ঘটনায় বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ আয়াতের তিনটি অংশের প্রতি লক্ষ্য করুন!

১. (وظنوا أنهم مانعتهم حصونهم من الله)

আর তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ (’র কবল) থেকে রক্ষা করবে

আমেরিকার অবস্থার প্রতি লক্ষ্যকারী মাত্রই দেখতে পাবে যে, আমেরিকা ভৌগলিক ও সামরিক কারণে নিজে কোন যুদ্ধের সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছিল। যে দু’টি সাগর দু’দিক থেকে আমেরিকাকে বেষ্টন করে রেখেছে, তা তাকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যাদেরকে সে চাইলেই নিস্পেষণ চালাতে পারে। কিন্তু তার কোন প্রতিবেশি থেকে আশঙ্কা ছিল না।

অপরদিকে তার মহাসাগর অতিক্রমকারী ক্ষেপণাস্ত্র, তার পারমাণবিক শক্তি, বিমানবাহী জাহাজ; যা সমুদ্রের পর সমুদ্র অতিক্রম করে যায়, তার তারকাযুদ্ধের প্ল্যান, যার মাধ্যমে সে তার বিরোধী পারমাণবিক শক্তিগুলোকে অকেজো করে দিত চায়, এ সকল শক্তিগুলোর কারণে সে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করে নিয়েছিল যে, সে কোন আদেশ করলে কেউ ‘না’ বলতে সাহস করবে না এবং সে কিছু করলে কেউ ‘কেন; বলতে সাহস দেখাবে না।

এমনিভাবে তারা তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের গোয়েন্দাশক্তি, তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ, তথ্য তাদের উদঘাটনের সক্ষমতা এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে তাদের দক্ষতা… ইত্যাদি বিষয়ে বহু কল্প-কাহিনী তৈরী করে রেখেছে। তাই তারা তাদের সামরিক শক্তির কারণে নিশ্চিতভাবেই মনে করেছিল যে, এমন কোন রাষ্ট্র নেই, যা তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের দু:সাহসিকতা দেখাবে। আর তাদের গোয়েন্দা শক্তির কারণে ধারণা করেছিল, তারা সকল সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা সামান্য নড়া-চড়াও করতে পারবে না।

২. فأتاهم الله من حيث لم يحتسبو

কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে এমন দিক থেকে পাকড়াও করলেন যা তারা ভাবতেও পারেনি

এই আত্মপ্রবঞ্চনা, আত্মতৃপ্তি, দাপট ও অহংকার সত্ত্বেও আল্লাহ তা’আলা এমন দিক থেকে আসলেন, যেটা তারা কল্পনাও করতে পারেনি এবং মাত্র দুই ঘন্টার ভেতরে তার উপর চূড়ান্ত আঘাত হেনে পঞ্চাশ বছর যাবত তৈরীকৃত তাদের সকল কল্প-কাহিনী চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। প্রাথমিক কিছু উপকরণের মাধ্যমে তাদের অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন। যার প্রতিরোধ করতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, তাদের বিমানবাহী জাহাজ এবং তাদের পরমাণবিক শক্তিও সক্ষম ছিল।

 কোথা থেকে এসেছিল এই আঘাত?

তার সেই বড় শত্রু থেকে, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যই সে গোয়েন্দাবাহিনী, কৃত্রিম উপগ্রহ এবং দাসত্বকারী দালালচক্রকে তৈরী করে রেখেছিল। আমার মনে হচ্ছে, যেন আমিই সেই অভিযানের সদস্যদের সাথে আছি, যারা আমেরিকান দূর্গগুলোর উপর আঘাত হানতে হানতে বিমানের জানাগুলো দিয়ে দেখছিল আর বলছিল: হে কাফেরের দল! তোরা তোদের পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম উপগ্রহ, সিআইএ এর উপর প্রশ্রাব কর।

৩. وقذف في قلوبهم الرعب

তিনি তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করলেন

 তাই এ আক্রমণের সাথে সাথেই তাদের অন্তরের গভীরে ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় যেকোন দর্শকই আমেরিকানদের চেহারার দিকে তাকালে তা দেখতে পেত। আর তাদের সবার উপরে আছে, তাগুত বুশ। যে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত লাগাতার এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আত্মগোপন করছিল। আত্মগোপনের তরিৎগতির একটি আনুমানিক রেকর্ডও নির্ধারণ করা হয়ে যেত, যদি তার সহকারী চেনিও প্রতিযোগীতায় লিপ্ত না হত!

তৃতীয় নিদর্শন:

আল্লাহর বাণী-

(وما رميت إذ رميت ولكن الله رمى)

আর তুমি নিক্ষেপ করনি যখন তুমি নিক্ষেপ করেছিলে; বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন…(সূরা আনফাল, ১৭)

ঐ সকল আক্রমণগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ফলাফলগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাতকারীই বুঝতে পারবে যে, এর পিছনে মানবীয় শক্তির উর্ধ্বে ভিন্ন শক্তি রয়েছে। যার ফলে একজন মুমিনের, আল্লাহর এ আয়াতের প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মে যায়-(وما رميت إذ رميت ولكن الله رمى)

এছাড়া যে সকল প্রত্যক্ষ ফলাফলগুলো আমেরিকান অর্থনীতির প্রসাদ চুরমার করে দেওয়ার কারণে প্রকাশ পেয়েছে, তা মানুষের কল্পনারও উর্ধ্বে। আর যখন আপনি এই তথ্য জানতে পারবেন যে, ঐ সকল গগণচুম্বি স্থাপনাগুলো “বুয়েঞ্জ-৭০৭” এর আঘাত মোকাবেলা করার মত মজবুত ছিল, যেমনটা প্রকৌশলীরা বলেছে- তখন তো আপনার সামনে এ বিষয়টা আরো পরিস্কারভাবে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি জানতে পারেন যে, মূল স্থাপনাটির সাথে সাথে গগণচুম্বি স্থাপনার আরেকটি সারিও ঝুকে যায় এবং তার সাথে ভূপাতিত হয়, তাহলে কতটা বিস্ময়বোধ করবেন?! নিচের চিত্রটি দেখুন, তাহলে আপনার কাছে এর প্রত্যক্ষ ফলাফলগুলো স্পষ্ট হবে।

এখানে আরেকটি মানচিত্র:

এখানে ছাইকালারগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত। লালকালারগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নীল কালারগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। হলুদ কালারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, তবে স্থিরভাবে আছে। আর ধুসর বর্ণেরগুলোর জন্য পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।

তবে এখানে আমাদের উদ্দেশ্য হল, এ আক্রমণের পরোক্ষ ফলাফলগুলো। কারণ এর পরোক্ষ ফলাফল থেকেই আমরা আজও ফল লাভ করছু। সে সমস্ত ফলাফলগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হল:

১. আমেরিকান অর্থনীতির যে ধ্বস ও মন্দা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানীগুলোর যে ধারাবাহিক পতন এখনো অব্যাহত আছে, এছাড়া তাদের ডলারের মান কমে যাওয়া এবং মুনাফাগুলো তাদের দেশের পরিবর্তে এখন অন্য দেশে চলে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো অতিসত্তর এই রাষ্ট্রটির পতনের ঘোষণা দেয়। কারণ এ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিতই আছে অর্থনীতির উপর।[3]

২. অনেক কাফেরদের ইসলামে প্রবেশ করা। এমনকি চারবার এমন এই অভিযান হওয়ার পর থেকে ইসলামে প্রবেশকারীদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। যা তাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছে। এমনকি সি এন এন এর ভাষ্যমতে শুধু আমেরিকাতেই ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা ৩৪ হাজারে পৌঁছে গেছে। আফ্রিকার অনেক কাফেরও ইসলামে প্রবেশ করেছে। যেটা সম্পর্ক সেখানকার কিছু কিছু দায়ী ভাই আমাকে তথ্য দিয়েছে।

৩. পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের ব্যাপারে জানার কৌতুল ছড়িয়ে পড়া। এমনকি শুধু আমেরিকাতেই ১৬ হাজারেরও অধিক পাবলিক লাইব্রেরী ইসলাম ও মুসলিমদের ব্যাপারে অনেক কিতাব সংগ্রহ করেছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করার জন্য অনেকগুলো বিশেষজ্ঞ কোর্স চালু করেছে, তাদেরকে ইসলাম ধর্মের পরিচয় তুলে ধরার জন্য। ব্রিটেন ও ফ্রান্সে কুরআনের কপি শেষ হয়ে যায়।

কিছু কিছু দেশে ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য বিশেষভাবে এক সপ্তাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। জাপানে এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইসলামের প্রতি ঝোক বৃদ্ধি পেয়েছে। এসকল দেশগুলোর পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনি যদি এই ফলাফল আনার জন্য দায়িদের বিশাল একটি বাহিনীও প্রেরণ করতেন, তবু তা আসত না। তবে যদি আল্লাহ চাইতেন। এটার কারণেই এই আক্রমণের অনেক কঠিন বিরোধিতাকারীরাও একথা স্বীকার করেছে যে, এই আক্রমণের পর ইসলাম মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক ইসলাম গ্রহণকারী লাভ করেছে, যা সাধারণ দাওয়াত চল্লিশ বছরে লাভ করে।

 এ পর্যন্ত আলোচনা ছিল মুসলমানদের অন্তরে ‘ওয়ালা-বারা’র রূহ জীবিত করা এবং তাদেরকে কাফেরদের সাথে শত্রুতা শিক্ষা দেওয়ার দিক থেকে। কারণ এ হামলাগুলো ক্রুসেডারদের অন্তরের গোপন শত্রুতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে। তাই মুসলমানদের মধ্যে যারা উদাস ছিল বা উদাসীনতার ভান করেছিল, তাদেরকে সজাগ করে দিয়েছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদের রূহকে পুনর্জীবিত করেছে। এছাড়াও আরো বহু ফলাফল রয়েছে, যা অবিরত প্রকাশ পেতেই থাকবে। এখনো তার কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হল মাত্র।

চতুর্থ নিদর্শন:

আল্লাহর বাণী-

(ومن الناس من يشري نفسه ابتغاء مرضات الله)

আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজকে বিকিয়ে দেয় (সূরা বাকারা, ২০৭)

আরবগণ প্রাচীনকাল থেকে সামুয়েলের আত্মত্যাগের গান গেয়ে থাকে। একারণে তারা তাদের উদাহারণগুলোতে বলে: “সে সামুয়েল থেকেও বিশ্বস্ত বা আত্মোৎসর্গী।”

আরবের জনৈক কবি বলেছেন: (আরবি কবিতার অর্থ)

তুমি সেই ব্যক্তির সাথে দৌঁড়িয়েছো, যে তোমাকে মুত্যুর পর জীবিত করেছে এবং তোমার তরে সেই ত্যাগ স্বীকার করেছে, যা সামুয়েলও করেনি।

আরেক কবি বলেছেন:

সে আমাকে ভালবাসার সেই প্রতিদান দিয়েছে, যা সিনিম্মারকে দেওয়া হয়। অথচ সে আমাকে সামুয়েলের ন্যায় ত্যাগ স্বীকারের আশা দিত।

সামুয়েল তার ছেলের তরে আত্মোৎসর্গ করেছিল, তার কাছে যে আমানত রাখা হয়েছে তা উদ্ধার করার জন্য। তথাপি সে আরবদের চোখে বড় হয়ে গেছে।

আল্লাহর শপথ! এটা আত্মত্যাগ। কিন্তু আপনি যখন মোল্লা ওমরের আত্মত্যাগের সাথে এটাকে তুলনা করবেন, তখন এটা ম্লান হয়ে যাবে, এমনকি প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন!

তার ধারে কাছেও কি পৌঁছতে পারবে সামুয়েলের আত্মত্যাগ? সে তো ছিল একটি মাত্র ছেলে। এটা কি নিজের শাসনক্ষমতা, রাজত্ব, পরিবার, দেশ, নিরাপত্তা এবং সকল সহায়-সম্পদ ত্যাগ করার সমান হতে পারে?!

যদিও আমাদের এই যামানা খেয়ানত ও মুনাফিকির যামানা, কিন্তু মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের মত বিরল ব্যক্তিত্ব আমাদেরকে আবার সাহাবায়ে কেরামের যামানায় নিয়ে এসেছেন। তার অবস্থার ভাষা বলছে:

তুমি যদি মিষ্ট হও, আর জীবন হয় তিক্ত – তুমি যতি তুষ্ট হও, আর সকল মানুষ হয় ক্রুদ্ধ – যদি তোমার মাঝে আর আমার মাঝে সম্পর্ক আবাদ হয় আর আমার মাঝে ও বিশ্ববাসীর মাঝে সম্পর্ক হয় বিরান – তথাপি যদি তোমার খাটি ভালবাসা পেয়ে যাই, তবে আমার জন্য সবই হবে সহজ। মাটির উপর যা আছে, সবই মাটি।

তাই এই বিরল আত্মত্যাগ এবং বিশাল অবিচলতা পাওয়া গেছে এমন সময়, যখন অসংখ্য তাগুতগোষ্ঠী বড় তাগুতের নৈকট্য অর্জনের জন্য ব্যস্ত। কেউ যদি সামান্য একটি সালামের মাধ্যমেও যেকোন একজন সন্ত্রাসির(!) সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে, তবে আমেরিকার স্বার্থে তাকেও তাগুত শিকার করে দিতে সিদ্ধহস্ত। যেন তারা চাচ্ছিল, ফ্যাক্সে যেমন কাগজ পাঠানো যায়, তেমনি যদি লোক পাঠানো যেত, তবে কোন বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক তাদেরকে বড় তাগুতের নিকট পাঠিয়ে দিত!

তাই আমরা মনে করি, মোল্লা ওমর ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভূক্ত, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর এই বাণী প্রযোজ্য হয়-(ومن الناس من يشري نفسه ابتغاء مرضات الله)

পঞ্চম নিদর্শন:

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী-

(نصرت بالرعب)

“আমাকে আতঙ্ক দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে।”

 যে রাষ্ট্রকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরাশক্তি বলা হয়, সে রাষ্ট্রটি তার আকাশে সাত হাজার যুদ্ধবিমান জড়ো করে, আফগানিস্তানের গিরি-গুহায় অবস্থানকারীদের ভয়ে। তাদের সকল স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে প্যাট্রিয়ট ও স্টিংগার স্থাপন করে। সন্ত্রাসী আক্রমণের ভয়ে একাধিকবার জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে। আক্রমণের পর তার অধিবাসীদের একচতুর্থাংশেরও বেশি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। বিশ্ব-আত্মগোপনকারী দলের নেতা চেনি এক গুপ্তস্থান থেকে বের হয়ে আরেক স্থানে প্রবেশ করতে থাকে। এভাবে আতঙ্কের ধারাবাহিকতা অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।

আমরা মনে করি, এ সবই আল্লাহ ঘটিয়েছেন শায়খুল মুজাহিদীন আবু আব্দুল্লাহ উসামা বিন লাদেনের সেই কসম পুরা করার জন্য যে, আমেরিকানরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জীবন যাপন করতে পারবে না[4]

আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন! আমাকে জান্নাতে তার সঙ্গে স্থান দান করুন! কারণ আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কতিপয় বান্দা আছেন, যারা আল্লাহর নামে কসম করলে, আল্লাহ তা পূরণ করেন।

ষষ্ঠ নিদর্শন:

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী- জেনে রেখ, যদি সমস্ত উম্মতও তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তথাপি তারা তোমার ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে, যা আল্লাহ তোমার ব্যাপারে লিখে রেখেছেন।

এই নিদর্শনের বিশালতা নিয়ে কে আপত্তি করতে পারবে?

শায়খুল মুজাহিদ আবু আব্দুল্লাহ উসামা বিন লাদেন রাহিমাহুল্লাহ এর বিরুদ্ধে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল দেশের, সকল ধর্মের ও সকল বর্ণের-  খৃষ্টান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুনাফিক ও বিশ্বাসঘাতকরা তাদের হাতে যা কিছু আছে এবং যে পর্যন্ত তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান পৌঁছেছে, এমন সকল অস্ত্র, বিমান, কৃত্রিম উপগ্রহ, গোয়েন্দাবাহিনী ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অথচ তার ছবি পৃথিবীর প্রান্তে-প্রান্তে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেভাবে খড়কুটোর মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তাকে দূরবর্তী-নিকটবর্তী, ছোট-বড়, মুসলিম-কাফের, নারী-পুরষ সকলে চিনত। এত সব কিছু সত্ত্বেও তারা তার চি‎‎হ্নও খুজে পাইনি, তার ব্যাপারে কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তিনি কোন আকাশের নিচে আছেন, তাও জানতে পারেনি[5]!

আমরা আল্লাহর নিকট দু’আ করি, আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন! তার বাহিনীকে কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করুন এবং আমেরিকা ও তার মিত্রদের পরাজয়ের মাধ্যমে আমাদের চক্ষু শীতল করুন!

অবশিষ্ট আছে আরেকটি নিদর্শন, তা আরেকটি প্রবন্ধে উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহু তা’আলা।

ওয়াসাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ

লিখেছেন: নাসির ইবনে হামদ আলফাহদ।

শনিবার, ১৪/৭/১৪২৩ হিজরী।

 

 

[1] দেখুন ‘৯/১১ হামলার ব্যাপারে শাইখ নাসির আল-ফাহদের ফতোয়া’ – http://www.darulilm.org/2018/03/02/911_nfahd/

[2] ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা, দা এন্ড অফ হিস্টোরি

[3] সুবহানআল্লাহ শাইখের এ কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৭-০৮ এ যে বৈশ্বিক মন্দা শুরু হয়েছিল এবং তার পর থেকে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তির যে ক্রমাবনতি হচ্ছে তার পেছনে খোদ আমেরিকান বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিকরাই আফগানিস্তান ও ইরাকের ব্যর্থ সামরিক অভিযান ও ৯/১১ পরবর্তী কাউন্টার টেরোরিজম খাতে আমেরিকার বিপুল ব্যয়কে দায়ী করেছেন।

[4] আমি সেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর নামে শপথ করছি, যিনি আসমানকে স্তর ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। যতদিন পর্যন্ত না ফিলিস্তিনীরা শান্তিতে বসবাস করতে পারছে এবং কাফের সৈন্যরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র ভূমিকে পরিত্যাগ করছে ততদিন পর্যন্ত আমেরিকানরাও শান্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে না।

শাইখ উসামা বিন লাদেন রাহিমাহুল্লাহ

[5] লেখাটি ২০০২ সালের। ২০১১ সালে শাইখ উসামা ইবনে লাদেন তাঁকে ধরতে আসা আমেরিকার সেনাবাহিনীর এক বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে শহীদ হন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাঁদরে জড়িয়ে রাখুন। তাঁর ও তাঁর সাথী মুজাহিদিনের জীবনে কুরআনের এ আয়াতের প্রতিফলনই আমরা দেখতে পাই,

মুমিনদের মধ্যে কতক লোক আল্লাহর সঙ্গে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে তাদের কতক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে (শাহাদাত বরণ) করেছে আর তাদের কতক অপেক্ষায় আছে তারা (তাদের সংকল্প) কখনো তিল পরিমাণ পরিবর্তন করেনি (সূরা আল-আহযাব, ৩৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তরবিয়াতি মুযাকারা সিরিজ ৩ || সকল মুসলমানের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করুন || মাওলানা আব্দুল্লাহ হুযাইফা

তরবিয়াতি মুযাকারা সিরিজ ৩ || সকল মুসলমানের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করুন || মাওলানা আব্দুল্লাহ হুযাইফা

مؤسسة الفردوس আল ফিরদাউস Al Firdawsتـُــقدم পরিবেশিত Presents في اللغة البنغالية বাংলা ভাষায় In the ...