Templates by BIGtheme NET
BREAKING NEWS
Home / সংবাদ / উপমহাদেশ / বাংলাদেশের জিহাদিরা হাজী শরীয়তুল্লাহ এবং তিতুমীরের জিহাদি আন্দোলনের উত্তরাধিকারী – আল কায়েদা

বাংলাদেশের জিহাদিরা হাজী শরীয়তুল্লাহ এবং তিতুমীরের জিহাদি আন্দোলনের উত্তরাধিকারী – আল কায়েদা

 

সম্প্রতি “উপমহাদেশ ভিত্তিক জিহাদি আন্দোলন ।। প্রকৃত বাস্তবতা!” নামক এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে আস সাহাব মিডিয়ার “আপনি বর্তমান জিহাদি আন্দোলনকে উপমহাদেশের ইসলামী এবং জিহাদি ইতিহাসের সাথে কিভাবে সংযুক্ত করেন?” প্রশ্নের জবাবে আল কায়েদা উপমহাদেশ শাখার মুখপাত্র উস্তাদ উসামা মাহমুদ বলেন-

ইংরেজরা যখন উপমহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে শরীয়ত ধ্বংস করে, তখন শাহ আব্দুল আযিয (র) ১৮০৬ সালে এক ফাতওয়া দেন যে, উপমহাদেশ আর দারুল ইসলাম নেই, এটা দারুল হারব হয়ে গেছে। এরকম ঐতিহাসিক ফাতওয়ার আলোকে সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) এবং শাহ ইসমাইল শহীদ (র) এর জিহাদি আন্দোলন শুরু হয়, (উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে ১৮৫৭ সালে স্বাধীনতার আন্দোলন এবং শায়খুল হিন্দের (র) মত অন্যান্য জিহাদি আন্দোলনও অস্তিত্ব পায়)।

শাহ আব্দুল আযিয (র) যে উপমহাদেশকে দারুল হারব ঘোষণা করে ফাতওয়া দেন, এই ফাতওয়া আজও প্রতিষ্ঠিত আছে। কারণ, এর সব বিষয় আজও পুরো উপমহাদেশে আরও বেশিভাবে আছে, আজ পুরো উপমহাদেশে কোথাও শরীয়ত প্রতিষ্ঠিত নেই! বরং উপমহাদেশের প্রত্যেক কোণায় কোণায় আজ শরীয়তের শত্রুদের রাজত্ব, উপমহাদেশের মুশরিকদের বা মুলহিদদের (নাস্তিকদের) এবং ক্রুসেডার কাফেরদের ধর্মহীন গোলামদের শাসন। এজন্য শাহ আব্দুল আযিয (র) এর ফাতওয়ার উপর আমল আজও ওয়াজিব। দ্বিতীয় কথা হল সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) যখন আন্দোলন ও যুদ্ধাভিযান শুরু করেন, সেই আন্দোলন যার জন্য হাজার হাজার উলামায়ে কেরামকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং যে আন্দোলনকে শায়খুল হিন্দও (র) পরে সমর্থন দিয়েছিলেন, তো এই আন্দোলন উপমহাদেশে কখনও শেষ হয়নি, বরং এটি এই পুরো ইতিহাসে অব্যাহত থাকে। বাংলায় (বাংলাদেশ) হাজ্বী শরীয়তুল্লাহ এবং তিতুমীরের উত্তরাধিকারেরা, পাকিস্তানের গোত্র এলাকায় ফক্বির এপি, হাজী তারংযাই এবং মোল্লা পাবন্দের মত বিখ্যাত নাম এই জিহাদি আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরও এই আন্দোলন এখানে গোত্রীয় এলাকাগুলোতে জারি থাকে। শরীয়ত প্রতিষ্ঠার ওয়াদা যখন এখানকার শাসকেরা পূরণ করেনি, তখন ফক্বির এপি (র) শরীয়ত প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে আন্দোলন আবার শুরু করেন এবং এই “অপরাধে” পাকিস্তানী বিমানবাহিনী তাদের ইংরেজ এয়ার ভাইস মার্শাল এলেন এর নেতৃত্বে এই আন্দোলনের এক জনসমাগমের উপর নিজেদের প্রথম অভিযান সম্পন্ন করে। এরপরেও এই আন্দোলন জারি থাকে, উত্থান পতন অবশ্যই এর উপর এসেছে, আর আন্দোলনের উপর এমন উত্থান পতন হয়েও থাকে; কোন ঘটনা অথবা অবস্থা এই আন্দোলনকে তার পুরনো বুনিয়াদের উপর নতুন প্রেরণার সাথে আবার উন্নীত করে! আমেরিকা যখন এখানে আসে এবং পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী জিহাদি আন্দোলন এবং ইসলামের বিরুদ্ধে খোলাখুলি ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে এবং যখন এর আসল চেহারা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় তখন এখানে মুজাহিদদের আন্দোলনও নতুন প্রেরণা নিয়ে ঐ পুরনো বুনিয়াদের উপরই … নিজ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আবার দাঁড়িয়ে যায়, যে বুনিয়াদ সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) এর জিহাদি আন্দোলনের ছিল … এভাবে এখানে উপমহাদেশের জিহাদি আন্দোলনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। কাজেই আমরা মুজাহিদরা উপমহাদেশে সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) এর আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক অর্থে সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) এর উত্তরাধিকার  বানিয়ে দিন, আমরা যেন সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) এর কাঙ্ক্ষিত উপমহাদেশকে ইসলামের শত্রু থেকে মুক্ত করতে পারি এবং এখানে শরীয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় – এসব আমাদেরও লক্ষ্য। একইভাবে তাঁর (র) পথ ছিল দাওয়াত ও জিহাদ আর এটা আমাদেরও রাস্তা। এজন্য আমরা উপমহাদেশের ভেতরে ইনশাআল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ (র) এর জিহাদি আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা, আল্লাহ আমাদেরকে এই আন্দোলনের হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করুন এবং আল্লাহ এখানকার মুসলমানদের জন্য আমাদের এই আন্দোলনকেও সৈয়দ আহমাদের আন্দোলনের মত বরকতময় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন। আমিন।

পূর্ণ সাক্ষাতকারটি পড়ুন-

উপমহাদেশ ভিত্তিক জিহাদি আন্দোলন ।। প্রকৃত বাস্তবতা! ।। প্রথমপর্বঃ আমরা কি চাই?

 

About GazwatulSolder

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*