Templates by BIGtheme NET
BREAKING NEWS
Home / মিডিয়া / GIMF / আসুন ! আল-ক্বুদসের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হই

আসুন ! আল-ক্বুদসের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হই

الجبهة الإعلامية الإسلامية العالمية
Global Islamic Media Front
শিরোনামঃ গ্লোবাল ইসলামিক মিডিয়া ফ্রন্ট

L a n g u a g e and Translation Department

Presents
পরিবেশিত

Bengali Translation of the As-Sahab Media Release
আস-সাহাব মিডিয়ার পরিবেশনার বাংলা আনুবাদ

“Let’s Unite for the Liberation of Al-Quds”
আসুন ! আল-ক্বুদসের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হই

A Message by Sheikh Ayman al-Zawahiri (May Allah Protect Him)
শাইখ আইমান আল-জাওয়াহিরী (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুক)’র একটি বার্তা

আলহামদুলিল্লাহ, সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি, এবং তাঁর ﷺ পরিবার, সাহাবা এবং সহযোগীদের প্রতি। আমার মুসলিম ভাইয়ের; আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু।

আম্মা বা’আদ
পবিত্র আল-আক্বসা মাসজিদের উপর ইহুদিদের চালানো অনবরত আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনে, ও বিশেষ করে জেরুসালেম অবস্থিত আমাদের ভাইবোনদের উপর ইহুদিদের অবিরত হামলা ও অত্যাচার সারা বিশ্বের মুসলিমদের ব্যাথিত করেছে। আজ জেরুসালেমে এক নতুন মহান জিহাদের সূচনা ঘটেছে। যারা ছুড়ি, পাথর, গাড়ি আর তাঁদের সম্বল যা কিছু আছে তাই দিয়ে আল-আক্বসা এবং ফিলিস্তিনকে রক্ষা করছেন, তাঁদের উপর মহান আল্লাহর বরকত বর্ষিত হোক। আমি মহান আল্লাহ্-র কাছে দরবারে দু’আ করি তিনি যেন আমাদের শাহাদাত প্রত্যাশী এসব ভাইবোনের রহমত বর্ষণ করেন, যারা মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ছুড়ি হাতে একাকী ইহুদিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। মহান আল্লাহ্ যেন আমাদের এই ভাইবোনদের উত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁদের সুউচ্চ মাকাম দান করেন এবং তাঁদের এই আত্বত্যাগকে এই দ্বীন, এই উম্মাহ এবং উম্মাহ-র পবিত্র ভূমিগূলোর প্রতি ভালোবাসা রাখেন এমন সব মুসলিমের জন্য অনুসরনীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

জেরুসালেমকে মুক্ত করতে উদগ্রীব আমার মুসলিম ভাইয়েরা! জেরুসালেম এবং আল-আক্বসার মুক্তির জন্য দুটি জিনিষ প্রয়োজন, এবং আল্লাহ-ই সর্বাধিক পরিজ্ঞাতঃ

প্রথমতঃ পশ্চিমা বিশ্ব; বিশেষ করে অ্যামেরিকাকে তাদের নিজেদের ভূমিতে আক্রমণ করা। পাশপাশি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অ্যামেরিকান ও পশ্চিমা স্থাপনা ও স্বার্থসমূহে আঘাত হানা। যারা ইস্রাইলকে সমর্থন করে, তাদেরকে বাধ্য করা হবে তাদের রক্ত এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতার বিনিময়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের অপরাধের মূল্য দিতে। ৯/১১ –এর বরকতময় গাযওয়াসহ, মাদ্রিদ, বালি, লন্ডন এবং প্যারিস [শারলি এব্দো] হামলার মতো অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। রামযি ইউসুফ, মুহাম্মাদ আত্তা, আমরোযি, শেহযাদ, তানভীর, নিদাল হাসান, ওমর ফারুক আব্দুল মুত্তালিব, মুহাম্মাদ মেরাহ এবং সারনায়েভ ভ্রাতৃদ্বয়ের দেখানো পথে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ মিশর ও শামে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা উম্মাহকে ফিলিস্তিন মুক্ত করতে চালিত করবে। এজন্য প্রয়োজন মুজাহিদিনের মধ্যে পারস্পরিক দন্ধ ও বিরোধ বন্ধ করা এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

সকল দল এবং সকল স্থানে অবস্থিত আমার মুজাহিদিন ভাইয়েরা; কাশগার থেকে তাঞ্জিয়ার পর্যন্ত, গ্রজনী থেকে মোগাদিসু পর্যন্ত সকল জিহাদি জামা’আর অন্তর্গত মুজাহিদিন – হে আহলুল জিহাদ! হে নৈতিকতা, আদর্শ ও তাক্বওয়া সম্পন্ন মুজাহিদিন! আজ আমরা অ্যামেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া, রাফিদা আর নুসাইরিদের এমন এক জোটের মুখোমুখি, যা আব্বাসি খিলাফাতের বিরুদ্ধে রাফিদা ও তাতারদের জোট এবং উসমানী সাম্রায্যের বিরুদ্ধে রাফিদা ও ফ্রেঞ্চদের জোটের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও উম্মাহ-র ভুমিসমূহের বিরুদ্ধে আগ্রাসী এই শয়তানী ঐক্যজোটের বিরুদ্ধে, পূর্ব তুর্কিস্থান থেকে মরক্কো পর্যন্ত আমাদের এক সীসা ঢালা অবিচ্ছিন্ন প্রাচীরের মতো অবস্থান নেয়ার সময় আজ এসেছে।

আজ অ্যামেরিকান, রাশিয়ান, ইরানি, আলাউয়ী আর হিযবাল্লাহ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক অপরকে সহযোগিতা করছে। আমরা কি এখনো আমাদের নিজেদের পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে তাদের বিরুদ্ধে, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ-র স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে অপারগ?

হাসান আল-বাসরি রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ “আল্লাহ-র কসম আল-হাসান ইবন আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মু’আবিয়ার – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – বিরুদ্ধে একের পর এক পাহাড়ের মতো বিশাল সৈন্যদল একত্রিত করেছিলেন। ‘আমর ইবনুল আস – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – মু’আবিয়াকে – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – বলেছিলেন,

“নিশ্চয় আমি এমন সৈন্যবাহিনি অবলোকন করছি যারা শত্রুকে খতম না করে ফেরত যাবে না।

মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, যিনি ছিলেন উভয়ের মধ্যে উত্তম [‘আমর ইবনুল আস ও মু’আবিয়ার মধ্যে] জবাবে বলেছিলেন –

“হে ‘আমর! যদি এই বাহিনি তাঁদের প্রতিপক্ষকে হত্যা করে, আর তাঁদের প্রতিপক্ষ তাঁদের হত্যা করে তবে, মুসলিমদের বিষয়সমূহ পরিচালনার জন্য আমার সাথে কে অবশিষ্ট থাকবে? তাঁদের পরিবারসমূহ ও সন্তানাদির দেখাশুনার জন্য কে আমার সাথে অবশিষ্ট থাকবে?”

অতঃপর মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, ‘আব্দুর রাহমান বিন সামুরা এবং আব্দুল্লাহ বিন ‘আমির বিন কুরাইয নামের ‘আবদ-ই-শামস গোত্রের দুজন কুরাইসশি ব্যক্তিকে আল-হাসানের – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – কাছে পাঠান। তিনি তাঁদের বলেন-

“এই ব্যক্তির [আল-হাসান] কাছে যাও এবং তাঁর কাছে শান্তির প্রস্তাব পেশ করো, তাঁর সাথে কথা বল এবং তাঁকে শান্তির প্রতি আহবান জানাও।”

আল-হাসান আল বাসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

আমি আবু বাকরকে – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – বলতে শুনেছি “আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে মিম্বারে দেখেছি যখন তাঁর পাশে ছিলেন আল-হাসান ‘ইবন আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু । রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার আল-হাসানের – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – দিকে আরেকবার উপস্থিত মানুষদের দিকে তাকাচ্ছিলেন, এবং বলছিলেনঃ

“আমার এই সন্তান একজন সায়্যিদ, আল্লাহ্ যেন তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বৃহৎ দলের মধ্যে শান্তি স্থাপন করেন।“

হে মুসলিম বিশ্বে বিস্তৃত আমার মুজাহিদিন ভাইয়েরা! ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য শামের জিহাদের ফ্রন্টটির গুরুত্ব অপরিসীম। আর তাওহীদের ভিত্তিতে শামের মুজাহিদিনের ঐক্যবদ্ধ হওয়া হল সেই দরজা, যার মাধ্যমে উম্মাহ বিজয়ে প্রবেশ করবে, বি’ইযনিল্লাহ। সুতরাং মুসলিম উম্মাহকে, বিশেষ করে মুজাহিদিনকে আহবান ও ঘোষণা জানাতে হবে ঐক্যের প্রতি। যাতে করে আজ যখন ক্রুসেডার পশ্চিম ও রাশিয়া, সাফাউয়ী, নুসাইরি ও সেক্যুলারিস্টদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এই অবস্থায় যেন একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মুজাহিদিনের শক্তি এবং সামর্থ্য হ্রাস না পায়।

আল্লাহ-র ভয় এবং বোধবুদ্ধি কি দাবি করে না যে নিজেদের মধ্যে কোন্দল বন্ধ করে মুজাহিদিনের এখন তাঁদের সর্বশক্তি এই আগ্রাসী শয়তানি জোটের বিরুদ্ধে একত্রিত করা উচিৎ, যারা উম্মাহ-কে আক্রমণ করছে এবং ইরাক ও শামে আগ্রাসন করেছে?

ইমাম ইবন কাসির রাহিমাহুল্লাহ, সাইয়্যেদিনা মু’আবিয়ার -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু- ব্যাপারে বর্ণনা করেছেনঃ

যখন আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং মু’আবিয়ার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মধ্যে দন্ধ চলছিল তখন আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বা মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, কেউই কোন নতুন ভূমি [কাফিরদের] সম্পূর্ণভাবে জয় করতে সক্ষম হন নি। রোমের শাসক যে ইতিপূর্বে মু’আবিয়ার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাতে পরাজিত এবং অপমানিত হয়েছিল, এই অবস্থায় মু’আবিয়াকে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আক্রমণ করতে উৎসাহী হয়ে উঠে। তাই সে বিরাট এক সৈন্য বাহিনী সজ্জিত করে কিছু মুসলিম ভূমি আক্রমন করতে অগ্রসর হয়। মু’আবিয়া তখন তাকে এক চিঠিতে বলেন-

“হে অভিশপ্ত ব্যক্তি, যদি তুমি নিরস্ত না হও এবং নিজের ভূমিতে ফেরত না যাও, তবে আল্লাহ্-র কসম! আমি এবং আমার চাচাতো ভাই একত্রে তোমার উপর আক্রমণ করবো, তোমার সকল ভূমি থেকে তোমাকে বিতাড়িত করবো এবং বিস্তীর্ণ দুনিয়াকে তোমার জন্য সংকীর্ণ করে তুলবো।“

একথার পর, রোমান শাসক আতঙ্কিত হয়ে পরে, নিরস্ত হয় এবং শান্তি চুক্তির আহবান জানায়।

হে সকল দল ও জামা’আর অন্তর্ভুক্ত মুজাহিদিন! যখন রোমান শাসক তার বাহিনী নিয়ে মুসলিম ভূমির দিকে অগ্রসর হয়েছিল, দেখুন তখন সাইয়্যেদিনা মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কিভাবে এই হুমকির মোকাবেলা করেছিলেন। আর আজ দশকের পর দশক মুসলিম উম্মাহ দখলদারিত্বের শিকার, দখলদারিত্বের অন্ধকারের মধ্যেই, প্রতিকূল পরিস্থতিতে জিহাদি জামা’আ গুলো গড়ে উঠেছে। অথচ এই অবস্থার মধ্যেও আজ মুসলিমরা পরস্পর বিরোধ করছে? আমাদের জন্য কি সাহাবাদের – রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা ওয়া ইজমা’ইন – মধ্যে উত্তম নিদর্শন নেই?

সকল অঞ্চল ও দেশে অবস্থানরত, এবং সকল দলের অন্তর্ভুক্ত আমার মুজাহিদিন ভাইয়েরা! ইতিহাস সাক্ষী, মিশর ও শামের জিহাদ সর্বদা জেরুসালেম বিজয়ের দরজা হিসেবে কাজ করেছে। এই [দুই অঞ্চলের] জিহাদ এক ব্যাপক ও বিস্তৃত যুদ্ধ। এটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুরতাদ শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থক ক্রুসেডার-শি’আ জোটের চক্রান্ত বিরুদ্ধে এক সশস্ত্র যুদ্ধ। লোকবল, অর্থ, সামগ্রী, এক্সপার্টিস এবং দু’আর মাধ্যমে এই যুদ্ধে সহায়তা করা উম্মাহ-র দায়িত্ব ও কর্তব্য।
একই সাথে, একমাত্র আল্লাহ-র নির্দেশিত জিহাদের মাধ্যমেই যে আল্লাহ-র কালামকে সুউচ্চ করা সম্ভব, দাওয়ার মাধ্যমে এই সত্যকে তুলে ধরা এবং কোন সেক্যুলার-জাতীয়তাবাদী সিস্টেম বা শক্তিকে জয়ী হতে না দেওয়াও এ যুদ্ধের উদ্দেশ্যসমূহের অন্তর্গত। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ

আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। [আনফাল, আয়াত ৩৯]

এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন –

“যে ব্যক্তি আল্লাহ-র কালামকে সুউচ্চ করার জন্য যুদ্ধ করে, সে আল্লাহ-র রাস্তায় যুদ্ধ করছে।“

একই সাথে এটি একটি রাজনৈতিক [মিডিয়া এবং কৌশলগতভাবে ] যুদ্ধও, যার উদ্দেশ্য হল উম্মাহর কাছে এসত্য তুলে ধরা যে, আমাদের [মুজাহিদিন] আচরণ আমাদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সাংঘর্ষিক না। আমরা মুসলিম জনসাধারনকে মুজাহিদিনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাই না। আমাদের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে আমরা মুসলিমদের কাছে প্রমাণ করতে চাই যে আমরা শারীয়াহ-র শাসন চাই, এবং শারীয়াহ অনুযায়ী যদি আমাদের কোন কাজের জন্য বিচার করা হয় তাহলে আমরা এতে সম্পূর্ণ ভাবে রাজি। আমরা মুসলিমদের কাছে তুলে ধরতে চাই যে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করি না, এবং মুসলিমদের জান ও মালের ব্যাপারে আমরা সীমালঙ্ঘন করি না। আমরা তাকফিরের ব্যাপারে চরমপন্থা পরিহার করি, আমরা মুসলিমদের প্রতি কোমল, এবং আমরা মুসলিমদের উপর নিজেদের চাপিয়ে দিতে চাই না। বরং আমরা চাই উম্মাহ শূরার ভিত্তিতে নিজের ইমাম নির্ধারণ করুক, যাতে করে নাবুওয়্যাতের মানহাজে এবং সুন্নাহ অনুসারে খুলাফায়ে রাশিদার –রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমা’ইন-আলোকে খিলাফাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।

পাশাপাশি, ইসলামি কাজের সাথে যুক্ত ইখওয়ানুল মুসলিমীন, সিসিপন্থী সালাফি এবং ঘানুশিদের মত রাজনৈতিক দলগুলো, যারা উম্মাহকে দ্বীন ও দুনিয়া দুটোই হারানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বাস্তবতা তুলে ধরাও এ রাজনৈতিক যুদ্ধের উদ্দেশ্য। এই দলগুলো ইসলাম ও উম্মাহ-র শত্রু সেক্যুলার সামরিক বাহিনী এবং দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদদের সাথে মিত্রতা করে, উম্মাহ-র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। উম্মাহ-র এইসব শত্রুদের তারা সৌন্দর্যমন্ডিত করে উম্মাহ-র সামনে উপস্থাপন করেছে এবং তাদের অপরাধগুলো হোয়াইটওয়াশ করেছে। তারা সিসি, মোহাম্মদ ইব্রাহিম আর বেজি সাইদ এসেবসির মত অপরাধীদের মুসলিমদের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা ইস্রাইলের সাথে অপমানজনক নানা চুক্তিতে সই করেছে, এবং তারা ক্ষমতার জন্য সেক্যুলার সংবিধান ও ইস্রাইলের আনুগত্য মেনে নিয়েছে।

ফিলিস্তিনকে এরকম দূষিত ও কলুষিত মানহাজ থেকে রক্ষা করার জন্য, এসব অঞ্চলের তাওহীদে বিশ্বাসী ও তাক্বওয়া সম্পন্ন আহুলুল জিহাদের কর্তব্য ফিলিস্তিনের মুসলিমদের তাওহীদের প্রকৃত আদর্শের ভিত্তিতে একত্রিত করা, এবং আল্লাহ-র দ্বীনকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদের প্রতি তাদের আহবান করা। একই সাথে ইস্রাইলের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া, এবং দ্বীনকে বিক্রি করে দেয়া দলগুলোকে বর্জনের জন্য আমাদের ফিলিস্তিনের ভাইবোনদের প্রতি আহবান জানানো। সকল আইন ও সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে একমাত্র আল্লাহ-র শারীয়াহকে আঁকড়ে ধরার প্রতি তাদের আহবান জানাতে হবে। যেসব ভুল পদ্ধতির কারণে দ্বীন ও দুনিয়া দুই-ই হারাতে হয় তা সম্পূর্ণ ভাবে ত্যাগ করার প্রতি জনসাধারণকে আহবান জানাতে হবে। আর এসব কলুষিত পদ্ধতির ফলাফল কি তার উত্তম দৃষ্টান্ত মিশর, তিউনিসিয়া আর আলজেরিয়ার দিকে তাকালেই প্রত্যক্ষ করা যায়।

হে ফিলিস্তিনের মুজাহিদিন! আপনারা কি চান আপনাদের জিহাদের ফল হবে এই যে একটি সেক্যুলার সরকার ক্ষমতায় আসবে যা শারীয়াহকে পরিত্যাগ করবে এবং ইসলামকে দমন করবে? এমন এক সরকার যা মুসলিমদের উপর কুফফারের আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগ করবে? কিভাবে ফিলিস্তিনের বিক্রি হয়ে যাওয়া সেক্যুলার দলগুলোর বৈধতা স্বীকার করা, আর আল্লাহ-র রাস্তায় জিহাদ করা পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে? যেসব দেশপ্রেমীরা স্বদেশের মাটির জন্য যুদ্ধ করে তাদের কাছেও তো এটা গ্রহণযোগ্য না, তাহলে কিভাবে একজন মুসলিম মুজাহিদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

আজ আপনাদের কিছু নেতা আপনাদের ঠিক ঐ একই অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যে সুড়ঙ্গে মিশর ও তিউনিশিয়ার ভাইরা ইতিপূর্বে পথ হারিয়েছেন। তারা আপনাদের বোঝাতে চায়, যদি আপনারা তাওহীদ এবং শারীয়াহ ত্যাগ না করেন তাহলে আপনারা ফিলিস্তিন ফিরে পাবেন না। তারা আপনাদের বোঝাতে চায়, ফিলিস্তিন ফিরে পাবার একমাত্র পথ হল কুফর, সেক্যুলারিসম আর আন্তর্জাতিক আইন মেনে নেয়া। তারা চায় এমন এক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে একজন মুজাহিদ আর দ্বীন বিক্রি করা ফিলিস্তিনি রাজনিতিবিদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। যেখানে একজন মুওয়াহিদ, যিনি শারীয়াহ প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করে আর একজন শারীয়াহ পরিত্যাগকারী সেক্যুলারিস্ট সমান হবে। তারা আপনাদের বোঝাতে চায় ফিলিস্তিনের বিক্রি হয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদের স্বীকৃতি না দিলে, তাদের হাতে নেতৃত্ব,কতৃত্ব, প্রেসিডেন্সি আর মন্ত্রণালয় তুলে না দিলে ফিলিস্তিন স্বাধীন করা যাবে না। এই অন্ধকার সুড়ঙ্গ আপনাদের ফিলিস্তিনের মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে না। বরং এটা আপনাদের নিয়ে যাবে তাওহীদের সাথে আপস আর ফিলিস্তিন সম্পূর্ণভাবে হারানোর পথে। এই পথে চলার মাধ্যমে আপনারা দ্বীন ও দুনিয়া দুটোই হারাবেন।

আমার মুসলিম ও মুজাহিদিন ভাইয়েরা! আপনারা যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, জেনে রাখুন জেরুসালেম দায়িত্ব আমাদের সবার উপর। আর একে মুক্ত করার জন্য আমাদের অবশ্যই ইস্রাইলের সমর্থকদের বাধ্য করতে হবে রক্ত ও অর্থ দিয়ে এই উম্মাহর বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসনের দাম মেটাতে। ইস্রাইলের নিকটবর্তী মুসলিম ভূমিগুলোতে ইসলামি হুকুমাত প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। আল-আক্বসাকে মুক্ত করার যুদ্ধ হল এমন এক যুদ্ধ যার জন্য একাধিক ফ্রন্টে একই সাথে আমাদের লড়াই করতে হবে। মুজাহিদিনের মধ্যে বিবাদ ও বিরোধ তাঁদের শক্তি ক্ষয় করে এবং বিজয়কে বিলম্বিত করে। তাই কাশগার থেকে তাঞ্জিয়ার পর্যন্ত, ককেশাসের পর্বতমালা থেকে মধ্য আফ্রিকা পর্যন্ত সকল মুজাহিদিনের জন্য আগ্রাসী শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া বাধ্যতামূলক।

পরিশেষে আমরা দু’আ করি এবং প্রশংসা জ্ঞাপন করি জগতসমূহের অধিকর্তা আল্লাহ-র প্রতি।

সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ ﷺ, তাঁর ﷺ পরিবার ও তাঁরﷺ সাহাবাদের উপর।

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু

About GazwatulSolder

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*